Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

আত্মশক্তি ও আমরা
সমৃদ্ধ দত্ত

বীরভূমের এক গ্রামবাসী শান্তিনিকেতনে এসে সি এফ অ্যান্ড্রুজের হাতে চিঠি পাঠিয়েছেন মহাত্মা গান্ধীকে। ১৯৩৬ সালের ডিসেম্বর মাসে। সেই চিঠিতে তিনি প্রশ্ন করেছেন, আপনার মতে একটি আদর্শ গ্রাম কাকে বলে? আর আজকের এই সামাজিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনও একটি সাধারণ গ্রামকে আদর্শ গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলাই বা কীভাবে সম্ভব? ১৯৩৭ সালের হরিজন পত্রিকার ৯ জানুয়ারি সংখ্যায় গান্ধীজি সেই চিঠির উল্লেখ করে লিখছেন, একটি আদর্শ গ্রামের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল সবার আগে সেটির নিকাশি ব্যবস্থা আর পরিচ্ছন্নতা। এমন কুটির নির্মাণ করা যেটিতে যথেষ্ট আলোবাতাস আসে। সেই কুটিরের সামনে অথবা পিছনে জমি থাকে এবং সেই জমিতে প্রয়োজনীয় সব্জি বা ফল গ্রামবাসীরা নিজেরাই উৎপাদন করে নিজেদের চাহিদা মেটাতে পারেন। আদর্শ গ্রামে থাকা সরকারি একটি কমন প্রার্থনা স্থল, যেখানে সকলেই এসে প্রার্থনা করতে পারবেন। একটি সমবায় ডেয়ারি, একটি প্রাথমিক ও সেকেণ্ডারি স্কুল। নিজের খাদ্য নিজেরা উৎপন্ন করার পাশাপাশি সেগুলি বিক্রয়ের ব্যবস্থাও থাকবে। আর থাকবে খাদি সেন্টার। যাতে বাইরে শহরে গিয়ে কোনও পরিধান কিনতেই না হয়।
এসব থাকলে যেটা হবে তা হল সর্বদা সরকারের উপর নির্ভর করে থাকতে হবে না। আমার কাছে সবথেকে আদর্শ হল গ্রামবাসীরা যদি নিজেদের ভালোর জন্য পারস্পরিক সহায়তায় নিজেরাই জোট বাঁধে। ভেদাভেদ ভুলে কী করলে গোটা গ্রামের উন্নতি ও মঙ্গল হবে, সেটা উপলব্ধি করে নিজেরাই পরিশ্রম করলে দেখা যাবে উন্নতির আলো। গান্ধীজির ওই বার্তার ৮২ বছর পর আমাদের রাজনৈতিক দল কিংবা সরকার এরকম কোনও আদর্শ গ্রাম কি উপহার দিতে পেরেছে? গান্ধীজি এই নিবন্ধের শেষে লিখেছিলেন, সবথেকে হতাশার বিষয় হল মানুষের অগ্রবর্তী হয়ে কিছু করার প্রতি অনীহা। শহুরে গবেষক, রং বে-রং দলীয় সমর্থক, রিসার্চ স্কলার, নেতানেত্রীর ভক্ত এবং দিনভর সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশোদ্ধার করা জাতি নয়, গান্ধীজির এসব বার্তার প্রকৃত অনুসরণকারী ভারতের অসংখ্য গ্রামের নিরক্ষর মানুষের দল। আমরা যখন তিন তালাক থেকে ৩৭০ নং নিয়ে প্রচুর মাতামাতি করছি তখন রাজস্থানের প্রত্যন্ত কয়েকটি গ্রামে একটি বিপ্লব চলছে।
২০১২ সাল থেকে আজ পর্যন্ত ৬টি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন হীরা। রাজস্থানের বাঁশওয়াড়া জেলার সেওয়ানা গ্রামের হীরার সন্তানেরা প্রত্যেকেই কন্যা। বাঁশওয়াড়ার এইসব গ্রামের সবথেকে দুঃখজনক একটা প্রবণতা হল এখানে ৩৫ থেকে ৪০ বছর বয়স হওয়ার পরই গৃহবধূরা বৃদ্ধা হয়ে যান, মানসিক রোগীর লক্ষণ দেখা যায় এবং আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন। কেউ সফল হন। কেউ হন না। স্থায়ী কোনও অসুস্থতায় ঘরের বাইরের খাটিয়ায় বাকি জীবন কেটে যায় শয্যাশায়ী হয়ে। যাই হোক। হীরার পরপর পাঁচটি কন্যাসন্তানের পর যখন গত ডিসেম্বর মাসে ষষ্ঠ সন্তান প্রসব হল, তখন তাঁকে বলা হয়নি কী সন্তান হয়েছে। তিনি কয়েকবার প্রশ্নও করেন। কিন্তু কারও কাছে জবাব না পেয়ে যখন শুনলেন শাশুড়ির কণ্ঠে উচ্চস্বরে কান্না, তখন বুঝলেন এবারও কন্যা। তিনিও কাঁদতে লাগলেন। স্বামীও। প্রতিটি সন্তানের পরই পাশের গ্রামের এক সাধুর কাছে যাওয়া হয়। তিনি পরবর্তী সন্তানধারণের সম্ভাবনা জানার পর একটি মন্ত্রঃপূত নারকেল দিয়ে থাকেন। সেটা ফাটিয়ে খেতে হয় নির্দিষ্ট দিনে।
সেই সাধু অবশেষে হাল ছেড়ে দিয়েছেন। বলেছেন, হীরা তুই তোর মায়ের থেকেও বেশি অভিশপ্ত। তোকে মনে হয় কিছু করা যাবে না। হীরার মায়ের চার মেয়ে। সুতরাং হীরার মাকে হীরা হারিয়ে দিয়েছে। এই কাহিনীগুলি এখানেই সমাপ্ত হয়ে যায় অথবা চলতে থাকে। কিন্তু রাজস্থানের ওয়াকা গ্রামের ক্লাস এইট পাশ কল্পনা নামের এক রাওয়াল জাতির মেয়ে অন্যরকম ভাবলো। বাড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে তিনটি মাটির কলসি মাথায় নিয়ে জল আনার সময় কুয়োর অদূরে বসে কাঁদছিল হীরা। তাঁকে সান্তনা দিচ্ছিলেন আরও কয়েকজন নারী, যাঁদের প্রত্যেকের কন্যাসন্তান হওয়ায় উপেক্ষা আর অত্যাচারই জোটে। এই মহিলাদের বলা হয় কৃষিমজুরি করে মেয়ের বিয়ের টাকা জমানো শুরু করতে। কারণ যে মা কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছে তাঁরই দায় সেই মেয়ের বিয়েতে খরচ করার। এভাবে পরিশ্রম, স্বল্প পুষ্টি, প্রতি বছর সন্তান গর্ভে ধারণ করা, পুত্রসন্তান জন্ম না দেওয়ার কারণে বদনাম এবং তারপর ডিপ্রেশন। এই চক্রে গ্রামের পর গ্রাম বধূরা অসুস্থ অথবা মানসিক রোগগ্রস্থ হয়ে যান। এই নারীরা সারাবছর কৃষি কিংবা ১০০ দিনের কাজে অমানুষিক পরিশ্রম করেন এবং প্রতি বছর নতুন করে গর্ভবতীও হন। কল্পনা এই মেয়েদের কাঁদতে দেখে একটি শপথ নিয়েছিল। ২৫ জন গ্রাম্য মহিলা একটি কুয়োর পাশে দাঁড়িয়ে গঠন করলেন ‘তাজো পরিবার’ নামক কর্মসূচি।
সেই থেকে এই মহিলারা সময় করে গ্রামে গ্রামে ঘুরছেন আর বিভিন্ন পরিবারের স্বামী শাশুড়িদের বোঝাচ্ছেন কেন কন্যা ও পুত্রসন্তানের মধ্যে বিভেদ না করে মেয়েদের সমানভাবে শিক্ষা দিলে কতটা লাভ। আর এভাবে পাঁচটি ছটি সাতটি সন্তানের জন্ম না দিয়ে একটি বা দুটিতেই সীমাবদ্ধ রাখলে সুখী সংসার হবে। সেই তাজো পরিবার কর্মসূচিকে আটকানোর বহু চেষ্টা হয়। বহু অত্যাচার হয় এঁদের উপর। কিন্তু পিছু না হটে এই গ্রাম্য মহিলারা শক্তি সঞ্চয় করেই চলেছেন। সরকারের দ্বারস্থ না হয়েই এঁরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দাঁতে দাঁত চেপে। তাঁরা দেখলেন একটি করে নতুন গ্রামে যাচ্ছেন, আর সেই গ্রামের দু তিনজন মেয়ে যোগ দিচ্ছেন এগিয়ে এসে। সম্প্রতি এঁদের একটি বৈঠকে জানতে চাওয়া হয়েছিল কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের নানারকম সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁদের কী অভিমত? এইট পাশ কল্পনা ‘তাজো পরিবার’ কর্মসূচির প্রধান। তিনি হেসে বলেছেন, আমরা কেউ জানি না...জানার সময় নেই আসলে...এটা জানি আমাদের কাজ আমাদেরই করতে হবে।
ওড়িশার কোরাপুটের ৭১ বছর বয়সি কমলা পূজারি প্রতিদিন ভোরে উঠে স্নান করে উঠোনে পুজো সেরে আগের রাতের জলে ভেজানো ভাত খেয়ে বেরিয়ে পড়েন। এরপর হাঁটা। কমলার চোখ রাস্তায় থাকে না। থাকে রাস্তার পাশের ক্ষেতে, গ্রাম্য বাড়ির অঙ্গনে কিংবা একটুকরো রান্নাঘর সংলগ্ন বাগানে। রাসায়নিক আর পেস্টিসাইড ব্যবহার করে করে ভারতের গ্রামে গ্রামে ধান কিংবা অন্য ফসলের বহু বৈচিত্র্য নষ্ট হয়ে গিয়েছে। কমলা পূজারির কাজ হল যখন যেখানে যে ফসল দেখলেন সেটারই বীজ জোগাড় করে নিলেন। আর সেটা জমিয়ে ফেললেন। এভাবে বীজ জমাচ্ছেন কমলা পূজারি। একটি থেকে দুটি বীজ। তিনটি থেকে কুড়িটা বীজ। কমলা পূজারির বাড়িতে হাজার হাজার বোতলে বীজ রাখা আছে। গ্রামে গ্রামে যাচ্ছেন আর বিরল প্রজাতির বীজ দিয়ে চাষিদের বলেন পেস্টিসাইড আর কেমিকেল ব্যবহার করলে সব বীজ একদিন নষ্ট হবে। শুধুই বীজ কিনতে হবে বড়লোক ব্যবসায়ী কোম্পানির থেকে। কমলা পূজারি হাঁটছেন এখনও। বীজ সংগ্রহ করতে। নেমে পড়ছেন কাদামাঠে, নেমে পড়ছেন অর্ধেক জলমগ্ন পুকুরে। কমলা পূজারি হেঁটে চলেছেন। ভারতের নিজস্ব বীজ বাঁচাতে। আজ গোটা ভারত থেকে বিদেশ থেকে বিজ্ঞানীরা আসেন কোরাপুটের গ্রামে। কমলা পূজারির কাছে বীজ দেখতে। কমলা পূজারির মাটির বাড়িতে এক অভিনব সম্ভার। ভারতের বীজব্যাঙ্ক! কমলা পূজারি কারও উপর ভরসা করে বসে নেই। তিনি নিজের কাজ নিজে করছেন।
ভারতের অর্থনীতি একটা সময় সবথেকে বেশি নির্ভরশীল ছিল কৃষির উপর। সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে সেই অর্থনীতি এখন নির্ভর করে ইণ্ডাস্ট্রি আর সার্ভিস সেক্টরের উপর। ভারতের জনসংখ্যার বিপুল অংশ একসময় গ্রামে থাকত। সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভারতের জনসংখ্যা ক্রমেই এখন শহরমুখী। কেন? কারণ গ্রামীণ অর্থনীতি প্রায় ধ্বংসের কিনারায় উপনীত হয়েছে। ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক ফর এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট একটি সমীক্ষা করেছে। সেটির নাম অল ইন্ডিয়া রুরাল ফিনান্সিয়াল ইনক্লুশন।
সেই সার্ভেতে দেখা যাচ্ছে ভারতে ২০১৭ সাল পর্যন্ত গ্রামীণ পরিবারের সংখ্যা ২২ কোটি। আর এই ২২ কোটি পরিবারের মধ্যে আয়ের ক্ষেত্রে কৃষির সঙ্গে সংযোগ রয়েছে এরকম পরিবার ১০ কোটি। বাকি ১২ কোটি পরিবার কৃষির সঙ্গে যুক্তই নয়। আর ওই সার্ভে অনুযায়ী গ্রামীণ পরিবারের মাসিক গড় আয় ৮০৫৯ টাকা। এর মধ্যে গড়ে ৩৫০৪ টাকাই আসে দিনমজুরি থেকে। ১৯০৬ টাকা গড় আয় হয় সরকার কিংবা বেসরকারি কোনও কাজ থেকে। আর মাত্র ১৮৩২ টাকা গড় আয় কৃষি থেকে। সুতরাং কৃষি থেকে আয় কমছে। গ্রাম থেকে মানুষ চলে যাচ্ছে সেমি আরবান শহরে। ভারতের গ্রামীণ চরিত্র বদলে যাচ্ছে। আর এই কারণেই আমাদের সরকার বেসিক বিষয়গুলি নিয়ে আর ভাবিত নয়। কৃষি উন্নয়নের একটা প্লাস্টিক প্লাস্টিক উন্নয়নের ভাবমূর্তি প্রকাশ করা হয় সাবসিডি বা সহায়ক মূল্য দিয়ে। যা সমস্যার সমাধান নয়। কারণ ভারতের কৃষিকে আসলে কিনে নিচ্ছে তাবৎ কর্পোরেট। ভারতজুড়ে ক্যাশ ক্রপ আর কর্পোরেট ফার্মিং চলছে। জলের সাপ্লাই কিনে নিয়েছে কর্পোরেট। নদী, পাহাড়, অরণ্যের অধিকার চলে যাচ্ছে মাল্টিন্যাশনালের কাছে। তামিলনাড়ুর থুটুকোড়ি জেলায় একটি বিখ্যাত মাল্টিন্যাশনাল সংস্থার ইউনিটের বিষবর্জ্য গোটা জেলার বৃহৎ অঞ্চল জুড়ে সমস্ত ভূগর্ভস্থ জল ও মাটির উর্বরতা দূষিত করে দিয়েছিল। গ্রামবাসীদের বিশুদ্ধ পানীয় জল আনতে যেতে হয় ৫ কিলোমিটার দূরে। কিন্তু আবার নতুন করে কপার ইউনিট করার অনুমতিও পেয়েছে সেই সংস্থা। প্রতিবাদে ২০ হাজার গ্রামবাসী দিনের পর দিন অবস্থানে বসেছিল জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে। আবেদন ছিল ওই কপার কারখানা যেন না হয়। তাহলে চাষবাস বন্ধ হয়ে যাবে। পরিবর্তে গুলি চালায় পুলিস। ১৪ জন মারা যান।
সেই সংস্থাটি কত দামে জল পেয়েছে? ১০ টাকায় ১ হাজার লিটার। গ্রামবাসীকে কত দামে জল কিনতে হয়েছে? ১০ টাকার ২৫ লিটার। গ্রামবাসীরা ফেসবুকে প্রতিবাদ করেননি। রাস্তায় নেমেছেন, গুলি খেয়েছেন। আমরা কি একদিনও আলোচনা করেছি? এই মুহূর্তে ১৬টি রাজ্যের ১০ লক্ষ আদিবাসী যে আন্দোলনটি করছে নিজেদের ভিটেমাটি ও জঙ্গল বাঁচাতে আমরা কি আদৌ সেটা নিয়ে চিন্তিত? কেউ জানি না কোথায় কী কর্মসূচি চলছে কোল ভিল গোন্দ আদিবাসীদের? আমরা নিজেদের চারপাশে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করি না। ক্ষুদ্র গণ্ডিতে কোনও সমস্যা সমাধানে নিজেরা একটা কিছু করার শপথ নিয়ে অগ্রসরও হই না।
আমরা অনেক দূরের কাশ্মীর, অযোধ্যা, বালাকোট নিয়ে ভয়ানক উদ্বিগ্ন। কিন্তু কেন? রাষ্ট্রশক্তি ওটাই চায়। নিজেদের দৈনন্দিন সমস্যা ভুলে দূরের আলোছায়া মেশা ঘটনা নিয়ে যাতে জনগণ মেতে থাকে। রবীন্দ্রনাথ পল্লীপ্রকৃতি গ্রন্থে লিখেছিলেন, ‘‘বিধাতা তো তেত্রিশ কোটির ভার আমাদের হাতে দেননি? তিনি শুধু একটি প্রশ্ন করেন, ‘তুমি কী করছ?’ যে কার্যক্ষেত্র তোমার, সেখানে তুমি নিজেকে সত্য করেছো কিনা?’’ রাজস্থানের কল্পনা, কোরাপুটের কমলা পূজারিরা সেটাই করছেন। আমরা নয়!
23rd  August, 2019
রাজনীতির উত্তাপ কি পুজোর আমেজ
জমে ওঠার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে?
শুভা দত্ত

 পরিস্থিতি যা তাতে এমন কথা উঠলে আশ্চর্যের কিছু নেই। উঠতেই পারে, উঠছেও। বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসবের মুখে প্রায় প্রতিদিনই যদি কিছু না কিছু নিয়ে নগরী মহানগরীর রাজপথে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে, পুলিস জলকামান, লাঠিসোঁটা, কাঁদানে গ্যাস, ইটবৃষ্টি, মারদাঙ্গা, রক্তারক্তিতে যদি প্রায় যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং তাতে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনজীবন ব্যবসাপত্তর উৎসবের মরশুমি বাজার কিছু সময়ের জন্য বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তবে এমন কথা এমন প্রশ্ন ওঠাই তো স্বাভাবিক।
বিশদ

আমেরিকায় মধ্যবয়সের
সঙ্গী সোশ্যাল মিডিয়া
আলোলিকা মুখোপাধ্যায়

যে বয়সে পৌঁছে দূরের আত্মীয়স্বজন ও পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ক্রমশ আগের মতো সম্ভব হয় না, সেই প্রৌঢ় ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধার জীবনে ইন্টারনেট এক প্রয়োজনীয় ভূমিকা নিয়েছে। প্রয়োজনীয় এই কারণে যে, নিঃসঙ্গতা এমন এক উপসর্গ যা বয়স্ক মানুষদের শরীর ও মনের উপর প্রভাব ফেলে। বিশদ

14th  September, 2019
মোদি সরকারের অভূতপূর্ব কাশ্মীর পদক্ষেপ পরবর্তী ভারতীয় কূটনীতির সাফল্য-ব্যর্থতা
গৌরীশঙ্কর নাগ

 এই অবস্থায় এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ৩৭০ ধারা বিলোপ পর্বের প্রাথমিক অবস্থাটা আমরা অত্যন্ত উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছি।
বিশদ

14th  September, 2019
ব্যর্থতা নয়, অভিনন্দনই
প্রাপ্য ইসরোর বিজ্ঞানীদের
মৃণালকান্তি দাস

 কালামের জেদেই ভেঙে পড়েছিল ইসরোর রোহিনী। না, তারপরেও এ পি জে আব্দুল কালামকে সে দিন ‘ফায়ার’ করেননি ইসরোর তদানীন্তন চেয়ারম্যান সতীশ ধাওয়ান! বলেননি, ‘দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল কালামকে’! তার এক বছরের মধ্যেই ধরা দিয়েছিল সাফল্য। ধাওয়ানের নির্দেশে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন সেই কালাম-ই। তাঁর কথায়, ‘ওই দিন আমি খুব গুরুত্বপূর্ণ পাঠ পেয়েছিলাম। ব্যর্থতা এলে তার দায় সংস্থার প্রধানের। কিন্তু,সাফল্য পেলে তা দলের সকলের। এটা কোনও পুঁথি পড়ে আমাকে শিখতে হয়নি। এটা অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত।’ বিশদ

13th  September, 2019
রাষ্ট্রহীনতার যন্ত্রণা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভিক্টর নাভরস্কি নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে আবিষ্কার করলেন, তিনি আচমকাই ‘রাষ্ট্রহীন’ হয়ে পড়েছেন। কারণ, তাঁর দেশ ক্রাকোজিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলির কাছে মানবিকতার নিরিখে ক্রাকোজিয়ার আর কোনও ‘অস্তিত্ব’ নেই।
বিশদ

10th  September, 2019
জাতির গঠনে জাতীয় শিক্ষানীতি
গৌরী বন্দ্যোপাধ্যায়

 অভিধান অনুসরণ করে বলা যায়, পঠন-পাঠন ক্রিয়াসহ বিভিন্ন অভিজ্ঞতালব্ধ মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানোর প্রক্রিয়াই শিক্ষা। জ্ঞানকে বলা হচ্ছে অভিজ্ঞতালব্ধ প্রতীতি। শিক্ষা দ্বারা অর্জিত বিশেষ জ্ঞানকে আমরা বিদ্যা বলি। কালের কষ্টিপাথরে যাচাই করে মানুষ আবহমান কাল ধরে নিজ অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানরাশিকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পুস্তকের মধ্যে লিখে সঞ্চিত করে গেছে।
বিশদ

09th  September, 2019
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের শতবর্ষে ভারত প্রান্তিক রাষ্ট্র থেকে প্রথম দশে, লক্ষ্য শীর্ষস্থান
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

 প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির মুখে উড্রো উইলসন সমেত বিশ্বের তাবড় নেতারা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে শঙ্কিত হয়ে পড়েন। যুদ্ধের রাহুর গ্রাস থেকে এই সুন্দর পৃথিবীকে কীভাবে রক্ষা করা যায় তা নিয়ে তাঁরা চিন্তিত ছিলেন। উইলসন বুঝতে পেরেছিলেন মানুষের মগজে রয়েছে যুদ্ধের অভিলাষ। যুদ্ধভাবনা মুছে ফেলে শান্তিভাবনা প্রতিষ্ঠা করা দরকার।
বিশদ

09th  September, 2019
পুজোর মুখে বিপর্যয়: ঘরে বাইরে

 দুর্ঘটনা বিপর্যয় তো আর জানান দিয়ে আসে না! নেপালের ভূমিকম্প কি আমাদের আয়েলার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কত মানুষ ঘর-সংসার সব হারিয়ে রাতারাতি সর্বস্বান্ত হয়েছেন, কত সংসার উজাড় হয়ে গেছে—শত চেষ্টাতেও সেই ক্ষত পুরোটা পূরণ করা গিয়েছে কি? যায়নি। এই বউবাজারে রশিদ জমানার সেই ভয়ানক বিস্ফোরণের পর কত লোকের কত সর্বনাশ হয়েছিল—কজন তার বিহিত পেয়েছিলেন? মেট্রো রেলের সুড়ঙ্গ কাটতে গিয়ে সেপ্টেম্বরের শুরুতে বউবাজারে বাড়ি ধসে যে ক্ষতি বাসিন্দাদের হল তাতে তাই ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ বললে কিছুমাত্র ভুল হয় না। বিশদ

08th  September, 2019
বন্ধ হোক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পঞ্চায়েত দখল
তন্ময় মল্লিক

পঞ্চায়েত কারও চোখে স্থানীয় সরকার, কারও চোখে উন্নয়নের হাতিয়ার, কারও চোখে চোর তৈরির কারখানা। পঞ্চায়েত সম্পর্কে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হলেও একটা ব্যাপারে প্রায় সকলেই এক মত, পঞ্চায়েত আসলে মধুভাণ্ড। এই মধুভাণ্ডের নাগাল পাওয়া নিয়েই যত মারামারি, বোমাবাজি, খুনোখুনি। এই পঞ্চায়েতই নাকি এবার পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা ভোটে ওলট-পালটের নাটের গুরু।
বিশদ

07th  September, 2019
অজানা ভবিষ্যৎ
সমৃদ্ধ দত্ত

টাকা কোথায় গেল? একের পর এক গ্রামবাসীর টাকা উধাও। সকলে সেই অফিসে আবার গেলেন। তারা এবার ভালো করে কম্পিউটার চেক করে বললেন, তোমাদের আগে যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল সেটা তো চেঞ্জ হয়েছে। এখানে নতুন এক অ্যাকাউন্ট দেখাচ্ছে। ওখানেই গেছে টাকা। প্রমোদকুমাররা জানেই না কোথায় নতুন অ্যাকাউন্ট! এক সহৃদয় ব্যাঙ্ককর্মী আবিষ্কার করলেন মোবাইল সার্ভিস প্রভাইডার কোম্পানি পেমেন্ট ব্যাঙ্ক চালু করেছে। ওই যে ফোনে আধার নম্বর চাওয়া হল এবং প্রমোদকুমাররা গিয়ে লিংক করিয়ে এলেন, আসলে ওই আধার নম্বরের মাধ্যমে তাঁদের অজ্ঞাতেই তাঁদের নামে পেমেন্ট ব্যাঙ্ক ‌অ্যাকাউন্ট চালু হয়ে গিয়ে সেই অ্যাকাউন্টই শো করতে শুরু করেছে সরকারি দপ্তরে। আর সব টাকা সেখানে যাচ্ছে।
বিশদ

06th  September, 2019
নিজেকে জিজ্ঞেস করো, দেশের জন্য কী করতে পার
মৃণালকান্তি দাস

হোয়াইট হাউস-এর  পবিত্রতা নষ্ট করার দুর্নাম জুটেছিল কি না বেচারি বিল ক্লিন্টনের!‌ তখনও নাকি মার্কিন আম জনতা মুখ বেঁকিয়ে বলেছিল,  কোথায় মেরিলিন মনরো,  আর কোথায় মনিকা লিউইনস্কি!‌ তবে, মনরো–কেনেডির এই প্রেম রীতিমত ঢাক–ঢোল পিটিয়ে উদ্‌যাপিত হয়েছে মার্কিন গণজীবনে। ১৯ মে ১৯৬২। কেনেডির আসল জন্মদিনের ১০ দিন আগেই উৎসব হয়েছিল নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়্যার গার্ডেনে। ১৫ হাজার অতিথির তালিকায় তাবড় রাজনীতিক ও হলিউড সেলেবদের ছড়াছড়ি। বিরাট কনসার্টে মারিয়া কালাস,  এলা ফিটজেরাল্ড-এর মতো ডাকসাইটে শিল্পীদের পাশাপাশি মেরিলিন মনরো!‌ ইতিহাস হয়ে গিয়েছে সেই সন্ধ্যায় মনরোর গাওয়া  ‘হ্যাপি বার্থডে টু ইউ মিস্টার প্রেসিডেন্ট’।  
বিশদ

06th  September, 2019
মানুষই কি মানুষের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে দাঁড়াচ্ছে!
মেরুনীল দাশগুপ্ত

শেষের সেদিন কি আর খুব দূরে নয়? সাম্প্রতিককালে বিশ্বজুড়ে প্রকৃতির নজিরবিহীন খামখেয়াল, মানুষের লোভের আগুনে সবুজের নির্বিচার মৃত্যু এবং বহু বহু বছর ধরে সীমাহীন অপচয়ের ফলে ফুরিয়ে আসা পানীয় জলের ভাঁড়ার আমাদের মনে আজ এই ভয়ঙ্কর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
বিশদ

05th  September, 2019
একনজরে
কলম্বো, ১৪ সেপ্টেম্বর: অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হল ভারত। লো-স্কোরিং ফাইনালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৫ রানের রুদ্ধশ্বাস জয় পেয়েছে ভারতীয় দল। এই নিয়ে সপ্তমবার এই ...

 সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: এলাকার দখল কার হাতে থাকবে তা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বাগনানের ওড়ফুলি গ্রাম পঞ্চায়েতের রানাপাড়া। শুক্রবার রাতে সংঘর্ষ চলাকালীন ব্যাপক বোমাবাজির পাশাপাশি বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে দু’পক্ষের বিরুদ্ধে। ...

নয়াদিল্লি, ১৪ সেপ্টেম্বর (পিটিআই): তিনি ছত্রপতি শিবাজির বংশধর। শনিবার বিজেপিতে যোগ দিলেন সাতারার এনসিপি সাংসদ উদয়নরাজে ভোঁসলে। দিল্লিতে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ও মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের উপস্থিতিতে গেরুয়া শিবিরে ভিড়লেন উদয়নরাজে। ...

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: বৃহস্পতিবার রাত থেকে রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকের কাশিয়াডাঙা অঞ্চলে ভাঙন শুরু হওয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। এলাকার কয়েক হাজার গ্রামবাসী আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। গ্রামে যাওয়ার প্রধান রাস্তাও গঙ্গার গর্ভে চলে গিয়েছে। ফলে সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

অতিরিক্ত পরিশ্রমে শারীরিক ক্লান্তি, প্রিয়জনের বিপদগামীতায় অশান্তি ও মানহানির আশঙ্কা, সাংসারিক ক্ষেত্রে মতানৈক্য এড়িয়ে চলা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস
১২৫৪: পরিব্রাজক মার্কো পোলোর জন্ম
১৮৭৬: কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম  

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.০৯ টাকা ৭১.৭৯ টাকা
পাউন্ড ৮৫.৯৩ টাকা ৮৯.১৩ টাকা
ইউরো ৭৭.০৩ টাকা ৮০.০১ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
14th  September, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৭, ৯৯০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬, ০৪৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬, ৫৮৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৫, ২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৫, ৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৯ ভাদ্র ১৪২৬, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার, প্রতিপদ ১৭/২৪ দিবা ১২/২৪। উত্তরভাদ্রপদ ৫০/৪৪ রাত্রি ১/৪৪। সূ উ ৫/২৬/৩৮, অ ৫/৩৭/৪২, অমৃতযোগ দিবা ৬/১৪ গতে ৯/৩০ মধ্যে। রাত্রি ৭/১২ গতে ৮/৪৭ মধ্যে, বারবেলা ১০/০ গতে ১/৩ মধ্যে, কালরাত্রি ১/১ গতে ২/৩০ মধ্যে।
২৮ ভাদ্র ১৪২৬, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার, প্রতিপদ ১৩/৩২/২১ দিবা ১০/৫১/১৩। উত্তরভাদ্রপদ ৪৯/৫০/৬ রাত্রি ১/২২/১৯, সূ উ ৫/২৬/১৭, অ ৫/৩৯/৩৭, অমৃতযোগ দিবা ৬/১৩ গতে ৯/৩০ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/১৬ গতে ৮/৫০ মধ্যে, বারবেলা ১০/১/১৭ গতে ১১/৩২/৫৭ মধ্যে, কালবেলা ১১/৩২/৫৭ গতে ১/৪/৩৭ মধ্যে, কালরাত্রি ১/১/১৭ গতে ২/২৯/৩৭ মধ্যে।
 ১৫ মহরম

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ফের বদলাল রাজ চক্রবর্তীর ছবির নাম 
রাজ চক্রবর্তীর আগামী ছবির নাম আরও একবার বদলাল। ছবির প্রথম ...বিশদ

05:24:30 PM

অন্ধ্রপ্রদেশে নদীতে নৌকা উল্টে যাওয়ার ঘটনায় মৃত ১১, বাকিদের খোঁজ এখনও মেলেনি 

05:16:17 PM

মা উড়ালপুল থেকে পড়ে জখম ১ ব্যক্তি 

04:45:51 PM

অন্ধ্রপ্রদেশে নদীতে উল্টে গেল নৌকা, ৫ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা, নিখোঁজ একাধিক 

04:24:32 PM

মেয়ো রোডে বাস দুর্ঘটনা, জখম একাধিক যাত্রী 

03:15:59 PM

প্রয়াগরাজে একটি বাড়িতে বিস্ফোরণ, মৃত ১, জখম ২ 

03:09:00 PM