Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

আজ দুনিয়ার সব শক্তির থেকে অনেক বেশি পাওয়ারফুল রাজনীতি। তাই যখন কোনও দুর্বল বিরোধীরও শাসক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়, তখনই তাকে ঘিরে ভন ভন করে মৌমাছির দল। তবে, রাজনৈতিক মৌমাছির চরিত্রটা সম্পূর্ণ উল্টো। এরা মধু সংগ্রহ করে না, মধুর লোভেই ঘুরে বেড়ায়। ঘুরপাক খায় খাওয়ার লোভে। লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য, এদের কখনও উদর পূর্তি হয় না। কারও কারও নজরে, এরাই রাজনীতির ‘বেনোজল’। আবার বেনোজল জলাশয় বদলাতে বদলাতে সমুদ্রে গিয়ে পড়লেই হয়ে যায় নোনাজল। নোনাজল পেটে গেলে বমি অথবা বদহজম, আর চাষের জমিতে ঢুকলে ফসল নষ্ট। বেনোজল শব্দটার মধ্যে কেমন যেন একটা শ্লেষ লুকিয়ে রয়েছে। শ্লেষ বা ব্যঙ্গ যাই বলা হোক না কেন, বেনোজলের গুরুত্ব অস্বীকার করা খুবই কঠিন। বিশেষ করে যাঁরা রাজনীতি করেন তাঁদের কাছে এই ‘বেনোজল’ অতীব মহার্ঘ। কারণ বেনোজলেই পুকুর, ডোবা, জলাশয় কেমন যেন টইটম্বুর হয়ে যায়। বেশ একটা ভরা ভরা ভাব। অনেকটা ভরাভর্তি সংসারের মতো। তবে এই বেনোজলের স্রোতেই ভেসে আসে বোয়াল, রাঘব বোয়ালের দল। বেনোজলের চাপে পুকুর উপচে গেলে সেই জলের সঙ্গে বেরিয়ে যায় সার, খোল খাইয়ে বড় করা রুই, কাতলার দল। তখন নিজের সম্পদ অন্যের হয়ে যায়। বেনোজল যেমন একদিকে ভরে দেয়, তেমনই অনেক সময় কেড়েও নেয়। তবে, পুকুরপাড় জাল দিয়ে ঘিরে দিতে বোয়ালের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পারলে লাভ নিশ্চিত। তা না হলে বোয়াল পুকুরের রুই, কাতলা পেটস্থ করে ফের বেনোজলের স্রোতে ভেসে যায় নতুন ঠিকানায়।
এই মুহূর্তে বঙ্গ রাজনীতিতে বহুল চর্চিত শব্দটি হল ‘বেনোজল’। লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া শিবিরের আশাতীত সাফল্যের পর রাজনীতির কারবারিরা বিজেপির বাজার ধরার চেষ্টায় মরিয়া। তার মধ্যে খুচরো কারবারি যেমন আছে, তেমনই আছে পাইকারি কারবারিও। প্রতিদিন রাজ্যের কোনও না কোনও প্রান্তে তৃণমূল, সিপিএম এবং কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের ঘটনা ঘটেই চলেছে। নেতাদের ওজন অনুযায়ী দিল্লি, কলকাতা ও জেলায় যোগদানের জন্য ম্যারাপ বাঁধা হচ্ছে। তবে দিল্লির ক্রেজটা একটু বেশি।
তবে লাভপুরের তৃণমূল মনিরুল ইসলামের যোগদানের পর বিজেপিতে ক্ষোভ-বিক্ষোভ তৈরি হওয়ায় বিষয়টা একটু ঘেঁটে গিয়েছে। যাঁরা বাঁচার জন্য পড়ি কি মরি করে ঝাঁপ দেওয়ার জন্য তৈরি হয়ে গিয়েছিলেন, তাঁরা আপাতত ব্রেক কষেছেন। কারণ এক গোষ্ঠীর হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিলে অন্য গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতৃত্ব ‘ভেটো’ দিয়ে দিচ্ছে। ফলে একবুক স্বপ্ন নিয়ে নতুন দলে যোগ দেওয়ার পর কেউ চাপে পড়ে পদত্যাগ করছেন, কেউ আবার যোগদানের পর নতুন দলে গুরুত্ব না পেয়ে কারও কারও ‘ঘরওয়াপসি’ও হচ্ছে। তাই অনেকেই আরও একটু দেখে নিতে চাইছেন। নিদেনপক্ষে আগামী পুরসভা ভোট পর্যন্ত। কারণ এখনও কী হয়, কী হয় একটা ভাব তাঁদের মনের মধ্যে গুর গুর করছে। তাঁরা ভাবছেন, শেষ মুহূর্তে হাওয়া যদি কোনও কারণে ঘুরে যায় তাহলে ‘জাতও যাবে, পেটও ভরবে না।’
তবে, এসব হওয়ার কারণে যোগদান পর্বে ছেদ পড়েছে এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই। বেনোজলের স্রোত অব্যাহত। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাটমানি ফিরিয়ে দেওয়ার যে নির্দেশ দিয়েছেন তাতে তৃণমূলের বহু চুনোপুঁটি থেকে রাঘব বোয়ালের প্রাণ ওষ্ঠাগত হওয়ার জোগাড়। বিজেপি ও সিপিএমের প্রাক্তনীদের উস্কানিতে চলছে বিক্ষোভ কর্মসূচি। আর সেই জনরোষ থেকে বাঁচতে কাটমানিতে উদরপূর্তি করা নেতাদের একটা বড় অংশ নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে গেরুয়া শিবিরকেই বেছে নিতে চাইছে। কারণ তারা ভাবছে, এই মুহূর্তে গেরুয়া পাঞ্জাবি আর গেরুয়া টিপ সব চেয়ে বড় রক্ষাকবচ। আর গেরুয়া শিবির এখন গঙ্গাজলের চেয়েও পবিত্র। একবার গায়ে মেখে নিতে পারলেই ওঁ শান্তি।
প্রশ্ন উঠেছে, দক্ষিণ দিনাজপুরের তৃণমূল নেতাদের বিজেপিতে যোগদানকে ঘিরে। তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্র জেলা পরিষদের সভাধিপতি সহ ১০ জন সদস্যকে নিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। ফলে জেলা পরিষদ এখন বিজেপির। তৃণমূলের স্টাইলে নির্বাচনে না জিতেও জেলা পরিষদ দখলের দৌলতে গেরুয়া শিবিরের শ্রীবৃদ্ধি অবশ্যই হয়েছে। কিন্তু গৌরব বৃদ্ধি হয়নি। দক্ষিণ দিনাজপুরের তৃণমূলের নেতারা বিজেপিকে এরাজ্যে প্রথম জেলা পরিষদ দখলের সম্মান এনে দিয়েছেন ঠিকই। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কাটমানি ফেরতের কী হবে?
যোগদানের আগে কাটমানি ইস্যুতে দক্ষিণ দিনাজপুরে জেলা পরিষদের সদস্যদের বাড়ির সামনে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল তা থেমে গেল কেন? তাহলে যোগদানের আগে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, সেটা কি ভুল ছিল? নাকি বিজেপির গঙ্গাজলে সবই পবিত্র হয়ে গেল? বহু জায়গায় পঞ্চায়েত প্রধান সহ তৃণমূলের অধিকাংশ সদস্য বিজেপিতে চলে যাচ্ছেন। সেখানেও কি ‘গঙ্গাজল’ কাজ করছে?
একটা কথা মনে রাখা দরকার, বেনোজলের সঙ্গে মাছ যেমন আসে, তেমনি আসে সাপখোপ, বোয়াল। বোয়াল পুকুরে ঢুকে গেলে রুই, কাতলারাও রেহাই পায় না। বোয়ালের দাঁত ভীষণ ধারালো, খিদেও প্রচুর। তাই বেনোজলের পুকুর ভর্তিতে যাঁরা আহ্লাদিত হচ্ছেন, তাঁদের একবার বোয়ালদের বিপদটাও ভাবা দরকার।
বেনোজল পুকুরে ঢুকে যাওয়ায় স্বচ্ছ জলও ঘোলা হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টা আদিরা মেনে নিতে পারছেন না। ২০১১ সালের পর তৃণমূলে এমনটাই ঘটেছিল। রাজ্যে পরিবর্তনের পর সিপিএম সহ বামেদের স্রোত আছড়ে পড়েছিল। দলকে বড় করার আশায় তৃণমূলের নেতারা শুধু দরজা খুলেই দেননি, অতিথি জ্ঞানে আপ্যায়নও করেছিলেন। লাভপুরে মনিরুল ইসলাম সহ প্রায় গোট ফরওয়ার্ড ব্লকটাই তৃণমূলে ঢুকে গিয়েছিল। একই ঘটনা ঘটেছিল নানুরেও। ফরওয়ার্ড ব্লক থেকে যোগ দেওয়া অভিজিৎ সিংহ ওরফে রাণা তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর তিনিই হয়ে ওঠেন অনুব্রত মণ্ডলের ছায়াসঙ্গী ও প্রধান পরামর্শদাতা। আর তাতেই অনুব্রতবাবুর সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে শেখ শাহনওয়াজ, তাঁর ভাই কাজল শেখের মতো তৃণমূলের দুর্দিনের নেতা-কর্মীদের।
এমনকী, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো অধ্যাপক মানুষও আত্মসম্মান বজায় রাখার জন্য কুঁকড়ে থাকতেন। এনিয়ে আদি তৃণমূলীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছিল। এটা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, রাজ্যের প্রতিটি জেলায় এমন অজস্র উদাহরণ রয়েছে যেখানে জার্সি বদলে বামেরাই হয়ে উঠেছিলেন ঘাসফুল শিবিরের নিয়ন্ত্রক।
‘লাল তৃণমূলে’র দাপটে দমবন্ধ হতে বসা আদি তৃণমূলীরাই বিভিন্ন এলাকায় পঞ্চায়েত ভোটে কোথাও নির্দল দাঁড় করিয়েছিলেন, কোথাও তলে তলে বিজেপিকে সমর্থন করেছিলেন। পঞ্চায়েত ভোটে বিক্ষুব্ধরা যে বীজ রোপন করেছিলেন, লোকসভা ভোটে সেটাই হয়েছে মহীরুহ।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সম্ভবত বিপদটা কিছুটা হলেও উপলব্ধি করেছেন। তাই তিনি বোয়ালদের দলে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পুকুর পাড়ে জাল দেওয়ার একটা চেষ্টা করছেন। কেশপুরের আনন্দপুরে এক জনসভায় তাঁর ভাষণে অন্তত তেমন মনোভাবই প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘দল বাড়াতে হলে তৃণমূলকে ভাঙতে হবে। তাই তৃণমূল থেকে যাঁরা আসছেন তাঁদের নিতে হবে। কিন্তু, টাকাটা মিটিয়ে আসতে হবে।’
গত লোকসভা ভোটের নিরিখে তৃণমূল কংগ্রেসের এক ধাক্কায় ১২টি আসন কমে গেলেও শতাংশের বিচারে ভোট বেড়েছে। সাধারণত কোনও দলের ভোট বাড়লে ভাঙন হয় না। কিন্তু, লোকসভা ভোটের পর বিভিন্ন জেলায় তৃণমূলের নেতারা বিজেপিতে যাচ্ছেন এবং যাওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন। তৃণমূল থেকে বিজেপিতে মূলত দু’ধরনের নেতা কর্মী যাচ্ছেন। একটা অংশ যাঁরা দীর্ঘদিন দলে কোণঠাসা। ‘কাটমানি নেতাদের’ বিরুদ্ধে জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বকে জানিয়েও কিছু করতে পারছিলেন না, তাঁরা যাচ্ছেন। আর যাচ্ছেন তাঁরাই, যাঁরা কাটমানি ও কমিশনের দৌলতে আজ জমি, বাড়ি, গাড়ির মালিক। তাঁরা বাঁচার তাগিদে বিজেপিতে ভিড়ছেন।
দ্বিতীয় পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে বেনোজলে গা ভাসানোর আকাঙ্ক্ষা প্রবল। কারণ রাজনীতিই এঁদের পেশা। ক্ষমতার সঙ্গে না থাকলে সংসার টানাই দায়। বিলাসিতা তো দূর অস্ত। এই সব কাটমানি নেতার একটাই পলিসি, এলো মেলো করে দে মা, লুটেপুটে খাই।
নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিরা কী ভয়ঙ্কর চাপে এবং অশান্তিতে আছে, তা একটা ঘটনার কথা উল্লেখ করলেই কিছুটা মালুম হবে। বর্ধমান স্টেশন এলাকায় একদা সিপিএমের অ্যাকশন স্কোয়াডের লিডার বলে পরিচিত খোকন সেন ও তাঁর অনুগামীরা কিছুদিন আগে বিজেপিতে যোগ দেন। তার দু’দিনের মধ্যে বিজেপির যুবমোর্চার জেলা সভাপতি শ্যামল রায়ের সঙ্গে খোকনবাবুর লড়াই লেগে যায়। উভয় গোষ্ঠীর গণ্ডগোল এমন চরমে ওঠে যে, বিজেপি জেলা অফিসে গুলি পর্যন্ত চলে। তার জের হিসেবে শ্যামল রায়ের বাড়িতে হামলা হয়।
জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।
‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়। তাই দলের বৃদ্ধির কথা ভেবে লকগেট খুলে দিয়ে অবাধে বেনোজল ঢোকার সুযোগ করে দিলে পরিণতি ভালো নাও হতে পারে। কারণ অতি বৃদ্ধি অনেক সময় ক্যান্সারের লক্ষণ হয়ে থাকে।
13th  July, 2019
অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
ঘোষণা ও বাস্তব
সমৃদ্ধ দত্ত

ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান একটি প্রকল্পই হল নদী সংযোগ প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন নদীকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। যাতে উদ্বৃত্ত জলসম্পন্ন নদী থেকে বাড়তি জল শুকনো নদীতে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বারংবার এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। গোটা প্রকল্প রূপায়ণ করতে অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকা দরকার। এদিকে আবার বুলেট ট্রেন করতেও ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে! আধুনিক রাষ্ট্রে অবশ্যই দুটোই চাই। কিন্তু বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিচার করলে? কোনটা বেশি জরুরি? বিশদ

12th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

 কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর থেকে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১৯-এর যে খসড়া প্রকাশিত হয়েছে তার যে অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে হই চই পড়েছিল তা হল বিদ্যালয় স্তরে ত্রি-ভাষা নীতির মাধ্যমে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে জোর করে হিন্দি চাপানোর বিষয়টি। তামিলনাড়ুর মানুষের প্রবল আপত্তিতে তা কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
বিশদ

11th  July, 2019
কেন তেরোজন অর্থনীতিবিদ অখুশি হবেন?
পি চিদম্বরম

প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. অরবিন্দ সুব্রামনিয়ন পাঁচ বছর আগে তাঁর প্রথম অর্থনৈতিক সমীক্ষা (ইকনমিক সার্ভে ২০১৪-১৫) পেশ করে বলেছিলেন, ‘‘ভারত একটা সুন্দর জায়গায় (সুইট স্পট) পৌঁছে গিয়েছে—জাতির ইতিহাসে এটা বিরল—এইভাবে শেষমেশ দুই সংখ্যার মধ্যমেয়াদি বৃদ্ধির কৌশলে ভর করে এগনো যাবে।’’
বিশদ

08th  July, 2019
জলের জন্য হাহাকার আমাদের কি একটুও ভাবাচ্ছে!
শুভা দত্ত

আমাদের এখনও তেমন অসুবিধে হচ্ছে না। কারণ, কলকাতা মহানগরীতে এখনও পানীয় হোক কি সাধারণ কাজকর্ম সারার জলের অভাব ঘটেনি। ঘটেনি কারণ আমাদের জল জোগান যে মা গঙ্গা, তিনি এখনও বহমান এবং তাঁর বুকের ঘোলা জলে এখনও নিয়ম করে বান ডাকে, জোয়ার-ভাটা খেলে।
বিশদ

07th  July, 2019
এক বাস্তববাদী রাজনীতিকের নাম শ্যামাপ্রসাদ
হারাধন চৌধুরী

 নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় সরকার নিয়ে বিজেপি তিন দফায় ভারত শাসনের দায়িত্ব পেল। কংগ্রেসকে বাদ দিলে ভারতের আর কোনও রাজনৈতিক দল এই কৃতিত্ব অর্জন করতে পারেনি। ২০১৯-এর লোকসভার ভোটে বিজেপি ক্ষমতা অনেকখানি বাড়িয়ে নিয়েছে। ২০১৪-র থেকে বেশি ভোট পেয়েছে এবং তিনশোর বেশি আসন দখল করেছে।
বিশদ

06th  July, 2019
চাকরি ও পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রত্যাশিত দিশা দেখাতে পারল না নির্মলা সীতারামনেরও বাজেট
দেবনারায়ণ সরকার

 লোকসভা নির্বাচনের আগে গত ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান বছরের (২০১৯-২০) অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করা হয়েছিল। নির্বাচনে বিপুল জয়ের পরে বর্তমান অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন দ্বিতীয় মোদি সরকারের বর্তমান অর্থবর্ষের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করলেন। এই বাজেটে আয় ও ব্যয় অন্তর্বর্তী বাজেটে যা ধরা হয়েছিল সেটাই অপরিবর্তিত রইল।
বিশদ

06th  July, 2019
একনজরে
 সুমন তেওয়ারি, আসানসোল, বিএনএ: কাটমানি, স্বজনপোষণ, পঞ্চায়েতের কাজের টেন্ডারের অনিয়ম এবং নিম্নমানের কাজে যুক্ত পঞ্চায়েত প্রধান ও নির্মাণ সহায়ক। এমনই গুরুতর অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে জানানোর সাতদিনের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত করে অভিযুক্ত প্রধান ও নির্মাণ সহায়ককে শোকজ করল প্রশাসন। ...

 বিএনএ, বারাসত: বারাসত ২ ব্লকে স্মারকলিপি দিতে যাওয়া বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় বিজেপির পাঁচ কর্মী সমর্থক জখম হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর জখম তিনজনকে বারাসত জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ...

 বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রাণিসম্পদ ও ডেয়ারি সংক্রান্ত নতুন একটি মন্ত্রক চালু করেছেন। সেই মন্ত্রক গোড়াতেই পাখির চোখ করছে ...

 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কারও কথায় মর্মাহত হতে হবে। বিবাহের যোগ আছে। কর্মে সুনাম বাড়বে। পাওনা অর্থ আদায় হবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৬৩: কবি, গীতিকার ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম
১৮৯৯: লেখক বনফুল তথা বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫৫: প্রাক্তন ক্রিকেটার রজার বিনির জন্ম
২০১২: বাংলাদেশের লেখক হুমায়ুন আহমেদের মূত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৫ টাকা ৬৯.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৪.০৯ টাকা ৮৭.২২ টাকা
ইউরো ৭৫.৯৩ টাকা ৭৮.৮৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৩৫০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৫৪০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৪,০৪৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,২৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৩৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৯ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার, দ্বিতীয়া ৪/৩৩ দিবা ৬/৫৫। ধনিষ্ঠা ৫৮/১৮ রাত্রি ৪/২৫। সূ উ ৫/৬/৩, অ ৬/১৯/৩১, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫২ মধ্যে পুনঃ ৭/৪৫ গতে ১০/২৪ মধ্যে পুনঃ ১/২ গতে ২/৪৮ মধ্যে পুনঃ ৪/৩৩ গতে অস্তাবধি, বারবেলা ৮/২৪ গতে ১১/৪৩ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/১ গতে ১০/২২ মধ্যে।
২ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৯ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার, তৃতীয়া ৬০/০/০ অহোরাত্র। ধনিষ্ঠানক্ষত্র ৫৫/৩১/৩৩ রাত্রি ৩/১৭/৪৩, সূ উ ৫/৫/৬, অ ৬/২২/৫, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৬ মধ্যে ও ৭/৪৮ গতে ১০/২৪ মধ্যে ও ১/১ গতে ২/৪৫ মধ্যে ও ৪/৩০ গতে ৬/২২ মধ্যে। রাত্রি ৭/৪২ গতে ৯/৯ মধ্যে ও ৩/০ গতে ৩/৪৪ মধ্যে, বারবেলা ৮/২৪/২২ গতে ১০/৩/৫৯ মধ্যে, কালবেলা ১০/৩/৫৯ গতে ১১/৪৩/৩৭ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/২/৫১ গতে ১০/২৩/১৪ মধ্যে।
১৫ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
২২ জুলাই কর্ণাটক বিধানসভায় আস্থাভোট 

08:37:08 PM

গড়িয়াহাট রোডে গাড়িতে আগুন, হতাহত নেই 

06:58:00 PM

উত্তরপ্রদেশে দলিত হত্যার প্রতিবাদে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে মহিলা তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ মিছিল 

06:05:00 PM

শিলিগুড়িতে ভূমিকম্প 
পরপর দু’টি ভূমিকম্পে কাঁপল শিলিগুড়ি সহ দার্জিলিংয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা। রিখটার ...বিশদ

04:13:49 PM

কর্ণাটক: আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে হবে, কুমারস্বামীকে চিঠি পাঠিয়ে নির্দেশ রাজ্যপালের 

04:05:11 PM

৫৬০ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

04:04:38 PM