Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

বারুদের স্তূপের উপর পশ্চিমবঙ্গ
হিমাংশু সিংহ

লোকসভার ফলে পালাবদলের গন্ধ পেয়েই পশ্চিমবঙ্গের গ্রামে শহরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বিজেপি। তাই ঘরে ঘরে চায়ের আড্ডায় আদালতে অফিসে মাঠে ময়দানে লোকসভার ফল বেরনো ইস্তক একটা কী হয় কী হয় ভাব। একটাই আলোচনা ২০২১-এ কী হবে? আগ্রাসী একদল ক্ষমতা দখলের আশায় টগবগে উদ্দাম, আর অন্য শিবিরে হতাশা, উত্তেজনা আর ভয় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে খোদ ভগবানের নামেও মেজাজ হারাচ্ছেন মাটি থেকে উঠে আসা তৃণমূল শাসক। ২৩ মে-র পর বাংলা অভিধানে একটা নতুন গালাগালি সংযুক্ত হয়েছে ‘জয় শ্রীরাম’। এতই মারাত্মক অবমাননাকর এই শব্দবন্ধ যে রাস্তায় নেমে চোখ কপালে তুলে পুলিসকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নিদান দিয়েছেন অগ্নিকন্যা। ভাইরাল হয়েছে সে ছবি। অথচ প্রতিবাদী গণআন্দোলনের মধ্যে দিয়ে বিক্ষোভ অবরোধের নানা কঠিন ধাপ পেরিয়েই তাঁর বিরোধী নেত্রী থেকে ‘সফল’ শাসকে উত্তরণ। আর আজ তাঁর আট বছরের শাসনকাল যেতে না-যেতেই সেই আন্দোলন, বিক্ষোভ, প্রতিবাদের মতো শব্দগুলো তাঁর কাছে রাজ্যে হিংসা ও অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা মাত্র! এ কোন উলটপুরাণ দেখছে বাংলা? অথচ আজকের শাসক তথা সেদিনের বিরোধী নেত্রীর উপস্থিতিতেই বিধানসভায় ঢুকে অন্যায় ভাঙচুর, দুর্গাপুর এক্সপ্রেস ওয়ে আটকে দিনের পর দিন ধর্না বিক্ষোভ, ধর্মতলার অনশন, সবই কি আজ বিস্মৃতপ্রায় অধ্যায়! এমন একটা ভাব যেন কিছুই হয়নি কিংবা সবই আইন মেনে শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছিল সেদিন।
বাস্তবে পরিবর্তন ও তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উত্তাল আন্দোলন, রক্তক্ষয় বড় কম দেখেনি এই বাংলার মাটি। সত্তরের উত্তাল নকশাল আন্দোলন দেখেছে। বাহাত্তর থেকে সাতাত্তর সিদ্ধার্থশঙ্করের জমানার কলঙ্কিত শাসন ও জরুরি অবস্থার অন্যায় বাড়াবাড়ি দেখেছে। অবলীলায় আঠারো থেকে আটাশের মৃত্যুমিছিল দেখেছে। প্রাণ বাঁচাতে যুব সমাজের এ রাজ্য থেকে পালানোর সেই শুরু। তারপর সিপিএমের ৩৪ বছর ধরে একটানা কর্মসংস্থান ও শিল্পকে বিসর্জন দিয়ে আপাত শ্মশানের শান্তির আড়ালে ভোটলুটের জমজমাট কারবার দেখেছে। সংগঠন ও প্রশাসনের জোরে বামেদের ভোট পৌঁছে গিয়েছিল সে সময় ৫০ শতাংশে। কিন্তু সবকিছুকে পার্টিমুখী করতে গিয়ে আর গোটা ব্যবস্থাকে বিরোধী-শূন্য করার নেশায় কখন মানুষই ব্রাত্য হতে হতে দূরে সরে গিয়েছে বাম নেতারা তার আঁচটুকুও পাননি। কোনও শাসকই বোধহয় ক্ষমতার নেশায় যখন বুঁদ হয়ে যান তখন ওই আঁচটা পান না। পাওয়ার কথাও নয়। তাই সব শাসকই প্রতিবাদ দেখলেই পুলিসকে ব্যবহার করে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে দমন-পীড়নের কঠিন রাস্তায় নেমে পড়েন। মানুষের মনটা পরখ করে দেখার চেষ্টা করেন না কেউ। আর এই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস থেকেই বাম নেতারা মানুষকে, মানুষের ভোটকে চিরদিনের জন্য তাদের কেনা ভেবেছিলেন। বাস্তবে যা কখনও সম্ভব নয়। আর বামেদের সেই অতিরিক্ত আত্মসন্তুষ্টি আর দৌরাত্ম্যের জেরেই ২০১১-র বহুকাঙ্ক্ষিত ঐতিহাসিক পরিবর্তন এল। উল্টে গেল সাড়ে তিন দশকের রাজ্যপাট। এসবই যেন অবলীলায় ঘটে গিয়েছে এই বাংলায়।
চাকরি নেই, শিল্প নেই। তাতে কী হয়েছে, রাজনীতি, দলাদলি, হানাহানি তো আছে চুটিয়ে! সঙ্গে দোসর খেলা মেলা উৎসব। গত সাত বছরে ঘটা করে বহু কোটি টাকা খরচে ঢালাও খানাপিনার ব্যবস্থা করে শিল্প সম্মেলন বড় কম হয়নি। কিন্তু বড় উৎপাদনমুখী শিল্প কী এসেছে। কোনও বড় কারখানা যেখানে দশ, পনেরো হাজার লোক কাজ পেতে পারে তা কি হয়েছে? হয়নি। ফলে এরাজ্যের শত শত বেকারের ভাগ্য ফেরারও আশাও প্রায় নেই। সেদিকে নজর দেওয়ার ফুরসতটুকুও কারোর নেই। মরলে তো মরবে গরিব দিনআনা দিনখাওয়া পরিবারগুলো। নেতানেত্রীদের, তাঁদের ছেলেমেয়েদের তো আর পেটের দায় নেই! আছে তোলা আর সিন্ডিকেটের পয়সায় নিত্যনতুন সম্পত্তি আর দামি গাড়ি কেনার বিষম রকমারি আহ্লাদ। কালো কাচ তুলে মা মাটি মানুষের বুকের উপর দিয়েই ধুলো উড়িয়ে ছোটে ঝাঁ চকচকে সাদা স্করপিও কিংবা আরও দামি রং-বেরঙের গাড়ি। ধুলোমাখা মাটির মানুষ প্রমাদ গোনে আর বলে ওই দ্যাখ, নেতার ব্যাটা, ভাইপো কিংবা ভাগ্নে যাচ্ছে। আহা কত উন্নয়ন! আর দু’পকেটে ডিগ্রি নিয়ে এরাজ্যের অসহায় ছেলেমেয়েরা ছুটছে ভিন রাজ্যে, ভিন দেশে একটা চাকরির আশায়। মেস করে কোনও মতে দূর দূরান্তরে একটা ছোট্ট ঘরে থাকছে চার পাঁচজন মিলে। দু’বেলা পরিমিত খাবার জুটছে কি জুটছে না, সে খোঁজ কে রাখে। আর সংকীর্ণ রাজনীতি ও ইগোর বলি সিঙ্গুর আজও শ্মশান হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের ধারে। নন্দীগ্রামও তথৈবচ। রাজ্যজুড়েই যেন না-হওয়া আর বন্ধ-হওয়া শিল্প কারখানার কঙ্কাল ছড়িয়ে! তবু টনক নড়ে না কারও। আমি, আমি করেই সবাই বুঁদ। আমার প্রতাপ আর প্রভাব প্রতিপত্তি দেখাতেই সবাই মত্ত, অন্যকিছু ভাবার সময়ই নেই। না-হলে সিন্ডিকেট, তোলাবাজি, পরের মেরে খাওয়ার বিরুদ্ধে কালীঘাটের টালির চালায় ডাকা কোর কমিটির বৈঠকে বারবার যুদ্ধ ঘোষণা করতে দেখা গিয়েছে। কাগজে হেডলাইন হয়েছে। কিন্তু সবই কথার কথা। গত আট বছরে সিন্ডিকেট শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে গোটা রাজ্যটাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধেছে। আর বৈঠক ডাকলে যাঁরা কালীঘাটের ঘর আলো করে বসে থাকেন তাঁরাই সিন্ডিকেটের বড় বড় চাঁই, আশ্রয়দাতা। রক্ষকই যেখানে ভক্ষক সেখানে মানুষ সুবিচার পাবে কোথায়। আর তোলাবাজি আর সিন্ডিকেটের টাকার আসল শাঁসটা কোথায় কার পকেটে যায় তা কী কারও অজানা!
কিন্তু, এসব কিছুই যে সংসদীয় রাজনীতিতে চিরস্থায়ী নয়। কারও মৌরসিপাট্টাই গণতন্ত্রে বেশিদিন টেকে না। সব সাজানো বাগানই একদিন শুকিয়ে যায় কালের নিয়মে। ইতিহাস কয়েক বছর অন্তর ফিরে ফিরে আসে আর ধুরন্ধর শাসককে চরম শিক্ষা দিয়ে তাঁকে, তাঁর ক্ষমতাকে ধুলোয় লুটিয়ে দিয়ে আবার ফকির করে দিয়ে যায়। সব ক্ষমতা এক ভোটে বিলীন। ধূলিসাৎ। আর এখানেই মহান গণতন্ত্রের জিত আর চমৎকারিত্ব। আর সেই দিক দিয়ে ২৩ মে-র ফল এই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকেও আবার এক মহান সন্ধিক্ষণের দিকেই যেন ঠেলে দিয়েছে। ‘বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ’ হয়নি, ‘২০১৯ বিজেপি ফিনিশ’—তাও হয়নি। উল্টে সারাদেশে বিজেপি থ্রি-নট-থ্রি (অর্থাৎ ৩০৩টি) আসন জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভোট-পণ্ডিতদের। এরাজ্যের পরিণাম আরও চিত্তাকর্ষক। ৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে ৪২ আসনের মধ্যে ১৮টি আসন জিতে শাসক নেত্রীর ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলার জায়গায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। শাসক পেয়েছে ২২ আসন। ব্যবধান কমছে। এটাকে সন্ধিক্ষণ বলব না তো বলব কাকে! স্লোগান উঠেছে ‘উনিশে হাফ, একুশে সাফ’। ভয়ঙ্কর আস্ফালন সন্দেহ নেই। তবে প্রতিপক্ষকেও সংযত হতে হবে। শান্তিশৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে বজায় রেখে, চিরাচরিত পরম্পরাকে সম্মান দিয়েই যা করার করতে হবে। না-হলে শুধু দল ভাঙিয়ে আর আস্ফালন করে বাংলার মানুষের সামগ্রিক আস্থা অর্জন করা যাবে না। তবে বাতাসের গতিপ্রকৃতি কিন্তু দ্রুত বদলাচ্ছে। আর তার জেরেই পালাবদলের ইঙ্গিতবাহী লোকসভা ভোটের ফলের দু’সপ্তাহ যেতে না-যেতেই রাজ্যটা যেন ক্রমেই বারুদের স্তূপে পরিণত হচ্ছে। হানাহানি, রক্তারক্তি বাড়ছে। একদল ক্ষমতা দখলের জন্য, গণতন্ত্রের ফের প্রতিষ্ঠার জন্য উদগ্রীব আর একদল ক্ষমতা ধরে রেখে বিরোধী-শূন্য রাজ্যটাকে বছরের পর বছর শাসন করার ছাড়পত্র পেতে মরিয়া।
সংঘাত সংঘর্ষ তাই অবশ্যম্ভাবী। ২০২১-এর বিধানসভা ভোট পর্যন্ত তাই আরও উত্তাল হবে রাজ্য। যার অনিবার্য পরিণতি সন্দেশখালি। যার অনিবার্য পরিণতি উত্তরবঙ্গের একাধিক ঘটনা। প্রতিরোধ হচ্ছে। মুখ বুজে গ্রামবাংলা আর কারও নির্দেশ মানতে রাজি নয়। পঞ্চায়েত ভোটে ৩৪ শতাংশ আসনে বিপক্ষরা প্রার্থী পর্যন্ত দিতে পারেনি। সবটাই হয়েছে একতরফা। গ্রামের মানুষের দাঁত ও চোয়াল চাপা প্রতিশোধই প্রতিফলিত হয়েছে গত ২৩ মে লোকসভা ভোটের ফলাফলে। সেই পরিণাম বেরনো ইস্তক এবং বিজেপির গোটা উত্তরবঙ্গ, বর্ধমান, মেদিনীপুর, হুগলি ও নদীয়ায় আশাতীত ফল করার পর একটা কথাই বারংবার শোনা যাচ্ছে যে বামেদের ভোটটা বিজেপিতে যাওয়ার জন্যই নাকি বিজেপি প্রায় রাজ্যের অর্ধেক লোকসভা আসন জিতে নিয়েছে। এসবই আসলে সিপিএমের নিজের নাক কেটে পরের যাত্রাভঙ্গ করার চক্রান্ত। যারা একথা বলছে, তারা একবারও ভেবে দেখছে না, সংসদীয় গণতন্ত্রে ভোট ও ভোটার কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়। তাই এই ভোটটা বামেদের কেনা, একথা বলা চরম মূর্খামি ছাড়া আর কিছুই নয়। যদি ৪৯-৫০ শতাংশ ভোট এখনও বামেদের অটুট থাকত তাহলে কি ২০১১-র পরিবর্তন রূপ পেত, না আজ তৃণমূলের এত রমরমা হতো। কিছুতেই হতো না।
নদীর মতো ভোটেরও একূল ভাঙে আর ওকূল গড়ে। এরাজ্যে কংগ্রেস ও সিপিএম সম্মিলিতভাবেও এই মুহূর্তে প্রবল পরাক্রান্ত তৃণমূলের মোকাবিলা করতে পারবে না, একথা মানুষ জানে। তাই সমস্ত তৃণমূল-বিরোধী শক্তি আগামী দু’বছর আরও বেশি করে গেরুয়া ছাতার তলায় আশ্রয় নেবে, এর মধ্যে কোনও অতিশয়োক্তি নেই। এটাই বাস্তব। এবং, এই যুবসমাজের কাছে সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাক বা দুনিয়ার মজদুর এক হওয়ার স্লোগান আজ পুরোপুরি ব্রাত্য। তৃণমূলকে শিক্ষা দিতে তাই বাম-কংগ্রেস কর্মীরাও বেশি বেশি করে আগামী দিনে নরেন্দ্র মোদির ‘দিদি আপকা জায়গির খতম হোনে বালা’ শব্দবন্ধেই ভরসা রাখবে। তাই সিপিএমের ভোট সাত শতাংশ থেকে আগামী বিধানসভায় দু’শতাংশে নেমে গেলেও আশ্চর্যের কিছু থাকবে না, আর কংগ্রেসের এক শতাংশেরও নীচে। শেষ প্রহরে মমতা ম্যাজিক বড় কিছু ওলটপালট না-করে দেখালে এ যাত্রায় লড়াই কিন্তু খুবই কঠিন। তার চেয়েও কঠিন এই উত্তাল সময়ে রাজ্যটাকে শান্ত রাখা। যেহেতু তিনি এই বাংলার অবিসংবাদিত জননেত্রী তাই বিজেপি ভুল চাল দিলে এবং অতি উৎসাহে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির মতো হঠকারী পথ নিলে কিন্তু ফল উল্টো হতে পারে। নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও বার বার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২১ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের ফের ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন লড়াই। ফল কী হবে তার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন।
11th  June, 2019
ডাক্তারবাবুদের গণ-ইস্তফা নজিরবিহীন,
কিন্তু তাতে কি হাসপাতাল সমস্যা মিটবে?

 এ-কথাও তো সত্যি যে, হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বা ডাক্তারবাবুদের যথাযথ নিরাপত্তা বিধানে তাঁর সদিচ্ছা আছে এবং ইতিমধ্যেই তার যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রবীণদের বৈঠকে ডেকে মুখ্যমন্ত্রী সমাধানসূত্র খুঁজছেন— সেটাও কি ওই সদিচ্ছারই নামান্তর নয়? বিশদ

16th  June, 2019
নরেন্দ্র মোদির মালদ্বীপ সফর এবং ভারত মহাসাগরে ভারতের নতুন রণনীতি
গৌরীশঙ্কর নাগ

 মোদিজির এই দ্বীপপুঞ্জ-সফর কেবলমাত্র হাসি বিনিময় ও করমর্দনের রাজনীতি হবে না, বরং এর প্রধান অ্যাজেন্ডাই হল প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মজবুত করা। তবে সেটা করতে গিয়ে ভারত যেন দ্বীপপুঞ্জের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অযথা হস্তক্ষেপ না করে বসে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, ভারত মালদ্বীপকে সন্ত্রাসবাদের নয়া ‘আঁতুড়ঘর’ হতে দেবে। কারণ ইতিমধ্যেই আমরা দেখেছি পাকিস্তান, আফগানিস্তান এমনকী মধ্যপ্রাচ্য থেকেও জেহাদি নেটওয়ার্কের কারবার মালদ্বীপেও পৌঁছে গিয়েছে। এই র‌্যাডিক্যালিজমের একমাত্র দাওয়াই হল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তার সহায়ক শক্তি হিসেবে রাজনৈতিক স্থিরতা।
বিশদ

15th  June, 2019
সতর্কতার সময়
সমৃদ্ধ দত্ত

 ভারতীয় সংস্কৃতির সনাতন ধারাটি হল দিবে আর নিবে, মিলিবে মেলাবে। কিন্তু সেই সংস্কৃতি থেকে আমাদের সরিয়ে এনেছে অসহিষ্ণুতা আর স্বল্পবিদ্যা। আর সবথেকে বেশি জায়গা করে নিয়েছে বিদ্বেষ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বিদ্বেষ।
বিশদ

14th  June, 2019
ক্ষমতার ‘হিন্দি’ মিডিয়াম
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 উত্তর ভারতের সঙ্গে দক্ষিণের সীমারেখা। আর তার কারিগর আমরাই। আমাদের কাছে সাউথ ইন্ডিয়ান মানে মাদ্রাজি। দক্ষিণ ভারতের লোকজন নারকেল তেল খায়, অদ্ভুত ওদের উচ্চারণ, লুঙ্গি পরে বিয়েবাড়ি যায়... হাজারো আলোচনা। উত্তর ভারত মানে বিষম একটা নাক উঁচু ব্যাপার। আর দক্ষিণ মানেই রসিকতার খোরাক। তাই ওদের একটু ‘মানুষ’ করা দরকার। কীভাবে সেটা সম্ভব? হিন্দি শেখাতে হবে। বিশদ

13th  June, 2019
মোদিজি কি ‘সবকা বিশ্বাস’ অর্জন করতে পারবেন?
পি চিদম্বরম

 নরেন্দ্র মোদি এবার যে জনাদেশ পেয়েছেন তা অনস্বীকার্যভাবে বিপুল। যদিও, অতীতে লোকসভা নির্বাচনে একটি পার্টি ৩০৩-এর বেশি আসন জেতার একাধিক দৃষ্টান্ত আছে। যেমন ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধী ৩৫৩ এবং ১৯৮৪ সালে রাজীব গান্ধী ৪১৫ পেয়েছিলেন।
বিশদ

10th  June, 2019
 বিজেপি এ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে
কঠিন চ্যালেঞ্জ মনে করছে কেন?
শুভা দত্ত

 কয়েকদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক খুনের ঘটনা ঘটে গেল রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে। তাই আজও একই প্রসঙ্গ দিয়ে এই নিবন্ধ শুরু করতে হচ্ছে। গত সপ্তাহেই লিখেছিলাম, ভোটফল প্রকাশের পর রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় যেন একটা হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।
বিশদ

09th  June, 2019
ইচ্ছে-ডানায় নাচের তালে
অতনু বিশ্বাস

এ বছরের সিবিএসই পরীক্ষার ফল বেরতে দেখা গেল, প্রথম হয়েছে দু’টি মেয়ে। একসঙ্গে। ৫০০-র মধ্যে তারা পেয়েছে ৪৯৯ করে। দু’জনেই আবার আর্টসের ছাত্রী। না, পরীক্ষায় আজকাল এত এত নম্বর উঠছে, কিংবা আর্টস বিষয় নিয়েও প্রচুর নম্বর তুলে বোর্ডের পরীক্ষায় র‍্যাঙ্ক করা যায় আজকাল—এগুলোর কোনওটাই আমার আলোচনার বিষয়বস্তু নয়।
বিশদ

08th  June, 2019
ভারতের রাজনীতিতে ‘গেম মেকার’
মৃণালকান্তি দাস

মেধাবী হলেই যে পড়ুয়ার জন্য মোটা বেতনের চাকরি নিশ্চিত, তার কোনও গ্যারান্টি নেই। শুধু প্রতিভা থাকলে আর পরিশ্রমী হলেই হবে না, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং ঠিকঠাক ‘গাইড’ না পাওয়ায় পড়ুয়ারা আজ আর সরকারি চাকরির লক্ষ্যভেদ করতে পারেন না।
বিশদ

07th  June, 2019
অবিজেপি ভোটে বাজিমাত
বিজেপির, এবং তারপর...
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আলোড়ন! নিঃসন্দেহে একটা জবরদস্ত আলোড়ন উঠেছে। লোকসভা ভোটফল প্রকাশ হওয়া ইস্তক সেই আলোড়নের দাপটে রাজ্য-রাজনীতি থেকে সাধারণের অন্দরমহল জল্পনা-কল্পনা, বিবাদ-বিতর্ক, আশা-আশঙ্কায় যাকে বলে রীতিমতো সরগরম! পথেঘাটে আকাশে বাতাসে যেখানে সেখানে ছিটকে উঠছে উৎকণ্ঠা নানান জিজ্ঞাসা।
বিশদ

06th  June, 2019
কর্ণাটক পুরনির্বাচন: আবার উল্টালো ভোটফল
শুভময় মৈত্র 

নির্বাচনে ভোটফল নিয়ে কখন যে কী ঘটছে তার ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না মোটেই। মানুষ অবশ্যই মত বদলাবেন। সে স্বাধীনতা তাঁদের আছে। সে জন্যেই তো ভোটফল বদলায়। নাহলে সংসদীয় গণতন্ত্রের কোনও অর্থই থাকে না।  
বিশদ

04th  June, 2019
বাংলায় রামবোকামির মরশুম
হারাধন চৌধুরী 

আমার মামার বাড়ি ভারত-বাংলাদেশের একটি সীমান্ত গ্রামে। বলা বাহুল্য, আমার মায়ের জন্ম দেশভাগের অনেক আগে। স্বভাবতই তাঁর স্মৃতির অনেকখানি জুড়ে ছিল অখণ্ড ভারতীয় গ্রামদেশ ও তার সংস্কৃতি। ১৯৪৭-এ মায়ের শৈশবের গ্রামের উপর দিয়েই ভাগ হয়ে গিয়ে ভারতের ভূগোল এবং ইতিহাস খুলেছিল এক নতুন অধ্যায়। 
বিশদ

04th  June, 2019
বিভাজনের ঘোলা জলে হারিয়ে যাচ্ছে বিকাশ
সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

এক জার্মান দার্শনিক হিটলারের আমলে আমাদের সচেতন করেছিলেন এই বলে—তোমরা সবাই ছোট মানুষ (লিটল ম্যান) তোমাদের কোনও প্রশ্নের অধিকার আছে কি? বৃহৎ রাষ্ট্রযন্ত্রে তোমাদের অস্তিত্বটা কোথায়! তা কী অনুধাবন করতে পেরেছ? নাটবল্টুদের কোনও প্রশ্ন থাকা উচিত নয়।
বিশদ

03rd  June, 2019
একনজরে
  নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইন্ডিপেনডেন্ট সেফটি অথরিটি (আইএসএ)-র ছাড়পত্র ইতিমধ্যেই চলে এসেছে। এবার বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চালানোর আগে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কমিশনার অব রেলওয়ে সেফটি (সিআরএস)-র ...

  রাষ্ট্রসঙ্ঘ, ১৬ জুন (পিটিআই): ইউএন মিশন ইন সাউথ সুদান (ইউএনএমআইএসএস) কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ভারতীয় শান্তিরক্ষা বাহিনীর প্রশংসায় মুখর হল রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও স্থানীয় সংগঠনগুলি। ...

 সৌম্যজিৎ সাহা, কলকাতা: আয়-ব্যয়ের নিরিখে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে কত টাকা উদ্বৃত্ত রইল, বা আয়ের চেয়ে বেশি খরচ হয়ে গেল কি না, তা নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশিত ...

সংবাদদাতা, বালুরঘাট: সম্প্রতি বালুরঘাট শহরে নকল প্রসাধনী সামগ্রী উদ্ধার হওয়ার ঘটনা বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। শহরে প্রচুর প্রসাধনী সামগ্রীর দোকান খুলেছে। ওসব দোকানে বিভিন্ন নামিদামী ব্র্যান্ডের প্রসাধনী সামগ্রী রাখা হয়।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

সম্পত্তিজনিত বিষয়ে অশান্তি বৃদ্ধির আশঙ্কা, আত্মীয়-পরিজনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি। শেয়ার, ফাটকা, লটারিতে অর্থাগম, কর্মক্ষেত্রে গোলযোগের ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৯৬: জাপানে সুনামিতে ২২ হাজার মানুষের মৃত্যু
১৯৫০: শিল্পপতি লক্ষ্মী মিত্তালের জন্ম
১৯৫৩: চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিংয়ের জন্ম
১৯৬৯: জার্মানির গোলকিপার অলিভার কানের জন্ম 

15th  June, 2019
ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৭৩ টাকা ৭০.৪২ টাকা
পাউন্ড ৮৬.৫৭ টাকা ৮৯.৭৯ টাকা
ইউরো ৭৬.৯৪ টাকা ৭৯.৯৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
15th  June, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৩, ২০৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩১, ৭৯০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩২, ২৬৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭, ১৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭, ২৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
16th  June, 2019

দিন পঞ্জিকা

১ আষা‌ঢ় ১৪২৬, ১৬ জুন ২০১৯, রবিবার, চতুর্দশী ২২/৪৬ দিবা ২/২। অনুরাধা ১২/৫৮ দিবা ১০/৭। সূ উ ৪/৫৫/৪২, অ ৬/১৮/২০, অমৃতযোগ দিবা ৬/৪৩ গতে ৯/২৩ মধ্যে পুনঃ ১২/৩ গতে ২/৪৪ মধ্যে। রাত্রি ৭/৪৩ মধ্যে পুনঃ ১০/৩৩ গতে ১২/৪১ মধ্যে, বারবেলা ৯/৫৬ গতে ১/১৭ মধ্যে, কালরাত্রি ১২/৫৭ গতে ২/১৭ মধ্যে।
৩২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৬ জুন ২০১৯, রবিবার, চতুর্দশী ২২/২২/৭ দিবা ১/৫২/২২। অনুরাধানক্ষত্র ১৪/৮/৫৬ দিবা ১০/৩৫/৫, সূ উ ৪/৫৫/৩১, অ ৬/২০/৩৫, অমৃতযোগ দিবা ৬/৪৬ গতে ৯/২৬ মধ্যে ও ১২/৭ গতে ২/৪৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪৭ মধ্যে ও ১০/৩৭ গতে ১২/৪৪ মধ্যে, বারবেলা ৯/৫৭/২৫ গতে ১১/৩৮/৩ মধ্যে, কালবেলা ১১/৩৮/৩ গতে ১/১৮/৪১ মধ্যে, কালরাত্রি ১২/৫৭/২৫ গতে ২/১৬/৪৭ মধ্যে।
 ১২ শওয়াল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বিশ্বকাপ: বাংলাদেশ ৭ উইকেটে হারাল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে 

10:48:57 PM

বিশ্বকাপ: বাংলাদেশ ২১০/৩ (৩০ ওভার)(টার্গেট ৩২২)  

09:57:10 PM

বিশ্বকাপ: বাংলাদেশ ১৩৮/৩ (২০ ওভার) 

09:04:26 PM

কাল থেকে হাসপাতালগুলিতে স্বাভাবিক হচ্ছে পরিষেবা
অবশেষে উঠল জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতি। আজ নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের ...বিশদ

08:39:26 PM

বিশ্বকাপ: বাংলাদেশ ৭০/১ (১০ ওভার) 

08:11:12 PM

বিজেপির জাতীয় কার্যকরী সভাপতি হলেন জেপি নাড্ডা 

08:05:00 PM