Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ডাক্তার আন্দোলন: জয় পরাজয় নয়, হাসপাতাল সমস্যা সমাধানই লক্ষ্য হোক
শুভা দত্ত

এত বড় একটা সমস্যার এমন সহজ সাবলীল সমাধান, সপ্তাহব্যাপী অনড় অচলাবস্থার এমন অনায়াস অবসান বোধহয় এ রাজ্যের শাসক-বিরোধী কোনও মহলই ভাবতে পারেননি। রাজ্যের স্বাস্থ্যপরিষেবার উপর ঘনিয়ে ওঠা অমন অতল কালো মেঘ যে এমন এক লহমায় সরে যাবে এবং থমকে থাকা সরকারি হাসপাতাল স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো ফের যে অমন দ্রুততায় স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্যে ভরে উঠবে, সিনিয়র জুনিয়রে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে রোগীসেবায় তা বিরোধীরা তো বটেই, শাসকশিবিরের অনেকেও হয়তো মন থেকে বিশ্বাস করে উঠতে পারেননি। অথচ, সেটাই ঘটল এবং এবারও সেই অসাধ্য সাধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
অবশ্য, এনআরএসে দুষ্কৃতী হামলা ও হেনস্তার প্রতিবাদে জুনিয়র ডাক্তারদের লাগাতার আন্দোলন থামিয়ে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলোতে স্বাভাবিক পরিষেবা ফিরিয়ে আনতে শেষ ভরসা ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতাই। কারণ, ডাক্তার আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি তখন এমন জটিল আকার নিয়েছে যে, সকলেই বুঝতে পারছেন মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া কারও পক্ষেই ওই সমস্যা মেটানো সম্ভব নয়। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বা রাজ্যপাল উপদেশ দিতে পারেন, নানান জনের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন, তবে কার্যক্ষেত্রে সমস্যা মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছাড়া মেটা মুশকিল। কিন্তু, অবস্থা যখন চরমে, রাজ্যের সীমা ছাড়িয়ে আন্দোলনের ঢেউ যখন ছড়িয়ে পড়েছে দিল্লি সমেত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, বাস্তব পরিস্থিতি সরজমিনে দেখতে-বুঝতে মূল ঘটনাকেন্দ্র এনআরএসে না গিয়ে পিজিতে যাওয়ায় আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তারদের ক্ষোভ অভিমানের মুখে তখন তিনিও!
তাহলে? কীভাবে মিটবে আন্দোলন! কে মেটাবেন? ডাক্তারের অভাবে সরকারি হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যপরিষেবা তলানিতে। চিকিৎসা না পেয়ে সাধারণ রোগীরা অথৈ জলে। বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ উঠছে। বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বা তাঁর সমমনোভাবাপন্নেরা রোগীসেবা চালু রেখে আন্দোলনের অনুরোধ জানাচ্ছেন। তাতে আন্দোলনরত জুনিয়রেরা বা তাঁদের সমর্থনে এগিয়ে আসা সিনিয়রেরা কেউ কর্ণপাত করছেন না। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে রাজ্যের শিক্ষাস্বাস্থ্য দপ্তর বা ডাক্তার সংগঠনের কর্তা-নেতাদের বৈঠক করার চেষ্টা দফায় দফায় ব্যর্থ হচ্ছে। উল্টে নির্মল মাজি শান্তনু সেনদের মতো ডাক্তার নেতারা আন্দোলনকারীদের অসন্তোষ ও কঠিন বিক্ষোভের মুখে পড়ছেন। আন্দোলনে বাড়তি ইন্ধন জোগাতে শুরু করেছে সরকারি হাসপাতালের বড় বড় ডাক্তারবাবুদের গণইস্তফা। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন যে শাসক-বিরোধী থেকে আমজনতা—সব মহলেই একরকম অকূল পাথারে! রাজ্যের হাসপাতাল সমস্যা কবে মিটবে, কীভাবে মিটবে, কে মেটাবেন কেউই যেন বুঝেই উঠতে পারছেন না! সঙ্গত কারণেই দুশ্চিন্তা গভীরতর হচ্ছে বাংলার ঘরে ঘরে, বিশেষত, অসহায় সাধারণ রোগী ও তাঁদের আত্মীয় পরিজনেদের মধ্যে। দিল্লির এইমস সমেত দেশের বিভিন্ন নামজাদা হাসপাতালের চিকিৎসকেরা পশ্চিমবঙ্গের জুনিয়র ডাক্তারদের সমর্থনে আন্দোলন প্রতিবাদে নামতে থাকায় স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের সাধারণ মানুষজনের মধ্যে উদ্বেগ অনিবার্যভাবেই আরও বাড়ছিল। অনেককেই বলতে শোনা গেছে—এবার কী হবে? সব কিছু হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে না তো?!
তখনই অবশ্য এই কলমে লেখা হয়েছিল, সমাধান একটা হবেই। হতেই হবে। স্বাস্থ্যপরিষেবার মতো এমন অত্যাবশ্যক গুরুত্বের ক্ষেত্র আন্দোলনের জেরে দিনের পর দিন কিছুতেই বন্ধ হয়ে থাকতে পারে না। হাজার হাজার মরণাপন্ন রোগী কিছুতেই এভাবে সম্পূর্ণ বিনা দোষে পরোক্ষ লাঞ্ছনার শিকার হতে পারেন না। গত রবিবার এই লেখা প্রকাশের পরদিনই সেই ‘চমৎকার’ ঘটল এবং অনিবার্যভাবেই তা ঘটালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তারদের দাবিদাওয়ার প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে এবং হাসপাতালের অন্দর-বাহিরের নিরাপত্তা সমেত যাবতীয় সমস্যা সমাধানে সরকারি সক্রিয়তার পূর্ণ আশ্বাস দিয়ে নবান্নে এক মিটিংয়েই বাজিমাত করলেন মমতা। জুনিয়র সিনিয়র নির্বিশেষে সমস্ত চিকিৎসক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ভূমিকা ও সদর্থকতায় অভিভূত হয়ে একবাক্যে তুলে নিলেন আন্দোলন। আর তার ফলে দিনের পর দিন অচল হয়ে থাকা রাজ্যের হাসপাতাল স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে রাতারাতি সচল হল পরিষেবা, দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা করাতে আসা শিশু, বৃদ্ধ নারীপুরুষ গরিবগুর্বো হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন, টিভিতে তাঁদের চোখ-মুখই বলে দিচ্ছিল— দুঃখের আঁধার রাত্রি কেটে গেছে।
কিন্তু, মজার ব্যাপার—মুখ্যমন্ত্রীর মাস্টার স্ট্রোকে হাসপাতালের অচলাবস্থা দূর হতেই দেখলাম রাজনীতি ও তৎসংলগ্ন বিভিন্ন মহলে একশ্রেণীর লোক ওই টানাপোড়েনের নিষ্পত্তিতে কার জয় হল, কে ‘নতিস্বীকার’ করল তাই নিয়ে তরজায় মেতেছেন! এবং অনেক ক্ষেত্রেই বলতে শুনলাম, চাপে পড়ে মুখ্যমন্ত্রী নাকি ‘নতিস্বীকার’ করলেন আর নৈতিক জয় হল জুনিয়র ডাক্তারদের। সিপিএমের মুখপত্র ‘গণশক্তি’ বিরাট বড় টাইপে প্রথম পাতায় লিখল—‘মাথা নোয়ালো নবান্ন’! কেন? না, আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তারদের শর্ত মেনে (মানে মিটিংটার লাইভ টেলিকাস্টের ব্যবস্থা করা, ডাক্তারদের ১২ দফা দাবি মেনে নেওয়া ইত্যাদি!) মুখ্যমন্ত্রীকে সব ব্যবস্থা করতে হল! হাসপাতালের নানান সমস্যার কথা শুনতে হল— আশ্বাস দিতে হল দ্রুত সমাধানের! ভাবুন কাণ্ড! যেন ওদের ওইসব সাধারণ দাবি না মেনে, সমস্যার কথা না শুনে হাজার হাজার অসহায় অসুস্থ মরণাপন্ন মানুষকে আরও অসহায়তার দিকে ঠেলে দিয়ে গোঁ-ধরে বসে থাকলেই মুখ্যমন্ত্রী ভালো করতেন! সেটাই যেন প্রত্যাশা করেছিলেন কেউ কেউ! আহাম্মক আর কাকে বলে! হাজার হাজার রোগীর চরম ভোগান্তি দেখেও মুখ্যমন্ত্রী চুপ করে
বসে থাকবেন আর ধান্দাবাজেরা আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তারদের শিখণ্ডী করে ঘোলা জলে মাছ ধরে বেড়াবেন, রাজনৈতিক ফায়দা লোটায় মত্ত হবেন! কী মজা!
কিন্তু তাই কি হয়! হতে পারে!? হতে যে পারে না সেটা তো মুখ্যমন্ত্রীর সদিচ্ছা সক্রিয়তা শেষ পর্যন্ত প্রমাণ করে দিয়েছে। তাতেও নাছোড় আহাম্মকরা। রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কতটা বেহাল, ডাক্তার নিরাপত্তা কতটা শিথিল ইত্যাদি প্রভৃতি নানান কিছু ঠারেঠোরে দেশ-রাজ্যের জনতাকে বোঝাবার চেষ্টা করে চলেছেন তাঁরা। অথচ তাঁরা এটা বলছেন না যে, জুনিয়র ডাক্তারেরাও সদিচ্ছার পরিচয় রেখে বৈঠকের স্থান নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছেটা মেনে নিয়েছেন। ডাক্তারেরা তো নবান্নের নাম শুনে প্রথমে অন্য কোনও ‘নিরপেক্ষ’ জায়গার দাবি তুলেছিলেন। কিন্তু শেষ অবধি নবান্ন তো তাঁরাও মেনেছেন? তাহলে কি এটা সরকারের সামনে তাঁদের ‘নতিস্বীকার’ হল? মাথা নোয়ানো হল, হার হল! নাকি এতদ্বারা প্রমাণিত হল যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো আন্দোলনরত জুনিয়র সিনিয়র ডাক্তারবাবুদেরও রোগীসেবার স্বার্থে আন্দোলন শেষ করে কাজে নামার একটা তাগিদ ছিল, সদিচ্ছা ছিল। আপনারাই বলুন।
বলতে কী, এ রাজ্যে জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন নতুন নয়। রোগীর আত্মীয়পরিজন বা বহিরাগত দুষ্কৃতীদের হাতে ডাক্তার নিগ্রহও নতুন না। এবং তা নিয়ে ক্ষোভ বিক্ষোভ আন্দোলনও কম দেখেনি এই বাংলা। জ্যোতিবাবুর আমল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানা—জুনিয়র ডাক্তার আন্দোলনের ট্র্যাডিশন যে বহাল আছে সাম্প্রতিক ঘটনা তারই প্রমাণ। সেইসঙ্গে এটাও বলতে হয় অতীতেও আন্দোলন শেষ হয়েছে সমস্যা সমাধানের সরকারি আশ্বাসে কিন্তু কাল ঘুরতেই বোঝা গেছে সেই আশ্বাসে কাজের কাজ খুব কিছু হয়নি। এবারও হবে কি না সেটা সময়ই বলবে। তবে, এবারের বৈঠকের একটা বৈশিষ্ট্য আছে। মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং অন ক্যামেরা এই বৈঠক করেছেন। এমনটা জ্যোতি বসুই হোন কি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য— বাম জমানায় যতদূর মনে পড়ছে একটি ব্যতিক্রম ছাড়া দেখা যায়নি। দ্বিতীয়ত, সিপিএমের আমলে হাসপাতাল পরিষেবার পরিকাঠামো পরিধি, হাসপাতালের সংখ্যা, অত্যাধুনিক চিকিৎসার যন্ত্রপাতির পরিমাণ ও রোগীদের কাছে তার সহজলভ্যতা, বিনামূল্যের চিকিৎসা, ওষুধপত্র ইত্যাদি আজকের মতো এত ছিল কি? বলছি না যে বাম আমলে সরকারি হাসপাতালে মানুষ চিকিৎসা পেতেন না, নিশ্চয়ই পেতেন। কিন্তু, গত সাত-আট বছরে সেই চিকিৎসার সুযোগ যে মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা গ্রামবাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষজনের কাছে অনেক বেশি সহজপ্রাপ্য করে তুলতে পেরেছেন— সেই সত্য অস্বীকার করা যাবে কি?
তার মানে অবশ্যই এই নয় যে, রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলোতে তেমন কোনও সমস্যা নেই। সাম্প্রতিকে ডাক্তার নিগ্রহের বেশ কয়েকটি ঘটনা প্রমাণ করেছে— সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যথেষ্ট গলদ আছে। সংশ্লিষ্ট পুলিসের ভূমিকাও অনেক ক্ষেত্রে সন্তোষজনক নয়। পুলিসি নিষ্ক্রিয়তায় কোনও কোনও ক্ষেত্রে হাসপাতাল কার্যত এক শ্রেণীর গুন্ডাপ্রকৃতির মুক্তাঞ্চল হয়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ। সেইসঙ্গে রোগীর বিপুল চাপ সামলাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তারের অভাব, ওষুধপত্রের জোগানের অভাব, দালালদের দাদাগিরি রোগী ও তাঁর আত্মীয়দের সঙ্গে হাসপাতালের ডাক্তার কর্মী কর্তাদের একাংশের দুর্ব্যবহার ইত্যাদি হরেক সমস্যা তো আছেই। মুখ্যমন্ত্রী গত সোমবারের বৈঠকে কোনও সমস্যাই কিন্তু এড়িয়ে যাননি। নিরাপত্তা জোরালো করতে তো ইতিমধ্যেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। বাকিগুলোর সমাধান হতেও দেরি হবে না— অন্তত স্বাস্থ্যশিক্ষা দপ্তরের তথ্যভিজ্ঞরা তেমনই মনে করছেন।
এই অবস্থায় রাজ্যবাসী সাধারণের মতো
আমাদেরও বক্তব্য একটাই, ডাক্তার আন্দোলনে জয় পরাজয়ের হিসেব কষা নয়, রাজনীতি নয়। রাজ্যের হাসপাতাল সমস্যা সমাধানই লক্ষ্য হোক। মানুষ আধুনিক চিকিৎসার যাবতীয় সুযোগ পাক। তাই না?
23rd  June, 2019
একশো পঁচিশে সংসদের বাঙালি পণ্ডিত
হারাধন চৌধুরী

কাটমানি আর ব্ল্যাকমানির তরজায় দেশের রাজনীতি আজ বিপন্নপ্রায়। রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধা ও আগ্রহ নষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষের, বিশেষত শিক্ষিত যুব সম্প্রদায়ের। এ লক্ষণ সুখের নয়—মানুষের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য—কারও জন্যই নয়।
বিশদ

৫, ১০, ২০ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে
পি চিদম্বরম

রাজ্যসভায় ২০১৯-২০ বাজেট নিয়ে বক্তব্য রাখার সময় বলেছিলাম, ‘‘যদি জিডিপির স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার ১২ শতাংশ হয় তবে প্রতি ছ’বছরে জিডিপির আকারটা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। আর বৃদ্ধির হারটা যদি নমিনাল ১১ শতাংশ হয় তবে জিডিপি দ্বিগুণ হতে সময় নেবে সাত বছর।
বিশদ

22nd  July, 2019
২১ জুলাই সমাবেশ: মমতা কী বার্তা দেন জানতে উৎসুক বাংলা
শুভা দত্ত

ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে প্রতিবছর মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দিনটিতে বড়সড় সমাবেশের আয়োজন করে তাঁর প্রয়াত সহযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
বিশদ

21st  July, 2019
ছোটদের বড় করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

সব থেকে ভালো হয়, যদি আপনার ‘বাছা’কে নিজের মতো বেড়ে উঠতে দেন। আনন্দে বেড়ে উঠুক। আলো চিনিয়ে দিন, অন্ধকার চিনিয়ে দিন। লক্ষ্য রাখুন, ঠিকঠাক এগচ্ছে কি না! সামনে পিছনে কত ফাঁদ, চোরাবালি। আপনিই ঈশ্বর, ওকে রক্ষা করুন। ছোটদের ‘বড়’ করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে। দয়া করে ওর উপর মাতব্বরি করবেন না, হ্যাঁ আমরা মাতব্বরিই করি।
বিশদ

20th  July, 2019
জন্ম এবং মৃত্যুর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি অকস্মাৎ আমার একটি বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। এই উপলক্ষে জগতে সকলের চেয়ে পরিচিত যে মৃত্যু তার সঙ্গে আর-একবার নূতন পরিচয় হল। জগৎটা গায়ের চামড়ার মতো আঁকড়ে ধরেছিল, মাঝখানে কোনো ফাঁক ছিল না। মৃত্যু যখন প্রত্যক্ষ হল তখন সেই জগৎটা যেন কিছু দূরে চলে গেল, আমার সঙ্গে আর যেন সে অত্যন্ত সংলগ্ন হয়ে রইল না।
——— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশদ

20th  July, 2019
অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

19th  July, 2019
বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
একনজরে
তেহরান, ২২ জুলাই (এএফপি): সিআইএ-র চর সন্দেহে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ড দিল ইরান। সোমবার এই খবর জানিয়েছে ইরান প্রশাসন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, দেশের সঙ্গে গদ্দারি করার অভিযোগে কয়েকজনকে উচিত শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তাঁরা পঞ্চায়েত এলাকায় কর আদায় করেন। তাঁদের মাধ্যমে যে টাকা আদায় হয়, তার উপর অনেকটাই নির্ভর করে পঞ্চায়েতের আয়। মোটা টাকার অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রেও পঞ্চায়েতের ভরসা তাঁরাই। অথচ গ্রাম পঞ্চায়েতের ট্যাক্স কালেক্টরদের ন্যায্য টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে চরম ...

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নলহাটি থানার মাঠকলিঠা গ্রামে এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। পুলিস জানিয়েছে, মৃতার নাম প্রতিমা দাস(২৮)। তাঁর বাপেরবাড়ি মুরারই থানার খানপুর গ্রামে। বছর পাঁচেক আগে মাঠকলিঠার বাসিন্দা পেশায় সিভিক ভলান্টিয়ার পলাশ দাসের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।   ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত ৫ জুলাই কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। তার আগে কেন্দ্রীয় সরকারকে হরেক দাবিদাওয়া পেশ করেছিল অল ইন্ডিয়া জেম অ্যান্ড জুয়েলারি ডোমেস্টিক কাউন্সিল। তাদের অন্যতম দাবি ছিল, সোনার উপর আমদানি শুল্ক কমাতে হবে এবং ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের কর্মের যোগাযোগ আসবে। যে সুযোগ পাবেন তাকে সদ্ব্যবহার করুন। কর্মক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আনুকূল্য পাবেন। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮২৯- আমেরিকাতে টাইপরাইটারের পূর্বসুরী টাইপোগ্রাফার পেটেন্ট করেন উইলিয়াম অস্টিন বার্ড।
১৮৫৬- স্বাধীনতা সংগ্রামী বাল গঙ্গাধর তিলকের জন্ম
১৮৮১ - আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলির মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্টিক ফেডারেশন প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮৯৫- চিত্রশিল্পী মুকুল দের জন্ম
১৯৯৫- হেল-বপ ধূমকেতু আবিস্কার হয়। পরের বছরের গোড়ায় সেটি খালি চোখে দৃশ্যমান হয়।
২০০৪- অভিনেতা মেহমুদের মৃত্যু
২০১২- আই এন এ’ যোদ্ধা লক্ষ্মী সায়গলের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার 67.49 70.53
পাউন্ড 84.31 88.37
ইউরো 75.63 79.29
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৫৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৭১৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪৪,২২০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৮৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৯৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৩ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার, ষষ্ঠী ২৭/৫২ অপঃ ৪/১৬। উত্তরভাদ্রপদ ২০/১৫ দিবা ১/১৪। সূ উ ৫/৭/৪২, অ ৬/১৮/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৬ গতে ১০/২৪ মধ্যে পুনঃ ১/২ গতে ২/৪৮ মধ্যে পুনঃ ৩/৪০ গতে ৫/২৬ মধ্যে। রাত্রি ৭/১ মধ্যে পুনঃ ৯/১১ গতে ১১/২১ মধ্যে পুনঃ ১/৩১ গতে ২/৫৮ মধ্যে, বারবেলা ৬/৪৭ গতে ৮/২৫ মধ্যে পুনঃ ১/২২ গতে ৩/১ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৩৯ গতে ৯/০ মধ্যে।
৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৩ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার, ষষ্ঠী ১৮/৪৭/৯ দিবা ১২/৩৭/৪। উত্তরভাদ্রপদনক্ষত্র ১৪/২৯/১২ দিবা ১০/৫৩/৫৩, সূ উ ৫/৬/১২, অ ৬/২১/২৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৯ গতে ১০/২৪ মধ্যে ও ১/০ গতে ২/৪৪ মধ্যে ও ৩/৩৬ গতে ৫/১৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৫৫ মধ্যে ও ৯/৮ গতে ১১/২০ মধ্যে ও ১/৩২ গতে ৩/১ মধ্যে, বারবেলা ৬/৪৫/৩৬ গতে ৮/২৫/১ মধ্যে, কালবেলা ১/২৩/১৪ গতে ৩/২/৩৯ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৪২/৪ গতে ৯/২/৩৯ মধ্যে।
১৯ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
  সল্টলেকের বিএসএনএল-এর অফিসে আগুন
সল্টলেকের ১৩ নম্বর ট্যাঙ্কের বিএসএন এল-এর নোভাল সেন্টারে আগুন লেগেছে। ...বিশদ

22-07-2019 - 09:50:50 PM

বরানগর জুট মিলে আগুন, অকুস্থলে দমকলের ৪টি ইঞ্জিন 

22-07-2019 - 07:18:32 PM

কালিকাপুরে সোনার গয়না চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার পরিচারিকা 

22-07-2019 - 06:20:00 PM

মহেশতলায় দুটি গাড়ির সংঘর্ষ, আহত ৬ 
অটো এবং ৪০৭ গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ছ’জন। জানা গিয়েছে, ...বিশদ

22-07-2019 - 06:18:00 PM

ফুলশয্যার দিনেই আত্মঘাতী গৃহবধু 
ফুলশয্যার দিনেই আত্মঘাতী হলেন এক গৃহবধু। মৃতার নাম প্রিয়াঙ্কা সর্দার ...বিশদ

22-07-2019 - 06:05:00 PM

বজবজ ফাঁড়ির কাছে পচাগলা দেহ উদ্ধার
 

পচাগলা দেহ উদ্ধার হলো বজবজ ফাঁড়ির সংলগ্ন এলাকায়। এই ঘটনায় ...বিশদ

22-07-2019 - 05:34:26 PM