বিশেষ নিবন্ধ
 

বিদ্বেষ, বিচ্ছিন্নতাবাদ একসঙ্গে দুটি জিনিসই আমদানি করছে এই উগ্র জাতীয়তাবাদ
শাঁওলী মিত্র

শাঁওলী মিত্র: আমার কিছুদিন ধরে ১৯৯৯-২০০০ এই সময়টার কথা মনে পড়ছে। ওই সময়ে প্রায়ই আমাদের সেনা-জওয়ানদের কফিনবন্দি দেহ পৌঁছে যেত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তখন শুনেছিলাম সেই কফিনের বরাত নিয়েও অনেকানেক ক্ষুদ্র রাজনীতির খেলা ইতিউতি চলছিল। মন ধিক্কার দিয়েছিল। সেই ধিক্কারে কেউ বা নাটক করেছেন, কেউ বা গান বেঁধেছেন, কেউ কবিতা লিখেছেন, কেউ বা ছবি এঁকেছেন... কিন্তু তাতে কার কী এসে যায়। এই শিল্পকর্মের প্রতিবাদ কারওর মনে কি দাগ কাটে? বিশেষত যাঁরা এমন করে যৌবনকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেন। তাঁদের কারবার রাজনীতির উচ্চশিখরে ক্ষমতা প্রদর্শন। উদ্দেশ্য নয় দেশের মানুষকে ন্যূনতম স্বাচ্ছন্দ্য দেওয়ার।
যে দেশে অধিকাংশ গ্রামে ডাকঘর নেই, ব্যাংক নেই, সমবায় সমিতির সুপরিচালনা নেই—সেই দেশে নোটবন্দির ঘোষণায় সত্যিই কি লাভ হল? সাধারণ মানুষ আমি। আমি দেখলাম নোট বদলে হিমশিম খাচ্ছি এই শহরেই। বয়স্ক মানুষদের অকস্মাৎ প্রয়োজনে যে সঞ্চয়টুকু রাখা প্রয়োজন, সেইটুকু টাকা রাখাও যেন কালো টাকা জমানোর অপরাধ বলে চিহ্নিত হল।
আর যাঁদের বাড়িতে বা ‘প্রাসাদোপম’ বাসস্থানে গুপ্ত সঞ্চয়ে কর ফাঁকি দেবার এবং অন্য নানাবিধ বে-আইনি কাজ গোপনে সেরে ফেলবার জন্য কাঁড়ি কাঁড়ি নোট রাখা থাকে তাঁদের ক’জনের গায়ে এর আঁচ লেগেছে?—অথচ আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশিরভাগ লোক ভেবেছেন যে নিশ্চয়ই এর প্রত্যক্ষ ফল তাঁরা দেখতে পাবেন, এবং কালো টাকার বিপজ্জাল থেকে তাঁরা মুক্ত হবেন।
পাঁচশো এবং হাজার টাকার নোট বাতিল করে চালু করা হল নতুন ২০০০ টাকা। ওতে নাকি চোরাকারবারিদের শায়েস্তা করা যাবে। গেল কি? ৫০০ টাকার নোট আসতে অনেক বেশি সময় লাগল। কিন্তু, ২০০০ টাকার নোটের জালিয়াতি শুরু হতে বেশি সময় লাগল না। যেটুকু ধরা পড়ছে তার কত গুণ বেশি অংশ ধরা পড়ছে না, তার খবর আমরা জানতেও পারছি না।
এদিকে জাতীয়তাবাদের এক ধুয়ো উঠেছে। এই জিগির যে মানুষকে কতরকম বিপদের সম্মুখে দাঁড় করায় তার মোটা মোটা দৃষ্টান্ত পৃথিবীর ইতিহাস আমাদের দেখিয়েছে। একবার নয়, বহুবার। তবু আমরা ধর্মের হুজুগে মাতি, ‘জাতি’র প্রশ্নে উল্লম্ফনের তুলনা নেই। আমার দেশের স্বার্থে আমরা যদি মানবাত্মার ক্ষতিসাধন করি তা হবে মস্ত অপরাধ—এ কথা তখন আমরা বিস্মৃত হই। কোন কর্মটি সত্যিই দেশের স্বার্থ রক্ষা করছে, আর কোন কর্মের দ্বারা ‘দেশের স্বার্থ’-র নাম করে দেশেরই ক্ষতি সাধন করছে—তাও আমরা বুঝে উঠতে পারি না।
আমরা যখন ‘গোহত্যা’ ইত্যাদি নিয়ে পক্ষে বা বিপক্ষে সরব হচ্ছি তখন বিভিন্ন প্রদেশে অভুক্ত কৃষক কীরকম ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাণ দিচ্ছে সেই সরকারি প্রতিভূদেরই হাতে তা কি আমরা নজর করছি? কিছু পশুর ওপর দরদি হয়ে মানুষের মৃত্যুকে পরোয়া না করি, তাহলে কীসের জনদরদ! আর এই হত্যাবন্ধের ফলে কত মানুষের জীবিকায় টান পড়বে তাও কি ভেবে দেখছেন ফতোয়া প্রদানকারীরা?
পাহাড়ের গোলমাল নিয়ে যখন আমরা আমাদের সরকারকে দায়ী করে লম্বা লম্বা বক্তৃতা এবং উপদেশ বর্ষণ করছি ছোট পরদায়, তখন এ কথা তো মনে করছি না, যে এই প্রশাসনিক সভা করতে সাহস করেছে একটি সরকার ৪৭ বছর পরে? এ কথা তো মনে করছি না, যে এই তৈরি-করা-বিক্ষোভের মদতদাতারা বিদেশি কোনও শক্তি হলে আশ্চর্য হবার কিছু থাকবে না। তখন কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের থেকে বেশি দায়িত্ব বর্তাবে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপরে।
আশির দশকের বঙ্গ সরকার কেমন করে বছরের পর বছর পাহাড়ের গোলমালটি সযত্নে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন সে কথা তো ভাবছি না। আজ তাঁরাই আলোচনার মাধ্যমে ‘সমাধানসূত্র’ খুঁজতে উপদেশ দিচ্ছেন। সুবাস ঘিসিংয়ের কথা কি ভুলে গিয়েছি আমরা? আমরা কি শুনিনি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের মস্তানদের হুঁশিয়ারি ছিল ‘পাহাড়ে বাঙালি মরলে যেন মনে থাকে সমতলেও কয়েক লক্ষ নেপালি আছে!’ এই কি ছিল তাঁদের আলোচনার পদ্ধতি? তখন মনে থাকেনি সেই নেপালিরাও কিন্তু এই মাতৃভূমির সন্তান?
এই পরিপ্রেক্ষিতে একটু কাশ্মীরের কথা স্মরণ করতে চাই। কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ নাকি জঙ্গিদের সহায়তা দিচ্ছে। এ অভিযোগ নতুন নয়। একটি নথি জানান দিচ্ছে সেই ৮৯ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সাধারণ কাশ্মীরিদের ওপরে রাষ্ট্র, আমাদের স্বাধীন গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীয় সরকার কী পরিমাণ অত্যাচার চালিয়েছে এই একই অভিযোগে। কত যুবক গুম হয়ে গিয়েছে, কত যুবতী লুট হয়ে গিয়েছে। আজ ২০১৭-তে পৌঁছেও সেইসব পরিবার বিচার পায়নি কোনও, সুবিচার তো নয়ই।
সেইসব অত্যাচার ঘটেছে দেশের সরকারের প্রতিভূ, শাসকদলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষকদের দ্বারা। খুন থেকে শুরু করে সর্বরকমের অত্যাচার তারা নির্বিবাদে ঘটিয়েছে কেবল তাদের হাতে অঢেল ক্ষমতা আছে বলে। কোনও নির্দিষ্ট অপরাধের প্রমাণের ভিত্তিতে নয়। সাধারণ শাল কারবারি, চামড়া এবং গরমকাপড়ে ফুল তোলা শিল্পীরা, কাঠের অপূর্ব কাজের কারুশিল্পীরা, সাধারণ ফল ব্যবসায়ীরা—এরা সকলেই কি জঙ্গি-সংযোগকারী বিদ্রোহী ছিলেন?
সীমানা স্থির করবার বিষয়েও কত অংশ অস্বচ্ছতায় ঢেকে রেখে দিয়েছেন আমাদের নেতৃবর্গ। যার ফলাফল ভোগ করছে আজকের সীমানাপ্রান্তের বাসিন্দারা। শুধু পাকিস্তান নয়, চায়নার সীমান্ত নিয়েও কি অবহেলা দেখাইনি আমরা? আকসাই চীন এবং ম্যাকনামারা লাইন সম্পর্কে এই ৭০/৭২ বছরেও কি কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া গেল না? আজও কি অরুণাচলপ্রদেশের সীমান্তে কাশ্মীরের তুল্য একটি জট পাকিয়ে রাখা নেই? এই উত্তর-পূর্ব অঞ্চল যে কীরকম অস্থির হয়ে আছে, তার কোনও সুষ্ঠু সমাধান কি ফলপ্রসূ হয়েছে? কেবল নানা সুবিধা প্রদান করে ওই অঞ্চলকে শান্ত করে রাখার চেষ্টা ছাড়া!
কিন্তু কাশ্মীরে তো তাও করা হয়নি! কেন? এই গোলমাল বাধিয়ে রেখে দেওয়ার উদ্দেশ্য কী? কেন কাশ্মীরে এমন অশান্তি সৃষ্টি করা যে আজ সেখানকার সাধারণ মানুষ মনে করছেন ভারত সরকার তাঁদের আপন নন। কী জন্য সেখানকার মেয়েরা, বাচ্চারা পর্যন্ত নেমে এসে পুলিশ এবং সেনাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ জানাচ্ছে? এ তো কেবল militants-দের সঙ্গে হাত মেলানোর গল্প হতে পারে না।
যে নথির কথা বলছিলাম তা তো সরকারি কাগজপত্র ঘেঁটে সময় নিয়ে পরিশ্রম করে বই আকারে বেরিয়েছে। তাতে যে উদাহরণ শ’য়ে শ’য়ে পেশ করা রয়েছে, তাদের সকলেরই প্রায় একই কাহিনি। ভারত সরকারের কাছে তাঁরা যে নৈতিক বিচার প্রত্যাশা করেন তা তাঁরা পান না। শতকরা এক ভাগ পেলেও বাকি ৯৯ শতাংশ পান না, এ হল একেবারে বাস্তব সত্যি। কাজেই কাশ্মীরি জনগণ, যাঁরা ভারতীয় নাগরিক, যাঁরা ভারতে থাকবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যাঁরা এ দেশকে তাঁদের দেশ বলে মনে করেন তাঁদের আমরাই বিদ্রোহী করে তুলেছি।
সে কথা কি আমরা স্বীকার করি? সহজ প্রচারে বিশ্বাস করি পাকিস্তানি জঙ্গিরাই এর জন্যে দায়ী। সব ঘটনাই যেন পাকিস্তানের উসকানিতে ঘটছে। তা যদি হয়, তাহলে তো আমাদের আরও সচেতন হওয়া উচিত যাতে তারা সেই সুযোগ না পায়। তারা যেন ধর্মের নামে, সামাজিক বঞ্চনার নজির দেখিয়ে এই অশান্তি তৈরি না করে তোলে আমাদের দেশে, গরিব প্রান্তিক কাশ্মীরি জনগণের মধ্যে টাকা ছড়িয়ে এই দুষ্কর্মে তাঁদের প্রবৃত্ত না করাতে পারে।
তাই এখন মৃত্যুর হিসাব গুনছে দু-পক্ষই এবং গর্বিত হচ্ছে। বছরের পর বছর সীমান্তে অবস্থিত সৈন্যদের ঘাঁটি থেকে তরতাজা যুবকরা মারা যাচ্ছে। এবং মানুষ মারতে অভ্যস্ত হচ্ছে। আজ আমাদের পাঁচজন জওয়ান মারা গিয়েছে, কাল আমরা ওদের দশজন ‘জঙ্গি’ বা পাকিস্তানি সেনাকে মৃত্যুর মুখে পাঠিয়ে দিয়ে গর্ব বোধ করছি। জানাতে চাইছি আমরা কত বড় বীর! আর ও-পক্ষও ঠিক একই কাজ করছে। আর এই জাতীয়তাবাদ কেবল অন্য জাতির প্রতি বিদ্বেষ তৈরি করছে না, নিজেদের মধ্যেও আমরা বিচ্ছিন্নতাবাদের আমদানি করছি।
আর তাই এই দ্বন্দ্ব শুধু ‘পাকসৈন্য’ ‘ভারতীয় সেনা’-র মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। তা পরিণত হচ্ছে ‘হিন্দু’ এবং ‘মুসলমান’ বিভাজনে। আর তাই দেশের সাধারণ মানুষদের প্রতিও সরকারি সৈন্য অবিচার করতে দ্বিধা করছে না। এমন শ’য়ে শ’য়ে লোক হঠাৎ হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যেত না। তারা—যারা কারওর ছেলে, কারওর বাবা, কারওর ভাই বা মেয়ে।
আমরা যদি মধ্য এশিয়ার দিকে তাকাই তাহলেই বুঝতে পারব আমরা নিজেদের ক্ষতিসাধনে কতখানি সচেষ্ট হয়ে উঠেছি। যদি এক ‘মিরজাফর’ তৈরি হয়ে শত্রু প্রবেশের সুবিধা করে দেয় তাহলে এই অত্যাচারের দাওয়াই দিয়ে কি বাঁচব? এই পশ্চিমবাংলার উত্তর প্রান্তে সব দিক থেকে আমরা কি সুরক্ষিত রয়েছি? নেপাল-চীন-তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে ২০০০-২০০৪—এই সময়ে কী অশান্ত ছিল উত্তরবঙ্গ আমরা স্মরণ করতে পারি কি? সন্ধ্যার পরে ঘরের বাইরে থাকতে কেউ সাহস করতেন না।
সীমান্ত রক্ষার ভার কেন্দ্রীয় সরকারের ওপরে। তাঁরা যেন এই আগত দিনের আশঙ্কাকে সত্য না করে তোলেন। তাতে আমাদের যে সর্বনাশ হবে সে বোধহয় আমাদের কল্পনার চৌহদ্দির মধ্যে নেই!—স্থানীয় ইস্যু—শিশুপাচার, নারীপাচার, ভুয়ো ডাক্তার, বে-আইনি প্রত্যঙ্গ বিক্রি, নার্সিংহোম বা প্রাইভেট হাসপাতালের অনবধানতা ও নিষ্ঠুরতা—এ সবই আমাদের আলোচ্য নিশ্চয়। কিন্তু এসব কি বিচ্ছিন্ন ঘটনা? যে বড় বড় ঘটনা ঘটে চলেছে তার সঙ্গে সমাজজীবনের পক্ষে এমন সব ক্ষুদ্র আকারের ভয়ংকরতা সমান্তরালে চলেছে—যে, ভয় করে— যুগপৎ আক্রমণ আমাদের কোন পথে ঠেলে নিয়ে যাবে?
প্রসঙ্গত বলি, আমাদের দেশের প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব এম কে রায়না পর্যন্ত একদিন রাস্তায় নিগৃহীত হয়েছিলেন আমাদের বাহিনীর হাতে। তাঁকে তো আমরা ‘দেশদ্রোহী’র ছাপ মেরে দিতে পারি না। সেখানেও অন্ধকার নামলে সাধারণ ভদ্র মানুষের পথে নামা বিপজ্জনক—তাঁর পক্ষে সেই বেরনো যতই জরুরি হোক না কেন।
17th  June, 2017
লুক ইস্ট থেকে অ্যাক্ট ইস্ট: কী পেলাম
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

২০১৪ সালে ক্ষমতায় এসে ওই বছরই ১২ নভেম্বর আসিয়ান-ভারত যৌথ সম্মেলনের বক্তৃতায় নরেন্দ্র মোদি উল্লেখ করেছিলেন দেশের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক বিকাশ, শিল্পায়ন এবং বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যেমন নতুন জোয়ার এসেছে তেমনি ভারতের বিদেশনীতিতে ‘লুক ইস্ট’ পলিসি ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ পলিসিতে রূপান্তরিত হয়েছে।
বিশদ

বাংলার রসগোল্লা—মেড ইন চায়না
হারাধন চৌধুরী

আলী সাহেব বাঙালিকে শুনিয়েছিলেন তাঁর ঝান্ডুদার গল্প। পাঠক জানেন, ঝান্ডুদা মস্ত ব্যবসায়ী। যাচ্ছিলেন লন্ডন। বিলেতবাসী এক বন্ধুকন্যার জন্য সঙ্গে এনেছিলেন বাংলার টিনজাত কিছু রসগোল্লা। পথে ইতালির ভেনিস বন্দরে নামতে হয়। এরপর সেখানকার কাস্টমস অফিসে চেকিংয়ের সময় সেই কয়েক পাউন্ড রসগোল্লার জন্য যে আক্কেলগুড়ুম হবে তা তাঁর কল্পনায় ছিল না।
বিশদ

গুম-নিখোঁজ ও পরমানন্দ মন্ত্রণালয়
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলাদেশে ‘লিট ফেস্ট’ শুরু ও শেষ হল। সেই কারণে কি না জানি না, অরুন্ধতী রায়ের দ্বিতীয় উপন্যাস ‘দ্য মিনিস্ট্রি অব আটমোস্ট হ্যাপিনেস’ হুট করে সংবাদপত্রে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এল। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় সাহিত্যিক ও সাংবাদিক, আমার অতি ঘনিষ্ঠ ও প্রিয় আনিসুল হক এই উপন্যাসের বাংলা নাম দিয়েছেন ‘পরমানন্দ মন্ত্রণালয়’।
বিশদ

19th  November, 2017
লন্ডন, এডিনবরা এবং মমতা
শুভা দত্ত

দুর্গাপুজোর দিন যত এগিয়ে আসে, আনন্দটা তার সঙ্গে সমানুপাতিক হারে বাড়ে। এ আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির চিরন্তন সত্য। আর মা দুর্গাকে ঘিরে সেই উৎসবের রামধনু রং ফিকে হতে শুরু করে নবমীর সন্ধ্যা থেকেই। আজ বাদে কাল দশমী। মায়ের ফিরে যাওয়ার পালা।
বিশদ

19th  November, 2017
চীনের প্রেসিডেন্ট বনাম ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ
প্রশান্ত দাস

জিনপিং দেশের বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের বললেন—আমাদের সমাজতন্ত্র দেশকে তরতর করে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। এগিয়ে চলেছে আমাদের অর্থনীতি। কিন্তু গত পাঁচ বছরে আপনারা ক’টি অবিশ্বাস্য অস্ত্র দিতে পেরেছেন সেনাদের? ভারতের ডিআরডিও কী করে পৃথিবীতে দু’নম্বর রিসার্চ সেন্টার হল? কী নেই আপনাদের? যা যা চাই, তালিকা পাঠান। যতদিন না আমরা ডিআরডিও-কে ছাপিয়ে যেতে পারছি, ততদিন আমরা নিজেদের এশিয়ার মধ্যে এক নং বলতে পারব না।
বিশদ

18th  November, 2017
রাজ্যের লাইব্রেরিগুলিকে বাঁচাতেই হবে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

মনে পড়ছে গত ডিসেম্বরের কথা। বীরভূম জেলার সরকারি বইমেলার আয়োজন হয়েছিল সিউড়িতে, ইরিগেশন কলোনির মাঠে। আমি উদ্বোধক, মঞ্চে জেলার মন্ত্রীরা, সঙ্গত কারণেই উপস্থিত ছিলেন গ্রন্থাগারমন্ত্রীও। মঞ্চে বসেই সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর সঙ্গে পরিচয়, আলাপচারিতা।
বিশদ

18th  November, 2017
মোদির আমলে শিশুদের খিদের যন্ত্রণা তীব্র, কারণ শিশু ও মহিলা উন্নয়নে গুরুত্ব কম
দেবনারায়ণ সরকার

কেন্দ্রীয় সরকারের গত ৩ বছরের বাজেটের তথ্য সার্বিকভাবে বিচার করলে দেখা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় বাজেটে মোট ব্যয় যেখানে ২১ শতাংশের বেশি বেড়েছে (টাকার অঙ্কে অতিরিক্ত প্রায় ৩ লক্ষ ৫১ হাজার কোটি টাকা), সেখানে মহিলা ও শিশু উন্নয়নে ব্যয় কপর্দকও বাড়েনি, বরং প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। একইভাবে মহিলা ও শিশু উন্নয়ন ব্যয় বাজেটের মোট ব্যয়ের ১ শতাংশের অনেক নীচে নেমেছে। মোদ্দা কথা হল, যে দেশের কেন্দ্রীয় বাজেটে মহিলা ও শিশু উন্নয়নের ব্যয় বাজেটে মোট ব্যয়ের ১ শতাংশেরও কম এবং এই ব্যয় মোদির জমানায় যেহেতু আরও কমছে, সেই দেশে রোজ রাতে খালি পেটে শুতে যাওয়া শিশুদের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধিটাই স্বাভাবিক। তাই ভারতে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অপুষ্টিও।
বিশদ

17th  November, 2017
ডেঙ্গু: রাজনীতি ছেড়ে হাত মিলিয়ে কাজের সময়
অনিরুদ্ধ কর

অবিলম্বে একটা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা নিয়মাবলী প্রকাশ করতে হবে সরকারের তরফে। সরকারি নির্দেশ মানতে বাধ্য সকল সরকারি বেসরকারি ও প্রাইভেট চিকিৎসা কেন্দ্র। অতীতের দিকে নজর দিলে দেখা যাবে বার্ড ফ্লু বা সোয়াইন ফ্লু-র সময় সরকারের তরফে এমন নিয়মাবলী প্রকাশ করা হয়েছিল। চিকিৎসাব্যবস্থায় কী কী থাকতে হবে এবং কোথায় থাকবে তাও বলে দেওয়া হয়েছিল। ফ্লু-র ওষুধ একমাত্র সরকার দিত। খোলাবাজারে মিলত না সেই ওষুধ। কারণ সেক্ষেত্রে ওষুধ নিয়ে কালোবাজারি এবং চড়া দামে ওষুধ বিক্রি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যেত। এছাড়া একটি রাজ্যস্তরের কমিটি ছিল পর্যালোচনার জন্য।
বিশদ

17th  November, 2017
প্যারিস, পরিবেশ এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভারত
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 পরিবেশ মানে হল যেখানে সেখানে থুতু না ফেলা। মন্তব্যটি আমারই এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর। এবং কী ভয়ঙ্কর সাবলীল স্বীকারোক্তি। যে দেশে ৩০ কোটি মানুষ এখনও দারিদ্রসীমার নীচে বসবাস করেন, যেখানে সাক্ষরতা বলতে বোঝানো হয় নিজের নাম সই করতে পারা, সেখানে সচেতনতার প্রাথমিক পাঠটা এমন একটা মন্তব্য দিয়ে শুরু করলে মন্দ কী!
বিশদ

16th  November, 2017
সার্ধশতবর্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি টেম্‌স থেকে গঙ্গা: ভগিনী নিবেদিতার দার্শনিক যাত্রা
জয়ন্ত কুশারী

 আয়ারল্যান্ডের স্বল্প জনবসতি শহর ডুং গানন। স্যামুয়েল রিচমন্ড নোবেল নামে এক ধর্মযাজক ও তাঁর ভক্তিমতী স্ত্রী মেরি ইসাবেল হ্যামিলটন বাস করেন এই শহরে। এঁরা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে করজোড়ে প্রার্থনা করেন সুখপ্রসবে প্রথম সন্তানটি হলে তাঁরা ঈশ্বরের চরণেই সদ্যোজাতকে সমর্পণ করবেন।
বিশদ

16th  November, 2017
নোট বাতিল: উত্তরপ্রদেশের ভোট, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং চে গুয়েভারা
শুভময় মৈত্র

নোট বাতিলের কারণ এবং ফল সংক্রান্ত আলোচনা দেখে, শুনে এবং পড়ে জনগণ এই বিষয়ে যথেষ্ট অবহিত, হয়তো বা কিছুটা ক্লান্তও বটে। বিজেপি সরকার কেন এই সিদ্ধান্ত নিলেন, এর কী কী ভুল ভ্রান্তি আছে, দেশের কী ক্ষতি হল, সাধারণ মানুষ ঠিক কতটা ভুগলেন এই নিয়ে আমরা যতটা আলোচনা করেছি সেই পরিমাণটা সময় এবং সম্পদের হিসেবে পাঁচশো আর হাজার টাকার মোট বাতিল নোটের মূল্যের থেকে বেশিও হয়ে যেতে পারে।
বিশদ

14th  November, 2017
বুকে লাল গোলাপের সেই মানুষটির কথা আজ খুব মনে পড়ছে
মোশারফ হোসেন

স্বপনদা বলত, পচার চাই। বুঝলে ভায়া, পচারটাই আসল। বাঁকুড়া মানুষ স্বপনদা র-ফলা উচ্চারণ করতে পারত না। তার মুখে ‘প্রচার’ শব্দটা ‘পচার’ হয়েই বেরত। আগ্রার ভঁপু চক্কোত্তিও একই কথা বলেছিলেন। ভঁপুবাবুর সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। এরকমই এক নভেম্বরে। উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা ভোটের খবর করতে গিয়ে।
বিশদ

14th  November, 2017
একনজরে
রাতুল ঘোষ: প্রিয়দার স্মৃতি ক্রমশ ঝাপসা হয়ে আসার মুহূর্তে গত দু’দিন হঠাৎ নিদারুণভাবে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। আর এর নেপথ্যে ছিল কয়েকদিন আগে একটি সূত্রে পাওয়া ...

 বিএনএ, বারাকপুর: রবিবার গভীর রাতে কল্যাণী পুরসভার একাধিক ওয়ার্ডে তৃণমূলের অফিস দখল করার অভিযোগ উঠল মুকুল রায়পন্থী বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। একটি দলীয় অফিস ভাঙচুর, একটি দলীয় অফিসের শাসক দলের পতাকাও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ...

বিএনএ, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে লোহার সামগ্রী পাচার হচ্ছে পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে। শনিবার ১০টন লোহার সামগ্রী সমেত দু’জনকে গ্রেপ্তার করার পর এমনই তথ্য হাতে পেয়েছে রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিস। ধৃতদের জেরা করে পুলিস লোহা পাচার চক্রের মূল পান্ডার নাম জানতে পেরেছে। ...

 বেজিং, ২০ নভেম্বর (পিটিআই): একাধিক পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম দূরপাল্লার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ‘ডংফেং-৪১’ সম্ভবত আগামী বছরই চীনের সেনা অস্ত্রভাণ্ডারে যুক্ত হতে চলেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ‘ম্যাক ১০’-এর থেকে অনেক বেশি গতিসম্পন্ন। এটি একসঙ্গে ১০টি পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

প্রেম-প্রণয়ে কিছু নতুনত্ব থাকবে যা বিশেষভাবে মনকে নাড়া দেবে। কোনও কিছু অতিরিক্ত আশা না করাই ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব টেলিভিশন দিবস
১৬৯৪: ফরাসি দার্শনিক ভলতেয়ারের জন্ম
১৯৭০: নোবেলজয়ী পদার্থবিদ চন্দ্রশেখর বেঙ্কটরামনের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৪.২০ টাকা ৬৫.৮৮ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৯০ টাকা ৮৭.৭৯ টাকা
ইউরো ৭৫.৪৪ টাকা ৭৮.০৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩০,১৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৮,৬৩৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৯,০৬৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৪ অগ্রহায়ণ, ২০ নভেম্বর, সোমবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ৯/৩৬, নক্ষত্র-জ্যেষ্ঠা রাত্রি ১২/৪৮, সূ উ ৫/৫৬/২৫, অ ৪/৪৮/৪, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৭/২৩ মধ্যে পুনঃ ৮/৫০ গতে ১১/০ মধ্যে। রাত্রি ঘ ৭/২৬ গতে ১০/৬ মধ্যে পুনঃ ২/২৭ গতে ৩/১৯ মধ্যে, বারবেলা ঘ ৭/১৮ গতে ৮/৪০ মধ্যে পুনঃ ২/৫ গতে ৩/২৬ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/৪৪ গতে ১১/২২ মধ্যে।
৩ অগ্রহায়ণ, ২০ নভেম্বর, সোমবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ৭/৪২/২৮, জ্যেষ্ঠানক্ষত্র ১১/৫৫/৩৬, সূ উ ৫/৫৬/৫৮, অ ৪/৪৬/৫৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/২৩/৩৮, ৮/৫০/১৮-১১/০/১৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২৪/৫৮-১০/৫৫/১৮, ২/২৫/৩৭-৩/১৮/১৮, বারবেলা ২/৪/২৮-৩/২৬/৪৩, কালবেলা ৭/১৮/১৩-৮/৩৯/২৮, কালরাত্রি ৯/৪৩/১৩-১১/২১/৫৮। 
৩০ শফর

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
 কালিয়াগঞ্জে দাশমুন্সি ভবন ঘুরে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কালিয়াগঞ্জের দলীয় পার্টি অফিসে। এরপর সেখান থেকে নিয়ে আসা হয় রায়গঞ্জে। এখানে কংগ্রেস কার্যালয়ে অগুন্তি সমর্থক ও প্রিয়জনদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের পর অন্ত্যেষ্টির জন্য শ্মশানের উদ্দেশ্যে রওনা হবে।

07:25:00 PM

কলকাতায় গ্রেপ্তার ৩ জন আল কায়দা জঙ্গি
আজ কলকাতা স্টেশন থেকে ৩ জন আল কায়দা ...বিশদ

06:07:00 PM

 কালিয়াগঞ্জের উদ্দেশ্যে শেষযাত্রায় প্রিয়
প্রিয়রঞ্জনের মরদেহ দিয়ে হেলিকপ্টার পৌঁছাল রায়গঞ্জে। সেখান থেকে ...বিশদ

05:16:00 PM

  ফের সাংবাদিক খুন ত্রিপুরায়
মাস দুয়েকের মধ্যে ফের সাংবাদিক খুনের ঘটনা ঘটল ত্রিপুররায়। এবার ...বিশদ

05:13:45 PM

ট্রেনের সময়সূচি বদল 
ডাউন ট্রেন দেরিতে আসার কারণে

১৩০০৯ আপ হাওড়া-দেরাদুন ...বিশদ

04:02:00 PM