বিশেষ নিবন্ধ
 

অপরকে নিয়ে ভাববার কথা

অভিজিৎ তরফদার: স্থান: হাওড়া অভিমুখী কোনও লোকাল ট্রেনের কামরা। কাল: আশির দশক। হঠাৎ এক প্রৌঢ় বুক চেপে ধরে কাত হয়ে পড়ে গেলেন। চঞ্চলতা। ছুটোছুটি। হাওয়া-বাতাস। জলের ছিটে। রব উঠল: ডাক্তার ডাক্তার। তখনও ডিগ্রি হাতে আসেনি। তথাপি গম্ভীর মুখে পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। নাড়িতে হাত দিতেই বুঝলাম, পরিস্থিতি সহজ নয়। সত্যি কথাটা বলে ফেললাম, অবিলম্বে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া দরকার।
হাওড়া স্টেশন থেকে একটা ট্যাক্সিতে শুইয়ে অসুস্থ মানুষটিকে মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে আসা হল। সঙ্গে এলেন তিনজন সহযাত্রী। তখনও মোবাইল ফোনের আমদানি হয়নি। একজন আগেই তাঁর বাড়ির সন্ধান জেনে চলে গিয়েছেন খবর দিতে। সারাদিন যথাসাধ্য চিকিৎসার পর সন্ধ্যাবেলা ইমার্জেন্সির বাইরে বেরিয়ে যখন খবর দিলাম—ভালো আছেন। চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন—অনাত্মীয় সেই তিনজন মানুষের মুখে যে রোশনাই ফুটে উঠতে দেখেছিলাম, কোনওদিন তা ভুলব না। হালকা করে বলেছিলাম, আপনাদের যে অফিস কামাই হয়ে গেল? তিনজনে একসঙ্গে গর্জন করে উঠেছিলেন—একটা মানুষ মরে যাচ্ছে, আমরা সঙ্গে আসব না? হলই বা একদিন কামাই। কথায় কথায় জেনেছিলাম, তিনজনের একজনও অসুস্থ মানুষটির পরিচিত নন।
ঘড়ির কাঁটাকে এগিয়ে নিয়ে আসি। মাস চারেক আগের দৃশ্য। পুরানো টাকা বদল করার লম্বা লাইন। একজন মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। লাইনে দাঁড়ানো শতাধিক মানুষ তা দেখলেন। কেউ এগিয়ে এলেন না। মানুষটি লুটিয়ে পড়লেন। পেছনের মানুষেরা মৃত্যুপথযাত্রী সেই মানুষটিকে ডিঙিয়ে এগিয়ে গেলেন এটিএম-এর কাউন্টারের দিকে। এবং এই দৃশ্য কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।
কোনও এক বাইক অরোহী দুর্ঘটনায় পড়ে রক্তাক্ত অবস্থায় যখন সাহায্য প্রার্থনা করছেন, পথচারী মানুষেরা দাঁড়িয়ে পড়ছেন। কিন্তু মানুষটিকে হাসপাতালে পৌঁছে দেবার জন্য নয়—সেই দুর্লভ মুহূর্তটি মোবাইল ক্যামেরায় ধরে রাখবার জন্য।
প্রশ্ন উঠতে পারে আমরা ঠিক কতখানি স্বার্থপর?
জানবার জন্য এক মাস সময়কে বেছে নিলাম। ওই সময়কালে পরপর চোখের সামনে ঘটে যাওয়া কয়েকটি অভিজ্ঞতা আপনাদের সামনে সাজিয়ে দিচ্ছি।
(১) লিফ্‌টের লাইন। অন্তত জনাদশেক দাঁড়িয়ে। লিফ্‌ট দশতলা থেকে নামল। ভেতর থেকে জনাতিনেক বেরিয়ে এলেন। একদম সামনে দাঁড়ানো মানুষটি লিফ্‌টে ঢুকলেন। লিফ্‌টম্যানহীন লিফ্‌ট, অতএব লিফ্‌টে ঢুকেই তিনি লিফ্‌টের বোতাম টিপে দিলেন। অপেক্ষমাণ অন্যান্য সবাইকে হতবাক করে লিফ্‌঩টের দরজা বন্ধ হয়ে গেল। একমাত্র আরোহীকে নিয়ে লিফ্‌ট উঠে গেল উপরে।
(২) সুইং দরজা। ঠেললে সামনের দিকে খোলে। ছেড়ে দিলে নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায়। দ্বিতীয় জনের দু’হাত আটকা। প্রথমজন সুইং দরজা ঠেলে এগিয়ে গেলেন। ভেতরে ঢুকেই পাল্লাটি ছেড়ে দিলেন। তাকিয়েও দেখলেন না পেছনে কে আছে। দরজার পাল্লা দড়াম করে পেছনের মানুষটির মুখের ওপর আছড়ে পড়ল। রক্তাপ্লুত অবস্থায় মানুষটি মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। মজার ব্যাপার আওয়াজ শুনেও সামনের ব্যক্তি কিন্তু পেছনে ফিরে তাকালেন না।
(৩) ঘটনাস্থল হাসপাতাল। নাম লিখিয়ে নম্বর নিয়ে পরপর রোগীরা অপেক্ষা করছেন। হঠাৎ, একটু পেছনের দিকে সিরিয়াল, বৃদ্ধ মানুষ, বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লেন। একদম সামনে ছিলেন বছর পঁয়তাল্লিশের মহিলা। স্বামীকে দেখতে এসেছেন। তাঁর কাছে বৃদ্ধ রোগীর ছেলের অনুরোধ : যদি বাবাকে আগে ছেড়ে দেওয়া হয়। ছিটকে উঠলেন ভদ্রমহিলা: ‘পাগল হয়েছেন? ডাক্তারের চেম্বার থেকে আমাকে ছুটতে হবে মেয়ের স্কুলে। ঠিক সময়ে পিক আপ না করতে পারলে অনর্থ হবে। মাফ করবেন। আমার পক্ষে আপনার বাবাকে আগে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়।’
তিনটে অভিজ্ঞতার কথা বললাম। আপনারা মিলিয়ে নেবেন—এক অন্তহীন স্বার্থপরতা যেন মেঘের মতো তার কালো ছায়া বিস্তার করে সর্বত্র পরিব্যাপ্ত। মিনিবাসের ড্রাইভার সেখানেই গাড়িটা দাঁড় করাবে যেখানে প্যাসেঞ্জার অপেক্ষা করছে। তার জন্য আপনার স্টপ ছাড়িয়ে এক মাইল এগিয়ে যেতেও তার বাধবে না। ট্যাক্সি ড্রাইভার সেখানেই নিয়ে যাবে যেখান থেকে সে ফেরার প্যাসেঞ্জার পাবে। সামনের গাড়ি রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে সওয়ারি নামাবে অথবা তুলবে। পেছনের একশো গাড়ি দাঁড়িয়ে রইল কি না তাতে তার কিছুই যায় আসে না।
এর ঠিক উলটোদিকে বিরাজ করছে, যে ঘটনা দিয়ে শুরু করেছিলাম, যাকে আমরা বলতে পারি পরার্থপরতা। পরার্থপরতায় অন্যের জন্য এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজের স্বার্থহানির সম্ভাবনাও জড়িয়ে থাকে। যা ঘটেছিল তিনজন সহযাত্রীর ক্ষেত্রে। তাঁদের একদিন অফিস কামাই হয়েছিল। হয়তো মাইনেও কাটা গিয়েছিল।
পরার্থপরতা সবাই যে পারবেনই তা নয়। কেউ চ্যারিটিতে লক্ষ টাকা দান করছেন। খোঁজ নিয়ে দেখুন, ওই টাকা দান না করলে আয়কর দপ্তর কেড়ে নিয়ে যেত। অতএব দানও হল, আয়কর দপ্তরকে বুড়ো আঙুল দেখানোও হল। এই দান কিন্তু পরার্থ পরতা নয়। এখানে কোনও স্বার্থত্যাগ নেই। স্বার্থহানির তো প্রশ্নই ওঠে না।
স্বার্থপরতার যে উদাহরণগুলি দিলাম, তা কখনও কখনও আরও এগিয়ে গিয়ে আত্মসর্বস্বতায় পর্যবসিত হয়। যেখানে পৃথিবীতে ‘আমি’ এই ব্যক্তিটি বাদ দিলে সবাই গৌণ। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এই আত্মমগ্নতা এবং আত্মসর্বস্বতারই চাষ হচ্ছে। ফলে দেশ বলতে আমরা একটি মানচিত্রের বেশি কিছু বুঝতে শিখি না। কাশতে গেলে মুখে হাত চাপা দিই না। কলের মুখ থেকে জল পড়তে দেখলেও কলটা বন্ধ করবার চেষ্টা করি না। একটি চার ইঞ্চি বাই দুই ইঞ্চি স্ক্রিন-এ জগৎ যেখানে সীমাবদ্ধ, সেখানে নিজের বাইরে অবশিষ্ট মনুষপ্রজাতি সম্বন্ধে সহানুভূতির স্রোত ধাবিত হবে এমন প্রত্যাশা করাই বাতুলতা।
এই দুই চূড়ান্ত বিপরীত মেরু, স্বার্থপরতা এবং পরার্থপরতা, এর মাঝামাঝিও একটি অবস্থান আছে, যাকে বলা যায় নিঃস্বার্থপরতা। নিঃস্বার্থপরতা প্রয়োগ করতে গেলে নিজের স্বার্থহানির সম্ভাবনা থাকে না। তা সত্ত্বেও আমরা সাহায্যের হাতটুকু বাড়িয়ে দিতেই পারি। কোনও অন্ধ পথচারীকে রাস্তা পার হতে সাহায্য করতে পারি। কিছু না হোক, রাস্তা খুঁজে পাচ্ছেন না এমন মানুষকে পথের সন্ধান দিতে পারি। এমন সহস্র উদাহরণ আমাদের দৈনন্দিনতায় ছড়িয়ে আছে। যা প্রয়োগ করতে পরিশ্রম করতে হয় না। স্বার্থহানির তো সম্ভাবনাই নেই।
ধর্মস্থানের বাইরে জুতো খুলে রেখে যেতে হয়। দেখবেন মানুষ জুতোজোড়া রাস্তার মধ্যিখানে খুলে ভেতরে ঢোকে। পেছনের মানুষটি হোঁচট খেতে খেতে সামনের মানুষের পিতৃ-উদ্ধার করে। অভ্যেস বদলায় না। আমরা নিজেরাই দেখতে চেয়েছিলাম। মানুষ কতখানি আত্মসর্বস্ব। আমার চেম্বারে মানুষ আসেন, রোগী দেখার শয্যায় গিয়ে শুয়ে পড়েন। তার আগে জুতো জোড়া খুলতে হয়। আমরা দেখবার চেষ্টা করলাম, কতজন মানুষ জুতো জোড়া ঘরের মধ্যিখানে খুলে রাখছেন, কতজনই বা জুতো খুলছেন দেওয়ালের ধার ঘেঁষে। পরপর চারশোজন মানুষকে দেখা হল। খুব বৃদ্ধ, অশক্ত এবং মায়ের কোলে আসা শিশুকে বাদ দেওয়া হল। একজন, যেন দেবস্থানে প্রবেশ করছেন। এই বিবেচনায়, ঘরের বাইরেই জুতো খুলে এসেছিলেন। তাঁকে প্রথমে ধরা হয়। পরে বাদ দেওয়া হল। অতএব পড়ে রইলেন তিনশো নিরানব্বই জন।
দেখা গেল, এর মধ্যে কেবল তিনজন জুতোজোড়া ঘরের মধ্যিখানে খোলেননি। দুজন গ্রামের শিক্ষক। একজন দরিদ্র কাঠের মিস্ত্রি, সংলগ্ন রাজ্য ঝাড়খণ্ড থেকে এসেছেন। এই তিনজনের একজনেরও বয়েস চল্লিসের নীচে নয়। প্রত্যেকেই পুরুষ।
এই পর্যবেক্ষণের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনেকই তোলা যায়। এইসব মানুষ প্রত্যেকেই অসুস্থ, রোগী। কাজেই ডাক্তারবাবুর চেম্বারে এসে তাঁদের স্বাভাবিক বিচারবুদ্ধি প্রয়োগের ক্ষমতা কর্মে যেতে পারে। তাছাড়া কে কোথায় জুতো খুলে রাখছে তা দিয়ে তার স্বার্থপরতা বিচার করা যায় না।
অভিযোগগুলি অমূলক নয়। কিন্তু পর্যবেক্ষণটির মাত্রা অসামান্য। এক শতাংশেরও কম মানুষ পরবর্তী মানুষটির কথা ভাবছেন। এই পর্যবেক্ষণটি বৃহত্তর কোনও গবেষণার প্রথম ধাপ হিসেবে ভেবে দেখা যেতে পারে। অবশ্য সে দায়িত্ব সমাজবিজ্ঞানীদের।
13th  May, 2017
গুম-নিখোঁজ ও পরমানন্দ মন্ত্রণালয়
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলাদেশে ‘লিট ফেস্ট’ শুরু ও শেষ হল। সেই কারণে কি না জানি না, অরুন্ধতী রায়ের দ্বিতীয় উপন্যাস ‘দ্য মিনিস্ট্রি অব আটমোস্ট হ্যাপিনেস’ হুট করে সংবাদপত্রে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এল। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় সাহিত্যিক ও সাংবাদিক, আমার অতি ঘনিষ্ঠ ও প্রিয় আনিসুল হক এই উপন্যাসের বাংলা নাম দিয়েছেন ‘পরমানন্দ মন্ত্রণালয়’।
বিশদ

19th  November, 2017
লন্ডন, এডিনবরা এবং মমতা
শুভা দত্ত

দুর্গাপুজোর দিন যত এগিয়ে আসে, আনন্দটা তার সঙ্গে সমানুপাতিক হারে বাড়ে। এ আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির চিরন্তন সত্য। আর মা দুর্গাকে ঘিরে সেই উৎসবের রামধনু রং ফিকে হতে শুরু করে নবমীর সন্ধ্যা থেকেই। আজ বাদে কাল দশমী। মায়ের ফিরে যাওয়ার পালা।
বিশদ

19th  November, 2017
চীনের প্রেসিডেন্ট বনাম ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ
প্রশান্ত দাস

জিনপিং দেশের বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের বললেন—আমাদের সমাজতন্ত্র দেশকে তরতর করে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। এগিয়ে চলেছে আমাদের অর্থনীতি। কিন্তু গত পাঁচ বছরে আপনারা ক’টি অবিশ্বাস্য অস্ত্র দিতে পেরেছেন সেনাদের? ভারতের ডিআরডিও কী করে পৃথিবীতে দু’নম্বর রিসার্চ সেন্টার হল? কী নেই আপনাদের? যা যা চাই, তালিকা পাঠান। যতদিন না আমরা ডিআরডিও-কে ছাপিয়ে যেতে পারছি, ততদিন আমরা নিজেদের এশিয়ার মধ্যে এক নং বলতে পারব না।
বিশদ

18th  November, 2017
রাজ্যের লাইব্রেরিগুলিকে বাঁচাতেই হবে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

মনে পড়ছে গত ডিসেম্বরের কথা। বীরভূম জেলার সরকারি বইমেলার আয়োজন হয়েছিল সিউড়িতে, ইরিগেশন কলোনির মাঠে। আমি উদ্বোধক, মঞ্চে জেলার মন্ত্রীরা, সঙ্গত কারণেই উপস্থিত ছিলেন গ্রন্থাগারমন্ত্রীও। মঞ্চে বসেই সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর সঙ্গে পরিচয়, আলাপচারিতা।
বিশদ

18th  November, 2017
মোদির আমলে শিশুদের খিদের যন্ত্রণা তীব্র, কারণ শিশু ও মহিলা উন্নয়নে গুরুত্ব কম
দেবনারায়ণ সরকার

কেন্দ্রীয় সরকারের গত ৩ বছরের বাজেটের তথ্য সার্বিকভাবে বিচার করলে দেখা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় বাজেটে মোট ব্যয় যেখানে ২১ শতাংশের বেশি বেড়েছে (টাকার অঙ্কে অতিরিক্ত প্রায় ৩ লক্ষ ৫১ হাজার কোটি টাকা), সেখানে মহিলা ও শিশু উন্নয়নে ব্যয় কপর্দকও বাড়েনি, বরং প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। একইভাবে মহিলা ও শিশু উন্নয়ন ব্যয় বাজেটের মোট ব্যয়ের ১ শতাংশের অনেক নীচে নেমেছে। মোদ্দা কথা হল, যে দেশের কেন্দ্রীয় বাজেটে মহিলা ও শিশু উন্নয়নের ব্যয় বাজেটে মোট ব্যয়ের ১ শতাংশেরও কম এবং এই ব্যয় মোদির জমানায় যেহেতু আরও কমছে, সেই দেশে রোজ রাতে খালি পেটে শুতে যাওয়া শিশুদের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধিটাই স্বাভাবিক। তাই ভারতে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অপুষ্টিও।
বিশদ

17th  November, 2017
ডেঙ্গু: রাজনীতি ছেড়ে হাত মিলিয়ে কাজের সময়
অনিরুদ্ধ কর

অবিলম্বে একটা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা নিয়মাবলী প্রকাশ করতে হবে সরকারের তরফে। সরকারি নির্দেশ মানতে বাধ্য সকল সরকারি বেসরকারি ও প্রাইভেট চিকিৎসা কেন্দ্র। অতীতের দিকে নজর দিলে দেখা যাবে বার্ড ফ্লু বা সোয়াইন ফ্লু-র সময় সরকারের তরফে এমন নিয়মাবলী প্রকাশ করা হয়েছিল। চিকিৎসাব্যবস্থায় কী কী থাকতে হবে এবং কোথায় থাকবে তাও বলে দেওয়া হয়েছিল। ফ্লু-র ওষুধ একমাত্র সরকার দিত। খোলাবাজারে মিলত না সেই ওষুধ। কারণ সেক্ষেত্রে ওষুধ নিয়ে কালোবাজারি এবং চড়া দামে ওষুধ বিক্রি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যেত। এছাড়া একটি রাজ্যস্তরের কমিটি ছিল পর্যালোচনার জন্য।
বিশদ

17th  November, 2017
প্যারিস, পরিবেশ এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভারত
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 পরিবেশ মানে হল যেখানে সেখানে থুতু না ফেলা। মন্তব্যটি আমারই এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর। এবং কী ভয়ঙ্কর সাবলীল স্বীকারোক্তি। যে দেশে ৩০ কোটি মানুষ এখনও দারিদ্রসীমার নীচে বসবাস করেন, যেখানে সাক্ষরতা বলতে বোঝানো হয় নিজের নাম সই করতে পারা, সেখানে সচেতনতার প্রাথমিক পাঠটা এমন একটা মন্তব্য দিয়ে শুরু করলে মন্দ কী!
বিশদ

16th  November, 2017
সার্ধশতবর্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি টেম্‌স থেকে গঙ্গা: ভগিনী নিবেদিতার দার্শনিক যাত্রা
জয়ন্ত কুশারী

 আয়ারল্যান্ডের স্বল্প জনবসতি শহর ডুং গানন। স্যামুয়েল রিচমন্ড নোবেল নামে এক ধর্মযাজক ও তাঁর ভক্তিমতী স্ত্রী মেরি ইসাবেল হ্যামিলটন বাস করেন এই শহরে। এঁরা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে করজোড়ে প্রার্থনা করেন সুখপ্রসবে প্রথম সন্তানটি হলে তাঁরা ঈশ্বরের চরণেই সদ্যোজাতকে সমর্পণ করবেন।
বিশদ

16th  November, 2017
নোট বাতিল: উত্তরপ্রদেশের ভোট, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং চে গুয়েভারা
শুভময় মৈত্র

নোট বাতিলের কারণ এবং ফল সংক্রান্ত আলোচনা দেখে, শুনে এবং পড়ে জনগণ এই বিষয়ে যথেষ্ট অবহিত, হয়তো বা কিছুটা ক্লান্তও বটে। বিজেপি সরকার কেন এই সিদ্ধান্ত নিলেন, এর কী কী ভুল ভ্রান্তি আছে, দেশের কী ক্ষতি হল, সাধারণ মানুষ ঠিক কতটা ভুগলেন এই নিয়ে আমরা যতটা আলোচনা করেছি সেই পরিমাণটা সময় এবং সম্পদের হিসেবে পাঁচশো আর হাজার টাকার মোট বাতিল নোটের মূল্যের থেকে বেশিও হয়ে যেতে পারে।
বিশদ

14th  November, 2017
বুকে লাল গোলাপের সেই মানুষটির কথা আজ খুব মনে পড়ছে
মোশারফ হোসেন

স্বপনদা বলত, পচার চাই। বুঝলে ভায়া, পচারটাই আসল। বাঁকুড়া মানুষ স্বপনদা র-ফলা উচ্চারণ করতে পারত না। তার মুখে ‘প্রচার’ শব্দটা ‘পচার’ হয়েই বেরত। আগ্রার ভঁপু চক্কোত্তিও একই কথা বলেছিলেন। ভঁপুবাবুর সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। এরকমই এক নভেম্বরে। উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা ভোটের খবর করতে গিয়ে।
বিশদ

14th  November, 2017
ফাইলের ভয় দেখিয়ে মুকুল কি রাজ্য রাজনীতিতে জায়গা করতে পারবেন?
শুভা দত্ত

ভয় দেখাচ্ছেন মুকুল রায়, ফাইলের ভয়। মারাত্মক তথ্য ঠাসা গোপন সব ফাইল নাকি সদ্য গেরুয়াধারী মুকুল রায়ের হাতে! সেসব ফাইলের তথ্য প্রকাশ পেলেই নাকি ধরাশায়ী হবে তৃণমূল! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্ব চলে যাবে! আর সেই সুযোগে ড্যাং ড্যাং করে মুকুল রায়ের বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের দখল নেবে। মমতা ভুলে বাংলার জনতাও মোদিজি অমিতজির বন্দনায় আত্মহারা হবে।
বিশদ

12th  November, 2017
ভারতের স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থাকে আরও জনকল্যাণমুখী ও সংগঠিত করা প্রয়োজন
বরুণ গান্ধী

 এবারে আমার আলোচনার বিষয়বস্তু হল, আমাদের দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে। খুব বেশিদিন নয়, মাত্র মাসদুয়েক আগের কথা। গোরখপুরের বি আর ডি হাসপাতালে ৬০ জন ছোট ছেলে-মেয়ে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রায় বিনা চিকিৎসায় মারা গেল। এর থেকে দুঃখের ঘটনা আর কিছু হয় না। খবরে প্রকাশ, প্রতিদিন এই হাসপাতালে গড়ে ২০০/২৫০ জন এনসেফ্যালাইটিস রোগে আক্রান্ত রোগী ভরতি হচ্ছিলেন। রোগীর এহেন ভিড়ে এখানকার চিকিৎসার পরিকাঠামো একরকম ভেঙে পড়ে। বিশদ

12th  November, 2017
একনজরে
সুকান্ত বেরা: সকালটা যদি হয় মহম্মদ সামির, তাহলে বিকেলের নায়ক অবশ্যই শিখর ধাওয়ান। তবুও রবিবাসরীয় ইডেনে ভারতীয় ক্রিকেটারদের সাফল্যের পাশাপাশি চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল দিলরুবান ...

বিএনএ, শিলিগুড়ি: শনিবার গভীর রাতে ভক্তিনগর থানার সেভক রোডের একটি গুদামে দুষ্কৃতী হামলায় এক নিরাপত্তা রক্ষী খুন হন। পুলিস জানিয়েছে, নিহত নিরাপত্তারক্ষীর নাম রঘুনাথ রায়(৬২)। অভিযুক্তের খোঁজে পুলিস তল্লাশি শুরু করেছে।  ...

বিএনএ, চুঁচুড়া: রবিবার শেষদিনে কার্তিক ঠাকুর দেখার জন্য সকাল থেকেই বাঁশবেড়িয়ার মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় জমালেন দর্শনার্থীরা। বেলা যত গড়িয়েছে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের ...

কাবুল, ১৯ নভেম্বর (এপি): আফগানিস্তানের পশ্চিমে ফারা প্রদেশে পুলিশের একাধিক চেক পোস্টে হানা দিল তালিবান জঙ্গিরা। তালিবানের হানায় মৃত্যু হয়েছে ৬ জন পুলিশকর্মীর। শনিবার বিকালের ঘটনা। প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র নাসের মেহরি বলেন, জঙ্গিদের আটজনের একটি দল ওই হামলা চালিয়েছে। এই ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

প্রেম-প্রণয়ে নতুনত্ব থাকবে। নতুন বন্ধু লাভ, ভ্রমণ ও মানসিক প্রফুল্লতা বজায় থাকবে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭৫০- মহীশূরের শাসক টিপু সুলতানের জন্ম।
১৯১০- রুশ সাহিত্যিক লিও তলস্তয়ের মৃত্যু।
১৯১৭- কলকাতায় প্রতিষ্ঠা হল বোস রিসার্চ ইনস্টিটিউট।
১৯৫৫- নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের পক্ষে টেস্টে প্রথম দ্বিশতরান করলেন উমরিগড় (২২৩)।  

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৪.০০ টাকা ৬৫.৬৮ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৩২ টাকা ৮৭.১৯ টাকা
ইউরো ৭৫.২০ টাকা ৭৭.৮৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
18th  November, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩০,১৯৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৮,৬৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৯,০৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
19th  November, 2017

দিন পঞ্জিকা

৪ অগ্রহায়ণ, ২০ নভেম্বর, সোমবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ৯/৩৬, নক্ষত্র-জ্যেষ্ঠা রাত্রি ১২/৪৮, সূ উ ৫/৫৬/২৫, অ ৪/৪৮/৪, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৭/২৩ মধ্যে পুনঃ ৮/৫০ গতে ১১/০ মধ্যে। রাত্রি ঘ ৭/২৬ গতে ১০/৬ মধ্যে পুনঃ ২/২৭ গতে ৩/১৯ মধ্যে, বারবেলা ঘ ৭/১৮ গতে ৮/৪০ মধ্যে পুনঃ ২/৫ গতে ৩/২৬ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/৪৪ গতে ১১/২২ মধ্যে।
৩ অগ্রহায়ণ, ২০ নভেম্বর, সোমবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ৭/৪২/২৮, জ্যেষ্ঠানক্ষত্র ১১/৫৫/৩৬, সূ উ ৫/৫৬/৫৮, অ ৪/৪৬/৫৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/২৩/৩৮, ৮/৫০/১৮-১১/০/১৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২৪/৫৮-১০/৫৫/১৮, ২/২৫/৩৭-৩/১৮/১৮, বারবেলা ২/৪/২৮-৩/২৬/৪৩, কালবেলা ৭/১৮/১৩-৮/৩৯/২৮, কালরাত্রি ৯/৪৩/১৩-১১/২১/৫৮। 
৩০ শফর

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
আইএসএল: মুম্বই সিটি এফসিকে ২-০ গোলে হারাল বেঙ্গালুরু এফসি 

19-11-2017 - 10:01:17 PM

পিছোল ‘পদ্মাবতী’-র মুক্তির তারিখ, ১ ডিসেম্বর মুক্তি পাচ্ছে না সিনেমাটি

19-11-2017 - 04:14:46 PM

বিষ্ণুপুরের লালবাঁধ এলাকায় কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুন, গ্রেপ্তার অভিযুক্ত

19-11-2017 - 04:10:28 PM

দুর্গাপুরে বৃদ্ধা খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার পরিচারিকা

19-11-2017 - 04:06:09 PM

উত্তর দিনাজপুরের হাসকুন্ডা এলাকায় পাওয়ার স্টেশনের জমি দখলকে ঘিরে সংঘর্ষ, জখম ২ পুলিশ কর্মী-সহ ৩ জন

19-11-2017 - 02:39:00 PM