বিশেষ নিবন্ধ
 

মানুষ নিজের ভোট নিজে দিতে পেরেছে,
বাংলার পাহাড়ে আসল পরিবর্তন হয়েই গেছে

হারাধন চৌধুরী: বাংলার পাহাড়েও ‘পরিবর্তন’ চেয়েছেন ২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের ভগীরথ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেয়েছেন পুরক্ষমতার পরিবর্তন। পাহাড়বাসী সেই আবেদন মঞ্জুর করলেন কি না তা জানার জন্য আমাদের আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু, তার আগেই রবিবার সেখানে আসল পরিবর্তনটাই ঘটে গিয়েছে। পাহাড়ের ভোটাররা নিজেদের ভোট নিজেরাই দিয়েছেন! এমন একটা পরিবেশ পরিস্থিতির জন্যই পাহাড়বাসী যেন কয়েক যুগ অপেক্ষা করেছিলেন। সত্যিই এক যুগ-প্রতীক্ষার অবসান হল।
রবিবার দার্জিলিং পাহাড়ের চারটি পুরসভাসহ রাজ্যে মোট সাতটি পুরসভায় ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। গণনা শেষে আগামীকালই ঘোষিত হবে এই পুরসভাগুলি কাদের দখলে যাবে বা থাকবে। সন্দেহ নেই যে প্রতিটি পুরসভাই গুরুত্বপূর্ণ। তবু, রাজ্যজুড়ে সকলের কৌতূহল কিন্তু পাহাড়ের চারটি পুরসভা দার্জিলিং, মিরিক, কার্শিয়াং ও কালিম্পং নিয়েই। এগুলি পরিচালনার দায়িত্ব যে রাজনৈতিক দল বা জোটের হাতেই যাক না কেন তা সর্বান্তঃকরণেই মেনে নেওয়া দরকার। পুরসভাগুলির দায়িত্বে পুরানো শাসকরাই পুনর্বহাল হ’ন কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল বা জোট সেগুলি ছিনিয়ে নিক সেটাকে বড় করে দেখার কিছু নেই। ‘পরিবর্তন’-এর কথাই যদি গুরুত্বপূর্ণ হয় সেটা কিন্তু ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে। পাহাড়ের সব শ্রেণির মানুষ বহুদিন বাদে গণতন্ত্রের স্বাদ পেয়েছেন। বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা তাঁদেরই কারও-না-কারও ঘরের ছেলে কিংবা মেয়ে। তাঁরা ভোটে দাঁড়িয়েছেন নির্ভয়ে। শেষবেলায় দু-একজন প্রার্থীর শিবির বদলেরও চমক দেখা গিয়েছে। সকলের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচারও চলেছে কোনওরকম বাধা প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই। এবার ভোটাররাও তাঁদের ভোট দিয়েছেন নির্ভয়ে। হয়েছে বহু দল ও মতের গণতন্ত্রের অনুশীলন। বলা বাহুল্য যে, এর মধ্যে ভাষা ধর্ম জাতপাত গোষ্ঠী প্রভৃতি সংক্রান্ত কোনও সংকীর্ণতাই মান্যতা পায়নি। আর কী চাই! বাংলার পাহাড়ে গত তিন-চার দশক যাবৎ ‘গণতন্ত্র’ বলে কিছু ছিল না। সাধারণ মানুষ ভুলেই গিয়েছিল ‘নিজের ভোট নিজে দেওয়া’ কাকে বলে। নির্বাচনও যে আসলে বাংলার অন্যতম এক পার্বণ—এই অনুভূতিটাই চলে গিয়েছিল ক্রমে অসাড়-হয়ে-যাওয়া পাহাড় থেকে।
আমরা দেখেছি, কোনও পুরসভাতেই কোনও দল সব আসনে নিজের প্রার্থী দেয়নি। দার্জিলিং, মিরিক ও কার্শিয়াং পুরসভার ৬১টি ওয়ার্ডে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার (গজমম বা মোর্চা) সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সরাসরি লড়াই হয়েছে। অন্যদিকে, কালিম্পংয়ে মোর্চা ও তৃণমূল প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী। এছাড়া কিছু ভোটে ভাগ বসিয়েছে হরকা বাহাদুর ছেত্রীর জন আন্দোলন পার্টিও। সামান্য জায়গায় হলেও উপস্থিত আছে সিপিএম। এছাড়া আছে ছোট কিছু সংগঠন কিংবা ‘নির্দল’। অর্থাৎ স্বনামে বেনামে ভোটের লড়াইতে শামিল অনেকেই। সারা দেশে বা রাজ্যে স্বীকৃত বড় দলগুলির সকলে এখনও এই পাহাড়ি এলাকায় নিজস্ব মজবুত সংগঠন তৈরি করতে পারেনি বলেই চিত্রটা এ‌ইরকম।
এই চার পুরসভা এলাকার কোনওটিতেই তিন দশক যাবৎ মূল ধারার রাজনীতি বা মেইন স্ট্রিম পলিটিক্স কোনও প্রভাব ফেলতে পারেনি। এমনকী টানা ৩৪ বছর রাজ্যশাসনকালে সিপিএমও পাহাড়ের পুরভোটে একটিও আসনে প্রার্থী দিতে পারেনি। মূলত বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিজেদের কিছু ‘প্রার্থী’র শুধু ‘জয়’-এর খেলাটাই খেলে গিয়েছে জিএনএলএফ/মোর্চা। এবার প্রায় সব আসনেই প্রকৃত লড়েই জিততে/হারতে হচ্ছে সকলকেই। আর এই পরিস্থিতিতেই এবার সিপিএম চার পুরসভার ৮৪টি আসনের মধ্যে ১৩টিতে দলীয় প্রতীকে প্রার্থী দিতে পেরেছে—দার্জিলিংয়ে চারটি এবং কালিম্পংয়ে নয়টি আসনে। মিরিক ও কার্শিয়াংয়ে অবশ্য সিপিএমসহ কোনও বাম দলই প্রার্থী খুঁজে পায়নি। বহু বছর বাদে এবারই প্রথম পাহাড়ে স্বনামে ভোট-যুদ্ধে অংশ নিয়েছে সিপিএম। ইমানে বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা থাকলে এজন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিই সিপিএমের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। ক্ষমতাসীন সিপিএম তাদের সময়েই বরং পাহাড়ে ক্ষাত্রবীর্যহীন হয়েই ছিল। এই সুযোগটাই প্রথম দিকে নিয়েছিল সুবাস ঘিসিংয়ের গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট। সুবাস ঘিসিং নামক সূর্য অস্তাচলে যেতেই সেই শূন্যস্থান দখল করতে মরিয়া হয়ে ওঠেন মোর্চা সুপ্রিমো বিমল গুরুং।
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের আমলের কিছুটাকাল বিমল বেশ লম্ফঝম্প করেছিলেন পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের জিগির নিয়ে। কিন্তু, ২০১১-য় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হয়ে আসার পর থেকেই বিমলের রাজনীতির গ্রাফ ক্রমান্বয়ে পতনমুখী হয়ে পড়ে। গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অথরিটি (জিটিএ) মমতা বানিয়েও পাহাড় নিয়ে ভাবনাচিন্তা ছেড়ে দেননি তাঁর পূর্বসূরিদের মতো। বরং বিমলের হাতে ওই ললিপপ তুলে দিয়ে তিনি পাহাড় নিয়ে আন্তরিকভাবেই ভাবতে থাকেন—ঘিসিং, বিমলের মতো পিগমি নেতাদের সংকীর্ণ কথাবার্তায় কেন কিছু লোক ভুলছে, কেন বারবার অশান্ত হচ্ছে বাংলার উত্তরাঞ্চল? সরকারি অফিসার আর মাটি ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্কহীন কিছু দলীয় নেতার রিপোর্টকেই তিনি নিজের মত বলে গ্রহণ করার কালচার ত্যাগ করলেন।
মমতা ঠিক করলেন তিনি নিজেই যাবেন পাহাড়ি মানুষজনের কাছে। প্রথমবার গিয়ে তিনি বুঝেছিলেন, এটা দু-একবার প্রমোদ ভ্রমণের কাজ নয়। সেখানে তাঁকে বারবার যেতে হবে সেখানকারই একজন হয়ে। পূর্বসূরিদের এতকালের অবহেলার প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে তাঁকেই। কারণ, কেন্দ্র ও রাজ্য বছরের পর বছর বহু কোটি টাকা দিলেও তাঁর পূর্বসূরিদের এই ব্যর্থতার কারণেই পাহাড়ি মানুষের দুর্দশা বিন্দুমাত্র দূর হয়নি। বেশিরভাগটাই চলে গিয়েছে দুর্নীতির গহ্বরে। অতএব মমতা মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন। তাদের সুখ-দুঃখ, চাওয়া-পাওয়া না-পাওয়ার কথা শুনবেন। জানবেন তাদের স্বপ্ন বারবার ভেঙে যাচ্ছে কেন।
তাতেই সম্ভবত মমতার উপলব্ধি হয়েছে, এতকাল দার্জিলিং পাহাড়ে গোর্খা গোর্খা করে স্রেফ জাতের নামে, ভাষার নামে বজ্জাতিটাই হয়েছে। সেখানে গোর্খারা সংখ্যায় বেশি ঠিকই, কিন্তু, লেপচা, ভুটিয়াসহ আরও কিছু জনজাতির বহু নরনারী আছেন। তাঁদেরকে কোনওদিনই তাঁদের কথা বলতে দেওয়া হয়নি। ওইসঙ্গে বাংলারই সমতল আর দক্ষিণবঙ্গ সম্পর্কেও পাহাড়ি মানুষের মন বিষিয়ে দেওয়ার নিরন্তর চেষ্টা হয়েছে। তাঁদের শুধু ভাবতে শেখানো হয়েছে যে তাঁরা ভাষা ও কালচারে একেবারে ভিন্ন এক জনগোষ্ঠী। ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের সুন্দর সত্যটিকে। অতএব তাদের মোক্ষলাভের একটিই পথ—সমতল ও দক্ষিণবঙ্গের ‘প্রভুত্ব’ থেকে মুক্তি। ঘিসিং থেকে বিমলরা এমন বিচ্চিছন্নতার বীজ বপনের জন্য দায়ী অবশ্যই—ওইসঙ্গে সেদিনের নিষ্ক্রিয় সরকার ও সরকারি দলকেও দায়ী করতে হয়।
মমতা দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে বুঝলেন, এই মৌরসি পাট্টা ভাঙতেই হবে। তিনি ঠিক করলেন—জিটিএ যেমন আছে থাক। জিটিএ দিয়ে পাহাড়ের সব সমাধান সম্ভব নয়। পাশাপাশি অন্য জনজাতিগুলির বিকাশের জন্য পৃথক পৃথক উন্নয়ন পর্ষদ হওয়া দরকার। অতএব একে একে ১৫টি উন্নয়ন পর্ষদ গড়ে দিয়ে প্রতিটি জনজাতির বুকে বল ভরসা জোগালেন। দার্জিলিং জেলা থেকে কালিম্পংকে আলাদা করে দিলেন পৃথক এক জেলার মর্যাদা। পৃথক মহকুমার মর্যাদা পেল মিরিক। ওইসঙ্গে ধারাবাহিকভাবে নেওয়া হচ্ছে একের পর এক উন্নয়নমুখী কর্মসূচি। এতে ওই দুই অঞ্চলের মানুষের বহুদিনের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের উপায় বেরচ্ছে। মমতা বুঝিয়ে দিলেন একচেটিয়া মাতব্বরি করার সুযোগ কারও নেই। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই সবার উন্নয়ন করবে রাজ্য। তাতে বিমল গুরুং বা রোশন গিরিরা রাগ করলেও তিনি নিরুপায়। তিনি বাংলার সবার মুখ্যমন্ত্রী। সমাজ উন্নয়ন তত্ত্বে যাকে ‘ইনক্লুসিভ সোসাইটি’ বা ‘সোসাইটি ফর অল’ বলা হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু তাতেই আস্থা রাখেন।
এমন যাঁর বিচারধারা, এমন যিনি বিচক্ষণ তাঁকে চ্যালেঞ্জ করে কতদূর আর যেতে পারেন বিমল বা রোশনরা। অতএব ‘লড়কে লেঙ্গে’ মার্কা হম্বিতম্বিই সার হল তাঁদের। আন্দোলন বলতে যা বোঝায় গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে তার কিছুই দানা বাঁধেনি ২০১১-র পর থেকে। বিজেপির সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়ার মতো দু-একজনকে পাশে পেয়েও দিল্লিতেও সুবিধা করতে পারেননি গোর্খাল্যান্ডওয়ালারা।
সারা দেশ জানে এই সাফল্য দু-একদিনে আসেনি। মমতা ২০১১ সাল থেকে ৬৬ বার দার্জিলিং পাহাড়ে গিয়েছেন! রাজ্যের একটি অবহেলিত অঞ্চল নিয়ে তাঁর এতখানি ভাবনায় প্রভাবিত হয়েছেন মদন তামাং, সুবাস ঘিসিং, বিমল গুরুং, রোশন গিরির ভক্তদেরও অনেকে। সুবাস ঘিসিংয়ের একসময়ের অনুগামী শান্তা ছেত্রী, বিমল-রোশনের এক সময়ের বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা হরকা বাহাদুর ছেত্রী থেকে রোশনের বোন পরিসীমা ওরফে পারো গিরি সরাসরি মমতার হাত ধরেছেন। হরকা বাহাদুর পৃথক দল তৈরি করলেও গত বিধানসভার ভোটে তিনি তৃণমূলের সমর্থনে লড়েছিলেন। আর রবিবার পুরভোটে সরাসরি ঘাসফুল প্রতীকে লড়লেন শান্তা ও পারো। ভবিষ্যতে তাঁদেরকেই ধরে মোর্চার আরও অনেক রথীমহারথী তৃণমূলের কূলে নাও ভিড়াতে চাইলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
গত ছ’বছরের রেকর্ড বলে দিচ্ছে—মমতা আর যাই হ’ন বসন্তের কোকিল নন, শীত গ্রীষ্ম বর্ষা সব ঋতুতেই নির্ভরযোগ্য। বিচ্ছিন্নতার অসুখে ভোগা অঞ্চলে মূল ধারার রাজনীতির চর্চা ফেরাতে হলে এমন নেতৃত্বই দরকার। সেখানে মমতার সমকক্ষ এই মুহূর্তে কাউকেই দেখা যাচ্ছে না। ভবিষ্যতে যদি অন্যকেউ দার্জিলিং পাহাড়সহ সমগ্র উত্তরবঙ্গকে গুরুত্ব দিয়ে রাজনীতি করেন—তা অবশ্যই প্রশংসনীয় হবে—একইসঙ্গে তা গণ্য হবে মমতাকেই অনুসরণ বলে। এ কোনও প্রতিযোগিতার বিষয় নয়— বিষয়টি আন্তরিকতার সঙ্গে উপলব্ধি করার। সংখ্যার বিচারে যে রেজাল্টই হোক এবার তাতে নীতিগত পরাজয় কারোরই হচ্ছে না। কারণ, এবার আসল জয়ী হয়েছে গণতন্ত্র। গণতন্ত্রের প্রতি আস্থাশীল শ্রদ্ধাবান সকলের পক্ষেই উপভোগ্য হয়েছে এই জয়। বিষয়টি আগামী দিনে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের চর্চায় নতুন একটি দিক হিসাবেই বিবেচিত হবে। সিপিএম, বিজেপি, কংগ্রেস প্রভৃতি মমতা-বিরোধীরা যদি এই পরিবেশ ভণ্ডুল করার ভুলটি করেন কখনও তাও বিচার্য হয়ে থাকবে। তখন পাহাড়ে রাজনীতি করার হকটিও চিরকালের জন্য হারিয়ে বসবে তারা।
অতএব এখন এমনকিছু করা ঠিক হবে না যাতে করে মূল ধারার রাজনীতির প্রতি ফের অনীহা, ঘৃণা কিংবা ভয় তৈরি হয়। যেমনটা রবিবারই দেখাল রায়গঞ্জ, পূজালি ও ডোমকল। যেন বিধাননগর পুরসভার ২০১৫-র ভোট কালচারকেই নকল করা হল। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি নিয়েও ভক্তি ছুটে গিয়েছে শিক্ষানুরাগী বঙ্গবাসীর। এর ফল ভবিষ্যতের পক্ষে ভালো হতে পারে না। তাই দার্জিলিং পাহাড়ে গণতন্ত্রের যতটুকু ফেরানো গিয়েছে তা রক্ষার দায়িত্ব কেন্দ্রে ও রাজ্যে শাসক, বিরোধী সকলকেই নিতে হবে। সবচেয়ে বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে তৃণমূলকে। এত করে যে-ঘর তৃণমূল নেত্রী নিজের হাতে বেঁধেছেন তাকে রক্ষাও করতে হবে তাঁদেরকে। মমতার অনুগামী কতিপয় আধিপত্যবাদী নেতা সম্পর্কে উষ্মাপ্রকাশসহ রীতিমতো হতাশা ব্যক্ত করেছেন হরকা বাহাদুর। এই ধরনের ‘সামান্য’ অগ্নিকণা সম্পর্কে গোড়াতেই সাবধান হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। অন্যদিকে, জেলা পরিষদের মাধ্যমে যে-সকল সুযোগ-সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা যথাবিহিতভাবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কালিম্পং জেলা পরিষদও দ্রুত গঠন করতে হবে। এক্ষেত্রে সাংবিধানিক বাধাটুকু কাটিয়ে
উঠতে হবে দ্রুত। পাহাড়ে যে চারটি পুরবোর্ড তৈরি হতে চলেছে সেগুলি যাতে পুরো টার্ম নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে রাজ্যকেই। পুরসভার ক্ষমতাও রাজ্যের শাসক দল না-পেলে উন্নয়ন হতে পারে না গোছের কোনও কিম্ভূত তত্ত্ব খাড়া করার চেষ্টা হলে তা অন্যায়ই হবে; তাতে জলে যেতে পারে দিদিমণির এত বড় সাধনাটিই। মন কু ডাকছে এই কারণে যে, মানুষের শিলিগুড়ির অভিজ্ঞতা ভালো নয়। শাসক দলের আরও কিছুটা সংযমরক্ষা প্রার্থনীয়। তাতে দার্জিলিং পাহাড়ে মূল ধারার রাজনীতির এই অনুশীলন প্রক্রিয়াটি দীর্ঘমেয়াদেও সফল হতে পারে। দেশের অনুরূপ সমস্যাসঙ্কুল অঞ্চলগুলির সামনে তবেই এটি হয়ে উঠবে এক অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত।
16th  May, 2017
দূষণ নিয়ন্ত্রণে পিপিপি মডেল ভাবনা 

কল্যাণ বসু: পিপিপি বললে এক লহমায় মনে আসে পাবলিক, প্রাইভেট, পার্টনারশিপের কথা—যা এখনকার দুনিয়ায় বহুচর্চিত একটি বিষয়। আবার বিশ্বের প্রধান তিন সমস্যা বা প্রবলেম (এর আদ্যক্ষরটিও ‘পি’) বোঝাতেও সেই পিপিপি—পপুলেশন, পভার্টি, পলিউশন। বিশ্বজুড়ে প্রতিবছরই একটা করে ‘পরিবেশ দিবস’ সমারোহে ‘উদ্‌যা঩পিত’ হয়। এবছরও হয়েছে যথাসময়ে, যথারীতি।  বিশদ

অন্য এক মীরা: স্বাধীনতার ইতিহাসের এক নীরব অধ্যায় 

সর্বাণী বসু: ব্রিটিশ নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল স্যার এডমন্ড স্লেড তাঁর ড্রিঙ্করুমের সোফা সেটে বসে আছেন, এক হাতে পানীয়ের গ্লাস অন্য হাতে ধরা একটি চিঠি। মনোযোগ দিয়ে তিনি চিঠিটি পড়ছেন। মুখে খেলে যাচ্ছে অপ্রসন্ন অসহায়তার মেঘ। সামনের সোফায় বসে মিসেস স্লেড উৎকণ্ঠিত মুখে তাকিয়ে।
বিশদ

পাহাড়জুড়ে রাজ্যের শান্তি প্রক্রিয়া এবং
উন্নয়নের মাঝেও কেন এই রাজনীতি?
নিমাই দে

রাজ্যে এক সময় ৬০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী ছিল। এখন তা কমে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৮ কোম্পানিতে। অথচ বিজেপি শাসিত অন্য কয়েকটি রাজ্যের দিকে তাকালে চিত্রটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। ছত্তিশগড়ে ২৫২ কোম্পানি, ঝাড়খণ্ডে ১৪৪ কোম্পানি, দিল্লি ৪০ কোম্পানি ইত্যাদি। তারপরেও গত ১৫ অক্টোবর সাতসকালে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে ফ্যাক্সবার্তায় জানিয়ে দেওয়া হল, পাহাড়ে থাকা মাত্র ১৫ কোম্পানির মধ্যে ১০ কোম্পনিই প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।
বিশদ

20th  October, 2017
নিজেদের মহানুভবতা সম্পর্কে উদাস বলেই
এদেশে কৃষকরা এত উপেক্ষার শিকার
রঞ্জন সেন

মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন, ‘‘কৃষকরা বিশ্বের পিতা, কিন্তু তাঁদের মহানুভবতা এই যে তাঁরা তা নিজেরাই জানেন না। তাঁরা নিজেরাই জানেন না তাঁদের কতটা মূল্য। তাঁরা তার ধারও ধারেন না।’’ কিন্তু স্বাধীনতার প্রায় ৭০ বছর পরেও দেশও কি তাদের মূল্য বুঝল?
বিশদ

20th  October, 2017
২০১৭ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার প্রাপক থেলারের কাছ থেকে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের শিক্ষা নিক মোদি সরকার
দেবনারায়ণ সরকার

 যুক্তিবাদী অর্থনীতি থেকে জীবনমুখী অর্থনীতিতে উত্তরণের অন্যতম মুখ্য পথপ্রদর্শক হলেন ২০১৭ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ রিচার্ড থেলার। থেলার তাঁর বিখ্যাত ‘‘Misbehaving: The making of behavioural economics’’ (‘অশোভন আচরণ: আচরণগত অর্থনীতির উদ্ভাবন’) গ্রন্থে বলেছিলেন, ‘অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে গেলে দুটি উপাদান আবশ্যকীয়: বারবার অভ্যাস বা চর্চা করা এবং অবিলম্বে তাদের প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করা’ বিশদ

19th  October, 2017
খিদে কি শুধুই পরিসংখ্যান?
শুভময় মৈত্র

 খবর এসে গিয়েছে যে খিদের সূচকে ভারত নাকি বিশ্বের মধ্যে বেশ খারাপ জায়গায়। আমাদের স্থান কাঁটায় কাঁটায় একশো, গত বছর যেটা ৯৭ ছিল। আশেপাশের দেশগুলোর মধ্যে ভারতের থেকে খিদে যাদের বেশি পাচ্ছে তারা হল পাকিস্তান (১০৬) আর আফগানিস্তান (১০৭)। ভারতের আগে আছে নেপাল (৭২), মায়নামার (৭৭), শ্রীলঙ্কা (৮৪) এবং বাংলাদেশ (৮৮)। যুদ্ধবিদ্ধস্ত ইরাক ৭৮-এ আর পরমাণু বোমা নিয়ে পেশিসঞ্চালনে পটুত্ব দেখানো উত্তর কোরিয়া ৯৩।
বিশদ

19th  October, 2017
একনায়ক কি জনপ্রিয়তা হারাচ্ছেন?
হিমাংশু সিংহ

 পুজোয় কয়েকদিন বারাণসীতে ছিলাম। পুরীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যুগ যুগ ধরে বাঙালির দ্বিতীয় হোমটাউন বলে কথা। তার ওপর দেশের ইতিহাসে হালফিল সবচেয়ে ক্ষমতাশালী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সংসদীয় কেন্দ্র।
বিশদ

17th  October, 2017
কলকাতার ভূকম্প প্রবণতা কি আদৌ বিপজ্জনক?
গৌতম পাল

 ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা। ভূস্তরের অভ্যন্তরে লিথোস্ফেরিক যে কোনও দুটি প্লেটের অভিসারী বিচলনই ভূমিকম্পের মুখ্য কারণ। ভূমিকম্প পুরোপুরিই একটি অনিশ্চিত ঘটনা। কারণ, ভূমিকম্পের উৎসস্থল, বিস্তৃতি এবং তীব্রতা বা বিপর্যয়ের মাত্রা প্রভৃতি সম্পর্কে পূর্বাভাস দেওয়া কখনওই সম্ভব নয়।
বিশদ

15th  October, 2017
১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গের দহন
কখনও বিস্মৃত হবার নয়
শমিত কর

 মহারাষ্ট্রের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রবাদপ্রতিম নেতা গোপালকৃষ্ণ গোখলে বাংলা সম্পর্কে যে সুবিখ্যাত উক্তি করেছিলেন তা ভারতবাসীর চিরকাল মনে থাকবে। তিনি বলেছিলেন, ‘বাংলা আজ যে-কথা চিন্তা করে তা ভারত আগামীদিনে করে।’ নতুন চিন্তা-চেতনা-মতবাদ উদ্রেকে বাংলা ও বাঙালিদের যেন কোনও জুড়ি নেই।
বিশদ

14th  October, 2017
একনজরে
 ইসলামাবাদ, ২০ অক্টোবর (পিটিআই): দুর্নীতি সংক্রান্ত তৃতীয় মামলাতেও ধাক্কা খেলেন পাকিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। বিদেশে এবং অন্যান্য সংস্থায় বিনিয়োগ নিয়ে নওয়াজকে অভিযুক্ত করেছে আদালত। এই মামলায় নওয়াজ দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর কারাদণ্ড হতে পারে। ...

সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: পাহাড়ে যে কোনও উন্নয়নমূলক কাজের শেষে ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট (ইউসি) জমা দিতে বলা হল জিটিএ’কে। নবান্ন থেকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাত বাড়তেই বেড়েছিল শব্দবাজির দৌরাত্ম্য। সেই দাপটকে নিয়ন্ত্রণে এনে কলকাতা পুলিশ কালীপুজোর দিনেই গ্রেপ্তার করল ৩৬৯ জনকে। আটক করা হয়েছে ৭৬৩ কেজি ...

সংবাদদাতা, দিনহাটা: শুক্রবার সকালে কোচবিহার শহরের কলাবাগানে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। কোতোয়ালি থানা জানিয়েছে, মৃতের নাম মহাদেব বণিক(৩১)। তাঁর বাড়ি কলাবাগানেই। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহটি ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

নিকটবন্ধু দ্বারা বিশ্বাসঘাতকতা। গুরুজনদের স্বাস্থ্যহানি। মামলা-মোকদ্দমায় পরিস্থিতি নিজের অনুকূলে থাকবে। দাম্পত্যজীবনে ভুল বোঝাবুঝিতে সমস্যা বৃদ্ধি।প্রতিকার: ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮০৫: ত্রাফালগারের যুদ্ধে ভাইস অ্যাডমিরাল লর্ড নেলসনের নেতৃত্বে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর কাছে পরাজিত হয় নেপোলিয়ানের বাহিনী
১৮৩৩: ডিনামাইট ও নোবেল পুরস্কারের প্রবর্তক সুইডিশ আলফ্রেড নোবেলের জন্ম
১৮৫৪: ক্রিমিয়ার যুদ্ধে পাঠানো হয় ফ্লোরেন্স নাইটেঙ্গলের নেতৃত্বে ৩৮ জন নার্সের একটি দল
১৯৩১: অভিনেতা শাম্মি কাপুরের জন্ম
১৯৪০: আর্নেস্ট হেমিংওয়ের প্রথম উপন্যাস ফর হুম দ্য বেল টোলস-এর প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয়
১৯৪৩: সিঙ্গাপুরে আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু
১৯৬৭: ভিয়েতনামের যুদ্ধের প্রতিবাদে আমেরিকার ওয়াশিংটনে এক লক্ষ মানুষের বিক্ষোভ হয়
২০১২: পরিচালক ও প্রযোজক যশ চোপড়ার মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৪.২০ টাকা ৬৫.৮৮ টাকা
পাউন্ড ৮৩.৭৮ টাকা ৮৬.৬৩ টাকা
ইউরো ৭৫.৬০ টাকা ৭৮.২৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩০,১৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৮,৫৯০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৯,০২০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৯,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৯,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
20th  October, 2017

দিন পঞ্জিকা

৪ কার্তিক, ২১ অক্টোবর, শনিবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ৩/১, নক্ষত্র-স্বাতী, সূ উ ৫/৩৯/১৭, অ ৫/৩/২৯, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/২৫ মধ্যে পুনঃ ৭/১০ গতে ৯/২৭ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৪ গতে ২/৪৬ মধ্যে পুনঃ ৩/৩২ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ঘ ১২/৩৮ গতে ২/১৮ মধ্যে, বারবেলা ঘ ৭/৫ মধ্যে পুনঃ ১২/৪৭ গতে ২/১২ মধ্যে পুনঃ ৩/৩৭ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ঘ ৬/৩৮ মধ্যে পুনঃ ৪/৬ গতে উদয়াবধি।
৪ কার্তিক, ২১ অক্টোবর, শনিবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ১/৩০/৪৬, স্বাতীনক্ষত্র, সূ উ ৫/৩৯/৪, অ ৫/৩/১৫, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/২৪/৪১ মধ্যে ও ৭/১০/১৭-৯/২৭/৮ মধ্যে ও ১১/৪৩/৫৮-২/৪৬/২৫ মধ্যে ও ৩/৩২/১-৫/৩/১৫ মধ্যে। রাত্রি ঘ ১২/৩৬/৪৫-২/১৭/৩১ মধ্যে, বারবেলা ১২/৪৬/৪১-২/১২/১২, কালবেলা ৭/৪/৩৫ মধ্যে, ৩/৩৭/৪৩-৫/৩/১৫, কালরাত্রি ৬/৩৭/৪৪ মধ্যে, ৪/৩/৩-৫/৩৭/৩২ মধ্যে।
৩০ মহরম 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
উচ্চরক্তচাপের সমস্যা, হাসপাতালে উপ-রাষ্ট্রপতি 
উচ্চরক্তচাপ ও সুগারের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভরতি হলেন ...বিশদ

20-10-2017 - 08:59:00 PM

প্রায় ৭০০টি ট্রেনের গতি বাড়তে চলেছে 

নভেম্বরে ভারতীয় রেল প্রায় ৭০০টি-র মতো দুরপাল্লার ট্রেনের গতি বাড়াতে ...বিশদ

20-10-2017 - 07:47:47 PM

নির্বাসন না তুললে অন্য দেশের হয়ে খেলার ইঙ্গিত দিলেন নির্বাসিত শ্রীসন্থ

20-10-2017 - 06:55:00 PM

 প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের দাদা পীযূষ মুখোপাধ্যায় প্রয়াত

20-10-2017 - 06:05:00 PM

প্রবল বৃষ্টি, সেচ দপ্তরে চালু কন্ট্রোল রুম

প্রবল বৃষ্টিতে নজর রাখতে সেচ দপ্তরে চালু কন্ট্রোল রুম। মনিটরিং ...বিশদ

20-10-2017 - 04:28:40 PM

কানপুরে প্ল্যাস্টিকের গোডাউনে আগুন, ঘটনাস্থলে দমকলের ৬টি ইঞ্জিন

20-10-2017 - 04:08:00 PM

দুপুরের পর থেকে আলিপুরদুয়ারে শুরু বৃষ্টি

20-10-2017 - 03:52:00 PM