Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

পশ্চিমবঙ্গের ভোট বিশ্লেষণ
শুভময় মৈত্র

এ লেখা যখন আপনারা পড়ছেন, ততক্ষণে বুথফেরত সমীক্ষা আপনাদের হাতে। কিন্তু সমীক্ষা মানেই যে সেটা মিলবে এমনটা নয়। তার কারণ দুটো। এক হল সমস্ত সমীক্ষারই সফল হওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকে। ঘুরিয়ে বললে সম্ভাবনা থাকে ব্যর্থ হওয়ারও। দ্বিতীয় হল, সমীক্ষা যদি সঠিকভাবে রাশিবিজ্ঞানের নিয়ম মেনে করা হয়, তাহলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের করা সমীক্ষার ফলাফল খুবই কাছাকাছি আসা উচিত। সেটা যে হচ্ছে না, বিভিন্ন সংস্থার ভবিষ্যৎ দর্শন যে বিভিন্ন, এটাই প্রমাণ করে যে সব সমীক্ষা সঠিক পদ্ধতি মেনে করা হয় নি। মোটের ওপর দেশজুড়ে এনডিএ এগিয়ে আছে এমনটা আভাস পাওয়া গেলেও তার মধ্যে ভ্যারিয়েন্স (ভেদমান) যথেষ্ট বেশি। এর একটা বড় কারণ হচ্ছে খুব ভালোভাবে সমীক্ষা করতে গেলে অনেক বেশি অর্থ এবং সময়ের প্রয়োজন। চটজলদি তার ব্যবস্থা করা শক্ত। এছাড়া যে কথাটা বারবার আলোচনা করা হয় তা হল কোন দল কত ভোট পাবে সে বিষয়টা অনেক ভালোভাবে বোঝা যায় সমীক্ষায়। কিন্তু ভোট শতাংশ থেকে আসন সংখ্যার বিন্যাস বোঝা অনেক কঠিন। ফলে আসনের হিসেব কষতে যাওয়া আরও বেশি গোলমেলে ব্যাপার। সব মিলিয়ে তাই সত্যিটা লুকিয়ে থাকে ভোটযন্ত্রে। সেই ভোটযন্ত্র নিয়েই আবার বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলাচল। জয়ী দল অবশ্যই বলবে যে যন্ত্র সঠিকভাবে কাজ করেছে, আর পরাজিতরা খুঁজে পাবে বিভিন্ন গণ্ডগোল।
নির্বাচন দেশজুড়ে হলেও, এবার সবথেকে বেশি আকর্ষণীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ। তার কারণ বিজেপি খুব ভালো ফল করার চেষ্টা করছে এই রাজ্যে। স্বভাবতই পঞ্চাশের দশকের পর রাজ্যে এই প্রথম নির্বাচনের মূল ইস্যু ধর্ম এবং জাতপাত। এ বিষয়টা প্রমাণ করা শক্ত, এবং কোনও রাজনৈতিক দলই নিজের থেকে সরাসরি একথা স্বীকার করতে চাইবে না। বরং অন্য দলকে এই অপবাদ দেবে। তবে উপলব্ধি করাই যায় যে সংখ্যাগুরু সংখ্যালঘুর দ্বন্দ্ব কিংবা মতুয়া সংক্রান্ত আলোচনা যথেষ্ট প্রভাব ফেলবে এবারের নির্বাচনে। সেই হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচন বিজলি, সড়ক, পানির নয়। উন্নয়নেরও নয়। যে কোনও সরকারই কিছু উন্নয়ন করে থাকে, আবার না পাওয়ার হতাশাও থাকে কিছু। সেগুলো কিছুদিন পরে ভুলে যায় মানুষ। তাই বাম আমলের উন্নয়ন কিংবা অনুন্নয়নের কথা ভেবে আজকের দিনে আর কেউ ভোট দিতে যাবেন না। ২০১৪ পর্যন্ত একটানা দশ বছরের কংগ্রেস রাজত্বে কেন্দ্রে কী কী ঘটেছিল সেটাও হয়তো ভুলে গেছেন সকলে।
হাতের কাছে থাকল কেন্দ্রে বিজেপি আর রাজ্যে তৃণমূলের উন্নয়নের স্লোগান। অবশ্যই দু দল কিছু কিছু কাজ করেছে, আবার অনেক অকাজও। কিন্তু ভোটপ্রচারে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নের সংখ্যারাশির চেয়ে। মনে রাখতে হবে উন্নয়নের কথা সর্বদা ভোটে জেতায় না। বরং এমনটাও অনেক সময় দেখা গেছে যে কোনও রাজনৈতিক দল সত্যিকারের উন্নয়নের চেষ্টা করা মাত্র নির্বাচনে হেরেছে। তাই পশ্চিমবঙ্গে এবারের ভোটে প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িকতা এবং জটিল জাতপাতের হিসেবকে উপেক্ষা করলে ভুল হবে। ভোটফলে প্রতিফলিত হবে সেই হিসেবগুলোই।
গত কয়েকটি নির্বাচনের ভোটের ভাগ অবশ্যই ভবিষ্যতবাণীর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। সেই পরিবর্তনও পরিষ্কার লক্ষ্য করা যায় সংখ্যা ঘাঁটলে। ২০০৮ এর পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে বামফ্রন্টের ভোট কমা অবশ্যই সেই প্রমাণ দেয়। ২০১১ তে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর বড় নির্বাচন বলতে ২০১৪-র লোকসভা এবং ২০১৬-র বিধানসভা। দশমিক ভুলে (অর্থাৎ পূর্ণসংখ্যায় লিখলে) ২০১৪/২০১৬-তে ভোটের ভাগ মোটামুটি তৃণমূল ৩৯%/৪৫%, বামফ্রন্ট ৩০%/২৬%, কংগ্রেস ১০%/১২% এবং বিজেপি ১৭%/১০%। তাই যে সহজ ভোটবিন্যাস থেকে আলোচনা শুরু করা যায় তা আলগাভাবে বলতে গেলে তৃণমূল ৪৫%, বামফ্রন্ট ২৫%, বিজেপি ১৫%, কংগ্রেস ১০%। বুঝতেই পারছেন এগুলো কোন সঠিক সংখ্যা নয়, যোগবিয়োগ সহজভাবে বোঝার একটা প্রচেষ্টা মাত্র।
এবার প্রতিটি আসনে জিতবেন কে? সেই আসনে যিনি বেশি ভোট পাবেন তিনি। সার্বিকভাবে যদি বিজয়ী দলের ভোট শতাংশ রাজ্যজুড়ে দ্বিতীয় শক্তির থেকে ১০% বেশি থাকে তাহলে অধিকাংশ আসনে জেতা সম্ভব। যে ভোট শতাংশের অঙ্ক থেকে প্রারম্ভিক আলোচনা, তাতে যোজনখানেক এগিয়ে আছে তৃণমূল। তাই রাজ্যজুড়ে বিশাল কিছু পরিবর্তন হতে গেলে ভোট ঘুরতে হবে অনেক বেশি মাত্রায়। অন্যদিকে এটাও মনে রাখতে হবে যে ২০১৬-র পর থেকে বেশিরভাগ ছোট-বড় নির্বাচনে বাম কিংবা কংগ্রেসকে সরিয়ে দ্বিতীয়স্থানে উঠে এসেছে বিজেপি। গতবছরের ঘটনাবহুল পঞ্চায়েত নির্বাচন তার একটা প্রমাণ।
নির্বাচনের একটা বড় অংশ হল সংবাদমাধ্যমের প্রচার। সেই প্রচার সাধারণ মানুষের মনে কতটা দাগ কাটতে পারল তা বোঝা যাবে ভোটফলের পর। কিন্তু তার আগে ভোট পূর্ববর্তী বা বুথফেরত সমীক্ষাতে এই প্রচার যথেষ্ট প্রভাব ফেলে।
যেহেতু বিভিন্ন সংবাদ বিপণির সঙ্গে তাদের লাভ ক্ষতির পাটিগণিত জড়িয়ে থাকে তাই তাদের মনের মাধুরীও অনেকটা মিশে যায় সম্ভাবনার অঙ্কে। সেখানে যে ভাবনাটা সবথেকে বেশি বিক্রি হয়েছে তা হল এ রাজ্যে মূল লড়াই তৃণমূল বনাম বিজেপির এবং বিজেপির ভোট খানিকটা বাড়বে। সেই প্রেক্ষিতে এই নির্বাচনের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। ধরা যাক কিছুটা কমলেও তৃণমূল তাদের ভোট মোটামুটি ধরে রাখতে পারল, অর্থাৎ সেই ভোট নেমে হল ৪০% এর আশেপাশে। এই ৫% ভোটটা দিয়ে দিন বিজেপিকে। বামেদের ভোট ২৫% থেকে কমিয়ে ১৫% করুন। সেই ১০% ভোটও হাতবদল করুন বিজেপিকে। সেক্ষেত্রে বিজেপি পনেরো থেকে বেড়ে হবে ৩০%। এই রকমের পরিস্থিতিতেও তাদের সঙ্গে তৃণমূলের পার্থক্য থাকবে ১০% জনমতের। সেই হিসেবে তৃণমূলকে ৩২ থেকে ৩৬টি আসন দেওয়াই যায়। বাকিটুকুর বেশিরভাগই যাবে বিজেপির দিকে, অর্থাৎ ৪ থেকে ৮। এক আধটা পেতে পারে কংগ্রেস বা বামেরা। আর তৃণমূল যদি শেষ বিধানসভার মত নিজেদের ৪৫% ভোট ধরে রাখে, সেক্ষেত্রে কিন্তু তৃণমূলের ৩৯ বা তার বেশি আসনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বুথফেরত সমীক্ষা যদিও এই কথা বলছে না।
বুথফেরত সমীক্ষা বলছে, তৃণমূল, বাম আর কংগ্রেসের আরও কিছু ভোট বাগিয়ে নিয়ে বিজেপি পৌঁছবে ৩৫% থেকে ৪০% এর আশেপাশে। তাদের কথামতো তৃণমূল আর বিজেপির পার্থক্য যদি পাঁচ শতাংশের মধ্যে চলে আসে, তখন কিন্তু বিজেপির আসন বেশ কিছুটা বেড়ে যেতেই পারে। তবে এই পরিস্থিতিতে আসনের ভবিষ্যদ্বাণী করা একেবারেই ঠিক নয়, কারণ দু দলের ভোট কাছাকাছি এলে আসনের হিসেবে বিপুল ওলটপালট হয়। সেক্ষেত্রে এটা বুঝতে হবে যে এই ভোটে তৃণমূল বিরোধী একটা হাওয়া উঠেছে। সেরকম ঘটনা ঘটলে যেখানে বিজেপি দুর্বল, সেখানে তৃণমূল বিরোধী ভোট পৌঁছে যেতে পারে বাম বা কংগ্রেসে, যদিও সেই ভবিষ্যদ্বাণী সংবাদমাধ্যমের খাতায় অনুপস্থিত। তারাও যদি খান কয়েক আসন জুটিয়ে নেয় তাহলে তৃণমূলের নম্বর বেশ কমবে। সব মিলিয়ে বুথফেরত সমীক্ষার হিসেব বলছে, তৃণমূল নেমে যাবে ৩০-এর নীচে আর বিজেপি দুই অঙ্কে পৌঁছবে। সঙ্গে এটাও মনে রাখা জরুরি যে অল্প কয়েকটি আলোচিত সম্ভাবনা ছাড়াও অনেকরকম ফল লুকিয়ে থাকতে পারে ভোটবাক্সে। তাই ২৩ তারিখে ভোটফল প্রকাশ হওয়ার আগে লিখে রাখুন আপনার নিজের ভবিষ্যদ্বাণী। দেখে নিন কতটা মিলল সেই অঙ্ক। লড়াই, বদলা, ইত্যাদি পেশিশক্তির শব্দমালা ছেড়ে ভোটফলের পর সবাই যদি এই গ্রীষ্মে নিজের মাথায় ঠান্ডা জল ঢেলে ভোট বিশ্লেষণের অঙ্ক কষেন, সেটাই রাজ্যের পক্ষে মঙ্গল। তারপর না হয় কেন্দ্রের দিকে নজর দেওয়া যাবে।
 লেখক ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক। মতামত ব্যক্তিগত
21st  May, 2019
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৃহত্তম চ্যালেঞ্জ
হারাধন চৌধুরী

আমাদের স্বাধীনতার বয়স বাহাত্তর বছর। পশ্চিমবঙ্গের জন্য এই পর্ব-দৈর্ঘ্যটাকে আমরা চারটি ভাগে ভাগ করতে পারি। কংগ্রেস জমানা, যুক্তফ্রন্ট জমানা, বামফ্রন্ট জমানা এবং চলতি তৃণমূল জমানা। অস্থির ও ক্ষণস্থায়ী যুক্তফ্রন্টের স্বল্পকাল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আট বছর বাদ দিলে বাকি সময়টাই সবচেয়ে লম্বা—যেটা শাসন করেছে কংগ্রেস ও বামফ্রন্টের বকলমে সিপিএম।
বিশদ

25th  June, 2019
সরকারের ভিতরে সরকার 
পি চিদম্বরম

যখন কোনও সরকার একটা মারাত্মক সমস্যার মুখোমুখি হয় তখনই তাকে দেখে অবাক লাগে। কারও দোষত্রুটি ধরা পড়লে কেউই তার দায় নেবে না। দোষারোপের পালা শেষমেশ সরকারের শীর্ষকর্তা—মুখ্যমন্ত্রী অথবা প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে গিয়ে থামে।
বিশদ

24th  June, 2019
ডাক্তার আন্দোলন: জয় পরাজয় নয়, হাসপাতাল সমস্যা সমাধানই লক্ষ্য হোক
শুভা দত্ত

এত বড় একটা সমস্যার এমন সহজ সাবলীল সমাধান, সপ্তাহব্যাপী অনড় অচলাবস্থার এমন অনায়াস অবসান বোধহয় এ রাজ্যের শাসক-বিরোধী কোনও মহলই ভাবতে পারেননি।
বিশদ

23rd  June, 2019
মোবাইল সেট নিয়েও যুদ্ধ?
বিশ্ব অর্থনীতির নয়া রণক্ষেত্র
মৃণালকান্তি দাস

 চীনের সোশ্যাল মিডিয়া ‘ওয়েইবো’তে এই মুহূর্তে কী ঘটছে, তা কলকাতার মাটিতে বসে আঁচ পাওয়া অসম্ভব। ঘটনা হল, আমেরিকা-বিরোধী উত্তেজনায় ওয়েইবো এখন রীতিমতো রণক্ষেত্র। কিছুদিন আগে ভারতে চীনের পণ্য বয়কট আন্দোলন নিয়ে ওয়েইবোতে হাসাহাসি হলেও এখন তারাই মার্কিন পণ্য বয়কটের ডাক দিচ্ছে।
বিশদ

22nd  June, 2019
ডাক্তার নিগ্রহের বিরুদ্ধে এত স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন কেন ভারতের প্রতি কোণ থেকে 
সত্যপ্রিয় দে সরকার

আয়ুষ্মান ভারতের নামে সব দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দিয়ে কী করে স্থায়ীভাবে গরিব নাগরিকের চিকিৎসা হতে পারে? তারপর ওই সামান্য টাকার অংশও শাসকদল ও আমলাদের দিয়ে তবে অনেক পরে ওই টাকা পাওয়া যাবে। ... দেশের প্রতিটি জেলায় মেডিক্যাল কলেজ ও নার্সিং কলেজ তৈরি না-হলে স্বাস্থ্যপরিষেবার বিকেন্দ্রীকরণ অসম্ভব। বিভিন্ন অতি সুদক্ষ চিকিৎসা কেন্দ্রের দামি যন্ত্রের কেনাতে সব আমলা ও শাসক দলের সংশ্লিষ্ট নেতারা উদগ্রীব হয়ে থাকেন, কারণ তার দামের ভাগের অংশ ঠিক জায়গায় পৌঁছে যায়, অথচ তারপর বছরের পর বছর সেই যন্ত্র খোলা হয় না, ব্যবহার হয় না। সামান্য খরাপ হলে চিরদিনের জন্য আর ব্যবহার হয় না। যে সামান্য টাকা দিয়ে বার্ষিক যন্ত্রের দেখাশোনার পদ্ধতি প্রস্তুতকারক সংস্থা ব্যবস্থা করে তার সুযোগও ইচ্ছে করে ব্যবহার করা হয় না, যাতে পরিষেবা দিতে না হয়। এর উদাহরণ এত বেশি যে এ ঘটনা না-ঘটাই ব্যতিক্রম।
বিশদ

21st  June, 2019
চিকিৎসক পাঁচ অক্ষর?
শুভময় মৈত্র

শুধুমাত্র নিম্নবিত্ত মানুষদের যদি সরকারি পরিষেবা নিতে বাধ্য করা যায়, তাহলে তার বাইরে থাকা বিশাল একটা অংশ বেসরকারি ক্ষেত্রে ছুটতে বাধ্য। তাইতো এত বেসরকারি স্কুল, কলেজ। সবাই জানেন সরকারি জায়গায় শিক্ষকেরা ভালো, চিকিৎসকেরাও ভালো। কিন্তু তা সত্ত্বেও সরকারি জায়গাগুলোকে যদি এমন খারাপভাবে সাজানো যায় যাতে আর্থিক কারণে বাধ্য না-হলে মানুষ সেখানে না যান, তাহলে একটা বড় অংশের মানুষ ছুটবেন তুলনায় বেসরকারি ক্ষেত্রে, শুধুমাত্র ঝকঝকে পরিষেবার স্বার্থে। এ দেশে একশো তিরিশ কোটির মধ্যে যে-কোনও সময়ে দশ বা কুড়ি কোটি মানুষ সচ্ছল। এই বিপুল বাজারকে ধরতে চায় বেসরকারি উদ্যোগ, আর তাতে বন্ধুত্বপূর্ণ সহায়তা দেয় কল্যাণকামী রাষ্ট্র, তার নেতা, নেত্রী, মন্ত্রীরা—দলমত নির্বিশেষে।
বিশদ

21st  June, 2019
বিধানসভা ভোট কিন্তু হবে মমতাকে দেখেই
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ইন্দিরা গান্ধীর টার্গেট ছিল একটাই। যেভাবে হোক সিপিএমের কোমর ভেঙে দিতে হবে। তিনি মনে করতেন, সিপিএম আসলে সিআইএ’র মদতপুষ্ট। ঠিকঠাক সুযোগ পেলে পূর্ববঙ্গ এবং পশ্চিমবঙ্গে সশস্ত্র আন্দোলন করিয়ে বৃহত্তর বাংলা গঠন করে ফেলবে। কাজেই বাংলা কংগ্রেস এবং সিপিআই পছন্দের তালিকায় থাকলেও সিপিএমকে মোটে বরদাস্ত করতে পারতেন না ইন্দিরা।
বিশদ

18th  June, 2019
ডাক্তারবাবুদের গণ-ইস্তফা নজিরবিহীন,
কিন্তু তাতে কি হাসপাতাল সমস্যা মিটবে?

 এ-কথাও তো সত্যি যে, হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বা ডাক্তারবাবুদের যথাযথ নিরাপত্তা বিধানে তাঁর সদিচ্ছা আছে এবং ইতিমধ্যেই তার যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রবীণদের বৈঠকে ডেকে মুখ্যমন্ত্রী সমাধানসূত্র খুঁজছেন— সেটাও কি ওই সদিচ্ছারই নামান্তর নয়? বিশদ

16th  June, 2019
নরেন্দ্র মোদির মালদ্বীপ সফর এবং ভারত মহাসাগরে ভারতের নতুন রণনীতি
গৌরীশঙ্কর নাগ

 মোদিজির এই দ্বীপপুঞ্জ-সফর কেবলমাত্র হাসি বিনিময় ও করমর্দনের রাজনীতি হবে না, বরং এর প্রধান অ্যাজেন্ডাই হল প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মজবুত করা। তবে সেটা করতে গিয়ে ভারত যেন দ্বীপপুঞ্জের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অযথা হস্তক্ষেপ না করে বসে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, ভারত মালদ্বীপকে সন্ত্রাসবাদের নয়া ‘আঁতুড়ঘর’ হতে দেবে। কারণ ইতিমধ্যেই আমরা দেখেছি পাকিস্তান, আফগানিস্তান এমনকী মধ্যপ্রাচ্য থেকেও জেহাদি নেটওয়ার্কের কারবার মালদ্বীপেও পৌঁছে গিয়েছে। এই র‌্যাডিক্যালিজমের একমাত্র দাওয়াই হল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তার সহায়ক শক্তি হিসেবে রাজনৈতিক স্থিরতা।
বিশদ

15th  June, 2019
সতর্কতার সময়
সমৃদ্ধ দত্ত

 ভারতীয় সংস্কৃতির সনাতন ধারাটি হল দিবে আর নিবে, মিলিবে মেলাবে। কিন্তু সেই সংস্কৃতি থেকে আমাদের সরিয়ে এনেছে অসহিষ্ণুতা আর স্বল্পবিদ্যা। আর সবথেকে বেশি জায়গা করে নিয়েছে বিদ্বেষ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বিদ্বেষ।
বিশদ

14th  June, 2019
ক্ষমতার ‘হিন্দি’ মিডিয়াম
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 উত্তর ভারতের সঙ্গে দক্ষিণের সীমারেখা। আর তার কারিগর আমরাই। আমাদের কাছে সাউথ ইন্ডিয়ান মানে মাদ্রাজি। দক্ষিণ ভারতের লোকজন নারকেল তেল খায়, অদ্ভুত ওদের উচ্চারণ, লুঙ্গি পরে বিয়েবাড়ি যায়... হাজারো আলোচনা। উত্তর ভারত মানে বিষম একটা নাক উঁচু ব্যাপার। আর দক্ষিণ মানেই রসিকতার খোরাক। তাই ওদের একটু ‘মানুষ’ করা দরকার। কীভাবে সেটা সম্ভব? হিন্দি শেখাতে হবে। বিশদ

13th  June, 2019
বারুদের স্তূপের উপর পশ্চিমবঙ্গ
হিমাংশু সিংহ

সংসদীয় রাজনীতিতে কিছুই চিরস্থায়ী নয়। কারও মৌরসিপাট্টাই গণতন্ত্রে বেশিদিন টেকে না। সব সাজানো বাগানই একদিন শুকিয়ে যায় কালের নিয়মে। ইতিহাস কয়েক বছর অন্তর ফিরে ফিরে আসে আর ধুরন্ধর শাসককে চরম শিক্ষা দিয়ে তাঁকে, তাঁর ক্ষমতাকে ধুলোয় লুটিয়ে দিয়ে আবার ফকির করে দিয়ে যায়। সব ক্ষমতা এক ভোটে বিলীন। ধূলিসাৎ। আর এখানেই মহান গণতন্ত্রের জিত আর চমৎকারিত্ব। আর সেই দিক দিয়ে ২৩ মে-র ফল এই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকেও আবার এক মহান সন্ধিক্ষণের দিকেই যেন ঠেলে দিয়েছে। ‘বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ’ হয়নি, ‘২০১৯ বিজেপি ফিনিশ’—তাও হয়নি। উল্টে সারাদেশে বিজেপি থ্রি-নট-থ্রি (অর্থাৎ ৩০৩টি) আসন জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভোট-পণ্ডিতদের।
বিশদ

11th  June, 2019
একনজরে
  নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আসন্ন মরশুমের জন্য মঙ্গলবার ৩৪ সদস্যের সম্ভাব্য বাংলা দল ঘোষিত হল। ...

 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুরুলিয়ায় চিকিৎসকের সঙ্কট রয়েছে। অবস্থা ভয়াবহ। মঙ্গলবার বিধানসভায় উল্লেখপর্বে একথা জানান কংগ্রেস বিধায়ক নেপাল মাহাত। তিনি বলেন, জেলার গ্রামীণ হাসপাতালে ২৩০ জন ডাক্তার দরকার। আছেন মাত্র ৭৯ জন। ...

মণীন্দ্র নারায়ণ সিংহ, জলপাইগুড়ি, বিএনএ: জনসংযোগ বাড়াতে জলপাইগুড়িতে এবার প্রতি বিধানসভা কেন্দ্রে এমপি’র নিজস্ব কার্যালয় খুলবে বিজেপি। সংসদ অধিবেশন চলাকালীন এমপি দিল্লিতে থাকলেও বাকি সময় তিনি ওই কার্যালয়গুলিতে পৃথক দিনে নির্দিষ্ট সময়ে বসবেন।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যায় অধিক পরিশ্রম করতে হবে। ব্যবসায় যুক্ত ব্যক্তির পক্ষে দিনটি শুভ। প্রেম-প্রীতিতে আগ্রহ বাড়বে। নতুন ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব মাদক বিরোধী দিবস
১৯৬৮: ইতালির ফুটবলার পাওলো মালদিনির জন্ম
২০০৫: ক্রিকেটার একনাথ সোলকারের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৪৮ টাকা ৭০.১৭ টাকা
পাউন্ড ৮৬.৭৩ টাকা ৮৯.৯৬ টাকা
ইউরো ৭৭.৫৫ টাকা ৮০.৫২ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,০৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,২৮০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৩,৭৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১১ আষা‌ঢ় ১৪২৬, ২৬ জুন ২০১৯, বুধবার, নবমী অহোরাত্র। উত্তরভাদ্রপদ ১/৩৯ প্রাতঃ ৫/৩৭। সূ উ ৪/৫৭/৪৩, অ ৬/২০/৩৭, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৮ গতে ১১/১১ মধ্যে পুনঃ ১/৫২ গতে ৫/২৭ মধ্যে। রাত্রি ৯/৫৩ মধ্যে পুনঃ ১২/০ গতে ১/২৫ মধ্যে, বারবেলা ৮/১৯ গতে ৯/৫৯ মধ্যে পুনঃ ১১/৩৯ গতে ১/২০ মধ্যে, কালরাত্রি ২/১৯ গতে ৩/৩৮ মধ্যে।
১০ আষাঢ় ১৪২৬, ২৬ জুন ২০১৯, বুধবার, নবমী ৫৪/৩/১৫ রাত্রি ২/৩৪/৪। রেবতীনক্ষত্র ৬০/০/০ অহোরাত্র, সূ উ ৪/৫৬/৪৫, অ ৬/২৩/৩৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪২ গতে ১১/১৫ মধ্যে ও ১/৫৫ গতে ৫/২৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৯/৫৫ মধ্যে ও ১২/৩ গতে ১/২৯ মধ্যে, বারবেলা ১১/৪০/১৩ গতে ১/২১/৪ মধ্যে, কালবেলা ৮/১৮/২৯ গতে ৯/৫৯/২১ মধ্যে, কালরাত্রি ২/১১/২৯ গতে ৩/৩৭/৩৭ মধ্যে।
২২ শওয়াল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
জোড়াসাঁকোয় চলন্ত মিনিবাসে আগুন
আজ কলকাতায় চলন্ত অবস্থায় একটি মিনিবাসের বামদিকের চাকায় আগুন লেগে ...বিশদ

06:42:52 PM

তারকেশ্বরে জনসংযোগ যাত্রা তৃণমূলের
তারকেশ্বরে জনসংযোগ যাত্রা করল তৃণমূল কংগ্রেস।পদযাত্রা অংশগ্রহণ করেন মন্ত্রী ফিরহাদ ...বিশদ

06:31:00 PM

 বিশ্বকাপ: নিউজিল্যান্ড ৯৪ /৫ (৩০ ওভার)

06:24:25 PM

  ফের স্কুলের টয়লেটে আত্মহত্যার চেষ্টা ছাত্রীর
ফের স্কুলের টয়লেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করল এক ছাত্রী। এবার ...বিশদ

06:15:00 PM

মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন খারিজ করল বিরোধীরা
মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন খারিজ করে দিল বিরাধীরা। আজ সাংবাদিক সম্মেলন ...বিশদ

06:11:15 PM

হলদিয়া বন্দরে কর্মরত অবস্থায় রহস্যমৃত্যু কর্মীর 
হলদিয়া বন্দরে কর্মরত অবস্থায় একটি ডাম্পারের ধাক্কায় মৃত্যু হল এক ...বিশদ

06:04:26 PM