Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

শুধু উন্নয়ন নয়, ভোটের জন্য চাই ভালো মাস্টার
তন্ময় মল্লিক

মোটা বেতন দিয়ে মাস্টার রাখলেই ছেলেমেয়ে মানুষ হয় না। তেমনটা হলে সব বড়লোকের ছেলেমেয়েই উচ্চশিক্ষিত হতো। কিন্তু, তা তো হয় না। ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনায় আগ্রহ, মেধা যেমন থাকা দরকার, তেমনই নজরদারিটাও জরুরি। ফাঁকিবাজি থাকলেই ছাত্র হয় গাড্ডু খাবে, অথবা ‘বিবেচনায়’ পাশ। কথাগুলো কোনও শিক্ষাবিদ বা বিদগ্ধজনের নয়, বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুর জলাধার লাগোয়া এক ছোট্ট স্টল মালিকের। জঙ্গলমহল সহ গ্রাম বাংলার পরিকাঠামোয় প্রভূত উন্নয়ন, শান্তি প্রতিষ্ঠা সত্ত্বেও লোকসভা ভোটে তৃণমূলের শোচনীয় ফলের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়েই তাঁর এই উপমা।
এই ভদ্রলোক ঝুপড়ি থেকে পাকা স্টলের মালিক হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের জামানাতেই। আগে জলাধারের পাশে গুমটিতে ডোকরা, পুঁতি সহ হাতের কাজের মালপত্র নিয়ে বসতেন। সেই সব ঝুপড়ি, গুমটি এখন ঢালাই দেওয়া স্টল। সৌজন্যে মা-মাটি-মানুষের সরকার। মুকুটমণিপুরকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করতে এবং হস্তশিল্পীদের মাথার উপর ছাদ দিতে ৪০টির মতো স্টল তৈরি করেছে সরকার। সেই স্টলের একটি পেয়েছেন এই ছিপছিপে চেহারার মানুষটি। তৃণমূল পরিচালিত সরকারের বেনিফিশিয়ারি হলেও তাঁর মনে ‘পাওয়ার আনন্দ’ নেই। উল্টে বিস্তর ক্ষোভ।
না, এই স্টল মালিক বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই। বরং তৃণমূলের সঙ্গে সখ্যের সূত্রেই তাঁর কপালে জুটেছে সরকারি উদ্যোগে তৈরি স্টল। তবুও তাঁর মনে ক্ষোভ। ক্ষোভের কারণ, নিয়ম মেনে স্টল তৈরি না করা।
ওই স্টল মালিক বলছিলেন, দেখুন, এই স্টলগুলির উচ্চতা মাত্র সাত ফুট। সিলিং ফ্যান লাগালে হাত কেটে যাওয়ার ভয়। এমনিতেই বাঁকুড়া, পুরুলিয়ায় গরমে টেকা দায়। তার উপর ছাদের হাইট কম। বুঝতেই পারছেন, কী অবস্থা। যতদিন ব্যবসা করব, ততদিন এই যন্ত্রণা বইতে হবে। অথচ খোঁজ নিয়ে দেখুন, সরকার স্টলের হাইট ১০ ফুট করার কথাই বলেছিল। কিন্তু, কাটমানির লোভ ১০ ফুটকে টেনে করে দিল ৭ ফুট। তাহলে এবার বুঝুন, সরকার আমাদের ভালোর জন্য একটা প্রকল্প তৈরি করল, টাকা দিল। কিন্তু যাদের হাতে পড়ল, তারা এমন কাণ্ড ঘটাল যে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতার বদলে নেতাদের উপর মানুষ চটে গেল। ঠিকাদার মার্কা নেতাদের কৃতকর্মের সব দায় গিয়ে পড়ল সরকারের উপর।
চোখের সামনে সাত ফুট উচ্চতায় ঢালাই হচ্ছে দেখেও প্রতিবাদ করতে পারলাম না। মানে সাহসে কুলালো না। কারণ এখানে তো বেশিরভাগ নেতা হয় ঠিকাদার, না হয় সুপারভাইজার। দলটা ঠিকাদার, আর সুপারভাইজারদের দখলে চলে যাওয়াতেই যত বিপত্তি। তাই উন্নয়ন করলেই ভোটে জেতা যায়—এটা ভুল ধারণা। কৌশলী হতে হয়। উন্নয়নটা ঠিকমতো হচ্ছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখা দরকার। সেই জন্যই বলছিলাম, শুধু মাস্টারের পিছনে টাকা ঢাললেই ছেলেমেয়ে মানুষ হয় না, নজরদারি ভীষণ জরুরি।
উত্তরবঙ্গের সুদূর কোচবিহার থেকে দক্ষিণবঙ্গের ঝাড়গ্রাম পর্যন্ত লোকসভা ভোটে তৃণমূলের ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে, দলের চার আনা, আট আনা নেতাদের ঠিকাদার ও সুপারভাইজার হয়ে ওঠা এবং তাদের সঙ্গে ‘আত্মীয়তাই’ সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে। দল যাঁদের মাস্টারি করার দায়িত্ব দিয়েছিল, তাঁদের বেশিরভাগই এলাকায় গিয়ে কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক না করে বসতেন ‘ঠিকাদার নেতার’ সঙ্গে ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক’ ঝালিয়ে নিতে। আর তাতেই সারা হয়ে যেত পর্যবেক্ষণের কাজ।
ঠিকাদারদের দল হয়ে গেলে পার্টির রসাতলে যেতে যে বেশি সময় লাগবে না—এই ইঙ্গিত দিয়ে গিয়েছিলেন প্রবাদপ্রতিম কমিউনিস্ট নেতা বিনয়কৃষ্ণ চৌধুরী। বর্ধমান টাউনহলে জলসম্পদ দপ্তরের এক অনুষ্ঠানে ফেটে পড়েছিল তাঁর দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ। সেই সভায় বিনয়বাবু বলেছিলেন, আমার বলতে কোনও দ্বিধা নেই, সরকার এখন মানুষের জন্য ভাবছে না। সরকার এখন ’ফর দ্য কন্ট্রাক্টর, অফ দ্য কন্ট্রাক্টর, বাই দ্য কন্ট্রাক্টর।’ প্রবীণ কমিউনিস্ট নেতার সতর্কবার্তায় সেদিন সিপিএমের দণ্ডমুণ্ডের কর্তারা কর্ণপাত করেননি। উল্টে চরম অপ্রিয় এবং চরম সত্যি কথাটা বলে ফেলায় দলে তাঁকে তীব্র সমালোচিত হতে হয়েছিল। এমনকী, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু পর্যন্ত তাঁকে ভর্ৎসনা করতে ছাড়েননি।
তৃণমূলের আমলে দলের মধ্যে ঠিকাদার ও সুপারভাইজারদের দাপট বেশ বেড়ে গিয়েছিল। আর সেটা মারাত্মক আকার নিয়েছিল ২০১৬ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতা দখলের পর। প্রায় বিরোধীশূন্য রাজ্যে সর্বত্র তৃণমূলের নেতারা নামে বেনামে ঠিকাদারিতে নেমে পড়েন। ‘টেন্ডার’ শব্দটিই হাওয়া হয়ে গিয়েছিল। গ্রামের মধ্যে ড্রেন তৈরি হয়েছে। কিন্তু, সেই নিকাশি নালার জল কোথায় গিয়ে পড়বে, তা দেখা হয়নি। টাকা খরচ করাটাই উদ্দেশ্য হয়ে গিয়েছিল। কারণ যত উন্নয়ন, তত পকেটমানি।
হুগলি জেলার আরামবাগ লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত পুরশুড়া বিধানসভায় তৃণমূলের বিপুল ভোটে পিছিয়ে থাকার পিছনেও এক যুব নেতার ঠিকাদারি ব্যবসা এবং ফুলেফেঁপে ওঠাকেই অনেকে দায়ী করছেন। ওই নেতার দাপটে দলের প্রবীণ এবং আদিদের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় হয়েছিল। বাঁকুড়ার খাতড়াতেও এক ঠিকাদার নেতার ভূমিকা জঙ্গলমহলে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। বর্ধমান শহরেও এক প্রভাবশালী নেতার দাপট এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে শহরবাসী মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। শুধু সাধারণ মানুষ নয়, দলের বেশিরভাগ নেতা তাঁর কাজে ক্ষুব্ধ। কিন্তু কিছু করার নেই। কারণ দলের মাস্টারমশাইদের সঙ্গে তাঁর ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক’।
বলা দরকার, জায়গার নামগুলি এখানে অপ্রাসঙ্গিক। কারণ রাজ্যের প্রায় সর্বত্রই একই ঘটনা ঘটেছে। প্রায় প্রতিটি জায়গায় এরকম কিছু দাপুটে নেতার জন্যই উন্নয়নের সুফল তৃণমূল ঘরে তুলতে পারেনি। অথচ ভোটের আগে দিস্তা দিস্তা অভিযোগ জমা দিয়েও দাপুটেদের ঠান্ডা করা যায়নি। কারণ দলের মাস্টারমশাইদের সঙ্গে দাপুটেদের সম্পর্ক অতীব ‘মধুর’। ফলে সমস্ত অভিযোগের পিছনেই কাণ্ডারীরা দেখতে পেতেন, ষড়যন্ত্রের গভীর ছায়া। পুলিসি ঘেরাটোপের লালগাড়িতে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া কাণ্ডারীরা ভেবেছিলেন, প্রায় বিরোধীশূন্য রাজ্যে মানুষ হয়তো তাঁদের এভাবেই স্যালুট
জানিয়ে যাবে। তাই ঠান্ডিগাড়িতে বসে গুনগুনিয়ে গাইতেন, ‘এমনি করেই যায় যদি দিন যাক না।’
কিন্তু তাঁরা ভুলে গিয়েছিলেন, ‘চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায়’ বলেও একটি গান আছে।
ইতিহাস শিক্ষা দেয়। ইতিহাসকে যাঁরা মনে রাখেন, তাঁদের ভবিষ্যতের পথচলা অনেক মসৃণ হয়। ইতিহাস শিক্ষা দিয়েছে, নেতাদের দলে টেনে নেওয়া যত সহজ, মানুষকে ধরে রাখা ঠিক ততটাই কঠিন। ভালোবাসা আর সম্মানে ঘাটতি হলেই মানুষ ২৩৬ থেকে একটানে ৩৬ করে দিতে পারে। আবার ৩৪ থেকে বাইশও হয়।
অম্বিকানগর, বাঁকুড়া জেলার রানিবাঁধের প্রত্যন্ত এলাকা। অত্যন্ত দুর্গম ও জঙ্গলঘেরা হওয়ায় ইংরেজ আমলে গোরা পুলিসকে ধোঁকা দিতে স্বাধীনতা সংগ্রামীরা এই এলাকায় গা ঢাকা দিতেন। বারিকুলের ছেন্দাপাথর ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নিরাপদ আস্তানা। কথিত আছে, বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু গোরা পুলিসদের নাগাল এড়াতে এই ছেন্দাপাথরেই আত্মগোপন করেছিলেন।
সেই দুর্গমতার জন্যই রানিবাঁধ হয়ে উঠেছিল ‘মাওবাদীদের অভয়ারণ্য’। খুন আর অপহরণের আতঙ্কে রাত জাগত জঙ্গলমহল। সন্ধ্যার আগেই ঝুপ ঝুপ করে পড়ে যেত দোকানের ঝাঁপ। কিন্তু, সেই রানিবাঁধ, সেই বারিকুল, সেই অম্বিকানগর এখন এতটাই মসৃণ যে কোনও রকম ঝাঁকুনি ছাড়াই কলকাতা থেকে চলে আসা যায় মুকুটমণিপুর। নিরাপত্তা এখন এতটাই সুনিশ্চিত যে গভীর রাতেও বাড়ির বাইরে থাকা লোকজনের জন্য পরিবারের দুশ্চিন্তা হয় না। সৌজন্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিন্দুকও একথা স্বীকার করে। তবুও...।
লোকসভা ভোটে বহু আসনে হেরেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। বিপুল ভোটে। কারণটা শোনা যাক গুরুপদ প্রামাণিকের মুখে। গ্রামের মধ্যে একটা ছোট্ট সেলুনে চুলদাড়ি কেটে তাঁর সংসার চলে। গুরুপদ একজন ছাপোষা মানুষ। গুরুপদর অবস্থা হরিপদ কেরানির চেয়েও খারাপ। কিন্তু, মেরুদণ্ডটা এখনও ঠিকঠাক, সোজা। ভোট বিপর্যয়ের পরেও মার খাওয়ার ভয়ে আত্মগোপন করতে হয়নি। এখনও নিজেকে তৃণমূল কর্মী বলেই দাবি করেন। ভোলও বদলাননি। গুরুপদ কিন্তু এই ফলে অবাক নন।
গুরুপদ বলেন, এটাই তো হওয়ার কথা ছিল। আমাদের এখানে একটা গ্রামে আবাস যোজনার সাতটি বাড়ির অনুমোদন এসেছিল। তিনজন পেয়েছিল, চারজনকে দেওয়া হয়নি। কারণটা কী জানেন, নেতাদের দেওয়ার জন্য ওই চারজনের গোরু বা হাল কিছুই ছিল না, যা ওরা বিক্রি করতে পারত। একেবারে হতদরিদ্র। অথচ যারা কাটমানি দিতে না পারায় ঘর পেল না, তারা কিন্তু আমাদেরই লোক ছিল। এরপরেও ওদের ভোট আশা করা যায়?
১০০ দিনের প্রকল্পে কাজ না করে কত লোকে টাকা পেত। তাতে যারা গতর খাটিয়ে টাকা নিত, তাদের রাগ হয়ে গেল। আমি এসবের প্রতিবাদ করেছিলাম বলে আমাকে ঘর থেকে বেরতে বাধা দিল। কারা বাধা দিল জানেন? এক সময় যারা লালপার্টির লোক ছিল। এরপরেও তৃণমূল জিতলে বা ভালো ফল করলে দলটা শুধরোত না। গুরুপদ চায়ে শেষ চুমুকটা দিয়ে ভাঁড়টা ফেলে দিলেন।
অনেক আগেই সন্ধ্যা নেমেছে। ফেরার জন্য পা বাড়তেই গুরুপদ সেলুন ছেড়ে পিছন পিছন এলেন। বললেন, তবে একটা কথা মনে রাখবেন, মানুষ তৃণমূলকে ফেলতে চায়নি, ধাক্কা দিতে চেয়েছে। এই ধাক্কায় যদি লোহার বিমে লাগা মরচে খসে যায় তাহলে ফের জঙ্গলমহল হাসবে। আর যদি উপর উপর রং করে দেওয়া হয়, তাহলে মরচে একদিন হয়তো গোটা বিমটাকেই খেয়ে ফেলবে।
10th  August, 2019
তিন বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন: মিলবে লোকসভা-উত্তর রাজ্য-রাজনীতির মতিগতি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

 ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে প্রথম তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের জন্য ভোটগ্রহণ আগামী ২৫ নভেম্বর,ফলাফল ২৮ নভেম্বর। খড়্গপুর সদর করিমপুর এবং কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফলাফল থেকে বিবাদমান রাজ্য-রাজনীতির একাধিক প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে। বিশদ

ভারত-মার্কিন সহযোগিতাই ঠেকাতে পারবে
অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারের বিপদ 
কেনেথ আই জাস্টার

কেউ কি ভাবতে পেরেছিল, সামান্য একটি ছাতাপড়া ‘মেলন’ জাতীয় ফলের ভিতর লুকিয়ে রয়েছে অগণিত মানুষের জিয়নকাঠি? হ্যাঁ, পেনিসিলিন—এটাই হল সর্বপ্রথম অ্যান্টিবায়োটিক।   বিশদ

20th  November, 2019
শিবসেনা ও একটি পরম্পরার অপমৃত্যু
শান্তনু দত্তগুপ্ত

শিবাজি পার্কের জনসভায় তির-ধনুকটা নামিয়ে বক্তৃতা শুরু করতে গিয়েও থমকে গেলেন বাল থ্যাকারে। শব্দবাজির দাপট কানের যাবতীয় সহ্যক্ষমতা অতিক্রম করছে। সঙ্গে চিৎকার... উল্লাস। অপেক্ষা করছেন শিবসেনা ‘প্রমুখ’। তির-ধনুক তাঁর দলের প্রতীক। পৌরুষের প্রতীক। তিনি নিজেও তাই। ১৯৯৫ সালের বিধানসভা ভোটের শেষ পর্বের প্রচার।  
বিশদ

19th  November, 2019
প্রচলিত ছকে মৌসুমি বায়ু চরিত্র বোঝা যাচ্ছে না
শান্তনু বসু

২০১৯-এর এই উদ্বৃত্ত বৃষ্টিপাত আবহাওয়াবিদদের হিসেবেই ছিল না। উদ্বৃত্ত বৃষ্টিপাত ভূগর্ভস্থ জলস্তরকে পুনরুজ্জীবিত করবে সন্দেহ নেই, কিন্তু আগামী বছর যদি আরও দেরিতে কেরলে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করে, ভারতের কৃষি আবার অনিশ্চয়তায় চলে যাবে। চলতি বছরের উদ্বৃত্ত জলকে ধরে রাখা হয়েছে—এমন সুখবর কিন্তু নেই।
বিশদ

18th  November, 2019
একটি কাল্পনিক স্মরণসভা
সন্দীপন বিশ্বাস

সাদা কাপড়ে মোড়া মঞ্চজুড়ে সারি সারি চেয়ার-টেবিল। টেবিলের উপরে ফুলদানিতে সাদা ফুল। মঞ্চের একপাশে বড় একটি ছবি। তাতে সাদা মালা দেওয়া। শোকস্তব্ধ পরিবেশ। আজ এখানে প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার টি এন সেশনের স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে সমাজের গণ্যমান্য সকলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অনেকেই এসেছেন।  
বিশদ

18th  November, 2019
মূল্যবোধের রাজনীতি ও
মহারাষ্ট্রের কুর্সির লড়াই
হিমাংশু সিংহ

আজকের নির্বাচনী রাজনীতি যে কতটা পঙ্কিল ও নোংরা তারই জ্বলন্ত প্রমাণ আজকের মহারাষ্ট্র। সঙ্কীর্ণ স্বার্থসর্বস্ব রাজনীতিতে ক্ষমতা দখলের নেশায় ছোটবড় প্রতিটি রাজনৈতিক দলই আজ মরিয়া। মহারাষ্ট্রের ফল বেরনোর পর গত তিন সপ্তাহের রাজনীতির নাটকীয় ওঠাপড়া সেই অন্ধকার দিকটাকেই বড় প্রকট করে তুলেছে। ভোটের ফল ও কে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসবেন তা নিয়ে দুই পুরনো জোট শরিকের দ্বন্দ্ব যে দেশের বাণিজ্য পীঠস্থান মুম্বই তথা মহারাষ্ট্রকে এমন নজিরবিহীন সঙ্কটে ফেলবে, তা কে জানত? যে জোট পাঁচ বছর ধরে রাজ্য শাসন করল এবং এবারও গরিষ্ঠতা পেল, সেই জোটই ভেঙে খান খান!
বিশদ

17th  November, 2019
ঘর ওয়াপসি ও কিছু প্রশ্ন
তন্ময় মল্লিক

 ঘর ওয়াপসি। ঘরে ফেরা। ‘ভাইজান’ সিনেমার ছোট্ট মুন্নির ঘরে ফেরার কাহিনীর দৌলতে ‘ঘর ওয়াপসি’ এখন আমবাঙালির অতি পরিচিত শব্দ। সেই পরিচিত শব্দটি অতি পরিচিতির মর্যাদা পেয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক নেতাদের একাংশের ঘন ঘন জার্সি বদলের দৌলতে।
বিশদ

16th  November, 2019
জল বেড়েছে, বোধ বাড়েনি
রঞ্জন সেন

 সমুদ্রের জলস্তর বাড়ার ফলে পৃথিবীর বহু উপকূলবর্তী দেশ ও দ্বীপ বিপন্ন হবে বলে পরিবেশবিজ্ঞানীরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। তাঁরা এটাও বলছেন আমরা সবাই মিলে এবং রাষ্ট্রনায়কেরা চাইলে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে এই অবস্থার মোকাবিলা করতে পারি। বিশদ

16th  November, 2019
সংবিধানই পথ
সমৃদ্ধ দত্ত

 তিন বছর ধরে সংবিধান রচনার কাজ অবশেষে যখন সমাপ্ত হল, তখন ১৯৪৯ সালের ২৫ নভেম্বর ভারতীয় সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া পেশ করে সংবিধান-সভায় তাঁর সর্বশেষ বক্তৃতায় সংবিধান রচনা কমিটির চেয়ারম্যান ড.ভীমরাও আম্বেদকর আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, ভারতের এই সংবিধানের মূল সুর এবং গণতন্ত্র কি আদৌ শেষ পর্যন্ত আগামী দিনে রক্ষা করা সম্ভব হবে? বিশদ

15th  November, 2019
পঞ্চাশোর্ধ্বে বানপ্রস্থ?
অতনু বিশ্বাস

পঞ্চাশ ছুঁই-ছুঁই হয়ে একটা প্রায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধ ভাব এসেছে আমার মধ্যে। সেটা খুব অস্বাভাবিক হয়তো নয়। এমনিতেই চারপাশের দুনিয়াটা বদলে গিয়েছে অনেক। চেনা-পরিচিত বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলো হঠাৎ যেন বড় হয়ে গিয়েছে। আমাকে ডাকনাম ধরে ডাকার লোকের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। বুড়ো হবার সব লক্ষণ একেবারে স্পষ্ট। 
বিশদ

14th  November, 2019
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দৃঢ় নীতির
কাছে ভারতের স্বার্থটাই সবার উপরে
অমিত শাহ

 মোদিজির নেতৃত্বাধীন উন্নতশির ভারতের কথা বিবেচনা করে আরসিইপি সদস্য রাষ্ট্রগুলি বেশিদিন আমাদের এড়িয়ে থাকতে পারবে না। তারা আমাদের শর্তে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে রাজি হবে। এর মধ্যে আমরা এফটিএ মারফত আসিয়ান রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্করক্ষায় সফল হয়েছি। আরসিইপি প্রত্যাখ্যান করে চীনের সম্ভাব্য গ্রাস থেকে আমাদের শিল্পকে আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে সুরক্ষা দিতে পেরেছি। আমাদের জন্য ভারতের স্বার্থটাই সবার আগে। বিশদ

13th  November, 2019
ভাষা বিতর্কে জেইই মেনস
শুভময় মৈত্র

পশ্চিমবঙ্গের যে সমস্ত ছাত্রছাত্রী এই ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসেন, তাঁরা মোটামুটি ভালোভাবেই ইংরেজি পড়তে পারেন। তার জন্যে কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল বা বিজেপির কোনও কৃতিত্ব নেই। সারা দেশের মধ্যে বাঙালিরা যে শিক্ষা সংস্কৃতিতে বেশ এগিয়ে আছে সেটা বোঝার জন্যে প্রচুর পরিসংখ্যান আছে, যেগুলো জায়গামতো ছাপা হয় না। বিশেষ করে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এরাজ্যের ছেলেমেয়েরা ঐতিহ্যগতভাবে ভালো, ঔপনিবেশিক কারণে ইংরেজিতেও। সেখানে জেইই মেনসের মতো পরীক্ষার প্রশ্ন বাংলায় করতে হবে বলে বাংলার পরীক্ষার্থীদের না গুলিয়ে দেওয়াই মঙ্গল। বিশদ

13th  November, 2019
একনজরে
 জেরুজালেম, ২০ নভেম্বর (এএফপি): সিরিয়ায় ইজরায়েলের আক্রমণে বুধবার মৃত্যু হল ১১ জন ইরানি এবং সিরীয় সেনার। মঙ্গলবারই সিরিয়ার দিক থেকে ইজরায়েলে চারটি রকেট হামলা করা হয়। এরপরেই সিরিয়ায় বিমান হামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইজরায়েল। ...

 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শীতের মরশুমের আগেই আলিপুর চিড়িয়াখানায় হাজির নতুন অতিথি। ভাইজাগ চিড়িয়াখানা থেকে মঙ্গলবার রাতে কলকাতায় এল চারটি জঙ্গলি কুকুর বা ঢোল, দু’টি রিং টেলড লেমুর (বাঁদরের এক প্রজাতি) এবং দু’টি স্পুনবিল পেলিকান। ...

সংবাদদাতা, ইটাহার: ব্লক কৃষি দপ্তরের ‘সুধা’ (সুনিশ্চিত ধান) পদ্ধতিতে চাষ করে বিশেষ সফলতা পেলেন উত্তর দিনাজপুর জেলার হেমতাবাদ ব্লকের বিষ্ণুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কলুয়া গ্রামের চাষি আবু শাহেদ। এঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই এলাকার অন্যান্য চাষিদের মধ্যে সুধা পদ্ধতিতে ধান চাষের ব্যাপারে উৎসাহ দেখা ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উপার্জন বেশ ভালো হলেও ব্যয়বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সঞ্চয় তেমন একটা হবে না। শরীর খুব একটা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব টেলিভিশন দিবস
১৬৯৪: ফরাসি দার্শনিক ভলতেয়ারের জন্ম
১৮৭৭: ফোনোগ্রাফ আবিষ্কারের কথা জানালেন থমাস এডিসন
১৯৭০: নোবেলজয়ী পদার্থবিদ চন্দ্রশেখর বেঙ্কটরামনের মৃত্যু
১৯৭৪ - শিশু সাহিত্যিক পুণ্যলতা চক্রবর্তীর মৃত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.১৭ টাকা ৭৩.৩৩ টাকা
পাউন্ড ৯০.৪৯ টাকা ৯৪.৮৫ টাকা
ইউরো ৭৭.৬২ টাকা ৮১.৩৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৯৭৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৯৮০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,৫৩৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৫,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৫,২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২১ নভেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, নবমী ১৩/৫০ দিবা ১১/২৯। পূর্বফাল্গুনী ৩১/২২ রাত্রি ৬/২৯। সূ উ ৫/৫৬/৪২, অ ৪/৪৮/০০, অমৃতযোগ দিবা ৭/২৩ মধ্যে পুনঃ ১/১১ গতে ২/৩৮ মধ্যে। রাত্রি ৫/৪১ গতে ৯/১১ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৯ গতে ৩/১৯ মধ্যে পুনঃ ৪/১২ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ২/৫ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/২২ গতে ১/০ মধ্যে।
৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২১ নভেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, নবমী ৮/১৫/৩৯ দিবা ৯/১৭/৩। পূর্বফাল্গুনী ২৮/৯/৬ সন্ধ্যা ৫/১৪/২৫, সূ উ ৫/৫৮/৪৭, অ ৪/৪৭/৪৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৪ মধ্যে ও ১/১৫ গতে ২/৪০ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪৩ গতে ৯/১৫ মধ্যে ও ১১/৫৫ গতে ৩/২৯ মধ্যে ও ৪/২২ গতে ৬/০ মধ্যে, বারবেলা ৩/২৬/৪১ গতে ৪/৪৭/৪৮ মধ্যে, কালবেলা ২/৫/৩৩ গতে ৩/২৬/৪১ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/২৩/১৭ গতে ১/২/১২ মধ্যে।
২৩ রবিয়ল আউয়ল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
৭৬ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

03:56:31 PM

চোর সন্দেহে গণপিটুনি, মৃত ২ 
কোচবিহারের পাইটকাপাড়া গ্রামে চোর সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে গণপিটুনির অভিযোগ। বুধবার ...বিশদ

03:24:52 PM

রায়গঞ্জের মারাইকুড়া গ্রামে চোর সন্দেহে ৪ জনকে গণপিটুনি গ্রামবাসীদের 

03:22:00 PM

হুগলির পাণ্ডুয়াতে প্রেমিকাকে খুন করে আত্মঘাতী যুবক 
হুগলির পাণ্ডুয়াতে প্রেমিকাকে খুন করে আত্মঘাতী হলেন এক যুবক। বৃহস্পতিবার ...বিশদ

02:43:32 PM

চারদিনের জেলা সফর শেষে কলকাতায় ফিরলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 

02:39:00 PM

ডুয়ার্সে প্যাঙ্গোলিন সহ ধৃত ৫ 
পাচারের আগেই প্যাঙ্গোলিন উদ্ধার করল বৈকন্ঠপুর বনবিভাগের উত্তরবঙ্গের স্পেশাল ফোর্স। ...বিশদ

02:26:05 PM