বিশেষ নিবন্ধ
 

বাংলা থেকেই শুরু হল শ্রীরামচন্দ্রের উপর রাজনৈতিক দখলদারির প্রতিযোগিতা!

হারাধন চৌধুরী: পাগলকে কখনও বলতে নেই যে, ‘‘সাঁকো নাড়িও না।’’ আমাদের গ্রামের এক মুরুব্বির মুখে এই সাবধান বাণীটি প্রায়ই শোনা যেত। তাঁর বক্তব্য, পাগলকে যেটা বারণ করা হয় পাগল নাকি সেটাই বেশি করে। অতএব সাঁকোর ধারে কোনও পাগলকে ঘোরাফেরা করতে দেখলে, তাকে চোখে চোখে রাখা যেতে পারে বটে, কিন্তু আগ বাড়িয়ে তাকে এমন উপদেশ দেওয়া উচিতই নয়। মুরুব্বিটি আরও বলতেন, সাঁকোটা পলকা হলে তো একেবারেই মুখে আনতে নেই এমন ‘অকথা’। তাহলে নাকি সর্বনাশ!
সাম্প্রদায়িক-অশান্তি-মুক্ত সমাজ চেয়ে আমাদের মধ্যে কেউ কেউ যে কাণ্ডটা করছেন, তা দেখে ওই গেঁয়ো মুরুব্বির কথাটাই বেশি মনে পড়ছে। ছেঁড়া লুঙ্গি, খেটো ধুতি থেকে স্যুট বুট টাই হ্যাট যে-বেশই ধারণ করি না কেন, আমাদের প্রত্যেকেরই মনের গভীরে যেন অমনই একটা পাগল ঘাপটি মেরে আছে। যে আপনারটি ছাড়া কিছু বোঝে না। প্রথমে নিজের প্রাণটা। তারপর নিজের বাবা-মা, স্ত্রী-ছেলে-মেয়ে। গণ্ডিটা একটু একটু করে বড় হয় বটে, তবে তার দৌড় নিজের ধর্ম-সম্প্রদায়-শ্রেণি পর্যন্ত পৌঁছেই থেমে যায় দুম করে। জগৎ বলতে তার কাছে ওইটুকুই। যদিও নিজের ধর্ম-সম্প্রদায়-শ্রেণি সম্বন্ধে সে আদৌ কতটা জানে বা বোঝে, তার ভালো কীসে মন্দ কীসে, কীসেই-বা তার গৌরব অগৌরব—সেটা একবার ভেবে দেখে না।
এই যখন অবস্থা তখন অহরহ আমাদের কানের কাছে কেউ কেউ আওড়ে চলেছেন—সম্প্রদায়ে সম্প্রদায়ে মিলনের সেতুটা যে-কোনও মূল্যে রক্ষা করতে হবে। সম্প্রীতির সেতু ভাঙার চেষ্টা যে করবে তাকে উচিত শাস্তি দেওয়া হবে। ইত্যাদি। আর যায় কোথায়! আমাদের মন-পাগলও বুঝে গেল, সত্যিই তো সে শুধু একজন মানুষ নয়; তার একটা ধর্ম-সম্প্রদায়-শ্রেণিও আছে! তার কথা তো সে ভুলেই মেরেছে। এ তো ভারী অন্যায়! আর এই বোধ যখন ধড়মড়িয়ে জেগে উঠল, তখন সে বিচার করতে বসে গেল সে ‘সংখ্যাগুরু’ না ‘সংখ্যালঘু’? সংখ্যাগুরু হলে ভাববে, আমারই তো শাসন করার অধিকার। তাহলে কোনও কোনও ক্ষেত্রে আমিই কেন উলটে শাসিত-শোষিত-বঞ্চিত হচ্ছি! আবার সংখ্যালঘু মন বিচার করতে বসে যাবে, আমি দুর্বল বলেই না আমাকে বঞ্চনা ও শাসন-শোষণের শিকার হতে হচ্ছে। দু’জনেই ‘প্রতিকার’ লাভের জন্য মরিয়া হয়ে থাকে নিজের মতো করে—তা সেই ‘অন্যায়’ বাস্তবিক বা কাল্পনিক যেটাই হোক না কেন।
রামনবমী, হনুমান জয়ন্তী নিয়ে বাংলাজুড়ে হঠাৎ যে উন্মাদনা দেখা দিয়েছে, তার সঙ্গে ওই সাঁকো না-নাড়ানোর উপদেশেরই মিল পাচ্ছি হুবহু। শ্রীরামচন্দ্র হিন্দুদের কাছে ভগবান বা একজন অবতার পুরুষ হিসাবে পূজিত হন। তিনি পুজো পাচ্ছেন বহু বছর ধরেই। চৈত্র মাসের শুক্লা নবমী হল ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের পুণ্য আবির্ভাব তিথি। ওইদিন ‘শ্রীশ্রীরামনবমী ব্রত ও উপবাস’ পালনই হল প্রাচীন শাস্ত্রকারদের বিধান। তার মধ্যে ইনিয়ে-বিনিয়েও অস্ত্র-প্রদর্শন-আস্ফালনের কথা বলা হয়েছে বলে কস্মিনকালেও শুনিনি। অতএব এতকাল এই বাংলায় ব্রত ও উপবাসই হয়ে এসেছে নীরবে। রাম-সীতার প্রতি ভক্তিটা ছিল ভক্তদের মনে মনেই। হাওড়ায় রামরাজাতলার মতো কোনও কোনও প্রাচীন জনপদে এই উপলক্ষে মেলা উৎসব ইত্যাদিও হয়ে থাকে। এই পর্যন্তই। কিন্তু, শ্রীরামচন্দ্রের মহিমাকীর্তনের নামে ভক্তকুলের সশস্ত্র মিছিল, প্রকারান্তরে আস্ফালন এখানে অভূতপূর্ব এক ঘটনা। অস্ত্র উঁচিয়ে মিছিলে কোথাও কোথাও শামিল করা হয়েছে স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েদেরকেও! বই খাতা কলমের পরিবর্তে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছে ছোটদের হাতে!
ভারতে সংখ্যালঘু একাধিক ধর্মের কোনও কোনও অনুষ্ঠানে অস্ত্র প্রদর্শন কিংবা অস্ত্র নিয়ে কসরত করায় কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। এনিয়ে কারও কারও ‘হিন্দুমন’ বিরক্ত, ক্ষুব্ধ। কেউ কেউ এসব দেখে ভয়ও হয়তো পান। তাঁদের সবচেয়ে আপত্তির জায়গা হল—সরকার বা প্রশাসন এসব অনুমোদন করে কী করে! এবার রামনবমীতে রাজ্যের কিছু স্থানে হিন্দুদের অস্ত্র হাতে মিছিল দেখে মনে হচ্ছে, তাঁরা যেন সংখ্যালঘুদের ওই অনুষ্ঠানের পালটা কিছু করে দেখাতেই মরিয়া হয়ে উঠেছেন। রাজ্যের সরকার বাহাদুর এতে সম্প্রীতি নষ্ট হবে বলে যত আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, রাম-হনুমানে প্রবল ভক্তির নামে কেউ কেউ যেন তত তেড়েফুঁড়ে উঠতে চাইছেন। ব্যাপারটা এইরকম যে, সরকার বারণ করছে, রুখতে চাইছে—তবে বেশি বেশি করেই করব, বেশ করব! এবার নিন্দা, সমালোচনার যোগ্য হয়ে ওঠাটাই যেন তাঁদের অ্যাম্বিশন!
লক্ষণীয় যে, এই মওকায় রামনবমী উদযাপনের প্রতিযোগিতাও শুরু হয়ে গেল। আর এই প্রতিযোগিতা চলেছে বেশ উচ্চগ্রামে। ‘জয় শ্রীরাম’ বা ‘জয় হনুমান’ ধ্বনি দিতে বরাবর অভ্যস্ত যাঁরা, তাঁরা এটা করার মধ্যে বড় বিস্ময় নেই। এই রাজনৈতিক সংস্কৃতির মুণ্ডপাত করাই যাঁদের বীজমন্ত্র, অবাক করেছেন তাঁরাই। রামনবমী পালন করেই ক্ষান্ত দেননি, কোথাও কোথাও ঘটা করে হনুমান জয়ন্তী পালনেও উন্মত্ত হয়েছেন তাঁরা। কিন্তু, হঠাৎ এই দিক বদল কেন? কেন পলকা সাঁকোটিই নাড়ানোর জন্য পাগলকে পরোক্ষে উসকে দেওয়া? তার মানে কি বিজেপি-বিরোধীদের কেউ কেউ ঘুরিয়ে এটাই চাইছেন—বাংলায়ও আছড়ে পড়ুক রামভক্তির জোয়ার! তখন দেখে নেওয়া যাবে রামভক্তিতে কে কতটা দড়! বিজেপির হিন্দুত্বের এতকালের কঠোর সমালোচকদের একাংশ এবার যেন বুঝিয়ে দিচ্ছেন—সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতির উপর চোখ বুজে ভরসা করার দিন তাঁদেরও ফুরিয়ে আসছে। উন্নয়ন আর প্রগতিশীলতার স্লোগানেরও ধার, ভার দুটিই বুঝি আজ যায় যায়। অতএব গুটি গুটি পায়ে দিক বদলের চেষ্টা। হিন্দুত্বের রাজনীতিতেই ভাগ বসানোর হক ঘোষণা করছেন তাঁরা কৌশলে।
রামচন্দ্রের সঙ্গে আমার পরিচয় সেই বালকবয়সে। কৃত্তিবাসী রামায়ণের অংশবিশেষ পাঠ্য ছিল। আর একটু বড়বেলায় পড়তে হয়েছে মাইকেল মধুসূদনের ‘মেঘনাদ বধ’ কাব্যের কিয়দংশ। এছাড়া পুজোর সময় গ্রামে হ’ত রামযাত্রা। রাত জেগে তা দেখতাম। সব মিলিয়ে রামচন্দ্রকে মনে হয়েছিল দোষ-গুণের সমাহারে সৃষ্ট এক রাজা। অবশ্যই কারও কারও আদর্শ হওয়ারও যোগ্য তিনি। কারণ তিনি সৎ, সত্যনিষ্ঠ, সত্যব্রত ও সত্যসন্ধ। তিনি পিতৃমাতৃভক্তির সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত। ছোট ভাইদের স্নেহ-ভালোবাসার বিচারেও তাঁর তুলনা তিনিই। তিনি প্রজাবৎসল। প্রজাদের সুখ সমৃদ্ধিতেই তাঁর যত সুখ। ত্যাগ তিতিক্ষাতেও তিনি অদ্বিতীয়। আবার ভক্তজনের বিশ্বাসে এই নরদেহী রামচন্দ্রই হলেন মর্যাদাপুরুষোত্তম, পতিতপাবন ভগবান। সব মিলিয়ে যে শ্রীরামের ছবি আমাদের বালক মনে আঁকা হয়েছিল—নিজেকে জাহির করার জন্য তাঁকে কখনও ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধে নামতে হবে এমনটা মনে হয়নি। বরং তিনি ছিলেন সমস্ত রকম অশান্তির ঊর্ধ্বে। যাবতীয় ক্ষুদ্রতা সংকীর্ণতা নীচতা যেন তাঁর পদমূলে আত্মসমর্পণ করেছিল। রামচরিত্রের গ্রহণযোগ্যতা তাঁর যুদ্ধং দেহি মূর্তিটি ছাপিয়েই। সত্য, সত্য আর সত্য। তিনি একাই তিন সত্যি। রাম মানেই সুবিশাল। কোথায় তাঁর প্রতিপক্ষ? তিনি যুদ্ধটা করবেন কার সঙ্গে! বড় হয়ে যথার্থই উপলব্ধি হয়েছিল—এমন চারিত্রমাহাত্ম্য যে-মহাকাব্যে গীত হয়েছে সেটি সম্পর্কে ‘নাস্তি রামায়ণাৎ পরম’ (রামায়ণের চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কিছু নেই) বলা ছাড়া উপায় কী। এবার কিনা সেই রামচন্দ্রের উপর রাজনৈতিক দখলদারি নিয়েও প্রতিযোগিতার সূচনা হল বাংলায়! বাংলার এই অগ্রণী ভূমিকার কথা নিশ্চয় নথিভুক্ত হবে ইতিহাসে।
রামনাম অপব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা ছিল পরম রামভক্ত গান্ধী মহারাজেরও। ‘সর্বরোগহরা’ রামনাম সম্পর্কে গান্ধীজির বক্তব্যের সারার্থ এই—রামনামই হল মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ অধিকার। তবে রামময় হওয়ার জন্য অসীম ধৈর্য আবশ্যক। যে মানুষ সত্যপরায়ণ নয়, অকপট হৃদয় নয়, ভিতরে বাইরে শুদ্ধ পবিত্র নয়, হৃদয় ঢেলে রামনাম করা তার পক্ষে অসম্ভব। যে মানুষ রামনাম করে শুচি হয়েছে সে বাইরে কখনও নোংরা হতে পারে না। অসংখ্য মানুষ যদি অন্তর থেকে রামনাম করে তবে দাঙ্গা-হাঙ্গামার মতো সমাজ-ব্যাধি দূর হয়ে যাবে। তবে মুখে রামনাম আর কাজে রাবণের আচরণ—এ নিরর্থক মাত্র নয়, অতীব মারাত্মক। এ নিছক কপটাচার। আত্মপ্রবঞ্চনা করতে পারি, জগতের চোখেও ধুলো দিতে পারি, কিন্তু, বিধাতাপুরুষকে ঠকাবার উপায় নেই। রামনাম কোনও ভূতের ভেলকি নয়। রামনাম যে-সকল বস্তুর প্রতীক সে-সকল সমেতই রামনাম করা চাই। তোতাপাখির মতো কপচালেই রামনাম থেকে শক্তিলাভ হয় না।। অতএব রামনাম যে কী বস্তু তা উপলব্ধি করা চাই। এবং, যেসব বস্তু রামনামের অনুষঙ্গ সেসব পালন করা চাই। ভগবানের নাম করার জন্য ভাগবত জীবন যাপন করা আবশ্যক।
আততায়ীর গুলিতে নশ্বর দেহ ঝাঁজরা হয়ে যাওয়ার পরও তাই মহাত্মার মুখ থেকে বেরিয়েছিল—‘রাম রাম’—আর্তনাদ অথবা বিষোদ্গারের পরিবর্তে।
একবার রামযাত্রা শেষের একটা ঘটনার কথা বেশ মনে আছে—রামের চরিত্রে যে কিশোর অভিনয় করেছিল, মঞ্চের বাইরে, সে সত্যি সত্যি প্রেমনিবেদন করে বসেছিল তার বিপরীতে অভিনয় করেছিল যে কিশোরী, তাকে। ঘটনাটি জানাজানিও হয়ে গিয়েছিল। বেচারা রাজা রামচন্দ্র! বেচারি সীতা দেবী! তাদের তখন ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা। মঞ্চে উঠে রং-চড়ানো সংলাপ আওড়ানো দূর থাক, গাঁয়ে মুখ দেখানোরই সাহস হারিয়ে ফেলল তারা। ওই ঘটনার পর তাদের আর কোনওদিন কোনও মঞ্চে দেখিনি। পরে জেনেছিলাম, রামরূপী কিশোরটির নিবেদিত প্রেম প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল সীতারূপী কিশোরীর কাছ থেকে। কিন্তু, তার জন্য ব্যর্থ প্রেমিকের মনে স্থান পায়নি তার প্রেয়সীর মুখ লক্ষ্য করে অ্যাসিড, গুলি, কিংবা নিদেন পক্ষে একটা নরম মাটির ঢেলাও নিক্ষেপ করার ইচ্ছা। ছেলেটি সত্যিই যেন ভগবান রামচন্দ্রের সদ্‌গুণের দ্বারাই প্রভাবিত হয়েছিল। মঞ্চে শ্রীরামচন্দ্রের চরিত্রে অভিনয় করে বহু মানুষের প্রশংসা কুড়ানোর পর যদি সে ওই অপকম্মটি করে বসত, তখন ভগবান রামচন্দ্র কতই-না কলঙ্কিত হয়ে যেতেন তাই ভাবি!
সবে সবে নরেন্দ্র মোদির উত্তরপ্রদেশ বিজয় ভারতের আসমুদ্রহিমাচলকে একটা প্রবল ঝাঁকি দিয়েছে। এবং, বাংলায় ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে পঞ্চায়েত ভোট। হঠাৎ সোনায় এমন সোহাগা উড়ে এসে না-পড়লে রাম-হনুমান ভক্তির এক-আনাও দেখার সুযোগ যে এখানে মিলত না তা কোনওরকম গণনা ছাড়াই বলে দেওয়া যায়। এও অনুমান করা যায়, পঞ্চায়েত ভোট মিটলে পরে কিছুদিনের জন্য ভাটার টান চলবে এই ভক্তিরসসাগরে। তবে, ভিতরে ভিতরে প্রস্তুতি চলবে পরবর্তী লোকসভা, বিধানসভার ভোটের আগে ফের একদফা জোয়ার বইয়ে দেওয়ার প্রত্যাশায়। এই জোয়ার-ভাটার খেলা থেকে ফায়দা কারও কারও নিশ্চয় কিছু হবে। তবে পাগলকে সাঁকো নাড়ানোর ভয়ংকর বাসনা উসকে দেওয়ার আগে পরিণামটাও কিন্তু ভাবা দরকার। কারণ, এই পাগলরা আপনার ভালোটাও বোঝে না।
18th  April, 2017
শিবাজি রাও গায়কোয়াড়ের দোলাচল
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

 সাতষট্টি বছরের একজন মানুষ শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেবেন অথবা নেওয়া উচিত তা নিয়ে আমি বেশ ধন্দে পড়েছি। তবে আমার এই দোলাচল মোটেই আহামরি কিছু নয়, বড় যা তা হল একটা গোটা রাজ্যের মানুষের তাঁর দিকে ড্যাব ড্যাব করে চেয়ে থাকা। বিপুল দোলাচলে রাজ্যের সবার মনে। বিশদ

25th  June, 2017
রথযাত্রায় শ্রীচৈতন্য ও শ্রীরামকৃষ্ণ
চৈতন্যময় নন্দ

 নীলাচলে দারুব্রহ্ম জগদীশ জগন্নাথদেবের সবচেয়ে বড় বিজয়োৎসব রথযাত্রা। আদিকাল থেকে এই সমারোহ চলে এসেছে এবং একে কেন্দ্র করে বহু ইতিবৃত্তের সৃষ্টি হয়েছে। আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে পুরীতে শ্রীমন্‌ জগন্নাথ রথে আরোহণ করেন।
বিশদ

24th  June, 2017
অনুপ্রবেশকারীদের মন্দিরে আশ্রয় প্রসঙ্গে
আলোলিকা মুখোপাধ্যায়

 নিউইয়র্ক শহরের কুইনস এলাকায় সমুদ্রের ধার ঘেঁষে রক অ্যাওয়ে বিচ। একদিন দেখা গেল মহাসাগরের ঢেউয়ের মাথায় নাচতে নাচতে ভাঙা নারকোল ভেসে আসছে। নারকোলের পিছু পিছু ইতস্তত বিক্ষিপ্ত গাঁদাফুলের মালা। সাহেব মেমরা সাঁতার কাটতে নেমে নারকোলের আধভাঙা মালা, পচা গাঁদার মালা দেখে জলপুলিশকে নালিশ করল। বিশদ

24th  June, 2017
সাঁওতাল বিদ্রোহ এবং সমাজের পরিবর্তন
বিষ্ণুপদ হেমরম

 ভারতের আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলির মধ্যে সাঁওতালরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। ব্রিটিশ ভারতে জল-জঙ্গল-জমিনের উপর অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং শোষণ ও নিপীড়নের প্রতিবাদে তারা সরকারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল। সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন, বর্তমান সাঁওতাল পরগনার ভাগ্‌না঩ডিহির মাঠে। বিশদ

23rd  June, 2017
পাহাড় ও বাঙালি
সমৃদ্ধ দত্ত

 বিজেপি রাজ্য শাখা তথা তাদের কর্মী সমর্থকরা এখনও স্পষ্ট করে বলছেন না সামান্য একটা সিদ্ধান্ত। সেটি হল তাঁরা কি গোর্খাল্যান্ড সমর্থন করেন, নাকি করেন না? সহজ প্রশ্ন। সহজ উত্তর। অথচ সোজা উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। ভাসা ভাসা কথা। কারণ বিজেপি রাজ্য শাখা ও কর্মী সমর্থকরা অপেক্ষা করছেন তাঁদের হাইকমান্ড কী ঠিক করবেন তার উপর। একবার চিন্তা করে দেখুন, আমরা বাঙালি, আমাদের রাজ্য থেকে আমাদের প্রিয় দার্জিলিংকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে কি না তা ঠিক করতেও বিজেপির বাংলা শাখা দুজন গুজরাতের নেতার দিকে তাকিয়ে আছে। বিশদ

23rd  June, 2017
দুর্নীতির পরিবেশ, পরিবেশে দুর্নীতি
বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়

 ১৯৭০ দশকের বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ও অর্থনীতিবিদ Gunnar Mydral-এর ‘এশিয়ান ড্রামা’ বইটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল, এশিয়ার বুকে বিভিন্ন দেশে পরিকল্পনাগুলি ব্যর্থ হবার একটি অন্যতম কারণ দুর্নীতি। বিশদ

21st  June, 2017
এ যুগের নীলকণ্ঠদের মুক্তির উপায় কী?
স্বপন মণ্ডল

 পুরাণ মতে সমুদ্র মন্থনের মতো কষ্টসাধ্য কাজে সুরাসুর উভয়েই হাত লাগিয়েছিল। সমুদ্র মন্থনে অমৃতের সন্ধান যেমন পাওয়া গেল গরলও উঠে এল। অমৃতের ভাগীদার অনেকে কিন্তু গরলের ভাগীদার কেউ হতে চাইল না। কিন্তু এ গরল এমন গরল যে ধরিত্রীর যেখানে পড়বে সেখানেই বিষাক্ত হয়ে যাবে। বিশদ

21st  June, 2017
যোগদিবস: ভারতের লক্ষ্মীলাভের মস্ত সুযোগ
হরলাল চক্রবর্তী

 ২০১৫ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে ২১ জুন মহা ধুমধামে ‘বিশ্ব-যোগদিবস’ পালিত হচ্ছে। সারা বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশ যোগদিবসের স্বীকৃতি দিয়েছে, ১৮০টি দেশ যোগে অংশগ্রহণ করেছে, এর মধ্যে কিছু ইসলামিক দেশও আছে। আশা করা যায়, এ বছর তা আরও বেশি সাফল্য পাবে।
বিশদ

20th  June, 2017



একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মোহন বাগান কোচ হিসাবে মৌখিকভাবে সঞ্জয় সেন রাজি হওয়ার পর টিমের তালিকাও কর্তাদের দিয়েছেন তিনি।রবিবার সঞ্জয় সেন জানান,‘নতুন মরশুমে আমিই ফিজিক্যাল ট্রেনারের বাড়তি দায়িত্ব পালন করব। প্রি- সিজন কন্ডিশনিংও হবে আমার দায়িত্বে। অতীতে তো মোহন বাগান- ইস্ট ...

সংবাদদাতা, ইসলামপুর: ইসলামপুর মহকুমা জুড়ে চোর ও ছিনতাইবাজদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। অভিযোগ, অধিকাংশ চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনাই পুলিশ কিনারা করতে পারছে না। পুলিশি টহলদারি নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। ...

বিএনএ, বারাকপুর: রবিবার সকালে চাকদহ থানার পালপাড়ায় একটি কারখানায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। জানা গিয়েছে, শ্যামল দাস নামে এক ব্যক্তি বাড়ি ভাড়া নিয়ে চুড়িদার, নাইটি তৈরির কারখানা করেন। সেই কারখানায় এদিন সকালে আগুন ধরে যায়। খবর দেওয়া হয় দমকল দপ্তরে।  ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কোনও ব্যক্তির আধার নম্বর কোনওভাবেই সর্বসমক্ষে আনা যাবে না। সম্প্রতি এই নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্রীয় সরকার। একই সঙ্গে তারা বলছে, কোনও ব্যক্তিগত তথ্যও আনা যাবে না সবার সামনে। ২০১৬ সালের আধার অ্যাক্ট এবং ২০০০ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইন ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীদের মানসিক স্থিরতা রাখা দরকার। প্রেম-প্রণয়ে বাধাবিঘ্ন থাকবে। তবে নতুন বন্ধু লাভ হবে। সাবধানে পদক্ষেপ ... বিশদ



ইতিহাসে আজকের দিন

 ১৯০৩- ইংরেজ সাহিত্যিক জর্জ অরওয়েলের জন্ম
১৯৬০- কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের মৃত্যু
১৯৭৪- অভিনেত্রী করিশ্মা কাপুরের জন্ম
১৯৭৫- প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দেশে জরুরি অবস্থা জারি করলেন
২০০৯- মার্কিন পপ সংগীত শিল্পী মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যু

25th  June, 2017



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৭৫ টাকা ৬৫.৪৩ টাকা
পাউন্ড ৮০.৬৪ টাকা ৮৩.৪২ টাকা
ইউরো ৭০.৭৬ টাকা ৭৩.২৮ টাকা
24th  June, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৯,২২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৭,৭২৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৮,১৪০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৯,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৯,২০০ টাকা
25th  June, 2017

দিন পঞ্জিকা

১১ আষাঢ়, ২৬ জুন, সোমবার, তৃতীয়া রাত্রি ১০/১২, পুষ্যানক্ষত্র রাত্রি ৯/২৩, সূ উ ৪/৫৭/৫২, অ ৬/২০/৪২, অমৃতযোগ দিবা ৮/৩১-১০/১৮ রাত্রি ৯/১০-১২/০ পুনঃ ১/২৫-২/৫০, বারবেলা ৬/৩৮-৮/১৯ পুনঃ ৩/০-৪/৪০, কালরাত্রি ১০/২০-১১/৪০। ইদুল ফিতর
১১ আষাঢ়, ২৬ জুন, সোমবার, তৃতীয়া রাত্রি ২/০/৩১, পুষ্যানক্ষত্র রাত্রি ১/৩৯/৪, সূ উ ৪/৫৫/২৪, অ ৬/২২/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৮/৩০/৩৪-১০/১৮/৯ রাত্রি ৯/১১/৬-১১/৫৯/৫৬, ১/২৪/২১-২/৪৮/৪৬, বারবেলা ৩/১/৩৪-৪/৪১/২৬, কালবেলা ৬/৩৬/১৬-৮/১৭/৭, কালরাত্রি ১০/১৯/৪২-১১/৩৮/৫০। ইদুল ফিতর
১ শওয়াল

ছবি সংবাদ


এই মুহূর্তে
শিলিগুড়িতে গৃহবধূ খুন, স্বামীসহ আটক ৩
শিলিগুড়ির সূর্য সেন কলোনিতে গৃহবধূকে খুনের অভিযোগে স্বামীসহ তিনজনকে আটক করা হল। রবিবার রাতে শৌচাগার থেকে শিখা চক্রবর্তী নামে মহিলার রক্তমাখা দেহ উদ্ধার হয়। মহিলার ভাই মৃদুলকান্তি দাস জানান, এদিন রাতে জামাইবাবু শান্তনু চক্রবর্তী তাঁকে ফোন করে বাড়িতে ডাকেন। তিনি বাড়িতে গিয়ে তাঁর দিদির দেহ উদ্ধার করেন। কীভাবে তাঁর দিদির মৃত্যু হল তাঁর সদুত্তর দিতে পারেনি অভিযুক্ত। তাঁর আরও অভিযোগ, শান্তনু চক্রবর্তীর আগেও একবার বিয়ে হয়েছিল। প্রথম পক্ষের স্ত্রীকেও হত্যা করেছিল সে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। আটক করা হয়েছে মৃতার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে।

12:20:00 AM

ভারত ৩১০/৫ (৪৩ ওভার)  

25-06-2017 - 11:47:24 PM

ভারত ১৯২/১ (৩০ ওভার) 

25-06-2017 - 10:34:21 PM

ভারত ৯৫/০ (১৫ ওভার) 

25-06-2017 - 09:38:36 PM

ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ফের বৃষ্টির জেরে ওভার সংখ্যা ৪৫ থেকে কমে দাঁড়াল ৪৩

25-06-2017 - 08:27:40 PM

নেদারল্যান্ডস সফর সেরে কলকাতায় ফিরলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 

25-06-2017 - 08:21:00 PM