বিশেষ নিবন্ধ
 

 বাংলার নতুন বছরে মানুষ কি একটু শান্তি পাবে?

শুভা দত্ত: বাংলার আরও একটা নতুন বছর শুরু হয়ে গেল। ১৪২৪। এখন অবশ্য পয়লা আর পঁচিশে বৈশাখের মতো হাতে গোনা কয়েকটা দিন ছাড়া বাংলা বছরকে বিশেষ কেউ মনে রাখেন না। রাখবেন কেন? আমাদের আজকের জীবনে বাংলা বছর আর কোথায় লাগে? পুজোআচ্চা বিয়ে পৈতে অন্নপ্রাশনের মতো পারিবারিক সামাজিক কিছু অনুষ্ঠান ছাড়া বাঙালির আর কী-ই বা বাংলা সাল তারিখ মেনে হয়? ছেলেমেয়েদের জন্মদিন তো সেই কোনকাল থেকেই ইংরেজি সাল তারিখের জিম্মায় চলে গিয়েছে। তবে হ্যাঁ, তা সত্ত্বেও পয়লা বৈশাখের এখনও একটা আলাদা কদর আছে বাঙালি জীবনে। বাংলা বছর শুরুর ওই দিনটাতে বাঙালি একবারের জন্য হলেও তাদের হারিয়ে যাওয়া সাজগোজ আচারবিচার খানাপিনার দিকে ফিরে তাকায়। আর তাই রাস্তাঘাটে কি শপিংমলে রেস্তরাঁয় পয়লা বৈশাখের দিন বাঙালির স্বাভাবিক সাজে বহু মানুষকে শামিল হতে দেখা যায়। বাঙালির আড্ডায় বাংলা গান বাংলার ভাষা শোনা যায়। শাড়ি, পাজামা কুর্তা কি ধুতি-পাঞ্জাবি পরে বাঙালি-খানার স্পেশাল মেনুর স্বাদ নিতে ঩ভিড় জমে শহর মহানগর শহরতলির রেস্তরাঁয়। বইপাড়াতে সেই জৌলুস না থাকলেও নববর্ষের এই দিনটাতে নামজাদা প্রকাশকের ঘরে কবি সাহিত্যিকদের ভিড় এখনও কমবেশি জমে। হালখাতা মিষ্টিমুখ হয় দোকানে দোকানে। হিন্দি ইংরেজির দাপটে কোণঠাসা বাংলার ভাষা রুচি সংস্কৃতির চলতি দুর্দিনে এটা কি কম বড় কথা!
এবং, অনেকের কাছেই শুনেছি— পয়লা বৈশাখ পালনের এই চিরাচরিত প্রথায় এবারও উৎসাহের অভাব ছিল না। গত শনিবার মোটামুটি সাড়ম্বরেই বাংলা বছর শুরুর দিনটা উদ্‌যাপন করেছে বাঙালি। সেদিন গানবাজনা খানাপিনায় কলকাতা শহর ও শহরতলিতে উৎসবের চেনা মেজাজও মোটামুটি ছিল অটুট। গরমে হাঁসফাঁস শহরে বৈশাখের প্রথম দিনটা কেটেছে একরকম নির্বিঘ্নেই। কিন্তু, পয়লা একটা দিন বই তো নয়। বছরের বাকি দিনগুলোর কী হবে? পয়লা না হয় কাটল আনন্দে-স্ফূর্তিতে উৎসবের আমেজে। কিন্তু, তারপর? অশান্তির বাড়বাড়ন্তে অস্থির এই বিশ্বে স্বস্তি সম্প্রীতি ফিরবে? নতুন বাংলা বছরে রাজ্যবাসী মানুষ কি একটু শান্তি পাবে? একটু চাপমুক্ত হয়ে কাটাতে পারবে তাদের নিত্যদিনের জীবন? সত্যি বলতে কী, আজ এগুলোই সব থেকে বড় প্রশ্ন। আমেরিকা ইংল্যান্ড ফ্রান্স বেলজিয়াম সিরিয়া থেকে প্রতিবেশী বাংলাদেশ— সর্বত্র যেভাবে জঙ্গি হিংসা বাড়ছে, নিরীহ মানুষের প্রাণ যাচ্ছে— তাতে এই প্রশ্নগুলো ওঠাই তো স্বাভাবিক। আমাদের দেশেও তো সাম্প্রতিকে জঙ্গিদের ক্রিয়াকলাপ বেশ ভালোই নজরে পড়ছে। কিছুদিন আগে ভোটের ঠিক মুখে উত্তরপ্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হল এক জঙ্গি, উদ্ধার হল মারাত্মক সব অস্ত্রশস্ত্র। আমাদের রাজ্যে খাগড়াগড় তো কবেই ঘটে গিয়েছে। এছাড়া কাশ্মীরে লাগাতার সীমান্ত সন্ত্রাস গোলাগুলি খুনোখুনি— সেসবও চলছে। কবে যে থামবে, আদৌ কোনওদিন থামবে কি না— কে জানে?
এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বিপদে কারা? সাধারণ মানুষ, দেশের আমজনতা। কিছু একটা ঘটলে সবার আগে বলি হন তাঁরাই। তাঁদের পরিবার প্রিয়জনেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হন সবচেয়ে বেশি। কেবল জঙ্গি সন্ত্রাস কেন কোথাও কোনও গণ্ডগোল কি সমাজবিরোধী ক্রিয়াকলাপেরও প্রথম বলি তো তাঁরাই! এই যে কদিন আগে সোনারপুর আর খড়দহে সোনার দোকান গোল্ড লোনের অফিসে ডাকাতির ঘটনা ঘটল, ডাকাতদের গুলি বোমা ছুরিতে হতাহত হলেন কারা? সেই সাধারণ মানুষ— দোকানের মালিক গ্রাহক মহিলা এঁরাই! ঘটনার পর ক’দিন হইচই হল, লেখালেখি চলল, ডাকাতের আক্রমণে হত বা গুরুতর জখম হওয়ার সুবাদে আমরা আম পাবলিকের কয়েকজনের নামঠিকানা জানলাম, ছবি দেখলাম, তারপর একসময় অন্য খবরের তোড়ে সব কোথায় হারিয়ে গেল। কেউ আর তাঁদের শারীরিক অবস্থা বা ঘরসংসারের খোঁজ রাখছেন? রাখা কি সম্ভব? কিন্তু, তাঁদের দুর্ভোগ? সে চলছে নিশ্চয়ই। ডাকাতের গুলি যাঁদের পরিবার থেকে প্রিয়জন কেড়ে নিল বা যাঁদের স্বজন গুরুতর আহত হয়ে এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন— তাঁদের কষ্ট দুঃখ সমস্যা তো চট করে মিটবার নয়। পুলিশ ডাকাতদের কয়েকজনকে ধরেছে। হয়তো আরও ক’জনকে ধরবে। হয়তো আদালতে তাদের শাস্তির ব্যবস্থাও হবে। কিন্তু, তাতে কি ওই নিরীহ মানুষগুলোর কষ্টের সুরাহা হবে? প্রিয়জন হারানো হতভাগ্য পরিবার একটু শান্তি পাবে?
এর ওপর আর এক কাণ্ড শুরু হয়েছে রাজ্যে। সে কথা আগের কলমেই বিস্তৃতভাবে লিখেছি। তা নিয়ে ফের বিস্তৃতভাবে বলতে চাই না। শুধু এটুকুই বলব, রামচন্দ্র নিয়ে মাতামাতি হোক। ধর্ম পালনের অধিকার সকলের আছে, হিন্দু-মুসলমান খ্রিস্টান বৌদ্ধ জৈন— সকলের। আর আমাদের রাজ্যে সে ধর্ম পালনে কোনওদিন কেউ বাধা দিয়েছে বলে শুনিনি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও যে সর্বধর্ম সমন্বয় সর্বধর্ম পালনের নীতিতে বিশ্বাসী তা প্রথম থেকেই বুঝিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং, ধর্ম পালন নিয়ে বিবাদ এই রাজ্যে স্বাভাবিক নয়। হিন্দু হিন্দুর ধর্ম পালন করবেন মুসলমান মুসলমানের ধর্ম পালন করবেন খ্রিস্টান যিশুর ভজনা করবেন— আপত্তির কোনও জায়গাই নেই।
কিন্তু ধর্ম পালনের মধ্যে হঠাৎ অস্ত্রের মারাত্মক ঝনঝনা কেন? অন্য ধর্মে কোথায় কী হয়— সে কথা থাক। আমাদের হিন্দুধর্মে কবে কোথায় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মিছিল হয়েছে? বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েদের হাতে অস্ত্র ধরিয়ে দিয়ে শক্তির বাহাদুরি দেখানোর চেষ্টা হয়েছে— বলুন? রামচন্দ্র আমাদের সকলের প্রিয় এবং শ্রদ্ধেয়। তাঁর যে রূপ আমাদের পরিচিত তাতেই বা কোথায় অস্ত্র হাতে এমন উগ্রতা— দেখাতে পারবেন? রামচন্দ্রের মতো একজন আদর্শ রাজা, আদর্শ পুত্র, আদর্শ ভাই, আদর্শ স্বামীর পক্ষে তেমন কি নিতান্তই বেমানান নয়! তার ওপর সেই সশস্ত্র মিছিল হল কোথায়? না বাংলার মাটিতে— পরধর্ম সহিষ্ণুতা যার রন্ধ্রে রন্ধ্রে! ভাবতে হবে না এইসব? রাজনীতির যুদ্ধ চালাবার জন্য সমস্যার, মানে ‘ইস্যু’র কি অভাব আছে! নিজ ধর্মের মানুষকে কাছে টানতে ধর্ম কথাও আসে আমাদের দেশে— আসুক। কিন্তু, তাই বলে— ধর্মের নামে এভাবে অস্ত্র নিয়ে পথে নেমে শক্তি দেখানো কি ঠিক? শত হলেও অস্ত্র তো ভয়ের প্রতীক অশান্তির অন্যতম হোতা— তাই না? আর রাজ্যে অশান্তির সৃষ্টি হলে তার কোপ বেশি করে কার ঘাড়ে পড়ে? সেই সাধারণ মানুষের। ছোটখাট ব্যাবসাপত্তর বা চাকরিবাকরি করে বা গায়ে গতরে খেটে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যাঁদের ঘর-সংসার প্রতিপালন করতে হয়— গোলমাল ঝামেলা হলে বিপদ তো তাঁদেরই বাড়ে। কারণ, রাস্তাঘাটে ঝামেলার ভয়ে কাজকাম ফেলে দিনের পর দিন তাঁরা যে ঘরে বসে থাকতে পারেন না। রুটি-রুজির তাগিদে তাঁদের পথে বেরতেই হবে। শুধু কি তাই? এইসব এলোমেলো ঝঞ্ঝাটে প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন না হলে এই রাজ্যের মানুষের ভবিষ্যৎই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতার প্রশাসন সেদিন রামনবমীর সশস্ত্র মিছিলে হস্তক্ষেপ করেনি। তার গতিরোধও করেনি। তাতে সিপিএম-কংগ্রেসের মতো বিরোধীরা নানা কথা কটুকাটব্য করেছে। করতেই পারে। এ রাজ্যের বিরোধী কালচারটা এখন এমনই। কিন্তু সাধারণ মানুষ কী বলছেন জানেন? বলছেন, সেদিন মমতা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত দূরদর্শী। সেদিন মিছিল আটকালে ধর্ম পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে জিগির তোলার অবকাশ পেত কিছু মহল এবং অস্ত্র নিয়ে ধর্মীয় মিছিলে শক্তিপ্রদর্শনের ব্যাপারটাও এমন স্পষ্ট করে লোকের চোখে পড়ত না! বরং মিছিল আটকানো নিয়ে রাজনীতির সুযোগ পেয়ে যেতেন মমতা বিরোধীরা! মমতার এই বাংলায় অরাজক পরিস্থিতি তৈরির যে চেষ্টা চক্রান্ত চলছে তাও বাড়তি ইন্ধন পেত। সমাজবিরোধীরাও যে যার মতো করে পরিস্থিতির সুযোগ নিত। এবং সব মিলিয়ে তাতে শেষ পর্যন্ত রাজ্যবাসী সাধারণের বিপদ বাড়ত বই কমত না। সুতরাং, মিছিলে হস্তক্ষেপ না করাটাকে মমতার একটি অত্যন্ত ‘ওয়াইজ ডিসিশন’ বলেই মনে করছেন মানুষজন। এখন অবশ্য রামনবমীর মিছিলের উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলাটামলা হচ্ছে এদিক সেদিক। সে হোক। তবে, স্বস্তির মূল কথা হল— রামনবমীর সশস্ত্র মিছিলকে কেন্দ্র করে রাজ্যে কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সাম্প্রদায়িক প্রীতিতে কোথাও কোনও আঁচড় লাগেনি।
মানুষ এমনটাই চান। যে যাঁর ধর্ম যেমন খুশি পালন করুন কিন্তু সম্প্রীতির পরিবেশটি অটুট থাক। তবেই না আমাদের রাজ্যের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে, উন্নয়নে গতি বাড়বে, আমাদের জীবনে শান্তি-সুস্থিতি আসবে। মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ইস্তক মমতা তো তার জন্যই প্রাণপাত করছেন। পাহাড় থেকে সমুদ্র, জঙ্গলমহল থেকে ডুয়ার্স— সব জায়গায় ছুটে চলেছেন শান্তি সম্প্রীতি আর উন্নয়নের বার্তা নিয়ে। সেই বার্তা কতটা সার্থক হয়েছে আজকের দার্জিলিং, ঝাড়গ্রাম, জলপাইগুড়ি, পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার মতো জেলাগুলোই তার প্রমাণ। সেই উন্নয়নের ধারা, শান্তি চেষ্টার সাফল্য যাতে অব্যাহত থাকে তার জন্য আমাদেরও কি দায় নেই? সব দায় মুখ্যমন্ত্রীর ওপর ফেলে দিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকলেই হবে! ধর্মের নামে অস্ত্রশক্তি দেখালেই চলবে? ধর্ম পালন নিশ্চয় করব। কিন্তু ধর্মকে হাতিয়ার করে মুখ্যমন্ত্রীর শান্তি সম্প্রীতি উন্নয়নের বার্তা ব্যর্থ করার চেষ্টা হলে? ভাবতে হবে না। বাংলার নতুন বছরে এই ভাবনাটাকেই কি পরিস্থিতির বিচারে মনে হচ্ছে না সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?
16th  April, 2017
গুম-নিখোঁজ ও পরমানন্দ মন্ত্রণালয়
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলাদেশে ‘লিট ফেস্ট’ শুরু ও শেষ হল। সেই কারণে কি না জানি না, অরুন্ধতী রায়ের দ্বিতীয় উপন্যাস ‘দ্য মিনিস্ট্রি অব আটমোস্ট হ্যাপিনেস’ হুট করে সংবাদপত্রে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এল। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় সাহিত্যিক ও সাংবাদিক, আমার অতি ঘনিষ্ঠ ও প্রিয় আনিসুল হক এই উপন্যাসের বাংলা নাম দিয়েছেন ‘পরমানন্দ মন্ত্রণালয়’।
বিশদ

লন্ডন, এডিনবরা এবং মমতা
শুভা দত্ত

দুর্গাপুজোর দিন যত এগিয়ে আসে, আনন্দটা তার সঙ্গে সমানুপাতিক হারে বাড়ে। এ আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির চিরন্তন সত্য। আর মা দুর্গাকে ঘিরে সেই উৎসবের রামধনু রং ফিকে হতে শুরু করে নবমীর সন্ধ্যা থেকেই। আজ বাদে কাল দশমী। মায়ের ফিরে যাওয়ার পালা।
বিশদ

চীনের প্রেসিডেন্ট বনাম ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ
প্রশান্ত দাস

জিনপিং দেশের বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের বললেন—আমাদের সমাজতন্ত্র দেশকে তরতর করে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। এগিয়ে চলেছে আমাদের অর্থনীতি। কিন্তু গত পাঁচ বছরে আপনারা ক’টি অবিশ্বাস্য অস্ত্র দিতে পেরেছেন সেনাদের? ভারতের ডিআরডিও কী করে পৃথিবীতে দু’নম্বর রিসার্চ সেন্টার হল? কী নেই আপনাদের? যা যা চাই, তালিকা পাঠান। যতদিন না আমরা ডিআরডিও-কে ছাপিয়ে যেতে পারছি, ততদিন আমরা নিজেদের এশিয়ার মধ্যে এক নং বলতে পারব না।
বিশদ

18th  November, 2017
রাজ্যের লাইব্রেরিগুলিকে বাঁচাতেই হবে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

মনে পড়ছে গত ডিসেম্বরের কথা। বীরভূম জেলার সরকারি বইমেলার আয়োজন হয়েছিল সিউড়িতে, ইরিগেশন কলোনির মাঠে। আমি উদ্বোধক, মঞ্চে জেলার মন্ত্রীরা, সঙ্গত কারণেই উপস্থিত ছিলেন গ্রন্থাগারমন্ত্রীও। মঞ্চে বসেই সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর সঙ্গে পরিচয়, আলাপচারিতা।
বিশদ

18th  November, 2017
মোদির আমলে শিশুদের খিদের যন্ত্রণা তীব্র, কারণ শিশু ও মহিলা উন্নয়নে গুরুত্ব কম
দেবনারায়ণ সরকার

কেন্দ্রীয় সরকারের গত ৩ বছরের বাজেটের তথ্য সার্বিকভাবে বিচার করলে দেখা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় বাজেটে মোট ব্যয় যেখানে ২১ শতাংশের বেশি বেড়েছে (টাকার অঙ্কে অতিরিক্ত প্রায় ৩ লক্ষ ৫১ হাজার কোটি টাকা), সেখানে মহিলা ও শিশু উন্নয়নে ব্যয় কপর্দকও বাড়েনি, বরং প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। একইভাবে মহিলা ও শিশু উন্নয়ন ব্যয় বাজেটের মোট ব্যয়ের ১ শতাংশের অনেক নীচে নেমেছে। মোদ্দা কথা হল, যে দেশের কেন্দ্রীয় বাজেটে মহিলা ও শিশু উন্নয়নের ব্যয় বাজেটে মোট ব্যয়ের ১ শতাংশেরও কম এবং এই ব্যয় মোদির জমানায় যেহেতু আরও কমছে, সেই দেশে রোজ রাতে খালি পেটে শুতে যাওয়া শিশুদের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধিটাই স্বাভাবিক। তাই ভারতে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অপুষ্টিও।
বিশদ

17th  November, 2017
ডেঙ্গু: রাজনীতি ছেড়ে হাত মিলিয়ে কাজের সময়
অনিরুদ্ধ কর

অবিলম্বে একটা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা নিয়মাবলী প্রকাশ করতে হবে সরকারের তরফে। সরকারি নির্দেশ মানতে বাধ্য সকল সরকারি বেসরকারি ও প্রাইভেট চিকিৎসা কেন্দ্র। অতীতের দিকে নজর দিলে দেখা যাবে বার্ড ফ্লু বা সোয়াইন ফ্লু-র সময় সরকারের তরফে এমন নিয়মাবলী প্রকাশ করা হয়েছিল। চিকিৎসাব্যবস্থায় কী কী থাকতে হবে এবং কোথায় থাকবে তাও বলে দেওয়া হয়েছিল। ফ্লু-র ওষুধ একমাত্র সরকার দিত। খোলাবাজারে মিলত না সেই ওষুধ। কারণ সেক্ষেত্রে ওষুধ নিয়ে কালোবাজারি এবং চড়া দামে ওষুধ বিক্রি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যেত। এছাড়া একটি রাজ্যস্তরের কমিটি ছিল পর্যালোচনার জন্য।
বিশদ

17th  November, 2017
প্যারিস, পরিবেশ এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভারত
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 পরিবেশ মানে হল যেখানে সেখানে থুতু না ফেলা। মন্তব্যটি আমারই এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর। এবং কী ভয়ঙ্কর সাবলীল স্বীকারোক্তি। যে দেশে ৩০ কোটি মানুষ এখনও দারিদ্রসীমার নীচে বসবাস করেন, যেখানে সাক্ষরতা বলতে বোঝানো হয় নিজের নাম সই করতে পারা, সেখানে সচেতনতার প্রাথমিক পাঠটা এমন একটা মন্তব্য দিয়ে শুরু করলে মন্দ কী!
বিশদ

16th  November, 2017
সার্ধশতবর্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি টেম্‌স থেকে গঙ্গা: ভগিনী নিবেদিতার দার্শনিক যাত্রা
জয়ন্ত কুশারী

 আয়ারল্যান্ডের স্বল্প জনবসতি শহর ডুং গানন। স্যামুয়েল রিচমন্ড নোবেল নামে এক ধর্মযাজক ও তাঁর ভক্তিমতী স্ত্রী মেরি ইসাবেল হ্যামিলটন বাস করেন এই শহরে। এঁরা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে করজোড়ে প্রার্থনা করেন সুখপ্রসবে প্রথম সন্তানটি হলে তাঁরা ঈশ্বরের চরণেই সদ্যোজাতকে সমর্পণ করবেন।
বিশদ

16th  November, 2017
নোট বাতিল: উত্তরপ্রদেশের ভোট, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং চে গুয়েভারা
শুভময় মৈত্র

নোট বাতিলের কারণ এবং ফল সংক্রান্ত আলোচনা দেখে, শুনে এবং পড়ে জনগণ এই বিষয়ে যথেষ্ট অবহিত, হয়তো বা কিছুটা ক্লান্তও বটে। বিজেপি সরকার কেন এই সিদ্ধান্ত নিলেন, এর কী কী ভুল ভ্রান্তি আছে, দেশের কী ক্ষতি হল, সাধারণ মানুষ ঠিক কতটা ভুগলেন এই নিয়ে আমরা যতটা আলোচনা করেছি সেই পরিমাণটা সময় এবং সম্পদের হিসেবে পাঁচশো আর হাজার টাকার মোট বাতিল নোটের মূল্যের থেকে বেশিও হয়ে যেতে পারে।
বিশদ

14th  November, 2017
বুকে লাল গোলাপের সেই মানুষটির কথা আজ খুব মনে পড়ছে
মোশারফ হোসেন

স্বপনদা বলত, পচার চাই। বুঝলে ভায়া, পচারটাই আসল। বাঁকুড়া মানুষ স্বপনদা র-ফলা উচ্চারণ করতে পারত না। তার মুখে ‘প্রচার’ শব্দটা ‘পচার’ হয়েই বেরত। আগ্রার ভঁপু চক্কোত্তিও একই কথা বলেছিলেন। ভঁপুবাবুর সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। এরকমই এক নভেম্বরে। উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা ভোটের খবর করতে গিয়ে।
বিশদ

14th  November, 2017
ফাইলের ভয় দেখিয়ে মুকুল কি রাজ্য রাজনীতিতে জায়গা করতে পারবেন?
শুভা দত্ত

ভয় দেখাচ্ছেন মুকুল রায়, ফাইলের ভয়। মারাত্মক তথ্য ঠাসা গোপন সব ফাইল নাকি সদ্য গেরুয়াধারী মুকুল রায়ের হাতে! সেসব ফাইলের তথ্য প্রকাশ পেলেই নাকি ধরাশায়ী হবে তৃণমূল! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্ব চলে যাবে! আর সেই সুযোগে ড্যাং ড্যাং করে মুকুল রায়ের বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের দখল নেবে। মমতা ভুলে বাংলার জনতাও মোদিজি অমিতজির বন্দনায় আত্মহারা হবে।
বিশদ

12th  November, 2017
ভারতের স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থাকে আরও জনকল্যাণমুখী ও সংগঠিত করা প্রয়োজন
বরুণ গান্ধী

 এবারে আমার আলোচনার বিষয়বস্তু হল, আমাদের দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে। খুব বেশিদিন নয়, মাত্র মাসদুয়েক আগের কথা। গোরখপুরের বি আর ডি হাসপাতালে ৬০ জন ছোট ছেলে-মেয়ে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রায় বিনা চিকিৎসায় মারা গেল। এর থেকে দুঃখের ঘটনা আর কিছু হয় না। খবরে প্রকাশ, প্রতিদিন এই হাসপাতালে গড়ে ২০০/২৫০ জন এনসেফ্যালাইটিস রোগে আক্রান্ত রোগী ভরতি হচ্ছিলেন। রোগীর এহেন ভিড়ে এখানকার চিকিৎসার পরিকাঠামো একরকম ভেঙে পড়ে। বিশদ

12th  November, 2017
একনজরে
বিএনএ, কোচবিহার: পঞ্চায়েত নির্বাচনকে পাখির চোখ করে আজ, রবিবার থেকে আদাজল খেয়ে ময়দানে নামছে কোচবিহার জেলা বিজেপি। নভেম্বরের মধ্যেই তৃণমূল স্তরে সংগঠনের বুথস্তরের কমিটি তৈরির কাজ শেষ করে ভিতকে আরও মজবুত করার ব্যাপারে রাজ্য থেকে জেলাতে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। ...

 নয়াদিল্লি, ১৮ নভেম্বর: এই প্রথম চীন থেকে আমদানি করা স্টেইনলেস স্টিলের ওপর ব্যাপকভাবে ‘কাউন্টারভেইলিং’ শুল্ক আরোপ করেছে কেন্দ্র। আগামী পাঁচ বছর চীন থেকে কেউ এই পণ্য আমদানি করলে তাকে ১৮.৯৫% হারে ‘কাউন্টারভেইলিং’ শুল্ক (সিভিডি) দিতে হবে বলে অর্থ মন্ত্রক থেকে ...

 প্রসেনজিৎ কোলে, কলকাতা: একদিকে বিদ্যুৎ চুরি, অন্যদিকে ঝড়-বৃষ্টিতে তার ছিঁড়ে পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার মতো ঘটনা এড়াতে এবার কোচবিহার এবং নবদ্বীপ শহরের গোটা বিদ্যুৎ বণ্টনের পরিকাঠামো ...

 বিএনএ, চুঁচুড়া: গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। যে সমস্ত কর্মী দলের পরিবর্তে নিজের স্বার্থরক্ষার জন্য গোষ্ঠী তৈরি করছেন, বহুবার তাঁদের সতর্ক করা হয়েছে। নিজেদের দ্রুত শুধরে নিতে না পারলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ, প্রয়োজনে বরখাস্ত করা হবে। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীদের বিষয় নির্বাচন সঠিক হওয়া দরকার। কর্মপ্রার্থীরা কোন শুভ সংবাদ পেতে পারেন। কারও সঙ্গে সম্পর্কহানি ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৩৮: সমাজ সংস্কারক কেশবচন্দ্র সেনের জন্ম
১৮৭৭: কবি করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯১৭: ভারতের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর জন্ম
১৯২২: সঙ্গীতকার সলিল চৌধুরির জন্ম
১৯২৮: কুস্তিগীর ও অভিনেতা দারা সিংয়ের জন্ম
১৯৫১: অভিনেত্রী জিনাত আমনের জন্ম

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৪.০০ টাকা ৬৫.৬৮ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৩২ টাকা ৮৭.১৯ টাকা
ইউরো ৭৫.২০ টাকা ৭৭.৮৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
18th  November, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩০,১৯৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৮,৬৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৯,০৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩ অগ্রহায়ণ, ১৯ নভেম্বর, রবিবার, প্রতিপদ রাত্রি ৭/১৫, নক্ষত্র-অনুরাধা রাত্রি ৯/৫৭, সূ উ ৫/৫৫/৪৩, অ ৪/৪৮/১৭, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/৪০ গতে ৮/৫০ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৪ গতে ২/৩৮ মধ্যে। রাত্রি ঘ ৭/২৩ গতে ৯/১১ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৯ গতে ১/৩৪ মধ্যে পুনঃ ২/২৭ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ১০/০ গতে ১২/৪০ মধ্যে, কালরাত্রি ১২/৫৯ গতে ২/৩৯ মধ্যে।
ইতু পূজা।
 
২ অগ্রহায়ণ, ১৯ নভেম্বর, রবিবার, প্রতিপদ রাত্রি ৫/৪৫/৪১, অনুরাধানক্ষত্র ৯/২৭/৫২, সূ উ ৫/৫৬/১২, অ ৪/৪৭/১৯, অমৃতযোগ দিবা ৬/৩৯/৩৬-৮/৪৯/৩৮, ১১/৪৩/০-২/৩৬/২১, রাত্রি ৭/২৫/৬-৯/১০/১৬, ১১/৪৮/৩-১/৩৩/১৪, ২/২৫/৫০-৫/৫৬/৫৮, বারবেলা ১০/০/২২-১১/২১/৪৫, কালবেলা ১১/২১/৪৫-১২/৪৩/৯, কালরাত্রি ৯/৪৩/১৩-১১/২১/৫৮।
ইতু পূজা।

২৯ শফর

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
 ইতিহাসে আজকের দিনে
 ১৮৩৮: সমাজ সংস্কারক কেশবচন্দ্র সেনের জন্ম
১৮৭৭: কবি করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ...বিশদ

08:46:15 AM

আজ শহরের তাপমাত্রা থাকবে ২৯ ডিগ্রির কাছাকাছি

08:46:14 AM

ট্রাম্প কন্যা ভারতে আসছেন ২৭শে
ভারতে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কন্যা ইভাঙ্কা। ...বিশদ

08:45:00 AM

বিজেপিতে যোগ দিলেন অভিনেতা রাহুল রায়
শনিবার বিজেপিতে যোগ দিলেন ‘আশিকি’ খ্যাত অভিনেতা রাহুল ...বিশদ

08:25:00 AM

নিলামে বিক্রি হচ্ছে ট্রাম্প-মেলেনিয়ার বিয়ের কেক
নিলামে বিক্রি হতে চলেছে ট্রাম্প-মেলেনিয়ার বিয়ের কেক। স্মারক হিসাবে মার্কিন ...বিশদ

08:10:00 AM