বিশেষ নিবন্ধ
 

বাংলা থেকেই শুরু হল শ্রীরামচন্দ্রের উপর রাজনৈতিক দখলদারির প্রতিযোগিতা!

হারাধন চৌধুরী: পাগলকে কখনও বলতে নেই যে, ‘‘সাঁকো নাড়িও না।’’ আমাদের গ্রামের এক মুরুব্বির মুখে এই সাবধান বাণীটি প্রায়ই শোনা যেত। তাঁর বক্তব্য, পাগলকে যেটা বারণ করা হয় পাগল নাকি সেটাই বেশি করে। অতএব সাঁকোর ধারে কোনও পাগলকে ঘোরাফেরা করতে দেখলে, তাকে চোখে চোখে রাখা যেতে পারে বটে, কিন্তু আগ বাড়িয়ে তাকে এমন উপদেশ দেওয়া উচিতই নয়। মুরুব্বিটি আরও বলতেন, সাঁকোটা পলকা হলে তো একেবারেই মুখে আনতে নেই এমন ‘অকথা’। তাহলে নাকি সর্বনাশ!
সাম্প্রদায়িক-অশান্তি-মুক্ত সমাজ চেয়ে আমাদের মধ্যে কেউ কেউ যে কাণ্ডটা করছেন, তা দেখে ওই গেঁয়ো মুরুব্বির কথাটাই বেশি মনে পড়ছে। ছেঁড়া লুঙ্গি, খেটো ধুতি থেকে স্যুট বুট টাই হ্যাট যে-বেশই ধারণ করি না কেন, আমাদের প্রত্যেকেরই মনের গভীরে যেন অমনই একটা পাগল ঘাপটি মেরে আছে। যে আপনারটি ছাড়া কিছু বোঝে না। প্রথমে নিজের প্রাণটা। তারপর নিজের বাবা-মা, স্ত্রী-ছেলে-মেয়ে। গণ্ডিটা একটু একটু করে বড় হয় বটে, তবে তার দৌড় নিজের ধর্ম-সম্প্রদায়-শ্রেণি পর্যন্ত পৌঁছেই থেমে যায় দুম করে। জগৎ বলতে তার কাছে ওইটুকুই। যদিও নিজের ধর্ম-সম্প্রদায়-শ্রেণি সম্বন্ধে সে আদৌ কতটা জানে বা বোঝে, তার ভালো কীসে মন্দ কীসে, কীসেই-বা তার গৌরব অগৌরব—সেটা একবার ভেবে দেখে না।
এই যখন অবস্থা তখন অহরহ আমাদের কানের কাছে কেউ কেউ আওড়ে চলেছেন—সম্প্রদায়ে সম্প্রদায়ে মিলনের সেতুটা যে-কোনও মূল্যে রক্ষা করতে হবে। সম্প্রীতির সেতু ভাঙার চেষ্টা যে করবে তাকে উচিত শাস্তি দেওয়া হবে। ইত্যাদি। আর যায় কোথায়! আমাদের মন-পাগলও বুঝে গেল, সত্যিই তো সে শুধু একজন মানুষ নয়; তার একটা ধর্ম-সম্প্রদায়-শ্রেণিও আছে! তার কথা তো সে ভুলেই মেরেছে। এ তো ভারী অন্যায়! আর এই বোধ যখন ধড়মড়িয়ে জেগে উঠল, তখন সে বিচার করতে বসে গেল সে ‘সংখ্যাগুরু’ না ‘সংখ্যালঘু’? সংখ্যাগুরু হলে ভাববে, আমারই তো শাসন করার অধিকার। তাহলে কোনও কোনও ক্ষেত্রে আমিই কেন উলটে শাসিত-শোষিত-বঞ্চিত হচ্ছি! আবার সংখ্যালঘু মন বিচার করতে বসে যাবে, আমি দুর্বল বলেই না আমাকে বঞ্চনা ও শাসন-শোষণের শিকার হতে হচ্ছে। দু’জনেই ‘প্রতিকার’ লাভের জন্য মরিয়া হয়ে থাকে নিজের মতো করে—তা সেই ‘অন্যায়’ বাস্তবিক বা কাল্পনিক যেটাই হোক না কেন।
রামনবমী, হনুমান জয়ন্তী নিয়ে বাংলাজুড়ে হঠাৎ যে উন্মাদনা দেখা দিয়েছে, তার সঙ্গে ওই সাঁকো না-নাড়ানোর উপদেশেরই মিল পাচ্ছি হুবহু। শ্রীরামচন্দ্র হিন্দুদের কাছে ভগবান বা একজন অবতার পুরুষ হিসাবে পূজিত হন। তিনি পুজো পাচ্ছেন বহু বছর ধরেই। চৈত্র মাসের শুক্লা নবমী হল ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের পুণ্য আবির্ভাব তিথি। ওইদিন ‘শ্রীশ্রীরামনবমী ব্রত ও উপবাস’ পালনই হল প্রাচীন শাস্ত্রকারদের বিধান। তার মধ্যে ইনিয়ে-বিনিয়েও অস্ত্র-প্রদর্শন-আস্ফালনের কথা বলা হয়েছে বলে কস্মিনকালেও শুনিনি। অতএব এতকাল এই বাংলায় ব্রত ও উপবাসই হয়ে এসেছে নীরবে। রাম-সীতার প্রতি ভক্তিটা ছিল ভক্তদের মনে মনেই। হাওড়ায় রামরাজাতলার মতো কোনও কোনও প্রাচীন জনপদে এই উপলক্ষে মেলা উৎসব ইত্যাদিও হয়ে থাকে। এই পর্যন্তই। কিন্তু, শ্রীরামচন্দ্রের মহিমাকীর্তনের নামে ভক্তকুলের সশস্ত্র মিছিল, প্রকারান্তরে আস্ফালন এখানে অভূতপূর্ব এক ঘটনা। অস্ত্র উঁচিয়ে মিছিলে কোথাও কোথাও শামিল করা হয়েছে স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েদেরকেও! বই খাতা কলমের পরিবর্তে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছে ছোটদের হাতে!
ভারতে সংখ্যালঘু একাধিক ধর্মের কোনও কোনও অনুষ্ঠানে অস্ত্র প্রদর্শন কিংবা অস্ত্র নিয়ে কসরত করায় কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। এনিয়ে কারও কারও ‘হিন্দুমন’ বিরক্ত, ক্ষুব্ধ। কেউ কেউ এসব দেখে ভয়ও হয়তো পান। তাঁদের সবচেয়ে আপত্তির জায়গা হল—সরকার বা প্রশাসন এসব অনুমোদন করে কী করে! এবার রামনবমীতে রাজ্যের কিছু স্থানে হিন্দুদের অস্ত্র হাতে মিছিল দেখে মনে হচ্ছে, তাঁরা যেন সংখ্যালঘুদের ওই অনুষ্ঠানের পালটা কিছু করে দেখাতেই মরিয়া হয়ে উঠেছেন। রাজ্যের সরকার বাহাদুর এতে সম্প্রীতি নষ্ট হবে বলে যত আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, রাম-হনুমানে প্রবল ভক্তির নামে কেউ কেউ যেন তত তেড়েফুঁড়ে উঠতে চাইছেন। ব্যাপারটা এইরকম যে, সরকার বারণ করছে, রুখতে চাইছে—তবে বেশি বেশি করেই করব, বেশ করব! এবার নিন্দা, সমালোচনার যোগ্য হয়ে ওঠাটাই যেন তাঁদের অ্যাম্বিশন!
লক্ষণীয় যে, এই মওকায় রামনবমী উদযাপনের প্রতিযোগিতাও শুরু হয়ে গেল। আর এই প্রতিযোগিতা চলেছে বেশ উচ্চগ্রামে। ‘জয় শ্রীরাম’ বা ‘জয় হনুমান’ ধ্বনি দিতে বরাবর অভ্যস্ত যাঁরা, তাঁরা এটা করার মধ্যে বড় বিস্ময় নেই। এই রাজনৈতিক সংস্কৃতির মুণ্ডপাত করাই যাঁদের বীজমন্ত্র, অবাক করেছেন তাঁরাই। রামনবমী পালন করেই ক্ষান্ত দেননি, কোথাও কোথাও ঘটা করে হনুমান জয়ন্তী পালনেও উন্মত্ত হয়েছেন তাঁরা। কিন্তু, হঠাৎ এই দিক বদল কেন? কেন পলকা সাঁকোটিই নাড়ানোর জন্য পাগলকে পরোক্ষে উসকে দেওয়া? তার মানে কি বিজেপি-বিরোধীদের কেউ কেউ ঘুরিয়ে এটাই চাইছেন—বাংলায়ও আছড়ে পড়ুক রামভক্তির জোয়ার! তখন দেখে নেওয়া যাবে রামভক্তিতে কে কতটা দড়! বিজেপির হিন্দুত্বের এতকালের কঠোর সমালোচকদের একাংশ এবার যেন বুঝিয়ে দিচ্ছেন—সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতির উপর চোখ বুজে ভরসা করার দিন তাঁদেরও ফুরিয়ে আসছে। উন্নয়ন আর প্রগতিশীলতার স্লোগানেরও ধার, ভার দুটিই বুঝি আজ যায় যায়। অতএব গুটি গুটি পায়ে দিক বদলের চেষ্টা। হিন্দুত্বের রাজনীতিতেই ভাগ বসানোর হক ঘোষণা করছেন তাঁরা কৌশলে।
রামচন্দ্রের সঙ্গে আমার পরিচয় সেই বালকবয়সে। কৃত্তিবাসী রামায়ণের অংশবিশেষ পাঠ্য ছিল। আর একটু বড়বেলায় পড়তে হয়েছে মাইকেল মধুসূদনের ‘মেঘনাদ বধ’ কাব্যের কিয়দংশ। এছাড়া পুজোর সময় গ্রামে হ’ত রামযাত্রা। রাত জেগে তা দেখতাম। সব মিলিয়ে রামচন্দ্রকে মনে হয়েছিল দোষ-গুণের সমাহারে সৃষ্ট এক রাজা। অবশ্যই কারও কারও আদর্শ হওয়ারও যোগ্য তিনি। কারণ তিনি সৎ, সত্যনিষ্ঠ, সত্যব্রত ও সত্যসন্ধ। তিনি পিতৃমাতৃভক্তির সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত। ছোট ভাইদের স্নেহ-ভালোবাসার বিচারেও তাঁর তুলনা তিনিই। তিনি প্রজাবৎসল। প্রজাদের সুখ সমৃদ্ধিতেই তাঁর যত সুখ। ত্যাগ তিতিক্ষাতেও তিনি অদ্বিতীয়। আবার ভক্তজনের বিশ্বাসে এই নরদেহী রামচন্দ্রই হলেন মর্যাদাপুরুষোত্তম, পতিতপাবন ভগবান। সব মিলিয়ে যে শ্রীরামের ছবি আমাদের বালক মনে আঁকা হয়েছিল—নিজেকে জাহির করার জন্য তাঁকে কখনও ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধে নামতে হবে এমনটা মনে হয়নি। বরং তিনি ছিলেন সমস্ত রকম অশান্তির ঊর্ধ্বে। যাবতীয় ক্ষুদ্রতা সংকীর্ণতা নীচতা যেন তাঁর পদমূলে আত্মসমর্পণ করেছিল। রামচরিত্রের গ্রহণযোগ্যতা তাঁর যুদ্ধং দেহি মূর্তিটি ছাপিয়েই। সত্য, সত্য আর সত্য। তিনি একাই তিন সত্যি। রাম মানেই সুবিশাল। কোথায় তাঁর প্রতিপক্ষ? তিনি যুদ্ধটা করবেন কার সঙ্গে! বড় হয়ে যথার্থই উপলব্ধি হয়েছিল—এমন চারিত্রমাহাত্ম্য যে-মহাকাব্যে গীত হয়েছে সেটি সম্পর্কে ‘নাস্তি রামায়ণাৎ পরম’ (রামায়ণের চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কিছু নেই) বলা ছাড়া উপায় কী। এবার কিনা সেই রামচন্দ্রের উপর রাজনৈতিক দখলদারি নিয়েও প্রতিযোগিতার সূচনা হল বাংলায়! বাংলার এই অগ্রণী ভূমিকার কথা নিশ্চয় নথিভুক্ত হবে ইতিহাসে।
রামনাম অপব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা ছিল পরম রামভক্ত গান্ধী মহারাজেরও। ‘সর্বরোগহরা’ রামনাম সম্পর্কে গান্ধীজির বক্তব্যের সারার্থ এই—রামনামই হল মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ অধিকার। তবে রামময় হওয়ার জন্য অসীম ধৈর্য আবশ্যক। যে মানুষ সত্যপরায়ণ নয়, অকপট হৃদয় নয়, ভিতরে বাইরে শুদ্ধ পবিত্র নয়, হৃদয় ঢেলে রামনাম করা তার পক্ষে অসম্ভব। যে মানুষ রামনাম করে শুচি হয়েছে সে বাইরে কখনও নোংরা হতে পারে না। অসংখ্য মানুষ যদি অন্তর থেকে রামনাম করে তবে দাঙ্গা-হাঙ্গামার মতো সমাজ-ব্যাধি দূর হয়ে যাবে। তবে মুখে রামনাম আর কাজে রাবণের আচরণ—এ নিরর্থক মাত্র নয়, অতীব মারাত্মক। এ নিছক কপটাচার। আত্মপ্রবঞ্চনা করতে পারি, জগতের চোখেও ধুলো দিতে পারি, কিন্তু, বিধাতাপুরুষকে ঠকাবার উপায় নেই। রামনাম কোনও ভূতের ভেলকি নয়। রামনাম যে-সকল বস্তুর প্রতীক সে-সকল সমেতই রামনাম করা চাই। তোতাপাখির মতো কপচালেই রামনাম থেকে শক্তিলাভ হয় না।। অতএব রামনাম যে কী বস্তু তা উপলব্ধি করা চাই। এবং, যেসব বস্তু রামনামের অনুষঙ্গ সেসব পালন করা চাই। ভগবানের নাম করার জন্য ভাগবত জীবন যাপন করা আবশ্যক।
আততায়ীর গুলিতে নশ্বর দেহ ঝাঁজরা হয়ে যাওয়ার পরও তাই মহাত্মার মুখ থেকে বেরিয়েছিল—‘রাম রাম’—আর্তনাদ অথবা বিষোদ্গারের পরিবর্তে।
একবার রামযাত্রা শেষের একটা ঘটনার কথা বেশ মনে আছে—রামের চরিত্রে যে কিশোর অভিনয় করেছিল, মঞ্চের বাইরে, সে সত্যি সত্যি প্রেমনিবেদন করে বসেছিল তার বিপরীতে অভিনয় করেছিল যে কিশোরী, তাকে। ঘটনাটি জানাজানিও হয়ে গিয়েছিল। বেচারা রাজা রামচন্দ্র! বেচারি সীতা দেবী! তাদের তখন ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা। মঞ্চে উঠে রং-চড়ানো সংলাপ আওড়ানো দূর থাক, গাঁয়ে মুখ দেখানোরই সাহস হারিয়ে ফেলল তারা। ওই ঘটনার পর তাদের আর কোনওদিন কোনও মঞ্চে দেখিনি। পরে জেনেছিলাম, রামরূপী কিশোরটির নিবেদিত প্রেম প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল সীতারূপী কিশোরীর কাছ থেকে। কিন্তু, তার জন্য ব্যর্থ প্রেমিকের মনে স্থান পায়নি তার প্রেয়সীর মুখ লক্ষ্য করে অ্যাসিড, গুলি, কিংবা নিদেন পক্ষে একটা নরম মাটির ঢেলাও নিক্ষেপ করার ইচ্ছা। ছেলেটি সত্যিই যেন ভগবান রামচন্দ্রের সদ্‌গুণের দ্বারাই প্রভাবিত হয়েছিল। মঞ্চে শ্রীরামচন্দ্রের চরিত্রে অভিনয় করে বহু মানুষের প্রশংসা কুড়ানোর পর যদি সে ওই অপকম্মটি করে বসত, তখন ভগবান রামচন্দ্র কতই-না কলঙ্কিত হয়ে যেতেন তাই ভাবি!
সবে সবে নরেন্দ্র মোদির উত্তরপ্রদেশ বিজয় ভারতের আসমুদ্রহিমাচলকে একটা প্রবল ঝাঁকি দিয়েছে। এবং, বাংলায় ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে পঞ্চায়েত ভোট। হঠাৎ সোনায় এমন সোহাগা উড়ে এসে না-পড়লে রাম-হনুমান ভক্তির এক-আনাও দেখার সুযোগ যে এখানে মিলত না তা কোনওরকম গণনা ছাড়াই বলে দেওয়া যায়। এও অনুমান করা যায়, পঞ্চায়েত ভোট মিটলে পরে কিছুদিনের জন্য ভাটার টান চলবে এই ভক্তিরসসাগরে। তবে, ভিতরে ভিতরে প্রস্তুতি চলবে পরবর্তী লোকসভা, বিধানসভার ভোটের আগে ফের একদফা জোয়ার বইয়ে দেওয়ার প্রত্যাশায়। এই জোয়ার-ভাটার খেলা থেকে ফায়দা কারও কারও নিশ্চয় কিছু হবে। তবে পাগলকে সাঁকো নাড়ানোর ভয়ংকর বাসনা উসকে দেওয়ার আগে পরিণামটাও কিন্তু ভাবা দরকার। কারণ, এই পাগলরা আপনার ভালোটাও বোঝে না।
18th  April, 2017
ধ্রুবতারা ফুটবল, স্বপ্ন সরণিতে মিজোরাম

সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়: এই লেখাটা যেদিন আপনি পড়ছেন, অর্থাৎ রোববার সেই দিনটা যখন শেষ হব হব করবে, তখন আমার মন কতটা ফুরফুরে থাকবে অথবা কতটা মুহ্যমান থাকব তা বলতে পারব না। কারণ, আমি জ্যোতিষী নই।
বিশদ

এত তাড়াতাড়ি ভোটের বাদ্যি বাজিয়ে দেওয়ার চেষ্টা কেন

শুভা দত্ত: সামনের বছর পঞ্চায়েত ভোট। সে ভোটের দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি। এবং তার আগে তেমন বড় কোনও ভোটও নেই রাজ্যে। কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গের পরিবেশ পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে ভোট একেবারে দোরগোড়ায় এসে পড়েছে। আর তাই রাজ্যজুড়ে ভোটের গরম হাওয়া বইতে শুরু করে দিয়েছে! রাজনৈতিক তরজা হানাহানি কাটাকাটিও শুরু হয়ে গিয়েছে।
বিশদ

  স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পে চরম দুরবস্থার জন্য দায়ী কিছু কর্পোরেট সংস্থার বিপুল অনাদায়ী ঋণ

 দেবনারায়ণ সরকার: ২০১৭-র ১ এপ্রিল থেকে প্রবীণদের জন্য ৫ বছরের সঞ্চয় প্রকল্পে থেকে শুরু করে পিপিএফ, কিষাণ বিকাশপত্র, সুকন্যা সমৃদ্ধি—সমস্ত স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পে ফের ১০ বেসিক পয়েন্ট সুদ কমাল কেন্দ্র। এর আগে এই হার ১০ শতাংশ কমানো হয়েছিল গত অক্টোবরে। বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের আমলে বাণিজ্যিক ব্যাংকের মতো ডাকঘর সঞ্চয় প্রকল্পগুলির সুদের হারও বাজার সুদের হারের পরিবর্তনের সঙ্গে সংগতি রেখে প্রতি ত্রৈমাসিকে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
বিশদ

29th  April, 2017
এই পুর নির্বাচনে পাহাড় থেকে সমতলে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের খোঁজ মিলবে

বিশ্বনাথ চক্রবর্তী: আগামী ১৪ মে রাজ্যের ৭টি পুরসভার ১৪৮টি ওয়ার্ডে ৩৮৫টি বুথে ভোটগ্রহণ হবে। এই ৭টি পুরসভার মধ্যে পাহাড়ের ৪টি পুরসভায় গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা, উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে কংগ্রেস এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার পূজালি পুরসভা ছিল তৃণমূলের দখলে। মুর্শিদাবাদের ডোমকল পুরসভাটি ২০১৫ সালে গঠিত হওয়ার পর এই প্রথম সেখানে ভোট হতে চলেছে। বিশদ

29th  April, 2017
 বাজেট হাসপাতাল তৈরি দূরদর্শী সিদ্ধান্ত, আগামীদিনে অগ্রাধিকার পাক জেলাও

নিমাই দে: এমন একটা প্রতিযোগিতার বাজারে, যেখানে সরকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মৌচাকে ঢিল মারতে নামছে, সেখানে সরকারি হাসপাতাল চত্বরে বাজেট হাসপাতালই হোক, হোক পলিক্লিনিক বা পে ক্লিনিক, একটা জিনিস অবশ্যই নজর রাখতে হবে, তা যেন বেসরকারি ক্ষেত্রের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করার মতো জায়গায় থাকে। কারণ, বিগত দিনের অভিজ্ঞতাই বলছে, পে ক্লিনিকগুলি কিন্তু সাফল্যের মুখ দেখেনি। যদিও হাসপাতালে কান পাতলে শোনা যায়, এর পিছনে রয়েছে বাম আমলের লাগামছাড়া দুর্নীতি। ...বহু টাকা নাকি কর্মীরা নয়ছয় করেছেন স্রেফ ইউনিয়ন নামক দাদাগিরি করে। তার ফলে মাসের পর মাস রোগী দেখেও টাকা না পেয়ে ডাক্তাররা নিরাশ হয়ে কেউ হাসপাতাল ছেড়েছেন, কেউবা পলিক্লিনিকের ধার মাড়াননি।
বিশদ

28th  April, 2017
 অরুণাচলে চীনকে ঠেকাতে তৎপর সতর্ক ভারত

গৌরীশঙ্কর নাগ: আমরা ধরে নিয়েছিলাম তিব্বতের ওপর চীনের অধিকার যদি আমরা স্বীকার করে নিই, তাহলে হয়তো সমস্যার আশু সমাধান হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এই যে, চীনের তরফ থেকে অনুরূপ আন্তরিকতা আমরা পাইনি। বরং সম্প্রতি হংকং ও ম্যাকাওকে সংযুক্তিকরণে সফল হওয়ায়, অরুণাচল নিয়ে চীন যে অত্যুৎসাহী হয়ে পড়েছে। সুতরাং ভারতের অত্যন্ত সাবধানী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। ইতিমধ্যে চীনের শান্তিপূর্ণ উত্থানের তত্ত্ব অনেকে খারিজ করে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে চীনের সঙ্গে দরকষাকষির ক্ষেত্রে ভারতের অভ্যন্তরে মোদি সরকারের প্রতি রাজনৈতিক সমর্থনের পাল্লা কতটা ভারী—তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশদ

28th  April, 2017
তোর্সা নদীই কি জলবণ্টনের স্থায়ী সমাধান?

গিরিজাশঙ্কর চট্টোপাধ্যায়: তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নানাবিধ কূটনৈতিক আলোচনা হয়ে গেল কিছুদিন আগেই। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন।
বিশদ

27th  April, 2017
ভারত-বাংলাদেশ অভিন্ন নদীগুলির জলপ্রবাহ সমস্যা ও সমাধান

মোঃ তারিকুজ্জামান রেজা: বাংলাদেশ ও ভারত দুটি বন্ধু প্রতিবেশী রাষ্ট্র। এ দুই রাষ্ট্রের সম্পর্ক রক্তের বাঁধনে বাঁধা। ১৯৪৭ সালে দুটি ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ভেঙে অপরিকল্পিতভাবে হয় পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান। কিন্তু, বিশেষ করে বাঙালি মুসলমানদের সেই পাকিস্তানের ঘোর কাটতে সময় লাগেনি। বিশদ

27th  April, 2017


একনজরে
ঢাকা, ২৯ এপ্রিল: নিষিদ্ধ ঘোষিত নব্য জেএমবির চার শীর্ষ জঙ্গিকে ধরতেই একের পর এক জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। এই চার জঙ্গি হল, পুরনো জেএমবি থেকে নব্য জেএমবিতে যোগ দেওয়া শীর্ষ নেতা সোহেল মাহফুজ ...

অয়নকুমার দত্ত, আমেদাবাদ থেকে ফিরে: চপ-তেলে ভাজা ভেজেও মানুষ অন্নসংস্থান করতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গে ‘চপ শিল্প’ নিয়ে যত তর্যাই চলুক না কেন, এদেশেরই অন্য এক রাজ্যে এই চপ-সিঙ্গারাই পালটে দিয়েছে বেশ কিছু জেল বন্দি মানুষের জীবন। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০১৪ সালে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচুর সাপের বিষ উদ্ধার হয়েছে। চোরাশিকারিরা সেই সাপের বিষ পাচার করছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সেগুলি কেউটে সাপের বিষ বলে চোরাশিকারিরা জিজ্ঞাসাবাদে বারবারই দাবি করেছে। ...

বাংলা নিউজ এজেন্সি: শুক্রবার রাতের ঝড়বৃষ্টিতে কোচবিহারের মাথাভাঙা, সিতাই, দিনহাটা সহ বিভিন্ন জায়গা লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে। এদিকে শনিবার সকালে মাদারিহাটের বন্ধ জয় বীরপাড়া চা বাগানে বাজ পড়ে একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

আপনার মনে ধর্মভাব জাগ্রত হবে। কর্মপ্রার্থীরা কর্মের সুযোগ পাবেন। কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতির সূচনা হবে। অর্থ নিয়ে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৭০-ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনক হিসাবে পরিচিত দাদাসাহেব ফালকের জন্ম।
১৯৪৫- জার্মানির চ্যান্সেলর এডলফ হিটলারের আত্মহত্যা।
১৯৮৭-ক্রিকেটার রোহিত শর্মার জন্ম।



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৪০ টাকা ৬৫.০৮ টাকা
পাউন্ড ৮১.৬৩ টাকা ৮৪.৪৪ টাকা
ইউরো ৬৮.৬৩ টাকা ৭১.১০ টাকা
29th  April, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৯,৩৯৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৭,৮৯০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৮,৩১০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৭০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৮০০ টাকা

দিন পঞ্জিকা

১৬ বৈশাখ, ৩০ এপ্রিল, রবিবার, পঞ্চমী রাত্রি ১২/৫০, মৃগশিরানক্ষত্র দিবা ৮/৩৩, সূ উ ৫/৮/৪৯, অ ৫/৫৮/৫৭, অমৃতযোগ প্রাতঃ ৬/১-৯/২৬ রাত্রি ৭/২৮-৮/৫৭, বারবেলা ৯/৫৮-১/১০, কালরাত্রি ১২/৫৮-২/২২।
১৬ বৈশাখ, ৩০ এপ্রিল, রবিবার, চতুর্থী ৮/২৭/০, মৃগশিরানক্ষত্র ১/১৯/৪২, সূ উ ৫/৮/৮, অ ৫/৫৯/৪, অমৃতযোগ দিবা ৫/৫৯/৩২-৯/২৫/৭, রাত্রি ৭/২৮/১৭-৮/৫৭/২৯, বারবেলা ৯/৫৭/১৪-১১/৩৩/৩৬, কালবেলা ১১/৩৩/৩৬-১/৯/৫৮, কালরাত্রি ১২/৫৭/১৪-২/২০/৫২। 
 ৩ শাবান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
আজ শহরের তাপমাত্রা থাকবে ৩৭ ডিগ্রির কাছাকাছি

08:48:00 AM

সুপার ওভারে গুজরাত লায়ন্সকে হারাল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স 

12:03:36 AM

আজ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা 
আজ, রবিবার শহরে কালবৈশাখীর ক্ষীণ আশা জুগিয়ে রাখল আবহাওয়া দপ্তর। তবে ঝড়বৃষ্টি হওয়ার ভালো সম্ভাবনা আছে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে এবং দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি এলাকায়। পূর্ব বিহারের উপর থাকা একটি ঘূর্ণাবর্ত রাজ্যে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকিয়েছে। তার প্রভাবে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছেন আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের কর্তারা। তাঁরা বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমা বায়ু উপর দিকে উঠে আসছে। এদিকে, বিহারের ঘূর্ণাবর্ত থেকে ছত্তিশগড় পর্যন্ত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা রয়েছে, যার অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৯০০ মিটার উপরে।  

08:15:00 AM

সুপার ওভারে গুজরাত লায়ন্সকে জয়ের জন্য ১২ রানের টার্গেট দিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স 

29-04-2017 - 11:51:00 PM

মুম্বই ইন্ডিয়ান্স-গুজরাত লায়ন্স ম্যাচ সুপার ওভারে 

29-04-2017 - 11:38:42 PM

গুজরাত লায়ন্স ২০ ওভারে ১৫৩/৯ 

29-04-2017 - 09:40:01 PM






বিশেষ নিবন্ধ
ধ্রুবতারা ফুটবল, স্বপ্ন সরণিতে মিজোরাম
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়: এই লেখাটা যেদিন আপনি পড়ছেন, অর্থাৎ রোববার সেই দিনটা যখন শেষ হব হব ...
এত তাড়াতাড়ি ভোটের বাদ্যি বাজিয়ে দেওয়ার চেষ্টা কেন
শুভা দত্ত: সামনের বছর পঞ্চায়েত ভোট। সে ভোটের দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি। এবং তার আগে ...
  স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পে চরম দুরবস্থার জন্য দায়ী কিছু কর্পোরেট সংস্থার বিপুল অনাদায়ী ঋণ
 দেবনারায়ণ সরকার: ২০১৭-র ১ এপ্রিল থেকে প্রবীণদের জন্য ৫ বছরের সঞ্চয় প্রকল্পে থেকে শুরু করে ...
এই পুর নির্বাচনে পাহাড় থেকে সমতলে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের খোঁজ মিলবে
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী: আগামী ১৪ মে রাজ্যের ৭টি পুরসভার ১৪৮টি ওয়ার্ডে ৩৮৫টি বুথে ভোটগ্রহণ হবে। এই ...
 বাজেট হাসপাতাল তৈরি দূরদর্শী সিদ্ধান্ত, আগামীদিনে অগ্রাধিকার পাক জেলাও
নিমাই দে: এমন একটা প্রতিযোগিতার বাজারে, যেখানে সরকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মৌচাকে ঢিল মারতে নামছে, সেখানে ...