Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

এক জাতি, এক নির্বাচন, অনেক ভীতি
পি চিদম্বরম

প্রধানমন্ত্রীকে আপনার বাহবা দিতে হবে যে সাধারণ মানুষের চিত্তবিক্ষেপ ঘটিয়ে দেওয়ার মতো ইস্যুগুলো তিনি খাড়া করে দিতে পারেন। তিনি এই বিষয়ে বাজি ধরেন যে বিরোধীরা বহু কণ্ঠে প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং সেগুলি সবসময় অকাট্য বা যুক্তিনির্ভর হবে না।
পুলওয়ামা ছিল একটি মোক্ষম দৃষ্টান্ত। সবদিক থেকে গোয়েন্দা ব্যর্থতা (ইন্টেলিজেন্স ফেলিয়োর) ছিল। ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যপাল যতটা সম্ভব স্বীকার করে নেন এই কথা বলে যে, ‘‘বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি রাজপথ ধরে যাওয়ার সময় আমরা শনাক্ত করতে কিংবা আটকাতে পারিনি ...। ঘটনা হল আমরা জানতে পারিনি যে তাদের (স্থানীয় বিদ্রোহীদের) মধ্যে একজন ফিদায়েঁও ছিল, এটা গোয়েন্দা ব্যর্থতার একটা অংশ।’’
এই ধরনের হামলার পর কোনও সরকারই মৌন থাকতে পারত না। জবাব ছিল বালাকোট, পাকিস্তান বায়ুসেনা ছিল আধা-প্রস্তুত, ভারতীয় বায়ুসেনা লক্ষ্যে আঘাত হেনেছিল, এবং পাকিস্তান ভারতীয় বায়ুসেনার একটি বিমানকে গুলি করে নামিয়েছিল। এয়ার স্ট্রাইক নিয়ে কোনও সংশয় নেই, প্রশ্ন যেটা উঠেছে সে হল হতাহতের সংখ্যা নিয়ে। সুতরাং, আমাদের কী বলার আছে?—পুলওয়ামায় উদ্বেগজনক ব্যর্থতা আর বালাকোটে তাৎপর্যপূর্ণ সাফল্য।
মনোযাগ বিক্ষিপ্ত করে দাও
নরেন্দ্র মোদি সাফল্যের সঙ্গে পুলওয়ামা আর বালাকোটকে মিশিয়ে দিয়েছেন। কেউ যদি পুলওয়ামায় গোয়েন্দা ব্যর্থতা (৪০টি তাজা প্রাণ হারানোর বিষাদময় ঘটনা) নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তবে অনৈতিকভাবে তার ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে তিনি বালাকোটে বায়ুসেনার সাফল্যকে খাটো করেছেন, এবং তাঁকে জাতীয়তা-বিরোধী হিসেবে দেগেও দেওয়া হয়েছে। বিরোধীরা, বিশেষত হিন্দিভাষী রাজ্যগুলির বিরোধীরা এই চতুর নির্বাচনী কৌশল মোকাবিলার মতো প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেনি এবং মানুষকে বোঝাতে পারেনি পুলওয়ামায় ব্যর্থতা আর বালাকোটে সাফল্যের তফাতটা কী। মানুষের দৃষ্টিকে মন্থরগতির অর্থনীতি, বেকারত্ব, কৃষকদের দুর্দশা, সাম্প্রদায়িক ঘৃণা, গণপ্রহারে মৃত্যু প্রভৃতির দিক থেকে মোদিজি তাঁর নির্বাচনী ভাষণে সাফল্যের সঙ্গে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন।
লোকসভার নির্বাচনের পর দৃষ্টিটা মন্থরগতির অর্থনীতি, বেকারত্ব, কৃষকদের দুর্দশা, সাম্প্রদায়িক ঘৃণা, গণপ্রহারে মৃত্যু প্রভৃতির দিকে ফিরিয়ে আনা উচিত। রাষ্ট্রপতির ভাষণে এসবের উপরেই গুরুত্ব আরোপ করা উচিত ছিল; সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জবাবটিও হওয়া উচিত ছিল এসব কেন্দ্র করে; প্রাক বাজেট বিতর্কের থিমও হওয়া উচিত এটা। হায়, সে হওয়ার নয়, মানুষের চিন্তায় ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে মোদিজির নতুন স্লোগান ‘এক জাতি এক নির্বাচন’। চিত্তবিক্ষেপের নতুন এক কৌল।
অসাংবিধানিক
ফেডারেল কাঠামোর সংসদীয় গণতন্ত্রে কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকারের মন্ত্রিসভা যথাক্রমে লোকসভার প্রতি [অনুচ্ছেদ ৭৫(৩)] এবং বিধানসভার প্রতি [অনুচ্ছেদ ১৬৪(২)] যৌথভাবে দায়বদ্ধ থাকবে। আইনসভার প্রতি ‘দায়বদ্ধতা’র অর্থ হল মন্ত্রিসভা প্রতিটি দিন এবং প্রতিটি ঘণ্টায় অবশ্যই আইনসভার সংখ্যাগরিষ্ঠের আস্থাভাজন থাকবে। যে-মুহূর্তে সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন হারিয়ে যায় সেই মুহূর্তে সরকারটির ক্ষমতা ত্যাগ করা উচিত। ধারণা এইরকম যে সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন নিয়ে পরবর্তী মন্ত্রিসভা দায়িত্বভার গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত এই ধরনের সংখ্যালঘু মন্ত্রিসভাও কাজ চালিয়ে যেতে পারে, কিন্তু এটা সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল নীতির বিরোধী ব্যাপার। ধরা যাক, একটা সরকার ভোটাভুটিতে পরাস্ত হয়ে গেল, কিন্তু আইনসভার ভিতরে এমন কোনও সদস্যকে পাওয়া গেল না যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন জোগাড় করতে সমর্থ হলেন, তখন কি সেই পরাজিত প্রধানমন্ত্রী অথবা মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পদে বহাল থাকবেন? সেটা হবে সংসদকে অপবিত্র করার শামিল। তখন এক এবং একমাত্র ন্যায়সংগত সমাধান হল অন্তর্বর্তী বা মধ্যবর্তী নির্বাচন।
সংসদীয় গণতন্ত্রের পক্ষে আরও দুটি বিষয় সমানভাবে ‘অ্যান্টিথেটিক্যাল’ হল—নির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পরেও কোনও একটি সরকারের মেয়াদ বৃদ্ধি করার কিংবা নির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই সেটা কমিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দান। মানুষ প্রার্থীদের একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নির্বাচন করে পাঠায়: সেই মেয়াদ বাড়িয়ে অথবা ছেঁটে দেওয়ার অর্থ হবে নির্বাচকদের অপমান করা।
এটা স্পষ্ট যে, বর্তমান সংবিধান অনুসারে অসাংবিধানিক এটা সম্পূর্ণ জেনে বুঝেও ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ ক্যাম্পেনটা চালানো হচ্ছে। যদিও সমর্থক প্রবক্তারা এটা আদৌ স্বীকার করবেন না যে তাঁদের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে সংবিধান সংশোধন করা। তাঁদের সংশোধনের দিগ্‌঩নির্দেশটা খুব স্পষ্ট: একক (ইউনিটারি), যুক্তরাষ্ট্রীয় (ফেডারেল) নয়; অধিক ক্ষমতাধর প্রধান (এগজিকিউটিভ), দুর্বল আইনসভা; একরূপতা (ইউনিফর্মিটি), বৈচিত্র নয়; সাধারণ পরিচয় (কমন আইডেন্টিটি), বিবিধ সংস্কৃতি নয়; এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্য, সহমতের ভিত্তিতে নয় (মেজরিটারিয়ান, নট কনসেনস্যুয়াল)। নির্দেশটা রাষ্ট্রপতি-প্রধান সরকারের ব্যবস্থার (প্রেসিডেন্সিয়াল সিস্টেম অফ গভর্নমেন্ট) দিকেই।
পরিবর্তন সম্পর্কে সর্তক হওয়ার পরামর্শ
একমাত্র ভারতের সংবিধানের ব্যাপক সংশোধনের মাধ্যমেই, উপরে যেসব আশঙ্কার কথা বলা হল, সেগুলি অর্জন করা সম্ভব। সংবিধানের আমূল সংশোধনের ধারণাটিতে বিজেপির অমত নেই বলে মনে হয়, কারণ তারা বিশ্বাস করে, যেহেতু কনস্টিটিউয়েন্ট অ্যাসেব্লিতে (গণপরিষদ বা সংবিধান রচনার জন্য ভারপ্রাপ্ত নির্বাচিত প্রতিনিধিসভা) আরএসএসের প্রতিনিধিত্ব ছিল না, সুতরাং বর্তমান সংবিধানের মালিকানার ভারগ্রহণে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ নয়। এটা জলের মতো পরিষ্কার যে আরএসএস এবং বিজেপি তাদের পছন্দের সংবিধান চায় এবং ‘এক জাতি, এক নির্বাচন’ প্রচারটা হল সেইমতো সংবিধান পরিবর্তনের পূর্বলক্ষণ।
ফেডারেল সিস্টেম সরকারের এমন কোনও দেশ নেই যার সঙ্গে আমরা তুলনা করে নিতে পারি যেখানে একইসঙ্গে জাতীয় সংসদ এবং রাজ্য বা প্রাদেশিক আইনসভার ভোট নেওয়া হয়ে থাকে—উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং জার্মানির নাম নেওয়া যেতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্সিয়াল সিস্টেমের সরকার, অতএব ওই দেশের সঙ্গে আমাদের তুলনা চলে না। পাশাপাশি এটাও দেখতে হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যুগপৎ এবং অযুগপৎ—দুই ধরনেরই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে (একটা হয় চার বছর অন্তর আর-একটা হয় দু’বছর অন্তর)। একটি দেশে একটিমাত্র নির্বাচন ব্যবস্থা চির-প্রযোজ্য হতে পারে না গোছের বিতর্কটাও অন্তঃসারশূন্য: যদি কতকগুলি রাজ্যে একইসঙ্গে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় উপস্থিত হয় তো সমস্যাটা কীসের? যদি কোনও দেশ তথাকথিত চির-প্রযোজ্য নির্বাচন ব্যবস্থার (পারপিচুয়াল ইলেকশন মোড) মধ্যে দিয়ে চলে, সেটা হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেখানে প্রতিনিধিসভার (হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস) নির্বাচনটা হয় নিয়ম করে দু’বছর অন্তর! এর জন্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনও ক্ষতি হয়েছে বলে তো মনে হয় না।
বিজেপির উচিত তাদের মতলবটা পরিষ্কার করে দেওয়া। দলটা যদি প্রেসিডেন্সিয়াল সিস্টেম অফ গভর্নমেন্ট বা রাষ্ট্রপতিতান্ত্রিক ব্যবস্থার সরকার চায় তবে সেটা তারা খোলাখুলি বলে দিক। তখন দেশবাসীকেই সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া হোক দেশের সামনে এই পরিস্থিতিতে অগ্রাধিকার কোনটি—মন্থরগতির অর্থনীতি, বেকারত্ব, কৃষকের দুর্দশা, সাম্প্রদায়িক ঘৃণা এবং গণপ্রহারে মৃত্যু অথবা বসানো প্রথম এগজিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট, অধীন বা অনুগত মন্ত্রিসভা এবং ক্ষমতাহীন সংসদ।
01st  July, 2019
অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
ঘোষণা ও বাস্তব
সমৃদ্ধ দত্ত

ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান একটি প্রকল্পই হল নদী সংযোগ প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন নদীকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। যাতে উদ্বৃত্ত জলসম্পন্ন নদী থেকে বাড়তি জল শুকনো নদীতে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বারংবার এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। গোটা প্রকল্প রূপায়ণ করতে অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকা দরকার। এদিকে আবার বুলেট ট্রেন করতেও ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে! আধুনিক রাষ্ট্রে অবশ্যই দুটোই চাই। কিন্তু বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিচার করলে? কোনটা বেশি জরুরি? বিশদ

12th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

 কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর থেকে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১৯-এর যে খসড়া প্রকাশিত হয়েছে তার যে অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে হই চই পড়েছিল তা হল বিদ্যালয় স্তরে ত্রি-ভাষা নীতির মাধ্যমে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে জোর করে হিন্দি চাপানোর বিষয়টি। তামিলনাড়ুর মানুষের প্রবল আপত্তিতে তা কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
বিশদ

11th  July, 2019
কেন তেরোজন অর্থনীতিবিদ অখুশি হবেন?
পি চিদম্বরম

প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. অরবিন্দ সুব্রামনিয়ন পাঁচ বছর আগে তাঁর প্রথম অর্থনৈতিক সমীক্ষা (ইকনমিক সার্ভে ২০১৪-১৫) পেশ করে বলেছিলেন, ‘‘ভারত একটা সুন্দর জায়গায় (সুইট স্পট) পৌঁছে গিয়েছে—জাতির ইতিহাসে এটা বিরল—এইভাবে শেষমেশ দুই সংখ্যার মধ্যমেয়াদি বৃদ্ধির কৌশলে ভর করে এগনো যাবে।’’
বিশদ

08th  July, 2019
জলের জন্য হাহাকার আমাদের কি একটুও ভাবাচ্ছে!
শুভা দত্ত

আমাদের এখনও তেমন অসুবিধে হচ্ছে না। কারণ, কলকাতা মহানগরীতে এখনও পানীয় হোক কি সাধারণ কাজকর্ম সারার জলের অভাব ঘটেনি। ঘটেনি কারণ আমাদের জল জোগান যে মা গঙ্গা, তিনি এখনও বহমান এবং তাঁর বুকের ঘোলা জলে এখনও নিয়ম করে বান ডাকে, জোয়ার-ভাটা খেলে।
বিশদ

07th  July, 2019
এক বাস্তববাদী রাজনীতিকের নাম শ্যামাপ্রসাদ
হারাধন চৌধুরী

 নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় সরকার নিয়ে বিজেপি তিন দফায় ভারত শাসনের দায়িত্ব পেল। কংগ্রেসকে বাদ দিলে ভারতের আর কোনও রাজনৈতিক দল এই কৃতিত্ব অর্জন করতে পারেনি। ২০১৯-এর লোকসভার ভোটে বিজেপি ক্ষমতা অনেকখানি বাড়িয়ে নিয়েছে। ২০১৪-র থেকে বেশি ভোট পেয়েছে এবং তিনশোর বেশি আসন দখল করেছে।
বিশদ

06th  July, 2019
একনজরে
 বিএনএ, বারাসত: বারাসত ২ ব্লকে স্মারকলিপি দিতে যাওয়া বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় বিজেপির পাঁচ কর্মী সমর্থক জখম হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর জখম তিনজনকে বারাসত জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ...

 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...

 বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রাণিসম্পদ ও ডেয়ারি সংক্রান্ত নতুন একটি মন্ত্রক চালু করেছেন। সেই মন্ত্রক গোড়াতেই পাখির চোখ করছে ...

 আঙ্কারা, ১৮ জুলাই (এপি): আমেরিকার নেতৃত্বাধীন যুদ্ধবিমান প্রকল্প এফ-৩৫ থেকে তুরস্ককে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। আমেরিকার সেই সিদ্ধান্তেরই বৃহস্পতিবার বিরোধিতা করল তাদের ন্যাটো জোটসঙ্গী তুরস্ক। তুরস্ক সরকারের দাবি, এই ধরনের সিদ্ধান্ত দুই দেশের ‘জোট সম্পর্কের পরিপন্থী’। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কারও কথায় মর্মাহত হতে হবে। বিবাহের যোগ আছে। কর্মে সুনাম বাড়বে। পাওনা অর্থ আদায় হবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৬৩: কবি, গীতিকার ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম
১৮৯৯: লেখক বনফুল তথা বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫৫: প্রাক্তন ক্রিকেটার রজার বিনির জন্ম
২০১২: বাংলাদেশের লেখক হুমায়ুন আহমেদের মূত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৫ টাকা ৬৯.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৪.০৯ টাকা ৮৭.২২ টাকা
ইউরো ৭৫.৯৩ টাকা ৭৮.৮৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৩৫০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৫৪০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৪,০৪৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,২৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৩৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৯ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার, দ্বিতীয়া ৪/৩৩ দিবা ৬/৫৫। ধনিষ্ঠা ৫৮/১৮ রাত্রি ৪/২৫। সূ উ ৫/৬/৩, অ ৬/১৯/৩১, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫২ মধ্যে পুনঃ ৭/৪৫ গতে ১০/২৪ মধ্যে পুনঃ ১/২ গতে ২/৪৮ মধ্যে পুনঃ ৪/৩৩ গতে অস্তাবধি, বারবেলা ৮/২৪ গতে ১১/৪৩ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/১ গতে ১০/২২ মধ্যে।
২ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৯ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার, তৃতীয়া ৬০/০/০ অহোরাত্র। ধনিষ্ঠানক্ষত্র ৫৫/৩১/৩৩ রাত্রি ৩/১৭/৪৩, সূ উ ৫/৫/৬, অ ৬/২২/৫, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৬ মধ্যে ও ৭/৪৮ গতে ১০/২৪ মধ্যে ও ১/১ গতে ২/৪৫ মধ্যে ও ৪/৩০ গতে ৬/২২ মধ্যে। রাত্রি ৭/৪২ গতে ৯/৯ মধ্যে ও ৩/০ গতে ৩/৪৪ মধ্যে, বারবেলা ৮/২৪/২২ গতে ১০/৩/৫৯ মধ্যে, কালবেলা ১০/৩/৫৯ গতে ১১/৪৩/৩৭ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/২/৫১ গতে ১০/২৩/১৪ মধ্যে।
১৫ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
২২ জুলাই কর্ণাটক বিধানসভায় আস্থাভোট 

08:37:08 PM

গড়িয়াহাট রোডে গাড়িতে আগুন, হতাহত নেই 

06:58:00 PM

উত্তরপ্রদেশে দলিত হত্যার প্রতিবাদে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে মহিলা তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ মিছিল 

06:05:00 PM

শিলিগুড়িতে ভূমিকম্প 
পরপর দু’টি ভূমিকম্পে কাঁপল শিলিগুড়ি সহ দার্জিলিংয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা। রিখটার ...বিশদ

04:13:49 PM

কর্ণাটক: আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে হবে, কুমারস্বামীকে চিঠি পাঠিয়ে নির্দেশ রাজ্যপালের 

04:05:11 PM

৫৬০ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

04:04:38 PM