বিশেষ নিবন্ধ
 

শেষে কিনা তৃণমূলের হাত ধরতে চাইছে সিপিএম!

শুভা দত্ত: ফের একবার বোমা ফাটিয়েছেন সিপিএমের প্রবীণ নেতা গৌতম দেব। অবশ্য, বোমা তিনি এর আগেও বেশ কয়েকবার ফাটিয়েছেন। তবে, এবারের বোমাটি যাকে বলে একেবারে জবরদস্ত। বর্ধমানের আউশগ্রামের বিস্ফোরণের চেয়েও মনে হচ্ছে জোরালো। এক বোমাতেই কেঁপে উঠেছে বাংলা থেকে, দিল্লি থেকে কেরল বাম শিবির। বলছেন কী! রাজ্যে সাম্প্রদায়িক শক্তির বাড়বাড়ন্ত রোধ করতে তৃণমূলের সঙ্গে মঞ্চভাগ! গৌতম দেব কি পার্টির লাইনটাও ভুলে গিয়েছেন! জানেন না, একমাত্র রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনও ক্ষেত্রে সিপিএম নেতৃত্বাধীন বামেরা তৃণমূলের সঙ্গে থাকবে না—এমনটাই সিদ্ধান্ত? আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজেপি মনোনীত প্রার্থীকে হারাতে বাম কংগ্রেস তৃণমূল একজোট হয়ে লড়বে, তেমনই কথা হয়ে আছে। কিন্তু, অন্য ইস্যুতে তো নয়। তাহলে কী করে অমন প্রকাশ্যে অন্য ইস্যুতে তৃণমূলের হাত ধরার কথা বলেন তিনি! ফ্রন্টে আলোচনা না করে এমন একটা গুরুতর কথা হাটের মাঝে বলা যায়?
খুব চটেছেন শরিকবৃন্দ—আরএসপি ফরওয়ার্ড ব্লক সকলেই। এমনকী রাজ্য সিপিএমের বিভিন্ন মহলেও গৌতম দেবের ওই ‘তৃণমূল পন্থী’ মন্তব্য নিয়ে ভালোই জলঘোলা শুরু হয়েছে। হবেই তো! শেষে কিনা তৃণমূলের হাত ধরতে চাইছে সিপিএম! কেউ কেউ অবশ্য বলছেন, গৌতমবাবু না ভেবে মন্তব্য করেননি। তাঁর মন্তব্যের পিছনে রাজ্য নেতৃত্বের একাংশের পরোক্ষ মদত থাকলেও আশ্চর্যের কিছু নেই। রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে দলে এবং অন্য দলে কে কোথায় কতটা কীভাবে আছেন সেটা যাচাই করতেই তৃণমূলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার প্রস্তাবটা ভাসিয়ে দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে সাম্প্রতিকে মমতার ব্যাপারে ‘নরম’ কেরল লবির অংশটিকেও একটা বার্তা হয়তো পাঠাতে চাইছেন তাঁরা। আসলে, রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে সিপিএমের মাখামাখি কখনওই ভালো মনে নেয়নি কেরালা পার্টি। অথচ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোদি-বিরোধী মঞ্চকে প্রকারান্তরে সমর্থন জানিয়েছে কেরল সিপিএমের একটি অংশ! রাজনৈতিক তথ্যভিজ্ঞদের অনেকে গৌতমবাবুর তৃণমূলতত্ত্বকে তার পালটা হিসেবেও দেখছেন। কেরল সিপিএমের মমতা প্রীতিতে সীতারাম ইয়েচুরিরা যে বিস্তর অস্বস্তিতে—তা কি বলার অপেক্ষা রাখে?
তবে, গৌতমবাবুর এমন বোমা ফাটানো মন্তব্য তো নতুন নয়। এর আগে, বিগত বিধানসভা ভোটের আগে, কংগ্রেসের সঙ্গে নির্বাচনী বোঝাপড়ার প্রশ্নেও এমনটা করেছেন তিনি। সেবারও যখন তিনি রাজ্যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়ার জন্য প্রকাশ্যে কাস্তে হাতুড়িওয়ালাদের ‘হাত’ ধরার প্রস্তাব দেন—রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। সিপিএমের অন্দরে বাহিরে তো বটেই, বাম শরিকদের মহলে মহলে গৌতমবাবুর প্রস্তাব নিয়ে রাজনীতির পারদ চড়েছিল বহুদূর। অবিশ্বাস্য, অসম্ভব, পার্টি লাইনের চরম বিরোধী ইত্যাদি—গৌতমবাবুর বাম-কং নিয়ে সন্ধি প্রস্তাব নিয়ে কত কথাই না শোনা গিয়েছিল। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র ও তাঁর কয়েকজন সহযোগী তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘মানুষের জোট’ ‘মানুষের মহাজোট’ গড়ার আহ্বান জানিয়ে ব্যাপারটা আড়াল করার চেষ্টাও করেছিলেন অনেক। কিন্তু, কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল গৌতম দেব বাম-কং জোট গড়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়ার যে তত্ত্ব ভাসিয়ে দিয়েছিলেন সেটাই বাস্তবের মাটি পেয়েছে! দিল্লির হাইকমান্ড এবং পলিটব্যুরোর সবুজ সংকেতে রাজ্যে হাত-হাতুড়ি জোট বেঁধে নেমেছে নির্বাচনে, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিপিএমের বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ধরা পড়েছেন একই মালায়! তাতে অবশ্য তৃণমূলের বিশেষ অসুবিধে হয়নি ভোটে, বরং লাভই হয়েছিল। কতটা লাভ তা সকলেই জানেন—রাজ্য বিধানসভায় সংখ্যার বিচারে সিপিএম দুই থেকে নেমে তিনে এবং সেই সুবাদে রাজ্য রাজনীতিতে আরও ঝাপসা আরও ম্লান! গৌতমবাবুর বাম-কং জোটতত্ত্ব মাঠে মারা গিয়েছিল।
কিন্তু, সাম্প্রদায়িক শক্তি রুখতে গৌতম দেব এবার যে প্রস্তাব রেখেছেন তা এককথায় অভাবনীয়। কে না জানে, রাজ্য রাজনীতিতে প্রথমাবধিই সিপিএমের জাতশত্রু একটাই দল—তৃণমূল এবং সিপিএম নেতানেত্রীদের অধিকাংশের একমাত্র চক্ষুশূল তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার রাজনৈতিক জীবনের শুরু তাঁকে ঠেকাতে কী না করেছে সিপিএম! মাথায় লাঠির বাড়ি থেকে চুলের মুঠি ধরে শারীরিক নিগ্রহ, অকথ্য গালিগালাজ থেকে অতি নিম্ন রুচির কুৎসা—কী নয়! কিন্তু মজাটা হল, সিপিএমের এই অত্যাচার অপমান লাঞ্ছনা-গঞ্জনা সবকিছুই জনতার অকৃপণ সমর্থনে শেষপর্যন্ত মমতার বরমাল্য হয়ে উঠেছে।
পাহাড় থেকে সাগর—বাংলায় একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম হয়েছে মমতার। আর ওইসব অকথা কুকথা সন্ত্রাসের হোতারা জনতার বুকে জমা ক্ষোভের বিস্ফোরণে রাতারাতি ক্ষমতার সিংহাসন থেকে ছিটকে পড়েছেন পথের ধুলায়! এবং তার পর থেকে ঘুরে দাঁড়ানো দূরে থাক আজ অব্দি উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতাটুকুও জোগাড় করে উঠতে পারেননি তাঁরা। কংগ্রেসের অবস্থাও তথৈবচ। সিপিএমের ৩৪ বছরের রাজত্বে তাঁরা রাজনৈতিকভাবে ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়েছেন। মমতার রাজত্বে কংগ্রেসের চেহারাটা আলাদা করে উল্লেখ করার আশা করি প্রয়োজন নেই।
এবং অনিবার্যভাবেই এ রাজ্যে বাম কংগ্রেসের হারানো জমিতে পদ্ম ফোটাতে তৎপর হয়েছে মোদিজির দল বিজেপি। বেশ কিছুদিন যাবৎই তাঁদের এই তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছে। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের অনেক আগে থেকেই রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বিজেপির সহযোগী আরএসএসের প্রভাব প্রতিপত্তি বৃদ্ধির খবর পাওয়া যাচ্ছিল। অবশ্য, গত লোকসভা ভোটে বিজেপি এ রাজ্যে বিশেষ কিছু করে উঠতে পারেনি। শেষ বিধানসভাতেও না। কিন্তু, কিছুদিন আগে উত্তরপ্রদেশের বিধানসভায় নিরঙ্কুশ জয়ের পর যেই মাত্র বিজেপির দিল্লি নেতারা বাংলা জয়ের টার্গেট ঘোষণা করলেন অমনি যেন রাজ্যের গেরুয়া শিবিরের ছবিটাই পালটে গেল! কলকাতার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপির দিল্লি নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয় দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ রামনবমীতে সশস্ত্র মিছিল করে নারদা-সারদা নিয়ে গরমাগরম বক্তৃতা চালিয়ে চারদিকে গেরুয়া ঢেউ তোলার একটা প্রয়াস শুরু করে দিলেন। আর তাঁদের সভাপতি অমিত শাহ রাজনৈতিক সফরে এসে উত্তরবঙ্গে জনজাতি ও দক্ষিণবঙ্গে সংখ্যালঘুর বাড়িতে দুদণ্ড কাটিয়ে সামান্য খাওয়াদাওয়া করে তাকে আরও উসকে দিয়ে গেলেন। তার উপর কাঁথি দক্ষিণে উপনির্বাচনী লড়াইতে সিপিএম কংগ্রেসকে পিছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে দল! এত কিছুর পর রাজ্যের বিজেপি নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা বাড়তি উদ্দীপনা জাগবে এটাই কি স্বাভাবিক নয়!
বলতে কী, বিজেপির এই উদ্দীপ্ত ভূমিকায় ভূত দেখছে সিপিএম। তৃণমূলের অবশ্য বিজেপি নিয়ে বিশেষ মাথাব্যথার কারণ আছে বলে কেউই মনে করছেন না। শত হলেও পশ্চিমবাংলা তো আর ইউপি নয়।
ইউপি মানে উত্তরপ্রদেশে যেটা ঘটানো যায় তা যে বাংলার মাটিতে অসম্ভব সেটা কে না বোঝেন? সেসব নিয়ে বিস্তারিতে যাচ্ছি না। ওসব নিয়ে অনেক আগেই আলোচনা করেছি। কিন্তু, বিজেপির বাড়বাড়ন্ত এবং লড়াকু মানসিকতায় সিপিএম যে যথেষ্ট ভয় পাচ্ছে এটা পরিষ্কার। কারণ, বিজেপি যত বাড়বে সিপিএমের জায়গা তত সংকুচিত হবে। মমতাময় এই রাজ্যে সিপিএমের একেই দমবন্ধ অবস্থা, সংগঠন ভেঙে চৌচির। মানুষজনের বিশ্বাস ফিরে পেতে গত ছ-বছর ধরে আপ্রাণ চেষ্টার পরও সাফল্য নামমাত্র। কংগ্রেসের হাত ধরেও ভোট রাজনীতিতে নিজেদের স্থান ধরে রাখা যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে আগামী দিনে এই নতুন অতিসক্রিয় বিজেপির মোকাবিলা কী করে করা যাবে তা নিয়ে সংগত কারণেই সিপিএমে চিন্তা গভীর। ফ্রন্ট শরিক এবং কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়েও আগামী দিনে বিজেপি মোকাবিলায় বিশেষ ভরসা পাচ্ছে না সিপিএম। এবং রাজ্য সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্ব বাইরে মুখে যা-ই বলুন ভিতরে ভিতরে ভালোই জানেন, দেশের মসনদে আসীন নরেন্দ্র মোদি অমিত শাহের গেরুয়া বাহিনীকে ঠেকানো দূর অস্ত, তাঁদের রাজনৈতিক আগ্রাসন থেকে নিদেন পক্ষে পার্টিটাকে বাঁচানোও তাঁদের সম্মিলিত শক্তি সামর্থ্যে সম্ভব হবে না।
এমন অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া গতি কী? নোটকাণ্ডে গোটা দেশ দেখেছে দোর্দণ্ডপ্রতাপ দিল্লির বিরুদ্ধে মমতার আগুনে ভূমিকা। টাকাপয়সা নিয়ে রাজ্য কেন্দ্র টানাটানিতে বা যে কোনও ইস্যুতে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে গোটা দেশে যে প্রধান বিরোধী মুখ মমতা—তাতেও সন্দেহ আছে কার? রাজ্যে তো কথাই নেই। বিজেপির যাবতীয় রাজনৈতিক অরাজনৈতিক আক্রমণ একা হাতে সামলে চলেছেন তিনি।
সকলেই বুঝতে পারছেন—সাম্প্রদায়িকতার বিষ থেকে রাজ্য বাঁচাতে বা বিজেপির দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক আগ্রাসন রুখতে মমতা ছাড়া গতি নেই। সেইদিক থেকে, সূর্যকান্ত মিশ্র বিমান বসুরা মুখ রক্ষার খাতিরে যা-ই বলুন, সিপিএমের প্রবীণ নেতা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম দেব বিজেপি রুখতে মমতার শরণ নেওয়ার প্রস্তাব রেখে ভুল কিছু করেননি। তবে কী, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং বুদ্ধিকৌশলে মমতাও
তো কম যান না। তাই, এহেন শরণার্থীকে মমতা শেষ
অব্দি কতটা আশ্রয় দেন—তা নিয়ে আমদের কৌতূহল রয়েই গেল।
14th  May, 2017
এবারই প্রথম নয়, ’৯৯-এ কারগিল যুদ্ধেও পাক সেনারা নৃশংসতার নজির রেখেছিল

সীমান্তরক্ষায় অনেকদিন কাটানো পোড়খাওয়া এক ক্যাপ্টেন একদিন দার্শনিকের ঢঙে বললেন, আমরা এটুকুই বুঝি—যুদ্ধক্ষেত্রে জীবন মানে পদ্মপাতায় জল। এই ছিল, এই গড়িয়ে গেল। তাই কর্তব্য সম্পর্কে সজাগ থাকি, ভবিতব্য নিয়ে ভাবিত নই। অনেকগুলো প্রাণ গেলেও সেদিন আমরা কিন্তু পাকিস্তানকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়িনি। ধেয়ে আসা এলাকা থেকে খেদিয়ে বিদায় করেছিলাম। শহিদদের উদ্দেশে প্রণাম। মাতৃভূমির মর্যাদা আর নাগরিকদের সুরক্ষায় যারা এমনি করে নিজেদের বিলিয়ে দেন, দেশবাসীকে তাঁদের কথা আরও বেশি করে ভাবতে হবে।
আর, আঠারো বছর আগে কারগিলে সমুচিত জবাব পেয়েও পাকিস্তানের এখনও শিক্ষা হয়নি। তাই ওরা ফের বাড়াবাড়ির চেষ্টা করছে। এবার ওদের জন্য কারগিলের চেয়েও কড়া দাওয়াই দরকার।
বিশদ

 লালবাজার অভিযান: মমতার চালে বিজেপি মাত!

শুভা দত্ত: সিপিএমের নবান্ন অভিযানের ধাঁচে লালবাজার অভিযান করে রাজ্যবাসীকে চমকে দিতে চেয়েছিল রাজ্য বিজেপি। সেই মতো অভিযানের অনেক আগে থেকে তোড়জোড় প্রস্তুতিও চলেছিল জোরকদমে। রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত দিল্লি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় থেকে দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এই অভিযানের প্রচারে গত কয়েকদিন ধরে যে মনোভাব ব্যক্ত করেছিলেন তার মোদ্দা কথা ছিল, লড়কে লেঙ্গে ধাঁচের। বিশদ

28th  May, 2017
 হুট বলতে ফুট কাটার অসুখ

 সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়: আমার এক বন্ধু প্রায়ই ভারী অদ্ভুত অদ্ভুত কথা বলে। যেমন, জ্বর-জ্বালা, বুক ধড়ফড়ানি, হাঁপানি বা এই ধরনের নানান ব্যামোই শুধু অসুখ বা রোগ নয়। অপ্রয়োজনে মিথ্যে কথা বলা কিংবা আমরা যাকে চলতি ভাষায় ‘গুল’ মারা বলি সেগুলোও নাকি অসুখ। এবং এই সব ধরনের অসুখেরও নাকি ওষুধ আছে।
বিশদ

28th  May, 2017
নদী তুমি কার

বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়: ১৯৪৭ সালে দ্বিখণ্ডিত স্বাধীনতা কেবলমাত্র মানুষকে ভাগ করেনি, প্রাকৃতিক সম্পদেও ভাঙনের সাতকাহন সূচিত করে দেয়। অবশ্য দ্বিখণ্ডিত স্বাধীনতা পাবার আগে ব্রিটিশ শাসকদের সঙ্গে ভারতবর্ষের নেতৃত্ব যখন আলোচনা আরম্ভ করেন তখনই ভারতবর্ষ দ্বিখণ্ডিত হলে প্রাকৃতিক সম্পদ বিশেষ করে জলবণ্টনের নীতি কীভাবে স্থিরীকৃত হবে সে ব্যাপারে কয়েকজন আলোচনাকারী উত্থাপন করলেও, দ্বিখণ্ডিত স্বাধীনতা লাভ করার দুরন্ত আশা তদানীন্তন রাজনৈতিক নেতাদের মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছিল।
বিশদ

27th  May, 2017
চীন, পাকিস্তান বেজিংয়ে ফাঁকা মাঠ পেয়ে গেল ভারতের কূটনৈতিক ভুলের কারণে

কুমারেশ চক্রবর্তী: মাত্র কিছু দিন আগে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা আইসিসি’র এক ভোটে ৯-১ ভোটে হেরে প্রমাণ করল ক্রিকেট বিশ্বে ভারত কতটা বন্ধুহীন। যেসব দেশকে ভারত হাতে করে জাতে তুলেছে তারাও ভারতের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে।
বিশদ

27th  May, 2017
ভুলে যাওয়ার রাজনীতি

 সমৃদ্ধ দত্ত: আমাদের প্রিয় গুণ হল ভুলে যাওয়া। রাজনৈতিক নেতানেত্রীরা সেটা জানেন। তাই তাঁদের খুব সুবিধা হয় আমাদের বোকা বানাতে। এই তো মার্চ মাসে সংগীতশিল্পী কালিকাপ্রসাদের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর সোশ্যাল মিডিয়া এবং ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় বাংলা সংগীতজগতের অপূরণীয় ক্ষতির জন্য যথার্থ শোকজ্ঞাপন করা হয়েছিল।
বিশদ

26th  May, 2017
রোমান্টিক বিপ্লবের ৫০ বছর নকশালবাড়ি

অভিজিৎ দাশগুপ্ত: আগে কোনওদিন এই স্টেশনটা আমি দেখিনি। শহরের রাস্তা থেকে সরাসরি উঠে গিয়েছে ওভারব্রিজ। কয়েকটা রেললাইনের পরে সারি সারি ওয়াগনের পাশে শান্টিং করছে একটা ডিজেল ইঞ্জিন। এই স্টেশনটা আমি বা আমার মতো অনেকেই হয়তো আগে চোখে দেখিনি।
বিশদ

25th  May, 2017
 ভারতীয় সেনাবাহিনী ভালোভাবেই জানে কীভাবে শিক্ষা দেওয়া যায়

অরুণ রায়: পাকিস্তান আমাদের সৈন্যকে মেরেছে। তাই যুদ্ধ চাই। যুদ্ধ করেই পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দেওয়া যাবে। এই ভাবনা এখন সবথেকে বেশি চর্চিত। কিন্তু এটা মাথায় রাখতে হবে যুদ্ধ কখনওই কাম্য নয়। যুদ্ধ কোনও দেশই চায় না। সবচেয়ে বড় কথা, আমার মনে হয় যুদ্ধের জন্য পাকিস্তান বা আমরা কেউই তেমন তৈরি নয়।
বিশদ

25th  May, 2017



একনজরে
 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পাহাড় জয়ের স্বপ্নে এবার হাত মেলাল দুই বাংলা। কলকাতার পর্বতারোহী সত্যরূপ সিদ্ধান্ত এবং বাংলাদেশের মুসা ইব্রাহিম একযোগে অভিযান শুরু করলেন ওশিয়ানিয়া মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কারস্টেইনৎস পিরামিড ওরফে পুনসাক জয়া-র উদ্দেশ্যে। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দক্ষিণ কলকাতার নেতাজিনগরে তোলাবাজির অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতের নাম সুশান্ত মাহাত। অভিযোগ, সে নেতাজিনগর থানার ৮বি, নাকতলা রোডে গত ২৬ মে সকাল ১১টা নাগাদ একটি বহুতলে কাজ চলার সময় কলকাতা পুরসভার স্বীকৃত ‘প্লাম্বার’ নিলয় ...

সিওল, ২৯ মে: তিন সপ্তাহের মধ্যে ফের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া। জাপানের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি তাদের অর্থনৈতিক অঞ্চলে আছড়ে পড়েছে। স্কাড মিসাইলটি ৪৫০ কিলোমিটার আকাশপথ ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফরেনসিক রিপোর্ট তৈরির শ্লথতা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে বিস্তর। আর সেকারণেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত ফরেনসিক রিপোর্ট তৈরির জন্য এক বছর আগে পুলিশকে দেওয়া হয়েছিল চারটি গাড়ি। এই গাড়িগুলি ফরেনসিক রিপোর্ট তৈরির উপযোগী যাবতীয় পরিকাঠামোয় সজ্জিত। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

ব্যাবসাসূত্রে উপার্জন বৃদ্ধি। বিদ্যায় মানসিক চঞ্চলতা বাধার কারণ হতে পারে। গুরুজনদের শরীর স্বাস্থ্য ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭৪৪: ইংরেজ লেখক আলেক্সজান্ডার পোপের মৃত্যু
১৭৭৮: ফ্রান্সের লেখক এবং দার্শনিক ভলতেয়ারের মৃত্যু
১৯১২: বিমান আবিষ্কারক উইলবার রাইটের মৃত্যু
১৯১৯: জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নাইট’ উপাধি ত্যাগ
১৯৪৫: অভিনেতা ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫০: অভিনেতা পরেশ রাওয়ালের জন্ম
২০১৩: চিত্র পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের মৃত্যু




ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৭০ টাকা ৬৫.৩৮ টাকা
পাউন্ড ৮১.৩৮ টাকা ৮৪.১৮ টাকা
ইউরো ৭০.৮৭ টাকা ৭৩.২৩ টাকা
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৯,৩৪৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৭,৮৪০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৮,২৬০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৩০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৪০০ টাকা

দিন পঞ্জিকা

 ১৬ জ্যৈষ্ঠ, ৩০ মে, মঙ্গলবার, পঞ্চমী দিবা ৮/৪৭, পুষ্যানক্ষত্র দিবা ১১/৫৭, সূ উ ৪/৫৫/৪৯, অ ৬/১২/১৩, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৪ পুনঃ ৯/২১-১২/০ পুনঃ ৩/৩১-৪/২৫, বারবেলা ৬/৩৬-৮/১৫ পুনঃ ১/১৩-২/৫৩, কালরাত্রি ৭/৩২-৮/৫৩।
১৫ জ্যৈষ্ঠ, ৩০ মে, মঙ্গলবার, পঞ্চমী ২/১৯/৫, পুষ্যানক্ষত্র অপরাহ্ণ ৫/২৮/৪৩, সূ উ ৪/৫৪/৪৫, অ ৬/১২/৩৬, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৪/১৯, ৯/২০/৪২-১২/০/১৬, ৩/৩৩/২-৪/২৬/১৩ রাত্রি ৬/৫৫/২৫, ১১/৫৫/৫-২/৩/৩১, বারবেলা ৬/৩৪/২৯-৮/১৪/১৩, কালবেলা ১/১৩/২৪-২/৫৩/৮, কালরাত্রি ৭/৩২/৫২-৮/৫৩/৮।
৩ রমজান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
চিকিৎসক হতে চায় উচ্চ মাধ্যমিকে অষ্টম স্থানে থাকা পূর্ব মেদিনীপুরের বৈদুর্য্য নায়ক 

11:05:00 AM

পদার্থবিদ্যা নিয়ে গবেষণার ইচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম অর্চিষ্মান পাণিগ্রাহীর 
চিকিৎসক বা ইঞ্জিনিয়ার নয়। গবেষক হতে চায় এবছর উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম স্থান অধিকারি হুগলি কলেজিয়েট স্কুলের অর্চিষ্মান পাণিগ্রাহী। পদার্থবিদ্যা নিয়ে গবেষণা করার ইচ্ছে রয়েছে তাঁর। ২০১৫ সালে মাধ্যমিকে দ্বিতীয় হয়েছিল অর্চিষ্মান। উচ্চ মাধ্যমিকে তার থেকেও ভালো ফল করায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি সে। 

11:04:50 AM

চিকিৎসক হতে চায় উচ্চ মাধ্যমিকে তৃতীয় বাঁকুড়া জেলা স্কুলের সুরজিৎ লোহার 

10:54:51 AM

উচ্চ মাধ্যমিকে তৃতীয় (৯৭.৮%) শুভম সিংহ ও সুরজিৎ লোহার (বাঁকুড়া জেলা স্কুল) 

10:49:32 AM

উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম অর্চিষ্মাণ পানিগ্রাহি ( হুগলি কলেজিয়েট স্কুল) 

10:45:00 AM

উচ্চ মাধ্যমিকে দ্বিতীয় (৯৮.৪%) ময়াঙ্ক চট্টোপাধ্যায় (মাহেশ শ্রীরামকৃষ্ণ বিদ্যাভবন), উপমন্যু চক্রবর্তী (নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন) 

10:39:06 AM






বিশেষ নিবন্ধ
এবারই প্রথম নয়, ’৯৯-এ কারগিল যুদ্ধেও পাক সেনারা নৃশংসতার নজির রেখেছিল
সীমান্তরক্ষায় অনেকদিন কাটানো পোড়খাওয়া এক ক্যাপ্টেন একদিন দার্শনিকের ঢঙে বললেন, আমরা এটুকুই বুঝি—যুদ্ধক্ষেত্রে জীবন মানে ...
 লালবাজার অভিযান: মমতার চালে বিজেপি মাত!
শুভা দত্ত: সিপিএমের নবান্ন অভিযানের ধাঁচে লালবাজার অভিযান করে রাজ্যবাসীকে চমকে দিতে চেয়েছিল রাজ্য বিজেপি। ...
 হুট বলতে ফুট কাটার অসুখ
 সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়: আমার এক বন্ধু প্রায়ই ভারী অদ্ভুত অদ্ভুত কথা বলে। যেমন, জ্বর-জ্বালা, বুক ধড়ফড়ানি, ...
নদী তুমি কার
বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়: ১৯৪৭ সালে দ্বিখণ্ডিত স্বাধীনতা কেবলমাত্র মানুষকে ভাগ করেনি, প্রাকৃতিক সম্পদেও ভাঙনের সাতকাহন সূচিত ...
চীন, পাকিস্তান বেজিংয়ে ফাঁকা মাঠ পেয়ে গেল ভারতের কূটনৈতিক ভুলের কারণে
কুমারেশ চক্রবর্তী: মাত্র কিছু দিন আগে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা আইসিসি’র এক ভোটে ৯-১ ভোটে ...