বিশেষ নিবন্ধ
 

বাংলা থেকেই শুরু হল শ্রীরামচন্দ্রের উপর রাজনৈতিক দখলদারির প্রতিযোগিতা!

হারাধন চৌধুরী: পাগলকে কখনও বলতে নেই যে, ‘‘সাঁকো নাড়িও না।’’ আমাদের গ্রামের এক মুরুব্বির মুখে এই সাবধান বাণীটি প্রায়ই শোনা যেত। তাঁর বক্তব্য, পাগলকে যেটা বারণ করা হয় পাগল নাকি সেটাই বেশি করে। অতএব সাঁকোর ধারে কোনও পাগলকে ঘোরাফেরা করতে দেখলে, তাকে চোখে চোখে রাখা যেতে পারে বটে, কিন্তু আগ বাড়িয়ে তাকে এমন উপদেশ দেওয়া উচিতই নয়। মুরুব্বিটি আরও বলতেন, সাঁকোটা পলকা হলে তো একেবারেই মুখে আনতে নেই এমন ‘অকথা’। তাহলে নাকি সর্বনাশ!
সাম্প্রদায়িক-অশান্তি-মুক্ত সমাজ চেয়ে আমাদের মধ্যে কেউ কেউ যে কাণ্ডটা করছেন, তা দেখে ওই গেঁয়ো মুরুব্বির কথাটাই বেশি মনে পড়ছে। ছেঁড়া লুঙ্গি, খেটো ধুতি থেকে স্যুট বুট টাই হ্যাট যে-বেশই ধারণ করি না কেন, আমাদের প্রত্যেকেরই মনের গভীরে যেন অমনই একটা পাগল ঘাপটি মেরে আছে। যে আপনারটি ছাড়া কিছু বোঝে না। প্রথমে নিজের প্রাণটা। তারপর নিজের বাবা-মা, স্ত্রী-ছেলে-মেয়ে। গণ্ডিটা একটু একটু করে বড় হয় বটে, তবে তার দৌড় নিজের ধর্ম-সম্প্রদায়-শ্রেণি পর্যন্ত পৌঁছেই থেমে যায় দুম করে। জগৎ বলতে তার কাছে ওইটুকুই। যদিও নিজের ধর্ম-সম্প্রদায়-শ্রেণি সম্বন্ধে সে আদৌ কতটা জানে বা বোঝে, তার ভালো কীসে মন্দ কীসে, কীসেই-বা তার গৌরব অগৌরব—সেটা একবার ভেবে দেখে না।
এই যখন অবস্থা তখন অহরহ আমাদের কানের কাছে কেউ কেউ আওড়ে চলেছেন—সম্প্রদায়ে সম্প্রদায়ে মিলনের সেতুটা যে-কোনও মূল্যে রক্ষা করতে হবে। সম্প্রীতির সেতু ভাঙার চেষ্টা যে করবে তাকে উচিত শাস্তি দেওয়া হবে। ইত্যাদি। আর যায় কোথায়! আমাদের মন-পাগলও বুঝে গেল, সত্যিই তো সে শুধু একজন মানুষ নয়; তার একটা ধর্ম-সম্প্রদায়-শ্রেণিও আছে! তার কথা তো সে ভুলেই মেরেছে। এ তো ভারী অন্যায়! আর এই বোধ যখন ধড়মড়িয়ে জেগে উঠল, তখন সে বিচার করতে বসে গেল সে ‘সংখ্যাগুরু’ না ‘সংখ্যালঘু’? সংখ্যাগুরু হলে ভাববে, আমারই তো শাসন করার অধিকার। তাহলে কোনও কোনও ক্ষেত্রে আমিই কেন উলটে শাসিত-শোষিত-বঞ্চিত হচ্ছি! আবার সংখ্যালঘু মন বিচার করতে বসে যাবে, আমি দুর্বল বলেই না আমাকে বঞ্চনা ও শাসন-শোষণের শিকার হতে হচ্ছে। দু’জনেই ‘প্রতিকার’ লাভের জন্য মরিয়া হয়ে থাকে নিজের মতো করে—তা সেই ‘অন্যায়’ বাস্তবিক বা কাল্পনিক যেটাই হোক না কেন।
রামনবমী, হনুমান জয়ন্তী নিয়ে বাংলাজুড়ে হঠাৎ যে উন্মাদনা দেখা দিয়েছে, তার সঙ্গে ওই সাঁকো না-নাড়ানোর উপদেশেরই মিল পাচ্ছি হুবহু। শ্রীরামচন্দ্র হিন্দুদের কাছে ভগবান বা একজন অবতার পুরুষ হিসাবে পূজিত হন। তিনি পুজো পাচ্ছেন বহু বছর ধরেই। চৈত্র মাসের শুক্লা নবমী হল ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের পুণ্য আবির্ভাব তিথি। ওইদিন ‘শ্রীশ্রীরামনবমী ব্রত ও উপবাস’ পালনই হল প্রাচীন শাস্ত্রকারদের বিধান। তার মধ্যে ইনিয়ে-বিনিয়েও অস্ত্র-প্রদর্শন-আস্ফালনের কথা বলা হয়েছে বলে কস্মিনকালেও শুনিনি। অতএব এতকাল এই বাংলায় ব্রত ও উপবাসই হয়ে এসেছে নীরবে। রাম-সীতার প্রতি ভক্তিটা ছিল ভক্তদের মনে মনেই। হাওড়ায় রামরাজাতলার মতো কোনও কোনও প্রাচীন জনপদে এই উপলক্ষে মেলা উৎসব ইত্যাদিও হয়ে থাকে। এই পর্যন্তই। কিন্তু, শ্রীরামচন্দ্রের মহিমাকীর্তনের নামে ভক্তকুলের সশস্ত্র মিছিল, প্রকারান্তরে আস্ফালন এখানে অভূতপূর্ব এক ঘটনা। অস্ত্র উঁচিয়ে মিছিলে কোথাও কোথাও শামিল করা হয়েছে স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েদেরকেও! বই খাতা কলমের পরিবর্তে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছে ছোটদের হাতে!
ভারতে সংখ্যালঘু একাধিক ধর্মের কোনও কোনও অনুষ্ঠানে অস্ত্র প্রদর্শন কিংবা অস্ত্র নিয়ে কসরত করায় কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। এনিয়ে কারও কারও ‘হিন্দুমন’ বিরক্ত, ক্ষুব্ধ। কেউ কেউ এসব দেখে ভয়ও হয়তো পান। তাঁদের সবচেয়ে আপত্তির জায়গা হল—সরকার বা প্রশাসন এসব অনুমোদন করে কী করে! এবার রামনবমীতে রাজ্যের কিছু স্থানে হিন্দুদের অস্ত্র হাতে মিছিল দেখে মনে হচ্ছে, তাঁরা যেন সংখ্যালঘুদের ওই অনুষ্ঠানের পালটা কিছু করে দেখাতেই মরিয়া হয়ে উঠেছেন। রাজ্যের সরকার বাহাদুর এতে সম্প্রীতি নষ্ট হবে বলে যত আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, রাম-হনুমানে প্রবল ভক্তির নামে কেউ কেউ যেন তত তেড়েফুঁড়ে উঠতে চাইছেন। ব্যাপারটা এইরকম যে, সরকার বারণ করছে, রুখতে চাইছে—তবে বেশি বেশি করেই করব, বেশ করব! এবার নিন্দা, সমালোচনার যোগ্য হয়ে ওঠাটাই যেন তাঁদের অ্যাম্বিশন!
লক্ষণীয় যে, এই মওকায় রামনবমী উদযাপনের প্রতিযোগিতাও শুরু হয়ে গেল। আর এই প্রতিযোগিতা চলেছে বেশ উচ্চগ্রামে। ‘জয় শ্রীরাম’ বা ‘জয় হনুমান’ ধ্বনি দিতে বরাবর অভ্যস্ত যাঁরা, তাঁরা এটা করার মধ্যে বড় বিস্ময় নেই। এই রাজনৈতিক সংস্কৃতির মুণ্ডপাত করাই যাঁদের বীজমন্ত্র, অবাক করেছেন তাঁরাই। রামনবমী পালন করেই ক্ষান্ত দেননি, কোথাও কোথাও ঘটা করে হনুমান জয়ন্তী পালনেও উন্মত্ত হয়েছেন তাঁরা। কিন্তু, হঠাৎ এই দিক বদল কেন? কেন পলকা সাঁকোটিই নাড়ানোর জন্য পাগলকে পরোক্ষে উসকে দেওয়া? তার মানে কি বিজেপি-বিরোধীদের কেউ কেউ ঘুরিয়ে এটাই চাইছেন—বাংলায়ও আছড়ে পড়ুক রামভক্তির জোয়ার! তখন দেখে নেওয়া যাবে রামভক্তিতে কে কতটা দড়! বিজেপির হিন্দুত্বের এতকালের কঠোর সমালোচকদের একাংশ এবার যেন বুঝিয়ে দিচ্ছেন—সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতির উপর চোখ বুজে ভরসা করার দিন তাঁদেরও ফুরিয়ে আসছে। উন্নয়ন আর প্রগতিশীলতার স্লোগানেরও ধার, ভার দুটিই বুঝি আজ যায় যায়। অতএব গুটি গুটি পায়ে দিক বদলের চেষ্টা। হিন্দুত্বের রাজনীতিতেই ভাগ বসানোর হক ঘোষণা করছেন তাঁরা কৌশলে।
রামচন্দ্রের সঙ্গে আমার পরিচয় সেই বালকবয়সে। কৃত্তিবাসী রামায়ণের অংশবিশেষ পাঠ্য ছিল। আর একটু বড়বেলায় পড়তে হয়েছে মাইকেল মধুসূদনের ‘মেঘনাদ বধ’ কাব্যের কিয়দংশ। এছাড়া পুজোর সময় গ্রামে হ’ত রামযাত্রা। রাত জেগে তা দেখতাম। সব মিলিয়ে রামচন্দ্রকে মনে হয়েছিল দোষ-গুণের সমাহারে সৃষ্ট এক রাজা। অবশ্যই কারও কারও আদর্শ হওয়ারও যোগ্য তিনি। কারণ তিনি সৎ, সত্যনিষ্ঠ, সত্যব্রত ও সত্যসন্ধ। তিনি পিতৃমাতৃভক্তির সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত। ছোট ভাইদের স্নেহ-ভালোবাসার বিচারেও তাঁর তুলনা তিনিই। তিনি প্রজাবৎসল। প্রজাদের সুখ সমৃদ্ধিতেই তাঁর যত সুখ। ত্যাগ তিতিক্ষাতেও তিনি অদ্বিতীয়। আবার ভক্তজনের বিশ্বাসে এই নরদেহী রামচন্দ্রই হলেন মর্যাদাপুরুষোত্তম, পতিতপাবন ভগবান। সব মিলিয়ে যে শ্রীরামের ছবি আমাদের বালক মনে আঁকা হয়েছিল—নিজেকে জাহির করার জন্য তাঁকে কখনও ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধে নামতে হবে এমনটা মনে হয়নি। বরং তিনি ছিলেন সমস্ত রকম অশান্তির ঊর্ধ্বে। যাবতীয় ক্ষুদ্রতা সংকীর্ণতা নীচতা যেন তাঁর পদমূলে আত্মসমর্পণ করেছিল। রামচরিত্রের গ্রহণযোগ্যতা তাঁর যুদ্ধং দেহি মূর্তিটি ছাপিয়েই। সত্য, সত্য আর সত্য। তিনি একাই তিন সত্যি। রাম মানেই সুবিশাল। কোথায় তাঁর প্রতিপক্ষ? তিনি যুদ্ধটা করবেন কার সঙ্গে! বড় হয়ে যথার্থই উপলব্ধি হয়েছিল—এমন চারিত্রমাহাত্ম্য যে-মহাকাব্যে গীত হয়েছে সেটি সম্পর্কে ‘নাস্তি রামায়ণাৎ পরম’ (রামায়ণের চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কিছু নেই) বলা ছাড়া উপায় কী। এবার কিনা সেই রামচন্দ্রের উপর রাজনৈতিক দখলদারি নিয়েও প্রতিযোগিতার সূচনা হল বাংলায়! বাংলার এই অগ্রণী ভূমিকার কথা নিশ্চয় নথিভুক্ত হবে ইতিহাসে।
রামনাম অপব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা ছিল পরম রামভক্ত গান্ধী মহারাজেরও। ‘সর্বরোগহরা’ রামনাম সম্পর্কে গান্ধীজির বক্তব্যের সারার্থ এই—রামনামই হল মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ অধিকার। তবে রামময় হওয়ার জন্য অসীম ধৈর্য আবশ্যক। যে মানুষ সত্যপরায়ণ নয়, অকপট হৃদয় নয়, ভিতরে বাইরে শুদ্ধ পবিত্র নয়, হৃদয় ঢেলে রামনাম করা তার পক্ষে অসম্ভব। যে মানুষ রামনাম করে শুচি হয়েছে সে বাইরে কখনও নোংরা হতে পারে না। অসংখ্য মানুষ যদি অন্তর থেকে রামনাম করে তবে দাঙ্গা-হাঙ্গামার মতো সমাজ-ব্যাধি দূর হয়ে যাবে। তবে মুখে রামনাম আর কাজে রাবণের আচরণ—এ নিরর্থক মাত্র নয়, অতীব মারাত্মক। এ নিছক কপটাচার। আত্মপ্রবঞ্চনা করতে পারি, জগতের চোখেও ধুলো দিতে পারি, কিন্তু, বিধাতাপুরুষকে ঠকাবার উপায় নেই। রামনাম কোনও ভূতের ভেলকি নয়। রামনাম যে-সকল বস্তুর প্রতীক সে-সকল সমেতই রামনাম করা চাই। তোতাপাখির মতো কপচালেই রামনাম থেকে শক্তিলাভ হয় না।। অতএব রামনাম যে কী বস্তু তা উপলব্ধি করা চাই। এবং, যেসব বস্তু রামনামের অনুষঙ্গ সেসব পালন করা চাই। ভগবানের নাম করার জন্য ভাগবত জীবন যাপন করা আবশ্যক।
আততায়ীর গুলিতে নশ্বর দেহ ঝাঁজরা হয়ে যাওয়ার পরও তাই মহাত্মার মুখ থেকে বেরিয়েছিল—‘রাম রাম’—আর্তনাদ অথবা বিষোদ্গারের পরিবর্তে।
একবার রামযাত্রা শেষের একটা ঘটনার কথা বেশ মনে আছে—রামের চরিত্রে যে কিশোর অভিনয় করেছিল, মঞ্চের বাইরে, সে সত্যি সত্যি প্রেমনিবেদন করে বসেছিল তার বিপরীতে অভিনয় করেছিল যে কিশোরী, তাকে। ঘটনাটি জানাজানিও হয়ে গিয়েছিল। বেচারা রাজা রামচন্দ্র! বেচারি সীতা দেবী! তাদের তখন ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা। মঞ্চে উঠে রং-চড়ানো সংলাপ আওড়ানো দূর থাক, গাঁয়ে মুখ দেখানোরই সাহস হারিয়ে ফেলল তারা। ওই ঘটনার পর তাদের আর কোনওদিন কোনও মঞ্চে দেখিনি। পরে জেনেছিলাম, রামরূপী কিশোরটির নিবেদিত প্রেম প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল সীতারূপী কিশোরীর কাছ থেকে। কিন্তু, তার জন্য ব্যর্থ প্রেমিকের মনে স্থান পায়নি তার প্রেয়সীর মুখ লক্ষ্য করে অ্যাসিড, গুলি, কিংবা নিদেন পক্ষে একটা নরম মাটির ঢেলাও নিক্ষেপ করার ইচ্ছা। ছেলেটি সত্যিই যেন ভগবান রামচন্দ্রের সদ্‌গুণের দ্বারাই প্রভাবিত হয়েছিল। মঞ্চে শ্রীরামচন্দ্রের চরিত্রে অভিনয় করে বহু মানুষের প্রশংসা কুড়ানোর পর যদি সে ওই অপকম্মটি করে বসত, তখন ভগবান রামচন্দ্র কতই-না কলঙ্কিত হয়ে যেতেন তাই ভাবি!
সবে সবে নরেন্দ্র মোদির উত্তরপ্রদেশ বিজয় ভারতের আসমুদ্রহিমাচলকে একটা প্রবল ঝাঁকি দিয়েছে। এবং, বাংলায় ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে পঞ্চায়েত ভোট। হঠাৎ সোনায় এমন সোহাগা উড়ে এসে না-পড়লে রাম-হনুমান ভক্তির এক-আনাও দেখার সুযোগ যে এখানে মিলত না তা কোনওরকম গণনা ছাড়াই বলে দেওয়া যায়। এও অনুমান করা যায়, পঞ্চায়েত ভোট মিটলে পরে কিছুদিনের জন্য ভাটার টান চলবে এই ভক্তিরসসাগরে। তবে, ভিতরে ভিতরে প্রস্তুতি চলবে পরবর্তী লোকসভা, বিধানসভার ভোটের আগে ফের একদফা জোয়ার বইয়ে দেওয়ার প্রত্যাশায়। এই জোয়ার-ভাটার খেলা থেকে ফায়দা কারও কারও নিশ্চয় কিছু হবে। তবে পাগলকে সাঁকো নাড়ানোর ভয়ংকর বাসনা উসকে দেওয়ার আগে পরিণামটাও কিন্তু ভাবা দরকার। কারণ, এই পাগলরা আপনার ভালোটাও বোঝে না।
18th  April, 2017
 কেন্দ্রের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণেই মেডিকেল ভরতিতে রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা বঞ্চনার শিকার
গৌতম পাল

 নিট পরীক্ষার দায়িত্ব সিবিএসই-কে দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষমতাকে কেন্দ্রীভূত করেছে। নিট পরীক্ষায় যাঁরা বিষয় বিশেষজ্ঞ হিসাবে সাহায্য করেছেন তাঁরা অধিকাংশই দিল্লির কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, এবং বেশিরভাগই কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালনাকারী একটি বড় রাজনৈতিক দলের সদস্য বা কাছের মানুষ। অথচ পশ্চিমবাংলার বা অন্যান্য রাজ্যের খ্যাতনামা যে সকল অধ্যাপক অত্যন্ত দক্ষতা এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে রাজ্যের প্রবেশিকা পরীক্ষায় এ যাবৎ সাহায্য করে এসেছেন, সিবিএসই কিন্তু তাঁদেরকে নিটের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করেনি, বা এই সম্পর্কে রাজ্যের কোনও মতামতও নেয়নি। অনেকেই বলছেন রাজ্যের পাঠ্যক্রম সংশোধন করে নিটের সমমানের করলেই রাজ্যের ছেলে-মেয়েরা নিটে ভালো র‌্যাংক করবে।
বিশদ

স্বাধীনতার ৭০ বছর, নেতাতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র?
হিমাংশু সিংহ

বিয়াল্লিশের ভারত ছাড়ো আন্দোলন আমি দেখিনি। ৪৭-এর ঐতিহাসিক স্বাধীনতা লাভের মুহূর্তে মধ্যরাতের জওহরলাল নেহরুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ চাক্ষুষ করার সুযোগও হয়নি। হওয়ার কথাও নয়, কারণ ওই ঘটনার প্রায় দু’দশক পর আমার জন্ম। সেদিনের কথা বইয়ে, ইতিহাসের পাতায় পড়েছি মাত্র।
বিশদ

15th  August, 2017
গভীর রাতের নাটক শেষে স্যালুট
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

জেতা ম্যাচ কী করে হারতে হয়, এই নির্বাচন তার একটা বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে। হারতে হারতে জিতে গিয়েছেন আহমেদ প্যাটেল। এই দুর্দিনে তাঁর জয় কংগ্রেসের মরা গাঙে বান হয়তো ডেকে আনবে না, তবে মনোবল সামান্য হলেও বাড়াবে। সোনিয়া গান্ধীর দলের এই দুর্দিনে এটাই বা কম কী? তবে আহমেদ প্যাটেল নন, অমিত শাহও নন, শেষ বিচারে আসল জয়ী নির্বাচন কমিশন। ভারতীয় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এটাই। ওই গভীর রাতে নির্বাচন কমিশনকেই তাই স্যালুট জানিয়েছি।
বিশদ

13th  August, 2017
স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে: কিছু প্রশ্ন
শুভা দত্ত

শুধু ভারত ছাড়ো কেন? রামনবমী রাখিবন্ধন পুজোপাঠ স্বাধীনতা দিবস প্রজাতন্ত্র—সবকিছুতেই এখন এত বেশি বেশি রাজনৈতিক দখলদারি শুরু হয়েছে যে, সাধারণ মানুষের পক্ষে উৎসবের মেজাজ ধরে রাখাই মুশকিল হচ্ছে। রাজনীতি ছাড়া যেন কিছু হতেই পারে না!
বিশদ

13th  August, 2017
বাৎসল্য রসের পরাকাষ্ঠা মা যশোদার আত্মাভিমান চূর্ণ করলেন শ্রীকৃষ্ণ
চিদানন্দ গোস্বামী

 ভারতবর্ষের পৌরাণিক সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক সূর্য-করোজ্জ্বল ঘটনা। তত্ত্বে গভীর, দার্শনিকতায় গভীর, নৈতিকতাতেও। তাই বিশ্ব-জাগতিক জীবনে আকর্ষণে চিরন্তন মূল্যবান রত্ন সম্পদ।
বিশদ

12th  August, 2017
কঠিন বর্জ্যের কানুন
বিনয়কান্তি দত্ত

কেন্দ্রীয় ও রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদগুলিকে দায়িত্ব দেওয়া হল বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তির বিচার ও মূল্যায়ন, সংশ্লিষ্ট স্থানগুলির ভূগর্ভস্থ জল, বায়ু, মৃত্তিকা ও শব্দের গুণমানের মাপকাঠি নির্ধারণ, বিভিন্ন দপ্তরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া, ইত্যাদি কাজের। একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে এই নতুন কানুনে কঠিন বর্জ্য সমস্যার সব দিক বিচার করে, সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। মনে আসছে অসুরবধের জন্য দুর্গা দুর্গতিনাশিনীকে দশপ্রহরণে সজ্জিত করার কথা। এখন দেখতে হবে এই কানুন-রূপী দুর্গা বর্জ্যাসুরকে কতদিনে বধ করতে পারে। বিশদ

12th  August, 2017
গ্যাসে ভরতুকি ছাড়ার অনুরোধ আসলে ধান্ধা
মৃন্ময় চন্দ

 সরকারি অর্থনীতির চলন বোঝাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগন একবার বলেছিলেন—‘‘If it moves, tax it. If it keeps moving, regulate it. And if it stops moving, subsidize it.’’ ৫৭.৫ লাখ এলপিজি গ্রাহক ভরতুকি ছেড়ে দিয়েছেন। দেশে এলপিজি গ্রাহকের সংখ্যা এই মুহূর্তে ১৪.৭০ কোটি। বিশদ

11th  August, 2017
রেশনে আধার: এত তাড়াহুড়োর কি কোনও প্রয়োজন আছে?
নিমাই দে

 চাল দু’টাকা কেজি দরে। কিন্তু রেশন দোকানে গিয়ে তা পেতে হলে পকেট থেকে তখনই খরচ করতে হবে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। দু’টাকা কেজির গম। সেটাও পেতে গেলে বার করতে হবে নয় নয় করে ১৮ থেকে ২০ টাকা। এটাই নাকি কেন্দ্রের ক্যাশলেস ব্যবস্থা!
বিশদ

11th  August, 2017
আমাদের ‘মন কি বাত’ আপনি কবে শুনবেন মোদিজি?
মেরুনীল দাশগুপ্ত

 দেশের মানুষের ন্যূনতম ভরণপোষণের ব্যবস্থা বহাল রাখতে কেন্দ্র কি সত্যিই আন্তরিক? সত্যিই কি—গরিব মধ্যবিত্তের কথা ভেবেই নোটবন্দি জিএসটি স্বচ্ছ ভারত—এইসব! তাই যদি, তবে দেশে কেন এখনও পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুদ রাখার ব্যবস্থা নেই? ... ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা ভেবে ফসল সংরক্ষণের কি যথেষ্ট ব্যবস্থা হয়েছে? হয়ে থাকলে কথায় কথায় এমন অনটন দেখা দেয় কী করে? ফড়ে দালালরা বাজার চড়িয়ে গরিব মধ্যবিত্তের পকেট কেটে মুনাফাবাজি করে যায় কীভাবে? উন্নত সেচের ব্যবস্থাই যদি থাকে তবে কেন খরা হলে ফসলের এমন দুর্গতি হয়? সাধারণের জমায় সুদ কমাতে যাঁরা এমন তৎপর তাঁরা ঋণখেলাপিদের শত শত কোটি টাকা মকুব করে দিচ্ছেন কীভাবে? মধ্যবিত্ত সংহার ছাড়া কি স্বচ্ছ ভারত গড়া যায় না? স্বচ্ছ ভারতে কি মধ্যবিত্তের ঠাঁই হবে না?
বিশদ

10th  August, 2017



একনজরে
 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সম্প্রতি দুর্গাপুর পুরসভা নির্বাচনে নিরাপত্তার প্রশাসনিক আশ্বাস সত্ত্বেও ব্যাপক হাঙ্গামা হয়েছে। ভোট লুট হয়েছে। পুলিশ মার খেয়েছে। নির্বাচন কমিশন ভোট চলাকালীন অভিযোগ জানানোর রাস্তা বন্ধ রেখেছিল। ...

 ওয়াশিংটন, ১৬ এপ্রিল: এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় অঙ্কের অর্থ দানের কথা ঘোষণা করলেন মাইক্রোসফট করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। নিজের মোট সম্পদের ৫ শতাংশ দান করলেন ...

সিনসিনাটি, ১৬ আগস্ট: ভারতীয় টেনিস কাপ দল থেকে বাদ পড়ার পর ৪৪ বছর বয়সী লিয়েন্ডার পেজের দুঃসময় আর কাটছে না। সিনসিনাটি ওপেনে ডাবলসে প্রথম রাউন্ড থেকেই লিয়েন্ডার পেজ ও তাঁর জার্মান পার্টনার আলেকজান্ডার জেরেভ বিদায় নিলেন ফেলিসিয়ানো ও মার্ক লোপেজের ...

 ওয়াশিংটন, ১৬ এপ্রিল: চলতি বছরসহ আগামী ২০১৮ সালে এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। একই সময়ে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৩ শতাংশের আশপাশে থাকবে বলে ধারণা ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

সঠিক বন্ধু নির্বাচন আবশ্যক। কর্মরতদের ক্ষেত্রে শুভ। বদলির কোনও সম্ভাবনা এই মুহূর্তে নেই। শেয়ার বা ... বিশদ



ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৩২: ব্রিটিশ সাহিত্যিক ভি এস নাইপলের জন্ম
১৯৮৮: দুর্ঘটনায় মৃত পাক প্রেসিডেন্ট মহম্মদ জিয়া-উল-হক
২০০৮: ওলিম্পিকসে আটটি সোনা জিতে রেকর্ড মার্কিন সাঁতারু মাইকেল ফেল্পসের


ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৪৫ টাকা ৬৫.১৩ টাকা
পাউন্ড ৮১.৩৭ টাকা ৮৪.১৮ টাকা
ইউরো ৭৪.০৮ টাকা ৭৬.৬৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৯,১৭০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৭,৬৭৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৮,০৯০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৫০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৬০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩২ শ্রাবণ, ১৭ আগস্ট, বৃহস্পতিবার, দশমী দিবা ১২/৪৩, মৃগশিরানক্ষত্র রাত্রি ১০/৫৯, সূ উ ৫/১৭/৫১, অ ৬/৩/৩৯, অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪৮-৩/৩, বারবেলা ২/৫২-অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/৪১-১/৫।
 ৩১ শ্রাবণ, ১৭ আগস্ট, বৃহস্পতিবার, দশমী ১০/৫৫/৫২, মৃগশিরানক্ষত্র রাত্রি ১০/২৩/৫৭, সূ উ ৫/১৫/৩৩, অ ৬/৫/২৫, অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪৭/৩০-৩/১/৩১, বারবেলা ৪/২৯/১১-৬/৫/২৫, কালবেলা ২/৫২/৫৭-৪/২৯/১১, কালরাত্রি ১১/৪০/২৯-১/৪/১৫।
২৪ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ভারতে পাকিস্তানের নতুন হাই কমিশনার সোহেল

 আবদুল বাসিতের বদলে ভারতে নিযুক্ত পাকিস্তান দূতাবাসের হাই কমিশনার হলেন সোহেল মাহমুদ

16-08-2017 - 10:10:11 PM

বন্যা পরিস্থিতি: মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা রাজ্যের
এই বন্যা পরিস্থিতিতে যাঁরা মারা গিয়েছেন তাঁদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে রাজ্য সরকার। আজ একথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ নবান্ন থেকে বের হওয়ার সময় তিনি জানান, ডালখোলা বারসোই এলাকায় রেলব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় উত্তরবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। আমি রেলের সাথে কথা বলেছি, যাতে তারাতারি ব্রিজ মেরামতির কাজ শুরু হয়। তিনি জানান, পরিবহন দপ্তরকে বলেছি যতক্ষণ না ট্রেন পরিষেবা শুরু হয়, বেশি করে বাস চালাতে। আমি একসময় রেলমন্ত্রী ছিলাম, জানি কিভাবে কাজ করা যায়। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী কিরণ রিজজুর মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মমতা জানান, আমাদের কাছে কোনটা বেশি জরুরি? হিসাব দেওয়া না মানুষকে ত্রাণ দেওয়া ? আমি তো প্রধানমন্ত্রী, স্বরাস্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। জল নামলে তবে তো বোঝা যাবে কত কী ক্ষতি হয়েছে। কত কৃষি জমি নষ্ট হয়েছে, কত রাস্তা ভেঙেছে, কত বাড়ি ভেঙেছে।

16-08-2017 - 09:16:20 PM

 বিকেল 5 টা পর্যন্ত ধূপগুড়ির দুটি ওয়ার্ডেভোট পড়েছে ৮৯.৯৮ %

16-08-2017 - 07:42:00 PM

শিয়ালদহ-মালদা টাউন ৪ জোড়া স্পেশাল ট্রেন,  জেনে নিন দিনক্ষণ

০৩১৪৯ / ০৩১৫০ শিয়ালদহ-মালদা টাউন-শিয়ালদহ স্পেশাল (ভায়া ডানকুনি) শিয়ালদহ থেকে ১৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) – ২০ আগস্ট (রবিবার) ২০১৭ পর্যন্ত রাত ১১টা ২৫মিনিটে ছাড়বে। ট্রেনটি মালদা টাউন পৌঁছাবে পরদিন ভোর ৫টা ৫০মিনিটে। গাড়িটি ফের মালদা টাউন থেকে রওনা দেবে ১৮ আগস্ট- ২৩ আগস্ট ২০১৭ পর্যন্ত রাত ১১ টায় ছাড়বে। ট্রেনটি শিয়ালদহ পৌঁছাবে পরদিন ভোর ৬টায়। ট্রেনগুলিতে জেনারেল সেকেন্ড ক্লাস কামরা, স্লিপার কামরা, এসি ২ এবং এসি ৩ টিয়ার কামরা থাকবে।

16-08-2017 - 06:52:00 PM

হকারকে মারধর! পুরুলিয়ার কাশীপুরের তৃণমূল বিধায়কের ভিডিও ভাইরাল 
পুরুলিয়ার কাশীপুরের তৃণমূল বিধায়ক স্বপন বেলথোরিয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে কাশীপুরের বিধায়ক এবং তাঁর অনুগামীরা এক ব্যক্তিকে মারধর করছেন। এবিষয়ে এখনও পর্যন্ত কাশীপুর থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ হয়নি। এমনকী কাশীপুরের বিধায়ক মারধরের ঘটনা অস্বীকার করে জানান, ওই ভিডিওটি জাল এবং বিজেপির কিছু নেতা চক্রান্ত করে ওই ভিডিওটি হোয়াটস অ্যাপে ছড়িয়েছে। 

16-08-2017 - 05:49:20 PM

বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় রাজ্য সড়কে স্কুল বাস ও ডাম্পারের মুখোমুখি সংঘর্ষ, জখম ৮ পড়ুয়া 

16-08-2017 - 04:28:00 PM