বিশেষ নিবন্ধ
 

ডিজিএইচসির পর পতনের মুখে জিটিএ-ও, বাংলার পাহাড়ে স্বায়ত্তশাসনের ভবিষ্যৎ কী?
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

বিশ্বনাথ চক্রবর্তী: রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর কেন্দ্র, রাজ্য এবং জিএনএলএফের মধ্যে রাজভবনে এক ঐতিহাসিক ত্রিপাক্ষিক চুক্তির মধ্যে দিয়ে, ১৯৮৮ সালে দার্জিলিং পাহাড়ে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য দার্জিলিং গোর্খা হিল কাউন্সিল (ডিজিএইচসি) গঠিত হয়েছিল। প্রত্যাশা ছিল পাহাড়ের জাতিসত্তা ভাবাবেগ এই হিল কাউন্সিল গঠনের মধ্যে দিয়ে মেটানো সম্ভব হবে। ১৯৮৮ থেকে পরপর তিনটি নির্বাচন হিল কাউন্সিলে সময়মতো হয়েছিল। বলা বাহুল্য, প্রতিবারই বিরোধী-শূন্য করে হিল কাউন্সিলের দখল নিয়েছিল পাহাড়ের তৎকালীন প্রধান রাজনৈতিক দল জিএনএলএফ। হিল কাউন্সিল গঠিত হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই জিএনএলএফ সুপ্রিমো সুবাস ঘিসিং অভিযোগ করতে শুরু করেছিলেন রাজ্য সরকার ডিজিএইচসি’র চুক্তি অনুসারে উন্নয়ন দপ্তরগুলি হস্তান্তর করেনি। প্রয়োজনীয় অর্থ ও কর্মী রাজ্য সরকারের তরফ থেকে না পাওয়ায় তাদের পক্ষে পাহাড়ের উন্নয়ন পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
ঘিসিংয়ের অভিযোগের সারবত্তা যে একেবারে ছিল না তা বলা যায় না। তবে হিল কাউন্সিলের প্রধান হিসাবে ঘিসিংয়ের বিরুদ্ধে কাউন্সিলের তহবিল তছরুপ করা, পরিকল্পনাহীনভাবে কাউন্সিলকে পরিচালনা করা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ প্রথম থেকেই উঠেছিল। তৎকালীন রাজ্য সরকার বেশ কিছুদিন নিশ্চুপ থাকার পর হিল কাউন্সিলে অডিট করানোর প্রশ্নটি সামনে আনলে ঘিসিংয়ের সঙ্গে তৎকালীন রাজ্য প্রশাসনের সংঘাত চরমে ওঠে। না রাজ্য সরকারের তরফ থেকে হিল কাউন্সিল সুচারুভাবে পরিচালনার কোনও পরিকল্পনা ছিল, না ঘিসিং চেয়েছিলেন সঠিকভাবে হিল কাউন্সিলের মধ্যে প্রাপ্ত স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থাকে সফল রূপ দিতে। স্বভাবতই এর ফলে হিল কাউন্সিলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ২০০০ সালের পর থেকে ঘিসিং নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে পুনরায় গোর্খাল্যান্ডের দাবি তুলতে শুরু করেন। ঘন ঘন বন্‌ধ ডাকলেও রাজ্য প্রশাসনকে তেমন কোনও সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি। বরং পাহাড়ের শান্তি বজায় রাখার নাম করে ২০০৫-০৮ পর্যন্ত তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার নির্বাচন করার রাস্তায় যায়নি। পরিবর্তে একতরফাভাবে জিএনএলএফ-প্রধান সুবাস ঘিসিংয়ের মরজিমতো তাঁকেই হিল কাউন্সিলের প্রধান মনোনীত করে রেখে দেওয়া হয়েছিল। মনোনীত-প্রধান হিসাবে সুবাস ঘিসিং তাঁর কাজের জন্য কারও কাছে দায়বদ্ধ ছিলেন না। ফলে, বহু বছর ধরে পাহাড়ে ঘিসিংকে দুর্নীতি চালাতে পরোক্ষভাবে উৎসাহ দিয়েছিল তৎকালীন রাজ্য সরকার। ডিজিএইচসিকে শক্তিশালী করার বিষয়ে না বামফ্রন্ট সরকারের প্রকৃত কোনও উদ্যোগ ছিল, না সুবাস ঘিসিং হিল কাউন্সিল পরিচালনার ব্যাপারে যত্নবান ছিলেন।
ডিজিএইচসির মাধ্যমে স্থানীয় উন্নয়ন করতে না পেরে মানুষের মন ঘোরাতেই ঘিসিং সচেতনভাবে পাহাড়ের জন্য আরও স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলেন। এবার পাহাড়ের মানুষের জন্য সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে বিভিন্ন আদিম দেব-দেবীর পূজা-অর্চনা শুরু করে দেন। শেষ পর্যন্ত ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে ঘিসিংয়ের দাবিকে মান্যতা দেওয়ার প্রশ্নে জিএনএলএফের সঙ্গে এক সমঝোতা পত্রে স্বাক্ষর করে কেন্দ্রীয় সরকার। যদিও অল্প সময়ের মধ্যে বিমল গুরুংয়ের নেতৃত্বে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার চাপে ঘিসিং হিল কাউন্সিল থেকে পদত্যাগ করে পাহাড় ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। ২০০৮ থেকে শুরু হয় পাহাড়ে বিমল গুরুংয়ের নেতৃত্বে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার একক কর্তৃত্ব।
রাজ্যে পালাবদলের পর ২০১২-র ১৮ জুলাই কেন্দ্র, রাজ্য এবং মোর্চার নেতৃত্বের মধ্যে এক ত্রিপাক্ষিক চুক্তির মধ্যে দিয়ে জিটিএ গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়। জিটিএ আইন অনুসারে পুলিশ প্রশাসনকে বাদ দিয়ে প্রায় সমস্ত দপ্তর জিটিএতে হস্তান্তরিত হওয়ার কথা ছিল। ২০১২ সালের জিটিএ নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ালে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা’য় জয়ী হয়ে জিটিএ গঠন করে। চুক্তির কিছু সময় পরও বিমল গুরুংদের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক যথেষ্ট ইতিবাচক ছিল। একসময় মোর্চা-প্রধান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ‘পাহাড়ের মা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। কিন্তু, পাহাড়ে রাজ্য প্রশাসন এবং শাসকদল তৃণমূলের সঙ্গে বিমল গুরুংদের সংঘাত শুরু হয় প্রধানত পাঁচটি বিষয়কে কেন্দ্র করে—
(ক) রাজ্য প্রশাসন পাহাড়ের মানুষের উন্নয়নের জন্য সক্রিয় হতেই গুরুংরা রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে জিটিএর কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলেন। অভিযোগ তোলেন জিটিএ চুক্তি অনুসারে বিভিন্ন উন্নয়ন দপ্তর, কর্মীবাহিনী এবং প্রয়োজনীয় অর্থ জিটিএতে হস্তান্তর না করার।
(খ) পাহাড়ে তৃণমূল সংগঠন বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোর্চার নেতাদের সঙ্গে তৃণমূলের দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
(গ) হরকা বাহাদুর ছেত্রী, প্রদীপ প্রধানের মতো একাধিক নেতা বিমল গুরুংয়ের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে দল ছাড়েন। হরকা বাহাদুর ছেত্রী নতুন দল তৈরি করলেও, বেশিরভাগ মোর্চা নেতাই দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলে মোর্চার সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটে। দল ভাঙার দায় মোর্চা নেতৃত্ব তৃণমূলের উপর চাপাতে চেয়েছে বারবার।
(ঘ) লেপচা সমেত পাহাড়ে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর জন্য উন্নয়ন পর্ষদ গঠন ছিল শাসকদলের কাছে গোর্খাদের প্রভুত্ব ভাঙার প্রশ্নে অন্যতম প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কৌশল। সরকার পাহাড়ের বিভিন্ন জনজাতির জন্য ১৫টি উন্নয়ন পর্ষদ গঠনের এই উদ্যোগের ফলে বিমল গুরুংদের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সংঘাত তীব্র আকার নেয়।
(ঙ) মদন তামাং হত্যা মামলায় বিমল গুরুং সমেত একাধিক অভিযুক্ত মোর্চা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশ প্রশাসন সক্রিয় হতেই বিমল গুরুংরা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে ২০১৩ সাল থেকে মাঝেমধ্যেই গোর্খাল্যান্ডের দাবি তুলতে শুরু করেন। এর ফলে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিমল গুরুংয়ের ব্যক্তিগত সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকে। ২০১৪-র লোকসভা ভোটের মধ্য দিয়ে পাহাড়ে তৃণমূল কংগ্রেস তার অস্তিত্ব জানান দিয়েছিল। ওই নির্বাচনে দার্জিলিংয়ে তৃণমূল প্রার্থী ১৮%, কার্শিয়াংয়ে ২২% এবং কালিম্পংয়ে ২০% ভোট পায়। অতীতের নির্বাচনগুলির সঙ্গে তুলনা করলে (১৯৮৮-র পর থেকে) সমতলের কোনও দল পাহাড়ে এত ভোট পায়নি। ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে দার্জিলিংয়ে তৃণমূলের ভোট ছিল প্রায় ৩০%। কালিম্পংয়ে ৪২% এবং কার্শিয়াংয়ের ক্ষেত্রে ৩৪%। এবারের পুরসভা নির্বাচনে তৃণমূল কেবলমাত্র যে মিরিক পুরসভা দখল করেছে তাই নয় কালিম্পংয়ে মোর্চা যত ভোট পেয়েছে তার থেকে বিরোধীদের ভোট বেশি। পুরসভার ফলাফল থেকে পরিষ্কার পাহাড়ে বিমল গুরুংদের কর্তৃত্ব অনেকটাই শিথিল হয়ে এসেছে। স্বভাবতই এর ফলে তৃণমূল জিটিএ নির্বাচনকে সামনে রেখে একদিকে যেমন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে আরও সক্রিয়তা দেখাতে চাইছে অন্যদিকে নিজের ক্ষয়িষ্ণু অবস্থান বুঝে বিমল গুরুং আত্মপরিচয়ের রাজনীতিতে ফিরতে চাইছেন। আত্মপরিচয়ের রাজনীতিতে ফিরতে না পারলে পাহাড়ে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ হারানো গুরুংয়ের ক্ষেত্রে শুধু সময়ের অপেক্ষামাত্র। সুতরাং ঘিসিংয়ের মতো গুরুংও গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে ফিরে গিয়ে নিজের অস্তিত্ব ভাসিয়ে রাখতে চাইছেন। বাম আমলে পাহাড়ে শান্তিরক্ষার নামে গোর্খাদের জাতিসত্তাকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে প্রশাসনকে প্রায় দীর্ঘকাল নিষ্ক্রিয় রাখা হয়েছিল। তৃণমূল আমলে আবার রাজ্য প্রশাসনের অতি সক্রিয়তার ফলে কোথাও কোথাও গোর্খাদের জাতিসত্তায় আঘাতের অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে।
ঔপনিবেশিক কাল থেকে চলে আসা গোর্খাদের জাতিসত্তার রাজনীতির তেজ একটুও কমেনি। ব্রিটিশ আমলে সাইমন কমিশনের কাছে পাহাড়ের মানুষ পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থার দাবি তুলেছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও বারবার নেপালি ভাষার স্বীকৃতির দাবির পাশাপাশি গোর্খাদের জন্য পৃথক রাজ্যের দাবিতেও তারা সরব থেকেছে। ১৯৭৪-এ সিদ্ধার্থশংকর রায়ের আমলে যে ক্যাবিনেট মিটিং বসেছিল সেইসময়ও পাহাড়ের মানুষ নেপালি ভাষার স্বীকৃতির দাবিতে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। ৪৪ বছর পর অনুষ্ঠিত আর একটি ক্যাবিনেট মিটিংকে সামনে রেখে জাতিসত্তার জায়গা থেকে গোর্খাল্যান্ডের দাবি তোলা হচ্ছে। অর্থাৎ অতীত থেকে চলে আসা পাহাড়ের জাতিসত্তার ভাবাবেগ এখনও প্রবহমান। দার্জিলিংয়ের ভৌগোলিক অবস্থানও আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত। মাত্র আড়াই হাজার বর্গকিমি এলাকা নিয়ে যে কোনও রাজ্য গঠন হতে পারে না এব্যাপারে সমস্ত রাজনৈতিক দল একমত। তবে নির্বাচনী সুবিধা পেতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দার্জিলিংয়ের আন্দোলনে বিভিন্ন অবস্থান নিতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু, সব কিছুর ঊর্ধ্বে এই মুহূর্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, গোর্খা হিল কাউন্সিল ব্যর্থ হয়েছে, জিটিএও পতনের মুখে, এই অবস্থায় পাহাড়ে জাতিসত্তার সন্তুষ্টিবিধানের প্রশ্নে স্বায়ত্তশাসন ঠিক কোন পথে? এক সময় ঘিসিং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে দার্জিলিংকে অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত কাউন্সিলগুলি জনজাতির এলাকা কেন্দ্রিক। দার্জিলিংয়ের অধিকাংশ মানুষ আবার তফসিলি জনজাতিভুক্ত নয়। তবে একথা অনস্বীকার্য যে, সংবিধান সংশোধনের সুযোগ এক্ষেত্রে রয়েছে। এবং, এটা ঠিক যে, রাজ্য গঠন বাদে ভারতের সর্বোচ্চ স্বায়ত্তশাসনমূলক ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত কাউন্সিলগুলিকেই। তবে গোর্খা নেতৃবর্গের মধ্যেই ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। জিটিএ চুক্তিতে পাহাড়ে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যে বন্দোবস্ত রয়েছে, এই অবস্থায় আবারও একবার সেগুলি নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ আছে সব পক্ষের কাছে। জিটিএ আইনকে আন্তরিকভাবে রূপায়ণ করতে পারলে পাহাড়ের মানুষ সর্বোচ্চ স্বায়ত্তশাসনের সুযোগ পেতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে সব পক্ষেরই রাজনীতির ঊর্ধ্বে ওঠা প্রয়োজন।
 লেখক রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক
16th  June, 2017
রাজ্যের উদ্বেগজনক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্র এত উদাসীন কেন?
শুভা দত্ত

 ‘কেন্দ্রের বিমাতৃসুলভ আচরণ’ বলে একটা কথা একসময় খুব শোনা যেত। ইন্দিরা গান্ধীর আমলে তো বটেই, তার পরে তাঁর পুত্র রাজীব গান্ধী বা তাঁর পরের প্রধানমন্ত্রীদের আমলেও এ রাজ্যে ওই ‘বিমাতৃসুলভ আচরণ’ নিয়ে রাজনৈতিক হইচই যথেষ্ট হয়েছে।
বিশদ

20th  August, 2017
আহা, সেই নতুন ভারত ভয়মুক্ত হোক
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

 স্বাধীনতা দিবসে লাল কেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চতুর্থ ভাষণ বেশ মন দিয়েই শুনলাম। স্বচ্ছ ভারত, স্মার্ট সিটি, মেক ইন ইন্ডিয়া, স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া, জন ধন প্রকল্প, নমামি গঙ্গে, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, ডিজিটাল ইন্ডিয়া, কংগ্রেস মুক্ত ভারত, কালো টাকা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোমর-কষা লড়াই ইত্যাদি ইত্যাদি প্রতিজ্ঞা ও স্বপ্নের জাল গত চারটি ভাষণে শোনানোর পর সেদিন তিনি ‘নিউ ইন্ডিয়া’ বা নতুন ভারত গড়ার কথা শোনালেন।
বিশদ

20th  August, 2017
সফলতা বনাম সফলতা
অভিজিৎ তরফদার

 সংবাদপত্রের প্রথম পাতা আলো করে কোন ব্যক্তিরা শোভা পান? তাঁরা জনপ্রতিনিধি। তাঁরা দেশের আইনও প্রণয়ন করেন। দুর্জনে বলে তাঁদের এক চতুর্থাংশ বা তারও বেশিজনের নামে ফৌজদারি মামলা আছে। খুন-ধর্ষণ-ডাকাতি ইত্যাদি ভয়ানক সব অভিযোগে তাঁরা অভিযুক্ত। কিন্তু আমরা, আম জনতা, তাঁদের ফুল্লবিকশিত মুখশোভা সংবাদপত্রে দেখতেই অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি।
বিশদ

19th  August, 2017
ভারত চীন যুদ্ধ হলে চীন পরাজিত হবে
প্রশান্ত দাস

 সারা ভারতজুড়ে এখন একটাই আলোচনা ঝড় তুলেছে—ডোকালাম নিয়ে চীন ভারতকে আক্রমণ করবে কি? চীন অনবরত ভারতকে চমকে চলেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপত্র গ্যারিরস বলেছেন—কোনও দেশ যেন নিজেকে সর্বশক্তিমান না ভাবে। চীন এবং ভারত মুখোমুখি আলোচনায় বসে ব্যাপারটি মিটিয়ে নেয়।
বিশদ

19th  August, 2017
শুধুই প্রচার, রেজাল্ট কই!
সমৃদ্ধ দত্ত

 গোরখপুর থেকে ৪৩ কিলোমিটার দূরের জৈনপুর গ্রামের লক্ষ্মী আর শৈলেন্দ্র তিন সপ্তাহ বয়সি মেয়ের মৃতদেহ নিয়ে অনেক দেরি করে বাড়িতে ফিরতে পেরেছিল। গোরখপুরের হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মেয়ে মারা যাওয়ার পর হাসপাতালের বাবুদের কাছে বারংবার ধমক খেতে হয়েছে তাঁদের।
বিশদ

18th  August, 2017
 কেন্দ্রের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণেই মেডিকেল ভরতিতে রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা বঞ্চনার শিকার
গৌতম পাল

 নিট পরীক্ষার দায়িত্ব সিবিএসই-কে দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষমতাকে কেন্দ্রীভূত করেছে। নিট পরীক্ষায় যাঁরা বিষয় বিশেষজ্ঞ হিসাবে সাহায্য করেছেন তাঁরা অধিকাংশই দিল্লির কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, এবং বেশিরভাগই কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালনাকারী একটি বড় রাজনৈতিক দলের সদস্য বা কাছের মানুষ। অথচ পশ্চিমবাংলার বা অন্যান্য রাজ্যের খ্যাতনামা যে সকল অধ্যাপক অত্যন্ত দক্ষতা এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে রাজ্যের প্রবেশিকা পরীক্ষায় এ যাবৎ সাহায্য করে এসেছেন, সিবিএসই কিন্তু তাঁদেরকে নিটের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করেনি, বা এই সম্পর্কে রাজ্যের কোনও মতামতও নেয়নি। অনেকেই বলছেন রাজ্যের পাঠ্যক্রম সংশোধন করে নিটের সমমানের করলেই রাজ্যের ছেলে-মেয়েরা নিটে ভালো র‌্যাংক করবে।
বিশদ

17th  August, 2017
স্বাধীনতার ৭০ বছর, নেতাতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র?
হিমাংশু সিংহ

বিয়াল্লিশের ভারত ছাড়ো আন্দোলন আমি দেখিনি। ৪৭-এর ঐতিহাসিক স্বাধীনতা লাভের মুহূর্তে মধ্যরাতের জওহরলাল নেহরুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ চাক্ষুষ করার সুযোগও হয়নি। হওয়ার কথাও নয়, কারণ ওই ঘটনার প্রায় দু’দশক পর আমার জন্ম। সেদিনের কথা বইয়ে, ইতিহাসের পাতায় পড়েছি মাত্র।
বিশদ

15th  August, 2017
গভীর রাতের নাটক শেষে স্যালুট
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

জেতা ম্যাচ কী করে হারতে হয়, এই নির্বাচন তার একটা বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে। হারতে হারতে জিতে গিয়েছেন আহমেদ প্যাটেল। এই দুর্দিনে তাঁর জয় কংগ্রেসের মরা গাঙে বান হয়তো ডেকে আনবে না, তবে মনোবল সামান্য হলেও বাড়াবে। সোনিয়া গান্ধীর দলের এই দুর্দিনে এটাই বা কম কী? তবে আহমেদ প্যাটেল নন, অমিত শাহও নন, শেষ বিচারে আসল জয়ী নির্বাচন কমিশন। ভারতীয় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এটাই। ওই গভীর রাতে নির্বাচন কমিশনকেই তাই স্যালুট জানিয়েছি।
বিশদ

13th  August, 2017
স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে: কিছু প্রশ্ন
শুভা দত্ত

শুধু ভারত ছাড়ো কেন? রামনবমী রাখিবন্ধন পুজোপাঠ স্বাধীনতা দিবস প্রজাতন্ত্র—সবকিছুতেই এখন এত বেশি বেশি রাজনৈতিক দখলদারি শুরু হয়েছে যে, সাধারণ মানুষের পক্ষে উৎসবের মেজাজ ধরে রাখাই মুশকিল হচ্ছে। রাজনীতি ছাড়া যেন কিছু হতেই পারে না!
বিশদ

13th  August, 2017



একনজরে
বার্মিংহ্যাম, ২০ আগস্ট: তিন দিনেই প্রথম দিন-রাতের টেস্ট জিতে নিল ইংল্যান্ড। এজবাস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চুরমার করে ইনিংস ও ২০৯ রানের বিশাল জয় পেয়েছে জো রুটের দল। প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেটে ৫১৪ রানের বিশাল স্কোর খাড়া করেছিল ইংল্যান্ড। ...

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: দাঁতন বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির দুই নিখোঁজ ছাত্রীর খোঁজ মিলল মুম্বইয়ে। তাদের খোঁজে রবিবারই পুলিশের একটি দল মুম্বই ঩গিয়েছে। দাঁতন থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিখোঁজ দুই ছাত্রীর মোবাইলের সূত্র ধরে তাদের খোঁজ পাওয়া যায়। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইতিমধ্যেই দক্ষিণ দমদম পুরসভা এলাকায় ডেঙ্গুতে আটজনের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। অবশেষে নড়েচড়ে বসল দক্ষিণ দমদম পুরসভা। পুরসভার যে সমস্ত ওয়ার্ডে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি, সেখানে গাপ্পি মাছ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উত্তরবঙ্গের মালদহ, বালুরঘাট, রায়গঞ্জ, কালিয়াগঞ্জ, ইটাহার, কুশমুন্ডি, বাউল, পতিরাম, গঙ্গারামপুর সহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভারত সেবাশ্রম সংঘ সম্প্রতি বন্যাদুর্গতদের ত্রাণের কাজ শুরু করেছে। রোজই সংঘের পক্ষ থেকে দুর্গতদের রান্না করা খাবার বিলি করা হচ্ছে। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীদের ক্ষেত্রে ভাবনা-চিন্তা করে বিষয় নির্বাচন করলে ভালো হবে। প্রেম-প্রণয়ে বাধাবিঘ্ন থাকবে। কারও সঙ্গে মতবিরোধ ... বিশদ



ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৭৮- ভিনু মানকড়ের মৃত্যু
১৯৮৬- উসেইন বোল্টের জন্ম
১৯৯৫- সুব্রহ্মণ্যম চন্দ্রশেখরের মৃত্যু
২০০৬- ওস্তাদ বিসমিল্লা খানের মৃত্যু
১৯৭২- বন সংরক্ষণ আইন চালু


ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৩৫ টাকা ৬৫.০৩ টাকা
পাউন্ড ৮১.২৫ টাকা ৮৪.২১ টাকা
ইউরো ৭৩.৯৬ টাকা ৭৬.৫৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
19th  August, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) 29465
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) 27955
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) 28375
রূপার বাট (প্রতি কেজি) 39100
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) 39200
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
20th  August, 2017

দিন পঞ্জিকা

৪ ভাদ্র, ২১ আগস্ট, সোমবার, অমাবস্যা রাত্রি ১২/০, অশ্লেষানক্ষত্র দিবা ৩/৫১, সূ উ ৫/১৯/১৪, অ ৬/০/২৬, অমৃতযোগ দিবা ৭/০ পুনঃ ১০/২৩-১২/৫৬ রাত্রি ৬/৪৫-৯/১ পুনঃ ১১/১৭-২/১৮, বারবেলা ৬/৫৪-৮/২৯ পুনঃ ২/৫১-৪/২৬, কালরাত্রি ১০/১৫-১১/৪০। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ (ভারতে অদৃশ্য)
৪ ভাদ্র, ২১ আগস্ট, সোমবার, অমাবস্যা রাত্রি ১২/৮/৯, অশ্লেষানক্ষত্র অপরাহ্ণ ৪/৫৪/৪০, সূ উ ৫/১৬/৪৮, অ ৬/২/২৪, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৮/৫৩, ১০/২৩/২-১২/৫৬/১০ রাত্রি ৬/৪৭/২২-৯/২/২০, ১১/১৭/১৭-২/১৭/১২, বারবেলা ২/৫১/০-৪/২৬/৪২, কালবেলা ৬/৫২/৩০-৮/২৮/১২, কালরাত্রি ১০/১৫/১৮-১১/৩৯/৩৬। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ (ভারতে অদৃশ্য)
২৮ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বন্যায় ৭ লক্ষ হেষ্টর চাষের জমি ক্ষতিগ্রস্থ: কৃষিমন্ত্রী

 বন্যায়য় উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে ৭ লক্ষ হেক্টর চাষের জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যার মধ্যেো ৪ লক্ষ জমি উত্তরের। কৃষিতে প্রাথমিক হিসেবে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। যার মধ্যে উত্তরে ৫৩৪ কোটি ৫১ লক্ষ টাকাো জানালেন কৃষি মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু।

05:24:00 PM

 তামিলনাড়ুর উপ মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ পনিরসেলভামের

 এআএিডিএমকে-র দুই শিবিরের সংযুক্তিকরণের পর তামিলনাড়ুর উপ মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন পনিরসেলভাম

04:49:00 PM

বন্যার জন্য কেন্দ্রে কাছে উপযুক্ত প্যাকেজ চাইব: মমতা

কেন্দ্রের কাছে উপযুক্ত প্যাকেজের দাবি করতে চলেছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান গোটা রাজ্যে এবছর বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকা। কেবলমাত্র উত্তরবঙ্গেই মৃত্যু হয়েছে ৪৫ জনের। আর গোটা রাজ্যে ১৫২জনের। রাজ্যে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের সংখ্যা দেড় কোটি ছাড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ত্রাণ নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। তাই যতটা প্রয়োজন ততটাই ত্রাণ মিলবে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, অনেক সড়ক থেকেই জল নামতে শুরু করেছে, তাই যে সমস্ত সড়ক থেকে জল নেমে যাবে, সেখান দিয়েই ধীরে ধীরে ট্রাক পাঠানো হবে। কারণ অনেক ট্রাক পচনশীল দ্রব্য নিয়ে আটকে রয়েছে। পাশাপাশি এই বন্যার নামে যে সমস্ত অসাধু ব্যবসায়ী দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করতে চেষ্টা করছেন তাদের বিরুদ্ধেও নজরদারি চালানো হবে বলে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, জল নামলেই  বন্যা সংক্রান্ত রোগব্যাধির প্রতিষেধক এবং পানীয় জলের পথগুলিকে পরিশ্রুত করার ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

04:47:00 PM

সিলেবাস কমিটির প্রস্তাবে সিলমোহর রাজ্য সরকারের, সব ক্লাসে পড়তে হবে কন্যাশ্রী স্বীকৃতি, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যক্রমে কন্যাশ্রী

04:12:00 PM

বন্যায় দেড় কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: মুখ্যমন্ত্রী

04:10:07 PM

রাজ্যে যথেষ্ট পরিমানে ত্রান সামগ্রী মজুত রয়েছে: মুখ্যমন্ত্রী

04:10:06 PM