Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ভোট কেন দেশের
নামে হল না?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সামনে একটি প্লাইউডের কাটআউট। মাঝখানটা জানালার মতো কেটে জায়গা করা। সেলফি জোন বা সেলফি পয়েন্ট। অবশ্য সেটা নামেই। নিজে ছবি তুললে ইমপ্যাক্ট পড়বে না। বরং বিষয়টা এমন, ভোট দিয়ে বেরিয়ে ভোটার সেখানে দাঁড়াবেন... উল্টোদিক থেকে কেউ ছবি তুলবে। আর সামনে কাটআউটের উপর লেখা থাকবে ‘ভোট ফর নেশন’, ‘ভোট দিয়ে আমি গর্বিত’... এমন আরও অনেক কিছু। উদ্যোগটা নির্বাচন কমিশনের। ভারত ইদানীং ভীষণভাবে সেলফি পাগল হয়েছে। সেলফি বা ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় তা আপলোড করার মধ্যে এক অপার্থিব সুখের হদিশ পেয়েছে আপামর ভারতবাসী। শুধু আট থেকে আঠারো নয়, তিন কুড়ি বয়স পেরিয়েও এই প্যাশনে মেতেছেন বহু মানুষ। নির্বাচন কমিশনের ভাবনাতেই ছিল, যদি এমন কিছু করা যায়, তাহলে নিশ্চয়ই ভোটদানের অনুপাত বাড়বে! অন্তত স্টেটাস আপডেট করার জন্য মানুষ, বিশেষ করে নতুন ভোটাররা বুথমুখো হবেন। সাধুবাদ দেওয়ার মতো উদ্যোগ। ছ’দফার ভোট শেষে ভালোরকম সাড়া কিন্তু ফেলে দিয়েছে এই ভোটার সেলফি পয়েন্ট। একটা কিন্তু এরপরও তুলতে হচ্ছে... ওই বড় বড় হরফে ‘ভোট ফর নেশন’ কথাটা নিয়েই। সত্যিই কি ভারতের নামে, দেশের নামে ভোট হচ্ছে?
উত্তরে ‘না’য়ের পাল্লাই বেশি ভারী। কেন? ছ’-আটমাস আগে যখন ভোটের উনুনে আঁচ দেওয়া শুরু হচ্ছিল, তখন বিষয়টা ওই ‘আচ্ছে দিন’ বা ‘রাফাল’ বিতর্কেই সীমাবদ্ধ ছিল। নরেন্দ্র মোদি-রাহুল গান্ধীর তীব্র বাদানুবাদ, সংসদে আলিঙ্গনপর্ব এবং চৌকিদার। অদ্ভুত ব্যাপার, সময় যত গড়িয়েছে, ভোট চাওয়া-পাওয়ার লড়াইয়ের বিশ্রীভাবে মেরুকরণ ঘটেছে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে যেভাবে বিভাজনের রাজনীতি প্রবেশ করেছে, তা আগে কখনও এদেশে হয়েছে বলে মনে হয় না। অর্থনৈতিক বিভাজন এদেশের জন্মলগ্ন থেকেই রয়েছে। তাতে নতুন কিছু নেই। বরং ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে ওই একটা দিনই ভারতবাসী ইভিএমে সাম্যবাদ খুঁজে পায়। মুকেশ আম্বানির একটি ভোটের যা দাম, বেলপাহাড়ীর এক সাধারণ দিনমজুরের ভোটও একই মূল্যের। অর্থনীতি দিয়ে নতুন করে এদেশে বিভাজনের ঘুঁটি খেলা যাবে না। কাজেই সবচেয়ে কার্যকর এবং জবরদস্ত অস্ত্র প্রয়োগ... ধর্ম। প্রশ্ন উঠতেই পারে বাবরি সৌধ ধ্বংস এবং লালকৃষ্ণ আদবানির রথযাত্রা কি ভোটে ধর্মীয় মেরুকরণের পথ দেখায়নি? নিশ্চয়ই দেখিয়েছে, কিন্তু তার জন্য গোটা দেশ ভোটযন্ত্রের সামনে এসে ধর্মের নামে ভাগ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখায়নি। সেটা হয়েছিল ভারতের একটা অংশে। কিন্তু এই নির্বাচন দেখিয়ে দিচ্ছে, ভোটারের পদবি জানলে সেই ভোট কোথায় পড়বে, তা আন্দাজ করাটা শক্ত নয়। এ অবশ্যই ভয়ানক ব্যাপার। আমার ধর্ম দেখে যদি বিচার হয়ে যায় আমি কোন দলের সমর্থক, গণতন্ত্রে তার থেকে বেশি লজ্জার কিছু হয় না।
এরপর আসা যাক সামাজিক মেরুকরণে। উত্তর ভারতে যার প্রকোপ প্রত্যেক ভোটেই থাকে, যদিও এবার একটু বেশির দিকে। বিশেষত উত্তরপ্রদেশে। কোনও উচ্চবর্ণের ভোটারকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, কাকে ভোট দেবেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উত্তর আসছে ‘কেন! বিজেপিকে!’ আবার কোনও পিছড়ে বর্গ বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে একই প্রশ্ন করলে নির্দ্বিধায় সমর্থন করছেন অখিলেশ-মায়াবতীর জোটকে। পাশাপাশি সংখ্যালঘু ভোটারদের একটা বড় অংশ কংগ্রেসের নামও করছেন। এবার আসা যাক ‘কেন ভোট দেবেন’ প্রশ্নে। বিজেপির সমর্থক একাংশ বলছে, ‘বিজেপি সরকার আমাদের বিদ্যুৎ দিয়েছে, রাস্তা করেছে, ঘরে ঘরে শৌচাগার বানিয়েছে... এই সরকারকেই তো ভোট দেব!’ আবার উত্তরপ্রদেশেরই অন্য অংশে শুধু জাতপাতের ভিন্নতায় এই পরিষেবার অনেক কিছুই পৌঁছয়নি। সেখানকার ভোটাররা তখন অবশ্যই প্রশ্ন তুলবেন, ‘এই সরকারকে ভোট দিয়ে আমাদের কী লাভ হবে?’
তাহলে গ্রাউন্ড রিয়েলিটিটা কী? এর উত্তর পরিষ্কারভাবে মেলা মুশকিল। এখনও... কাল শেষ দফার ভোটের দিনেও। ‘বিকাশ’ হয়েছে। কিন্তু সবার হয়নি। ‘আচ্ছে দিন’ আসা নিয়ে তো ধনী ব্যবসায়ী ছাড়া আর কেউ খুব একটা নিশ্চিত নন (তাঁরাও আবার মুখে বলছেন না)। অসমে নাগরিকপঞ্জি হল। তাতে বহু নাগরিক হঠাৎ ‘বিদেশি’ হয়ে গেলেন। তাঁদের সর্বনাশ। আবার সেই রাজ্যেরই কিছু মানুষের পৌষ মাস! ওই একই রাজ্যের ভিন্ন প্রান্তে আবার এনআরসি নিয়ে হেলদোল নেই। সেখানে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। একটা কিছু তো থাকবে, যা হতে পারে ভোটের ইউনিভার্সাল ইস্যু! রাজনৈতিক দল যদি তার ভোটব্যাঙ্কের কথা ভেবে উন্নয়নের বরাত দেয়, প্রয়োজন অনুযায়ী জাত-ধর্ম দেখে ভোটার কার্ড বানায়... তাহলে বিভাজন আটকানো কি সম্ভব?
আর হল ব্যক্তি মেরুকরণ। মোদি ঝড় গত লোকসভা ভোটেও ছিল। কিন্তু বিজেপির মতো একটা পার্টি এভাবে মোদিত্ব নির্ভর হয়ে যায়নি। গেরুয়া শিবিরের প্রচারের অভিমুখই এবার একটা, মোদি সরকার (বিজেপি সরকার নয়)! অর্থাৎ একটা রাজনৈতিক দলকে দেখে ভোট দেওয়ার পাঠ চুকল। আঞ্চলিক দলের ক্ষেত্রে এই প্রবণতাটা নতুন নয়। বরং চিরকালের। জয়ললিতা, করুণানিধির প্রয়াণের পরও যে ধারা বজায় রেখে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মায়াবতীরা। এবং এবারের মোদি-বিরোধী মহাজোটের ক্ষেত্রেও কিন্তু বিষয়টা ধীরে ধীরে সেই ব্যক্তিকেন্দ্রিকই হয়ে পড়ছে। কারণ, বিজেপিকে আক্রমণের ব্যাটনটা পুরোপুরি তুলে নিয়েছেন মমতা। রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, মায়াবতী, তেজস্বী বা স্ট্যালিন... আগে কোনও লোকসভা ভোটে বিরোধী রাজনীতি কিন্তু এভাবে মমতাময়ী হয়ে ওঠেনি। আর তার প্রমাণ রাখছেন মোদি স্বয়ং। বারবার বাংলায় আসছেন, এবং তাঁর টার্গেট শুধুই তৃণমূল নেত্রী। আসলে বিজেপি বুঝে গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশ থেকে খুব বেশি কিছু এবার পাওয়ার নেই। যতটুকু ঝুলিতে আসবে তাতেই আনন্দ করতে হবে। আর তা যদি ৩০-৩৫টা আসন হয়, তার জন্য অনেকটা ধন্যবাদ প্রাপ্য থাকবে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর। সোনিয়া কন্যা বহু প্রতীক্ষর পর রাজনীতিতে। এবং তাঁর আগমনেই কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থক মহল মোটামুটি চাঙ্গা। উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের নিজস্ব যে ভোটব্যাঙ্ক আছে, একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে বলা যায়, প্রিয়াঙ্কা তাতে ফাটল ধরতে দেবেন না। অর্থাৎ, অখিলেশ-মায়াবতী সব নিন্দুকের মুখে ছাই দিয়ে জোট করলেও এই একটা জায়গাতেই ফাঁক থেকে যাবে। বিজেপি ধর্ম এবং হিন্দুত্বের নামে ভোট চেয়ে উত্তরপ্রদেশের ভোটারদের একটা অংশ ধরে রেখে দেবে। বাকি অংশ একত্র হলে (অর্থাৎ কংগ্রেস+সমাজবাদী পার্টি+বহুজন সমাজ পার্টি), তাহলে নিশ্চিতভাবে মোদির বিজেপিকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া যেত। কিন্তু তা সম্ভব হচ্ছে না। ভোটকাটুয়া হয়ে প্রিয়াঙ্কা মোদিরই সুবিধা করে দেবেন। এভাবে যতটুকু সম্ভব উত্তরপ্রদেশ থেকে আদায় করে বাকি রসদের জন্য পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের দিকে তাকিয়েছেন মোদি। এখানে তাঁর সবচেয়ে বড় অন্তরায়ের নাম মমতা। মোদির সাফল্য, মহাজোটের প্রচারে মমতাকে বাংলার বাইরে যাওয়া থেকে আটকে দিতে পেরেছেন তিনি। আর তৃণমূল নেত্রীর সাফল্য, বিরোধী রাজনীতির অভিমুখটাকেই তিনি ঘুরিয়ে দিতে পেরেছেন নিজের দিকে। ২৩ তারিখ যদি কেন্দ্রে সরকার গড়ার ক্ষেত্রে বিরোধী মহাজোটের পথ প্রশস্ত হয়, মমতাই কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে থাকবেন। রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের সভাপতি হওয়ার এতদিন পরও সেই গ্রহণযোগ্যতায় জায়গায় পৌঁছতে পারেননি। ভোটাররা কতটা তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য নম্বর দেবে, তা নিয়ে তর্ক হতে পারে, বিরোধী তথা আঞ্চলিক দলগুলি যে মোটেই একবাক্যে রাহুলকে মেনে নেবে না, সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। তবে হ্যাঁ, প্রথম ইউপিএ সরকারের জমানায় সোনিয়া গান্ধী যেভাবে গোটা দুনিয়াকে হতচকিত করে সবচেয়ে লোভনীয় পদটি ছেড়ে দিয়েছিলেন, ঠিক একইভাবে যদি এবার তিনি বিরোধী মহাজোটের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তাহলে পুরো সমীকরণটাই বদলে যেতে পারে। তাঁর প্রচণ্ড অসুস্থতা সত্ত্বেও। ইতিমধ্যেই ভোটের ফলের দিন মহাজোটের বৈঠক আয়োজনের সব দায়িত্ব তিনি কাঁধে তুলে নিয়েছেন। আর সোনিয়া প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড়ে চলে এলে সেটা সত্যিই হবে আর একটা মাস্টারস্ট্রোক। সেই বহুদলীয় সরকার তখন টেকসইও হবে।
সে অবশ্য পরের ব্যাপার। আপাতত প্রতিশ্রুতির প্রচার থেকে মুখ ফিরিয়েছে সব শিবিরই। গত কয়েক দফার ভোটের প্রচার শুধুই আক্রমণ ও প্রতি আক্রমণে সীমাবদ্ধ। তাই মোদির প্রচারে না আছে কর্মসংস্থানের কথা, না প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার বার্তা। কৃষকদের দানছত্র দেওয়ার প্রচার অনেক দলের মুখেই শোনা যাচ্ছে। তাতেও কি চাষিদের আত্মহত্যা ঠেকানো গিয়েছে? গত বছর ৬ মার্চ থেকে ১২ মার্চ নাসিক থেকে মুম্বই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল কৃষক লং মার্চে। প্রায় ৫০ হাজার মানুষের পদযাত্রা। দাবি, নিঃশর্ত কৃষিঋণ মকুব। বাণিজ্যনগরীর রাজপথ রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছিল বাম পতাকায়। ফল? ছয় সদস্যের কমিটি গঠিত। তারা ঠিক করবে, বিষয়টি নিয়ে কী করা যায়। সরকারি ভাষায়, প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। ঋণ মকুব এবার সময়ের অপেক্ষা...। সত্যি কি তাই? ভোটের গুঁতো যে ভয়ানক! মহারাষ্ট্র সরকার তথা বিজেপি তখনই প্রমাদ গুনেছিল, সামনের বছর ভোট। কিছু তো একটা করতে হবে! কমিটি হল। পর্যালোচনা হল। ভোটও চলে এল। কিন্তু যে লোকসভা কেন্দ্র থেকে এই কৃষক লং মার্চের জন্ম, সেই দিন্দোরি আসনের ছবি তো এক বছরেও বদলায়নি! এখানে গ্রামে গ্রামে... ঘরে ঘরে এখনও পরিবারের লোকজন রাত জাগে বাবা বা স্বামীর পাহারায়। আত্মহত্যার আশঙ্কায়। কোথায় গেল বছরে দু’কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি? সবই ফিকে... আর তাই অস্ত্র তো করতেই হবে মেরুকরণকে। সেটাই করছে কমবেশি সব দল। পকে কী উন্নয়ন করেছে, তা আজ আর বিবেচ্য নয়। বরং কার কী দুর্নীতি, সেটাই প্রচারের দাবার ছক। যেখানে ধর্ম যদি রাজা হয়, মন্ত্রী তাহলে পিছড়ে বর্গ। ঘুঁটি সাজানো চলছে। নিরন্তর...। ভোটটা যদি সত্যিই দেশের নামে হতো!
18th  May, 2019
বিধানসভা ভোট কিন্তু হবে মমতাকে দেখেই
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ইন্দিরা গান্ধীর টার্গেট ছিল একটাই। যেভাবে হোক সিপিএমের কোমর ভেঙে দিতে হবে। তিনি মনে করতেন, সিপিএম আসলে সিআইএ’র মদতপুষ্ট। ঠিকঠাক সুযোগ পেলে পূর্ববঙ্গ এবং পশ্চিমবঙ্গে সশস্ত্র আন্দোলন করিয়ে বৃহত্তর বাংলা গঠন করে ফেলবে। কাজেই বাংলা কংগ্রেস এবং সিপিআই পছন্দের তালিকায় থাকলেও সিপিএমকে মোটে বরদাস্ত করতে পারতেন না ইন্দিরা।
বিশদ

18th  June, 2019
ডাক্তারবাবুদের গণ-ইস্তফা নজিরবিহীন,
কিন্তু তাতে কি হাসপাতাল সমস্যা মিটবে?

 এ-কথাও তো সত্যি যে, হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বা ডাক্তারবাবুদের যথাযথ নিরাপত্তা বিধানে তাঁর সদিচ্ছা আছে এবং ইতিমধ্যেই তার যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রবীণদের বৈঠকে ডেকে মুখ্যমন্ত্রী সমাধানসূত্র খুঁজছেন— সেটাও কি ওই সদিচ্ছারই নামান্তর নয়? বিশদ

16th  June, 2019
নরেন্দ্র মোদির মালদ্বীপ সফর এবং ভারত মহাসাগরে ভারতের নতুন রণনীতি
গৌরীশঙ্কর নাগ

 মোদিজির এই দ্বীপপুঞ্জ-সফর কেবলমাত্র হাসি বিনিময় ও করমর্দনের রাজনীতি হবে না, বরং এর প্রধান অ্যাজেন্ডাই হল প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মজবুত করা। তবে সেটা করতে গিয়ে ভারত যেন দ্বীপপুঞ্জের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অযথা হস্তক্ষেপ না করে বসে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, ভারত মালদ্বীপকে সন্ত্রাসবাদের নয়া ‘আঁতুড়ঘর’ হতে দেবে। কারণ ইতিমধ্যেই আমরা দেখেছি পাকিস্তান, আফগানিস্তান এমনকী মধ্যপ্রাচ্য থেকেও জেহাদি নেটওয়ার্কের কারবার মালদ্বীপেও পৌঁছে গিয়েছে। এই র‌্যাডিক্যালিজমের একমাত্র দাওয়াই হল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তার সহায়ক শক্তি হিসেবে রাজনৈতিক স্থিরতা।
বিশদ

15th  June, 2019
সতর্কতার সময়
সমৃদ্ধ দত্ত

 ভারতীয় সংস্কৃতির সনাতন ধারাটি হল দিবে আর নিবে, মিলিবে মেলাবে। কিন্তু সেই সংস্কৃতি থেকে আমাদের সরিয়ে এনেছে অসহিষ্ণুতা আর স্বল্পবিদ্যা। আর সবথেকে বেশি জায়গা করে নিয়েছে বিদ্বেষ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বিদ্বেষ।
বিশদ

14th  June, 2019
ক্ষমতার ‘হিন্দি’ মিডিয়াম
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 উত্তর ভারতের সঙ্গে দক্ষিণের সীমারেখা। আর তার কারিগর আমরাই। আমাদের কাছে সাউথ ইন্ডিয়ান মানে মাদ্রাজি। দক্ষিণ ভারতের লোকজন নারকেল তেল খায়, অদ্ভুত ওদের উচ্চারণ, লুঙ্গি পরে বিয়েবাড়ি যায়... হাজারো আলোচনা। উত্তর ভারত মানে বিষম একটা নাক উঁচু ব্যাপার। আর দক্ষিণ মানেই রসিকতার খোরাক। তাই ওদের একটু ‘মানুষ’ করা দরকার। কীভাবে সেটা সম্ভব? হিন্দি শেখাতে হবে। বিশদ

13th  June, 2019
বারুদের স্তূপের উপর পশ্চিমবঙ্গ
হিমাংশু সিংহ

সংসদীয় রাজনীতিতে কিছুই চিরস্থায়ী নয়। কারও মৌরসিপাট্টাই গণতন্ত্রে বেশিদিন টেকে না। সব সাজানো বাগানই একদিন শুকিয়ে যায় কালের নিয়মে। ইতিহাস কয়েক বছর অন্তর ফিরে ফিরে আসে আর ধুরন্ধর শাসককে চরম শিক্ষা দিয়ে তাঁকে, তাঁর ক্ষমতাকে ধুলোয় লুটিয়ে দিয়ে আবার ফকির করে দিয়ে যায়। সব ক্ষমতা এক ভোটে বিলীন। ধূলিসাৎ। আর এখানেই মহান গণতন্ত্রের জিত আর চমৎকারিত্ব। আর সেই দিক দিয়ে ২৩ মে-র ফল এই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকেও আবার এক মহান সন্ধিক্ষণের দিকেই যেন ঠেলে দিয়েছে। ‘বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ’ হয়নি, ‘২০১৯ বিজেপি ফিনিশ’—তাও হয়নি। উল্টে সারাদেশে বিজেপি থ্রি-নট-থ্রি (অর্থাৎ ৩০৩টি) আসন জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভোট-পণ্ডিতদের।
বিশদ

11th  June, 2019
মোদিজি কি ‘সবকা বিশ্বাস’ অর্জন করতে পারবেন?
পি চিদম্বরম

 নরেন্দ্র মোদি এবার যে জনাদেশ পেয়েছেন তা অনস্বীকার্যভাবে বিপুল। যদিও, অতীতে লোকসভা নির্বাচনে একটি পার্টি ৩০৩-এর বেশি আসন জেতার একাধিক দৃষ্টান্ত আছে। যেমন ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধী ৩৫৩ এবং ১৯৮৪ সালে রাজীব গান্ধী ৪১৫ পেয়েছিলেন।
বিশদ

10th  June, 2019
 বিজেপি এ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে
কঠিন চ্যালেঞ্জ মনে করছে কেন?
শুভা দত্ত

 কয়েকদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক খুনের ঘটনা ঘটে গেল রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে। তাই আজও একই প্রসঙ্গ দিয়ে এই নিবন্ধ শুরু করতে হচ্ছে। গত সপ্তাহেই লিখেছিলাম, ভোটফল প্রকাশের পর রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় যেন একটা হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।
বিশদ

09th  June, 2019
ইচ্ছে-ডানায় নাচের তালে
অতনু বিশ্বাস

এ বছরের সিবিএসই পরীক্ষার ফল বেরতে দেখা গেল, প্রথম হয়েছে দু’টি মেয়ে। একসঙ্গে। ৫০০-র মধ্যে তারা পেয়েছে ৪৯৯ করে। দু’জনেই আবার আর্টসের ছাত্রী। না, পরীক্ষায় আজকাল এত এত নম্বর উঠছে, কিংবা আর্টস বিষয় নিয়েও প্রচুর নম্বর তুলে বোর্ডের পরীক্ষায় র‍্যাঙ্ক করা যায় আজকাল—এগুলোর কোনওটাই আমার আলোচনার বিষয়বস্তু নয়।
বিশদ

08th  June, 2019
ভারতের রাজনীতিতে ‘গেম মেকার’
মৃণালকান্তি দাস

মেধাবী হলেই যে পড়ুয়ার জন্য মোটা বেতনের চাকরি নিশ্চিত, তার কোনও গ্যারান্টি নেই। শুধু প্রতিভা থাকলে আর পরিশ্রমী হলেই হবে না, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং ঠিকঠাক ‘গাইড’ না পাওয়ায় পড়ুয়ারা আজ আর সরকারি চাকরির লক্ষ্যভেদ করতে পারেন না।
বিশদ

07th  June, 2019
অবিজেপি ভোটে বাজিমাত
বিজেপির, এবং তারপর...
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আলোড়ন! নিঃসন্দেহে একটা জবরদস্ত আলোড়ন উঠেছে। লোকসভা ভোটফল প্রকাশ হওয়া ইস্তক সেই আলোড়নের দাপটে রাজ্য-রাজনীতি থেকে সাধারণের অন্দরমহল জল্পনা-কল্পনা, বিবাদ-বিতর্ক, আশা-আশঙ্কায় যাকে বলে রীতিমতো সরগরম! পথেঘাটে আকাশে বাতাসে যেখানে সেখানে ছিটকে উঠছে উৎকণ্ঠা নানান জিজ্ঞাসা।
বিশদ

06th  June, 2019
কর্ণাটক পুরনির্বাচন: আবার উল্টালো ভোটফল
শুভময় মৈত্র 

নির্বাচনে ভোটফল নিয়ে কখন যে কী ঘটছে তার ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না মোটেই। মানুষ অবশ্যই মত বদলাবেন। সে স্বাধীনতা তাঁদের আছে। সে জন্যেই তো ভোটফল বদলায়। নাহলে সংসদীয় গণতন্ত্রের কোনও অর্থই থাকে না।  
বিশদ

04th  June, 2019
একনজরে
  বিজাপুর, ১৯ জুন: ছত্তিশগড়ের বিজাপুরে এক সমাজবাদী পার্টির নেতাকে অপহরণ করে খুন করল মাওবাদীরা। পুলিস জানিয়েছে, এসপি নেতা সন্তোষ পুনেম ওই এলাকায় কনট্রাক্টর হিসেবে কাজ করতেন। গতবছর তিনি বিধানসভা ভোটে দাঁড়িয়ে পরাজিত হন। ...

জেনিভা, ১৯ জুন (এএফপি): সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে খুনের ঘটনায় সৌদি আরবের যুবরাজের যোগ থাকার জোরালো প্রমাণ মিলেছে বলে জানালেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের এক মানবাধিকার কর্মী। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবিও তুলেছেন তিনি। ...

 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...

 হর্ষ ভোগলে : চলতি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের লড়াকু মনোভাব আমাকে মুগ্ধ করেছে। নিজেদের যেটুকু সক্ষমতা রয়েছে, সেটাকেই পুরোপুরি কাজে লাগানোর জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে ওরা। তারচেয়ে বড় ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শরীর-স্বাস্থ্যের আকস্মিক অবনতি। বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ আসতে পারে। সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিবাদ। ব্যবসায় নতুন সুযোগ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৪৭- লেখক সলমন রুশদির জন্ম,
১৯৭০- রাজনীতিক রাহুল গান্ধীর জন্ম,
১৯৮১- ভারতে টেস্ট টিউব বেবির জনক সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু,
২০০৮- বর্তমানের প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক বরুণ সেনগুপ্তের মৃত্যু 

19th  June, 2019
ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৯ টাকা ৭১.০৫ টাকা
পাউন্ড ৮৫.৩২ টাকা ৮৯.৪৩ টাকা
ইউরো ৭৬.০২ টাকা ৭৯.৬৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৩,৪২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩১,৭১০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩২,১৮৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,৩০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭,৪০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৫ আষা‌ঢ় ১৪২৬, ২০ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার, তৃতীয়া ৩০/৩০ অপঃ ৫/৯। উত্তরাষাঢ়া ২৬/৪৭ দিবা ৩/৩৯। সূ উ ৪/৫৬/২০, অ ৬/১৯/১৫, অমৃতযোগ দিবা ৩/৩৮ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৭/২ গতে ৯/৯ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৯ গতে ২/৬ মধ্যে পুনঃ ৩/৩২ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ২/৫৯ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/৩৮ গতে ১২/৫৮ মধ্যে। 
৪ আষাঢ় ১৪২৬, ২০ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার, তৃতীয়া ২৭/২৪/১ দিবা ৩/৫৩/৬। উত্তরাষাঢ়ানক্ষত্র ২৫/৩৬/১১ দিবা ৩/৯/৫৮, সূ উ ৪/৫৫/৩০, অ ৬/২২/২১, অমৃতযোগ দিবা ৩/৩২ গতে ৬/২২ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৫ গতে ৯/১২ মধ্যে ও ১২/২ গতে ২/১০ মধ্যে ও ৩/৩৫ গতে ৪/৫৬ মধ্যে, বারবেলা ৪/৪১/২৯ গতে ৬/২২/২১ মধ্যে, কালবেলা ৩/০/৩৮ গতে ৪/৪১/২৯ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৩৮/৫৬ গতে ১২/৫৮/৪ মধ্যে। 
মোসলেম: ১৬ শওয়াল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
মজদুরদের কাজে ফাঁকি রুখতে চালু হচ্ছে ‘ফেস বায়োমেট্রিক’ হাজিরা
 

কাজে এসে ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ বারবারই উঠেছে কলকাতা পুরসভার জঞ্জাল ...বিশদ

08:55:00 AM

জ্বালানি সাশ্রয়ে ‘মউ’ দক্ষিণবঙ্গ পরিবহণের 
বাসের জ্বালানি সাশ্রয়ে তৎপর দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম। নিগম সূত্রের ...বিশদ

08:50:00 AM

বেস্ট কেপ্ট স্টেশন-এর শিরোপা পেল এসপ্ল্যানেড
সার্বিক যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য, পরিচ্ছন্নতা বিচার করে ‘বেস্ট কেপ্ট স্টেশন’-এর শিরোপা ...বিশদ

08:45:00 AM

সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলের সম্পত্তি কর নেবে না কলকাতা পুরসভা 
কলকাতার সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত (গভর্নমেন্ট এইডেড) স্কুলগুলিকে পুরসভার সম্পত্তি করের আওতা ...বিশদ

08:45:00 AM

পে কমিশনের চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে রাস্তায় নামবে বিজেপি 
আগামী ১০ জুলাই ষষ্ঠ পে কমিশনের চেয়ারম্যানে অভিরূপ সরকারের পদত্যাগের ...বিশদ

08:42:58 AM

ব্রিসবেনে মেয়র সামিটে আমন্ত্রণ পেয়েও যাচ্ছেন না ফিরহাদ হাকিম
 

বিশ্বের সব শহরের মেয়রের সম্মেলন হবে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে। আগামী ৭ ...বিশদ

08:40:00 AM