বিশেষ নিবন্ধ
 

পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ কাটাতে ‘নিট’ সংকটের দ্রুত সমাধান জরুরি

নিমাই দে: উদ্দেশ্যটা ছিল খুবই সহজ এবং এর মধ্যে আপাতভাবে জটিলতার তেমন নামগন্ধ ছিল না। সারা দেশজুড়ে সমমেধার চিকিৎসক তৈরি করতে পরীক্ষাটাও নেওয়া হবে সমমানের। অর্থাৎ প্রশ্নপত্র হবে একই, প্রবেশিকা পরীক্ষাও হবে একটাই। তার নামকরণ হল ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট বা সংক্ষেপে ‘নিট’। এর আরও একটি উল্লেখযোগ্য এবং চমকপ্রদ দিক হল, সারা দেশে ইংরেজিসহ নয় নয় করে দশটি ভাষায় প্রশ্নপত্র তৈরি হয়েছিল। উদ্দেশ্য, ভাষাগত দুর্বলতা এবং কোনও কোনও ক্ষেত্রে আড়ষ্ঠতা থেকে ছাত্রছাত্রীদের মুক্তি দেওয়া। তাই পশ্চিমবঙ্গে বাংলা মাধ্যমে পড়া হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী অনেকটাই আশার আলো দেখেছিলেন। কিন্তু সেই আপাত নিরীহ ব্যাপারটাই যে শেষমেশ তাঁদের কাছে বিভীষিকা হয়ে দাঁড়াবে, তা বোধহয় কেউ কল্পনাতেও আনতে পারেননি।
গত ৭ মে দেশজুড়ে নেওয়া হল মেডিকেলে ভরতির জন্য ওই তথাকথিত অভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষা। কিন্তু পরীক্ষা শেষ হতেই যে তথ্য মুহূর্তের মধ্যে চারদিক ছড়িয়ে পড়ল, তা হল, আদৌ অভিন্ন হয়নি ওই পরীক্ষা। প্রথমত, বাংলার ছাত্রছাত্রীদের মনে হয়েছে, প্রশ্নপত্র বেশ কঠিন হয়েছে। প্রশ্ন না হয় কারও কাছে কঠিন লাগতেই পারে। এ নিয়ে বড়জোড় বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু আরও যে অভিযোগটি উঠে এল, তা এর চেয়েও মারাত্মক। তা হল, বাংলা ভাষায় যে প্রশ্নপত্র হয়েছে, তা ইংরেজি ভাষায় হওয়া প্রশ্নপত্রের চেয়ে একেবারে আলাদা। বাংলা মাধ্যমের হাজার হাজার ছেলেমেয়ে শুধু অশেষ ভোগান্তি এবং উদ্বেগের মধ্যে যেমন পড়লেন, পাশাপাশি এটি নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিল। প্রশ্ন উঠে গেল, ইংরেজি এবং হিন্দিসহ যেখানে মোট দশটি ভাষায় এবার প্রশ্নপত্র তৈরি হল, সেখানে বাংলার প্রশ্নই আলাদা হয়ে গেল কীভাবে? এ কি নিছক ভুল, নাকি এর মধ্যে সেই পুরানো বিভেদ সৃষ্টির ছকই কাজ করেছে? নিট এই প্রথম হল, এমনটা নয়। এর আগে ২০১৩ এবং ২০১৬ সালে নিট হয়েছিল, তবে এতগুলি ভাষায় নয়। ২০১৬ তে কিন্তু এই সর্বভারতীয় পরীক্ষার আয়োজক সিবিএসই বোর্ডের তুলনায় বাংলা মাধ্যমের ছাত্রছাত্রীরা খুব একটা ভালো ফল করতে পারেননি। কিন্তু তা হলেও সেবার প্রশ্ন ছিল একটাই, অভিন্ন। অথচ এবার ইংরেজির থেকে বাংলায় শুধু প্রশ্নই আলাদা করা হয়নি, প্রশ্নের প্যাটার্নও সম্পূর্ণ আলাদা হয়েছে বলে বহু ছাত্রছাত্রী এবং তাঁদের শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন। মেডিকেলে ভরতি সংক্রান্ত পরীক্ষার প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত অনেক শিক্ষকও একই অভিযোগ করেছেন। তাঁরাও হতাশ এটা শুনে যে অনেক ছেলেমেয়ে ফিজিক্স ও কেমিস্ট্রিতে ৪৫টি করে প্রশ্নের মধ্যে আট-দশটির বেশি উত্তর দিতে পারেননি। বায়োলজির ৯০টি প্রশ্নের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতিটা ছিল কমবেশি একই। এক ছাত্র যেমন নিজের অভিজ্ঞতা শোনাতে গিয়ে বলেছিলেন, পরীক্ষা অভিন্ন হওয়ার কথা থাকলে কী হবে, এবার প্রশ্নও আলাদা ছিল, আলাদা ছিল প্রশ্নপত্রের ধরনও। সবচেয়ে বড় কথা প্রশ্নগুলির উত্তর বড় এবং সময়সাপেক্ষ। ফলে সীমিত সময়ের এই ধরনের পরীক্ষায় তাঁরা যথেষ্টই সমস্যায় পড়েছিলেন। ৭২০ নম্বরের মধ্যে বাংলা মাধ্যমের ছেলেদের অনেকেই বড়জোর ৩০০ নম্বরের উত্তর দিতে সমর্থ হন। সেখানে ইংরেজি মাধ্যমের বেশিরভাগ ছেলেমেয়েই হাসতে হাসতে ৪৫০ নম্বরের উত্তর দিয়েছেন। ফলে বহু অভিভাবকের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। সেই দিনটি থেকেই অনেকের রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে। কারণ, অনেকেই তাঁদের ছেলেমেয়েকে ভবিষ্যতে ডাক্তার হিসাবে গড়ে তোলার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন। তার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন। ভালো ভালো কোচিং সেন্টারে পড়িয়ে লাখ লাখ টাকা খরচ করতেও দু’বার ভাবেননি। কিন্তু একটা বোর্ডের স্রেফ ‘দ্বিচারিতা’র জেরে এতদিনের পরিশ্রম বিফলে চলে যাবে, এটা কেউই মন থেকে মেনে নিতে পারছেন না। কিন্তু অভিভাবকদের করারই বা কী আছে? তাঁরা তো আর সংঘবদ্ধ নন। ফলে এ নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভ থাকলেও তা সেভাবে দানা বাঁধেনি। ক্ষোভের আগুন জ্বলছে ধিকি ধিকি।
সুখের কথা একটাই। নিট-এ এই প্রশ্নপত্রের বিভ্রাট নিয়ে শোরগোল পড়তেই রাজ্য সরকার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। খোদ শিক্ষামন্ত্রী নবান্নে দাঁড়িয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন, কৌশলে বিভাজন সৃষ্টির লক্ষেই এমনটা করা হয়েছে। এর পিছনে যে কেউ রয়েছে, এমন সম্ভাবনার কথাও তিনি সেদিন শুনিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি সেদিন স্বীকার করেছিলেন, পরীক্ষার পর অসংখ্য ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবক-অভিভাবকা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের ক্ষোভ এবং উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। এমনকী অনেকে সরাসরি অভিযোগ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীকেও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত। তিনি সেদিনই স্বাস্থ্য দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে দিল্লিতে চিঠি পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
সেইমতো রাজ্য সরকার সিবিএসই বোর্ডকে কড়া চিঠি পাঠিয়েও দিয়েছে। এই চিঠি পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফেই। কারণ, এ নিয়ে একটা সমস্যা তৈরি হয়েছিল। তা হল, পরীক্ষার্থীরা যেহেতু এখনও কোনও মেডিকেল কলেজে ভরতি হননি, তাই তাঁদের স্বার্থরক্ষায় চিঠি পাঠাবে কে, স্বাস্থ্য দপ্তর নাকি উচ্চশিক্ষা দপ্তর, এই প্রশ্নটা উঠেছিল। যদিও শেষমেশ স্বাস্থ্যসচিব আর এস শুক্লাই ওই কড়া চিঠিটি পাঠিয়েছেন বলে খবর। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকও এই একই ইস্যুতে সিবিএসই বোর্ডের জবাবদিহি তলব করেছে। বিক্ষোভ যে শুধু এ রাজ্যেই সীমাবদ্ধ, তা কিন্তু নয়। গুজরাতেও একই ঘটনা ঘটছে।
এইরকম পরিস্থিতিতে সিবিএসই কী করবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। এমন একটি আপাত সহজবোধ্য কেলেঙ্কারির ঘটনায় তদন্ত করতে খুব বেশি সময় লাগারও কথা নয়। কারণ, পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের অনেকেই বলেছেন, এই পরীক্ষা আসলে পরীক্ষার্থীর সঙ্গে আয়োজক সংস্থার এক ধরনের চুক্তি। যা কি না নিয়মাবলীতেই রয়েছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী অভিন্ন পরীক্ষায় অভিন্ন প্রশ্নপত্রই হওয়ার কথা। অথচ বাস্তবে হল ভিন্ন প্রশ্নপত্র। কেন? প্রশ্ন এবং উত্তর সবই এই ছোট্ট বিষয়টির মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে। এর জন্য বিরাট তদন্ত কমিটি গঠন করে, মাসের পর মাস সময় নষ্ট করে এতগুলি ছাত্রছাত্রী এবং তাঁদের অভিভাবকদের চরম দুশ্চিন্তায় রাখার কি কোনও যৌক্তিকতা আছে? অথচ তদন্তের যা গতিপ্রকৃতি, তাতে অনেকেই খুব একটা আশান্বিত হওয়ার মতো কিছু খুঁজে পাচ্ছেন না। কারণ, এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের জবাবদিহি তলব এবং রাজ্য সরকারের কড়া চিঠি ছাড়া এই কাণ্ডের আর কোনও অগ্রগতি নেই।
মেডিকেল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার যুক্তি ছিল, সারা দেশে একাধিক পরীক্ষার বদলে একটিমাত্র পরীক্ষা হলে দুর্নীতি এবং অনিয়মের অবসান ঘটবে। ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনও ডাক্তারির মতো পেশার পবিত্রতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই ধরনের অভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষাকে স্বাগত জানিয়েছিল। অন্যদিকে, ডাক্তারির প্রতি ছাত্রছাত্রীদের আগ্রহে যে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হল, এবার নিটে বসেছিলেন রেকর্ড সংখ্যক পরীক্ষার্থী। সারা দেশে সংখ্যাটা ছিল ১১ লক্ষ ৩৫ হাজার ১০৪ জন। গত বছরের তুলনায় যা ৩ লক্ষ ৩২ হাজার ৫১০ জন বেশি। ২০১৬ সালে নিটে বসেছিলেন ৮ লক্ষ ২ হাজার ৫৯৪ জন। রা঩জ্যে ডাক্তারদের নিগ্রহ, বিভিন্ন ক্ষেত্রে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে ডাক্তারদের কাঠগড়ায় তোলা প্রভৃতি ঘটনা নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের যে ডাক্তার হওয়ার বাসনাকে বিন্দুমাত্র দমাতে পারেনি, তা উপরের পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যায়।
এরকম একটা প্রেক্ষাপটে অনেক আশা নিয়ে পরীক্ষায় বসা ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে যে কোনও ধরনের বিশ্বাসভঙ্গের কাজই চরম অপরাধের শামিল। কারণ, সিবিএসই’র ওই ভুলই (ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত) হাজার হাজার মানুষকে চরম হতাশার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, এর পিছনে কারও হাত আছে। সেই হাত কার, তা তিনি খোলসা করেননি। কিন্তু পার্থবাবুর কথার মধ্যেই কেন্দ্র-রাজ্য দ্বন্দ্ব বা সংঘাতের সেই পুরানো ইঙ্গিত লুকিয়ে ছিল। হতে পারে এর পিছনেও হয়তো রাজনীতির খেলা আছে। থাকতে পারে রাজ্যকে বঞ্চনা করা বা রাজ্যের মেধাকে স্বীকৃতি না দেওয়ার কৌশল।
কিন্তু পিছনে যাই থাক না কেন, হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর মানসিক যন্ত্রণা ও উদ্বেগকে সম্মান দিয়ে এই কেলেঙ্কারির রহস্য দ্রুত উন্মোচন হোক, এটাই সবার একমাত্র কামনা। এবং তা হোক রাজনীতির বাইরে থেকেই।
19th  May, 2017
মোদির আমলে শিশুদের খিদের যন্ত্রণা তীব্র, কারণ শিশু ও মহিলা উন্নয়নে গুরুত্ব কম
দেবনারায়ণ সরকার

কেন্দ্রীয় সরকারের গত ৩ বছরের বাজেটের তথ্য সার্বিকভাবে বিচার করলে দেখা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় বাজেটে মোট ব্যয় যেখানে ২১ শতাংশের বেশি বেড়েছে (টাকার অঙ্কে অতিরিক্ত প্রায় ৩ লক্ষ ৫১ হাজার কোটি টাকা), সেখানে মহিলা ও শিশু উন্নয়নে ব্যয় কপর্দকও বাড়েনি, বরং প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। একইভাবে মহিলা ও শিশু উন্নয়ন ব্যয় বাজেটের মোট ব্যয়ের ১ শতাংশের অনেক নীচে নেমেছে। মোদ্দা কথা হল, যে দেশের কেন্দ্রীয় বাজেটে মহিলা ও শিশু উন্নয়নের ব্যয় বাজেটে মোট ব্যয়ের ১ শতাংশেরও কম এবং এই ব্যয় মোদির জমানায় যেহেতু আরও কমছে, সেই দেশে রোজ রাতে খালি পেটে শুতে যাওয়া শিশুদের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধিটাই স্বাভাবিক। তাই ভারতে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অপুষ্টিও।
বিশদ

ডেঙ্গু: রাজনীতি ছেড়ে হাত মিলিয়ে কাজের সময়
অনিরুদ্ধ কর

অবিলম্বে একটা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা নিয়মাবলী প্রকাশ করতে হবে সরকারের তরফে। সরকারি নির্দেশ মানতে বাধ্য সকল সরকারি বেসরকারি ও প্রাইভেট চিকিৎসা কেন্দ্র। অতীতের দিকে নজর দিলে দেখা যাবে বার্ড ফ্লু বা সোয়াইন ফ্লু-র সময় সরকারের তরফে এমন নিয়মাবলী প্রকাশ করা হয়েছিল। চিকিৎসাব্যবস্থায় কী কী থাকতে হবে এবং কোথায় থাকবে তাও বলে দেওয়া হয়েছিল। ফ্লু-র ওষুধ একমাত্র সরকার দিত। খোলাবাজারে মিলত না সেই ওষুধ। কারণ সেক্ষেত্রে ওষুধ নিয়ে কালোবাজারি এবং চড়া দামে ওষুধ বিক্রি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যেত। এছাড়া একটি রাজ্যস্তরের কমিটি ছিল পর্যালোচনার জন্য।
বিশদ

প্যারিস, পরিবেশ এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভারত
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 পরিবেশ মানে হল যেখানে সেখানে থুতু না ফেলা। মন্তব্যটি আমারই এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর। এবং কী ভয়ঙ্কর সাবলীল স্বীকারোক্তি। যে দেশে ৩০ কোটি মানুষ এখনও দারিদ্রসীমার নীচে বসবাস করেন, যেখানে সাক্ষরতা বলতে বোঝানো হয় নিজের নাম সই করতে পারা, সেখানে সচেতনতার প্রাথমিক পাঠটা এমন একটা মন্তব্য দিয়ে শুরু করলে মন্দ কী!
বিশদ

16th  November, 2017
সার্ধশতবর্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি টেম্‌স থেকে গঙ্গা: ভগিনী নিবেদিতার দার্শনিক যাত্রা
জয়ন্ত কুশারী

 আয়ারল্যান্ডের স্বল্প জনবসতি শহর ডুং গানন। স্যামুয়েল রিচমন্ড নোবেল নামে এক ধর্মযাজক ও তাঁর ভক্তিমতী স্ত্রী মেরি ইসাবেল হ্যামিলটন বাস করেন এই শহরে। এঁরা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে করজোড়ে প্রার্থনা করেন সুখপ্রসবে প্রথম সন্তানটি হলে তাঁরা ঈশ্বরের চরণেই সদ্যোজাতকে সমর্পণ করবেন।
বিশদ

16th  November, 2017
নোট বাতিল: উত্তরপ্রদেশের ভোট, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং চে গুয়েভারা
শুভময় মৈত্র

নোট বাতিলের কারণ এবং ফল সংক্রান্ত আলোচনা দেখে, শুনে এবং পড়ে জনগণ এই বিষয়ে যথেষ্ট অবহিত, হয়তো বা কিছুটা ক্লান্তও বটে। বিজেপি সরকার কেন এই সিদ্ধান্ত নিলেন, এর কী কী ভুল ভ্রান্তি আছে, দেশের কী ক্ষতি হল, সাধারণ মানুষ ঠিক কতটা ভুগলেন এই নিয়ে আমরা যতটা আলোচনা করেছি সেই পরিমাণটা সময় এবং সম্পদের হিসেবে পাঁচশো আর হাজার টাকার মোট বাতিল নোটের মূল্যের থেকে বেশিও হয়ে যেতে পারে।
বিশদ

14th  November, 2017
বুকে লাল গোলাপের সেই মানুষটির কথা আজ খুব মনে পড়ছে
মোশারফ হোসেন

স্বপনদা বলত, পচার চাই। বুঝলে ভায়া, পচারটাই আসল। বাঁকুড়া মানুষ স্বপনদা র-ফলা উচ্চারণ করতে পারত না। তার মুখে ‘প্রচার’ শব্দটা ‘পচার’ হয়েই বেরত। আগ্রার ভঁপু চক্কোত্তিও একই কথা বলেছিলেন। ভঁপুবাবুর সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। এরকমই এক নভেম্বরে। উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা ভোটের খবর করতে গিয়ে।
বিশদ

14th  November, 2017
ফাইলের ভয় দেখিয়ে মুকুল কি রাজ্য রাজনীতিতে জায়গা করতে পারবেন?
শুভা দত্ত

ভয় দেখাচ্ছেন মুকুল রায়, ফাইলের ভয়। মারাত্মক তথ্য ঠাসা গোপন সব ফাইল নাকি সদ্য গেরুয়াধারী মুকুল রায়ের হাতে! সেসব ফাইলের তথ্য প্রকাশ পেলেই নাকি ধরাশায়ী হবে তৃণমূল! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্ব চলে যাবে! আর সেই সুযোগে ড্যাং ড্যাং করে মুকুল রায়ের বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের দখল নেবে। মমতা ভুলে বাংলার জনতাও মোদিজি অমিতজির বন্দনায় আত্মহারা হবে।
বিশদ

12th  November, 2017
ভারতের স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থাকে আরও জনকল্যাণমুখী ও সংগঠিত করা প্রয়োজন
বরুণ গান্ধী

 এবারে আমার আলোচনার বিষয়বস্তু হল, আমাদের দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে। খুব বেশিদিন নয়, মাত্র মাসদুয়েক আগের কথা। গোরখপুরের বি আর ডি হাসপাতালে ৬০ জন ছোট ছেলে-মেয়ে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রায় বিনা চিকিৎসায় মারা গেল। এর থেকে দুঃখের ঘটনা আর কিছু হয় না। খবরে প্রকাশ, প্রতিদিন এই হাসপাতালে গড়ে ২০০/২৫০ জন এনসেফ্যালাইটিস রোগে আক্রান্ত রোগী ভরতি হচ্ছিলেন। রোগীর এহেন ভিড়ে এখানকার চিকিৎসার পরিকাঠামো একরকম ভেঙে পড়ে। বিশদ

12th  November, 2017
সন্ন্যাসীর হিসাবশিক্ষা থেকে হিসাব-বিজ্ঞান দিবস 
অশোক মুখোপাধ্যায়

তাঁর গণিতের বিশ্বকোষ ‘সুম্মা দে আরিথমেতিকা, জিওমেত্রিয়া, প্রপরশানি এৎ প্রপরশানালিতা’ ভেনিসে প্রকাশিত হয়েছিল ১৪৯৪ খ্রিস্টাব্দে। মনে করা হয় দিনটি ছিল ১০ নভেম্বর। সেদিন রবিবার, খ্রিস্টধর্মে প্রভুর দিন। বইটিতে বুক-কিপিংয়ের একটি অধ্যায় ছিল, যেটি সম্ভবত হিসাব-রক্ষণের প্রথম মুদ্রিত আকর গ্রন্থ। এখানেই হিসাব-বিদ্যার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল।
বিশদ

11th  November, 2017
দূষণের চাদরে ‘এক মহানগরীর ধ্বংসপ্রাপ্তি’ নেহাতই কি কল্পবিজ্ঞান? 
অতনু বিশ্বাস

দিল্লি শিরোনামে আসে তার গুরুত্বে। বাস্তবে কিন্তু সমগ্র উত্তর ভারতীয় সমভূমিতে এই বিষ-বায়ু বয়ে চলেছে। অন্যান্য শহরগুলিও খুব পিছিয়ে নেই বায়ুদূষণে—গোয়ালিয়র, এলাহাবাদ, রায়পুর, পাটনা, ফরিদাবাদ, বারাণসী। ‘ল্যান্সেট’ নামক নামী গবেষণা পত্রিকার এক সাম্প্রতিক গবেষণাপত্রে দেখি প্রতি বছর ভারতে প্রায় ২৫ লক্ষ মানুষ মারা যায় দূষণের জন্যে। পৃথিবীতে সব চাইতে বেশি।
বিশদ

11th  November, 2017
যে ইনস্টিটিউটে অ্যাডমিশন টেস্ট নেই
সমৃদ্ধ দত্ত

বিভিন্ন আন্দোলন কিংবা রাজনৈতিক বিক্ষোভে বিজেপির মুখ কারা? টালিগঞ্জের অভিনেত্রীরা। বিজেপি রাজ্য নেতাদের সেই মনের জোরই দেখা যায় না যে, তাঁরা বলতে পারবেন, অন্য দল থেকে সুবিধাবাদী নেতাকর্মীদের আনার দরকারই নেই। আমাদের যেটুকু ক্ষমতা সেটায় নিয়োজিত থেকে দাঁতে দাঁত চেপে আমাদের বর্তমান পার্টির প্রতি নিবেদিতপ্রাণ নেতানেত্রী কর্মীদের নিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাবো। আজ নয় কাল এভাবেই আমরা সফল হব। কারণ নেতা নয়, ভোটে জেতার জন্য আগে দরকার জনসমর্থন। বিজেপি দলটি সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ এবং এককথার নীতিনিষ্ঠ দলের ইমেজ যদি বজায় থাকত তাহলে ধীরে ধীরে হলেও মানুষের মধ্যে একটি বিকল্প দল হিসাবে আগ্রহ বাড়তই। কারণ সিপিএম এবং কংগ্রেসকে প্রত্যাখান করেছে পশ্চিমবঙ্গ। কিন্তু বিজেপি সেই কঠিন পথে না এগিয়ে সহজ পথে এগিয়ে দিশাহীন রাজনীতির চক্রে ঢুকে পড়ছে।
বিশদ

10th  November, 2017
নোট বাতিল: মোদি সরকারের উন্নয়নের নীতি নেতিবাচক বিরোধিতাকে ভোঁতা করে দিয়েছে
অনিল বালুনি

 এক বছর পূর্ণ হল নরেন্দ্র মোদি সরকারের নোট বাতিল। এমন এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ যাকে আম আদমি দুর্নীতি ও কালোটাকার বিরুদ্ধে ‘আর্থিক সার্জিকাল স্ট্রাইক’ নাম দিয়েছে। দেশ থেকে কালোটাকা ও দুর্নীতির মূল সমূলে উৎখাত করতে তামাম ভারতবাসী যখন দৃঢ় সংকল্পে প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছে, তখন হতাশ কংগ্রেস নোট বাতিলের মতো সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়ে নাকি কান্না কেঁদেছে। এবং আপামর দেশবাসীকে ভুল পথে চালিত করেছে।
বিশদ

10th  November, 2017
একনজরে
 হারারে, ১৬ নভেম্বর (এপি): রাস্তায় সেনাবাহিনীর ট্যাঙ্ক এবং ভারী বুটের আওয়াজ। তারই মধ্যেই চলছে স্বাভাবিক কাজকর্ম। সেনার ট্যাঙ্ক পাশ কাটিয়ে নিজেদের গন্তব্যে হেঁটে চলেছেন সাধারণ মানুষ। বৃহস্পতিবার জিম্বাবোয়ের চিত্রটা অনেকটা এইরকম। ...

বিএনএ, আসানসোল: বৃহস্পতিবার রাতে বার্নপুরের নেহরু পার্কের কাছে এক ক্যাটারিং সংস্থার কর্মীকে গুলি করে খুন করল দুষ্কৃতীরা। আর এক ক্যাটারিং কর্মীও গুলিবিদ্ধ হয়ে আসানসোল জেলা হাসপাতালে ভরতি রয়েছেন। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম রানা বন্দ্যোপাধ্যায়(২৫)। তাঁর বাড়ি বার্নপুরের প্রান্তিক ক্লাবের কাছে। ...

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: বৃহস্পতিবার সকালে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের (এনবিএসটিসি) ফালাকাটা ডিপোর সামনে থেকে সংস্থার যাত্রী বোঝাই একটি বাস নিয়ে এক যুবক চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে বাসটিকে ৫০০ মিটার দূরে ফালাকাটা হাইস্কুলের সামনে কর্তব্যরত সিভিক ভলান্টিয়ার স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় আটকায়। ...

 নয়াদিল্লি, ১৬ নভেম্বর (পিটিআই): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা দেশজুড়ে ‘অদম্যভাবে’ বেড়েছে। ‘পিউ রিসার্চ সেন্টার’ চালিত সমীক্ষার রিপোর্ট তুলে ধরে এমনটাই বললেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শত্রুরা পরাভূত হবে। কর্মে পরিবর্তনের সম্ভাবনা। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের জন্য ব্যয়বৃদ্ধির যোগ আছে। কোনও ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

আন্তর্জাতিক ছাত্র দিবস
১৮৬৯: লোহিত সাগর এবং ভূমধ্যসাগরকে জুড়তে মিশরে সুয়েজ খালের উদ্বোধন
১৯০৩: দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল রাশিয়ার স্যোশাল ডেমোক্র্যাটিক লেবার পার্টি
১৯২৮: স্বাধীনতা সংগ্রামী লালা লাজপত রায়ের মৃত্যু
২০০০: আলবার্তো ফুজিমোরিকে পেরুর প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল
২০১২: প্রয়াত শিবসেনা প্রধান বালাসাহেব থ্যাকারে

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৪.৫০ টাকা ৬৬.১৮ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৬৬ টাকা ৮৭.৫২ টাকা
ইউরো ৭৫.৬৩ টাকা ৭৮.২৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৯,৯১০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৮,৩৭৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৮,৮০০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৯,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৯,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১ অগ্রহায়ণ, ১৭ নভেম্বর, শুক্রবার, চতুর্দ্দশী দিবা ঘ ৩/৩০, নক্ষত্র-স্বাতী সন্ধ্যা ৫/১১, সূ উ ৫/৫৪/২৪, অ ৪/৪৮/৪৮, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/৩৭ মধ্যে পুনঃ ৭/২১ গতে ৯/৩২ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৩ গতে ২/৩৮ মধ্যে পুনঃ ৩/২২ গতে অস্তাবধি, রাত্রি ঘ ৫/৪১ গতে ৯/১১ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৮ গতে ৩/১৭ মধ্যে পুনঃ ৪/১০ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ৮/৩৮ গতে ১১/২২ মধ্যে। কালরাত্রি ৮/৫ গতে ৯/৪৩ মধ্যে।
৩০ কার্তিক, ১৭ নভেম্বর, শুক্রবার, চতুর্দ্দশী ২/৫৪/৫৬, স্বাতীনক্ষত্র রাত্রি ৫/২৯/২৮, সূ উ ৫/৫৪/৪১, অ ৪/৪৮/০, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/৩৮/১৪ মধ্যে, ৭/২১/৪৮-৯/৩২/২৭, ১১/৪৩/৭-২/৩৭/২০, ৩/২০/৫৩-৪/৪৮/০, রাত্রি ৫/৪০/২৭-৯/১০/১৪, ১১/৪৭/৩৩-৩/১৭/২০, ৪/৯/৪৭-৫/৫৫/২৬, বারবেলা ৮/৩৮/১-৯/৫১/৪১, কালবেলা ৯/৫১/৪১-১১/২১/২০, কালরাত্রি ৮/৪/৪০-৯/৪৩/০।
২৭ শফর

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
 আইএসএল: এটিকে ০, কেরল ব্লাস্টার্স ০

 আজ কোচিতে আইএসএলের উদ্বোধনী ম্যাচ গোলশূন্যয় শেষ করল এটিকে ও ...বিশদ

10:04:41 PM

আইএসএল: এটিকে ০, কেরল ব্লাস্টার্স ০ (প্রথমার্ধ পর্যন্ত) 

08:56:14 PM

ব্রিটেনে মাঝ আকাশে বিমান ও হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ
মাঝ আকাশে বিমান ও হেলিকপ্টারের মুখোমুখি সংঘর্ষ। এদিন ...বিশদ

08:22:00 PM

কোচিতে আইএসএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলছে 

07:54:43 PM

ট্রেনের সময়সূচি বদল
ডাউন ট্রেন দেরিতে আসার কারণে

১৩০০৯ ...বিশদ

05:06:00 PM