বিশেষ নিবন্ধ
 

ফুলের যুদ্ধে কাঁটার প্রকোপ বাড়ছে

মেরুনীল দাশগুপ্ত :টার্গেট বাংলা না টার্গেট মমতা! এসব হচ্ছেটা কী! কোনও প্রমাণ নেই, তথ্য নেই—যা ইচ্ছে বলে দিলেই হল? এটা রাজনীতি? এ তো চরিত্র হনন, কুৎসা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এভাবে ঠেকাতে পারবেন ওঁরা? জিততে পারবেন! আরে, বাংলা ইউপি নয়, বাংলাকে চিনতে ওঁদের এখনও ঢের দেরি। এসব বলে বেড়াতে থাকলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিস্যু যাবে আসবে না। কিন্তু, ক্ষমতায় আসার আগেই ওই বলিয়েদের সিপিএমের মতো অবস্থা হবে। ভোটবাক্সে একমুঠো পাবলিক জোটাতে কালঘাম ছুটে যাবে...। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহের শেষদিকে আচমকা কলকাতায় উড়ে এসে বিজেপির মহানেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় যেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সদস্যদের সরাসরি আর্থিক দুর্নীতিতে অভিযুক্ত করলেন তার পরদিন এমন মন্তব্যই শুনেছিলাম বাসে। এবং, আশ্চর্য হয়েছিলাম দেখে যে ওই বক্তব্যের বিরোধিতা করছেন না একজনও! এর আগে মমতা ও তাঁর সরকারের কাজকর্ম বা নীতি বিষয়ে এমন আলোচনায় ক্ষীণ হলেও একটা বিরোধী কণ্ঠ শুনেছি। কখনও-সখনও সে বিরোধী কণ্ঠকে উচ্চগ্রামে বাজতেও শুনেছি। তাই নিয়ে মারমার অবস্থা তাও দেখেছি। অস্বাভাবিক লাগেনি।
সব কালে সব দেশে সর্বত্রই শাসক-বিরোধী একটা কণ্ঠ থাকেই। সকলকে খুশি করতে পারে, সকলের সব মনোবাঞ্ছা পূরণ করতে পারে—এমন ব্যক্তি বা সরকার তো বাস্তবে সম্ভব নয়। বাইবেল থেকে অদ্যাবধি মহাজনেরা সকলেই সেটা স্বীকার করেছেন। সুতরাং, এমন যে-কোনও আলোচনায় একটা বিরোধী কণ্ঠ অনিবার্য। কিন্তু, আশ্চর্যের বিষয়, সেদিন ছিল না। কোনও বিরোধী স্বর আমি সেদিন শুনিনি। বরং, একটা প্রৌঢ় রাখঢাক না রেখেই বলছেন শুনলাম, আমি তৃণমূল নই। মমতা নিয়ে আমার কোনও আবেগ নেই। কিন্তু, এভাবে তথ্য-প্রমাণ ছাড়া আমাদের মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের লোকজনকে একটা বাইরের লোক এসে অপমান করে যাবেন—এটাও সহ্য করতে পারছি না। রাজনীতিকে তাঁরা কোথায় টেনে নামাচ্ছেন! আরে, হাটের মাঝে এসব বলার দরকার কী? তথ্য-প্রমাণ থাকলে যথাস্থানে পেশ করুন, অভিযোগ প্রমাণ হলে আইনে যা ব্যবস্থা হয় তখন হবে। তার আগে লোকজন জড়ো করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পরিবার নিয়ে এসব বলা তো অসভ্যতা। এসব দেখলে তো বোঝাই যায় ওঁদের টার্গেট বাংলা নয়, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা। ঠিকই বলেছেন উনি। ঠিক।
পথ চলতি মানুষজনের এই মনোভাব গোটা রাজ্যে কতটা ছড়িয়েছে আমরা জানি না। কিন্তু, একথা হলফ করে বলা যায়, বাংলার সাধারণ রাজনৈতিক সেন্টিমেন্ট কৈলাসবাবুর ওইসব মন্তব্য ভালো মনে নেয়নি। ঠিক যেমন নিচ্ছে না মমতাকে লক্ষ্য করে দিলীপ ঘোষ ও তাঁর দলীয় অনুগামীদের কুভাষণ। আসলে কুভাষণের হোলসেলের সূত্রপাতটা তো এরাজ্যে বেশিদিন নয়। রাজত্বের একেবারে শেষলগ্নে এসে সিপিএমের কয়েকজন কুলভূষণ, কুলতিলক এবং তাঁদের সাঙ্গোপাঙ্গোদের নিরলস চেষ্টায় মাইকেল বঙ্কিম রবীন্দ্রনাথ নজরুলের বাংলায় কুভাষণের রাজনীতির প্রতিষ্ঠা ও প্রসার ঘটেছিল। রাজনীতির পরিসর থেকে একটু একটু করে ঝাপসা হতে শুরু করেছিল শিষ্টাচার সৌজন্য। তার চেয়েও বড় কথা, তাঁদের যাবতীয় কুভাষণের এক ও অদ্বিতীয় লক্ষ্য ছিলেন তৎকালের জননেত্রী মমতা! একে তো কুভাষণে অনভ্যস্ত বাংলা রাজনীতি, তায় লক্ষ্য একজন মহিলা—বঙ্গবাসীর হজম হয়নি। ফলত, কুভাষণের টোটকা মারাত্মক ব্যুমেরাং হয়ে ফিরেছিল সিপিএম তথা বামেদের ঘরে। মজার ব্যাপার, সেই উদাহরণ চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও বিজেপি সেই পথ নিচ্ছে! কেন নিচ্ছে, সে প্রশ্ন অবান্তর, বিশেষত অমিত শাহের সার্টিফিকেটের পর তো সে প্রশ্ন তোলাই যায় না। খবরে প্রকাশ বাংলা জয়ের লক্ষ্যে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক অভিযানের কায়দা তরিকায় (অকথা কুকথা সমেত) সিলমোহর দিয়েছেন অমিতজি। এর পর আর কথা চলে? কিন্তু, এই পথের সমস্যা ও বিপদগুলো? তা কি সার্টিফিকেটের জোরে উপড়ে ফেলা যাবে? প্রথমত, যেভাবে ও ভাষায় মাঝেমধ্যেই কৈলসাজি দিলীপজিরা রাজনৈতিক প্রচার মঞ্চ গরম করছেন, মমতার ভাবমূর্তিতে কালিমা লেপনের প্রয়াস করছেন—রাজ্যের আম পাবলিক তো বটেই তাঁদের দলের বাঙালি সদস্য সমর্থকদের সকলে কি তাতে আন্তরিক সিলমোহর দিচ্ছেন? তথ্যভিজ্ঞরা বলছেন, না, দিচ্ছেন না। তার কারণ, অবাঙালিয়ানায় বাঙালি এখন যত অভ্যস্তই হোক নিজেদের কৃষ্টি সভ্যতা এখনও তারা পুরোপুরি ভুলতে পারেনি। তাই, একজন মহিলার অসম্মান মানহানি মানতে এখনও বাঙালি ততটা অভ্যস্ত নয়। দ্বিতীয়ত, সভায় বসে নেতামুখে গরম কথা শুনে রাজনৈতিক আবেগে হাততালি দিলেও কোনও প্রৌঢ়ের মুখ থেকে অশালীন কথা শুনে বাঙালি এখনও বিশেষ স্বচ্ছন্দ বোধ করে না। তাই, চলতি কুভাষণের রাজনীতি বাঙালি মনে কতটা কি ইতিবাচক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে তা নিয়ে সংশয় অবশ্যম্ভাবী। বিজেপির মহাযোদ্ধারা অবশ্য সেসব তোয়াক্কা করছেন কতটা জানা নেই। খুব যে করছেন না তা তাঁদের আচরণ থেকেই বোঝা যাচ্ছে। করবেনই বা কেন? তাঁদের ‘অমৃত বাণী’ ছোটখাটো মানুষজনের মনে কী বার্তা দিচ্ছে সেই অকিঞ্চিৎকর ব্যাপারে কালক্ষয় করার মতো সময় কি রাজনৈতিক মহাবলীদের আছে! তবে কি, রাজ্যের দশদিগন্তজোড়া ঘাসফুলের বাগানে পদ্ম ফোটাতে চাইছেন যাঁরা বাংলার মাটি বাংলার জলের খোঁজখবরটা রাখলে তাঁদের লাভ বই ক্ষতি হবে না মনে হয়। কারণ, জল মাটির আনুকূল্য ছাড়া ফুলও ফোটে না, ফলও ধরে না।
অন্যদিকে, টার্গেট বাংলার ছদ্মবেশে টার্গেট মমতা যদি হয়ে দাঁড়ায় বাংলা দখল অভিযানে বিজেপির লক্ষ্য—তাহলেও বিপদের যথেষ্ট সম্ভাবনা। মমতার একচ্ছত্র আধিপত্যের ভূমিতে দাঁড়িয়ে তথ্য-প্রমাণ ছাড়া ব্যক্তি মমতাকে আক্রমণ করলে, তাঁর মানহানি ঘটালে—প্রতিক্রিয়া তো ঘটবেই। কারণ, আঘাতটা দল, দলীয় নেতা-কর্মী ছাপিয়ে নিশ্চিতভাবেই গিয়ে যে লাগবে বাঙালির রাজনৈতিক সেন্টিমেন্টে। সেখানে মমতা ছাড়া আছেন কে? ফলে, প্রতিক্রিয়া তো ঘটবেই। প্রতিক্রিয়া প্রতিবাদ থেকে প্রতিরোধের আকার নিলেও আশ্চর্যের কিছু নেই। সব মিলিয়ে ফল অশান্তি। ইতিমধ্যেই পাড়ুই থেকে দিনহাটা অনেক জায়গায় এমন অশান্তি ছড়িয়েছে। তৃণমূল-বিজেপির সংঘর্ষে ছড়িয়েছে হিংসার বাতাবরণ, রক্তও ঝরেছে। রবিবার সমতলের তিন পুরসভার ভোটে যে দৃশ্য দেখা গেল—তার পর আগামী পঞ্চায়েত নিয়ে রাজ্যবাসীর মনে চিন্তার ভাঁজ যে গভীর হয়েছে তা বলাই বাহুল্য।
দেখেশুনে বোঝাই যাচ্ছে, দুই ফুলের যুদ্ধে কাঁটার প্রকোপ উত্তরোত্তর বাড়ছে। বিষকাঁটা। রক্তঝরানো কাঁটা! ঘাসফুলে কাঁটা থাকে না। কিন্তু, পদ্মকাঁটার বিষকামড় থেকে আত্মরক্ষার দায় তো থাকে। তার উপর প্রাণাধিক জননেত্রী সম্পর্কে ওইসব বিষবাক্য! প্রতিরোধ অগ্নিগর্ভ হবে না? কিন্তু, কথা হল, এভাবে পদ্মকাঁটায় বিষের মাত্রা বাড়িয়ে গেরুয়া শিবিরের লক্ষ্যপূরণ হবে? পঞ্চায়েত ভোট, লোকসভা তার পর বিধানসভা। এখনও দিল্লি তো অনেক দূর। এখন থেকে স্বাভাবিক রাজনীতি সরিয়ে রেখে মমতার মতো জনপ্রিয় রাজনীতিককে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে লোক খেপালে পরিণামে সুফল মিলবে! মমতার আমলে পঞ্চায়েত স্তরে যে বিরাট উন্নতি হয়েছে, রাস্তাঘাট, আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জল, কন্যাশ্রী, খাদ্যসাথি থেকে শুরু করে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সর্বস্তরে সেসব মানুষ ভুলে যাবেন! বাংলার মানুষ কতটা জাতীয়বাদী জানি না—তবে তাঁরা বেইমান নন, তার প্রমাণ বহুবার দিয়েছেন। সেটা সকলেই জানেন। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বও আশা করি বোঝেন। তাহলে কি সেজন্যই অমিত শাহের বক্তৃতা নিয়ে ভিডিয়ো, তাঁর কণ্ঠে ‘অব কি বার বঙ্গাল’ দিকে দিকে ছড়িয়ে দেওয়া মিটিং, মিছিল, প্রতিবাদ—এসব দিয়ে এরাজ্যের মমতা-ভক্তি দূর করা দুষ্কর মনে করছেন তাঁরা! তাই কি পদ্ম-বাহিনীর ওই লড়কে লেঙ্গে ভাব!
কিন্তু, লড়কে লেঙ্গে ভাবটা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক পরিসরে এমন ছড়িয়েছে যে গ্রামবাংলায় সাধরণ গরিবগুর্বোদের আশঙ্কা আতঙ্কের দিকে গড়াতে শুরু করেছে। শহর মহানগরে বসে তো গ্রামবাংলার প্রাকভোটযন্ত্রণা তো বোঝা যায় না। কোথাও বাড়ির পর বাড়ি জ্বলছে, বোমা ফাটছে। পার্টি অফিস দুমড়ে মুচড়ে ধূলিস্যাৎ। বাইক-বাহিনী, মাস্কট-বাহিনী, সশস্ত্র বহিরাগতরা মুঙ্গেরি বন্দুক পিস্তল উঁচিয়ে ঘুরছে। কোথাও লাশ গড়াগড়ি খাচ্ছে রক্তের বন্যায়। বুকফাটা আর্তনাদে ফেটে পড়ছে দিনরাতের আকাশ—তার মধ্যে জীবনযাপন, ভোট! ভাবা যায়! অথচ, উপায় তো নেই। গ্রামবাংলায় ভোটযুদ্ধের এটাই রীতি প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে আজ। শাসকের প্রভাব প্রতিপত্তি হটাতে বিজেপিও নেমে পড়েছে। তাদের শক্তঘাঁটি বীরভূম দিয়ে শুরু করেছে গ্রামবাংলা অভিযান। সেখানে পদ্মের বিষকাঁটা বেশ ভালোই টের পেয়েছে শাসক তৃণমূল।
এখন কথা হল, এই লড়কে লেঙ্গে ভাব দিয়েও কি শেষপর্যন্ত গেরুয়াভক্তি জাগানো যাবে জনমনে? বাইরে থেকে এসে সমবেত জনতার সংখ্যা দেখে দিল্লির নেতাদের এমন বিভ্রম জাগা অস্বাভাবিক নয়। তাতে কোনও মহানেতা আতিশয্যে আপ্লুত হলেও বলার কিছু নেই। ধাক্কা যতক্ষণ না লাগছে ততক্ষণ এই তুষ্টিভাব বহাল থাকবেও। কারণ, কঠিন বাস্তবটা জানা বা জানানোর জন্য ধাক্কা ছাড়া তো উপায় নেই আজ। বাস্তব পরিস্থিতিটা অবহিত করাতে মহানেতা বা নেত্রীর আতিশয্যে বাদ সাধবেন—আজকের রাজনীতিতে এমন সাধ্য কার! সুতরাং, ভোট। ভোট ছাড়া আজকের রাজনীতিতে ধাক্কা দেওয়ার ব্যবস্থা কোথায়। সেখানে ধাক্কা লাগলেই না বাস্তব সম্পর্কে বোধোদয় হয়। সিপিএম, কংগ্রেস থেকে শুরু করে বিজেপি, সমাজবাদী—নানা সময়ে এমন বোধোদয় সকলের হয়েছে। অনেকবার হয়েছে। এরাজ্যে হয়েছে। আবার একবার না হয় হবে। টার্গেট বাংলার ধুয়ো তুলে ব্যক্তি মমতাকে টার্গেট করলে পরিণতি কী হয় তাও পরিষ্কার হয়ে যাবে। অপেক্ষা তো কেবল একটা পূর্ণাঙ্গ ভোটের। আসছে পঞ্চায়েত।
18th  May, 2017
সেই রামরাজ্যের পথ চেয়ে বসে আছি
মোশারফ হোসেন

 দিনকয়েক আগে দীপাবলির প্রাক্কালে এক মহতী দৃশ্য দেখল ভারতবাসী। অযোধ্যা নগরীর পুণ্যতোয়া সরযূ নদীর তীরে আকাশ থেকে নেমে এল রথ। অধীর আগ্রহে অপেক্ষারত লাখো জনতার সামনে তির-ধনুক হাতে রথ থেকে অবতরণ করলেন ভগবান শ্রীরামচন্দ্র।
বিশদ

বাঙালির নেপাল বেড়ানো কি আর এত সহজ থাকবে?
কুমারেশ চক্রবর্তী

বাঙালি তথা ভারতের আমজনতার কম খরচে বিদেশ ভ্রমণ মানেই নেপাল, ভুটান। যেখানে ডলার পাউন্ডের ঝামেলা নেই, পাশপোর্ট-ভিসার বালাই নেই, নেই কথা বলার সমস্যা। সেই বড় সাধের নেপাল বেড়ানো কি কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে যাবে? আঘাত আসবে পাহাড় চড়াতে কিংবা পশুপতিনাথ দর্শনে? এক্ষুনি এই আশঙ্কা না থাকলেও নেপালের রাজনৈতিক কাণ্ডকারখানা যেভাবে এগচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে এই ভীতি কিন্তু অমূলক নয়।
বিশদ

জলযাত্রার সাতকাহন ও নতুন রূপকথা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

বেশ মনে পড়ছে, সোয়া বছর আগে ‘আরশিনগরের পড়শি’ যখন লেখা শুরু করি তখন একেবারে প্রথম দিকে উত্তর চব্বিশ পরগনায় আমাদের চারঘাট গ্রামের যমুনা নদীর চুরি হয়ে যাওয়ার গল্প লিখেছিলাম। বর্ষার সময় টলটলে ও ছলছলাৎ​ যমুনায় লঞ্চে চেপে আমরা আমাদের গ্রামের বাড়ি যাওয়া-আসা করতাম। কারণ, তখনও গোবরডাঙ্গা বা মছলন্দপুর স্টেশন থেকে গ্রামে যাওয়ার পাকা রাস্তা তৈরি হয়নি। ফলে ভরা বর্ষায় নৌকো বা লঞ্চই ছিল ভরসা।
বিশদ

22nd  October, 2017
দার্জিলিঙে পুলিশ খুন: গুরুং-বাহিনী কোথা থেকে এত সাহস পাচ্ছে!
শুভা দত্ত

বিষয়টা ক্রমশ মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে না কি? মনে তো হচ্ছে তাই। লোকেও তো বলছে তেমনই! হচ্ছেটা কী? পাহাড়ে! দাঙ্গাহাঙ্গামা, জোরজুলুম, খুন, লুঠতরাজ, আগুন, বোমা দিনের পর দিন বন্‌ধ শঙ্কা-আশঙ্কার দোলায় জেরবার সারাদিন সারারাত, পড়াশোনা কাজকর্ম পর্যটন সব লাটে ওঠার জোগাড়। আর এসবের জেরে অতিষ্ঠ সাধারণ পাহাড়িয়া মানুষ!
বিশদ

22nd  October, 2017
দূষণ নিয়ন্ত্রণে পিপিপি মডেল ভাবনা 

কল্যাণ বসু: পিপিপি বললে এক লহমায় মনে আসে পাবলিক, প্রাইভেট, পার্টনারশিপের কথা—যা এখনকার দুনিয়ায় বহুচর্চিত একটি বিষয়। আবার বিশ্বের প্রধান তিন সমস্যা বা প্রবলেম (এর আদ্যক্ষরটিও ‘পি’) বোঝাতেও সেই পিপিপি—পপুলেশন, পভার্টি, পলিউশন। বিশ্বজুড়ে প্রতিবছরই একটা করে ‘পরিবেশ দিবস’ সমারোহে ‘উদ্‌যা঩পিত’ হয়। এবছরও হয়েছে যথাসময়ে, যথারীতি।  বিশদ

21st  October, 2017
অন্য এক মীরা: স্বাধীনতার ইতিহাসের এক নীরব অধ্যায় 

সর্বাণী বসু: ব্রিটিশ নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল স্যার এডমন্ড স্লেড তাঁর ড্রিঙ্করুমের সোফা সেটে বসে আছেন, এক হাতে পানীয়ের গ্লাস অন্য হাতে ধরা একটি চিঠি। মনোযোগ দিয়ে তিনি চিঠিটি পড়ছেন। মুখে খেলে যাচ্ছে অপ্রসন্ন অসহায়তার মেঘ। সামনের সোফায় বসে মিসেস স্লেড উৎকণ্ঠিত মুখে তাকিয়ে।
বিশদ

21st  October, 2017
পাহাড়জুড়ে রাজ্যের শান্তি প্রক্রিয়া এবং
উন্নয়নের মাঝেও কেন এই রাজনীতি?
নিমাই দে

রাজ্যে এক সময় ৬০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী ছিল। এখন তা কমে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৮ কোম্পানিতে। অথচ বিজেপি শাসিত অন্য কয়েকটি রাজ্যের দিকে তাকালে চিত্রটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। ছত্তিশগড়ে ২৫২ কোম্পানি, ঝাড়খণ্ডে ১৪৪ কোম্পানি, দিল্লি ৪০ কোম্পানি ইত্যাদি। তারপরেও গত ১৫ অক্টোবর সাতসকালে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে ফ্যাক্সবার্তায় জানিয়ে দেওয়া হল, পাহাড়ে থাকা মাত্র ১৫ কোম্পানির মধ্যে ১০ কোম্পনিই প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।
বিশদ

20th  October, 2017
নিজেদের মহানুভবতা সম্পর্কে উদাস বলেই
এদেশে কৃষকরা এত উপেক্ষার শিকার
রঞ্জন সেন

মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন, ‘‘কৃষকরা বিশ্বের পিতা, কিন্তু তাঁদের মহানুভবতা এই যে তাঁরা তা নিজেরাই জানেন না। তাঁরা নিজেরাই জানেন না তাঁদের কতটা মূল্য। তাঁরা তার ধারও ধারেন না।’’ কিন্তু স্বাধীনতার প্রায় ৭০ বছর পরেও দেশও কি তাদের মূল্য বুঝল?
বিশদ

20th  October, 2017
২০১৭ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার প্রাপক থেলারের কাছ থেকে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের শিক্ষা নিক মোদি সরকার
দেবনারায়ণ সরকার

 যুক্তিবাদী অর্থনীতি থেকে জীবনমুখী অর্থনীতিতে উত্তরণের অন্যতম মুখ্য পথপ্রদর্শক হলেন ২০১৭ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ রিচার্ড থেলার। থেলার তাঁর বিখ্যাত ‘‘Misbehaving: The making of behavioural economics’’ (‘অশোভন আচরণ: আচরণগত অর্থনীতির উদ্ভাবন’) গ্রন্থে বলেছিলেন, ‘অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে গেলে দুটি উপাদান আবশ্যকীয়: বারবার অভ্যাস বা চর্চা করা এবং অবিলম্বে তাদের প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করা’ বিশদ

19th  October, 2017
একনজরে
বিশ্বজিৎ দাস  কলকাতা: ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কলকাতা তথা রাজ্যবাসীকে দুশ্চিন্তায় রেখেছে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগগুলি। কিন্তু তার মোকাবিলায় তৈরি শতাব্দী প্রাচীন ...

সংবাদদাতা, ঘাটাল: ঘাটাল মহকুমায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হয়েছে। চন্দ্রকোণার দু’টি ব্লকে বন্যার জল কমতে শুরু করলেও ঘাটাল পুরসভা এলাকার ১১টি ওয়ার্ডে জল অনেকটাই বেড়েছে। ...

 নুনিয়াটন, ২৩ অক্টোবর (এএফপি): পাঁচ ঘণ্টার টানটান উত্তেজনার পর বন্দুকবাজকে গ্রেপ্তার করে রবিবার বিকালে দু’জন পণবন্দিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি মধ্য ইংল্যান্ডের নুনিয়াটনের বারমুডা পার্কের। বেলা আড়াইটে নাগাদ পুলিশের কাছে খবর আসে যে বিনোদন পার্কে একজন বন্দুকবাজ দু’জনকে পণবন্দি করেছে। ...

সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: পুরানো কলকাতায় মাটির তলায় কোথায় সুয়্যারেজ, গ্যাস, বিদ্যুতের লাইন রয়েছে, তার কোনও ম্যাপ বা রেকর্ড কেএমডিএ’র কাছে নেই। ফলে কাজ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে এই নির্মাণকারী সংস্থাকে। মাটি খুঁড়তে গিয়ে মিলছে গ্রেটার ক্যালকাটা গ্যাস সার্ভিসের পাইপলাইন, ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চতর বিদ্যায় সাফল্য আসবে। কোনও না কোনও কর্মে যুক্ত হবার সম্ভাবনা। এই মুহূর্তে ব্যবসায় যোগ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৬০১: জ্যোতির্বিদ টাইকো ব্রাহের মৃত্যু হল প্রাগ শহরে
১৯২৯: নিউ ‌ইয়র্ক শেয়ার বাজারে শুরু হল মহামন্দা। দিনটি ‘ব্ল্যাক থার্সডে’ নামে বিখ্যাত
১৯৩৫: ইথিওপিয়া আক্রমণ করল ইতালি
১৯৩৮: কারখানায় শিশুশ্রমিক নিষিদ্ধ করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
১৯৫৬: সোভিয়েত বাহিনী হাঙ্গেরি আক্রমণ করল। প্রধানমন্ত্রী হলেন ইমরে নাগি
১৯৮০: সলিডারিটি ট্রেড ইউনিয়নকে আই঩নি ঘোষণা করল পোল্যান্ড সরকার

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৪.৩০ টাকা ৬৫.৯৮ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৫৫ টাকা ৮৭.৪২ টাকা
ইউরো ৭৫.৩৯ টাকা ৭৮.০২ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৯,৯১০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৮,৩৭৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৮,৮০০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৭ কার্তিক, ২৪ অক্টোবর, মঙ্গলবার, চতুর্থী দিবা ৭/৭, নক্ষত্র-জ্যেষ্ঠা, সূ উ ৫/৪০/৪০, অ ৫/১/১২, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/২৫ মধ্যে পুনঃ ৭/১১ গতে ১০/৫৮ মধ্যে। রাত্রি ঘ ৭/৩৫ গতে ৮/২৪ মধ্যে পুনঃ ৯/১৫ গতে ১১/৪৭ মধ্যে পুনঃ ১/২৮ গতে ৩/৯ মধ্যে পুনঃ ৪/৫০ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৭/৬ গতে ৮/৩১ মধ্যে পুনঃ ১২/৪৬ গতে ২/১১ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/৩৭ গতে ৮/১১ মধ্যে।
৬ কার্তিক, ২৪ অক্টোবর, মঙ্গলবার, পঞ্চমী অহোরাত্র, জ্যেষ্ঠানক্ষত্র, সূ উ ৫/৪০/৪১, অ ৫/০/৪৪, অমৃতযোগ দিবা ৬/২৬/১ মধ্যে ও ৭/১১/২১-৯/৩৮/২ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৩১/৪৩-৮/২২/২৩ মধ্যে ও ৯/১৩/৩-১১/৪৫/৩ ও ১/২৬/২২-৩/৭/৪২ মধ্যে ও ৪/৪৯/১-৫/৪১/১৫, বারবেলা ৭/৫/৪১-৮/৩০/৪২, কালবেলা ১২/৪৫/৪৩-২/১০/৪৩, কালরাত্রি ৬/৩৫/৪৪-৮/১০/৪৩।
৩ শফর

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ফিফা’র বর্ষসেরা রোনাল্ডো

প্রত্যাশামতোই লায়োনেল মেসি এবং নেইমারকে পিছনে ফেলে ফিফার ...বিশদ

01:57:00 AM

  ভারতের নিকোবর আইল্যান্ডে ভূমিকম্প
নিকোবর আইল্যান্ডে আজ সন্ধ্যায় ভূমিকম্প অনুভুত হয়। রিখটার স্কেলে যার ...বিশদ

23-10-2017 - 08:25:00 PM

বাগুইআটিতে গ্রেপ্তার হাইকোর্টের আইনজীবী
সিগন্যাল ভেঙে এগিয়ে যাওয়া একটি গাড়ি ধরায় এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে ...বিশদ

23-10-2017 - 07:26:00 PM

অনুর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনাল গুয়াহাটির পরিবর্তে কলকাতায়

২৫ অক্টোবরের অনুর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপের ইংল্যান্ড-ব্রাজিল সেমিফাইনাল ম্যাচটি গুয়াহাটির পরিবর্তে ...বিশদ

23-10-2017 - 05:40:00 PM

দক্ষিণেশ্বরের রামকৃষ্ণ সারদা মিশনের উদ্যোগে বাগবাজারে ভগিনী নিবেদিতার সার্ধশত জন্মজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে ১৬ নং বোস পাড়া লেনের নিবেদিতার বাড়ি উদ্বোধন করলেন মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

23-10-2017 - 04:51:00 PM

অমিতাভ মালিকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তভার সিআইডির হাতে দিল রাজ্য সরকার 

23-10-2017 - 04:30:10 PM

ডেবরায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে গোষ্ঠী সংঘর্ষের অভিযোগ, জখম ১০ 
তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তপ্ত পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা। ঘটনায় ...বিশদ

23-10-2017 - 04:09:02 PM