Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ছোটদের বড় করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

‘শিশুর মন কী পথে চলে, কীভাবে কাজ করে, সে সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞান নিতান্তই অল্প। মনোবিদগণ বয়স্ক ব্যক্তির মন লইয়া যতটা নাড়াচাড়া করিয়াছেন, তাহার তুলনায় শিশুর মন সম্বন্ধে তাঁহারা বিশেষ কিছু করেন নাই। ইহার একটা কারণও আছে। বয়স্ক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করিলেই সে বলিতে পারে— তাহার মনে কি ভাব উঠিতেছে, কোন পথে তাহার মন চলিতেছে।’
এটি গিরীন্দ্রশেখর বসুর একটি প্রবন্ধের সূচনাংশ। প্রবন্ধটির নাম ‘শিশুর মন’। গিরীন্দ্রশেখর ছিলেন বিশিষ্ট মনোবিজ্ঞানী। বিশ্বখ্যাত মনোবিদ ফ্রয়েডের সঙ্গেও তাঁর নিবিড় যোগাযোগ ছিল। পরস্পরের মধ্যে নিয়মিত পত্র-বিনিময় হতো। ফ্রয়েড গিরীন্দ্রশেখরের মনোভাবনার মান্যতা দিয়েছিলেন। শুধু বড়দের নয়, ‘শিশুর মন’-ও জানতেন তিনি। রাজশেখর বসুর ভ্রাতা গিরীন্দ্রশেখর ছোটদের কথা ভেবে একটিই বই লিখেছিলেন। ‘লাল-কালো’ বইটি আমাদের শিশুসাহিত্যের চিরায়ত সম্পদ।
গিরীন্দ্রশেখরের খেদোক্তির বাস্তব সত্যতা রয়েছে। সত্যিই তো শিশুদের, শুধু শিশুই বা বলি কেন, সামগ্রিকভাবে ছোটদের মনের অন্দরমহলের খবরাখবর ঠিকঠাক রাখি না আমরা। ছোটদের বুঝি না। বোঝার চেষ্টাও করি না। নিজের শৈশব-বাল্যর সঙ্গে মেলানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। ব্যর্থ হওয়াই তো স্বাভাবিক! সময় দ্রুত বদলে যাচ্ছে এই এলোমেলো, বিভ্রান্ত সময় মনের গভীরে গোপনে ছাপ ফেলছে। ছোটদের দিগ্‌ভ্রান্ত-বিভ্রান্ত করছে। সময়ের শিকার আমাদের সন্তানসন্ততিরাও হচ্ছে। সে সব নিয়ে আমরা সেভাবে ভাবিত নই, বরং তাদের ভুলভাল পথে চালিত করছি। বানাতে চাইছি নিজেদের ইচ্ছাপূরণের যন্ত্র। নিজে যা পারিনি, তার বাস্তবায়ন ঘটাবে সন্তান। গর্বে আমার বুক ফুলে উঠবে। আত্মীয়স্বজনকে জানাব হোয়াটসঅ্যাপে, সর্বসাধারণকে ফেসবুকে। যা-তা বাবা নই, যা-তা মা নই,—তা প্রমাণ করার জন্য আমরা এখন কম-বেশি মরিয়া।
সব সন্তান তো এভাবে ইচ্ছাপূরণের যন্ত্র হয়ে উঠতে পারে না। অসাফল্য প্রবল মনোযন্ত্রণার কারণ হয়ে ওঠে। তাদের কাছে অসহ্য হয়ে ওঠে বাবা-মা’র মানসিক উৎপীড়ন। বুক-ফোলানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলে প্রায়শই তারা কাণ্ডজ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েন। ব্যর্থতা সাময়িক, অদূরেই রয়েছে সাফল্যের হাতছানি। এসব বলে উজ্জীবিত না করে আমরা আমাদের সন্তান-সন্ততিদের হতাশার অন্ধকারে নিমজ্জিত করি।
আমরা আমাদের সন্তানদের উপর বুঝে, না বুঝে কী ভয়ঙ্কর চাপই না সৃষ্টি করি! আমার আদরের ‘বাছা’ আমারই মতন রক্ত-মাংসের মানুষ, রোবট নয়। সঙ্গত কারণেই বুদ্ধাঙ্কে, ধারণ-ক্ষমতায় তারতম্য থাকতে পারে, ফলে আরেকজনের দৃষ্টান্ত দেখিয়ে তাকে ভর্ৎসনার কোনও মানে হয় না।
এই চাপাচাপিতে প্রিয় সন্তানের প্রাণ যে ওষ্ঠাগত, তা আমাদের বোধগম্য হয় না! এখন আর ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ঢল নেই। বেসরকারি কলেজ অনেক হয়েছে। দোয়াত আছে কালি নাইয়ের মতো কলেজ আছে ছাত্র নেই। ছেলেমেয়েকে এখন আর অনেকেই ইঞ্জিনিয়ার বানাতে চান না, অনেকেরই লক্ষ্য ডাক্তারি। যেন-তেন-প্রকারেণ ডাক্তার বানাতেই হবে। সরকারিতে না হল তো কুছ পরোয়া নেই, বেসরকারি কলেজ তো আছে। রাজ্যে না হলে বহিঃরাজ্যে, বহিঃরাষ্ট্রে যেতেও দ্বিধা নেই, এমনকী নেপাল-বাংলাদেশেও। হয়তো সেখানে ‘ডাক্তার’ বানাবার ‘কল’ আছে, সেই কলে অর্থ জোরে কৌশলে আমরা ডাক্তার বানিয়ে আনছি। ডাক্তার হলেই দেদার অর্থ ‘বাছা’র স্বর্গসুখ না হলেও সর্বসুখ তো বটেই। বাবা-মা’র এমনতরো ইচ্ছে পূরণ করতে গিয়ে সন্তানসন্ততিদের কী অবস্থা হচ্ছে—সে খবর আর কে রাখে!
ডাক্তার তৈরির এই খেলা তো কৈশোরের তারুণ্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে। সেই শৈশব থেকেই সীমাহীন চাপ সহ্য করতে হয়। এই চাপ, চাপাচাপি একসময় অসহনীয় হয়ে ওঠে। আশপাশে যত মাঠ ছিল, সব কবেই লোপাট হয়ে গেছে। পেল্লায় ফ্ল্যাট উঠেছে। খেলার মাঠ তো নেই-ই, আর খেলার তেমন ফুরসতই বা কোথায়! পেট-ফোলা ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যেতে হয়। স্কুলে হাজার কসরত, বইভারে প্রায় কুঁড়ো হয়ে ফিরতে না ফিরতেই ছোটো কোচিং। যত বিষয়, তত মাস্টারমশাই। এ-কোচিং সে-কোচিং করে পড়ারই সময় পায় না, এরপর আবার মেটাতে হয় বাবার বায়নাক্কা, মা’র আবদার। ছবি আঁকায়, আবৃত্তিতে বা গানে হয়ে উঠতে হয় পারঙ্গম। সেখানেও প্রতিযোগিতা, ফার্স্ট হয়ে পদকটদক নিশ্চিত করার জন্য চলে বাড়তি মেহনত। গল্পের বই পড়ার অবকাশই নেই। ফলে ‘চাঁদের পাহাড়’-এর শঙ্করের সঙ্গে আফ্রিকায়, ‘ভোম্বল সর্দার’-এর ভোম্বলের সঙ্গে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে পরিভ্রমণ হয় না। বই-পড়া নেই মানে তার কল্পনাশক্তি তৈরি হচ্ছে না। যন্ত্রের মতো জীবনে অনুভূতি উপলব্ধিও হারাতে বসেছে। কেমন যেন নিস্তরঙ্গ। জীবন থেকে আনন্দ অদৃশ্য, লোপ পেয়েছে বিস্ময়ও। চারপাশে এখন শুধুই ‘অদ্ভুত আঁধার’, গ্রাস করছে বিষণ্ণতা। আগামী দিনে যারা হবে দেশের কর্ণধার, তাদের বিপন্নতা আমাদের এখনও সেভাবে ভাবাচ্ছে না।
উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাড়তে বাড়তে এখন আকাশ ছুঁয়েছে। বাড়ানোর পেছনে আর কেউ নয়, আমরা, মানে অভিভাবককুল। উচ্চাশা, স্বপ্ন—এসব ছাড়া জীবন হয় না। জীবনের অগ্রগতি হয় না। যদি তা বাড়াবাড়ি রকমের হয়ে যায়, তবে তো অবসাদ আসবেই। সেই অবসাদ-অন্ধকারে তাজা কিশোর-প্রাণও তলিয়ে যাচ্ছে, এমনকী চিরতরে হারিয়েও যাচ্ছে। কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা এখন ভয়ঙ্কররকম বেড়েছে। খুব সম্প্রতি কলকাতার নামী বেসরকারি স্কুলের এক ছাত্রী যেভাবে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে, তা বড়ই বেদনার। নিজেকে এভাবে শেষ করে সে বোধহয় আমাদের বোঝাতে চেয়েছে, সন্তানের প্রকৃত হিতাকাঙ্ক্ষী হয়েও আমরা তার হিতাহিত বুঝি না। তাই এভাবে ফুল ফোটার আগেই ঝরে পড়ে, মৃত্যু হয় যাবতীয় সম্ভাবনার। ওই মেয়েটি আকস্মিক ওপথে যায়নি। মাঝেমাঝেই পরম প্রিয়জনকে এভাবেই কেউ কেউ চরম শিক্ষা দিয়ে যায়। তবু আমাদের বোধোদয় হয় না। একের পর এক দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে।
কেরিয়ার গড়া নিয়ে উৎকণ্ঠা যেমন আছে, তেমনই আছে উদ্বেগ। পরীক্ষা-বৈতরিণী পার হলেও মন-পসন্দ চাকরি যে রাজ্যে নিশ্চিত, তা নয়। ডাক্তার হতে পারলে না হয় স্বাধীন ব্যবসায়
পসার জমানো যাবে! মানুষের অসুখবিসুখের তো আর শেষ নেই! তাই মরীচিকার পেছনেই ছেলেমেয়েরা ধাবমান। দৌড়তে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়ছে, রক্তাক্ত হচ্ছে।
আমাদের দেশে বড় মানুষের, কৃতী মানুষের অভাব নেই। তাঁরা কেউই এমন চাপের মুখোমুখি দাঁড়াননি। তাঁদের বেড়ে ওঠা, জীবনের লক্ষ্য কখনওই এমন একমুখী ছিল না। তাঁরা আনন্দের সঙ্গে বেড়ে উঠেছিলেন। ছড়িয়ে পড়েছিলেন জীবনের নানা ক্ষেত্রে, সৃজনে মননে। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া, বড় হওয়া নানাভাবেই হতে পারে। গেয়ে, লিখে, এঁকে, এমনকী খেলেও। সুপ্ত থাকা প্রতিভার স্ফুরণ ঘটলে এখন অবশ্য অভিভাবককুল হা-রে-রে-রে করে ওঠেন। উৎসাহ নয়, প্রায়শই জোটে ভর্ৎসনা। ‘কী সর্বনাশ, গোল্লায় গেল’—এই বলে সোৎসাহে মড়াকান্নাও জুড়ে দেন কেউ কেউ।
আগের দিনে পরিবারের একজন উৎসাহিত না করলে অন্য পাঁচজন করত। পরিবারগুলো ছিল বড়সড়, একান্নবর্তী। মিলমিশের অভাব ছিল না। স্নেহ-ভালোবাসা সহমর্মিতা ছিল অফুরান।
একান্নবর্তী পরিবারে কবেই ভাঙন ধরেছে। স্নেহময় ঠাকুরদার, স্নেহময়ী ঠাকুরমার এখন দুর্গতির শেষ নেই। একচিলতে ফ্ল্যাট বাড়িতে সম্পর্কের টানাপোড়েনে খিটিরমিটিরে ছোট শিশুটি বালকত্ব পেরিয়ে কোনওরকমে কৈশোরে পৌঁছয়। পৌঁছনোর সেই পথটি প্রায়শই মসৃণ থাকে না। ফলে অনেক অভিজ্ঞতাই তার কাছে সুখকর হয়ে ওঠে না। এসব বেড়ে ওঠার দিনগুলোকে ধ্বস্ত করে।
ডাক্তারিটাক্তারি না হলে নিদেনপক্ষে এখন সায়েন্স পড়তেই হবে। সায়েন্স না পড়লে জীবন ষোলোআনাই মাটি, মূর্খবৎ এমন ভাবনা এখন অনেককেই পেয়ে বসেছে। আর্টস পড়ে পড়ানোর চাকরি তো হাতের পাঁচ, ডব্লুবিসিএস দিয়ে এ-ক্যাটাগরিতে সফল হয়ে সম্মানজনক চাকরি তো হাতের মুঠোয়। সায়েন্সে ভালোমেয়েদের গিজগিজে ভিড়। আর্টসে ভিড়ভাট্টা তেমন প্রকট নয়, ফলে ‘ভালো’রা গেলে সাফল্য প্রায় অনিবার্য হয়ে ওঠে। এসব নিয়ে বাবা-মা’রা ভাবুন। নতুন করে ভাবুন। ভাবনায় কত ভ্রান্তি আছে, তা নিজেরাই আবিষ্কার করুন।
সব থেকে ভালো হয়, যদি আপনার ‘বাছা’কে নিজের মতো বেড়ে উঠতে দেন। আনন্দে বেড়ে উঠুক। আলো চিনিয়ে দিন, অন্ধকার চিনিয়ে দিন। লক্ষ রাখুন, ঠিকঠাক এগচ্ছে কি না! সামনে পিছনে কত ফাঁদ, চোরাবালি। আপনিই ঈশ্বর, ওকে
রক্ষা করুন। ছোটদের ‘বড়’ করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে। দয়া করে ওর উপর
মাতব্বরি করবেন না, হ্যাঁ আমরা মাতব্বরিই করি। পারলে সারাক্ষণই বড়ত্ব ফলাই। নিজেকে শুধরানোর সময় এসেছে।
20th  July, 2019
রাজনীতির উত্তাপ কি পুজোর আমেজ
জমে ওঠার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে?
শুভা দত্ত

 পরিস্থিতি যা তাতে এমন কথা উঠলে আশ্চর্যের কিছু নেই। উঠতেই পারে, উঠছেও। বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসবের মুখে প্রায় প্রতিদিনই যদি কিছু না কিছু নিয়ে নগরী মহানগরীর রাজপথে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে, পুলিস জলকামান, লাঠিসোঁটা, কাঁদানে গ্যাস, ইটবৃষ্টি, মারদাঙ্গা, রক্তারক্তিতে যদি প্রায় যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং তাতে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনজীবন ব্যবসাপত্তর উৎসবের মরশুমি বাজার কিছু সময়ের জন্য বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তবে এমন কথা এমন প্রশ্ন ওঠাই তো স্বাভাবিক।
বিশদ

আমেরিকায় মধ্যবয়সের
সঙ্গী সোশ্যাল মিডিয়া
আলোলিকা মুখোপাধ্যায়

যে বয়সে পৌঁছে দূরের আত্মীয়স্বজন ও পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ক্রমশ আগের মতো সম্ভব হয় না, সেই প্রৌঢ় ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধার জীবনে ইন্টারনেট এক প্রয়োজনীয় ভূমিকা নিয়েছে। প্রয়োজনীয় এই কারণে যে, নিঃসঙ্গতা এমন এক উপসর্গ যা বয়স্ক মানুষদের শরীর ও মনের উপর প্রভাব ফেলে। বিশদ

14th  September, 2019
মোদি সরকারের অভূতপূর্ব কাশ্মীর পদক্ষেপ পরবর্তী ভারতীয় কূটনীতির সাফল্য-ব্যর্থতা
গৌরীশঙ্কর নাগ

 এই অবস্থায় এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ৩৭০ ধারা বিলোপ পর্বের প্রাথমিক অবস্থাটা আমরা অত্যন্ত উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছি।
বিশদ

14th  September, 2019
ব্যর্থতা নয়, অভিনন্দনই
প্রাপ্য ইসরোর বিজ্ঞানীদের
মৃণালকান্তি দাস

 কালামের জেদেই ভেঙে পড়েছিল ইসরোর রোহিনী। না, তারপরেও এ পি জে আব্দুল কালামকে সে দিন ‘ফায়ার’ করেননি ইসরোর তদানীন্তন চেয়ারম্যান সতীশ ধাওয়ান! বলেননি, ‘দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল কালামকে’! তার এক বছরের মধ্যেই ধরা দিয়েছিল সাফল্য। ধাওয়ানের নির্দেশে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন সেই কালাম-ই। তাঁর কথায়, ‘ওই দিন আমি খুব গুরুত্বপূর্ণ পাঠ পেয়েছিলাম। ব্যর্থতা এলে তার দায় সংস্থার প্রধানের। কিন্তু,সাফল্য পেলে তা দলের সকলের। এটা কোনও পুঁথি পড়ে আমাকে শিখতে হয়নি। এটা অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত।’ বিশদ

13th  September, 2019
রাষ্ট্রহীনতার যন্ত্রণা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভিক্টর নাভরস্কি নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে আবিষ্কার করলেন, তিনি আচমকাই ‘রাষ্ট্রহীন’ হয়ে পড়েছেন। কারণ, তাঁর দেশ ক্রাকোজিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলির কাছে মানবিকতার নিরিখে ক্রাকোজিয়ার আর কোনও ‘অস্তিত্ব’ নেই।
বিশদ

10th  September, 2019
জাতির গঠনে জাতীয় শিক্ষানীতি
গৌরী বন্দ্যোপাধ্যায়

 অভিধান অনুসরণ করে বলা যায়, পঠন-পাঠন ক্রিয়াসহ বিভিন্ন অভিজ্ঞতালব্ধ মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানোর প্রক্রিয়াই শিক্ষা। জ্ঞানকে বলা হচ্ছে অভিজ্ঞতালব্ধ প্রতীতি। শিক্ষা দ্বারা অর্জিত বিশেষ জ্ঞানকে আমরা বিদ্যা বলি। কালের কষ্টিপাথরে যাচাই করে মানুষ আবহমান কাল ধরে নিজ অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানরাশিকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পুস্তকের মধ্যে লিখে সঞ্চিত করে গেছে।
বিশদ

09th  September, 2019
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের শতবর্ষে ভারত প্রান্তিক রাষ্ট্র থেকে প্রথম দশে, লক্ষ্য শীর্ষস্থান
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

 প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির মুখে উড্রো উইলসন সমেত বিশ্বের তাবড় নেতারা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে শঙ্কিত হয়ে পড়েন। যুদ্ধের রাহুর গ্রাস থেকে এই সুন্দর পৃথিবীকে কীভাবে রক্ষা করা যায় তা নিয়ে তাঁরা চিন্তিত ছিলেন। উইলসন বুঝতে পেরেছিলেন মানুষের মগজে রয়েছে যুদ্ধের অভিলাষ। যুদ্ধভাবনা মুছে ফেলে শান্তিভাবনা প্রতিষ্ঠা করা দরকার।
বিশদ

09th  September, 2019
পুজোর মুখে বিপর্যয়: ঘরে বাইরে

 দুর্ঘটনা বিপর্যয় তো আর জানান দিয়ে আসে না! নেপালের ভূমিকম্প কি আমাদের আয়েলার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কত মানুষ ঘর-সংসার সব হারিয়ে রাতারাতি সর্বস্বান্ত হয়েছেন, কত সংসার উজাড় হয়ে গেছে—শত চেষ্টাতেও সেই ক্ষত পুরোটা পূরণ করা গিয়েছে কি? যায়নি। এই বউবাজারে রশিদ জমানার সেই ভয়ানক বিস্ফোরণের পর কত লোকের কত সর্বনাশ হয়েছিল—কজন তার বিহিত পেয়েছিলেন? মেট্রো রেলের সুড়ঙ্গ কাটতে গিয়ে সেপ্টেম্বরের শুরুতে বউবাজারে বাড়ি ধসে যে ক্ষতি বাসিন্দাদের হল তাতে তাই ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ বললে কিছুমাত্র ভুল হয় না। বিশদ

08th  September, 2019
বন্ধ হোক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পঞ্চায়েত দখল
তন্ময় মল্লিক

পঞ্চায়েত কারও চোখে স্থানীয় সরকার, কারও চোখে উন্নয়নের হাতিয়ার, কারও চোখে চোর তৈরির কারখানা। পঞ্চায়েত সম্পর্কে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হলেও একটা ব্যাপারে প্রায় সকলেই এক মত, পঞ্চায়েত আসলে মধুভাণ্ড। এই মধুভাণ্ডের নাগাল পাওয়া নিয়েই যত মারামারি, বোমাবাজি, খুনোখুনি। এই পঞ্চায়েতই নাকি এবার পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা ভোটে ওলট-পালটের নাটের গুরু।
বিশদ

07th  September, 2019
অজানা ভবিষ্যৎ
সমৃদ্ধ দত্ত

টাকা কোথায় গেল? একের পর এক গ্রামবাসীর টাকা উধাও। সকলে সেই অফিসে আবার গেলেন। তারা এবার ভালো করে কম্পিউটার চেক করে বললেন, তোমাদের আগে যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল সেটা তো চেঞ্জ হয়েছে। এখানে নতুন এক অ্যাকাউন্ট দেখাচ্ছে। ওখানেই গেছে টাকা। প্রমোদকুমাররা জানেই না কোথায় নতুন অ্যাকাউন্ট! এক সহৃদয় ব্যাঙ্ককর্মী আবিষ্কার করলেন মোবাইল সার্ভিস প্রভাইডার কোম্পানি পেমেন্ট ব্যাঙ্ক চালু করেছে। ওই যে ফোনে আধার নম্বর চাওয়া হল এবং প্রমোদকুমাররা গিয়ে লিংক করিয়ে এলেন, আসলে ওই আধার নম্বরের মাধ্যমে তাঁদের অজ্ঞাতেই তাঁদের নামে পেমেন্ট ব্যাঙ্ক ‌অ্যাকাউন্ট চালু হয়ে গিয়ে সেই অ্যাকাউন্টই শো করতে শুরু করেছে সরকারি দপ্তরে। আর সব টাকা সেখানে যাচ্ছে।
বিশদ

06th  September, 2019
নিজেকে জিজ্ঞেস করো, দেশের জন্য কী করতে পার
মৃণালকান্তি দাস

হোয়াইট হাউস-এর  পবিত্রতা নষ্ট করার দুর্নাম জুটেছিল কি না বেচারি বিল ক্লিন্টনের!‌ তখনও নাকি মার্কিন আম জনতা মুখ বেঁকিয়ে বলেছিল,  কোথায় মেরিলিন মনরো,  আর কোথায় মনিকা লিউইনস্কি!‌ তবে, মনরো–কেনেডির এই প্রেম রীতিমত ঢাক–ঢোল পিটিয়ে উদ্‌যাপিত হয়েছে মার্কিন গণজীবনে। ১৯ মে ১৯৬২। কেনেডির আসল জন্মদিনের ১০ দিন আগেই উৎসব হয়েছিল নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়্যার গার্ডেনে। ১৫ হাজার অতিথির তালিকায় তাবড় রাজনীতিক ও হলিউড সেলেবদের ছড়াছড়ি। বিরাট কনসার্টে মারিয়া কালাস,  এলা ফিটজেরাল্ড-এর মতো ডাকসাইটে শিল্পীদের পাশাপাশি মেরিলিন মনরো!‌ ইতিহাস হয়ে গিয়েছে সেই সন্ধ্যায় মনরোর গাওয়া  ‘হ্যাপি বার্থডে টু ইউ মিস্টার প্রেসিডেন্ট’।  
বিশদ

06th  September, 2019
মানুষই কি মানুষের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে দাঁড়াচ্ছে!
মেরুনীল দাশগুপ্ত

শেষের সেদিন কি আর খুব দূরে নয়? সাম্প্রতিককালে বিশ্বজুড়ে প্রকৃতির নজিরবিহীন খামখেয়াল, মানুষের লোভের আগুনে সবুজের নির্বিচার মৃত্যু এবং বহু বহু বছর ধরে সীমাহীন অপচয়ের ফলে ফুরিয়ে আসা পানীয় জলের ভাঁড়ার আমাদের মনে আজ এই ভয়ঙ্কর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
বিশদ

05th  September, 2019
একনজরে
বিশ্বজিৎ দাস, হায়দরাবাদ: দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্তারা বলে আসছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প স্বাস্থ্যসাথীরই নকল। আজ যা মোদি করছেন, কয়েক বছর আগে থেকেই তা বাস্তবায়িত করা শুরু করেছেন মমতা। ...

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: বৃহস্পতিবার রাত থেকে রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকের কাশিয়াডাঙা অঞ্চলে ভাঙন শুরু হওয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। এলাকার কয়েক হাজার গ্রামবাসী আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। গ্রামে যাওয়ার প্রধান রাস্তাও গঙ্গার গর্ভে চলে গিয়েছে। ফলে সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।   ...

 সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: এলাকার দখল কার হাতে থাকবে তা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বাগনানের ওড়ফুলি গ্রাম পঞ্চায়েতের রানাপাড়া। শুক্রবার রাতে সংঘর্ষ চলাকালীন ব্যাপক বোমাবাজির পাশাপাশি বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে দু’পক্ষের বিরুদ্ধে। ...

সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: উত্তরবঙ্গের বিগবাজেটের পুজোর উদ্যোক্তারা দক্ষিণবঙ্গ থেকে প্রতিমা নিয়ে আসছেন। ফলে উত্তরবঙ্গের মৃৎশিল্পীদের গুরুত্ব ক্রমশই কমতে শুরু করেছে। এতে প্রতিমা বানানোর অর্ডারের সংখ্যাও কমছে। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

অতিরিক্ত পরিশ্রমে শারীরিক ক্লান্তি, প্রিয়জনের বিপদগামীতায় অশান্তি ও মানহানির আশঙ্কা, সাংসারিক ক্ষেত্রে মতানৈক্য এড়িয়ে চলা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস
১২৫৪: পরিব্রাজক মার্কো পোলোর জন্ম
১৮৭৬: কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম  

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.০৯ টাকা ৭১.৭৯ টাকা
পাউন্ড ৮৫.৯৩ টাকা ৮৯.১৩ টাকা
ইউরো ৭৭.০৩ টাকা ৮০.০১ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
14th  September, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৭, ৯৯০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬, ০৪৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬, ৫৮৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৫, ২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৫, ৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৯ ভাদ্র ১৪২৬, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার, প্রতিপদ ১৭/২৪ দিবা ১২/২৪। উত্তরভাদ্রপদ ৫০/৪৪ রাত্রি ১/৪৪। সূ উ ৫/২৬/৩৮, অ ৫/৩৭/৪২, অমৃতযোগ দিবা ৬/১৪ গতে ৯/৩০ মধ্যে। রাত্রি ৭/১২ গতে ৮/৪৭ মধ্যে, বারবেলা ১০/০ গতে ১/৩ মধ্যে, কালরাত্রি ১/১ গতে ২/৩০ মধ্যে।
২৮ ভাদ্র ১৪২৬, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার, প্রতিপদ ১৩/৩২/২১ দিবা ১০/৫১/১৩। উত্তরভাদ্রপদ ৪৯/৫০/৬ রাত্রি ১/২২/১৯, সূ উ ৫/২৬/১৭, অ ৫/৩৯/৩৭, অমৃতযোগ দিবা ৬/১৩ গতে ৯/৩০ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/১৬ গতে ৮/৫০ মধ্যে, বারবেলা ১০/১/১৭ গতে ১১/৩২/৫৭ মধ্যে, কালবেলা ১১/৩২/৫৭ গতে ১/৪/৩৭ মধ্যে, কালরাত্রি ১/১/১৭ গতে ২/২৯/৩৭ মধ্যে।
 ১৫ মহরম

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ধর্মশালায় বৃষ্টি, ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম টি ২০ ম্যাচে দেরি 

07:04:27 PM

চিঠি হাতে নবান্নে সিবিআই 
সিবিআই হাজিরা এড়িয়ে এক মাস সময় চেয়েছেন প্রাক্তন পুলিস কমিশনার ...বিশদ

06:21:08 PM

ফের বদলাল রাজ চক্রবর্তীর ছবির নাম 
রাজ চক্রবর্তীর আগামী ছবির নাম আরও একবার বদলাল। ছবির প্রথম ...বিশদ

05:24:30 PM

অন্ধ্রপ্রদেশে নদীতে নৌকা উল্টে যাওয়ার ঘটনায় মৃত ১১, বাকিদের খোঁজ এখনও মেলেনি 

05:16:17 PM

মা উড়ালপুল থেকে পড়ে জখম ১ ব্যক্তি 

04:45:51 PM

অন্ধ্রপ্রদেশে নদীতে উল্টে গেল নৌকা, ৫ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা, নিখোঁজ একাধিক 

04:24:32 PM