বিশেষ নিবন্ধ
 

 সব মিলিয়ে রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই কি পরিষ্কার হয়ে উঠছে

মেরুনীল দাশগুপ্ত: গত সোমবার থেকে চারদিকে যেন একেবারে তাধৈমাধৈকাণ্ড শুরু হয়ে গেছে! রাজ্যের ক্ষীণবল-হীনবল বিরোধীরা রাতারাতি সব যেন সাত হাতির বল পেয়ে চাঙা চতুর্ভুজ! কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় মিছিল আর শাস্তি চাই পদত্যাগ চাই-এর ঠেলায় জেরবার জনজীবন, অতিষ্ঠ মানুষজন। গরমের হাঁসফাঁস দিন দুপুরের যন্ত্রণা কয়েকপ্রস্থ বাড়িয়ে তুলছে ওই শাস্তি চাই, পদত্যাগ চাই। আর বলা বাহুল্য এইসব হইহট্টগোলের পুরোভাগে সেই লালঝান্ডা সেই সিপিএম ও তার শরিকজন। তাঁদের উৎসাহ এবং উদ্দীপনার বহর দেখে মনে হচ্ছে, এতদিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জব্দ করার একটা জুতসই হাতিয়ার পেয়েছেন তাঁরা। তাতেই কী আনন্দ...! স্বাভাবিক। ঘুরে দাঁড়ানোর আশা যখন সুদূর দিগন্তেও আর দেখা যাচ্ছে না তখন রাজনৈতিক জাতশত্রু মমতাকে কিছুটা হলেও বেকায়দায় ফেলার সুযোগ—সেই বা কম কী? সুতরাং, কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে সিপিএম আর তার সহযোগীরা। কংগ্রেস সমেত বাদবাকি বিরোধীরাও এই হট্টমেলায় আছেন তবে যে কোনও কারণেই হোক তাঁরা যেন একটু পিছিয়ে, একটু ঢিলেঢালা! রাজ্য বিজেপি ভিতরে ভিতরে যা-ই হোক বাইরে এখনও ‘আইন আইনের পথে চলবে’ পর্যন্ত। সঙ্গে অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে লক্ষ্য করে টীকা-টিপ্পনী, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁদের রাজ্যসভাপতি দিলীপ ঘোষ। অসুস্থ দলীয় সাংসদ সদস্য সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখতে মমতার ওড়িশাযাত্রা নিয়ে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি তিনি। কিন্তু, তাঁর নেতাকর্মীদের অনেকের মুখের আভায়, কথার ভাষায় স্পষ্ট এবার পদ্মের কাঁটা আরও তীব্র আরও ভেদশক্তি নিয়ে শহরগ্রামের পথে নামবে। মঙ্গলবারের রক্তাক্ত পাড়ুই হয়তো তার আভাস দিয়েই দিল।
কিন্তু, এতসব কেন! কীসের জন্য এত হল্লাগুল্লা মিছিল সভা টীকা-টিপ্পনী! দেখেশুনে তো মনে হচ্ছে—যেন কী ভীষণ কী ভয়ংকর একটা কাণ্ড ঘটে গেছে রাজ্যে! এমন কাণ্ড যে রাজ্যবাসীর খাওয়া-পরাই বুঝি বন্ধ হয়ে যাবে এবার, রাজ্যের উন্নয়ন উন্নতির চাকাগুলোও একযোগে গ্রাস করবে মেদিনী! এবং যতক্ষণ না শাস্তি চাই, পদত্যাগ চাই দাবির একটা বিহিত হচ্ছে সূর্যচন্দ্র গ্রহতারাও আর ফুটবে না! হয়েছেটা কী? না, সিবিআই নারদকাণ্ড নিয়ে এফআইআর দায়ের করেছে। এবং সেই এফআইআরে রাজ্যের শাসক তৃণমূলের কয়েকজন বিশিষ্ট নেতামন্ত্রী সংসদ সদস্যের নাম আছে। সেইসঙ্গে নির্ধারিত সময়সীমা মেনে সিবিআই মহামান্য আদালতে নারদ-সংক্রান্ত তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টও জমা করেছে। তো কী! এর মধ্যে অপ্রত্যাশিত অত্যাশ্চর্য অভাবনীয় ঘটনা কোনটা? যেমনটা প্রত্যাশা ছিল, তেমনটাই ঘটেছে। শুনছি, কোনও কোনও মহামতি নাকি ভেবেছিলেন, আদালতের কাছে সিবিআই ফের সময় চাইবে। যেমনটা এর আগে সারদা ইত্যাদি মামলায় চেয়েছে সিবিআই। জানি না, এক্ষেত্রে তাঁরা এমনটা ভেবেছিলেন কোন যুক্তিতে! কারণ, যতদূর মনে পড়ছে—বাংলায় এমন যে ঘটবে এবং তাতে সিবিআই যে এমন ‘বলিষ্ঠ’, ‘কঠিন’ এবং ‘সক্রিয়’ ভূমিকা নেবে ইউপি ভোটের মুখে গেরুয়া শিবির থেকে এমন ভবিষ্যদ্বাণী বেশ স্পষ্ট করেই শোনা গিয়েছিল! দেশের শাসক শিবিরের এক মহাদিগ্‌গজই সেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। তাহলে আজ সেই ভবিষ্যদ্বাণী ফলতে শুরু করেছে দেখে আশ্চর্যের কী আছে!
তাছাড়া, গতকাল অবধি হয়েছেটাই বা কী? নারদকাণ্ডে কয়েকজনের নামে অভিযোগ জানিয়ে এফআইআর করেছে সিবিআই। কথা হল, এফআইআরে নাম থাকলে অভিযুক্ত বলা চলে কিন্তু অপরাধী বলা যায় কি? অপরাধ আদালতে প্রমাণ হলে তখন ভিন্ন কথা। তাহলে তার আগে বিরোধী বিশেষত সিপিএমের দু’একজন কী করে অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে ‘অপরাধী’ বলছেন? মাসির গোঁফ গজানোর আগেই এভাবে যাঁরা মামা ডাকছেন—তাঁরাও কি অন্যায় করছেন না? দ্বিতীয়ত, আগেও বলেছি আবার বলছি, বলা ভালো জানতে চাইছি, ‘ঘুষ’ নেওয়া অপরাধ হলে ঘুষ দেওয়া বা সেই ঘুষের জন্য টাকা ঢালাও কি অপরাধ নয়?! ভারতীয় দণ্ডবিধি কী বলে? তাহলে, নারদকাণ্ডে যাঁরা ঘুষ দিতে এসে঩ছিলেন এবং যিনি সেই ঘুষের টাকা জোগান দিয়েছিলেন—তাঁদের নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য নেই কেন! তাঁরা কেউই তো অজ্ঞাতপরিচয় নন। তাহলে? সিপিএমের সুজন চক্রবর্তী মঙ্গলবারও দাবি করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে নারদকাণ্ডের তদন্তের আওতায় আনতে হবে! তা, মমতাকে কেন? তিনি টাকা নিচ্ছেন এমন ছবি কি কোথাও দেখা গেছে? সুজনবাবু তাহলে কীসের ভিত্তিতে এমন দাবি করছেন? দলের কোনও লোকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই দলপতিকে কাঠগড়ায় তুলতে হবে—এমন কথা কোন আইনে আছে? থাকলে, জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কি রাইটার্সে বসে অত বছর অমন আরামসে সদর্পে রাজত্ব চালাতে পারতেন!? তাছাড়া, রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর নামে তথ্যপ্রমাণ ছাড়া এমন দাবি কি তোলা যায়? আমি আইনজ্ঞ নই—তাই জানতে চাই—এর জন্য আইনকানুনটা কী আছে? জানাবেন প্লিজ!
আর এখানেই আমার ছোট্ট দুইখান প্রশ্ন—১) ওই নারদ ভিডিওতে যে ‘ঘুষ’ দাতাদের পশ্চাৎদেশ দেখা গেছে (অন্তত টিভিতে যেমন দেখেছি) তাদের কি আইনের আওতায় আনা উচিত নয়? কী বলে সুজনবাবুদের আইনকানুন? ২) একটি ভুয়ো কোম্পানির জন্য তদবির করতে এসে নেতা-মন্ত্রী সাংসদদের টাকা ধরানোর চেষ্টা এবং তার ছবি তুলে রাখাও কি আমাদের দেশের আইনে মান্যতা পাবে? নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সুপরিকল্পিত চক্রান্ত বা এক ধরনের প্রতারণা এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে? রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলছি কারণ, যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে সিবিআই একজন বাদে তাঁদের সকলেই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। সুজনবাবুদের মতো যাঁরা আজ নারদ নারদ করে আকাশ-বাতাস মাতাচ্ছেন—তাঁরা অনুগ্রহ করে জানাবেন কি?
আসলে, ব্যাপারটা যে ওখানে নয় তা ওঁর মতো পোড়খাওয়া ঘোড়েল রাজনীতিকরা কেন, আজ আম পাবলিকও ভালোই জানেন বোঝেন। অভিজ্ঞতায় তাঁরা কী দেখেননি, সারদা থেকে নারদা এ তাবৎ সিবিআইয়ের ভূমিকাটা কী! এই কিছুদিন জ্বলে উঠছে তেড়েফুঁড়ে নামছে, তত্ত্বতালাশ করছে, আদালতে সওয়াল-জবাব চালাচ্ছে, তদন্তের জন্য সময় নিচ্ছে তারপর হঠাৎ একদিন সব ঠান্ডা, হিমঘরে! আর সিবিআইয়ের এই তৎপরতা নিয়ে কিছুদিন রহস্য রোমাঞ্চ কৌতূহলে জমজমাট রাজনীতি থেকে আমমহলে। এই তো দেখুন না, সারদা মামলা নিয়ে কিছুদিন কতকিছু হল, সিবিআইয়ের সে কী তৎপরতা! অমুক তমুকের পর আরও প্রভাবশালী কার নাম ভেসে ওঠে সিবিআইয়ের খাতায় তা নিয়ে ক’দিন কী উত্তেজনা! রাজ্যের এক মন্ত্রী সহ বেশ কয়েকজনকে জেল পর্যন্ত খাটতে হল। আর এসবের অনেকটাই হল কোনও না কোনও ভোটের মুখে! কিন্তু, দিনের শেষে নিট ফলটি কী? সারদায় নিঃস্ব ক’জনের কতটুকু উপহার হল? সেই সারদা মামলার অবস্থাটাই বা আজ কেমন—জানেন কে? রোজভ্যালি? আরও যেসব চিটফান্ড? তাদের ব্যাপারে শেষপর্যন্ত সিবিআই কোথায় গিয়ে ঠেকে আছে? জানেন না রাজ্যবাসী। শুধু এটুকু জানেন, একদিন হয়তো হঠাৎ করে আবার জেগে উঠবে সারদা থেকে রোজভ্যালি—আবার নতুন নতুন অভিযুক্তের নাম নিয়ে জল্পনা ছড়াবে! সিবিআইয়ের চকিত চমকে রহস্য রোমাঞ্চ ছড়াবে সান্ধ্য টিভির আসরে জমে উঠবে বিতর্ক এবং শেষমেশ একদিন আবার উবে যাবে সব! আর এই রহস্য রোমাঞ্চ উপভোগের সম্ভাবনা বাড়বে ভোট আসন্ন হলে! এমনটাই তো চলছে বছর বছর। তাই নারদকাণ্ড নিয়ে সিবিআই বা দিল্লির শাসকের চেয়ে রাজ্যের আম পাবলিক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যেই বেশি আস্থা রাখছেন—চিন্তা করার কোনও দরকার নেই। এসবই রাজনীতির খেলা। রাজনৈতিকভাবেই এর মোকাবিলা করা হবে।
সত্যি বলতে কী, পরিস্থিতির বিচারে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ইউপি ভোটের সময় একদিকে গেরুয়া শিবিরের ওই ভবিষ্যদ্বাণী অন্যদিকে টার্গেট বেঙ্গল—বাংলা দখলের হুংকার এবং পরবর্তীতে রাজ্যজুড়ে রামনবমীর সশস্ত্র মিছিল, সারদা থেকে নারদা—সিবিআইয়ের হঠাৎ তৎপরতা এবং আচমকা বসে যাওয়ার ধারাবাহিকতা, গত বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্য বিজেপি অফিস থেকে আজকের বহুচর্চিত নারদ ভিডিও প্রকাশ, মুখ্যমন্ত্রীর খাসজমিনে প্রচারসভায় দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় নেতা তথা দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের মমতা-ব্যাপারে নীরবতা ও মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো মিষ্টি নিয়ে ফেরায় রাজ্য বিজেপি’র ক্ষোভ এবং সে ক্ষোভ সামাল দিতে ভুবনেশ্বরের কর্মসমিতির বৈঠকে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া পরিবারের সদস্য-সমর্থকদের ওপর হামলার ‘নিন্দা’ ও শান্তিপূর্ণ পথে জবাব দেওয়ার’ চেতাবনি আর তার সমসময়ে নারদ নিয়ে সিবিআই তৎপরতা, এফআইআর—সব মিলিয়ে রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই কি পরিষ্কার হয়ে উঠছে!? কয়েকদিন আগে, তখন ভুবনেশ্বরে কর্মসমিতির বৈঠক চলছে, রাজ্যের এক কট্টর এবং সক্রিয় গেরুয়াকর্মীকে মজা করে বলেছিলাম, আবার নারদা! ক’দিন? তিনি ঠোঁটে রহস্যময় হাসির রেখা ফুটিয়ে বলেছিলেন—দাদা, পঞ্চায়েত ভোটে এবার আমরা থাকছি। এবার অত সহজে ছাড় হবে না। দেখতে যান, পরের পর কী হয়!
কী হবে কতদূর হবে আমরা জানি না। তা সময় বলবে। তবে, সামনে পঞ্চায়েত নির্বাচন। তারপরই ২০১৯-এ লোকসভা ভোট। বাংলার ক্ষমতা দখলের মূল লড়াইয়ের আগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি ধাপ। এই দুই ধাপে পদ্মের সংখ্যা এবং শক্তি বাড়াতে রাজ্য বিজেপি যে এবার সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে এবং তাতে যে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় অনুমোদন মিলেছে তা কেবল ওই গেরুয়াকর্মী নয় খোদ অমিত শাহের মন্তব্যেও পরিষ্কার। ভুবনেশ্বরে কর্মসমিতির বৈঠকে তিনি তো বলেই দিয়েছেন, বাংলা সহ দেশের বাকি অবিজেপি রাজ্যে ক্ষমতা কায়েম করতে না পারলে বিজেপি’র ‘স্বর্ণযুগ’ আসবে না। তো? এর থেকে বোঝাই যাচ্ছে স্বর্ণযুগের জন্য ‘টার্গেট বেঙ্গল ২০২১’ সফল করতে বিজেপি আটঘাট বেশ কড়া করেই বাঁধছে। রাজ্যের রাজৈনতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, কাঁথি দক্ষিণ কেন্দ্রের ফল এবং রামনবমীতে বিজেপি ও তার সংঘমিত্রদের সশস্ত্র মিছিলে মমতার একচ্ছত্র বাংলায় পালটা শক্তি প্রদর্শনের মহড়া হয়ে গেছে। মঙ্গলবারের রক্তঝরা পাড়ুই সেই পালটা শক্তিরই এক সংক্ষিপ্ত প্রকাশ। তাঁদের আশঙ্কা, পঞ্চায়েত ভোটের আগে আরও অনেক পাড়ুই ঘটবে। রক্ত ঝরবে।
শুধু তাই নয়, রাজ্যের স্বার্থে তিস্তা জলচুক্তিতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মানাতে দিল্লির কলাকৌশল নিয়েও সন্দিহান রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের একাংশ। চলতি সিবিআই এফআইআর জিজ্ঞাসাবাদ এবং আগামী সপ্তাহে আরও চমকপ্রদ কিছু ঘটার জল্পনা ইত্যাদিতে সেই সন্দেহের ছায়া দীর্ঘতর হচ্ছে জনমনেও। মহামান্য আদালতের নির্দেশেই সবকিছু হচ্ছে জেনেও সে সন্দেহের ছায়া সরছে না। এখন প্রশ্ন হল, ‘টার্গেট বেঙ্গল ২০২১’ সফল করার পথে ওই ছায়া শেষপর্যন্ত কাঁটা হয়ে ফুটবে না তো? ফুটুক আর না-ই ফুটুক, শক্তির এই নতুন খেলায় কংগ্রেস সিপিএম ও তাদের শরিকজনেদের বিশেষ উল্লসিত হওয়ার কারণ নাই। তাঁরা এখন সব কাঁথি দক্ষিণ। শাস্তি চাই পদত্যাগ চাই—মিটিং মিছিল মুণ্ডপাত যা-ই করুন চট করে কাঁথি দক্ষিণ ছাড়িয়ে ওঠা তাঁদের পক্ষে মুশকিল। তাই, নারদায় বেল যতই পাকুক তাঁদের বিশেষ লাভ নাই।
20th  April, 2017
জলযাত্রার সাতকাহন ও নতুন রূপকথা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

বেশ মনে পড়ছে, সোয়া বছর আগে ‘আরশিনগরের পড়শি’ যখন লেখা শুরু করি তখন একেবারে প্রথম দিকে উত্তর চব্বিশ পরগনায় আমাদের চারঘাট গ্রামের যমুনা নদীর চুরি হয়ে যাওয়ার গল্প লিখেছিলাম। বর্ষার সময় টলটলে ও ছলছলাৎ​ যমুনায় লঞ্চে চেপে আমরা আমাদের গ্রামের বাড়ি যাওয়া-আসা করতাম। কারণ, তখনও গোবরডাঙ্গা বা মছলন্দপুর স্টেশন থেকে গ্রামে যাওয়ার পাকা রাস্তা তৈরি হয়নি। ফলে ভরা বর্ষায় নৌকো বা লঞ্চই ছিল ভরসা।
বিশদ

দার্জিলিঙে পুলিশ খুন: গুরুং-বাহিনী কোথা থেকে এত সাহস পাচ্ছে!
শুভা দত্ত

বিষয়টা ক্রমশ মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে না কি? মনে তো হচ্ছে তাই। লোকেও তো বলছে তেমনই! হচ্ছেটা কী? পাহাড়ে! দাঙ্গাহাঙ্গামা, জোরজুলুম, খুন, লুঠতরাজ, আগুন, বোমা দিনের পর দিন বন্‌ধ শঙ্কা-আশঙ্কার দোলায় জেরবার সারাদিন সারারাত, পড়াশোনা কাজকর্ম পর্যটন সব লাটে ওঠার জোগাড়। আর এসবের জেরে অতিষ্ঠ সাধারণ পাহাড়িয়া মানুষ!
বিশদ

দূষণ নিয়ন্ত্রণে পিপিপি মডেল ভাবনা 

কল্যাণ বসু: পিপিপি বললে এক লহমায় মনে আসে পাবলিক, প্রাইভেট, পার্টনারশিপের কথা—যা এখনকার দুনিয়ায় বহুচর্চিত একটি বিষয়। আবার বিশ্বের প্রধান তিন সমস্যা বা প্রবলেম (এর আদ্যক্ষরটিও ‘পি’) বোঝাতেও সেই পিপিপি—পপুলেশন, পভার্টি, পলিউশন। বিশ্বজুড়ে প্রতিবছরই একটা করে ‘পরিবেশ দিবস’ সমারোহে ‘উদ্‌যা঩পিত’ হয়। এবছরও হয়েছে যথাসময়ে, যথারীতি।  বিশদ

21st  October, 2017
অন্য এক মীরা: স্বাধীনতার ইতিহাসের এক নীরব অধ্যায় 

সর্বাণী বসু: ব্রিটিশ নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল স্যার এডমন্ড স্লেড তাঁর ড্রিঙ্করুমের সোফা সেটে বসে আছেন, এক হাতে পানীয়ের গ্লাস অন্য হাতে ধরা একটি চিঠি। মনোযোগ দিয়ে তিনি চিঠিটি পড়ছেন। মুখে খেলে যাচ্ছে অপ্রসন্ন অসহায়তার মেঘ। সামনের সোফায় বসে মিসেস স্লেড উৎকণ্ঠিত মুখে তাকিয়ে।
বিশদ

21st  October, 2017
পাহাড়জুড়ে রাজ্যের শান্তি প্রক্রিয়া এবং
উন্নয়নের মাঝেও কেন এই রাজনীতি?
নিমাই দে

রাজ্যে এক সময় ৬০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী ছিল। এখন তা কমে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৮ কোম্পানিতে। অথচ বিজেপি শাসিত অন্য কয়েকটি রাজ্যের দিকে তাকালে চিত্রটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। ছত্তিশগড়ে ২৫২ কোম্পানি, ঝাড়খণ্ডে ১৪৪ কোম্পানি, দিল্লি ৪০ কোম্পানি ইত্যাদি। তারপরেও গত ১৫ অক্টোবর সাতসকালে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে ফ্যাক্সবার্তায় জানিয়ে দেওয়া হল, পাহাড়ে থাকা মাত্র ১৫ কোম্পানির মধ্যে ১০ কোম্পনিই প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।
বিশদ

20th  October, 2017
নিজেদের মহানুভবতা সম্পর্কে উদাস বলেই
এদেশে কৃষকরা এত উপেক্ষার শিকার
রঞ্জন সেন

মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন, ‘‘কৃষকরা বিশ্বের পিতা, কিন্তু তাঁদের মহানুভবতা এই যে তাঁরা তা নিজেরাই জানেন না। তাঁরা নিজেরাই জানেন না তাঁদের কতটা মূল্য। তাঁরা তার ধারও ধারেন না।’’ কিন্তু স্বাধীনতার প্রায় ৭০ বছর পরেও দেশও কি তাদের মূল্য বুঝল?
বিশদ

20th  October, 2017
২০১৭ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার প্রাপক থেলারের কাছ থেকে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের শিক্ষা নিক মোদি সরকার
দেবনারায়ণ সরকার

 যুক্তিবাদী অর্থনীতি থেকে জীবনমুখী অর্থনীতিতে উত্তরণের অন্যতম মুখ্য পথপ্রদর্শক হলেন ২০১৭ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ রিচার্ড থেলার। থেলার তাঁর বিখ্যাত ‘‘Misbehaving: The making of behavioural economics’’ (‘অশোভন আচরণ: আচরণগত অর্থনীতির উদ্ভাবন’) গ্রন্থে বলেছিলেন, ‘অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে গেলে দুটি উপাদান আবশ্যকীয়: বারবার অভ্যাস বা চর্চা করা এবং অবিলম্বে তাদের প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করা’ বিশদ

19th  October, 2017
খিদে কি শুধুই পরিসংখ্যান?
শুভময় মৈত্র

 খবর এসে গিয়েছে যে খিদের সূচকে ভারত নাকি বিশ্বের মধ্যে বেশ খারাপ জায়গায়। আমাদের স্থান কাঁটায় কাঁটায় একশো, গত বছর যেটা ৯৭ ছিল। আশেপাশের দেশগুলোর মধ্যে ভারতের থেকে খিদে যাদের বেশি পাচ্ছে তারা হল পাকিস্তান (১০৬) আর আফগানিস্তান (১০৭)। ভারতের আগে আছে নেপাল (৭২), মায়নামার (৭৭), শ্রীলঙ্কা (৮৪) এবং বাংলাদেশ (৮৮)। যুদ্ধবিদ্ধস্ত ইরাক ৭৮-এ আর পরমাণু বোমা নিয়ে পেশিসঞ্চালনে পটুত্ব দেখানো উত্তর কোরিয়া ৯৩।
বিশদ

19th  October, 2017
একনায়ক কি জনপ্রিয়তা হারাচ্ছেন?
হিমাংশু সিংহ

 পুজোয় কয়েকদিন বারাণসীতে ছিলাম। পুরীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যুগ যুগ ধরে বাঙালির দ্বিতীয় হোমটাউন বলে কথা। তার ওপর দেশের ইতিহাসে হালফিল সবচেয়ে ক্ষমতাশালী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সংসদীয় কেন্দ্র।
বিশদ

17th  October, 2017
একনজরে
সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: শনিবার ডিমডিমায় বিরবিটি নদীর কাছে ৩১ সি জাতীয় সড়কে টাটা সুমোর দুর্ঘটনায় একটি একবছরের শিশুর মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় শিশুটির বাবা ও মাসহ আরও ১০ জন জখম হয়েছেন। মৃত শিশুটির নাম প্রবীণ সুবেদি(১)। তার বাড়ি ভুটানের কালীখোলায়। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাত্রী পরিবহণে আয় বাড়ল পূর্ব রেলের। তারা জানিয়েছে, গত এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসে যাত্রী পরিবহণে তাদের আয় ৪.১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ...

সংবাদদাতা, আরামবাগ: গাড়ি থেকে চাল চুরি করে হোটেলে বিক্রি করার অভিযোগে শনিবার তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে আরামবাগ থানার পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম ইমাম শেখ, সুরজ শেখ ও বিবেক দাস। ...

 বিএনএ, চুঁচুড়া: শনিবার সকালে মগরা থানার ময়ূরমহলের কাছে সোয়াখালে স্নান করতে নেমে তলিয়ে যায় দুই কিশোরী। তাদের মধ্যে একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা গেলেও, অপর কিশোরীর সন্ধান এখনও মেলেনি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সেখানে স্নান করতে নেমেছিল দুর্গা ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চতর বিদ্যায় বাধা কাটবে। বড়দের কথার মান্যতা দেওয়া দরকার। ব্যাবসা সূত্রে উপার্জন বৃদ্ধি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৫৪: কবি জীবনানন্দ দাশের মৃত্যু
১৯৮৮: অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়ার জন্ম
২০০৮: চিত্রশিল্পী পরিতোষ সেনের মৃত্যু
২০০৮: চন্দ্রায়ন-১-এর সূচনা

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৪.২০ টাকা ৬৫.৮৮ টাকা
পাউন্ড ৮৩.৭৮ টাকা ৮৬.৬৩ টাকা
ইউরো ৭৫.৬০ টাকা ৭৮.২৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
21st  October, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩০,০৪৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৮,৫০৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৮,৯৩৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,০০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,১০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৫ কার্তিক, ২২ অক্টোবর, রবিবার, তৃতীয়া রাত্রি ৪/৫২, নক্ষত্র-বিশাখা, সূ উ ৫/৩৯/৪৪, অ ৫/২/৪২, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/২৫ গতে ৮/৪২ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৪ গতে ২/৪৬ মধ্যে। রাত্রি ঘ ৭/৩৫ গতে ৯/১৩ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৭ গতে ১/২৮ মধ্যে পুনঃ ২/১৮ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৯/৫৬ গতে ১২/৪৭ মধ্যে, কালরাত্রি ১২/৫৬ গতে ২/৩১ মধ্যে।
৪ কার্তিক, ২২ অক্টোবর, রবিবার, তৃতীয়া রাত্রি ৩/৫/৪৮, বিশাখানক্ষত্র, সূ উ ৫/৩৯/৩৬, অ ৫/২/২৪, অমৃতযোগ দিবা ৬/২৫/৭-৮/৪১/৪১, ১১/৪৩/৪৬-২/৪৫/৫০, রাত্রি ৭/৩৩/৫০-৯/১৪/৪৮, ১১/৪৬/১৪-১/২৭/১২, ২/১৭/৪১-৫/৪০/৮, বারবেলা ৯/৫৫/৩৯-১১/২১/০, কালবেলা ১১/২১/০-১২/৪৬/২১, কালরাত্রি ১২/৫৫/৩৯-২/৩০/১৮। 
১ শফর

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
দিল্লিতে অর্জুনগড় মেট্রো স্টেশনের কাছে ওলা গাড়িতে উদ্ধার এক ব্যক্তির দেহ

21-10-2017 - 10:11:00 PM

দিল্লিতে রাজৌরি গার্ডেনের কাছে একটি হোটেলে দম্পতির দেহ উদ্ধার

21-10-2017 - 10:07:00 PM

অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ: আমেরিকাকে ৪-১ গোলে হারাল ইংল্যান্ড

21-10-2017 - 10:05:14 PM

অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ: আমেরিকা ১ - ইংল্যান্ড ৩ (৭৩ মিনিট)

21-10-2017 - 09:36:09 PM

অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ: আমেরিকা ০ - ইংল্যান্ড ৩ (৬৪ মিনিট)

21-10-2017 - 09:28:04 PM

অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ: আমেরিকা ০ - ইংল্যান্ড ২ (৫০ মিনিট)
অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপে আজ মারগাঁওয়ে আমেরিকা বনাম ইংল্যান্ডের ম্যাচে ...বিশদ

21-10-2017 - 09:00:00 PM

অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ: ঘানাকে ২-১ গোলে হারাল মালি
অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপে আজ গুয়াহাটিতে মালি বনাম ঘানার ...বিশদ

21-10-2017 - 07:00:00 PM