বিশেষ নিবন্ধ
 

মানুষ নিজের ভোট নিজে দিতে পেরেছে,
বাংলার পাহাড়ে আসল পরিবর্তন হয়েই গেছে

হারাধন চৌধুরী: বাংলার পাহাড়েও ‘পরিবর্তন’ চেয়েছেন ২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের ভগীরথ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেয়েছেন পুরক্ষমতার পরিবর্তন। পাহাড়বাসী সেই আবেদন মঞ্জুর করলেন কি না তা জানার জন্য আমাদের আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু, তার আগেই রবিবার সেখানে আসল পরিবর্তনটাই ঘটে গিয়েছে। পাহাড়ের ভোটাররা নিজেদের ভোট নিজেরাই দিয়েছেন! এমন একটা পরিবেশ পরিস্থিতির জন্যই পাহাড়বাসী যেন কয়েক যুগ অপেক্ষা করেছিলেন। সত্যিই এক যুগ-প্রতীক্ষার অবসান হল।
রবিবার দার্জিলিং পাহাড়ের চারটি পুরসভাসহ রাজ্যে মোট সাতটি পুরসভায় ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। গণনা শেষে আগামীকালই ঘোষিত হবে এই পুরসভাগুলি কাদের দখলে যাবে বা থাকবে। সন্দেহ নেই যে প্রতিটি পুরসভাই গুরুত্বপূর্ণ। তবু, রাজ্যজুড়ে সকলের কৌতূহল কিন্তু পাহাড়ের চারটি পুরসভা দার্জিলিং, মিরিক, কার্শিয়াং ও কালিম্পং নিয়েই। এগুলি পরিচালনার দায়িত্ব যে রাজনৈতিক দল বা জোটের হাতেই যাক না কেন তা সর্বান্তঃকরণেই মেনে নেওয়া দরকার। পুরসভাগুলির দায়িত্বে পুরানো শাসকরাই পুনর্বহাল হ’ন কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল বা জোট সেগুলি ছিনিয়ে নিক সেটাকে বড় করে দেখার কিছু নেই। ‘পরিবর্তন’-এর কথাই যদি গুরুত্বপূর্ণ হয় সেটা কিন্তু ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে। পাহাড়ের সব শ্রেণির মানুষ বহুদিন বাদে গণতন্ত্রের স্বাদ পেয়েছেন। বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা তাঁদেরই কারও-না-কারও ঘরের ছেলে কিংবা মেয়ে। তাঁরা ভোটে দাঁড়িয়েছেন নির্ভয়ে। শেষবেলায় দু-একজন প্রার্থীর শিবির বদলেরও চমক দেখা গিয়েছে। সকলের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচারও চলেছে কোনওরকম বাধা প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই। এবার ভোটাররাও তাঁদের ভোট দিয়েছেন নির্ভয়ে। হয়েছে বহু দল ও মতের গণতন্ত্রের অনুশীলন। বলা বাহুল্য যে, এর মধ্যে ভাষা ধর্ম জাতপাত গোষ্ঠী প্রভৃতি সংক্রান্ত কোনও সংকীর্ণতাই মান্যতা পায়নি। আর কী চাই! বাংলার পাহাড়ে গত তিন-চার দশক যাবৎ ‘গণতন্ত্র’ বলে কিছু ছিল না। সাধারণ মানুষ ভুলেই গিয়েছিল ‘নিজের ভোট নিজে দেওয়া’ কাকে বলে। নির্বাচনও যে আসলে বাংলার অন্যতম এক পার্বণ—এই অনুভূতিটাই চলে গিয়েছিল ক্রমে অসাড়-হয়ে-যাওয়া পাহাড় থেকে।
আমরা দেখেছি, কোনও পুরসভাতেই কোনও দল সব আসনে নিজের প্রার্থী দেয়নি। দার্জিলিং, মিরিক ও কার্শিয়াং পুরসভার ৬১টি ওয়ার্ডে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার (গজমম বা মোর্চা) সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সরাসরি লড়াই হয়েছে। অন্যদিকে, কালিম্পংয়ে মোর্চা ও তৃণমূল প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী। এছাড়া কিছু ভোটে ভাগ বসিয়েছে হরকা বাহাদুর ছেত্রীর জন আন্দোলন পার্টিও। সামান্য জায়গায় হলেও উপস্থিত আছে সিপিএম। এছাড়া আছে ছোট কিছু সংগঠন কিংবা ‘নির্দল’। অর্থাৎ স্বনামে বেনামে ভোটের লড়াইতে শামিল অনেকেই। সারা দেশে বা রাজ্যে স্বীকৃত বড় দলগুলির সকলে এখনও এই পাহাড়ি এলাকায় নিজস্ব মজবুত সংগঠন তৈরি করতে পারেনি বলেই চিত্রটা এ‌ইরকম।
এই চার পুরসভা এলাকার কোনওটিতেই তিন দশক যাবৎ মূল ধারার রাজনীতি বা মেইন স্ট্রিম পলিটিক্স কোনও প্রভাব ফেলতে পারেনি। এমনকী টানা ৩৪ বছর রাজ্যশাসনকালে সিপিএমও পাহাড়ের পুরভোটে একটিও আসনে প্রার্থী দিতে পারেনি। মূলত বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিজেদের কিছু ‘প্রার্থী’র শুধু ‘জয়’-এর খেলাটাই খেলে গিয়েছে জিএনএলএফ/মোর্চা। এবার প্রায় সব আসনেই প্রকৃত লড়েই জিততে/হারতে হচ্ছে সকলকেই। আর এই পরিস্থিতিতেই এবার সিপিএম চার পুরসভার ৮৪টি আসনের মধ্যে ১৩টিতে দলীয় প্রতীকে প্রার্থী দিতে পেরেছে—দার্জিলিংয়ে চারটি এবং কালিম্পংয়ে নয়টি আসনে। মিরিক ও কার্শিয়াংয়ে অবশ্য সিপিএমসহ কোনও বাম দলই প্রার্থী খুঁজে পায়নি। বহু বছর বাদে এবারই প্রথম পাহাড়ে স্বনামে ভোট-যুদ্ধে অংশ নিয়েছে সিপিএম। ইমানে বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা থাকলে এজন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিই সিপিএমের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। ক্ষমতাসীন সিপিএম তাদের সময়েই বরং পাহাড়ে ক্ষাত্রবীর্যহীন হয়েই ছিল। এই সুযোগটাই প্রথম দিকে নিয়েছিল সুবাস ঘিসিংয়ের গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট। সুবাস ঘিসিং নামক সূর্য অস্তাচলে যেতেই সেই শূন্যস্থান দখল করতে মরিয়া হয়ে ওঠেন মোর্চা সুপ্রিমো বিমল গুরুং।
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের আমলের কিছুটাকাল বিমল বেশ লম্ফঝম্প করেছিলেন পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের জিগির নিয়ে। কিন্তু, ২০১১-য় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হয়ে আসার পর থেকেই বিমলের রাজনীতির গ্রাফ ক্রমান্বয়ে পতনমুখী হয়ে পড়ে। গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অথরিটি (জিটিএ) মমতা বানিয়েও পাহাড় নিয়ে ভাবনাচিন্তা ছেড়ে দেননি তাঁর পূর্বসূরিদের মতো। বরং বিমলের হাতে ওই ললিপপ তুলে দিয়ে তিনি পাহাড় নিয়ে আন্তরিকভাবেই ভাবতে থাকেন—ঘিসিং, বিমলের মতো পিগমি নেতাদের সংকীর্ণ কথাবার্তায় কেন কিছু লোক ভুলছে, কেন বারবার অশান্ত হচ্ছে বাংলার উত্তরাঞ্চল? সরকারি অফিসার আর মাটি ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্কহীন কিছু দলীয় নেতার রিপোর্টকেই তিনি নিজের মত বলে গ্রহণ করার কালচার ত্যাগ করলেন।
মমতা ঠিক করলেন তিনি নিজেই যাবেন পাহাড়ি মানুষজনের কাছে। প্রথমবার গিয়ে তিনি বুঝেছিলেন, এটা দু-একবার প্রমোদ ভ্রমণের কাজ নয়। সেখানে তাঁকে বারবার যেতে হবে সেখানকারই একজন হয়ে। পূর্বসূরিদের এতকালের অবহেলার প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে তাঁকেই। কারণ, কেন্দ্র ও রাজ্য বছরের পর বছর বহু কোটি টাকা দিলেও তাঁর পূর্বসূরিদের এই ব্যর্থতার কারণেই পাহাড়ি মানুষের দুর্দশা বিন্দুমাত্র দূর হয়নি। বেশিরভাগটাই চলে গিয়েছে দুর্নীতির গহ্বরে। অতএব মমতা মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন। তাদের সুখ-দুঃখ, চাওয়া-পাওয়া না-পাওয়ার কথা শুনবেন। জানবেন তাদের স্বপ্ন বারবার ভেঙে যাচ্ছে কেন।
তাতেই সম্ভবত মমতার উপলব্ধি হয়েছে, এতকাল দার্জিলিং পাহাড়ে গোর্খা গোর্খা করে স্রেফ জাতের নামে, ভাষার নামে বজ্জাতিটাই হয়েছে। সেখানে গোর্খারা সংখ্যায় বেশি ঠিকই, কিন্তু, লেপচা, ভুটিয়াসহ আরও কিছু জনজাতির বহু নরনারী আছেন। তাঁদেরকে কোনওদিনই তাঁদের কথা বলতে দেওয়া হয়নি। ওইসঙ্গে বাংলারই সমতল আর দক্ষিণবঙ্গ সম্পর্কেও পাহাড়ি মানুষের মন বিষিয়ে দেওয়ার নিরন্তর চেষ্টা হয়েছে। তাঁদের শুধু ভাবতে শেখানো হয়েছে যে তাঁরা ভাষা ও কালচারে একেবারে ভিন্ন এক জনগোষ্ঠী। ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের সুন্দর সত্যটিকে। অতএব তাদের মোক্ষলাভের একটিই পথ—সমতল ও দক্ষিণবঙ্গের ‘প্রভুত্ব’ থেকে মুক্তি। ঘিসিং থেকে বিমলরা এমন বিচ্চিছন্নতার বীজ বপনের জন্য দায়ী অবশ্যই—ওইসঙ্গে সেদিনের নিষ্ক্রিয় সরকার ও সরকারি দলকেও দায়ী করতে হয়।
মমতা দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে বুঝলেন, এই মৌরসি পাট্টা ভাঙতেই হবে। তিনি ঠিক করলেন—জিটিএ যেমন আছে থাক। জিটিএ দিয়ে পাহাড়ের সব সমাধান সম্ভব নয়। পাশাপাশি অন্য জনজাতিগুলির বিকাশের জন্য পৃথক পৃথক উন্নয়ন পর্ষদ হওয়া দরকার। অতএব একে একে ১৫টি উন্নয়ন পর্ষদ গড়ে দিয়ে প্রতিটি জনজাতির বুকে বল ভরসা জোগালেন। দার্জিলিং জেলা থেকে কালিম্পংকে আলাদা করে দিলেন পৃথক এক জেলার মর্যাদা। পৃথক মহকুমার মর্যাদা পেল মিরিক। ওইসঙ্গে ধারাবাহিকভাবে নেওয়া হচ্ছে একের পর এক উন্নয়নমুখী কর্মসূচি। এতে ওই দুই অঞ্চলের মানুষের বহুদিনের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের উপায় বেরচ্ছে। মমতা বুঝিয়ে দিলেন একচেটিয়া মাতব্বরি করার সুযোগ কারও নেই। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই সবার উন্নয়ন করবে রাজ্য। তাতে বিমল গুরুং বা রোশন গিরিরা রাগ করলেও তিনি নিরুপায়। তিনি বাংলার সবার মুখ্যমন্ত্রী। সমাজ উন্নয়ন তত্ত্বে যাকে ‘ইনক্লুসিভ সোসাইটি’ বা ‘সোসাইটি ফর অল’ বলা হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু তাতেই আস্থা রাখেন।
এমন যাঁর বিচারধারা, এমন যিনি বিচক্ষণ তাঁকে চ্যালেঞ্জ করে কতদূর আর যেতে পারেন বিমল বা রোশনরা। অতএব ‘লড়কে লেঙ্গে’ মার্কা হম্বিতম্বিই সার হল তাঁদের। আন্দোলন বলতে যা বোঝায় গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে তার কিছুই দানা বাঁধেনি ২০১১-র পর থেকে। বিজেপির সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়ার মতো দু-একজনকে পাশে পেয়েও দিল্লিতেও সুবিধা করতে পারেননি গোর্খাল্যান্ডওয়ালারা।
সারা দেশ জানে এই সাফল্য দু-একদিনে আসেনি। মমতা ২০১১ সাল থেকে ৬৬ বার দার্জিলিং পাহাড়ে গিয়েছেন! রাজ্যের একটি অবহেলিত অঞ্চল নিয়ে তাঁর এতখানি ভাবনায় প্রভাবিত হয়েছেন মদন তামাং, সুবাস ঘিসিং, বিমল গুরুং, রোশন গিরির ভক্তদেরও অনেকে। সুবাস ঘিসিংয়ের একসময়ের অনুগামী শান্তা ছেত্রী, বিমল-রোশনের এক সময়ের বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা হরকা বাহাদুর ছেত্রী থেকে রোশনের বোন পরিসীমা ওরফে পারো গিরি সরাসরি মমতার হাত ধরেছেন। হরকা বাহাদুর পৃথক দল তৈরি করলেও গত বিধানসভার ভোটে তিনি তৃণমূলের সমর্থনে লড়েছিলেন। আর রবিবার পুরভোটে সরাসরি ঘাসফুল প্রতীকে লড়লেন শান্তা ও পারো। ভবিষ্যতে তাঁদেরকেই ধরে মোর্চার আরও অনেক রথীমহারথী তৃণমূলের কূলে নাও ভিড়াতে চাইলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
গত ছ’বছরের রেকর্ড বলে দিচ্ছে—মমতা আর যাই হ’ন বসন্তের কোকিল নন, শীত গ্রীষ্ম বর্ষা সব ঋতুতেই নির্ভরযোগ্য। বিচ্ছিন্নতার অসুখে ভোগা অঞ্চলে মূল ধারার রাজনীতির চর্চা ফেরাতে হলে এমন নেতৃত্বই দরকার। সেখানে মমতার সমকক্ষ এই মুহূর্তে কাউকেই দেখা যাচ্ছে না। ভবিষ্যতে যদি অন্যকেউ দার্জিলিং পাহাড়সহ সমগ্র উত্তরবঙ্গকে গুরুত্ব দিয়ে রাজনীতি করেন—তা অবশ্যই প্রশংসনীয় হবে—একইসঙ্গে তা গণ্য হবে মমতাকেই অনুসরণ বলে। এ কোনও প্রতিযোগিতার বিষয় নয়— বিষয়টি আন্তরিকতার সঙ্গে উপলব্ধি করার। সংখ্যার বিচারে যে রেজাল্টই হোক এবার তাতে নীতিগত পরাজয় কারোরই হচ্ছে না। কারণ, এবার আসল জয়ী হয়েছে গণতন্ত্র। গণতন্ত্রের প্রতি আস্থাশীল শ্রদ্ধাবান সকলের পক্ষেই উপভোগ্য হয়েছে এই জয়। বিষয়টি আগামী দিনে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের চর্চায় নতুন একটি দিক হিসাবেই বিবেচিত হবে। সিপিএম, বিজেপি, কংগ্রেস প্রভৃতি মমতা-বিরোধীরা যদি এই পরিবেশ ভণ্ডুল করার ভুলটি করেন কখনও তাও বিচার্য হয়ে থাকবে। তখন পাহাড়ে রাজনীতি করার হকটিও চিরকালের জন্য হারিয়ে বসবে তারা।
অতএব এখন এমনকিছু করা ঠিক হবে না যাতে করে মূল ধারার রাজনীতির প্রতি ফের অনীহা, ঘৃণা কিংবা ভয় তৈরি হয়। যেমনটা রবিবারই দেখাল রায়গঞ্জ, পূজালি ও ডোমকল। যেন বিধাননগর পুরসভার ২০১৫-র ভোট কালচারকেই নকল করা হল। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি নিয়েও ভক্তি ছুটে গিয়েছে শিক্ষানুরাগী বঙ্গবাসীর। এর ফল ভবিষ্যতের পক্ষে ভালো হতে পারে না। তাই দার্জিলিং পাহাড়ে গণতন্ত্রের যতটুকু ফেরানো গিয়েছে তা রক্ষার দায়িত্ব কেন্দ্রে ও রাজ্যে শাসক, বিরোধী সকলকেই নিতে হবে। সবচেয়ে বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে তৃণমূলকে। এত করে যে-ঘর তৃণমূল নেত্রী নিজের হাতে বেঁধেছেন তাকে রক্ষাও করতে হবে তাঁদেরকে। মমতার অনুগামী কতিপয় আধিপত্যবাদী নেতা সম্পর্কে উষ্মাপ্রকাশসহ রীতিমতো হতাশা ব্যক্ত করেছেন হরকা বাহাদুর। এই ধরনের ‘সামান্য’ অগ্নিকণা সম্পর্কে গোড়াতেই সাবধান হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। অন্যদিকে, জেলা পরিষদের মাধ্যমে যে-সকল সুযোগ-সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা যথাবিহিতভাবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কালিম্পং জেলা পরিষদও দ্রুত গঠন করতে হবে। এক্ষেত্রে সাংবিধানিক বাধাটুকু কাটিয়ে
উঠতে হবে দ্রুত। পাহাড়ে যে চারটি পুরবোর্ড তৈরি হতে চলেছে সেগুলি যাতে পুরো টার্ম নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে রাজ্যকেই। পুরসভার ক্ষমতাও রাজ্যের শাসক দল না-পেলে উন্নয়ন হতে পারে না গোছের কোনও কিম্ভূত তত্ত্ব খাড়া করার চেষ্টা হলে তা অন্যায়ই হবে; তাতে জলে যেতে পারে দিদিমণির এত বড় সাধনাটিই। মন কু ডাকছে এই কারণে যে, মানুষের শিলিগুড়ির অভিজ্ঞতা ভালো নয়। শাসক দলের আরও কিছুটা সংযমরক্ষা প্রার্থনীয়। তাতে দার্জিলিং পাহাড়ে মূল ধারার রাজনীতির এই অনুশীলন প্রক্রিয়াটি দীর্ঘমেয়াদেও সফল হতে পারে। দেশের অনুরূপ সমস্যাসঙ্কুল অঞ্চলগুলির সামনে তবেই এটি হয়ে উঠবে এক অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত।
16th  May, 2017
শিবাজি রাও গায়কোয়াড়ের দোলাচল
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

 সাতষট্টি বছরের একজন মানুষ শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেবেন অথবা নেওয়া উচিত তা নিয়ে আমি বেশ ধন্দে পড়েছি। তবে আমার এই দোলাচল মোটেই আহামরি কিছু নয়, বড় যা তা হল একটা গোটা রাজ্যের মানুষের তাঁর দিকে ড্যাব ড্যাব করে চেয়ে থাকা। বিপুল দোলাচলে রাজ্যের সবার মনে। বিশদ

রথযাত্রায় শ্রীচৈতন্য ও শ্রীরামকৃষ্ণ
চৈতন্যময় নন্দ

 নীলাচলে দারুব্রহ্ম জগদীশ জগন্নাথদেবের সবচেয়ে বড় বিজয়োৎসব রথযাত্রা। আদিকাল থেকে এই সমারোহ চলে এসেছে এবং একে কেন্দ্র করে বহু ইতিবৃত্তের সৃষ্টি হয়েছে। আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে পুরীতে শ্রীমন্‌ জগন্নাথ রথে আরোহণ করেন।
বিশদ

24th  June, 2017
অনুপ্রবেশকারীদের মন্দিরে আশ্রয় প্রসঙ্গে
আলোলিকা মুখোপাধ্যায়

 নিউইয়র্ক শহরের কুইনস এলাকায় সমুদ্রের ধার ঘেঁষে রক অ্যাওয়ে বিচ। একদিন দেখা গেল মহাসাগরের ঢেউয়ের মাথায় নাচতে নাচতে ভাঙা নারকোল ভেসে আসছে। নারকোলের পিছু পিছু ইতস্তত বিক্ষিপ্ত গাঁদাফুলের মালা। সাহেব মেমরা সাঁতার কাটতে নেমে নারকোলের আধভাঙা মালা, পচা গাঁদার মালা দেখে জলপুলিশকে নালিশ করল। বিশদ

24th  June, 2017
সাঁওতাল বিদ্রোহ এবং সমাজের পরিবর্তন
বিষ্ণুপদ হেমরম

 ভারতের আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলির মধ্যে সাঁওতালরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। ব্রিটিশ ভারতে জল-জঙ্গল-জমিনের উপর অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং শোষণ ও নিপীড়নের প্রতিবাদে তারা সরকারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল। সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন, বর্তমান সাঁওতাল পরগনার ভাগ্‌না঩ডিহির মাঠে। বিশদ

23rd  June, 2017
পাহাড় ও বাঙালি
সমৃদ্ধ দত্ত

 বিজেপি রাজ্য শাখা তথা তাদের কর্মী সমর্থকরা এখনও স্পষ্ট করে বলছেন না সামান্য একটা সিদ্ধান্ত। সেটি হল তাঁরা কি গোর্খাল্যান্ড সমর্থন করেন, নাকি করেন না? সহজ প্রশ্ন। সহজ উত্তর। অথচ সোজা উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। ভাসা ভাসা কথা। কারণ বিজেপি রাজ্য শাখা ও কর্মী সমর্থকরা অপেক্ষা করছেন তাঁদের হাইকমান্ড কী ঠিক করবেন তার উপর। একবার চিন্তা করে দেখুন, আমরা বাঙালি, আমাদের রাজ্য থেকে আমাদের প্রিয় দার্জিলিংকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে কি না তা ঠিক করতেও বিজেপির বাংলা শাখা দুজন গুজরাতের নেতার দিকে তাকিয়ে আছে। বিশদ

23rd  June, 2017
দুর্নীতির পরিবেশ, পরিবেশে দুর্নীতি
বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়

 ১৯৭০ দশকের বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ও অর্থনীতিবিদ Gunnar Mydral-এর ‘এশিয়ান ড্রামা’ বইটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল, এশিয়ার বুকে বিভিন্ন দেশে পরিকল্পনাগুলি ব্যর্থ হবার একটি অন্যতম কারণ দুর্নীতি। বিশদ

21st  June, 2017
এ যুগের নীলকণ্ঠদের মুক্তির উপায় কী?
স্বপন মণ্ডল

 পুরাণ মতে সমুদ্র মন্থনের মতো কষ্টসাধ্য কাজে সুরাসুর উভয়েই হাত লাগিয়েছিল। সমুদ্র মন্থনে অমৃতের সন্ধান যেমন পাওয়া গেল গরলও উঠে এল। অমৃতের ভাগীদার অনেকে কিন্তু গরলের ভাগীদার কেউ হতে চাইল না। কিন্তু এ গরল এমন গরল যে ধরিত্রীর যেখানে পড়বে সেখানেই বিষাক্ত হয়ে যাবে। বিশদ

21st  June, 2017
যোগদিবস: ভারতের লক্ষ্মীলাভের মস্ত সুযোগ
হরলাল চক্রবর্তী

 ২০১৫ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে ২১ জুন মহা ধুমধামে ‘বিশ্ব-যোগদিবস’ পালিত হচ্ছে। সারা বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশ যোগদিবসের স্বীকৃতি দিয়েছে, ১৮০টি দেশ যোগে অংশগ্রহণ করেছে, এর মধ্যে কিছু ইসলামিক দেশও আছে। আশা করা যায়, এ বছর তা আরও বেশি সাফল্য পাবে।
বিশদ

20th  June, 2017



একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী মরশুমেও মোহন বাগানের কোচ থাকছেন সঞ্জয় সেন। তাঁর কাছে অন্য কোনও ক্লাবের অফার ছিল না। মোহন বাগানও ‘এ’ লাইসেন্সধারী ভালো কোচ পেত না। শনিবার সঞ্জয় সেন স্বীকার করে নেন, ‘মোহন বাগানের এক শীর্ষ কর্তা আমাকে আগামী ...

 বেজিং, ২৪ জুন (পিটিআই): বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সাবমেরিন ডিটেক্টর আবিষ্কার করল চীন। আজ ‘দ্য চাইনিজ আকাদেমি অব সায়েন্সেস’-এর একদল বিজ্ঞানী এই দাবি করেছেন। ...

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: তারাপীঠে ব্যতিক্রমী রথের দড়িতে টান দিতে শনিবারই দূরদূরান্ত থেকে কয়েক হাজার ভক্ত তারাপীঠ এসেছেন। সাধারণত জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে রথে বসিয়ে রথযাত্রা উৎসব পালিত হয়। কিন্তু তারাপীঠে তারা মা-ই রথে আরোহন করেন। রথ, উলটো রথ দুই পর্যায়ের রথেই ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্ত্রী ও শাশুড়ির বঁটির কোপে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভরতি হলেন স্বামী। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে নিউটাউনের প্রমোদগড় বাজার এলাকায়। স্থানীয় সূত্রের খবর, পারিবারিক বিবাদের জেরে শুভঙ্কর সরকারের সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁর স্ত্রীর অশান্তি চলছিল। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য আসবে। প্রেম-প্রণয়ে আগ্রহ বাড়বে। তবে তা বাস্তবায়িত হওয়াতে সমস্যা আছে। লৌহ ও ... বিশদ



ইতিহাসে আজকের দিন

 ১৯০৩- ইংরেজ সাহিত্যিক জর্জ অরওয়েলের জন্ম
১৯৬০- কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের মৃত্যু
১৯৭৪- অভিনেত্রী করিশ্মা কাপুরের জন্ম
১৯৭৫- প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দেশে জরুরি অবস্থা জারি করলেন
২০০৯- মার্কিন পপ সংগীত শিল্পী মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যু




ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৭৫ টাকা ৬৫.৪৩ টাকা
পাউন্ড ৮০.৬৪ টাকা ৮৩.৪২ টাকা
ইউরো ৭০.৭৬ টাকা ৭৩.২৮ টাকা
24th  June, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৯,২২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৭,৭২৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৮,১৪০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৯,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৯,২০০ টাকা

দিন পঞ্জিকা

১০ আষাঢ়, ২৫ জুন, রবিবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ১/২, পুনর্বসুনক্ষত্র রাত্রি ১১/২৫, সূ উ ৪/৫৭/৩৬, অ ৬/২০/৩৬, অমৃতযোগ ৬/৪৪-৯/২৫ পুনঃ ১২/৫-২/৪৫ রাত্রি ৭/৪৫ পুনঃ ১০/৩৫-১২/৪৩, বারবেলা ৯/৫৮-১/১৯, কালরাত্রি ১২/৫৯-২/১৯।

রথযাত্রা উৎসব
রাত্রি ১/৩৮/২৯ অম্বুবাচী নিবৃত্তিঃ

১০ আষাঢ়, ২৫ জুন, রবিবার, প্রতিপদ ৬/২১/২১ পরে দ্বিতীয়া রাত্রিশেষ ৪/৮/৫০, পুনর্বসুনক্ষত্র ২/৪৯/৪৫, সূ উ ৪/৫৪/৫৩, অ ৬/২২/১২, অমৃতযোগ দিবা ৪/৪২/৩১-৯/২৩/৫৯, ১২/৫/২৭-২/৪৬/৫৫ রাত্রি ৭/৪৬/৩৩, ১০/৩৫/১৬-১২/৪১/৪৮, বারবেলা ৯/৫৭/৩৮-১১/৩৮/৩৩, কালবেলা ১১/৩৮/৩৩-১/১৯/২৮, কালরাত্রি ১২/৫৭/৩৮-২/১৬/৪৩।

রথযাত্রা উৎসব
রাত্রি ১/৩৮/২৯ অম্বুবাচী নিবৃত্তিঃ
২৯ রমজান

ছবি সংবাদ


এই মুহূর্তে
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বনগাঁর গনরাপোতা বাজার এলাকা থেকে ১৫০টি বিরল প্রজাতির কচ্ছপ উদ্ধার করল পুলিশ, গ্রেপ্তার ৬

10:20:00 AM

লখনউতে ১৪ বছর বয়সী এক পুলিশ অফিসারের কন্যার আত্মহত্যা, চাঞ্চল্য

10:16:00 AM

পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে তেলের ট্যাঙ্কার থেকে আগুন লাগার ঘটনায় মৃত শতাধিক, গুরুতর জখম ৪০

10:14:00 AM

শহরে ট্রাফিকের হাল
আজ, রবিবার সকালে শহরের রাস্তাঘাটে যান চলাচল মোটের উপর স্বাভাবিক। ট্রাফিকের সামান্য চাপ রয়েছে এজেসি বসু রোড, ইএম বাইপাস, মা উড়ালপুল, পার্কস্ট্রিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে। এদিন শহরে তেমন কোনও বড় মিটিং-মিছিলের খবর নেই। ফলে মোটামুটি সারাদিনই শহরের যান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে আজ রথযাত্রাকে ঘিরে বেশ কয়েকটি রাস্তায় যানজট দেখা দিতে পারে। ইসকনের রথ অ্যালবার্ট রোড থেকে হাঙ্গারফোর্ড স্ট্রিট, এজেসি বোস রোড, শরৎ বসু রোড, হাজরা রোড, এসপি মুখার্জি রোড, আশুতোষ মুখার্জি রোড, চৌরঙ্গি রোড, এক্সাইড ক্রসিং, জওহরলাল নেহরু রোড, আউটরাম রোড হয়ে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে থামবে। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে যে ক’দিন ইসকনের রথ থাকবে, সেই ক’দিন সেখানে প্রসাদ বিতরণ, নানা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। অন্যদিকে, মেট্রোর কাজের জন্য ২৯ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ থাকবে ব্রাবোর্ন রোড ফ্লাইওভার ব্রিজ। সেই সময় সমস্ত গাড়ি মহাত্মা গান্ধী রোড, পোস্তা ও স্ট্যান্ড রোড দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। তার ফলে ওই এলাকাগুলিতে যানজট দেখা দিতে পারে। কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, মা ফ্লাইওভারের নতুন ফ্ল্যাংকের নির্মাণ কাজ চলায় আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত কড়েয়া রোড ও বেকবাগান রো'র মধ্যবর্তী সার্কাস এভিনিউ'র দক্ষিণ অভিমুখও বন্ধ থাকবে। তার জেরে ওই এলাকাতেও যানজটের সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাফিক সংক্রান্ত যে কোনও খবরাখবরের জন্য কলকাতা পুলিশের টোল ফ্রি নম্বর ১০৭৩-তে ফোন করুন।

10:02:00 AM

মধ্য জাপানে ভূমিকম্প, রিখটার স্কেলে ৫.২

09:38:00 AM

চীনে ভূমিধস, মৃত ১৫, নিখোঁজ শতাধিক

09:34:00 AM