Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

কাটমানি ও শুদ্ধিকরণ
তন্ময় মল্লিক

সুশান্ত শীটের কথা মনে আছে? বাঁকুড়া জেলার জগদল্লা ১ নম্বর পঞ্চায়েতের সেই লরিচালক, যিনি পঞ্চায়েত ভোটে মাত্র আধবেলা নিজের বুথে প্রচার করে তৃণমূল কংগ্রেসের দশ বছরের পঞ্চায়েত সদস্যকে ৩৪৯ ভোটে হারিয়ে দিয়েছিলেন। লরির স্টিয়ারিং ধরে কড়া পড়া সুশান্তবাবুর সেই হাতেই এলাকার মানুষ তুলে দিয়েছিলেন পঞ্চায়েত পরিচালনার স্টিয়ারিং। আর উপপ্রধান হয়েছিলেন মিনি লরির চালক। রাজনীতির সঙ্গে দু’জনেরই বিন্দুমাত্র সম্পর্ক ছিল না। তবুও ভোটাররা তাঁদেরই জিতিয়ে দিয়েছিলেন। বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, রাজনীতিকে যারা কারবারে পরিণত করেছে মানুষ তাদের পছন্দ করে না। রাজনীতির কারবারিরা প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। পঞ্চায়েত ভোটেই ছিল ঈঙ্গিত, সুযোগ পেলে মানুষ ধাক্কা দিতে তৈরি। আর সব কিছুর অভাব যতই থাক, গ্রামের রাজাদের মাটিতে আছড়ে ফেলে খান খান করে দিতে দড়ি ধরে টান মারার লোকের কিন্তু অভাব হবে না।
পরাধীন ভারতে রাজনীতির উদ্দেশ্য ছিল দেশসেবা। তখন যাঁরা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁরা দেশকে, সমাজকে জীবন দেওয়ার জন্য জীবনধারণ করতেন। স্বাধীনতা লাভের পরেও যাঁরা রাজনীতিতে ছিলেন তাঁদের বেশিরভাগের চোখে ছিল দেশ ও সমাজ গড়ার স্বপ্ন। তাই গ্রামেগঞ্জে স্কুল, কলেজ করতে, হাসপাতাল গড়তে কেউ দিয়েছেন অর্থ, কেউ দিয়েছেন জমি। আর যাঁদের দেওয়ার মতো কিছুই ছিল না, তাঁরা দিতেন স্বেচ্ছাশ্রম। সকলের লক্ষ্য ছিল একটাই, দেশকে নতুন করে গড়তে হবে।
আর এখন? রাজনীতি যেন আক্ষরিক অর্থেই পেশা। গ্রামবাংলায় অনেকে একটা কথা বিদ্রুপ করে বলে, ‘যার নেই কোনও গতি, সে করে রাজনীতি।’ বিনা পুঁজির রমরমা কারবার। আর অধুনা কাটমানি ইস্যু সেই বিনা পুঁজির ব্যবসার মূলেই হেনেছে আঘাত।
এই মুহূর্তে রাজ্যের সব চেয়ে জ্বলন্ত ইস্যু কাটমানি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাটমানি ইস্যু প্রকাশ্যে আনতেই রাজ্যজুড়ে ঝড় বয়ে যাচ্ছে। এই ঝড়ের মধ্যে দিয়েই কি একটা সার্বিক শুদ্ধিকরণের জোরদার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল? প্রশ্নটা কিন্তু মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, বাম জামানার শেষদিকে সিপিএম নেতৃত্ব যখন উপলব্ধি করেছিলেন, ‘গ্রামের মিনি রাইটার্স বিল্ডিং’ পঞ্চায়েতের হাত ধরে রন্ধ্রে রন্ধ্রে বাসা বেঁধেছে দুর্নীতি, ক্ষমতা আর অর্থের দম্ভে পার্টির কেষ্টবিষ্টুরা ক্রমশ হচ্ছেন জনবিচ্ছিন্ন, ঠিক তখনই দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতা শুদ্ধিকরণের আওয়াজ তুলেছিলেন। কারণ তাঁরা বুঝেছিলেন, শুদ্ধিকরণ না করতে পারলে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে বামশাসনের ইমারত। সেই কথা মাথায় রেখে লোকাল কমিটি থেকে রাজ্য সম্মেলন সর্বত্রই শুদ্ধিকরণ ছিল চর্চার বিষয়। নেতারা মুখে শুদ্ধিকরণের বুলি আওড়ালেও কাজে করে দেখানোর সাহস পাননি। কারণ বুঝেছিলেন, ঠগ বাছতে গেলে গাঁ উজাড় হয়ে যাবে। কিন্তু, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় কাউন্সিলারদের সভায় ‘অন ক্যামেরা’ কাটমানির প্রসঙ্গ তুলে দলীয় নেতাদের জনগণের কাছ থেকে নেওয়া কাটমানি ফেরত দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
যাঁরা আবাস যোজনা, ১০০ দিনের কাজ, পঞ্চায়েতের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য কমিশন বা কাটমানি খেয়েছেন তাঁরা টাকা ফেরত দেবেন কি না, বা আদৌ দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ থাকলেও তাঁর এই হুঁশিয়ারিতে নতুন করে কাটমানি খাওয়ার রাস্তা আপাতত বন্ধ। তাঁর এই ভাষণকে হাতিয়ার করে প্রধান বিরোধী শক্তি বিজেপির ছত্রচ্ছায়ায় চারিদিকে একটা মার মার, কাট কাট ব্যাপার শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে কাটমানি-প্রিয় অনেক নেতা যে রুষ্ট হয়েছেন তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। অনেক জায়গায় ব্যক্তিগত ঝাল মেটানোর পালা শুরু হয়ে গিয়েছে। তারই মাঝে রাস্তাঘাটে, চায়ের দোকানে, পাড়ার মোড়ে এখন একটাই চর্চা, কাটমানি। অনেকেই বলছেন, দিদি ঠিক করেছে। কথায় কথায় কাটমানি খাওয়ার রাস্তাটা বন্ধ করে দিয়েছে। এত কাজের পরেও যাদের জন্য দলের ভরাডুবি হয়েছে তাদের শাস্তি পাওয়াই উচিত। সব চেয়ে বড় কথা, মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পর কাটমানি খাওয়ার সাহস এই মুহূর্তে কেউ দেখাবে না। কেউ কেউ বলছেন, লোকসভা ভোটের ধাক্কায় বেসামাল তৃণমূলকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে এই দহনের জ্বালাটুকু সহ্য করতেই হবে। দহনজ্বালা সহ্য করতে পারলেই খাদটুকু বেরিয়ে যাবে। তাতে অন্তত খাঁটি হওয়ার একটা সুযোগ অন্তত তৈরি হবে। আদিরা থেকে যাবে, ২০১১ সালের মুখে যারা মৌরসিপাট্টা গেড়ে বসেছিল, তারা নতুন করে পাওয়ার আশায় বেরিয়ে যাবে।
রাজা আসে, রাজা যায়। রাজা বদলায়। ২০২১সালে রাজ্যের রাজা বদলাবে কি না, সেটা সময় বলবে। তবে, লোকসভা ভোটের ফলাফলকে মাপকাঠি ধরে যাঁরা আগামী বিধানসভা ভোটের ভবিষ্যৎ
গণনা করতে চাইছেন তাঁদের কয়েকটি বিষয় ভেবে দেখা দরকার। প্রথমত, ২০১৯ সালে হয়েছে লোকসভা অর্থাৎ দেশের সরকার গড়ার ভোট, আর ২০২১ সালে হবে রা঩জ্যে সরকার গড়ার ভোট।
যোগ্য বিরোধী মুখ না থাকায় প্রধানমন্ত্রিত্বের
প্রশ্নে নরেন্দ্র মোদি যে অ্যাডভান্টেজ পেয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রিত্বের প্রশ্নে সেই একই বেনিফিট
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
দ্বিতীয়ত, রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় রাস্তাঘাট, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি সত্ত্বেও লোকসভা ভোটে তৃণমূলের বিপুল পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল কাটমানি। বহু জায়গায় তৃণমূলের মাতব্বররা আবাস যোজনায় বাড়ি তৈরি থেকে শুরু করে নির্লজ্জভাবে সমব্যথী প্রকল্পে পর্যন্ত হাত পেতে টাকা নিয়েছে। তাতে মাতব্বরদের বাড়ি, গাড়ি, ব্যাঙ্ক ব্যালান্স লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। কিন্তু, নিজের প্রাপ্যের টাকা অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার যন্ত্রণায় আপনজনও যে পর হয়ে গিয়েছে, সেটা উপলব্ধি করার মতো বোধশক্তি মাতব্বররা হারিয়ে ফেলেছিল। মাতব্বররা বুঝতে পারেনি, ভোটের দিন তাদের পয়সায় যারা বিরিয়ানি, মাংস ভাত খেয়েছে তারাই চটের আড়ালে বোতাম টিপেছে পদ্মফুলে। তৃণমূলের খারাপ ফলের কারণ বিশ্লেষণে কাটমানির বিষয়টি সবচেয়ে বড় বলে ধরা পড়েছে। কোনওভাবে কাটমানি ক্ষোভ দূর করতে পারলেই উন্নয়নের বেনিফিট ঘরে তুলতে তৃণমূলকে খুব একটা বেগ পেতে হবে না।
নতুন দল গঠন করে সিপিএমের পাথর জমাট সংগঠনকে যিনি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন, তাঁকে খুব সাধারণ ভাবাটা বোকামি ছাড়া কিছুই নয়। সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভা ভোটের পর খুব ভালো করে বুঝেছেন, রাজ্যে যতই উন্নয়ন করা হোক না কেন, মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যতই পরিষেবা দেওয়া হোক না কেন, হাসপাতালে যতই বিনা পয়সায় পরিষেবা দেওয়া হোক না কেন, কাটমানির পায়ে বেড়ি পরাতে না পারলে কোনও লাভ হবে না। এক ফোঁটা গোচোনা যেভাবে গোটা বালতির দুধ নষ্ট করে দেয়, তেমনই তৃণমূলের মাতব্বরদের কাটমানি খেয়ে ফুলে ফেঁপে ঢোল হয়ে ওঠা মুখ্যমন্ত্রীর সমস্ত ভালো কাজে কেরোসিন ঢেলে দিয়েছে। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাটমানির মূলেই কুঠারাঘাত করেছেন। তাঁর এই ‘শুদ্ধিকরণ’ প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে ২০২১ সালটা হবে ইতিহাস সৃষ্টির বছর। রচিত হবে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ের ইতিহাস।
এখানে একটা কথা বলে রাখা দরকার, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ যেমন দুর্নীতি পছন্দ করেন না, তেমনই চান না বিশৃঙ্খলা। কাটমানি ইস্যুতে বিভিন্ন এলাকায় সিপিএমের গোডাউনে চলে যাওয়া ক্যাডাররা বিজেপির পতাকা নিয়ে সামনের সারিতে চলে এসেছে। ক্যাডাররা এখন ‘নো রিস্ক ফুল গেন’ থিওরিতে খেলে যাচ্ছে। কারণ মারছে সিপিএম, নাম ফাটছে বিজেপির।
প্রায় কোনও রকম সংগঠন ছাড়াই বিজেপি এরাজ্যে ১৮টি আসনে জিতেছে। সৌজন্যে নেগেটিভ ভোট। সাংগঠনিক ভোটে ধস নামতে সময় নেয়। কিন্তু, ফ্লোটিং ভোট ঘুরতে সময় নেয় না। কাটমানি ইস্যুতে দিকে দিকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ায় অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে
পেশির আস্ফালন বাড়বে, বই কমবে না। এটা
গেরুয়া শিবিরের জন্য ভালো লক্ষণ নয়। তাই
সাবধান ও সতর্ক হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তা
না হলে নেপোয় দই মেরে চলে যাবে, পড়ে থাকবে শুধু ভাঁড়টা।
30th  June, 2019
অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
ঘোষণা ও বাস্তব
সমৃদ্ধ দত্ত

ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান একটি প্রকল্পই হল নদী সংযোগ প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন নদীকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। যাতে উদ্বৃত্ত জলসম্পন্ন নদী থেকে বাড়তি জল শুকনো নদীতে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বারংবার এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। গোটা প্রকল্প রূপায়ণ করতে অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকা দরকার। এদিকে আবার বুলেট ট্রেন করতেও ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে! আধুনিক রাষ্ট্রে অবশ্যই দুটোই চাই। কিন্তু বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিচার করলে? কোনটা বেশি জরুরি? বিশদ

12th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

 কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর থেকে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১৯-এর যে খসড়া প্রকাশিত হয়েছে তার যে অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে হই চই পড়েছিল তা হল বিদ্যালয় স্তরে ত্রি-ভাষা নীতির মাধ্যমে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে জোর করে হিন্দি চাপানোর বিষয়টি। তামিলনাড়ুর মানুষের প্রবল আপত্তিতে তা কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
বিশদ

11th  July, 2019
কেন তেরোজন অর্থনীতিবিদ অখুশি হবেন?
পি চিদম্বরম

প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. অরবিন্দ সুব্রামনিয়ন পাঁচ বছর আগে তাঁর প্রথম অর্থনৈতিক সমীক্ষা (ইকনমিক সার্ভে ২০১৪-১৫) পেশ করে বলেছিলেন, ‘‘ভারত একটা সুন্দর জায়গায় (সুইট স্পট) পৌঁছে গিয়েছে—জাতির ইতিহাসে এটা বিরল—এইভাবে শেষমেশ দুই সংখ্যার মধ্যমেয়াদি বৃদ্ধির কৌশলে ভর করে এগনো যাবে।’’
বিশদ

08th  July, 2019
জলের জন্য হাহাকার আমাদের কি একটুও ভাবাচ্ছে!
শুভা দত্ত

আমাদের এখনও তেমন অসুবিধে হচ্ছে না। কারণ, কলকাতা মহানগরীতে এখনও পানীয় হোক কি সাধারণ কাজকর্ম সারার জলের অভাব ঘটেনি। ঘটেনি কারণ আমাদের জল জোগান যে মা গঙ্গা, তিনি এখনও বহমান এবং তাঁর বুকের ঘোলা জলে এখনও নিয়ম করে বান ডাকে, জোয়ার-ভাটা খেলে।
বিশদ

07th  July, 2019
এক বাস্তববাদী রাজনীতিকের নাম শ্যামাপ্রসাদ
হারাধন চৌধুরী

 নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় সরকার নিয়ে বিজেপি তিন দফায় ভারত শাসনের দায়িত্ব পেল। কংগ্রেসকে বাদ দিলে ভারতের আর কোনও রাজনৈতিক দল এই কৃতিত্ব অর্জন করতে পারেনি। ২০১৯-এর লোকসভার ভোটে বিজেপি ক্ষমতা অনেকখানি বাড়িয়ে নিয়েছে। ২০১৪-র থেকে বেশি ভোট পেয়েছে এবং তিনশোর বেশি আসন দখল করেছে।
বিশদ

06th  July, 2019
একনজরে
 মুম্বই, ১৮ জুলাই: দেশে ফিরলেন বিরাট কোহলি। বৃহস্পতিবার স্ত্রী অনুষ্কা শর্মার সঙ্গে মুম্বই বিমানবন্দর থেকে বেরতে দেখা যায় ভারত অধিনায়ককে। কোহলির পরনে ছিল কালো টি-শার্ট ...

 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...

 সুমন তেওয়ারি, আসানসোল, বিএনএ: কাটমানি, স্বজনপোষণ, পঞ্চায়েতের কাজের টেন্ডারের অনিয়ম এবং নিম্নমানের কাজে যুক্ত পঞ্চায়েত প্রধান ও নির্মাণ সহায়ক। এমনই গুরুতর অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে জানানোর সাতদিনের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত করে অভিযুক্ত প্রধান ও নির্মাণ সহায়ককে শোকজ করল প্রশাসন। ...

 সংবাদদাতা, হরিরামপুর: পরকীয়ায় জড়িয়ে যাওয়া বউকে প্রেমিকের হাতে তুলে দিলেন স্বামী। এদিন প্রেমিক বংশীহারিতে প্রেমিকার বাড়িতে এলে পাড়ার লোকজন তাকে ধরে ফেলে। পরে স্থানীয়রাই পুলিসকে খবর দেয়। বংশীহারি থানার পুলিস এসে প্রেমিককে ভ্যানে তোলে।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কারও কথায় মর্মাহত হতে হবে। বিবাহের যোগ আছে। কর্মে সুনাম বাড়বে। পাওনা অর্থ আদায় হবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৬৩: কবি, গীতিকার ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম
১৮৯৯: লেখক বনফুল তথা বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫৫: প্রাক্তন ক্রিকেটার রজার বিনির জন্ম
২০১২: বাংলাদেশের লেখক হুমায়ুন আহমেদের মূত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৫ টাকা ৬৯.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৪.০৯ টাকা ৮৭.২২ টাকা
ইউরো ৭৫.৯৩ টাকা ৭৮.৮৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৩৫০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৫৪০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৪,০৪৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,২৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৩৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৯ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার, দ্বিতীয়া ৪/৩৩ দিবা ৬/৫৫। ধনিষ্ঠা ৫৮/১৮ রাত্রি ৪/২৫। সূ উ ৫/৬/৩, অ ৬/১৯/৩১, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫২ মধ্যে পুনঃ ৭/৪৫ গতে ১০/২৪ মধ্যে পুনঃ ১/২ গতে ২/৪৮ মধ্যে পুনঃ ৪/৩৩ গতে অস্তাবধি, বারবেলা ৮/২৪ গতে ১১/৪৩ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/১ গতে ১০/২২ মধ্যে।
২ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৯ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার, তৃতীয়া ৬০/০/০ অহোরাত্র। ধনিষ্ঠানক্ষত্র ৫৫/৩১/৩৩ রাত্রি ৩/১৭/৪৩, সূ উ ৫/৫/৬, অ ৬/২২/৫, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৬ মধ্যে ও ৭/৪৮ গতে ১০/২৪ মধ্যে ও ১/১ গতে ২/৪৫ মধ্যে ও ৪/৩০ গতে ৬/২২ মধ্যে। রাত্রি ৭/৪২ গতে ৯/৯ মধ্যে ও ৩/০ গতে ৩/৪৪ মধ্যে, বারবেলা ৮/২৪/২২ গতে ১০/৩/৫৯ মধ্যে, কালবেলা ১০/৩/৫৯ গতে ১১/৪৩/৩৭ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/২/৫১ গতে ১০/২৩/১৪ মধ্যে।
১৫ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
২২ জুলাই কর্ণাটক বিধানসভায় আস্থাভোট 

08:37:08 PM

গড়িয়াহাট রোডে গাড়িতে আগুন, হতাহত নেই 

06:58:00 PM

উত্তরপ্রদেশে দলিত হত্যার প্রতিবাদে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে মহিলা তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ মিছিল 

06:05:00 PM

শিলিগুড়িতে ভূমিকম্প 
পরপর দু’টি ভূমিকম্পে কাঁপল শিলিগুড়ি সহ দার্জিলিংয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা। রিখটার ...বিশদ

04:13:49 PM

কর্ণাটক: আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে হবে, কুমারস্বামীকে চিঠি পাঠিয়ে নির্দেশ রাজ্যপালের 

04:05:11 PM

৫৬০ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

04:04:38 PM