বিশেষ নিবন্ধ
 

বাংলাভাষাকে অবমাননা করে আর থাকা যাবে না বাংলায়
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

ঢাকায়, শিলচরে বাংলাভাষার জন্য যতই রক্ত ঝরুক না কেন, এ বঙ্গের বাঙালি সমাজের অনেকের মনে বাংলাভাষার প্রতি অন্তর-উৎসারিত ভালোবাসা সত্যিই কি তৈরি হয়েছে? আলাদা করে বলার প্রয়োজন নেই যে, এ প্রশ্নের উত্তর নঞর্থক হবে! ভালোবাসা তো দূরের কথা, আমরা অনেকেই বাংলাভাষাকে কেন্দ্র করে অদ্ভুত এক হীনম্মন্যতায় ভুগি। ইংরেজিতে লেখার প্রয়োজন নেই, বাংলায় লিখলেই হয়, এমন ক্ষেত্রেও আমরা ইংরেজিতে লিখে থাকি। বাসে ইংরেজিতে চিঠি লেখার রেডিমেড বই ফেরি হতে দেখেছি। কাজ চালানোর মতো বাংলা যাদের জানা, তারাও চিঠিচাপাটি লিখতে হলে চেনা-জানা লোক ধরে। ব্যাংকে তো হামেশাই নজরে পড়ে, উইথড্রলস্লিপ পূরণ করার জন্য বাংলা অল্পবিস্তর লিখতে পড়তে জানা লোকও ইংরেজিতে লেখানোর জন্য একে-তাকে ধরে, কাকুতিমিনতি করে। কলকাতার দত্তবাগান থেকে হুগলির দশঘড়ায় ডাকে বা ক্যুরিয়ারে চিঠি পাঠাতে হলে আমরা কেউই প্রায় বাংলায় ঠিকানা লিখি না। পোস্ট অফিসে বা ক্যুরিয়ারে বাঙালি-অবাঙালি যে-ই কাজ করুক না কেন, বাংলাভাষা তার তো জানা জরুরি, নিদেনপক্ষে পড়তে লিখতে পারা চাই!
বাংলা মাধ্যমের অধিকাংশ স্কুলই এখন ছাত্রস্বল্পতায় ভুগছে। কোথাও কোথাও ‘দোয়াত আছে কালি নাই’-এর মতো স্কুল আছে ছাত্র নাই। মাস্টারমশায় দিদিমণিরা না পড়িয়ে বিনা মেহনতে পঞ্চাশ-ষাট হাজার টাকা মাসমাইনে নিয়ে যাচ্ছেন। এখন ইংরেজিমাধ্যম স্কুলে উচ্চবিত্ত-মধ্যবিত্ত শুধু নয়, নিম্নবিত্ত পরিবার থেকেও ভিড় করছে। বাবা-মা’রা পুলকিত মনে বিগলিত হয়ে সগর্বে সানন্দে ঘোষণা করে, তাদের ছেলেমেয়েদের বাংলা সেভাবে আসে না। কেউ কেউ আরও স্পষ্ট করে বলে, না, বাংলা তারা জানে না।
একথা শুনে কারও কারও নিশ্চিতভাবে মনে হতে পারে, সত্যিই ওরা দুর্ভাগা, উপেন্দ্রকিশোর-সুকুমার-অবনঠাকুর না পড়েই শৈশব-বাল্য ফুরিয়ে অকালেই কেমন বুড়িয়ে গেল। জাগে এখন ফলপাকড় নয়, ছেলেমেয়েরাও পাকছে। এ বঙ্গে যেসব বঙ্গসন্তান বাংলা না-জানার গর্বে গর্বিত, পড়াশোনা করে সাহেবি স্কুলে, সেসব হবু সাহেবদের পাশাপাশি যারা করেকম্মে খেতে এসে বছরের পর বছর এখানে রয়ে গিয়েও ছেলেমেয়েদের বাংলা শেখানোর তাগিদ অনুভব করেনি—এই দু’ধরনের মানুষজনের জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যথার্থ এক পদক্ষেপ নিতে চলেছেন। বাংলায় থাকলে বাংলা জানতে হবে। কম্পালসারি সাবজেক্ট বা এডিশনাল—যেভাবেই হোক বাংলা রাখতে হবে পাঠক্রমে। বাংলা ছিটেফোঁটাও না জেনে আর এ রাজ্যে পড়াশোনা করা যাবে না। বিদ্যালয়স্তরে বাংলা বাধ্যতামূলক। মুখ্যমন্ত্রী জরুরি কথাটি খুব স্পষ্ট করে, দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছেন। এমনটি তো অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল।
পাহাড়কে যারা পশ্চিমবঙ্গের বাইরে ভাবতে, সাইনবোর্ডে ঠিকানায় মিরিক-গোর্খাল্যান্ড বা কালিম্পং-গোর্খাল্যান্ড লিখতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল, তারা বাংলা পড়তে হবে শুনে যতই তর্জনগর্জন করুক না কেন, তাদের কাছে মাথা নত করার কোনও বাস্তব কারণ নেই। বাড়তি সম্ভ্রম দেখালে দড়িও যে সাপ হয়ে যায়, তা তো সেই ঘিসিং-জমানা থেকেই আমরা দেখে আসছি।
মাতৃভাষার প্রতি অন্য রাজ্যের মানুষ যে শ্রদ্ধা-সম্মান দেখায়, আমরা বাঙালিরা তা দেখাই না। আমাদের দেখে অন্য রাজ্য থেকে এরাজ্যে বসবাস করতে আসা প্রবাসী মানুষজন যদি বাংলাভাষাকে তুচ্ছ-অপাঙ্‌঩ক্তেয়, এমনকী হাবেভাবে ঘৃণা-প্রদর্শন করে, তা তেমন দোষের নয়, বরং এমনই তো স্বাভাবিক। মাতৃভাষা নিয়ে যে আবেগ ও স্পর্শকাতরতা প্রত্যাশিত, তা অমাদের আছে কি? নব প্রজন্মকে সাহেব-মেম বানানোর জন্য আমাদের চেষ্টার শেষ নেই। নিঃস্ব-রিক্ত হয়েও এ চেষ্টা চলতে থাকে নিরবচ্ছিন্নভাবে। মুখ্যমন্ত্রী যা ভেবেছেন, তা যদি বাস্তবায়িত হয়, বিদ্যালয়স্তরে বাংলা বাধ্যতামূলক হলে অন্তত বাংলাভাষাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার প্রবণতা খানিক কমবে। বাধ্য হয়েই বাংলা পড়বে। বাংলায় থেকে বাংলা ‘জানি না, বুঝি না’ বুক বাজিয়ে সদর্পে আর বলতে পারবে না। অল্পবয়েসিরা এখন ঠিকঠাক করে বাংলা বলতেও ভুলে গিয়েছে। অকারণে অপ্রয়োজনে ইংরেজি শব্দের ব্যবহার চলে যথেচ্ছ, শুধু শব্দ-ব্যবহার নয়, প্রায়শই বাক্যের ভগ্নাংশ ইংরেজিতে বলা হয়। এমনভাবে কথা বলতেই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে তরুণ প্রজন্ম। টিভিতেও এভাবে ন্যাকামি সহযোগে কথা বলা হয় নানা অনুষ্ঠানে, বিশেষত সিনেমার লোকজন যখন সাক্ষাৎকার দেন বা অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। তাদের এই ‘বাংরেজি’র দেদার অনুকরণ চলে।
বৃহত্তর তরুণ সমাজ এমনভাবে কথা বলাকেই এখন স্বাভাবিক ভাবে। বাংলাভাষা কতখানি মাধুর্যময়, তা তাদের আর জানা হয় না। এই না-জানার আড়ালে অভিভাবককুলেরও ভূমিকা রয়েছে। অভিভাবককুলের ভুলভাল চিন্তায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠার পিছনে সমাজ-আবহাওয়াও অনেকাংশে দায়ী। ইংলিশ মিডিয়ামে পড়লে, ইংরেজি জানলে বড়সড়ো চাকরি, বিস্তর উপার্জন—এসব অর্থহীন ভাবনা মনে এখন শেকড় ছড়িয়েছে। ফলে দিনে দিনে বাংলা ভাষার প্রতি অনাদর-উপেক্ষা বেড়েই চলেছে। বাংলা জানি না, ইংরেজি জানি—এই অর্ধসত্যটিকে অহরহ জাহির করা হচ্ছে। বাঙালিয়ানা কোথায় লোপাট হয়েছে! সেই বেচারা বা বেচারিকে কে বোঝাবে, বাংলা তো নয়ই, ইংরেজিও তার ঠিকঠাক জানা হয়নি। মায়ের ভাষাকে যদি উপেক্ষা করে, অপাঙ্‌ক্তেয় ভাবে, তাহলে যে অন্য কোনও ভাষাই শেখা যায় না, এই চরম সত্যটি অনেকেই বুঝতে চায় না। ভাষার প্রতি ভালোবাসা না জাগ্রত হওয়ায় সুস্থ সংস্কৃতিভাবনাও বিকশিত হয় না। সবই কেমন এলোমেলো হয়ে এখন ঘেঁটে গিয়েছে। নিজের ভাষা ও সংস্কৃতির বিস্মরণ কতখানি আত্মঘাতী, নানা প্রেক্ষাপটে প্রমাণিত সত্য। তাই ঘরে বাইরে বাংলা ভাষার যে অবমাননা, তা বন্ধ হোক। ‘আমরি বাংলা ভাষা’-র প্রতি ভালোবাসা জাগুক। দায়ে পড়ে পরীক্ষা-বৈতরণি পেরনোর জন্য পড়া নয়, ভালোবেসে পড়ার বাতাবরণ তৈরি হলে বাংলা ভাষার মাধুর্য ও সৌন্দর্য সহজে অনুভব করা যাবে। বাংলাভাষার যে মহার্ঘ সাহিত্যভাণ্ডার, তার আস্বাদনও সম্ভব হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী শিক্ষাবর্ষে সব স্কুলে বাংলা পড়ানো হবে। সর্বভারতীয় বোর্ড পাঠ্যসূচিতে বাংলা রাখবে না, সেটাই স্বাভাবিক, বাংলা অন্তর্ভুক্তির দায়িত্ব স্কুলকেই নিতে হবে। প্রয়োজনে স্কুল-কর্তৃপক্ষই পরীক্ষার ব্যবস্থা করবেন। মানে, কোনও অজুহাতই খাটবে না। বাংলা না পড়িয়ে, বাংলা সংস্কৃতিকে গোল্লায় পাঠিয়ে যেসব স্কুল মুনাফা লুঠছে, তাদের রাশ টানার পাশাপাশি বাংলাভাষার প্রতি তাদের যে ঘৃণ্য মনোভাব, তাও পালটাতে চাইছে সরকার। প্রাদেশিক ভাষাকে অবহেলা-অবমাননা করার শিক্ষা শিক্ষালয় থেকে, গৃহপরিবেশ থেকে অন্য কোনও রাজ্যে শিক্ষার্থী পায় না। ব্যতিক্রম বোধহয় আমাদের রাজ্য। পশ্চিমবঙ্গেও প্রাদেশিক ভাষা পড়তে হবে—নিঃসন্দেহে জরুরি সিদ্ধান্ত, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
ইংরেজি পড়ুক, অন্য ভাষাও পড়ুক, বাংলাভাষাকে অবহেলায় দূরে সরিয়ে কোনও ভাষার পাঠই সফল হতে পারে না। বাংলাভাষাও গুরুত্ব পাক বঙ্গসন্তানের পাঠ্যসূচিতে। বঙ্গভাষী নয়, যারা বঙ্গবাসী, তারাও বাংলাভাষাকে জানুক, যথোচিত মর্যাদা ও সম্মান দিতে শিখুক। ত্রিভাষা রীতির পরিকল্পনা স্বপ্ন-বুদ্‌বুদের মতো হারিয়ে না গিয়ে দ্রুত রূপায়িত হোক। পথেঘাটে, কাজেকর্মে, সরকারিস্তরে—পঞ্চায়েত-পৌরসভা থেকে নবান্ন, সর্বত্রই আরও বেশি করে কি বাংলা ভাষা ব্যবহার করা যায় না?
নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা, চোখে-মুখে যাদের স্বপ্ন-প্রলেপ, তারা বাংলায় বাংলার গান গেয়ে উঠুক, বলুক, ‘আমি আমার আমিকে চিরদিন এই বাংলায় খুঁজে পাই...।’ দেখুক, একবার নয়, বারবার
বাংলার মুখ।
 লেখক শিশুসাহিত্যিক ও শিশুসাহিত্যের গবেষক
17th  June, 2017
লুক ইস্ট থেকে অ্যাক্ট ইস্ট: কী পেলাম
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

২০১৪ সালে ক্ষমতায় এসে ওই বছরই ১২ নভেম্বর আসিয়ান-ভারত যৌথ সম্মেলনের বক্তৃতায় নরেন্দ্র মোদি উল্লেখ করেছিলেন দেশের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক বিকাশ, শিল্পায়ন এবং বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যেমন নতুন জোয়ার এসেছে তেমনি ভারতের বিদেশনীতিতে ‘লুক ইস্ট’ পলিসি ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ পলিসিতে রূপান্তরিত হয়েছে।
বিশদ

বাংলার রসগোল্লা—মেড ইন চায়না
হারাধন চৌধুরী

আলী সাহেব বাঙালিকে শুনিয়েছিলেন তাঁর ঝান্ডুদার গল্প। পাঠক জানেন, ঝান্ডুদা মস্ত ব্যবসায়ী। যাচ্ছিলেন লন্ডন। বিলেতবাসী এক বন্ধুকন্যার জন্য সঙ্গে এনেছিলেন বাংলার টিনজাত কিছু রসগোল্লা। পথে ইতালির ভেনিস বন্দরে নামতে হয়। এরপর সেখানকার কাস্টমস অফিসে চেকিংয়ের সময় সেই কয়েক পাউন্ড রসগোল্লার জন্য যে আক্কেলগুড়ুম হবে তা তাঁর কল্পনায় ছিল না।
বিশদ

গুম-নিখোঁজ ও পরমানন্দ মন্ত্রণালয়
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলাদেশে ‘লিট ফেস্ট’ শুরু ও শেষ হল। সেই কারণে কি না জানি না, অরুন্ধতী রায়ের দ্বিতীয় উপন্যাস ‘দ্য মিনিস্ট্রি অব আটমোস্ট হ্যাপিনেস’ হুট করে সংবাদপত্রে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এল। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় সাহিত্যিক ও সাংবাদিক, আমার অতি ঘনিষ্ঠ ও প্রিয় আনিসুল হক এই উপন্যাসের বাংলা নাম দিয়েছেন ‘পরমানন্দ মন্ত্রণালয়’।
বিশদ

19th  November, 2017
লন্ডন, এডিনবরা এবং মমতা
শুভা দত্ত

দুর্গাপুজোর দিন যত এগিয়ে আসে, আনন্দটা তার সঙ্গে সমানুপাতিক হারে বাড়ে। এ আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির চিরন্তন সত্য। আর মা দুর্গাকে ঘিরে সেই উৎসবের রামধনু রং ফিকে হতে শুরু করে নবমীর সন্ধ্যা থেকেই। আজ বাদে কাল দশমী। মায়ের ফিরে যাওয়ার পালা।
বিশদ

19th  November, 2017
চীনের প্রেসিডেন্ট বনাম ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ
প্রশান্ত দাস

জিনপিং দেশের বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের বললেন—আমাদের সমাজতন্ত্র দেশকে তরতর করে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। এগিয়ে চলেছে আমাদের অর্থনীতি। কিন্তু গত পাঁচ বছরে আপনারা ক’টি অবিশ্বাস্য অস্ত্র দিতে পেরেছেন সেনাদের? ভারতের ডিআরডিও কী করে পৃথিবীতে দু’নম্বর রিসার্চ সেন্টার হল? কী নেই আপনাদের? যা যা চাই, তালিকা পাঠান। যতদিন না আমরা ডিআরডিও-কে ছাপিয়ে যেতে পারছি, ততদিন আমরা নিজেদের এশিয়ার মধ্যে এক নং বলতে পারব না।
বিশদ

18th  November, 2017
রাজ্যের লাইব্রেরিগুলিকে বাঁচাতেই হবে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

মনে পড়ছে গত ডিসেম্বরের কথা। বীরভূম জেলার সরকারি বইমেলার আয়োজন হয়েছিল সিউড়িতে, ইরিগেশন কলোনির মাঠে। আমি উদ্বোধক, মঞ্চে জেলার মন্ত্রীরা, সঙ্গত কারণেই উপস্থিত ছিলেন গ্রন্থাগারমন্ত্রীও। মঞ্চে বসেই সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর সঙ্গে পরিচয়, আলাপচারিতা।
বিশদ

18th  November, 2017
মোদির আমলে শিশুদের খিদের যন্ত্রণা তীব্র, কারণ শিশু ও মহিলা উন্নয়নে গুরুত্ব কম
দেবনারায়ণ সরকার

কেন্দ্রীয় সরকারের গত ৩ বছরের বাজেটের তথ্য সার্বিকভাবে বিচার করলে দেখা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় বাজেটে মোট ব্যয় যেখানে ২১ শতাংশের বেশি বেড়েছে (টাকার অঙ্কে অতিরিক্ত প্রায় ৩ লক্ষ ৫১ হাজার কোটি টাকা), সেখানে মহিলা ও শিশু উন্নয়নে ব্যয় কপর্দকও বাড়েনি, বরং প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। একইভাবে মহিলা ও শিশু উন্নয়ন ব্যয় বাজেটের মোট ব্যয়ের ১ শতাংশের অনেক নীচে নেমেছে। মোদ্দা কথা হল, যে দেশের কেন্দ্রীয় বাজেটে মহিলা ও শিশু উন্নয়নের ব্যয় বাজেটে মোট ব্যয়ের ১ শতাংশেরও কম এবং এই ব্যয় মোদির জমানায় যেহেতু আরও কমছে, সেই দেশে রোজ রাতে খালি পেটে শুতে যাওয়া শিশুদের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধিটাই স্বাভাবিক। তাই ভারতে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অপুষ্টিও।
বিশদ

17th  November, 2017
ডেঙ্গু: রাজনীতি ছেড়ে হাত মিলিয়ে কাজের সময়
অনিরুদ্ধ কর

অবিলম্বে একটা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা নিয়মাবলী প্রকাশ করতে হবে সরকারের তরফে। সরকারি নির্দেশ মানতে বাধ্য সকল সরকারি বেসরকারি ও প্রাইভেট চিকিৎসা কেন্দ্র। অতীতের দিকে নজর দিলে দেখা যাবে বার্ড ফ্লু বা সোয়াইন ফ্লু-র সময় সরকারের তরফে এমন নিয়মাবলী প্রকাশ করা হয়েছিল। চিকিৎসাব্যবস্থায় কী কী থাকতে হবে এবং কোথায় থাকবে তাও বলে দেওয়া হয়েছিল। ফ্লু-র ওষুধ একমাত্র সরকার দিত। খোলাবাজারে মিলত না সেই ওষুধ। কারণ সেক্ষেত্রে ওষুধ নিয়ে কালোবাজারি এবং চড়া দামে ওষুধ বিক্রি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যেত। এছাড়া একটি রাজ্যস্তরের কমিটি ছিল পর্যালোচনার জন্য।
বিশদ

17th  November, 2017
প্যারিস, পরিবেশ এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভারত
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 পরিবেশ মানে হল যেখানে সেখানে থুতু না ফেলা। মন্তব্যটি আমারই এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর। এবং কী ভয়ঙ্কর সাবলীল স্বীকারোক্তি। যে দেশে ৩০ কোটি মানুষ এখনও দারিদ্রসীমার নীচে বসবাস করেন, যেখানে সাক্ষরতা বলতে বোঝানো হয় নিজের নাম সই করতে পারা, সেখানে সচেতনতার প্রাথমিক পাঠটা এমন একটা মন্তব্য দিয়ে শুরু করলে মন্দ কী!
বিশদ

16th  November, 2017
সার্ধশতবর্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি টেম্‌স থেকে গঙ্গা: ভগিনী নিবেদিতার দার্শনিক যাত্রা
জয়ন্ত কুশারী

 আয়ারল্যান্ডের স্বল্প জনবসতি শহর ডুং গানন। স্যামুয়েল রিচমন্ড নোবেল নামে এক ধর্মযাজক ও তাঁর ভক্তিমতী স্ত্রী মেরি ইসাবেল হ্যামিলটন বাস করেন এই শহরে। এঁরা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে করজোড়ে প্রার্থনা করেন সুখপ্রসবে প্রথম সন্তানটি হলে তাঁরা ঈশ্বরের চরণেই সদ্যোজাতকে সমর্পণ করবেন।
বিশদ

16th  November, 2017
নোট বাতিল: উত্তরপ্রদেশের ভোট, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং চে গুয়েভারা
শুভময় মৈত্র

নোট বাতিলের কারণ এবং ফল সংক্রান্ত আলোচনা দেখে, শুনে এবং পড়ে জনগণ এই বিষয়ে যথেষ্ট অবহিত, হয়তো বা কিছুটা ক্লান্তও বটে। বিজেপি সরকার কেন এই সিদ্ধান্ত নিলেন, এর কী কী ভুল ভ্রান্তি আছে, দেশের কী ক্ষতি হল, সাধারণ মানুষ ঠিক কতটা ভুগলেন এই নিয়ে আমরা যতটা আলোচনা করেছি সেই পরিমাণটা সময় এবং সম্পদের হিসেবে পাঁচশো আর হাজার টাকার মোট বাতিল নোটের মূল্যের থেকে বেশিও হয়ে যেতে পারে।
বিশদ

14th  November, 2017
বুকে লাল গোলাপের সেই মানুষটির কথা আজ খুব মনে পড়ছে
মোশারফ হোসেন

স্বপনদা বলত, পচার চাই। বুঝলে ভায়া, পচারটাই আসল। বাঁকুড়া মানুষ স্বপনদা র-ফলা উচ্চারণ করতে পারত না। তার মুখে ‘প্রচার’ শব্দটা ‘পচার’ হয়েই বেরত। আগ্রার ভঁপু চক্কোত্তিও একই কথা বলেছিলেন। ভঁপুবাবুর সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। এরকমই এক নভেম্বরে। উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা ভোটের খবর করতে গিয়ে।
বিশদ

14th  November, 2017
একনজরে
 বেজিং, ২০ নভেম্বর (পিটিআই): একাধিক পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম দূরপাল্লার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ‘ডংফেং-৪১’ সম্ভবত আগামী বছরই চীনের সেনা অস্ত্রভাণ্ডারে যুক্ত হতে চলেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ‘ম্যাক ১০’-এর থেকে অনেক বেশি গতিসম্পন্ন। এটি একসঙ্গে ১০টি পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম। ...

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ার জেলার বক্সা পাহাড়ের ১৩টি পাহাড়ি গ্রাম এবং সমতলে থাকা সান্তলাবাড়ি ও জয়ন্তীকে নিয়ে বক্সাদুয়ার নামে একটি আলাদা করে গ্রাম পঞ্চায়েত গঠনের দাবিতে বিজেপি আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিয়েছে। ...

বিএনএ, আসানসোল: ট্রেনে যাত্রীদের সুরক্ষা বাড়াতে ‘স্পেশাল টিম’ তৈরি করেছে আরপিএফ। সম্প্রতি আরপিএফের আইজি বিনোদ কুমার দাকা আসানসোলে বৈঠক করতে এসে টিম তৈরির ব্যাপারে নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, এই স্পেশাল টিমের কাজ হবে ট্রেনে অপরাধমূলক ঘটনা কমানো। ...

বিএনএ, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে লোহার সামগ্রী পাচার হচ্ছে পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে। শনিবার ১০টন লোহার সামগ্রী সমেত দু’জনকে গ্রেপ্তার করার পর এমনই তথ্য হাতে পেয়েছে রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিস। ধৃতদের জেরা করে পুলিস লোহা পাচার চক্রের মূল পান্ডার নাম জানতে পেরেছে। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

প্রেম-প্রণয়ে কিছু নতুনত্ব থাকবে যা বিশেষভাবে মনকে নাড়া দেবে। কোনও কিছু অতিরিক্ত আশা না করাই ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব টেলিভিশন দিবস
১৬৯৪: ফরাসি দার্শনিক ভলতেয়ারের জন্ম
১৯৭০: নোবেলজয়ী পদার্থবিদ চন্দ্রশেখর বেঙ্কটরামনের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৪.২০ টাকা ৬৫.৮৮ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৯০ টাকা ৮৭.৭৯ টাকা
ইউরো ৭৫.৪৪ টাকা ৭৮.০৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩০,১৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৮,৬৩৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৯,০৬৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৪ অগ্রহায়ণ, ২০ নভেম্বর, সোমবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ৯/৩৬, নক্ষত্র-জ্যেষ্ঠা রাত্রি ১২/৪৮, সূ উ ৫/৫৬/২৫, অ ৪/৪৮/৪, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৭/২৩ মধ্যে পুনঃ ৮/৫০ গতে ১১/০ মধ্যে। রাত্রি ঘ ৭/২৬ গতে ১০/৬ মধ্যে পুনঃ ২/২৭ গতে ৩/১৯ মধ্যে, বারবেলা ঘ ৭/১৮ গতে ৮/৪০ মধ্যে পুনঃ ২/৫ গতে ৩/২৬ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/৪৪ গতে ১১/২২ মধ্যে।
৩ অগ্রহায়ণ, ২০ নভেম্বর, সোমবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ৭/৪২/২৮, জ্যেষ্ঠানক্ষত্র ১১/৫৫/৩৬, সূ উ ৫/৫৬/৫৮, অ ৪/৪৬/৫৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/২৩/৩৮, ৮/৫০/১৮-১১/০/১৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২৪/৫৮-১০/৫৫/১৮, ২/২৫/৩৭-৩/১৮/১৮, বারবেলা ২/৪/২৮-৩/২৬/৪৩, কালবেলা ৭/১৮/১৩-৮/৩৯/২৮, কালরাত্রি ৯/৪৩/১৩-১১/২১/৫৮। 
৩০ শফর

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
 কালিয়াগঞ্জে দাশমুন্সি ভবন ঘুরে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কালিয়াগঞ্জের দলীয় পার্টি অফিসে। এরপর সেখান থেকে নিয়ে আসা হয় রায়গঞ্জে। এখানে কংগ্রেস কার্যালয়ে অগুন্তি সমর্থক ও প্রিয়জনদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের পর অন্ত্যেষ্টির জন্য শ্মশানের উদ্দেশ্যে রওনা হবে।

07:25:00 PM

কলকাতায় গ্রেপ্তার ৩ জন আল কায়দা জঙ্গি
আজ কলকাতা স্টেশন থেকে ৩ জন আল কায়দা ...বিশদ

06:07:00 PM

 কালিয়াগঞ্জের উদ্দেশ্যে শেষযাত্রায় প্রিয়
প্রিয়রঞ্জনের মরদেহ দিয়ে হেলিকপ্টার পৌঁছাল রায়গঞ্জে। সেখান থেকে ...বিশদ

05:16:00 PM

  ফের সাংবাদিক খুন ত্রিপুরায়
মাস দুয়েকের মধ্যে ফের সাংবাদিক খুনের ঘটনা ঘটল ত্রিপুররায়। এবার ...বিশদ

05:13:45 PM

ট্রেনের সময়সূচি বদল 
ডাউন ট্রেন দেরিতে আসার কারণে

১৩০০৯ আপ হাওড়া-দেরাদুন ...বিশদ

04:02:00 PM