Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

বারুদের স্তূপের উপর পশ্চিমবঙ্গ
হিমাংশু সিংহ

লোকসভার ফলে পালাবদলের গন্ধ পেয়েই পশ্চিমবঙ্গের গ্রামে শহরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বিজেপি। তাই ঘরে ঘরে চায়ের আড্ডায় আদালতে অফিসে মাঠে ময়দানে লোকসভার ফল বেরনো ইস্তক একটা কী হয় কী হয় ভাব। একটাই আলোচনা ২০২১-এ কী হবে? আগ্রাসী একদল ক্ষমতা দখলের আশায় টগবগে উদ্দাম, আর অন্য শিবিরে হতাশা, উত্তেজনা আর ভয় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে খোদ ভগবানের নামেও মেজাজ হারাচ্ছেন মাটি থেকে উঠে আসা তৃণমূল শাসক। ২৩ মে-র পর বাংলা অভিধানে একটা নতুন গালাগালি সংযুক্ত হয়েছে ‘জয় শ্রীরাম’। এতই মারাত্মক অবমাননাকর এই শব্দবন্ধ যে রাস্তায় নেমে চোখ কপালে তুলে পুলিসকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নিদান দিয়েছেন অগ্নিকন্যা। ভাইরাল হয়েছে সে ছবি। অথচ প্রতিবাদী গণআন্দোলনের মধ্যে দিয়ে বিক্ষোভ অবরোধের নানা কঠিন ধাপ পেরিয়েই তাঁর বিরোধী নেত্রী থেকে ‘সফল’ শাসকে উত্তরণ। আর আজ তাঁর আট বছরের শাসনকাল যেতে না-যেতেই সেই আন্দোলন, বিক্ষোভ, প্রতিবাদের মতো শব্দগুলো তাঁর কাছে রাজ্যে হিংসা ও অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা মাত্র! এ কোন উলটপুরাণ দেখছে বাংলা? অথচ আজকের শাসক তথা সেদিনের বিরোধী নেত্রীর উপস্থিতিতেই বিধানসভায় ঢুকে অন্যায় ভাঙচুর, দুর্গাপুর এক্সপ্রেস ওয়ে আটকে দিনের পর দিন ধর্না বিক্ষোভ, ধর্মতলার অনশন, সবই কি আজ বিস্মৃতপ্রায় অধ্যায়! এমন একটা ভাব যেন কিছুই হয়নি কিংবা সবই আইন মেনে শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছিল সেদিন।
বাস্তবে পরিবর্তন ও তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উত্তাল আন্দোলন, রক্তক্ষয় বড় কম দেখেনি এই বাংলার মাটি। সত্তরের উত্তাল নকশাল আন্দোলন দেখেছে। বাহাত্তর থেকে সাতাত্তর সিদ্ধার্থশঙ্করের জমানার কলঙ্কিত শাসন ও জরুরি অবস্থার অন্যায় বাড়াবাড়ি দেখেছে। অবলীলায় আঠারো থেকে আটাশের মৃত্যুমিছিল দেখেছে। প্রাণ বাঁচাতে যুব সমাজের এ রাজ্য থেকে পালানোর সেই শুরু। তারপর সিপিএমের ৩৪ বছর ধরে একটানা কর্মসংস্থান ও শিল্পকে বিসর্জন দিয়ে আপাত শ্মশানের শান্তির আড়ালে ভোটলুটের জমজমাট কারবার দেখেছে। সংগঠন ও প্রশাসনের জোরে বামেদের ভোট পৌঁছে গিয়েছিল সে সময় ৫০ শতাংশে। কিন্তু সবকিছুকে পার্টিমুখী করতে গিয়ে আর গোটা ব্যবস্থাকে বিরোধী-শূন্য করার নেশায় কখন মানুষই ব্রাত্য হতে হতে দূরে সরে গিয়েছে বাম নেতারা তার আঁচটুকুও পাননি। কোনও শাসকই বোধহয় ক্ষমতার নেশায় যখন বুঁদ হয়ে যান তখন ওই আঁচটা পান না। পাওয়ার কথাও নয়। তাই সব শাসকই প্রতিবাদ দেখলেই পুলিসকে ব্যবহার করে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে দমন-পীড়নের কঠিন রাস্তায় নেমে পড়েন। মানুষের মনটা পরখ করে দেখার চেষ্টা করেন না কেউ। আর এই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস থেকেই বাম নেতারা মানুষকে, মানুষের ভোটকে চিরদিনের জন্য তাদের কেনা ভেবেছিলেন। বাস্তবে যা কখনও সম্ভব নয়। আর বামেদের সেই অতিরিক্ত আত্মসন্তুষ্টি আর দৌরাত্ম্যের জেরেই ২০১১-র বহুকাঙ্ক্ষিত ঐতিহাসিক পরিবর্তন এল। উল্টে গেল সাড়ে তিন দশকের রাজ্যপাট। এসবই যেন অবলীলায় ঘটে গিয়েছে এই বাংলায়।
চাকরি নেই, শিল্প নেই। তাতে কী হয়েছে, রাজনীতি, দলাদলি, হানাহানি তো আছে চুটিয়ে! সঙ্গে দোসর খেলা মেলা উৎসব। গত সাত বছরে ঘটা করে বহু কোটি টাকা খরচে ঢালাও খানাপিনার ব্যবস্থা করে শিল্প সম্মেলন বড় কম হয়নি। কিন্তু বড় উৎপাদনমুখী শিল্প কী এসেছে। কোনও বড় কারখানা যেখানে দশ, পনেরো হাজার লোক কাজ পেতে পারে তা কি হয়েছে? হয়নি। ফলে এরাজ্যের শত শত বেকারের ভাগ্য ফেরারও আশাও প্রায় নেই। সেদিকে নজর দেওয়ার ফুরসতটুকুও কারোর নেই। মরলে তো মরবে গরিব দিনআনা দিনখাওয়া পরিবারগুলো। নেতানেত্রীদের, তাঁদের ছেলেমেয়েদের তো আর পেটের দায় নেই! আছে তোলা আর সিন্ডিকেটের পয়সায় নিত্যনতুন সম্পত্তি আর দামি গাড়ি কেনার বিষম রকমারি আহ্লাদ। কালো কাচ তুলে মা মাটি মানুষের বুকের উপর দিয়েই ধুলো উড়িয়ে ছোটে ঝাঁ চকচকে সাদা স্করপিও কিংবা আরও দামি রং-বেরঙের গাড়ি। ধুলোমাখা মাটির মানুষ প্রমাদ গোনে আর বলে ওই দ্যাখ, নেতার ব্যাটা, ভাইপো কিংবা ভাগ্নে যাচ্ছে। আহা কত উন্নয়ন! আর দু’পকেটে ডিগ্রি নিয়ে এরাজ্যের অসহায় ছেলেমেয়েরা ছুটছে ভিন রাজ্যে, ভিন দেশে একটা চাকরির আশায়। মেস করে কোনও মতে দূর দূরান্তরে একটা ছোট্ট ঘরে থাকছে চার পাঁচজন মিলে। দু’বেলা পরিমিত খাবার জুটছে কি জুটছে না, সে খোঁজ কে রাখে। আর সংকীর্ণ রাজনীতি ও ইগোর বলি সিঙ্গুর আজও শ্মশান হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের ধারে। নন্দীগ্রামও তথৈবচ। রাজ্যজুড়েই যেন না-হওয়া আর বন্ধ-হওয়া শিল্প কারখানার কঙ্কাল ছড়িয়ে! তবু টনক নড়ে না কারও। আমি, আমি করেই সবাই বুঁদ। আমার প্রতাপ আর প্রভাব প্রতিপত্তি দেখাতেই সবাই মত্ত, অন্যকিছু ভাবার সময়ই নেই। না-হলে সিন্ডিকেট, তোলাবাজি, পরের মেরে খাওয়ার বিরুদ্ধে কালীঘাটের টালির চালায় ডাকা কোর কমিটির বৈঠকে বারবার যুদ্ধ ঘোষণা করতে দেখা গিয়েছে। কাগজে হেডলাইন হয়েছে। কিন্তু সবই কথার কথা। গত আট বছরে সিন্ডিকেট শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে গোটা রাজ্যটাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধেছে। আর বৈঠক ডাকলে যাঁরা কালীঘাটের ঘর আলো করে বসে থাকেন তাঁরাই সিন্ডিকেটের বড় বড় চাঁই, আশ্রয়দাতা। রক্ষকই যেখানে ভক্ষক সেখানে মানুষ সুবিচার পাবে কোথায়। আর তোলাবাজি আর সিন্ডিকেটের টাকার আসল শাঁসটা কোথায় কার পকেটে যায় তা কী কারও অজানা!
কিন্তু, এসব কিছুই যে সংসদীয় রাজনীতিতে চিরস্থায়ী নয়। কারও মৌরসিপাট্টাই গণতন্ত্রে বেশিদিন টেকে না। সব সাজানো বাগানই একদিন শুকিয়ে যায় কালের নিয়মে। ইতিহাস কয়েক বছর অন্তর ফিরে ফিরে আসে আর ধুরন্ধর শাসককে চরম শিক্ষা দিয়ে তাঁকে, তাঁর ক্ষমতাকে ধুলোয় লুটিয়ে দিয়ে আবার ফকির করে দিয়ে যায়। সব ক্ষমতা এক ভোটে বিলীন। ধূলিসাৎ। আর এখানেই মহান গণতন্ত্রের জিত আর চমৎকারিত্ব। আর সেই দিক দিয়ে ২৩ মে-র ফল এই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকেও আবার এক মহান সন্ধিক্ষণের দিকেই যেন ঠেলে দিয়েছে। ‘বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ’ হয়নি, ‘২০১৯ বিজেপি ফিনিশ’—তাও হয়নি। উল্টে সারাদেশে বিজেপি থ্রি-নট-থ্রি (অর্থাৎ ৩০৩টি) আসন জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভোট-পণ্ডিতদের। এরাজ্যের পরিণাম আরও চিত্তাকর্ষক। ৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে ৪২ আসনের মধ্যে ১৮টি আসন জিতে শাসক নেত্রীর ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলার জায়গায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। শাসক পেয়েছে ২২ আসন। ব্যবধান কমছে। এটাকে সন্ধিক্ষণ বলব না তো বলব কাকে! স্লোগান উঠেছে ‘উনিশে হাফ, একুশে সাফ’। ভয়ঙ্কর আস্ফালন সন্দেহ নেই। তবে প্রতিপক্ষকেও সংযত হতে হবে। শান্তিশৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে বজায় রেখে, চিরাচরিত পরম্পরাকে সম্মান দিয়েই যা করার করতে হবে। না-হলে শুধু দল ভাঙিয়ে আর আস্ফালন করে বাংলার মানুষের সামগ্রিক আস্থা অর্জন করা যাবে না। তবে বাতাসের গতিপ্রকৃতি কিন্তু দ্রুত বদলাচ্ছে। আর তার জেরেই পালাবদলের ইঙ্গিতবাহী লোকসভা ভোটের ফলের দু’সপ্তাহ যেতে না-যেতেই রাজ্যটা যেন ক্রমেই বারুদের স্তূপে পরিণত হচ্ছে। হানাহানি, রক্তারক্তি বাড়ছে। একদল ক্ষমতা দখলের জন্য, গণতন্ত্রের ফের প্রতিষ্ঠার জন্য উদগ্রীব আর একদল ক্ষমতা ধরে রেখে বিরোধী-শূন্য রাজ্যটাকে বছরের পর বছর শাসন করার ছাড়পত্র পেতে মরিয়া।
সংঘাত সংঘর্ষ তাই অবশ্যম্ভাবী। ২০২১-এর বিধানসভা ভোট পর্যন্ত তাই আরও উত্তাল হবে রাজ্য। যার অনিবার্য পরিণতি সন্দেশখালি। যার অনিবার্য পরিণতি উত্তরবঙ্গের একাধিক ঘটনা। প্রতিরোধ হচ্ছে। মুখ বুজে গ্রামবাংলা আর কারও নির্দেশ মানতে রাজি নয়। পঞ্চায়েত ভোটে ৩৪ শতাংশ আসনে বিপক্ষরা প্রার্থী পর্যন্ত দিতে পারেনি। সবটাই হয়েছে একতরফা। গ্রামের মানুষের দাঁত ও চোয়াল চাপা প্রতিশোধই প্রতিফলিত হয়েছে গত ২৩ মে লোকসভা ভোটের ফলাফলে। সেই পরিণাম বেরনো ইস্তক এবং বিজেপির গোটা উত্তরবঙ্গ, বর্ধমান, মেদিনীপুর, হুগলি ও নদীয়ায় আশাতীত ফল করার পর একটা কথাই বারংবার শোনা যাচ্ছে যে বামেদের ভোটটা বিজেপিতে যাওয়ার জন্যই নাকি বিজেপি প্রায় রাজ্যের অর্ধেক লোকসভা আসন জিতে নিয়েছে। এসবই আসলে সিপিএমের নিজের নাক কেটে পরের যাত্রাভঙ্গ করার চক্রান্ত। যারা একথা বলছে, তারা একবারও ভেবে দেখছে না, সংসদীয় গণতন্ত্রে ভোট ও ভোটার কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়। তাই এই ভোটটা বামেদের কেনা, একথা বলা চরম মূর্খামি ছাড়া আর কিছুই নয়। যদি ৪৯-৫০ শতাংশ ভোট এখনও বামেদের অটুট থাকত তাহলে কি ২০১১-র পরিবর্তন রূপ পেত, না আজ তৃণমূলের এত রমরমা হতো। কিছুতেই হতো না।
নদীর মতো ভোটেরও একূল ভাঙে আর ওকূল গড়ে। এরাজ্যে কংগ্রেস ও সিপিএম সম্মিলিতভাবেও এই মুহূর্তে প্রবল পরাক্রান্ত তৃণমূলের মোকাবিলা করতে পারবে না, একথা মানুষ জানে। তাই সমস্ত তৃণমূল-বিরোধী শক্তি আগামী দু’বছর আরও বেশি করে গেরুয়া ছাতার তলায় আশ্রয় নেবে, এর মধ্যে কোনও অতিশয়োক্তি নেই। এটাই বাস্তব। এবং, এই যুবসমাজের কাছে সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাক বা দুনিয়ার মজদুর এক হওয়ার স্লোগান আজ পুরোপুরি ব্রাত্য। তৃণমূলকে শিক্ষা দিতে তাই বাম-কংগ্রেস কর্মীরাও বেশি বেশি করে আগামী দিনে নরেন্দ্র মোদির ‘দিদি আপকা জায়গির খতম হোনে বালা’ শব্দবন্ধেই ভরসা রাখবে। তাই সিপিএমের ভোট সাত শতাংশ থেকে আগামী বিধানসভায় দু’শতাংশে নেমে গেলেও আশ্চর্যের কিছু থাকবে না, আর কংগ্রেসের এক শতাংশেরও নীচে। শেষ প্রহরে মমতা ম্যাজিক বড় কিছু ওলটপালট না-করে দেখালে এ যাত্রায় লড়াই কিন্তু খুবই কঠিন। তার চেয়েও কঠিন এই উত্তাল সময়ে রাজ্যটাকে শান্ত রাখা। যেহেতু তিনি এই বাংলার অবিসংবাদিত জননেত্রী তাই বিজেপি ভুল চাল দিলে এবং অতি উৎসাহে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির মতো হঠকারী পথ নিলে কিন্তু ফল উল্টো হতে পারে। নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও বার বার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২১ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের ফের ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন লড়াই। ফল কী হবে তার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন।
11th  June, 2019
২১ জুলাই সমাবেশ: মমতা কী বার্তা দেন জানতে উৎসুক বাংলা
শুভা দত্ত

ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে প্রতিবছর মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দিনটিতে বড়সড় সমাবেশের আয়োজন করে তাঁর প্রয়াত সহযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
বিশদ

ছোটদের বড় করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

সব থেকে ভালো হয়, যদি আপনার ‘বাছা’কে নিজের মতো বেড়ে উঠতে দেন। আনন্দে বেড়ে উঠুক। আলো চিনিয়ে দিন, অন্ধকার চিনিয়ে দিন। লক্ষ্য রাখুন, ঠিকঠাক এগচ্ছে কি না! সামনে পিছনে কত ফাঁদ, চোরাবালি। আপনিই ঈশ্বর, ওকে রক্ষা করুন। ছোটদের ‘বড়’ করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে। দয়া করে ওর উপর মাতব্বরি করবেন না, হ্যাঁ আমরা মাতব্বরিই করি।
বিশদ

20th  July, 2019
জন্ম এবং মৃত্যুর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি অকস্মাৎ আমার একটি বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। এই উপলক্ষে জগতে সকলের চেয়ে পরিচিত যে মৃত্যু তার সঙ্গে আর-একবার নূতন পরিচয় হল। জগৎটা গায়ের চামড়ার মতো আঁকড়ে ধরেছিল, মাঝখানে কোনো ফাঁক ছিল না। মৃত্যু যখন প্রত্যক্ষ হল তখন সেই জগৎটা যেন কিছু দূরে চলে গেল, আমার সঙ্গে আর যেন সে অত্যন্ত সংলগ্ন হয়ে রইল না।
——— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশদ

20th  July, 2019
অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

19th  July, 2019
বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
ঘোষণা ও বাস্তব
সমৃদ্ধ দত্ত

ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান একটি প্রকল্পই হল নদী সংযোগ প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন নদীকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। যাতে উদ্বৃত্ত জলসম্পন্ন নদী থেকে বাড়তি জল শুকনো নদীতে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বারংবার এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। গোটা প্রকল্প রূপায়ণ করতে অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকা দরকার। এদিকে আবার বুলেট ট্রেন করতেও ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে! আধুনিক রাষ্ট্রে অবশ্যই দুটোই চাই। কিন্তু বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিচার করলে? কোনটা বেশি জরুরি? বিশদ

12th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

 কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর থেকে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১৯-এর যে খসড়া প্রকাশিত হয়েছে তার যে অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে হই চই পড়েছিল তা হল বিদ্যালয় স্তরে ত্রি-ভাষা নীতির মাধ্যমে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে জোর করে হিন্দি চাপানোর বিষয়টি। তামিলনাড়ুর মানুষের প্রবল আপত্তিতে তা কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
বিশদ

11th  July, 2019
একনজরে
 ওয়াশিংটন, ২০ জুলাই (পিটিআই): আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মুম্বই হামলার মূলচক্রী হাফিজ সইদকে গ্রেপ্তার করেছে পাকিস্তান। এরপরেও পাকিস্তানের উপর থেকে সন্দেহ যাচ্ছে না আমেরিকার। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রবীণ এক কর্তাব্যক্তি শুক্রবার জানিয়েছেন, আগেও হাফিজকে গ্রেপ্তার করেছিল ইসলামাবাদ। ...

পল্লব চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: তিনিই যোগ্যতম। বাণিজ্য শাখার স্কুল শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন ২০০১ সালের ৩০ জুলাই। কিন্তু, কম যোগ্যতাসম্পন্নদের স্কুলে শিক্ষক পদে রেখে দেওয়া হলেও তাঁর চাকরি বিগত ১৮ বছরেও অনুমোদিত হয়নি। তাঁর মামলা সূত্রে দেওয়া কলকাতা হাইকোর্টের একাধিক ...

সংবাদদাতা, বালুরঘাট: বালুরঘাট শহরের বিভিন্ন রাস্তায় গবাদিপশুর বিচরণ বেড়ে যাওয়া ব্যাপক সমস্যার পড়েছেন পথচলতি সাধারণ মানুষ। শহরের যত্রতত্র গোরু, ছাগল ঘোরাঘুরি করলেও সেসব ধরে সংশ্লিষ্ট মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ...

সংবাদাতা, রায়দিঘি: রাজ্যে বর্ষা ঢুকে গিয়েছে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত বৃষ্টিতে ভেসে গেলেও দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দেখা নেই। তাই বৃষ্টি যাতে দ্রুত আসে, সেই কারণে ধুমধাম করে ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চবিদ্যার ক্ষেত্রে ভালো ফল হবে। ব্যবসায় যুক্ত হলে খুব একটা ভালো হবে না। প্রেমপ্রীতিতে বাধাবিঘ্ন। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯২০: মা সারদার মৃত্যু
১৮৬৩: কবি, গীতিকার ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম
১৮৯৯: লেখক বনফুল তথা বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫৫: প্রাক্তন ক্রিকেটার রজার বিনির জন্ম
২০১২: বাংলাদেশের লেখক হুমায়ুন আহমেদের মূত্যু 

20th  July, 2019
ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৫ টাকা ৬৯.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৭৭ টাকা ৮৭.৯২ টাকা
ইউরো ৭৬.১০ টাকা ৭৯.০৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
20th  July, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৫২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৭০৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৪,২১০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৫৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৬৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ২১ জুলাই ২০১৯, রবিবার, চতুর্থী ১৬/২২ দিবা ১১/৪০। শতভিষা ৫/৪৫ দিবা ৭/২৫। সূ উ ৫/৬/৫২, অ ৬/১৮/১৬, অমৃতযোগ প্রাতঃ ৫/৫৯ গতে ৯/৩১ মধ্যে। রাত্রি ৭/৪৫ গতে ৯/১১ মধ্যে, বারবেলা ১০/৪ গতে ১/২২ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৩ গতে ২/২৪ মধ্যে।
৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ২১ জুলাই ২০১৯, রবিবার, চতুর্থী ৯/২৬/৩১ দিবা ৮/৫২/১৬। শতভিষানক্ষত্র ২/০/৪৮ প্রাতঃ ৫/৫৩/৫৯, সূ উ ৫/৫/৪০, অ ৬/২১/৪৭, অমৃতযোগ দিবা ৬/৪ গতে ৯/৩২ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪১ গতে ৯/৮ মধ্যে, বারবেলা ১০/৪/১৩ গতে ১১/৪৩/৪৪ মধ্যে, কালবেলা ১১/৪৩/৪৪ গতে ১/২৩/১৪ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৪/১২ গতে ২/২৪/৪২ মধ্যে।
১৭ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বিজেপিতে যোগ দিলেন অভিনেত্রী রিমঝিম মিত্র 
বিজেপিতে যোগ দিলেন আরও কয়েকজন অভিনেতা-অভিনেত্রী। এদিন বিজেপির রাজ্য সভাপতির ...বিশদ

04:25:11 PM

মুম্বইয়ের কোলাবায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একজনের মৃত্যু, জখম ১ 

03:50:12 PM

তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের সভা মেগা ফ্লপ শো: দিলীপ ঘোষ 

03:47:10 PM

টাকা দিয়েও তৃণমূল সভা সফল করতে পারেনি: দিলীপ ঘোষ 

03:42:00 PM

ইন্দোনেশিয়া ওপেনের ফাইনালে হারলেন পি ভি সিন্ধু 
ইন্দোনেশিয়া ওপেনের ফাইনালে জাপানের আকেন ইয়ামাগুচির কাছে ১৫-২১, ১৬-২১ পয়েন্টে ...বিশদ

02:57:15 PM

ওঃ ইন্ডিজ সফরে তিন ফরম্যাটের ভারতীয় দল ঘোষণা
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের জন্য ঘোষণা করা হল ভারতীয় টেস্ট, ওয়ান ...বিশদ

02:34:49 PM