Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

চক্রব্যূহে জাতীয় কংগ্রেস:
সোনিয়ার প্রত্যাবর্তন
প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায়

আগস্ট মাস জাতীয় কংগ্রেস ও ভারতীয় রাজনীতিতে স্মরণীয় মাস। ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সূচনা হয়, আবার ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা অর্জন করে। মজার কথা, বিগত ১০ আগস্ট মধ্যরাত্রে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি নতুন কংগ্রেস সভাপতির নাম স্থির করার জন্য পাঁচটি কমিটি শলা-পরামর্শে বসে। শেষ পর্যন্ত ঠিক হল পদত্যাগী সভাপতি রাহুল গান্ধীর স্থলে অন্তর্বর্তী সভাপতি হবেন তাঁর মাতা সোনিয়া গান্ধী। সোনিয়া গান্ধী ১৯৯৮ থেকে প্রায় বিশ বছর একটানা কংগ্রেস সভানেত্রী ছিলেন। তারপর ২০১৭ সালের অক্টোবরে তাঁর পুত্র রাহুল গান্ধী সভাপতি হলেন। এ বছর লোকসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর ২৫ মে তিনি পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রায় তিন মাস অচলাবস্থা চলার পর সোনিয়া গান্ধী অন্তর্বর্তী সভাপতি হলেন। নেতৃত্বহীন কংগ্রেসের নেতা হিসেবে প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাজীব গান্ধীর স্ত্রী সোনিয়া গান্ধী পুনরায় শীর্ষপদে বসলেন। জাতীয় আন্দোলনের প্রধান মঞ্চ জাতীয় কংগ্রেসের হাল কীরকম হয়েছে তা সবারই কাছে পরিষ্কার।
স্বাধীনতার পূর্বে জাতীয় কংগ্রেস সভাপতি হতেন বরেণ্য জাতীয় নেতারা। সে সময় কংগ্রেস সভাপতি রাষ্ট্রপতি নামে বন্দিত হতেন। তবে টানা বিশ বছর কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে সোনিয়া গান্ধী রেকর্ড স্থাপন করেছেন। অথচ মহাত্মা গান্ধী মাত্র এক বছর কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন। নেতাজি সুভাষ দ্বিতীয়বার কংগ্রেস সভাপতি হওয়ায় কংগ্রেস হাইকমান্ডের বিরাগভাজন হন এবং পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। আবার গান্ধীজির নির্দেশমতো স্বাধীনতার পূর্বে কংগ্রেস সভাপতি হন তাঁর প্রিয় শিষ্য জওহরলাল নেহরু। অচিরেই তিনি স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পদে অভিষিক্ত হন।
স্বাধীনতার পর কংগ্রেস আর জাতীয় আন্দোলনের মঞ্চ রইল না। রাষ্ট্র নির্মাণের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে কংগ্রেস একটি রাষ্ট্রবাদী দলে পরিণত হল। নেহরু প্রথম দিকে প্রধানমন্ত্রী ও কংগ্রেস সভাপতি দুটি দায়িত্ব সামলেছেন। পরে কংগ্রেস সভাপতির পদ ছেড়ে দেন। সংসদীয় গণতন্ত্র ও পরিকল্পিত অর্থনীতির ইমারত গড়ায় তিনি ছিলেন অগ্রণী। তবে পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে তিনি সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারেননি। চীন ও পাকিস্তান এই দুই প্রতিবেশী দেশের বৈরী আচরণে তিনি মর্মাহত হন। পাকিস্তান শুরু থেকেই ভারত-বিরোধী ভূমিকা নেয়, আর চীনের সঙ্গে মৈত্রীর সম্পর্ক স্থাপনে নেহরু সচেষ্ট হলেও শেষ পর্যন্ত চীন ভারত আক্রমণ করে (১৯৬২)। হতাশা নেহরু আর দু’বছর বেঁচেছিলেন। তবে তাঁর সময়ে কংগ্রেস কেন্দ্রে ও অঙ্গরাজ্যগুলিতে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা বজায় রাখতে পেরেছিল। তবে তিনি বুঝেছিলেন দলের ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক শক্তিতে চিড় ধরেছে। তাই কামরাজ পরিকল্পনা নিয়ে সংগঠনকে মজবুত করার চেষ্টা চালান।
কিন্তু ১৯৬৯ সালে মহাত্মা গান্ধীর জন্মশতবর্ষে কংগ্রেস দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য সংঘাতে পরিণত হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কংগ্রেস দলের প্রার্থী সঞ্জীব রেড্ডিকে পরাজিত করার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বিরোধী প্রার্থী ভি ভি গিরিকে সমর্থন জানালেন। এরপরেই কংগ্রেসে বিভাজন হল। ইন্দিরা তাঁর সমর্থকদের নিয়ে কংগ্রেস (আর) গঠন করেন। আর কংগ্রেস সংগঠনের শীর্ষ নেতারা কংগ্রেস (সংগঠন) নামে পরিচিত হলেন। ১৯৭১ সালে লোকসভা নির্বাচনে বিপুলভাবে জয়যুক্ত হয়ে ইন্দিরা গান্ধী সরকার গঠন করেন।
১৯৭০-এর দশকে কংগ্রেস (আর) কার্যত কংগ্রেস (আই) বা ইন্দিরা কংগ্রেসে পরিণত হল। দলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষীণ হয়ে উঠল। কংগ্রেস দলের সভাপতি দেবকান্ত বড়ুয়া বললেন, ‘ইন্দিরাই ভারত’ (Indira is India)। দলীয় গণতন্ত্রের বিনাশের পর দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর আঘাত নেমে এল জরুরি অবস্থা জারি করার পর (জুন ১৯৭৫)। ১৯৭৭ সালে কংগ্রেসের নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর ১৯৮০ সালে ইন্দিরা বিপুল সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে জিতে এলেন। ইতিমধ্যে পরিবারতন্ত্রের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সঞ্জয় গান্ধী দলে ও প্রশাসনে সক্রিয় হস্তক্ষেপ করতে লাগলেন। সঞ্জয়ের অকাল প্রয়াণের পর ইন্দিরার জ্যেষ্ঠপুত্র রাজীব গান্ধী রাজনীতিতে প্রবেশ করলেন। ১৯৮৪ সালে ইন্দিরার হত্যাকাণ্ডের দিনেই রাজীব গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হলেন। একই সঙ্গে দলীয় সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী পদে রাজীব গান্ধী দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন। এইভাবেই কংগ্রেসে নেহরু-গান্ধী পরিবারের প্রাধান্য কায়েম হল।
রাজীবের প্রয়াণের পর (১৯৯১ খ্রিঃ) কংগ্রেসে পরিবারতন্ত্রের ইতিহাসে ছেদ ঘটল। পি ভি নরসিংহ রাও ছিলেন নেহরু-গান্ধী পরিবারের বাইরের একমাত্র ব্যক্তি, যিনি প্রধানমন্ত্রী ও কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। পাঁচ বছর পর কংগ্রেস লোকসভা নির্বাচনে বিপর্যস্ত হল। ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত দু’বছর কংগ্রেসের সমর্থনে অ-বিজেপি দলগুলি ক্ষমতায় বসে। এরপর এল বিজেপি’র নেতৃত্বে এনডিএ সরকার। ১৯৯৮-এর মার্চ মাসে সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেস সভানেত্রীর পদে আসীন হলেন। তাঁর নেতৃত্বে জাতীয় কংগ্রেস জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হয়। কংগ্রেস দলের নেতৃত্বে দশ বছর ধরে ইউপিএ সরকার ক্ষমতাসীন ছিল। সোনিয়া গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃত হলেন। মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেন। তবে ইউপিএ সরকারে সোনিয়াই ছিলেন অন্তরাত্মা ও শেষ কথা। সঞ্জয় বারু রচিত The Accidental Prime Minister গ্রন্থে দেখা যায় কীভাবে প্রধানমন্ত্রীর উপর দলীয় নিয়ন্ত্রণ বলবৎ করা হয়। সরকারের নীতি নির্ধারণে ইউপিএ-র চেয়ারপারসন তথা কংগ্রেস সভানেত্রী ছিলেন মূল পরিচালিকা শক্তি। এ যেন সিংহাসনের পশ্চাতে শক্তির আস্ফালন। কিন্তু ইউপিএ সরকারের আমলে দুর্নীতির চরম স্ফীতি সারা দেশে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। জাতীয় কংগ্রেসের ভাবমূর্তি বিপন্ন হল।
এই প্রেক্ষাপটে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এনডিএ বিপুলভাবে জয়যুক্ত হয়। বিজেপি একাই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল। বিগত ত্রিশ বছরে কোনও একটি দল একাই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। কংগ্রেস দলের আসন সংখ্যা ৪৪-এ নেমে এল। ইতিপূর্বে আর কখনও এতটা ভরাডুবি হয়নি। লোকসভায় বিরোধী দলের তকমা জুটল না। ২০১৯-এর বিগত লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস হৃতগৌরব ফেরাতে ব্যর্থ হল। ইতিমধ্যে ২০১৭ সালের অক্টোবরে সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেস দলের সভানেত্রীর দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন। তাঁর পুত্র রাহুল গান্ধীকে সরাসরি কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হল। রাহুল প্রথম দিকে দলের শক্তি বৃদ্ধিতে তৎপর হলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন।
রাজ্যস্তরে বিধানসভা নির্বাচনে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ে কংগ্রেস সরকার গঠনে সক্ষম হল। মনে হচ্ছিল বুঝি কংগ্রেস কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। কিন্তু সব কিছু ব্যর্থ হল। রাহুল দুটি আসনে দাঁড়িয়ে গান্ধী পরিবারের শক্ত ঘাঁটি নামে পরিচিত আমেথি কেন্দ্রে পরাজিত হলেন। রাহুল বুঝি এরকম বিপর্যয় হবে তা কল্পনাও করেননি। নির্বাচনে পরাজয়ের দায়-দায়িত্ব নিজের ঘাড়ে চাপিয়ে কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। শত অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্তে অনড় রইলেন। আড়াই মাস অচলাবস্থা চলার পর গত ২০ আগস্ট কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি রাহুলের পদত্যাগ গ্রহণে বাধ্য হলেন এবং অন্তর্বর্তী সভাপতি হিসেবে তাঁর মা প্রাক্তন সভানেত্রী সোনিয়ার নাম গৃহীত হল।
পরিষ্কার হয়ে গেল পরিবারতন্ত্র ভিন্ন কংগ্রেসের কোনও গতি নেই। কংগ্রেসে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, উপদলীয় সংঘাত ও কংগ্রেস থেকে অন্য দলে যোগদানের হিড়িক বন্ধ করে কংগ্রেসকে টিকিয়ে রাখতে পরিবারতন্ত্রই একমাত্র বিকল্প।
কিন্তু অন্তর্বর্তী সভানেত্রী কি কংগ্রেস দলের সজীবতা, শৃঙ্খলা ও সংহতি সুনিশ্চিত করতে পারবেন? গণভিত্তির উপর দলীয় সংগঠন প্রতিষ্ঠিত না হলে দলের ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না। বিজেপি’র দলীয় শৃঙ্খলা, সাংগঠনিক শক্তি, দলীয় কর্মীদের উদ্যোগ ও সুদৃঢ় নেতৃত্বের পাশে কংগ্রেস তার অতীত ঐতিহ্যকে পুঁজি করে কতদূর এগবে সেই বিষয়ে প্রশ্নচিহ্ন থেকে যায়।
 লেখক পশ্চিমবঙ্গ স্টেট আর্কাইভসের প্রাক্তন অধিকর্তা
22nd  August, 2019
রাজনীতির উত্তাপ কি পুজোর আমেজ
জমে ওঠার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে?
শুভা দত্ত

 পরিস্থিতি যা তাতে এমন কথা উঠলে আশ্চর্যের কিছু নেই। উঠতেই পারে, উঠছেও। বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসবের মুখে প্রায় প্রতিদিনই যদি কিছু না কিছু নিয়ে নগরী মহানগরীর রাজপথে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে, পুলিস জলকামান, লাঠিসোঁটা, কাঁদানে গ্যাস, ইটবৃষ্টি, মারদাঙ্গা, রক্তারক্তিতে যদি প্রায় যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং তাতে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনজীবন ব্যবসাপত্তর উৎসবের মরশুমি বাজার কিছু সময়ের জন্য বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তবে এমন কথা এমন প্রশ্ন ওঠাই তো স্বাভাবিক।
বিশদ

আমেরিকায় মধ্যবয়সের
সঙ্গী সোশ্যাল মিডিয়া
আলোলিকা মুখোপাধ্যায়

যে বয়সে পৌঁছে দূরের আত্মীয়স্বজন ও পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ক্রমশ আগের মতো সম্ভব হয় না, সেই প্রৌঢ় ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধার জীবনে ইন্টারনেট এক প্রয়োজনীয় ভূমিকা নিয়েছে। প্রয়োজনীয় এই কারণে যে, নিঃসঙ্গতা এমন এক উপসর্গ যা বয়স্ক মানুষদের শরীর ও মনের উপর প্রভাব ফেলে। বিশদ

14th  September, 2019
মোদি সরকারের অভূতপূর্ব কাশ্মীর পদক্ষেপ পরবর্তী ভারতীয় কূটনীতির সাফল্য-ব্যর্থতা
গৌরীশঙ্কর নাগ

 এই অবস্থায় এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ৩৭০ ধারা বিলোপ পর্বের প্রাথমিক অবস্থাটা আমরা অত্যন্ত উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছি।
বিশদ

14th  September, 2019
ব্যর্থতা নয়, অভিনন্দনই
প্রাপ্য ইসরোর বিজ্ঞানীদের
মৃণালকান্তি দাস

 কালামের জেদেই ভেঙে পড়েছিল ইসরোর রোহিনী। না, তারপরেও এ পি জে আব্দুল কালামকে সে দিন ‘ফায়ার’ করেননি ইসরোর তদানীন্তন চেয়ারম্যান সতীশ ধাওয়ান! বলেননি, ‘দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল কালামকে’! তার এক বছরের মধ্যেই ধরা দিয়েছিল সাফল্য। ধাওয়ানের নির্দেশে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন সেই কালাম-ই। তাঁর কথায়, ‘ওই দিন আমি খুব গুরুত্বপূর্ণ পাঠ পেয়েছিলাম। ব্যর্থতা এলে তার দায় সংস্থার প্রধানের। কিন্তু,সাফল্য পেলে তা দলের সকলের। এটা কোনও পুঁথি পড়ে আমাকে শিখতে হয়নি। এটা অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত।’ বিশদ

13th  September, 2019
রাষ্ট্রহীনতার যন্ত্রণা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভিক্টর নাভরস্কি নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে আবিষ্কার করলেন, তিনি আচমকাই ‘রাষ্ট্রহীন’ হয়ে পড়েছেন। কারণ, তাঁর দেশ ক্রাকোজিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলির কাছে মানবিকতার নিরিখে ক্রাকোজিয়ার আর কোনও ‘অস্তিত্ব’ নেই।
বিশদ

10th  September, 2019
জাতির গঠনে জাতীয় শিক্ষানীতি
গৌরী বন্দ্যোপাধ্যায়

 অভিধান অনুসরণ করে বলা যায়, পঠন-পাঠন ক্রিয়াসহ বিভিন্ন অভিজ্ঞতালব্ধ মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানোর প্রক্রিয়াই শিক্ষা। জ্ঞানকে বলা হচ্ছে অভিজ্ঞতালব্ধ প্রতীতি। শিক্ষা দ্বারা অর্জিত বিশেষ জ্ঞানকে আমরা বিদ্যা বলি। কালের কষ্টিপাথরে যাচাই করে মানুষ আবহমান কাল ধরে নিজ অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানরাশিকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পুস্তকের মধ্যে লিখে সঞ্চিত করে গেছে।
বিশদ

09th  September, 2019
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের শতবর্ষে ভারত প্রান্তিক রাষ্ট্র থেকে প্রথম দশে, লক্ষ্য শীর্ষস্থান
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

 প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির মুখে উড্রো উইলসন সমেত বিশ্বের তাবড় নেতারা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে শঙ্কিত হয়ে পড়েন। যুদ্ধের রাহুর গ্রাস থেকে এই সুন্দর পৃথিবীকে কীভাবে রক্ষা করা যায় তা নিয়ে তাঁরা চিন্তিত ছিলেন। উইলসন বুঝতে পেরেছিলেন মানুষের মগজে রয়েছে যুদ্ধের অভিলাষ। যুদ্ধভাবনা মুছে ফেলে শান্তিভাবনা প্রতিষ্ঠা করা দরকার।
বিশদ

09th  September, 2019
পুজোর মুখে বিপর্যয়: ঘরে বাইরে

 দুর্ঘটনা বিপর্যয় তো আর জানান দিয়ে আসে না! নেপালের ভূমিকম্প কি আমাদের আয়েলার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কত মানুষ ঘর-সংসার সব হারিয়ে রাতারাতি সর্বস্বান্ত হয়েছেন, কত সংসার উজাড় হয়ে গেছে—শত চেষ্টাতেও সেই ক্ষত পুরোটা পূরণ করা গিয়েছে কি? যায়নি। এই বউবাজারে রশিদ জমানার সেই ভয়ানক বিস্ফোরণের পর কত লোকের কত সর্বনাশ হয়েছিল—কজন তার বিহিত পেয়েছিলেন? মেট্রো রেলের সুড়ঙ্গ কাটতে গিয়ে সেপ্টেম্বরের শুরুতে বউবাজারে বাড়ি ধসে যে ক্ষতি বাসিন্দাদের হল তাতে তাই ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ বললে কিছুমাত্র ভুল হয় না। বিশদ

08th  September, 2019
বন্ধ হোক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পঞ্চায়েত দখল
তন্ময় মল্লিক

পঞ্চায়েত কারও চোখে স্থানীয় সরকার, কারও চোখে উন্নয়নের হাতিয়ার, কারও চোখে চোর তৈরির কারখানা। পঞ্চায়েত সম্পর্কে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হলেও একটা ব্যাপারে প্রায় সকলেই এক মত, পঞ্চায়েত আসলে মধুভাণ্ড। এই মধুভাণ্ডের নাগাল পাওয়া নিয়েই যত মারামারি, বোমাবাজি, খুনোখুনি। এই পঞ্চায়েতই নাকি এবার পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা ভোটে ওলট-পালটের নাটের গুরু।
বিশদ

07th  September, 2019
অজানা ভবিষ্যৎ
সমৃদ্ধ দত্ত

টাকা কোথায় গেল? একের পর এক গ্রামবাসীর টাকা উধাও। সকলে সেই অফিসে আবার গেলেন। তারা এবার ভালো করে কম্পিউটার চেক করে বললেন, তোমাদের আগে যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল সেটা তো চেঞ্জ হয়েছে। এখানে নতুন এক অ্যাকাউন্ট দেখাচ্ছে। ওখানেই গেছে টাকা। প্রমোদকুমাররা জানেই না কোথায় নতুন অ্যাকাউন্ট! এক সহৃদয় ব্যাঙ্ককর্মী আবিষ্কার করলেন মোবাইল সার্ভিস প্রভাইডার কোম্পানি পেমেন্ট ব্যাঙ্ক চালু করেছে। ওই যে ফোনে আধার নম্বর চাওয়া হল এবং প্রমোদকুমাররা গিয়ে লিংক করিয়ে এলেন, আসলে ওই আধার নম্বরের মাধ্যমে তাঁদের অজ্ঞাতেই তাঁদের নামে পেমেন্ট ব্যাঙ্ক ‌অ্যাকাউন্ট চালু হয়ে গিয়ে সেই অ্যাকাউন্টই শো করতে শুরু করেছে সরকারি দপ্তরে। আর সব টাকা সেখানে যাচ্ছে।
বিশদ

06th  September, 2019
নিজেকে জিজ্ঞেস করো, দেশের জন্য কী করতে পার
মৃণালকান্তি দাস

হোয়াইট হাউস-এর  পবিত্রতা নষ্ট করার দুর্নাম জুটেছিল কি না বেচারি বিল ক্লিন্টনের!‌ তখনও নাকি মার্কিন আম জনতা মুখ বেঁকিয়ে বলেছিল,  কোথায় মেরিলিন মনরো,  আর কোথায় মনিকা লিউইনস্কি!‌ তবে, মনরো–কেনেডির এই প্রেম রীতিমত ঢাক–ঢোল পিটিয়ে উদ্‌যাপিত হয়েছে মার্কিন গণজীবনে। ১৯ মে ১৯৬২। কেনেডির আসল জন্মদিনের ১০ দিন আগেই উৎসব হয়েছিল নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়্যার গার্ডেনে। ১৫ হাজার অতিথির তালিকায় তাবড় রাজনীতিক ও হলিউড সেলেবদের ছড়াছড়ি। বিরাট কনসার্টে মারিয়া কালাস,  এলা ফিটজেরাল্ড-এর মতো ডাকসাইটে শিল্পীদের পাশাপাশি মেরিলিন মনরো!‌ ইতিহাস হয়ে গিয়েছে সেই সন্ধ্যায় মনরোর গাওয়া  ‘হ্যাপি বার্থডে টু ইউ মিস্টার প্রেসিডেন্ট’।  
বিশদ

06th  September, 2019
মানুষই কি মানুষের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে দাঁড়াচ্ছে!
মেরুনীল দাশগুপ্ত

শেষের সেদিন কি আর খুব দূরে নয়? সাম্প্রতিককালে বিশ্বজুড়ে প্রকৃতির নজিরবিহীন খামখেয়াল, মানুষের লোভের আগুনে সবুজের নির্বিচার মৃত্যু এবং বহু বহু বছর ধরে সীমাহীন অপচয়ের ফলে ফুরিয়ে আসা পানীয় জলের ভাঁড়ার আমাদের মনে আজ এই ভয়ঙ্কর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
বিশদ

05th  September, 2019
একনজরে
রিয়াধ, ১৪ সেপ্টেম্বর (এএফপি): সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো’র দু’টি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালাল ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। হামলার ফলে দু’টি শোধনাগারেই বিধ্বংসী আগুন লেগে যায়। ...

বিশ্বজিৎ দাস, হায়দরাবাদ: দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্তারা বলে আসছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প স্বাস্থ্যসাথীরই নকল। আজ যা মোদি করছেন, কয়েক বছর আগে থেকেই তা বাস্তবায়িত করা শুরু করেছেন মমতা। ...

কলম্বো, ১৪ সেপ্টেম্বর: অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হল ভারত। লো-স্কোরিং ফাইনালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৫ রানের রুদ্ধশ্বাস জয় পেয়েছে ভারতীয় দল। এই নিয়ে সপ্তমবার এই ...

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: বৃহস্পতিবার রাত থেকে রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকের কাশিয়াডাঙা অঞ্চলে ভাঙন শুরু হওয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। এলাকার কয়েক হাজার গ্রামবাসী আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। গ্রামে যাওয়ার প্রধান রাস্তাও গঙ্গার গর্ভে চলে গিয়েছে। ফলে সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

অতিরিক্ত পরিশ্রমে শারীরিক ক্লান্তি, প্রিয়জনের বিপদগামীতায় অশান্তি ও মানহানির আশঙ্কা, সাংসারিক ক্ষেত্রে মতানৈক্য এড়িয়ে চলা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস
১২৫৪: পরিব্রাজক মার্কো পোলোর জন্ম
১৮৭৬: কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম  

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.০৯ টাকা ৭১.৭৯ টাকা
পাউন্ড ৮৫.৯৩ টাকা ৮৯.১৩ টাকা
ইউরো ৭৭.০৩ টাকা ৮০.০১ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
14th  September, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৭, ৯৯০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬, ০৪৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬, ৫৮৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৫, ২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৫, ৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৯ ভাদ্র ১৪২৬, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার, প্রতিপদ ১৭/২৪ দিবা ১২/২৪। উত্তরভাদ্রপদ ৫০/৪৪ রাত্রি ১/৪৪। সূ উ ৫/২৬/৩৮, অ ৫/৩৭/৪২, অমৃতযোগ দিবা ৬/১৪ গতে ৯/৩০ মধ্যে। রাত্রি ৭/১২ গতে ৮/৪৭ মধ্যে, বারবেলা ১০/০ গতে ১/৩ মধ্যে, কালরাত্রি ১/১ গতে ২/৩০ মধ্যে।
২৮ ভাদ্র ১৪২৬, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার, প্রতিপদ ১৩/৩২/২১ দিবা ১০/৫১/১৩। উত্তরভাদ্রপদ ৪৯/৫০/৬ রাত্রি ১/২২/১৯, সূ উ ৫/২৬/১৭, অ ৫/৩৯/৩৭, অমৃতযোগ দিবা ৬/১৩ গতে ৯/৩০ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/১৬ গতে ৮/৫০ মধ্যে, বারবেলা ১০/১/১৭ গতে ১১/৩২/৫৭ মধ্যে, কালবেলা ১১/৩২/৫৭ গতে ১/৪/৩৭ মধ্যে, কালরাত্রি ১/১/১৭ গতে ২/২৯/৩৭ মধ্যে।
 ১৫ মহরম

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ফের বদলাল রাজ চক্রবর্তীর ছবির নাম 
রাজ চক্রবর্তীর আগামী ছবির নাম আরও একবার বদলাল। ছবির প্রথম ...বিশদ

05:24:30 PM

অন্ধ্রপ্রদেশে নদীতে নৌকা উল্টে যাওয়ার ঘটনায় মৃত ১১, বাকিদের খোঁজ এখনও মেলেনি 

05:16:17 PM

মা উড়ালপুল থেকে পড়ে জখম ১ ব্যক্তি 

04:45:51 PM

অন্ধ্রপ্রদেশে নদীতে উল্টে গেল নৌকা, ৫ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা, নিখোঁজ একাধিক 

04:24:32 PM

মেয়ো রোডে বাস দুর্ঘটনা, জখম একাধিক যাত্রী 

03:15:59 PM

প্রয়াগরাজে একটি বাড়িতে বিস্ফোরণ, মৃত ১, জখম ২ 

03:09:00 PM