বিশেষ নিবন্ধ
 

 বৈশাখী ভাবনায় অশনি সংকেত

সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়: দু’তিন বছর ধরে এই নতুন উপদ্রবটা শুরু হয়েছে। একটু-আধটু কথা, ছোটখাট দাবি উঠেছিল। কিন্তু বিশেষ কেউ খুব একটা পাত্তা দেয়নি। এবার ব্যাপারটা একটু বেশিই পেকে গিয়েছে। দাবিটা এবার আরও জোরালোভাবে উঠেছে। কেউ কেউ এর মধ্য দিয়ে অশনি সংকেতের আভাস পাচ্ছে।
আমি বাংলাদেশের কথা বলছি। সেখানে বাংলা নববর্ষ উদ্‌যাপন এবারেও ধুমধামের সঙ্গে পালিত হয়েছে। কিন্তু গলায় একটা কাঁটা খচখচ করছে তো করছেই। একটা সংশয় মনের মধ্যে চাগিয়ে উঠছে। বাঙালির একান্ত এই প্রাণের উৎসব, যা কিনা আদ্যন্ত অসাম্প্রদায়িক, আগামীদিনে তা নিরুপদ্রবে পালন করা যাবে তো?
এমন আশঙ্কার কারণ অনেক। বছর দুয়েক আগে উগ্র ধর্মীয় সংগঠনগুলি জিগির তোলে, পয়লা বৈশাখ আদ্যন্ত হিন্দু বাঙালিদের উৎসব। এর সঙ্গে ইসলামের কোনও সম্পর্ক নেই। সম্পর্ক তো দূরের কথা, পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপন নাকি ইসলাম বিরোধী। দাবিটাকে সে সময় বিশেষ কেউ আমল দেয়নি। বরং গোটা বাংলাদেশ ১৪ এপ্রিলের ভোর থেকে রাজপথে নেমে এসেছিল।
বর্ণাঢ্য রঙিন শোভাযাত্রায় ঝলমল করে উঠেছিল দেশের প্রতিটি নগর প্রান্তর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইয়া বড় বড় মুখোশ নিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। এবারেও হল। পয়লা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্য হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এ এক অনন্য সম্মান। সুন্দরবন ও মঙ্গল শোভাযাত্রা দুই বিশ্ব ঐতিহ্য আজ বিপন্নতার মুখোমুখি। সন্দেহ নেই বড় সংকট। বড় দুশ্চিন্তা।
বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী কউমি মাদ্রাসায় পড়ে। এই কউমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠানই হেফাজতে ইসলাম। তারা মনে করে (এবং বিশ্বাসও), পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপন ইসলামি সংস্কৃতির সঙ্গে মেলে না। শুধু তাই নয়, তাদের মতে, এটি একটি আদ্যন্ত হিন্দু উদ্‌যাপন। হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে জামাত ইসলামের সম্পর্ক কিছু কিছু ক্ষেত্রে আম ও দুধের মতো। জামাত ইসলামির নায়েব আমিরের একটা বিবৃতি কাগজে পড়লাম। তিনি বলেছেন, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয় হিন্দু সমাজে শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিনে। তারা তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী মঙ্গলের প্রতীক হিসেবে পেঁচা, রামের বাহক হিসেবে হনুমান, দুর্গার বাহক হিসেবে সিংহ, দেবতা হিসেবে সূর্য এবং অন্যান্য প্রাণী ও পশুর মুখোশ নিয়ে ওই দিন শোভাযাত্রা করে। ওঁর মতে, এর সঙ্গে বাংলা নববর্ষের কোনও সম্পর্ক নেই।’
এই মনোভাব এবার পয়লা বৈশাখের আগে বাংলাদেশের একাংশকে বেশ প্রভাবিত করেছে। বাংলাদেশের সুন্দরতম অঞ্চল চট্টগ্রামে চৈত্র সংক্রান্তির দিন একটা ঘটনা ঘটল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা বর্ষবরণের জন্য রাস্তার ধারে দেওয়ালচিত্র এঁকেছিলেন। রাতের অন্ধকারে ইসলামি মৌলবাদী শক্তি সেই অনুপম শিল্পের ওপর পোড়া মোবিলের কালো পোঁচ লেপে দেয়। প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ফের হাতে তুলে নেন রং-তুলি। নতুন করে তাঁরা রাঙিয়েই শুধু তোলেননি নতুন দেওয়াল, সেই সঙ্গে দেশজোড়া প্রতিবাদে কণ্ঠও মেলান। পালিত হয় নববর্ষ, মৌলবাদীদের ধিক্কার জানানোর মধ্য দিয়ে।
প্রগতিশীল ও শুভ চিন্তার মানুষজন এই মনোভাবকেই আগামী দিনের বড় বিপদ হিসাবে দেখছেন। এই ভাবনাচিন্তার কারণও আছে।
সামরিক শাসক হুসনে মোবারক এরশাদ বাংলাদেশের সাপ্তাহিক ছুটির দিন রবিবার থেকে সরিয়ে শুক্রবার করে দেন। কী কারণে এটা তিনি করেছিলেন, কাদের সন্তুষ্ট করতে তা বলে না দিলেও চলে। তাঁরই আমলে পয়লা বৈশাখের দিনটি ১৪ এপ্রিল নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। গত আট বছরেরও বেশি সময় ধরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিকাশ ঘটানোর মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি যারা যুদ্ধ অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বিচার শেষে সাজা দিচ্ছেন। কিন্তু এই হাসিনাকেই সমালোচিত হতে হচ্ছে সচেতন নাগরিক সমাজের কাছে, যাঁরা রাজনৈতিকভাবে তাঁর সমর্থক। সমালোচিত হচ্ছেন, কারণ দেশের মৌলবাদীদের চাপে পড়ে তিনি এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যা এই সংকীর্ণ চেতনার বিকাশের সহায়ক এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। ভোটের চিন্তাই এমন সিদ্ধান্তের কারণ বলে যাঁরা মনে করেন, তাঁদের ব্যাখ্যায় খুব একটা ভুল আছে বলে হাসিনার একনিষ্ঠ সমর্থকেরাও মনে করেন না। বস্তুত, হাসিনার এই আত্মসমর্পণ তাঁদের কাছে রহস্যময়।
প্রথম সিদ্ধান্তটি এই বছরের একেবারে গোড়ায় নেওয়া। মৌলবাদীরা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে স্কুল শিক্ষার টেক্সট বইয়ে বেশ কিছু পরিবর্তনের দাবি জানায়, যা নাকি ‘ইসলাম বিরোধী’। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আঁকড়ে বেড়ে ওঠা বিস্মিত নাগরিক সমাজ দেখল, বাংলা টেক্সট বই থেকে একটার পর একটা কবিতা, গল্প ছেঁটে দেওয়া হল। ক্লাস ওয়ানের ছেলেমেয়েরা আজন্মকাল ধরে যেখানে ‘অ’-এ অজগর আসছে তেড়ে শিখে আসছে, এই প্রথম তারা ‘ও’-এর ক্ষেত্রে ওল খেয়ো না ধরবে গলা আর পড়বে না। ‘ও’-এ ওল-এর স্থান নিয়েছে ‘ওড়না’, যা মুসলমান মেয়েদের কাছে ‘মাস্ট’। তারা পড়বে ‘ও’-তে ওড়না চাই। প্রশ্ন উঠেছিল, ক্লাস ওয়ানে ওড়নার প্রয়োজনীয়তা কোথায়? তাছাড়া ওড়না তো শুধু মেয়েদের। ছেলেদের সঙ্গে এর কী সম্পর্ক? হেফাজতের জবাব ছিল, ওড়না মুসলমান সংস্কৃতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। অতএব বিতর্কের অবকাশ থাকা উচিত নয়।
ক্লাস সিক্সের ছেলেমেয়েদের উত্তর ভারত ঘুরে একটা লেখার বিষয় বহুকাল ধরে চালু ছিল। সেটা বদলে গেল। ফিরে এসেছে সৈয়দ মুজতবা আলির ‘নীলনদ আর পিরামিডের দেশে’। নবম ও দশম শ্রেণিতে বাদ গিয়েছে মঙ্গলকাব্যের ‘আমার সন্তান’, সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পালামৌ’, বাউলের ওপর লেখা ‘সময় গেলে সাধন হবে না’। পঞ্চম শ্রেণিতে বদলানো হয় হুমায়ুন আজাদের ‘বই’ ও গোলাম মোস্তাফার ‘প্রার্থনা’ কবিতা। হেফাজতের অভিযোগ, হুমায়ুন আজাদ ‘স্বঘোষিত নাস্তিক’। এই হুমায়ুন আজাদই আক্রান্ত হয়েছিলেন উগ্রবাদীদের হাতে। অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ দেওয়া হয় উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর লেখা ‘রামায়ণ কাহিনি’র আদিকাণ্ড ও শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘লালু’ গল্প। কেন? না, রামায়ণের সঙ্গে ইসলামের কোনও সম্পর্ক নেই, আর, ‘লালু’ গল্পে পাঁঠা বলির নিয়ম-কানুন শেখানো হয়েছে। হেফাজতের ২১ জন কেন্দ্রীয় নেতা যৌথ বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘স্কুল পাঠ্যপুস্তকে মুসলিম ছাত্রছাত্রীদের নাস্তিক্যবাদ ও হিন্দুতত্ত্বের পাঠ দেওয়া হচ্ছে। তাদের পড়ানো হয় গোরুকে মায়ের সসম্মান দিয়ে ভক্তি করতে, পাঁঠাবলির নিয়মকানুন, হিন্দু বীরদের কাহিনি, দেব-দেবীর নামে প্রার্থনা, হিন্দু তীর্থস্থান ভ্রমণ করার বিষয়।’
এই দাবির নিট রেজাল্ট? এই বছরের স্কুল পাঠ্যবইয়ের আমূল পরিবর্তন। সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির ১৫ লাখ পাঠ্যপুস্তক ছেপে বেরনোর পর দেখা গেল ‘রামায়ণ কাহিনি’ ও ‘লালু’ তাতে রয়ে গিয়েছে। সোয়া চার কোটি টাকা খরচে ছাপা ১৫ লাখ বই জলাঞ্জলি দিয়ে নতুন করে ফের বই ছাপানো হল। হেফাজতে দেখা দিল যুদ্ধজয়ের উন্মাদনা। শেখ হাসিনার নামে তারা জয়ধ্বনি দিল!
তারা কিন্তু ওখানেই থেমে থাকেনি। এই সেদিন তারা দাবি তোলে, সুপ্রিম কোর্টের সামনে যে-ভাস্কর্য সম্প্রতি স্থাপিত হয়েছে, তা তুলে দিতে হবে।
এই সেদিন আমি ভাস্কর্যটা দেখতে গেলাম। শাড়ি পরা চোখ বাঁধা দণ্ডায়মান এলোকেশী এক নারী। বাঁ হাঁটু সামান্য ভাঙা, সামনের দিকে এগনোর ভঙ্গি। তার ডান হাতে খোলা তরোয়াল, বাঁ হাতে দাঁড়িপাল্লা। দুটি পাল্লা সমান সমান। একচুলও ঝুঁকে নেই কোনওটা। মৌলবাদীদের দাবি গ্রিক দেবীর আদলে ভাস্কর্যটি গড়া এবং তা ইসলাম বিরোধী। অতএব অবিলম্বে তা সরিয়ে ফেলা হোক।
হাসিনা দাবিটি শুনলেন এবং পত্রপাঠ তা খারিজ করলেন না। বরং তাঁর কণ্ঠস্বরে সমর্থনের আভাস একটু যেন পাওয়া গেল। হেফাজতের প্রধান শাহ আমেদ শফির সঙ্গে দেখা করে তাঁকে পাশে বসিয়ে হাসিনা বললেন, ‘আমি নিজেও ওই ভাস্কর্য পছন্দ করিনি। ওটা নাকি গ্রিক ভাস্কর্য। তাই যদি হবে তাহলে শাড়ি কেন? আর গ্রিক ভাস্কর্যই বা এখানে কেন? হাস্যকর। যা হোক, আমি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করব। ধৈর্য ধরুন। এ নিয়ে অযথা হইচই করবেন না।’
কেন হাসিনা পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন আনলেন? কেন ভাস্কর্য নিয়ে এমন কথা বললেন? ভোট বড় বালাই বলে? কই তিনি তো সংস্কৃতিমন্ত্রী নাট্যব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নুরের মতো বলতে পারতেন, ‘হেফাজত যেভাবে একটার পর একটা দাবি জানাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে বাংলাদেশ যেন ইসলামি গণতন্ত্র, গণপ্রজাতন্ত্রী দেশ নয়!’ পয়লা বৈশাখ পালন না-করার দাবি হাসিনার সরকার খারিজ করেছেন। এটা যদি আপাতত সুখের কথা হয়, পাঠ্যপুস্তকের বদল তাহলে চিন্তার কথা। একবার যা ও দেশে বদলায় তা আর কখনও ঘুরে আসে না। দেশের রফতানিকারকেরা চাইলেও শুক্রবারের বদলে রবিবার ছুটির দিন হিসেবে ফেরানো যাবে না। স্থাপত্য প্রত্যাহারের দাবিটা যে মানা হবে না, তাও জোর দিয়ে বলা যাবে না। কে জানে, এইভাবে কোনও এক দিন মৌলবাদীদের চাপে পয়লা বৈশাখ, পয়লা ফাল্গুন উদ্‌যাপনও চৌপাট হয়ে যায় কি না? গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ হয়ে ওঠে ইসলামি প্রজাতন্ত্র? প্রতিষ্ঠিত হয় শরিয়তি আইন?
আরশিনগরের পড়শিরা ১৪২৪-এর প্রথম প্রভাত দুশ্চিন্তামুক্ত রাখতে পারল না।
16th  April, 2017
শিবাজি রাও গায়কোয়াড়ের দোলাচল
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

 সাতষট্টি বছরের একজন মানুষ শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেবেন অথবা নেওয়া উচিত তা নিয়ে আমি বেশ ধন্দে পড়েছি। তবে আমার এই দোলাচল মোটেই আহামরি কিছু নয়, বড় যা তা হল একটা গোটা রাজ্যের মানুষের তাঁর দিকে ড্যাব ড্যাব করে চেয়ে থাকা। বিপুল দোলাচলে রাজ্যের সবার মনে। বিশদ

রথযাত্রায় শ্রীচৈতন্য ও শ্রীরামকৃষ্ণ
চৈতন্যময় নন্দ

 নীলাচলে দারুব্রহ্ম জগদীশ জগন্নাথদেবের সবচেয়ে বড় বিজয়োৎসব রথযাত্রা। আদিকাল থেকে এই সমারোহ চলে এসেছে এবং একে কেন্দ্র করে বহু ইতিবৃত্তের সৃষ্টি হয়েছে। আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে পুরীতে শ্রীমন্‌ জগন্নাথ রথে আরোহণ করেন।
বিশদ

24th  June, 2017
অনুপ্রবেশকারীদের মন্দিরে আশ্রয় প্রসঙ্গে
আলোলিকা মুখোপাধ্যায়

 নিউইয়র্ক শহরের কুইনস এলাকায় সমুদ্রের ধার ঘেঁষে রক অ্যাওয়ে বিচ। একদিন দেখা গেল মহাসাগরের ঢেউয়ের মাথায় নাচতে নাচতে ভাঙা নারকোল ভেসে আসছে। নারকোলের পিছু পিছু ইতস্তত বিক্ষিপ্ত গাঁদাফুলের মালা। সাহেব মেমরা সাঁতার কাটতে নেমে নারকোলের আধভাঙা মালা, পচা গাঁদার মালা দেখে জলপুলিশকে নালিশ করল। বিশদ

24th  June, 2017
সাঁওতাল বিদ্রোহ এবং সমাজের পরিবর্তন
বিষ্ণুপদ হেমরম

 ভারতের আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলির মধ্যে সাঁওতালরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। ব্রিটিশ ভারতে জল-জঙ্গল-জমিনের উপর অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং শোষণ ও নিপীড়নের প্রতিবাদে তারা সরকারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল। সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন, বর্তমান সাঁওতাল পরগনার ভাগ্‌না঩ডিহির মাঠে। বিশদ

23rd  June, 2017
পাহাড় ও বাঙালি
সমৃদ্ধ দত্ত

 বিজেপি রাজ্য শাখা তথা তাদের কর্মী সমর্থকরা এখনও স্পষ্ট করে বলছেন না সামান্য একটা সিদ্ধান্ত। সেটি হল তাঁরা কি গোর্খাল্যান্ড সমর্থন করেন, নাকি করেন না? সহজ প্রশ্ন। সহজ উত্তর। অথচ সোজা উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। ভাসা ভাসা কথা। কারণ বিজেপি রাজ্য শাখা ও কর্মী সমর্থকরা অপেক্ষা করছেন তাঁদের হাইকমান্ড কী ঠিক করবেন তার উপর। একবার চিন্তা করে দেখুন, আমরা বাঙালি, আমাদের রাজ্য থেকে আমাদের প্রিয় দার্জিলিংকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে কি না তা ঠিক করতেও বিজেপির বাংলা শাখা দুজন গুজরাতের নেতার দিকে তাকিয়ে আছে। বিশদ

23rd  June, 2017
দুর্নীতির পরিবেশ, পরিবেশে দুর্নীতি
বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়

 ১৯৭০ দশকের বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ও অর্থনীতিবিদ Gunnar Mydral-এর ‘এশিয়ান ড্রামা’ বইটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল, এশিয়ার বুকে বিভিন্ন দেশে পরিকল্পনাগুলি ব্যর্থ হবার একটি অন্যতম কারণ দুর্নীতি। বিশদ

21st  June, 2017
এ যুগের নীলকণ্ঠদের মুক্তির উপায় কী?
স্বপন মণ্ডল

 পুরাণ মতে সমুদ্র মন্থনের মতো কষ্টসাধ্য কাজে সুরাসুর উভয়েই হাত লাগিয়েছিল। সমুদ্র মন্থনে অমৃতের সন্ধান যেমন পাওয়া গেল গরলও উঠে এল। অমৃতের ভাগীদার অনেকে কিন্তু গরলের ভাগীদার কেউ হতে চাইল না। কিন্তু এ গরল এমন গরল যে ধরিত্রীর যেখানে পড়বে সেখানেই বিষাক্ত হয়ে যাবে। বিশদ

21st  June, 2017
যোগদিবস: ভারতের লক্ষ্মীলাভের মস্ত সুযোগ
হরলাল চক্রবর্তী

 ২০১৫ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে ২১ জুন মহা ধুমধামে ‘বিশ্ব-যোগদিবস’ পালিত হচ্ছে। সারা বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশ যোগদিবসের স্বীকৃতি দিয়েছে, ১৮০টি দেশ যোগে অংশগ্রহণ করেছে, এর মধ্যে কিছু ইসলামিক দেশও আছে। আশা করা যায়, এ বছর তা আরও বেশি সাফল্য পাবে।
বিশদ

20th  June, 2017



একনজরে
 বেজিং, ২৪ জুন (পিটিআই): বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সাবমেরিন ডিটেক্টর আবিষ্কার করল চীন। আজ ‘দ্য চাইনিজ আকাদেমি অব সায়েন্সেস’-এর একদল বিজ্ঞানী এই দাবি করেছেন। ...

 শ্রীনগর, ২৪ জুন (পিটিআই): ডিএসপি মহম্মদ আয়ুব পণ্ডিত খুনের ঘটনার বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করল জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। সুপারিটেন্ডেন্ট পদমর্যাদার আধিকারিকের নেতৃত্বে এই দল গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক পুলিশকর্তা। ...

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: তারাপীঠে ব্যতিক্রমী রথের দড়িতে টান দিতে শনিবারই দূরদূরান্ত থেকে কয়েক হাজার ভক্ত তারাপীঠ এসেছেন। সাধারণত জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে রথে বসিয়ে রথযাত্রা উৎসব পালিত হয়। কিন্তু তারাপীঠে তারা মা-ই রথে আরোহন করেন। রথ, উলটো রথ দুই পর্যায়ের রথেই ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্ত্রী ও শাশুড়ির বঁটির কোপে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভরতি হলেন স্বামী। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে নিউটাউনের প্রমোদগড় বাজার এলাকায়। স্থানীয় সূত্রের খবর, পারিবারিক বিবাদের জেরে শুভঙ্কর সরকারের সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁর স্ত্রীর অশান্তি চলছিল। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য আসবে। প্রেম-প্রণয়ে আগ্রহ বাড়বে। তবে তা বাস্তবায়িত হওয়াতে সমস্যা আছে। লৌহ ও ... বিশদ



ইতিহাসে আজকের দিন

 ১৯০৩- ইংরেজ সাহিত্যিক জর্জ অরওয়েলের জন্ম
১৯৬০- কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের মৃত্যু
১৯৭৪- অভিনেত্রী করিশ্মা কাপুরের জন্ম
১৯৭৫- প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দেশে জরুরি অবস্থা জারি করলেন
২০০৯- মার্কিন পপ সংগীত শিল্পী মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যু




ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৭৫ টাকা ৬৫.৪৩ টাকা
পাউন্ড ৮০.৬৪ টাকা ৮৩.৪২ টাকা
ইউরো ৭০.৭৬ টাকা ৭৩.২৮ টাকা
24th  June, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৯,২২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৭,৭২৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৮,১৪০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৯,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৯,২০০ টাকা

দিন পঞ্জিকা

১০ আষাঢ়, ২৫ জুন, রবিবার, দ্বিতীয়া রাত্রি ১/২, পুনর্বসুনক্ষত্র রাত্রি ১১/২৫, সূ উ ৪/৫৭/৩৬, অ ৬/২০/৩৬, অমৃতযোগ ৬/৪৪-৯/২৫ পুনঃ ১২/৫-২/৪৫ রাত্রি ৭/৪৫ পুনঃ ১০/৩৫-১২/৪৩, বারবেলা ৯/৫৮-১/১৯, কালরাত্রি ১২/৫৯-২/১৯।

রথযাত্রা উৎসব
রাত্রি ১/৩৮/২৯ অম্বুবাচী নিবৃত্তিঃ

১০ আষাঢ়, ২৫ জুন, রবিবার, প্রতিপদ ৬/২১/২১ পরে দ্বিতীয়া রাত্রিশেষ ৪/৮/৫০, পুনর্বসুনক্ষত্র ২/৪৯/৪৫, সূ উ ৪/৫৪/৫৩, অ ৬/২২/১২, অমৃতযোগ দিবা ৪/৪২/৩১-৯/২৩/৫৯, ১২/৫/২৭-২/৪৬/৫৫ রাত্রি ৭/৪৬/৩৩, ১০/৩৫/১৬-১২/৪১/৪৮, বারবেলা ৯/৫৭/৩৮-১১/৩৮/৩৩, কালবেলা ১১/৩৮/৩৩-১/১৯/২৮, কালরাত্রি ১২/৫৭/৩৮-২/১৬/৪৩।

রথযাত্রা উৎসব
রাত্রি ১/৩৮/২৯ অম্বুবাচী নিবৃত্তিঃ
২৯ রমজান

ছবি সংবাদ


এই মুহূর্তে
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বনগাঁর গনরাপোতা বাজার এলাকা থেকে ১৫০টি বিরল প্রজাতির কচ্ছপ উদ্ধার করল পুলিশ, গ্রেপ্তার ৬

10:20:00 AM

লখনউতে ১৪ বছর বয়সী এক পুলিশ অফিসারের কন্যার আত্মহত্যা, চাঞ্চল্য

10:16:00 AM

পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে তেলের ট্যাঙ্কার থেকে আগুন লাগার ঘটনায় মৃত শতাধিক, গুরুতর জখম ৪০

10:14:00 AM

শহরে ট্রাফিকের হাল
আজ, রবিবার সকালে শহরের রাস্তাঘাটে যান চলাচল মোটের উপর স্বাভাবিক। ট্রাফিকের সামান্য চাপ রয়েছে এজেসি বসু রোড, ইএম বাইপাস, মা উড়ালপুল, পার্কস্ট্রিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে। এদিন শহরে তেমন কোনও বড় মিটিং-মিছিলের খবর নেই। ফলে মোটামুটি সারাদিনই শহরের যান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে আজ রথযাত্রাকে ঘিরে বেশ কয়েকটি রাস্তায় যানজট দেখা দিতে পারে। ইসকনের রথ অ্যালবার্ট রোড থেকে হাঙ্গারফোর্ড স্ট্রিট, এজেসি বোস রোড, শরৎ বসু রোড, হাজরা রোড, এসপি মুখার্জি রোড, আশুতোষ মুখার্জি রোড, চৌরঙ্গি রোড, এক্সাইড ক্রসিং, জওহরলাল নেহরু রোড, আউটরাম রোড হয়ে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে থামবে। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে যে ক’দিন ইসকনের রথ থাকবে, সেই ক’দিন সেখানে প্রসাদ বিতরণ, নানা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। অন্যদিকে, মেট্রোর কাজের জন্য ২৯ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ থাকবে ব্রাবোর্ন রোড ফ্লাইওভার ব্রিজ। সেই সময় সমস্ত গাড়ি মহাত্মা গান্ধী রোড, পোস্তা ও স্ট্যান্ড রোড দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। তার ফলে ওই এলাকাগুলিতে যানজট দেখা দিতে পারে। কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, মা ফ্লাইওভারের নতুন ফ্ল্যাংকের নির্মাণ কাজ চলায় আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত কড়েয়া রোড ও বেকবাগান রো'র মধ্যবর্তী সার্কাস এভিনিউ'র দক্ষিণ অভিমুখও বন্ধ থাকবে। তার জেরে ওই এলাকাতেও যানজটের সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাফিক সংক্রান্ত যে কোনও খবরাখবরের জন্য কলকাতা পুলিশের টোল ফ্রি নম্বর ১০৭৩-তে ফোন করুন।

10:02:00 AM

মধ্য জাপানে ভূমিকম্প, রিখটার স্কেলে ৫.২

09:38:00 AM

চীনে ভূমিধস, মৃত ১৫, নিখোঁজ শতাধিক

09:34:00 AM