Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

নতুন বন্ধুর খোঁজে কংগ্রেস ও বিজেপি
শুভা দত্ত

শেষ পর্বের ভোটগ্রহণও হয়ে গেল। ফল বেরতে বাকি আর ক’টা মাত্র দিন। এখন রাজনীতিকদের মধ্যে জোর শলাপরামর্শ চলছে। নানারকম জোটের কথা হাওয়ায় ভাসছে। কংগ্রেস ধরেই নিচ্ছে, কোনও দল গরিষ্ঠতা পাবে না। যেদিন ভোটের ফল বেরবে, সেদিনই সোনিয়া গান্ধী দিল্লিতে বিরোধী দলগুলির মিটিং ডেকেছেন। তাঁর হয়ে কমলনাথ ও আরও কয়েকজন প্রবীণ নেতা এনডিএ বহির্ভূত দলগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। আগামী বৃহস্পতিবার বিরোধী নেতাদের অনেকেই কংগ্রেসের ডাকা বৈঠকে হাজির হতে পারেন।
সোনিয়াকে বিদেশিনী আখ্যা দিয়ে যিনি একদা কংগ্রেস ছেড়ে গিয়েছিলেন, সেই শারদ পাওয়ার সম্ভবত সেদিনের মিটিংয়ে থাকছেন। বহুকাল ধরে যিনি বিজেপি’র শরিক ছিলেন, সেই চন্দ্রবাবু নাইডুও আসতে পারেন। তিনি তো নিজেই এবার বিজেপি বিরোধী জোট গঠনের জন্য জোর উদ্যোগ নিয়েছেন। কংগ্রেস হাইকম্যান্ড আর যে নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, তাঁদের মধ্যে আছেন ডিএমকে-র এম কে স্ট্যালিন, বিজেডির নবীন পট্টনায়েক, ওয়াইএসআর কংগ্রেসের জগন রেড্ডি, তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির কে চন্দ্রশেখর রাও। এছাড়া উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন দুই মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী ও অখিলেশ সিং যাদবকেও কংগ্রেস জোটে পেতে ইচ্ছুক। ভোটের আগে মায়াবতী ও অখিলেশ অবশ্য মহাগঠবন্ধনে কংগ্রেসকে ঠাঁই দেননি। কিন্তু রাহুল গান্ধী সে জন্য মনে অভিমান পুষে রাখতে নারাজ।
এবারের ভোটে প্রচারপর্বে সোনিয়া ছিলেন লো প্রোফাইলে। তাঁকে জনসভায় বা রোড শো-য় দেখা যায়নি। কিন্তু ভোটের পরে তিনিই সবচেয়ে সক্রিয় হবেন মনে হচ্ছে।
কংগ্রেস যখন জোট গড়ার জন্য এত তৎপর, বিজেপি কি চুপ করে বসে থাকতে পারে?
গেরুয়া ব্রিগেডের নেতারা খুব জোর গলায় বলে বেড়াচ্ছেন, গরিষ্ঠতা পাচ্ছেনই। এমন কথাও বলছেন, গতবারের চেয়ে বেশি আসন পাবেন। কেউ বলছেন ৩০০ আসন পাবেন। অন্যদিকে আবার অমিত শাহ শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে বললেন, নতুন কোনও দল যদি এনডিএ-তে যোগ দিতে চায়, তাকে স্বাগত জানাতে তিনি তৈরি। এর আগে কৈলাস বিজয়বর্গীও একবার বলেছিলেন, রাজনীতিতে স্থায়ী শত্রু বলে কিছু হয় না। এই ধরনের মন্তব্যের একটাই মানে হয়, ভোটের আগে যারা শত্রু, ভোট ফুরলে তাদের কেউ বন্ধুও হতে পারে। বিজেপি চায় এনডিএ-তে আরও দল যুক্ত হোক। কেন চায়? তাহলে কি মোদিরাও কংগ্রেসের মতো মনে করছেন, ত্রিশঙ্কু সংসদ হওয়ার সম্ভাবনা আছে?
উত্তরপ্রদেশে বিজেপি ইতিমধ্যে নতুন বন্ধু খুঁজতে শুরু করেছে। যে রাজ্যটি সবচেয়ে বেশি সংখ্যক এমপিকে নির্বাচিত করে, সেখানে এবার গেরুয়া পার্টির অবস্থা ভালো নয়। শোনা যাচ্ছে, তারা উত্তরপ্রদেশে গতবারের চেয়ে ২০টি আসন কম পেতে পারে। পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে বুঝে বিজেপি নেতারা নাকি যোগাযোগ রাখছেন অজিত সিংয়ের রাষ্ট্রীয় লোকদলের সঙ্গে। অজিত সিং অবশ্য বিএসপি আর এসপির মহাগঠবন্ধনের শরিক। অখিলেশ আর মায়াবতী তাঁকে মোটে তিনটি আসন দিয়েছেন। তিনি চেয়েছিলেন আরও বেশি। প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তাই তিনি ক্ষুব্ধ। বিজেপির আশা, প্রয়োজনে অজিত সিং তাদের পাশে দাঁড়াবেন। উত্তরপ্রদেশে জাঠদের মধ্যে তাঁর ভালো প্রভাব আছে।
অনেকের ধারণা, এনডিএ যদি সব মিলিয়ে গরিষ্ঠতা না-পায়, বিজেপি নেতারা চন্দ্রশেখর রাও, জগন রেড্ডি বা নবীন পট্টনায়েককেও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাতে পারেন। এমনকী ডিএমকে’র স্ট্যালিনকেও জোটে টানার চেষ্টা হতে পারে।
অর্থাৎ ভোটের ফল বেরনোর আগেই নতুন নতুন বন্ধুর খোঁজে নেমে পড়েছে দেশের দুই প্রধান দল বিজেপি ও কংগ্রেস। কার কতজন বন্ধু প্রয়োজন হবে, নির্ভর করবে ভোটের ফলের ওপরে।
ভোটে কেমন ফল হতে পারে?
এই নিয়ে নানা সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে।
একটি সম্ভাবনা হল, বিজেপি একা ২৫০ বা তার চেয়ে কিছু বেশি আসন পাবে। তাহলে আর নতুন বন্ধু প্রয়োজন হবে না। এনডিএ-তে এখন যে ক’জন শরিক আছে, তাদের নিয়েই বিজেপি সরকার গড়ে ফেলতে পারবে। ধরে নিতে হবে, মোদি বালাকোটে বিমান আক্রমণ চালিয়ে দেশবাসীকে খুশি করতে পেরেছেন। কৃষকদের দুর্দশা, বেকারত্ব, নোটবন্দি, জিএসটি-র ফলে দুর্ভোগ, এসব নিয়ে ভোটাররা মাথা ঘামাননি।
সেক্ষেত্রে মোদি ফের প্রধানমন্ত্রী হবেন। শোনা যাচ্ছে, অমিত শাহ মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে পারেন। সম্ভবত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদটি তাঁকে দেওয়া হবে। আরএসএস তাই চায়। কিন্তু মন্ত্রী হলে অমিত শাহ কি বিজেপির সভাপতির দায়িত্ব সামলাতে পারবেন? অবশ্য তিনি যদি ওই পদে থাকতে চান, তাহলে সঙ্ঘের আপত্তি নেই। কিন্তু তাঁর বদলে অপর কে সভাপতি হতে পারেন, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে বিজেপির অন্দরে।
বিজেপি যদি ২২০ থেকে ২৩০-এর বেশি আসন না পায়, তখন কী হবে?
এনডিএ-র শরিকরা একবাক্যে বলবে, মোদির ভুলভাল সিদ্ধান্তের জন্যই ভোটার বিমুখ হয়েছে, সুতরাং তাঁকে আর প্রধানমন্ত্রী করার দরকার নেই।
আরএসএস অবশ্য তাঁকে সরাতে চাইবে না। এই অবস্থায় অমিত শাহরা ঝাঁপিয়ে পড়বেন যাতে আরও কয়েকটি দলকে তাঁদের সমর্থনে পাওয়া যায়।
বিজেপি যদি ১৪০ থেকে ১৬০-এর মধ্যে আসন পায়?
তাহলে নিশ্চিতভাবেই মোদির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা জলাঞ্জলি যাবে। যতই নতুন বন্ধু আসুক, দিল্লিতে সরকার গড়া কিছুতেই সম্ভব হবে না। বিজেপিকে বসতে হবে বিরোধী আসনে।
কংগ্রেসের দিক থেকে কী কী সম্ভাবনা আছে?
সম্ভাবনা এক: কংগ্রেস একাই ১৫০-এর বেশি আসন পেল। তার মানে ছত্তিশগড়, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকের মতো যেসব রাজ্যে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি, সেখানে ভালো ফল করতে হবে রাহুল গান্ধীর দলকে। ধরে নিতে হবে, কংগ্রেস সভাপতি এতদিনে পরিণত রাজনীতিক হয়ে উঠেছেন। বিজেপি বিরোধী কোয়ালিশনে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
সেক্ষেত্রে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন?
এই ব্যাপারটা নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি আছে। বিরোধী শিবিরের অনেকেই প্রধানমন্ত্রী হতে চান। কংগ্রেস অবশ্য আগেই বলে রেখেছে, প্রয়োজন হলে তারা প্রধানমন্ত্রীর পদটি অন্য দলকে দিতে রাজি। কিন্তু অন্যান্য দলও সেই উদারতা দেখাবে কি না বলা শক্ত।
সম্ভাবনা দুই: কংগ্রেস ১১০ থেকে ১৩০-এর মধ্যে আসন পেল।
তাহলেও দেশের প্রাচীনতম দলটির আসন সংখ্যা হবে অবিজেপি দলগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি। তারা তখনও বিজেপি বিরোধী কোয়ালিশনে নেতৃত্ব দেওয়ার দাবি জানাবে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস, মায়াবতীর বিএসপি বা অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি রাহুলের নেতৃত্ব মানতে চাইবে কি না বলা শক্ত। যদিও ডিএমকে, আরজেডি বা ন্যাশনাল কনফারেন্সের মতো দল তখনও কংগ্রেসের পাশে দাঁড়াবে। বামপন্থীরাও হয়তো রাহুলকে সমর্থন করবে।
সম্ভাবনা তিন: কংগ্রেস ৭৫ থেকে ১০০টা আসন পেল।
তখন ধরে নিতে হবে কংগ্রেসের হাল খারাপ। গতবছর তাদের কয়েকটি রাজ্যে ভালো ফল হয়েছিল বটে কিন্তু তা থেকে জাতীয় রাজনীতির গতিপ্রকৃতি আন্দাজ করা যায়নি। বিজেপি হারানো জমি ফিরে পেয়েছে। রাহুল গান্ধী এখনও মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতা নন। রাফায়েল কেলেঙ্কারি নিয়ে প্রচারে ভোটাররা কান দেননি। সুতরাং রাহুলকে আরও পাঁচটি বছর সংসদে বিরোধী বেঞ্চে বসে অপেক্ষা করতে হবে।
এমনও হতে পারে, তখন কংগ্রেস হাইকম্যান্ড রাহুলের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবে নবাগত প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে। দলকে বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার জন্য ইন্দিরা গান্ধীর নাতনির ওপরেই বেশি ভরসা রাখবে।
২০১৯ সালে ভারতের ভোটদাতারা ঠিক কী মতপ্রকাশ করেছেন, তা জানার জন্য বৃহস্পতিবার অবধি অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। আপাতত যতরকম সম্ভাবনার কথা ভাবা গিয়েছে, তার বাইরে অন্য কিছুও হতে পারে।
ভারতের ভোট রাজসূয় যজ্ঞের মতোই বৃহৎ। ভোটারের সংখ্যা ৯০ কোটি। গোটা ইউরোপ মহাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ায় যত লোক বাস করে, এদেশে ভোটারের সংখ্যা তার চেয়ে বেশি। ২০১৪ সালে ভোটের পর নির্বাচন কমিশন হিসাব দিয়েছিল, মোট ৪৬৪টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। প্রার্থী হয়েছেন মোট ৮২৫০ জন। ২০১৯ সালে প্রার্থীর সংখ্যা নিশ্চয় বেড়েছে। এইরকম একটা বিশাল ভোট প্রক্রিয়ার শেষে কী ফলাফল হতে পারে, আগে থেকে অনুমান করা দুঃসাধ্য কাজ। সে জন্য এক্সিট পোল প্রায়ই এদেশে ব্যর্থ হয়। এক্সিট পোলে দেখা যায় একরকম, ভোটের ফলাফল হয় সম্পূর্ণ আলাদা।
একটা ব্যাপার এর মধ্যেই স্পষ্ট। যে-ই ক্ষমতায় আসুক, তাকে খুব কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। গত পাঁচ বছরে কৃষকদের আয় বিশেষ বাড়েনি। তাঁরা চাইবেন নতুন সরকার কিছু সুরাহা করুক। দেশে বেকারত্ব গত কয়েক দশকের তুলনায় সবচেয়ে বেশি। নোটবন্দিতে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ওইসব শিল্পেই সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ কাজ করেন। তাঁদের অনেকে কাজ হারিয়েছেন। নতুন সরকার এলে কর্মহীনরা চাইবেন প্রচুর চাকরির সুযোগ তৈরি হোক।
আরও সমস্যা আছে। দেশের রপ্তানি কমছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিতে অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। মোট জাতীয় উৎপাদনের বৃদ্ধির হারও বিশেষ আশাপ্রদ নয়। মাত্র ৬.৮ শতাংশ। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জিডিপি বৃদ্ধির হারকে সাত শতাংশের উপরে নিয়ে যেতেই হবে। নইলে উন্নয়নের গতি হয়ে পড়বে মন্থর।
এতগুলো চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করা খুব শক্ত কাজ।
আর একটা কথা বলার আছে। ভোটের ফলাফল যা-ই হোক, যেন শান্তি বজায় থাকে। গত এক মাসে রাজ্যের নানা জায়গায় মারপিট, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, এমনকী প্রাণহানিও ঘটেছে।
তার ওপর কিছুদিন আগে কলকাতায় অমিত শাহের রোড শো-কে কেন্দ্র করে যা ঘটে গেল, তা রীতিমতো লজ্জার। বাংলার নবজাগরণের যিনি পুরোধা পুরুষ, সেই বিদ্যাসাগরের মূর্তিতে হাত দিতে সাহস পেল দুষ্কৃতীরা। সেই সাতের দশকের পরে এমন কলঙ্কিত দিন রাজ্যে আর আসেনি।
পশ্চিমবঙ্গে অতীতেও রাজনৈতিক হানাহানিতে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেই ট্রাডিশন থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতেই হবে।
20th  May, 2019
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৃহত্তম চ্যালেঞ্জ
হারাধন চৌধুরী

আমাদের স্বাধীনতার বয়স বাহাত্তর বছর। পশ্চিমবঙ্গের জন্য এই পর্ব-দৈর্ঘ্যটাকে আমরা চারটি ভাগে ভাগ করতে পারি। কংগ্রেস জমানা, যুক্তফ্রন্ট জমানা, বামফ্রন্ট জমানা এবং চলতি তৃণমূল জমানা। অস্থির ও ক্ষণস্থায়ী যুক্তফ্রন্টের স্বল্পকাল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আট বছর বাদ দিলে বাকি সময়টাই সবচেয়ে লম্বা—যেটা শাসন করেছে কংগ্রেস ও বামফ্রন্টের বকলমে সিপিএম।
বিশদ

25th  June, 2019
সরকারের ভিতরে সরকার 
পি চিদম্বরম

যখন কোনও সরকার একটা মারাত্মক সমস্যার মুখোমুখি হয় তখনই তাকে দেখে অবাক লাগে। কারও দোষত্রুটি ধরা পড়লে কেউই তার দায় নেবে না। দোষারোপের পালা শেষমেশ সরকারের শীর্ষকর্তা—মুখ্যমন্ত্রী অথবা প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে গিয়ে থামে।
বিশদ

24th  June, 2019
ডাক্তার আন্দোলন: জয় পরাজয় নয়, হাসপাতাল সমস্যা সমাধানই লক্ষ্য হোক
শুভা দত্ত

এত বড় একটা সমস্যার এমন সহজ সাবলীল সমাধান, সপ্তাহব্যাপী অনড় অচলাবস্থার এমন অনায়াস অবসান বোধহয় এ রাজ্যের শাসক-বিরোধী কোনও মহলই ভাবতে পারেননি।
বিশদ

23rd  June, 2019
মোবাইল সেট নিয়েও যুদ্ধ?
বিশ্ব অর্থনীতির নয়া রণক্ষেত্র
মৃণালকান্তি দাস

 চীনের সোশ্যাল মিডিয়া ‘ওয়েইবো’তে এই মুহূর্তে কী ঘটছে, তা কলকাতার মাটিতে বসে আঁচ পাওয়া অসম্ভব। ঘটনা হল, আমেরিকা-বিরোধী উত্তেজনায় ওয়েইবো এখন রীতিমতো রণক্ষেত্র। কিছুদিন আগে ভারতে চীনের পণ্য বয়কট আন্দোলন নিয়ে ওয়েইবোতে হাসাহাসি হলেও এখন তারাই মার্কিন পণ্য বয়কটের ডাক দিচ্ছে।
বিশদ

22nd  June, 2019
ডাক্তার নিগ্রহের বিরুদ্ধে এত স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন কেন ভারতের প্রতি কোণ থেকে 
সত্যপ্রিয় দে সরকার

আয়ুষ্মান ভারতের নামে সব দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দিয়ে কী করে স্থায়ীভাবে গরিব নাগরিকের চিকিৎসা হতে পারে? তারপর ওই সামান্য টাকার অংশও শাসকদল ও আমলাদের দিয়ে তবে অনেক পরে ওই টাকা পাওয়া যাবে। ... দেশের প্রতিটি জেলায় মেডিক্যাল কলেজ ও নার্সিং কলেজ তৈরি না-হলে স্বাস্থ্যপরিষেবার বিকেন্দ্রীকরণ অসম্ভব। বিভিন্ন অতি সুদক্ষ চিকিৎসা কেন্দ্রের দামি যন্ত্রের কেনাতে সব আমলা ও শাসক দলের সংশ্লিষ্ট নেতারা উদগ্রীব হয়ে থাকেন, কারণ তার দামের ভাগের অংশ ঠিক জায়গায় পৌঁছে যায়, অথচ তারপর বছরের পর বছর সেই যন্ত্র খোলা হয় না, ব্যবহার হয় না। সামান্য খরাপ হলে চিরদিনের জন্য আর ব্যবহার হয় না। যে সামান্য টাকা দিয়ে বার্ষিক যন্ত্রের দেখাশোনার পদ্ধতি প্রস্তুতকারক সংস্থা ব্যবস্থা করে তার সুযোগও ইচ্ছে করে ব্যবহার করা হয় না, যাতে পরিষেবা দিতে না হয়। এর উদাহরণ এত বেশি যে এ ঘটনা না-ঘটাই ব্যতিক্রম।
বিশদ

21st  June, 2019
চিকিৎসক পাঁচ অক্ষর?
শুভময় মৈত্র

শুধুমাত্র নিম্নবিত্ত মানুষদের যদি সরকারি পরিষেবা নিতে বাধ্য করা যায়, তাহলে তার বাইরে থাকা বিশাল একটা অংশ বেসরকারি ক্ষেত্রে ছুটতে বাধ্য। তাইতো এত বেসরকারি স্কুল, কলেজ। সবাই জানেন সরকারি জায়গায় শিক্ষকেরা ভালো, চিকিৎসকেরাও ভালো। কিন্তু তা সত্ত্বেও সরকারি জায়গাগুলোকে যদি এমন খারাপভাবে সাজানো যায় যাতে আর্থিক কারণে বাধ্য না-হলে মানুষ সেখানে না যান, তাহলে একটা বড় অংশের মানুষ ছুটবেন তুলনায় বেসরকারি ক্ষেত্রে, শুধুমাত্র ঝকঝকে পরিষেবার স্বার্থে। এ দেশে একশো তিরিশ কোটির মধ্যে যে-কোনও সময়ে দশ বা কুড়ি কোটি মানুষ সচ্ছল। এই বিপুল বাজারকে ধরতে চায় বেসরকারি উদ্যোগ, আর তাতে বন্ধুত্বপূর্ণ সহায়তা দেয় কল্যাণকামী রাষ্ট্র, তার নেতা, নেত্রী, মন্ত্রীরা—দলমত নির্বিশেষে।
বিশদ

21st  June, 2019
বিধানসভা ভোট কিন্তু হবে মমতাকে দেখেই
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ইন্দিরা গান্ধীর টার্গেট ছিল একটাই। যেভাবে হোক সিপিএমের কোমর ভেঙে দিতে হবে। তিনি মনে করতেন, সিপিএম আসলে সিআইএ’র মদতপুষ্ট। ঠিকঠাক সুযোগ পেলে পূর্ববঙ্গ এবং পশ্চিমবঙ্গে সশস্ত্র আন্দোলন করিয়ে বৃহত্তর বাংলা গঠন করে ফেলবে। কাজেই বাংলা কংগ্রেস এবং সিপিআই পছন্দের তালিকায় থাকলেও সিপিএমকে মোটে বরদাস্ত করতে পারতেন না ইন্দিরা।
বিশদ

18th  June, 2019
ডাক্তারবাবুদের গণ-ইস্তফা নজিরবিহীন,
কিন্তু তাতে কি হাসপাতাল সমস্যা মিটবে?

 এ-কথাও তো সত্যি যে, হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বা ডাক্তারবাবুদের যথাযথ নিরাপত্তা বিধানে তাঁর সদিচ্ছা আছে এবং ইতিমধ্যেই তার যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রবীণদের বৈঠকে ডেকে মুখ্যমন্ত্রী সমাধানসূত্র খুঁজছেন— সেটাও কি ওই সদিচ্ছারই নামান্তর নয়? বিশদ

16th  June, 2019
নরেন্দ্র মোদির মালদ্বীপ সফর এবং ভারত মহাসাগরে ভারতের নতুন রণনীতি
গৌরীশঙ্কর নাগ

 মোদিজির এই দ্বীপপুঞ্জ-সফর কেবলমাত্র হাসি বিনিময় ও করমর্দনের রাজনীতি হবে না, বরং এর প্রধান অ্যাজেন্ডাই হল প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মজবুত করা। তবে সেটা করতে গিয়ে ভারত যেন দ্বীপপুঞ্জের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অযথা হস্তক্ষেপ না করে বসে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, ভারত মালদ্বীপকে সন্ত্রাসবাদের নয়া ‘আঁতুড়ঘর’ হতে দেবে। কারণ ইতিমধ্যেই আমরা দেখেছি পাকিস্তান, আফগানিস্তান এমনকী মধ্যপ্রাচ্য থেকেও জেহাদি নেটওয়ার্কের কারবার মালদ্বীপেও পৌঁছে গিয়েছে। এই র‌্যাডিক্যালিজমের একমাত্র দাওয়াই হল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তার সহায়ক শক্তি হিসেবে রাজনৈতিক স্থিরতা।
বিশদ

15th  June, 2019
সতর্কতার সময়
সমৃদ্ধ দত্ত

 ভারতীয় সংস্কৃতির সনাতন ধারাটি হল দিবে আর নিবে, মিলিবে মেলাবে। কিন্তু সেই সংস্কৃতি থেকে আমাদের সরিয়ে এনেছে অসহিষ্ণুতা আর স্বল্পবিদ্যা। আর সবথেকে বেশি জায়গা করে নিয়েছে বিদ্বেষ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বিদ্বেষ।
বিশদ

14th  June, 2019
ক্ষমতার ‘হিন্দি’ মিডিয়াম
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 উত্তর ভারতের সঙ্গে দক্ষিণের সীমারেখা। আর তার কারিগর আমরাই। আমাদের কাছে সাউথ ইন্ডিয়ান মানে মাদ্রাজি। দক্ষিণ ভারতের লোকজন নারকেল তেল খায়, অদ্ভুত ওদের উচ্চারণ, লুঙ্গি পরে বিয়েবাড়ি যায়... হাজারো আলোচনা। উত্তর ভারত মানে বিষম একটা নাক উঁচু ব্যাপার। আর দক্ষিণ মানেই রসিকতার খোরাক। তাই ওদের একটু ‘মানুষ’ করা দরকার। কীভাবে সেটা সম্ভব? হিন্দি শেখাতে হবে। বিশদ

13th  June, 2019
বারুদের স্তূপের উপর পশ্চিমবঙ্গ
হিমাংশু সিংহ

সংসদীয় রাজনীতিতে কিছুই চিরস্থায়ী নয়। কারও মৌরসিপাট্টাই গণতন্ত্রে বেশিদিন টেকে না। সব সাজানো বাগানই একদিন শুকিয়ে যায় কালের নিয়মে। ইতিহাস কয়েক বছর অন্তর ফিরে ফিরে আসে আর ধুরন্ধর শাসককে চরম শিক্ষা দিয়ে তাঁকে, তাঁর ক্ষমতাকে ধুলোয় লুটিয়ে দিয়ে আবার ফকির করে দিয়ে যায়। সব ক্ষমতা এক ভোটে বিলীন। ধূলিসাৎ। আর এখানেই মহান গণতন্ত্রের জিত আর চমৎকারিত্ব। আর সেই দিক দিয়ে ২৩ মে-র ফল এই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকেও আবার এক মহান সন্ধিক্ষণের দিকেই যেন ঠেলে দিয়েছে। ‘বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ’ হয়নি, ‘২০১৯ বিজেপি ফিনিশ’—তাও হয়নি। উল্টে সারাদেশে বিজেপি থ্রি-নট-থ্রি (অর্থাৎ ৩০৩টি) আসন জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভোট-পণ্ডিতদের।
বিশদ

11th  June, 2019
একনজরে
হায়দরাবাদ, ২৫ জুন: অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর নিরাপত্তায় আগেই কাঁটছাঁট করা হয়েছিল। এবার তাঁর ছেলে এবং পরিবারের জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তাও কমিয়ে দিল জগন্মোহন রেড্ডির সরকার। নির্বাচনে ভরাডুবির পর চলতি মাসের প্রথমে সপরিবারে ইউরোপ বেড়াতে গিয়েছিলেন চন্দ্রবাবু। ...

  নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আসন্ন মরশুমের জন্য মঙ্গলবার ৩৪ সদস্যের সম্ভাব্য বাংলা দল ঘোষিত হল। ...

 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: রাজপুর-সোনারপুর পুরসভায় জমা পড়ে থাকা সমস্ত ট্রেড লাইসেন্স চলতি মাসেই দিয়ে দেওয়া হবে। মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছেন চেয়ারম্যান পল্লব দাস। তিনি বলেন, নতুন ট্রেড লাইসেন্স এবং নবীকরণের জন্য যাঁরা পুরসভার স্থানীয় ও প্রধান অফিসে ফিসহ ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যায় অধিক পরিশ্রম করতে হবে। ব্যবসায় যুক্ত ব্যক্তির পক্ষে দিনটি শুভ। প্রেম-প্রীতিতে আগ্রহ বাড়বে। নতুন ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব মাদক বিরোধী দিবস
১৯৬৮: ইতালির ফুটবলার পাওলো মালদিনির জন্ম
২০০৫: ক্রিকেটার একনাথ সোলকারের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৪৮ টাকা ৭০.১৭ টাকা
পাউন্ড ৮৬.৭৩ টাকা ৮৯.৯৬ টাকা
ইউরো ৭৭.৫৫ টাকা ৮০.৫২ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,০৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,২৮০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৩,৭৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১১ আষা‌ঢ় ১৪২৬, ২৬ জুন ২০১৯, বুধবার, নবমী অহোরাত্র। উত্তরভাদ্রপদ ১/৩৯ প্রাতঃ ৫/৩৭। সূ উ ৪/৫৭/৪৩, অ ৬/২০/৩৭, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৮ গতে ১১/১১ মধ্যে পুনঃ ১/৫২ গতে ৫/২৭ মধ্যে। রাত্রি ৯/৫৩ মধ্যে পুনঃ ১২/০ গতে ১/২৫ মধ্যে, বারবেলা ৮/১৯ গতে ৯/৫৯ মধ্যে পুনঃ ১১/৩৯ গতে ১/২০ মধ্যে, কালরাত্রি ২/১৯ গতে ৩/৩৮ মধ্যে।
১০ আষাঢ় ১৪২৬, ২৬ জুন ২০১৯, বুধবার, নবমী ৫৪/৩/১৫ রাত্রি ২/৩৪/৪। রেবতীনক্ষত্র ৬০/০/০ অহোরাত্র, সূ উ ৪/৫৬/৪৫, অ ৬/২৩/৩৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪২ গতে ১১/১৫ মধ্যে ও ১/৫৫ গতে ৫/২৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৯/৫৫ মধ্যে ও ১২/৩ গতে ১/২৯ মধ্যে, বারবেলা ১১/৪০/১৩ গতে ১/২১/৪ মধ্যে, কালবেলা ৮/১৮/২৯ গতে ৯/৫৯/২১ মধ্যে, কালরাত্রি ২/১১/২৯ গতে ৩/৩৭/৩৭ মধ্যে।
২২ শওয়াল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বিশ্বকাপ: পাকিস্তানকে ২৩৮ রানের টার্গেট দিল নিউজিল্যান্ড

07:55:05 PM

জামিন বাতিল বিজয়বর্গীর ছেলের
পুরসভার আধিকারিকদের মারধরের মামলায় বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়র ছেলে আকাশ ...বিশদ

07:46:40 PM

বিশ্বকাপ: নিউজিল্যান্ড ১৫৫ /৫ (৪১ ওভার) 

07:08:38 PM

জোড়াসাঁকোয় চলন্ত মিনিবাসে আগুন
আজ কলকাতায় চলন্ত অবস্থায় একটি মিনিবাসের বামদিকের চাকায় আগুন লেগে ...বিশদ

06:42:52 PM

তারকেশ্বরে জনসংযোগ যাত্রা তৃণমূলের
তারকেশ্বরে জনসংযোগ যাত্রা করল তৃণমূল কংগ্রেস।পদযাত্রা অংশগ্রহণ করেন মন্ত্রী ফিরহাদ ...বিশদ

06:31:00 PM

 বিশ্বকাপ: নিউজিল্যান্ড ৯৪ /৫ (৩০ ওভার)

06:24:25 PM