বিশেষ নিবন্ধ
 

বাংলা থেকেই শুরু হল শ্রীরামচন্দ্রের উপর রাজনৈতিক দখলদারির প্রতিযোগিতা!

হারাধন চৌধুরী: পাগলকে কখনও বলতে নেই যে, ‘‘সাঁকো নাড়িও না।’’ আমাদের গ্রামের এক মুরুব্বির মুখে এই সাবধান বাণীটি প্রায়ই শোনা যেত। তাঁর বক্তব্য, পাগলকে যেটা বারণ করা হয় পাগল নাকি সেটাই বেশি করে। অতএব সাঁকোর ধারে কোনও পাগলকে ঘোরাফেরা করতে দেখলে, তাকে চোখে চোখে রাখা যেতে পারে বটে, কিন্তু আগ বাড়িয়ে তাকে এমন উপদেশ দেওয়া উচিতই নয়। মুরুব্বিটি আরও বলতেন, সাঁকোটা পলকা হলে তো একেবারেই মুখে আনতে নেই এমন ‘অকথা’। তাহলে নাকি সর্বনাশ!
সাম্প্রদায়িক-অশান্তি-মুক্ত সমাজ চেয়ে আমাদের মধ্যে কেউ কেউ যে কাণ্ডটা করছেন, তা দেখে ওই গেঁয়ো মুরুব্বির কথাটাই বেশি মনে পড়ছে। ছেঁড়া লুঙ্গি, খেটো ধুতি থেকে স্যুট বুট টাই হ্যাট যে-বেশই ধারণ করি না কেন, আমাদের প্রত্যেকেরই মনের গভীরে যেন অমনই একটা পাগল ঘাপটি মেরে আছে। যে আপনারটি ছাড়া কিছু বোঝে না। প্রথমে নিজের প্রাণটা। তারপর নিজের বাবা-মা, স্ত্রী-ছেলে-মেয়ে। গণ্ডিটা একটু একটু করে বড় হয় বটে, তবে তার দৌড় নিজের ধর্ম-সম্প্রদায়-শ্রেণি পর্যন্ত পৌঁছেই থেমে যায় দুম করে। জগৎ বলতে তার কাছে ওইটুকুই। যদিও নিজের ধর্ম-সম্প্রদায়-শ্রেণি সম্বন্ধে সে আদৌ কতটা জানে বা বোঝে, তার ভালো কীসে মন্দ কীসে, কীসেই-বা তার গৌরব অগৌরব—সেটা একবার ভেবে দেখে না।
এই যখন অবস্থা তখন অহরহ আমাদের কানের কাছে কেউ কেউ আওড়ে চলেছেন—সম্প্রদায়ে সম্প্রদায়ে মিলনের সেতুটা যে-কোনও মূল্যে রক্ষা করতে হবে। সম্প্রীতির সেতু ভাঙার চেষ্টা যে করবে তাকে উচিত শাস্তি দেওয়া হবে। ইত্যাদি। আর যায় কোথায়! আমাদের মন-পাগলও বুঝে গেল, সত্যিই তো সে শুধু একজন মানুষ নয়; তার একটা ধর্ম-সম্প্রদায়-শ্রেণিও আছে! তার কথা তো সে ভুলেই মেরেছে। এ তো ভারী অন্যায়! আর এই বোধ যখন ধড়মড়িয়ে জেগে উঠল, তখন সে বিচার করতে বসে গেল সে ‘সংখ্যাগুরু’ না ‘সংখ্যালঘু’? সংখ্যাগুরু হলে ভাববে, আমারই তো শাসন করার অধিকার। তাহলে কোনও কোনও ক্ষেত্রে আমিই কেন উলটে শাসিত-শোষিত-বঞ্চিত হচ্ছি! আবার সংখ্যালঘু মন বিচার করতে বসে যাবে, আমি দুর্বল বলেই না আমাকে বঞ্চনা ও শাসন-শোষণের শিকার হতে হচ্ছে। দু’জনেই ‘প্রতিকার’ লাভের জন্য মরিয়া হয়ে থাকে নিজের মতো করে—তা সেই ‘অন্যায়’ বাস্তবিক বা কাল্পনিক যেটাই হোক না কেন।
রামনবমী, হনুমান জয়ন্তী নিয়ে বাংলাজুড়ে হঠাৎ যে উন্মাদনা দেখা দিয়েছে, তার সঙ্গে ওই সাঁকো না-নাড়ানোর উপদেশেরই মিল পাচ্ছি হুবহু। শ্রীরামচন্দ্র হিন্দুদের কাছে ভগবান বা একজন অবতার পুরুষ হিসাবে পূজিত হন। তিনি পুজো পাচ্ছেন বহু বছর ধরেই। চৈত্র মাসের শুক্লা নবমী হল ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের পুণ্য আবির্ভাব তিথি। ওইদিন ‘শ্রীশ্রীরামনবমী ব্রত ও উপবাস’ পালনই হল প্রাচীন শাস্ত্রকারদের বিধান। তার মধ্যে ইনিয়ে-বিনিয়েও অস্ত্র-প্রদর্শন-আস্ফালনের কথা বলা হয়েছে বলে কস্মিনকালেও শুনিনি। অতএব এতকাল এই বাংলায় ব্রত ও উপবাসই হয়ে এসেছে নীরবে। রাম-সীতার প্রতি ভক্তিটা ছিল ভক্তদের মনে মনেই। হাওড়ায় রামরাজাতলার মতো কোনও কোনও প্রাচীন জনপদে এই উপলক্ষে মেলা উৎসব ইত্যাদিও হয়ে থাকে। এই পর্যন্তই। কিন্তু, শ্রীরামচন্দ্রের মহিমাকীর্তনের নামে ভক্তকুলের সশস্ত্র মিছিল, প্রকারান্তরে আস্ফালন এখানে অভূতপূর্ব এক ঘটনা। অস্ত্র উঁচিয়ে মিছিলে কোথাও কোথাও শামিল করা হয়েছে স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েদেরকেও! বই খাতা কলমের পরিবর্তে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছে ছোটদের হাতে!
ভারতে সংখ্যালঘু একাধিক ধর্মের কোনও কোনও অনুষ্ঠানে অস্ত্র প্রদর্শন কিংবা অস্ত্র নিয়ে কসরত করায় কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। এনিয়ে কারও কারও ‘হিন্দুমন’ বিরক্ত, ক্ষুব্ধ। কেউ কেউ এসব দেখে ভয়ও হয়তো পান। তাঁদের সবচেয়ে আপত্তির জায়গা হল—সরকার বা প্রশাসন এসব অনুমোদন করে কী করে! এবার রামনবমীতে রাজ্যের কিছু স্থানে হিন্দুদের অস্ত্র হাতে মিছিল দেখে মনে হচ্ছে, তাঁরা যেন সংখ্যালঘুদের ওই অনুষ্ঠানের পালটা কিছু করে দেখাতেই মরিয়া হয়ে উঠেছেন। রাজ্যের সরকার বাহাদুর এতে সম্প্রীতি নষ্ট হবে বলে যত আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, রাম-হনুমানে প্রবল ভক্তির নামে কেউ কেউ যেন তত তেড়েফুঁড়ে উঠতে চাইছেন। ব্যাপারটা এইরকম যে, সরকার বারণ করছে, রুখতে চাইছে—তবে বেশি বেশি করেই করব, বেশ করব! এবার নিন্দা, সমালোচনার যোগ্য হয়ে ওঠাটাই যেন তাঁদের অ্যাম্বিশন!
লক্ষণীয় যে, এই মওকায় রামনবমী উদযাপনের প্রতিযোগিতাও শুরু হয়ে গেল। আর এই প্রতিযোগিতা চলেছে বেশ উচ্চগ্রামে। ‘জয় শ্রীরাম’ বা ‘জয় হনুমান’ ধ্বনি দিতে বরাবর অভ্যস্ত যাঁরা, তাঁরা এটা করার মধ্যে বড় বিস্ময় নেই। এই রাজনৈতিক সংস্কৃতির মুণ্ডপাত করাই যাঁদের বীজমন্ত্র, অবাক করেছেন তাঁরাই। রামনবমী পালন করেই ক্ষান্ত দেননি, কোথাও কোথাও ঘটা করে হনুমান জয়ন্তী পালনেও উন্মত্ত হয়েছেন তাঁরা। কিন্তু, হঠাৎ এই দিক বদল কেন? কেন পলকা সাঁকোটিই নাড়ানোর জন্য পাগলকে পরোক্ষে উসকে দেওয়া? তার মানে কি বিজেপি-বিরোধীদের কেউ কেউ ঘুরিয়ে এটাই চাইছেন—বাংলায়ও আছড়ে পড়ুক রামভক্তির জোয়ার! তখন দেখে নেওয়া যাবে রামভক্তিতে কে কতটা দড়! বিজেপির হিন্দুত্বের এতকালের কঠোর সমালোচকদের একাংশ এবার যেন বুঝিয়ে দিচ্ছেন—সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতির উপর চোখ বুজে ভরসা করার দিন তাঁদেরও ফুরিয়ে আসছে। উন্নয়ন আর প্রগতিশীলতার স্লোগানেরও ধার, ভার দুটিই বুঝি আজ যায় যায়। অতএব গুটি গুটি পায়ে দিক বদলের চেষ্টা। হিন্দুত্বের রাজনীতিতেই ভাগ বসানোর হক ঘোষণা করছেন তাঁরা কৌশলে।
রামচন্দ্রের সঙ্গে আমার পরিচয় সেই বালকবয়সে। কৃত্তিবাসী রামায়ণের অংশবিশেষ পাঠ্য ছিল। আর একটু বড়বেলায় পড়তে হয়েছে মাইকেল মধুসূদনের ‘মেঘনাদ বধ’ কাব্যের কিয়দংশ। এছাড়া পুজোর সময় গ্রামে হ’ত রামযাত্রা। রাত জেগে তা দেখতাম। সব মিলিয়ে রামচন্দ্রকে মনে হয়েছিল দোষ-গুণের সমাহারে সৃষ্ট এক রাজা। অবশ্যই কারও কারও আদর্শ হওয়ারও যোগ্য তিনি। কারণ তিনি সৎ, সত্যনিষ্ঠ, সত্যব্রত ও সত্যসন্ধ। তিনি পিতৃমাতৃভক্তির সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত। ছোট ভাইদের স্নেহ-ভালোবাসার বিচারেও তাঁর তুলনা তিনিই। তিনি প্রজাবৎসল। প্রজাদের সুখ সমৃদ্ধিতেই তাঁর যত সুখ। ত্যাগ তিতিক্ষাতেও তিনি অদ্বিতীয়। আবার ভক্তজনের বিশ্বাসে এই নরদেহী রামচন্দ্রই হলেন মর্যাদাপুরুষোত্তম, পতিতপাবন ভগবান। সব মিলিয়ে যে শ্রীরামের ছবি আমাদের বালক মনে আঁকা হয়েছিল—নিজেকে জাহির করার জন্য তাঁকে কখনও ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধে নামতে হবে এমনটা মনে হয়নি। বরং তিনি ছিলেন সমস্ত রকম অশান্তির ঊর্ধ্বে। যাবতীয় ক্ষুদ্রতা সংকীর্ণতা নীচতা যেন তাঁর পদমূলে আত্মসমর্পণ করেছিল। রামচরিত্রের গ্রহণযোগ্যতা তাঁর যুদ্ধং দেহি মূর্তিটি ছাপিয়েই। সত্য, সত্য আর সত্য। তিনি একাই তিন সত্যি। রাম মানেই সুবিশাল। কোথায় তাঁর প্রতিপক্ষ? তিনি যুদ্ধটা করবেন কার সঙ্গে! বড় হয়ে যথার্থই উপলব্ধি হয়েছিল—এমন চারিত্রমাহাত্ম্য যে-মহাকাব্যে গীত হয়েছে সেটি সম্পর্কে ‘নাস্তি রামায়ণাৎ পরম’ (রামায়ণের চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কিছু নেই) বলা ছাড়া উপায় কী। এবার কিনা সেই রামচন্দ্রের উপর রাজনৈতিক দখলদারি নিয়েও প্রতিযোগিতার সূচনা হল বাংলায়! বাংলার এই অগ্রণী ভূমিকার কথা নিশ্চয় নথিভুক্ত হবে ইতিহাসে।
রামনাম অপব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা ছিল পরম রামভক্ত গান্ধী মহারাজেরও। ‘সর্বরোগহরা’ রামনাম সম্পর্কে গান্ধীজির বক্তব্যের সারার্থ এই—রামনামই হল মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ অধিকার। তবে রামময় হওয়ার জন্য অসীম ধৈর্য আবশ্যক। যে মানুষ সত্যপরায়ণ নয়, অকপট হৃদয় নয়, ভিতরে বাইরে শুদ্ধ পবিত্র নয়, হৃদয় ঢেলে রামনাম করা তার পক্ষে অসম্ভব। যে মানুষ রামনাম করে শুচি হয়েছে সে বাইরে কখনও নোংরা হতে পারে না। অসংখ্য মানুষ যদি অন্তর থেকে রামনাম করে তবে দাঙ্গা-হাঙ্গামার মতো সমাজ-ব্যাধি দূর হয়ে যাবে। তবে মুখে রামনাম আর কাজে রাবণের আচরণ—এ নিরর্থক মাত্র নয়, অতীব মারাত্মক। এ নিছক কপটাচার। আত্মপ্রবঞ্চনা করতে পারি, জগতের চোখেও ধুলো দিতে পারি, কিন্তু, বিধাতাপুরুষকে ঠকাবার উপায় নেই। রামনাম কোনও ভূতের ভেলকি নয়। রামনাম যে-সকল বস্তুর প্রতীক সে-সকল সমেতই রামনাম করা চাই। তোতাপাখির মতো কপচালেই রামনাম থেকে শক্তিলাভ হয় না।। অতএব রামনাম যে কী বস্তু তা উপলব্ধি করা চাই। এবং, যেসব বস্তু রামনামের অনুষঙ্গ সেসব পালন করা চাই। ভগবানের নাম করার জন্য ভাগবত জীবন যাপন করা আবশ্যক।
আততায়ীর গুলিতে নশ্বর দেহ ঝাঁজরা হয়ে যাওয়ার পরও তাই মহাত্মার মুখ থেকে বেরিয়েছিল—‘রাম রাম’—আর্তনাদ অথবা বিষোদ্গারের পরিবর্তে।
একবার রামযাত্রা শেষের একটা ঘটনার কথা বেশ মনে আছে—রামের চরিত্রে যে কিশোর অভিনয় করেছিল, মঞ্চের বাইরে, সে সত্যি সত্যি প্রেমনিবেদন করে বসেছিল তার বিপরীতে অভিনয় করেছিল যে কিশোরী, তাকে। ঘটনাটি জানাজানিও হয়ে গিয়েছিল। বেচারা রাজা রামচন্দ্র! বেচারি সীতা দেবী! তাদের তখন ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা। মঞ্চে উঠে রং-চড়ানো সংলাপ আওড়ানো দূর থাক, গাঁয়ে মুখ দেখানোরই সাহস হারিয়ে ফেলল তারা। ওই ঘটনার পর তাদের আর কোনওদিন কোনও মঞ্চে দেখিনি। পরে জেনেছিলাম, রামরূপী কিশোরটির নিবেদিত প্রেম প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল সীতারূপী কিশোরীর কাছ থেকে। কিন্তু, তার জন্য ব্যর্থ প্রেমিকের মনে স্থান পায়নি তার প্রেয়সীর মুখ লক্ষ্য করে অ্যাসিড, গুলি, কিংবা নিদেন পক্ষে একটা নরম মাটির ঢেলাও নিক্ষেপ করার ইচ্ছা। ছেলেটি সত্যিই যেন ভগবান রামচন্দ্রের সদ্‌গুণের দ্বারাই প্রভাবিত হয়েছিল। মঞ্চে শ্রীরামচন্দ্রের চরিত্রে অভিনয় করে বহু মানুষের প্রশংসা কুড়ানোর পর যদি সে ওই অপকম্মটি করে বসত, তখন ভগবান রামচন্দ্র কতই-না কলঙ্কিত হয়ে যেতেন তাই ভাবি!
সবে সবে নরেন্দ্র মোদির উত্তরপ্রদেশ বিজয় ভারতের আসমুদ্রহিমাচলকে একটা প্রবল ঝাঁকি দিয়েছে। এবং, বাংলায় ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে পঞ্চায়েত ভোট। হঠাৎ সোনায় এমন সোহাগা উড়ে এসে না-পড়লে রাম-হনুমান ভক্তির এক-আনাও দেখার সুযোগ যে এখানে মিলত না তা কোনওরকম গণনা ছাড়াই বলে দেওয়া যায়। এও অনুমান করা যায়, পঞ্চায়েত ভোট মিটলে পরে কিছুদিনের জন্য ভাটার টান চলবে এই ভক্তিরসসাগরে। তবে, ভিতরে ভিতরে প্রস্তুতি চলবে পরবর্তী লোকসভা, বিধানসভার ভোটের আগে ফের একদফা জোয়ার বইয়ে দেওয়ার প্রত্যাশায়। এই জোয়ার-ভাটার খেলা থেকে ফায়দা কারও কারও নিশ্চয় কিছু হবে। তবে পাগলকে সাঁকো নাড়ানোর ভয়ংকর বাসনা উসকে দেওয়ার আগে পরিণামটাও কিন্তু ভাবা দরকার। কারণ, এই পাগলরা আপনার ভালোটাও বোঝে না।
18th  April, 2017
গুম-নিখোঁজ ও পরমানন্দ মন্ত্রণালয়
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলাদেশে ‘লিট ফেস্ট’ শুরু ও শেষ হল। সেই কারণে কি না জানি না, অরুন্ধতী রায়ের দ্বিতীয় উপন্যাস ‘দ্য মিনিস্ট্রি অব আটমোস্ট হ্যাপিনেস’ হুট করে সংবাদপত্রে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এল। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় সাহিত্যিক ও সাংবাদিক, আমার অতি ঘনিষ্ঠ ও প্রিয় আনিসুল হক এই উপন্যাসের বাংলা নাম দিয়েছেন ‘পরমানন্দ মন্ত্রণালয়’।
বিশদ

লন্ডন, এডিনবরা এবং মমতা
শুভা দত্ত

দুর্গাপুজোর দিন যত এগিয়ে আসে, আনন্দটা তার সঙ্গে সমানুপাতিক হারে বাড়ে। এ আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির চিরন্তন সত্য। আর মা দুর্গাকে ঘিরে সেই উৎসবের রামধনু রং ফিকে হতে শুরু করে নবমীর সন্ধ্যা থেকেই। আজ বাদে কাল দশমী। মায়ের ফিরে যাওয়ার পালা।
বিশদ

চীনের প্রেসিডেন্ট বনাম ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ
প্রশান্ত দাস

জিনপিং দেশের বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের বললেন—আমাদের সমাজতন্ত্র দেশকে তরতর করে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। এগিয়ে চলেছে আমাদের অর্থনীতি। কিন্তু গত পাঁচ বছরে আপনারা ক’টি অবিশ্বাস্য অস্ত্র দিতে পেরেছেন সেনাদের? ভারতের ডিআরডিও কী করে পৃথিবীতে দু’নম্বর রিসার্চ সেন্টার হল? কী নেই আপনাদের? যা যা চাই, তালিকা পাঠান। যতদিন না আমরা ডিআরডিও-কে ছাপিয়ে যেতে পারছি, ততদিন আমরা নিজেদের এশিয়ার মধ্যে এক নং বলতে পারব না।
বিশদ

18th  November, 2017
রাজ্যের লাইব্রেরিগুলিকে বাঁচাতেই হবে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

মনে পড়ছে গত ডিসেম্বরের কথা। বীরভূম জেলার সরকারি বইমেলার আয়োজন হয়েছিল সিউড়িতে, ইরিগেশন কলোনির মাঠে। আমি উদ্বোধক, মঞ্চে জেলার মন্ত্রীরা, সঙ্গত কারণেই উপস্থিত ছিলেন গ্রন্থাগারমন্ত্রীও। মঞ্চে বসেই সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর সঙ্গে পরিচয়, আলাপচারিতা।
বিশদ

18th  November, 2017
মোদির আমলে শিশুদের খিদের যন্ত্রণা তীব্র, কারণ শিশু ও মহিলা উন্নয়নে গুরুত্ব কম
দেবনারায়ণ সরকার

কেন্দ্রীয় সরকারের গত ৩ বছরের বাজেটের তথ্য সার্বিকভাবে বিচার করলে দেখা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় বাজেটে মোট ব্যয় যেখানে ২১ শতাংশের বেশি বেড়েছে (টাকার অঙ্কে অতিরিক্ত প্রায় ৩ লক্ষ ৫১ হাজার কোটি টাকা), সেখানে মহিলা ও শিশু উন্নয়নে ব্যয় কপর্দকও বাড়েনি, বরং প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। একইভাবে মহিলা ও শিশু উন্নয়ন ব্যয় বাজেটের মোট ব্যয়ের ১ শতাংশের অনেক নীচে নেমেছে। মোদ্দা কথা হল, যে দেশের কেন্দ্রীয় বাজেটে মহিলা ও শিশু উন্নয়নের ব্যয় বাজেটে মোট ব্যয়ের ১ শতাংশেরও কম এবং এই ব্যয় মোদির জমানায় যেহেতু আরও কমছে, সেই দেশে রোজ রাতে খালি পেটে শুতে যাওয়া শিশুদের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধিটাই স্বাভাবিক। তাই ভারতে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অপুষ্টিও।
বিশদ

17th  November, 2017
ডেঙ্গু: রাজনীতি ছেড়ে হাত মিলিয়ে কাজের সময়
অনিরুদ্ধ কর

অবিলম্বে একটা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা নিয়মাবলী প্রকাশ করতে হবে সরকারের তরফে। সরকারি নির্দেশ মানতে বাধ্য সকল সরকারি বেসরকারি ও প্রাইভেট চিকিৎসা কেন্দ্র। অতীতের দিকে নজর দিলে দেখা যাবে বার্ড ফ্লু বা সোয়াইন ফ্লু-র সময় সরকারের তরফে এমন নিয়মাবলী প্রকাশ করা হয়েছিল। চিকিৎসাব্যবস্থায় কী কী থাকতে হবে এবং কোথায় থাকবে তাও বলে দেওয়া হয়েছিল। ফ্লু-র ওষুধ একমাত্র সরকার দিত। খোলাবাজারে মিলত না সেই ওষুধ। কারণ সেক্ষেত্রে ওষুধ নিয়ে কালোবাজারি এবং চড়া দামে ওষুধ বিক্রি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যেত। এছাড়া একটি রাজ্যস্তরের কমিটি ছিল পর্যালোচনার জন্য।
বিশদ

17th  November, 2017
প্যারিস, পরিবেশ এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভারত
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 পরিবেশ মানে হল যেখানে সেখানে থুতু না ফেলা। মন্তব্যটি আমারই এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর। এবং কী ভয়ঙ্কর সাবলীল স্বীকারোক্তি। যে দেশে ৩০ কোটি মানুষ এখনও দারিদ্রসীমার নীচে বসবাস করেন, যেখানে সাক্ষরতা বলতে বোঝানো হয় নিজের নাম সই করতে পারা, সেখানে সচেতনতার প্রাথমিক পাঠটা এমন একটা মন্তব্য দিয়ে শুরু করলে মন্দ কী!
বিশদ

16th  November, 2017
সার্ধশতবর্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি টেম্‌স থেকে গঙ্গা: ভগিনী নিবেদিতার দার্শনিক যাত্রা
জয়ন্ত কুশারী

 আয়ারল্যান্ডের স্বল্প জনবসতি শহর ডুং গানন। স্যামুয়েল রিচমন্ড নোবেল নামে এক ধর্মযাজক ও তাঁর ভক্তিমতী স্ত্রী মেরি ইসাবেল হ্যামিলটন বাস করেন এই শহরে। এঁরা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে করজোড়ে প্রার্থনা করেন সুখপ্রসবে প্রথম সন্তানটি হলে তাঁরা ঈশ্বরের চরণেই সদ্যোজাতকে সমর্পণ করবেন।
বিশদ

16th  November, 2017
নোট বাতিল: উত্তরপ্রদেশের ভোট, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং চে গুয়েভারা
শুভময় মৈত্র

নোট বাতিলের কারণ এবং ফল সংক্রান্ত আলোচনা দেখে, শুনে এবং পড়ে জনগণ এই বিষয়ে যথেষ্ট অবহিত, হয়তো বা কিছুটা ক্লান্তও বটে। বিজেপি সরকার কেন এই সিদ্ধান্ত নিলেন, এর কী কী ভুল ভ্রান্তি আছে, দেশের কী ক্ষতি হল, সাধারণ মানুষ ঠিক কতটা ভুগলেন এই নিয়ে আমরা যতটা আলোচনা করেছি সেই পরিমাণটা সময় এবং সম্পদের হিসেবে পাঁচশো আর হাজার টাকার মোট বাতিল নোটের মূল্যের থেকে বেশিও হয়ে যেতে পারে।
বিশদ

14th  November, 2017
বুকে লাল গোলাপের সেই মানুষটির কথা আজ খুব মনে পড়ছে
মোশারফ হোসেন

স্বপনদা বলত, পচার চাই। বুঝলে ভায়া, পচারটাই আসল। বাঁকুড়া মানুষ স্বপনদা র-ফলা উচ্চারণ করতে পারত না। তার মুখে ‘প্রচার’ শব্দটা ‘পচার’ হয়েই বেরত। আগ্রার ভঁপু চক্কোত্তিও একই কথা বলেছিলেন। ভঁপুবাবুর সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। এরকমই এক নভেম্বরে। উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা ভোটের খবর করতে গিয়ে।
বিশদ

14th  November, 2017
ফাইলের ভয় দেখিয়ে মুকুল কি রাজ্য রাজনীতিতে জায়গা করতে পারবেন?
শুভা দত্ত

ভয় দেখাচ্ছেন মুকুল রায়, ফাইলের ভয়। মারাত্মক তথ্য ঠাসা গোপন সব ফাইল নাকি সদ্য গেরুয়াধারী মুকুল রায়ের হাতে! সেসব ফাইলের তথ্য প্রকাশ পেলেই নাকি ধরাশায়ী হবে তৃণমূল! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্ব চলে যাবে! আর সেই সুযোগে ড্যাং ড্যাং করে মুকুল রায়ের বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের দখল নেবে। মমতা ভুলে বাংলার জনতাও মোদিজি অমিতজির বন্দনায় আত্মহারা হবে।
বিশদ

12th  November, 2017
ভারতের স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থাকে আরও জনকল্যাণমুখী ও সংগঠিত করা প্রয়োজন
বরুণ গান্ধী

 এবারে আমার আলোচনার বিষয়বস্তু হল, আমাদের দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে। খুব বেশিদিন নয়, মাত্র মাসদুয়েক আগের কথা। গোরখপুরের বি আর ডি হাসপাতালে ৬০ জন ছোট ছেলে-মেয়ে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রায় বিনা চিকিৎসায় মারা গেল। এর থেকে দুঃখের ঘটনা আর কিছু হয় না। খবরে প্রকাশ, প্রতিদিন এই হাসপাতালে গড়ে ২০০/২৫০ জন এনসেফ্যালাইটিস রোগে আক্রান্ত রোগী ভরতি হচ্ছিলেন। রোগীর এহেন ভিড়ে এখানকার চিকিৎসার পরিকাঠামো একরকম ভেঙে পড়ে। বিশদ

12th  November, 2017
একনজরে
 আমেদাবাদ, ১৮ নভেম্বর: গুজরাত নির্বাচনের প্রাক্কালে হার্দিক প্যাটেলকে নিয়ে চাপে পড়ল কংগ্রেস। পাটিদার সংরক্ষণের দাবি মেনে নিতে কংগ্রেসকে নতুন করে চরমসীমা দিল ‘পাটিদার আনামত আন্দোলন সমিতি’ (পাস)। সেইমতো কংগ্রেসের উপর চাপ বাড়িয়ে বেশ কিছু টিকিট আদায় করে নিতে চাইছে হার্দিকের ...

হারারে, ১৮ নভেম্বর: জিম্বাবোয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবেকে গৃহবন্দি করে রাখার ঘটনাটিকে সামরিক অভ্যুত্থান হিসেবেই দেখছে আফ্রিকান ইউনিয়ন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মুগাবে উৎখাতের এই অভ্যুত্থানের নেপথ্যে ...

 প্রসেনজিৎ কোলে, কলকাতা: একদিকে বিদ্যুৎ চুরি, অন্যদিকে ঝড়-বৃষ্টিতে তার ছিঁড়ে পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার মতো ঘটনা এড়াতে এবার কোচবিহার এবং নবদ্বীপ শহরের গোটা বিদ্যুৎ বণ্টনের পরিকাঠামো ...

বিএনএ, কোচবিহার: পঞ্চায়েত নির্বাচনকে পাখির চোখ করে আজ, রবিবার থেকে আদাজল খেয়ে ময়দানে নামছে কোচবিহার জেলা বিজেপি। নভেম্বরের মধ্যেই তৃণমূল স্তরে সংগঠনের বুথস্তরের কমিটি তৈরির কাজ শেষ করে ভিতকে আরও মজবুত করার ব্যাপারে রাজ্য থেকে জেলাতে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীদের বিষয় নির্বাচন সঠিক হওয়া দরকার। কর্মপ্রার্থীরা কোন শুভ সংবাদ পেতে পারেন। কারও সঙ্গে সম্পর্কহানি ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৩৮: সমাজ সংস্কারক কেশবচন্দ্র সেনের জন্ম
১৮৭৭: কবি করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯১৭: ভারতের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর জন্ম
১৯২২: সঙ্গীতকার সলিল চৌধুরির জন্ম
১৯২৮: কুস্তিগীর ও অভিনেতা দারা সিংয়ের জন্ম
১৯৫১: অভিনেত্রী জিনাত আমনের জন্ম

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৪.০০ টাকা ৬৫.৬৮ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৩২ টাকা ৮৭.১৯ টাকা
ইউরো ৭৫.২০ টাকা ৭৭.৮৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
18th  November, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩০,১৯৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৮,৬৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৯,০৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩ অগ্রহায়ণ, ১৯ নভেম্বর, রবিবার, প্রতিপদ রাত্রি ৭/১৫, নক্ষত্র-অনুরাধা রাত্রি ৯/৫৭, সূ উ ৫/৫৫/৪৩, অ ৪/৪৮/১৭, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/৪০ গতে ৮/৫০ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৪ গতে ২/৩৮ মধ্যে। রাত্রি ঘ ৭/২৩ গতে ৯/১১ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৯ গতে ১/৩৪ মধ্যে পুনঃ ২/২৭ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ১০/০ গতে ১২/৪০ মধ্যে, কালরাত্রি ১২/৫৯ গতে ২/৩৯ মধ্যে।
ইতু পূজা।
 
২ অগ্রহায়ণ, ১৯ নভেম্বর, রবিবার, প্রতিপদ রাত্রি ৫/৪৫/৪১, অনুরাধানক্ষত্র ৯/২৭/৫২, সূ উ ৫/৫৬/১২, অ ৪/৪৭/১৯, অমৃতযোগ দিবা ৬/৩৯/৩৬-৮/৪৯/৩৮, ১১/৪৩/০-২/৩৬/২১, রাত্রি ৭/২৫/৬-৯/১০/১৬, ১১/৪৮/৩-১/৩৩/১৪, ২/২৫/৫০-৫/৫৬/৫৮, বারবেলা ১০/০/২২-১১/২১/৪৫, কালবেলা ১১/২১/৪৫-১২/৪৩/৯, কালরাত্রি ৯/৪৩/১৩-১১/২১/৫৮।
ইতু পূজা।

২৯ শফর

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
 ইতিহাসে আজকের দিনে
 ১৮৩৮: সমাজ সংস্কারক কেশবচন্দ্র সেনের জন্ম
১৮৭৭: কবি করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ...বিশদ

08:46:15 AM

আজ শহরের তাপমাত্রা থাকবে ২৯ ডিগ্রির কাছাকাছি

08:46:14 AM

ট্রাম্প কন্যা ভারতে আসছেন ২৭শে
ভারতে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কন্যা ইভাঙ্কা। ...বিশদ

08:45:00 AM

বিজেপিতে যোগ দিলেন অভিনেতা রাহুল রায়
শনিবার বিজেপিতে যোগ দিলেন ‘আশিকি’ খ্যাত অভিনেতা রাহুল ...বিশদ

08:25:00 AM

নিলামে বিক্রি হচ্ছে ট্রাম্প-মেলেনিয়ার বিয়ের কেক
নিলামে বিক্রি হতে চলেছে ট্রাম্প-মেলেনিয়ার বিয়ের কেক। স্মারক হিসাবে মার্কিন ...বিশদ

08:10:00 AM