Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ক্ষমতার ‘হিন্দি’ মিডিয়াম
শান্তনু দত্তগুপ্ত

দৃশ্যটা ‘চক দে ইন্ডিয়া’ ছবির। মহিলাদের জাতীয় হকি শিবিরে যোগ দিতে আসছেন খেলোয়াড়রা। স্টেডিয়ামে ঢোকার সময় নাম লেখা চলছে।
—‘নাম?’
—‘নেত্রা রেড্ডি।’
—‘মাদ্রাজি?’
—‘তেলুগু।’
—‘তামিল!’
—‘তামিল না, তেলুগু।’
—‘ওই হল, তামিল আর তেলুগুতে কী আর পার্থক্য?’
—‘যতটা পাঞ্জাবি আর বিহারির মধ্যে।’
উত্তর ভারতের সঙ্গে দক্ষিণের সীমারেখা। আর তার কারিগর আমরাই। আমাদের কাছে সাউথ ইন্ডিয়ান মানে মাদ্রাজি। দক্ষিণ ভারতের লোকজন নারকেল তেল খায়, অদ্ভুত ওদের উচ্চারণ, লুঙ্গি পরে বিয়েবাড়ি যায়... হাজারো আলোচনা। উত্তর ভারত মানে বিষম একটা নাক উঁচু ব্যাপার। আর দক্ষিণ মানেই রসিকতার খোরাক। তাই ওদের একটু ‘মানুষ’ করা দরকার। কীভাবে সেটা সম্ভব? হিন্দি শেখাতে হবে। ছোটবেলা থেকেই। দক্ষিণ ভারতের লোকজন হিন্দি তখনই পড়বে, যখন সেই ভাষা স্কুলে বাধ্যতামূলক হবে। ব্যাস! হাতিয়ার—ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি, ২০১৯। খসড়ায় ঘোষণা হল, তিনটি ভাষা ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়তে হবে। সেগুলির মধ্যে হিন্দি ও ইংরেজি আবশ্যিক। তিন নম্বরটি যে কোনও আঞ্চলিক ভাষা। দ্বিতীয় ইনিংসের সূচনা থেকেই খানিক চালিয়ে খেলার ভাবনা হয়তো মোদির ছিল। তাঁর স্লোগানে আবার গত ভোট থেকে একটা মডিফিকেশন এসেছে। এখন আর ‘সব কা সাথ, সব কা বিকাশ নয়’, এই মুহূর্তে ‘সব কা সাথ, সব কা বিশ্বাস’। উন্নয়ন চাই। সংস্কার চাই। এখন প্রশ্ন হল, বলিউডের সৌজন্যে বিশ্বজনীন হয়ে ওঠা হিন্দি ভাষাকে গোটা দেশের উপর চাপিয়ে দেওয়াটা আদৌ কি সংস্কারের আওতায় পড়ে? পড়লে তা কী ধরনের সংস্কার? সামাজিক? নিন্দুকে কিন্তু এর নেপথ্যে পুরোপুরি রাজনৈতিক হাওয়া দেখছে। একজন বাঙালির সঙ্গে বিহারের বাসিন্দার যা তফাৎ, একই পার্থক্য তামিলের সঙ্গে তেলুগুর বা কন্নড়ের। অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, কেরল... সব তো আলাদা রাজ্য। আমরা ঐক্যের কথা বলি, কিন্তু বৈচিত্র্যকে বা জাত্যাভিমানকে সম্মান করি না। ২০০১ সালের সেনসাস অনুযায়ী, আমাদের দেশে ১৬৩৫টি মাতৃভাষা রয়েছে। ১২২টি এমন ভাষা আছে, যা লিপিবদ্ধ করা হয়। এমন এক দেশে একটি মাত্র ভাষাকে অধিক গুরুত্ব দিতে গেলে সেই প্রচেষ্টা ভাবাবেগে আঘাত করতে বাধ্য। মোদি সরকারের অতীত এবং বর্তমান, দুই পাল্লায় ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসির খসড়াটিকে বসালে একটা বিষয় অবশ্যই স্পষ্ট হয়ে যেত... উত্তর ভারতের হিন্দিভাষী রাজ্যগুলি ছাড়া অনেকেই কিন্তু এই ‘চাপিয়ে দেওয়া’ নীতি মানবে না। আর হয়েছেও তাই। শুধু একটা খসড়া, আর তাতেই বিস্ফোরণ ঘটেছে দক্ষিণ থেকে পূর্ব ভারতে। নেতৃত্ব দিয়েছে অবশ্যই দক্ষিণ। হিন্দিকে সরকারি ভাষার স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিহাস কিন্তু কখনও সরকারের সঙ্গ দেয়নি।
* * *
মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি। ১৯৩৭ সাল। নির্বাচনে জিতে এসেছে কংগ্রেস। সদ্য মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন রাজা গোপালাচারী। শাসনের এলাকা নেহাত কম নয়... গোটা তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশা, কর্ণাটক, কেরলের অংশবিশেষ। পাশাপাশি রয়েছে লাক্ষাদ্বীপও। ওই বছর ৬ মে ‘সুদেশমিত্রণ’ পত্রিকায় একটি নিবন্ধ লিখলেন রাজা গোপালাচারী। বিষয়, হিন্দি ভাষা। লিখলেন, সরকারি চাকরি সীমিত। সবার পক্ষে পাওয়া সম্ভব নয়। সুতরাং অন্য চাকরির জন্য আমাদের চেষ্টা করতেই হবে। চাকরি হোক বা ব্যবসা, হিন্দি জানাটা অত্যন্ত জরুরি। দক্ষিণ ভারতীয়রা হিন্দি শিখলে দেশের অন্যত্র সম্মান পাবেন।’ ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যে মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির সর্বত্র স্কুলগুলিতে হিন্দি পড়ানো বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিলেন রাজাজি। আগুনে ঘৃতাহুতির সেই সূচনা। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদে নেমে পড়েছিলেন পেরিয়ার। প্রকৃত নাম ই ভি রামস্বামী। সমাজ সংস্কারক তথা রাজনীতিবিদ। ততদিনে তিনি কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন। অভিযোগ গুরুতর... কংগ্রেস শুধুই উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণদের তাঁবেদারি করে। পেরিয়ার ছিলেন যার ঘোর বিরোধী। কেরলের ভাইকমে সত্যাগ্রহও করেছেন। স্বাভিমান আন্দোলনের জনক এবং জাতপাতের তীব্র বিরোধী পেরিয়ার যখন সরাসরি গোপালাচারীর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হতেই কংগ্রেস বুঝে গিয়েছিল, পথ কঠিন হতে চলেছে। তার সঙ্গে আবার দাঁড়িয়ে গিয়েছে জাস্টিস পার্টি। যাদের পরে নির্বাচনী রাজনীতি থেকে সরিয়ে পেরিয়ার রূপ দেন এক সামাজিক সংগঠনের—দ্রাবিড়ার কাজাঘাম। ভবিষ্যতে এই জাস্টিস পার্টি এবং দ্রাবিড়ার কাজাঘামের আদর্শ থেকেই জন্ম হয় ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের। সরকারিভাবে আন্দোলনের সূত্রপাত হয় ১৯৩৭ সালের ৪ অক্টোবর। তা সত্ত্বেও অবস্থানে অনড় থেকে পরের বছর ২১ এপ্রিল সরকারি নির্দেশিকা জারি করে দিলেন রাজাজি। প্রেসিডেন্সির ১২৫টি স্কুলে বাধ্যতামূলক হল হিন্দি পঠন-পাঠন। তামিল অবমাননা এবং হিন্দি ভাষার অবাঞ্ছিত ওকালতির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠল গোটা দক্ষিণ ভারত। বিক্ষোভ, অনশন, কালো পতাকায় হিন্দি বিরোধিতা চরম পর্যায়ে পৌঁছয়। তিন বছর চলে প্রতিবাদ। দু’জনের মৃত্যু এবং পেরিয়ার সহ ১২০০ মানুষকে কারাবন্দি করার পর হিন্দির নির্দেশিকা বাতিলে বাধ্য হয় সরকার। এরপর ’৬৫ সালে সংবিধানের ১৫ বছর পূর্তির পর হিন্দিকে সরকারি ভাষার স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে ফের উত্তাল হয় দক্ষিণ ভারত। মাদুরাইতে রীতিমতো দাঙ্গাও হয়ে যায় এই ইস্যুতে। শেষে প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রী ঘোষণা করেন, ইংরেজিই ভারতের সরকারি কাজে ব্যবহৃত হবে। তারপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
* * *
রাজাজির না হয় একটা স্পষ্ট বার্তা ছিল, হিন্দি শিখলে চাকরি পেতে সুবিধা হবে। কিন্তু এখন তো আর সে সমস্যা নেই! হিন্দি না শিখলেও ভারতের বহু প্রান্তে অনায়াসে চাকরি-বাকরি জুটে যায়। তাহলে ক্ষমতায় ফেরা মাত্র এমন একটা মিসঅ্যাডভেঞ্চারের মানে কী? প্রাথমিকভাবে জানানো হল, ক্লাস এইট পর্যন্ত তিনটি ভাষা শিখতেই হবে। হিন্দি, ইংরেজি এবং অন্য যে কোনও একটি স্থানীয় ভাষা। ১৯৬৫ সালে সাংবিধানিকভাবে হিন্দিকে সরকারি ভাষার স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা যে ধাক্কা খেয়েছিল, তা তো আর বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকারের অজানা নয়! তখন তো তাও আবার কেন্দ্রে ছিল মহাপরাক্রমী কংগ্রেস। পরপর দু’দফায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিতে আসা নরেন্দ্র মোদি নিজেকে সর্বকালের অন্যতম সেরা অকংগ্রেসি নেতা হিসেবে প্রমাণ করেছেন ঠিকই, তাতে কিন্তু ভারতের ‘বৈচিত্র্যে’র বাস্তবটা বদলে যায়নি। পরিস্থিতি এমন একটা দিকে গড়াল যে, নরেন্দ্র মোদিকে তাঁর দুই হাইপ্রোফাইল মন্ত্রী অর্থাৎ নির্মলা সীতারামন এবং জয়শঙ্করকে দিয়ে বিবৃতি দেওয়াতে হল (দু’জনেই দক্ষিণী)। এক সুরে তাঁরা লিখলেন, সবকিছু যাচাই না করা পর্যন্ত এই খসড়া নীতি চূড়ান্ত করা হবে না। যেখানে একটু বাস্তববাদী হলে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাই ছিল না। বাস্তববাদী অবশ্য আমরা সেই অর্থে কেউই নই। খসড়া দেখে সংশ্লিষ্ট কমিটির জন্যও তেমন কিছু বিশেষণ ব্যবহার করা যায় না। ইসরোর নামজাদা বিজ্ঞানী এবং শিক্ষানীতি নির্ধারক ওই প্যানেলের চেয়ারম্যান কৃষ্ণস্বামী কস্তুরীরঙ্গন তার উপর দাবি করেছেন, হিন্দি পড়া বাধ্যতামূলক করার জন্য যে সুপারিশ, সে ব্যাপারে কোনও চাপ কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। এমনকী তাঁর কমিটির বানানো খসড়া নীতি নিয়ে দিকে দিকে এমন হইচই শুরু হয়েছে, সেটাও নাকি কেউ ফোন করে তাঁকে জানায়নি। খবর দেখে তিনি জানতে পারেন, বিষয়টাকে অনেকেই ভালোভাবে নিচ্ছে না। তাই তড়িঘড়ি বৈঠক করে একটা বিকল্প ভার্সান দেওয়া হয়েছে। তাতে হিন্দি শব্দটিকে তুলে দিয়ে শুধু ভাষার উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ, অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত হিন্দি শিখতেই হবে, এমনটা আর নেই।
নরেন্দ্র মোদি গত পাঁচ বছরে একবারও কিন্তু হিন্দুধর্ম বা আরএসএস-বিজেপির হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা নিয়ে মুখ খোলেননি! কারণটা স্পষ্ট। প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে তিনি বিলক্ষণ জানেন, হিন্দুত্ব তাঁকে সরকারে টিকিয়ে রাখবে না। এটা তাঁর দলের আদর্শ হতে পারে, কিন্তু সরকার চালানোর ক্ষেত্রে এর কোনও বাড়তি ডিভিডেন্ড নেই। বরং অর্থনৈতিক এবং সংস্কারী পদক্ষেপ তাঁকে নতুন প্রজন্মের কাছে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য করে তুলবে। তাহলে নতুন সরকার গঠন হতে না হতেই ‘হিন্দিস্তান’ জিগির উঠল কেন? তাহলে কি আরএসএস এবং বিজেপির একাংশ অতিরিক্ত প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে? মোদির প্রথম জমানাতেও লাভ জিহাদ, গো রক্ষার নামে হিংসা, ঘর ওয়াপসি হয়েছে। সে সব নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। তা সত্ত্বেও তিনি শুধু প্রশাসনিক আঙ্গিকেই বিষয়গুলিকে সামাল দিয়েছেন। দলীয় নেতা হিসেবে নয়। এটাই মোদির সাফল্য ছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে কিন্তু বিজেপি বদলে গিয়েছে মোদি জনতা পার্টিতে। অর্থাৎ, হাওয়ায় পাতা নড়লেও তার দায় মোদিকে নিতে হবে। কেউ দেখবে না, বিজেপির কোনও অংশ বা তাদের চালিকাশক্তি আরএসএস তাঁর কোনও সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে কি না। কাজেই হিন্দি ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার মতো মিসঅ্যাডভেঞ্চার আর না হলেই ভালো। হিন্দির যদি শ’দুয়েক বছরের ইতিহাস থাকে, তামিলের অতীত কিন্তু চার হাজার বছরের। তার গুরুত্ব খাটো করা যায় না। প্রধানমন্ত্রীকে আরও একটা বিষয়ে নজর দিতে হবে। তাঁর সৈনিক এবং সেনাপতিদের বক্তব্যে। রাজ্যপাল হওয়া সত্ত্বেও তথাগত রায় বলেছেন, বাঙালি মেয়েরা যদি মুম্বইতে গিয়ে ডান্স বারে নাচতে পারে, তাহলে হিন্দি শিখতে সমস্যা কোথায়? হিন্দি ভাষা কিন্তু হিন্দুত্বের প্রতীক নয়। সনাতন ধর্মের ধারক-বাহক নয়। যুগের পর যুগ ধরে ভারতের নানা প্রান্তে সনাতন ধর্ম এক এক রূপে মানুষের আত্মায় জায়গা করে রয়েছে। তার কোনও নির্দিষ্ট প্যাটার্ন নেই। ‘চক দে ইন্ডিয়া’ ছবিতেই একটা দৃশ্য ছিল, যেখানে সব হকি খেলোয়াড় নিজেদের পরিচয় দিচ্ছিলেন। বাকিরা সবাই নিজেদের রাজ্যের নাম বললেও শুধুমাত্র একজন এগিয়ে এসে বলেছিলেন, তিনি ভারতীয়। এটাই শেষ কথা। কোনও ধর্ম বা রাজ্য বা ভাষার নয়, সরকার ভারতের। আপামর ভারতবাসী নরেন্দ্র মোদিকে মাথায় তুলে ফের দিল্লির মসনদে বসিয়েছে। কোনও ভাষার জন্য নয়। ধর্মের জন্য নয়। তাঁরও পরিচয় একটাই হওয়া উচিত... ভারতবাসী।
13th  June, 2019
সরকারের ভিতরে সরকার 
পি চিদম্বরম

যখন কোনও সরকার একটা মারাত্মক সমস্যার মুখোমুখি হয় তখনই তাকে দেখে অবাক লাগে। কারও দোষত্রুটি ধরা পড়লে কেউই তার দায় নেবে না। দোষারোপের পালা শেষমেশ সরকারের শীর্ষকর্তা—মুখ্যমন্ত্রী অথবা প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে গিয়ে থামে।
বিশদ

ডাক্তার আন্দোলন: জয় পরাজয় নয়, হাসপাতাল সমস্যা সমাধানই লক্ষ্য হোক
শুভা দত্ত

এত বড় একটা সমস্যার এমন সহজ সাবলীল সমাধান, সপ্তাহব্যাপী অনড় অচলাবস্থার এমন অনায়াস অবসান বোধহয় এ রাজ্যের শাসক-বিরোধী কোনও মহলই ভাবতে পারেননি।
বিশদ

23rd  June, 2019
মোবাইল সেট নিয়েও যুদ্ধ?
বিশ্ব অর্থনীতির নয়া রণক্ষেত্র
মৃণালকান্তি দাস

 চীনের সোশ্যাল মিডিয়া ‘ওয়েইবো’তে এই মুহূর্তে কী ঘটছে, তা কলকাতার মাটিতে বসে আঁচ পাওয়া অসম্ভব। ঘটনা হল, আমেরিকা-বিরোধী উত্তেজনায় ওয়েইবো এখন রীতিমতো রণক্ষেত্র। কিছুদিন আগে ভারতে চীনের পণ্য বয়কট আন্দোলন নিয়ে ওয়েইবোতে হাসাহাসি হলেও এখন তারাই মার্কিন পণ্য বয়কটের ডাক দিচ্ছে।
বিশদ

22nd  June, 2019
ডাক্তার নিগ্রহের বিরুদ্ধে এত স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন কেন ভারতের প্রতি কোণ থেকে 
সত্যপ্রিয় দে সরকার

আয়ুষ্মান ভারতের নামে সব দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দিয়ে কী করে স্থায়ীভাবে গরিব নাগরিকের চিকিৎসা হতে পারে? তারপর ওই সামান্য টাকার অংশও শাসকদল ও আমলাদের দিয়ে তবে অনেক পরে ওই টাকা পাওয়া যাবে। ... দেশের প্রতিটি জেলায় মেডিক্যাল কলেজ ও নার্সিং কলেজ তৈরি না-হলে স্বাস্থ্যপরিষেবার বিকেন্দ্রীকরণ অসম্ভব। বিভিন্ন অতি সুদক্ষ চিকিৎসা কেন্দ্রের দামি যন্ত্রের কেনাতে সব আমলা ও শাসক দলের সংশ্লিষ্ট নেতারা উদগ্রীব হয়ে থাকেন, কারণ তার দামের ভাগের অংশ ঠিক জায়গায় পৌঁছে যায়, অথচ তারপর বছরের পর বছর সেই যন্ত্র খোলা হয় না, ব্যবহার হয় না। সামান্য খরাপ হলে চিরদিনের জন্য আর ব্যবহার হয় না। যে সামান্য টাকা দিয়ে বার্ষিক যন্ত্রের দেখাশোনার পদ্ধতি প্রস্তুতকারক সংস্থা ব্যবস্থা করে তার সুযোগও ইচ্ছে করে ব্যবহার করা হয় না, যাতে পরিষেবা দিতে না হয়। এর উদাহরণ এত বেশি যে এ ঘটনা না-ঘটাই ব্যতিক্রম।
বিশদ

21st  June, 2019
চিকিৎসক পাঁচ অক্ষর?
শুভময় মৈত্র

শুধুমাত্র নিম্নবিত্ত মানুষদের যদি সরকারি পরিষেবা নিতে বাধ্য করা যায়, তাহলে তার বাইরে থাকা বিশাল একটা অংশ বেসরকারি ক্ষেত্রে ছুটতে বাধ্য। তাইতো এত বেসরকারি স্কুল, কলেজ। সবাই জানেন সরকারি জায়গায় শিক্ষকেরা ভালো, চিকিৎসকেরাও ভালো। কিন্তু তা সত্ত্বেও সরকারি জায়গাগুলোকে যদি এমন খারাপভাবে সাজানো যায় যাতে আর্থিক কারণে বাধ্য না-হলে মানুষ সেখানে না যান, তাহলে একটা বড় অংশের মানুষ ছুটবেন তুলনায় বেসরকারি ক্ষেত্রে, শুধুমাত্র ঝকঝকে পরিষেবার স্বার্থে। এ দেশে একশো তিরিশ কোটির মধ্যে যে-কোনও সময়ে দশ বা কুড়ি কোটি মানুষ সচ্ছল। এই বিপুল বাজারকে ধরতে চায় বেসরকারি উদ্যোগ, আর তাতে বন্ধুত্বপূর্ণ সহায়তা দেয় কল্যাণকামী রাষ্ট্র, তার নেতা, নেত্রী, মন্ত্রীরা—দলমত নির্বিশেষে।
বিশদ

21st  June, 2019
বিধানসভা ভোট কিন্তু হবে মমতাকে দেখেই
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ইন্দিরা গান্ধীর টার্গেট ছিল একটাই। যেভাবে হোক সিপিএমের কোমর ভেঙে দিতে হবে। তিনি মনে করতেন, সিপিএম আসলে সিআইএ’র মদতপুষ্ট। ঠিকঠাক সুযোগ পেলে পূর্ববঙ্গ এবং পশ্চিমবঙ্গে সশস্ত্র আন্দোলন করিয়ে বৃহত্তর বাংলা গঠন করে ফেলবে। কাজেই বাংলা কংগ্রেস এবং সিপিআই পছন্দের তালিকায় থাকলেও সিপিএমকে মোটে বরদাস্ত করতে পারতেন না ইন্দিরা।
বিশদ

18th  June, 2019
ডাক্তারবাবুদের গণ-ইস্তফা নজিরবিহীন,
কিন্তু তাতে কি হাসপাতাল সমস্যা মিটবে?

 এ-কথাও তো সত্যি যে, হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বা ডাক্তারবাবুদের যথাযথ নিরাপত্তা বিধানে তাঁর সদিচ্ছা আছে এবং ইতিমধ্যেই তার যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রবীণদের বৈঠকে ডেকে মুখ্যমন্ত্রী সমাধানসূত্র খুঁজছেন— সেটাও কি ওই সদিচ্ছারই নামান্তর নয়? বিশদ

16th  June, 2019
নরেন্দ্র মোদির মালদ্বীপ সফর এবং ভারত মহাসাগরে ভারতের নতুন রণনীতি
গৌরীশঙ্কর নাগ

 মোদিজির এই দ্বীপপুঞ্জ-সফর কেবলমাত্র হাসি বিনিময় ও করমর্দনের রাজনীতি হবে না, বরং এর প্রধান অ্যাজেন্ডাই হল প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মজবুত করা। তবে সেটা করতে গিয়ে ভারত যেন দ্বীপপুঞ্জের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অযথা হস্তক্ষেপ না করে বসে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, ভারত মালদ্বীপকে সন্ত্রাসবাদের নয়া ‘আঁতুড়ঘর’ হতে দেবে। কারণ ইতিমধ্যেই আমরা দেখেছি পাকিস্তান, আফগানিস্তান এমনকী মধ্যপ্রাচ্য থেকেও জেহাদি নেটওয়ার্কের কারবার মালদ্বীপেও পৌঁছে গিয়েছে। এই র‌্যাডিক্যালিজমের একমাত্র দাওয়াই হল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তার সহায়ক শক্তি হিসেবে রাজনৈতিক স্থিরতা।
বিশদ

15th  June, 2019
সতর্কতার সময়
সমৃদ্ধ দত্ত

 ভারতীয় সংস্কৃতির সনাতন ধারাটি হল দিবে আর নিবে, মিলিবে মেলাবে। কিন্তু সেই সংস্কৃতি থেকে আমাদের সরিয়ে এনেছে অসহিষ্ণুতা আর স্বল্পবিদ্যা। আর সবথেকে বেশি জায়গা করে নিয়েছে বিদ্বেষ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বিদ্বেষ।
বিশদ

14th  June, 2019
বারুদের স্তূপের উপর পশ্চিমবঙ্গ
হিমাংশু সিংহ

সংসদীয় রাজনীতিতে কিছুই চিরস্থায়ী নয়। কারও মৌরসিপাট্টাই গণতন্ত্রে বেশিদিন টেকে না। সব সাজানো বাগানই একদিন শুকিয়ে যায় কালের নিয়মে। ইতিহাস কয়েক বছর অন্তর ফিরে ফিরে আসে আর ধুরন্ধর শাসককে চরম শিক্ষা দিয়ে তাঁকে, তাঁর ক্ষমতাকে ধুলোয় লুটিয়ে দিয়ে আবার ফকির করে দিয়ে যায়। সব ক্ষমতা এক ভোটে বিলীন। ধূলিসাৎ। আর এখানেই মহান গণতন্ত্রের জিত আর চমৎকারিত্ব। আর সেই দিক দিয়ে ২৩ মে-র ফল এই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকেও আবার এক মহান সন্ধিক্ষণের দিকেই যেন ঠেলে দিয়েছে। ‘বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ’ হয়নি, ‘২০১৯ বিজেপি ফিনিশ’—তাও হয়নি। উল্টে সারাদেশে বিজেপি থ্রি-নট-থ্রি (অর্থাৎ ৩০৩টি) আসন জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভোট-পণ্ডিতদের।
বিশদ

11th  June, 2019
মোদিজি কি ‘সবকা বিশ্বাস’ অর্জন করতে পারবেন?
পি চিদম্বরম

 নরেন্দ্র মোদি এবার যে জনাদেশ পেয়েছেন তা অনস্বীকার্যভাবে বিপুল। যদিও, অতীতে লোকসভা নির্বাচনে একটি পার্টি ৩০৩-এর বেশি আসন জেতার একাধিক দৃষ্টান্ত আছে। যেমন ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধী ৩৫৩ এবং ১৯৮৪ সালে রাজীব গান্ধী ৪১৫ পেয়েছিলেন।
বিশদ

10th  June, 2019
 বিজেপি এ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে
কঠিন চ্যালেঞ্জ মনে করছে কেন?
শুভা দত্ত

 কয়েকদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক খুনের ঘটনা ঘটে গেল রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে। তাই আজও একই প্রসঙ্গ দিয়ে এই নিবন্ধ শুরু করতে হচ্ছে। গত সপ্তাহেই লিখেছিলাম, ভোটফল প্রকাশের পর রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় যেন একটা হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।
বিশদ

09th  June, 2019
একনজরে
  নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ব্যাঙ্কে গিয়ে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে, এমন অভিযোগ অনেকেই করেন। ব্যাঙ্কিং পরিষেবা নিয়েও অভিযোগ ওঠে প্রায়শই। চেক ভাঙাতে অহেতুক দেরি হোক বা ডেবিট কার্ডের কারচুপি— নানা সমস্যায় জর্জরিত বহু গ্রাহক। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইস্ট-ওয়েস্ট পথে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চালানোর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ‘কমিশনার অব রেলওয়ে সেফটি’ (সিআরএস)-র কাছে আবেদনের করল ‘কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন লিমিটেড’ (কেএমআরসিএল)। সংস্থা সূত্রের খবর, কয়েকদিন আগে সিআরএসের কাছে এই আবেদন করা হয়েছে।  ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চলা লাক্সারি ট্যাক্সির ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি দিলেন মালিকরা। ‘লাক্সারি ট্যাক্সি অ্যাসোসিয়েশন (ওয়েস্ট বেঙ্গল)’-এর পক্ষ থেকে সম্প্রতি এই চিঠি দেওয়া হয়েছে। ...

 সাদাম্পটন, ২৩ জুন: মন্থর ব্যাটিং নিয়ে অনেক সমালোচনা হচ্ছে ঠিকই, তবে উইকেটের পিছনে মহেন্দ্র সিং ধোনির উপস্থিতি কতটা জরুরি সেটা আরও একবার প্রমাণ হল আফগানিস্তান ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে। সরকারি বা আধাসরকারি ক্ষেত্রে কর্ম পাবার সুযোগ আছে। ব্যর্থ প্রেমে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৮৩- অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থ বিজ্ঞানী ভিক্টর ফ্রান্সিস হেসের জন্ম
১৯০৮- প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট গ্রোভার ক্লিভল্যান্ডের মৃত্যু
১৯৫০- বাংলাদেশি কবি তথা মুক্তিযোদ্ধা আবিদ আনোয়ারের জন্ম
১৯৮৭- আর্জেন্তিনার ফুটবলার লায়োনেল মেসির জন্ম
 

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৯৫ টাকা ৭০.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৭.১২ টাকা ৯০.৩১ টাকা
ইউরো ৭৭.৪০ টাকা ৮০.৩৫ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
22nd  June, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৪,৫৫০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩২,৭৮০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৩,২৭০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,৯৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,০৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
23rd  June, 2019

দিন পঞ্জিকা

৯ আষা‌ঢ় ১৪২৬, ২৪ জুন ২০১৯, সোমবার, সপ্তমী ৫৩/৯ রাত্রি ২/১৩। পূর্বভাদ্রপদ ৫৫/১১ রাত্রি ৩/২। সূ উ ৪/৫৭/১৩, অ ৬/২০/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৮/৩১ গতে ১০/১৮ মধ্যে। রাত্রি ৯/১০ গতে ১২/০ মধ্যে পুনঃ ১/২৫ গতে ২/৫০ মধ্যে, বারবেলা ৬/৩৭ গতে ৮/১৮ মধ্যে পুনঃ ২/৫৯ গতে ৪/৪০ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/১৯ গতে ১১/৩৯ মধ্যে। 
৮ আষাঢ় ১৪২৬, ২৪ জুন ২০১৯, সোমবার, সপ্তমী ৪৬/৭/৫৫ রাত্রি ১১/২৩/২৬। পূর্বভাদ্রপদনক্ষত্র ৫০/২৩/৩২ রাত্রি ১/৫/২১, সূ উ ৪/৫৫/৫৬, অ ৬/২৩/৪১, অমৃতযোগ দিবা ৮/৩৫ গতে ১০/২৩ মধ্যে এবং রাত্রি ৯/১৩ গতে ১২/৩ মধ্যে ও ১/২৮ গতে ২/৫৪ মধ্যে, বারবেলা ৩/১/৪৫ গতে ৪/৪২/৩৩ মধ্যে, কালবেলা ৬/৩৪/৫৪ গতে ৮/১৭/৫২ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/২০/৪৭ গতে ১১/৩৯/৪৯ মধ্যে।
 
মোসলেম: ২০ শওয়াল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বিশ্বকাপ: বাংলাদেশ ১৯৩/৪ (৪০ ওভার) 

06:10:23 PM

দেউলিয়া বরিস বেকার, নিলামে উঠল ট্রফি 
কিংবদন্তি জার্মান লন টেনিস প্লেয়ার বরিস বেকার দেউলিয়া। না, মোটেই ...বিশদ

06:01:43 PM

বিশ্বকাপ: বাংলাদেশ ১৪৩/৩ (৩০ ওভার) 

05:22:32 PM

বিজেপিতে যোগ দিলেন আরও দুই তৃণমূল নেতা 
বিজেপিতে যোগ দিলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা প্রবীণ ...বিশদ

05:16:00 PM

বিশ্বকাপ: বাংলাদেশ ১০৩/২ (২০ ওভার) 

04:41:32 PM

আগামীকাল থেকে শুরু দুর্গাপুর-মুম্বই বিমান পরিষেবা 
ঘোষণা মতো আগামীকাল দুর্গাপুর থেকে মুম্বই পর্যন্ত বিমান পরিষেবা শুরু ...বিশদ

04:37:20 PM