Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

মোদি সরকারের অভূতপূর্ব কাশ্মীর পদক্ষেপ পরবর্তী ভারতীয় কূটনীতির সাফল্য-ব্যর্থতা
গৌরীশঙ্কর নাগ

গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা লোপ করে মোদি-শাহ জুটি এক অর্থে মাস্টার্স স্ট্রোক দেওয়ার পর একমাস অতিক্রান্ত। অথচ বিতর্কের পারদ নামার লক্ষণ এখনও পর্যন্ত নেই। কেউ বলছেন এটা একতরফা। আবার কেউ আরও কড়া সুরে এটাও বলছেন যে, কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ উপনিবেশ। সর্বোচ্চ আদালতে কড়া নাড়া থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায় প্রতিদিনই কাশ্মীর নিয়ে ঝড় তোলা কোনও না কোনও প্রতিবেদন আমরা দেখতে পাচ্ছি। এই অবস্থায় এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ৩৭০ ধারা বিলোপ পর্বের প্রাথমিক অবস্থাটা আমরা অত্যন্ত উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছি। এই উদ্বেগের প্রধান কারণ অবশ্যই ভারতের প্রধান শত্রু—পাকিস্তানের দিক থেকে ধেয়ে আসা একের পর এক উস্কানিমূলক বাচনিক শক্তিশেল; তার কথায় আমরা পরে আসব, তবু কেবল সেটাই নয়, বরং চীনা ড্রাগনের কপালেও চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে ভারতের এই সাংবিধানিক পরিবর্তন। বস্তুত দক্ষিণ এশিয়ার ভৌগোলিক মানচিত্রে চীন যখন তার অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করতে উদ্‌গ্রীব, তখন ভারতের এই পদক্ষেপে চীনের ইমপেরিয়াল মনোভাব যেন একটা মোক্ষম ধাক্কা খেয়েছে।
সেই ইগোর আঘাত থেকে চীনের দিক থেকে ধেয়ে এসেছে তিনটি প্রতিক্রিয়া: (১) চীন মনে করছে এই পরিবর্তনের ফলে তার ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হয়েছে, বিশেষত সংখ্যাগুরু বৌদ্ধধর্মাবলম্বী সন্নিবিষ্ট লাদাখ-কে ভারত নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বলে ঘোষণা করায় চীনের কাছে মনে হয়েছে ভারতের এই চাল তিব্বত ইস্যুকে ইন্ধন জোগাবে। অথচ খুঁটিয়ে দেখলে আমরা দেখব ভারত স্বাধীনতার পর থেকে তিব্বত নিয়ে যতটা ভেবেছে, তার বিন্দুমাত্র চিন্তাও সে লাদাখ-নীতি প্রণয়নে ব্যয় করেনি। যদি তাই হতো তাহলে পূর্ব লাদাখের বিস্তৃত ক্ষেত্র, এমনকী যা কৈলাসের মানস সরোবর পর্যন্ত সম্প্রসারিত, তাকে নিয়ে এখনকার মতো ভারতকে নতুন করে চিন্তা করতে হতো না। (২) ভারত-পাক বিবাদে চীন খানিকটা বড়দার মতো উভয়পক্ষকে সংযত হতে বলেছে। (৩) এখানেও না থেমে চীন ভারতের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেও নালিশ ঠুকেছে।
অবশ্য এসব কিছুকে উপচে ভারতের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে আরও তিনটি কড়া আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া। প্রথমেই বলা যেতে পারে ইরানের কথা। ইরানের কথা আসতেই ভারতের প্রাচীন সভ্যতার সঙ্গে এই অঞ্চলের বাণিজ্যিক যোগসূত্রের প্রসঙ্গটি এসে পড়ে। আবার ভারত বরাবরই তার অপরিশোধিত তেল আমদানির সিংহভাগই ইরানের থেকে করে আসছে। এই ভারত-ইরান বাণিজ্যিক বোঝাপড়া এতটাই উভয় পক্ষের বিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে যে, ভারতীয় মুদ্রায় তেলের দাম নিতে ইরান রাজি হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানকে বাইপাস করে আফগানিস্তানে পৌঁছানোর ভারতীয় নকশার বড় সহায় ইরানের চাবাহার বন্দর-শহর। তাছাড়া গত জুলাই মাসে হরমুজ স্ট্রেটে ইরান যখন একটি ব্রিটিশ তৈল জাহাজকে আটক করে, যা নিয়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা ইরান কর্তৃক মার্কিন নজরদারি ড্রোনকে গুলি করে ভূপতিত করার বিতর্কে নতুন ইন্ধন জোগায়, সেই অবস্থাতেও ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের আহ্বানে সাড়া দিয়ে রিয়াধ নয়জন ভারতীয় নাবিককে মুক্তি দিয়েছিল। এহেন ইরানের কাছে যেটা প্রত্যাশিত ছিল না, সেই অনভিপ্রেত বার্তাই ধেয়ে আসে যখন ভারত ৩৭০ ধারা লোপ করে। খোমেইনির ইরান ভারতের পদক্ষেপে উষ্মা ব্যক্ত করতে দ্বিধা করেনি।
দ্বিতীয়ত, ভারতের পদক্ষেপকে সমালোচনা করতে দেখা গিয়েছে এরদোগানের তুর্কিকে। তুর্কি কেবল ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলির মধ্যে অনন্য স্থান অধিকার করেই নয়, বরং ইসলামিক রাষ্ট্রগুলির মধ্যেও তার বিশেষ প্রভাব রয়েছে।
তৃতীয়ত, ভারতের দিক থেকে বিশেষ মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছিল মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধান ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া। দক্ষিণ এশিয়ায়, বিশেষত আফগানিস্তানে তালিবানের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে যখন মার্কিন বিদেশনীতি মুখ থুবড়ে পড়ছে, তখন খানিকটা ইমরানের পাকিস্তানকে তোয়াজ করতেই ট্রাম্প কাশ্মীর নিয়ে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়ে বসেন। ভারতের দিক থেকে এর তীব্র প্রতিক্রিয়া ঘটে ট্রাম্পের ২৩ জুলাইয়ের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যখন আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বলা হয় মোদির কথাতেই তিনি এমন প্রস্তাব দিয়েছেন। ফলে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে হঠাৎ এতটাই পারদ চড়তে শুরু করেছিল যে, কেবল সামরিক আঁট-দরাজে আর কাজ হচ্ছিল না। সংবিধান সংশোধনের রাজনৈতিক ভাবনার সূত্রপাত সেখান থেকেই।
কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে যেটা উচিত ছিল তা হল ভারতের নমনীয় শক্তির ব্যবহার তথা কূটনৈতিক কাঠামোর মাধ্যমে এই পদক্ষেপের সমর্থনে পোক্ত জমি তৈরি করা। ৩৭০ ধারার মতো এত বড় মাপের পদক্ষেপ গ্রহণের পূর্ব মুহূর্তে ভারত আমেরিকা, রাশিয়ার মতো বৃহৎ শক্তিগুলিকে অবহিত করলেও ভারতের উচিত ছিল আরও গুছিয়ে ‘হোমওয়ার্ক’ করা। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখলাম এই অসময়ে ভারতের ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’ হিসেবে অবতীর্ণ হলেন বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। দোভাল যখন কাশ্মীরে, তখন জয়শঙ্কর কূটনৈতিক দৌত্যের জোয়াল কাঁধে নিয়ে হাজির চীনে। তাতেও যে চিঁড়ে ভেজেনি, তার প্রমাণ মিলল যখন রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হোক—চীনের এমন প্রস্তাবে বেশ বিব্রতভাবেই, যদিও মুখে হাসি নিয়ে, কাশ্মীর প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত ঋজুতার সঙ্গে ব্যাখ্যা করলেন ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি সৈয়দ আকবরউদ্দিন।
বস্তুত একটা সময় মনে হয়েছিল সরকার কতটা এই নার্ভের উপর চাপ নিতে প্রস্তুত? কারণ কাশ্মীরকে ঘিরে কেবল উপত্যকার রাজনীতিই যে আবর্তিত হয়েছে—এমনটা নয়, বরং গত সাত দশকে কাশ্মীর নীতি যেভাবে কেন্দ্র-রাজ্য পারস্পরিক দোষারোপের ও রাজনীতির পাশা খেলার একটা মুখ্য ঘুঁটি হয়ে উঠেছিল, তাতে করে কাশ্মীরবাসীর উন্নয়ন তো দূর অস্ত, বরং ‘দশচক্রে ভগবান ভূতের’ মতো অবস্থা হয়েছিল। পরিস্থিতি যে হাতের বাইরে চলে যাচ্ছিল তা বোঝা গিয়েছিল পুলওয়ামায় ভারতীয় সেনা কনভয়ের উপর জঙ্গি-হামলার ঘটনার মধ্য দিয়ে। আফগানিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি যতটাই দুর্বল হয়ে পড়ছিল, ততই আমরা দেখছিলাম কাশ্মীরের যে ভাবাবেগ তাকে কাজে লাগিয়ে সেখানে ইসলামিক ক্যালিফেট গড়ে তোলার ভয়ঙ্কর অপচেষ্টা। ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের মোক্ষম চালের মাধ্যমে যখন ৩৭০ ধারা রদ হল, তখন অচিরে বোঝাই গিয়েছিল যে সঙ্কট কাটিয়ে অচিরে উপত্যকায় নতুন সূর্যোদয় হবে। কিন্তু বাহ্যিক পরিস্থিতিকে খুব বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য মনে হয় না এতটা জোরালো পরিকল্পিত আয়োজন আমাদের ছিল। এর কারণ:
প্রথমত, আমরা বারবার আমেরিকাকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছি যে, দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানকে ভারতের সঙ্গে এক আসনে বসানো চলে না।
দ্বিতীয়ত, ভারতের এই পদক্ষেপের ঠিক পরে পরেই পাকিস্তানের তরফে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়, যার মধ্যে ভারতের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ককে বাতিল করা থেকে ভারতীয় কনভয়ের বহিষ্কার, সমঝোতা এক্সপ্রেস, বাস-সার্ভিস বাতিলের মতো একতরফা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের হিড়িক আমরা লক্ষ করি। এখানেও না থেমে পাকিস্তান তার ঘনীভূত অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে দৃষ্টি ঘোরাতে ভারতের বিরুদ্ধে পুনরায় জঙ্গি আক্রমণের হুমকি দিতে থাকে। কাশ্মীরের ভাবাবেগকে কাজে লাগিয়ে পাঞ্জাব সীমান্তে কর্তারপুর করিডরকে খালিস্তানি জঙ্গিদের মুক্তাঞ্চলে পরিণত করার চরম হুঁশিয়ারিও দিতে থাকে।
তৃতীয়ত, পরিস্থিতি যথেষ্ট উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শেষ অবধি আসরে নামতে দেখা গেল প্রবীণ রাজনাথ সিংকে। মঞ্চে অবতীর্ণ হয়েই তিনি কূটনৈতিক ভঙ্গিমায় এমন বার্তাও দিলেন যে, ভারত প্রয়োজনে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে তার স্ব-ঘোষিত 'No First use doctrine' থেকে সরে আসতে পারে।
চতুর্থত, উপমহাদেশের রাজনীতিতে কাশ্মীর ইস্যুর মহিমা মালুম হল যখন আমরা দেখলাম ভারতের এ-স্যাট উৎক্ষেপণ ও চন্দ্রযান-২ অভিযান পাবলিক ডোমেনে আলোচনার মধ্যে যে বৌদ্ধিক ঝোঁক সম্প্রতি নিয়ে এসেছিল, তার রং পুরো পাল্টে গেল। পুনরায় আমরা যেন একটা নিরাপত্তা সঙ্কটের মধ্যে বাস করছি এমন হবসীয় বাতাবরণ প্রকাণ্ড পর্দার মতো আমাদের অর্থনীতির স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা যা বাণিজ্যিক ভ্যালু চেনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত—এইসব বিষয়গুলোকে মুহূর্তে যেন অন্তরালে ঠেলে দিল। বলা বেশ কঠিন ভারতীয় কূটনীতি সেই মেঘাচ্ছন্ন আকাশে কতটা আলোর দিশা দেখাতে পারবে।
 লেখক অধিকর্তা, অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান সেন্টার ফর সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ, সিধো-কানহো-বীরসা বিশ্ববিদ্যালয়
14th  September, 2019
ব্যাঙ্ক-সংযুক্তিকরণ কতটা সাধারণ মানুষ এবং সামগ্রিক ব্যাঙ্কব্যবস্থার উন্নতির স্বার্থে?
সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়

অনেকগুলি ব্যাঙ্ক সংযুক্ত করে দেশে সরকারি ব্যাঙ্কের সংখ্যা কমিয়ে আনা হল আর সংযুক্তির পর চারটি এমন বেশ বড় ব্যাঙ্ক তৈরি হল, আকার আয়তনে সেগুলিকে খুব বড় মাপের ব্যাঙ্কের তকমা দেওয়া যাবে। এসব ঘোষণার পর অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য, এতে দেশের অর্থনীতির খুব উপকার হবে।  
বিশদ

রাজনীতির উত্তাপ কি পুজোর আমেজ
জমে ওঠার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে?
শুভা দত্ত

 পরিস্থিতি যা তাতে এমন কথা উঠলে আশ্চর্যের কিছু নেই। উঠতেই পারে, উঠছেও। বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসবের মুখে প্রায় প্রতিদিনই যদি কিছু না কিছু নিয়ে নগরী মহানগরীর রাজপথে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে, পুলিস জলকামান, লাঠিসোঁটা, কাঁদানে গ্যাস, ইটবৃষ্টি, মারদাঙ্গা, রক্তারক্তিতে যদি প্রায় যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং তাতে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনজীবন ব্যবসাপত্তর উৎসবের মরশুমি বাজার কিছু সময়ের জন্য বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তবে এমন কথা এমন প্রশ্ন ওঠাই তো স্বাভাবিক।
বিশদ

15th  September, 2019
আমেরিকায় মধ্যবয়সের
সঙ্গী সোশ্যাল মিডিয়া
আলোলিকা মুখোপাধ্যায়

যে বয়সে পৌঁছে দূরের আত্মীয়স্বজন ও পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ক্রমশ আগের মতো সম্ভব হয় না, সেই প্রৌঢ় ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধার জীবনে ইন্টারনেট এক প্রয়োজনীয় ভূমিকা নিয়েছে। প্রয়োজনীয় এই কারণে যে, নিঃসঙ্গতা এমন এক উপসর্গ যা বয়স্ক মানুষদের শরীর ও মনের উপর প্রভাব ফেলে। বিশদ

14th  September, 2019
ব্যর্থতা নয়, অভিনন্দনই
প্রাপ্য ইসরোর বিজ্ঞানীদের
মৃণালকান্তি দাস

 কালামের জেদেই ভেঙে পড়েছিল ইসরোর রোহিনী। না, তারপরেও এ পি জে আব্দুল কালামকে সে দিন ‘ফায়ার’ করেননি ইসরোর তদানীন্তন চেয়ারম্যান সতীশ ধাওয়ান! বলেননি, ‘দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল কালামকে’! তার এক বছরের মধ্যেই ধরা দিয়েছিল সাফল্য। ধাওয়ানের নির্দেশে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন সেই কালাম-ই। তাঁর কথায়, ‘ওই দিন আমি খুব গুরুত্বপূর্ণ পাঠ পেয়েছিলাম। ব্যর্থতা এলে তার দায় সংস্থার প্রধানের। কিন্তু,সাফল্য পেলে তা দলের সকলের। এটা কোনও পুঁথি পড়ে আমাকে শিখতে হয়নি। এটা অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত।’ বিশদ

13th  September, 2019
রাষ্ট্রহীনতার যন্ত্রণা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভিক্টর নাভরস্কি নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে আবিষ্কার করলেন, তিনি আচমকাই ‘রাষ্ট্রহীন’ হয়ে পড়েছেন। কারণ, তাঁর দেশ ক্রাকোজিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলির কাছে মানবিকতার নিরিখে ক্রাকোজিয়ার আর কোনও ‘অস্তিত্ব’ নেই।
বিশদ

10th  September, 2019
জাতির গঠনে জাতীয় শিক্ষানীতি
গৌরী বন্দ্যোপাধ্যায়

 অভিধান অনুসরণ করে বলা যায়, পঠন-পাঠন ক্রিয়াসহ বিভিন্ন অভিজ্ঞতালব্ধ মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানোর প্রক্রিয়াই শিক্ষা। জ্ঞানকে বলা হচ্ছে অভিজ্ঞতালব্ধ প্রতীতি। শিক্ষা দ্বারা অর্জিত বিশেষ জ্ঞানকে আমরা বিদ্যা বলি। কালের কষ্টিপাথরে যাচাই করে মানুষ আবহমান কাল ধরে নিজ অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানরাশিকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পুস্তকের মধ্যে লিখে সঞ্চিত করে গেছে।
বিশদ

09th  September, 2019
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের শতবর্ষে ভারত প্রান্তিক রাষ্ট্র থেকে প্রথম দশে, লক্ষ্য শীর্ষস্থান
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

 প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির মুখে উড্রো উইলসন সমেত বিশ্বের তাবড় নেতারা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে শঙ্কিত হয়ে পড়েন। যুদ্ধের রাহুর গ্রাস থেকে এই সুন্দর পৃথিবীকে কীভাবে রক্ষা করা যায় তা নিয়ে তাঁরা চিন্তিত ছিলেন। উইলসন বুঝতে পেরেছিলেন মানুষের মগজে রয়েছে যুদ্ধের অভিলাষ। যুদ্ধভাবনা মুছে ফেলে শান্তিভাবনা প্রতিষ্ঠা করা দরকার।
বিশদ

09th  September, 2019
পুজোর মুখে বিপর্যয়: ঘরে বাইরে

 দুর্ঘটনা বিপর্যয় তো আর জানান দিয়ে আসে না! নেপালের ভূমিকম্প কি আমাদের আয়েলার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কত মানুষ ঘর-সংসার সব হারিয়ে রাতারাতি সর্বস্বান্ত হয়েছেন, কত সংসার উজাড় হয়ে গেছে—শত চেষ্টাতেও সেই ক্ষত পুরোটা পূরণ করা গিয়েছে কি? যায়নি। এই বউবাজারে রশিদ জমানার সেই ভয়ানক বিস্ফোরণের পর কত লোকের কত সর্বনাশ হয়েছিল—কজন তার বিহিত পেয়েছিলেন? মেট্রো রেলের সুড়ঙ্গ কাটতে গিয়ে সেপ্টেম্বরের শুরুতে বউবাজারে বাড়ি ধসে যে ক্ষতি বাসিন্দাদের হল তাতে তাই ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ বললে কিছুমাত্র ভুল হয় না। বিশদ

08th  September, 2019
বন্ধ হোক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পঞ্চায়েত দখল
তন্ময় মল্লিক

পঞ্চায়েত কারও চোখে স্থানীয় সরকার, কারও চোখে উন্নয়নের হাতিয়ার, কারও চোখে চোর তৈরির কারখানা। পঞ্চায়েত সম্পর্কে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হলেও একটা ব্যাপারে প্রায় সকলেই এক মত, পঞ্চায়েত আসলে মধুভাণ্ড। এই মধুভাণ্ডের নাগাল পাওয়া নিয়েই যত মারামারি, বোমাবাজি, খুনোখুনি। এই পঞ্চায়েতই নাকি এবার পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা ভোটে ওলট-পালটের নাটের গুরু।
বিশদ

07th  September, 2019
অজানা ভবিষ্যৎ
সমৃদ্ধ দত্ত

টাকা কোথায় গেল? একের পর এক গ্রামবাসীর টাকা উধাও। সকলে সেই অফিসে আবার গেলেন। তারা এবার ভালো করে কম্পিউটার চেক করে বললেন, তোমাদের আগে যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল সেটা তো চেঞ্জ হয়েছে। এখানে নতুন এক অ্যাকাউন্ট দেখাচ্ছে। ওখানেই গেছে টাকা। প্রমোদকুমাররা জানেই না কোথায় নতুন অ্যাকাউন্ট! এক সহৃদয় ব্যাঙ্ককর্মী আবিষ্কার করলেন মোবাইল সার্ভিস প্রভাইডার কোম্পানি পেমেন্ট ব্যাঙ্ক চালু করেছে। ওই যে ফোনে আধার নম্বর চাওয়া হল এবং প্রমোদকুমাররা গিয়ে লিংক করিয়ে এলেন, আসলে ওই আধার নম্বরের মাধ্যমে তাঁদের অজ্ঞাতেই তাঁদের নামে পেমেন্ট ব্যাঙ্ক ‌অ্যাকাউন্ট চালু হয়ে গিয়ে সেই অ্যাকাউন্টই শো করতে শুরু করেছে সরকারি দপ্তরে। আর সব টাকা সেখানে যাচ্ছে।
বিশদ

06th  September, 2019
নিজেকে জিজ্ঞেস করো, দেশের জন্য কী করতে পার
মৃণালকান্তি দাস

হোয়াইট হাউস-এর  পবিত্রতা নষ্ট করার দুর্নাম জুটেছিল কি না বেচারি বিল ক্লিন্টনের!‌ তখনও নাকি মার্কিন আম জনতা মুখ বেঁকিয়ে বলেছিল,  কোথায় মেরিলিন মনরো,  আর কোথায় মনিকা লিউইনস্কি!‌ তবে, মনরো–কেনেডির এই প্রেম রীতিমত ঢাক–ঢোল পিটিয়ে উদ্‌যাপিত হয়েছে মার্কিন গণজীবনে। ১৯ মে ১৯৬২। কেনেডির আসল জন্মদিনের ১০ দিন আগেই উৎসব হয়েছিল নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়্যার গার্ডেনে। ১৫ হাজার অতিথির তালিকায় তাবড় রাজনীতিক ও হলিউড সেলেবদের ছড়াছড়ি। বিরাট কনসার্টে মারিয়া কালাস,  এলা ফিটজেরাল্ড-এর মতো ডাকসাইটে শিল্পীদের পাশাপাশি মেরিলিন মনরো!‌ ইতিহাস হয়ে গিয়েছে সেই সন্ধ্যায় মনরোর গাওয়া  ‘হ্যাপি বার্থডে টু ইউ মিস্টার প্রেসিডেন্ট’।  
বিশদ

06th  September, 2019
মানুষই কি মানুষের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে দাঁড়াচ্ছে!
মেরুনীল দাশগুপ্ত

শেষের সেদিন কি আর খুব দূরে নয়? সাম্প্রতিককালে বিশ্বজুড়ে প্রকৃতির নজিরবিহীন খামখেয়াল, মানুষের লোভের আগুনে সবুজের নির্বিচার মৃত্যু এবং বহু বহু বছর ধরে সীমাহীন অপচয়ের ফলে ফুরিয়ে আসা পানীয় জলের ভাঁড়ার আমাদের মনে আজ এই ভয়ঙ্কর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
বিশদ

05th  September, 2019
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়া শহরে এই মুহূর্তে কোনও টোটো বন্ধ করা হবে না। পুরানো যত টোটো চলাচল করছে, তা চলতে দেওয়া হবে। রাজ্য সরকার কোনও বেকার যুবককে কর্মচ্যুত করতে চায় না। রবিবার হাওড়া শরৎ সদনে টোটোচালকদের নিয়ে এক বৈঠকে এই ...

তেহরান ও দুবাই, ১৫ সেপ্টেম্বর (এপি): সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করল ইরান। রবিবার ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র আব্বাস মোসাবি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘তেহরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও অন্ধের মতো অভিযোগ আনা হয়েছে।  ...

বিএনএ, বাঁকুড়া: সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে কালের স্রোতে হারিয়ে যাওয়া গ্রাম বাংলার সংস্কৃতিকে ২৭ তম বছরে তাঁদের মণ্ডপের থিম হিসেবে তুলে ধরছে পুয়াবাগান ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ২০ শতাংশ হারে বোনাসের দাবিতে শনিবার বিকেল থেকে চেঙ্গাইলের ল্যাডলো জুট মিলের প্রায় ৬ হাজার শ্রমিক বিক্ষোভ দেখালেন ও কর্মবিরতিতে শামিল হলেন। রবিবারও এই কর্মবিরতি চলেছে। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

সম্মান রক্ষায় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। শত্রুর সঙ্গে সম্মানজনক সমঝোতা। বাড়ি-ঘর বাহন কেনার যোগ। কর্মে সংস্থাগত ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯১৬- ধ্রুপদী সংগীতশিল্পী এম এস শুভলক্ষ্মীর জন্ম
১৯৩১- হিজলি ক্যাম্পে বন্দিদের উপর গুলিতে হত দুই বিপ্লবী সন্তোষকুমার মিত্র এবং তারকেশ্বর সেনগুপ্ত
১৯৩২- নোবেলজয়ী স্কটিশ চিকিৎসক রোনাল্ড রসের মৃত্যু
১৯৭৫- স্বাধীনতা লাভ করল পাপুয়া নিউ গিনি

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.০৯ টাকা ৭১.৭৯ টাকা
পাউন্ড ৮৫.৯৩ টাকা ৮৯.১৩ টাকা
ইউরো ৭৭.০৩ টাকা ৮০.০১ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
14th  September, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৭, ৯৯০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬, ০৪৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬, ৫৮৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৫, ২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৫, ৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
15th  September, 2019

দিন পঞ্জিকা

৩০ ভাদ্র ১৪২৬, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার, দ্বিতীয়া ২২/৫২ দিবা ২/৩৬। রেবতী ৫৭/১৮ রাত্রি ৪/২২। সূ উ ৫/২৬/৫৫, অ ৫/৩৬/৬, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪ মধ্যে পুনঃ ১০/১৯ গতে ১২/৪৫ মধ্যে। রাত্রি ৬/২৫ গতে ৮/৪৭ মধ্যে পুনঃ ১১/৮ গতে ২/১৮ মধ্যে, বারবেলা ৬/৫৮ গতে ৮/২৯ মধ্যে পুনঃ ২/৩৪ গতে ৪/৫ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/৪ গতে ১১/৩২ মধ্যে।
২৯ ভাদ্র ১৪২৬, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার, দ্বিতীয়া ১৮/৮/৫৪ দিবা ১২/৪২/৮। রেবতী ৫৫/২৫/৫৮ রাত্রি ৩/৩৬/৫৭, সূ উ ৫/২৬/৩৪, অ ৩/৩৮/৩৪, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩ মধ্যে ও ১০/১৯ গতে ১১/৪৭ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/২৯ গতে ৮/৪৯ মধ্যে ও ১১/১০ গতে ২/১৭ মধ্যে, বারবেলা ২/৩৫/৩৪ গতে ৪/৭/৪ মধ্যে, কালবেলা ৬/৫৮/৪ গতে ৮/২৯/৩৪ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/৪/৪ গতে ১১/৩২/৩৪ মধ্যে। 
১৬ মহরম 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
শিয়ালদহ-ব্যারাকপুর লাইনে ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত 
শিয়ালদহ-ব্যারাকপুর ডিভিশনে সিগন্যালিংয়ের সমস্যার জন্য ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত। বিকাল ৫.১৫মিনিট ...বিশদ

07:51:39 PM

সোদপুরের শোরুমে আগুন
সোদপুরের স্টেশন রোডে জামাকাপড়ের একটি শোরুমে আগুন লাগল। ঘটনাটি আজ ...বিশদ

07:04:07 PM

কলকাতায় আসছেন অমিত শাহ 
অক্টোবর মাসের ১ বা ৩ তারিখ নাগাদ কলকাতায় আসতে পারেন ...বিশদ

05:36:00 PM

পুলিসি হেনস্তার জেরে আত্মহত্যার অভিযোগ চন্দননগরে
পুলিসি হেনস্তার জেরে আত্মহত্যার অভিযোগ উঠল চন্দননগরে। আজ এখানে ঝুলন্ত ...বিশদ

05:26:55 PM

নবান্নে পৌঁছলেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কেনেথ আই জাস্টার 

04:35:27 PM

আসানসোলে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী
 

আসানসোলের কল্যাণেশ্বরী মন্দিরে পুজো দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্ত্রী যশোদা ...বিশদ

04:27:00 PM