Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

অবরুদ্ধ কাশ্মীরে বিদেশিদের সফর, রহস্যময়ী
ম্যাডি শর্মা ও পাঁচ বাঙালির নৃশংস হত্যা 
হিমাংশু সিংহ

কাকতালীয় ঘটনা হলেও সত্যি! বাংলার পাঁচ শ্রমিককে অপহরণ করে নৃশংসভাবে খুন করার দিনেই নরেন্দ্র মোদি সরকারের সৌজন্যে অবরুদ্ধ কাশ্মীর সফর করেছেন একঝাঁক বিদেশি প্রতিনিধি। আমাদের দেশের নেতানেত্রীরা যখন ব্রাত্য তখনই আর্ন্তজাতিক ‘বিজনেস ব্রোকার’ রহস্যময়ী ম্যাডি শর্মার ব্যবস্থাপনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের আঠাশজন প্রতিনিধি তিনদিনের ভারত সফরে এসেছিলেন। কাশ্মীরে গিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে ২৩ জন। বাকি পাঁচজন কেন দিল্লি এসেও কাশ্মীরে সরকারি কন্ডাকটেড ট্যুরে গেলেন না তা অজ্ঞাত। মূলত দুটো উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা এদেশে এসেছিলেন। এক নম্বর উদ্দেশ্য, যখন কাশ্মীরে দেশের তাবড় নেতানেত্রী, সাধারণ মানুষই যাওয়ার ছাড়পত্র পাচ্ছেন না, তখন সেখানে গিয়ে কেন্দ্রের সমর্থনে সব ঠিক হ্যায় সার্টিফিকেট দেওয়া ও বিরোধীদের অভিযোগকে নস্যাৎ করা। এবং এভাবেই তাদের দেওয়া সেই শংসাপত্রের জোরে দেশে বিদেশে সরকারের মুখ উজ্জ্বল করা। আর দ্বিতীয় উদ্দেশ্য, সেই ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করা। কথা বলা। সে রাজনীতি নিয়েও হতে পারে অথবা বাণিজ্যিক আদানপ্রদান। এককথায় ‘গিভ অ্যান্ড টেক’। কিছু দাও বদলে কিছু নাও। অর্থাৎ যে কাশ্মীর ভারতের একান্ত সার্বভৌম অংশ, যেখানে কোনও বিদেশি শক্তির দৌত্য কিম্বা হস্তক্ষেপ আমরা মানব না বলে বারংবার বিশ্বমঞ্চে জানিয়ে দিয়েছি, হঠাত্ই বিশেষ উদ্দেশ্যপূরণের জন্য তা লঙ্ঘন করে পুরো বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের সামনে কাশ্মীরের দরজা হাট করে খুলে দেওয়া। সবচেয়ে আশ্চর্যের, সবটাই হল ভারত সরকারের নিজের উদ্যোগে ও ব্যবস্থাপনায়। যার সুযোগ নিল কিছু বিদেশি প্রতিনিধি এবং ইউরোপের একটি এনজিও।
কিন্তু এত করেও কি শান্ত স্বাভাবিক কাশ্মীরের সর্বাঙ্গ সুন্দর ছবিটা দুনিয়ার সামনে তুলে ধরা গেল? প্রমাণ কি দেওয়া গেল যে দেখে যাও, ৩৭০ ধারা হটিয়ে সন্ত্রাসকে পুরোপুরি জব্দ করা গিয়েছে? পরখ করো, সন্ত্রাসহীন কাশ্মীরকে। উল্টে সামনে এল নতুন সমস্যা। কাশ্মীরি-অকাশ্মীরি বিরোধ। বিদ্বেষ। ভিনরাজ্য থেকে কাজের টানে যেসব শ্রমিক কর্মচারী কাশ্মীরে আছেন তাদের উপর একটা আক্রোশ। আর সেই বিদ্বেষের মূল কারণ, ৩৭০ ধারার অবলুপ্তি। বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর একটা ধারণার সৃষ্টি হয় যে ভিনরাজ্যের লোকজন এবার কাশ্মীরের স্থাবর সম্পত্তি কিনে তার মালিক হতে পারবেন। এতদিন তা হতো না। কিন্তু নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পর উপত্যকার জমি কেনায় আর কোনও বাধা রইল না। এতে সাধারণ কাশ্মীরিরা গোটা উপত্যকার জনসংখ্যা ও জনভিত্তির পরিবর্তনের আশঙ্কায় ভীত হয়ে উঠছে। তারই জেরে বিগত ১৪ অক্টোবর থেকে একের পর এক কাশ্মীরের বুকে ভিনরাজ্যের শ্রমিকদের উপর বর্বরোচিত জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটছে। ষষ্ঠ ঘটনাটি ঘটল গত মঙ্গলবার। শেষটায় বাঙালিদের উপর। এই নিয়ে গত আড়াই সপ্তাহে মোট ১১ জন অসহায় শ্রমিক ও ট্রাক ড্রাইভার প্রাণ হারালেন। গত ১৪ অক্টোবর প্রথম ঘটনাটি ঘটে এক নিরীহ ট্রাক ড্রাইভারের হত্যা দিয়ে। তাঁর নাম ছিল মহম্মদ শরিফ। শরিফ রাজস্থানের লোক, কাজের আশায় কাশ্মীরে ডেরা বেঁধেছিলেন। এরপর ১৬ অক্টোবর পাঞ্জাবের চিরঞ্জিত সিং ও চণ্ডীগড়ের শেঠি কুমার সাগর জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান। ২৩ অক্টোবর হত্যা করা হয় মহম্মদ ইলিয়াস ও জাহিদকে। দু’জনেই রাজস্থান থেকে কাশ্মীরে কাজ করতে গিয়েছিলেন। এরপর গত সোম ও মঙ্গলবার ফের ভিনরাজ্যের শ্রমিকরা প্রাণঘাতী হামলার শিকার হলেন। এই ঘটনা ঘটল ইউরোপীয় প্রতিনিধিদলের সফরের মধ্যেই। সব মিলিয়ে এপর্যন্ত ভিনরাজ্যের শ্রমিক হত্যার ঘটনা সংক্রামিত হতে শুরু করেছে। আর ভয়টা সেখানেই। এর থেকেই স্পষ্ট, ৩৭০ ধারার অবলুপ্তির পর কাশ্মীরে জঙ্গিরা নতুন পথ বেছে নিয়েছে। জন্ম নিয়েছে নতুন ধরনের ঘৃণা ও আক্রোশের। যার সবচেয়ে খারাপ দৃষ্টান্ত অপহরণ করে নৃশংসভাবে পশ্চিমবঙ্গের পাঁচ অসহায় শ্রমিকের নির্মম হত্যা। এই ঘটনা আরও একবার জানান দিল ৩৭০ ধারার অবলুপ্তি কাশ্মীর সমস্যার প্রকৃত সমাধান হতে পারে না। উল্টে তা আরও বড় সমস্যার জন্ম দিতে বাধ্য। আর তা ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। কাজে যাওয়া অসহায় পরিবারগুলোর কী দোষ? পেটের দায়ে এদেশের যেকোনও স্থানে একজন নাগরিক যেতে পারেন। কাজ করতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গেও ভিনরাজ্যের বহু শ্রমিক কাজ করছেন। সংবিধানই দেশের প্রত্যেক নাগরিককে এই অধিকার দিয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের এই নয়া সাংবিধানিক পরিবর্তন সেখানকার অসহায় শ্রমিকদের সেই অধিকারই কি কেড়ে নিতে চলেছে?
এক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ভিনরাজ্যের প্রায় দশ লক্ষেরও বেশি শ্রমিক কাশ্মীরে এই মুহূর্তে কর্মরত। মূলত পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব ও রাজস্থানের শ্রমিকরা কাশ্মীরে কর্মরত। অথচ পরিবারগুলো ভয়ঙ্কর এক বিপন্নতা ও আশঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। কখন কার উপর আক্রমণ নেমে আসে কেউ জানে না। ৩৭০ ধারার অবলুপ্তির পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বার বার বলছেন, এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের অর্থই না কি কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ এক কথায় খতম করা। এবার ভূস্বর্গে শুধুই উন্নয়ন শুরু হবে। আপাতত মোদি সরকারের সেটাই লক্ষ্য। সেই মতো গত ১ নভেম্বর সরকারিভাবে পূর্ণরাজ্য জম্মু ও কাশ্মীর ভেঙে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্মও হয়ে গিয়েছে। দুজন লেফটেন্যান্ট গভর্নর শপথ নিয়ে কাজও শুরু করে দিয়েছেন। কিন্তু কাশ্মীর কি স্বাভাবিক হয়েছে। সেখানকার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ কি ভালো আছে? অজানা আশঙ্কা ও আতঙ্ক মানুষের আত্মবিশ্বাসকে ধ্বংস করে। আর নিরাপত্তাহীন বিপন্ন জীবন তাকে বিপথে যেতে বাধ্য করে। কাশ্মীরে নতুন করে সেই অধ্যায়ই শুরু হচ্ছে না তো?
মোদি ও অমিত শাহের বৈপ্লবিক সিদ্ধান্তের ফলশ্রুতিতেই গত ৫ আগস্ট সংসদে ঐতিহাসিক কাশ্মীর পুনর্গঠন বিলটি পাশ হয়। আর মাত্র গত শুক্রবারই পূর্ণ রাজ্যের তকমা হারিয়ে গোটা জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য দু’ভাগে বিভক্ত হয়েছে। শুরু হয়েছে নতুন পথচলা। কিন্তু এখনও দেশের সাধারণ মানুষ বিনা বাধায় কাশ্মীরে যাওয়ার ছাড়পত্র পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। নেতানেত্রীদের সুপ্রিম কোর্টের ছাড়পত্র জোগাড় করতে হচ্ছে। পরিস্থিতিটা এতই খারাপ যে আগস্টের পর থেকে বহু এলাকায় দোকানপাট, স্কুল কলেজ, অফিস কাছারি আজও স্বাভাবিক হয়নি। স্কুল খুললেও অজানা আশঙ্কায় কেউ ছেলে মেয়েদের পাঠাচ্ছেন না। দোকানপাট সকালে খুব অল্প সময়ের জন্য খুলেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অনেক দোকানে আবার স্থানীয় লোকজন ছাড়া অন্যদের জিনিসপত্রই বিক্রি করা হচ্ছে না। আর এই অন্যায় ও আশঙ্কার কারণেই উৎসব মরশুমেও ভূস্বর্গ কার্যত পর্যটকশূন্য হয়েই থেকে গিয়েছে। একেই বোধহয় বলে অঘোষিত জনতা কার্ফু। যেখানে সাধারণ মানুষ নিজে থেকেই নিজেকে ঘরবন্দি করে রেখে প্রতিবাদ জানায়। সরকারি নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখানো তথা পত্রপাঠ প্রত্যাখ্যান করার এ এক অভিনব উপায়, সন্দেহ নেই। গত তিন মাসে শ্রীনগর বিমানবন্দরে নেমেই ফিরতে হয়েছে অনেককে। পরে অবশ্য দু’একজন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ নিয়ে উপত্যকায় ঢুকেছেন। কিন্তু রাজ্যের প্রাক্তন দুই মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা, পুত্র ওমর আবদুল্লা ও মেহবুবা মুফতি এখনও কার্যত অন্তরালেই। বহু ছোট ব্যবসায়ী কাজ হারিয়ে রোজগার হারিয়ে অসহায় দিনযাপন করছেন। সেই আগস্ট মাস থেকে পর্যটন শিল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে। মুখ থুবড়ে পড়েছে কৃষি ও হস্তশিল্পও। এই সব কাজে নিযুক্ত কৃষক, শ্রমিক, হস্তশিল্পী, রাজমিস্ত্রিরা দলে দলে এসেছে ভিনরাজ্য থেকে। এতদিন তাদের সঙ্গে কাশ্মীরের মানুষের শত্রুতা তৈরি হয়নি। কিন্তু এবার বাইরের রাজ্যের লোকেরা জমি বাড়ি সম্পত্তি কেনার আইনি অধিকার পেতে চলেছেন বলে যেই রটছে, তখনই বিদ্বেষের সৃষ্টি হচ্ছে। এই কাশ্মীরি আর অকাশ্মীরি বিভেদ ও দূরত্ব আগামী দিনে আরও বাড়তে বাধ্য। কিন্তু এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সুদূর ব্রাসেলসের একটি এনজিও ও তার প্রধান অখ্যাত ম্যাডি শর্মার আমন্ত্রণে কাশ্মীর দেখতে আসছেন একদল ইউরোপীয় প্রতিনিধি, এটাই অবাক করা ঘটনা। ব্যাপারটা মোটেই সহজবোধ্য নয়। আবার বলা হচ্ছে এটা না কি তাঁদের ব্যক্তিগত সফর! বিরোধীরা স্বভাবতই জোরালো ভাষায় প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। যদি সরকার এর সঙ্গে যুক্ত নাই থাকে তবে কার অঙ্গুলিহেলনে ‘ওয়েস্ট’ নামে ওই সংস্থার পক্ষ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হল, তা চরম রহস্যাবৃত। দেশের লোকের যাওয়ার অনুমতি নেই অথচ বেমালুম কিছু বিদেশি শুধু শ্রীনগর ঘুরে সর্বত্র শান্তি বিরাজ করছে বলে সার্টিফিকেট দিচ্ছেন, এ বড়ই বেমানান। তার উপর একজন বিদেশি মহিলা সেই সফরের মূল আয়োজক এটাই নানা সন্দেহেরও জন্ম দিতে বাধ্য। যার পরিষ্কার উত্তর সরকারি তরফেও এখনও দেওয়া হয়নি। তবে একটা জিনিস পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে যে যতই ঢাক ঢোল পেটানো হোক, উপত্যকায় এখনই জঙ্গি কার্যকলাপ বন্ধ হওয়া দূরঅস্ত! আগামী দিনে ভূস্বর্গে সন্ত্রাস নতুন চেহারায় সামনে আসবে এবং ক্রমাগত সাধারণ মানুষকে বিপন্ন করবে, এই আশঙ্কাই বদ্ধমূল হচ্ছে।  
03rd  November, 2019
মূল্যবোধের রাজনীতি ও
মহারাষ্ট্রের কুর্সির লড়াই
হিমাংশু সিংহ

আজকের নির্বাচনী রাজনীতি যে কতটা পঙ্কিল ও নোংরা তারই জ্বলন্ত প্রমাণ আজকের মহারাষ্ট্র। সঙ্কীর্ণ স্বার্থসর্বস্ব রাজনীতিতে ক্ষমতা দখলের নেশায় ছোটবড় প্রতিটি রাজনৈতিক দলই আজ মরিয়া। মহারাষ্ট্রের ফল বেরনোর পর গত তিন সপ্তাহের রাজনীতির নাটকীয় ওঠাপড়া সেই অন্ধকার দিকটাকেই বড় প্রকট করে তুলেছে। ভোটের ফল ও কে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসবেন তা নিয়ে দুই পুরনো জোট শরিকের দ্বন্দ্ব যে দেশের বাণিজ্য পীঠস্থান মুম্বই তথা মহারাষ্ট্রকে এমন নজিরবিহীন সঙ্কটে ফেলবে, তা কে জানত? যে জোট পাঁচ বছর ধরে রাজ্য শাসন করল এবং এবারও গরিষ্ঠতা পেল, সেই জোটই ভেঙে খান খান!
বিশদ

ঘর ওয়াপসি ও কিছু প্রশ্ন
তন্ময় মল্লিক

 ঘর ওয়াপসি। ঘরে ফেরা। ‘ভাইজান’ সিনেমার ছোট্ট মুন্নির ঘরে ফেরার কাহিনীর দৌলতে ‘ঘর ওয়াপসি’ এখন আমবাঙালির অতি পরিচিত শব্দ। সেই পরিচিত শব্দটি অতি পরিচিতির মর্যাদা পেয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক নেতাদের একাংশের ঘন ঘন জার্সি বদলের দৌলতে।
বিশদ

16th  November, 2019
জল বেড়েছে, বোধ বাড়েনি
রঞ্জন সেন

 সমুদ্রের জলস্তর বাড়ার ফলে পৃথিবীর বহু উপকূলবর্তী দেশ ও দ্বীপ বিপন্ন হবে বলে পরিবেশবিজ্ঞানীরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। তাঁরা এটাও বলছেন আমরা সবাই মিলে এবং রাষ্ট্রনায়কেরা চাইলে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে এই অবস্থার মোকাবিলা করতে পারি। বিশদ

16th  November, 2019
সংবিধানই পথ
সমৃদ্ধ দত্ত

 তিন বছর ধরে সংবিধান রচনার কাজ অবশেষে যখন সমাপ্ত হল, তখন ১৯৪৯ সালের ২৫ নভেম্বর ভারতীয় সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া পেশ করে সংবিধান-সভায় তাঁর সর্বশেষ বক্তৃতায় সংবিধান রচনা কমিটির চেয়ারম্যান ড.ভীমরাও আম্বেদকর আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, ভারতের এই সংবিধানের মূল সুর এবং গণতন্ত্র কি আদৌ শেষ পর্যন্ত আগামী দিনে রক্ষা করা সম্ভব হবে? বিশদ

15th  November, 2019
পঞ্চাশোর্ধ্বে বানপ্রস্থ?
অতনু বিশ্বাস

পঞ্চাশ ছুঁই-ছুঁই হয়ে একটা প্রায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধ ভাব এসেছে আমার মধ্যে। সেটা খুব অস্বাভাবিক হয়তো নয়। এমনিতেই চারপাশের দুনিয়াটা বদলে গিয়েছে অনেক। চেনা-পরিচিত বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলো হঠাৎ যেন বড় হয়ে গিয়েছে। আমাকে ডাকনাম ধরে ডাকার লোকের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। বুড়ো হবার সব লক্ষণ একেবারে স্পষ্ট। 
বিশদ

14th  November, 2019
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দৃঢ় নীতির
কাছে ভারতের স্বার্থটাই সবার উপরে
অমিত শাহ

 মোদিজির নেতৃত্বাধীন উন্নতশির ভারতের কথা বিবেচনা করে আরসিইপি সদস্য রাষ্ট্রগুলি বেশিদিন আমাদের এড়িয়ে থাকতে পারবে না। তারা আমাদের শর্তে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে রাজি হবে। এর মধ্যে আমরা এফটিএ মারফত আসিয়ান রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্করক্ষায় সফল হয়েছি। আরসিইপি প্রত্যাখ্যান করে চীনের সম্ভাব্য গ্রাস থেকে আমাদের শিল্পকে আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে সুরক্ষা দিতে পেরেছি। আমাদের জন্য ভারতের স্বার্থটাই সবার আগে। বিশদ

13th  November, 2019
ভাষা বিতর্কে জেইই মেনস
শুভময় মৈত্র

পশ্চিমবঙ্গের যে সমস্ত ছাত্রছাত্রী এই ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসেন, তাঁরা মোটামুটি ভালোভাবেই ইংরেজি পড়তে পারেন। তার জন্যে কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল বা বিজেপির কোনও কৃতিত্ব নেই। সারা দেশের মধ্যে বাঙালিরা যে শিক্ষা সংস্কৃতিতে বেশ এগিয়ে আছে সেটা বোঝার জন্যে প্রচুর পরিসংখ্যান আছে, যেগুলো জায়গামতো ছাপা হয় না। বিশেষ করে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এরাজ্যের ছেলেমেয়েরা ঐতিহ্যগতভাবে ভালো, ঔপনিবেশিক কারণে ইংরেজিতেও। সেখানে জেইই মেনসের মতো পরীক্ষার প্রশ্ন বাংলায় করতে হবে বলে বাংলার পরীক্ষার্থীদের না গুলিয়ে দেওয়াই মঙ্গল। বিশদ

13th  November, 2019
অস্তাচলে মন্দির রাজনীতি
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

সালটা ১৯৯২। লালকৃষ্ণ আদবানির ‘রথযাত্রা’ শুরু হওয়ার ঠিক আগের কথা...। কথোপকথন চলছে বিজেপি নেতার সঙ্গে বজরং দলের এক নেতার। ‘বাবরির কলঙ্ক মুছে দিতে পারবে না?’ বজরং দলের সেই নেতা উত্তর দিলেন ‘আপনার নির্দেশের অপেক্ষাতেই তো বসে আছি। 
বিশদ

12th  November, 2019
প্রেমময় শ্রীকৃষ্ণের মধুর রাসলীলা
চিদানন্দ গোস্বামী

বিশারদ সর্ব বিষয়ে। বাঁশিতে, রথ চালনায়, চৌর্যকর্ম, কূটনীতি, যুদ্ধবিদ্যা, ছলচাতুরি—সবকিছুতেই বিশারদ। আর প্রেমপিরিতে তো মহা বিশারদ। এবং, কলহ বিতর্ক বাগযুদ্ধ যুক্তি জাদু, অপমান উপেক্ষা করতেও কম যায় না। অথচ পরমতম প্রেমিক পুরুষ। হ্যাঁ, এমন প্রেম জানে ক’জনা! আর, সেই প্রেমেও কত না কাণ্ড!  
বিশদ

11th  November, 2019
ক্ষমতায় ফিরে আসার লক্ষ্যে কমনিষ্ঠ পার্টি অব মৃত্যুলোকের নয়া পরিকল্পনা
সন্দীপন বিশ্বাস

হাতের চুরুটটা নিভতে নিভতেও আগুন ছুঁয়ে আছে। আর কমরেট প্রমোদিয়েভ ঝিমোতে ঝিমোতেও জেগে আছেন। ওদিকে কমরেট জ্যোতোভস্কি আরাম কেদারায় হেলান দিয়ে টেবিলে পা তুলে দিয়ে টিভি দেখছেন। একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি। এখনও অন্য কমরেটরা আসেননি। 
বিশদ

11th  November, 2019
সবার হাতে কাজ ছাড়া ‘সবকা বিকাশ’ অসম্ভব, মন্দির-মসজিদে তো পেট ভরবে না
হিমাংশু সিংহ

২০১৯ প্রায় শেষের দিকে। নতুন বছর আসতে আর বাকি দেড় মাসের সামান্য বেশি। বছরের শুরুটায় আপামর দেশবাসী মেতেছিল সাধারণ নির্বাচন নিয়ে। পাঁচবছরের জন্য কে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসবে তা ঘিরে রাজনৈতিক দাপাদাপি আর তরজায় জমজমাট ছিল বছরের শুরুটা। বিশদ

10th  November, 2019
পঞ্চাশোর্ধ্বে বানপ্রস্থ?
অতনু বিশ্বাস

 পঞ্চাশ ছুঁই-ছুঁই হয়ে একটা প্রায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধ ভাব এসেছে আমার মধ্যে। সেটা খুব অস্বাভাবিক হয়তো নয়। এমনিতেই চারপাশের দুনিয়াটা বদলে গিয়েছে অনেক। চেনা-পরিচিত বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলো হঠাৎ যেন বড় হয়ে গিয়েছে। আমাকে ডাকনাম ধরে ডাকার লোকের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে।
বিশদ

09th  November, 2019
একনজরে
ইন্দোর, ১৬ নভেম্বর: ইনিংস জয়ের হ্যাটট্রিক করে ফেলল ‘টিম ইন্ডিয়া’। গত সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্ট ইনিংসের ব্যবধানে জিতেছিল কোহলি বাহিনী। সাফল্য ...

 কলম্বো, ১৬ নভেম্বর: অপ্রীতিকর নানা ঘটনার মধ্যেই শনিবার সম্পন্ন হল শ্রীলঙ্কার ভোট। আর এই ভোটে শ্রীলঙ্কার দিকে বিশেষ নজর ছিল ভারতের। ভারতের মূল চিন্তা মহিন্দা রাজাপাকসে। যদি তাঁর দল পুনরায় ক্ষমতায় ফেরে, তাহলে তা ভারতের জন্য খুব ভালো হবে না, ...

 দীপ্তিমান মুখোপাধ্যায়। হাওড়া: এবার আর ব্লক অফিসে নয়, গ্রাম পঞ্চায়েতস্তরে জেলা প্রশাসনের সমস্ত বিভাগকে নিয়ে গিয়ে বৈঠক করতে হবে জেলাশাসকদের। বছরে প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে অন্তত তিন থেকে চারবার যাতে এই বৈঠক করা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতা মেট্রোপলিটন এলাকায় লজিস্টিকস বা পণ্য পরিবহণ ও মজুত রাখা সংক্রান্ত পরিকাঠামো গড়তে উৎসাহী বিশ্ব ব্যাঙ্ক। এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যের সঙ্গে প্রাথমিক কথাবার্তা হয়েছে তাদের। ওই প্রকল্পের মাস্টার প্ল্যান আগামী সপ্তাহে চূড়ান্ত হতে পারে বলে শনিবার দাবি ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চতর বিদ্যায় আগ্রহ বাড়বে। মনোমতো বিষয় নিয়ে পঠন-পাঠন হবে। ব্যবসা স্থান শুভ। পৈতৃক ব্যবসায় যুক্ত ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

আন্তর্জাতিক সহনশীলতা দিবস
১৮১২ - ‘দ্য টাইমস’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা জন ওয়ালটারের মৃত্যু ।
১৮৯০ -অবিভক্ত ভারতে প্রথম সিরাম ভ্যাকসিন ও পেনিসিলিন প্রস্তুতকারক বিশিষ্ট ভেষজ বিজ্ঞানী ও চিকিৎসক হেমেন্দ্রনাথ ঘোষের জন্ম।
১৯৪৬ - বিশ্বে প্রথমবারের মত কৃত্রিমভাবে বৃষ্টিপাত সৃষ্টি করা হয়।
১৯৬৩: ঝাড়খণ্ডে জন্মগ্রহণ করেন অভিনেত্রী মীনাক্ষি শেষাদ্রি
১৯৭১: পাকিস্তানের ক্রিকেটার ওয়াকার ইউনিসের জন্ম
১৯৮৮: এক দশকেরও বেশি সময় পর পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হল অবাধ নির্বাচন। সেই নির্বাচনে দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন বেনজির ভুট্টো

16th  November, 2019




ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.০২ টাকা ৭৩.৫৬ টাকা
পাউন্ড ৯০.০৫ টাকা ৯৪.৯০ টাকা
ইউরো ৭৭.১৩ টাকা ৮১.২৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
16th  November, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৭৪০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৭৫৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,৩০৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৪,৭০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,৮০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩০ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, রবিবার, পঞ্চমী ৩১/১৫ রাত্রি ৬/২৩। পুনর্বসু ৪২/৪৪ রাত্রি ১০/৫৯। সূ উ ৫/৫৪/৩, অ ৪/৪৮/৫৭, অমৃতযোগ দিবা ৬/৩৭ গতে ৮/৪৮ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৩ গতে ২/৩৮। রাত্রি ৭/২৬ গতে ৯/১১ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৮ গতে ১/৩৩ মধ্যে পুনঃ ২/২৪ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ১০/০ গতে ১২/৪৩ মধ্যে, কালরাত্রি ১২/৫৯ গতে ২/৩৯ মধ্যে।
৩০ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, রবিবার, পঞ্চমী ২৮/২৫/৫০ সন্ধ্যা ৫/১৭/৫৯। পুনর্বসু ৪১/৫৬/২২ রাত্রি ১০/৪২/১২, সূ উ ৫/৫৫/৩৯, অ ৪/৪৯/১৪, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫০ গতে ৮/৫৭ মধ্যে ও ১১/৪৮ গতে ২/৩৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২৭ গতে ৯/১৪ মধ্যে ১১/৫৩ গতে ১/৪০ মধ্যে ও ২/৩৩ গতে ৫/৫৭ মধ্যে, বারবেলা ১০/০/৪৫ গতে ১১/২২/২৬ মধ্যে, কালবেলা ১১/২২/২৬ গতে ১২/৪৪/৮ মধ্যে, কালরাত্রি ১/০/৪৫ গতে ২/৩৯/৩ মধ্যে।
১৯ রবিয়ল আউয়ল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
সুপ্রিম কোর্টে অযোধ্যা মামলার রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানাবে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড 

04:12:19 PM

জম্মু ও কাশ্মীরের আমিরাবাদ গ্রামে ট্রাকে আগুন লাগাল জঙ্গিরা 

03:21:29 PM

আইসিসি টেস্ট বোলারদের তালিকায় প্রথম দশে স্থান পেলেন মহঃ সামি 

03:21:00 PM

ইকো পার্কে জলে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের 

03:11:00 PM

কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রীকে
চিকিৎসার জন্য কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে। ...বিশদ

02:56:00 PM

পঃ বর্ধমানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মূর্তি ভাঙার অভিযোগ
শনিবার রাতে পশ্চিম বর্ধমানের মানকর স্টেশন রোড এলাকায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ...বিশদ

01:23:59 PM