বিশেষ নিবন্ধ
 

দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে সেই দুর্নীতিরই জালে আজ আটক কেজরিওয়ালরা!

বিশ্বনাথ চক্রবর্তী: আন্না হাজারের নেতৃত্বে ২০১২ সালে দিল্লির রামলীলা ময়দানে যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনশন আন্দোলন চলছে, সেই সময় অরবিন্দ কেজরিওয়াল ছিলেন আন্নার নিকট অনেকটা ঠাকুর রামকৃষ্ণের শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দের মতো। আন্নার যোগ্যতম শিষ্য ছিলেন কেজরিওয়াল। আন্না স্বপ্ন দেখেছিলেন কেজরিওয়ালের মতো যুব সংগঠকদের হাত ধরে ভারতীয় সমাজজীবন থেকে দুর্নীতিকে চিরকালের জন্য বিদায় দিতে। জয়প্রকাশ নারায়ণের নেতৃত্বে ইন্দিরা গান্ধীর শাসনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক বিপ্লবের ডাক ছিল স্বাধীন ভারতে প্রথাগত রাজনীতি ভেঙে নতুন রাজনৈতিক ঘরানা সৃষ্টির প্রথম প্রয়াস। যদিও ১৯৭৭ সালে মোরারজি দেশাইয়ের নেতৃত্বে দেশের প্রথম অকংগ্রেসি সরকার ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন কোনও ধারা সংযোজন করতে পারেনি। জয়প্রকাশের মৃত্যুর পর মূলত ক্ষমতার লড়াইয়ে ভেঙে খান খান হয়ে যায় জনতা পার্টির পরিবার।
২০১২ সালে আরও একবার আন্নার নেতৃত্বে জনজীবন থেকে দুর্নীতি মুক্তির জন্য ভারতজুড়ে মানুষ এক হয়েছিল। ইউপিএ জামানায় কয়লা থেকে টুজি স্পেক্ট্রামের মতো একের পর এক দুর্নীতি ফাঁস হওয়ার পর আন্না জন লোকপাল আইন পাশের ডাক দেন। সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি যে আমাদের জীবনের অভিশাপ এই ভাবনা সাধারণ মানুষের ভিতরে সঞ্চারিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্নার অনশন আন্দোলন সবদিক থেকেই রাজনীতির সাধারণ গতের বাইরে ছিল। আন্দোলনের প্রকরণ, স্লোগানের ভাষা, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সবই ছিল প্রথাগত রাজনীতির বাইরে। আন্নার নেতৃত্বে কেজরিওয়ালরা সেদিন মনমোহন সিং ও সোনিয়া গান্ধীকে একপ্রকার বাধ্য করেছিলেন সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে লোকপাল বিল পাশ করাতে। যদিও আজও ওই বিল কার্যকর করতে পারেনি মোদি সরকার। তবে নাগরিক জীবন থেকে দুর্নীতি মুক্তির ওই আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই অরবিন্দ কেজরিওয়ালের উত্থান। আন্নার নেতৃত্বে নাগরিক আন্দোলনের শক্তি প্রত্যক্ষ করেছিল ভারতীয়রা। নাগরিক সমাজের শক্তি নিয়ে যখন ভারতীয়দের মধ্যে একটু একটু করে প্রত্যয় তৈরি হচ্ছিল ঠিক তখনই আন্নার তৈরি নাগরিক মঞ্চকে রাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত করেন কেজরিওয়াল, প্রশান্ত ভূষণ, যোগেন্দ্র যাদবেরা।
তৈরি হল অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বে আম আদমি পার্টি। প্রকাশ হল দলের সংবিধান ও কর্মসূচি। সর্বার্থেই প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের কথা বলা হল ওই দলীয় সংবিধানে। স্লোগান উঠেছিল দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ ভারত গঠনের। যে-কোনও কর্মসূচি গ্রহণের ক্ষেত্রে জনগণ ও কর্মীদের ভাবনাকেই গুরুত্ব দেবার কথা বলা হয়েছিল। দেওয়া হয়েছিল বিকেন্দ্রিত অংশগ্রহণমূলক প্রশাসন গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি। ২০১৩-র দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের আগে মহল্লা কমিটি গঠন করে নাগরিকদের ভাবনা ও মতামতের ভিত্তিতে রচনা হল মহল্লাভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা। এতে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল। যদিও প্রথম থেকে গুরু আন্না হাজারে নাগরিক মঞ্চকে রাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত করার তীব্র বিরোধী ছিলেন। স্পষ্ট করেই জানিয়েছিলেন কেজরিওয়ালদের এই উদ্যোগে তাঁর কোনও সায় নেই। সংশয় প্রকাশ করেছিলেন আম আদমি পার্টির সাফল্য নিয়েও।
২০১৩-র দিল্লি বিধানসভায় ৭০টির মধ্যে ২৮টি আসন পেয়ে কংগ্রেসের সহাযোগিতায় সরকার গঠন করে আপ। কিন্তু, হঠাৎ করে সরকার গঠনের ৩৯ দিনের মাথায় কেজরিওয়াল মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে বসেন। ভেঙে যায় বিধানসভা। ২০১৪-র লোকসভা নির্বাচনে আপ সারা দেশে ৪০০টি আসনে লড়াই করে পাঞ্জাব থেকে মাত্র ৪টি আসনে জয় পায়। বারাণসীতে কেজরিওয়াল স্বয়ং মোদির কাছে পরাজিত হন। আপের অন্তর্জলি যাত্রা নিয়ে যখন দেশজুড়ে চর্চা হচ্ছিল তখন বিজেপি এবং কংগ্রেসের একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তে নতুন উদ্যমে দিল্লির রাজনীতিতে প্রবলভাবে উঠে আসে আপ। আপ নেতৃত্ব ভুল স্বীকার করে নেয়। তারা নিষ্ঠাসহ কঠোর পরিশ্রম করে। ২০১৫-র নির্বাচনে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। দিল্লির ৫৩ শতাংশ মানুষের সমর্থন লাভ করে এবং ৬৭টি আসন পায়। দ্বিতীয়বারের জন্য দিল্লিতে ক্ষমতা দখল করে আপ।
ক্ষমতায় এসে কিছু জনহিতকর কাজ দ্রুততার সঙ্গে আপ সরকার রূপায়ণ করতে শুরু করলেও দলের ভিতর গণতন্ত্রের অভাবের কথা উঠতে শুরু করে। কেজরিওয়ালের কথা ও কাজের ফারাক নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রশান্ত ভূষণ, যোগেন্দ্র যাদবরা দল ছাড়তে বাধ্য হন। দলকে সাধারণ নাগরিকমুখী না-করে কেজরিওয়াল-নির্ভর করা হচ্ছে—এই অভিযোগে একের পর এক নেতা দল ছাড়তে শুরু করেন। যে আম আদমি পার্টি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে রাজনৈতিক দর্শনে পরিণত করেছিল সেই দলেরই নেতাদের একাংশের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে শুরু করে! যেমন—(ক) কেজরিওয়াল মন্ত্রিসভার আইনমন্ত্রী জিতেন্দ্র তোমর জাল শিক্ষা শংসাপত্র ব্যবহার করার অভিযোগে জেল হেপাজতে যান। (খ) ৫২৬ কোটি টাকা খরচ করে বিভিন্ন সংবাদপত্রে যে বিজ্ঞাপন দিল্লি সরকার দিয়েছিল তা নিয়েও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। (গ) একইসঙ্গে দুটি লাভজনক পদে ২১ জন বিধায়ককে বসিয়ে ছিলেন কেজরিওয়াল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সংসদীয়সচিব পদ তৈরি করে বিধায়কদের বেতন, ভাতা, গাড়ি ইত্যাদি সরকারি সুযোগের ব্যবস্থা করে দেন। এমনকী নির্বাচন কমিশনের নজরের বাইরে এই ২১ জন বিধায়ককে রাখার জন্য দিল্লি বিধানসভায় আইন তৈরি করেছিলেন কেজরিওয়াল। যদিও তা শেষপর্যন্ত ধোপে টেকেনি। (ঘ) একাধিক বিধায়কের বিরুদ্ধে সরকারি ক্ষমতা ও অফিসের অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে বারবার। (ঙ) আপ-এর মন্ত্রী-বিধায়কদের বিদেশভ্রমণে যথেচ্ছ টাকা খরচ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। (চ) বিধায়ক পিছু বেতন ভাতা বাবদ দিল্লি সরকারের মাসিক খরচ ৮৪ হাজার টাকা। এর পরেও সরকারি কোষাগার নয়ছয়ের নানা অভিযোগ আপ বিধায়কদের বিরুদ্ধে বারবার উঠেছে। সব শেষে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধেও। একদা তাঁর মন্ত্রিসভার অন্যতম সদস্য কপিল মিশ্র অভিযোগ করেছেন যে তিনি নিজে চোখে দেখেছেন অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে ২ কোটি টাকা সত্যেন্দ্র জৈনের কাছ থেকে নিতে! দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদের ডাক দিয়ে রাজনীতিতে যাঁর উত্থান হয়েছিল তাঁর গায়েই শেষ পর্যন্ত কেলেঙ্কারির কালি লেগে গেল! পরিস্থিতি এমনই গুরুতর যে স্বয়ং গুরু আন্না হাজারে তাঁর একদা শিষ্য কেজরিওয়ালের পদত্যাগের দাবিতে অনশন করবেন বলে জানিয়েছেন।
দিল্লির রাজৌরি গার্ডেনের উপনির্বাচনে বিজেপির কাছে জামানত জব্দ হয়েছে। ভরাডুবি হয়েছে পাঞ্জাবে। এরপর দিল্লির পুর নির্বাচনেও বিজেপির কাছে চূড়ান্তভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে আজ আপ-এর অস্তিত্ব নিয়েই নানা মহলে সংশয় দানা বাঁধছে। ভারতীয় রাজনীতিতে উল্কার গতিতে যে দলের উত্থান ঘটেছিল সেই দল অস্তমিত হওয়া যেন এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। এই পরিপ্রেক্ষিতে সমাজবিজ্ঞানের ছাত্রদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল—যে রাজনৈতিক দল ভারতীয় রাজনীতিতে অন্য ঘরানা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা জাগিয়েছিল অল্প সময়ের মধ্যে কী এমন ঘটল যার ফলে আপ-কে আজ ‘অস্তমিত সূর্য’ বলে মনে হচ্ছে?
আপ গঠিত হয়েছিল নানা চিন্তা ভাবনা দর্শনের মানুষকে একত্রিত করে। আন্না হাজারে যতদিন দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন ততদিন দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে সামনে রেখে নানা দর্শনের মানুষগুলো একসঙ্গে ছিল। আন্না সরে যেতেই ভাবনা চিন্তার ভিন্নতা প্রকট হতে শুরু করে। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে যোগেন্দ্র যাদবের ভাবনার তফাত ছিল মূলত গণতন্ত্রের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে। আবার প্রশান্ত ভূষণের সঙ্গে কেজরিওয়ালের তফাত ছিল সরকারের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার প্রকরণের নিরিখে। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং নেতৃত্বের স্বৈরাচার আপ-কে আজ এই করুণ অবস্থায় পৌঁছে দিয়েছে। ২০১৪-এর লোকসভা নির্বাচনে সাধ্য এবং সামর্থ্যকে বিচার না করে দেশজুড়ে ৪০০ আসনে লড়াই করা যে ভুল সিদ্ধান্ত ছিল, তা আজ আপ-এর প্রথম সারির নেতারা একবাক্যে মানছেন। প্রতি পদক্ষেপে মোদি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতাকে কেজরিওয়াল রাজনৈতিক দর্শনে পরিণত করেছিলেন। প্রতিপদে মোদিকে তীব্র আক্রমণের পথে যাওয়া কেজরিওয়ালের দিক থেকে যে সঠিক ছিল না তা পাঞ্জাব নির্বাচনের ভরাডুবির পর আপ নেতৃত্ব মেনে নিয়েছেন।
দুর্নীতির পাশাপাশি একাধিক আপ বিধায়কের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও মারপিটের অভিযোগ ওঠে। বিধায়ক জিতেন্দ্র তোমরের বিরুদ্ধে যেমন জাল শিক্ষার শংসাপত্র ব্যবহারের অভিযোগ ছিল তেমনি সোমনাথ ভারতীর বিরুদ্ধে ছিল স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ। আবার জগদীপ সিংয়ের বিরুদ্ধে মারপিটের অভিযোগ উঠেছিল। একের পর এক বিধায়কদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম অভিযোগ ওঠায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আম আদমি পার্টির ভাবমূর্তি কলঙ্কিত হয়েছিল। যেভাবে সংসদীয়সচিব পদে ২১জন বিধায়ককে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল তাতে সাধারণ মানুষের আপ সম্পর্কে মোহভঙ্গ হয়। পাঞ্জাব বিধানসভা ও দিল্লি পুরসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর আমানাতুল্লা খান বনাম কুমার বিশ্বাসের লড়াইয়ে দলের কর্মীদের মনোবলে পুনরায় চিড় ধরে।
আম আদমি পার্টির অবস্থা অনেকটা অসম গণ পরিষদের ন্যায়। ১৯৮৫ সালে প্রফুল্ল মহন্ত, ভৃগু ফুকনের মতো যুব নেতারা গণআন্দোলনের মধ্যে দিয়ে ক্ষমতায় এসে প্রত্যাশা জাগালেও অভিজ্ঞতার অভাবে ব্যর্থ হয়েছিলেন তা পূরণ করতে। কেজরিওয়ালদেরও রাজনীতিতে অভিজ্ঞতার অভাব স্পষ্ট ধরা পড়ছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। পাশাপাশি যে ভিআইপি রাজনীতির বিরুদ্ধে আম আদমি পার্টি লড়াই শুরু করেছিল আজ সেই ভিআইপি সংস্কৃতির বেড়াজালেই তারা আবদ্ধ। যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন কেজরিওয়ালরা, সেই দুর্নীতির জালেই আজ আটকে পড়েছেন তাঁরা। প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠার আশ্বাস দিয়েছিলেন যাঁরা আজ তাঁদের বিরুদ্ধেই অস্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার অভাবের অভিযোগ উঠছে বারবার। আম আদমি পার্টি ভারতীয় রাজনীতিতে ভিন্ন ঘরানার স্বপ্ন দেখালেও, সেই স্বপ্ন পূরণ অধরাই থেকে গেল। প্রত্যাশা জাগিয়েও হারিয়ে গেল ভিন্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ। জনজীবন থেকে দুর্নীতি যতদিন না নির্মূল হবে ততদিন দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের রাজনীতির প্রাসঙ্গিতা কিন্তু রয়েই যাবে। অরবিন্দ, কুমার বিশ্বাসরা হেরে গেলেও হারিয়ে যাবে না আগামীতেও সাধারণ মানুষের ভিন্ন ঘরানার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ।
লেখক রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক
13th  May, 2017
বিশ্বচরাচরের আনন্দ
অমর মিত্র

 সারা বছর কায়ক্লেশে বেঁচে থাকি, উৎসব নিয়ে আসে তা থেকে মুক্তি। বাঙালির জীবনে বারো মাসে তেরো পার্বণ। এর ভিতরেই বড় উৎসব হিন্দুর দুর্গোৎসব আর মুসলমানের ইদুল ফিতর, খুশির ইদ, আর খ্রিস্টানের বড় দিন। তিন মহা উৎসব বাদ দিয়ে ধর্মীয় এবং লোকপুরাণের সঙ্গে যুক্ত আরো কত যে উৎসব, টুসু, ভাদু, নবান্ন, থেকে নানা ব্রত শবে বরাত, পীর ফকিরের উরস—সব। সমস্ত উৎসবই আনন্দের, সমস্ত উৎসবই আত্মীয় বান্ধব, অবান্ধবে মিলনের।
বিশদ

কোনও বিঘ্নই বাঙালির পুজোর আনন্দ পণ্ড করতে পারবে না
শুভা দত্ত

পুজো এসে গেল। মহাপূজা। ঝড়বৃষ্টি, বানবন্যার ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে শেষপর্যন্ত আমাদের সংবৎসরের আনন্দের দিনগুলো এসে পড়ল দোরগোড়ায়। গত মঙ্গলবার মহালয়ায় দেবীপক্ষের সূচনা হতেই মহামায়া বন্দনার শেষমুহূর্তের তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছিল আসমুদ্রহিমাচল বাংলায়। বিশদ

24th  September, 2017
ডায়নেস্টি চালচিত্র ও মাছরাঙা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

রাহুল গান্ধী খুব সত্যি দুটো কথা বলেছেন। কিছুদিন ধরে উনি প্রবাসী। আমেরিকায় রয়েছেন। বিভিন্ন নামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলছেন। ভাব বিনিময় করছেন। সেলফি তুলছেন। এইসব অনুষ্ঠানে প্রায় প্রতিদিনই তিনি ওই কথা দুটি বলেছেন। এ নিয়ে ভারতের রাজনীতিও বেশ সরগরম।
বিশদ

24th  September, 2017
আমেরিকায় শারদোৎসব
আলোলিকা মুখোপাধ্যায়

 প্রবাসে দীর্ঘকাল এক সমান্তরাল জীবনযাপনে অভ্যস্ত বাঙালির দুর্গাপুজোর ছুটি বলে কিছু নেই। দেশে যখন পুজোর ছুটি, এখানে তখন গ্রীষ্ম অবকাশের শেষে স্কুল, কলেজ ইউনিভার্সিটি খুলে গিয়েছে। তবু পুজোর সময় আসে কাছে। মহালয়ার পরে দেবীপক্ষে নির্ধারিত দিনে পুজো হয় রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ, আদ্যাপীঠ আর আমেরিকার কয়েকটি শহরে বাঙালি প্রতিষ্ঠিত মন্দিরে।
বিশদ

23rd  September, 2017
রীতিনীতি-আচরণে দুর্গাপূজার সেকাল ও একাল
গৌরী দে

 পুরাণ-উপপুরাণ অনুসারে শরৎকালে রামচন্দ্র রাবণ বধের আশায় যে পূজা করেছিলেন সেটাই অকাল বোধন। দক্ষিণায়নে দেবতারা ঘুমিয়ে থাকেন। শরৎকালে শ্রাবণ থেকে পৌষ পর্যন্ত এই কাল। তাই দেবীকে জাগ্রত করতে রামচন্দ্রকে অকাল বোধন করতে হয়। জয়লাভের জন্য তিনি দেবী দুর্গার শরণাপন্ন হন।
বিশদ

23rd  September, 2017
ছেলেবেলার দুর্গাপূজা—কিছু স্মৃতি কিছু বেদনা
ভগীরথ মিশ্র

 ছেলেবেলায় আমাদের গাঁয়ে কোনও বারোয়ারি দুর্গাপুজো হ’ত না। গোটা এলাকা জুড়ে কেবল আমাদের গাঁয়ের জমিদারবাড়িতেই হ’ত পারিবারিক দুর্গাপুজো। সত্যি কথা বলতে কী, দুর্গাপূজাটা গাঁয়ের অধিকাংশ মানুষের কাছেই কোনও সুখকর অভিজ্ঞতা ছিল না।
বিশদ

22nd  September, 2017
বদলে যাচ্ছি আমরা?
সমৃদ্ধ দত্ত

 থিমের পুজো করলেই তো পুরস্কার পাওয়া যায়। স্পনসর পাওয়া যায়। মিডিয়ায় ছবি বেরোয়। কিন্তু কই! তা তো সকলে করে না? কেন করে না? তাহলে সেই লোকগুলোর কী হবে? যাঁরা থিমের পুজো দেখতে মোটেই আগ্রহী নয়।
বিশদ

22nd  September, 2017
অভিযুক্তের গায়ে নারীঘটিত অপবাদের কাদা না ছেটালে কি শাস্তি অসম্পূর্ণ থাকত!
মেরুনীল দাশগুপ্ত

সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়, ব্রতীন সেনগুপ্ত, লক্ষ্মণ শেঠ, রেজ্জাক মোল্লা, সইফুদ্দিন চৌধুরির মতো অনেক তাবড় নেতাকেই নানা সময় দল ছাড়তে হয়েছে। বহিষ্কারের অপমান বইতে হয়েছে। কিন্তু, কারও গায়ে এত কালি লাগাবার দরকার কি পড়েছিল? পড়েনি। বাদবাকি সকলের ক্ষেত্রেই শাস্তির ব্যাপারটা দলীয় নীতি-নৈতিকতার দ্বান্দ্বিক পরিসরেই সীমাবদ্ধ ছিল।
বিশদ

21st  September, 2017
একনজরে
বিএনএ, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা দার্জিলিং: সোমবার দার্জিলিংয়ের লালকুঠিতে জিটিএ’র প্রশাসক পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসাবে কাজে যোগ দিলেন মোর্চা নেতা বিনয় তামাং। সোমবার আধিকারিকদের নিয়ে প্রথম বৈঠকেই ...

 নয়াদিল্লি, ২৫ সেপ্টেম্বর: স্টেট ব্যাংকের নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়ামের কাছ থেকে ঋণ নেওয়া ছ’হাজার কোটি টাকার বেশিটাই কাগুজে কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছেন কিংফিশার কর্তা বিজয় মালিয়া। তদন্তে নেমে এমনই তথ্য পেয়েছে সিবিআই ও ইডি। খুব তাড়াতাড়ি এই তথ্য সম্বলিত চার্জশিট দেবে ওই দুই ...

অভিজিৎ সরকার  শিলিগুড়ি, ২৫ সেপ্টেম্বর: রবিবার লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরই রাতে টিম হোটেলে কেক কেটে সেলিব্রেশন করেছেন ইস্ট বেঙ্গল ফুটবলাররা। মঙ্গলবার সকালে ক্লাব তাঁবুতে ...

 হরিহর ঘোষাল, বারাকপুর, বিএনএ: কামারহাটি পুরসভায় রেশন কার্ড নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের কার্ড প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিলি করা না হলেও একজন রেশন ডিলারের কাছে ভূরি ভূরি কার্ড জমা পড়েছে। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

গুপ্ত শত্রুতা বৃদ্ধি। কর্মে উন্নতি। ব্যবসায় অতিরিক্ত সতর্কতার প্রয়োজন। উচ্চশিক্ষায় সাফল্য। শরীর-স্বাস্থ্য ভালো যাবে।প্রতিকার: বট ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮২০: মনীষী ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্ম
১৯২৩: অভিনেতা দেব আনন্দের জন্ম
১৯৩২: ভারতের চতুর্দশ প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের জন্ম
১৯৭৭: নৃত্যশিল্পী উদয়শংকরের মৃত্যু
১৯৮৯: সঙ্গীতশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৪.০১ টাকা ৬৫.৬৯ টাকা
পাউন্ড ৮৬.২৫ টাকা ৮৯.১৭ টাকা
ইউরো ৭৬.০১ টাকা ৭৮.৬৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩০,২৫৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৮,৭০৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৯,১৩৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৯,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৯,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৯ আশ্বিন, ২৬ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার, ষষ্ঠী, নক্ষত্র-অনুরাধা দং ৩/৫১ দিবা ঘ ৭/৩, সূ উ ৫/৩০/২, অ ৫/২৬/১২, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/১৭ মধ্যে পুনঃ ৭/৫ গতে ১১/৪ মধ্যে। রাত্রি ঘ ৭/৪৯ গতে ৮/৩৯ মধ্যে পুনঃ ৯/২৭ গতে ১১/৫২ মধ্যে পুনঃ ১/২৯ গতে ৩/৬ মধ্যে পুনঃ ৪/৪১ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৬/৫৯ গতে ৮/২৯ মধ্যে পুনঃ ১২/৫৮ গতে ২/২৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/৫৯ গতে ৮/২৮ মধ্যে।
৯ আশ্বিন, ২৬ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার, ষষ্ঠী, অনুরাধানক্ষত্র ৭/৯/৪, সূ উ ৫/২৮/৩৬, অ ৫/২৭/১৩, অমৃতযোগ দিবা ৬/১৬/৩০, ৭/৪/২৫-১১/৩/৫৭, রাত্রি ৭/৫১/৩০-৮/৩৯/৩৫, ৯/২৭/৪১-১১/৫১/৫৭, ১/২৮/৮-৩/৪/১৯, ৪/৪০/৩০-৫/২৮/৫৬, বারবেলা ৬/৫৭/২৬-৮/২৮/১৫, কালবেলা ১২/৫৭/৪৪-২/২৭/৩৪, কালরাত্রি ৬/৫৭/২৩-৮/২৭/৩৪।
 ৫ মহরম

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ভিড়ের জেরে আজও বাড়ানো হল রাতের শেষ মেট্রোর সময় 
ষষ্ঠীর রাতে কলকাতা শহরে জনজোয়ারের জেরে এদিনও রাতের ...বিশদ

09:42:56 PM

সল্টলেকের ইসি ব্লকের কাছে অটো উলটে চালক-সহ জখম ৪

02:37:00 PM

বড়সড় রেল দুর্ঘটনায় হাত থেকে রক্ষা, একই লাইনে চলে এল ৩টি ট্রেন
বড়সড় রেল দুর্ঘটনায় হাত থেকে রক্ষা। এলাহাবাদের কাছে ...বিশদ

01:44:46 PM

গাজিয়াবাদে ব্যবসায়ীকে খুন, মৃতের নাম রাজেন্দ্র আগরওয়াল (৭৫)

01:24:00 PM

আজ দিল্লি আদালতে দুপুর ২টো নাগাদ হানিপ্রীতের আগাম জামিনের শুনানি

01:19:00 PM

দার্জিলিংয়ে খুলল অধিকাংশ দোকানপাট

01:08:00 PM

ঝাড়গ্রামে ২টি বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরি
সোমবার রাতে ঝাড়গ্রাম শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বামদা এলাকায় চুরির ...বিশদ

01:01:00 PM