বিশেষ নিবন্ধ
 

দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে সেই দুর্নীতিরই জালে আজ আটক কেজরিওয়ালরা!

বিশ্বনাথ চক্রবর্তী: আন্না হাজারের নেতৃত্বে ২০১২ সালে দিল্লির রামলীলা ময়দানে যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনশন আন্দোলন চলছে, সেই সময় অরবিন্দ কেজরিওয়াল ছিলেন আন্নার নিকট অনেকটা ঠাকুর রামকৃষ্ণের শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দের মতো। আন্নার যোগ্যতম শিষ্য ছিলেন কেজরিওয়াল। আন্না স্বপ্ন দেখেছিলেন কেজরিওয়ালের মতো যুব সংগঠকদের হাত ধরে ভারতীয় সমাজজীবন থেকে দুর্নীতিকে চিরকালের জন্য বিদায় দিতে। জয়প্রকাশ নারায়ণের নেতৃত্বে ইন্দিরা গান্ধীর শাসনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক বিপ্লবের ডাক ছিল স্বাধীন ভারতে প্রথাগত রাজনীতি ভেঙে নতুন রাজনৈতিক ঘরানা সৃষ্টির প্রথম প্রয়াস। যদিও ১৯৭৭ সালে মোরারজি দেশাইয়ের নেতৃত্বে দেশের প্রথম অকংগ্রেসি সরকার ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন কোনও ধারা সংযোজন করতে পারেনি। জয়প্রকাশের মৃত্যুর পর মূলত ক্ষমতার লড়াইয়ে ভেঙে খান খান হয়ে যায় জনতা পার্টির পরিবার।
২০১২ সালে আরও একবার আন্নার নেতৃত্বে জনজীবন থেকে দুর্নীতি মুক্তির জন্য ভারতজুড়ে মানুষ এক হয়েছিল। ইউপিএ জামানায় কয়লা থেকে টুজি স্পেক্ট্রামের মতো একের পর এক দুর্নীতি ফাঁস হওয়ার পর আন্না জন লোকপাল আইন পাশের ডাক দেন। সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি যে আমাদের জীবনের অভিশাপ এই ভাবনা সাধারণ মানুষের ভিতরে সঞ্চারিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্নার অনশন আন্দোলন সবদিক থেকেই রাজনীতির সাধারণ গতের বাইরে ছিল। আন্দোলনের প্রকরণ, স্লোগানের ভাষা, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সবই ছিল প্রথাগত রাজনীতির বাইরে। আন্নার নেতৃত্বে কেজরিওয়ালরা সেদিন মনমোহন সিং ও সোনিয়া গান্ধীকে একপ্রকার বাধ্য করেছিলেন সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে লোকপাল বিল পাশ করাতে। যদিও আজও ওই বিল কার্যকর করতে পারেনি মোদি সরকার। তবে নাগরিক জীবন থেকে দুর্নীতি মুক্তির ওই আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই অরবিন্দ কেজরিওয়ালের উত্থান। আন্নার নেতৃত্বে নাগরিক আন্দোলনের শক্তি প্রত্যক্ষ করেছিল ভারতীয়রা। নাগরিক সমাজের শক্তি নিয়ে যখন ভারতীয়দের মধ্যে একটু একটু করে প্রত্যয় তৈরি হচ্ছিল ঠিক তখনই আন্নার তৈরি নাগরিক মঞ্চকে রাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত করেন কেজরিওয়াল, প্রশান্ত ভূষণ, যোগেন্দ্র যাদবেরা।
তৈরি হল অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বে আম আদমি পার্টি। প্রকাশ হল দলের সংবিধান ও কর্মসূচি। সর্বার্থেই প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের কথা বলা হল ওই দলীয় সংবিধানে। স্লোগান উঠেছিল দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ ভারত গঠনের। যে-কোনও কর্মসূচি গ্রহণের ক্ষেত্রে জনগণ ও কর্মীদের ভাবনাকেই গুরুত্ব দেবার কথা বলা হয়েছিল। দেওয়া হয়েছিল বিকেন্দ্রিত অংশগ্রহণমূলক প্রশাসন গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি। ২০১৩-র দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের আগে মহল্লা কমিটি গঠন করে নাগরিকদের ভাবনা ও মতামতের ভিত্তিতে রচনা হল মহল্লাভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা। এতে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল। যদিও প্রথম থেকে গুরু আন্না হাজারে নাগরিক মঞ্চকে রাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত করার তীব্র বিরোধী ছিলেন। স্পষ্ট করেই জানিয়েছিলেন কেজরিওয়ালদের এই উদ্যোগে তাঁর কোনও সায় নেই। সংশয় প্রকাশ করেছিলেন আম আদমি পার্টির সাফল্য নিয়েও।
২০১৩-র দিল্লি বিধানসভায় ৭০টির মধ্যে ২৮টি আসন পেয়ে কংগ্রেসের সহাযোগিতায় সরকার গঠন করে আপ। কিন্তু, হঠাৎ করে সরকার গঠনের ৩৯ দিনের মাথায় কেজরিওয়াল মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে বসেন। ভেঙে যায় বিধানসভা। ২০১৪-র লোকসভা নির্বাচনে আপ সারা দেশে ৪০০টি আসনে লড়াই করে পাঞ্জাব থেকে মাত্র ৪টি আসনে জয় পায়। বারাণসীতে কেজরিওয়াল স্বয়ং মোদির কাছে পরাজিত হন। আপের অন্তর্জলি যাত্রা নিয়ে যখন দেশজুড়ে চর্চা হচ্ছিল তখন বিজেপি এবং কংগ্রেসের একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তে নতুন উদ্যমে দিল্লির রাজনীতিতে প্রবলভাবে উঠে আসে আপ। আপ নেতৃত্ব ভুল স্বীকার করে নেয়। তারা নিষ্ঠাসহ কঠোর পরিশ্রম করে। ২০১৫-র নির্বাচনে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। দিল্লির ৫৩ শতাংশ মানুষের সমর্থন লাভ করে এবং ৬৭টি আসন পায়। দ্বিতীয়বারের জন্য দিল্লিতে ক্ষমতা দখল করে আপ।
ক্ষমতায় এসে কিছু জনহিতকর কাজ দ্রুততার সঙ্গে আপ সরকার রূপায়ণ করতে শুরু করলেও দলের ভিতর গণতন্ত্রের অভাবের কথা উঠতে শুরু করে। কেজরিওয়ালের কথা ও কাজের ফারাক নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রশান্ত ভূষণ, যোগেন্দ্র যাদবরা দল ছাড়তে বাধ্য হন। দলকে সাধারণ নাগরিকমুখী না-করে কেজরিওয়াল-নির্ভর করা হচ্ছে—এই অভিযোগে একের পর এক নেতা দল ছাড়তে শুরু করেন। যে আম আদমি পার্টি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে রাজনৈতিক দর্শনে পরিণত করেছিল সেই দলেরই নেতাদের একাংশের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে শুরু করে! যেমন—(ক) কেজরিওয়াল মন্ত্রিসভার আইনমন্ত্রী জিতেন্দ্র তোমর জাল শিক্ষা শংসাপত্র ব্যবহার করার অভিযোগে জেল হেপাজতে যান। (খ) ৫২৬ কোটি টাকা খরচ করে বিভিন্ন সংবাদপত্রে যে বিজ্ঞাপন দিল্লি সরকার দিয়েছিল তা নিয়েও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। (গ) একইসঙ্গে দুটি লাভজনক পদে ২১ জন বিধায়ককে বসিয়ে ছিলেন কেজরিওয়াল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সংসদীয়সচিব পদ তৈরি করে বিধায়কদের বেতন, ভাতা, গাড়ি ইত্যাদি সরকারি সুযোগের ব্যবস্থা করে দেন। এমনকী নির্বাচন কমিশনের নজরের বাইরে এই ২১ জন বিধায়ককে রাখার জন্য দিল্লি বিধানসভায় আইন তৈরি করেছিলেন কেজরিওয়াল। যদিও তা শেষপর্যন্ত ধোপে টেকেনি। (ঘ) একাধিক বিধায়কের বিরুদ্ধে সরকারি ক্ষমতা ও অফিসের অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে বারবার। (ঙ) আপ-এর মন্ত্রী-বিধায়কদের বিদেশভ্রমণে যথেচ্ছ টাকা খরচ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। (চ) বিধায়ক পিছু বেতন ভাতা বাবদ দিল্লি সরকারের মাসিক খরচ ৮৪ হাজার টাকা। এর পরেও সরকারি কোষাগার নয়ছয়ের নানা অভিযোগ আপ বিধায়কদের বিরুদ্ধে বারবার উঠেছে। সব শেষে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধেও। একদা তাঁর মন্ত্রিসভার অন্যতম সদস্য কপিল মিশ্র অভিযোগ করেছেন যে তিনি নিজে চোখে দেখেছেন অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে ২ কোটি টাকা সত্যেন্দ্র জৈনের কাছ থেকে নিতে! দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদের ডাক দিয়ে রাজনীতিতে যাঁর উত্থান হয়েছিল তাঁর গায়েই শেষ পর্যন্ত কেলেঙ্কারির কালি লেগে গেল! পরিস্থিতি এমনই গুরুতর যে স্বয়ং গুরু আন্না হাজারে তাঁর একদা শিষ্য কেজরিওয়ালের পদত্যাগের দাবিতে অনশন করবেন বলে জানিয়েছেন।
দিল্লির রাজৌরি গার্ডেনের উপনির্বাচনে বিজেপির কাছে জামানত জব্দ হয়েছে। ভরাডুবি হয়েছে পাঞ্জাবে। এরপর দিল্লির পুর নির্বাচনেও বিজেপির কাছে চূড়ান্তভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে আজ আপ-এর অস্তিত্ব নিয়েই নানা মহলে সংশয় দানা বাঁধছে। ভারতীয় রাজনীতিতে উল্কার গতিতে যে দলের উত্থান ঘটেছিল সেই দল অস্তমিত হওয়া যেন এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। এই পরিপ্রেক্ষিতে সমাজবিজ্ঞানের ছাত্রদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল—যে রাজনৈতিক দল ভারতীয় রাজনীতিতে অন্য ঘরানা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা জাগিয়েছিল অল্প সময়ের মধ্যে কী এমন ঘটল যার ফলে আপ-কে আজ ‘অস্তমিত সূর্য’ বলে মনে হচ্ছে?
আপ গঠিত হয়েছিল নানা চিন্তা ভাবনা দর্শনের মানুষকে একত্রিত করে। আন্না হাজারে যতদিন দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন ততদিন দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে সামনে রেখে নানা দর্শনের মানুষগুলো একসঙ্গে ছিল। আন্না সরে যেতেই ভাবনা চিন্তার ভিন্নতা প্রকট হতে শুরু করে। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে যোগেন্দ্র যাদবের ভাবনার তফাত ছিল মূলত গণতন্ত্রের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে। আবার প্রশান্ত ভূষণের সঙ্গে কেজরিওয়ালের তফাত ছিল সরকারের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার প্রকরণের নিরিখে। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং নেতৃত্বের স্বৈরাচার আপ-কে আজ এই করুণ অবস্থায় পৌঁছে দিয়েছে। ২০১৪-এর লোকসভা নির্বাচনে সাধ্য এবং সামর্থ্যকে বিচার না করে দেশজুড়ে ৪০০ আসনে লড়াই করা যে ভুল সিদ্ধান্ত ছিল, তা আজ আপ-এর প্রথম সারির নেতারা একবাক্যে মানছেন। প্রতি পদক্ষেপে মোদি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতাকে কেজরিওয়াল রাজনৈতিক দর্শনে পরিণত করেছিলেন। প্রতিপদে মোদিকে তীব্র আক্রমণের পথে যাওয়া কেজরিওয়ালের দিক থেকে যে সঠিক ছিল না তা পাঞ্জাব নির্বাচনের ভরাডুবির পর আপ নেতৃত্ব মেনে নিয়েছেন।
দুর্নীতির পাশাপাশি একাধিক আপ বিধায়কের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও মারপিটের অভিযোগ ওঠে। বিধায়ক জিতেন্দ্র তোমরের বিরুদ্ধে যেমন জাল শিক্ষার শংসাপত্র ব্যবহারের অভিযোগ ছিল তেমনি সোমনাথ ভারতীর বিরুদ্ধে ছিল স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ। আবার জগদীপ সিংয়ের বিরুদ্ধে মারপিটের অভিযোগ উঠেছিল। একের পর এক বিধায়কদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম অভিযোগ ওঠায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আম আদমি পার্টির ভাবমূর্তি কলঙ্কিত হয়েছিল। যেভাবে সংসদীয়সচিব পদে ২১জন বিধায়ককে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল তাতে সাধারণ মানুষের আপ সম্পর্কে মোহভঙ্গ হয়। পাঞ্জাব বিধানসভা ও দিল্লি পুরসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর আমানাতুল্লা খান বনাম কুমার বিশ্বাসের লড়াইয়ে দলের কর্মীদের মনোবলে পুনরায় চিড় ধরে।
আম আদমি পার্টির অবস্থা অনেকটা অসম গণ পরিষদের ন্যায়। ১৯৮৫ সালে প্রফুল্ল মহন্ত, ভৃগু ফুকনের মতো যুব নেতারা গণআন্দোলনের মধ্যে দিয়ে ক্ষমতায় এসে প্রত্যাশা জাগালেও অভিজ্ঞতার অভাবে ব্যর্থ হয়েছিলেন তা পূরণ করতে। কেজরিওয়ালদেরও রাজনীতিতে অভিজ্ঞতার অভাব স্পষ্ট ধরা পড়ছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। পাশাপাশি যে ভিআইপি রাজনীতির বিরুদ্ধে আম আদমি পার্টি লড়াই শুরু করেছিল আজ সেই ভিআইপি সংস্কৃতির বেড়াজালেই তারা আবদ্ধ। যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন কেজরিওয়ালরা, সেই দুর্নীতির জালেই আজ আটকে পড়েছেন তাঁরা। প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠার আশ্বাস দিয়েছিলেন যাঁরা আজ তাঁদের বিরুদ্ধেই অস্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার অভাবের অভিযোগ উঠছে বারবার। আম আদমি পার্টি ভারতীয় রাজনীতিতে ভিন্ন ঘরানার স্বপ্ন দেখালেও, সেই স্বপ্ন পূরণ অধরাই থেকে গেল। প্রত্যাশা জাগিয়েও হারিয়ে গেল ভিন্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ। জনজীবন থেকে দুর্নীতি যতদিন না নির্মূল হবে ততদিন দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের রাজনীতির প্রাসঙ্গিতা কিন্তু রয়েই যাবে। অরবিন্দ, কুমার বিশ্বাসরা হেরে গেলেও হারিয়ে যাবে না আগামীতেও সাধারণ মানুষের ভিন্ন ঘরানার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ।
লেখক রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক
13th  May, 2017
গুম-নিখোঁজ ও পরমানন্দ মন্ত্রণালয়
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলাদেশে ‘লিট ফেস্ট’ শুরু ও শেষ হল। সেই কারণে কি না জানি না, অরুন্ধতী রায়ের দ্বিতীয় উপন্যাস ‘দ্য মিনিস্ট্রি অব আটমোস্ট হ্যাপিনেস’ হুট করে সংবাদপত্রে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এল। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় সাহিত্যিক ও সাংবাদিক, আমার অতি ঘনিষ্ঠ ও প্রিয় আনিসুল হক এই উপন্যাসের বাংলা নাম দিয়েছেন ‘পরমানন্দ মন্ত্রণালয়’।
বিশদ

19th  November, 2017
লন্ডন, এডিনবরা এবং মমতা
শুভা দত্ত

দুর্গাপুজোর দিন যত এগিয়ে আসে, আনন্দটা তার সঙ্গে সমানুপাতিক হারে বাড়ে। এ আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির চিরন্তন সত্য। আর মা দুর্গাকে ঘিরে সেই উৎসবের রামধনু রং ফিকে হতে শুরু করে নবমীর সন্ধ্যা থেকেই। আজ বাদে কাল দশমী। মায়ের ফিরে যাওয়ার পালা।
বিশদ

19th  November, 2017
চীনের প্রেসিডেন্ট বনাম ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ
প্রশান্ত দাস

জিনপিং দেশের বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের বললেন—আমাদের সমাজতন্ত্র দেশকে তরতর করে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। এগিয়ে চলেছে আমাদের অর্থনীতি। কিন্তু গত পাঁচ বছরে আপনারা ক’টি অবিশ্বাস্য অস্ত্র দিতে পেরেছেন সেনাদের? ভারতের ডিআরডিও কী করে পৃথিবীতে দু’নম্বর রিসার্চ সেন্টার হল? কী নেই আপনাদের? যা যা চাই, তালিকা পাঠান। যতদিন না আমরা ডিআরডিও-কে ছাপিয়ে যেতে পারছি, ততদিন আমরা নিজেদের এশিয়ার মধ্যে এক নং বলতে পারব না।
বিশদ

18th  November, 2017
রাজ্যের লাইব্রেরিগুলিকে বাঁচাতেই হবে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

মনে পড়ছে গত ডিসেম্বরের কথা। বীরভূম জেলার সরকারি বইমেলার আয়োজন হয়েছিল সিউড়িতে, ইরিগেশন কলোনির মাঠে। আমি উদ্বোধক, মঞ্চে জেলার মন্ত্রীরা, সঙ্গত কারণেই উপস্থিত ছিলেন গ্রন্থাগারমন্ত্রীও। মঞ্চে বসেই সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর সঙ্গে পরিচয়, আলাপচারিতা।
বিশদ

18th  November, 2017
মোদির আমলে শিশুদের খিদের যন্ত্রণা তীব্র, কারণ শিশু ও মহিলা উন্নয়নে গুরুত্ব কম
দেবনারায়ণ সরকার

কেন্দ্রীয় সরকারের গত ৩ বছরের বাজেটের তথ্য সার্বিকভাবে বিচার করলে দেখা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় বাজেটে মোট ব্যয় যেখানে ২১ শতাংশের বেশি বেড়েছে (টাকার অঙ্কে অতিরিক্ত প্রায় ৩ লক্ষ ৫১ হাজার কোটি টাকা), সেখানে মহিলা ও শিশু উন্নয়নে ব্যয় কপর্দকও বাড়েনি, বরং প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। একইভাবে মহিলা ও শিশু উন্নয়ন ব্যয় বাজেটের মোট ব্যয়ের ১ শতাংশের অনেক নীচে নেমেছে। মোদ্দা কথা হল, যে দেশের কেন্দ্রীয় বাজেটে মহিলা ও শিশু উন্নয়নের ব্যয় বাজেটে মোট ব্যয়ের ১ শতাংশেরও কম এবং এই ব্যয় মোদির জমানায় যেহেতু আরও কমছে, সেই দেশে রোজ রাতে খালি পেটে শুতে যাওয়া শিশুদের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধিটাই স্বাভাবিক। তাই ভারতে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অপুষ্টিও।
বিশদ

17th  November, 2017
ডেঙ্গু: রাজনীতি ছেড়ে হাত মিলিয়ে কাজের সময়
অনিরুদ্ধ কর

অবিলম্বে একটা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা নিয়মাবলী প্রকাশ করতে হবে সরকারের তরফে। সরকারি নির্দেশ মানতে বাধ্য সকল সরকারি বেসরকারি ও প্রাইভেট চিকিৎসা কেন্দ্র। অতীতের দিকে নজর দিলে দেখা যাবে বার্ড ফ্লু বা সোয়াইন ফ্লু-র সময় সরকারের তরফে এমন নিয়মাবলী প্রকাশ করা হয়েছিল। চিকিৎসাব্যবস্থায় কী কী থাকতে হবে এবং কোথায় থাকবে তাও বলে দেওয়া হয়েছিল। ফ্লু-র ওষুধ একমাত্র সরকার দিত। খোলাবাজারে মিলত না সেই ওষুধ। কারণ সেক্ষেত্রে ওষুধ নিয়ে কালোবাজারি এবং চড়া দামে ওষুধ বিক্রি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যেত। এছাড়া একটি রাজ্যস্তরের কমিটি ছিল পর্যালোচনার জন্য।
বিশদ

17th  November, 2017
প্যারিস, পরিবেশ এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভারত
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 পরিবেশ মানে হল যেখানে সেখানে থুতু না ফেলা। মন্তব্যটি আমারই এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর। এবং কী ভয়ঙ্কর সাবলীল স্বীকারোক্তি। যে দেশে ৩০ কোটি মানুষ এখনও দারিদ্রসীমার নীচে বসবাস করেন, যেখানে সাক্ষরতা বলতে বোঝানো হয় নিজের নাম সই করতে পারা, সেখানে সচেতনতার প্রাথমিক পাঠটা এমন একটা মন্তব্য দিয়ে শুরু করলে মন্দ কী!
বিশদ

16th  November, 2017
সার্ধশতবর্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি টেম্‌স থেকে গঙ্গা: ভগিনী নিবেদিতার দার্শনিক যাত্রা
জয়ন্ত কুশারী

 আয়ারল্যান্ডের স্বল্প জনবসতি শহর ডুং গানন। স্যামুয়েল রিচমন্ড নোবেল নামে এক ধর্মযাজক ও তাঁর ভক্তিমতী স্ত্রী মেরি ইসাবেল হ্যামিলটন বাস করেন এই শহরে। এঁরা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে করজোড়ে প্রার্থনা করেন সুখপ্রসবে প্রথম সন্তানটি হলে তাঁরা ঈশ্বরের চরণেই সদ্যোজাতকে সমর্পণ করবেন।
বিশদ

16th  November, 2017
নোট বাতিল: উত্তরপ্রদেশের ভোট, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং চে গুয়েভারা
শুভময় মৈত্র

নোট বাতিলের কারণ এবং ফল সংক্রান্ত আলোচনা দেখে, শুনে এবং পড়ে জনগণ এই বিষয়ে যথেষ্ট অবহিত, হয়তো বা কিছুটা ক্লান্তও বটে। বিজেপি সরকার কেন এই সিদ্ধান্ত নিলেন, এর কী কী ভুল ভ্রান্তি আছে, দেশের কী ক্ষতি হল, সাধারণ মানুষ ঠিক কতটা ভুগলেন এই নিয়ে আমরা যতটা আলোচনা করেছি সেই পরিমাণটা সময় এবং সম্পদের হিসেবে পাঁচশো আর হাজার টাকার মোট বাতিল নোটের মূল্যের থেকে বেশিও হয়ে যেতে পারে।
বিশদ

14th  November, 2017
বুকে লাল গোলাপের সেই মানুষটির কথা আজ খুব মনে পড়ছে
মোশারফ হোসেন

স্বপনদা বলত, পচার চাই। বুঝলে ভায়া, পচারটাই আসল। বাঁকুড়া মানুষ স্বপনদা র-ফলা উচ্চারণ করতে পারত না। তার মুখে ‘প্রচার’ শব্দটা ‘পচার’ হয়েই বেরত। আগ্রার ভঁপু চক্কোত্তিও একই কথা বলেছিলেন। ভঁপুবাবুর সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। এরকমই এক নভেম্বরে। উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা ভোটের খবর করতে গিয়ে।
বিশদ

14th  November, 2017
ফাইলের ভয় দেখিয়ে মুকুল কি রাজ্য রাজনীতিতে জায়গা করতে পারবেন?
শুভা দত্ত

ভয় দেখাচ্ছেন মুকুল রায়, ফাইলের ভয়। মারাত্মক তথ্য ঠাসা গোপন সব ফাইল নাকি সদ্য গেরুয়াধারী মুকুল রায়ের হাতে! সেসব ফাইলের তথ্য প্রকাশ পেলেই নাকি ধরাশায়ী হবে তৃণমূল! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্ব চলে যাবে! আর সেই সুযোগে ড্যাং ড্যাং করে মুকুল রায়ের বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের দখল নেবে। মমতা ভুলে বাংলার জনতাও মোদিজি অমিতজির বন্দনায় আত্মহারা হবে।
বিশদ

12th  November, 2017
ভারতের স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থাকে আরও জনকল্যাণমুখী ও সংগঠিত করা প্রয়োজন
বরুণ গান্ধী

 এবারে আমার আলোচনার বিষয়বস্তু হল, আমাদের দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে। খুব বেশিদিন নয়, মাত্র মাসদুয়েক আগের কথা। গোরখপুরের বি আর ডি হাসপাতালে ৬০ জন ছোট ছেলে-মেয়ে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রায় বিনা চিকিৎসায় মারা গেল। এর থেকে দুঃখের ঘটনা আর কিছু হয় না। খবরে প্রকাশ, প্রতিদিন এই হাসপাতালে গড়ে ২০০/২৫০ জন এনসেফ্যালাইটিস রোগে আক্রান্ত রোগী ভরতি হচ্ছিলেন। রোগীর এহেন ভিড়ে এখানকার চিকিৎসার পরিকাঠামো একরকম ভেঙে পড়ে। বিশদ

12th  November, 2017
একনজরে
সংবাদদাতা, কান্দি: কান্দি মহকুমা এলাকায় অযত্নে শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছে সবুজমালা প্রকল্পের বহু মূল্যবান গাছ। বছরখানেক আগে কান্দি মহকুমা এলাকার বিভিন্ন রাস্তার দু’পাশে ওই গাছগুলি লাগানো হয়েছিল। কিন্তু বছর পেরনোর আগেই অর্ধেক গাছ শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছে যত্নের অভাবে। গাছের চারদিকের ...

সুকান্ত বেরা: সকালটা যদি হয় মহম্মদ সামির, তাহলে বিকেলের নায়ক অবশ্যই শিখর ধাওয়ান। তবুও রবিবাসরীয় ইডেনে ভারতীয় ক্রিকেটারদের সাফল্যের পাশাপাশি চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল দিলরুবান ...

বিএনএ, চুঁচুড়া: রবিবার শেষদিনে কার্তিক ঠাকুর দেখার জন্য সকাল থেকেই বাঁশবেড়িয়ার মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় জমালেন দর্শনার্থীরা। বেলা যত গড়িয়েছে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডিমের দাম আকাশছোঁয়া। কমার নামগন্ধ নেই। সাত থেকে সাড়ে সাত টাকায় শহর ও শহরতলির বাজারে বিক্রি হচ্ছে পোলট্রির ডিম। এমন অবস্থায় রাজ্য ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

প্রেম-প্রণয়ে নতুনত্ব থাকবে। নতুন বন্ধু লাভ, ভ্রমণ ও মানসিক প্রফুল্লতা বজায় থাকবে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭৫০- মহীশূরের শাসক টিপু সুলতানের জন্ম।
১৯১০- রুশ সাহিত্যিক লিও তলস্তয়ের মৃত্যু।
১৯১৭- কলকাতায় প্রতিষ্ঠা হল বোস রিসার্চ ইনস্টিটিউট।
১৯৫৫- নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের পক্ষে টেস্টে প্রথম দ্বিশতরান করলেন উমরিগড় (২২৩)।  

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৪.০০ টাকা ৬৫.৬৮ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৩২ টাকা ৮৭.১৯ টাকা
ইউরো ৭৫.২০ টাকা ৭৭.৮৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
18th  November, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩০,১৯৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৮,৬৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৯,০৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
19th  November, 2017

দিন পঞ্জিকা

৪ অগ্রহায়ণ, ২০ নভেম্বর, সোমবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ৯/৩৬, নক্ষত্র-জ্যেষ্ঠা রাত্রি ১২/৪৮, সূ উ ৫/৫৬/২৫, অ ৪/৪৮/৪, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৭/২৩ মধ্যে পুনঃ ৮/৫০ গতে ১১/০ মধ্যে। রাত্রি ঘ ৭/২৬ গতে ১০/৬ মধ্যে পুনঃ ২/২৭ গতে ৩/১৯ মধ্যে, বারবেলা ঘ ৭/১৮ গতে ৮/৪০ মধ্যে পুনঃ ২/৫ গতে ৩/২৬ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/৪৪ গতে ১১/২২ মধ্যে।
৩ অগ্রহায়ণ, ২০ নভেম্বর, সোমবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ৭/৪২/২৮, জ্যেষ্ঠানক্ষত্র ১১/৫৫/৩৬, সূ উ ৫/৫৬/৫৮, অ ৪/৪৬/৫৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/২৩/৩৮, ৮/৫০/১৮-১১/০/১৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২৪/৫৮-১০/৫৫/১৮, ২/২৫/৩৭-৩/১৮/১৮, বারবেলা ২/৪/২৮-৩/২৬/৪৩, কালবেলা ৭/১৮/১৩-৮/৩৯/২৮, কালরাত্রি ৯/৪৩/১৩-১১/২১/৫৮। 
৩০ শফর

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
আইএসএল: মুম্বই সিটি এফসিকে ২-০ গোলে হারাল বেঙ্গালুরু এফসি 

19-11-2017 - 10:01:17 PM

পিছোল ‘পদ্মাবতী’-র মুক্তির তারিখ, ১ ডিসেম্বর মুক্তি পাচ্ছে না সিনেমাটি

19-11-2017 - 04:14:46 PM

বিষ্ণুপুরের লালবাঁধ এলাকায় কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুন, গ্রেপ্তার অভিযুক্ত

19-11-2017 - 04:10:28 PM

দুর্গাপুরে বৃদ্ধা খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার পরিচারিকা

19-11-2017 - 04:06:09 PM

উত্তর দিনাজপুরের হাসকুন্ডা এলাকায় পাওয়ার স্টেশনের জমি দখলকে ঘিরে সংঘর্ষ, জখম ২ পুলিশ কর্মী-সহ ৩ জন

19-11-2017 - 02:39:00 PM