বিশেষ নিবন্ধ
 

বিদ্বেষ, বিচ্ছিন্নতাবাদ একসঙ্গে দুটি জিনিসই আমদানি করছে এই উগ্র জাতীয়তাবাদ
শাঁওলী মিত্র

শাঁওলী মিত্র: আমার কিছুদিন ধরে ১৯৯৯-২০০০ এই সময়টার কথা মনে পড়ছে। ওই সময়ে প্রায়ই আমাদের সেনা-জওয়ানদের কফিনবন্দি দেহ পৌঁছে যেত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তখন শুনেছিলাম সেই কফিনের বরাত নিয়েও অনেকানেক ক্ষুদ্র রাজনীতির খেলা ইতিউতি চলছিল। মন ধিক্কার দিয়েছিল। সেই ধিক্কারে কেউ বা নাটক করেছেন, কেউ বা গান বেঁধেছেন, কেউ কবিতা লিখেছেন, কেউ বা ছবি এঁকেছেন... কিন্তু তাতে কার কী এসে যায়। এই শিল্পকর্মের প্রতিবাদ কারওর মনে কি দাগ কাটে? বিশেষত যাঁরা এমন করে যৌবনকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেন। তাঁদের কারবার রাজনীতির উচ্চশিখরে ক্ষমতা প্রদর্শন। উদ্দেশ্য নয় দেশের মানুষকে ন্যূনতম স্বাচ্ছন্দ্য দেওয়ার।
যে দেশে অধিকাংশ গ্রামে ডাকঘর নেই, ব্যাংক নেই, সমবায় সমিতির সুপরিচালনা নেই—সেই দেশে নোটবন্দির ঘোষণায় সত্যিই কি লাভ হল? সাধারণ মানুষ আমি। আমি দেখলাম নোট বদলে হিমশিম খাচ্ছি এই শহরেই। বয়স্ক মানুষদের অকস্মাৎ প্রয়োজনে যে সঞ্চয়টুকু রাখা প্রয়োজন, সেইটুকু টাকা রাখাও যেন কালো টাকা জমানোর অপরাধ বলে চিহ্নিত হল।
আর যাঁদের বাড়িতে বা ‘প্রাসাদোপম’ বাসস্থানে গুপ্ত সঞ্চয়ে কর ফাঁকি দেবার এবং অন্য নানাবিধ বে-আইনি কাজ গোপনে সেরে ফেলবার জন্য কাঁড়ি কাঁড়ি নোট রাখা থাকে তাঁদের ক’জনের গায়ে এর আঁচ লেগেছে?—অথচ আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশিরভাগ লোক ভেবেছেন যে নিশ্চয়ই এর প্রত্যক্ষ ফল তাঁরা দেখতে পাবেন, এবং কালো টাকার বিপজ্জাল থেকে তাঁরা মুক্ত হবেন।
পাঁচশো এবং হাজার টাকার নোট বাতিল করে চালু করা হল নতুন ২০০০ টাকা। ওতে নাকি চোরাকারবারিদের শায়েস্তা করা যাবে। গেল কি? ৫০০ টাকার নোট আসতে অনেক বেশি সময় লাগল। কিন্তু, ২০০০ টাকার নোটের জালিয়াতি শুরু হতে বেশি সময় লাগল না। যেটুকু ধরা পড়ছে তার কত গুণ বেশি অংশ ধরা পড়ছে না, তার খবর আমরা জানতেও পারছি না।
এদিকে জাতীয়তাবাদের এক ধুয়ো উঠেছে। এই জিগির যে মানুষকে কতরকম বিপদের সম্মুখে দাঁড় করায় তার মোটা মোটা দৃষ্টান্ত পৃথিবীর ইতিহাস আমাদের দেখিয়েছে। একবার নয়, বহুবার। তবু আমরা ধর্মের হুজুগে মাতি, ‘জাতি’র প্রশ্নে উল্লম্ফনের তুলনা নেই। আমার দেশের স্বার্থে আমরা যদি মানবাত্মার ক্ষতিসাধন করি তা হবে মস্ত অপরাধ—এ কথা তখন আমরা বিস্মৃত হই। কোন কর্মটি সত্যিই দেশের স্বার্থ রক্ষা করছে, আর কোন কর্মের দ্বারা ‘দেশের স্বার্থ’-র নাম করে দেশেরই ক্ষতি সাধন করছে—তাও আমরা বুঝে উঠতে পারি না।
আমরা যখন ‘গোহত্যা’ ইত্যাদি নিয়ে পক্ষে বা বিপক্ষে সরব হচ্ছি তখন বিভিন্ন প্রদেশে অভুক্ত কৃষক কীরকম ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাণ দিচ্ছে সেই সরকারি প্রতিভূদেরই হাতে তা কি আমরা নজর করছি? কিছু পশুর ওপর দরদি হয়ে মানুষের মৃত্যুকে পরোয়া না করি, তাহলে কীসের জনদরদ! আর এই হত্যাবন্ধের ফলে কত মানুষের জীবিকায় টান পড়বে তাও কি ভেবে দেখছেন ফতোয়া প্রদানকারীরা?
পাহাড়ের গোলমাল নিয়ে যখন আমরা আমাদের সরকারকে দায়ী করে লম্বা লম্বা বক্তৃতা এবং উপদেশ বর্ষণ করছি ছোট পরদায়, তখন এ কথা তো মনে করছি না, যে এই প্রশাসনিক সভা করতে সাহস করেছে একটি সরকার ৪৭ বছর পরে? এ কথা তো মনে করছি না, যে এই তৈরি-করা-বিক্ষোভের মদতদাতারা বিদেশি কোনও শক্তি হলে আশ্চর্য হবার কিছু থাকবে না। তখন কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের থেকে বেশি দায়িত্ব বর্তাবে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপরে।
আশির দশকের বঙ্গ সরকার কেমন করে বছরের পর বছর পাহাড়ের গোলমালটি সযত্নে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন সে কথা তো ভাবছি না। আজ তাঁরাই আলোচনার মাধ্যমে ‘সমাধানসূত্র’ খুঁজতে উপদেশ দিচ্ছেন। সুবাস ঘিসিংয়ের কথা কি ভুলে গিয়েছি আমরা? আমরা কি শুনিনি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের মস্তানদের হুঁশিয়ারি ছিল ‘পাহাড়ে বাঙালি মরলে যেন মনে থাকে সমতলেও কয়েক লক্ষ নেপালি আছে!’ এই কি ছিল তাঁদের আলোচনার পদ্ধতি? তখন মনে থাকেনি সেই নেপালিরাও কিন্তু এই মাতৃভূমির সন্তান?
এই পরিপ্রেক্ষিতে একটু কাশ্মীরের কথা স্মরণ করতে চাই। কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ নাকি জঙ্গিদের সহায়তা দিচ্ছে। এ অভিযোগ নতুন নয়। একটি নথি জানান দিচ্ছে সেই ৮৯ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সাধারণ কাশ্মীরিদের ওপরে রাষ্ট্র, আমাদের স্বাধীন গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীয় সরকার কী পরিমাণ অত্যাচার চালিয়েছে এই একই অভিযোগে। কত যুবক গুম হয়ে গিয়েছে, কত যুবতী লুট হয়ে গিয়েছে। আজ ২০১৭-তে পৌঁছেও সেইসব পরিবার বিচার পায়নি কোনও, সুবিচার তো নয়ই।
সেইসব অত্যাচার ঘটেছে দেশের সরকারের প্রতিভূ, শাসকদলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষকদের দ্বারা। খুন থেকে শুরু করে সর্বরকমের অত্যাচার তারা নির্বিবাদে ঘটিয়েছে কেবল তাদের হাতে অঢেল ক্ষমতা আছে বলে। কোনও নির্দিষ্ট অপরাধের প্রমাণের ভিত্তিতে নয়। সাধারণ শাল কারবারি, চামড়া এবং গরমকাপড়ে ফুল তোলা শিল্পীরা, কাঠের অপূর্ব কাজের কারুশিল্পীরা, সাধারণ ফল ব্যবসায়ীরা—এরা সকলেই কি জঙ্গি-সংযোগকারী বিদ্রোহী ছিলেন?
সীমানা স্থির করবার বিষয়েও কত অংশ অস্বচ্ছতায় ঢেকে রেখে দিয়েছেন আমাদের নেতৃবর্গ। যার ফলাফল ভোগ করছে আজকের সীমানাপ্রান্তের বাসিন্দারা। শুধু পাকিস্তান নয়, চায়নার সীমান্ত নিয়েও কি অবহেলা দেখাইনি আমরা? আকসাই চীন এবং ম্যাকনামারা লাইন সম্পর্কে এই ৭০/৭২ বছরেও কি কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া গেল না? আজও কি অরুণাচলপ্রদেশের সীমান্তে কাশ্মীরের তুল্য একটি জট পাকিয়ে রাখা নেই? এই উত্তর-পূর্ব অঞ্চল যে কীরকম অস্থির হয়ে আছে, তার কোনও সুষ্ঠু সমাধান কি ফলপ্রসূ হয়েছে? কেবল নানা সুবিধা প্রদান করে ওই অঞ্চলকে শান্ত করে রাখার চেষ্টা ছাড়া!
কিন্তু কাশ্মীরে তো তাও করা হয়নি! কেন? এই গোলমাল বাধিয়ে রেখে দেওয়ার উদ্দেশ্য কী? কেন কাশ্মীরে এমন অশান্তি সৃষ্টি করা যে আজ সেখানকার সাধারণ মানুষ মনে করছেন ভারত সরকার তাঁদের আপন নন। কী জন্য সেখানকার মেয়েরা, বাচ্চারা পর্যন্ত নেমে এসে পুলিশ এবং সেনাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ জানাচ্ছে? এ তো কেবল militants-দের সঙ্গে হাত মেলানোর গল্প হতে পারে না।
যে নথির কথা বলছিলাম তা তো সরকারি কাগজপত্র ঘেঁটে সময় নিয়ে পরিশ্রম করে বই আকারে বেরিয়েছে। তাতে যে উদাহরণ শ’য়ে শ’য়ে পেশ করা রয়েছে, তাদের সকলেরই প্রায় একই কাহিনি। ভারত সরকারের কাছে তাঁরা যে নৈতিক বিচার প্রত্যাশা করেন তা তাঁরা পান না। শতকরা এক ভাগ পেলেও বাকি ৯৯ শতাংশ পান না, এ হল একেবারে বাস্তব সত্যি। কাজেই কাশ্মীরি জনগণ, যাঁরা ভারতীয় নাগরিক, যাঁরা ভারতে থাকবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যাঁরা এ দেশকে তাঁদের দেশ বলে মনে করেন তাঁদের আমরাই বিদ্রোহী করে তুলেছি।
সে কথা কি আমরা স্বীকার করি? সহজ প্রচারে বিশ্বাস করি পাকিস্তানি জঙ্গিরাই এর জন্যে দায়ী। সব ঘটনাই যেন পাকিস্তানের উসকানিতে ঘটছে। তা যদি হয়, তাহলে তো আমাদের আরও সচেতন হওয়া উচিত যাতে তারা সেই সুযোগ না পায়। তারা যেন ধর্মের নামে, সামাজিক বঞ্চনার নজির দেখিয়ে এই অশান্তি তৈরি না করে তোলে আমাদের দেশে, গরিব প্রান্তিক কাশ্মীরি জনগণের মধ্যে টাকা ছড়িয়ে এই দুষ্কর্মে তাঁদের প্রবৃত্ত না করাতে পারে।
তাই এখন মৃত্যুর হিসাব গুনছে দু-পক্ষই এবং গর্বিত হচ্ছে। বছরের পর বছর সীমান্তে অবস্থিত সৈন্যদের ঘাঁটি থেকে তরতাজা যুবকরা মারা যাচ্ছে। এবং মানুষ মারতে অভ্যস্ত হচ্ছে। আজ আমাদের পাঁচজন জওয়ান মারা গিয়েছে, কাল আমরা ওদের দশজন ‘জঙ্গি’ বা পাকিস্তানি সেনাকে মৃত্যুর মুখে পাঠিয়ে দিয়ে গর্ব বোধ করছি। জানাতে চাইছি আমরা কত বড় বীর! আর ও-পক্ষও ঠিক একই কাজ করছে। আর এই জাতীয়তাবাদ কেবল অন্য জাতির প্রতি বিদ্বেষ তৈরি করছে না, নিজেদের মধ্যেও আমরা বিচ্ছিন্নতাবাদের আমদানি করছি।
আর তাই এই দ্বন্দ্ব শুধু ‘পাকসৈন্য’ ‘ভারতীয় সেনা’-র মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। তা পরিণত হচ্ছে ‘হিন্দু’ এবং ‘মুসলমান’ বিভাজনে। আর তাই দেশের সাধারণ মানুষদের প্রতিও সরকারি সৈন্য অবিচার করতে দ্বিধা করছে না। এমন শ’য়ে শ’য়ে লোক হঠাৎ হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যেত না। তারা—যারা কারওর ছেলে, কারওর বাবা, কারওর ভাই বা মেয়ে।
আমরা যদি মধ্য এশিয়ার দিকে তাকাই তাহলেই বুঝতে পারব আমরা নিজেদের ক্ষতিসাধনে কতখানি সচেষ্ট হয়ে উঠেছি। যদি এক ‘মিরজাফর’ তৈরি হয়ে শত্রু প্রবেশের সুবিধা করে দেয় তাহলে এই অত্যাচারের দাওয়াই দিয়ে কি বাঁচব? এই পশ্চিমবাংলার উত্তর প্রান্তে সব দিক থেকে আমরা কি সুরক্ষিত রয়েছি? নেপাল-চীন-তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে ২০০০-২০০৪—এই সময়ে কী অশান্ত ছিল উত্তরবঙ্গ আমরা স্মরণ করতে পারি কি? সন্ধ্যার পরে ঘরের বাইরে থাকতে কেউ সাহস করতেন না।
সীমান্ত রক্ষার ভার কেন্দ্রীয় সরকারের ওপরে। তাঁরা যেন এই আগত দিনের আশঙ্কাকে সত্য না করে তোলেন। তাতে আমাদের যে সর্বনাশ হবে সে বোধহয় আমাদের কল্পনার চৌহদ্দির মধ্যে নেই!—স্থানীয় ইস্যু—শিশুপাচার, নারীপাচার, ভুয়ো ডাক্তার, বে-আইনি প্রত্যঙ্গ বিক্রি, নার্সিংহোম বা প্রাইভেট হাসপাতালের অনবধানতা ও নিষ্ঠুরতা—এ সবই আমাদের আলোচ্য নিশ্চয়। কিন্তু এসব কি বিচ্ছিন্ন ঘটনা? যে বড় বড় ঘটনা ঘটে চলেছে তার সঙ্গে সমাজজীবনের পক্ষে এমন সব ক্ষুদ্র আকারের ভয়ংকরতা সমান্তরালে চলেছে—যে, ভয় করে— যুগপৎ আক্রমণ আমাদের কোন পথে ঠেলে নিয়ে যাবে?
প্রসঙ্গত বলি, আমাদের দেশের প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব এম কে রায়না পর্যন্ত একদিন রাস্তায় নিগৃহীত হয়েছিলেন আমাদের বাহিনীর হাতে। তাঁকে তো আমরা ‘দেশদ্রোহী’র ছাপ মেরে দিতে পারি না। সেখানেও অন্ধকার নামলে সাধারণ ভদ্র মানুষের পথে নামা বিপজ্জনক—তাঁর পক্ষে সেই বেরনো যতই জরুরি হোক না কেন।
17th  June, 2017
শিবাজি রাও গায়কোয়াড়ের দোলাচল
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

 সাতষট্টি বছরের একজন মানুষ শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেবেন অথবা নেওয়া উচিত তা নিয়ে আমি বেশ ধন্দে পড়েছি। তবে আমার এই দোলাচল মোটেই আহামরি কিছু নয়, বড় যা তা হল একটা গোটা রাজ্যের মানুষের তাঁর দিকে ড্যাব ড্যাব করে চেয়ে থাকা। বিপুল দোলাচলে রাজ্যের সবার মনে। বিশদ

রথযাত্রায় শ্রীচৈতন্য ও শ্রীরামকৃষ্ণ
চৈতন্যময় নন্দ

 নীলাচলে দারুব্রহ্ম জগদীশ জগন্নাথদেবের সবচেয়ে বড় বিজয়োৎসব রথযাত্রা। আদিকাল থেকে এই সমারোহ চলে এসেছে এবং একে কেন্দ্র করে বহু ইতিবৃত্তের সৃষ্টি হয়েছে। আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে পুরীতে শ্রীমন্‌ জগন্নাথ রথে আরোহণ করেন।
বিশদ

24th  June, 2017
অনুপ্রবেশকারীদের মন্দিরে আশ্রয় প্রসঙ্গে
আলোলিকা মুখোপাধ্যায়

 নিউইয়র্ক শহরের কুইনস এলাকায় সমুদ্রের ধার ঘেঁষে রক অ্যাওয়ে বিচ। একদিন দেখা গেল মহাসাগরের ঢেউয়ের মাথায় নাচতে নাচতে ভাঙা নারকোল ভেসে আসছে। নারকোলের পিছু পিছু ইতস্তত বিক্ষিপ্ত গাঁদাফুলের মালা। সাহেব মেমরা সাঁতার কাটতে নেমে নারকোলের আধভাঙা মালা, পচা গাঁদার মালা দেখে জলপুলিশকে নালিশ করল। বিশদ

24th  June, 2017
সাঁওতাল বিদ্রোহ এবং সমাজের পরিবর্তন
বিষ্ণুপদ হেমরম

 ভারতের আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলির মধ্যে সাঁওতালরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। ব্রিটিশ ভারতে জল-জঙ্গল-জমিনের উপর অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং শোষণ ও নিপীড়নের প্রতিবাদে তারা সরকারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল। সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন, বর্তমান সাঁওতাল পরগনার ভাগ্‌না঩ডিহির মাঠে। বিশদ

23rd  June, 2017
পাহাড় ও বাঙালি
সমৃদ্ধ দত্ত

 বিজেপি রাজ্য শাখা তথা তাদের কর্মী সমর্থকরা এখনও স্পষ্ট করে বলছেন না সামান্য একটা সিদ্ধান্ত। সেটি হল তাঁরা কি গোর্খাল্যান্ড সমর্থন করেন, নাকি করেন না? সহজ প্রশ্ন। সহজ উত্তর। অথচ সোজা উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। ভাসা ভাসা কথা। কারণ বিজেপি রাজ্য শাখা ও কর্মী সমর্থকরা অপেক্ষা করছেন তাঁদের হাইকমান্ড কী ঠিক করবেন তার উপর। একবার চিন্তা করে দেখুন, আমরা বাঙালি, আমাদের রাজ্য থেকে আমাদের প্রিয় দার্জিলিংকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে কি না তা ঠিক করতেও বিজেপির বাংলা শাখা দুজন গুজরাতের নেতার দিকে তাকিয়ে আছে। বিশদ

23rd  June, 2017
দুর্নীতির পরিবেশ, পরিবেশে দুর্নীতি
বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়

 ১৯৭০ দশকের বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ও অর্থনীতিবিদ Gunnar Mydral-এর ‘এশিয়ান ড্রামা’ বইটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল, এশিয়ার বুকে বিভিন্ন দেশে পরিকল্পনাগুলি ব্যর্থ হবার একটি অন্যতম কারণ দুর্নীতি। বিশদ

21st  June, 2017
এ যুগের নীলকণ্ঠদের মুক্তির উপায় কী?
স্বপন মণ্ডল

 পুরাণ মতে সমুদ্র মন্থনের মতো কষ্টসাধ্য কাজে সুরাসুর উভয়েই হাত লাগিয়েছিল। সমুদ্র মন্থনে অমৃতের সন্ধান যেমন পাওয়া গেল গরলও উঠে এল। অমৃতের ভাগীদার অনেকে কিন্তু গরলের ভাগীদার কেউ হতে চাইল না। কিন্তু এ গরল এমন গরল যে ধরিত্রীর যেখানে পড়বে সেখানেই বিষাক্ত হয়ে যাবে। বিশদ

21st  June, 2017
যোগদিবস: ভারতের লক্ষ্মীলাভের মস্ত সুযোগ
হরলাল চক্রবর্তী

 ২০১৫ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে ২১ জুন মহা ধুমধামে ‘বিশ্ব-যোগদিবস’ পালিত হচ্ছে। সারা বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশ যোগদিবসের স্বীকৃতি দিয়েছে, ১৮০টি দেশ যোগে অংশগ্রহণ করেছে, এর মধ্যে কিছু ইসলামিক দেশও আছে। আশা করা যায়, এ বছর তা আরও বেশি সাফল্য পাবে।
বিশদ

20th  June, 2017



একনজরে
 শ্রীনগর, ২৪ জুন (পিটিআই): ডিএসপি মহম্মদ আয়ুব পণ্ডিত খুনের ঘটনার বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করল জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। সুপারিটেন্ডেন্ট পদমর্যাদার আধিকারিকের নেতৃত্বে এই দল গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক পুলিশকর্তা। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্ত্রী ও শাশুড়ির বঁটির কোপে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভরতি হলেন স্বামী। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে নিউটাউনের প্রমোদগড় বাজার এলাকায়। স্থানীয় সূত্রের খবর, পারিবারিক বিবাদের জেরে শুভঙ্কর সরকারের সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁর স্ত্রীর অশান্তি চলছিল। ...

 বেজিং, ২৪ জুন (পিটিআই): বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সাবমেরিন ডিটেক্টর আবিষ্কার করল চীন। আজ ‘দ্য চাইনিজ আকাদেমি অব সায়েন্সেস’-এর একদল বিজ্ঞানী এই দাবি করেছেন। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী মরশুমেও মোহন বাগানের কোচ থাকছেন সঞ্জয় সেন। তাঁর কাছে অন্য কোনও ক্লাবের অফার ছিল না। মোহন বাগানও ‘এ’ লাইসেন্সধারী ভালো কোচ পেত না। শনিবার সঞ্জয় সেন স্বীকার করে নেন, ‘মোহন বাগানের এক শীর্ষ কর্তা আমাকে আগামী ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য আসবে। প্রেম-প্রণয়ে আগ্রহ বাড়বে। তবে তা বাস্তবায়িত হওয়াতে সমস্যা আছে। লৌহ ও ... বিশদ



ইতিহাসে আজকের দিন

 ১৯০৩- ইংরেজ সাহিত্যিক জর্জ অরওয়েলের জন্ম
১৯৬০- কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের মৃত্যু
১৯৭৪- অভিনেত্রী করিশ্মা কাপুরের জন্ম
১৯৭৫- প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দেশে জরুরি অবস্থা জারি করলেন
২০০৯- মার্কিন পপ সংগীত শিল্পী মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যু




ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৭৫ টাকা ৬৫.৪৩ টাকা
পাউন্ড ৮০.৬৪ টাকা ৮৩.৪২ টাকা
ইউরো ৭০.৭৬ টাকা ৭৩.২৮ টাকা
24th  June, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৯,২২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৭,৭২৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৮,১৪০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৯,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৯,২০০ টাকা

দিন পঞ্জিকা

১০ আষাঢ়, ২৫ জুন, রবিবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ১/২, পুনর্বসুনক্ষত্র রাত্রি ১১/২৫, সূ উ ৪/৫৭/৩৬, অ ৬/২০/৩৬, অমৃতযোগ ৬/৪৪-৯/২৫ পুনঃ ১২/৫-২/৪৫ রাত্রি ৭/৪৫ পুনঃ ১০/৩৫-১২/৪৩, বারবেলা ৯/৫৮-১/১৯, কালরাত্রি ১২/৫৯-২/১৯।

রথযাত্রা উৎসব
রাত্রি ১/৩৮/২৯ অম্বুবাচী নিবৃত্তিঃ

১০ আষাঢ়, ২৫ জুন, রবিবার, প্রতিপদ ৬/২১/২১ পরে দ্বিতীয়া রাত্রিশেষ ৪/৮/৫০, পুনর্বসুনক্ষত্র ২/৪৯/৪৫, সূ উ ৪/৫৪/৫৩, অ ৬/২২/১২, অমৃতযোগ দিবা ৪/৪২/৩১-৯/২৩/৫৯, ১২/৫/২৭-২/৪৬/৫৫ রাত্রি ৭/৪৬/৩৩, ১০/৩৫/১৬-১২/৪১/৪৮, বারবেলা ৯/৫৭/৩৮-১১/৩৮/৩৩, কালবেলা ১১/৩৮/৩৩-১/১৯/২৮, কালরাত্রি ১২/৫৭/৩৮-২/১৬/৪৩।

রথযাত্রা উৎসব
রাত্রি ১/৩৮/২৯ অম্বুবাচী নিবৃত্তিঃ
২৯ রমজান

ছবি সংবাদ


এই মুহূর্তে
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বনগাঁর গনরাপোতা বাজার এলাকা থেকে ১৫০টি বিরল প্রজাতির কচ্ছপ উদ্ধার করল পুলিশ, গ্রেপ্তার ৬

10:20:00 AM

লখনউতে ১৪ বছর বয়সী এক পুলিশ অফিসারের কন্যার আত্মহত্যা, চাঞ্চল্য

10:16:00 AM

পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে তেলের ট্যাঙ্কার থেকে আগুন লাগার ঘটনায় মৃত শতাধিক, গুরুতর জখম ৪০

10:14:00 AM

শহরে ট্রাফিকের হাল
আজ, রবিবার সকালে শহরের রাস্তাঘাটে যান চলাচল মোটের উপর স্বাভাবিক। ট্রাফিকের সামান্য চাপ রয়েছে এজেসি বসু রোড, ইএম বাইপাস, মা উড়ালপুল, পার্কস্ট্রিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে। এদিন শহরে তেমন কোনও বড় মিটিং-মিছিলের খবর নেই। ফলে মোটামুটি সারাদিনই শহরের যান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে আজ রথযাত্রাকে ঘিরে বেশ কয়েকটি রাস্তায় যানজট দেখা দিতে পারে। ইসকনের রথ অ্যালবার্ট রোড থেকে হাঙ্গারফোর্ড স্ট্রিট, এজেসি বোস রোড, শরৎ বসু রোড, হাজরা রোড, এসপি মুখার্জি রোড, আশুতোষ মুখার্জি রোড, চৌরঙ্গি রোড, এক্সাইড ক্রসিং, জওহরলাল নেহরু রোড, আউটরাম রোড হয়ে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে থামবে। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে যে ক’দিন ইসকনের রথ থাকবে, সেই ক’দিন সেখানে প্রসাদ বিতরণ, নানা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। অন্যদিকে, মেট্রোর কাজের জন্য ২৯ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ থাকবে ব্রাবোর্ন রোড ফ্লাইওভার ব্রিজ। সেই সময় সমস্ত গাড়ি মহাত্মা গান্ধী রোড, পোস্তা ও স্ট্যান্ড রোড দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। তার ফলে ওই এলাকাগুলিতে যানজট দেখা দিতে পারে। কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, মা ফ্লাইওভারের নতুন ফ্ল্যাংকের নির্মাণ কাজ চলায় আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত কড়েয়া রোড ও বেকবাগান রো'র মধ্যবর্তী সার্কাস এভিনিউ'র দক্ষিণ অভিমুখও বন্ধ থাকবে। তার জেরে ওই এলাকাতেও যানজটের সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাফিক সংক্রান্ত যে কোনও খবরাখবরের জন্য কলকাতা পুলিশের টোল ফ্রি নম্বর ১০৭৩-তে ফোন করুন।

10:02:00 AM

মধ্য জাপানে ভূমিকম্প, রিখটার স্কেলে ৫.২

09:38:00 AM

চীনে ভূমিধস, মৃত ১৫, নিখোঁজ শতাধিক

09:34:00 AM