Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

২১ জুলাই সমাবেশ: মমতা কী বার্তা দেন জানতে উৎসুক বাংলা
শুভা দত্ত

আজ ২১ জুলাই। তৃণমূলের শহিদ দিবস। ১৯৯৩ সালের একুশে জুলাই কলকাতার রাজপথে যে ১৩ জন যুবকর্মী বাম-পুলিসের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন আজ তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা-তর্পণের দিন। ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে প্রতিবছর মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দিনটিতে বড়সড় সমাবেশের আয়োজন করে তাঁর প্রয়াত সহযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। সেইসঙ্গে তাঁর পরবর্তী কর্মসূচি বা ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা সম্পর্কেও সমাবেশে উপস্থিত দলীয় কর্মী-সমর্থক জনতাকে প্রয়োজন মতো অবহিত করেন। বলা বাহুল্য, ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতি বছর এই ২১ জুলাই সমাবেশের বহর আড়ম্বর যেমন বেড়েছে, তেমনি তাতে মানুষের যোগদানের পরিমাণও বেড়েছে। বলতে কী গত বছর অবধি ২১ জুলাইয়ের এই সমাবেশ নিয়ে তৃণমূলীদের মধ্যে একটা আলাদা আবেগ বেশ ভালোমতোই লক্ষ করা গেছে। দলের আর পাঁচটা সমাবেশের চেয়ে এই ২১ জুলাই সমাবেশটাকে তৃণমূলনেত্রী মমতা তো বটেই, তাঁর দলের নেতা-মন্ত্রী থেকে নিচুতলার সাধারণ কর্মীরাও যে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন তা জনপ্লাবনে ভেসে যাওয়া কলকাতা মহানগরীর ২১ জুলাইগুলি প্রতি বছরই প্রমাণ করে গিয়েছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলেই মনে করছেন রাজ্য রাজনীতির পর্যবেক্ষকেরা। বরং, তাঁদের কারও কারও মতে, লোকসভা ভোট পরবর্তী রাজ্য রাজনীতির নয়া প্রেক্ষাপট এবারের একুশে জুলাইয়ের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে। শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা-তর্পণের পাশাপাশি এবার এই সমাবেশ থেকে একুশের আসন্ন মহাযুদ্ধজয়ের লক্ষ্যে শপথ গর্জনও শোনা যেতে পারে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের এই ভাবনা যে খুব অমূলক নয় তা বলাই বাহুল্য। লোকসভা ভোটে ১৮ আসনের ধাক্কা খাওয়ার পর তৃণমূলের এটাই প্রথম বড় সমাবেশ। শুধু তাই নয়, আগেই বলেছি, এই সমাবেশের সঙ্গে শহিদ স্মৃতির একটা বিশেষ আবেগ জড়িত। সিপিএম নেতৃত্বাধীন বাম সরকারের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়েই দলের ১৩ জন কর্মী-সমর্থক প্রাণ হারিয়েছিলেন—এই সত্যটি ঘুরেফিরে ফিরে আসে এই সমাবেশের আবহে। ফলে, সমবেত কর্মী সমর্থকদের লড়াই মানসিকতায় সংকল্পের একটা বাড়তি মাত্রাও যোগ হয়। তার উপর দলনেত্রী মমতার উপস্থিতি এবং বক্তব্যে সেই সংকল্পের জোর যে আরও বেড়ে যায় তাতেই বা আশ্চর্য কী? এই দিক থেকে দেখলে এবারের ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিগত বছরগুলির তুলনায় যে অনেকটাই বেশি—তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এবং সেই কথা মাথায় রেখে তৃণমূলও প্রচার সভা-সমিতি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে—সে তো দেখাই যাচ্ছে। কিন্তু, এই সমস্ত উদ্যোগ আয়োজনের মাঝে এটাও সত্য—সমাবেশ নিয়ে আয়োজক ও সমর্থক মহলে সংশয়ের কিছু কাঁটাও ইতস্তত বিক্ষিপ্তভাবে খোঁচা দিয়ে চলেছে। এবারের সভায় ভিড়ের বহর বজায় থাকবে তো? গতবারের রেকর্ড ভেঙে শহিদ সমাবেশ উপচে পড়বে তো? আসলে প্রশ্ন একটাই—বয়ানটাই যা দুরকম। এরই পাশাপাশি আরও একটি বিষয়ে তৃণমূলের নেতা-কর্মী সমর্থকদের মধ্যে এখন কৌতূহল চরমে—আর তা হল—এবার কী বার্তা দেবেন দলনেত্রী? তবে, এই কৌতূহল কেবল তৃণমূল শিবিরেই সীমাবদ্ধ নেই, ছড়িয়ে পড়েছে আসমুদ্রহিমাচল। বলতে কী, আজ ২১ জুলাই সমাবেশে মমতা কী বার্তা দেন জানতে উৎসুক গোটা বাংলাই।
কারণ, লোকসভা ভোট পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাব প্রতিপত্তি অক্ষুণ্ণ অটুট থাকলেও পরিস্থিতির বিচারে অনেকেই বলছেন, এখন আর তৃণমূল একচ্ছত্র এক নয়, বিজেপির গেরুয়া বাহিনীও সমান তালে তাল ঠুকছে। বিগত ভোটের ১৮ আসন এ রাজ্যে বিজেপির জোরালো প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক কাজটি সেরে দিয়েছিল। অতঃপর কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রবলভাবে ফিরে আসার সুবাদে রাজ্য বিজেপির জোশ আরও বেড়েছে। ২০২১ সালে বিধানসভা জয়ের স্বপ্নও দেখতে শুরু করেছে পদ্ম শিবির। সেই সুবাদে বহুদিনই শুরু হয়ে গেছে রাজনৈতিক ও পেশি ক্ষমতা প্রদর্শনের প্রক্রিয়া। ভোটের আগে-পরের সংঘাত সংঘর্ষে একসময় যেমন তৃণমূল-সিপিএমের নাম উঠে আসত, এখন উঠে আসছে তৃণমূল-বিজেপির নাম। খুন, পাল্টা খুন, মারদাঙ্গা, বাড়িঘর জ্বালানো, মিছিল, পাল্টা মিছিল, হুমকি শাসানির পাল্টা—সবই চলছে অকাতরে! সকলেই জানেন, পরিস্থিতি চরমে পৌঁছেছিল নৈহাটি ভাটপাড়া শিল্পাঞ্চলে। সেখানে এখনও তুষের আগুনের মতো জ্বলছে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের আগুন। এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারেনি সাধারণ জনজীবন, সবসময়ই একটা ভয় আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছে স্থানীয় সাধারণ জনতাকে।
শুধু তাই নয়, মুকুল রায়ের উদ্যোগে তৃণমূল ভাঙিয়ে রাজ্যের শাসকদলের নেতানেত্রী কাউন্সিলার চেয়ারম্যান অভিনেতা অভিনেত্রীদের বিজেপি শিবিরে শামিল করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তাতেও খানিকটা অস্বস্তি দেখা দিয়েছে শাসক শিবিরে। আবার তার মধ্যেই যখন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কদিন বাদেই ঘরে ফিরছেন কাউন্সিলার বা অন্যরা তখন নিঃসন্দেহে অস্বস্তি অনেকটা উবে গিয়ে তৃণমূলের মনোবল পাচ্ছে বাড়তি অক্সিজেন। দলবদলুদের এই আসা-যাওয়া নিয়েও দুপক্ষের তরজা, দাবি, পাল্টা দাবি অবশ্য অব্যাহত। পরিস্থিতি দেখে আমার এক সুরসিক বন্ধুর মন্তব্য, আরে বাবা, কোনদিকে থাকলে ভবিষ্যতে ‘ফায়দা’ বেশি সেই হিসেব যারা গুলিয়ে ফেলছে তারাই অমন খাবি খাচ্ছে, গেরুয়া না সবুজ, ঘাসফুল না পদ্মফুল—ভুগছে দোটানায়! হয়তো তাই। কারণ, রাজনৈতিক আদর্শের টানে দলবদল চলছে—এমনটা বোধহয় কেউই বিশ্বাস করেন না!
কিন্তু সে যাই হোক, সবমিলিয়ে রাজ্য রাজনীতির পরিসরে উত্তেজনা যে বেশ টানটান তা স্বীকার করছেন সকলেই। তৃণমূল-বিজেপির শক্তিক্ষমতার দ্বন্দ্বটা এখনও সমানে সমানে বলা না গেলেও যে প্রায় তুল্যমূল্য এবং বিগত ভোটে পদ্ম শিবিরের ভোটপ্রাপ্তি যে শাসককে যথেষ্ট চিন্তায় ফেলেছে তা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই বলছেন। নির্বাচন বিশেষজ্ঞ প্রশান্ত কিশোরের নিযুক্তি এবং তৃণমূলের পরবর্তী ভোট প্রস্তুতিতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকাকে পর্যবেক্ষকেরা তাঁদের বক্তব্যের যুক্তি হিসেবে খাড়া করছেন। যতদূর খবর সমবেত মানুষজনের মনের খবর নিতে আজ সমাবেশেও সক্রিয় থাকছেন প্রশান্ত কিশোর এবং তাঁর টিম। তবে, প্রশান্ত কিশোর কেবল বিজেপি ঠেকাতে এসেছেন—এমন ভাবনা কি একেবারে একমাত্রিক হয়ে যায় না! এমনকী হতে পারে না যে ভবিষ্যতের জন্য দলীয় ভিত অধিকতর মজবুত করতে এবং বাংলার জনমন দখলে রাখতে কী করা উচিত, কী করা উচিত নয়, কী বলা উচিত, কী বলা উচিত নয় সেসব ভালো করে বুঝে নিতেই টিচার প্রশান্তর শরণাপন্ন হয়েছে তৃণমূল! সংগঠনশক্তি অটুট এবং ক্রমবর্ধমান রাখতে পারলে বিজেপি কেন ভবিষ্যতে কোনও রাজনৈতিক আক্রমণই দলীয় আত্মপ্রত্যয়ে চট করে চিড় ধরাতে পারবে না, কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংশয়ও তৈরি করতে পারবে না। সেই লক্ষ্যেই প্রশান্ত কিশোরের আইপ্যাক নিয়োগ—হতে পারে না?
অবশ্যই হতে পারে। এবং সেদিক থেকে আজকের সমাবেশ প্রশান্ত কিশোরেরও পরীক্ষা বটে। কিন্তু, আজ বাংলার মানুষের যাবতীয় কৌতূহল কেন্দ্রীভূত হয়ে আছে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতার বার্তার ওপর। রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির মোকাবিলায় তিনি কোন পথ দেখান, দলবদলু বা যাঁরা দল-বদল নিয়ে উভয় সঙ্কটে ভুগছেন বা যাঁরা দলে বসে বসেই অলক্ষ্যে সিঁদ কাটছেন তাঁদের ক্ষেত্রে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার কী দাওয়াই দেন, সিপিএম, কংগ্রেসের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক বিষয়েই বা কী বলেন এবং সর্বোপরি এবারের সমাবেশের মূল স্লোগান—মেশিন ফেলে ব্যালট ভোটে ফেরার জন্যই বা তিনি কতটা সোচ্চার হোন—সব কিছু নিয়েই আজ মানুষের জিজ্ঞাসা কৌতূহল তুঙ্গে। কারণটা খুবই সহজ—দুয়ারে কড়া নাড়ছে বিজেপি।
আসন্ন পূজার মরশুমে মা দুর্গার সঙ্গে ভক্ত শ্রীরামচন্দ্রও এবার নাকি সমান খাতির যত্ন পুজো ভক্তি পাবেন—শোনা যাচ্ছে এমনই। তারপর কলকাতা সমেত রাজ্যের পুরসভাগুলোর ভোট
এবং পরিশেষে ২০২১ বিধানসভা। কানাঘুষোয় এমনও শোনা যাচ্ছে, বিধানসভা ভোট এগিয়ে
আনাও হতে পারে।
অতএব ঘর গুছনোর সময় আর খুব বেশি বাকি নেই। বিজেপির ১৮ সিটের ক্ষত মুছে জবরদস্ত লড়াইয়ের ব্যবস্থা করতে তাই এখন থেকেই কোমর কষে নামতে হবে—এমন ইঙ্গিত নেতাকর্মী সমর্থক মহলে ইতিমধ্যেই দিয়েছেন মমতা। সেই ইঙ্গিতের সূত্র ধরে কি আরও কোনও নির্দিষ্ট এবং স্পষ্ট বার্তা শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে আজ দেবেন তিনি? উত্তরবঙ্গ এবং উত্তর ২৪ পরগনায় দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং খামতি দূর করতে কোনও নতুন নিদান? পে-কমিশন? এনআরসি? কেন্দ্রের বঞ্চনার বিরুদ্ধে তোপ? তৃণমূলের সাধারণ মহল তো বটেই, রাজ্যের আমজনতাও আজ নিশ্চিতভাবেই তাঁদের এমন যাবতীয় জিজ্ঞাসার উত্তর খুঁজতে শহিদ দিবসের ওই মঞ্চের দিকে চেয়ে থাকবেন। এখন দেখার, মমতার বার্তায় দিনের শেষে কার জিজ্ঞাসা কতটা উত্তর পায়, বিশেষ করে বিজেপির অগ্রগতি ঠেকাতে সিপিএম কংগ্রেসের মতো বিরোধীদের সঙ্গে তৃণমূলের রাজনৈতিক সমীকরণে কোনও নূতন পথের আভাস মেলে কি না!
21st  July, 2019
৫, ১০, ২০ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে
পি চিদম্বরম

রাজ্যসভায় ২০১৯-২০ বাজেট নিয়ে বক্তব্য রাখার সময় বলেছিলাম, ‘‘যদি জিডিপির স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার ১২ শতাংশ হয় তবে প্রতি ছ’বছরে জিডিপির আকারটা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। আর বৃদ্ধির হারটা যদি নমিনাল ১১ শতাংশ হয় তবে জিডিপি দ্বিগুণ হতে সময় নেবে সাত বছর।
বিশদ

ছোটদের বড় করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

সব থেকে ভালো হয়, যদি আপনার ‘বাছা’কে নিজের মতো বেড়ে উঠতে দেন। আনন্দে বেড়ে উঠুক। আলো চিনিয়ে দিন, অন্ধকার চিনিয়ে দিন। লক্ষ্য রাখুন, ঠিকঠাক এগচ্ছে কি না! সামনে পিছনে কত ফাঁদ, চোরাবালি। আপনিই ঈশ্বর, ওকে রক্ষা করুন। ছোটদের ‘বড়’ করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে। দয়া করে ওর উপর মাতব্বরি করবেন না, হ্যাঁ আমরা মাতব্বরিই করি।
বিশদ

20th  July, 2019
জন্ম এবং মৃত্যুর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি অকস্মাৎ আমার একটি বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। এই উপলক্ষে জগতে সকলের চেয়ে পরিচিত যে মৃত্যু তার সঙ্গে আর-একবার নূতন পরিচয় হল। জগৎটা গায়ের চামড়ার মতো আঁকড়ে ধরেছিল, মাঝখানে কোনো ফাঁক ছিল না। মৃত্যু যখন প্রত্যক্ষ হল তখন সেই জগৎটা যেন কিছু দূরে চলে গেল, আমার সঙ্গে আর যেন সে অত্যন্ত সংলগ্ন হয়ে রইল না।
——— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশদ

20th  July, 2019
অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

19th  July, 2019
বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
ঘোষণা ও বাস্তব
সমৃদ্ধ দত্ত

ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান একটি প্রকল্পই হল নদী সংযোগ প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন নদীকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। যাতে উদ্বৃত্ত জলসম্পন্ন নদী থেকে বাড়তি জল শুকনো নদীতে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বারংবার এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। গোটা প্রকল্প রূপায়ণ করতে অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকা দরকার। এদিকে আবার বুলেট ট্রেন করতেও ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে! আধুনিক রাষ্ট্রে অবশ্যই দুটোই চাই। কিন্তু বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিচার করলে? কোনটা বেশি জরুরি? বিশদ

12th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

 কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর থেকে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১৯-এর যে খসড়া প্রকাশিত হয়েছে তার যে অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে হই চই পড়েছিল তা হল বিদ্যালয় স্তরে ত্রি-ভাষা নীতির মাধ্যমে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে জোর করে হিন্দি চাপানোর বিষয়টি। তামিলনাড়ুর মানুষের প্রবল আপত্তিতে তা কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
বিশদ

11th  July, 2019
একনজরে
 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রবিবার ছুটির দিন, রাস্তায় যানবাহনও কম। তাই ২১ জুলাইয়ে যান সামলাতে তেমন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হল না কলকাতা পুলিসকে। উত্তর থেকে দক্ষিণ, ...

সংবাদদাতা, রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ ব্লকের ৯ নম্বর গৌরী গ্রাম পঞ্চায়েতের বাংলা-বিহার সীমান্তে অবস্থিত কয়েকটি গ্রাম এবারও বর্ষা আসতেই বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো হয়ে গিয়েছে। ফলে প্রতিবারের মতো ...

 ওয়াশিংটন, ২১ জুলাই (পিটিআই): ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে আসার পর থেকেই ক্রমশ ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছিল ওয়াশিংটনের। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে না, মূলত এই অভিযোগে তাদের সামরিক সাহায্য করাও বন্ধ করে দেয় আমেরিকা। ...

সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: এবার ‘বুথে চলো’। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বুথস্তর থেকে সংগঠন ঢেলে সাজার ডাক দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু ডাক দিয়েই ক্ষান্ত হননি ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীদের বেশি শ্রম দিয়ে পঠন-পাঠন করা দরকার। কোনও সংস্থায় যুক্ত হলে বিদ্যায় বিস্তৃতি ঘটবে। কর্মপ্রার্থীরা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮১৪: সাহিত্যিক প্যারীচাঁদ মিত্রের জন্ম
১৮৪৭: সাহিত্যিক ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯১৮: ভারতের প্রথম যুদ্ধবিমানের পাইলট ইন্দ্রলাল রায়ের মৃত্যু প্রথম বিশ্বযুদ্ধে
১৯২৩: সঙ্গীতশিল্পী মুকেশের জন্ম
১৯৪৮: চিত্রশিল্পী হেমেন্দ্র মজুমদারের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৫ টাকা ৬৯.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৭৭ টাকা ৮৭.৯২ টাকা
ইউরো ৭৬.১০ টাকা ৭৯.০৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
20th  July, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৫২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৭০৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৪,২১০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৫৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৬৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
21st  July, 2019

দিন পঞ্জিকা

৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ২২ জুলাই ২০১৯, সোমবার, পঞ্চমী ২২/২২ দিবা ২/৪। পূর্বভাদ্রপদ ১৩/১৩ দিবা ১০/২৪। সূ উ ৫/৭/১৮, অ ৬/১৮/৩৬, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৩ মধ্যে পুনঃ ১০/২৪ গতে ১/২ মধ্যে। রাত্রি ৭/১ গতে ৯/১১ মধ্যে পুনঃ ১১/২১ গতে ২/১৪ মধ্যে, বারবেলা ৬/৪৬ গতে ৮/২৫ মধ্যে পুনঃ ৩/১ গতে ৪/৪০ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/২২ গতে ১১/৪৩ মধ্যে। 
৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ২২ জুলাই ২০১৯, সোমবার, পঞ্চমী ১৪/২০/৫৯ দিবা ১০/৫০/২১। পূর্বভাদ্রপদনক্ষত্র ৮/২৮/৩৩ দিবা ৮/২৯/২২, সূ উ ৫/৫/৫৭, অ ৬/২১/৩৯, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৬ মধ্যে ও ১০/২৪ গতে ১/০ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৫৬ গতে ৯/৮ মধ্যে ও ১১/২০ গতে ২/১৬ মধ্যে, বারবেলা ৩/২/৪৩ গতে ৪/৪২/১১ মধ্যে, কালবেলা ৬/৪৫/২৫ গতে ৮/২৪/৫২ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/২৩/১৬ গতে ১১/৪৩/৪৮ মধ্যে। 
১৮ জেল্কদ 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
  সল্টলেকের বিএসএনএল-এর অফিসে আগুন
সল্টলেকের ১৩ নম্বর ট্যাঙ্কের বিএসএন এল-এর নোভাল সেন্টারে আগুন লেগেছে। ...বিশদ

09:50:50 PM

বরানগর জুট মিলে আগুন, অকুস্থলে দমকলের ৪টি ইঞ্জিন 

07:18:32 PM

কালিকাপুরে সোনার গয়না চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার পরিচারিকা 

06:20:00 PM

মহেশতলায় দুটি গাড়ির সংঘর্ষ, আহত ৬ 
অটো এবং ৪০৭ গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ছ’জন। জানা গিয়েছে, ...বিশদ

06:18:00 PM

ফুলশয্যার দিনেই আত্মঘাতী গৃহবধু 
ফুলশয্যার দিনেই আত্মঘাতী হলেন এক গৃহবধু। মৃতার নাম প্রিয়াঙ্কা সর্দার ...বিশদ

06:05:00 PM

বজবজ ফাঁড়ির কাছে পচাগলা দেহ উদ্ধার
 

পচাগলা দেহ উদ্ধার হলো বজবজ ফাঁড়ির সংলগ্ন এলাকায়। এই ঘটনায় ...বিশদ

05:34:26 PM