Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

 বিজেপি এ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে
কঠিন চ্যালেঞ্জ মনে করছে কেন?
শুভা দত্ত

কয়েকদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক খুনের ঘটনা ঘটে গেল রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে। তাই আজও একই প্রসঙ্গ দিয়ে এই নিবন্ধ শুরু করতে হচ্ছে। গত সপ্তাহেই লিখেছিলাম, ভোটফল প্রকাশের পর রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় যেন একটা হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। সেই বাতাবরণ যে এখনও কিছুমাত্র বদলায়নি তা গত কয়েকদিনের ঘটনাবলিই প্রমাণ করেছে। এবং সত্যি বলতে কী, এখন তো মনে হচ্ছে হিংসার সেই বাতাবরণ রাজ্যে ক্রমশ তার পরিধি বাড়াচ্ছে, আর তার অনিবার্য ফলশ্রুতি হিসেবে সাধারণ জনমনে বাড়ছে শঙ্কা আশঙ্কা দুশ্চিন্তার মেঘ! এমনকী বিজেপির চমকপ্রদ ফলে যাঁরা যথেষ্ট আনন্দ বোধ করেছিলেন তাঁদের মধ্যেও এইসব মারামারি, খুনোখুনি ভাঙচুরের ঘটনা একটা বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করছে। তাঁদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে অন্তত আমাদের তেমনটাই মনে হয়েছে। শীর্ষ থেকে তৃণমূল স্তর অবধি বিজেপির সংগঠন যে এখনও তেমন দড় নয়— এটা সকলেই জানেন। কিন্তু, বিজেপির মতো একটা রেজিমেন্টেড পার্টি সেই দুর্বলতা সত্ত্বেও পার্টির নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবে—এমন বিশ্বাস তাঁদের ছিল এবং এখনও আছে। জয়ের আনন্দে বেসামাল নেতাকর্মীরা, বিশেষত যারা অন্য দল থেকে পদ্মশিবিরে এসেছে, বিজয় মিছিলের নামে যাতে অনর্থ ঘটিয়ে না ফেলে সেদিকে বিজেপি আরএসএসের কর্মকর্তাদের কড়া নজর থাকবে এমনটাই যে তাঁদের কাছে প্রত্যাশিত ছিল সেটাও তাঁরা স্বীকার করছেন। কিন্তু, নৈহাটি ভাটপাড়া কাঁচরাপাড়ার সন্ত্রাস পরিবেশ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবমাননা ইত্যাদি তাঁদের সেই বিশ্বাসকে প্রথম ধাক্কা দিয়েছে এবং পরবর্তীতে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষ, খুনোখুনি, বাড়িঘর ভাঙচুরে গেরুয়া বাহিনীর নাম জড়ানো সেই বিশ্বাসকে যে খানিকটা দুর্বল করেছে তাতেও সন্দেহ নেই।
এই তো দেখুন না, উত্তরবঙ্গের দিনহাটা ও দক্ষিণবঙ্গের নিমতায় খুন হয়ে গেলেন দুই তৃণমূল নেতা। কেবল সন্দেহের বশে, হ্যাঁ কেবল চোর সন্দেহে খোদ কলকাতার বুকে মানিকতলায় একটি ক্লাবঘরের ভিতরে নির্মমভাবে পিটিয়ে মারা হল এক যুবককে! শুধু কি তাই? ভোট পরবর্তী হিংসায় কোচবিহার, বালুরঘাট থেকে বীরভূম, মেদিনীপুর থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং অবশ্যই উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়া নৈহাটি কাঁচরাপাড়ার মতো রাজ্যের নানান এলাকা এখনও রক্তাক্ত হচ্ছে, ঘরবাড়ি ভাঙছে, লাঞ্ছিত হচ্ছেন রাজ্যে প্রধান বিবদমান দুই দল বিজেপি তৃণমূলের নেতাকর্মী সমর্থকেরা! বুধবার রাতে বালুরঘাটে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে ভাঙচুর চালাল দুষ্কৃতীরা। তার বদলায় তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে হামলা হল। বাড়ির মহিলাদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল হামলাকারীদের বিরুদ্ধে! এরই পাশাপাশি সাঁইথিয়ায় বিজেপির বিজয় মিছিল ঘিরে তৃণমূলের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধল, আহত হল পাঁচজন। স্থানীয় তৃণমূলের কারও পোলট্রি ফার্মে বোমাবাজির অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে! এর আগে মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ে বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মীকে হেনস্তা মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে! আবার মথুরাপুরে বিজেপি কর্মীকে আক্রমণ এবং মারধরে অভিযুক্ত হয়েছে তৃণমূল! এমন একের পর এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেই চলেছে! কবে যে এই মারামারি শেষ হবে, আদৌ হবে কি না বোঝা যাচ্ছে না! সাধারণ মানুষজনের সঙ্গে কথা বললেই বোঝা যাচ্ছে—পুলিসের একাংশের ভূমিকায় খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো তাঁরাও অসন্তুষ্ট। কেউ কেউ তো রীতিমতো ক্ষুব্ধ! স্বাভাবিক। পুলিসের কাজ পুলিস ঠিকমতো করলে তো সমাজবিরোধী দুষ্কৃতীরা এমন অনর্থ ঘটাতে পারে না, রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনাও অনেকটা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে।
তবে, তথ্যভিজ্ঞরা বলছেন, এইসব ঝামেলার ঘটনা চলতে থাকলে বিজেপির ক্ষতি শাসকের লাভ। শাসক বলতে পারবে বিজেপি রাজ্যে কটা বাড়তি আসন পেয়েই তাণ্ডবে মেতেছে, রাজ্যের ক্ষমতা পেলে কিনা জানি করবে! আর এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে চললে এবং তার বেশিরভাগে পদ্মশিবিরের লোকজনের নাম জড়ালে, যে মানুষজনেরা বিজেপি সমর্থক না হয়েও এবার বিজেপিকে নির্বাচনী সমর্থন জানিয়েছেন, তাঁদের সামনেও আগামী বিধানসভা ভোট অব্দি একটা ভালো জনদরদি ভাবমূর্তি ধরে রাখা বিজেপির পক্ষে কঠিনতর হবে।
বিজেপি শাসক হিসেবে এ রাজ্যে অপরীক্ষিত দল বলেই মানুষ তাদের বিচার করবে বাস্তব পরিস্থিতিতে তাদের কাজকর্ম ও রাজনৈতিক ভূমিকা দেখে। সেখানে যদি তাঁরা দেখেন, গেরুয়াদলের কর্মী নেতাদের একাংশও আর পাঁচদলের মতো বুদ্ধিবলের চেয়ে বাহুবলকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন, ক্ষমতার গন্ধটুকু পেয়েই আগ্রাসী হয়ে উঠেছেন—তবে আমজনতার প্রসন্ন মুখে চিন্তা ও শঙ্কার ছায়া তো নামবেই। আর সেই ছায়া যদি গাঢ় হতে শুরু করে তবে বিজেপির ২০২১ সালের বিধানসভা অভিযানের পথ যে অপেক্ষাকৃত দুর্গম হয়ে উঠবে তা বলাই বাহুল্য। কারণ, বিধানসভা অভিযানে সাফল্য পেতে হলে বিজেপিকে নিজস্ব ১৭ শতাংশ ভোটারের সঙ্গে বাইরের ২২ শতাংশ মানুষকেও পাশে পেতে হবে। বাইরের মানুষ বিরূপ হলে প্রত্যাশিত ফল লাভ যে হবে না সেটা রাজ্য বিজেপি বা আরএসএসের শীর্ষ নেতৃত্ব ভালোই জানেন। আর জানেন বলেই দলে বেনো জলের ঢুকে পড়াতে রাশ টানতে চাইছেন তাঁরা। কিন্তু, বীরভূমের মনিরুলকে চাপা দিতে দিতেই বেদের মেয়ে চরিত্রাভিনেত্রীর গেরুয়া শিবিরে যোগদান নিয়ে নতুন করে ‘নাগরিকত্ব’ বিতর্ক ছড়িয়ে গেল! তথ্যপ্রমাণ দাখিল করে তার অবশ্য একটা জুতসই জবাব বিজেপি দিয়েছে। কিন্তু, বিতর্ক তাতেও পুরোপুরি থামেনি!
কেবল সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ নয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘উন্নয়ন’ও কিন্তু রাজ্য বিধানসভা জয়ের পথে বিজেপির সামনে একটা বড় বাধা। গত সাত সাড়ে সাত বছরে পশ্চিমবঙ্গের গ্রাম শহরে মমতা উন্নয়নের যে বিপুল উদ্যোগ নিয়েছেন, পানীয় জল রাস্তাঘাট হাসপাতাল স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় সমেত যাবতীয় অত্যাবশ্যক পরিষেবার যে বিস্তার ঘটিয়েছেন, স্বাস্থ্যসাথী, কন্যাশ্রীর মতো গরিব সাধারণের অভাব অনটনের সমাধানে আর্থিক অনুদানের যেসব প্রকল্প রূপায়িত করেছেন—তার একটা জোরালো প্রভাব রাজ্যের, বিশেষত গ্রামবাংলার লক্ষ লক্ষ মানুষের মধ্যে এখনও সক্রিয়। একটু ভালোভাবে নজর করলেই তাই বোঝা যায়—বর্তমান শাসকের কাজ নিয়ে মানুষের অভিযোগ তেমন নেই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা এখনও পাহাড় থেকে সাগর লক্ষ লক্ষ মানুষের নয়নের মণি, তাঁর মা-মাটি-মানুষের প্রতি ভালোবাসায় দায়বদ্ধ উজ্জ্বল ভাবমূর্তি এখনও রাজ্যবাসী অধিকাংশের মনে অম্লান। মানুষের যা কিছু ক্ষোভ রাগ অসন্তোষ স্থানীয় তৃণমূলের কিছু অসংযমী, ধান্দাবাজ, দায়িত্বজ্ঞানহীন, তোলাবাজ সিন্ডিকেটি ফড়ে ফেরেব্বাজের ওপর। দলনেত্রী নানা সভাসমিতি থেকে নানা সময় এদের সতর্কবার্তা পাঠিয়েছেন, দল থেকে বহিষ্কার করার হুমকিও দিয়েছেন। তাদের কারও কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপও নিয়েছেন। তাতে কিছু কাজ নিশ্চয়ই হয়েছে। সল্টলেক নিউটাউন রাজারহাটে সিন্ডিকেট রাজের বজ্জাতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। রাজ্যের অন্যত্রও এই শ্রেণীর তৃণমূলীদের দৌরাত্ম্য কিছু কমেছে। সবটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তৃণমূলী ওইসব নেতাকর্মী সকলে সাধু হয়ে গেছে এমন বলছি না। তবে, ভোটফল বেরনোর পর তারাও একটা অশনি সংকেত পেয়েছে। কিন্তু, কয়লা বলে কথা। শত ধুলেও ময়লা কি যায়! এদের অনেকে এখন নতুন গুড়ের লোভে রং পাল্টানোর চেষ্টায় নেমেছে বলে খবর।
এদের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভটাই প্রতিফলিত হয়েছে ভোটবাক্সে—এমনটাই অভিমত তথ্যভিজ্ঞজনেদের অনেকেরই। কিন্তু, বিজেপিতে এদের মুখ দেখলে মানুষের কী প্রতিক্রিয়া হবে তা সহজেই অনুমেয়। সুতরাং এদের আটকানোও এখন গেরুয়া শিবিরের একটা বড় এবং কঠিন কাজ। দ্বিতীয়ত, মমতার উন্নয়নপন্থী ভাবমূর্তির তো কেবল বঙ্গে নয়, দেশ তথা বিশ্বের দরবারেও স্বীকৃতি পেয়েছে। তার একটা আলাদা প্রভাবও আছে বাংলার মানুষজনের মধ্যে। সেখান থেকে মমতাকে সরানোও সহজ কাজ নয়। রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব সেটা ভালোই জানে। এমন পরিস্থিতিতে বঙ্গবাসীর মনে বিজেপি সম্পর্কে নতুন ভাবনা জাগাতে হলে যে একটা ন্যায়পরায়ণ শান্ত-সংযত মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং অবশ্যই সহিষ্ণু ভাবমূর্তি গণদরবারে পেশ
করতে হবে—তাও তাঁদের অজানা নয়। কিন্তু,
নৈহাটি ভাটপাড়া সমেত রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় চোখ রাঙানো সন্ত্রাসের যে আবহ কায়েম হয়েছে
তা সেই ভাবমূর্তি নির্মাণের পথে পদে পদে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।
তার ওপর মমতার মতো নেত্রীর সঙ্গে চোখে চোখ রেখে লড়তে পারেন—এমন মুখ এখনও রাজ্য বিজেপি খুঁজে উঠতে পারেনি। লোকসভার লড়াইটা মোদিজির মুখ দেখিয়ে তাঁর কথা শুনিয়ে তাঁকে ১৮ জনসভায় পেশ করে উতরে যাওয়া গেছে। হয়তো, আগামীতেও রাজ্য বিধানসভার প্রচার সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে গেরুয়া ব্রিগেডের হয়ে মঞ্চে দেখা যাবে। কিন্তু, মূল রণক্ষেত্রে মমতার মোকাবিলা তো তিনি করবেন না। করতে হবে অন্য কাউকে। তিনি কে? এখনও জানে না পশ্চিমবঙ্গ। এই সামগ্রিক পরিপ্রেক্ষিত ও প্রতিকূলতার বিচারেই হয়তো বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব এ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ মনে করছে। এখন এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা বিজেপি শেষ অব্দি কীভাবে কতটা করতে পারে সেটাই দেখার—তাই না?
09th  June, 2019
২১ জুলাই সমাবেশ: মমতা কী বার্তা দেন জানতে উৎসুক বাংলা
শুভা দত্ত

ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে প্রতিবছর মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দিনটিতে বড়সড় সমাবেশের আয়োজন করে তাঁর প্রয়াত সহযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
বিশদ

ছোটদের বড় করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

সব থেকে ভালো হয়, যদি আপনার ‘বাছা’কে নিজের মতো বেড়ে উঠতে দেন। আনন্দে বেড়ে উঠুক। আলো চিনিয়ে দিন, অন্ধকার চিনিয়ে দিন। লক্ষ্য রাখুন, ঠিকঠাক এগচ্ছে কি না! সামনে পিছনে কত ফাঁদ, চোরাবালি। আপনিই ঈশ্বর, ওকে রক্ষা করুন। ছোটদের ‘বড়’ করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে। দয়া করে ওর উপর মাতব্বরি করবেন না, হ্যাঁ আমরা মাতব্বরিই করি।
বিশদ

20th  July, 2019
জন্ম এবং মৃত্যুর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি অকস্মাৎ আমার একটি বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। এই উপলক্ষে জগতে সকলের চেয়ে পরিচিত যে মৃত্যু তার সঙ্গে আর-একবার নূতন পরিচয় হল। জগৎটা গায়ের চামড়ার মতো আঁকড়ে ধরেছিল, মাঝখানে কোনো ফাঁক ছিল না। মৃত্যু যখন প্রত্যক্ষ হল তখন সেই জগৎটা যেন কিছু দূরে চলে গেল, আমার সঙ্গে আর যেন সে অত্যন্ত সংলগ্ন হয়ে রইল না।
——— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশদ

20th  July, 2019
অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

19th  July, 2019
বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
ঘোষণা ও বাস্তব
সমৃদ্ধ দত্ত

ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান একটি প্রকল্পই হল নদী সংযোগ প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন নদীকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। যাতে উদ্বৃত্ত জলসম্পন্ন নদী থেকে বাড়তি জল শুকনো নদীতে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বারংবার এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। গোটা প্রকল্প রূপায়ণ করতে অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকা দরকার। এদিকে আবার বুলেট ট্রেন করতেও ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে! আধুনিক রাষ্ট্রে অবশ্যই দুটোই চাই। কিন্তু বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিচার করলে? কোনটা বেশি জরুরি? বিশদ

12th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

 কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর থেকে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১৯-এর যে খসড়া প্রকাশিত হয়েছে তার যে অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে হই চই পড়েছিল তা হল বিদ্যালয় স্তরে ত্রি-ভাষা নীতির মাধ্যমে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে জোর করে হিন্দি চাপানোর বিষয়টি। তামিলনাড়ুর মানুষের প্রবল আপত্তিতে তা কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
বিশদ

11th  July, 2019
একনজরে
 ওয়াশিংটন, ২০ জুলাই (পিটিআই): আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মুম্বই হামলার মূলচক্রী হাফিজ সইদকে গ্রেপ্তার করেছে পাকিস্তান। এরপরেও পাকিস্তানের উপর থেকে সন্দেহ যাচ্ছে না আমেরিকার। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রবীণ এক কর্তাব্যক্তি শুক্রবার জানিয়েছেন, আগেও হাফিজকে গ্রেপ্তার করেছিল ইসলামাবাদ। ...

সংবাদাতা, রায়দিঘি: রাজ্যে বর্ষা ঢুকে গিয়েছে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত বৃষ্টিতে ভেসে গেলেও দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দেখা নেই। তাই বৃষ্টি যাতে দ্রুত আসে, সেই কারণে ধুমধাম করে ...

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: আগামী ২৩ জুলাই থেকে এক সপ্তাহ ধরে বীরভূম জেলাজুড়ে বিস্তারক বর্গ কমসূচিতে নামতে চলেছে বিজেপি। তবে গতবছর বিস্তারক কর্মসূচিতে মোদি সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা তুলে ধরে প্রচার করা হয়েছিল।   ...

পল্লব চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: তিনিই যোগ্যতম। বাণিজ্য শাখার স্কুল শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন ২০০১ সালের ৩০ জুলাই। কিন্তু, কম যোগ্যতাসম্পন্নদের স্কুলে শিক্ষক পদে রেখে দেওয়া হলেও তাঁর চাকরি বিগত ১৮ বছরেও অনুমোদিত হয়নি। তাঁর মামলা সূত্রে দেওয়া কলকাতা হাইকোর্টের একাধিক ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চবিদ্যার ক্ষেত্রে ভালো ফল হবে। ব্যবসায় যুক্ত হলে খুব একটা ভালো হবে না। প্রেমপ্রীতিতে বাধাবিঘ্ন। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯২০: মা সারদার মৃত্যু
১৮৬৩: কবি, গীতিকার ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম
১৮৯৯: লেখক বনফুল তথা বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫৫: প্রাক্তন ক্রিকেটার রজার বিনির জন্ম
২০১২: বাংলাদেশের লেখক হুমায়ুন আহমেদের মূত্যু 

20th  July, 2019
ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৫ টাকা ৬৯.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৭৭ টাকা ৮৭.৯২ টাকা
ইউরো ৭৬.১০ টাকা ৭৯.০৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
20th  July, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৫২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৭০৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৪,২১০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৫৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৬৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ২১ জুলাই ২০১৯, রবিবার, চতুর্থী ১৬/২২ দিবা ১১/৪০। শতভিষা ৫/৪৫ দিবা ৭/২৫। সূ উ ৫/৬/৫২, অ ৬/১৮/১৬, অমৃতযোগ প্রাতঃ ৫/৫৯ গতে ৯/৩১ মধ্যে। রাত্রি ৭/৪৫ গতে ৯/১১ মধ্যে, বারবেলা ১০/৪ গতে ১/২২ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৩ গতে ২/২৪ মধ্যে।
৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ২১ জুলাই ২০১৯, রবিবার, চতুর্থী ৯/২৬/৩১ দিবা ৮/৫২/১৬। শতভিষানক্ষত্র ২/০/৪৮ প্রাতঃ ৫/৫৩/৫৯, সূ উ ৫/৫/৪০, অ ৬/২১/৪৭, অমৃতযোগ দিবা ৬/৪ গতে ৯/৩২ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪১ গতে ৯/৮ মধ্যে, বারবেলা ১০/৪/১৩ গতে ১১/৪৩/৪৪ মধ্যে, কালবেলা ১১/৪৩/৪৪ গতে ১/২৩/১৪ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৪/১২ গতে ২/২৪/৪২ মধ্যে।
১৭ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
মুম্বইয়ের কোলাবায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একজনের মৃত্যু, জখম ১ 

03:50:12 PM

তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের সভা মেগা ফ্লপ শো: দিলীপ ঘোষ 

03:47:10 PM

টাকা দিয়েও তৃণমূল সভা সফল করতে পারেনি: দিলীপ ঘোষ 

03:42:00 PM

ইন্দোনেশিয়া ওপেনের ফাইনালে হারলেন পি ভি সিন্ধু 
ইন্দোনেশিয়া ওপেনের ফাইনালে জাপানের আকেন ইয়ামাগুচির কাছে ১৫-২১, ১৬-২১ পয়েন্টে ...বিশদ

02:57:15 PM

ওঃ ইন্ডিজ সফরে তিন ফরম্যাটের ভারতীয় দল ঘোষণা
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের জন্য ঘোষণা করা হল ভারতীয় টেস্ট, ওয়ান ...বিশদ

02:34:49 PM

সভা শেষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 

01:53:19 PM