বিশেষ নিবন্ধ
 

 উত্তর ভারতের বঙ্গ অভিযান

সমৃদ্ধ দত্ত: পরাধীন ভারতে গোটা দেশের মধ্যে প্রথম নোবেল পুরস্কার কে পেয়েছিলেন? রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নামে এক বাঙালি। স্বাধীন ভারতেও গোটা দেশের মধ্যে নোবেল পুরস্কার কে পেয়েছেন? অমর্ত্য সেন নামে এক বাঙালি। আধুনিক চিন্তাধারা নিয়ে এসে সতীদাহ প্রথা রদ করার জন্য সবথেকে কার অবদান বেশি? রামমোহন রায় নামে এক বাঙালির। বিধবাবিবাহ আর স্ত্রীশিক্ষার প্রচলন করে দেশে বৈপ্লবিক চেতনার জন্ম দিয়েছেন কে? ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর নামে এক বাঙালি। গোটা দেশের মধ্যে কোন গ্রামের ছেলে হিন্দুধর্মের এক মহাপুরুষ হয়েও প্রথম উচ্চারণ করেছিলেন যত মত তত পথ? গদাধর চট্টোপাধ্যায় নামে একজন বাঙালি। ভারতীয় আধ্যাত্মিকতার উদার ঐতিহ্যকে বিদেশে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন কে? নরেন্দ্রনাথ দত্ত নামে এক বাঙালি। আজ যে ইসকন সমগ্র বিশ্বে কৃষ্ণনামকে ধ্রুবপদে পরিণত করে সাহেবদের প্রণত হতে বাধ্য করছে তার প্রতিষ্ঠাতা কে? অভয়চরণ দে নামে এক বাঙালি। ভারতের জাতীয় সঙ্গীত আর জাতীয় গান দুটিই রচনা করেছেন কারা? দুজনেই বাঙালি। প্রতিবেশি রাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীতটি কার রচনা? একজন বাঙালির। ঘর সংসার, সমাজের নিরাপদ ঘেরাটোপে বাস করে স্বাধীনতা সংগ্রামের নামে শখের আন্দোলন আন্দোলন খেলা না করে একমাত্র কে সম্পূর্ণ নিজের একটি সেনাবাহিনী নির্মাণ করে বিদেশ থেকে সমর্থন জোগাড় করে ব্রিটিশকে আক্রমণ পর্যন্ত করতে সমর্থ হয়েছিলেন? এবং একমাত্র কার ভয়ে ব্রিটিশ শাসন সত্যিকারের ত্রস্ত হয়েছিল? সুভাষচন্দ্র বসু নামে এক বাঙালি। ভারতের মধ্যে একমাত্র কারা বছরভর জেলায় মহকুমা ব্লকে গ্রামে বইমেলা, লিটল ম্যাগাজিন আর সাহিত্যচর্চার নেশায় কেরিয়ারকেও পাত্তা দেয় না যুবসমাজ? বাঙালি। ফেসবুকে লক্ষ লক্ষ কবিতা আর সাহিত্যের গ্রুপ একমাত্র কোন জাতির ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেখা যায়? বাঙালির। আন্দামানে সেলুলার জেলে বন্দি থাকা বা প্রাণদান করা বিপ্লবীদের দীর্ঘ তালিকায় সবথেকে বেশি কোন পদবিভুক্ত বিপ্লবীদের নাম লক্ষ্য করা যায়? বাঙালি।
এই তাবৎ ঐতিহ্য আর গৌরব একমাত্র বাঙালির। আর সেই কারণেই অন্য রাজ্যগুলির প্রবল ঈর্ষা এবং ক্রোধ বাঙালি জাতির এই ইন্টেলেকচুয়াল উত্তরণে। মহাত্মা গান্ধী একমাত্র দুটি মানুষকেই মননের দিক থেকে শ্রদ্ধা, সমীহ করতে বাধ্য হতেন । বিভিন্ন ইস্যুতে মহাত্মার বিরোধিতা করার সাহস দেখাতেন শুধু ওই দুজনই। দুজনেই বাঙালি। সুভাষচন্দ্র আর রবীন্দ্রনাথ। ১৯৪৭ সালের পর লাগাতার কয়েক বছর ধরে সংসদের রেকর্ড ঘেঁটে দেখা যাবে দেশভাগের সমস্যা ও পুনর্বাসন নিয়ে বহুবার আলোচনা হয়েছে। কিন্তু প্রায় সব আলোচনার ভরকেন্দ্র পঞ্জাবের সমস্যা। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আগত রিফিউজি নিয়ে মহা চিন্তিত জওহরলাল নেহরু সহ তাবৎ কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের প্রসঙ্গ কালেভদ্রে উচ্চারিত হয়েছিল। বাংলা নিয়ে কেউ ভাবিত নয়। কারণ উত্তর ভারত কেন্দ্রিক ভারতীয় রাজনীতি বাঙালিকে পছন্দ করেনি। বরাবর। কারণ বাঙালির সাংস্কৃতিক উচ্চতা তারা না পেরেছে বুঝতে, না পেরেছে পাল্লা দিতে। বাঙালি সংস্কৃতির বহুত্ববাদ, সূক্ষ্মতা হিন্দিভাষী উত্তর ভারতের সংস্কৃতির সঙ্গে সামান্যতম মিলও নেই। একান্তভাবে নিজেদের একটি উচ্চাঙ্গের কৃষ্টি প্লাস একের পর এক মনীষীর আগমন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে। এর কোনও তুলনাই হয় না ভারতের কোনও রাজ্যের সঙ্গে। তাই উত্তর ভারত এতকাল নিছকই অক্ষম রাগে এবং বাঙালিকে হেয় করে, অবজ্ঞা করে আর হাসাহাসি করেই রাগ প্রশমিত করেছে। আসল হতাশা হল এতসব মনীষী, এত স্বাধীনতা সংগ্রামী, শিক্ষাবিদ উত্তর ভারত কোনওদিন পায়নি। তাই ঈর্ষা।
এই প্রথম উত্তর ভারত প্রতিশোধ নিতে পারছে। ধর্মের নামে অস্ত্র হাতে মিছিল করা, বেশ কিছু টিপিক্যাল হিন্দিভাষী সংস্কৃতির বাড়বাড়ন্ত, অত্যন্ত সুকৌশলে বাঙালির নিজেদের মনীষী, উৎসব, পরবগুলিকে পিছনের সারিতে সরিয়ে দিয়ে অনেক বেশি বেশি ভিনরাজ্যের কালচার আগ্রাসীভাবে নিয়ে আসার প্রয়াস। আর আমরা অজান্তে সেসবকে গ্রহণ করছি রাজনৈতিক বিশ্বাসের মোড়কে। এসব অনেক আগে থেকে চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু এই প্রথম সাফল্য পাওয়া যাচ্ছে। কারণ আমাদের বাঙালিদের একটি নব্য অংশ নতুন রাজনীতির মোহে সেইসব ফাঁদে পা দিয়েছে। যে কোনও সমাজকে প্রভাবিত করার জন্য নিছক প্রশাসনিক ক্ষমতা হাতে পেলেও আগ্রাসন সম্পূর্ণ হয় না। সবার আগে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন করতে হয়। এটাই নিয়ম। আমেরিকা যখন সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব নিয়ে গোটা বিশ্বে নিজেদের বিগত ৫০ বছর ধরে সম্প্রসারিত করেছে, তারা কিন্তু প্রথমেই টার্গেট করেছে কালচারাল আগ্রাসনকে। অর্থাৎ জীবনযাপনকে আমেরিকার মতো করিয়ে দাও। সেই আগ্রাসনের হাতিয়ার হল স্যাটেলাইট চ্যানেল, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক বিধি, ইলেকট্রনিকস গ্যাজেটস ইত্যাদি। নতুন প্রজন্মকে যে কোনও রাজ্যেই পোশাক ফ্যাশন, দেখতে শুনতে, আচার আচরণ, কথাবার্তা, কালচার সব দেখবেন অনেকটাই এক। লিভাইস, লি, পেপে জিনস, ম্যাকডোনাল্ড বা পিজা হাট, সিটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড, ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটস অ্যাপ, নাইকে, অ্যাডিডাস ফুটওয়্যার, প্রতিদিনের ব্যবহারের ইউনিলিভার বা প্রোক্টর গ্যাম্বলের কনজিউমার প্রোডাক্ট, ইনফিনিটি কিংবা স্টার ওয়ার্ল্ড চ্যানেলের সিরিয়াল। দেখবেন গোটা বিশ্বের সর্বত্র এরকমই কালচার হয় নতুন ছেলেমেয়েদের। একে বলে হোমোজিনয়াস কালপপ। অর্থাৎ পপুলার কালচারকে এমন একটি ছাঁচে ফেলে সকলকেই টেনে আনা যেখানে আর কোনও পৃথক জনগোষ্ঠীর পৃথক সংস্কৃতি না থাকে। আটলান্টা আর নয়ডার ছেলেমেয়েরা যেন একইরকম আচার আচরণ করে। আমেরিকার কর্পোরেট কালচারাল আগ্রাসন। ঠিক এরকমই আগ্রাসন উত্তর ভারতীয় সংস্কৃতির মধ্যে অনেক আগে থেকেই রয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকেই স্লোগান ছিল হিন্দি, হিন্দু, হিন্দুস্তানী। বাঙালিকে সংস্কৃতি আর ইন্টেলেকচুয়ালি হারাতে এতদিন ব্যর্থ হওয়ার পর এবার সময় এসেছে নতুন মোড়কে আগ্রাসনের। তাই হিন্দুত্বের অজুহাত দেওয়া হলেও আসলে এই গোটা প্লট হল বাঙালি কালচারকে পিছনে ঠেলে দিয়ে, ধ্বংস করে উত্তর ভারতীয় কালচার ঢুকিয়ে দেওয়া। নতুন এক সংস্কৃতি বাংলায় তৈরি করা। বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে লাভ কী হল? লাভটি অত্যন্ত কুশলী। এই বাচ্চাদের এখনও ভোটাধিকার হয়নি। তাদের মনন এবং ভাবনা বা চিন্তা এখন সবেমাত্র গড়ে উঠতে শুরু করেছে। প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি তাদের মধ্যে এই অস্ত্র দিয়ে আসলে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে তোমাদের চারপাশে কিন্তু একটি শত্রুপক্ষ আছে। তাদের মোকাবিলার জন্য রেডি থাকতে হবে। তোমাদের সুরক্ষার জন্য এই অস্ত্র হাতে রাখা, অস্ত্র ধরা প্র্যাকটিস করতে হবে। এরকম একটি প্রচ্ছন্ন বার্তা মগজে ঢুকে যাচ্ছে। আজ তারা ভোট দেবে না। কিন্তু ১০ বছর পর দেবে। এই ১০ বছরে তাদের মস্তিষ্কের হার্ড ডিস্কে এভাবেই বছর বছর অস্ত্র মিছিল এবং অন্যান্য গোপন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মোটামুটি ডেটা স্টোর করে দেওয়া হবে বিভেদমূলক অ্যাজেন্ডা। সুতরাং এই মনগুলিতে রাজনীতি ঢোকার আগে পাকাপাকি স্থান করে নেবে হিংসার বিষ। তারপর সেই মনটাই তাদের চালিত করবে রাজনৈতিকভাবেও। এভাবে একটি নতুন জেনারেশন তৈরি হয়ে যাবে। যারা রাজনীতিকে ধর্ম দিয়েই বিচার করা স্বাভাবিক মনে করবে। সেটা রাজনীতিগতভাবে নয়, সাংস্কৃতিকভাবেও বিপজ্জনক। কারণ আগামী জেনারেশন ক্রমেই রবীন্দ্রজয়ন্তী অথবা পয়লা বৈশাখের প্রভাত ফেরি অথবা শ্যামা শাপমোচন চিত্রাঙ্গদা কিংবা মহালয়ার বীরন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রে আর আকৃষ্ট হবে না। ওসব প্রাচীন, ন্যাকামো কিংবা যথেষ্ট ম্যাড়ম্যাড়ে বলে ভাবা হবে। তার থেকে রামনবমী, হনুমান জয়ন্তী, দিওয়ালি, দশেরা বেশি বেশি করে পালিত হবে। যেগুলির প্রতিটি পরবের মধ্যেই কমন ফ্যাক্টর হবে একটা করে ভয় দেখানো মিছিল। এই ধর্মীয় উৎসব পালন করা মোটেই দোষের নয়। অবশ্যই সকলেই করতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হল এগুলি যদি নিছক ধর্মীয় উৎসবই হয়, তাহলে সাড়ে ৫ হাজার বছরের পুরানো হিন্দুধর্মের এই উৎসবগুলি হঠাৎ করে ২০১৭ সালে শুরু করতে হল কেন? এতদিন কেন হচ্ছিল না? হিন্দুদের চারটি আকরগ্রন্থ বেদ, গীতা, শ্রীশ্রীচণ্ডী আর উপনিষদের কোথাও অস্ত্রমিছিলের হদিশ পাওয়া যায় না কেন? হিন্দুধর্মের সবথেকে আধুনিক চার প্রচারক শ্রীরামানূজ, শ্রীচৈতন্যদেব, শংকরাচার্য এবং শ্রীরামকৃষ্ণ কেন অস্ত্র মিছিলের কোনও নির্দেশ দিয়ে যাননি? কেন খোদ অযোধ্যাতেই রামনবমীতে অস্ত্র মিছিল হয় না? বাঙালি চোখ বুজে ঝাঁপিয়ে পড়ছে নিজেদের সংস্কৃতির বিপরীত পথে। শুরু হয়েছিল বিয়ে বা অন্য শুভ অনুষ্ঠানের প্রীতিভোজ দিয়ে। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, যে কোনও অনুষ্ঠানে মেনু কিংবা রীতি রেওয়াজে সম্পূর্ণ ভিনরাজ্যের কালচারই এখন শাসন করছে। বাঙালির উত্তর ভারতীয়করণে সবথেকে উৎসাহী হয়েছে বাঙালি নিজেই। আর তা দেখে উত্তর ভারত এই এতদিন পর বিজয়ের হাসি হাসছে। কারণ নিছক রাজনীতি দিয়ে নয়, উত্তর ভারত দেখিয়ে দিতে চাইছে তারা নিজেদের সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মাধ্যমেই বাংলা জয় করতে মরিয়া।
আমরা যারা হিন্দু বাঙালিরা প্রবাসে থাকি তাদের ধর্মীয় কৃষ্টি আর সাংস্কৃতিক জীবনের সবথেকে বড় বেদনা কী? দিল্লি, মুম্বই, আমেদাবাদ, ঩চেন্নাই, লখনউ কোথাও দুর্গাপুজো, সরস্বতী পুজো, কালীপুজো, লক্ষ্মীপুজো, রবীন্দ্রজয়ন্তীর ছুটি পাই না। বাঙালি পরিবারের ছেলেমেয়েদের সপ্তমী অষ্টমীর দিনও পরীক্ষা দিতে যেতে হয় স্কুলে। বাংলার বিজেপির কাছে আমাদের বিনীত নিবেদন, রামনবমী নিয়ে এতটা যত্নশীল প্রচার যখন করছেন, তখন কেন্দ্রীয় সরকারকে বলুন দুর্গাপুজো, সরস্বতী পুজো, কালীপুজো, লক্ষ্মীপুজো, রথযাত্রায় ছুটি দিতে সব কেন্দ্রীয় অফিস আর স্কুলে। কেন্দ্রে তো বিজেপি। বিজেপির যেসব রাজ্যে সরকার চলছে সেসব রাজ্যের সরকারকেও বলা হোক দুর্গাপুজোয় ছুটি দিতে। বাঙালির ছেলেমেয়েদের কী বাংলার বাইরে অধিকার নেই অঞ্জলি দেওয়া বা সন্ধিপুজোয় থাকার? যাঁরা বাঙালির মধ্যে হিন্দুত্ব জাগ্রত করতে এত সাংঘাতিক পরিশ্রম করছেন, তাদের কাছে বিনীত প্রশ্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যে দুর্গাপুজোয় চারদিন ছুটি দেয় না কেন? উত্তর ভারতের সংস্কৃতি বাঙালির উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে চোখ রাঙিয়ে। অথচ বাংলার বাইরের রাজ্যগুলিতে বাঙালির নিজেদের ধর্মপালনের পথ সুগম করা হচ্ছে না কেন?
এই প্রতিবেদন শেষ করবো দুটি প্রশ্ন নিয়ে। ১) রামনবমী কিংবা অন্যান্য অস্ত্র মিছিলের যাঁরা সমর্থন করছেন বা প্রমোট করছেন, সেই বিজেপির প্রথম সারির নেতা,নেত্রী, এমপি, মন্ত্রীদের কারও পুত্রকন্যা, নাতি, নাতনিকে অস্ত্র হাতে মিছিলে দেখা গেল না কেন? কেন নিজেদের পরিবারের ছেলেমেয়েদের ইংলিশ মিডিয়ামে পড়িয়ে দেশের সর্বোচ্চ মানের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে চলেছেন তাঁরা? নিজেদের ঘরের সন্তানসন্ততি নিরাপদে স্মার্ট আর আধুনিক জীবন কাটাবে! আর অন্য ঘরের বাচ্চা ছেলেমেয়েরা অস্ত্র নিয়ে মিছিল করবে? আর ২) সবথেকে বেশি শোনা যাচ্ছে একটাই যুক্তি। মহরমের সময় অস্ত্র হাতে মিছিল করলে দোষ নেই? রামনবমীতেই দোষ? একদম সঠিক যুক্তি। অন্যায় হলে দুটিই অন্যায়। ব্যবস্থা নিতে হলে দুটি ক্ষেত্রেই নেওয়া হোক। নয়তো দুটিকেই ছাড় দেওয়া হোক। বৈষম্য চলবে না। তবে ছোট্ট প্রশ্ন হল, সাড়ে ৫ হাজার বছরের পুরানো হিন্দুধর্মকে অন্য একটি ধর্মের নকল করতে হচ্ছে কেন? মহরমে মুসলিমদের একটি অংশ অস্ত্র হাতে মিছিল করে বলে পালটা শক্তি প্রদর্শন হিসাবে হিন্দুরা কী সেই পদ্ধতিটাকেই নকল করবে? মহান সনাতন হিন্দুত্বের ক্ষেত্রে এটা কী আদৌ গৌরবের ব্যাপার? পৃথক বৈশিষ্ট্য থাকবে না? ধর্মীয় জাগরণকে কীভাবে অস্ত্র ছাড়াই একটি সামাজিক বিপ্লবে পরিণত করা যায় তা ৫০০ বছর আগে নবদ্বীপবাসী এক ধর্মবিপ্লবী দেখিয়ে দিয়েছিলেন। হুসেন শাহের দৌহিত্র চাঁদ গাজির নির্দেশে নবদ্বীপে কীর্তনে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। উচ্চবর্ণের হিন্দু আর মুসলিম দুপক্ষই একজোট হয়ে নালিশ করে করে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করতে প্ররোচনা দিয়েছিল চৈতন্যদেবের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে। কিন্তু সামান্য উত্তেজিত না হয়ে শ্রীচৈতন্য সোজা কাজির কাছে যান। সঙ্গে কিন্তু বিরাট মিছিল। শান্তিপূর্ণ। হরিদাস, অদ্বৈত আর স্বয়ং মহাপ্রভূ কাজিকে মধুর যুক্তিতে বোঝাতে সক্ষম হলেন। অভিভূত কাজি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে তৎক্ষণাৎ বললেন, আগামীকালই নগর সংকীর্তন হোক। তিনি শ্রীচৈতন্যকে ভাগ্নে সম্বোধন করেন। আর কাজিকে ‘মামা’ সম্বোধনে আলিঙ্গন করে শ্রীচৈতন্য সেই ‘মামা ভাগ্নের’ সম্পর্ককে চিরস্থায়ী করলেন। জায়গাটা নবদ্বীপ। আমাদের বাংলা। অন্য ধর্মের একটি অংশকে নকল করে অস্ত্র হাতে নিতে হবে কেন? আমাদের ঐতিহ্যেই তো বিকল্প পথ দেখানো রয়েছে। শুধু একটু ইতিহাস,পরম্পরা, ঐতিহ্যটা জানতে হবে, পড়বে হবে। এই যা! যেমন জানা দরকার ধর্মগ্রন্থ বা পঞ্জিকা সর্বত্রই রামনবমীতে ব্রত এবং উপবাসের কথা বলা হয়েছে। অস্ত্রমিছিলের কোনও রেফারেন্সই নেই। অবশ্য জানা আর পড়ার চেষ্টা একটু কষ্টকর। কারণ ওটা একা করতে হয়। তার থেকে হুংকার-মিছিল করা সোজা। দলে মিশে চোখ রাঙানো যায়। একটা কথা বলতে ভুলে গেলাম। ১২ এপ্রিল বিভিন্ন সংবাদপত্রে (বর্তমানেও) প্রথম পাতায় হনুমান জয়ন্তীর একটি মিছিলের ছবি ছাপা হয়েছে। অনেকগুলি উৎসাহী মুখ। কপালে গেরুয়া ফেট্টি বাঁধা। কলকাতার রানি রাসমণি রোডে তোলা ছবি। সকলের মাথার গেরুয়া ফেট্টিতে জয় শ্রীরাম লেখা। কিন্তু হিন্দিতে! বাংলায় নয়। কেন?
21st  April, 2017
মারের জবাব মার! এ কোন রাজনীতির কথা বলে গেলেন অমিত শাহ
শুভা দত্ত

 একটা পা ভাঙলে দুটো পা ভেঙে দিন। একটা হাত ভাঙলে দুটো হাত। কয়েকদিন আগে পুরুলিয়ার জয়পুরে এক জনসভায় এমনই নিদান দিয়েছেন রাজ্য বিজেপি’র সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বলা বাহুল্য, ওই জনসভা ছিল আসলে বিজেপি’র স্থানীয় নেতা কর্মী সমর্থকদের সমাবেশ।
বিশদ

17th  September, 2017
কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থার হাল-হকিকত
শমিত কর

সম্প্রতি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর জানিয়েছেন, ২০১৬-এর ১ জানুয়ারি থেকে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতনক্রম পুনর্বিন্যাসের জন্য যে সুপারিশ বকেয়া রয়েছে তা শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে।
বিশদ

17th  September, 2017
আমেরিকায় অনিদ্রা রোগ ও চিকিৎসা 

আলোলিকা মুখোপাধ্যায়: অনিদ্রার উপসর্গকে তখনই রোগ বলা যায়, যখন রাতের ঘুমের জন্যে পর্যাপ্ত সময় থাকা সত্ত্বেও কারওর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। প্রতি রাতে ঘুম আসতে দেরি হয়। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে বাকি রাত প্রায় জেগেই কেটে যায়। রাতের পর রাত গভীর ঘুমের পরিবর্তে একরকম তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব থাকে, যার ফলে শরীর ও মস্তিষ্ক বিশ্রাম পায় না। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিশদ

16th  September, 2017
টানাপোড়েনের পুজো 

অনিতা অগ্নিহোত্রী: নিম্নমধ্যবিত্তের পুজোর দিনগুলোতে একটুখানি মনখারাপ মিশে থাকত কি আলো আর বাজনার পাশাপাশি বয়ে চলা তিরতিরে একটা খোলা জলের স্রোতের মতন? নাকি, আমরা ছোটবেলাতেও একটু বেশি বেশি ভাবতাম? অসচ্ছলতার উল্লেখ বাবা-মা যথাসাধ্য আমাদের কান এড়িয়েই করতেন, তবু স্প্লিনটারের টুকরো টাকরা তো গায়ে এসে পড়বেই, যদি কেউ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ দেখতে চায়!
বিশদ

16th  September, 2017
ভুল স্বীকারের বিকল্প রাজনীতি
সমৃদ্ধ দত্ত

 আমাদের সবথেকে বেশি সমস্যা হয় প্রকাশ্যে দুটি কথা বলতে। ১) ‘‘আমার ভুল হয়েছে, হ্যাঁ, ওটা আমারই ভুল কিংবা আমি ভুল করেছি।’’ আর ২) ‘‘আমার ঠিক জানা নেই।’’ তাই আমরা প্রথমেই এককথায় ভুল স্বীকারের তুলনায় বরং অনেক বেশিক্ষণ ধরে চেষ্টা করি যা বলেছি বা করেছি সেটা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মরিয়া হয়ে জাস্টিফাই করে যেতে যে ঠিকই বলেছি বা ঠিকই করেছি। আবার একইভাবে কোনও প্রশ্নের জবাবে চট করে প্রথমেই জানি না বলতেও বাধো বাধো ঠেকে।
বিশদ

15th  September, 2017
কালী-বেদান্তী

স্বামী আত্মবোধানন্দ : স্বামী অভেদানন্দের অপর নাম ‘কালী-বেদান্তী’। আশৈশব তাঁর বেদান্ত-দর্শনের প্রতি আগ্রহ। বেদান্ত মতকে তিনি গভীর নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের সঙ্গে সাধনার দ্বারা রপ্ত করে আয়ত্ত করেছিলেন। জাগতিক স্থূল চিন্তা-ভাবনাকে ছেড়ে তিনি সূক্ষ্ম বৈদান্তিক বিবেক-বিচারে ডুবে থাকতেন সারাক্ষণ।
বিশদ

14th  September, 2017
মহরম ও বিসর্জন একইদিনে কি একান্তই অসম্ভব?
মোশারফ হোসেন

 একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী গাইডলাইন তৈরি করুক প্রশাসন। বাংলার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের উপর ভরসা রাখুক। একের আবেগকে সম্মান দিতে গিয়ে অন্যের আবেগ আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া ঠিক নয়। মহরমের শোভাযাত্রা ও প্রতিমা বিসর্জন দুই-ই হোক। সময় বেঁধে। দশমীর সন্ধ্যা থেকে একাদশীর ভোর পর্যন্ত বিসর্জন চলুক। তারপর সকাল থেকে গোটা দিনটি বাদ দিয়ে রাত আটটার পর ফের বিসর্জন। মাঝের বারো-চৌদ্দো ঘণ্টা নির্বিঘ্নে মহরমের শোভাযাত্রা রাজপথ পরিক্রমা করুক। বিসর্জন এবং মহরম শোভাযাত্রা—দুইয়ের জন্যই প্রশাসন নির্দিষ্ট রুট বেঁধে দিক।
বিশদ

12th  September, 2017
ডোকলাম শিক্ষা: নতুন রণকৌশল জরুরি
গৌরীশংকর নাগ

 ডোকলাম বিতর্কের দ্বিমাসাধিক সময়ে যখন ভারতের প্রতিবেশীরা আগ্রহ নিয়ে তাকিয়েছিল ভারতের পদক্ষেপের দিকে, তখন বলাই বাহুল্য দুর্বল ও ক্ষুদ্র প্রতিবেশীর কাছ থেকে ভারত যে সমর্থন পেয়েছে সেই দায় নিউ দিল্লি ঝেড়ে ফেলতে পারবে না। ঠিক যেমন ভারতকে তার ভুল নেপালনীতির জন্য এখন মাশুল গুনতে হচ্ছে। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিউ দিল্লি যেভাবে নতুন করে ঘুঁটি সাজাতে চাইছে (মোদির ‘প্রতিবেশী দেশকে সর্বাধিক গুরুত্ব দাও’-এর নীতি প্রসঙ্গত লক্ষণীয়) তাতেই চীনের গাত্রদাহ বেড়ে যাবার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
বিশদ

12th  September, 2017
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরেই কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প লেখেন। তাঁর জীবনীসহ নানা বই ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। কয়েকটি বই বহু সংখ্যায় বিক্রিও হয়েছে। ...

নয়াদিল্লি, ১৯ সেপ্টেম্বর: ভারতে প্রতিরক্ষা সামগ্রী নির্মাণে আগ্রহী হলেও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণের রাশ ছাড়তে নারাজ মার্কিন সংস্থাগুলি। কারণ, ভারতীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের প্রকল্পে নির্মিত সামগ্রী ত্রুটিপূর্ণ হলে তার দায়ভার নিতে চাইছে না তারা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’তে ...

সুকান্ত বেরা: মহালয়া মানেই দুর্গাপুজোর কাউন্টডাউন শুরু। বড় পার্বন ঘিরে বাঙালি এখন উৎসবমুখর। ক্রিকেটের নন্দনকাননে ভারত-অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ওয়ান ডে ম্যাচ ঘিরে আগ্রহ কম শহরবাসীর। বাইশগজে ...

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: সোমবার রাতে ও মঙ্গলবার সকালে বিষ্ণুপুরের হুলামারা ও বিড়াইয়ে পৃথক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল দু’জনের। প্রথম ঘটনায় লরির ধাক্কায় এক সাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম জান আলি চৌধুরি(৫৪)। তাঁর বাড়ি হুলামারা গ্রামেই। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চতর বিদ্যায় সফলতা আসবে। সরকারি ক্ষেত্রে কর্মলাভের সম্ভাবনা। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য আসবে। প্রেম-প্রণয়ে মানসিক অস্থিরতা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

 ১৯১৯- অভিনেতা জহর রায়ের জন্ম
১৯২১- সাহিত্যিক বিমল করের জন্ম
১৯২৪- গায়িকা সুচিত্রা মিত্রের জন্ম
১৯৬৫- মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামসের জন্ম

19th  September, 2017
ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.২৫ টাকা ৬৪.৯৩ টাকা
পাউন্ড ৮৫.৭০ টাকা ৮৮.৬৩ টাকা
ইউরো ৭৫.২৭ টাকা ৭৭.৯২ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
19th  September, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩০,২০০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৮,৬৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৯,০৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৯,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৯,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২ আশ্বিন, ১৯ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার, চতুর্দ্দশী, পূর্ব ফল্গুনী দং ৪৩/৫২ রাত্রি ঘ ১১/১, সূ উ ৫/২৭/৫৭, অ ৫/৩৩/১১, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/১৫ মধ্যে পুনঃ ৭/৪ গতে ১১/৭ মধ্যে। রাত্রি ঘ ৭/৫৭ গতে ৮/৪৫ মধ্যে পুনঃ ৯/৩২ গতে ১১/৫৪ মধ্যে পুনঃ ১/৩০ গতে ৩/৫ মধ্যে পুনঃ ৪/৪০ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ৬/৫৮ গতে ৮/২৯ মধ্যে পুনঃ ১/১ গতে ২/৩১ মধ্যে। কালরাত্রি ৭/৩ গতে ৮/৩২ মধ্যে।
২ আশ্বিন, ১৯ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার, চতুর্দ্দশী, পূর্বফল্গুনীনক্ষত্র ১১/৩৮/৪৭, সূ উ ৫/২৬/২৮, অ ৫/৩৪/২৮, অমৃতযোগ দিবা ৬/১৫/০ মধ্যে, ৭/৩/৩২- ১১/৬/১২, রাত্রি ৭/৫৬/৫২-৮/৪৪/২০, ৯/৩১/৪৮-১১/৫৪/১২, ১/২৯/৮-৩/৪/৪, ৪/৩৯/০-৫/২৬/২৮, বারবেলা ৬/৫৭/২৮-৮/২৮/২৮, কালবেলা ১/১/২৮-২/৩২/২৮, কালরাত্রি ৭/৩/২৮-৮/৩২/২৮। 
২৭ জেলহজ্জ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
জম্মু ও কাশ্মীরের বানিহালে এসএসবি-র ক্যাম্পে জঙ্গি হামলা, এক জওয়ানের মৃত্যু 

09:32:00 PM

দুর্গাপুরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে টিকা দেওয়ার পর ২ শিশুর মৃত্যু

08:28:00 PM

এগরাতে মদের দোকানে ভাঙচুর, আগুন

08:27:00 PM

পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা এলাকার শিলাবতী নদীতে ভাসান দিতে এসে তলিয়ে গেল ২ ছাত্র

07:19:00 PM

ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে ধর্মঘটে সুন্দরবনের বোট মালিকরা
বিভিন্ন দাবি দাওয়ার ভিত্তিতে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ...বিশদ

07:10:00 PM

খারাপ আবহাওয়ার জন্য মুম্বই বিমানবন্দর থেকে একাধিক উড়ান বাতিল
বুধবার খারাপ আবহাওয়ার জন্য মুম্বই বিমানবন্দর থেকে ৬৩টি ...বিশদ

06:23:00 PM

মহারাষ্ট্রে ব্যাপক বৃষ্টি, জলমগ্ন একাধিক এলাকা

06:20:00 PM