Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

শেষ দফার ভোটে শান্তি বজায় রাখাই
আজ কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

শুভা দত্ত

দেখতে দেখতে সাত দফার লম্বা ভোটযুদ্ধ শেষ হয়ে এল। আজ সপ্তম, তথা শেষ দফা। তারপরই শুরু হয়ে যাবে লোকসভা মহাযুদ্ধের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য কাউন্টডাউন। রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৩৩টির ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, যাদবপুর সমেত বাকি ন’টি আসনের ভাগ্য নির্ধারিত হবে আজ। সঙ্গত কারণেই মহানগরী কলকাতা ও তার দুপাশের দুই পরগনায় উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। কারণ আজকে যে আসনগুলোতে যুদ্ধ হচ্ছে সেগুলো রয়েছে ওই তিন জেলাতেই। শুধু তাই নয়, আজকের এই মহারণে বিদায়ী লোকসভার তরুণ তৃণমূল সাংসদ তথা যুব তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সমেত বেশ কয়েকজন তারকা প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হবে। সে জন্য, অভিষেকের কেন্দ্র ডায়মন্ডহারবার বা জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর যাদবপুর বা দুই প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ের এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র যথাক্রমে দমদম ও উত্তর কলকাতা নিয়ে জনমহলে বাড়তি উদ্দীপনা কৌতূহলের সঞ্চারও যে হয়েছে তাতে সন্দেহ নেই।
কারণ, লোকসভা ভোটযুদ্ধ শুরু হওয়া ইস্তক রাজ্যের রাজনৈতিক বাতাবরণে একটা গুঞ্জন চলছে যে, ওই কেন্দ্রগুলোতে বিরোধীদলের প্রার্থীরা এবার জোরদার লড়াই দেবে। যাদবপুরে সিপিএম প্রার্থী বিকাশ ভট্টাচার্য, দমদমে বিজেপি’র শমীক ভট্টাচার্য কি উত্তর কলকাতায় বিজেপি’র রাহুল সিনহা নাকি এবার ভালো ভোট টানবেন। তাতে নাকি ফলাফলে এধার-ওধারও হয়ে যেতে পারে! সম্ভাবনার এই গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই মমতা-বিরোধী শিবির ও তার পৃষ্ঠপোষক মহলে যে কিছু ‘আশা’র সঞ্চার হয়েছে তা নির্বাচনী সভার বক্তৃতা বক্তব্য থেকে ঠারেঠোরে নেতানেত্রীরা বুঝিয়েও দিচ্ছেন। তাঁদের ওই ‘আশা’র কথায় জনমহলের একাংশের ভোট জল্পনায় কৌতূহলের নতুন মাত্রাও যোগ হয়েছে তা তথ্যভিজ্ঞজনেরা অনেকেই স্বীকার করছেন। ফলে আজকের ভোট মহারণে ডায়মন্ডহারবার যাদবপুর দমদমের মতো নজরকাড়া কেন্দ্রগুলো নিয়ে মানুষের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনার বহর যে একটু বেশিই হবে, তা বলাই বাহুল্য। অবশ্য, সেটা এমন হাই-ভোল্টেজ ভোটযুদ্ধে একেবারে অপ্রত্যাশিতও কি? বিশেষ করে এবারের ভোটে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর প্রধান সেনাপতি অমিত শাহের এক নম্বর টার্গেট এই পশ্চিমবঙ্গ এবং জাতীয়স্তরে দিল্লির মসনদ দখলের যুদ্ধে গেরুয়াবাহিনীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়াইয়ের ময়দান দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যে ৪২-এ ৪২ করার ডাক দিয়ে আসমুদ্র বাংলায় ঢেউ তুলে দিয়েছেন, তখন প্রতিটি আসন নিয়েই তো এমন গণকৌতূহল আগ্রহ উদ্দীপনা প্রত্যাশিত—তাই নয় কি? বাঙালি হিসেবে মা-মাটি-মানুষের নেত্রী মমতা শেষপর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর আসনে পৌঁছতে পারেন কি না তা নিয়েও তো আম-বাঙালির একটা উৎকণ্ঠা ক্রমশ প্রবল হচ্ছে। এবং হলফ করেই বলা যায়, এবার ফল ঘোষণার দিন বাঙালি গোটা দেশের ফলের চেয়ে বেশি আগ্রহ দেখাবে বাংলার ফলাফল নিয়ে—৪২-এ ৪২ কতদূর সফল হল তা দেখতেই সেদিন সকাল থেকে অধীর আগ্রহ আর প্রত্যাশা নিয়ে টিভি’র সামনে বসবেন তাঁরা।
কিন্তু, তার আগে সকলেই জানতে চাইছেন—আজ কী হবে! কেমন যাবে ভোটের শেষ পর্বের দিনটা? প্রথম ছয় দফা একেবারেই ঘটনাশূন্য হয়েছে—এমন বলছেন না কেউই। এই বঙ্গের ভোটে এবারের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল ও বিজেপি’র কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সামান্য কিছু সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রাণহানির মতো দুর্ভাগ্যজনক দু-একটি ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গের ভোট ময়দানের পরিসর পরিধির বিশালত্ব ও যুদ্ধের তীব্রতার বিচারে সে সবকে সামান্যই বলতে হবে। এবং সেজন্যই হয়তো নির্বাচন কমিশনের কর্তারাও গত ছয় দফার নির্বাচনকে মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে অপ্রীতিকর ঘটনাগুলোকে নিতান্ত ‘বিচ্ছিন্ন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সত্যি বলতে কী, এবার প্রথম থেকেই বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিসের যৌথ উদ্যোগে নিরাপত্তার বলয় যথেষ্ট আঁটোসাঁটো থাকায় বুথের ভিতরে-বাইরে সার্বিকভাবে শান্তি বজায় ছিল, মানুষ শান্তিতেই ভোট দিয়েছেন। অবশ্য, কিছু ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগও যে ওঠেনি তা নয়—তবে তা নিয়েও বড় কোনও হাঙ্গামা হয়নি। ফলে, সপ্তম দফা নিয়ে প্রথম দিকে মানুষের মধ্যে একটা নিশ্চিতিই কাজ করছিল—সকলেই ভাবছিলেন শহর মহানগরের ভোটে এবার হাঙ্গামা হুজ্জোত হবে না। মমতার পুলিস প্রশাসন এবং ভোট কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সমবেত চেষ্টায় ভোটটা শান্তিতেই হবে।
কিন্তু গত কয়েক দিনের কিছু ঘটনা মানুষের সেই বিশ্বাস যেন খানিকটা টলিয়ে দিয়েছে। চলতি ভোটযুদ্ধের শুরু থেকে প্রচারের শেষ অব্দি মুখ্যমন্ত্রী মমতা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বা পদ্মদলের সভাপতি অমিত শাহের বাগ্‌-যুদ্ধ যাঁরা উপভোগ করছিলেন, যুদ্ধের তাপ পোহাতে পোহাতে তার ফলাফল নিয়ে তর্কবিতর্ক তরজায় মেতে ছিলেন বিদ্যাসাগরেরে মূর্তি ভাঙার ধাক্কায় উত্তাল বাংলার দিকে চেয়ে তাঁদের অনেকেই এখন রীতিমতো চিন্তায়। বিদ্যাসাগর কলেজে ঢুকে ওই মূর্তি কে ভাঙল তা নিয়ে বিতর্ক যত চড়ছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা নিয়ে টীকাটিপ্পনী, ক্ষোভক্রোধের ঝলকানি যত ছড়াচ্ছে তত যেন সপ্তম দফার লড়াই নিয়ে জনমনে আশঙ্কা বাড়ছে! তার ওপর রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব ও কলকাতার প্রাক্তন কমিশনার রাজীব কুমারের মতো পুলিস কর্তাকে আচমকা সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পরিস্থিতি শান্ত করতে নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীনভাবে ভোট প্রচারের সুযোগ একদিন কমিয়ে দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে তার প্রভাবে সাধারণ জনজীবনের আশঙ্কা আরও যেন ঘনীভূত হয়েছে! অবশ্য, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের কোনও বক্তব্য নেই। আইনের পরিধির মধ্যে থেকেই তাঁরা নিশ্চয়ই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে, আইনজীবী মহলের কেউ কেউ ভোট প্রচারের সময় কমিয়ে দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতাও কমিশনের সিদ্ধান্তে যে যথেষ্ট অসন্তুষ্ট সেটা নির্বাচন কমিশনের মর্যাদা ও গুরুত্ব স্বীকার করে নিয়েও বুঝিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু, বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা, ভোটপ্রচারের দিন কমানো ইত্যাদি নিয়ে রাজ্য রাজনীতির যুযুধান মহলগুলির মধ্যে উত্তেজনা যে বাড়ছে তা বলাই বাহুল্য।
সে জন্য অনেকেই মনে করছেন, শেষ দফার ভোটে শান্তি বজায় রাখাই আজ কমিশনের সামনে সবচয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে। কারণ, বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা নিয়ে পরিস্থিতি এখনও যথেষ্ট উত্তপ্ত। এই ঘটনার প্রভাব পড়েছে আসমুদ্রহিমাচল রাজ্যে, সমাজের সর্বস্তরে। সেই উত্তাপের আঁচ ভোটযুদ্ধের ময়দানে পৌঁছবে না এমন গ্যারান্টি কোথায়? এই আঁচ আজকের শেষ দফার ভোটে যাতে বাড়তি উত্তেজনা ছড়াতে না পারে তার ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য প্রশাসন নিশ্চয়ই করবে আশা রাখি। তবে যেহেতু নির্বাচন চলাকালীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, গুন্ডা তাণ্ডব রোখা, ভোটবাক্স ও ভোটারের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা ইত্যাদির দায় পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের, সে জন্য রাজ্যের মানুষ আজ শান্তির জন্য মূলত চেয়ে থাকবেন কমিশনের সক্রিয়তার দিকে। একদিক থেকে কমিশনের কাছে এও এক পরীক্ষা। ভোটদাতা সাধারণের বিচারে এই পরীক্ষায় কমিশন কতটা উত্তীর্ণ হয় সেটাও দেখার। লক্ষণীয়, ভোট গণনা অব্দি ইভিএমের সুরক্ষা নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই অনেকবার সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাঁর সন্দেহ, ভোটের পর স্ট্রংরুমে রাখা ইভিএমে কারচুপি হতে পারে। এই সংশয় নিঃসন্দেহে কমিশনের কর্তাদের চাপ কিছুটা হলেও বাড়াচ্ছে। এরপর নিশ্চয়ই রাজ্যের বিভিন্ন স্ট্রংরুমে রাখা ইভিএমগুলোর জন্য নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও কঠিন জোরালো হবে।
সে না হয় হল। কিন্তু আসল প্রশ্ন—আজ কলকাতা মহানগরী থেকে বারাসত বসিরহাট মথুরাপুরের মতো মফস্‌সল কি গ্রামবাংলায় ভোটযুদ্ধের হাল কী দাঁড়াবে? যুদ্ধটা রাজনৈতিক আবেগ উত্তেজনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সংঘাত সংঘর্ষের চূড়ান্ত অপ্রীতিকর রক্তক্ষয়ী পথ ধরবে? খুব নিশ্চিত করে শনিবার অব্দি কেউই বলতে পারেননি। তবে, মমতা প্রশাসন ও কমিশনের ওপর মানুষ এখনও যথেষ্ট আস্থাশীল। তাঁদের বিশ্বাস, এই দুইয়ের যৌথ উদ্যোগে বিগত ছয় দফার মতো আজও শান্তিতেই শেষ
হবে এবারের লোকসভা মহারণের অন্তিম দফা। উত্তেজনার ইন্ধন জোগানো নেতানেত্রী বা গণ্ডগোল পাকানোর ‘বহিরাগত’ পাণ্ডারা বিশেষ সুবিধে করতে পারবে না। এরমধ্যেই সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে পুলিস বহিরাগতদের বিরুদ্ধে যা ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে, বেহিসেবি কাঁচা টাকা ধরতে যে সক্রিয়তা দেখিয়েছে তাতে মানুষের ওই বিশ্বাস আরও জোরদার হয়েছে। শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে মানুষ যাতে আজকের ভোটের উৎসবে শামিল হতে পারেন
তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে মমতা প্রশাসনও কোথাও কোনও খামতি রাখেনি—খবর তেমনি। এরপর ভোটদেবতার মর্জি। দিনের শেষে তাঁর
প্রসন্ন আশীর্বাদ কতটুকু মিলল, ভোটযুদ্ধের
ময়দানে শেষপর্যন্ত কতটা বজায় থাকল শান্তির বাতাবরণ, চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় কতটা সাফল্য পেল কমিশন—সব বলবে সময়। আমরা
অপেক্ষায় রইলাম। 
19th  May, 2019
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৃহত্তম চ্যালেঞ্জ
হারাধন চৌধুরী

আমাদের স্বাধীনতার বয়স বাহাত্তর বছর। পশ্চিমবঙ্গের জন্য এই পর্ব-দৈর্ঘ্যটাকে আমরা চারটি ভাগে ভাগ করতে পারি। কংগ্রেস জমানা, যুক্তফ্রন্ট জমানা, বামফ্রন্ট জমানা এবং চলতি তৃণমূল জমানা। অস্থির ও ক্ষণস্থায়ী যুক্তফ্রন্টের স্বল্পকাল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আট বছর বাদ দিলে বাকি সময়টাই সবচেয়ে লম্বা—যেটা শাসন করেছে কংগ্রেস ও বামফ্রন্টের বকলমে সিপিএম।
বিশদ

25th  June, 2019
সরকারের ভিতরে সরকার 
পি চিদম্বরম

যখন কোনও সরকার একটা মারাত্মক সমস্যার মুখোমুখি হয় তখনই তাকে দেখে অবাক লাগে। কারও দোষত্রুটি ধরা পড়লে কেউই তার দায় নেবে না। দোষারোপের পালা শেষমেশ সরকারের শীর্ষকর্তা—মুখ্যমন্ত্রী অথবা প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে গিয়ে থামে।
বিশদ

24th  June, 2019
ডাক্তার আন্দোলন: জয় পরাজয় নয়, হাসপাতাল সমস্যা সমাধানই লক্ষ্য হোক
শুভা দত্ত

এত বড় একটা সমস্যার এমন সহজ সাবলীল সমাধান, সপ্তাহব্যাপী অনড় অচলাবস্থার এমন অনায়াস অবসান বোধহয় এ রাজ্যের শাসক-বিরোধী কোনও মহলই ভাবতে পারেননি।
বিশদ

23rd  June, 2019
মোবাইল সেট নিয়েও যুদ্ধ?
বিশ্ব অর্থনীতির নয়া রণক্ষেত্র
মৃণালকান্তি দাস

 চীনের সোশ্যাল মিডিয়া ‘ওয়েইবো’তে এই মুহূর্তে কী ঘটছে, তা কলকাতার মাটিতে বসে আঁচ পাওয়া অসম্ভব। ঘটনা হল, আমেরিকা-বিরোধী উত্তেজনায় ওয়েইবো এখন রীতিমতো রণক্ষেত্র। কিছুদিন আগে ভারতে চীনের পণ্য বয়কট আন্দোলন নিয়ে ওয়েইবোতে হাসাহাসি হলেও এখন তারাই মার্কিন পণ্য বয়কটের ডাক দিচ্ছে।
বিশদ

22nd  June, 2019
ডাক্তার নিগ্রহের বিরুদ্ধে এত স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন কেন ভারতের প্রতি কোণ থেকে 
সত্যপ্রিয় দে সরকার

আয়ুষ্মান ভারতের নামে সব দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দিয়ে কী করে স্থায়ীভাবে গরিব নাগরিকের চিকিৎসা হতে পারে? তারপর ওই সামান্য টাকার অংশও শাসকদল ও আমলাদের দিয়ে তবে অনেক পরে ওই টাকা পাওয়া যাবে। ... দেশের প্রতিটি জেলায় মেডিক্যাল কলেজ ও নার্সিং কলেজ তৈরি না-হলে স্বাস্থ্যপরিষেবার বিকেন্দ্রীকরণ অসম্ভব। বিভিন্ন অতি সুদক্ষ চিকিৎসা কেন্দ্রের দামি যন্ত্রের কেনাতে সব আমলা ও শাসক দলের সংশ্লিষ্ট নেতারা উদগ্রীব হয়ে থাকেন, কারণ তার দামের ভাগের অংশ ঠিক জায়গায় পৌঁছে যায়, অথচ তারপর বছরের পর বছর সেই যন্ত্র খোলা হয় না, ব্যবহার হয় না। সামান্য খরাপ হলে চিরদিনের জন্য আর ব্যবহার হয় না। যে সামান্য টাকা দিয়ে বার্ষিক যন্ত্রের দেখাশোনার পদ্ধতি প্রস্তুতকারক সংস্থা ব্যবস্থা করে তার সুযোগও ইচ্ছে করে ব্যবহার করা হয় না, যাতে পরিষেবা দিতে না হয়। এর উদাহরণ এত বেশি যে এ ঘটনা না-ঘটাই ব্যতিক্রম।
বিশদ

21st  June, 2019
চিকিৎসক পাঁচ অক্ষর?
শুভময় মৈত্র

শুধুমাত্র নিম্নবিত্ত মানুষদের যদি সরকারি পরিষেবা নিতে বাধ্য করা যায়, তাহলে তার বাইরে থাকা বিশাল একটা অংশ বেসরকারি ক্ষেত্রে ছুটতে বাধ্য। তাইতো এত বেসরকারি স্কুল, কলেজ। সবাই জানেন সরকারি জায়গায় শিক্ষকেরা ভালো, চিকিৎসকেরাও ভালো। কিন্তু তা সত্ত্বেও সরকারি জায়গাগুলোকে যদি এমন খারাপভাবে সাজানো যায় যাতে আর্থিক কারণে বাধ্য না-হলে মানুষ সেখানে না যান, তাহলে একটা বড় অংশের মানুষ ছুটবেন তুলনায় বেসরকারি ক্ষেত্রে, শুধুমাত্র ঝকঝকে পরিষেবার স্বার্থে। এ দেশে একশো তিরিশ কোটির মধ্যে যে-কোনও সময়ে দশ বা কুড়ি কোটি মানুষ সচ্ছল। এই বিপুল বাজারকে ধরতে চায় বেসরকারি উদ্যোগ, আর তাতে বন্ধুত্বপূর্ণ সহায়তা দেয় কল্যাণকামী রাষ্ট্র, তার নেতা, নেত্রী, মন্ত্রীরা—দলমত নির্বিশেষে।
বিশদ

21st  June, 2019
বিধানসভা ভোট কিন্তু হবে মমতাকে দেখেই
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ইন্দিরা গান্ধীর টার্গেট ছিল একটাই। যেভাবে হোক সিপিএমের কোমর ভেঙে দিতে হবে। তিনি মনে করতেন, সিপিএম আসলে সিআইএ’র মদতপুষ্ট। ঠিকঠাক সুযোগ পেলে পূর্ববঙ্গ এবং পশ্চিমবঙ্গে সশস্ত্র আন্দোলন করিয়ে বৃহত্তর বাংলা গঠন করে ফেলবে। কাজেই বাংলা কংগ্রেস এবং সিপিআই পছন্দের তালিকায় থাকলেও সিপিএমকে মোটে বরদাস্ত করতে পারতেন না ইন্দিরা।
বিশদ

18th  June, 2019
ডাক্তারবাবুদের গণ-ইস্তফা নজিরবিহীন,
কিন্তু তাতে কি হাসপাতাল সমস্যা মিটবে?

 এ-কথাও তো সত্যি যে, হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বা ডাক্তারবাবুদের যথাযথ নিরাপত্তা বিধানে তাঁর সদিচ্ছা আছে এবং ইতিমধ্যেই তার যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রবীণদের বৈঠকে ডেকে মুখ্যমন্ত্রী সমাধানসূত্র খুঁজছেন— সেটাও কি ওই সদিচ্ছারই নামান্তর নয়? বিশদ

16th  June, 2019
নরেন্দ্র মোদির মালদ্বীপ সফর এবং ভারত মহাসাগরে ভারতের নতুন রণনীতি
গৌরীশঙ্কর নাগ

 মোদিজির এই দ্বীপপুঞ্জ-সফর কেবলমাত্র হাসি বিনিময় ও করমর্দনের রাজনীতি হবে না, বরং এর প্রধান অ্যাজেন্ডাই হল প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মজবুত করা। তবে সেটা করতে গিয়ে ভারত যেন দ্বীপপুঞ্জের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অযথা হস্তক্ষেপ না করে বসে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, ভারত মালদ্বীপকে সন্ত্রাসবাদের নয়া ‘আঁতুড়ঘর’ হতে দেবে। কারণ ইতিমধ্যেই আমরা দেখেছি পাকিস্তান, আফগানিস্তান এমনকী মধ্যপ্রাচ্য থেকেও জেহাদি নেটওয়ার্কের কারবার মালদ্বীপেও পৌঁছে গিয়েছে। এই র‌্যাডিক্যালিজমের একমাত্র দাওয়াই হল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তার সহায়ক শক্তি হিসেবে রাজনৈতিক স্থিরতা।
বিশদ

15th  June, 2019
সতর্কতার সময়
সমৃদ্ধ দত্ত

 ভারতীয় সংস্কৃতির সনাতন ধারাটি হল দিবে আর নিবে, মিলিবে মেলাবে। কিন্তু সেই সংস্কৃতি থেকে আমাদের সরিয়ে এনেছে অসহিষ্ণুতা আর স্বল্পবিদ্যা। আর সবথেকে বেশি জায়গা করে নিয়েছে বিদ্বেষ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বিদ্বেষ।
বিশদ

14th  June, 2019
ক্ষমতার ‘হিন্দি’ মিডিয়াম
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 উত্তর ভারতের সঙ্গে দক্ষিণের সীমারেখা। আর তার কারিগর আমরাই। আমাদের কাছে সাউথ ইন্ডিয়ান মানে মাদ্রাজি। দক্ষিণ ভারতের লোকজন নারকেল তেল খায়, অদ্ভুত ওদের উচ্চারণ, লুঙ্গি পরে বিয়েবাড়ি যায়... হাজারো আলোচনা। উত্তর ভারত মানে বিষম একটা নাক উঁচু ব্যাপার। আর দক্ষিণ মানেই রসিকতার খোরাক। তাই ওদের একটু ‘মানুষ’ করা দরকার। কীভাবে সেটা সম্ভব? হিন্দি শেখাতে হবে। বিশদ

13th  June, 2019
বারুদের স্তূপের উপর পশ্চিমবঙ্গ
হিমাংশু সিংহ

সংসদীয় রাজনীতিতে কিছুই চিরস্থায়ী নয়। কারও মৌরসিপাট্টাই গণতন্ত্রে বেশিদিন টেকে না। সব সাজানো বাগানই একদিন শুকিয়ে যায় কালের নিয়মে। ইতিহাস কয়েক বছর অন্তর ফিরে ফিরে আসে আর ধুরন্ধর শাসককে চরম শিক্ষা দিয়ে তাঁকে, তাঁর ক্ষমতাকে ধুলোয় লুটিয়ে দিয়ে আবার ফকির করে দিয়ে যায়। সব ক্ষমতা এক ভোটে বিলীন। ধূলিসাৎ। আর এখানেই মহান গণতন্ত্রের জিত আর চমৎকারিত্ব। আর সেই দিক দিয়ে ২৩ মে-র ফল এই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকেও আবার এক মহান সন্ধিক্ষণের দিকেই যেন ঠেলে দিয়েছে। ‘বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ’ হয়নি, ‘২০১৯ বিজেপি ফিনিশ’—তাও হয়নি। উল্টে সারাদেশে বিজেপি থ্রি-নট-থ্রি (অর্থাৎ ৩০৩টি) আসন জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভোট-পণ্ডিতদের।
বিশদ

11th  June, 2019
একনজরে
লন্ডন, ২৫ জুন (এপি): ডিউক ও ডাচেস অব সাসেক্স যুবরাজ হ্যারি ও মেগান মার্কেলের বাড়ি সংস্কারে খরচ হয়েছে ২৪ লক্ষ পাউন্ড বা ৩০ লক্ষ ৬ হাজার ডলার। যার পুরোটাই ব্রিটেনের সাধারণ করদাতাদের টাকা। মঙ্গলবার রাজকোষাগারের পক্ষ থেকে এই হিসেব প্রকাশ ...

মণীন্দ্র নারায়ণ সিংহ, জলপাইগুড়ি, বিএনএ: জনসংযোগ বাড়াতে জলপাইগুড়িতে এবার প্রতি বিধানসভা কেন্দ্রে এমপি’র নিজস্ব কার্যালয় খুলবে বিজেপি। সংসদ অধিবেশন চলাকালীন এমপি দিল্লিতে থাকলেও বাকি সময় তিনি ওই কার্যালয়গুলিতে পৃথক দিনে নির্দিষ্ট সময়ে বসবেন।  ...

  নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আসন্ন মরশুমের জন্য মঙ্গলবার ৩৪ সদস্যের সম্ভাব্য বাংলা দল ঘোষিত হল। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুরুলিয়ায় চিকিৎসকের সঙ্কট রয়েছে। অবস্থা ভয়াবহ। মঙ্গলবার বিধানসভায় উল্লেখপর্বে একথা জানান কংগ্রেস বিধায়ক নেপাল মাহাত। তিনি বলেন, জেলার গ্রামীণ হাসপাতালে ২৩০ জন ডাক্তার দরকার। আছেন মাত্র ৭৯ জন। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যায় অধিক পরিশ্রম করতে হবে। ব্যবসায় যুক্ত ব্যক্তির পক্ষে দিনটি শুভ। প্রেম-প্রীতিতে আগ্রহ বাড়বে। নতুন ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব মাদক বিরোধী দিবস
১৯৬৮: ইতালির ফুটবলার পাওলো মালদিনির জন্ম
২০০৫: ক্রিকেটার একনাথ সোলকারের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৪৮ টাকা ৭০.১৭ টাকা
পাউন্ড ৮৬.৭৩ টাকা ৮৯.৯৬ টাকা
ইউরো ৭৭.৫৫ টাকা ৮০.৫২ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,০৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,২৮০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৩,৭৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১১ আষা‌ঢ় ১৪২৬, ২৬ জুন ২০১৯, বুধবার, নবমী অহোরাত্র। উত্তরভাদ্রপদ ১/৩৯ প্রাতঃ ৫/৩৭। সূ উ ৪/৫৭/৪৩, অ ৬/২০/৩৭, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৮ গতে ১১/১১ মধ্যে পুনঃ ১/৫২ গতে ৫/২৭ মধ্যে। রাত্রি ৯/৫৩ মধ্যে পুনঃ ১২/০ গতে ১/২৫ মধ্যে, বারবেলা ৮/১৯ গতে ৯/৫৯ মধ্যে পুনঃ ১১/৩৯ গতে ১/২০ মধ্যে, কালরাত্রি ২/১৯ গতে ৩/৩৮ মধ্যে।
১০ আষাঢ় ১৪২৬, ২৬ জুন ২০১৯, বুধবার, নবমী ৫৪/৩/১৫ রাত্রি ২/৩৪/৪। রেবতীনক্ষত্র ৬০/০/০ অহোরাত্র, সূ উ ৪/৫৬/৪৫, অ ৬/২৩/৩৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪২ গতে ১১/১৫ মধ্যে ও ১/৫৫ গতে ৫/২৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৯/৫৫ মধ্যে ও ১২/৩ গতে ১/২৯ মধ্যে, বারবেলা ১১/৪০/১৩ গতে ১/২১/৪ মধ্যে, কালবেলা ৮/১৮/২৯ গতে ৯/৫৯/২১ মধ্যে, কালরাত্রি ২/১১/২৯ গতে ৩/৩৭/৩৭ মধ্যে।
২২ শওয়াল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বিশ্বকাপ: পাকিস্তানকে ২৩৮ রানের টার্গেট দিল নিউজিল্যান্ড

07:55:05 PM

জামিন বাতিল বিজয়বর্গীর ছেলের
পুরসভার আধিকারিকদের মারধরের মামলায় বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়র ছেলে আকাশ ...বিশদ

07:46:40 PM

বিশ্বকাপ: নিউজিল্যান্ড ১৫৫ /৫ (৪১ ওভার) 

07:08:38 PM

জোড়াসাঁকোয় চলন্ত মিনিবাসে আগুন
আজ কলকাতায় চলন্ত অবস্থায় একটি মিনিবাসের বামদিকের চাকায় আগুন লেগে ...বিশদ

06:42:52 PM

তারকেশ্বরে জনসংযোগ যাত্রা তৃণমূলের
তারকেশ্বরে জনসংযোগ যাত্রা করল তৃণমূল কংগ্রেস।পদযাত্রা অংশগ্রহণ করেন মন্ত্রী ফিরহাদ ...বিশদ

06:31:00 PM

 বিশ্বকাপ: নিউজিল্যান্ড ৯৪ /৫ (৩০ ওভার)

06:24:25 PM