বিশেষ নিবন্ধ
 

দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে সেই দুর্নীতিরই জালে আজ আটক কেজরিওয়ালরা!

বিশ্বনাথ চক্রবর্তী: আন্না হাজারের নেতৃত্বে ২০১২ সালে দিল্লির রামলীলা ময়দানে যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনশন আন্দোলন চলছে, সেই সময় অরবিন্দ কেজরিওয়াল ছিলেন আন্নার নিকট অনেকটা ঠাকুর রামকৃষ্ণের শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দের মতো। আন্নার যোগ্যতম শিষ্য ছিলেন কেজরিওয়াল। আন্না স্বপ্ন দেখেছিলেন কেজরিওয়ালের মতো যুব সংগঠকদের হাত ধরে ভারতীয় সমাজজীবন থেকে দুর্নীতিকে চিরকালের জন্য বিদায় দিতে। জয়প্রকাশ নারায়ণের নেতৃত্বে ইন্দিরা গান্ধীর শাসনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক বিপ্লবের ডাক ছিল স্বাধীন ভারতে প্রথাগত রাজনীতি ভেঙে নতুন রাজনৈতিক ঘরানা সৃষ্টির প্রথম প্রয়াস। যদিও ১৯৭৭ সালে মোরারজি দেশাইয়ের নেতৃত্বে দেশের প্রথম অকংগ্রেসি সরকার ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন কোনও ধারা সংযোজন করতে পারেনি। জয়প্রকাশের মৃত্যুর পর মূলত ক্ষমতার লড়াইয়ে ভেঙে খান খান হয়ে যায় জনতা পার্টির পরিবার।
২০১২ সালে আরও একবার আন্নার নেতৃত্বে জনজীবন থেকে দুর্নীতি মুক্তির জন্য ভারতজুড়ে মানুষ এক হয়েছিল। ইউপিএ জামানায় কয়লা থেকে টুজি স্পেক্ট্রামের মতো একের পর এক দুর্নীতি ফাঁস হওয়ার পর আন্না জন লোকপাল আইন পাশের ডাক দেন। সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি যে আমাদের জীবনের অভিশাপ এই ভাবনা সাধারণ মানুষের ভিতরে সঞ্চারিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্নার অনশন আন্দোলন সবদিক থেকেই রাজনীতির সাধারণ গতের বাইরে ছিল। আন্দোলনের প্রকরণ, স্লোগানের ভাষা, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সবই ছিল প্রথাগত রাজনীতির বাইরে। আন্নার নেতৃত্বে কেজরিওয়ালরা সেদিন মনমোহন সিং ও সোনিয়া গান্ধীকে একপ্রকার বাধ্য করেছিলেন সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে লোকপাল বিল পাশ করাতে। যদিও আজও ওই বিল কার্যকর করতে পারেনি মোদি সরকার। তবে নাগরিক জীবন থেকে দুর্নীতি মুক্তির ওই আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই অরবিন্দ কেজরিওয়ালের উত্থান। আন্নার নেতৃত্বে নাগরিক আন্দোলনের শক্তি প্রত্যক্ষ করেছিল ভারতীয়রা। নাগরিক সমাজের শক্তি নিয়ে যখন ভারতীয়দের মধ্যে একটু একটু করে প্রত্যয় তৈরি হচ্ছিল ঠিক তখনই আন্নার তৈরি নাগরিক মঞ্চকে রাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত করেন কেজরিওয়াল, প্রশান্ত ভূষণ, যোগেন্দ্র যাদবেরা।
তৈরি হল অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বে আম আদমি পার্টি। প্রকাশ হল দলের সংবিধান ও কর্মসূচি। সর্বার্থেই প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের কথা বলা হল ওই দলীয় সংবিধানে। স্লোগান উঠেছিল দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ ভারত গঠনের। যে-কোনও কর্মসূচি গ্রহণের ক্ষেত্রে জনগণ ও কর্মীদের ভাবনাকেই গুরুত্ব দেবার কথা বলা হয়েছিল। দেওয়া হয়েছিল বিকেন্দ্রিত অংশগ্রহণমূলক প্রশাসন গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি। ২০১৩-র দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের আগে মহল্লা কমিটি গঠন করে নাগরিকদের ভাবনা ও মতামতের ভিত্তিতে রচনা হল মহল্লাভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা। এতে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল। যদিও প্রথম থেকে গুরু আন্না হাজারে নাগরিক মঞ্চকে রাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত করার তীব্র বিরোধী ছিলেন। স্পষ্ট করেই জানিয়েছিলেন কেজরিওয়ালদের এই উদ্যোগে তাঁর কোনও সায় নেই। সংশয় প্রকাশ করেছিলেন আম আদমি পার্টির সাফল্য নিয়েও।
২০১৩-র দিল্লি বিধানসভায় ৭০টির মধ্যে ২৮টি আসন পেয়ে কংগ্রেসের সহাযোগিতায় সরকার গঠন করে আপ। কিন্তু, হঠাৎ করে সরকার গঠনের ৩৯ দিনের মাথায় কেজরিওয়াল মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে বসেন। ভেঙে যায় বিধানসভা। ২০১৪-র লোকসভা নির্বাচনে আপ সারা দেশে ৪০০টি আসনে লড়াই করে পাঞ্জাব থেকে মাত্র ৪টি আসনে জয় পায়। বারাণসীতে কেজরিওয়াল স্বয়ং মোদির কাছে পরাজিত হন। আপের অন্তর্জলি যাত্রা নিয়ে যখন দেশজুড়ে চর্চা হচ্ছিল তখন বিজেপি এবং কংগ্রেসের একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তে নতুন উদ্যমে দিল্লির রাজনীতিতে প্রবলভাবে উঠে আসে আপ। আপ নেতৃত্ব ভুল স্বীকার করে নেয়। তারা নিষ্ঠাসহ কঠোর পরিশ্রম করে। ২০১৫-র নির্বাচনে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। দিল্লির ৫৩ শতাংশ মানুষের সমর্থন লাভ করে এবং ৬৭টি আসন পায়। দ্বিতীয়বারের জন্য দিল্লিতে ক্ষমতা দখল করে আপ।
ক্ষমতায় এসে কিছু জনহিতকর কাজ দ্রুততার সঙ্গে আপ সরকার রূপায়ণ করতে শুরু করলেও দলের ভিতর গণতন্ত্রের অভাবের কথা উঠতে শুরু করে। কেজরিওয়ালের কথা ও কাজের ফারাক নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রশান্ত ভূষণ, যোগেন্দ্র যাদবরা দল ছাড়তে বাধ্য হন। দলকে সাধারণ নাগরিকমুখী না-করে কেজরিওয়াল-নির্ভর করা হচ্ছে—এই অভিযোগে একের পর এক নেতা দল ছাড়তে শুরু করেন। যে আম আদমি পার্টি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে রাজনৈতিক দর্শনে পরিণত করেছিল সেই দলেরই নেতাদের একাংশের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে শুরু করে! যেমন—(ক) কেজরিওয়াল মন্ত্রিসভার আইনমন্ত্রী জিতেন্দ্র তোমর জাল শিক্ষা শংসাপত্র ব্যবহার করার অভিযোগে জেল হেপাজতে যান। (খ) ৫২৬ কোটি টাকা খরচ করে বিভিন্ন সংবাদপত্রে যে বিজ্ঞাপন দিল্লি সরকার দিয়েছিল তা নিয়েও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। (গ) একইসঙ্গে দুটি লাভজনক পদে ২১ জন বিধায়ককে বসিয়ে ছিলেন কেজরিওয়াল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সংসদীয়সচিব পদ তৈরি করে বিধায়কদের বেতন, ভাতা, গাড়ি ইত্যাদি সরকারি সুযোগের ব্যবস্থা করে দেন। এমনকী নির্বাচন কমিশনের নজরের বাইরে এই ২১ জন বিধায়ককে রাখার জন্য দিল্লি বিধানসভায় আইন তৈরি করেছিলেন কেজরিওয়াল। যদিও তা শেষপর্যন্ত ধোপে টেকেনি। (ঘ) একাধিক বিধায়কের বিরুদ্ধে সরকারি ক্ষমতা ও অফিসের অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে বারবার। (ঙ) আপ-এর মন্ত্রী-বিধায়কদের বিদেশভ্রমণে যথেচ্ছ টাকা খরচ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। (চ) বিধায়ক পিছু বেতন ভাতা বাবদ দিল্লি সরকারের মাসিক খরচ ৮৪ হাজার টাকা। এর পরেও সরকারি কোষাগার নয়ছয়ের নানা অভিযোগ আপ বিধায়কদের বিরুদ্ধে বারবার উঠেছে। সব শেষে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধেও। একদা তাঁর মন্ত্রিসভার অন্যতম সদস্য কপিল মিশ্র অভিযোগ করেছেন যে তিনি নিজে চোখে দেখেছেন অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে ২ কোটি টাকা সত্যেন্দ্র জৈনের কাছ থেকে নিতে! দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদের ডাক দিয়ে রাজনীতিতে যাঁর উত্থান হয়েছিল তাঁর গায়েই শেষ পর্যন্ত কেলেঙ্কারির কালি লেগে গেল! পরিস্থিতি এমনই গুরুতর যে স্বয়ং গুরু আন্না হাজারে তাঁর একদা শিষ্য কেজরিওয়ালের পদত্যাগের দাবিতে অনশন করবেন বলে জানিয়েছেন।
দিল্লির রাজৌরি গার্ডেনের উপনির্বাচনে বিজেপির কাছে জামানত জব্দ হয়েছে। ভরাডুবি হয়েছে পাঞ্জাবে। এরপর দিল্লির পুর নির্বাচনেও বিজেপির কাছে চূড়ান্তভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে আজ আপ-এর অস্তিত্ব নিয়েই নানা মহলে সংশয় দানা বাঁধছে। ভারতীয় রাজনীতিতে উল্কার গতিতে যে দলের উত্থান ঘটেছিল সেই দল অস্তমিত হওয়া যেন এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। এই পরিপ্রেক্ষিতে সমাজবিজ্ঞানের ছাত্রদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল—যে রাজনৈতিক দল ভারতীয় রাজনীতিতে অন্য ঘরানা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা জাগিয়েছিল অল্প সময়ের মধ্যে কী এমন ঘটল যার ফলে আপ-কে আজ ‘অস্তমিত সূর্য’ বলে মনে হচ্ছে?
আপ গঠিত হয়েছিল নানা চিন্তা ভাবনা দর্শনের মানুষকে একত্রিত করে। আন্না হাজারে যতদিন দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন ততদিন দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে সামনে রেখে নানা দর্শনের মানুষগুলো একসঙ্গে ছিল। আন্না সরে যেতেই ভাবনা চিন্তার ভিন্নতা প্রকট হতে শুরু করে। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে যোগেন্দ্র যাদবের ভাবনার তফাত ছিল মূলত গণতন্ত্রের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে। আবার প্রশান্ত ভূষণের সঙ্গে কেজরিওয়ালের তফাত ছিল সরকারের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার প্রকরণের নিরিখে। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং নেতৃত্বের স্বৈরাচার আপ-কে আজ এই করুণ অবস্থায় পৌঁছে দিয়েছে। ২০১৪-এর লোকসভা নির্বাচনে সাধ্য এবং সামর্থ্যকে বিচার না করে দেশজুড়ে ৪০০ আসনে লড়াই করা যে ভুল সিদ্ধান্ত ছিল, তা আজ আপ-এর প্রথম সারির নেতারা একবাক্যে মানছেন। প্রতি পদক্ষেপে মোদি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতাকে কেজরিওয়াল রাজনৈতিক দর্শনে পরিণত করেছিলেন। প্রতিপদে মোদিকে তীব্র আক্রমণের পথে যাওয়া কেজরিওয়ালের দিক থেকে যে সঠিক ছিল না তা পাঞ্জাব নির্বাচনের ভরাডুবির পর আপ নেতৃত্ব মেনে নিয়েছেন।
দুর্নীতির পাশাপাশি একাধিক আপ বিধায়কের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও মারপিটের অভিযোগ ওঠে। বিধায়ক জিতেন্দ্র তোমরের বিরুদ্ধে যেমন জাল শিক্ষার শংসাপত্র ব্যবহারের অভিযোগ ছিল তেমনি সোমনাথ ভারতীর বিরুদ্ধে ছিল স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ। আবার জগদীপ সিংয়ের বিরুদ্ধে মারপিটের অভিযোগ উঠেছিল। একের পর এক বিধায়কদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম অভিযোগ ওঠায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আম আদমি পার্টির ভাবমূর্তি কলঙ্কিত হয়েছিল। যেভাবে সংসদীয়সচিব পদে ২১জন বিধায়ককে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল তাতে সাধারণ মানুষের আপ সম্পর্কে মোহভঙ্গ হয়। পাঞ্জাব বিধানসভা ও দিল্লি পুরসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর আমানাতুল্লা খান বনাম কুমার বিশ্বাসের লড়াইয়ে দলের কর্মীদের মনোবলে পুনরায় চিড় ধরে।
আম আদমি পার্টির অবস্থা অনেকটা অসম গণ পরিষদের ন্যায়। ১৯৮৫ সালে প্রফুল্ল মহন্ত, ভৃগু ফুকনের মতো যুব নেতারা গণআন্দোলনের মধ্যে দিয়ে ক্ষমতায় এসে প্রত্যাশা জাগালেও অভিজ্ঞতার অভাবে ব্যর্থ হয়েছিলেন তা পূরণ করতে। কেজরিওয়ালদেরও রাজনীতিতে অভিজ্ঞতার অভাব স্পষ্ট ধরা পড়ছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। পাশাপাশি যে ভিআইপি রাজনীতির বিরুদ্ধে আম আদমি পার্টি লড়াই শুরু করেছিল আজ সেই ভিআইপি সংস্কৃতির বেড়াজালেই তারা আবদ্ধ। যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন কেজরিওয়ালরা, সেই দুর্নীতির জালেই আজ আটকে পড়েছেন তাঁরা। প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠার আশ্বাস দিয়েছিলেন যাঁরা আজ তাঁদের বিরুদ্ধেই অস্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার অভাবের অভিযোগ উঠছে বারবার। আম আদমি পার্টি ভারতীয় রাজনীতিতে ভিন্ন ঘরানার স্বপ্ন দেখালেও, সেই স্বপ্ন পূরণ অধরাই থেকে গেল। প্রত্যাশা জাগিয়েও হারিয়ে গেল ভিন্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ। জনজীবন থেকে দুর্নীতি যতদিন না নির্মূল হবে ততদিন দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের রাজনীতির প্রাসঙ্গিতা কিন্তু রয়েই যাবে। অরবিন্দ, কুমার বিশ্বাসরা হেরে গেলেও হারিয়ে যাবে না আগামীতেও সাধারণ মানুষের ভিন্ন ঘরানার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ।
লেখক রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক
13th  May, 2017
এবারই প্রথম নয়, ’৯৯-এ কারগিল যুদ্ধেও পাক সেনারা নৃশংসতার নজির রেখেছিল

সীমান্তরক্ষায় অনেকদিন কাটানো পোড়খাওয়া এক ক্যাপ্টেন একদিন দার্শনিকের ঢঙে বললেন, আমরা এটুকুই বুঝি—যুদ্ধক্ষেত্রে জীবন মানে পদ্মপাতায় জল। এই ছিল, এই গড়িয়ে গেল। তাই কর্তব্য সম্পর্কে সজাগ থাকি, ভবিতব্য নিয়ে ভাবিত নই। অনেকগুলো প্রাণ গেলেও সেদিন আমরা কিন্তু পাকিস্তানকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়িনি। ধেয়ে আসা এলাকা থেকে খেদিয়ে বিদায় করেছিলাম। শহিদদের উদ্দেশে প্রণাম। মাতৃভূমির মর্যাদা আর নাগরিকদের সুরক্ষায় যারা এমনি করে নিজেদের বিলিয়ে দেন, দেশবাসীকে তাঁদের কথা আরও বেশি করে ভাবতে হবে।
আর, আঠারো বছর আগে কারগিলে সমুচিত জবাব পেয়েও পাকিস্তানের এখনও শিক্ষা হয়নি। তাই ওরা ফের বাড়াবাড়ির চেষ্টা করছে। এবার ওদের জন্য কারগিলের চেয়েও কড়া দাওয়াই দরকার।
বিশদ

 লালবাজার অভিযান: মমতার চালে বিজেপি মাত!

শুভা দত্ত: সিপিএমের নবান্ন অভিযানের ধাঁচে লালবাজার অভিযান করে রাজ্যবাসীকে চমকে দিতে চেয়েছিল রাজ্য বিজেপি। সেই মতো অভিযানের অনেক আগে থেকে তোড়জোড় প্রস্তুতিও চলেছিল জোরকদমে। রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত দিল্লি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় থেকে দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এই অভিযানের প্রচারে গত কয়েকদিন ধরে যে মনোভাব ব্যক্ত করেছিলেন তার মোদ্দা কথা ছিল, লড়কে লেঙ্গে ধাঁচের। বিশদ

28th  May, 2017
 হুট বলতে ফুট কাটার অসুখ

 সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়: আমার এক বন্ধু প্রায়ই ভারী অদ্ভুত অদ্ভুত কথা বলে। যেমন, জ্বর-জ্বালা, বুক ধড়ফড়ানি, হাঁপানি বা এই ধরনের নানান ব্যামোই শুধু অসুখ বা রোগ নয়। অপ্রয়োজনে মিথ্যে কথা বলা কিংবা আমরা যাকে চলতি ভাষায় ‘গুল’ মারা বলি সেগুলোও নাকি অসুখ। এবং এই সব ধরনের অসুখেরও নাকি ওষুধ আছে।
বিশদ

28th  May, 2017
নদী তুমি কার

বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়: ১৯৪৭ সালে দ্বিখণ্ডিত স্বাধীনতা কেবলমাত্র মানুষকে ভাগ করেনি, প্রাকৃতিক সম্পদেও ভাঙনের সাতকাহন সূচিত করে দেয়। অবশ্য দ্বিখণ্ডিত স্বাধীনতা পাবার আগে ব্রিটিশ শাসকদের সঙ্গে ভারতবর্ষের নেতৃত্ব যখন আলোচনা আরম্ভ করেন তখনই ভারতবর্ষ দ্বিখণ্ডিত হলে প্রাকৃতিক সম্পদ বিশেষ করে জলবণ্টনের নীতি কীভাবে স্থিরীকৃত হবে সে ব্যাপারে কয়েকজন আলোচনাকারী উত্থাপন করলেও, দ্বিখণ্ডিত স্বাধীনতা লাভ করার দুরন্ত আশা তদানীন্তন রাজনৈতিক নেতাদের মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছিল।
বিশদ

27th  May, 2017
চীন, পাকিস্তান বেজিংয়ে ফাঁকা মাঠ পেয়ে গেল ভারতের কূটনৈতিক ভুলের কারণে

কুমারেশ চক্রবর্তী: মাত্র কিছু দিন আগে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা আইসিসি’র এক ভোটে ৯-১ ভোটে হেরে প্রমাণ করল ক্রিকেট বিশ্বে ভারত কতটা বন্ধুহীন। যেসব দেশকে ভারত হাতে করে জাতে তুলেছে তারাও ভারতের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে।
বিশদ

27th  May, 2017
ভুলে যাওয়ার রাজনীতি

 সমৃদ্ধ দত্ত: আমাদের প্রিয় গুণ হল ভুলে যাওয়া। রাজনৈতিক নেতানেত্রীরা সেটা জানেন। তাই তাঁদের খুব সুবিধা হয় আমাদের বোকা বানাতে। এই তো মার্চ মাসে সংগীতশিল্পী কালিকাপ্রসাদের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর সোশ্যাল মিডিয়া এবং ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় বাংলা সংগীতজগতের অপূরণীয় ক্ষতির জন্য যথার্থ শোকজ্ঞাপন করা হয়েছিল।
বিশদ

26th  May, 2017
রোমান্টিক বিপ্লবের ৫০ বছর নকশালবাড়ি

অভিজিৎ দাশগুপ্ত: আগে কোনওদিন এই স্টেশনটা আমি দেখিনি। শহরের রাস্তা থেকে সরাসরি উঠে গিয়েছে ওভারব্রিজ। কয়েকটা রেললাইনের পরে সারি সারি ওয়াগনের পাশে শান্টিং করছে একটা ডিজেল ইঞ্জিন। এই স্টেশনটা আমি বা আমার মতো অনেকেই হয়তো আগে চোখে দেখিনি।
বিশদ

25th  May, 2017
 ভারতীয় সেনাবাহিনী ভালোভাবেই জানে কীভাবে শিক্ষা দেওয়া যায়

অরুণ রায়: পাকিস্তান আমাদের সৈন্যকে মেরেছে। তাই যুদ্ধ চাই। যুদ্ধ করেই পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দেওয়া যাবে। এই ভাবনা এখন সবথেকে বেশি চর্চিত। কিন্তু এটা মাথায় রাখতে হবে যুদ্ধ কখনওই কাম্য নয়। যুদ্ধ কোনও দেশই চায় না। সবচেয়ে বড় কথা, আমার মনে হয় যুদ্ধের জন্য পাকিস্তান বা আমরা কেউই তেমন তৈরি নয়।
বিশদ

25th  May, 2017



একনজরে
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ময়ূরেশ্বরের বড়তুড়িগ্রামে তৃণমূল কর্মী খুনের ঘটনায় নয়া মোড়। শুধুমাত্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, জমি সংক্রান্ত বিবাদের জেরেই নয়, খুনের পিছনে কাজ করেছে পুরানো আক্রোশও। ধৃতদের জেরা করে এমনটাই পুলিশ জানতে পেরেছে। উল্লেখ্য, শনিবার সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে আসগর আলি নামে ...

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়িতে এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৭৫ শতাংশের বেশি নম্বর পাওয়া ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা অন্য বছরগুলির তুলনায় অনেকটাই বেশি বলে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের উত্তরবঙ্গ আঞ্চলিক কার্যলয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ...

সিওল, ২৯ মে: তিন সপ্তাহের মধ্যে ফের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া। জাপানের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি তাদের অর্থনৈতিক অঞ্চলে আছড়ে পড়েছে। স্কাড মিসাইলটি ৪৫০ কিলোমিটার আকাশপথ ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফরেনসিক রিপোর্ট তৈরির শ্লথতা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে বিস্তর। আর সেকারণেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত ফরেনসিক রিপোর্ট তৈরির জন্য এক বছর আগে পুলিশকে দেওয়া হয়েছিল চারটি গাড়ি। এই গাড়িগুলি ফরেনসিক রিপোর্ট তৈরির উপযোগী যাবতীয় পরিকাঠামোয় সজ্জিত। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

ব্যাবসাসূত্রে উপার্জন বৃদ্ধি। বিদ্যায় মানসিক চঞ্চলতা বাধার কারণ হতে পারে। গুরুজনদের শরীর স্বাস্থ্য ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭৪৪: ইংরেজ লেখক আলেক্সজান্ডার পোপের মৃত্যু
১৭৭৮: ফ্রান্সের লেখক এবং দার্শনিক ভলতেয়ারের মৃত্যু
১৯১২: বিমান আবিষ্কারক উইলবার রাইটের মৃত্যু
১৯১৯: জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নাইট’ উপাধি ত্যাগ
১৯৪৫: অভিনেতা ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫০: অভিনেতা পরেশ রাওয়ালের জন্ম
২০১৩: চিত্র পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের মৃত্যু




ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৭০ টাকা ৬৫.৩৮ টাকা
পাউন্ড ৮১.৩৮ টাকা ৮৪.১৮ টাকা
ইউরো ৭০.৮৭ টাকা ৭৩.২৩ টাকা
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৯,৩৪৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৭,৮৪০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৮,২৬০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৩০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৪০০ টাকা

দিন পঞ্জিকা

 ১৬ জ্যৈষ্ঠ, ৩০ মে, মঙ্গলবার, পঞ্চমী দিবা ৮/৪৭, পুষ্যানক্ষত্র দিবা ১১/৫৭, সূ উ ৪/৫৫/৪৯, অ ৬/১২/১৩, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৪ পুনঃ ৯/২১-১২/০ পুনঃ ৩/৩১-৪/২৫, বারবেলা ৬/৩৬-৮/১৫ পুনঃ ১/১৩-২/৫৩, কালরাত্রি ৭/৩২-৮/৫৩।
১৫ জ্যৈষ্ঠ, ৩০ মে, মঙ্গলবার, পঞ্চমী ২/১৯/৫, পুষ্যানক্ষত্র অপরাহ্ণ ৫/২৮/৪৩, সূ উ ৪/৫৪/৪৫, অ ৬/১২/৩৬, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৪/১৯, ৯/২০/৪২-১২/০/১৬, ৩/৩৩/২-৪/২৬/১৩ রাত্রি ৬/৫৫/২৫, ১১/৫৫/৫-২/৩/৩১, বারবেলা ৬/৩৪/২৯-৮/১৪/১৩, কালবেলা ১/১৩/২৪-২/৫৩/৮, কালরাত্রি ৭/৩২/৫২-৮/৫৩/৮।
৩ রমজান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
পদার্থবিদ্যা নিয়ে গবেষণার ইচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম অর্চিষ্মান পাণিগ্রাহীর 
চিকিৎসক বা ইঞ্জিনিয়ার নয়। গবেষক হতে চায় এবছর উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম স্থান অধিকারি হুগলি কলেজিয়েট স্কুলের অর্চিষ্মান পাণিগ্রাহী। পদার্থবিদ্যা নিয়ে গবেষণা করার ইচ্ছে রয়েছে তাঁর। ২০১৫ সালে মাধ্যমিকে দ্বিতীয় হয়েছিল অর্চিষ্মান। উচ্চ মাধ্যমিকে তার থেকেও ভালো ফল করায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি সে। 

11:00:40 AM

চিকিৎসক হতে চায় উচ্চ মাধ্যমিকে তৃতীয় বাঁকুড়া জেলা স্কুলের সুরজিৎ লোহার 

10:54:51 AM

উচ্চ মাধ্যমিকে তৃতীয় (৯৭.৮%) শুভম সিংহ ও সুরজিৎ লোহার (বাঁকুড়া জেলা স্কুল) 

10:49:32 AM

উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম অর্চিষ্মাণ পানিগ্রাহি ( হুগলি কলেজিয়েট স্কুল) 

10:45:00 AM

উচ্চ মাধ্যমিকে দ্বিতীয় (৯৮.৪%) ময়াঙ্ক চট্টোপাধ্যায় (মাহেশ শ্রীরামকৃষ্ণ বিদ্যাভবন), উপমন্যু চক্রবর্তী (নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন) 

10:39:06 AM

সাফল্যের নিরিখে শীর্ষে পূর্ব মেদিনীপুর 

10:15:00 AM






বিশেষ নিবন্ধ
এবারই প্রথম নয়, ’৯৯-এ কারগিল যুদ্ধেও পাক সেনারা নৃশংসতার নজির রেখেছিল
সীমান্তরক্ষায় অনেকদিন কাটানো পোড়খাওয়া এক ক্যাপ্টেন একদিন দার্শনিকের ঢঙে বললেন, আমরা এটুকুই বুঝি—যুদ্ধক্ষেত্রে জীবন মানে ...
 লালবাজার অভিযান: মমতার চালে বিজেপি মাত!
শুভা দত্ত: সিপিএমের নবান্ন অভিযানের ধাঁচে লালবাজার অভিযান করে রাজ্যবাসীকে চমকে দিতে চেয়েছিল রাজ্য বিজেপি। ...
 হুট বলতে ফুট কাটার অসুখ
 সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়: আমার এক বন্ধু প্রায়ই ভারী অদ্ভুত অদ্ভুত কথা বলে। যেমন, জ্বর-জ্বালা, বুক ধড়ফড়ানি, ...
নদী তুমি কার
বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়: ১৯৪৭ সালে দ্বিখণ্ডিত স্বাধীনতা কেবলমাত্র মানুষকে ভাগ করেনি, প্রাকৃতিক সম্পদেও ভাঙনের সাতকাহন সূচিত ...
চীন, পাকিস্তান বেজিংয়ে ফাঁকা মাঠ পেয়ে গেল ভারতের কূটনৈতিক ভুলের কারণে
কুমারেশ চক্রবর্তী: মাত্র কিছু দিন আগে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা আইসিসি’র এক ভোটে ৯-১ ভোটে ...