Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

নিস্তেজ অর্থনীতির সত্যটা সরকার ভুলে যাচ্ছে 
পি চিদম্বরম

রাষ্ট্রপতি ভবন হল সরকারের ক্ষমতার আসনের প্রতীক। এক কিলো মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর অফিস (পিএমও), নর্থ ব্লক ও সাউথ ব্লক—মানে স্বরাষ্ট্র, অর্থ, প্রতিরক্ষা ও বিদেশ-এর মতো উচ্চ মন্ত্রকগুলি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনটিও এক কিলো মিটার ব্যাসার্ধের ভিতর; তেমনি
রয়েছে উপরাষ্ট্রপতি, লোকসভার অধ্যক্ষ, প্রতিরক্ষার তিন বিভাগীয় প্রধান এবং বেশিরভাগ সংসদ সদস্যের ভবনগুলি।
বহু কথাবার্তা
এই ক্ষমতার বৃত্তে কথাবার্তা বলতে এখন কী? কথাবার্তার বিষয়গুলো হল: জম্মু ও কাশ্মীরের অঙ্গচ্ছেদ, সংসদের উভয় কক্ষে বিতর্কিত বিলগুলির জায়গা করে দেওয়া, আঞ্চলিক শাসক দলগুলির আত্মসমর্পণ, নরেন্দ্র মোদির আধিপত্য, কংগ্রেস দলের নেতৃত্বের সমস্যার কষ্টসাধ্য সমাধান, এবং সুষমা স্বরাজের দুঃখজনক বিদায়। সোজা কথায়, অর্থনীতি বাদে সবকিছুরই চর্চা জারি আছে।
এই ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে মোটামুটি ৫০ কিলোমিটার পেরিয়ে যেদিকেই যাওয়া যাক, প্রতিটি গ্রামে এবং নগরের দরিদ্র জনপদগুলিতে আলোচনাটা একেবারে অন্য। তাদের কথাবার্তার সারাৎসার হল অর্থনীতি—সকলের প্রকৃত মজুরি বা প্রকৃত আয়পত্তর কমে যাচ্ছে অথবা থমকে গিয়েছে। তাদের আলোচনায় উঠে আসছে কর্মীসঙ্কোচন আর ছাঁটাইয়ের কথা। বৃথা কাজের সন্ধানের আক্ষেপ শোনা যাচ্ছে। বন্যা অথবা খরায় বিপর্যয় এবং মৃত্যু প্রসঙ্গ নিয়ে চর্চা কানে আসছে। আলোচনা চলছে জল ও বিদ্যুতের সঙ্কট কতটা বিপন্ন করে তুলছে তাদের। বৈষম্যে-নির্দয় পৃথিবীতে বেঁচেবর্তে থাকার সংগ্রামের কথাই তারা বলে চলেছে।
প্রায় সাড়ে এগারোশো কিলো মিটার দূরে মুম্বই।
এই মহানগরীতেই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, সেবি, স্টক এক্সচেঞ্জ এবং বহু প্রথম সারির কোম্পানি ও ব্যাঙ্কের কর্পোরেট হেড কোয়ার্টার্স। তাই এখানে একমাত্র চর্চার বিষয়টি
হল অর্থ অথবা অর্থসঙ্কট। আলোচনা চলছে বিএসই এবং এনএসই সূচকের ভয়ঙ্কর ধস, ভারতীয় মুদ্রামানের অবনমন, লগ্নিকারীদের বন্ডের উপর প্রদেয় অর্থের ভাগ বেড়ে চলা, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যঙ্কগুলির বিপুল লোকসান, অনমনীয় কর ব্যবস্থা (এবং সেটার কঠোর প্রয়োগ নীতি), ফরেন পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট (এফপিআই) সরে যাওয়া এবং ক্যাফে কফি
ডে-র প্রমোটার ভি জি সিদ্ধার্থের আত্মহত্যা নিয়ে।
বেপরোয়া সরকার
আমার মতে, একটা সরকার যদি যত্নশীল হয় তবে শ্রমজীবী এবং গরিব মানুষের কথাবার্তাগুলোকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবে সে। শ্রমজীবী মানুষজন অন্যসকল উদ্বেগের বিষয়ের শরিক হতে পারে, এমনকী ভোটও দিতে পারে পপুলার পারসেপশনের উপর ভিত্তি করে, কিন্তু তাদের চাওয়া-পাওয়ার বিষয় একটাই—অর্থনীতি। দুর্ভাগ্যের হল, এই সরকারের কাছে অর্থনীতিটা মনে হয় সবচেয়ে কম ভাবনাচিন্তার বিষয়, ‘অপারেশন জম্মু ও কাশ্মীর’-এর পর বিজয়প্রদর্শনের আদিখ্যেতা এই সরকার আড়াল করতে পারবে না।
অর্থনীতির একটি স্ন্যাপশট রাখছি:
(১) জিডিপি বৃদ্ধির হারের অবনমন অব্যাহত। সারা বছরের ৬.৮ শতাংশ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিকের ৫.৮ শতাংশের পর ২০১৯-২০ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিক খুব একটা আশাব্যঞ্জক ঠেকছে না। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যরা পুরো ২০১৯-২০ সালের জন্য পূর্বাভাস নরম সুরে রেখে বলেছে যে জিডিপি বৃদ্ধির হারটা ৬.৯ শতাংশ হতে পারে। অএতব, যদি প্রথম ত্রৈমাসিক আর একবার ৫.৮ শতাংশ বৃদ্ধি দিতে পারে তবে আমরা ভাগ্যবান বলে মনে করব।
(২) কোর সেক্টরের বৃদ্ধি ৫০ মাসের ভিতর সবচেয়ে কম হয়েছে—০.২ শতাংশ। সমস্ত ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রে ক্যাপাসিটি ইউটিলাইজেশনের ছবিটা গড়পড়তা—৭০ শতাংশের নীচে।
(৩) এই মুহূর্তে এশিয়ার সবচেয়ে খারাপ পারফর্মিং কারেন্সির নাম রুপি বা ভারতীয় মুদ্রা। আগস্ট মাসে মার্কিন ডলারের সাপেক্ষে রুপির পতনের হার ৩.৪ শতাংশ।
(৪) গত জুন (২০১৯) ত্রৈমাসিকের শেষে নতুন প্রকল্পে (বেসরকারি এবং সরকারি উভয় ক্ষেত্র মিলিয়ে) বিনিয়োগ ঘোষণাটি ছিল গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন—৭১,৩৩৭ কোটি টাকা। ওই ত্রৈমাসিকে সম্পূর্ণ-হওয়া প্রকল্পগুলির মোট মূল্য ৫ বছরের ভিতরে সর্বনিম্ন—৬৯,৪৯৪ কোটি টাকা। রেলে পণ্যমাশুল (কয়লা, সিমেন্ট, পেট্রলিয়াম, সার, লোহা প্রভৃতি পরিবহণ) বাবদ আয় ২০১৯ সালের এপ্রিল-জুনে ২.৭ শতাংশ বেড়েছে বটে, কিন্তু পূর্ববর্তী বছরের একই সময়কালের (৬.৪ শতাংশ) থেকে তা অনেকটাই কমে গিয়েছে।
(৫) এপ্রিল-জুলাই, ২০১৯ সময়কালে রপ্তানি (পণ্য এবং পরিষেবা) ৩.১৩ শতাংশ বেড়েছে বটে, পূর্ববর্তী বছরের একই সময়কালের তুলনায় আমদানি কমেছে ০.৪৫ শতাংশ—যা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মন্দা নির্দেশ করে।
(৬) কনজাম্পশন বা উপভোগ এত কম অতীতে কখনও দেখা যায়নি। ২০১৯-২০ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে বিক্রি হ্রাস পেয়েছিল গাড়িতে ২৩.৩ শতাংশ, মোটরবাইকে ১১.৭ শতাংশ, বাণিজ্যিক গাড়িতে ৯.৫ শতাংশ এবং ট্রাক্টরে ১৪.১ শতাংশ। পরিস্থিতি জুলাই মাসে আরও খারাপ হয়েছে। শিল্প সমিতিগুলির (সিয়াম এবং ফাডা) অভিযোগ, ২,৩০,০০০ মানুষ কাজ হারিয়েছে এবং ২৮৬টি ডিলারশিপ কমে গিয়েছে। নির্মাণ শিল্পের অবস্থাও ভয়ঙ্কর—২০১৯ সালের মার্চের শেষের খবর, ১২ লক্ষ ৮০ হাজার ফ্ল্যাট অবিক্রীত রয়ে গিয়েছে।
(৭) ফাস্ট মুভিং কনজিউমার গুডস (এফএমসিজি) উপভোগের চিত্রটাও আশাব্যঞ্জক নয়। হিন্দুস্থান লিভার, ডাবর, ব্রিটানিয়া ইন্ডাস্ট্রিজ, এশিয়ান পেইন্টস প্রভৃতি যে রিপোর্ট দিয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে বিক্রিবাটা বৃদ্ধির বহর (ভলিউম গ্রোথ রেট) পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় অর্ধেক হয়েছে কিংবা তার চেয়েও কমে গিয়েছে।
(৮) জুলাই মাসে পাইকারি মূল্যসূচক (ডব্লুপিআই) বেড়ে হয়েছিল ১.০৮ শতাংশ। সূচকের ভিতরে, ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রের মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে ০.৩৪ শতাংশ হয়েছিল। এসব মোটেই ভালো লক্ষণ নয়, এসব চাহিদা হ্রাসের শঙ্কা।
(৯) প্রথম ত্রৈমাসিকে (২০১৯-২০) কেন্দ্রীয় সরকারের মোট কর রাজস্ব (গ্রস ট্যাক্স রেভিনিউ) বেড়েছে মাত্র ১.৪ শতাংশ, অথচ পূর্ববর্তী বছরে একই সময়কালে এটা বেড়েছিল ২২.১ শতাংশ। এই পরিস্থিতি এটাই বুঝিয়ে দিচ্ছে যে কর্পোরেট এবং ব্যক্তি রোজগেরে উভয়েরই আয় কমেছে। সুতরাং খরচাপাতিতেও টান পড়েছে তাদের।
পরিকল্পনা কোথায়?
বৃদ্ধির চার চালকের মন্ত্র-এর কাছে আমরা ফিরি: সরকারি ব্যয়, বেসরকারি বিনিয়োগ, বেসরকারি উপভোগ এবং রপ্তানি। স্পষ্টত, ইঞ্জিনগুলির একটিও চাঙ্গা হচ্ছে না এবং বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হচ্ছে না। এটা
অনেক বার বলা হয়েছে এবং মান্য অর্থনীতিবিদগণ
সহ অনেকেই বলেছেন। কিন্তু, সরকার সে-কথায় কর্ণপাত করতে কিংবা সে-কথা বুঝতে কিংবা সেইমতো পদক্ষেপ করতে ইচ্ছুক নয়। অর্থনীতি হল এমন
একটি ক্ষেত্র, যেখানে পেশিপ্রদর্শনের দেশাত্মবোধ কোনও কাজে আসবে না। পক্ষান্তরে, এটা
অর্থনীতিকে গোল্লায় পাঠানোর কাজটিই করতে পারে। 
19th  August, 2019
রাজনীতির উত্তাপ কি পুজোর আমেজ
জমে ওঠার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে?
শুভা দত্ত

 পরিস্থিতি যা তাতে এমন কথা উঠলে আশ্চর্যের কিছু নেই। উঠতেই পারে, উঠছেও। বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসবের মুখে প্রায় প্রতিদিনই যদি কিছু না কিছু নিয়ে নগরী মহানগরীর রাজপথে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে, পুলিস জলকামান, লাঠিসোঁটা, কাঁদানে গ্যাস, ইটবৃষ্টি, মারদাঙ্গা, রক্তারক্তিতে যদি প্রায় যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং তাতে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনজীবন ব্যবসাপত্তর উৎসবের মরশুমি বাজার কিছু সময়ের জন্য বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তবে এমন কথা এমন প্রশ্ন ওঠাই তো স্বাভাবিক।
বিশদ

আমেরিকায় মধ্যবয়সের
সঙ্গী সোশ্যাল মিডিয়া
আলোলিকা মুখোপাধ্যায়

যে বয়সে পৌঁছে দূরের আত্মীয়স্বজন ও পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ক্রমশ আগের মতো সম্ভব হয় না, সেই প্রৌঢ় ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধার জীবনে ইন্টারনেট এক প্রয়োজনীয় ভূমিকা নিয়েছে। প্রয়োজনীয় এই কারণে যে, নিঃসঙ্গতা এমন এক উপসর্গ যা বয়স্ক মানুষদের শরীর ও মনের উপর প্রভাব ফেলে। বিশদ

14th  September, 2019
মোদি সরকারের অভূতপূর্ব কাশ্মীর পদক্ষেপ পরবর্তী ভারতীয় কূটনীতির সাফল্য-ব্যর্থতা
গৌরীশঙ্কর নাগ

 এই অবস্থায় এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ৩৭০ ধারা বিলোপ পর্বের প্রাথমিক অবস্থাটা আমরা অত্যন্ত উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছি।
বিশদ

14th  September, 2019
ব্যর্থতা নয়, অভিনন্দনই
প্রাপ্য ইসরোর বিজ্ঞানীদের
মৃণালকান্তি দাস

 কালামের জেদেই ভেঙে পড়েছিল ইসরোর রোহিনী। না, তারপরেও এ পি জে আব্দুল কালামকে সে দিন ‘ফায়ার’ করেননি ইসরোর তদানীন্তন চেয়ারম্যান সতীশ ধাওয়ান! বলেননি, ‘দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল কালামকে’! তার এক বছরের মধ্যেই ধরা দিয়েছিল সাফল্য। ধাওয়ানের নির্দেশে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন সেই কালাম-ই। তাঁর কথায়, ‘ওই দিন আমি খুব গুরুত্বপূর্ণ পাঠ পেয়েছিলাম। ব্যর্থতা এলে তার দায় সংস্থার প্রধানের। কিন্তু,সাফল্য পেলে তা দলের সকলের। এটা কোনও পুঁথি পড়ে আমাকে শিখতে হয়নি। এটা অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত।’ বিশদ

13th  September, 2019
রাষ্ট্রহীনতার যন্ত্রণা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভিক্টর নাভরস্কি নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে আবিষ্কার করলেন, তিনি আচমকাই ‘রাষ্ট্রহীন’ হয়ে পড়েছেন। কারণ, তাঁর দেশ ক্রাকোজিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলির কাছে মানবিকতার নিরিখে ক্রাকোজিয়ার আর কোনও ‘অস্তিত্ব’ নেই।
বিশদ

10th  September, 2019
জাতির গঠনে জাতীয় শিক্ষানীতি
গৌরী বন্দ্যোপাধ্যায়

 অভিধান অনুসরণ করে বলা যায়, পঠন-পাঠন ক্রিয়াসহ বিভিন্ন অভিজ্ঞতালব্ধ মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানোর প্রক্রিয়াই শিক্ষা। জ্ঞানকে বলা হচ্ছে অভিজ্ঞতালব্ধ প্রতীতি। শিক্ষা দ্বারা অর্জিত বিশেষ জ্ঞানকে আমরা বিদ্যা বলি। কালের কষ্টিপাথরে যাচাই করে মানুষ আবহমান কাল ধরে নিজ অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানরাশিকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পুস্তকের মধ্যে লিখে সঞ্চিত করে গেছে।
বিশদ

09th  September, 2019
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের শতবর্ষে ভারত প্রান্তিক রাষ্ট্র থেকে প্রথম দশে, লক্ষ্য শীর্ষস্থান
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

 প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির মুখে উড্রো উইলসন সমেত বিশ্বের তাবড় নেতারা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে শঙ্কিত হয়ে পড়েন। যুদ্ধের রাহুর গ্রাস থেকে এই সুন্দর পৃথিবীকে কীভাবে রক্ষা করা যায় তা নিয়ে তাঁরা চিন্তিত ছিলেন। উইলসন বুঝতে পেরেছিলেন মানুষের মগজে রয়েছে যুদ্ধের অভিলাষ। যুদ্ধভাবনা মুছে ফেলে শান্তিভাবনা প্রতিষ্ঠা করা দরকার।
বিশদ

09th  September, 2019
পুজোর মুখে বিপর্যয়: ঘরে বাইরে

 দুর্ঘটনা বিপর্যয় তো আর জানান দিয়ে আসে না! নেপালের ভূমিকম্প কি আমাদের আয়েলার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কত মানুষ ঘর-সংসার সব হারিয়ে রাতারাতি সর্বস্বান্ত হয়েছেন, কত সংসার উজাড় হয়ে গেছে—শত চেষ্টাতেও সেই ক্ষত পুরোটা পূরণ করা গিয়েছে কি? যায়নি। এই বউবাজারে রশিদ জমানার সেই ভয়ানক বিস্ফোরণের পর কত লোকের কত সর্বনাশ হয়েছিল—কজন তার বিহিত পেয়েছিলেন? মেট্রো রেলের সুড়ঙ্গ কাটতে গিয়ে সেপ্টেম্বরের শুরুতে বউবাজারে বাড়ি ধসে যে ক্ষতি বাসিন্দাদের হল তাতে তাই ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ বললে কিছুমাত্র ভুল হয় না। বিশদ

08th  September, 2019
বন্ধ হোক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পঞ্চায়েত দখল
তন্ময় মল্লিক

পঞ্চায়েত কারও চোখে স্থানীয় সরকার, কারও চোখে উন্নয়নের হাতিয়ার, কারও চোখে চোর তৈরির কারখানা। পঞ্চায়েত সম্পর্কে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হলেও একটা ব্যাপারে প্রায় সকলেই এক মত, পঞ্চায়েত আসলে মধুভাণ্ড। এই মধুভাণ্ডের নাগাল পাওয়া নিয়েই যত মারামারি, বোমাবাজি, খুনোখুনি। এই পঞ্চায়েতই নাকি এবার পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা ভোটে ওলট-পালটের নাটের গুরু।
বিশদ

07th  September, 2019
অজানা ভবিষ্যৎ
সমৃদ্ধ দত্ত

টাকা কোথায় গেল? একের পর এক গ্রামবাসীর টাকা উধাও। সকলে সেই অফিসে আবার গেলেন। তারা এবার ভালো করে কম্পিউটার চেক করে বললেন, তোমাদের আগে যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল সেটা তো চেঞ্জ হয়েছে। এখানে নতুন এক অ্যাকাউন্ট দেখাচ্ছে। ওখানেই গেছে টাকা। প্রমোদকুমাররা জানেই না কোথায় নতুন অ্যাকাউন্ট! এক সহৃদয় ব্যাঙ্ককর্মী আবিষ্কার করলেন মোবাইল সার্ভিস প্রভাইডার কোম্পানি পেমেন্ট ব্যাঙ্ক চালু করেছে। ওই যে ফোনে আধার নম্বর চাওয়া হল এবং প্রমোদকুমাররা গিয়ে লিংক করিয়ে এলেন, আসলে ওই আধার নম্বরের মাধ্যমে তাঁদের অজ্ঞাতেই তাঁদের নামে পেমেন্ট ব্যাঙ্ক ‌অ্যাকাউন্ট চালু হয়ে গিয়ে সেই অ্যাকাউন্টই শো করতে শুরু করেছে সরকারি দপ্তরে। আর সব টাকা সেখানে যাচ্ছে।
বিশদ

06th  September, 2019
নিজেকে জিজ্ঞেস করো, দেশের জন্য কী করতে পার
মৃণালকান্তি দাস

হোয়াইট হাউস-এর  পবিত্রতা নষ্ট করার দুর্নাম জুটেছিল কি না বেচারি বিল ক্লিন্টনের!‌ তখনও নাকি মার্কিন আম জনতা মুখ বেঁকিয়ে বলেছিল,  কোথায় মেরিলিন মনরো,  আর কোথায় মনিকা লিউইনস্কি!‌ তবে, মনরো–কেনেডির এই প্রেম রীতিমত ঢাক–ঢোল পিটিয়ে উদ্‌যাপিত হয়েছে মার্কিন গণজীবনে। ১৯ মে ১৯৬২। কেনেডির আসল জন্মদিনের ১০ দিন আগেই উৎসব হয়েছিল নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়্যার গার্ডেনে। ১৫ হাজার অতিথির তালিকায় তাবড় রাজনীতিক ও হলিউড সেলেবদের ছড়াছড়ি। বিরাট কনসার্টে মারিয়া কালাস,  এলা ফিটজেরাল্ড-এর মতো ডাকসাইটে শিল্পীদের পাশাপাশি মেরিলিন মনরো!‌ ইতিহাস হয়ে গিয়েছে সেই সন্ধ্যায় মনরোর গাওয়া  ‘হ্যাপি বার্থডে টু ইউ মিস্টার প্রেসিডেন্ট’।  
বিশদ

06th  September, 2019
মানুষই কি মানুষের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে দাঁড়াচ্ছে!
মেরুনীল দাশগুপ্ত

শেষের সেদিন কি আর খুব দূরে নয়? সাম্প্রতিককালে বিশ্বজুড়ে প্রকৃতির নজিরবিহীন খামখেয়াল, মানুষের লোভের আগুনে সবুজের নির্বিচার মৃত্যু এবং বহু বহু বছর ধরে সীমাহীন অপচয়ের ফলে ফুরিয়ে আসা পানীয় জলের ভাঁড়ার আমাদের মনে আজ এই ভয়ঙ্কর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
বিশদ

05th  September, 2019
একনজরে
 সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: এলাকার দখল কার হাতে থাকবে তা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বাগনানের ওড়ফুলি গ্রাম পঞ্চায়েতের রানাপাড়া। শুক্রবার রাতে সংঘর্ষ চলাকালীন ব্যাপক বোমাবাজির পাশাপাশি বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে দু’পক্ষের বিরুদ্ধে। ...

নয়াদিল্লি, ১৪ সেপ্টেম্বর (পিটিআই): তিনি ছত্রপতি শিবাজির বংশধর। শনিবার বিজেপিতে যোগ দিলেন সাতারার এনসিপি সাংসদ উদয়নরাজে ভোঁসলে। দিল্লিতে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ও মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের উপস্থিতিতে গেরুয়া শিবিরে ভিড়লেন উদয়নরাজে। ...

কলম্বো, ১৪ সেপ্টেম্বর: অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হল ভারত। লো-স্কোরিং ফাইনালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৫ রানের রুদ্ধশ্বাস জয় পেয়েছে ভারতীয় দল। এই নিয়ে সপ্তমবার এই ...

সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: উত্তরবঙ্গের বিগবাজেটের পুজোর উদ্যোক্তারা দক্ষিণবঙ্গ থেকে প্রতিমা নিয়ে আসছেন। ফলে উত্তরবঙ্গের মৃৎশিল্পীদের গুরুত্ব ক্রমশই কমতে শুরু করেছে। এতে প্রতিমা বানানোর অর্ডারের সংখ্যাও কমছে। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

অতিরিক্ত পরিশ্রমে শারীরিক ক্লান্তি, প্রিয়জনের বিপদগামীতায় অশান্তি ও মানহানির আশঙ্কা, সাংসারিক ক্ষেত্রে মতানৈক্য এড়িয়ে চলা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস
১২৫৪: পরিব্রাজক মার্কো পোলোর জন্ম
১৮৭৬: কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম  

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.০৯ টাকা ৭১.৭৯ টাকা
পাউন্ড ৮৫.৯৩ টাকা ৮৯.১৩ টাকা
ইউরো ৭৭.০৩ টাকা ৮০.০১ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
14th  September, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৭, ৯৯০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬, ০৪৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬, ৫৮৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৫, ২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৫, ৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৯ ভাদ্র ১৪২৬, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার, প্রতিপদ ১৭/২৪ দিবা ১২/২৪। উত্তরভাদ্রপদ ৫০/৪৪ রাত্রি ১/৪৪। সূ উ ৫/২৬/৩৮, অ ৫/৩৭/৪২, অমৃতযোগ দিবা ৬/১৪ গতে ৯/৩০ মধ্যে। রাত্রি ৭/১২ গতে ৮/৪৭ মধ্যে, বারবেলা ১০/০ গতে ১/৩ মধ্যে, কালরাত্রি ১/১ গতে ২/৩০ মধ্যে।
২৮ ভাদ্র ১৪২৬, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার, প্রতিপদ ১৩/৩২/২১ দিবা ১০/৫১/১৩। উত্তরভাদ্রপদ ৪৯/৫০/৬ রাত্রি ১/২২/১৯, সূ উ ৫/২৬/১৭, অ ৫/৩৯/৩৭, অমৃতযোগ দিবা ৬/১৩ গতে ৯/৩০ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/১৬ গতে ৮/৫০ মধ্যে, বারবেলা ১০/১/১৭ গতে ১১/৩২/৫৭ মধ্যে, কালবেলা ১১/৩২/৫৭ গতে ১/৪/৩৭ মধ্যে, কালরাত্রি ১/১/১৭ গতে ২/২৯/৩৭ মধ্যে।
 ১৫ মহরম

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
চিঠি হাতে নবান্নে সিবিআই 
সিবিআই হাজিরা এড়িয়ে এক মাস সময় চেয়েছেন প্রাক্তন পুলিস কমিশনার ...বিশদ

06:21:08 PM

ফের বদলাল রাজ চক্রবর্তীর ছবির নাম 
রাজ চক্রবর্তীর আগামী ছবির নাম আরও একবার বদলাল। ছবির প্রথম ...বিশদ

05:24:30 PM

অন্ধ্রপ্রদেশে নদীতে নৌকা উল্টে যাওয়ার ঘটনায় মৃত ১১, বাকিদের খোঁজ এখনও মেলেনি 

05:16:17 PM

মা উড়ালপুল থেকে পড়ে জখম ১ ব্যক্তি 

04:45:51 PM

অন্ধ্রপ্রদেশে নদীতে উল্টে গেল নৌকা, ৫ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা, নিখোঁজ একাধিক 

04:24:32 PM

মেয়ো রোডে বাস দুর্ঘটনা, জখম একাধিক যাত্রী 

03:15:59 PM