Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৃহত্তম চ্যালেঞ্জ
হারাধন চৌধুরী

আমাদের স্বাধীনতার বয়স বাহাত্তর বছর। পশ্চিমবঙ্গের জন্য এই পর্ব-দৈর্ঘ্যটাকে আমরা চারটি ভাগে ভাগ করতে পারি। কংগ্রেস জমানা, যুক্তফ্রন্ট জমানা, বামফ্রন্ট জমানা এবং চলতি তৃণমূল জমানা। অস্থির ও ক্ষণস্থায়ী যুক্তফ্রন্টের স্বল্পকাল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আট বছর বাদ দিলে বাকি সময়টাই সবচেয়ে লম্বা—যেটা শাসন করেছে কংগ্রেস ও বামফ্রন্টের বকলমে সিপিএম। প্রতিটি জমানার রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার একটি ‘কমন’ দিক হল দুর্নীতি। প্রতিটি জমানার শুভসূচনা হয়েছে। কিন্তু, কিছুদিন পরই শাসকরা উপলব্ধি করেছেন, স্বচ্ছতার প্রশ্নে তাঁরা কথা রাখতে পারছেন না। মানুষ আশাহত হচ্ছে। কাদের জন্য দল এবং/অথবা সরকারের সুপ্রিমোর কথার খেলাপ হচ্ছে—তাও অজানা থাকছে না, দলীয় এবং প্রশাসনিক সূত্র মারফত সবই জেনে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু, দল বা সরকার কিছু করতে পারছে না। ধরে নিচ্ছি, সুপ্রিমো মানুষটি ব্যক্তিগতভাবে সৎ ও স্বচ্ছ। তবু, কিল খেয়ে কিল হজম করার এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি কাটাচ্ছেন তিনি।
একটি বিধানসভার ভোটের মাঝে পুরভোট, পঞ্চায়েত ভোট, লোকসভার ভোট প্রভৃতি হচ্ছে। সেসব ভোটেও দল এবং সরকারের অস্বচ্ছ ভাবমূর্তির স্পষ্ট প্রভাব পড়ছে। পরবর্তী বিধানসভার ভোটের কথা মাথায় রেখে শাসক দল এবং সরকারের সতর্ক হওয়ার কথা। তবু, দল এবং সরকারের অভ্যন্তরের বেচাল প্রভাবশালীদের কিছু করতে পারছেন না শীর্ষকর্তাটি। দলের একাংশের দুর্নীতির সুযোগ নিয়ে আমলাদের একটি অংশ ব্ল্যাকমেল করেন, যার অর্থ আরও বেশি বেশি দুর্নীতিতে শাসকের ডুব দেওয়া। এই অন্যায়ের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করে নেওয়া তো কল্পনাতীত!
ট্রাডিশন ভাঙার সাহস দেখালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৮ জুন কলকাতায় পুর কাউন্সিলারদের নিয়ে দলের তরফে একটি মিটিং ডাকা হয়েছিল। তৃণমূল সুপ্রিমো কোনও রাখঢাক না-করে সেখানে চাঁচাছোলা ভাষায় নির্দেশ দেন, যাঁরা কমিশন খেয়েছেন অবিলম্বে ফেরত দিন। একইসঙ্গে দলনেত্রীর হুঁশিয়ারি ছিল, এই নির্দেশ অমান্য করলে দোষীদের দল থেকে তাড়িয়ে ছাড়বেন। তাঁর সাফ কথা, দলে চোরেদের কোনোমতেই রাখবেন না। স্মরণকালের মধ্যে এই প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী রাজনীতির গড্ডলিকা প্রবাহে ভাসলেন না। আর্থিক দুর্নীতির প্রশ্নে তিনি প্রথম আঙুল তুললেন নিজের দলের নেতাদের বিরুদ্ধে! তিনি কি ভাবলেন না, যা বললেন রাজনীতির মঞ্চে তার গুরুত্ব কতখানি। তাঁর এই কথার ভিতর যে স্বীকারোক্তি আছে সেটাকেই হাতিয়ার করতে এবার মরিয়া হবে বিরোধীরা? ইতিমধ্যেই তৃণমূলের ভিতর থেকে বলা শুরু হয়ে গিয়েছে, দিদি এ কী করলেন! এমনকী দলের এক এমপি এজন্য বেশ ক্ষোভের সঙ্গে প্রকাশ্যে তাঁর আশঙ্কার কথাও শুনিয়েছেন।
এসব কথা যাঁরা বলছেন, তাঁরা হয়তো ভুলে যাচ্ছেন বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতিটা সবসময় অন্যরকম। তিনি চ্যালেঞ্জ নিতেই পছন্দ করেন, তবে কোনও ছোটখাটো চ্যালেঞ্জ নেওয়া তাঁর ধাতে সয় না। কংগ্রেসে থাকার সময় হাইকম্যান্ডকে বারবার চ্যালেঞ্জ করেছেন নির্ভয়ে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব ছেড়েছেন। কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেছেন। একাধিক ভোটে কংগ্রেস অথবা বিজেপির সঙ্গে জোট করেছেন। সেই জোট ভেঙেওছেন নিজস্ব ভঙ্গিতে। লোকসভায় একেবারে একা, নিঃসঙ্গও হয়েছেন। সিঙ্গুর, নন্দীগ্রামে অগ্নিবর্ষী আন্দোলন করেছেন। আমরা, সাধারণ মানুষ, প্রতিবারই ভেবে নিয়েছি, তিনি ‘ভুল’ করছেন। দলের অতি ভক্ত সমর্থকদেরও অনেকে তার অতিরিক্ত কিছু ভাবতে পারেননি। কিন্তু বাস্তবটা হল—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার বার ভিকট্রি স্ট্যান্ডে ফিরে এসেছেন রূপকথার পাখির মতোই!
আসলে, তাঁর আপাত ভুলগুলি সবসময়ই এক-সে-এক মাস্টার স্ট্রোক (এই উপলব্ধির কথা অতীতে একাধিকবার এই স্থানে লিখেছি)। তিনি এবার যে চ্যালেঞ্জটি নিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে তাঁর অতীতের সব চ্যালেঞ্জকে পিছনে ফেলে দিয়েছে। এবারেরটিও ‘আপাত ভুল’ না কি তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা মিথ্যা করে দিয়ে ‘ব্লান্ডার’ হয়ে উঠবে তা দেখার জন্য আমাদের পরবর্তী বিধানসভার ভোট পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে।
তবে, তাঁর কৌশলী রাজনীতির ধারা বিশ্লেষণ করলে পরিষ্কার হয় যে তিনি মুখ ফসকে এত বড় কথাটি বলেননি—যাতে বিজেপির দ্রুত এগতে সুবিধা হয় কিংবা জীবন্মৃত সিপিএম একটু অক্সিজেন পেয়ে যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত সচেতনভাবেই প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেছেন বলে মনে হয়। পুর কাউন্সিলারদের নিয়ে ওই মিটিং ডাকার উপলক্ষ ছিল দলে শুদ্ধকরণের বার্তা দেওয়া। লোকসভার ভোটে এরাজ্যে বিজেপির বিস্ময়কর উত্থানের খবরটিই প্রচারের আলো কেড়ে নিয়েছে। ওইসঙ্গে চাপা পড়ে গিয়েছে আর-একটি সত্য—নির্বাচন কমিশনের কড়াকড়ির মধ্যেও রাজ্যের শাসক দলের ভোট কমেনি, বরং কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু, সেটা গুরুত্বহীন হয়ে গিয়েছে তৃণমূল অনেকগুলি আসন হারানোয়। ভোট-বৃদ্ধি এমপি-বৃদ্ধির নিশ্চয়তা দেয় না। এর পিছনে থাকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ জোট-রাজনীতির সত্য।
তবু, তৃণমূল নেত্রী দলের এই আপাত পরাজয়ের গুরুত্ব স্বীকারসহ নিশ্চয় দেখেছেন—বাংলার ২৭টি গ্রামীণ লোকসভা আসনের মধ্যে ১৫টি বিজেপি ছিনিয়ে নিয়েছে। বিজেপি যতগুলি বিধানসভা আসনে এগিয়ে গিয়েছে তার মধ্যে গ্রামীণ আসন শ’খানেক! স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে—কন্যা, ছাত্র, যুব, কৃষক, শ্রমিক, প্রবীণ নাগরিক, প্রতিবন্ধী, বিধবা, বেকার, সংখ্যালঘু প্রভৃতির জন্য এত যে কাজ করা হল, এত যে রাস্তাঘাট, হাসপাতাল তৈরি হল—দল সেসবের ডিভিডেন্ড পেল না কেন? অনুসন্ধান করতে গিয়ে দল জেনেছে, কাজ হয়েছে বটে ওইসঙ্গে আর্থিক দুর্নীতিও হয়েছে বিস্তর। তাতে অভিযুক্তদের একাংশ দলেরই জনপ্রতিনিধি, নেতা প্রভৃতি; আছেন সরকারি কর্মী আধিকারিকদেরও একাংশ। স্বভাবতই প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—গরিবের জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থ নয়ছয়ের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
তাঁর রাজনীতির ধরন যাঁদের মুখস্থ তাঁরাই জানেন, এমন চ্যালেঞ্জ শুধু তাঁর পক্ষেই নেওয়া সম্ভব। এটাকে যাঁরা ঘোলা জলে মাছ ধরার মওকা ভাবছেন, তাঁরা ভুলই করছেন। মানুষ কিন্তু শুধু তৃণমূলকে আতশকাচের নীচে রাখেনি, একই আতশকাচের নীচে বিজেপি এবং তার বন্ধুদেরও রেখেছে। অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টাকে মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইটাকে বানচাল করার ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখতে পারে। জবাব দেওয়ার বেলা মানুষ কতটা নির্মম হতে পারে, তা এই ভোটেই সদ্য দেখেছি আমরা। অতএব, নষ্টামি করার আগে ২০২১ সালের কথাটিও সব দলকে মাথায় রাখতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে অঙ্গীকার শুনিয়েছেন, তার আন্তরিকতা কিছুটা প্রমাণ করতে পারলেই বিরাট ব্যাপার। ঘোষণা কার্যকর করার সূচনা যেটা হয়েছে, ফেলনা নয়। অদূর ভবিষ্যতে কিছু রাঘব বোয়ালের সাদা কলারে টান পড়লে অবাক হবেন না।
এতে একদিকে, দলের ভিতরের গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়লরা সমঝে যাবেন। অন্যদিকে, তাঁদেরকে সামনে রেখে যেসব সরকারি কর্মী-আমলা ব্ল্যাকমেল করার কূটনীতি নিয়ে চলেন, তাঁরাও জিভটা ছোট করতে বাধ্য হবেন। সে-খবর বাতাসে ভাসবেই। মানুষের চঞ্চল মন ফের তৃণমূলের দিকে ফিরতে শনি মঙ্গলবার দেখবে বলে মনে হয় না।
মনে রাখতে হবে, এবার লোকসভার ভোটে বিজেপি একজন মান্য নেতা দিতে পেরেছিল। কংগ্রেস এবং তৃতীয় শক্তির মধ্যে সেটারই অভাব ছিল এবং বিরাট। নেতৃত্বের প্রশ্নে বিরোধীদের দিশাহীনতাই চওড়া তফাত গড়ে দিয়েছিল। সেই রাজপথেই নরেন্দ্র মোদির বিজয়রথ ছুটে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গে আগামী বিধানসভার ভোটে একই পার্থক্য গড়ে দেওয়ার সামর্থ্য আছে একটিমাত্র দলের এবং একজনমাত্র নেতার। বলা বাহুল্য, নাম দু’টি হল তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই, তৃণমূল সুপ্রিমো দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াইয়ের চাল দেওয়ার পর বিজেপির পক্ষে যে-কোনও অসতর্ক পদক্ষেপই কিন্তু বিপজ্জনক। সবচেয়ে কাল হতে পারে তৃণমূল ত্যাগীদের বিজেপিতে নির্বিচারে অভ্যর্থনার হিড়িক। একদিকে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে মমতার লড়াই বানচাল করার ষড়যন্ত্র বলে গণ্য হতে পারে। অন্যদিকে, প্রশ্নের মুখে পড়ে যাবে বিজেপির নীতির রাজনীতির বড়াই।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে চেয়েছিলেন প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু। একটি নমুনা। তাঁর খনিমন্ত্রী কে ডি মালব্য দশ হাজার টাকা দাবি করে এক শিল্পপতিকে চিঠি লিখেছিলেন, ভোটে এক দলীয় প্রার্থীর জন্য। খবর পেয়ে নেহরু ডেকে পাঠান মালব্যকে। মালব্য অভিযোগ মেনে নিতেই নেহরু বললেন, ‘‘এবার তো আপনাকে পদত্যাগপত্র দিতে হবে!’’ অগত্যা মালব্য ঘণ্টা কয়েকের ভিতর তাঁর পদত্যাগপত্র লিখে দিয়েছিলেন।
রাজনীতিকে বিস্মৃতির সেই অতল থেকে নীতির সরণিতে তুলে আনতে পারবেন কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? বঙ্গবাসী, এমনকী দেশবাসী আজ সত্যিই তৃষ্ণার্ত!
25th  June, 2019
একশো পঁচিশে সংসদের বাঙালি পণ্ডিত
হারাধন চৌধুরী

কাটমানি আর ব্ল্যাকমানির তরজায় দেশের রাজনীতি আজ বিপন্নপ্রায়। রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধা ও আগ্রহ নষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষের, বিশেষত শিক্ষিত যুব সম্প্রদায়ের। এ লক্ষণ সুখের নয়—মানুষের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য—কারও জন্যই নয়।
বিশদ

৫, ১০, ২০ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে
পি চিদম্বরম

রাজ্যসভায় ২০১৯-২০ বাজেট নিয়ে বক্তব্য রাখার সময় বলেছিলাম, ‘‘যদি জিডিপির স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার ১২ শতাংশ হয় তবে প্রতি ছ’বছরে জিডিপির আকারটা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। আর বৃদ্ধির হারটা যদি নমিনাল ১১ শতাংশ হয় তবে জিডিপি দ্বিগুণ হতে সময় নেবে সাত বছর।
বিশদ

22nd  July, 2019
২১ জুলাই সমাবেশ: মমতা কী বার্তা দেন জানতে উৎসুক বাংলা
শুভা দত্ত

ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে প্রতিবছর মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দিনটিতে বড়সড় সমাবেশের আয়োজন করে তাঁর প্রয়াত সহযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
বিশদ

21st  July, 2019
ছোটদের বড় করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

সব থেকে ভালো হয়, যদি আপনার ‘বাছা’কে নিজের মতো বেড়ে উঠতে দেন। আনন্দে বেড়ে উঠুক। আলো চিনিয়ে দিন, অন্ধকার চিনিয়ে দিন। লক্ষ্য রাখুন, ঠিকঠাক এগচ্ছে কি না! সামনে পিছনে কত ফাঁদ, চোরাবালি। আপনিই ঈশ্বর, ওকে রক্ষা করুন। ছোটদের ‘বড়’ করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে। দয়া করে ওর উপর মাতব্বরি করবেন না, হ্যাঁ আমরা মাতব্বরিই করি।
বিশদ

20th  July, 2019
জন্ম এবং মৃত্যুর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি অকস্মাৎ আমার একটি বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। এই উপলক্ষে জগতে সকলের চেয়ে পরিচিত যে মৃত্যু তার সঙ্গে আর-একবার নূতন পরিচয় হল। জগৎটা গায়ের চামড়ার মতো আঁকড়ে ধরেছিল, মাঝখানে কোনো ফাঁক ছিল না। মৃত্যু যখন প্রত্যক্ষ হল তখন সেই জগৎটা যেন কিছু দূরে চলে গেল, আমার সঙ্গে আর যেন সে অত্যন্ত সংলগ্ন হয়ে রইল না।
——— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশদ

20th  July, 2019
অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

19th  July, 2019
বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
একনজরে
 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইস্ট-ওয়েস্ট পথে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চালানোর চূড়ান্ত অনুমোদন চেয়ে গত মাসের শেষের দিকে ‘কমিশনার অব রেলওয়ে সেফটি’ (সিআরএস)-র কাছে আবেদন করেছিল কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন লিমিটেড (কেএমআরসিএল)। সঙ্গে পাঠানো হয়েছিল প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও। ...

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার ও মালাবাজার: ছেলেধরা সন্দেহে সোমবার সকালে নাগরাকাটার সুখানিবস্তি এলাকায় পুলিসের সামনেই এক ভিখারিকে পাথর দিয়ে মাথা থেতলে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল। ছেলেধরা সন্দেহে নাগরাকাটায় রীতিমতো আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।   ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত ৫ জুলাই কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। তার আগে কেন্দ্রীয় সরকারকে হরেক দাবিদাওয়া পেশ করেছিল অল ইন্ডিয়া জেম অ্যান্ড জুয়েলারি ডোমেস্টিক কাউন্সিল। তাদের অন্যতম দাবি ছিল, সোনার উপর আমদানি শুল্ক কমাতে হবে এবং ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তাঁরা পঞ্চায়েত এলাকায় কর আদায় করেন। তাঁদের মাধ্যমে যে টাকা আদায় হয়, তার উপর অনেকটাই নির্ভর করে পঞ্চায়েতের আয়। মোটা টাকার অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রেও পঞ্চায়েতের ভরসা তাঁরাই। অথচ গ্রাম পঞ্চায়েতের ট্যাক্স কালেক্টরদের ন্যায্য টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে চরম ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের কর্মের যোগাযোগ আসবে। যে সুযোগ পাবেন তাকে সদ্ব্যবহার করুন। কর্মক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আনুকূল্য পাবেন। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮২৯- আমেরিকাতে টাইপরাইটারের পূর্বসুরী টাইপোগ্রাফার পেটেন্ট করেন উইলিয়াম অস্টিন বার্ড।
১৮৫৬- স্বাধীনতা সংগ্রামী বাল গঙ্গাধর তিলকের জন্ম
১৮৮১ - আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলির মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্টিক ফেডারেশন প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮৯৫- চিত্রশিল্পী মুকুল দের জন্ম
১৯৯৫- হেল-বপ ধূমকেতু আবিস্কার হয়। পরের বছরের গোড়ায় সেটি খালি চোখে দৃশ্যমান হয়।
২০০৪- অভিনেতা মেহমুদের মৃত্যু
২০১২- আই এন এ’ যোদ্ধা লক্ষ্মী সায়গলের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার 67.49 70.53
পাউন্ড 84.31 88.37
ইউরো 75.63 79.29
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৫৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৭১৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪৪,২২০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৮৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৯৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৩ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার, ষষ্ঠী ২৭/৫২ অপঃ ৪/১৬। উত্তরভাদ্রপদ ২০/১৫ দিবা ১/১৪। সূ উ ৫/৭/৪২, অ ৬/১৮/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৬ গতে ১০/২৪ মধ্যে পুনঃ ১/২ গতে ২/৪৮ মধ্যে পুনঃ ৩/৪০ গতে ৫/২৬ মধ্যে। রাত্রি ৭/১ মধ্যে পুনঃ ৯/১১ গতে ১১/২১ মধ্যে পুনঃ ১/৩১ গতে ২/৫৮ মধ্যে, বারবেলা ৬/৪৭ গতে ৮/২৫ মধ্যে পুনঃ ১/২২ গতে ৩/১ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৩৯ গতে ৯/০ মধ্যে।
৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৩ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার, ষষ্ঠী ১৮/৪৭/৯ দিবা ১২/৩৭/৪। উত্তরভাদ্রপদনক্ষত্র ১৪/২৯/১২ দিবা ১০/৫৩/৫৩, সূ উ ৫/৬/১২, অ ৬/২১/২৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৯ গতে ১০/২৪ মধ্যে ও ১/০ গতে ২/৪৪ মধ্যে ও ৩/৩৬ গতে ৫/১৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৫৫ মধ্যে ও ৯/৮ গতে ১১/২০ মধ্যে ও ১/৩২ গতে ৩/১ মধ্যে, বারবেলা ৬/৪৫/৩৬ গতে ৮/২৫/১ মধ্যে, কালবেলা ১/২৩/১৪ গতে ৩/২/৩৯ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৪২/৪ গতে ৯/২/৩৯ মধ্যে।
১৯ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
  সল্টলেকের বিএসএনএল-এর অফিসে আগুন
সল্টলেকের ১৩ নম্বর ট্যাঙ্কের বিএসএন এল-এর নোভাল সেন্টারে আগুন লেগেছে। ...বিশদ

22-07-2019 - 09:50:50 PM

বরানগর জুট মিলে আগুন, অকুস্থলে দমকলের ৪টি ইঞ্জিন 

22-07-2019 - 07:18:32 PM

কালিকাপুরে সোনার গয়না চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার পরিচারিকা 

22-07-2019 - 06:20:00 PM

মহেশতলায় দুটি গাড়ির সংঘর্ষ, আহত ৬ 
অটো এবং ৪০৭ গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ছ’জন। জানা গিয়েছে, ...বিশদ

22-07-2019 - 06:18:00 PM

ফুলশয্যার দিনেই আত্মঘাতী গৃহবধু 
ফুলশয্যার দিনেই আত্মঘাতী হলেন এক গৃহবধু। মৃতার নাম প্রিয়াঙ্কা সর্দার ...বিশদ

22-07-2019 - 06:05:00 PM

বজবজ ফাঁড়ির কাছে পচাগলা দেহ উদ্ধার
 

পচাগলা দেহ উদ্ধার হলো বজবজ ফাঁড়ির সংলগ্ন এলাকায়। এই ঘটনায় ...বিশদ

22-07-2019 - 05:34:26 PM