বিশেষ নিবন্ধ
 

 সব মিলিয়ে রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই কি পরিষ্কার হয়ে উঠছে

মেরুনীল দাশগুপ্ত: গত সোমবার থেকে চারদিকে যেন একেবারে তাধৈমাধৈকাণ্ড শুরু হয়ে গেছে! রাজ্যের ক্ষীণবল-হীনবল বিরোধীরা রাতারাতি সব যেন সাত হাতির বল পেয়ে চাঙা চতুর্ভুজ! কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় মিছিল আর শাস্তি চাই পদত্যাগ চাই-এর ঠেলায় জেরবার জনজীবন, অতিষ্ঠ মানুষজন। গরমের হাঁসফাঁস দিন দুপুরের যন্ত্রণা কয়েকপ্রস্থ বাড়িয়ে তুলছে ওই শাস্তি চাই, পদত্যাগ চাই। আর বলা বাহুল্য এইসব হইহট্টগোলের পুরোভাগে সেই লালঝান্ডা সেই সিপিএম ও তার শরিকজন। তাঁদের উৎসাহ এবং উদ্দীপনার বহর দেখে মনে হচ্ছে, এতদিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জব্দ করার একটা জুতসই হাতিয়ার পেয়েছেন তাঁরা। তাতেই কী আনন্দ...! স্বাভাবিক। ঘুরে দাঁড়ানোর আশা যখন সুদূর দিগন্তেও আর দেখা যাচ্ছে না তখন রাজনৈতিক জাতশত্রু মমতাকে কিছুটা হলেও বেকায়দায় ফেলার সুযোগ—সেই বা কম কী? সুতরাং, কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে সিপিএম আর তার সহযোগীরা। কংগ্রেস সমেত বাদবাকি বিরোধীরাও এই হট্টমেলায় আছেন তবে যে কোনও কারণেই হোক তাঁরা যেন একটু পিছিয়ে, একটু ঢিলেঢালা! রাজ্য বিজেপি ভিতরে ভিতরে যা-ই হোক বাইরে এখনও ‘আইন আইনের পথে চলবে’ পর্যন্ত। সঙ্গে অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে লক্ষ্য করে টীকা-টিপ্পনী, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁদের রাজ্যসভাপতি দিলীপ ঘোষ। অসুস্থ দলীয় সাংসদ সদস্য সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখতে মমতার ওড়িশাযাত্রা নিয়ে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি তিনি। কিন্তু, তাঁর নেতাকর্মীদের অনেকের মুখের আভায়, কথার ভাষায় স্পষ্ট এবার পদ্মের কাঁটা আরও তীব্র আরও ভেদশক্তি নিয়ে শহরগ্রামের পথে নামবে। মঙ্গলবারের রক্তাক্ত পাড়ুই হয়তো তার আভাস দিয়েই দিল।
কিন্তু, এতসব কেন! কীসের জন্য এত হল্লাগুল্লা মিছিল সভা টীকা-টিপ্পনী! দেখেশুনে তো মনে হচ্ছে—যেন কী ভীষণ কী ভয়ংকর একটা কাণ্ড ঘটে গেছে রাজ্যে! এমন কাণ্ড যে রাজ্যবাসীর খাওয়া-পরাই বুঝি বন্ধ হয়ে যাবে এবার, রাজ্যের উন্নয়ন উন্নতির চাকাগুলোও একযোগে গ্রাস করবে মেদিনী! এবং যতক্ষণ না শাস্তি চাই, পদত্যাগ চাই দাবির একটা বিহিত হচ্ছে সূর্যচন্দ্র গ্রহতারাও আর ফুটবে না! হয়েছেটা কী? না, সিবিআই নারদকাণ্ড নিয়ে এফআইআর দায়ের করেছে। এবং সেই এফআইআরে রাজ্যের শাসক তৃণমূলের কয়েকজন বিশিষ্ট নেতামন্ত্রী সংসদ সদস্যের নাম আছে। সেইসঙ্গে নির্ধারিত সময়সীমা মেনে সিবিআই মহামান্য আদালতে নারদ-সংক্রান্ত তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টও জমা করেছে। তো কী! এর মধ্যে অপ্রত্যাশিত অত্যাশ্চর্য অভাবনীয় ঘটনা কোনটা? যেমনটা প্রত্যাশা ছিল, তেমনটাই ঘটেছে। শুনছি, কোনও কোনও মহামতি নাকি ভেবেছিলেন, আদালতের কাছে সিবিআই ফের সময় চাইবে। যেমনটা এর আগে সারদা ইত্যাদি মামলায় চেয়েছে সিবিআই। জানি না, এক্ষেত্রে তাঁরা এমনটা ভেবেছিলেন কোন যুক্তিতে! কারণ, যতদূর মনে পড়ছে—বাংলায় এমন যে ঘটবে এবং তাতে সিবিআই যে এমন ‘বলিষ্ঠ’, ‘কঠিন’ এবং ‘সক্রিয়’ ভূমিকা নেবে ইউপি ভোটের মুখে গেরুয়া শিবির থেকে এমন ভবিষ্যদ্বাণী বেশ স্পষ্ট করেই শোনা গিয়েছিল! দেশের শাসক শিবিরের এক মহাদিগ্‌গজই সেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। তাহলে আজ সেই ভবিষ্যদ্বাণী ফলতে শুরু করেছে দেখে আশ্চর্যের কী আছে!
তাছাড়া, গতকাল অবধি হয়েছেটাই বা কী? নারদকাণ্ডে কয়েকজনের নামে অভিযোগ জানিয়ে এফআইআর করেছে সিবিআই। কথা হল, এফআইআরে নাম থাকলে অভিযুক্ত বলা চলে কিন্তু অপরাধী বলা যায় কি? অপরাধ আদালতে প্রমাণ হলে তখন ভিন্ন কথা। তাহলে তার আগে বিরোধী বিশেষত সিপিএমের দু’একজন কী করে অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে ‘অপরাধী’ বলছেন? মাসির গোঁফ গজানোর আগেই এভাবে যাঁরা মামা ডাকছেন—তাঁরাও কি অন্যায় করছেন না? দ্বিতীয়ত, আগেও বলেছি আবার বলছি, বলা ভালো জানতে চাইছি, ‘ঘুষ’ নেওয়া অপরাধ হলে ঘুষ দেওয়া বা সেই ঘুষের জন্য টাকা ঢালাও কি অপরাধ নয়?! ভারতীয় দণ্ডবিধি কী বলে? তাহলে, নারদকাণ্ডে যাঁরা ঘুষ দিতে এসে঩ছিলেন এবং যিনি সেই ঘুষের টাকা জোগান দিয়েছিলেন—তাঁদের নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য নেই কেন! তাঁরা কেউই তো অজ্ঞাতপরিচয় নন। তাহলে? সিপিএমের সুজন চক্রবর্তী মঙ্গলবারও দাবি করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে নারদকাণ্ডের তদন্তের আওতায় আনতে হবে! তা, মমতাকে কেন? তিনি টাকা নিচ্ছেন এমন ছবি কি কোথাও দেখা গেছে? সুজনবাবু তাহলে কীসের ভিত্তিতে এমন দাবি করছেন? দলের কোনও লোকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই দলপতিকে কাঠগড়ায় তুলতে হবে—এমন কথা কোন আইনে আছে? থাকলে, জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কি রাইটার্সে বসে অত বছর অমন আরামসে সদর্পে রাজত্ব চালাতে পারতেন!? তাছাড়া, রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর নামে তথ্যপ্রমাণ ছাড়া এমন দাবি কি তোলা যায়? আমি আইনজ্ঞ নই—তাই জানতে চাই—এর জন্য আইনকানুনটা কী আছে? জানাবেন প্লিজ!
আর এখানেই আমার ছোট্ট দুইখান প্রশ্ন—১) ওই নারদ ভিডিওতে যে ‘ঘুষ’ দাতাদের পশ্চাৎদেশ দেখা গেছে (অন্তত টিভিতে যেমন দেখেছি) তাদের কি আইনের আওতায় আনা উচিত নয়? কী বলে সুজনবাবুদের আইনকানুন? ২) একটি ভুয়ো কোম্পানির জন্য তদবির করতে এসে নেতা-মন্ত্রী সাংসদদের টাকা ধরানোর চেষ্টা এবং তার ছবি তুলে রাখাও কি আমাদের দেশের আইনে মান্যতা পাবে? নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সুপরিকল্পিত চক্রান্ত বা এক ধরনের প্রতারণা এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে? রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলছি কারণ, যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে সিবিআই একজন বাদে তাঁদের সকলেই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। সুজনবাবুদের মতো যাঁরা আজ নারদ নারদ করে আকাশ-বাতাস মাতাচ্ছেন—তাঁরা অনুগ্রহ করে জানাবেন কি?
আসলে, ব্যাপারটা যে ওখানে নয় তা ওঁর মতো পোড়খাওয়া ঘোড়েল রাজনীতিকরা কেন, আজ আম পাবলিকও ভালোই জানেন বোঝেন। অভিজ্ঞতায় তাঁরা কী দেখেননি, সারদা থেকে নারদা এ তাবৎ সিবিআইয়ের ভূমিকাটা কী! এই কিছুদিন জ্বলে উঠছে তেড়েফুঁড়ে নামছে, তত্ত্বতালাশ করছে, আদালতে সওয়াল-জবাব চালাচ্ছে, তদন্তের জন্য সময় নিচ্ছে তারপর হঠাৎ একদিন সব ঠান্ডা, হিমঘরে! আর সিবিআইয়ের এই তৎপরতা নিয়ে কিছুদিন রহস্য রোমাঞ্চ কৌতূহলে জমজমাট রাজনীতি থেকে আমমহলে। এই তো দেখুন না, সারদা মামলা নিয়ে কিছুদিন কতকিছু হল, সিবিআইয়ের সে কী তৎপরতা! অমুক তমুকের পর আরও প্রভাবশালী কার নাম ভেসে ওঠে সিবিআইয়ের খাতায় তা নিয়ে ক’দিন কী উত্তেজনা! রাজ্যের এক মন্ত্রী সহ বেশ কয়েকজনকে জেল পর্যন্ত খাটতে হল। আর এসবের অনেকটাই হল কোনও না কোনও ভোটের মুখে! কিন্তু, দিনের শেষে নিট ফলটি কী? সারদায় নিঃস্ব ক’জনের কতটুকু উপহার হল? সেই সারদা মামলার অবস্থাটাই বা আজ কেমন—জানেন কে? রোজভ্যালি? আরও যেসব চিটফান্ড? তাদের ব্যাপারে শেষপর্যন্ত সিবিআই কোথায় গিয়ে ঠেকে আছে? জানেন না রাজ্যবাসী। শুধু এটুকু জানেন, একদিন হয়তো হঠাৎ করে আবার জেগে উঠবে সারদা থেকে রোজভ্যালি—আবার নতুন নতুন অভিযুক্তের নাম নিয়ে জল্পনা ছড়াবে! সিবিআইয়ের চকিত চমকে রহস্য রোমাঞ্চ ছড়াবে সান্ধ্য টিভির আসরে জমে উঠবে বিতর্ক এবং শেষমেশ একদিন আবার উবে যাবে সব! আর এই রহস্য রোমাঞ্চ উপভোগের সম্ভাবনা বাড়বে ভোট আসন্ন হলে! এমনটাই তো চলছে বছর বছর। তাই নারদকাণ্ড নিয়ে সিবিআই বা দিল্লির শাসকের চেয়ে রাজ্যের আম পাবলিক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যেই বেশি আস্থা রাখছেন—চিন্তা করার কোনও দরকার নেই। এসবই রাজনীতির খেলা। রাজনৈতিকভাবেই এর মোকাবিলা করা হবে।
সত্যি বলতে কী, পরিস্থিতির বিচারে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ইউপি ভোটের সময় একদিকে গেরুয়া শিবিরের ওই ভবিষ্যদ্বাণী অন্যদিকে টার্গেট বেঙ্গল—বাংলা দখলের হুংকার এবং পরবর্তীতে রাজ্যজুড়ে রামনবমীর সশস্ত্র মিছিল, সারদা থেকে নারদা—সিবিআইয়ের হঠাৎ তৎপরতা এবং আচমকা বসে যাওয়ার ধারাবাহিকতা, গত বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্য বিজেপি অফিস থেকে আজকের বহুচর্চিত নারদ ভিডিও প্রকাশ, মুখ্যমন্ত্রীর খাসজমিনে প্রচারসভায় দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় নেতা তথা দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের মমতা-ব্যাপারে নীরবতা ও মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো মিষ্টি নিয়ে ফেরায় রাজ্য বিজেপি’র ক্ষোভ এবং সে ক্ষোভ সামাল দিতে ভুবনেশ্বরের কর্মসমিতির বৈঠকে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া পরিবারের সদস্য-সমর্থকদের ওপর হামলার ‘নিন্দা’ ও শান্তিপূর্ণ পথে জবাব দেওয়ার’ চেতাবনি আর তার সমসময়ে নারদ নিয়ে সিবিআই তৎপরতা, এফআইআর—সব মিলিয়ে রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই কি পরিষ্কার হয়ে উঠছে!? কয়েকদিন আগে, তখন ভুবনেশ্বরে কর্মসমিতির বৈঠক চলছে, রাজ্যের এক কট্টর এবং সক্রিয় গেরুয়াকর্মীকে মজা করে বলেছিলাম, আবার নারদা! ক’দিন? তিনি ঠোঁটে রহস্যময় হাসির রেখা ফুটিয়ে বলেছিলেন—দাদা, পঞ্চায়েত ভোটে এবার আমরা থাকছি। এবার অত সহজে ছাড় হবে না। দেখতে যান, পরের পর কী হয়!
কী হবে কতদূর হবে আমরা জানি না। তা সময় বলবে। তবে, সামনে পঞ্চায়েত নির্বাচন। তারপরই ২০১৯-এ লোকসভা ভোট। বাংলার ক্ষমতা দখলের মূল লড়াইয়ের আগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি ধাপ। এই দুই ধাপে পদ্মের সংখ্যা এবং শক্তি বাড়াতে রাজ্য বিজেপি যে এবার সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে এবং তাতে যে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় অনুমোদন মিলেছে তা কেবল ওই গেরুয়াকর্মী নয় খোদ অমিত শাহের মন্তব্যেও পরিষ্কার। ভুবনেশ্বরে কর্মসমিতির বৈঠকে তিনি তো বলেই দিয়েছেন, বাংলা সহ দেশের বাকি অবিজেপি রাজ্যে ক্ষমতা কায়েম করতে না পারলে বিজেপি’র ‘স্বর্ণযুগ’ আসবে না। তো? এর থেকে বোঝাই যাচ্ছে স্বর্ণযুগের জন্য ‘টার্গেট বেঙ্গল ২০২১’ সফল করতে বিজেপি আটঘাট বেশ কড়া করেই বাঁধছে। রাজ্যের রাজৈনতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, কাঁথি দক্ষিণ কেন্দ্রের ফল এবং রামনবমীতে বিজেপি ও তার সংঘমিত্রদের সশস্ত্র মিছিলে মমতার একচ্ছত্র বাংলায় পালটা শক্তি প্রদর্শনের মহড়া হয়ে গেছে। মঙ্গলবারের রক্তঝরা পাড়ুই সেই পালটা শক্তিরই এক সংক্ষিপ্ত প্রকাশ। তাঁদের আশঙ্কা, পঞ্চায়েত ভোটের আগে আরও অনেক পাড়ুই ঘটবে। রক্ত ঝরবে।
শুধু তাই নয়, রাজ্যের স্বার্থে তিস্তা জলচুক্তিতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মানাতে দিল্লির কলাকৌশল নিয়েও সন্দিহান রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের একাংশ। চলতি সিবিআই এফআইআর জিজ্ঞাসাবাদ এবং আগামী সপ্তাহে আরও চমকপ্রদ কিছু ঘটার জল্পনা ইত্যাদিতে সেই সন্দেহের ছায়া দীর্ঘতর হচ্ছে জনমনেও। মহামান্য আদালতের নির্দেশেই সবকিছু হচ্ছে জেনেও সে সন্দেহের ছায়া সরছে না। এখন প্রশ্ন হল, ‘টার্গেট বেঙ্গল ২০২১’ সফল করার পথে ওই ছায়া শেষপর্যন্ত কাঁটা হয়ে ফুটবে না তো? ফুটুক আর না-ই ফুটুক, শক্তির এই নতুন খেলায় কংগ্রেস সিপিএম ও তাদের শরিকজনেদের বিশেষ উল্লসিত হওয়ার কারণ নাই। তাঁরা এখন সব কাঁথি দক্ষিণ। শাস্তি চাই পদত্যাগ চাই—মিটিং মিছিল মুণ্ডপাত যা-ই করুন চট করে কাঁথি দক্ষিণ ছাড়িয়ে ওঠা তাঁদের পক্ষে মুশকিল। তাই, নারদায় বেল যতই পাকুক তাঁদের বিশেষ লাভ নাই।
20th  April, 2017
শিবাজি রাও গায়কোয়াড়ের দোলাচল
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

 সাতষট্টি বছরের একজন মানুষ শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেবেন অথবা নেওয়া উচিত তা নিয়ে আমি বেশ ধন্দে পড়েছি। তবে আমার এই দোলাচল মোটেই আহামরি কিছু নয়, বড় যা তা হল একটা গোটা রাজ্যের মানুষের তাঁর দিকে ড্যাব ড্যাব করে চেয়ে থাকা। বিপুল দোলাচলে রাজ্যের সবার মনে। বিশদ

25th  June, 2017
রথযাত্রায় শ্রীচৈতন্য ও শ্রীরামকৃষ্ণ
চৈতন্যময় নন্দ

 নীলাচলে দারুব্রহ্ম জগদীশ জগন্নাথদেবের সবচেয়ে বড় বিজয়োৎসব রথযাত্রা। আদিকাল থেকে এই সমারোহ চলে এসেছে এবং একে কেন্দ্র করে বহু ইতিবৃত্তের সৃষ্টি হয়েছে। আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে পুরীতে শ্রীমন্‌ জগন্নাথ রথে আরোহণ করেন।
বিশদ

24th  June, 2017
অনুপ্রবেশকারীদের মন্দিরে আশ্রয় প্রসঙ্গে
আলোলিকা মুখোপাধ্যায়

 নিউইয়র্ক শহরের কুইনস এলাকায় সমুদ্রের ধার ঘেঁষে রক অ্যাওয়ে বিচ। একদিন দেখা গেল মহাসাগরের ঢেউয়ের মাথায় নাচতে নাচতে ভাঙা নারকোল ভেসে আসছে। নারকোলের পিছু পিছু ইতস্তত বিক্ষিপ্ত গাঁদাফুলের মালা। সাহেব মেমরা সাঁতার কাটতে নেমে নারকোলের আধভাঙা মালা, পচা গাঁদার মালা দেখে জলপুলিশকে নালিশ করল। বিশদ

24th  June, 2017
সাঁওতাল বিদ্রোহ এবং সমাজের পরিবর্তন
বিষ্ণুপদ হেমরম

 ভারতের আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলির মধ্যে সাঁওতালরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। ব্রিটিশ ভারতে জল-জঙ্গল-জমিনের উপর অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং শোষণ ও নিপীড়নের প্রতিবাদে তারা সরকারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল। সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন, বর্তমান সাঁওতাল পরগনার ভাগ্‌না঩ডিহির মাঠে। বিশদ

23rd  June, 2017
পাহাড় ও বাঙালি
সমৃদ্ধ দত্ত

 বিজেপি রাজ্য শাখা তথা তাদের কর্মী সমর্থকরা এখনও স্পষ্ট করে বলছেন না সামান্য একটা সিদ্ধান্ত। সেটি হল তাঁরা কি গোর্খাল্যান্ড সমর্থন করেন, নাকি করেন না? সহজ প্রশ্ন। সহজ উত্তর। অথচ সোজা উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। ভাসা ভাসা কথা। কারণ বিজেপি রাজ্য শাখা ও কর্মী সমর্থকরা অপেক্ষা করছেন তাঁদের হাইকমান্ড কী ঠিক করবেন তার উপর। একবার চিন্তা করে দেখুন, আমরা বাঙালি, আমাদের রাজ্য থেকে আমাদের প্রিয় দার্জিলিংকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে কি না তা ঠিক করতেও বিজেপির বাংলা শাখা দুজন গুজরাতের নেতার দিকে তাকিয়ে আছে। বিশদ

23rd  June, 2017
দুর্নীতির পরিবেশ, পরিবেশে দুর্নীতি
বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়

 ১৯৭০ দশকের বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ও অর্থনীতিবিদ Gunnar Mydral-এর ‘এশিয়ান ড্রামা’ বইটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল, এশিয়ার বুকে বিভিন্ন দেশে পরিকল্পনাগুলি ব্যর্থ হবার একটি অন্যতম কারণ দুর্নীতি। বিশদ

21st  June, 2017
এ যুগের নীলকণ্ঠদের মুক্তির উপায় কী?
স্বপন মণ্ডল

 পুরাণ মতে সমুদ্র মন্থনের মতো কষ্টসাধ্য কাজে সুরাসুর উভয়েই হাত লাগিয়েছিল। সমুদ্র মন্থনে অমৃতের সন্ধান যেমন পাওয়া গেল গরলও উঠে এল। অমৃতের ভাগীদার অনেকে কিন্তু গরলের ভাগীদার কেউ হতে চাইল না। কিন্তু এ গরল এমন গরল যে ধরিত্রীর যেখানে পড়বে সেখানেই বিষাক্ত হয়ে যাবে। বিশদ

21st  June, 2017
যোগদিবস: ভারতের লক্ষ্মীলাভের মস্ত সুযোগ
হরলাল চক্রবর্তী

 ২০১৫ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে ২১ জুন মহা ধুমধামে ‘বিশ্ব-যোগদিবস’ পালিত হচ্ছে। সারা বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশ যোগদিবসের স্বীকৃতি দিয়েছে, ১৮০টি দেশ যোগে অংশগ্রহণ করেছে, এর মধ্যে কিছু ইসলামিক দেশও আছে। আশা করা যায়, এ বছর তা আরও বেশি সাফল্য পাবে।
বিশদ

20th  June, 2017



একনজরে
 লন্ডন, ২৫ জুন: গ্রেনফেল টাওয়ারের আতঙ্কের রেশ কাটতে না কাটতেই পূর্ব লন্ডনে শনিবার রাত ১০টা নাগাদ বেথনালগ্রিনের একটি বহুতল ভবনে ফের আগুন লাগে। তবে এখনও কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ভবনের আগুন খানিকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় সবচেয়ে ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কোনও ব্যক্তির আধার নম্বর কোনওভাবেই সর্বসমক্ষে আনা যাবে না। সম্প্রতি এই নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্রীয় সরকার। একই সঙ্গে তারা বলছে, কোনও ব্যক্তিগত তথ্যও আনা যাবে না সবার সামনে। ২০১৬ সালের আধার অ্যাক্ট এবং ২০০০ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইন ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: অমাবস্যার কোটালে সাগর অশান্ত হয়ে যাওয়াতে অধিকাংশ ইলিশ মাছ ধরার ট্রলার ফিরে এসেছে। ফলে গত তিনদিন ধরে বাজারে ইলিশের জোগান কমে গিয়েছে। মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইলিশ মাছ ধরার অনুকূল আবহাওয়া এখন সাগরে। পুবালি ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মোহন বাগান কোচ হিসাবে মৌখিকভাবে সঞ্জয় সেন রাজি হওয়ার পর টিমের তালিকাও কর্তাদের দিয়েছেন তিনি।রবিবার সঞ্জয় সেন জানান,‘নতুন মরশুমে আমিই ফিজিক্যাল ট্রেনারের বাড়তি দায়িত্ব পালন করব। প্রি- সিজন কন্ডিশনিংও হবে আমার দায়িত্বে। অতীতে তো মোহন বাগান- ইস্ট ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীদের মানসিক স্থিরতা রাখা দরকার। প্রেম-প্রণয়ে বাধাবিঘ্ন থাকবে। তবে নতুন বন্ধু লাভ হবে। সাবধানে পদক্ষেপ ... বিশদ



ইতিহাসে আজকের দিন

 ১৯০৩- ইংরেজ সাহিত্যিক জর্জ অরওয়েলের জন্ম
১৯৬০- কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের মৃত্যু
১৯৭৪- অভিনেত্রী করিশ্মা কাপুরের জন্ম
১৯৭৫- প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দেশে জরুরি অবস্থা জারি করলেন
২০০৯- মার্কিন পপ সংগীত শিল্পী মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যু

25th  June, 2017



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৭৫ টাকা ৬৫.৪৩ টাকা
পাউন্ড ৮০.৬৪ টাকা ৮৩.৪২ টাকা
ইউরো ৭০.৭৬ টাকা ৭৩.২৮ টাকা
24th  June, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৯,২২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৭,৭২৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৮,১৪০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৯,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৯,২০০ টাকা
25th  June, 2017

দিন পঞ্জিকা

১১ আষাঢ়, ২৬ জুন, সোমবার, তৃতীয়া রাত্রি ১০/১২, পুষ্যানক্ষত্র রাত্রি ৯/২৩, সূ উ ৪/৫৭/৫২, অ ৬/২০/৪২, অমৃতযোগ দিবা ৮/৩১-১০/১৮ রাত্রি ৯/১০-১২/০ পুনঃ ১/২৫-২/৫০, বারবেলা ৬/৩৮-৮/১৯ পুনঃ ৩/০-৪/৪০, কালরাত্রি ১০/২০-১১/৪০। ইদুল ফিতর
১১ আষাঢ়, ২৬ জুন, সোমবার, তৃতীয়া রাত্রি ২/০/৩১, পুষ্যানক্ষত্র রাত্রি ১/৩৯/৪, সূ উ ৪/৫৫/২৪, অ ৬/২২/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৮/৩০/৩৪-১০/১৮/৯ রাত্রি ৯/১১/৬-১১/৫৯/৫৬, ১/২৪/২১-২/৪৮/৪৬, বারবেলা ৩/১/৩৪-৪/৪১/২৬, কালবেলা ৬/৩৬/১৬-৮/১৭/৭, কালরাত্রি ১০/১৯/৪২-১১/৩৮/৫০। ইদুল ফিতর
১ শওয়াল

ছবি সংবাদ


এই মুহূর্তে
শিলিগুড়িতে গৃহবধূ খুন, স্বামীসহ আটক ৩
শিলিগুড়ির সূর্য সেন কলোনিতে গৃহবধূকে খুনের অভিযোগে স্বামীসহ তিনজনকে আটক করা হল। রবিবার রাতে শৌচাগার থেকে শিখা চক্রবর্তী নামে মহিলার রক্তমাখা দেহ উদ্ধার হয়। মহিলার ভাই মৃদুলকান্তি দাস জানান, এদিন রাতে জামাইবাবু শান্তনু চক্রবর্তী তাঁকে ফোন করে বাড়িতে ডাকেন। তিনি বাড়িতে গিয়ে তাঁর দিদির দেহ উদ্ধার করেন। কীভাবে তাঁর দিদির মৃত্যু হল তাঁর সদুত্তর দিতে পারেনি অভিযুক্ত। তাঁর আরও অভিযোগ, শান্তনু চক্রবর্তীর আগেও একবার বিয়ে হয়েছিল। প্রথম পক্ষের স্ত্রীকেও হত্যা করেছিল সে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। আটক করা হয়েছে মৃতার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে।

12:20:00 AM

ভারত ৩১০/৫ (৪৩ ওভার)  

25-06-2017 - 11:47:24 PM

ভারত ১৯২/১ (৩০ ওভার) 

25-06-2017 - 10:34:21 PM

ভারত ৯৫/০ (১৫ ওভার) 

25-06-2017 - 09:38:36 PM

ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ফের বৃষ্টির জেরে ওভার সংখ্যা ৪৫ থেকে কমে দাঁড়াল ৪৩

25-06-2017 - 08:27:40 PM

নেদারল্যান্ডস সফর সেরে কলকাতায় ফিরলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 

25-06-2017 - 08:21:00 PM