বিশেষ নিবন্ধ
 

বিদ্বেষ, বিচ্ছিন্নতাবাদ একসঙ্গে দুটি জিনিসই আমদানি করছে এই উগ্র জাতীয়তাবাদ
শাঁওলী মিত্র

শাঁওলী মিত্র: আমার কিছুদিন ধরে ১৯৯৯-২০০০ এই সময়টার কথা মনে পড়ছে। ওই সময়ে প্রায়ই আমাদের সেনা-জওয়ানদের কফিনবন্দি দেহ পৌঁছে যেত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তখন শুনেছিলাম সেই কফিনের বরাত নিয়েও অনেকানেক ক্ষুদ্র রাজনীতির খেলা ইতিউতি চলছিল। মন ধিক্কার দিয়েছিল। সেই ধিক্কারে কেউ বা নাটক করেছেন, কেউ বা গান বেঁধেছেন, কেউ কবিতা লিখেছেন, কেউ বা ছবি এঁকেছেন... কিন্তু তাতে কার কী এসে যায়। এই শিল্পকর্মের প্রতিবাদ কারওর মনে কি দাগ কাটে? বিশেষত যাঁরা এমন করে যৌবনকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেন। তাঁদের কারবার রাজনীতির উচ্চশিখরে ক্ষমতা প্রদর্শন। উদ্দেশ্য নয় দেশের মানুষকে ন্যূনতম স্বাচ্ছন্দ্য দেওয়ার।
যে দেশে অধিকাংশ গ্রামে ডাকঘর নেই, ব্যাংক নেই, সমবায় সমিতির সুপরিচালনা নেই—সেই দেশে নোটবন্দির ঘোষণায় সত্যিই কি লাভ হল? সাধারণ মানুষ আমি। আমি দেখলাম নোট বদলে হিমশিম খাচ্ছি এই শহরেই। বয়স্ক মানুষদের অকস্মাৎ প্রয়োজনে যে সঞ্চয়টুকু রাখা প্রয়োজন, সেইটুকু টাকা রাখাও যেন কালো টাকা জমানোর অপরাধ বলে চিহ্নিত হল।
আর যাঁদের বাড়িতে বা ‘প্রাসাদোপম’ বাসস্থানে গুপ্ত সঞ্চয়ে কর ফাঁকি দেবার এবং অন্য নানাবিধ বে-আইনি কাজ গোপনে সেরে ফেলবার জন্য কাঁড়ি কাঁড়ি নোট রাখা থাকে তাঁদের ক’জনের গায়ে এর আঁচ লেগেছে?—অথচ আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশিরভাগ লোক ভেবেছেন যে নিশ্চয়ই এর প্রত্যক্ষ ফল তাঁরা দেখতে পাবেন, এবং কালো টাকার বিপজ্জাল থেকে তাঁরা মুক্ত হবেন।
পাঁচশো এবং হাজার টাকার নোট বাতিল করে চালু করা হল নতুন ২০০০ টাকা। ওতে নাকি চোরাকারবারিদের শায়েস্তা করা যাবে। গেল কি? ৫০০ টাকার নোট আসতে অনেক বেশি সময় লাগল। কিন্তু, ২০০০ টাকার নোটের জালিয়াতি শুরু হতে বেশি সময় লাগল না। যেটুকু ধরা পড়ছে তার কত গুণ বেশি অংশ ধরা পড়ছে না, তার খবর আমরা জানতেও পারছি না।
এদিকে জাতীয়তাবাদের এক ধুয়ো উঠেছে। এই জিগির যে মানুষকে কতরকম বিপদের সম্মুখে দাঁড় করায় তার মোটা মোটা দৃষ্টান্ত পৃথিবীর ইতিহাস আমাদের দেখিয়েছে। একবার নয়, বহুবার। তবু আমরা ধর্মের হুজুগে মাতি, ‘জাতি’র প্রশ্নে উল্লম্ফনের তুলনা নেই। আমার দেশের স্বার্থে আমরা যদি মানবাত্মার ক্ষতিসাধন করি তা হবে মস্ত অপরাধ—এ কথা তখন আমরা বিস্মৃত হই। কোন কর্মটি সত্যিই দেশের স্বার্থ রক্ষা করছে, আর কোন কর্মের দ্বারা ‘দেশের স্বার্থ’-র নাম করে দেশেরই ক্ষতি সাধন করছে—তাও আমরা বুঝে উঠতে পারি না।
আমরা যখন ‘গোহত্যা’ ইত্যাদি নিয়ে পক্ষে বা বিপক্ষে সরব হচ্ছি তখন বিভিন্ন প্রদেশে অভুক্ত কৃষক কীরকম ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাণ দিচ্ছে সেই সরকারি প্রতিভূদেরই হাতে তা কি আমরা নজর করছি? কিছু পশুর ওপর দরদি হয়ে মানুষের মৃত্যুকে পরোয়া না করি, তাহলে কীসের জনদরদ! আর এই হত্যাবন্ধের ফলে কত মানুষের জীবিকায় টান পড়বে তাও কি ভেবে দেখছেন ফতোয়া প্রদানকারীরা?
পাহাড়ের গোলমাল নিয়ে যখন আমরা আমাদের সরকারকে দায়ী করে লম্বা লম্বা বক্তৃতা এবং উপদেশ বর্ষণ করছি ছোট পরদায়, তখন এ কথা তো মনে করছি না, যে এই প্রশাসনিক সভা করতে সাহস করেছে একটি সরকার ৪৭ বছর পরে? এ কথা তো মনে করছি না, যে এই তৈরি-করা-বিক্ষোভের মদতদাতারা বিদেশি কোনও শক্তি হলে আশ্চর্য হবার কিছু থাকবে না। তখন কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের থেকে বেশি দায়িত্ব বর্তাবে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপরে।
আশির দশকের বঙ্গ সরকার কেমন করে বছরের পর বছর পাহাড়ের গোলমালটি সযত্নে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন সে কথা তো ভাবছি না। আজ তাঁরাই আলোচনার মাধ্যমে ‘সমাধানসূত্র’ খুঁজতে উপদেশ দিচ্ছেন। সুবাস ঘিসিংয়ের কথা কি ভুলে গিয়েছি আমরা? আমরা কি শুনিনি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের মস্তানদের হুঁশিয়ারি ছিল ‘পাহাড়ে বাঙালি মরলে যেন মনে থাকে সমতলেও কয়েক লক্ষ নেপালি আছে!’ এই কি ছিল তাঁদের আলোচনার পদ্ধতি? তখন মনে থাকেনি সেই নেপালিরাও কিন্তু এই মাতৃভূমির সন্তান?
এই পরিপ্রেক্ষিতে একটু কাশ্মীরের কথা স্মরণ করতে চাই। কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ নাকি জঙ্গিদের সহায়তা দিচ্ছে। এ অভিযোগ নতুন নয়। একটি নথি জানান দিচ্ছে সেই ৮৯ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সাধারণ কাশ্মীরিদের ওপরে রাষ্ট্র, আমাদের স্বাধীন গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীয় সরকার কী পরিমাণ অত্যাচার চালিয়েছে এই একই অভিযোগে। কত যুবক গুম হয়ে গিয়েছে, কত যুবতী লুট হয়ে গিয়েছে। আজ ২০১৭-তে পৌঁছেও সেইসব পরিবার বিচার পায়নি কোনও, সুবিচার তো নয়ই।
সেইসব অত্যাচার ঘটেছে দেশের সরকারের প্রতিভূ, শাসকদলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষকদের দ্বারা। খুন থেকে শুরু করে সর্বরকমের অত্যাচার তারা নির্বিবাদে ঘটিয়েছে কেবল তাদের হাতে অঢেল ক্ষমতা আছে বলে। কোনও নির্দিষ্ট অপরাধের প্রমাণের ভিত্তিতে নয়। সাধারণ শাল কারবারি, চামড়া এবং গরমকাপড়ে ফুল তোলা শিল্পীরা, কাঠের অপূর্ব কাজের কারুশিল্পীরা, সাধারণ ফল ব্যবসায়ীরা—এরা সকলেই কি জঙ্গি-সংযোগকারী বিদ্রোহী ছিলেন?
সীমানা স্থির করবার বিষয়েও কত অংশ অস্বচ্ছতায় ঢেকে রেখে দিয়েছেন আমাদের নেতৃবর্গ। যার ফলাফল ভোগ করছে আজকের সীমানাপ্রান্তের বাসিন্দারা। শুধু পাকিস্তান নয়, চায়নার সীমান্ত নিয়েও কি অবহেলা দেখাইনি আমরা? আকসাই চীন এবং ম্যাকনামারা লাইন সম্পর্কে এই ৭০/৭২ বছরেও কি কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া গেল না? আজও কি অরুণাচলপ্রদেশের সীমান্তে কাশ্মীরের তুল্য একটি জট পাকিয়ে রাখা নেই? এই উত্তর-পূর্ব অঞ্চল যে কীরকম অস্থির হয়ে আছে, তার কোনও সুষ্ঠু সমাধান কি ফলপ্রসূ হয়েছে? কেবল নানা সুবিধা প্রদান করে ওই অঞ্চলকে শান্ত করে রাখার চেষ্টা ছাড়া!
কিন্তু কাশ্মীরে তো তাও করা হয়নি! কেন? এই গোলমাল বাধিয়ে রেখে দেওয়ার উদ্দেশ্য কী? কেন কাশ্মীরে এমন অশান্তি সৃষ্টি করা যে আজ সেখানকার সাধারণ মানুষ মনে করছেন ভারত সরকার তাঁদের আপন নন। কী জন্য সেখানকার মেয়েরা, বাচ্চারা পর্যন্ত নেমে এসে পুলিশ এবং সেনাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ জানাচ্ছে? এ তো কেবল militants-দের সঙ্গে হাত মেলানোর গল্প হতে পারে না।
যে নথির কথা বলছিলাম তা তো সরকারি কাগজপত্র ঘেঁটে সময় নিয়ে পরিশ্রম করে বই আকারে বেরিয়েছে। তাতে যে উদাহরণ শ’য়ে শ’য়ে পেশ করা রয়েছে, তাদের সকলেরই প্রায় একই কাহিনি। ভারত সরকারের কাছে তাঁরা যে নৈতিক বিচার প্রত্যাশা করেন তা তাঁরা পান না। শতকরা এক ভাগ পেলেও বাকি ৯৯ শতাংশ পান না, এ হল একেবারে বাস্তব সত্যি। কাজেই কাশ্মীরি জনগণ, যাঁরা ভারতীয় নাগরিক, যাঁরা ভারতে থাকবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যাঁরা এ দেশকে তাঁদের দেশ বলে মনে করেন তাঁদের আমরাই বিদ্রোহী করে তুলেছি।
সে কথা কি আমরা স্বীকার করি? সহজ প্রচারে বিশ্বাস করি পাকিস্তানি জঙ্গিরাই এর জন্যে দায়ী। সব ঘটনাই যেন পাকিস্তানের উসকানিতে ঘটছে। তা যদি হয়, তাহলে তো আমাদের আরও সচেতন হওয়া উচিত যাতে তারা সেই সুযোগ না পায়। তারা যেন ধর্মের নামে, সামাজিক বঞ্চনার নজির দেখিয়ে এই অশান্তি তৈরি না করে তোলে আমাদের দেশে, গরিব প্রান্তিক কাশ্মীরি জনগণের মধ্যে টাকা ছড়িয়ে এই দুষ্কর্মে তাঁদের প্রবৃত্ত না করাতে পারে।
তাই এখন মৃত্যুর হিসাব গুনছে দু-পক্ষই এবং গর্বিত হচ্ছে। বছরের পর বছর সীমান্তে অবস্থিত সৈন্যদের ঘাঁটি থেকে তরতাজা যুবকরা মারা যাচ্ছে। এবং মানুষ মারতে অভ্যস্ত হচ্ছে। আজ আমাদের পাঁচজন জওয়ান মারা গিয়েছে, কাল আমরা ওদের দশজন ‘জঙ্গি’ বা পাকিস্তানি সেনাকে মৃত্যুর মুখে পাঠিয়ে দিয়ে গর্ব বোধ করছি। জানাতে চাইছি আমরা কত বড় বীর! আর ও-পক্ষও ঠিক একই কাজ করছে। আর এই জাতীয়তাবাদ কেবল অন্য জাতির প্রতি বিদ্বেষ তৈরি করছে না, নিজেদের মধ্যেও আমরা বিচ্ছিন্নতাবাদের আমদানি করছি।
আর তাই এই দ্বন্দ্ব শুধু ‘পাকসৈন্য’ ‘ভারতীয় সেনা’-র মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। তা পরিণত হচ্ছে ‘হিন্দু’ এবং ‘মুসলমান’ বিভাজনে। আর তাই দেশের সাধারণ মানুষদের প্রতিও সরকারি সৈন্য অবিচার করতে দ্বিধা করছে না। এমন শ’য়ে শ’য়ে লোক হঠাৎ হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যেত না। তারা—যারা কারওর ছেলে, কারওর বাবা, কারওর ভাই বা মেয়ে।
আমরা যদি মধ্য এশিয়ার দিকে তাকাই তাহলেই বুঝতে পারব আমরা নিজেদের ক্ষতিসাধনে কতখানি সচেষ্ট হয়ে উঠেছি। যদি এক ‘মিরজাফর’ তৈরি হয়ে শত্রু প্রবেশের সুবিধা করে দেয় তাহলে এই অত্যাচারের দাওয়াই দিয়ে কি বাঁচব? এই পশ্চিমবাংলার উত্তর প্রান্তে সব দিক থেকে আমরা কি সুরক্ষিত রয়েছি? নেপাল-চীন-তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে ২০০০-২০০৪—এই সময়ে কী অশান্ত ছিল উত্তরবঙ্গ আমরা স্মরণ করতে পারি কি? সন্ধ্যার পরে ঘরের বাইরে থাকতে কেউ সাহস করতেন না।
সীমান্ত রক্ষার ভার কেন্দ্রীয় সরকারের ওপরে। তাঁরা যেন এই আগত দিনের আশঙ্কাকে সত্য না করে তোলেন। তাতে আমাদের যে সর্বনাশ হবে সে বোধহয় আমাদের কল্পনার চৌহদ্দির মধ্যে নেই!—স্থানীয় ইস্যু—শিশুপাচার, নারীপাচার, ভুয়ো ডাক্তার, বে-আইনি প্রত্যঙ্গ বিক্রি, নার্সিংহোম বা প্রাইভেট হাসপাতালের অনবধানতা ও নিষ্ঠুরতা—এ সবই আমাদের আলোচ্য নিশ্চয়। কিন্তু এসব কি বিচ্ছিন্ন ঘটনা? যে বড় বড় ঘটনা ঘটে চলেছে তার সঙ্গে সমাজজীবনের পক্ষে এমন সব ক্ষুদ্র আকারের ভয়ংকরতা সমান্তরালে চলেছে—যে, ভয় করে— যুগপৎ আক্রমণ আমাদের কোন পথে ঠেলে নিয়ে যাবে?
প্রসঙ্গত বলি, আমাদের দেশের প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব এম কে রায়না পর্যন্ত একদিন রাস্তায় নিগৃহীত হয়েছিলেন আমাদের বাহিনীর হাতে। তাঁকে তো আমরা ‘দেশদ্রোহী’র ছাপ মেরে দিতে পারি না। সেখানেও অন্ধকার নামলে সাধারণ ভদ্র মানুষের পথে নামা বিপজ্জনক—তাঁর পক্ষে সেই বেরনো যতই জরুরি হোক না কেন।
17th  June, 2017
রাজ্যের উদ্বেগজনক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্র এত উদাসীন কেন?
শুভা দত্ত

 ‘কেন্দ্রের বিমাতৃসুলভ আচরণ’ বলে একটা কথা একসময় খুব শোনা যেত। ইন্দিরা গান্ধীর আমলে তো বটেই, তার পরে তাঁর পুত্র রাজীব গান্ধী বা তাঁর পরের প্রধানমন্ত্রীদের আমলেও এ রাজ্যে ওই ‘বিমাতৃসুলভ আচরণ’ নিয়ে রাজনৈতিক হইচই যথেষ্ট হয়েছে।
বিশদ

20th  August, 2017
আহা, সেই নতুন ভারত ভয়মুক্ত হোক
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

 স্বাধীনতা দিবসে লাল কেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চতুর্থ ভাষণ বেশ মন দিয়েই শুনলাম। স্বচ্ছ ভারত, স্মার্ট সিটি, মেক ইন ইন্ডিয়া, স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া, জন ধন প্রকল্প, নমামি গঙ্গে, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, ডিজিটাল ইন্ডিয়া, কংগ্রেস মুক্ত ভারত, কালো টাকা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোমর-কষা লড়াই ইত্যাদি ইত্যাদি প্রতিজ্ঞা ও স্বপ্নের জাল গত চারটি ভাষণে শোনানোর পর সেদিন তিনি ‘নিউ ইন্ডিয়া’ বা নতুন ভারত গড়ার কথা শোনালেন।
বিশদ

20th  August, 2017
সফলতা বনাম সফলতা
অভিজিৎ তরফদার

 সংবাদপত্রের প্রথম পাতা আলো করে কোন ব্যক্তিরা শোভা পান? তাঁরা জনপ্রতিনিধি। তাঁরা দেশের আইনও প্রণয়ন করেন। দুর্জনে বলে তাঁদের এক চতুর্থাংশ বা তারও বেশিজনের নামে ফৌজদারি মামলা আছে। খুন-ধর্ষণ-ডাকাতি ইত্যাদি ভয়ানক সব অভিযোগে তাঁরা অভিযুক্ত। কিন্তু আমরা, আম জনতা, তাঁদের ফুল্লবিকশিত মুখশোভা সংবাদপত্রে দেখতেই অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি।
বিশদ

19th  August, 2017
ভারত চীন যুদ্ধ হলে চীন পরাজিত হবে
প্রশান্ত দাস

 সারা ভারতজুড়ে এখন একটাই আলোচনা ঝড় তুলেছে—ডোকালাম নিয়ে চীন ভারতকে আক্রমণ করবে কি? চীন অনবরত ভারতকে চমকে চলেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপত্র গ্যারিরস বলেছেন—কোনও দেশ যেন নিজেকে সর্বশক্তিমান না ভাবে। চীন এবং ভারত মুখোমুখি আলোচনায় বসে ব্যাপারটি মিটিয়ে নেয়।
বিশদ

19th  August, 2017
শুধুই প্রচার, রেজাল্ট কই!
সমৃদ্ধ দত্ত

 গোরখপুর থেকে ৪৩ কিলোমিটার দূরের জৈনপুর গ্রামের লক্ষ্মী আর শৈলেন্দ্র তিন সপ্তাহ বয়সি মেয়ের মৃতদেহ নিয়ে অনেক দেরি করে বাড়িতে ফিরতে পেরেছিল। গোরখপুরের হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মেয়ে মারা যাওয়ার পর হাসপাতালের বাবুদের কাছে বারংবার ধমক খেতে হয়েছে তাঁদের।
বিশদ

18th  August, 2017
 কেন্দ্রের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণেই মেডিকেল ভরতিতে রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা বঞ্চনার শিকার
গৌতম পাল

 নিট পরীক্ষার দায়িত্ব সিবিএসই-কে দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষমতাকে কেন্দ্রীভূত করেছে। নিট পরীক্ষায় যাঁরা বিষয় বিশেষজ্ঞ হিসাবে সাহায্য করেছেন তাঁরা অধিকাংশই দিল্লির কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, এবং বেশিরভাগই কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালনাকারী একটি বড় রাজনৈতিক দলের সদস্য বা কাছের মানুষ। অথচ পশ্চিমবাংলার বা অন্যান্য রাজ্যের খ্যাতনামা যে সকল অধ্যাপক অত্যন্ত দক্ষতা এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে রাজ্যের প্রবেশিকা পরীক্ষায় এ যাবৎ সাহায্য করে এসেছেন, সিবিএসই কিন্তু তাঁদেরকে নিটের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করেনি, বা এই সম্পর্কে রাজ্যের কোনও মতামতও নেয়নি। অনেকেই বলছেন রাজ্যের পাঠ্যক্রম সংশোধন করে নিটের সমমানের করলেই রাজ্যের ছেলে-মেয়েরা নিটে ভালো র‌্যাংক করবে।
বিশদ

17th  August, 2017
স্বাধীনতার ৭০ বছর, নেতাতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র?
হিমাংশু সিংহ

বিয়াল্লিশের ভারত ছাড়ো আন্দোলন আমি দেখিনি। ৪৭-এর ঐতিহাসিক স্বাধীনতা লাভের মুহূর্তে মধ্যরাতের জওহরলাল নেহরুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ চাক্ষুষ করার সুযোগও হয়নি। হওয়ার কথাও নয়, কারণ ওই ঘটনার প্রায় দু’দশক পর আমার জন্ম। সেদিনের কথা বইয়ে, ইতিহাসের পাতায় পড়েছি মাত্র।
বিশদ

15th  August, 2017
গভীর রাতের নাটক শেষে স্যালুট
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

জেতা ম্যাচ কী করে হারতে হয়, এই নির্বাচন তার একটা বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে। হারতে হারতে জিতে গিয়েছেন আহমেদ প্যাটেল। এই দুর্দিনে তাঁর জয় কংগ্রেসের মরা গাঙে বান হয়তো ডেকে আনবে না, তবে মনোবল সামান্য হলেও বাড়াবে। সোনিয়া গান্ধীর দলের এই দুর্দিনে এটাই বা কম কী? তবে আহমেদ প্যাটেল নন, অমিত শাহও নন, শেষ বিচারে আসল জয়ী নির্বাচন কমিশন। ভারতীয় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এটাই। ওই গভীর রাতে নির্বাচন কমিশনকেই তাই স্যালুট জানিয়েছি।
বিশদ

13th  August, 2017
স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে: কিছু প্রশ্ন
শুভা দত্ত

শুধু ভারত ছাড়ো কেন? রামনবমী রাখিবন্ধন পুজোপাঠ স্বাধীনতা দিবস প্রজাতন্ত্র—সবকিছুতেই এখন এত বেশি বেশি রাজনৈতিক দখলদারি শুরু হয়েছে যে, সাধারণ মানুষের পক্ষে উৎসবের মেজাজ ধরে রাখাই মুশকিল হচ্ছে। রাজনীতি ছাড়া যেন কিছু হতেই পারে না!
বিশদ

13th  August, 2017



একনজরে
সংবাদদাতা, খড়্গপুর: দাঁতন বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির দুই নিখোঁজ ছাত্রীর খোঁজ মিলল মুম্বইয়ে। তাদের খোঁজে রবিবারই পুলিশের একটি দল মুম্বই ঩গিয়েছে। দাঁতন থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিখোঁজ দুই ছাত্রীর মোবাইলের সূত্র ধরে তাদের খোঁজ পাওয়া যায়। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রকল্পটি চালু হয়েছিল ২০০৯ সালে। কিন্তু তার আট বছর পরও নাকি রাজ্যের শিক্ষকদের একটা বড় অংশ রাষ্ট্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা অভিযান (আরএমএসএ) নামে ওই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের ব্যাপারে সেভাবে ওয়াকিবহাল নন। এমনটাই ধারণা শিক্ষা দপ্তরের। তাই এবার এই প্রকল্পের ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইতিমধ্যেই দক্ষিণ দমদম পুরসভা এলাকায় ডেঙ্গুতে আটজনের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। অবশেষে নড়েচড়ে বসল দক্ষিণ দমদম পুরসভা। পুরসভার যে সমস্ত ওয়ার্ডে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি, সেখানে গাপ্পি মাছ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ, সোমবার বাতিল করা হচ্ছে আপ কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস। পূর্ব রেল জানিয়েছে, বাংলাদেশ রেলের ডাউন লাইনের লিংক ট্রেনটি বাতিল থাকায় আপ লাইনের ট্রেনটিও বাতিল করা হয়েছে। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীদের ক্ষেত্রে ভাবনা-চিন্তা করে বিষয় নির্বাচন করলে ভালো হবে। প্রেম-প্রণয়ে বাধাবিঘ্ন থাকবে। কারও সঙ্গে মতবিরোধ ... বিশদ



ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৭৮- ভিনু মানকড়ের মৃত্যু
১৯৮৬- উসেইন বোল্টের জন্ম
১৯৯৫- সুব্রহ্মণ্যম চন্দ্রশেখরের মৃত্যু
২০০৬- ওস্তাদ বিসমিল্লা খানের মৃত্যু
১৯৭২- বন সংরক্ষণ আইন চালু


ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৩৫ টাকা ৬৫.০৩ টাকা
পাউন্ড ৮১.২৫ টাকা ৮৪.২১ টাকা
ইউরো ৭৩.৯৬ টাকা ৭৬.৫৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
19th  August, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) 29465
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) 27955
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) 28375
রূপার বাট (প্রতি কেজি) 39100
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) 39200
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
20th  August, 2017

দিন পঞ্জিকা

৪ ভাদ্র, ২১ আগস্ট, সোমবার, অমাবস্যা রাত্রি ১২/০, অশ্লেষানক্ষত্র দিবা ৩/৫১, সূ উ ৫/১৯/১৪, অ ৬/০/২৬, অমৃতযোগ দিবা ৭/০ পুনঃ ১০/২৩-১২/৫৬ রাত্রি ৬/৪৫-৯/১ পুনঃ ১১/১৭-২/১৮, বারবেলা ৬/৫৪-৮/২৯ পুনঃ ২/৫১-৪/২৬, কালরাত্রি ১০/১৫-১১/৪০। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ (ভারতে অদৃশ্য)
৪ ভাদ্র, ২১ আগস্ট, সোমবার, অমাবস্যা রাত্রি ১২/৮/৯, অশ্লেষানক্ষত্র অপরাহ্ণ ৪/৫৪/৪০, সূ উ ৫/১৬/৪৮, অ ৬/২/২৪, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৮/৫৩, ১০/২৩/২-১২/৫৬/১০ রাত্রি ৬/৪৭/২২-৯/২/২০, ১১/১৭/১৭-২/১৭/১২, বারবেলা ২/৫১/০-৪/২৬/৪২, কালবেলা ৬/৫২/৩০-৮/২৮/১২, কালরাত্রি ১০/১৫/১৮-১১/৩৯/৩৬। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ (ভারতে অদৃশ্য)
২৮ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বন্যায় ৭ লক্ষ হেষ্টর চাষের জমি ক্ষতিগ্রস্থ: কৃষিমন্ত্রী

 বন্যায়য় উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে ৭ লক্ষ হেক্টর চাষের জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যার মধ্যেো ৪ লক্ষ জমি উত্তরের। কৃষিতে প্রাথমিক হিসেবে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। যার মধ্যে উত্তরে ৫৩৪ কোটি ৫১ লক্ষ টাকাো জানালেন কৃষি মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু।

05:24:00 PM

 তামিলনাড়ুর উপ মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ পনিরসেলভামের

 এআএিডিএমকে-র দুই শিবিরের সংযুক্তিকরণের পর তামিলনাড়ুর উপ মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন পনিরসেলভাম

04:49:00 PM

বন্যার জন্য কেন্দ্রে কাছে উপযুক্ত প্যাকেজ চাইব: মমতা

কেন্দ্রের কাছে উপযুক্ত প্যাকেজের দাবি করতে চলেছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান গোটা রাজ্যে এবছর বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকা। কেবলমাত্র উত্তরবঙ্গেই মৃত্যু হয়েছে ৪৫ জনের। আর গোটা রাজ্যে ১৫২জনের। রাজ্যে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের সংখ্যা দেড় কোটি ছাড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ত্রাণ নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। তাই যতটা প্রয়োজন ততটাই ত্রাণ মিলবে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, অনেক সড়ক থেকেই জল নামতে শুরু করেছে, তাই যে সমস্ত সড়ক থেকে জল নেমে যাবে, সেখান দিয়েই ধীরে ধীরে ট্রাক পাঠানো হবে। কারণ অনেক ট্রাক পচনশীল দ্রব্য নিয়ে আটকে রয়েছে। পাশাপাশি এই বন্যার নামে যে সমস্ত অসাধু ব্যবসায়ী দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করতে চেষ্টা করছেন তাদের বিরুদ্ধেও নজরদারি চালানো হবে বলে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, জল নামলেই  বন্যা সংক্রান্ত রোগব্যাধির প্রতিষেধক এবং পানীয় জলের পথগুলিকে পরিশ্রুত করার ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

04:47:00 PM

সিলেবাস কমিটির প্রস্তাবে সিলমোহর রাজ্য সরকারের, সব ক্লাসে পড়তে হবে কন্যাশ্রী স্বীকৃতি, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যক্রমে কন্যাশ্রী

04:12:00 PM

বন্যায় দেড় কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: মুখ্যমন্ত্রী

04:10:07 PM

রাজ্যে যথেষ্ট পরিমানে ত্রান সামগ্রী মজুত রয়েছে: মুখ্যমন্ত্রী

04:10:06 PM