বিশেষ নিবন্ধ
 

ডিজিএইচসির পর পতনের মুখে জিটিএ-ও, বাংলার পাহাড়ে স্বায়ত্তশাসনের ভবিষ্যৎ কী?
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

বিশ্বনাথ চক্রবর্তী: রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর কেন্দ্র, রাজ্য এবং জিএনএলএফের মধ্যে রাজভবনে এক ঐতিহাসিক ত্রিপাক্ষিক চুক্তির মধ্যে দিয়ে, ১৯৮৮ সালে দার্জিলিং পাহাড়ে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য দার্জিলিং গোর্খা হিল কাউন্সিল (ডিজিএইচসি) গঠিত হয়েছিল। প্রত্যাশা ছিল পাহাড়ের জাতিসত্তা ভাবাবেগ এই হিল কাউন্সিল গঠনের মধ্যে দিয়ে মেটানো সম্ভব হবে। ১৯৮৮ থেকে পরপর তিনটি নির্বাচন হিল কাউন্সিলে সময়মতো হয়েছিল। বলা বাহুল্য, প্রতিবারই বিরোধী-শূন্য করে হিল কাউন্সিলের দখল নিয়েছিল পাহাড়ের তৎকালীন প্রধান রাজনৈতিক দল জিএনএলএফ। হিল কাউন্সিল গঠিত হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই জিএনএলএফ সুপ্রিমো সুবাস ঘিসিং অভিযোগ করতে শুরু করেছিলেন রাজ্য সরকার ডিজিএইচসি’র চুক্তি অনুসারে উন্নয়ন দপ্তরগুলি হস্তান্তর করেনি। প্রয়োজনীয় অর্থ ও কর্মী রাজ্য সরকারের তরফ থেকে না পাওয়ায় তাদের পক্ষে পাহাড়ের উন্নয়ন পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
ঘিসিংয়ের অভিযোগের সারবত্তা যে একেবারে ছিল না তা বলা যায় না। তবে হিল কাউন্সিলের প্রধান হিসাবে ঘিসিংয়ের বিরুদ্ধে কাউন্সিলের তহবিল তছরুপ করা, পরিকল্পনাহীনভাবে কাউন্সিলকে পরিচালনা করা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ প্রথম থেকেই উঠেছিল। তৎকালীন রাজ্য সরকার বেশ কিছুদিন নিশ্চুপ থাকার পর হিল কাউন্সিলে অডিট করানোর প্রশ্নটি সামনে আনলে ঘিসিংয়ের সঙ্গে তৎকালীন রাজ্য প্রশাসনের সংঘাত চরমে ওঠে। না রাজ্য সরকারের তরফ থেকে হিল কাউন্সিল সুচারুভাবে পরিচালনার কোনও পরিকল্পনা ছিল, না ঘিসিং চেয়েছিলেন সঠিকভাবে হিল কাউন্সিলের মধ্যে প্রাপ্ত স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থাকে সফল রূপ দিতে। স্বভাবতই এর ফলে হিল কাউন্সিলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ২০০০ সালের পর থেকে ঘিসিং নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে পুনরায় গোর্খাল্যান্ডের দাবি তুলতে শুরু করেন। ঘন ঘন বন্‌ধ ডাকলেও রাজ্য প্রশাসনকে তেমন কোনও সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি। বরং পাহাড়ের শান্তি বজায় রাখার নাম করে ২০০৫-০৮ পর্যন্ত তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার নির্বাচন করার রাস্তায় যায়নি। পরিবর্তে একতরফাভাবে জিএনএলএফ-প্রধান সুবাস ঘিসিংয়ের মরজিমতো তাঁকেই হিল কাউন্সিলের প্রধান মনোনীত করে রেখে দেওয়া হয়েছিল। মনোনীত-প্রধান হিসাবে সুবাস ঘিসিং তাঁর কাজের জন্য কারও কাছে দায়বদ্ধ ছিলেন না। ফলে, বহু বছর ধরে পাহাড়ে ঘিসিংকে দুর্নীতি চালাতে পরোক্ষভাবে উৎসাহ দিয়েছিল তৎকালীন রাজ্য সরকার। ডিজিএইচসিকে শক্তিশালী করার বিষয়ে না বামফ্রন্ট সরকারের প্রকৃত কোনও উদ্যোগ ছিল, না সুবাস ঘিসিং হিল কাউন্সিল পরিচালনার ব্যাপারে যত্নবান ছিলেন।
ডিজিএইচসির মাধ্যমে স্থানীয় উন্নয়ন করতে না পেরে মানুষের মন ঘোরাতেই ঘিসিং সচেতনভাবে পাহাড়ের জন্য আরও স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলেন। এবার পাহাড়ের মানুষের জন্য সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে বিভিন্ন আদিম দেব-দেবীর পূজা-অর্চনা শুরু করে দেন। শেষ পর্যন্ত ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে ঘিসিংয়ের দাবিকে মান্যতা দেওয়ার প্রশ্নে জিএনএলএফের সঙ্গে এক সমঝোতা পত্রে স্বাক্ষর করে কেন্দ্রীয় সরকার। যদিও অল্প সময়ের মধ্যে বিমল গুরুংয়ের নেতৃত্বে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার চাপে ঘিসিং হিল কাউন্সিল থেকে পদত্যাগ করে পাহাড় ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। ২০০৮ থেকে শুরু হয় পাহাড়ে বিমল গুরুংয়ের নেতৃত্বে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার একক কর্তৃত্ব।
রাজ্যে পালাবদলের পর ২০১২-র ১৮ জুলাই কেন্দ্র, রাজ্য এবং মোর্চার নেতৃত্বের মধ্যে এক ত্রিপাক্ষিক চুক্তির মধ্যে দিয়ে জিটিএ গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়। জিটিএ আইন অনুসারে পুলিশ প্রশাসনকে বাদ দিয়ে প্রায় সমস্ত দপ্তর জিটিএতে হস্তান্তরিত হওয়ার কথা ছিল। ২০১২ সালের জিটিএ নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ালে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা’য় জয়ী হয়ে জিটিএ গঠন করে। চুক্তির কিছু সময় পরও বিমল গুরুংদের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক যথেষ্ট ইতিবাচক ছিল। একসময় মোর্চা-প্রধান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ‘পাহাড়ের মা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। কিন্তু, পাহাড়ে রাজ্য প্রশাসন এবং শাসকদল তৃণমূলের সঙ্গে বিমল গুরুংদের সংঘাত শুরু হয় প্রধানত পাঁচটি বিষয়কে কেন্দ্র করে—
(ক) রাজ্য প্রশাসন পাহাড়ের মানুষের উন্নয়নের জন্য সক্রিয় হতেই গুরুংরা রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে জিটিএর কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলেন। অভিযোগ তোলেন জিটিএ চুক্তি অনুসারে বিভিন্ন উন্নয়ন দপ্তর, কর্মীবাহিনী এবং প্রয়োজনীয় অর্থ জিটিএতে হস্তান্তর না করার।
(খ) পাহাড়ে তৃণমূল সংগঠন বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোর্চার নেতাদের সঙ্গে তৃণমূলের দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
(গ) হরকা বাহাদুর ছেত্রী, প্রদীপ প্রধানের মতো একাধিক নেতা বিমল গুরুংয়ের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে দল ছাড়েন। হরকা বাহাদুর ছেত্রী নতুন দল তৈরি করলেও, বেশিরভাগ মোর্চা নেতাই দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলে মোর্চার সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটে। দল ভাঙার দায় মোর্চা নেতৃত্ব তৃণমূলের উপর চাপাতে চেয়েছে বারবার।
(ঘ) লেপচা সমেত পাহাড়ে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর জন্য উন্নয়ন পর্ষদ গঠন ছিল শাসকদলের কাছে গোর্খাদের প্রভুত্ব ভাঙার প্রশ্নে অন্যতম প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কৌশল। সরকার পাহাড়ের বিভিন্ন জনজাতির জন্য ১৫টি উন্নয়ন পর্ষদ গঠনের এই উদ্যোগের ফলে বিমল গুরুংদের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সংঘাত তীব্র আকার নেয়।
(ঙ) মদন তামাং হত্যা মামলায় বিমল গুরুং সমেত একাধিক অভিযুক্ত মোর্চা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশ প্রশাসন সক্রিয় হতেই বিমল গুরুংরা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে ২০১৩ সাল থেকে মাঝেমধ্যেই গোর্খাল্যান্ডের দাবি তুলতে শুরু করেন। এর ফলে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিমল গুরুংয়ের ব্যক্তিগত সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকে। ২০১৪-র লোকসভা ভোটের মধ্য দিয়ে পাহাড়ে তৃণমূল কংগ্রেস তার অস্তিত্ব জানান দিয়েছিল। ওই নির্বাচনে দার্জিলিংয়ে তৃণমূল প্রার্থী ১৮%, কার্শিয়াংয়ে ২২% এবং কালিম্পংয়ে ২০% ভোট পায়। অতীতের নির্বাচনগুলির সঙ্গে তুলনা করলে (১৯৮৮-র পর থেকে) সমতলের কোনও দল পাহাড়ে এত ভোট পায়নি। ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে দার্জিলিংয়ে তৃণমূলের ভোট ছিল প্রায় ৩০%। কালিম্পংয়ে ৪২% এবং কার্শিয়াংয়ের ক্ষেত্রে ৩৪%। এবারের পুরসভা নির্বাচনে তৃণমূল কেবলমাত্র যে মিরিক পুরসভা দখল করেছে তাই নয় কালিম্পংয়ে মোর্চা যত ভোট পেয়েছে তার থেকে বিরোধীদের ভোট বেশি। পুরসভার ফলাফল থেকে পরিষ্কার পাহাড়ে বিমল গুরুংদের কর্তৃত্ব অনেকটাই শিথিল হয়ে এসেছে। স্বভাবতই এর ফলে তৃণমূল জিটিএ নির্বাচনকে সামনে রেখে একদিকে যেমন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে আরও সক্রিয়তা দেখাতে চাইছে অন্যদিকে নিজের ক্ষয়িষ্ণু অবস্থান বুঝে বিমল গুরুং আত্মপরিচয়ের রাজনীতিতে ফিরতে চাইছেন। আত্মপরিচয়ের রাজনীতিতে ফিরতে না পারলে পাহাড়ে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ হারানো গুরুংয়ের ক্ষেত্রে শুধু সময়ের অপেক্ষামাত্র। সুতরাং ঘিসিংয়ের মতো গুরুংও গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে ফিরে গিয়ে নিজের অস্তিত্ব ভাসিয়ে রাখতে চাইছেন। বাম আমলে পাহাড়ে শান্তিরক্ষার নামে গোর্খাদের জাতিসত্তাকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে প্রশাসনকে প্রায় দীর্ঘকাল নিষ্ক্রিয় রাখা হয়েছিল। তৃণমূল আমলে আবার রাজ্য প্রশাসনের অতি সক্রিয়তার ফলে কোথাও কোথাও গোর্খাদের জাতিসত্তায় আঘাতের অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে।
ঔপনিবেশিক কাল থেকে চলে আসা গোর্খাদের জাতিসত্তার রাজনীতির তেজ একটুও কমেনি। ব্রিটিশ আমলে সাইমন কমিশনের কাছে পাহাড়ের মানুষ পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থার দাবি তুলেছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও বারবার নেপালি ভাষার স্বীকৃতির দাবির পাশাপাশি গোর্খাদের জন্য পৃথক রাজ্যের দাবিতেও তারা সরব থেকেছে। ১৯৭৪-এ সিদ্ধার্থশংকর রায়ের আমলে যে ক্যাবিনেট মিটিং বসেছিল সেইসময়ও পাহাড়ের মানুষ নেপালি ভাষার স্বীকৃতির দাবিতে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। ৪৪ বছর পর অনুষ্ঠিত আর একটি ক্যাবিনেট মিটিংকে সামনে রেখে জাতিসত্তার জায়গা থেকে গোর্খাল্যান্ডের দাবি তোলা হচ্ছে। অর্থাৎ অতীত থেকে চলে আসা পাহাড়ের জাতিসত্তার ভাবাবেগ এখনও প্রবহমান। দার্জিলিংয়ের ভৌগোলিক অবস্থানও আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত। মাত্র আড়াই হাজার বর্গকিমি এলাকা নিয়ে যে কোনও রাজ্য গঠন হতে পারে না এব্যাপারে সমস্ত রাজনৈতিক দল একমত। তবে নির্বাচনী সুবিধা পেতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দার্জিলিংয়ের আন্দোলনে বিভিন্ন অবস্থান নিতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু, সব কিছুর ঊর্ধ্বে এই মুহূর্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, গোর্খা হিল কাউন্সিল ব্যর্থ হয়েছে, জিটিএও পতনের মুখে, এই অবস্থায় পাহাড়ে জাতিসত্তার সন্তুষ্টিবিধানের প্রশ্নে স্বায়ত্তশাসন ঠিক কোন পথে? এক সময় ঘিসিং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে দার্জিলিংকে অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত কাউন্সিলগুলি জনজাতির এলাকা কেন্দ্রিক। দার্জিলিংয়ের অধিকাংশ মানুষ আবার তফসিলি জনজাতিভুক্ত নয়। তবে একথা অনস্বীকার্য যে, সংবিধান সংশোধনের সুযোগ এক্ষেত্রে রয়েছে। এবং, এটা ঠিক যে, রাজ্য গঠন বাদে ভারতের সর্বোচ্চ স্বায়ত্তশাসনমূলক ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত কাউন্সিলগুলিকেই। তবে গোর্খা নেতৃবর্গের মধ্যেই ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। জিটিএ চুক্তিতে পাহাড়ে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যে বন্দোবস্ত রয়েছে, এই অবস্থায় আবারও একবার সেগুলি নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ আছে সব পক্ষের কাছে। জিটিএ আইনকে আন্তরিকভাবে রূপায়ণ করতে পারলে পাহাড়ের মানুষ সর্বোচ্চ স্বায়ত্তশাসনের সুযোগ পেতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে সব পক্ষেরই রাজনীতির ঊর্ধ্বে ওঠা প্রয়োজন।
 লেখক রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক
16th  June, 2017
শিবাজি রাও গায়কোয়াড়ের দোলাচল
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

 সাতষট্টি বছরের একজন মানুষ শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেবেন অথবা নেওয়া উচিত তা নিয়ে আমি বেশ ধন্দে পড়েছি। তবে আমার এই দোলাচল মোটেই আহামরি কিছু নয়, বড় যা তা হল একটা গোটা রাজ্যের মানুষের তাঁর দিকে ড্যাব ড্যাব করে চেয়ে থাকা। বিপুল দোলাচলে রাজ্যের সবার মনে। বিশদ

রথযাত্রায় শ্রীচৈতন্য ও শ্রীরামকৃষ্ণ
চৈতন্যময় নন্দ

 নীলাচলে দারুব্রহ্ম জগদীশ জগন্নাথদেবের সবচেয়ে বড় বিজয়োৎসব রথযাত্রা। আদিকাল থেকে এই সমারোহ চলে এসেছে এবং একে কেন্দ্র করে বহু ইতিবৃত্তের সৃষ্টি হয়েছে। আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে পুরীতে শ্রীমন্‌ জগন্নাথ রথে আরোহণ করেন।
বিশদ

24th  June, 2017
অনুপ্রবেশকারীদের মন্দিরে আশ্রয় প্রসঙ্গে
আলোলিকা মুখোপাধ্যায়

 নিউইয়র্ক শহরের কুইনস এলাকায় সমুদ্রের ধার ঘেঁষে রক অ্যাওয়ে বিচ। একদিন দেখা গেল মহাসাগরের ঢেউয়ের মাথায় নাচতে নাচতে ভাঙা নারকোল ভেসে আসছে। নারকোলের পিছু পিছু ইতস্তত বিক্ষিপ্ত গাঁদাফুলের মালা। সাহেব মেমরা সাঁতার কাটতে নেমে নারকোলের আধভাঙা মালা, পচা গাঁদার মালা দেখে জলপুলিশকে নালিশ করল। বিশদ

24th  June, 2017
সাঁওতাল বিদ্রোহ এবং সমাজের পরিবর্তন
বিষ্ণুপদ হেমরম

 ভারতের আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলির মধ্যে সাঁওতালরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। ব্রিটিশ ভারতে জল-জঙ্গল-জমিনের উপর অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং শোষণ ও নিপীড়নের প্রতিবাদে তারা সরকারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল। সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন, বর্তমান সাঁওতাল পরগনার ভাগ্‌না঩ডিহির মাঠে। বিশদ

23rd  June, 2017
পাহাড় ও বাঙালি
সমৃদ্ধ দত্ত

 বিজেপি রাজ্য শাখা তথা তাদের কর্মী সমর্থকরা এখনও স্পষ্ট করে বলছেন না সামান্য একটা সিদ্ধান্ত। সেটি হল তাঁরা কি গোর্খাল্যান্ড সমর্থন করেন, নাকি করেন না? সহজ প্রশ্ন। সহজ উত্তর। অথচ সোজা উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। ভাসা ভাসা কথা। কারণ বিজেপি রাজ্য শাখা ও কর্মী সমর্থকরা অপেক্ষা করছেন তাঁদের হাইকমান্ড কী ঠিক করবেন তার উপর। একবার চিন্তা করে দেখুন, আমরা বাঙালি, আমাদের রাজ্য থেকে আমাদের প্রিয় দার্জিলিংকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে কি না তা ঠিক করতেও বিজেপির বাংলা শাখা দুজন গুজরাতের নেতার দিকে তাকিয়ে আছে। বিশদ

23rd  June, 2017
দুর্নীতির পরিবেশ, পরিবেশে দুর্নীতি
বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়

 ১৯৭০ দশকের বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ও অর্থনীতিবিদ Gunnar Mydral-এর ‘এশিয়ান ড্রামা’ বইটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল, এশিয়ার বুকে বিভিন্ন দেশে পরিকল্পনাগুলি ব্যর্থ হবার একটি অন্যতম কারণ দুর্নীতি। বিশদ

21st  June, 2017
এ যুগের নীলকণ্ঠদের মুক্তির উপায় কী?
স্বপন মণ্ডল

 পুরাণ মতে সমুদ্র মন্থনের মতো কষ্টসাধ্য কাজে সুরাসুর উভয়েই হাত লাগিয়েছিল। সমুদ্র মন্থনে অমৃতের সন্ধান যেমন পাওয়া গেল গরলও উঠে এল। অমৃতের ভাগীদার অনেকে কিন্তু গরলের ভাগীদার কেউ হতে চাইল না। কিন্তু এ গরল এমন গরল যে ধরিত্রীর যেখানে পড়বে সেখানেই বিষাক্ত হয়ে যাবে। বিশদ

21st  June, 2017
যোগদিবস: ভারতের লক্ষ্মীলাভের মস্ত সুযোগ
হরলাল চক্রবর্তী

 ২০১৫ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে ২১ জুন মহা ধুমধামে ‘বিশ্ব-যোগদিবস’ পালিত হচ্ছে। সারা বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশ যোগদিবসের স্বীকৃতি দিয়েছে, ১৮০টি দেশ যোগে অংশগ্রহণ করেছে, এর মধ্যে কিছু ইসলামিক দেশও আছে। আশা করা যায়, এ বছর তা আরও বেশি সাফল্য পাবে।
বিশদ

20th  June, 2017



একনজরে
 শ্রীনগর, ২৪ জুন (পিটিআই): ডিএসপি মহম্মদ আয়ুব পণ্ডিত খুনের ঘটনার বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করল জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। সুপারিটেন্ডেন্ট পদমর্যাদার আধিকারিকের নেতৃত্বে এই দল গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক পুলিশকর্তা। ...

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: তারাপীঠে ব্যতিক্রমী রথের দড়িতে টান দিতে শনিবারই দূরদূরান্ত থেকে কয়েক হাজার ভক্ত তারাপীঠ এসেছেন। সাধারণত জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে রথে বসিয়ে রথযাত্রা উৎসব পালিত হয়। কিন্তু তারাপীঠে তারা মা-ই রথে আরোহন করেন। রথ, উলটো রথ দুই পর্যায়ের রথেই ...

 বেজিং, ২৪ জুন (পিটিআই): বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সাবমেরিন ডিটেক্টর আবিষ্কার করল চীন। আজ ‘দ্য চাইনিজ আকাদেমি অব সায়েন্সেস’-এর একদল বিজ্ঞানী এই দাবি করেছেন। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্ত্রী ও শাশুড়ির বঁটির কোপে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভরতি হলেন স্বামী। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে নিউটাউনের প্রমোদগড় বাজার এলাকায়। স্থানীয় সূত্রের খবর, পারিবারিক বিবাদের জেরে শুভঙ্কর সরকারের সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁর স্ত্রীর অশান্তি চলছিল। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য আসবে। প্রেম-প্রণয়ে আগ্রহ বাড়বে। তবে তা বাস্তবায়িত হওয়াতে সমস্যা আছে। লৌহ ও ... বিশদ



ইতিহাসে আজকের দিন

 ১৯০৩- ইংরেজ সাহিত্যিক জর্জ অরওয়েলের জন্ম
১৯৬০- কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের মৃত্যু
১৯৭৪- অভিনেত্রী করিশ্মা কাপুরের জন্ম
১৯৭৫- প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দেশে জরুরি অবস্থা জারি করলেন
২০০৯- মার্কিন পপ সংগীত শিল্পী মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যু




ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৭৫ টাকা ৬৫.৪৩ টাকা
পাউন্ড ৮০.৬৪ টাকা ৮৩.৪২ টাকা
ইউরো ৭০.৭৬ টাকা ৭৩.২৮ টাকা
24th  June, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৯,২২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৭,৭২৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৮,১৪০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৯,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৯,২০০ টাকা

দিন পঞ্জিকা

১০ আষাঢ়, ২৫ জুন, রবিবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ১/২, পুনর্বসুনক্ষত্র রাত্রি ১১/২৫, সূ উ ৪/৫৭/৩৬, অ ৬/২০/৩৬, অমৃতযোগ ৬/৪৪-৯/২৫ পুনঃ ১২/৫-২/৪৫ রাত্রি ৭/৪৫ পুনঃ ১০/৩৫-১২/৪৩, বারবেলা ৯/৫৮-১/১৯, কালরাত্রি ১২/৫৯-২/১৯।

রথযাত্রা উৎসব
রাত্রি ১/৩৮/২৯ অম্বুবাচী নিবৃত্তিঃ

১০ আষাঢ়, ২৫ জুন, রবিবার, প্রতিপদ ৬/২১/২১ পরে দ্বিতীয়া রাত্রিশেষ ৪/৮/৫০, পুনর্বসুনক্ষত্র ২/৪৯/৪৫, সূ উ ৪/৫৪/৫৩, অ ৬/২২/১২, অমৃতযোগ দিবা ৪/৪২/৩১-৯/২৩/৫৯, ১২/৫/২৭-২/৪৬/৫৫ রাত্রি ৭/৪৬/৩৩, ১০/৩৫/১৬-১২/৪১/৪৮, বারবেলা ৯/৫৭/৩৮-১১/৩৮/৩৩, কালবেলা ১১/৩৮/৩৩-১/১৯/২৮, কালরাত্রি ১২/৫৭/৩৮-২/১৬/৪৩।

রথযাত্রা উৎসব
রাত্রি ১/৩৮/২৯ অম্বুবাচী নিবৃত্তিঃ
২৯ রমজান

ছবি সংবাদ


এই মুহূর্তে
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বনগাঁর গনরাপোতা বাজার এলাকা থেকে ১৫০টি বিরল প্রজাতির কচ্ছপ উদ্ধার করল পুলিশ, গ্রেপ্তার ৬

10:20:00 AM

লখনউতে ১৪ বছর বয়সী এক পুলিশ অফিসারের কন্যার আত্মহত্যা, চাঞ্চল্য

10:16:00 AM

পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে তেলের ট্যাঙ্কার থেকে আগুন লাগার ঘটনায় মৃত শতাধিক, গুরুতর জখম ৪০

10:14:00 AM

শহরে ট্রাফিকের হাল
আজ, রবিবার সকালে শহরের রাস্তাঘাটে যান চলাচল মোটের উপর স্বাভাবিক। ট্রাফিকের সামান্য চাপ রয়েছে এজেসি বসু রোড, ইএম বাইপাস, মা উড়ালপুল, পার্কস্ট্রিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে। এদিন শহরে তেমন কোনও বড় মিটিং-মিছিলের খবর নেই। ফলে মোটামুটি সারাদিনই শহরের যান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে আজ রথযাত্রাকে ঘিরে বেশ কয়েকটি রাস্তায় যানজট দেখা দিতে পারে। ইসকনের রথ অ্যালবার্ট রোড থেকে হাঙ্গারফোর্ড স্ট্রিট, এজেসি বোস রোড, শরৎ বসু রোড, হাজরা রোড, এসপি মুখার্জি রোড, আশুতোষ মুখার্জি রোড, চৌরঙ্গি রোড, এক্সাইড ক্রসিং, জওহরলাল নেহরু রোড, আউটরাম রোড হয়ে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে থামবে। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে যে ক’দিন ইসকনের রথ থাকবে, সেই ক’দিন সেখানে প্রসাদ বিতরণ, নানা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। অন্যদিকে, মেট্রোর কাজের জন্য ২৯ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ থাকবে ব্রাবোর্ন রোড ফ্লাইওভার ব্রিজ। সেই সময় সমস্ত গাড়ি মহাত্মা গান্ধী রোড, পোস্তা ও স্ট্যান্ড রোড দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। তার ফলে ওই এলাকাগুলিতে যানজট দেখা দিতে পারে। কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, মা ফ্লাইওভারের নতুন ফ্ল্যাংকের নির্মাণ কাজ চলায় আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত কড়েয়া রোড ও বেকবাগান রো'র মধ্যবর্তী সার্কাস এভিনিউ'র দক্ষিণ অভিমুখও বন্ধ থাকবে। তার জেরে ওই এলাকাতেও যানজটের সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাফিক সংক্রান্ত যে কোনও খবরাখবরের জন্য কলকাতা পুলিশের টোল ফ্রি নম্বর ১০৭৩-তে ফোন করুন।

10:02:00 AM

মধ্য জাপানে ভূমিকম্প, রিখটার স্কেলে ৫.২

09:38:00 AM

চীনে ভূমিধস, মৃত ১৫, নিখোঁজ শতাধিক

09:34:00 AM