বিশেষ নিবন্ধ
 

 বৈশাখী ভাবনায় অশনি সংকেত

সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়: দু’তিন বছর ধরে এই নতুন উপদ্রবটা শুরু হয়েছে। একটু-আধটু কথা, ছোটখাট দাবি উঠেছিল। কিন্তু বিশেষ কেউ খুব একটা পাত্তা দেয়নি। এবার ব্যাপারটা একটু বেশিই পেকে গিয়েছে। দাবিটা এবার আরও জোরালোভাবে উঠেছে। কেউ কেউ এর মধ্য দিয়ে অশনি সংকেতের আভাস পাচ্ছে।
আমি বাংলাদেশের কথা বলছি। সেখানে বাংলা নববর্ষ উদ্‌যাপন এবারেও ধুমধামের সঙ্গে পালিত হয়েছে। কিন্তু গলায় একটা কাঁটা খচখচ করছে তো করছেই। একটা সংশয় মনের মধ্যে চাগিয়ে উঠছে। বাঙালির একান্ত এই প্রাণের উৎসব, যা কিনা আদ্যন্ত অসাম্প্রদায়িক, আগামীদিনে তা নিরুপদ্রবে পালন করা যাবে তো?
এমন আশঙ্কার কারণ অনেক। বছর দুয়েক আগে উগ্র ধর্মীয় সংগঠনগুলি জিগির তোলে, পয়লা বৈশাখ আদ্যন্ত হিন্দু বাঙালিদের উৎসব। এর সঙ্গে ইসলামের কোনও সম্পর্ক নেই। সম্পর্ক তো দূরের কথা, পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপন নাকি ইসলাম বিরোধী। দাবিটাকে সে সময় বিশেষ কেউ আমল দেয়নি। বরং গোটা বাংলাদেশ ১৪ এপ্রিলের ভোর থেকে রাজপথে নেমে এসেছিল।
বর্ণাঢ্য রঙিন শোভাযাত্রায় ঝলমল করে উঠেছিল দেশের প্রতিটি নগর প্রান্তর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইয়া বড় বড় মুখোশ নিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। এবারেও হল। পয়লা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্য হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এ এক অনন্য সম্মান। সুন্দরবন ও মঙ্গল শোভাযাত্রা দুই বিশ্ব ঐতিহ্য আজ বিপন্নতার মুখোমুখি। সন্দেহ নেই বড় সংকট। বড় দুশ্চিন্তা।
বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী কউমি মাদ্রাসায় পড়ে। এই কউমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠানই হেফাজতে ইসলাম। তারা মনে করে (এবং বিশ্বাসও), পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপন ইসলামি সংস্কৃতির সঙ্গে মেলে না। শুধু তাই নয়, তাদের মতে, এটি একটি আদ্যন্ত হিন্দু উদ্‌যাপন। হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে জামাত ইসলামের সম্পর্ক কিছু কিছু ক্ষেত্রে আম ও দুধের মতো। জামাত ইসলামির নায়েব আমিরের একটা বিবৃতি কাগজে পড়লাম। তিনি বলেছেন, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয় হিন্দু সমাজে শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিনে। তারা তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী মঙ্গলের প্রতীক হিসেবে পেঁচা, রামের বাহক হিসেবে হনুমান, দুর্গার বাহক হিসেবে সিংহ, দেবতা হিসেবে সূর্য এবং অন্যান্য প্রাণী ও পশুর মুখোশ নিয়ে ওই দিন শোভাযাত্রা করে। ওঁর মতে, এর সঙ্গে বাংলা নববর্ষের কোনও সম্পর্ক নেই।’
এই মনোভাব এবার পয়লা বৈশাখের আগে বাংলাদেশের একাংশকে বেশ প্রভাবিত করেছে। বাংলাদেশের সুন্দরতম অঞ্চল চট্টগ্রামে চৈত্র সংক্রান্তির দিন একটা ঘটনা ঘটল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা বর্ষবরণের জন্য রাস্তার ধারে দেওয়ালচিত্র এঁকেছিলেন। রাতের অন্ধকারে ইসলামি মৌলবাদী শক্তি সেই অনুপম শিল্পের ওপর পোড়া মোবিলের কালো পোঁচ লেপে দেয়। প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ফের হাতে তুলে নেন রং-তুলি। নতুন করে তাঁরা রাঙিয়েই শুধু তোলেননি নতুন দেওয়াল, সেই সঙ্গে দেশজোড়া প্রতিবাদে কণ্ঠও মেলান। পালিত হয় নববর্ষ, মৌলবাদীদের ধিক্কার জানানোর মধ্য দিয়ে।
প্রগতিশীল ও শুভ চিন্তার মানুষজন এই মনোভাবকেই আগামী দিনের বড় বিপদ হিসাবে দেখছেন। এই ভাবনাচিন্তার কারণও আছে।
সামরিক শাসক হুসনে মোবারক এরশাদ বাংলাদেশের সাপ্তাহিক ছুটির দিন রবিবার থেকে সরিয়ে শুক্রবার করে দেন। কী কারণে এটা তিনি করেছিলেন, কাদের সন্তুষ্ট করতে তা বলে না দিলেও চলে। তাঁরই আমলে পয়লা বৈশাখের দিনটি ১৪ এপ্রিল নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। গত আট বছরেরও বেশি সময় ধরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিকাশ ঘটানোর মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি যারা যুদ্ধ অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বিচার শেষে সাজা দিচ্ছেন। কিন্তু এই হাসিনাকেই সমালোচিত হতে হচ্ছে সচেতন নাগরিক সমাজের কাছে, যাঁরা রাজনৈতিকভাবে তাঁর সমর্থক। সমালোচিত হচ্ছেন, কারণ দেশের মৌলবাদীদের চাপে পড়ে তিনি এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যা এই সংকীর্ণ চেতনার বিকাশের সহায়ক এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। ভোটের চিন্তাই এমন সিদ্ধান্তের কারণ বলে যাঁরা মনে করেন, তাঁদের ব্যাখ্যায় খুব একটা ভুল আছে বলে হাসিনার একনিষ্ঠ সমর্থকেরাও মনে করেন না। বস্তুত, হাসিনার এই আত্মসমর্পণ তাঁদের কাছে রহস্যময়।
প্রথম সিদ্ধান্তটি এই বছরের একেবারে গোড়ায় নেওয়া। মৌলবাদীরা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে স্কুল শিক্ষার টেক্সট বইয়ে বেশ কিছু পরিবর্তনের দাবি জানায়, যা নাকি ‘ইসলাম বিরোধী’। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আঁকড়ে বেড়ে ওঠা বিস্মিত নাগরিক সমাজ দেখল, বাংলা টেক্সট বই থেকে একটার পর একটা কবিতা, গল্প ছেঁটে দেওয়া হল। ক্লাস ওয়ানের ছেলেমেয়েরা আজন্মকাল ধরে যেখানে ‘অ’-এ অজগর আসছে তেড়ে শিখে আসছে, এই প্রথম তারা ‘ও’-এর ক্ষেত্রে ওল খেয়ো না ধরবে গলা আর পড়বে না। ‘ও’-এ ওল-এর স্থান নিয়েছে ‘ওড়না’, যা মুসলমান মেয়েদের কাছে ‘মাস্ট’। তারা পড়বে ‘ও’-তে ওড়না চাই। প্রশ্ন উঠেছিল, ক্লাস ওয়ানে ওড়নার প্রয়োজনীয়তা কোথায়? তাছাড়া ওড়না তো শুধু মেয়েদের। ছেলেদের সঙ্গে এর কী সম্পর্ক? হেফাজতের জবাব ছিল, ওড়না মুসলমান সংস্কৃতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। অতএব বিতর্কের অবকাশ থাকা উচিত নয়।
ক্লাস সিক্সের ছেলেমেয়েদের উত্তর ভারত ঘুরে একটা লেখার বিষয় বহুকাল ধরে চালু ছিল। সেটা বদলে গেল। ফিরে এসেছে সৈয়দ মুজতবা আলির ‘নীলনদ আর পিরামিডের দেশে’। নবম ও দশম শ্রেণিতে বাদ গিয়েছে মঙ্গলকাব্যের ‘আমার সন্তান’, সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পালামৌ’, বাউলের ওপর লেখা ‘সময় গেলে সাধন হবে না’। পঞ্চম শ্রেণিতে বদলানো হয় হুমায়ুন আজাদের ‘বই’ ও গোলাম মোস্তাফার ‘প্রার্থনা’ কবিতা। হেফাজতের অভিযোগ, হুমায়ুন আজাদ ‘স্বঘোষিত নাস্তিক’। এই হুমায়ুন আজাদই আক্রান্ত হয়েছিলেন উগ্রবাদীদের হাতে। অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ দেওয়া হয় উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর লেখা ‘রামায়ণ কাহিনি’র আদিকাণ্ড ও শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘লালু’ গল্প। কেন? না, রামায়ণের সঙ্গে ইসলামের কোনও সম্পর্ক নেই, আর, ‘লালু’ গল্পে পাঁঠা বলির নিয়ম-কানুন শেখানো হয়েছে। হেফাজতের ২১ জন কেন্দ্রীয় নেতা যৌথ বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘স্কুল পাঠ্যপুস্তকে মুসলিম ছাত্রছাত্রীদের নাস্তিক্যবাদ ও হিন্দুতত্ত্বের পাঠ দেওয়া হচ্ছে। তাদের পড়ানো হয় গোরুকে মায়ের সসম্মান দিয়ে ভক্তি করতে, পাঁঠাবলির নিয়মকানুন, হিন্দু বীরদের কাহিনি, দেব-দেবীর নামে প্রার্থনা, হিন্দু তীর্থস্থান ভ্রমণ করার বিষয়।’
এই দাবির নিট রেজাল্ট? এই বছরের স্কুল পাঠ্যবইয়ের আমূল পরিবর্তন। সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির ১৫ লাখ পাঠ্যপুস্তক ছেপে বেরনোর পর দেখা গেল ‘রামায়ণ কাহিনি’ ও ‘লালু’ তাতে রয়ে গিয়েছে। সোয়া চার কোটি টাকা খরচে ছাপা ১৫ লাখ বই জলাঞ্জলি দিয়ে নতুন করে ফের বই ছাপানো হল। হেফাজতে দেখা দিল যুদ্ধজয়ের উন্মাদনা। শেখ হাসিনার নামে তারা জয়ধ্বনি দিল!
তারা কিন্তু ওখানেই থেমে থাকেনি। এই সেদিন তারা দাবি তোলে, সুপ্রিম কোর্টের সামনে যে-ভাস্কর্য সম্প্রতি স্থাপিত হয়েছে, তা তুলে দিতে হবে।
এই সেদিন আমি ভাস্কর্যটা দেখতে গেলাম। শাড়ি পরা চোখ বাঁধা দণ্ডায়মান এলোকেশী এক নারী। বাঁ হাঁটু সামান্য ভাঙা, সামনের দিকে এগনোর ভঙ্গি। তার ডান হাতে খোলা তরোয়াল, বাঁ হাতে দাঁড়িপাল্লা। দুটি পাল্লা সমান সমান। একচুলও ঝুঁকে নেই কোনওটা। মৌলবাদীদের দাবি গ্রিক দেবীর আদলে ভাস্কর্যটি গড়া এবং তা ইসলাম বিরোধী। অতএব অবিলম্বে তা সরিয়ে ফেলা হোক।
হাসিনা দাবিটি শুনলেন এবং পত্রপাঠ তা খারিজ করলেন না। বরং তাঁর কণ্ঠস্বরে সমর্থনের আভাস একটু যেন পাওয়া গেল। হেফাজতের প্রধান শাহ আমেদ শফির সঙ্গে দেখা করে তাঁকে পাশে বসিয়ে হাসিনা বললেন, ‘আমি নিজেও ওই ভাস্কর্য পছন্দ করিনি। ওটা নাকি গ্রিক ভাস্কর্য। তাই যদি হবে তাহলে শাড়ি কেন? আর গ্রিক ভাস্কর্যই বা এখানে কেন? হাস্যকর। যা হোক, আমি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করব। ধৈর্য ধরুন। এ নিয়ে অযথা হইচই করবেন না।’
কেন হাসিনা পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন আনলেন? কেন ভাস্কর্য নিয়ে এমন কথা বললেন? ভোট বড় বালাই বলে? কই তিনি তো সংস্কৃতিমন্ত্রী নাট্যব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নুরের মতো বলতে পারতেন, ‘হেফাজত যেভাবে একটার পর একটা দাবি জানাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে বাংলাদেশ যেন ইসলামি গণতন্ত্র, গণপ্রজাতন্ত্রী দেশ নয়!’ পয়লা বৈশাখ পালন না-করার দাবি হাসিনার সরকার খারিজ করেছেন। এটা যদি আপাতত সুখের কথা হয়, পাঠ্যপুস্তকের বদল তাহলে চিন্তার কথা। একবার যা ও দেশে বদলায় তা আর কখনও ঘুরে আসে না। দেশের রফতানিকারকেরা চাইলেও শুক্রবারের বদলে রবিবার ছুটির দিন হিসেবে ফেরানো যাবে না। স্থাপত্য প্রত্যাহারের দাবিটা যে মানা হবে না, তাও জোর দিয়ে বলা যাবে না। কে জানে, এইভাবে কোনও এক দিন মৌলবাদীদের চাপে পয়লা বৈশাখ, পয়লা ফাল্গুন উদ্‌যাপনও চৌপাট হয়ে যায় কি না? গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ হয়ে ওঠে ইসলামি প্রজাতন্ত্র? প্রতিষ্ঠিত হয় শরিয়তি আইন?
আরশিনগরের পড়শিরা ১৪২৪-এর প্রথম প্রভাত দুশ্চিন্তামুক্ত রাখতে পারল না।
16th  April, 2017
রাজ্যের উদ্বেগজনক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্র এত উদাসীন কেন?
শুভা দত্ত

 ‘কেন্দ্রের বিমাতৃসুলভ আচরণ’ বলে একটা কথা একসময় খুব শোনা যেত। ইন্দিরা গান্ধীর আমলে তো বটেই, তার পরে তাঁর পুত্র রাজীব গান্ধী বা তাঁর পরের প্রধানমন্ত্রীদের আমলেও এ রাজ্যে ওই ‘বিমাতৃসুলভ আচরণ’ নিয়ে রাজনৈতিক হইচই যথেষ্ট হয়েছে।
বিশদ

20th  August, 2017
আহা, সেই নতুন ভারত ভয়মুক্ত হোক
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

 স্বাধীনতা দিবসে লাল কেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চতুর্থ ভাষণ বেশ মন দিয়েই শুনলাম। স্বচ্ছ ভারত, স্মার্ট সিটি, মেক ইন ইন্ডিয়া, স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া, জন ধন প্রকল্প, নমামি গঙ্গে, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, ডিজিটাল ইন্ডিয়া, কংগ্রেস মুক্ত ভারত, কালো টাকা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোমর-কষা লড়াই ইত্যাদি ইত্যাদি প্রতিজ্ঞা ও স্বপ্নের জাল গত চারটি ভাষণে শোনানোর পর সেদিন তিনি ‘নিউ ইন্ডিয়া’ বা নতুন ভারত গড়ার কথা শোনালেন।
বিশদ

20th  August, 2017
সফলতা বনাম সফলতা
অভিজিৎ তরফদার

 সংবাদপত্রের প্রথম পাতা আলো করে কোন ব্যক্তিরা শোভা পান? তাঁরা জনপ্রতিনিধি। তাঁরা দেশের আইনও প্রণয়ন করেন। দুর্জনে বলে তাঁদের এক চতুর্থাংশ বা তারও বেশিজনের নামে ফৌজদারি মামলা আছে। খুন-ধর্ষণ-ডাকাতি ইত্যাদি ভয়ানক সব অভিযোগে তাঁরা অভিযুক্ত। কিন্তু আমরা, আম জনতা, তাঁদের ফুল্লবিকশিত মুখশোভা সংবাদপত্রে দেখতেই অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি।
বিশদ

19th  August, 2017
ভারত চীন যুদ্ধ হলে চীন পরাজিত হবে
প্রশান্ত দাস

 সারা ভারতজুড়ে এখন একটাই আলোচনা ঝড় তুলেছে—ডোকালাম নিয়ে চীন ভারতকে আক্রমণ করবে কি? চীন অনবরত ভারতকে চমকে চলেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপত্র গ্যারিরস বলেছেন—কোনও দেশ যেন নিজেকে সর্বশক্তিমান না ভাবে। চীন এবং ভারত মুখোমুখি আলোচনায় বসে ব্যাপারটি মিটিয়ে নেয়।
বিশদ

19th  August, 2017
শুধুই প্রচার, রেজাল্ট কই!
সমৃদ্ধ দত্ত

 গোরখপুর থেকে ৪৩ কিলোমিটার দূরের জৈনপুর গ্রামের লক্ষ্মী আর শৈলেন্দ্র তিন সপ্তাহ বয়সি মেয়ের মৃতদেহ নিয়ে অনেক দেরি করে বাড়িতে ফিরতে পেরেছিল। গোরখপুরের হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মেয়ে মারা যাওয়ার পর হাসপাতালের বাবুদের কাছে বারংবার ধমক খেতে হয়েছে তাঁদের।
বিশদ

18th  August, 2017
 কেন্দ্রের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণেই মেডিকেল ভরতিতে রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা বঞ্চনার শিকার
গৌতম পাল

 নিট পরীক্ষার দায়িত্ব সিবিএসই-কে দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষমতাকে কেন্দ্রীভূত করেছে। নিট পরীক্ষায় যাঁরা বিষয় বিশেষজ্ঞ হিসাবে সাহায্য করেছেন তাঁরা অধিকাংশই দিল্লির কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, এবং বেশিরভাগই কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালনাকারী একটি বড় রাজনৈতিক দলের সদস্য বা কাছের মানুষ। অথচ পশ্চিমবাংলার বা অন্যান্য রাজ্যের খ্যাতনামা যে সকল অধ্যাপক অত্যন্ত দক্ষতা এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে রাজ্যের প্রবেশিকা পরীক্ষায় এ যাবৎ সাহায্য করে এসেছেন, সিবিএসই কিন্তু তাঁদেরকে নিটের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করেনি, বা এই সম্পর্কে রাজ্যের কোনও মতামতও নেয়নি। অনেকেই বলছেন রাজ্যের পাঠ্যক্রম সংশোধন করে নিটের সমমানের করলেই রাজ্যের ছেলে-মেয়েরা নিটে ভালো র‌্যাংক করবে।
বিশদ

17th  August, 2017
স্বাধীনতার ৭০ বছর, নেতাতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র?
হিমাংশু সিংহ

বিয়াল্লিশের ভারত ছাড়ো আন্দোলন আমি দেখিনি। ৪৭-এর ঐতিহাসিক স্বাধীনতা লাভের মুহূর্তে মধ্যরাতের জওহরলাল নেহরুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ চাক্ষুষ করার সুযোগও হয়নি। হওয়ার কথাও নয়, কারণ ওই ঘটনার প্রায় দু’দশক পর আমার জন্ম। সেদিনের কথা বইয়ে, ইতিহাসের পাতায় পড়েছি মাত্র।
বিশদ

15th  August, 2017
গভীর রাতের নাটক শেষে স্যালুট
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

জেতা ম্যাচ কী করে হারতে হয়, এই নির্বাচন তার একটা বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে। হারতে হারতে জিতে গিয়েছেন আহমেদ প্যাটেল। এই দুর্দিনে তাঁর জয় কংগ্রেসের মরা গাঙে বান হয়তো ডেকে আনবে না, তবে মনোবল সামান্য হলেও বাড়াবে। সোনিয়া গান্ধীর দলের এই দুর্দিনে এটাই বা কম কী? তবে আহমেদ প্যাটেল নন, অমিত শাহও নন, শেষ বিচারে আসল জয়ী নির্বাচন কমিশন। ভারতীয় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এটাই। ওই গভীর রাতে নির্বাচন কমিশনকেই তাই স্যালুট জানিয়েছি।
বিশদ

13th  August, 2017
স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে: কিছু প্রশ্ন
শুভা দত্ত

শুধু ভারত ছাড়ো কেন? রামনবমী রাখিবন্ধন পুজোপাঠ স্বাধীনতা দিবস প্রজাতন্ত্র—সবকিছুতেই এখন এত বেশি বেশি রাজনৈতিক দখলদারি শুরু হয়েছে যে, সাধারণ মানুষের পক্ষে উৎসবের মেজাজ ধরে রাখাই মুশকিল হচ্ছে। রাজনীতি ছাড়া যেন কিছু হতেই পারে না!
বিশদ

13th  August, 2017



একনজরে
 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ, সোমবার বাতিল করা হচ্ছে আপ কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস। পূর্ব রেল জানিয়েছে, বাংলাদেশ রেলের ডাউন লাইনের লিংক ট্রেনটি বাতিল থাকায় আপ লাইনের ট্রেনটিও বাতিল করা হয়েছে। ...

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: দাঁতন বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির দুই নিখোঁজ ছাত্রীর খোঁজ মিলল মুম্বইয়ে। তাদের খোঁজে রবিবারই পুলিশের একটি দল মুম্বই ঩গিয়েছে। দাঁতন থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিখোঁজ দুই ছাত্রীর মোবাইলের সূত্র ধরে তাদের খোঁজ পাওয়া যায়। ...

বার্মিংহ্যাম, ২০ আগস্ট: তিন দিনেই প্রথম দিন-রাতের টেস্ট জিতে নিল ইংল্যান্ড। এজবাস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চুরমার করে ইনিংস ও ২০৯ রানের বিশাল জয় পেয়েছে জো রুটের দল। প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেটে ৫১৪ রানের বিশাল স্কোর খাড়া করেছিল ইংল্যান্ড। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উত্তরবঙ্গের মালদহ, বালুরঘাট, রায়গঞ্জ, কালিয়াগঞ্জ, ইটাহার, কুশমুন্ডি, বাউল, পতিরাম, গঙ্গারামপুর সহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভারত সেবাশ্রম সংঘ সম্প্রতি বন্যাদুর্গতদের ত্রাণের কাজ শুরু করেছে। রোজই সংঘের পক্ষ থেকে দুর্গতদের রান্না করা খাবার বিলি করা হচ্ছে। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীদের ক্ষেত্রে ভাবনা-চিন্তা করে বিষয় নির্বাচন করলে ভালো হবে। প্রেম-প্রণয়ে বাধাবিঘ্ন থাকবে। কারও সঙ্গে মতবিরোধ ... বিশদ



ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৭৮- ভিনু মানকড়ের মৃত্যু
১৯৮৬- উসেইন বোল্টের জন্ম
১৯৯৫- সুব্রহ্মণ্যম চন্দ্রশেখরের মৃত্যু
২০০৬- ওস্তাদ বিসমিল্লা খানের মৃত্যু
১৯৭২- বন সংরক্ষণ আইন চালু


ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৩৫ টাকা ৬৫.০৩ টাকা
পাউন্ড ৮১.২৫ টাকা ৮৪.২১ টাকা
ইউরো ৭৩.৯৬ টাকা ৭৬.৫৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
19th  August, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) 29465
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) 27955
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) 28375
রূপার বাট (প্রতি কেজি) 39100
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) 39200
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
20th  August, 2017

দিন পঞ্জিকা

৪ ভাদ্র, ২১ আগস্ট, সোমবার, অমাবস্যা রাত্রি ১২/০, অশ্লেষানক্ষত্র দিবা ৩/৫১, সূ উ ৫/১৯/১৪, অ ৬/০/২৬, অমৃতযোগ দিবা ৭/০ পুনঃ ১০/২৩-১২/৫৬ রাত্রি ৬/৪৫-৯/১ পুনঃ ১১/১৭-২/১৮, বারবেলা ৬/৫৪-৮/২৯ পুনঃ ২/৫১-৪/২৬, কালরাত্রি ১০/১৫-১১/৪০। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ (ভারতে অদৃশ্য)
৪ ভাদ্র, ২১ আগস্ট, সোমবার, অমাবস্যা রাত্রি ১২/৮/৯, অশ্লেষানক্ষত্র অপরাহ্ণ ৪/৫৪/৪০, সূ উ ৫/১৬/৪৮, অ ৬/২/২৪, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৮/৫৩, ১০/২৩/২-১২/৫৬/১০ রাত্রি ৬/৪৭/২২-৯/২/২০, ১১/১৭/১৭-২/১৭/১২, বারবেলা ২/৫১/০-৪/২৬/৪২, কালবেলা ৬/৫২/৩০-৮/২৮/১২, কালরাত্রি ১০/১৫/১৮-১১/৩৯/৩৬। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ (ভারতে অদৃশ্য)
২৮ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বন্যায় ৭ লক্ষ হেষ্টর চাষের জমি ক্ষতিগ্রস্থ: কৃষিমন্ত্রী

 বন্যায়য় উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে ৭ লক্ষ হেক্টর চাষের জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যার মধ্যেো ৪ লক্ষ জমি উত্তরের। কৃষিতে প্রাথমিক হিসেবে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। যার মধ্যে উত্তরে ৫৩৪ কোটি ৫১ লক্ষ টাকাো জানালেন কৃষি মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু।

05:24:00 PM

 তামিলনাড়ুর উপ মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ পনিরসেলভামের

 এআএিডিএমকে-র দুই শিবিরের সংযুক্তিকরণের পর তামিলনাড়ুর উপ মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন পনিরসেলভাম

04:49:00 PM

বন্যার জন্য কেন্দ্রে কাছে উপযুক্ত প্যাকেজ চাইব: মমতা

কেন্দ্রের কাছে উপযুক্ত প্যাকেজের দাবি করতে চলেছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান গোটা রাজ্যে এবছর বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকা। কেবলমাত্র উত্তরবঙ্গেই মৃত্যু হয়েছে ৪৫ জনের। আর গোটা রাজ্যে ১৫২জনের। রাজ্যে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের সংখ্যা দেড় কোটি ছাড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ত্রাণ নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। তাই যতটা প্রয়োজন ততটাই ত্রাণ মিলবে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, অনেক সড়ক থেকেই জল নামতে শুরু করেছে, তাই যে সমস্ত সড়ক থেকে জল নেমে যাবে, সেখান দিয়েই ধীরে ধীরে ট্রাক পাঠানো হবে। কারণ অনেক ট্রাক পচনশীল দ্রব্য নিয়ে আটকে রয়েছে। পাশাপাশি এই বন্যার নামে যে সমস্ত অসাধু ব্যবসায়ী দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করতে চেষ্টা করছেন তাদের বিরুদ্ধেও নজরদারি চালানো হবে বলে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, জল নামলেই  বন্যা সংক্রান্ত রোগব্যাধির প্রতিষেধক এবং পানীয় জলের পথগুলিকে পরিশ্রুত করার ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

04:47:00 PM

সিলেবাস কমিটির প্রস্তাবে সিলমোহর রাজ্য সরকারের, সব ক্লাসে পড়তে হবে কন্যাশ্রী স্বীকৃতি, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যক্রমে কন্যাশ্রী

04:12:00 PM

বন্যায় দেড় কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: মুখ্যমন্ত্রী

04:10:07 PM

রাজ্যে যথেষ্ট পরিমানে ত্রান সামগ্রী মজুত রয়েছে: মুখ্যমন্ত্রী

04:10:06 PM