বিশেষ নিবন্ধ
 

শেষে কিনা তৃণমূলের হাত ধরতে চাইছে সিপিএম!

শুভা দত্ত: ফের একবার বোমা ফাটিয়েছেন সিপিএমের প্রবীণ নেতা গৌতম দেব। অবশ্য, বোমা তিনি এর আগেও বেশ কয়েকবার ফাটিয়েছেন। তবে, এবারের বোমাটি যাকে বলে একেবারে জবরদস্ত। বর্ধমানের আউশগ্রামের বিস্ফোরণের চেয়েও মনে হচ্ছে জোরালো। এক বোমাতেই কেঁপে উঠেছে বাংলা থেকে, দিল্লি থেকে কেরল বাম শিবির। বলছেন কী! রাজ্যে সাম্প্রদায়িক শক্তির বাড়বাড়ন্ত রোধ করতে তৃণমূলের সঙ্গে মঞ্চভাগ! গৌতম দেব কি পার্টির লাইনটাও ভুলে গিয়েছেন! জানেন না, একমাত্র রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনও ক্ষেত্রে সিপিএম নেতৃত্বাধীন বামেরা তৃণমূলের সঙ্গে থাকবে না—এমনটাই সিদ্ধান্ত? আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজেপি মনোনীত প্রার্থীকে হারাতে বাম কংগ্রেস তৃণমূল একজোট হয়ে লড়বে, তেমনই কথা হয়ে আছে। কিন্তু, অন্য ইস্যুতে তো নয়। তাহলে কী করে অমন প্রকাশ্যে অন্য ইস্যুতে তৃণমূলের হাত ধরার কথা বলেন তিনি! ফ্রন্টে আলোচনা না করে এমন একটা গুরুতর কথা হাটের মাঝে বলা যায়?
খুব চটেছেন শরিকবৃন্দ—আরএসপি ফরওয়ার্ড ব্লক সকলেই। এমনকী রাজ্য সিপিএমের বিভিন্ন মহলেও গৌতম দেবের ওই ‘তৃণমূল পন্থী’ মন্তব্য নিয়ে ভালোই জলঘোলা শুরু হয়েছে। হবেই তো! শেষে কিনা তৃণমূলের হাত ধরতে চাইছে সিপিএম! কেউ কেউ অবশ্য বলছেন, গৌতমবাবু না ভেবে মন্তব্য করেননি। তাঁর মন্তব্যের পিছনে রাজ্য নেতৃত্বের একাংশের পরোক্ষ মদত থাকলেও আশ্চর্যের কিছু নেই। রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে দলে এবং অন্য দলে কে কোথায় কতটা কীভাবে আছেন সেটা যাচাই করতেই তৃণমূলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার প্রস্তাবটা ভাসিয়ে দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে সাম্প্রতিকে মমতার ব্যাপারে ‘নরম’ কেরল লবির অংশটিকেও একটা বার্তা হয়তো পাঠাতে চাইছেন তাঁরা। আসলে, রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে সিপিএমের মাখামাখি কখনওই ভালো মনে নেয়নি কেরালা পার্টি। অথচ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোদি-বিরোধী মঞ্চকে প্রকারান্তরে সমর্থন জানিয়েছে কেরল সিপিএমের একটি অংশ! রাজনৈতিক তথ্যভিজ্ঞদের অনেকে গৌতমবাবুর তৃণমূলতত্ত্বকে তার পালটা হিসেবেও দেখছেন। কেরল সিপিএমের মমতা প্রীতিতে সীতারাম ইয়েচুরিরা যে বিস্তর অস্বস্তিতে—তা কি বলার অপেক্ষা রাখে?
তবে, গৌতমবাবুর এমন বোমা ফাটানো মন্তব্য তো নতুন নয়। এর আগে, বিগত বিধানসভা ভোটের আগে, কংগ্রেসের সঙ্গে নির্বাচনী বোঝাপড়ার প্রশ্নেও এমনটা করেছেন তিনি। সেবারও যখন তিনি রাজ্যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়ার জন্য প্রকাশ্যে কাস্তে হাতুড়িওয়ালাদের ‘হাত’ ধরার প্রস্তাব দেন—রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। সিপিএমের অন্দরে বাহিরে তো বটেই, বাম শরিকদের মহলে মহলে গৌতমবাবুর প্রস্তাব নিয়ে রাজনীতির পারদ চড়েছিল বহুদূর। অবিশ্বাস্য, অসম্ভব, পার্টি লাইনের চরম বিরোধী ইত্যাদি—গৌতমবাবুর বাম-কং নিয়ে সন্ধি প্রস্তাব নিয়ে কত কথাই না শোনা গিয়েছিল। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র ও তাঁর কয়েকজন সহযোগী তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘মানুষের জোট’ ‘মানুষের মহাজোট’ গড়ার আহ্বান জানিয়ে ব্যাপারটা আড়াল করার চেষ্টাও করেছিলেন অনেক। কিন্তু, কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল গৌতম দেব বাম-কং জোট গড়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়ার যে তত্ত্ব ভাসিয়ে দিয়েছিলেন সেটাই বাস্তবের মাটি পেয়েছে! দিল্লির হাইকমান্ড এবং পলিটব্যুরোর সবুজ সংকেতে রাজ্যে হাত-হাতুড়ি জোট বেঁধে নেমেছে নির্বাচনে, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিপিএমের বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ধরা পড়েছেন একই মালায়! তাতে অবশ্য তৃণমূলের বিশেষ অসুবিধে হয়নি ভোটে, বরং লাভই হয়েছিল। কতটা লাভ তা সকলেই জানেন—রাজ্য বিধানসভায় সংখ্যার বিচারে সিপিএম দুই থেকে নেমে তিনে এবং সেই সুবাদে রাজ্য রাজনীতিতে আরও ঝাপসা আরও ম্লান! গৌতমবাবুর বাম-কং জোটতত্ত্ব মাঠে মারা গিয়েছিল।
কিন্তু, সাম্প্রদায়িক শক্তি রুখতে গৌতম দেব এবার যে প্রস্তাব রেখেছেন তা এককথায় অভাবনীয়। কে না জানে, রাজ্য রাজনীতিতে প্রথমাবধিই সিপিএমের জাতশত্রু একটাই দল—তৃণমূল এবং সিপিএম নেতানেত্রীদের অধিকাংশের একমাত্র চক্ষুশূল তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার রাজনৈতিক জীবনের শুরু তাঁকে ঠেকাতে কী না করেছে সিপিএম! মাথায় লাঠির বাড়ি থেকে চুলের মুঠি ধরে শারীরিক নিগ্রহ, অকথ্য গালিগালাজ থেকে অতি নিম্ন রুচির কুৎসা—কী নয়! কিন্তু মজাটা হল, সিপিএমের এই অত্যাচার অপমান লাঞ্ছনা-গঞ্জনা সবকিছুই জনতার অকৃপণ সমর্থনে শেষপর্যন্ত মমতার বরমাল্য হয়ে উঠেছে।
পাহাড় থেকে সাগর—বাংলায় একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম হয়েছে মমতার। আর ওইসব অকথা কুকথা সন্ত্রাসের হোতারা জনতার বুকে জমা ক্ষোভের বিস্ফোরণে রাতারাতি ক্ষমতার সিংহাসন থেকে ছিটকে পড়েছেন পথের ধুলায়! এবং তার পর থেকে ঘুরে দাঁড়ানো দূরে থাক আজ অব্দি উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতাটুকুও জোগাড় করে উঠতে পারেননি তাঁরা। কংগ্রেসের অবস্থাও তথৈবচ। সিপিএমের ৩৪ বছরের রাজত্বে তাঁরা রাজনৈতিকভাবে ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়েছেন। মমতার রাজত্বে কংগ্রেসের চেহারাটা আলাদা করে উল্লেখ করার আশা করি প্রয়োজন নেই।
এবং অনিবার্যভাবেই এ রাজ্যে বাম কংগ্রেসের হারানো জমিতে পদ্ম ফোটাতে তৎপর হয়েছে মোদিজির দল বিজেপি। বেশ কিছুদিন যাবৎই তাঁদের এই তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছে। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের অনেক আগে থেকেই রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বিজেপির সহযোগী আরএসএসের প্রভাব প্রতিপত্তি বৃদ্ধির খবর পাওয়া যাচ্ছিল। অবশ্য, গত লোকসভা ভোটে বিজেপি এ রাজ্যে বিশেষ কিছু করে উঠতে পারেনি। শেষ বিধানসভাতেও না। কিন্তু, কিছুদিন আগে উত্তরপ্রদেশের বিধানসভায় নিরঙ্কুশ জয়ের পর যেই মাত্র বিজেপির দিল্লি নেতারা বাংলা জয়ের টার্গেট ঘোষণা করলেন অমনি যেন রাজ্যের গেরুয়া শিবিরের ছবিটাই পালটে গেল! কলকাতার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপির দিল্লি নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয় দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ রামনবমীতে সশস্ত্র মিছিল করে নারদা-সারদা নিয়ে গরমাগরম বক্তৃতা চালিয়ে চারদিকে গেরুয়া ঢেউ তোলার একটা প্রয়াস শুরু করে দিলেন। আর তাঁদের সভাপতি অমিত শাহ রাজনৈতিক সফরে এসে উত্তরবঙ্গে জনজাতি ও দক্ষিণবঙ্গে সংখ্যালঘুর বাড়িতে দুদণ্ড কাটিয়ে সামান্য খাওয়াদাওয়া করে তাকে আরও উসকে দিয়ে গেলেন। তার উপর কাঁথি দক্ষিণে উপনির্বাচনী লড়াইতে সিপিএম কংগ্রেসকে পিছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে দল! এত কিছুর পর রাজ্যের বিজেপি নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা বাড়তি উদ্দীপনা জাগবে এটাই কি স্বাভাবিক নয়!
বলতে কী, বিজেপির এই উদ্দীপ্ত ভূমিকায় ভূত দেখছে সিপিএম। তৃণমূলের অবশ্য বিজেপি নিয়ে বিশেষ মাথাব্যথার কারণ আছে বলে কেউই মনে করছেন না। শত হলেও পশ্চিমবাংলা তো আর ইউপি নয়।
ইউপি মানে উত্তরপ্রদেশে যেটা ঘটানো যায় তা যে বাংলার মাটিতে অসম্ভব সেটা কে না বোঝেন? সেসব নিয়ে বিস্তারিতে যাচ্ছি না। ওসব নিয়ে অনেক আগেই আলোচনা করেছি। কিন্তু, বিজেপির বাড়বাড়ন্ত এবং লড়াকু মানসিকতায় সিপিএম যে যথেষ্ট ভয় পাচ্ছে এটা পরিষ্কার। কারণ, বিজেপি যত বাড়বে সিপিএমের জায়গা তত সংকুচিত হবে। মমতাময় এই রাজ্যে সিপিএমের একেই দমবন্ধ অবস্থা, সংগঠন ভেঙে চৌচির। মানুষজনের বিশ্বাস ফিরে পেতে গত ছ-বছর ধরে আপ্রাণ চেষ্টার পরও সাফল্য নামমাত্র। কংগ্রেসের হাত ধরেও ভোট রাজনীতিতে নিজেদের স্থান ধরে রাখা যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে আগামী দিনে এই নতুন অতিসক্রিয় বিজেপির মোকাবিলা কী করে করা যাবে তা নিয়ে সংগত কারণেই সিপিএমে চিন্তা গভীর। ফ্রন্ট শরিক এবং কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়েও আগামী দিনে বিজেপি মোকাবিলায় বিশেষ ভরসা পাচ্ছে না সিপিএম। এবং রাজ্য সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্ব বাইরে মুখে যা-ই বলুন ভিতরে ভিতরে ভালোই জানেন, দেশের মসনদে আসীন নরেন্দ্র মোদি অমিত শাহের গেরুয়া বাহিনীকে ঠেকানো দূর অস্ত, তাঁদের রাজনৈতিক আগ্রাসন থেকে নিদেন পক্ষে পার্টিটাকে বাঁচানোও তাঁদের সম্মিলিত শক্তি সামর্থ্যে সম্ভব হবে না।
এমন অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া গতি কী? নোটকাণ্ডে গোটা দেশ দেখেছে দোর্দণ্ডপ্রতাপ দিল্লির বিরুদ্ধে মমতার আগুনে ভূমিকা। টাকাপয়সা নিয়ে রাজ্য কেন্দ্র টানাটানিতে বা যে কোনও ইস্যুতে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে গোটা দেশে যে প্রধান বিরোধী মুখ মমতা—তাতেও সন্দেহ আছে কার? রাজ্যে তো কথাই নেই। বিজেপির যাবতীয় রাজনৈতিক অরাজনৈতিক আক্রমণ একা হাতে সামলে চলেছেন তিনি।
সকলেই বুঝতে পারছেন—সাম্প্রদায়িকতার বিষ থেকে রাজ্য বাঁচাতে বা বিজেপির দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক আগ্রাসন রুখতে মমতা ছাড়া গতি নেই। সেইদিক থেকে, সূর্যকান্ত মিশ্র বিমান বসুরা মুখ রক্ষার খাতিরে যা-ই বলুন, সিপিএমের প্রবীণ নেতা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম দেব বিজেপি রুখতে মমতার শরণ নেওয়ার প্রস্তাব রেখে ভুল কিছু করেননি। তবে কী, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং বুদ্ধিকৌশলে মমতাও
তো কম যান না। তাই, এহেন শরণার্থীকে মমতা শেষ
অব্দি কতটা আশ্রয় দেন—তা নিয়ে আমদের কৌতূহল রয়েই গেল।
14th  May, 2017
গুম-নিখোঁজ ও পরমানন্দ মন্ত্রণালয়
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলাদেশে ‘লিট ফেস্ট’ শুরু ও শেষ হল। সেই কারণে কি না জানি না, অরুন্ধতী রায়ের দ্বিতীয় উপন্যাস ‘দ্য মিনিস্ট্রি অব আটমোস্ট হ্যাপিনেস’ হুট করে সংবাদপত্রে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এল। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় সাহিত্যিক ও সাংবাদিক, আমার অতি ঘনিষ্ঠ ও প্রিয় আনিসুল হক এই উপন্যাসের বাংলা নাম দিয়েছেন ‘পরমানন্দ মন্ত্রণালয়’।
বিশদ

19th  November, 2017
লন্ডন, এডিনবরা এবং মমতা
শুভা দত্ত

দুর্গাপুজোর দিন যত এগিয়ে আসে, আনন্দটা তার সঙ্গে সমানুপাতিক হারে বাড়ে। এ আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির চিরন্তন সত্য। আর মা দুর্গাকে ঘিরে সেই উৎসবের রামধনু রং ফিকে হতে শুরু করে নবমীর সন্ধ্যা থেকেই। আজ বাদে কাল দশমী। মায়ের ফিরে যাওয়ার পালা।
বিশদ

19th  November, 2017
চীনের প্রেসিডেন্ট বনাম ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ
প্রশান্ত দাস

জিনপিং দেশের বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের বললেন—আমাদের সমাজতন্ত্র দেশকে তরতর করে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। এগিয়ে চলেছে আমাদের অর্থনীতি। কিন্তু গত পাঁচ বছরে আপনারা ক’টি অবিশ্বাস্য অস্ত্র দিতে পেরেছেন সেনাদের? ভারতের ডিআরডিও কী করে পৃথিবীতে দু’নম্বর রিসার্চ সেন্টার হল? কী নেই আপনাদের? যা যা চাই, তালিকা পাঠান। যতদিন না আমরা ডিআরডিও-কে ছাপিয়ে যেতে পারছি, ততদিন আমরা নিজেদের এশিয়ার মধ্যে এক নং বলতে পারব না।
বিশদ

18th  November, 2017
রাজ্যের লাইব্রেরিগুলিকে বাঁচাতেই হবে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

মনে পড়ছে গত ডিসেম্বরের কথা। বীরভূম জেলার সরকারি বইমেলার আয়োজন হয়েছিল সিউড়িতে, ইরিগেশন কলোনির মাঠে। আমি উদ্বোধক, মঞ্চে জেলার মন্ত্রীরা, সঙ্গত কারণেই উপস্থিত ছিলেন গ্রন্থাগারমন্ত্রীও। মঞ্চে বসেই সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর সঙ্গে পরিচয়, আলাপচারিতা।
বিশদ

18th  November, 2017
মোদির আমলে শিশুদের খিদের যন্ত্রণা তীব্র, কারণ শিশু ও মহিলা উন্নয়নে গুরুত্ব কম
দেবনারায়ণ সরকার

কেন্দ্রীয় সরকারের গত ৩ বছরের বাজেটের তথ্য সার্বিকভাবে বিচার করলে দেখা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় বাজেটে মোট ব্যয় যেখানে ২১ শতাংশের বেশি বেড়েছে (টাকার অঙ্কে অতিরিক্ত প্রায় ৩ লক্ষ ৫১ হাজার কোটি টাকা), সেখানে মহিলা ও শিশু উন্নয়নে ব্যয় কপর্দকও বাড়েনি, বরং প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। একইভাবে মহিলা ও শিশু উন্নয়ন ব্যয় বাজেটের মোট ব্যয়ের ১ শতাংশের অনেক নীচে নেমেছে। মোদ্দা কথা হল, যে দেশের কেন্দ্রীয় বাজেটে মহিলা ও শিশু উন্নয়নের ব্যয় বাজেটে মোট ব্যয়ের ১ শতাংশেরও কম এবং এই ব্যয় মোদির জমানায় যেহেতু আরও কমছে, সেই দেশে রোজ রাতে খালি পেটে শুতে যাওয়া শিশুদের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধিটাই স্বাভাবিক। তাই ভারতে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অপুষ্টিও।
বিশদ

17th  November, 2017
ডেঙ্গু: রাজনীতি ছেড়ে হাত মিলিয়ে কাজের সময়
অনিরুদ্ধ কর

অবিলম্বে একটা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা নিয়মাবলী প্রকাশ করতে হবে সরকারের তরফে। সরকারি নির্দেশ মানতে বাধ্য সকল সরকারি বেসরকারি ও প্রাইভেট চিকিৎসা কেন্দ্র। অতীতের দিকে নজর দিলে দেখা যাবে বার্ড ফ্লু বা সোয়াইন ফ্লু-র সময় সরকারের তরফে এমন নিয়মাবলী প্রকাশ করা হয়েছিল। চিকিৎসাব্যবস্থায় কী কী থাকতে হবে এবং কোথায় থাকবে তাও বলে দেওয়া হয়েছিল। ফ্লু-র ওষুধ একমাত্র সরকার দিত। খোলাবাজারে মিলত না সেই ওষুধ। কারণ সেক্ষেত্রে ওষুধ নিয়ে কালোবাজারি এবং চড়া দামে ওষুধ বিক্রি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যেত। এছাড়া একটি রাজ্যস্তরের কমিটি ছিল পর্যালোচনার জন্য।
বিশদ

17th  November, 2017
প্যারিস, পরিবেশ এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভারত
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 পরিবেশ মানে হল যেখানে সেখানে থুতু না ফেলা। মন্তব্যটি আমারই এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর। এবং কী ভয়ঙ্কর সাবলীল স্বীকারোক্তি। যে দেশে ৩০ কোটি মানুষ এখনও দারিদ্রসীমার নীচে বসবাস করেন, যেখানে সাক্ষরতা বলতে বোঝানো হয় নিজের নাম সই করতে পারা, সেখানে সচেতনতার প্রাথমিক পাঠটা এমন একটা মন্তব্য দিয়ে শুরু করলে মন্দ কী!
বিশদ

16th  November, 2017
সার্ধশতবর্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি টেম্‌স থেকে গঙ্গা: ভগিনী নিবেদিতার দার্শনিক যাত্রা
জয়ন্ত কুশারী

 আয়ারল্যান্ডের স্বল্প জনবসতি শহর ডুং গানন। স্যামুয়েল রিচমন্ড নোবেল নামে এক ধর্মযাজক ও তাঁর ভক্তিমতী স্ত্রী মেরি ইসাবেল হ্যামিলটন বাস করেন এই শহরে। এঁরা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে করজোড়ে প্রার্থনা করেন সুখপ্রসবে প্রথম সন্তানটি হলে তাঁরা ঈশ্বরের চরণেই সদ্যোজাতকে সমর্পণ করবেন।
বিশদ

16th  November, 2017
নোট বাতিল: উত্তরপ্রদেশের ভোট, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং চে গুয়েভারা
শুভময় মৈত্র

নোট বাতিলের কারণ এবং ফল সংক্রান্ত আলোচনা দেখে, শুনে এবং পড়ে জনগণ এই বিষয়ে যথেষ্ট অবহিত, হয়তো বা কিছুটা ক্লান্তও বটে। বিজেপি সরকার কেন এই সিদ্ধান্ত নিলেন, এর কী কী ভুল ভ্রান্তি আছে, দেশের কী ক্ষতি হল, সাধারণ মানুষ ঠিক কতটা ভুগলেন এই নিয়ে আমরা যতটা আলোচনা করেছি সেই পরিমাণটা সময় এবং সম্পদের হিসেবে পাঁচশো আর হাজার টাকার মোট বাতিল নোটের মূল্যের থেকে বেশিও হয়ে যেতে পারে।
বিশদ

14th  November, 2017
বুকে লাল গোলাপের সেই মানুষটির কথা আজ খুব মনে পড়ছে
মোশারফ হোসেন

স্বপনদা বলত, পচার চাই। বুঝলে ভায়া, পচারটাই আসল। বাঁকুড়া মানুষ স্বপনদা র-ফলা উচ্চারণ করতে পারত না। তার মুখে ‘প্রচার’ শব্দটা ‘পচার’ হয়েই বেরত। আগ্রার ভঁপু চক্কোত্তিও একই কথা বলেছিলেন। ভঁপুবাবুর সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। এরকমই এক নভেম্বরে। উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা ভোটের খবর করতে গিয়ে।
বিশদ

14th  November, 2017
ফাইলের ভয় দেখিয়ে মুকুল কি রাজ্য রাজনীতিতে জায়গা করতে পারবেন?
শুভা দত্ত

ভয় দেখাচ্ছেন মুকুল রায়, ফাইলের ভয়। মারাত্মক তথ্য ঠাসা গোপন সব ফাইল নাকি সদ্য গেরুয়াধারী মুকুল রায়ের হাতে! সেসব ফাইলের তথ্য প্রকাশ পেলেই নাকি ধরাশায়ী হবে তৃণমূল! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্ব চলে যাবে! আর সেই সুযোগে ড্যাং ড্যাং করে মুকুল রায়ের বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের দখল নেবে। মমতা ভুলে বাংলার জনতাও মোদিজি অমিতজির বন্দনায় আত্মহারা হবে।
বিশদ

12th  November, 2017
ভারতের স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থাকে আরও জনকল্যাণমুখী ও সংগঠিত করা প্রয়োজন
বরুণ গান্ধী

 এবারে আমার আলোচনার বিষয়বস্তু হল, আমাদের দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে। খুব বেশিদিন নয়, মাত্র মাসদুয়েক আগের কথা। গোরখপুরের বি আর ডি হাসপাতালে ৬০ জন ছোট ছেলে-মেয়ে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রায় বিনা চিকিৎসায় মারা গেল। এর থেকে দুঃখের ঘটনা আর কিছু হয় না। খবরে প্রকাশ, প্রতিদিন এই হাসপাতালে গড়ে ২০০/২৫০ জন এনসেফ্যালাইটিস রোগে আক্রান্ত রোগী ভরতি হচ্ছিলেন। রোগীর এহেন ভিড়ে এখানকার চিকিৎসার পরিকাঠামো একরকম ভেঙে পড়ে। বিশদ

12th  November, 2017
একনজরে
বিএনএ, শিলিগুড়ি: শনিবার গভীর রাতে ভক্তিনগর থানার সেভক রোডের একটি গুদামে দুষ্কৃতী হামলায় এক নিরাপত্তা রক্ষী খুন হন। পুলিস জানিয়েছে, নিহত নিরাপত্তারক্ষীর নাম রঘুনাথ রায়(৬২)। অভিযুক্তের খোঁজে পুলিস তল্লাশি শুরু করেছে।  ...

বিএনএ, চুঁচুড়া: রবিবার শেষদিনে কার্তিক ঠাকুর দেখার জন্য সকাল থেকেই বাঁশবেড়িয়ার মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় জমালেন দর্শনার্থীরা। বেলা যত গড়িয়েছে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের ...

সংবাদদাতা, কান্দি: কান্দি মহকুমা এলাকায় অযত্নে শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছে সবুজমালা প্রকল্পের বহু মূল্যবান গাছ। বছরখানেক আগে কান্দি মহকুমা এলাকার বিভিন্ন রাস্তার দু’পাশে ওই গাছগুলি লাগানো হয়েছিল। কিন্তু বছর পেরনোর আগেই অর্ধেক গাছ শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছে যত্নের অভাবে। গাছের চারদিকের ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি, ১৯ নভেম্বর: দেরিতে হলেও শেষমেশ ঘুম ভাঙল দিল্লির আম আদমি পার্টির (আপ) সরকারের। দূষণ ইস্যুতে বারবার জাতীয় পরিবেশ আদালত (এনজিটি) এবং সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত গ্রিন বডি ইপিসিএ’র কাছ থেকে ধমক খেয়ে অবশেষে আজ দিল্লি সরকার ঘোষণা করল, ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

প্রেম-প্রণয়ে নতুনত্ব থাকবে। নতুন বন্ধু লাভ, ভ্রমণ ও মানসিক প্রফুল্লতা বজায় থাকবে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭৫০- মহীশূরের শাসক টিপু সুলতানের জন্ম।
১৯১০- রুশ সাহিত্যিক লিও তলস্তয়ের মৃত্যু।
১৯১৭- কলকাতায় প্রতিষ্ঠা হল বোস রিসার্চ ইনস্টিটিউট।
১৯৫৫- নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের পক্ষে টেস্টে প্রথম দ্বিশতরান করলেন উমরিগড় (২২৩)।  

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৪.০০ টাকা ৬৫.৬৮ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৩২ টাকা ৮৭.১৯ টাকা
ইউরো ৭৫.২০ টাকা ৭৭.৮৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
18th  November, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩০,১৯৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৮,৬৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৯,০৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
19th  November, 2017

দিন পঞ্জিকা

৪ অগ্রহায়ণ, ২০ নভেম্বর, সোমবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ৯/৩৬, নক্ষত্র-জ্যেষ্ঠা রাত্রি ১২/৪৮, সূ উ ৫/৫৬/২৫, অ ৪/৪৮/৪, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৭/২৩ মধ্যে পুনঃ ৮/৫০ গতে ১১/০ মধ্যে। রাত্রি ঘ ৭/২৬ গতে ১০/৬ মধ্যে পুনঃ ২/২৭ গতে ৩/১৯ মধ্যে, বারবেলা ঘ ৭/১৮ গতে ৮/৪০ মধ্যে পুনঃ ২/৫ গতে ৩/২৬ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/৪৪ গতে ১১/২২ মধ্যে।
৩ অগ্রহায়ণ, ২০ নভেম্বর, সোমবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ৭/৪২/২৮, জ্যেষ্ঠানক্ষত্র ১১/৫৫/৩৬, সূ উ ৫/৫৬/৫৮, অ ৪/৪৬/৫৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/২৩/৩৮, ৮/৫০/১৮-১১/০/১৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২৪/৫৮-১০/৫৫/১৮, ২/২৫/৩৭-৩/১৮/১৮, বারবেলা ২/৪/২৮-৩/২৬/৪৩, কালবেলা ৭/১৮/১৩-৮/৩৯/২৮, কালরাত্রি ৯/৪৩/১৩-১১/২১/৫৮। 
৩০ শফর

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
আইএসএল: মুম্বই সিটি এফসিকে ২-০ গোলে হারাল বেঙ্গালুরু এফসি 

19-11-2017 - 10:01:17 PM

পিছোল ‘পদ্মাবতী’-র মুক্তির তারিখ, ১ ডিসেম্বর মুক্তি পাচ্ছে না সিনেমাটি

19-11-2017 - 04:14:46 PM

বিষ্ণুপুরের লালবাঁধ এলাকায় কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুন, গ্রেপ্তার অভিযুক্ত

19-11-2017 - 04:10:28 PM

দুর্গাপুরে বৃদ্ধা খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার পরিচারিকা

19-11-2017 - 04:06:09 PM

উত্তর দিনাজপুরের হাসকুন্ডা এলাকায় পাওয়ার স্টেশনের জমি দখলকে ঘিরে সংঘর্ষ, জখম ২ পুলিশ কর্মী-সহ ৩ জন

19-11-2017 - 02:39:00 PM