Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ভোটফলের পর রাজ্যে শান্তি
রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ
শুভা দত্ত

শেষ পর্যন্ত সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দিল্লির মসনদে ফিরে এলেন মোদিজি। ভোট পরবর্তী জনসমীক্ষার হরেক সম্ভাব্য ফলকে পিছনে ফেলে সাড়ে তিনশো আসনের জবরদস্ত গরিষ্ঠতা নিয়ে নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয়বারের জন্য ফিরে এলেন দেশের প্রধানমন্ত্রীর আসনে। আর নজিরবিহীন গেরুয়া ঝড়ে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা ভেসে গেল ভারত! স্বাধীনতা পরবর্তী ভারতে লোকসভার ভোট মহাযুদ্ধে এত বড় জয় এর আগে যতদূর মনে পড়ছে একবারই দেখেছে এই উপমহাদেশ। ১৯৮৪ সালের লোকসভায় রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস চারশো আসন পার করেছিল। তবে সে ছিল প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরার প্রতি দেশবাসীর শ্রদ্ধা ও আবেগের ফল। নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ জুটি আবার তেমনই এক স্মরণীয় জয় উপহার দিলেন এবং দেশের সংসদীয় ইতিহাসে যোগ করলেন নির্বাচনী সাফল্যের আর এক নতুন অধ্যায়। দেশের সঙ্গে এই বাংলাতেও গেরুয়া ঝড়ের ঝাপট ভালোই লাগল, দুই থেকে এক ঝটকায় বিজেপির আসন উঠে গেল ১৮-তে এবং তৃণমূলের আসন ৩৪ থেকে নেমে দাঁড়াল ২২-এ! ভোট শতাংশের হিসেবেও তৃণমূলের প্রায় ঘাড়ের কাছে এসে পড়ল বিজেপি!
পশ্চিমবঙ্গের এই ফলে রাজনৈতিক তথ্যভিজ্ঞদের কেউ কেউ অবাক হয়েছেন ঠিকই, তবে ভোট পরবর্তী সমীক্ষার কয়েকটিতে কিন্তু এমন পূর্বাভাস ছিল। পূর্বাভাসগুলো দেখে বোঝাই যাচ্ছিল এবারের লোকসভায় বাম-কংগ্রেসের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিজেপি এ রাজ্যে বাড়বে। কিন্তু এক লাফে এতদূর বাড়বে এটা অন্তত এ রাজ্যে প্রায় কেউই বিশ্বাস করেননি। ভোটের সময় যাঁদের সঙ্গেই কথা বলেছি তা সে তিনি মমতার অন্ধ ভক্তই হোন কি কট্টর সমালোচক—প্রত্যেকেই বিজেপির বাড়টি ৮ থেকে ১০-এর মধ্যেই ধরে রেখেছেন। তার বেশি মানে ১০ ছাড়িয়ে ২২/২৩ অব্দি বিজেপি উঠতে পারে তা পদ্মশিবিরের নেতানেত্রীরা অনেকে দাবি করলেও সাধারণ মানুষজনের কেউই খুব বিশ্বাস করে উঠতে পারছিলেন না। তার কারণ ছিল একটাই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাপক উন্নয়নের এই রাজ্যে যে এমন ছন্দপতন হতে পারে সেটা হয়তো ছিল তাঁদের কল্পনার বাইরে। তাছাড়া এবারের লোকসভা যুদ্ধে মোদিজি যে এমন বেনজির কাণ্ড করে বসবেন, তাঁর বিরোধীদের এমন হতশ্রী দশায় ঠেলে দেবেন—বেশ কয়েকটি জনসমীক্ষার ফলে তেমন আভাস থাকলেও এ রাজ্যের রাজনীতি সচেতন মানুষ তাতে প্রাথমিকভাবে খুব একটা আমল দিতে চাননি। বরং, রাজনৈতিক তথ্যভিজ্ঞ থেকে অভিজ্ঞ সাংবাদিকদের অনেকেই হিসেবপত্তর করে হাং পার্লামেন্টের সম্ভাবনাকেই পরিস্থিতি পরিবেশের নিরিখে অধিক বাস্তবসম্মত বলে দাবি করছিলেন! আজ বোঝাই যাচ্ছে—কালের লিখন পড়তে তাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন।
মোদি-শাহ জুটি পদ্মশিবিরের জন্য জনদরবার থেকে এমন এক জয় জিতে এনেছেন যার সামনে অমন ঐতিহ্যশালী কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী বা অন্ধ্রপ্রদেশের চন্দ্রবাবু নাইডু, দিল্লির কেজরিওয়ালের মতো দাপুটে মোদি-বিরোধী নেতাদেরও কার্যত লিলিপুটের মতো দেখাচ্ছে! চন্দ্রবাবু তো বলতে গেলে মোদি সুনামির দাপটে অন্ধ্রে প্রায় সর্বস্ব খুইয়েছেন। দিল্লিতে কেজরিওয়ালের দশাও হয়েছে তেমনই। কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী গত ২০১৪ লোকসভার তুলনায় তাঁর ইউপিএ জোটের জন্য গোটা পঁচিশেক আসন বাড়াতে পারলেও দেশজোড়া কংগ্রেসি জনতার বিরাট প্রত্যাশার তুলনায় তাকে নগণ্যই বলতে হবে। বেশ কিছু রাজ্যে তো ভোটফলে পশ্চিমবাংলার সিপিএমের মতো কংগ্রেসও একেবারে নিশ্চিহ্নই হয়ে গেছে। এবং সে জন্যই আসন বৃদ্ধি সত্ত্বেও রাহুল দলের তথা জোটের এই ফলকে বিপর্যয় হিসেবেই দেখছেন আর তার দায় নিয়ে কংগ্রেস সভাপতির পদত্যাগের ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন বলে শোনা যাচ্ছে। বিপর্যয়ের পর্যালোচনা করতে শনিবারই সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির জরুরি বৈঠকও ডেকেছিলেন।
বরং, সেদিক থেকে এই অভাবিত গেরুয়া সুনামির সামনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সবুজ তৃণমূলকে অনেক লড়াকু মনে হয়েছে। ঠিকই, মমতার সর্বব্যাপ্ত প্রভাব প্রতিপত্তির রাজ্যেও ওই সুনামিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিছু কম হয়নি। তবু এখনও তুল্যমূল্য বিচারে এ রাজ্যের ভোটফলে এগিয়ে মমতাই। ভোট শতাংশের হারেও। পাহাড় জঙ্গলমহল থেকে গ্রামবাংলায় তৃণমূলের ফল আশানুরূপ কেন হল না তার অজস্র কারণ টেনে বার করতে শুরু করেছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকই। তাঁদের অনেকের বক্তব্য শুনলে মনে হচ্ছে তাঁরা এমনটা ঘটতে পারে জানতেন, ঘটার কারণটাও অবগত ছিলেন! যদি তাই হয়, তাহলে এই বোদ্ধারা সেই আশঙ্কার কথা আগেই প্রকাশ করে দিলেন না কেন! নাকি চোর পালাবার পরই বুদ্ধিটা চাগাড় দিল! জানি, নরেন্দ্র মোদির এই চমকপ্রদ জয়ে চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার পর এখন অনেকেই অনেক কিছু বলবেন, ‘আমি তো জানতাম’ গোছের ভাবও দেখা যাবে কারও কারও বচনে, কেউ কেউ মমতার খুঁত খামতি গালতেও উঠেপড়ে লাগবেন—কিন্তু একবার ভাববেন কি যে এখন সবচেয়ে জরুরি হল রাজ্য জুড়ে শান্তিরক্ষা। এমন ভোটফলের পর রাজ্যে সর্বস্তরে শান্তি রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ।
সত্যি বলতে কী, ভোট রাজনীতিতে এমন বিপর্যয় কোনও নতুন কথা নয়। এমন ধাক্কা অতীতে জাতীয়স্তরে ইন্দিরা গান্ধী রাজীব গান্ধী থেকে শুরু করে রা‌জ্যস্তরের ভোটে কংগ্রেস সিপিএম সকলকেই কখনও না কখনও সইতে হয়েছে। ২০১১ সালে সিপিএমের ওই অত বড় মহাপতন হয়েছে, তার ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানো দূরে থাক, তারপর থেকে সিপিএম সমেত বামেরা তো কেবল ক্ষয়েই চলেছে। তার ওপর এবারের ভোটে অন্তত আসন সংখ্যার বিচারে তারা তো একেবারে শূন্যই হয়ে গেল! কী ভাবছেন, এবার সিপিএম বা তাদের শরিকেরা রাজনীতি ছেড়ে পাততাড়ি সন্ন্যাস নেবে? মোটেই না। রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। আর তাই এমন শূন্যতার মধ্যেই কীভাবে শূন্য থেকে ফের উঠে দাঁড়ানো যায় তার চেষ্টা চালাবে সিপিএম সমেত বামেরা। তো তৃণমূলের ক্ষেত্রেই বা তার ব্যতিক্রম হবে কেন? তৃণমূলও এবারের ভোটে না হয় কয়েকটা আসনে ধাক্কা খেয়েছে, কেন্দ্রে মোদিজিকে চেয়েছিলেন যাঁরা তাঁরা বিজেপির বাক্সে ভোট দিয়েছেন। তাতে সব গেল গেল ভাবার কী আছে! বছরের পর বছর খেলে যাবে অথচ একটাও গোল খাবে না তাই কি হয়? ২০১১ সালের পর থেকে গত প্রায় আট বছর গোল খায়নি তো কী? এবার খেয়েছে। গেরুয়া দলের সঙ্গে সমানে সমানে টক্করে এবার গোল খেয়েছে। কিন্তু এটুকুতেই তৃণমূলের একেবারে সাড়ে সর্বনাশ হয়ে গেল এমন বলা কি যুক্তিসঙ্গত? হ্যাঁ, তৃণমূল গোটা ১২ আসন হারিয়েছে। কিন্তু এ রাজ্যের সিপিএম তো শূন্য হয়ে গেছে! কংগ্রেসের হালও তথৈবচ, ঝড়ের দাপট সামলে কোনওক্রমে তারা দুটি আসন রক্ষা করতে পেরেছে! সে তুলনায় তৃণমূল এখনও চালকের আসনেই— সন্দেহ কি? তো?
তাছাড়া, এই ফলাফলকে যাঁরা মুখ্যমন্ত্রী মমতার প্রতি রাজ্যবাসীর অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ বলে চালাতে চাইছেন তাঁরাও কি ঠিক করছেন? মোদি-বিরোধী জোট যদি মমতাকে প্রধান মুখ হিসেবে প্রজেক্ট করে ভোটে নামত এবং মমতা যদি সেই জোটের হয়ে লড়ে এই ফল করতেন তখন এমন কথা বললে তবু মানার একটা গ্রাউন্ড খুঁজে পাওয়া যেত। মমতা তো তৃণমূল নেত্রী হিসেবে তাঁর রাজ্যের ৪২ আসন রক্ষায় মোদির সঙ্গে যুদ্ধে নেমেছিলেন। মোদিজির জাতীয় মহাজোট এনডিএ-র বিরুদ্ধে লড়াইটা ছিল মমতার তৃণমূলের। মোদিজির নেতৃত্বাধীন বহুদলীয় শক্তির সঙ্গে কার্যত একা মমতার লড়াই। সেখানে যে কোনও কারণেই হোক অনেকে মনে করেছেন মমতার তৃণমূলের চেয়ে বিজেপিকে, মানে মোদিজিকে ভোট দিলে সুবিধে হবে। কেন্দ্রে তাঁর নেতৃত্বে সরকার হলে দেশের দশের আরও ভালো হবে। দিয়েছেন। কিন্তু, রাজ্যের ক্ষেত্রে তাঁরা যে এখনই মমতার বিকল্প চাইছেন—লোকসভার এই ভোটফল থেকে কীভাবে তা সাব্যস্ত হয়!?
তার চেয়েও বড় কথা, ভোটের ফল যা হওয়ার তা তো হয়েই গিয়েছে। এখন সেই ফলাফলকে নিয়ে বিভিন্ন শিবিরে কাটাছেঁড়া চলছে, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি প্যাঁচপয়জার নিয়ে ভাবনাচিন্তা হচ্ছে। কিন্তু ঠিক তার সঙ্গেই যেন তাল মিলিয়ে সেই ফলাফল কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মারদাঙ্গা অফিস বাড়িঘর ভাঙচুর জ্বালানো পোড়ানোর মতো অপ্রীতিকর হিংসা প্রতিহিংসার ঘটনা ঘটছে। ভাটপাড়ায় অশান্তির আগুন ছড়িয়েছে। উত্তরবঙ্গের তুফানগঞ্জ শীতলকুচি, বাঁকুড়া পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড় থেকে যাদবপুর নরেন্দ্রপুরের মতো কলকাতা সংলগ্ন এলাকাতে অব্দি সে অশান্তির আগুন তাপ ছড়াচ্ছে। আর বলা বাহুল্য তার প্রধান কারণ তৃণমূল ও বিজেপির রাজনৈতিক সংঘাত সংঘর্ষ, এবং যাতে কোথাও কোথাও বাম-কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকেরাও জড়িয়ে পড়ছেন— সমস্যা ঘোরালো হয়ে উঠছে আরও। অবিলম্বে এই অশান্তির আগুন নেভানোটাই আমরা মনে করি বিজেপি তৃণমূলের সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের প্রধান কাজ হওয়া উচিত। এত বিশাল জয়ের পরও বিজেপি অধিনায়ক স্বয়ং নরেন্দ্র মোদি যখন নম্রতার সঙ্গে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন সাফল্যের জন্য বিজয়ীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাজ্যে শান্তি ও সুস্থিতি বজায় রাখার অনুরোধ করছেন, তখন এত অশান্তি হবে কেন!? দলীয় আনুগত্য মানলে, মোদিজি বা মমতার প্রতি শ্রদ্ধা ভক্তি ভালোবাসা থাকলে কেউ কি তাঁদের পরামর্শ উপেক্ষা করে মারামারি ভাঙচুরের রাজনীতিতে জড়াতে পারেন? তাছাড়া, এই বাংলার আমজনতাও যে ওসব একেবারেই পছন্দ করেন না—এখনও কি ওই মারদাঙ্গাবাজ নেতাকর্মী সমর্থকেরা বুঝতে পারেননি! আশ্চর্য!
26th  May, 2019
বিধানসভা ভোট কিন্তু হবে মমতাকে দেখেই
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ইন্দিরা গান্ধীর টার্গেট ছিল একটাই। যেভাবে হোক সিপিএমের কোমর ভেঙে দিতে হবে। তিনি মনে করতেন, সিপিএম আসলে সিআইএ’র মদতপুষ্ট। ঠিকঠাক সুযোগ পেলে পূর্ববঙ্গ এবং পশ্চিমবঙ্গে সশস্ত্র আন্দোলন করিয়ে বৃহত্তর বাংলা গঠন করে ফেলবে। কাজেই বাংলা কংগ্রেস এবং সিপিআই পছন্দের তালিকায় থাকলেও সিপিএমকে মোটে বরদাস্ত করতে পারতেন না ইন্দিরা।
বিশদ

18th  June, 2019
ডাক্তারবাবুদের গণ-ইস্তফা নজিরবিহীন,
কিন্তু তাতে কি হাসপাতাল সমস্যা মিটবে?

 এ-কথাও তো সত্যি যে, হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বা ডাক্তারবাবুদের যথাযথ নিরাপত্তা বিধানে তাঁর সদিচ্ছা আছে এবং ইতিমধ্যেই তার যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রবীণদের বৈঠকে ডেকে মুখ্যমন্ত্রী সমাধানসূত্র খুঁজছেন— সেটাও কি ওই সদিচ্ছারই নামান্তর নয়? বিশদ

16th  June, 2019
নরেন্দ্র মোদির মালদ্বীপ সফর এবং ভারত মহাসাগরে ভারতের নতুন রণনীতি
গৌরীশঙ্কর নাগ

 মোদিজির এই দ্বীপপুঞ্জ-সফর কেবলমাত্র হাসি বিনিময় ও করমর্দনের রাজনীতি হবে না, বরং এর প্রধান অ্যাজেন্ডাই হল প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মজবুত করা। তবে সেটা করতে গিয়ে ভারত যেন দ্বীপপুঞ্জের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অযথা হস্তক্ষেপ না করে বসে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, ভারত মালদ্বীপকে সন্ত্রাসবাদের নয়া ‘আঁতুড়ঘর’ হতে দেবে। কারণ ইতিমধ্যেই আমরা দেখেছি পাকিস্তান, আফগানিস্তান এমনকী মধ্যপ্রাচ্য থেকেও জেহাদি নেটওয়ার্কের কারবার মালদ্বীপেও পৌঁছে গিয়েছে। এই র‌্যাডিক্যালিজমের একমাত্র দাওয়াই হল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তার সহায়ক শক্তি হিসেবে রাজনৈতিক স্থিরতা।
বিশদ

15th  June, 2019
সতর্কতার সময়
সমৃদ্ধ দত্ত

 ভারতীয় সংস্কৃতির সনাতন ধারাটি হল দিবে আর নিবে, মিলিবে মেলাবে। কিন্তু সেই সংস্কৃতি থেকে আমাদের সরিয়ে এনেছে অসহিষ্ণুতা আর স্বল্পবিদ্যা। আর সবথেকে বেশি জায়গা করে নিয়েছে বিদ্বেষ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বিদ্বেষ।
বিশদ

14th  June, 2019
ক্ষমতার ‘হিন্দি’ মিডিয়াম
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 উত্তর ভারতের সঙ্গে দক্ষিণের সীমারেখা। আর তার কারিগর আমরাই। আমাদের কাছে সাউথ ইন্ডিয়ান মানে মাদ্রাজি। দক্ষিণ ভারতের লোকজন নারকেল তেল খায়, অদ্ভুত ওদের উচ্চারণ, লুঙ্গি পরে বিয়েবাড়ি যায়... হাজারো আলোচনা। উত্তর ভারত মানে বিষম একটা নাক উঁচু ব্যাপার। আর দক্ষিণ মানেই রসিকতার খোরাক। তাই ওদের একটু ‘মানুষ’ করা দরকার। কীভাবে সেটা সম্ভব? হিন্দি শেখাতে হবে। বিশদ

13th  June, 2019
বারুদের স্তূপের উপর পশ্চিমবঙ্গ
হিমাংশু সিংহ

সংসদীয় রাজনীতিতে কিছুই চিরস্থায়ী নয়। কারও মৌরসিপাট্টাই গণতন্ত্রে বেশিদিন টেকে না। সব সাজানো বাগানই একদিন শুকিয়ে যায় কালের নিয়মে। ইতিহাস কয়েক বছর অন্তর ফিরে ফিরে আসে আর ধুরন্ধর শাসককে চরম শিক্ষা দিয়ে তাঁকে, তাঁর ক্ষমতাকে ধুলোয় লুটিয়ে দিয়ে আবার ফকির করে দিয়ে যায়। সব ক্ষমতা এক ভোটে বিলীন। ধূলিসাৎ। আর এখানেই মহান গণতন্ত্রের জিত আর চমৎকারিত্ব। আর সেই দিক দিয়ে ২৩ মে-র ফল এই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকেও আবার এক মহান সন্ধিক্ষণের দিকেই যেন ঠেলে দিয়েছে। ‘বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ’ হয়নি, ‘২০১৯ বিজেপি ফিনিশ’—তাও হয়নি। উল্টে সারাদেশে বিজেপি থ্রি-নট-থ্রি (অর্থাৎ ৩০৩টি) আসন জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভোট-পণ্ডিতদের।
বিশদ

11th  June, 2019
মোদিজি কি ‘সবকা বিশ্বাস’ অর্জন করতে পারবেন?
পি চিদম্বরম

 নরেন্দ্র মোদি এবার যে জনাদেশ পেয়েছেন তা অনস্বীকার্যভাবে বিপুল। যদিও, অতীতে লোকসভা নির্বাচনে একটি পার্টি ৩০৩-এর বেশি আসন জেতার একাধিক দৃষ্টান্ত আছে। যেমন ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধী ৩৫৩ এবং ১৯৮৪ সালে রাজীব গান্ধী ৪১৫ পেয়েছিলেন।
বিশদ

10th  June, 2019
 বিজেপি এ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে
কঠিন চ্যালেঞ্জ মনে করছে কেন?
শুভা দত্ত

 কয়েকদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক খুনের ঘটনা ঘটে গেল রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে। তাই আজও একই প্রসঙ্গ দিয়ে এই নিবন্ধ শুরু করতে হচ্ছে। গত সপ্তাহেই লিখেছিলাম, ভোটফল প্রকাশের পর রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় যেন একটা হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।
বিশদ

09th  June, 2019
ইচ্ছে-ডানায় নাচের তালে
অতনু বিশ্বাস

এ বছরের সিবিএসই পরীক্ষার ফল বেরতে দেখা গেল, প্রথম হয়েছে দু’টি মেয়ে। একসঙ্গে। ৫০০-র মধ্যে তারা পেয়েছে ৪৯৯ করে। দু’জনেই আবার আর্টসের ছাত্রী। না, পরীক্ষায় আজকাল এত এত নম্বর উঠছে, কিংবা আর্টস বিষয় নিয়েও প্রচুর নম্বর তুলে বোর্ডের পরীক্ষায় র‍্যাঙ্ক করা যায় আজকাল—এগুলোর কোনওটাই আমার আলোচনার বিষয়বস্তু নয়।
বিশদ

08th  June, 2019
ভারতের রাজনীতিতে ‘গেম মেকার’
মৃণালকান্তি দাস

মেধাবী হলেই যে পড়ুয়ার জন্য মোটা বেতনের চাকরি নিশ্চিত, তার কোনও গ্যারান্টি নেই। শুধু প্রতিভা থাকলে আর পরিশ্রমী হলেই হবে না, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং ঠিকঠাক ‘গাইড’ না পাওয়ায় পড়ুয়ারা আজ আর সরকারি চাকরির লক্ষ্যভেদ করতে পারেন না।
বিশদ

07th  June, 2019
অবিজেপি ভোটে বাজিমাত
বিজেপির, এবং তারপর...
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আলোড়ন! নিঃসন্দেহে একটা জবরদস্ত আলোড়ন উঠেছে। লোকসভা ভোটফল প্রকাশ হওয়া ইস্তক সেই আলোড়নের দাপটে রাজ্য-রাজনীতি থেকে সাধারণের অন্দরমহল জল্পনা-কল্পনা, বিবাদ-বিতর্ক, আশা-আশঙ্কায় যাকে বলে রীতিমতো সরগরম! পথেঘাটে আকাশে বাতাসে যেখানে সেখানে ছিটকে উঠছে উৎকণ্ঠা নানান জিজ্ঞাসা।
বিশদ

06th  June, 2019
কর্ণাটক পুরনির্বাচন: আবার উল্টালো ভোটফল
শুভময় মৈত্র 

নির্বাচনে ভোটফল নিয়ে কখন যে কী ঘটছে তার ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না মোটেই। মানুষ অবশ্যই মত বদলাবেন। সে স্বাধীনতা তাঁদের আছে। সে জন্যেই তো ভোটফল বদলায়। নাহলে সংসদীয় গণতন্ত্রের কোনও অর্থই থাকে না।  
বিশদ

04th  June, 2019
একনজরে
জেনিভা, ১৯ জুন (এএফপি): সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে খুনের ঘটনায় সৌদি আরবের যুবরাজের যোগ থাকার জোরালো প্রমাণ মিলেছে বলে জানালেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের এক মানবাধিকার কর্মী। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবিও তুলেছেন তিনি। ...

সংবাদদাতা, বালুরঘাট: প্রশাসনের কড়া হুঁশিয়ারিই সার, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাজুড়ে টোটোর বিরুদ্ধে কোনও অভিযানে নামতে পারছে না পরিবহণ দপ্তর। প্রশাসন নির্দেশ দিয়েছিল ৩১ মে’র পর রাস্তায় ...

 দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি, ১৯ জুন: উত্তরবঙ্গে তৈরি হোক এইমস। বাংলার কংগ্রেসিদের সুরেই এবার উত্তরবঙ্গে এইমস চাইছেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি এমপিরা। উত্তরবঙ্গের মানুষের কথা মাথায় রেখে সংসদে এই ইস্যুটি সামনে আনবেন তাঁরা। একসময় রায়গঞ্জে এইমস তৈরি হবে বলে মনমোহন সিং সরকার সিদ্ধান্ত ...

সংবাদদাতা, ঘাটাল: চন্দ্রকোণা-১ ব্লকের ফুলমণি গ্রামে আন্ত্রিকের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। রবিবার থেকে ওই গ্রামের বাসিন্দারা আন্ত্রিকে আক্রান্ত হতে শুরু করেন। মঙ্গলবার বিকেল থেকে ক্ষীরপাই ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অনেকেই ভরতি হচ্ছেন। চন্দ্রকোণা-১ ব্লক মেডিক্যাল অফিসার নিরঞ্জন কুঁতি বলেন, প্রাথমিক চিকিৎসার পর কয়েকজনকে ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শরীর-স্বাস্থ্যের আকস্মিক অবনতি। বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ আসতে পারে। সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিবাদ। ব্যবসায় নতুন সুযোগ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৪৭- লেখক সলমন রুশদির জন্ম,
১৯৭০- রাজনীতিক রাহুল গান্ধীর জন্ম,
১৯৮১- ভারতে টেস্ট টিউব বেবির জনক সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু,
২০০৮- বর্তমানের প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক বরুণ সেনগুপ্তের মৃত্যু 

19th  June, 2019
ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৯ টাকা ৭১.০৫ টাকা
পাউন্ড ৮৫.৩২ টাকা ৮৯.৪৩ টাকা
ইউরো ৭৬.০২ টাকা ৭৯.৬৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৩,৪২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩১,৭১০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩২,১৮৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,৩০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭,৪০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৫ আষা‌ঢ় ১৪২৬, ২০ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার, তৃতীয়া ৩০/৩০ অপঃ ৫/৯। উত্তরাষাঢ়া ২৬/৪৭ দিবা ৩/৩৯। সূ উ ৪/৫৬/২০, অ ৬/১৯/১৫, অমৃতযোগ দিবা ৩/৩৮ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৭/২ গতে ৯/৯ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৯ গতে ২/৬ মধ্যে পুনঃ ৩/৩২ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ২/৫৯ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/৩৮ গতে ১২/৫৮ মধ্যে। 
৪ আষাঢ় ১৪২৬, ২০ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার, তৃতীয়া ২৭/২৪/১ দিবা ৩/৫৩/৬। উত্তরাষাঢ়ানক্ষত্র ২৫/৩৬/১১ দিবা ৩/৯/৫৮, সূ উ ৪/৫৫/৩০, অ ৬/২২/২১, অমৃতযোগ দিবা ৩/৩২ গতে ৬/২২ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৫ গতে ৯/১২ মধ্যে ও ১২/২ গতে ২/১০ মধ্যে ও ৩/৩৫ গতে ৪/৫৬ মধ্যে, বারবেলা ৪/৪১/২৯ গতে ৬/২২/২১ মধ্যে, কালবেলা ৩/০/৩৮ গতে ৪/৪১/২৯ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৩৮/৫৬ গতে ১২/৫৮/৪ মধ্যে। 
মোসলেম: ১৬ শওয়াল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বেস্ট কেপ্ট স্টেশন-এর শিরোপা পেল এসপ্ল্যানেড
সার্বিক যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য, পরিচ্ছন্নতা বিচার করে ‘বেস্ট কেপ্ট স্টেশন’-এর শিরোপা ...বিশদ

08:45:00 AM

সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলের সম্পত্তি কর নেবে না কলকাতা পুরসভা 
কলকাতার সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত (গভর্নমেন্ট এইডেড) স্কুলগুলিকে পুরসভার সম্পত্তি করের আওতা ...বিশদ

08:45:00 AM

পে কমিশনের চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে রাস্তায় নামবে বিজেপি 
আগামী ১০ জুলাই ষষ্ঠ পে কমিশনের চেয়ারম্যানে অভিরূপ সরকারের পদত্যাগের ...বিশদ

08:42:58 AM

ব্রিসবেনে মেয়র সামিটে আমন্ত্রণ পেয়েও যাচ্ছেন না ফিরহাদ হাকিম
 

বিশ্বের সব শহরের মেয়রের সম্মেলন হবে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে। আগামী ৭ ...বিশদ

08:40:00 AM

সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে বাবুবাগানে বুস্টার পাম্পিং স্টেশন তৈরির কাজ 
কলকাতা পুরসভার ৯২ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুবাগানে পানীয় জল সরবরাহের বুস্টার ...বিশদ

08:35:00 AM

মিসড কল দিলেই সদস্য হওয়ার সুযোগ, ৬ জুলাই থেকে ফের অভিযানে বিজেপি  
আগামী বিধানসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে বুথভিত্তিক শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলার ...বিশদ

08:30:00 AM