বিশেষ নিবন্ধ
 

 সব মিলিয়ে রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই কি পরিষ্কার হয়ে উঠছে

মেরুনীল দাশগুপ্ত: গত সোমবার থেকে চারদিকে যেন একেবারে তাধৈমাধৈকাণ্ড শুরু হয়ে গেছে! রাজ্যের ক্ষীণবল-হীনবল বিরোধীরা রাতারাতি সব যেন সাত হাতির বল পেয়ে চাঙা চতুর্ভুজ! কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় মিছিল আর শাস্তি চাই পদত্যাগ চাই-এর ঠেলায় জেরবার জনজীবন, অতিষ্ঠ মানুষজন। গরমের হাঁসফাঁস দিন দুপুরের যন্ত্রণা কয়েকপ্রস্থ বাড়িয়ে তুলছে ওই শাস্তি চাই, পদত্যাগ চাই। আর বলা বাহুল্য এইসব হইহট্টগোলের পুরোভাগে সেই লালঝান্ডা সেই সিপিএম ও তার শরিকজন। তাঁদের উৎসাহ এবং উদ্দীপনার বহর দেখে মনে হচ্ছে, এতদিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জব্দ করার একটা জুতসই হাতিয়ার পেয়েছেন তাঁরা। তাতেই কী আনন্দ...! স্বাভাবিক। ঘুরে দাঁড়ানোর আশা যখন সুদূর দিগন্তেও আর দেখা যাচ্ছে না তখন রাজনৈতিক জাতশত্রু মমতাকে কিছুটা হলেও বেকায়দায় ফেলার সুযোগ—সেই বা কম কী? সুতরাং, কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে সিপিএম আর তার সহযোগীরা। কংগ্রেস সমেত বাদবাকি বিরোধীরাও এই হট্টমেলায় আছেন তবে যে কোনও কারণেই হোক তাঁরা যেন একটু পিছিয়ে, একটু ঢিলেঢালা! রাজ্য বিজেপি ভিতরে ভিতরে যা-ই হোক বাইরে এখনও ‘আইন আইনের পথে চলবে’ পর্যন্ত। সঙ্গে অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে লক্ষ্য করে টীকা-টিপ্পনী, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁদের রাজ্যসভাপতি দিলীপ ঘোষ। অসুস্থ দলীয় সাংসদ সদস্য সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখতে মমতার ওড়িশাযাত্রা নিয়ে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি তিনি। কিন্তু, তাঁর নেতাকর্মীদের অনেকের মুখের আভায়, কথার ভাষায় স্পষ্ট এবার পদ্মের কাঁটা আরও তীব্র আরও ভেদশক্তি নিয়ে শহরগ্রামের পথে নামবে। মঙ্গলবারের রক্তাক্ত পাড়ুই হয়তো তার আভাস দিয়েই দিল।
কিন্তু, এতসব কেন! কীসের জন্য এত হল্লাগুল্লা মিছিল সভা টীকা-টিপ্পনী! দেখেশুনে তো মনে হচ্ছে—যেন কী ভীষণ কী ভয়ংকর একটা কাণ্ড ঘটে গেছে রাজ্যে! এমন কাণ্ড যে রাজ্যবাসীর খাওয়া-পরাই বুঝি বন্ধ হয়ে যাবে এবার, রাজ্যের উন্নয়ন উন্নতির চাকাগুলোও একযোগে গ্রাস করবে মেদিনী! এবং যতক্ষণ না শাস্তি চাই, পদত্যাগ চাই দাবির একটা বিহিত হচ্ছে সূর্যচন্দ্র গ্রহতারাও আর ফুটবে না! হয়েছেটা কী? না, সিবিআই নারদকাণ্ড নিয়ে এফআইআর দায়ের করেছে। এবং সেই এফআইআরে রাজ্যের শাসক তৃণমূলের কয়েকজন বিশিষ্ট নেতামন্ত্রী সংসদ সদস্যের নাম আছে। সেইসঙ্গে নির্ধারিত সময়সীমা মেনে সিবিআই মহামান্য আদালতে নারদ-সংক্রান্ত তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টও জমা করেছে। তো কী! এর মধ্যে অপ্রত্যাশিত অত্যাশ্চর্য অভাবনীয় ঘটনা কোনটা? যেমনটা প্রত্যাশা ছিল, তেমনটাই ঘটেছে। শুনছি, কোনও কোনও মহামতি নাকি ভেবেছিলেন, আদালতের কাছে সিবিআই ফের সময় চাইবে। যেমনটা এর আগে সারদা ইত্যাদি মামলায় চেয়েছে সিবিআই। জানি না, এক্ষেত্রে তাঁরা এমনটা ভেবেছিলেন কোন যুক্তিতে! কারণ, যতদূর মনে পড়ছে—বাংলায় এমন যে ঘটবে এবং তাতে সিবিআই যে এমন ‘বলিষ্ঠ’, ‘কঠিন’ এবং ‘সক্রিয়’ ভূমিকা নেবে ইউপি ভোটের মুখে গেরুয়া শিবির থেকে এমন ভবিষ্যদ্বাণী বেশ স্পষ্ট করেই শোনা গিয়েছিল! দেশের শাসক শিবিরের এক মহাদিগ্‌গজই সেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। তাহলে আজ সেই ভবিষ্যদ্বাণী ফলতে শুরু করেছে দেখে আশ্চর্যের কী আছে!
তাছাড়া, গতকাল অবধি হয়েছেটাই বা কী? নারদকাণ্ডে কয়েকজনের নামে অভিযোগ জানিয়ে এফআইআর করেছে সিবিআই। কথা হল, এফআইআরে নাম থাকলে অভিযুক্ত বলা চলে কিন্তু অপরাধী বলা যায় কি? অপরাধ আদালতে প্রমাণ হলে তখন ভিন্ন কথা। তাহলে তার আগে বিরোধী বিশেষত সিপিএমের দু’একজন কী করে অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে ‘অপরাধী’ বলছেন? মাসির গোঁফ গজানোর আগেই এভাবে যাঁরা মামা ডাকছেন—তাঁরাও কি অন্যায় করছেন না? দ্বিতীয়ত, আগেও বলেছি আবার বলছি, বলা ভালো জানতে চাইছি, ‘ঘুষ’ নেওয়া অপরাধ হলে ঘুষ দেওয়া বা সেই ঘুষের জন্য টাকা ঢালাও কি অপরাধ নয়?! ভারতীয় দণ্ডবিধি কী বলে? তাহলে, নারদকাণ্ডে যাঁরা ঘুষ দিতে এসে঩ছিলেন এবং যিনি সেই ঘুষের টাকা জোগান দিয়েছিলেন—তাঁদের নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য নেই কেন! তাঁরা কেউই তো অজ্ঞাতপরিচয় নন। তাহলে? সিপিএমের সুজন চক্রবর্তী মঙ্গলবারও দাবি করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে নারদকাণ্ডের তদন্তের আওতায় আনতে হবে! তা, মমতাকে কেন? তিনি টাকা নিচ্ছেন এমন ছবি কি কোথাও দেখা গেছে? সুজনবাবু তাহলে কীসের ভিত্তিতে এমন দাবি করছেন? দলের কোনও লোকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই দলপতিকে কাঠগড়ায় তুলতে হবে—এমন কথা কোন আইনে আছে? থাকলে, জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কি রাইটার্সে বসে অত বছর অমন আরামসে সদর্পে রাজত্ব চালাতে পারতেন!? তাছাড়া, রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর নামে তথ্যপ্রমাণ ছাড়া এমন দাবি কি তোলা যায়? আমি আইনজ্ঞ নই—তাই জানতে চাই—এর জন্য আইনকানুনটা কী আছে? জানাবেন প্লিজ!
আর এখানেই আমার ছোট্ট দুইখান প্রশ্ন—১) ওই নারদ ভিডিওতে যে ‘ঘুষ’ দাতাদের পশ্চাৎদেশ দেখা গেছে (অন্তত টিভিতে যেমন দেখেছি) তাদের কি আইনের আওতায় আনা উচিত নয়? কী বলে সুজনবাবুদের আইনকানুন? ২) একটি ভুয়ো কোম্পানির জন্য তদবির করতে এসে নেতা-মন্ত্রী সাংসদদের টাকা ধরানোর চেষ্টা এবং তার ছবি তুলে রাখাও কি আমাদের দেশের আইনে মান্যতা পাবে? নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সুপরিকল্পিত চক্রান্ত বা এক ধরনের প্রতারণা এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে? রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলছি কারণ, যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে সিবিআই একজন বাদে তাঁদের সকলেই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। সুজনবাবুদের মতো যাঁরা আজ নারদ নারদ করে আকাশ-বাতাস মাতাচ্ছেন—তাঁরা অনুগ্রহ করে জানাবেন কি?
আসলে, ব্যাপারটা যে ওখানে নয় তা ওঁর মতো পোড়খাওয়া ঘোড়েল রাজনীতিকরা কেন, আজ আম পাবলিকও ভালোই জানেন বোঝেন। অভিজ্ঞতায় তাঁরা কী দেখেননি, সারদা থেকে নারদা এ তাবৎ সিবিআইয়ের ভূমিকাটা কী! এই কিছুদিন জ্বলে উঠছে তেড়েফুঁড়ে নামছে, তত্ত্বতালাশ করছে, আদালতে সওয়াল-জবাব চালাচ্ছে, তদন্তের জন্য সময় নিচ্ছে তারপর হঠাৎ একদিন সব ঠান্ডা, হিমঘরে! আর সিবিআইয়ের এই তৎপরতা নিয়ে কিছুদিন রহস্য রোমাঞ্চ কৌতূহলে জমজমাট রাজনীতি থেকে আমমহলে। এই তো দেখুন না, সারদা মামলা নিয়ে কিছুদিন কতকিছু হল, সিবিআইয়ের সে কী তৎপরতা! অমুক তমুকের পর আরও প্রভাবশালী কার নাম ভেসে ওঠে সিবিআইয়ের খাতায় তা নিয়ে ক’দিন কী উত্তেজনা! রাজ্যের এক মন্ত্রী সহ বেশ কয়েকজনকে জেল পর্যন্ত খাটতে হল। আর এসবের অনেকটাই হল কোনও না কোনও ভোটের মুখে! কিন্তু, দিনের শেষে নিট ফলটি কী? সারদায় নিঃস্ব ক’জনের কতটুকু উপহার হল? সেই সারদা মামলার অবস্থাটাই বা আজ কেমন—জানেন কে? রোজভ্যালি? আরও যেসব চিটফান্ড? তাদের ব্যাপারে শেষপর্যন্ত সিবিআই কোথায় গিয়ে ঠেকে আছে? জানেন না রাজ্যবাসী। শুধু এটুকু জানেন, একদিন হয়তো হঠাৎ করে আবার জেগে উঠবে সারদা থেকে রোজভ্যালি—আবার নতুন নতুন অভিযুক্তের নাম নিয়ে জল্পনা ছড়াবে! সিবিআইয়ের চকিত চমকে রহস্য রোমাঞ্চ ছড়াবে সান্ধ্য টিভির আসরে জমে উঠবে বিতর্ক এবং শেষমেশ একদিন আবার উবে যাবে সব! আর এই রহস্য রোমাঞ্চ উপভোগের সম্ভাবনা বাড়বে ভোট আসন্ন হলে! এমনটাই তো চলছে বছর বছর। তাই নারদকাণ্ড নিয়ে সিবিআই বা দিল্লির শাসকের চেয়ে রাজ্যের আম পাবলিক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যেই বেশি আস্থা রাখছেন—চিন্তা করার কোনও দরকার নেই। এসবই রাজনীতির খেলা। রাজনৈতিকভাবেই এর মোকাবিলা করা হবে।
সত্যি বলতে কী, পরিস্থিতির বিচারে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ইউপি ভোটের সময় একদিকে গেরুয়া শিবিরের ওই ভবিষ্যদ্বাণী অন্যদিকে টার্গেট বেঙ্গল—বাংলা দখলের হুংকার এবং পরবর্তীতে রাজ্যজুড়ে রামনবমীর সশস্ত্র মিছিল, সারদা থেকে নারদা—সিবিআইয়ের হঠাৎ তৎপরতা এবং আচমকা বসে যাওয়ার ধারাবাহিকতা, গত বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্য বিজেপি অফিস থেকে আজকের বহুচর্চিত নারদ ভিডিও প্রকাশ, মুখ্যমন্ত্রীর খাসজমিনে প্রচারসভায় দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় নেতা তথা দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের মমতা-ব্যাপারে নীরবতা ও মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো মিষ্টি নিয়ে ফেরায় রাজ্য বিজেপি’র ক্ষোভ এবং সে ক্ষোভ সামাল দিতে ভুবনেশ্বরের কর্মসমিতির বৈঠকে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া পরিবারের সদস্য-সমর্থকদের ওপর হামলার ‘নিন্দা’ ও শান্তিপূর্ণ পথে জবাব দেওয়ার’ চেতাবনি আর তার সমসময়ে নারদ নিয়ে সিবিআই তৎপরতা, এফআইআর—সব মিলিয়ে রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই কি পরিষ্কার হয়ে উঠছে!? কয়েকদিন আগে, তখন ভুবনেশ্বরে কর্মসমিতির বৈঠক চলছে, রাজ্যের এক কট্টর এবং সক্রিয় গেরুয়াকর্মীকে মজা করে বলেছিলাম, আবার নারদা! ক’দিন? তিনি ঠোঁটে রহস্যময় হাসির রেখা ফুটিয়ে বলেছিলেন—দাদা, পঞ্চায়েত ভোটে এবার আমরা থাকছি। এবার অত সহজে ছাড় হবে না। দেখতে যান, পরের পর কী হয়!
কী হবে কতদূর হবে আমরা জানি না। তা সময় বলবে। তবে, সামনে পঞ্চায়েত নির্বাচন। তারপরই ২০১৯-এ লোকসভা ভোট। বাংলার ক্ষমতা দখলের মূল লড়াইয়ের আগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি ধাপ। এই দুই ধাপে পদ্মের সংখ্যা এবং শক্তি বাড়াতে রাজ্য বিজেপি যে এবার সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে এবং তাতে যে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় অনুমোদন মিলেছে তা কেবল ওই গেরুয়াকর্মী নয় খোদ অমিত শাহের মন্তব্যেও পরিষ্কার। ভুবনেশ্বরে কর্মসমিতির বৈঠকে তিনি তো বলেই দিয়েছেন, বাংলা সহ দেশের বাকি অবিজেপি রাজ্যে ক্ষমতা কায়েম করতে না পারলে বিজেপি’র ‘স্বর্ণযুগ’ আসবে না। তো? এর থেকে বোঝাই যাচ্ছে স্বর্ণযুগের জন্য ‘টার্গেট বেঙ্গল ২০২১’ সফল করতে বিজেপি আটঘাট বেশ কড়া করেই বাঁধছে। রাজ্যের রাজৈনতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, কাঁথি দক্ষিণ কেন্দ্রের ফল এবং রামনবমীতে বিজেপি ও তার সংঘমিত্রদের সশস্ত্র মিছিলে মমতার একচ্ছত্র বাংলায় পালটা শক্তি প্রদর্শনের মহড়া হয়ে গেছে। মঙ্গলবারের রক্তঝরা পাড়ুই সেই পালটা শক্তিরই এক সংক্ষিপ্ত প্রকাশ। তাঁদের আশঙ্কা, পঞ্চায়েত ভোটের আগে আরও অনেক পাড়ুই ঘটবে। রক্ত ঝরবে।
শুধু তাই নয়, রাজ্যের স্বার্থে তিস্তা জলচুক্তিতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মানাতে দিল্লির কলাকৌশল নিয়েও সন্দিহান রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের একাংশ। চলতি সিবিআই এফআইআর জিজ্ঞাসাবাদ এবং আগামী সপ্তাহে আরও চমকপ্রদ কিছু ঘটার জল্পনা ইত্যাদিতে সেই সন্দেহের ছায়া দীর্ঘতর হচ্ছে জনমনেও। মহামান্য আদালতের নির্দেশেই সবকিছু হচ্ছে জেনেও সে সন্দেহের ছায়া সরছে না। এখন প্রশ্ন হল, ‘টার্গেট বেঙ্গল ২০২১’ সফল করার পথে ওই ছায়া শেষপর্যন্ত কাঁটা হয়ে ফুটবে না তো? ফুটুক আর না-ই ফুটুক, শক্তির এই নতুন খেলায় কংগ্রেস সিপিএম ও তাদের শরিকজনেদের বিশেষ উল্লসিত হওয়ার কারণ নাই। তাঁরা এখন সব কাঁথি দক্ষিণ। শাস্তি চাই পদত্যাগ চাই—মিটিং মিছিল মুণ্ডপাত যা-ই করুন চট করে কাঁথি দক্ষিণ ছাড়িয়ে ওঠা তাঁদের পক্ষে মুশকিল। তাই, নারদায় বেল যতই পাকুক তাঁদের বিশেষ লাভ নাই।
20th  April, 2017
ধ্রুবতারা ফুটবল, স্বপ্ন সরণিতে মিজোরাম

সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়: এই লেখাটা যেদিন আপনি পড়ছেন, অর্থাৎ রোববার সেই দিনটা যখন শেষ হব হব করবে, তখন আমার মন কতটা ফুরফুরে থাকবে অথবা কতটা মুহ্যমান থাকব তা বলতে পারব না। কারণ, আমি জ্যোতিষী নই।
বিশদ

এত তাড়াতাড়ি ভোটের বাদ্যি বাজিয়ে দেওয়ার চেষ্টা কেন

শুভা দত্ত: সামনের বছর পঞ্চায়েত ভোট। সে ভোটের দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি। এবং তার আগে তেমন বড় কোনও ভোটও নেই রাজ্যে। কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গের পরিবেশ পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে ভোট একেবারে দোরগোড়ায় এসে পড়েছে। আর তাই রাজ্যজুড়ে ভোটের গরম হাওয়া বইতে শুরু করে দিয়েছে! রাজনৈতিক তরজা হানাহানি কাটাকাটিও শুরু হয়ে গিয়েছে।
বিশদ

  স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পে চরম দুরবস্থার জন্য দায়ী কিছু কর্পোরেট সংস্থার বিপুল অনাদায়ী ঋণ

 দেবনারায়ণ সরকার: ২০১৭-র ১ এপ্রিল থেকে প্রবীণদের জন্য ৫ বছরের সঞ্চয় প্রকল্পে থেকে শুরু করে পিপিএফ, কিষাণ বিকাশপত্র, সুকন্যা সমৃদ্ধি—সমস্ত স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পে ফের ১০ বেসিক পয়েন্ট সুদ কমাল কেন্দ্র। এর আগে এই হার ১০ শতাংশ কমানো হয়েছিল গত অক্টোবরে। বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের আমলে বাণিজ্যিক ব্যাংকের মতো ডাকঘর সঞ্চয় প্রকল্পগুলির সুদের হারও বাজার সুদের হারের পরিবর্তনের সঙ্গে সংগতি রেখে প্রতি ত্রৈমাসিকে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
বিশদ

29th  April, 2017
এই পুর নির্বাচনে পাহাড় থেকে সমতলে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের খোঁজ মিলবে

বিশ্বনাথ চক্রবর্তী: আগামী ১৪ মে রাজ্যের ৭টি পুরসভার ১৪৮টি ওয়ার্ডে ৩৮৫টি বুথে ভোটগ্রহণ হবে। এই ৭টি পুরসভার মধ্যে পাহাড়ের ৪টি পুরসভায় গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা, উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে কংগ্রেস এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার পূজালি পুরসভা ছিল তৃণমূলের দখলে। মুর্শিদাবাদের ডোমকল পুরসভাটি ২০১৫ সালে গঠিত হওয়ার পর এই প্রথম সেখানে ভোট হতে চলেছে। বিশদ

29th  April, 2017
 বাজেট হাসপাতাল তৈরি দূরদর্শী সিদ্ধান্ত, আগামীদিনে অগ্রাধিকার পাক জেলাও

নিমাই দে: এমন একটা প্রতিযোগিতার বাজারে, যেখানে সরকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মৌচাকে ঢিল মারতে নামছে, সেখানে সরকারি হাসপাতাল চত্বরে বাজেট হাসপাতালই হোক, হোক পলিক্লিনিক বা পে ক্লিনিক, একটা জিনিস অবশ্যই নজর রাখতে হবে, তা যেন বেসরকারি ক্ষেত্রের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করার মতো জায়গায় থাকে। কারণ, বিগত দিনের অভিজ্ঞতাই বলছে, পে ক্লিনিকগুলি কিন্তু সাফল্যের মুখ দেখেনি। যদিও হাসপাতালে কান পাতলে শোনা যায়, এর পিছনে রয়েছে বাম আমলের লাগামছাড়া দুর্নীতি। ...বহু টাকা নাকি কর্মীরা নয়ছয় করেছেন স্রেফ ইউনিয়ন নামক দাদাগিরি করে। তার ফলে মাসের পর মাস রোগী দেখেও টাকা না পেয়ে ডাক্তাররা নিরাশ হয়ে কেউ হাসপাতাল ছেড়েছেন, কেউবা পলিক্লিনিকের ধার মাড়াননি।
বিশদ

28th  April, 2017
 অরুণাচলে চীনকে ঠেকাতে তৎপর সতর্ক ভারত

গৌরীশঙ্কর নাগ: আমরা ধরে নিয়েছিলাম তিব্বতের ওপর চীনের অধিকার যদি আমরা স্বীকার করে নিই, তাহলে হয়তো সমস্যার আশু সমাধান হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এই যে, চীনের তরফ থেকে অনুরূপ আন্তরিকতা আমরা পাইনি। বরং সম্প্রতি হংকং ও ম্যাকাওকে সংযুক্তিকরণে সফল হওয়ায়, অরুণাচল নিয়ে চীন যে অত্যুৎসাহী হয়ে পড়েছে। সুতরাং ভারতের অত্যন্ত সাবধানী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। ইতিমধ্যে চীনের শান্তিপূর্ণ উত্থানের তত্ত্ব অনেকে খারিজ করে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে চীনের সঙ্গে দরকষাকষির ক্ষেত্রে ভারতের অভ্যন্তরে মোদি সরকারের প্রতি রাজনৈতিক সমর্থনের পাল্লা কতটা ভারী—তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশদ

28th  April, 2017
তোর্সা নদীই কি জলবণ্টনের স্থায়ী সমাধান?

গিরিজাশঙ্কর চট্টোপাধ্যায়: তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নানাবিধ কূটনৈতিক আলোচনা হয়ে গেল কিছুদিন আগেই। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন।
বিশদ

27th  April, 2017
ভারত-বাংলাদেশ অভিন্ন নদীগুলির জলপ্রবাহ সমস্যা ও সমাধান

মোঃ তারিকুজ্জামান রেজা: বাংলাদেশ ও ভারত দুটি বন্ধু প্রতিবেশী রাষ্ট্র। এ দুই রাষ্ট্রের সম্পর্ক রক্তের বাঁধনে বাঁধা। ১৯৪৭ সালে দুটি ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ভেঙে অপরিকল্পিতভাবে হয় পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান। কিন্তু, বিশেষ করে বাঙালি মুসলমানদের সেই পাকিস্তানের ঘোর কাটতে সময় লাগেনি। বিশদ

27th  April, 2017


একনজরে
ঢাকা, ২৯ এপ্রিল: নিষিদ্ধ ঘোষিত নব্য জেএমবির চার শীর্ষ জঙ্গিকে ধরতেই একের পর এক জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। এই চার জঙ্গি হল, পুরনো জেএমবি থেকে নব্য জেএমবিতে যোগ দেওয়া শীর্ষ নেতা সোহেল মাহফুজ ...

অয়নকুমার দত্ত, আমেদাবাদ থেকে ফিরে: চপ-তেলে ভাজা ভেজেও মানুষ অন্নসংস্থান করতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গে ‘চপ শিল্প’ নিয়ে যত তর্যাই চলুক না কেন, এদেশেরই অন্য এক রাজ্যে এই চপ-সিঙ্গারাই পালটে দিয়েছে বেশ কিছু জেল বন্দি মানুষের জীবন। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০১৪ সালে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচুর সাপের বিষ উদ্ধার হয়েছে। চোরাশিকারিরা সেই সাপের বিষ পাচার করছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সেগুলি কেউটে সাপের বিষ বলে চোরাশিকারিরা জিজ্ঞাসাবাদে বারবারই দাবি করেছে। ...

 সংবাদদাতা, আরামবাগ: নাবালিকা অপহরণে মদত দেওয়ার অভিযোগে শনিবার ভোরে আরামবাগের ফাঁসিবাগান এলাকা থেকে মূল অভিযুক্তের বাবাকে গ্রেপ্তার করল আরামবাগ থানার পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম রাজেশ প্রসাদ। বাড়ি ওই এলাকাতেই। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

আপনার মনে ধর্মভাব জাগ্রত হবে। কর্মপ্রার্থীরা কর্মের সুযোগ পাবেন। কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতির সূচনা হবে। অর্থ নিয়ে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৭০-ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনক হিসাবে পরিচিত দাদাসাহেব ফালকের জন্ম।
১৯৪৫- জার্মানির চ্যান্সেলর এডলফ হিটলারের আত্মহত্যা।
১৯৮৭-ক্রিকেটার রোহিত শর্মার জন্ম।



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৪০ টাকা ৬৫.০৮ টাকা
পাউন্ড ৮১.৬৩ টাকা ৮৪.৪৪ টাকা
ইউরো ৬৮.৬৩ টাকা ৭১.১০ টাকা
29th  April, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৯,৩৯৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৭,৮৯০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৮,৩১০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৭০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৮০০ টাকা

দিন পঞ্জিকা

১৬ বৈশাখ, ৩০ এপ্রিল, রবিবার, পঞ্চমী রাত্রি ১২/৫০, মৃগশিরানক্ষত্র দিবা ৮/৩৩, সূ উ ৫/৮/৪৯, অ ৫/৫৮/৫৭, অমৃতযোগ প্রাতঃ ৬/১-৯/২৬ রাত্রি ৭/২৮-৮/৫৭, বারবেলা ৯/৫৮-১/১০, কালরাত্রি ১২/৫৮-২/২২।
১৬ বৈশাখ, ৩০ এপ্রিল, রবিবার, চতুর্থী ৮/২৭/০, মৃগশিরানক্ষত্র ১/১৯/৪২, সূ উ ৫/৮/৮, অ ৫/৫৯/৪, অমৃতযোগ দিবা ৫/৫৯/৩২-৯/২৫/৭, রাত্রি ৭/২৮/১৭-৮/৫৭/২৯, বারবেলা ৯/৫৭/১৪-১১/৩৩/৩৬, কালবেলা ১১/৩৩/৩৬-১/৯/৫৮, কালরাত্রি ১২/৫৭/১৪-২/২০/৫২। 
 ৩ শাবান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
আজ শহরের তাপমাত্রা থাকবে ৩৭ ডিগ্রির কাছাকাছি

08:48:00 AM

সুপার ওভারে গুজরাত লায়ন্সকে হারাল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স 

12:03:36 AM

আজ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা 
আজ, রবিবার শহরে কালবৈশাখীর ক্ষীণ আশা জুগিয়ে রাখল আবহাওয়া দপ্তর। তবে ঝড়বৃষ্টি হওয়ার ভালো সম্ভাবনা আছে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে এবং দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি এলাকায়। পূর্ব বিহারের উপর থাকা একটি ঘূর্ণাবর্ত রাজ্যে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকিয়েছে। তার প্রভাবে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছেন আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের কর্তারা। তাঁরা বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমা বায়ু উপর দিকে উঠে আসছে। এদিকে, বিহারের ঘূর্ণাবর্ত থেকে ছত্তিশগড় পর্যন্ত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা রয়েছে, যার অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৯০০ মিটার উপরে।  

08:15:00 AM

সুপার ওভারে গুজরাত লায়ন্সকে জয়ের জন্য ১২ রানের টার্গেট দিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স 

29-04-2017 - 11:51:00 PM

মুম্বই ইন্ডিয়ান্স-গুজরাত লায়ন্স ম্যাচ সুপার ওভারে 

29-04-2017 - 11:38:42 PM

গুজরাত লায়ন্স ২০ ওভারে ১৫৩/৯ 

29-04-2017 - 09:40:01 PM






বিশেষ নিবন্ধ
ধ্রুবতারা ফুটবল, স্বপ্ন সরণিতে মিজোরাম
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়: এই লেখাটা যেদিন আপনি পড়ছেন, অর্থাৎ রোববার সেই দিনটা যখন শেষ হব হব ...
এত তাড়াতাড়ি ভোটের বাদ্যি বাজিয়ে দেওয়ার চেষ্টা কেন
শুভা দত্ত: সামনের বছর পঞ্চায়েত ভোট। সে ভোটের দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি। এবং তার আগে ...
  স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পে চরম দুরবস্থার জন্য দায়ী কিছু কর্পোরেট সংস্থার বিপুল অনাদায়ী ঋণ
 দেবনারায়ণ সরকার: ২০১৭-র ১ এপ্রিল থেকে প্রবীণদের জন্য ৫ বছরের সঞ্চয় প্রকল্পে থেকে শুরু করে ...
এই পুর নির্বাচনে পাহাড় থেকে সমতলে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের খোঁজ মিলবে
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী: আগামী ১৪ মে রাজ্যের ৭টি পুরসভার ১৪৮টি ওয়ার্ডে ৩৮৫টি বুথে ভোটগ্রহণ হবে। এই ...
 বাজেট হাসপাতাল তৈরি দূরদর্শী সিদ্ধান্ত, আগামীদিনে অগ্রাধিকার পাক জেলাও
নিমাই দে: এমন একটা প্রতিযোগিতার বাজারে, যেখানে সরকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মৌচাকে ঢিল মারতে নামছে, সেখানে ...