Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ভোট ও বুথ-ফেরত সমীক্ষার হাল-হকিকত
অতনু বিশ্বাস

ছ’সপ্তাহ-ব্যাপী লোকসভা নির্বাচন। সাত দফায়। তারও প্রায় পাঁচ সপ্তাহ আগে থেকে প্রচার, ইত্যাদি। আর এখন এক ক্লান্তিকর সময়কালের পরিসমাপ্তিতে অপেক্ষ্যমান জনগণ। কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে ঢুকে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার মত অনভিপ্রেত ঘটনার অভিঘাতে বিমূঢ়, রাজনৈতিক চাপান-উতোর আর হানাহানিতে দীর্ণ, এবং সুদীর্ঘ ভোটপর্বের শেষে গোটা ভারতবর্ষ এখন তাকিয়ে আছে বৃহস্পতিবারের দিকে। সেদিন ইভিএম-এর ভোট গুণে ঠিক হবে পরের পাঁচ বছরের ভারত-ভাগ্য-বিধাতা হবে কে, বা কোন দল বা দলগুলি। দমবন্ধ করা এই মাঝের তিন-চারটে দিন কাক্কেশ্বর কুচকুচের হাতে আছে শুধু পেনসিল। যা দিয়ে শ্লেটে আঁকিবুকি কেটে করা যেতে পারে সমস্ত রকমের সম্ভাবনা আর অসম্ভাবনার জটিল দশমিক আর ত্রৈরাশিকের অঙ্ক। আর সেই অঙ্ক করতে সাহায্য করার জন্যে ছাত্রবন্ধু শিক্ষক হিসেবে হাজির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, টিভি চ্যানেল আর সংবাদপত্র। তাদের বুথ-ফেরত সমীক্ষার ফলাফল নিয়ে। ইংরেজিতে যাকে বলে ‘এক্সিট পোল’।
কিন্তু বিভিন্ন সংস্থার করা এই বুথ-ফেরত সমীক্ষার ফলগুলি অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের সাহায্য করার চাইতে অনেক বেশি করে গুলিয়ে দেয় আমাদের অঙ্কের যোগ-বিয়োগ। যেমন ধরা যাক, এ বারেই প্রধান এক ডজন এক্সিট পোলের হিসেব মিলিয়ে দেখছি, এনডিএ-র আসন-সংখ্যা সেখানে ২৭৭ থেকে ৩৫২-র মধ্যে, ইউপিএ-এর ক্ষেত্রে তা ৮২ থেকে ১৩২-এর মধ্যে। এক এক সংস্থার হিসেব এক এক রকমের। এবং তাদের মধ্যে বিস্তর ফারাক। ২৭৭ আর ৩৫২-র মধ্যে পার্থক্যটা প্রায় ১৪ শতাংশ। আবার ধরা যাক, উত্তর প্রদেশের ক্ষেত্রে ইন্ডিয়া টুডে-অ্যাক্সিসের হিসেবে বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোটকে দেওয়া হয়েছে ৮০টির মধ্যে ৬২-৬৮টি আসন। ওদিকে এবিপি-নিয়েলসেনের হিসেবে এই জোটকে প্রথমে ২২টি আসন দিয়ে পরে করা হয়েছে ৩৫টি। এর মধ্যে কোন হিসেবটাকে জনগণ বেশি গুরুত্ব দেবে? পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে যেমন কোনও এক্সিট পোল বিজেপিকে দিয়েছে ১১টি আসন, আবার কোনও সমীক্ষা দিয়েছে ২৩টি। পার্থক্যটা কিন্তু বিস্তর। প্রায় ২৯ শতাংশ। তাই জনসাধারণ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ঘুরপাক খাবে এ ক’দিন। এবং সেই সঙ্গে এটাও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, এমন হবে নাতো যে এদের কারও হিসেবই মিলল না শেষ পর্যন্ত? এক্সিট পোলের ভুল হবার ইতিহাস যে বড্ড দীর্ঘ এবং ক্লান্তিহীন। যেমন হয়েছিল ২০১৫-র দিল্লি বিধানসভার ক্ষেত্রে। কেউই পূর্বাভাস দিতে পারেনি আম আদমি পার্টির ৭০-এর মধ্যে ৬৭টি আসন পাবার মত বিপুল জয়ের। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় এই সমীক্ষাগুলি যে কোনও দলের বিপুল জয়কে ঠিকঠাক ধরতে পারে না অনেক ক্ষেত্রেই। আবার ভুলটা উল্টো দিকেও হয়। অনেক সময় বিজয়ীকে আন্দাজ করতে পারে না। ২০১৫-তে বিহারে নীতীশ কুমারের জয়ের পূর্বাভাসে ব্যর্থ হয়েছে অধিকাংশ বুথ-ফেরত সমীক্ষা।
এক্সিট পোলের সূত্রপাত হয় বিখ্যাত মার্কিন পোলস্টার ওয়ারেন মিটোওস্কি-র হাত ধরে। ১৯৬৭ সালে। তাই এক্সিট পোলের ইতিহাস মোটামুটি আধ শতাব্দীর। প্রথম এক্সিট পোলটা হয়েছিল সিবিএস নিউজের হয়ে। আমেরিকার কেন্টাকি-র এক স্থানীয় নির্বাচনে। উদ্দেশ্যটা নিশ্চয়ই ছিল নির্বাচন এবং ফল প্রকাশের অন্তর্বর্তী সময়ে খানিকটা উত্তেজনার জোগান দেওয়া। কিন্তু ডেটা বা তথ্য সংগ্রহ করে তা নিয়ে কোনও কিছুর পূর্বাভাস করতে গেলে বেশ খানিকটা রাশিবিজ্ঞানের তত্ত্ব আর তার প্রয়োগ প্রয়োজন। আর সেখানেই ভুল হয় সাধারণ ভাবে।
যেমন দেশের মধ্য থেকে কিছু কেন্দ্র যদৃচ্ছ ভাবে (র‍্যান্ডমলি) বেছে নিয়ে তাদের মধ্য থেকে আবার বাছতে হয় কিছু ভোটকেন্দ্র। কিন্তু এই বাছাটাই কি ঠিক ভাবে করে উঠতে পারে অধিকাংশ সমীক্ষক সংস্থা? দেশের প্রায় আধাআধি বুথই তো সংবেদনশীল। সেগুলিতে কি সঠিক অনুপাতে পৌঁছায় সমীক্ষকরা? ভোটকেন্দ্রগুলিতে যারা ভোট দিয়ে বের হয় তাদের জিজ্ঞেস করার কথা, তারা কাকে ভোট দিয়ে এলেন। তাও আবার সবাইকে নয়। একটা নির্দিষ্ট প্যাটার্ন মেনে, যেমন হয়তো প্রত্যেক পঞ্চম ভোটারকে, জিজ্ঞেস করতে হবে। সমস্যা হল অত্যুৎসাহী অন্য ভোটারটা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এগিয়ে আসতে পারে সমীক্ষায় অংশ নিতে। তবু অগ্রাহ্য করতে হবে তাদের। এসব কি মানা হয় ঠিকঠাক?
এখানেই কিন্তু শেষ নয়। যাদের জিজ্ঞেস করা হবে তারা সবাই যে অমনি গড়গড় করে বলে দেবে তাদের ভোটটা কাকে দিয়ে এসেছে, তেমনটা হবে না কিছুতেই। কারও মধ্যে দ্বিধা কাজ করবে, কারও বা অবিশ্বাস। অনেকে আবার এসব সমীক্ষায় অংশ নিতে লজ্জা বা অস্বস্তি পায়। তাই অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, কোনও বিশেষ রাজনৈতিক দলের সমর্থকরা সমীক্ষায় অংশ নিতে বা তাদের মতামত প্রকাশে বেশি আগ্রহী। ওদিকে অপর কোনও দলের সমর্থকরা খুব বেশি তাদের মতামত দিতে চাইছে না। কিন্তু সমীক্ষকের পক্ষে সেটা বোঝা সম্ভব নয় কিছুতেই। তাই সমীক্ষায় কোনও দলের সমর্থন হয়ে গেল বেশি, বাস্তবে হয়তো ততটা সমর্থন নেই সে দলের। ব্রিটেনে যেমন কনজার্ভেটিভ দলের সমর্থকরা কম অংশ নেয় এ ধরনের সমীক্ষায়। একে বলে ‘শাই টোরি ফ্যাক্টর’। আমেরিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনের সময়ও অনেক ট্রাম্প সমর্থক এক্সিট পোলে অংশ নেয়নি বলে সমাজ-বিজ্ঞানীদের ধারণা।
এ সবের মিলিত প্রভাবে এক্সিট পোলের যাত্রাপথ, বিশেষ করে গত দু’দশকের সাফল্যের ইতিহাসটা, বেশ নড়বড়ে। বিশ্ব জুড়েই। আমেরিকার ২০০০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফ্লোরিডার মত নিয়ন্ত্রক রাজ্যে এক্সিট পোল এগিয়ে রেখেছিল আল গোরে-কে। জিতলেন জর্জ বুশ। ২০০৪ সালে আবার জন কেরি সাড়ে ছয় শতাংশ ভোটে এগিয়ে ছিলেন বুশের থেকে। কিন্তু জিতলেন আবার বুশ। এই ফলের ব্যাখ্যা দিতে মার্কিন সমাজ-বিজ্ঞানীরা আজও হিমশম খেয়ে চলেছেন।
ভারতের ক্ষেত্রেও বুথ-ফেরত সমীক্ষার হতাশ করা পারফরম্যান্স দেখেছি আমরা সাম্প্রতিক অতীতে। ২০০৪ সালে এক্সিট পোলগুলি বাজপেয়ির জয়ের পূর্বাভাস করে। কিন্তু এনডিএ পায় মাত্র ১৮৭টি আসন। ২০০৯তে এক্সিট পোলগুলি মোটের উপর আবার অনুমান করে এনডিএ-র জয়। ফলাফল হয় উল্টো। ২০১৪তে এক্সিট পোলগুলিতে গণ্ডগোল হয় অন্য দিকে। অধিকাংশ পোলই এনডিএ-র জয়ের পূর্বাভাস করেছিল, এটা ঠিক। তবে তাদের বেশির ভাগই অনুমান করতে পারেনি যে এনডিএ ৩৩৬টি আসন পেয়ে ওরকম বিপুল জয় পেতে পারে। তাই, মোটের উপর আমাদের পক্ষে এক্সিট পোলগুলিকে চোখ বন্ধ করে ভরসা করা কঠিন। আর ভরসা করলেই বা কোন সংস্থার পোলে ভরসা করব, সেটাও পরিষ্কার নয়।
অথচ এক্সিট পোলের বিশ্বাসযোগ্যতা এরকম ছিল না একেবারে। ২০০৩ সালে জর্জিয়ার নির্বাচনের পরে নির্বাচনে প্রতারণার অভিযোগ জোরদার হয়। যার মূলে ছিল এক্সিট পোলের সঙ্গে মূল ফল একেবারে না মেলা। এর ফলশ্রুতিতে হয় ‘গোলাপ বিপ্লব’ (‘রোজ রেভোলিউশন’)। আর শেষে এডুয়ার্ড শেভোর্নাৎজে-র পদত্যাগ। দুঃখের বিষয় এই যে, এক্সিট পোলের সেই বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে যেতে বসেছে। বিশ্ব জুড়েই। আর তার মূলে অবশ্যই বেশ কিছু পোলস্টারের অযোগ্য এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন বুথ-ফেরত সমীক্ষা।
আমরা জানি সবই। তবু, বুথ-ফেরত সমীক্ষাগুলি নিয়েই নাড়াচাড়া করব এ ক’দিন। বিশ্বাস-অবিশ্বাস আর দ্বিধা-দ্বন্দ্বের দোলাচলে ঘুরপাক খাওয়া। আসলে এত সংস্থা এত রকমের পূর্বাভাস দিয়েছে, ২৩ তারিখ ভোটের ফল বেরলে তাদের কোনটা যে মিলবে, আর কোনটা নয়, এমনকী কোনওটাই আদপে মিলবে কিনা, বলা প্রায় অসম্ভব। আপনি যার জয় চাইছেন (রাজ্যে বা কেন্দ্রে), তার আসন-সংখ্যা বুথ-ফেরত সমীক্ষাগুলিতে পূর্বাভাস করা আসন-সংখ্যার চাইতে বেশিও হতে পারে, আবার কমও হতে পারে। আবার মিলেও যেতে পারে কোনওটার সঙ্গে। কিন্তু আমাদের মনেই পড়বে না যে, কার পূর্বাভাস কতটা মিলল, আর কারটা কতটা ভুল। তবু, আগামী ভোটগুলিতে— মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড, দিল্লি কিংবা বিহারে—আমরা আবার এক্সিট পোলের হিসেব নিয়ে পড়ব। নির্বাচন এবং তার ফল—এর মধ্যবর্তী দম-বন্ধ-করা ‘স্যান্ডউইচ’ সময়সীমায় এটাই যে সবচেয়ে বড় বিনোদন।
 ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট, কলকাতার রাশিবিজ্ঞানের অধ্যাপক। মতামত ব্যক্তিগত
21st  May, 2019
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৃহত্তম চ্যালেঞ্জ
হারাধন চৌধুরী

আমাদের স্বাধীনতার বয়স বাহাত্তর বছর। পশ্চিমবঙ্গের জন্য এই পর্ব-দৈর্ঘ্যটাকে আমরা চারটি ভাগে ভাগ করতে পারি। কংগ্রেস জমানা, যুক্তফ্রন্ট জমানা, বামফ্রন্ট জমানা এবং চলতি তৃণমূল জমানা। অস্থির ও ক্ষণস্থায়ী যুক্তফ্রন্টের স্বল্পকাল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আট বছর বাদ দিলে বাকি সময়টাই সবচেয়ে লম্বা—যেটা শাসন করেছে কংগ্রেস ও বামফ্রন্টের বকলমে সিপিএম।
বিশদ

25th  June, 2019
সরকারের ভিতরে সরকার 
পি চিদম্বরম

যখন কোনও সরকার একটা মারাত্মক সমস্যার মুখোমুখি হয় তখনই তাকে দেখে অবাক লাগে। কারও দোষত্রুটি ধরা পড়লে কেউই তার দায় নেবে না। দোষারোপের পালা শেষমেশ সরকারের শীর্ষকর্তা—মুখ্যমন্ত্রী অথবা প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে গিয়ে থামে।
বিশদ

24th  June, 2019
ডাক্তার আন্দোলন: জয় পরাজয় নয়, হাসপাতাল সমস্যা সমাধানই লক্ষ্য হোক
শুভা দত্ত

এত বড় একটা সমস্যার এমন সহজ সাবলীল সমাধান, সপ্তাহব্যাপী অনড় অচলাবস্থার এমন অনায়াস অবসান বোধহয় এ রাজ্যের শাসক-বিরোধী কোনও মহলই ভাবতে পারেননি।
বিশদ

23rd  June, 2019
মোবাইল সেট নিয়েও যুদ্ধ?
বিশ্ব অর্থনীতির নয়া রণক্ষেত্র
মৃণালকান্তি দাস

 চীনের সোশ্যাল মিডিয়া ‘ওয়েইবো’তে এই মুহূর্তে কী ঘটছে, তা কলকাতার মাটিতে বসে আঁচ পাওয়া অসম্ভব। ঘটনা হল, আমেরিকা-বিরোধী উত্তেজনায় ওয়েইবো এখন রীতিমতো রণক্ষেত্র। কিছুদিন আগে ভারতে চীনের পণ্য বয়কট আন্দোলন নিয়ে ওয়েইবোতে হাসাহাসি হলেও এখন তারাই মার্কিন পণ্য বয়কটের ডাক দিচ্ছে।
বিশদ

22nd  June, 2019
ডাক্তার নিগ্রহের বিরুদ্ধে এত স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন কেন ভারতের প্রতি কোণ থেকে 
সত্যপ্রিয় দে সরকার

আয়ুষ্মান ভারতের নামে সব দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দিয়ে কী করে স্থায়ীভাবে গরিব নাগরিকের চিকিৎসা হতে পারে? তারপর ওই সামান্য টাকার অংশও শাসকদল ও আমলাদের দিয়ে তবে অনেক পরে ওই টাকা পাওয়া যাবে। ... দেশের প্রতিটি জেলায় মেডিক্যাল কলেজ ও নার্সিং কলেজ তৈরি না-হলে স্বাস্থ্যপরিষেবার বিকেন্দ্রীকরণ অসম্ভব। বিভিন্ন অতি সুদক্ষ চিকিৎসা কেন্দ্রের দামি যন্ত্রের কেনাতে সব আমলা ও শাসক দলের সংশ্লিষ্ট নেতারা উদগ্রীব হয়ে থাকেন, কারণ তার দামের ভাগের অংশ ঠিক জায়গায় পৌঁছে যায়, অথচ তারপর বছরের পর বছর সেই যন্ত্র খোলা হয় না, ব্যবহার হয় না। সামান্য খরাপ হলে চিরদিনের জন্য আর ব্যবহার হয় না। যে সামান্য টাকা দিয়ে বার্ষিক যন্ত্রের দেখাশোনার পদ্ধতি প্রস্তুতকারক সংস্থা ব্যবস্থা করে তার সুযোগও ইচ্ছে করে ব্যবহার করা হয় না, যাতে পরিষেবা দিতে না হয়। এর উদাহরণ এত বেশি যে এ ঘটনা না-ঘটাই ব্যতিক্রম।
বিশদ

21st  June, 2019
চিকিৎসক পাঁচ অক্ষর?
শুভময় মৈত্র

শুধুমাত্র নিম্নবিত্ত মানুষদের যদি সরকারি পরিষেবা নিতে বাধ্য করা যায়, তাহলে তার বাইরে থাকা বিশাল একটা অংশ বেসরকারি ক্ষেত্রে ছুটতে বাধ্য। তাইতো এত বেসরকারি স্কুল, কলেজ। সবাই জানেন সরকারি জায়গায় শিক্ষকেরা ভালো, চিকিৎসকেরাও ভালো। কিন্তু তা সত্ত্বেও সরকারি জায়গাগুলোকে যদি এমন খারাপভাবে সাজানো যায় যাতে আর্থিক কারণে বাধ্য না-হলে মানুষ সেখানে না যান, তাহলে একটা বড় অংশের মানুষ ছুটবেন তুলনায় বেসরকারি ক্ষেত্রে, শুধুমাত্র ঝকঝকে পরিষেবার স্বার্থে। এ দেশে একশো তিরিশ কোটির মধ্যে যে-কোনও সময়ে দশ বা কুড়ি কোটি মানুষ সচ্ছল। এই বিপুল বাজারকে ধরতে চায় বেসরকারি উদ্যোগ, আর তাতে বন্ধুত্বপূর্ণ সহায়তা দেয় কল্যাণকামী রাষ্ট্র, তার নেতা, নেত্রী, মন্ত্রীরা—দলমত নির্বিশেষে।
বিশদ

21st  June, 2019
বিধানসভা ভোট কিন্তু হবে মমতাকে দেখেই
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ইন্দিরা গান্ধীর টার্গেট ছিল একটাই। যেভাবে হোক সিপিএমের কোমর ভেঙে দিতে হবে। তিনি মনে করতেন, সিপিএম আসলে সিআইএ’র মদতপুষ্ট। ঠিকঠাক সুযোগ পেলে পূর্ববঙ্গ এবং পশ্চিমবঙ্গে সশস্ত্র আন্দোলন করিয়ে বৃহত্তর বাংলা গঠন করে ফেলবে। কাজেই বাংলা কংগ্রেস এবং সিপিআই পছন্দের তালিকায় থাকলেও সিপিএমকে মোটে বরদাস্ত করতে পারতেন না ইন্দিরা।
বিশদ

18th  June, 2019
ডাক্তারবাবুদের গণ-ইস্তফা নজিরবিহীন,
কিন্তু তাতে কি হাসপাতাল সমস্যা মিটবে?

 এ-কথাও তো সত্যি যে, হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বা ডাক্তারবাবুদের যথাযথ নিরাপত্তা বিধানে তাঁর সদিচ্ছা আছে এবং ইতিমধ্যেই তার যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রবীণদের বৈঠকে ডেকে মুখ্যমন্ত্রী সমাধানসূত্র খুঁজছেন— সেটাও কি ওই সদিচ্ছারই নামান্তর নয়? বিশদ

16th  June, 2019
নরেন্দ্র মোদির মালদ্বীপ সফর এবং ভারত মহাসাগরে ভারতের নতুন রণনীতি
গৌরীশঙ্কর নাগ

 মোদিজির এই দ্বীপপুঞ্জ-সফর কেবলমাত্র হাসি বিনিময় ও করমর্দনের রাজনীতি হবে না, বরং এর প্রধান অ্যাজেন্ডাই হল প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মজবুত করা। তবে সেটা করতে গিয়ে ভারত যেন দ্বীপপুঞ্জের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অযথা হস্তক্ষেপ না করে বসে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, ভারত মালদ্বীপকে সন্ত্রাসবাদের নয়া ‘আঁতুড়ঘর’ হতে দেবে। কারণ ইতিমধ্যেই আমরা দেখেছি পাকিস্তান, আফগানিস্তান এমনকী মধ্যপ্রাচ্য থেকেও জেহাদি নেটওয়ার্কের কারবার মালদ্বীপেও পৌঁছে গিয়েছে। এই র‌্যাডিক্যালিজমের একমাত্র দাওয়াই হল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তার সহায়ক শক্তি হিসেবে রাজনৈতিক স্থিরতা।
বিশদ

15th  June, 2019
সতর্কতার সময়
সমৃদ্ধ দত্ত

 ভারতীয় সংস্কৃতির সনাতন ধারাটি হল দিবে আর নিবে, মিলিবে মেলাবে। কিন্তু সেই সংস্কৃতি থেকে আমাদের সরিয়ে এনেছে অসহিষ্ণুতা আর স্বল্পবিদ্যা। আর সবথেকে বেশি জায়গা করে নিয়েছে বিদ্বেষ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বিদ্বেষ।
বিশদ

14th  June, 2019
ক্ষমতার ‘হিন্দি’ মিডিয়াম
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 উত্তর ভারতের সঙ্গে দক্ষিণের সীমারেখা। আর তার কারিগর আমরাই। আমাদের কাছে সাউথ ইন্ডিয়ান মানে মাদ্রাজি। দক্ষিণ ভারতের লোকজন নারকেল তেল খায়, অদ্ভুত ওদের উচ্চারণ, লুঙ্গি পরে বিয়েবাড়ি যায়... হাজারো আলোচনা। উত্তর ভারত মানে বিষম একটা নাক উঁচু ব্যাপার। আর দক্ষিণ মানেই রসিকতার খোরাক। তাই ওদের একটু ‘মানুষ’ করা দরকার। কীভাবে সেটা সম্ভব? হিন্দি শেখাতে হবে। বিশদ

13th  June, 2019
বারুদের স্তূপের উপর পশ্চিমবঙ্গ
হিমাংশু সিংহ

সংসদীয় রাজনীতিতে কিছুই চিরস্থায়ী নয়। কারও মৌরসিপাট্টাই গণতন্ত্রে বেশিদিন টেকে না। সব সাজানো বাগানই একদিন শুকিয়ে যায় কালের নিয়মে। ইতিহাস কয়েক বছর অন্তর ফিরে ফিরে আসে আর ধুরন্ধর শাসককে চরম শিক্ষা দিয়ে তাঁকে, তাঁর ক্ষমতাকে ধুলোয় লুটিয়ে দিয়ে আবার ফকির করে দিয়ে যায়। সব ক্ষমতা এক ভোটে বিলীন। ধূলিসাৎ। আর এখানেই মহান গণতন্ত্রের জিত আর চমৎকারিত্ব। আর সেই দিক দিয়ে ২৩ মে-র ফল এই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকেও আবার এক মহান সন্ধিক্ষণের দিকেই যেন ঠেলে দিয়েছে। ‘বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ’ হয়নি, ‘২০১৯ বিজেপি ফিনিশ’—তাও হয়নি। উল্টে সারাদেশে বিজেপি থ্রি-নট-থ্রি (অর্থাৎ ৩০৩টি) আসন জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভোট-পণ্ডিতদের।
বিশদ

11th  June, 2019
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুরুলিয়ায় চিকিৎসকের সঙ্কট রয়েছে। অবস্থা ভয়াবহ। মঙ্গলবার বিধানসভায় উল্লেখপর্বে একথা জানান কংগ্রেস বিধায়ক নেপাল মাহাত। তিনি বলেন, জেলার গ্রামীণ হাসপাতালে ২৩০ জন ডাক্তার দরকার। আছেন মাত্র ৭৯ জন। ...

হায়দরাবাদ, ২৫ জুন: অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর নিরাপত্তায় আগেই কাঁটছাঁট করা হয়েছিল। এবার তাঁর ছেলে এবং পরিবারের জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তাও কমিয়ে দিল জগন্মোহন রেড্ডির সরকার। নির্বাচনে ভরাডুবির পর চলতি মাসের প্রথমে সপরিবারে ইউরোপ বেড়াতে গিয়েছিলেন চন্দ্রবাবু। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে আরও ১৫টি দমকলকেন্দ্র হচ্ছে। মঙ্গলবার বিধানসভার প্রথমার্ধে প্রশ্নোত্তর পর্বে তৃণমূল বিধায়ক নার্গিস বেগমের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা জানান রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। তিনি বলেন, রাজ্যে বর্তমানে ১৪১টি দমকলকেন্দ্র আছে। ...

  নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আসন্ন মরশুমের জন্য মঙ্গলবার ৩৪ সদস্যের সম্ভাব্য বাংলা দল ঘোষিত হল। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যায় অধিক পরিশ্রম করতে হবে। ব্যবসায় যুক্ত ব্যক্তির পক্ষে দিনটি শুভ। প্রেম-প্রীতিতে আগ্রহ বাড়বে। নতুন ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব মাদক বিরোধী দিবস
১৯৬৮: ইতালির ফুটবলার পাওলো মালদিনির জন্ম
২০০৫: ক্রিকেটার একনাথ সোলকারের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৪৮ টাকা ৭০.১৭ টাকা
পাউন্ড ৮৬.৭৩ টাকা ৮৯.৯৬ টাকা
ইউরো ৭৭.৫৫ টাকা ৮০.৫২ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,০৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,২৮০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৩,৭৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১১ আষা‌ঢ় ১৪২৬, ২৬ জুন ২০১৯, বুধবার, নবমী অহোরাত্র। উত্তরভাদ্রপদ ১/৩৯ প্রাতঃ ৫/৩৭। সূ উ ৪/৫৭/৪৩, অ ৬/২০/৩৭, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৮ গতে ১১/১১ মধ্যে পুনঃ ১/৫২ গতে ৫/২৭ মধ্যে। রাত্রি ৯/৫৩ মধ্যে পুনঃ ১২/০ গতে ১/২৫ মধ্যে, বারবেলা ৮/১৯ গতে ৯/৫৯ মধ্যে পুনঃ ১১/৩৯ গতে ১/২০ মধ্যে, কালরাত্রি ২/১৯ গতে ৩/৩৮ মধ্যে।
১০ আষাঢ় ১৪২৬, ২৬ জুন ২০১৯, বুধবার, নবমী ৫৪/৩/১৫ রাত্রি ২/৩৪/৪। রেবতীনক্ষত্র ৬০/০/০ অহোরাত্র, সূ উ ৪/৫৬/৪৫, অ ৬/২৩/৩৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪২ গতে ১১/১৫ মধ্যে ও ১/৫৫ গতে ৫/২৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৯/৫৫ মধ্যে ও ১২/৩ গতে ১/২৯ মধ্যে, বারবেলা ১১/৪০/১৩ গতে ১/২১/৪ মধ্যে, কালবেলা ৮/১৮/২৯ গতে ৯/৫৯/২১ মধ্যে, কালরাত্রি ২/১১/২৯ গতে ৩/৩৭/৩৭ মধ্যে।
২২ শওয়াল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
জামিন বাতিল বিজয়বর্গীর ছেলের
পুরসভার আধিকারিকদের মারধরের মামলায় বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়র ছেলে আকাশ ...বিশদ

07:41:44 PM

বিশ্বকাপ: নিউজিল্যান্ড ১৫৫ /৫ (৪১ ওভার) 

07:08:38 PM

জোড়াসাঁকোয় চলন্ত মিনিবাসে আগুন
আজ কলকাতায় চলন্ত অবস্থায় একটি মিনিবাসের বামদিকের চাকায় আগুন লেগে ...বিশদ

06:42:52 PM

তারকেশ্বরে জনসংযোগ যাত্রা তৃণমূলের
তারকেশ্বরে জনসংযোগ যাত্রা করল তৃণমূল কংগ্রেস।পদযাত্রা অংশগ্রহণ করেন মন্ত্রী ফিরহাদ ...বিশদ

06:31:00 PM

 বিশ্বকাপ: নিউজিল্যান্ড ৯৪ /৫ (৩০ ওভার)

06:24:25 PM

  ফের স্কুলের টয়লেটে আত্মহত্যার চেষ্টা ছাত্রীর
ফের স্কুলের টয়লেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করল এক ছাত্রী। এবার ...বিশদ

06:15:00 PM