Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ক্ষমতার ‘হিন্দি’ মিডিয়াম
শান্তনু দত্তগুপ্ত

দৃশ্যটা ‘চক দে ইন্ডিয়া’ ছবির। মহিলাদের জাতীয় হকি শিবিরে যোগ দিতে আসছেন খেলোয়াড়রা। স্টেডিয়ামে ঢোকার সময় নাম লেখা চলছে।
—‘নাম?’
—‘নেত্রা রেড্ডি।’
—‘মাদ্রাজি?’
—‘তেলুগু।’
—‘তামিল!’
—‘তামিল না, তেলুগু।’
—‘ওই হল, তামিল আর তেলুগুতে কী আর পার্থক্য?’
—‘যতটা পাঞ্জাবি আর বিহারির মধ্যে।’
উত্তর ভারতের সঙ্গে দক্ষিণের সীমারেখা। আর তার কারিগর আমরাই। আমাদের কাছে সাউথ ইন্ডিয়ান মানে মাদ্রাজি। দক্ষিণ ভারতের লোকজন নারকেল তেল খায়, অদ্ভুত ওদের উচ্চারণ, লুঙ্গি পরে বিয়েবাড়ি যায়... হাজারো আলোচনা। উত্তর ভারত মানে বিষম একটা নাক উঁচু ব্যাপার। আর দক্ষিণ মানেই রসিকতার খোরাক। তাই ওদের একটু ‘মানুষ’ করা দরকার। কীভাবে সেটা সম্ভব? হিন্দি শেখাতে হবে। ছোটবেলা থেকেই। দক্ষিণ ভারতের লোকজন হিন্দি তখনই পড়বে, যখন সেই ভাষা স্কুলে বাধ্যতামূলক হবে। ব্যাস! হাতিয়ার—ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি, ২০১৯। খসড়ায় ঘোষণা হল, তিনটি ভাষা ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়তে হবে। সেগুলির মধ্যে হিন্দি ও ইংরেজি আবশ্যিক। তিন নম্বরটি যে কোনও আঞ্চলিক ভাষা। দ্বিতীয় ইনিংসের সূচনা থেকেই খানিক চালিয়ে খেলার ভাবনা হয়তো মোদির ছিল। তাঁর স্লোগানে আবার গত ভোট থেকে একটা মডিফিকেশন এসেছে। এখন আর ‘সব কা সাথ, সব কা বিকাশ নয়’, এই মুহূর্তে ‘সব কা সাথ, সব কা বিশ্বাস’। উন্নয়ন চাই। সংস্কার চাই। এখন প্রশ্ন হল, বলিউডের সৌজন্যে বিশ্বজনীন হয়ে ওঠা হিন্দি ভাষাকে গোটা দেশের উপর চাপিয়ে দেওয়াটা আদৌ কি সংস্কারের আওতায় পড়ে? পড়লে তা কী ধরনের সংস্কার? সামাজিক? নিন্দুকে কিন্তু এর নেপথ্যে পুরোপুরি রাজনৈতিক হাওয়া দেখছে। একজন বাঙালির সঙ্গে বিহারের বাসিন্দার যা তফাৎ, একই পার্থক্য তামিলের সঙ্গে তেলুগুর বা কন্নড়ের। অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, কেরল... সব তো আলাদা রাজ্য। আমরা ঐক্যের কথা বলি, কিন্তু বৈচিত্র্যকে বা জাত্যাভিমানকে সম্মান করি না। ২০০১ সালের সেনসাস অনুযায়ী, আমাদের দেশে ১৬৩৫টি মাতৃভাষা রয়েছে। ১২২টি এমন ভাষা আছে, যা লিপিবদ্ধ করা হয়। এমন এক দেশে একটি মাত্র ভাষাকে অধিক গুরুত্ব দিতে গেলে সেই প্রচেষ্টা ভাবাবেগে আঘাত করতে বাধ্য। মোদি সরকারের অতীত এবং বর্তমান, দুই পাল্লায় ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসির খসড়াটিকে বসালে একটা বিষয় অবশ্যই স্পষ্ট হয়ে যেত... উত্তর ভারতের হিন্দিভাষী রাজ্যগুলি ছাড়া অনেকেই কিন্তু এই ‘চাপিয়ে দেওয়া’ নীতি মানবে না। আর হয়েছেও তাই। শুধু একটা খসড়া, আর তাতেই বিস্ফোরণ ঘটেছে দক্ষিণ থেকে পূর্ব ভারতে। নেতৃত্ব দিয়েছে অবশ্যই দক্ষিণ। হিন্দিকে সরকারি ভাষার স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিহাস কিন্তু কখনও সরকারের সঙ্গ দেয়নি।
* * *
মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি। ১৯৩৭ সাল। নির্বাচনে জিতে এসেছে কংগ্রেস। সদ্য মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন রাজা গোপালাচারী। শাসনের এলাকা নেহাত কম নয়... গোটা তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশা, কর্ণাটক, কেরলের অংশবিশেষ। পাশাপাশি রয়েছে লাক্ষাদ্বীপও। ওই বছর ৬ মে ‘সুদেশমিত্রণ’ পত্রিকায় একটি নিবন্ধ লিখলেন রাজা গোপালাচারী। বিষয়, হিন্দি ভাষা। লিখলেন, সরকারি চাকরি সীমিত। সবার পক্ষে পাওয়া সম্ভব নয়। সুতরাং অন্য চাকরির জন্য আমাদের চেষ্টা করতেই হবে। চাকরি হোক বা ব্যবসা, হিন্দি জানাটা অত্যন্ত জরুরি। দক্ষিণ ভারতীয়রা হিন্দি শিখলে দেশের অন্যত্র সম্মান পাবেন।’ ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যে মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির সর্বত্র স্কুলগুলিতে হিন্দি পড়ানো বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিলেন রাজাজি। আগুনে ঘৃতাহুতির সেই সূচনা। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদে নেমে পড়েছিলেন পেরিয়ার। প্রকৃত নাম ই ভি রামস্বামী। সমাজ সংস্কারক তথা রাজনীতিবিদ। ততদিনে তিনি কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন। অভিযোগ গুরুতর... কংগ্রেস শুধুই উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণদের তাঁবেদারি করে। পেরিয়ার ছিলেন যার ঘোর বিরোধী। কেরলের ভাইকমে সত্যাগ্রহও করেছেন। স্বাভিমান আন্দোলনের জনক এবং জাতপাতের তীব্র বিরোধী পেরিয়ার যখন সরাসরি গোপালাচারীর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হতেই কংগ্রেস বুঝে গিয়েছিল, পথ কঠিন হতে চলেছে। তার সঙ্গে আবার দাঁড়িয়ে গিয়েছে জাস্টিস পার্টি। যাদের পরে নির্বাচনী রাজনীতি থেকে সরিয়ে পেরিয়ার রূপ দেন এক সামাজিক সংগঠনের—দ্রাবিড়ার কাজাঘাম। ভবিষ্যতে এই জাস্টিস পার্টি এবং দ্রাবিড়ার কাজাঘামের আদর্শ থেকেই জন্ম হয় ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের। সরকারিভাবে আন্দোলনের সূত্রপাত হয় ১৯৩৭ সালের ৪ অক্টোবর। তা সত্ত্বেও অবস্থানে অনড় থেকে পরের বছর ২১ এপ্রিল সরকারি নির্দেশিকা জারি করে দিলেন রাজাজি। প্রেসিডেন্সির ১২৫টি স্কুলে বাধ্যতামূলক হল হিন্দি পঠন-পাঠন। তামিল অবমাননা এবং হিন্দি ভাষার অবাঞ্ছিত ওকালতির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠল গোটা দক্ষিণ ভারত। বিক্ষোভ, অনশন, কালো পতাকায় হিন্দি বিরোধিতা চরম পর্যায়ে পৌঁছয়। তিন বছর চলে প্রতিবাদ। দু’জনের মৃত্যু এবং পেরিয়ার সহ ১২০০ মানুষকে কারাবন্দি করার পর হিন্দির নির্দেশিকা বাতিলে বাধ্য হয় সরকার। এরপর ’৬৫ সালে সংবিধানের ১৫ বছর পূর্তির পর হিন্দিকে সরকারি ভাষার স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে ফের উত্তাল হয় দক্ষিণ ভারত। মাদুরাইতে রীতিমতো দাঙ্গাও হয়ে যায় এই ইস্যুতে। শেষে প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রী ঘোষণা করেন, ইংরেজিই ভারতের সরকারি কাজে ব্যবহৃত হবে। তারপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
* * *
রাজাজির না হয় একটা স্পষ্ট বার্তা ছিল, হিন্দি শিখলে চাকরি পেতে সুবিধা হবে। কিন্তু এখন তো আর সে সমস্যা নেই! হিন্দি না শিখলেও ভারতের বহু প্রান্তে অনায়াসে চাকরি-বাকরি জুটে যায়। তাহলে ক্ষমতায় ফেরা মাত্র এমন একটা মিসঅ্যাডভেঞ্চারের মানে কী? প্রাথমিকভাবে জানানো হল, ক্লাস এইট পর্যন্ত তিনটি ভাষা শিখতেই হবে। হিন্দি, ইংরেজি এবং অন্য যে কোনও একটি স্থানীয় ভাষা। ১৯৬৫ সালে সাংবিধানিকভাবে হিন্দিকে সরকারি ভাষার স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা যে ধাক্কা খেয়েছিল, তা তো আর বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকারের অজানা নয়! তখন তো তাও আবার কেন্দ্রে ছিল মহাপরাক্রমী কংগ্রেস। পরপর দু’দফায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিতে আসা নরেন্দ্র মোদি নিজেকে সর্বকালের অন্যতম সেরা অকংগ্রেসি নেতা হিসেবে প্রমাণ করেছেন ঠিকই, তাতে কিন্তু ভারতের ‘বৈচিত্র্যে’র বাস্তবটা বদলে যায়নি। পরিস্থিতি এমন একটা দিকে গড়াল যে, নরেন্দ্র মোদিকে তাঁর দুই হাইপ্রোফাইল মন্ত্রী অর্থাৎ নির্মলা সীতারামন এবং জয়শঙ্করকে দিয়ে বিবৃতি দেওয়াতে হল (দু’জনেই দক্ষিণী)। এক সুরে তাঁরা লিখলেন, সবকিছু যাচাই না করা পর্যন্ত এই খসড়া নীতি চূড়ান্ত করা হবে না। যেখানে একটু বাস্তববাদী হলে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাই ছিল না। বাস্তববাদী অবশ্য আমরা সেই অর্থে কেউই নই। খসড়া দেখে সংশ্লিষ্ট কমিটির জন্যও তেমন কিছু বিশেষণ ব্যবহার করা যায় না। ইসরোর নামজাদা বিজ্ঞানী এবং শিক্ষানীতি নির্ধারক ওই প্যানেলের চেয়ারম্যান কৃষ্ণস্বামী কস্তুরীরঙ্গন তার উপর দাবি করেছেন, হিন্দি পড়া বাধ্যতামূলক করার জন্য যে সুপারিশ, সে ব্যাপারে কোনও চাপ কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। এমনকী তাঁর কমিটির বানানো খসড়া নীতি নিয়ে দিকে দিকে এমন হইচই শুরু হয়েছে, সেটাও নাকি কেউ ফোন করে তাঁকে জানায়নি। খবর দেখে তিনি জানতে পারেন, বিষয়টাকে অনেকেই ভালোভাবে নিচ্ছে না। তাই তড়িঘড়ি বৈঠক করে একটা বিকল্প ভার্সান দেওয়া হয়েছে। তাতে হিন্দি শব্দটিকে তুলে দিয়ে শুধু ভাষার উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ, অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত হিন্দি শিখতেই হবে, এমনটা আর নেই।
নরেন্দ্র মোদি গত পাঁচ বছরে একবারও কিন্তু হিন্দুধর্ম বা আরএসএস-বিজেপির হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা নিয়ে মুখ খোলেননি! কারণটা স্পষ্ট। প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে তিনি বিলক্ষণ জানেন, হিন্দুত্ব তাঁকে সরকারে টিকিয়ে রাখবে না। এটা তাঁর দলের আদর্শ হতে পারে, কিন্তু সরকার চালানোর ক্ষেত্রে এর কোনও বাড়তি ডিভিডেন্ড নেই। বরং অর্থনৈতিক এবং সংস্কারী পদক্ষেপ তাঁকে নতুন প্রজন্মের কাছে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য করে তুলবে। তাহলে নতুন সরকার গঠন হতে না হতেই ‘হিন্দিস্তান’ জিগির উঠল কেন? তাহলে কি আরএসএস এবং বিজেপির একাংশ অতিরিক্ত প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে? মোদির প্রথম জমানাতেও লাভ জিহাদ, গো রক্ষার নামে হিংসা, ঘর ওয়াপসি হয়েছে। সে সব নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। তা সত্ত্বেও তিনি শুধু প্রশাসনিক আঙ্গিকেই বিষয়গুলিকে সামাল দিয়েছেন। দলীয় নেতা হিসেবে নয়। এটাই মোদির সাফল্য ছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে কিন্তু বিজেপি বদলে গিয়েছে মোদি জনতা পার্টিতে। অর্থাৎ, হাওয়ায় পাতা নড়লেও তার দায় মোদিকে নিতে হবে। কেউ দেখবে না, বিজেপির কোনও অংশ বা তাদের চালিকাশক্তি আরএসএস তাঁর কোনও সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে কি না। কাজেই হিন্দি ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার মতো মিসঅ্যাডভেঞ্চার আর না হলেই ভালো। হিন্দির যদি শ’দুয়েক বছরের ইতিহাস থাকে, তামিলের অতীত কিন্তু চার হাজার বছরের। তার গুরুত্ব খাটো করা যায় না। প্রধানমন্ত্রীকে আরও একটা বিষয়ে নজর দিতে হবে। তাঁর সৈনিক এবং সেনাপতিদের বক্তব্যে। রাজ্যপাল হওয়া সত্ত্বেও তথাগত রায় বলেছেন, বাঙালি মেয়েরা যদি মুম্বইতে গিয়ে ডান্স বারে নাচতে পারে, তাহলে হিন্দি শিখতে সমস্যা কোথায়? হিন্দি ভাষা কিন্তু হিন্দুত্বের প্রতীক নয়। সনাতন ধর্মের ধারক-বাহক নয়। যুগের পর যুগ ধরে ভারতের নানা প্রান্তে সনাতন ধর্ম এক এক রূপে মানুষের আত্মায় জায়গা করে রয়েছে। তার কোনও নির্দিষ্ট প্যাটার্ন নেই। ‘চক দে ইন্ডিয়া’ ছবিতেই একটা দৃশ্য ছিল, যেখানে সব হকি খেলোয়াড় নিজেদের পরিচয় দিচ্ছিলেন। বাকিরা সবাই নিজেদের রাজ্যের নাম বললেও শুধুমাত্র একজন এগিয়ে এসে বলেছিলেন, তিনি ভারতীয়। এটাই শেষ কথা। কোনও ধর্ম বা রাজ্য বা ভাষার নয়, সরকার ভারতের। আপামর ভারতবাসী নরেন্দ্র মোদিকে মাথায় তুলে ফের দিল্লির মসনদে বসিয়েছে। কোনও ভাষার জন্য নয়। ধর্মের জন্য নয়। তাঁরও পরিচয় একটাই হওয়া উচিত... ভারতবাসী।
13th  June, 2019
এনআরসি, সংখ্যালঘু ভোট ও বিজেপি
তন্ময় মল্লিক

‘এবার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের আরও বেশি করে বিজেপির ছাতার তলায় নিয়ে আসতে হবে। সেই মতো গ্রহণ করতে হবে যাবতীয় কর্মসূচি।’ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই বিজেপির বঙ্গ নেতৃত্বকে এই কথাগুলি যিনি বলেছিলেন তিনি আর কেউ নন, ‘গেরুয়া শিবিরের চাণক্য’ অমিত শাহ।
বিশদ

সরকারি চাকরির মোহে আবিষ্ট সমাজ
অতনু বিশ্বাস

সমাজ বদলাবে আরও। আমি বা আপনি চাইলেও, কিংবা গভীরভাবে বিরোধিতা করলেও। সরকারি বা আধা-সরকারি চাকরির নিরাপত্তার চক্রব্যূহ ক্রমশ ভঙ্গুর হয়ে পড়বে আরও অনেকটা। এবং দ্রুতগতিতে। গোটা পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ এক প্রকারের ভবিতব্যই। একসময় আমরা দেখব, চাকরি বাঁচাতে গড়পড়তা সরকারি চাকুরেদেরও খাটতে হচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরেদের মতো। সরকারি চাকরির নিশ্চিন্ত আশ্রয়ের নিরাপত্তার ‘মিথ’ ভেঙে চুরচুর হয়ে পড়বে। এবং সে-পথ ধরেই ক্রমে বিদায় নেবে পাত্রপাত্রী চাই-য়ের বিজ্ঞাপন থেকে ‘সঃ চাঃ’ নামক অ্যাক্রোনিম।
বিশদ

আলোচনার অভিমুখ
সমৃদ্ধ দত্ত

 প্রাচীন বিশ্বের বিভিন্ন সভ্যতায় দেখা যায় সম্রাটরা অসীম ক্ষমতার অধিকারী প্রমাণ করার জন্য অতি প্রাকৃতিক শক্তি সম্পন্ন হিসেবে নিজেদের প্রতিভাত করতেন। এর ফলে প্রজা শুধু সম্রাটকে যে মান্য করত তাই নয়, ভয়ও পেত, সমীহ করত। প্রাচীন মিশরে শতাব্দীর পর শতাব্দীর ধরে ফারাওরা নিজেদেরই ঈশ্বর হিসেবে ঘোষণা করতেন।
বিশদ

20th  September, 2019
হিন্দু বাঙালির বাড়ি ভাঙছে, হারাচ্ছে দেশ 
শুভময় মৈত্র

জয় গৃহশিক্ষকতা করেন, বাড়ি সিঁথি মোড়ের কাছে, বরানগরে। নিজেদের তিরিশ বছরের পুরনো বাড়ি, সারানোর প্রয়োজন। একান্নবর্তী পরিবার, দাদা বড় ইঞ্জিনিয়ার। তিনি আর একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন কাছেই। 
বিশদ

20th  September, 2019
বাংলায় এনআরসি বিজেপির স্বপ্নের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে না তো 
মেরুনীল দাশগুপ্ত

লোকসভা ভোটে অপ্রত্যাশিত ফলের পর বাংলার বিজেপি রাজনীতিতে যে জমকালো ভাবটা জেগেছিল সেটা কি খানিকটা ফিকে হয়ে পড়েছে? পুজোর মুখে এমন একটা প্রশ্ন কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের আমজনতার মধ্যে ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে। 
বিশদ

19th  September, 2019
জন্মদিনে এক অসাধারণ নেতাকে কুর্নিশ
অমিত শাহ

 আজ, মঙ্গলবার আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৬৯তম জন্মদিন। অল্প বয়স থেকেই মোদিজি নিজেকে দেশের সেবায় উৎসর্গ করেছেন। যৌবন থেকেই তাঁর মধ্যে পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর উন্নয়নে কাজের একটি প্রবণতা লক্ষ করা যায়। দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণের কারণে মোদিজির শৈশবটা খুব সুখের ছিল না। বিশদ

17th  September, 2019
ব্যাঙ্ক-সংযুক্তিকরণ কতটা সাধারণ মানুষ এবং সামগ্রিক ব্যাঙ্কব্যবস্থার উন্নতির স্বার্থে?
সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়

অনেকগুলি ব্যাঙ্ক সংযুক্ত করে দেশে সরকারি ব্যাঙ্কের সংখ্যা কমিয়ে আনা হল আর সংযুক্তির পর চারটি এমন বেশ বড় ব্যাঙ্ক তৈরি হল, আকার আয়তনে সেগুলিকে খুব বড় মাপের ব্যাঙ্কের তকমা দেওয়া যাবে। এসব ঘোষণার পর অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য, এতে দেশের অর্থনীতির খুব উপকার হবে।  
বিশদ

16th  September, 2019
রাজনীতির উত্তাপ কি পুজোর আমেজ
জমে ওঠার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে?
শুভা দত্ত

 পরিস্থিতি যা তাতে এমন কথা উঠলে আশ্চর্যের কিছু নেই। উঠতেই পারে, উঠছেও। বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসবের মুখে প্রায় প্রতিদিনই যদি কিছু না কিছু নিয়ে নগরী মহানগরীর রাজপথে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে, পুলিস জলকামান, লাঠিসোঁটা, কাঁদানে গ্যাস, ইটবৃষ্টি, মারদাঙ্গা, রক্তারক্তিতে যদি প্রায় যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং তাতে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনজীবন ব্যবসাপত্তর উৎসবের মরশুমি বাজার কিছু সময়ের জন্য বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তবে এমন কথা এমন প্রশ্ন ওঠাই তো স্বাভাবিক।
বিশদ

15th  September, 2019
আমেরিকায় মধ্যবয়সের
সঙ্গী সোশ্যাল মিডিয়া
আলোলিকা মুখোপাধ্যায়

যে বয়সে পৌঁছে দূরের আত্মীয়স্বজন ও পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ক্রমশ আগের মতো সম্ভব হয় না, সেই প্রৌঢ় ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধার জীবনে ইন্টারনেট এক প্রয়োজনীয় ভূমিকা নিয়েছে। প্রয়োজনীয় এই কারণে যে, নিঃসঙ্গতা এমন এক উপসর্গ যা বয়স্ক মানুষদের শরীর ও মনের উপর প্রভাব ফেলে। বিশদ

14th  September, 2019
মোদি সরকারের অভূতপূর্ব কাশ্মীর পদক্ষেপ পরবর্তী ভারতীয় কূটনীতির সাফল্য-ব্যর্থতা
গৌরীশঙ্কর নাগ

 এই অবস্থায় এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ৩৭০ ধারা বিলোপ পর্বের প্রাথমিক অবস্থাটা আমরা অত্যন্ত উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছি।
বিশদ

14th  September, 2019
ব্যর্থতা নয়, অভিনন্দনই
প্রাপ্য ইসরোর বিজ্ঞানীদের
মৃণালকান্তি দাস

 কালামের জেদেই ভেঙে পড়েছিল ইসরোর রোহিনী। না, তারপরেও এ পি জে আব্দুল কালামকে সে দিন ‘ফায়ার’ করেননি ইসরোর তদানীন্তন চেয়ারম্যান সতীশ ধাওয়ান! বলেননি, ‘দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল কালামকে’! তার এক বছরের মধ্যেই ধরা দিয়েছিল সাফল্য। ধাওয়ানের নির্দেশে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন সেই কালাম-ই। তাঁর কথায়, ‘ওই দিন আমি খুব গুরুত্বপূর্ণ পাঠ পেয়েছিলাম। ব্যর্থতা এলে তার দায় সংস্থার প্রধানের। কিন্তু,সাফল্য পেলে তা দলের সকলের। এটা কোনও পুঁথি পড়ে আমাকে শিখতে হয়নি। এটা অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত।’ বিশদ

13th  September, 2019
রাষ্ট্রহীনতার যন্ত্রণা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভিক্টর নাভরস্কি নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে আবিষ্কার করলেন, তিনি আচমকাই ‘রাষ্ট্রহীন’ হয়ে পড়েছেন। কারণ, তাঁর দেশ ক্রাকোজিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলির কাছে মানবিকতার নিরিখে ক্রাকোজিয়ার আর কোনও ‘অস্তিত্ব’ নেই।
বিশদ

10th  September, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, ঘাটাল: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির সংসদ সদস্য বাবুল সুপ্রিয়কে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হেনস্তার প্রতিবাদে শুক্রবার দুপুরে দাসপুর থানার গৌরা বাসস্টপে বিজেপি পথ অবরোধ করে।  ...

বিএনএ, রায়গঞ্জ: দুই শিক্ষাকর্মীর বদলির প্রতিবাদে ছাত্র আন্দোলনে শুক্রবার উত্তাল হল রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অঙ্ক ও কম্পিউটার অ্যান্ড ইনফর্মেশন সায়েন্স বিভাগের সামনে কয়েকশ’ ছাত্রছাত্রী ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি, ২০ সেপ্টেম্বর: চলতি ২০১৯-২০ আর্থিক বছরে দেশের মাইক্রো-ফিনান্স ইন্ডাস্ট্রি ২ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকার গণ্ডি অতিক্রম করবে। স্ব-ধন ‘ভারত মাইক্রো-ফিনান্স রিপোর্ট, ২০১৯’-এ প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য। ...

 ওয়াশিংটন, ২০ সেপ্টেম্বর (পিটিআই): আমেরিকার রাস্তায় ফের প্রকাশ্যে বন্দুকবাজের তাণ্ডব। গুলিতে একজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও পাঁচজন জখম হয়েছেন। পুলিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ১০টা নাগাদ কলম্বিয়া হাইটস এলাকায় ওই ঘটনা ঘটেছে। জায়গাটি হোয়াইট হাউস থেকে খুব বেশি দূরে নয় বলেও ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শরীর ভালো যাবে না। সাংসারিক কলহবৃদ্ধি। প্রেমে সফলতা। শত্রুর সঙ্গে সন্তোষজনক সমঝোতা। সন্তানের সাফল্যে মানসিক ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস
১৮৬৬: ব্রিটিশ সাংবাদিক, ঐতিহাসিক ও লেখক এইচ জি ওয়েলসের জন্ম
১৯৩৪: জাপানের হনসুতে টাইফুনের তাণ্ডব, মৃত ৩ হাজার ৩৬ জন
১৯৪৭: মার্কিন লেখক স্টিফেন কিংয়ের জন্ম
১৯৭৯: ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার ক্রিস গেইলের জন্ম
১৯৮০: অভিনেত্রী করিনা কাপুর খানের জন্ম
১৯৮১: অভিনেত্রী রিমি সেনের জন্ম
১৯৯৩: সংবিধানকে অস্বীকার করে রাশিয়ায় সাংবিধানিক সংকট তৈরি করলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিন
২০০৭: রিজওয়ানুর রহমানের মৃত্যু
২০১৩: কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে ওয়েস্ট গেট শপিং মলে জঙ্গি হামলা, নিহত কমপক্ষে ৬৭

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.১৯ টাকা ৭২.৭০ টাকা
পাউন্ড ৮৬.৪৪ টাকা ৯১.১২ টাকা
ইউরো ৭৬.২৬ টাকা ৮০.৩৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৭,৯৯০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,০৪৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৫৮৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৫,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৪ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শনিবার, সপ্তমী ৩৭/১২ রাত্রি ৮/২১। রোহিণী ১৪/৪৩ দিবা ১১/২২। সূ উ ৫/২৮/২৩, অ ৫/৩১/৪০, অমৃতযোগ দিবা ৬/১৬ মধ্যে পুনঃ ৭/৪ গতে ৯/২৯ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৪ গতে ৩/৬ মধ্যে পুনঃ ৩/৫৫ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ১২/৪১ গতে ২/১৭ মধ্যে, বারবেলা ৬/৫৯ মধ্যে পুনঃ ১/০ গতে ২/৩০ মধ্যে পুনঃ ৪/০ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ৭/১ মধ্যে পুনঃ ৩/৫৯ গতে উদয়াবধি।
৩ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শনিবার, সপ্তমী ২৫/২২/২১ দিবা ৩/৩৭/৫। রোহিণী ৭/১/২৪ দিবা ৮/১৬/৪৩, সূ উ ৫/২৮/৯, অ ৫/৩৩/২৯, অমৃতযোগ দিবা ৬/২০ মধ্যে ও ৭/৭ গতে ৯/২৯ মধ্যে ও ১১/৪৮ গতে ২/৫৫ মধ্যে ও ৩/৪২ গতে ৫/৩৩ মধ্যে এবং রাত্রি ১২/৩৮ গতে ২/১৭ মধ্যে, বারবেলা ১/১/২৯ গতে ২/৩২/৯ মধ্যে, কালবেলা ৬/৫৮/৪৯ মধ্যে ও ৪/২/৪৯ গতে ৫/৩৩/২৯ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/২/৪৯ মধ্যে ও ৩/৫৮/৪৯ গতে ৫/২৮/২৮ মধ্যে।
২১ মহরম

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
কেবিসিতে রামায়ণ নিয়ে সহজ প্রশ্নে হোঁচট, হাসির খোরাক সোনাক্ষী 
কার জন্য সঞ্জীবনী বুটি এনেছিলেন হনুমান? একেবারেই সহজ প্রশ্ন। কিন্তু, ...বিশদ

02:26:47 PM

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়: আচার্যর সঙ্গে ফ্যাকাল্টি সদস্যদের মুখোমুখি আলোচনার প্রস্তাব উপাচার্যের 
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পঠনপাঠনের পরিবেশ ফেরানো সহ একাধিক বিষয়ে উৎকর্ষবৃদ্ধির জন্য ...বিশদ

02:13:25 PM

বাঁকুড়ায় বধূকে গণধর্ষণের অভিযোগে ধৃত ২ 

01:49:43 PM

রাজীব কুমারের খোঁজে ভবানী ভবনে হানা সিবিআইয়ের 

01:10:16 PM

‘সংবেদনশীলতা আর যত্নের মাধ্যমে আমরা অনেকের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারি’, বিশ্ব অ্যালজাইমার দিবস উপলক্ষে ট্যুইট মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 

12:48:00 PM

২১ অক্টোবর মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানায় ভোট, গণনা ২৪ অক্টোবর 

12:33:04 PM