Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ডাক্তার নিগ্রহের বিরুদ্ধে এত স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন কেন ভারতের প্রতি কোণ থেকে 
সত্যপ্রিয় দে সরকার

 
ভারতে অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা শুরু হয় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। ইংরেজ সরকার তার ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে কখনও ৩০ কোটি ভারতীয়ের চিকিৎসার কথা ভাবেনি। ফোর্ট উইলিয়ামে যেমন প্রশাসন চালানোর জন্য কতিপয় করণিক তৈরির উদ্দেশ্যে ইংরেজি শিক্ষার প্রচলন হয়, তেমন এদেশের রাজকর্মচারী ও কর্মরত ইংরেজদের চিকিৎসা দেবার উদ্দেশ্যে কলকাতা ও তারপর মাদ্রাজ মেডিক্যাল কলেজ স্থাপিত হয়। স্বাধীনতার পরে প্রথম ভারতের সব নাগরিককে স্বাস্থ্যপরিষেবা দেবার উদ্দেশ্যে ত্রিস্তরীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রচলন হয়। স্বাধীনতার সময় ৩০ কোটি জনসংখ্যার ১৭ শতাংশ সাক্ষর ও ৯০ শতাংশ দারিদ্রসীমার নীচে ছিল এবং ৩ শতাংশ মানুষ অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসার উপর বিশ্বাস করত। আজ ১২০ কোটি জনসংখ্যার আনুমানিক ৭০-৭৫ শতাংশ মানুষ অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসার উপর বিশ্বাস করেন। রোজকার সচেতনতার ফলে এই অনুপাত আরও বাড়ছে। তার থেকেই একটা অনুমান করা যায় যে, অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসাব্যবস্থার উপর চাপ কী ভয়াবহ পরিমাণে বাড়ছে। ১৯৭৮-এ কাজাঘিস্তানের আলমা আটা শহরে ৬-১২ সেপ্টেম্বর বিশ্বের অধিকাংশ দেশ একযোগে ২০০০ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশের মানুষকে ন্যূনতম স্বাস্থ্য পরিষেবা দেবার অঙ্গীকার করে ও তাদের জিডিপি’র ন্যূনতম ৩ শতাংশ বাজেট স্বাস্থ্যখাতে দেবার শপথ নেয়। ভারত তার অন্যতম। ১৯৭৮ থেকে ২০১৯ আজ পর্যন্ত কোনও সরকার এই অঙ্গীকার পালন করেনি। গত বছর সরকার পূর্বে ২.১ শতাংশ বা ২.৩ শতাংশ থেকে এই বাজেট কমিয়ে ১.৯ শতাংশ করে দিয়েছে। তাই কেউ ন্যূনতম কথা না-রাখার ফলে রোজ প্রত্যাশা ও চাহিদার তুলনায় দেশের অ্যালোপ্যাথি স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও রুগ্ন হয়ে পড়েছে। এই রাজ্যে ১৯৭৭ থেকে ধীরে ধীরে নীরবে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার কেন্দ্র থেকে জীবনদায়ী ও আবশ্যিক ওষুধের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া চলেছে। এ মুহূর্তে আনুমানিক ৩ লক্ষ ন্যূনতম ইন্ডোর বেড প্রয়োজন। ৩ লক্ষ ৫০ হাজার হলে তা প্রায় সব বেশি অসুস্থকে জায়গা দিতে পারে, সেখানে সরকারি ব্যবস্থায় ৭৫ হাজার মতো ও সব বেসরকারি ব্যবস্থা মিলিয়ে ৪৫ হাজার মতো শয্যা আছে। এর মধ্যে ৪৫ হাজার বেসরকারি শয্যা আর্থিক কারণে গরিব মানুষের ক্ষমতার বাইরে।
১ লক্ষ ৮০ হাজার কম শয্যা নিয়ে রোজ এ রাজ্যের চিকিৎসকদের বাধ্য করা হয় স্বাস্থ্যপরিষেবা চালাতে। বহির্বিভাগের চিকিৎসকের সংখ্যা প্রয়োজনের ১/৬। সেবিকা, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী মিলিয়ে আজ পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ শূন্যস্থান রয়েছে। এই সংখ্যা হিসেবেও গরমিল আছে। ধরুন, কাঁথি হাসপাতালে ১০০টি শয্যা আছে, কিন্তু অতি অসুস্থ রোগী নিয়ে মাটিতে, বারান্দায়, গেটের পাশে আরও ১২৫ জন গড়ে ভর্তি থাকে, কিন্তু এই অতিরিক্ত রোগীদের সংখ্যা ইচ্ছাকৃতভাবে ধরা হয় না, কারণ তাতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর্মীর হিসেব দ্বিগুণ হয়ে পড়বে। এসব তথ্য প্রতিটি সরকার ১৯৪৭ সাল থেকে জানে, কেউ সৎভাবে এই সম্পূর্ণ পরিকাঠামোগত নৈরাজ্যের কথা স্বীকার করে না। প্রতি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কিছু আঞ্চলিক শক্তিশালী মানুষ, সর্বোচ্চ অপরাধী দলের নেতা, শাসক ও বিরোধী দলের নেতা, তাদের স্তাবক ও পরিবারকে প্রথমে চিকিৎসা দিতে হয়, নিয়ম ভেঙে ওষুধ, শয্যা, পরীক্ষা, চিকিৎসা করে দিতে হয়, তার বিনিময়ে ৬ দিন থাকার কথা কর্মীরা ২-৩ দিন, কখনও একদিনও থেকে কর্মস্থল থেকে দূরে তাঁর কাজ করতে পারেন, অলিখিত এই ব্যবস্থা মূলত ৭০-এর দশকের শুরু থেকে হয়ে চলেছে। এক-একটি জেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৮০-র দশক থেকে দেখেছি এক-একজন অপরাধীকে এক-একটি ওয়ার্ড ইজারা দিয়ে দিতে। এরা ঠিক করত কে ভর্তি হবে, কে বেডে, কে মাটিতে থাকবে, কে বেশি প্রোটিনের খাবার খাবে। নিশ্চয় প্রতিটি নির্দেশ আসত রোগীর মরিয়া পরিবারের থেকে নেওয়া পয়সার বিনিময়ে। এর বিনিময়ে এদের মদ্যপ অপরাধী দল কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা দিত। পুলিস কখনও কিছু করেনি, আজও কিছু করে না। এই সব ‘ইজারাদার’রা আবার শাসকদলকে বিভিন্ন ভোটের দিন ভোট জোগাড়ে সাহায্য করত। কোনও দল এই নিয়ম ভাঙেনি, শুধু লাল থেকে নীল হয়ে গেরুয়ার পথে অপরাধীরা শাসকের কোলে পরিপুষ্ট হয়েছে। এই ধরনের পরিকাঠামোহীন ব্যবস্থার খেসারত দিয়ে চলছে দু’শ্রেণীর মানুষ, সব স্বাস্থ্যকর্মী ও সব রোগী, যাঁরা আর্থিক কারণে বাধ্য হয়ে সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে আসেন। আনুমানিক শুধু পশ্চিমবঙ্গে প্রতিদিন শতাধিক রোগীর মৃত্যু হয় যা পরিকাঠামো ন্যূনতম থাকলে হতো না। সেই সময় যখন সরকারি মতে সব কেন্দ্র কাজ করছে পুরোদমে। এই যে কৌশলী হত্যা, এর খতিয়ান কেউ নেয় না। প্রতি বছর বহু হাজার। আজ যাঁরা তথাকথিত বিনা চিকিৎসায় মানুষের মৃত্যুসংবাদ নিয়ে ব্যবসা বা ভোট বাড়ানোর খেলা খেলছেন, ওই সঠিক চিকিৎসাহীনতার মৃত্যু নিয়ে তাঁরা কেন নিশ্চুপ? পাঁচজনের দৃশ্যত বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর বিপরীতে কৌশলে, লক্ষ গরিবের পরিকাঠামোর অভাবে মৃত্যু, কোনটা দেশের জন্য প্রয়োজনীয়? প্রয়োজন তিন শতাংশের বেশি সহায়তা, জিডিপি’র বাজেটে জমে থাকা অব্যবস্থাকে সঠিক পথে নিয়ে যাওয়া। Break even অর্থনীতির অঙ্কে কেন সরকার সব ওষুধ তৈরির দায় নেবে না, ওষুধের দাম মানুষের ধরাছোঁয়ার মধ্যে রাখার জন্য? কেন আরও আরও সঠিক সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হবে না? আজও ভারতে সরকারি মেডিক্যাল কলেজে বছরে ১২ হাজার টাকা পড়ার খরচ; খাওয়া, থাকা, বইয়ের খরচ আলাদা। গড়ে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে খরচ ১-১.৫ কোটি টাকা শুধু পড়ার খরচ। তাই আয়ুষ্মান ভারতের নামে সব দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দিয়ে কী করে স্থায়ীভাবে গরিব নাগরিকের চিকিৎসা হতে পারে? তারপর ওই সামান্য টাকার অংশও শাসকদল ও আমলাদের দিয়ে তবে অনেক পরে ওই টাকা পাওয়া যাবে। ঠিক যেমন সাইকেল বা ঘরপিছু টাকা নেওয়ার লোক ঠিক সময়ে ঘরে পৌঁছে যায়। দেশের প্রতিটি জেলায় মেডিক্যাল কলেজ ও নার্সিং কলেজ তৈরি না-হলে স্বাস্থ্যপরিষেবার বিকেন্দ্রীকরণ অসম্ভব। বিভিন্ন অতি সুদক্ষ চিকিৎসা কেন্দ্রের দামি যন্ত্রের কেনাতে সব আমলা ও শাসক দলের সংশ্লিষ্ট নেতারা উদগ্রীব হয়ে থাকেন, কারণ তার দামের ভাগের অংশ ঠিক জায়গায় পৌঁছে যায়, অথচ তারপর বছরের পর বছর সেই যন্ত্র খোলা হয় না, ব্যবহার হয় না। সামান্য খরাপ হলে চিরদিনের জন্য আর ব্যবহার হয় না। যে সামান্য টাকা দিয়ে বার্ষিক যন্ত্রের দেখাশোনার পদ্ধতি প্রস্তুতকারক সংস্থা ব্যবস্থা করে তার সুযোগও ইচ্ছে করে ব্যবহার করা হয় না, যাতে পরিষেবা দিতে না হয়। এর উদাহরণ এত বেশি যে এ ঘটনা না-ঘটাই ব্যতিক্রম।
এই পরিপ্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে চিকিৎসকদের অসহায়তা ও হতাশার কথা ভাবতে হবে। মেডিকেল কলেজের শুরু হয় শাসক দলের ছাত্র নেতা (অধিকাংশই ছাত্র হিসেবে কলেজের আবর্জনা) হুংকারের মাঝে। হস্টেলের ঘর পাওয়া, খাওয়ার ব্যবস্থা, পড়ার খুঁটিনাটি এরা নিয়ন্ত্রণ করে। এই নেতারা কেউ নির্বাচিত নয়। ১৯৮৬ থেকে ২০১০ পর্যন্ত ধরুন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে কোনও নির্বাচন হয়নি তৎকালীন শাসকদলের ছাত্র ফড়েরা ছাত্র সংসদ চালিয়েছে, ২০১২ থেকে একই ঘটনা নতুন শাসকদলের দালাল ও স্তাবক ছাত্রদের হাতে, শুধু পতাকার বদল। লাইব্রেরি, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে শিক্ষা, নিত্যনতুন শিক্ষাদানের পদ্ধতির প্রয়োগ কিছু নিয়েই এরা আন্দোলন করেন না, শুধুমাত্র বার্ষিক সংসদের উৎসব ও তার থেকে অর্থ আত্মসাৎ করার কাজ হল এদের একমাত্র লক্ষ্য। এমনকী পরীক্ষাও অনেকসময় নিরপেক্ষ হয় না। অভিযোগ, ৩৪ বছর এক শাসকদলের ও ৮ বছর নতুন শাসকদলের কোনও কোনও ছাত্র নেতাকে যেনতেন প্রকারে পাশ করিয়ে দেওয়া হয়, কখনও সিসিটিভি সরিয়ে কখনও প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দিয়ে। এই নীতির! পরিবেশে বেড়ে ওঠে ভবিষ্যতের সেবক চিকিৎসকরা। এরপর শুরু হয় জীবনের জুনিয়র ডাক্তার নামে ইন্টার্ন, হাউস স্টাফ ও পিজিটির জীবন। গড়ে ২০০-২৫০ রোগী, আক্রমণাত্মক, অচেতন, সঠিকভাবে নিজের সমস্যা বলতে অপারগ ও একরাশ অবিশ্বাস নিয়ে আসা যাদের ন্যূনতম সময়ে দেখতে হবে, রোগ নির্ণয় করতে হবে, চিকিৎসা দিতে হবে। এরা উচ্চ চিকিৎসা বা ভুল চিকিৎসা সংশোধনে সিঙ্গাপুর বা হংকং যেতে অপারগ।
এইসব অবস্থার মধ্যে এনআরএস-এ ৮৫ বছরের বৃদ্ধ হয়তো মৃতপ্রায় হয়ে এলেন, এসে মহাপ্রয়াণে গেলেন সন্ধ্যাবেলায়। দুঃখ আবেগ সব মিটে গেল। মধ্যরাতে হঠাৎ ২০০ জন সশস্ত্র মানুষ এল আবেগপ্রবণ (!) হয়ে। পুলিস তাদের যত্ন করে ঢুকতে দিল, পথ দেখাল। তারা মৃত রোগীর চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত নন এমন কর্তব্যর চিকিৎসকদের আক্রমণ করল, একজনের খুলি ভেঙে ভেতরে ঢুকিয়ে সহর্ষে ফিরে গেল। প্রতিবাদের পরে তাদের মাত্র ৫ জনকে ধরা হল, ২০০ জনকে দেখা গেলেও ধরা হল না। এমনভাবে কথা বলা হল যে, তারা যেন দেশ বাঁচাতে কার্গিলে যুদ্ধ করতে এসেছিল। এর প্রতিবাদে সারা দেশ, সারা পৃথিবী একসূত্রে বাঁধা হয়ে গেল। ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি ছেড়ে পরিকাঠামোতে সঠিক টাকা দিতে হবে। রোগীদের জানাতে হবে আমাদের কী কী সীমাবদ্ধতা, গাফিলতি আছে, তারপর পরস্পরের সাহায্যে যতটা সম্ভব সঠিক পরিষেবা দিতে হবে। দেশের নীতি-নির্ধারক ও রাজনৈতিক দলের দেউলিয়াপনার ফলে বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যপরিষেবার ব্যাপারে স্বচ্ছতা আনতে হবে এবং ২০০ জনকে হত্যার চেষ্টার আইন অনুসারে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে ভোট ব্যাঙ্কের বিপজ্জনক খেলা ভুলে। আশা রাখি পশ্চিমবঙ্গের এনআরএসে প্রতিবাদ সারা দেশের পরিকাঠামোর সমস্যা সবার সামনে আনার ও এর প্রতিকারে সব রাজনৈতিক দল একে যথাযথ গুরুত্ব দেবে।
 লেখক: ভারতীয় অন্ত্রশল্য চিকিৎসক সংস্থার সহ-সভাপতি
 
21st  June, 2019
৫, ১০, ২০ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে
পি চিদম্বরম

রাজ্যসভায় ২০১৯-২০ বাজেট নিয়ে বক্তব্য রাখার সময় বলেছিলাম, ‘‘যদি জিডিপির স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার ১২ শতাংশ হয় তবে প্রতি ছ’বছরে জিডিপির আকারটা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। আর বৃদ্ধির হারটা যদি নমিনাল ১১ শতাংশ হয় তবে জিডিপি দ্বিগুণ হতে সময় নেবে সাত বছর।
বিশদ

২১ জুলাই সমাবেশ: মমতা কী বার্তা দেন জানতে উৎসুক বাংলা
শুভা দত্ত

ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে প্রতিবছর মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দিনটিতে বড়সড় সমাবেশের আয়োজন করে তাঁর প্রয়াত সহযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
বিশদ

21st  July, 2019
ছোটদের বড় করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

সব থেকে ভালো হয়, যদি আপনার ‘বাছা’কে নিজের মতো বেড়ে উঠতে দেন। আনন্দে বেড়ে উঠুক। আলো চিনিয়ে দিন, অন্ধকার চিনিয়ে দিন। লক্ষ্য রাখুন, ঠিকঠাক এগচ্ছে কি না! সামনে পিছনে কত ফাঁদ, চোরাবালি। আপনিই ঈশ্বর, ওকে রক্ষা করুন। ছোটদের ‘বড়’ করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে। দয়া করে ওর উপর মাতব্বরি করবেন না, হ্যাঁ আমরা মাতব্বরিই করি।
বিশদ

20th  July, 2019
জন্ম এবং মৃত্যুর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি অকস্মাৎ আমার একটি বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। এই উপলক্ষে জগতে সকলের চেয়ে পরিচিত যে মৃত্যু তার সঙ্গে আর-একবার নূতন পরিচয় হল। জগৎটা গায়ের চামড়ার মতো আঁকড়ে ধরেছিল, মাঝখানে কোনো ফাঁক ছিল না। মৃত্যু যখন প্রত্যক্ষ হল তখন সেই জগৎটা যেন কিছু দূরে চলে গেল, আমার সঙ্গে আর যেন সে অত্যন্ত সংলগ্ন হয়ে রইল না।
——— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশদ

20th  July, 2019
অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

19th  July, 2019
বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
ঘোষণা ও বাস্তব
সমৃদ্ধ দত্ত

ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান একটি প্রকল্পই হল নদী সংযোগ প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন নদীকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। যাতে উদ্বৃত্ত জলসম্পন্ন নদী থেকে বাড়তি জল শুকনো নদীতে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বারংবার এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। গোটা প্রকল্প রূপায়ণ করতে অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকা দরকার। এদিকে আবার বুলেট ট্রেন করতেও ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে! আধুনিক রাষ্ট্রে অবশ্যই দুটোই চাই। কিন্তু বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিচার করলে? কোনটা বেশি জরুরি? বিশদ

12th  July, 2019
একনজরে
সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: এবার ‘বুথে চলো’। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বুথস্তর থেকে সংগঠন ঢেলে সাজার ডাক দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু ডাক দিয়েই ক্ষান্ত হননি ...

কলম্বো, ২১ জুলাই: বিশ্বকাপের ফাইনালে ওভার থ্রোয়ে আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনার ৬ রান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। তবে অবশেষে নিজের ভুল স্বীকার করলেন ধর্মসেনা। ঘনিষ্ঠ মহলে শ্রীলঙ্কার আম্পায়ারটি জানিয়েছেন, ‘ওই ওভার থ্রো-তে ৬ রান দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল না। ...

 ওয়াশিংটন, ২১ জুলাই (পিটিআই): ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে আসার পর থেকেই ক্রমশ ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছিল ওয়াশিংটনের। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে না, মূলত এই অভিযোগে তাদের সামরিক সাহায্য করাও বন্ধ করে দেয় আমেরিকা। ...

সংবাদদাতা, কালনা: নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীর বিয়ে রুখলেন স্কুলের শিক্ষিকারা। ঘটনা ঘটেছে কালনার বৈদ্যপুর রাজরাজেশ্বর বালিকা বিদ্যালয়ে। নাবালিকাকে পুলিসের সহযোগিতায় উদ্ধার করা হয়। নাবালিকার পরিবার মেয়ের ১৮বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবে না বলে মুচলেকা দেয়।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীদের বেশি শ্রম দিয়ে পঠন-পাঠন করা দরকার। কোনও সংস্থায় যুক্ত হলে বিদ্যায় বিস্তৃতি ঘটবে। কর্মপ্রার্থীরা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮১৪: সাহিত্যিক প্যারীচাঁদ মিত্রের জন্ম
১৮৪৭: সাহিত্যিক ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯১৮: ভারতের প্রথম যুদ্ধবিমানের পাইলট ইন্দ্রলাল রায়ের মৃত্যু প্রথম বিশ্বযুদ্ধে
১৯২৩: সঙ্গীতশিল্পী মুকেশের জন্ম
১৯৪৮: চিত্রশিল্পী হেমেন্দ্র মজুমদারের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৫ টাকা ৬৯.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৭৭ টাকা ৮৭.৯২ টাকা
ইউরো ৭৬.১০ টাকা ৭৯.০৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
20th  July, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৫২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৭০৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৪,২১০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৫৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৬৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
21st  July, 2019

দিন পঞ্জিকা

৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ২২ জুলাই ২০১৯, সোমবার, পঞ্চমী ২২/২২ দিবা ২/৪। পূর্বভাদ্রপদ ১৩/১৩ দিবা ১০/২৪। সূ উ ৫/৭/১৮, অ ৬/১৮/৩৬, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৩ মধ্যে পুনঃ ১০/২৪ গতে ১/২ মধ্যে। রাত্রি ৭/১ গতে ৯/১১ মধ্যে পুনঃ ১১/২১ গতে ২/১৪ মধ্যে, বারবেলা ৬/৪৬ গতে ৮/২৫ মধ্যে পুনঃ ৩/১ গতে ৪/৪০ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/২২ গতে ১১/৪৩ মধ্যে। 
৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ২২ জুলাই ২০১৯, সোমবার, পঞ্চমী ১৪/২০/৫৯ দিবা ১০/৫০/২১। পূর্বভাদ্রপদনক্ষত্র ৮/২৮/৩৩ দিবা ৮/২৯/২২, সূ উ ৫/৫/৫৭, অ ৬/২১/৩৯, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৬ মধ্যে ও ১০/২৪ গতে ১/০ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৫৬ গতে ৯/৮ মধ্যে ও ১১/২০ গতে ২/১৬ মধ্যে, বারবেলা ৩/২/৪৩ গতে ৪/৪২/১১ মধ্যে, কালবেলা ৬/৪৫/২৫ গতে ৮/২৪/৫২ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/২৩/১৬ গতে ১১/৪৩/৪৮ মধ্যে। 
১৮ জেল্কদ 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
  সল্টলেকের বিএসএনএল-এর অফিসে আগুন
সল্টলেকের ১৩ নম্বর ট্যাঙ্কের বিএসএন এল-এর নোভাল সেন্টারে আগুন লেগেছে। ...বিশদ

09:50:50 PM

বরানগর জুট মিলে আগুন, অকুস্থলে দমকলের ৪টি ইঞ্জিন 

07:18:32 PM

কালিকাপুরে সোনার গয়না চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার পরিচারিকা 

06:20:00 PM

মহেশতলায় দুটি গাড়ির সংঘর্ষ, আহত ৬ 
অটো এবং ৪০৭ গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ছ’জন। জানা গিয়েছে, ...বিশদ

06:18:00 PM

ফুলশয্যার দিনেই আত্মঘাতী গৃহবধু 
ফুলশয্যার দিনেই আত্মঘাতী হলেন এক গৃহবধু। মৃতার নাম প্রিয়াঙ্কা সর্দার ...বিশদ

06:05:00 PM

বজবজ ফাঁড়ির কাছে পচাগলা দেহ উদ্ধার
 

পচাগলা দেহ উদ্ধার হলো বজবজ ফাঁড়ির সংলগ্ন এলাকায়। এই ঘটনায় ...বিশদ

05:34:26 PM