বিশেষ নিবন্ধ
 

ডিজিএইচসির পর পতনের মুখে জিটিএ-ও, বাংলার পাহাড়ে স্বায়ত্তশাসনের ভবিষ্যৎ কী?
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

বিশ্বনাথ চক্রবর্তী: রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর কেন্দ্র, রাজ্য এবং জিএনএলএফের মধ্যে রাজভবনে এক ঐতিহাসিক ত্রিপাক্ষিক চুক্তির মধ্যে দিয়ে, ১৯৮৮ সালে দার্জিলিং পাহাড়ে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য দার্জিলিং গোর্খা হিল কাউন্সিল (ডিজিএইচসি) গঠিত হয়েছিল। প্রত্যাশা ছিল পাহাড়ের জাতিসত্তা ভাবাবেগ এই হিল কাউন্সিল গঠনের মধ্যে দিয়ে মেটানো সম্ভব হবে। ১৯৮৮ থেকে পরপর তিনটি নির্বাচন হিল কাউন্সিলে সময়মতো হয়েছিল। বলা বাহুল্য, প্রতিবারই বিরোধী-শূন্য করে হিল কাউন্সিলের দখল নিয়েছিল পাহাড়ের তৎকালীন প্রধান রাজনৈতিক দল জিএনএলএফ। হিল কাউন্সিল গঠিত হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই জিএনএলএফ সুপ্রিমো সুবাস ঘিসিং অভিযোগ করতে শুরু করেছিলেন রাজ্য সরকার ডিজিএইচসি’র চুক্তি অনুসারে উন্নয়ন দপ্তরগুলি হস্তান্তর করেনি। প্রয়োজনীয় অর্থ ও কর্মী রাজ্য সরকারের তরফ থেকে না পাওয়ায় তাদের পক্ষে পাহাড়ের উন্নয়ন পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
ঘিসিংয়ের অভিযোগের সারবত্তা যে একেবারে ছিল না তা বলা যায় না। তবে হিল কাউন্সিলের প্রধান হিসাবে ঘিসিংয়ের বিরুদ্ধে কাউন্সিলের তহবিল তছরুপ করা, পরিকল্পনাহীনভাবে কাউন্সিলকে পরিচালনা করা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ প্রথম থেকেই উঠেছিল। তৎকালীন রাজ্য সরকার বেশ কিছুদিন নিশ্চুপ থাকার পর হিল কাউন্সিলে অডিট করানোর প্রশ্নটি সামনে আনলে ঘিসিংয়ের সঙ্গে তৎকালীন রাজ্য প্রশাসনের সংঘাত চরমে ওঠে। না রাজ্য সরকারের তরফ থেকে হিল কাউন্সিল সুচারুভাবে পরিচালনার কোনও পরিকল্পনা ছিল, না ঘিসিং চেয়েছিলেন সঠিকভাবে হিল কাউন্সিলের মধ্যে প্রাপ্ত স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থাকে সফল রূপ দিতে। স্বভাবতই এর ফলে হিল কাউন্সিলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ২০০০ সালের পর থেকে ঘিসিং নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে পুনরায় গোর্খাল্যান্ডের দাবি তুলতে শুরু করেন। ঘন ঘন বন্‌ধ ডাকলেও রাজ্য প্রশাসনকে তেমন কোনও সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি। বরং পাহাড়ের শান্তি বজায় রাখার নাম করে ২০০৫-০৮ পর্যন্ত তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার নির্বাচন করার রাস্তায় যায়নি। পরিবর্তে একতরফাভাবে জিএনএলএফ-প্রধান সুবাস ঘিসিংয়ের মরজিমতো তাঁকেই হিল কাউন্সিলের প্রধান মনোনীত করে রেখে দেওয়া হয়েছিল। মনোনীত-প্রধান হিসাবে সুবাস ঘিসিং তাঁর কাজের জন্য কারও কাছে দায়বদ্ধ ছিলেন না। ফলে, বহু বছর ধরে পাহাড়ে ঘিসিংকে দুর্নীতি চালাতে পরোক্ষভাবে উৎসাহ দিয়েছিল তৎকালীন রাজ্য সরকার। ডিজিএইচসিকে শক্তিশালী করার বিষয়ে না বামফ্রন্ট সরকারের প্রকৃত কোনও উদ্যোগ ছিল, না সুবাস ঘিসিং হিল কাউন্সিল পরিচালনার ব্যাপারে যত্নবান ছিলেন।
ডিজিএইচসির মাধ্যমে স্থানীয় উন্নয়ন করতে না পেরে মানুষের মন ঘোরাতেই ঘিসিং সচেতনভাবে পাহাড়ের জন্য আরও স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলেন। এবার পাহাড়ের মানুষের জন্য সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে বিভিন্ন আদিম দেব-দেবীর পূজা-অর্চনা শুরু করে দেন। শেষ পর্যন্ত ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে ঘিসিংয়ের দাবিকে মান্যতা দেওয়ার প্রশ্নে জিএনএলএফের সঙ্গে এক সমঝোতা পত্রে স্বাক্ষর করে কেন্দ্রীয় সরকার। যদিও অল্প সময়ের মধ্যে বিমল গুরুংয়ের নেতৃত্বে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার চাপে ঘিসিং হিল কাউন্সিল থেকে পদত্যাগ করে পাহাড় ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। ২০০৮ থেকে শুরু হয় পাহাড়ে বিমল গুরুংয়ের নেতৃত্বে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার একক কর্তৃত্ব।
রাজ্যে পালাবদলের পর ২০১২-র ১৮ জুলাই কেন্দ্র, রাজ্য এবং মোর্চার নেতৃত্বের মধ্যে এক ত্রিপাক্ষিক চুক্তির মধ্যে দিয়ে জিটিএ গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়। জিটিএ আইন অনুসারে পুলিশ প্রশাসনকে বাদ দিয়ে প্রায় সমস্ত দপ্তর জিটিএতে হস্তান্তরিত হওয়ার কথা ছিল। ২০১২ সালের জিটিএ নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ালে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা’য় জয়ী হয়ে জিটিএ গঠন করে। চুক্তির কিছু সময় পরও বিমল গুরুংদের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক যথেষ্ট ইতিবাচক ছিল। একসময় মোর্চা-প্রধান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ‘পাহাড়ের মা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। কিন্তু, পাহাড়ে রাজ্য প্রশাসন এবং শাসকদল তৃণমূলের সঙ্গে বিমল গুরুংদের সংঘাত শুরু হয় প্রধানত পাঁচটি বিষয়কে কেন্দ্র করে—
(ক) রাজ্য প্রশাসন পাহাড়ের মানুষের উন্নয়নের জন্য সক্রিয় হতেই গুরুংরা রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে জিটিএর কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলেন। অভিযোগ তোলেন জিটিএ চুক্তি অনুসারে বিভিন্ন উন্নয়ন দপ্তর, কর্মীবাহিনী এবং প্রয়োজনীয় অর্থ জিটিএতে হস্তান্তর না করার।
(খ) পাহাড়ে তৃণমূল সংগঠন বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোর্চার নেতাদের সঙ্গে তৃণমূলের দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
(গ) হরকা বাহাদুর ছেত্রী, প্রদীপ প্রধানের মতো একাধিক নেতা বিমল গুরুংয়ের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে দল ছাড়েন। হরকা বাহাদুর ছেত্রী নতুন দল তৈরি করলেও, বেশিরভাগ মোর্চা নেতাই দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলে মোর্চার সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটে। দল ভাঙার দায় মোর্চা নেতৃত্ব তৃণমূলের উপর চাপাতে চেয়েছে বারবার।
(ঘ) লেপচা সমেত পাহাড়ে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর জন্য উন্নয়ন পর্ষদ গঠন ছিল শাসকদলের কাছে গোর্খাদের প্রভুত্ব ভাঙার প্রশ্নে অন্যতম প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কৌশল। সরকার পাহাড়ের বিভিন্ন জনজাতির জন্য ১৫টি উন্নয়ন পর্ষদ গঠনের এই উদ্যোগের ফলে বিমল গুরুংদের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সংঘাত তীব্র আকার নেয়।
(ঙ) মদন তামাং হত্যা মামলায় বিমল গুরুং সমেত একাধিক অভিযুক্ত মোর্চা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশ প্রশাসন সক্রিয় হতেই বিমল গুরুংরা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে ২০১৩ সাল থেকে মাঝেমধ্যেই গোর্খাল্যান্ডের দাবি তুলতে শুরু করেন। এর ফলে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিমল গুরুংয়ের ব্যক্তিগত সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকে। ২০১৪-র লোকসভা ভোটের মধ্য দিয়ে পাহাড়ে তৃণমূল কংগ্রেস তার অস্তিত্ব জানান দিয়েছিল। ওই নির্বাচনে দার্জিলিংয়ে তৃণমূল প্রার্থী ১৮%, কার্শিয়াংয়ে ২২% এবং কালিম্পংয়ে ২০% ভোট পায়। অতীতের নির্বাচনগুলির সঙ্গে তুলনা করলে (১৯৮৮-র পর থেকে) সমতলের কোনও দল পাহাড়ে এত ভোট পায়নি। ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে দার্জিলিংয়ে তৃণমূলের ভোট ছিল প্রায় ৩০%। কালিম্পংয়ে ৪২% এবং কার্শিয়াংয়ের ক্ষেত্রে ৩৪%। এবারের পুরসভা নির্বাচনে তৃণমূল কেবলমাত্র যে মিরিক পুরসভা দখল করেছে তাই নয় কালিম্পংয়ে মোর্চা যত ভোট পেয়েছে তার থেকে বিরোধীদের ভোট বেশি। পুরসভার ফলাফল থেকে পরিষ্কার পাহাড়ে বিমল গুরুংদের কর্তৃত্ব অনেকটাই শিথিল হয়ে এসেছে। স্বভাবতই এর ফলে তৃণমূল জিটিএ নির্বাচনকে সামনে রেখে একদিকে যেমন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে আরও সক্রিয়তা দেখাতে চাইছে অন্যদিকে নিজের ক্ষয়িষ্ণু অবস্থান বুঝে বিমল গুরুং আত্মপরিচয়ের রাজনীতিতে ফিরতে চাইছেন। আত্মপরিচয়ের রাজনীতিতে ফিরতে না পারলে পাহাড়ে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ হারানো গুরুংয়ের ক্ষেত্রে শুধু সময়ের অপেক্ষামাত্র। সুতরাং ঘিসিংয়ের মতো গুরুংও গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে ফিরে গিয়ে নিজের অস্তিত্ব ভাসিয়ে রাখতে চাইছেন। বাম আমলে পাহাড়ে শান্তিরক্ষার নামে গোর্খাদের জাতিসত্তাকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে প্রশাসনকে প্রায় দীর্ঘকাল নিষ্ক্রিয় রাখা হয়েছিল। তৃণমূল আমলে আবার রাজ্য প্রশাসনের অতি সক্রিয়তার ফলে কোথাও কোথাও গোর্খাদের জাতিসত্তায় আঘাতের অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে।
ঔপনিবেশিক কাল থেকে চলে আসা গোর্খাদের জাতিসত্তার রাজনীতির তেজ একটুও কমেনি। ব্রিটিশ আমলে সাইমন কমিশনের কাছে পাহাড়ের মানুষ পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থার দাবি তুলেছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও বারবার নেপালি ভাষার স্বীকৃতির দাবির পাশাপাশি গোর্খাদের জন্য পৃথক রাজ্যের দাবিতেও তারা সরব থেকেছে। ১৯৭৪-এ সিদ্ধার্থশংকর রায়ের আমলে যে ক্যাবিনেট মিটিং বসেছিল সেইসময়ও পাহাড়ের মানুষ নেপালি ভাষার স্বীকৃতির দাবিতে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। ৪৪ বছর পর অনুষ্ঠিত আর একটি ক্যাবিনেট মিটিংকে সামনে রেখে জাতিসত্তার জায়গা থেকে গোর্খাল্যান্ডের দাবি তোলা হচ্ছে। অর্থাৎ অতীত থেকে চলে আসা পাহাড়ের জাতিসত্তার ভাবাবেগ এখনও প্রবহমান। দার্জিলিংয়ের ভৌগোলিক অবস্থানও আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত। মাত্র আড়াই হাজার বর্গকিমি এলাকা নিয়ে যে কোনও রাজ্য গঠন হতে পারে না এব্যাপারে সমস্ত রাজনৈতিক দল একমত। তবে নির্বাচনী সুবিধা পেতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দার্জিলিংয়ের আন্দোলনে বিভিন্ন অবস্থান নিতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু, সব কিছুর ঊর্ধ্বে এই মুহূর্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, গোর্খা হিল কাউন্সিল ব্যর্থ হয়েছে, জিটিএও পতনের মুখে, এই অবস্থায় পাহাড়ে জাতিসত্তার সন্তুষ্টিবিধানের প্রশ্নে স্বায়ত্তশাসন ঠিক কোন পথে? এক সময় ঘিসিং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে দার্জিলিংকে অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত কাউন্সিলগুলি জনজাতির এলাকা কেন্দ্রিক। দার্জিলিংয়ের অধিকাংশ মানুষ আবার তফসিলি জনজাতিভুক্ত নয়। তবে একথা অনস্বীকার্য যে, সংবিধান সংশোধনের সুযোগ এক্ষেত্রে রয়েছে। এবং, এটা ঠিক যে, রাজ্য গঠন বাদে ভারতের সর্বোচ্চ স্বায়ত্তশাসনমূলক ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত কাউন্সিলগুলিকেই। তবে গোর্খা নেতৃবর্গের মধ্যেই ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। জিটিএ চুক্তিতে পাহাড়ে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যে বন্দোবস্ত রয়েছে, এই অবস্থায় আবারও একবার সেগুলি নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ আছে সব পক্ষের কাছে। জিটিএ আইনকে আন্তরিকভাবে রূপায়ণ করতে পারলে পাহাড়ের মানুষ সর্বোচ্চ স্বায়ত্তশাসনের সুযোগ পেতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে সব পক্ষেরই রাজনীতির ঊর্ধ্বে ওঠা প্রয়োজন।
 লেখক রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক
16th  June, 2017
লুক ইস্ট থেকে অ্যাক্ট ইস্ট: কী পেলাম
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

২০১৪ সালে ক্ষমতায় এসে ওই বছরই ১২ নভেম্বর আসিয়ান-ভারত যৌথ সম্মেলনের বক্তৃতায় নরেন্দ্র মোদি উল্লেখ করেছিলেন দেশের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক বিকাশ, শিল্পায়ন এবং বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যেমন নতুন জোয়ার এসেছে তেমনি ভারতের বিদেশনীতিতে ‘লুক ইস্ট’ পলিসি ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ পলিসিতে রূপান্তরিত হয়েছে।
বিশদ

বাংলার রসগোল্লা—মেড ইন চায়না
হারাধন চৌধুরী

আলী সাহেব বাঙালিকে শুনিয়েছিলেন তাঁর ঝান্ডুদার গল্প। পাঠক জানেন, ঝান্ডুদা মস্ত ব্যবসায়ী। যাচ্ছিলেন লন্ডন। বিলেতবাসী এক বন্ধুকন্যার জন্য সঙ্গে এনেছিলেন বাংলার টিনজাত কিছু রসগোল্লা। পথে ইতালির ভেনিস বন্দরে নামতে হয়। এরপর সেখানকার কাস্টমস অফিসে চেকিংয়ের সময় সেই কয়েক পাউন্ড রসগোল্লার জন্য যে আক্কেলগুড়ুম হবে তা তাঁর কল্পনায় ছিল না।
বিশদ

গুম-নিখোঁজ ও পরমানন্দ মন্ত্রণালয়
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলাদেশে ‘লিট ফেস্ট’ শুরু ও শেষ হল। সেই কারণে কি না জানি না, অরুন্ধতী রায়ের দ্বিতীয় উপন্যাস ‘দ্য মিনিস্ট্রি অব আটমোস্ট হ্যাপিনেস’ হুট করে সংবাদপত্রে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এল। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় সাহিত্যিক ও সাংবাদিক, আমার অতি ঘনিষ্ঠ ও প্রিয় আনিসুল হক এই উপন্যাসের বাংলা নাম দিয়েছেন ‘পরমানন্দ মন্ত্রণালয়’।
বিশদ

19th  November, 2017
লন্ডন, এডিনবরা এবং মমতা
শুভা দত্ত

দুর্গাপুজোর দিন যত এগিয়ে আসে, আনন্দটা তার সঙ্গে সমানুপাতিক হারে বাড়ে। এ আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির চিরন্তন সত্য। আর মা দুর্গাকে ঘিরে সেই উৎসবের রামধনু রং ফিকে হতে শুরু করে নবমীর সন্ধ্যা থেকেই। আজ বাদে কাল দশমী। মায়ের ফিরে যাওয়ার পালা।
বিশদ

19th  November, 2017
চীনের প্রেসিডেন্ট বনাম ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ
প্রশান্ত দাস

জিনপিং দেশের বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের বললেন—আমাদের সমাজতন্ত্র দেশকে তরতর করে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। এগিয়ে চলেছে আমাদের অর্থনীতি। কিন্তু গত পাঁচ বছরে আপনারা ক’টি অবিশ্বাস্য অস্ত্র দিতে পেরেছেন সেনাদের? ভারতের ডিআরডিও কী করে পৃথিবীতে দু’নম্বর রিসার্চ সেন্টার হল? কী নেই আপনাদের? যা যা চাই, তালিকা পাঠান। যতদিন না আমরা ডিআরডিও-কে ছাপিয়ে যেতে পারছি, ততদিন আমরা নিজেদের এশিয়ার মধ্যে এক নং বলতে পারব না।
বিশদ

18th  November, 2017
রাজ্যের লাইব্রেরিগুলিকে বাঁচাতেই হবে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

মনে পড়ছে গত ডিসেম্বরের কথা। বীরভূম জেলার সরকারি বইমেলার আয়োজন হয়েছিল সিউড়িতে, ইরিগেশন কলোনির মাঠে। আমি উদ্বোধক, মঞ্চে জেলার মন্ত্রীরা, সঙ্গত কারণেই উপস্থিত ছিলেন গ্রন্থাগারমন্ত্রীও। মঞ্চে বসেই সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর সঙ্গে পরিচয়, আলাপচারিতা।
বিশদ

18th  November, 2017
মোদির আমলে শিশুদের খিদের যন্ত্রণা তীব্র, কারণ শিশু ও মহিলা উন্নয়নে গুরুত্ব কম
দেবনারায়ণ সরকার

কেন্দ্রীয় সরকারের গত ৩ বছরের বাজেটের তথ্য সার্বিকভাবে বিচার করলে দেখা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় বাজেটে মোট ব্যয় যেখানে ২১ শতাংশের বেশি বেড়েছে (টাকার অঙ্কে অতিরিক্ত প্রায় ৩ লক্ষ ৫১ হাজার কোটি টাকা), সেখানে মহিলা ও শিশু উন্নয়নে ব্যয় কপর্দকও বাড়েনি, বরং প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। একইভাবে মহিলা ও শিশু উন্নয়ন ব্যয় বাজেটের মোট ব্যয়ের ১ শতাংশের অনেক নীচে নেমেছে। মোদ্দা কথা হল, যে দেশের কেন্দ্রীয় বাজেটে মহিলা ও শিশু উন্নয়নের ব্যয় বাজেটে মোট ব্যয়ের ১ শতাংশেরও কম এবং এই ব্যয় মোদির জমানায় যেহেতু আরও কমছে, সেই দেশে রোজ রাতে খালি পেটে শুতে যাওয়া শিশুদের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধিটাই স্বাভাবিক। তাই ভারতে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অপুষ্টিও।
বিশদ

17th  November, 2017
ডেঙ্গু: রাজনীতি ছেড়ে হাত মিলিয়ে কাজের সময়
অনিরুদ্ধ কর

অবিলম্বে একটা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা নিয়মাবলী প্রকাশ করতে হবে সরকারের তরফে। সরকারি নির্দেশ মানতে বাধ্য সকল সরকারি বেসরকারি ও প্রাইভেট চিকিৎসা কেন্দ্র। অতীতের দিকে নজর দিলে দেখা যাবে বার্ড ফ্লু বা সোয়াইন ফ্লু-র সময় সরকারের তরফে এমন নিয়মাবলী প্রকাশ করা হয়েছিল। চিকিৎসাব্যবস্থায় কী কী থাকতে হবে এবং কোথায় থাকবে তাও বলে দেওয়া হয়েছিল। ফ্লু-র ওষুধ একমাত্র সরকার দিত। খোলাবাজারে মিলত না সেই ওষুধ। কারণ সেক্ষেত্রে ওষুধ নিয়ে কালোবাজারি এবং চড়া দামে ওষুধ বিক্রি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যেত। এছাড়া একটি রাজ্যস্তরের কমিটি ছিল পর্যালোচনার জন্য।
বিশদ

17th  November, 2017
প্যারিস, পরিবেশ এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভারত
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 পরিবেশ মানে হল যেখানে সেখানে থুতু না ফেলা। মন্তব্যটি আমারই এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর। এবং কী ভয়ঙ্কর সাবলীল স্বীকারোক্তি। যে দেশে ৩০ কোটি মানুষ এখনও দারিদ্রসীমার নীচে বসবাস করেন, যেখানে সাক্ষরতা বলতে বোঝানো হয় নিজের নাম সই করতে পারা, সেখানে সচেতনতার প্রাথমিক পাঠটা এমন একটা মন্তব্য দিয়ে শুরু করলে মন্দ কী!
বিশদ

16th  November, 2017
সার্ধশতবর্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি টেম্‌স থেকে গঙ্গা: ভগিনী নিবেদিতার দার্শনিক যাত্রা
জয়ন্ত কুশারী

 আয়ারল্যান্ডের স্বল্প জনবসতি শহর ডুং গানন। স্যামুয়েল রিচমন্ড নোবেল নামে এক ধর্মযাজক ও তাঁর ভক্তিমতী স্ত্রী মেরি ইসাবেল হ্যামিলটন বাস করেন এই শহরে। এঁরা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে করজোড়ে প্রার্থনা করেন সুখপ্রসবে প্রথম সন্তানটি হলে তাঁরা ঈশ্বরের চরণেই সদ্যোজাতকে সমর্পণ করবেন।
বিশদ

16th  November, 2017
নোট বাতিল: উত্তরপ্রদেশের ভোট, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং চে গুয়েভারা
শুভময় মৈত্র

নোট বাতিলের কারণ এবং ফল সংক্রান্ত আলোচনা দেখে, শুনে এবং পড়ে জনগণ এই বিষয়ে যথেষ্ট অবহিত, হয়তো বা কিছুটা ক্লান্তও বটে। বিজেপি সরকার কেন এই সিদ্ধান্ত নিলেন, এর কী কী ভুল ভ্রান্তি আছে, দেশের কী ক্ষতি হল, সাধারণ মানুষ ঠিক কতটা ভুগলেন এই নিয়ে আমরা যতটা আলোচনা করেছি সেই পরিমাণটা সময় এবং সম্পদের হিসেবে পাঁচশো আর হাজার টাকার মোট বাতিল নোটের মূল্যের থেকে বেশিও হয়ে যেতে পারে।
বিশদ

14th  November, 2017
বুকে লাল গোলাপের সেই মানুষটির কথা আজ খুব মনে পড়ছে
মোশারফ হোসেন

স্বপনদা বলত, পচার চাই। বুঝলে ভায়া, পচারটাই আসল। বাঁকুড়া মানুষ স্বপনদা র-ফলা উচ্চারণ করতে পারত না। তার মুখে ‘প্রচার’ শব্দটা ‘পচার’ হয়েই বেরত। আগ্রার ভঁপু চক্কোত্তিও একই কথা বলেছিলেন। ভঁপুবাবুর সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। এরকমই এক নভেম্বরে। উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা ভোটের খবর করতে গিয়ে।
বিশদ

14th  November, 2017
একনজরে
 বিএনএ, বারাকপুর: রবিবার গভীর রাতে কল্যাণী পুরসভার একাধিক ওয়ার্ডে তৃণমূলের অফিস দখল করার অভিযোগ উঠল মুকুল রায়পন্থী বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। একটি দলীয় অফিস ভাঙচুর, একটি দলীয় অফিসের শাসক দলের পতাকাও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ...

 বেজিং, ২০ নভেম্বর (পিটিআই): একাধিক পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম দূরপাল্লার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ‘ডংফেং-৪১’ সম্ভবত আগামী বছরই চীনের সেনা অস্ত্রভাণ্ডারে যুক্ত হতে চলেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ‘ম্যাক ১০’-এর থেকে অনেক বেশি গতিসম্পন্ন। এটি একসঙ্গে ১০টি পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম। ...

বিএনএ, আসানসোল: ট্রেনে যাত্রীদের সুরক্ষা বাড়াতে ‘স্পেশাল টিম’ তৈরি করেছে আরপিএফ। সম্প্রতি আরপিএফের আইজি বিনোদ কুমার দাকা আসানসোলে বৈঠক করতে এসে টিম তৈরির ব্যাপারে নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, এই স্পেশাল টিমের কাজ হবে ট্রেনে অপরাধমূলক ঘটনা কমানো। ...

রাতুল ঘোষ: প্রিয়দার স্মৃতি ক্রমশ ঝাপসা হয়ে আসার মুহূর্তে গত দু’দিন হঠাৎ নিদারুণভাবে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। আর এর নেপথ্যে ছিল কয়েকদিন আগে একটি সূত্রে পাওয়া ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

প্রেম-প্রণয়ে কিছু নতুনত্ব থাকবে যা বিশেষভাবে মনকে নাড়া দেবে। কোনও কিছু অতিরিক্ত আশা না করাই ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব টেলিভিশন দিবস
১৬৯৪: ফরাসি দার্শনিক ভলতেয়ারের জন্ম
১৯৭০: নোবেলজয়ী পদার্থবিদ চন্দ্রশেখর বেঙ্কটরামনের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৪.২০ টাকা ৬৫.৮৮ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৯০ টাকা ৮৭.৭৯ টাকা
ইউরো ৭৫.৪৪ টাকা ৭৮.০৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩০,১৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৮,৬৩৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৯,০৬৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৪ অগ্রহায়ণ, ২০ নভেম্বর, সোমবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ৯/৩৬, নক্ষত্র-জ্যেষ্ঠা রাত্রি ১২/৪৮, সূ উ ৫/৫৬/২৫, অ ৪/৪৮/৪, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৭/২৩ মধ্যে পুনঃ ৮/৫০ গতে ১১/০ মধ্যে। রাত্রি ঘ ৭/২৬ গতে ১০/৬ মধ্যে পুনঃ ২/২৭ গতে ৩/১৯ মধ্যে, বারবেলা ঘ ৭/১৮ গতে ৮/৪০ মধ্যে পুনঃ ২/৫ গতে ৩/২৬ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/৪৪ গতে ১১/২২ মধ্যে।
৩ অগ্রহায়ণ, ২০ নভেম্বর, সোমবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ৭/৪২/২৮, জ্যেষ্ঠানক্ষত্র ১১/৫৫/৩৬, সূ উ ৫/৫৬/৫৮, অ ৪/৪৬/৫৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/২৩/৩৮, ৮/৫০/১৮-১১/০/১৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২৪/৫৮-১০/৫৫/১৮, ২/২৫/৩৭-৩/১৮/১৮, বারবেলা ২/৪/২৮-৩/২৬/৪৩, কালবেলা ৭/১৮/১৩-৮/৩৯/২৮, কালরাত্রি ৯/৪৩/১৩-১১/২১/৫৮। 
৩০ শফর

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
 কালিয়াগঞ্জে দাশমুন্সি ভবন ঘুরে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কালিয়াগঞ্জের দলীয় পার্টি অফিসে। এরপর সেখান থেকে নিয়ে আসা হয় রায়গঞ্জে। এখানে কংগ্রেস কার্যালয়ে অগুন্তি সমর্থক ও প্রিয়জনদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের পর অন্ত্যেষ্টির জন্য শ্মশানের উদ্দেশ্যে রওনা হবে।

07:25:00 PM

কলকাতায় গ্রেপ্তার ৩ জন আল কায়দা জঙ্গি
আজ কলকাতা স্টেশন থেকে ৩ জন আল কায়দা ...বিশদ

06:07:00 PM

 কালিয়াগঞ্জের উদ্দেশ্যে শেষযাত্রায় প্রিয়
প্রিয়রঞ্জনের মরদেহ দিয়ে হেলিকপ্টার পৌঁছাল রায়গঞ্জে। সেখান থেকে ...বিশদ

05:16:00 PM

  ফের সাংবাদিক খুন ত্রিপুরায়
মাস দুয়েকের মধ্যে ফের সাংবাদিক খুনের ঘটনা ঘটল ত্রিপুররায়। এবার ...বিশদ

05:13:45 PM

ট্রেনের সময়সূচি বদল 
ডাউন ট্রেন দেরিতে আসার কারণে

১৩০০৯ আপ হাওড়া-দেরাদুন ...বিশদ

04:02:00 PM