Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ভোট কেন দেশের
নামে হল না?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সামনে একটি প্লাইউডের কাটআউট। মাঝখানটা জানালার মতো কেটে জায়গা করা। সেলফি জোন বা সেলফি পয়েন্ট। অবশ্য সেটা নামেই। নিজে ছবি তুললে ইমপ্যাক্ট পড়বে না। বরং বিষয়টা এমন, ভোট দিয়ে বেরিয়ে ভোটার সেখানে দাঁড়াবেন... উল্টোদিক থেকে কেউ ছবি তুলবে। আর সামনে কাটআউটের উপর লেখা থাকবে ‘ভোট ফর নেশন’, ‘ভোট দিয়ে আমি গর্বিত’... এমন আরও অনেক কিছু। উদ্যোগটা নির্বাচন কমিশনের। ভারত ইদানীং ভীষণভাবে সেলফি পাগল হয়েছে। সেলফি বা ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় তা আপলোড করার মধ্যে এক অপার্থিব সুখের হদিশ পেয়েছে আপামর ভারতবাসী। শুধু আট থেকে আঠারো নয়, তিন কুড়ি বয়স পেরিয়েও এই প্যাশনে মেতেছেন বহু মানুষ। নির্বাচন কমিশনের ভাবনাতেই ছিল, যদি এমন কিছু করা যায়, তাহলে নিশ্চয়ই ভোটদানের অনুপাত বাড়বে! অন্তত স্টেটাস আপডেট করার জন্য মানুষ, বিশেষ করে নতুন ভোটাররা বুথমুখো হবেন। সাধুবাদ দেওয়ার মতো উদ্যোগ। ছ’দফার ভোট শেষে ভালোরকম সাড়া কিন্তু ফেলে দিয়েছে এই ভোটার সেলফি পয়েন্ট। একটা কিন্তু এরপরও তুলতে হচ্ছে... ওই বড় বড় হরফে ‘ভোট ফর নেশন’ কথাটা নিয়েই। সত্যিই কি ভারতের নামে, দেশের নামে ভোট হচ্ছে?
উত্তরে ‘না’য়ের পাল্লাই বেশি ভারী। কেন? ছ’-আটমাস আগে যখন ভোটের উনুনে আঁচ দেওয়া শুরু হচ্ছিল, তখন বিষয়টা ওই ‘আচ্ছে দিন’ বা ‘রাফাল’ বিতর্কেই সীমাবদ্ধ ছিল। নরেন্দ্র মোদি-রাহুল গান্ধীর তীব্র বাদানুবাদ, সংসদে আলিঙ্গনপর্ব এবং চৌকিদার। অদ্ভুত ব্যাপার, সময় যত গড়িয়েছে, ভোট চাওয়া-পাওয়ার লড়াইয়ের বিশ্রীভাবে মেরুকরণ ঘটেছে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে যেভাবে বিভাজনের রাজনীতি প্রবেশ করেছে, তা আগে কখনও এদেশে হয়েছে বলে মনে হয় না। অর্থনৈতিক বিভাজন এদেশের জন্মলগ্ন থেকেই রয়েছে। তাতে নতুন কিছু নেই। বরং ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে ওই একটা দিনই ভারতবাসী ইভিএমে সাম্যবাদ খুঁজে পায়। মুকেশ আম্বানির একটি ভোটের যা দাম, বেলপাহাড়ীর এক সাধারণ দিনমজুরের ভোটও একই মূল্যের। অর্থনীতি দিয়ে নতুন করে এদেশে বিভাজনের ঘুঁটি খেলা যাবে না। কাজেই সবচেয়ে কার্যকর এবং জবরদস্ত অস্ত্র প্রয়োগ... ধর্ম। প্রশ্ন উঠতেই পারে বাবরি সৌধ ধ্বংস এবং লালকৃষ্ণ আদবানির রথযাত্রা কি ভোটে ধর্মীয় মেরুকরণের পথ দেখায়নি? নিশ্চয়ই দেখিয়েছে, কিন্তু তার জন্য গোটা দেশ ভোটযন্ত্রের সামনে এসে ধর্মের নামে ভাগ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখায়নি। সেটা হয়েছিল ভারতের একটা অংশে। কিন্তু এই নির্বাচন দেখিয়ে দিচ্ছে, ভোটারের পদবি জানলে সেই ভোট কোথায় পড়বে, তা আন্দাজ করাটা শক্ত নয়। এ অবশ্যই ভয়ানক ব্যাপার। আমার ধর্ম দেখে যদি বিচার হয়ে যায় আমি কোন দলের সমর্থক, গণতন্ত্রে তার থেকে বেশি লজ্জার কিছু হয় না।
এরপর আসা যাক সামাজিক মেরুকরণে। উত্তর ভারতে যার প্রকোপ প্রত্যেক ভোটেই থাকে, যদিও এবার একটু বেশির দিকে। বিশেষত উত্তরপ্রদেশে। কোনও উচ্চবর্ণের ভোটারকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, কাকে ভোট দেবেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উত্তর আসছে ‘কেন! বিজেপিকে!’ আবার কোনও পিছড়ে বর্গ বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে একই প্রশ্ন করলে নির্দ্বিধায় সমর্থন করছেন অখিলেশ-মায়াবতীর জোটকে। পাশাপাশি সংখ্যালঘু ভোটারদের একটা বড় অংশ কংগ্রেসের নামও করছেন। এবার আসা যাক ‘কেন ভোট দেবেন’ প্রশ্নে। বিজেপির সমর্থক একাংশ বলছে, ‘বিজেপি সরকার আমাদের বিদ্যুৎ দিয়েছে, রাস্তা করেছে, ঘরে ঘরে শৌচাগার বানিয়েছে... এই সরকারকেই তো ভোট দেব!’ আবার উত্তরপ্রদেশেরই অন্য অংশে শুধু জাতপাতের ভিন্নতায় এই পরিষেবার অনেক কিছুই পৌঁছয়নি। সেখানকার ভোটাররা তখন অবশ্যই প্রশ্ন তুলবেন, ‘এই সরকারকে ভোট দিয়ে আমাদের কী লাভ হবে?’
তাহলে গ্রাউন্ড রিয়েলিটিটা কী? এর উত্তর পরিষ্কারভাবে মেলা মুশকিল। এখনও... কাল শেষ দফার ভোটের দিনেও। ‘বিকাশ’ হয়েছে। কিন্তু সবার হয়নি। ‘আচ্ছে দিন’ আসা নিয়ে তো ধনী ব্যবসায়ী ছাড়া আর কেউ খুব একটা নিশ্চিত নন (তাঁরাও আবার মুখে বলছেন না)। অসমে নাগরিকপঞ্জি হল। তাতে বহু নাগরিক হঠাৎ ‘বিদেশি’ হয়ে গেলেন। তাঁদের সর্বনাশ। আবার সেই রাজ্যেরই কিছু মানুষের পৌষ মাস! ওই একই রাজ্যের ভিন্ন প্রান্তে আবার এনআরসি নিয়ে হেলদোল নেই। সেখানে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। একটা কিছু তো থাকবে, যা হতে পারে ভোটের ইউনিভার্সাল ইস্যু! রাজনৈতিক দল যদি তার ভোটব্যাঙ্কের কথা ভেবে উন্নয়নের বরাত দেয়, প্রয়োজন অনুযায়ী জাত-ধর্ম দেখে ভোটার কার্ড বানায়... তাহলে বিভাজন আটকানো কি সম্ভব?
আর হল ব্যক্তি মেরুকরণ। মোদি ঝড় গত লোকসভা ভোটেও ছিল। কিন্তু বিজেপির মতো একটা পার্টি এভাবে মোদিত্ব নির্ভর হয়ে যায়নি। গেরুয়া শিবিরের প্রচারের অভিমুখই এবার একটা, মোদি সরকার (বিজেপি সরকার নয়)! অর্থাৎ একটা রাজনৈতিক দলকে দেখে ভোট দেওয়ার পাঠ চুকল। আঞ্চলিক দলের ক্ষেত্রে এই প্রবণতাটা নতুন নয়। বরং চিরকালের। জয়ললিতা, করুণানিধির প্রয়াণের পরও যে ধারা বজায় রেখে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মায়াবতীরা। এবং এবারের মোদি-বিরোধী মহাজোটের ক্ষেত্রেও কিন্তু বিষয়টা ধীরে ধীরে সেই ব্যক্তিকেন্দ্রিকই হয়ে পড়ছে। কারণ, বিজেপিকে আক্রমণের ব্যাটনটা পুরোপুরি তুলে নিয়েছেন মমতা। রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, মায়াবতী, তেজস্বী বা স্ট্যালিন... আগে কোনও লোকসভা ভোটে বিরোধী রাজনীতি কিন্তু এভাবে মমতাময়ী হয়ে ওঠেনি। আর তার প্রমাণ রাখছেন মোদি স্বয়ং। বারবার বাংলায় আসছেন, এবং তাঁর টার্গেট শুধুই তৃণমূল নেত্রী। আসলে বিজেপি বুঝে গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশ থেকে খুব বেশি কিছু এবার পাওয়ার নেই। যতটুকু ঝুলিতে আসবে তাতেই আনন্দ করতে হবে। আর তা যদি ৩০-৩৫টা আসন হয়, তার জন্য অনেকটা ধন্যবাদ প্রাপ্য থাকবে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর। সোনিয়া কন্যা বহু প্রতীক্ষর পর রাজনীতিতে। এবং তাঁর আগমনেই কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থক মহল মোটামুটি চাঙ্গা। উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের নিজস্ব যে ভোটব্যাঙ্ক আছে, একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে বলা যায়, প্রিয়াঙ্কা তাতে ফাটল ধরতে দেবেন না। অর্থাৎ, অখিলেশ-মায়াবতী সব নিন্দুকের মুখে ছাই দিয়ে জোট করলেও এই একটা জায়গাতেই ফাঁক থেকে যাবে। বিজেপি ধর্ম এবং হিন্দুত্বের নামে ভোট চেয়ে উত্তরপ্রদেশের ভোটারদের একটা অংশ ধরে রেখে দেবে। বাকি অংশ একত্র হলে (অর্থাৎ কংগ্রেস+সমাজবাদী পার্টি+বহুজন সমাজ পার্টি), তাহলে নিশ্চিতভাবে মোদির বিজেপিকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া যেত। কিন্তু তা সম্ভব হচ্ছে না। ভোটকাটুয়া হয়ে প্রিয়াঙ্কা মোদিরই সুবিধা করে দেবেন। এভাবে যতটুকু সম্ভব উত্তরপ্রদেশ থেকে আদায় করে বাকি রসদের জন্য পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের দিকে তাকিয়েছেন মোদি। এখানে তাঁর সবচেয়ে বড় অন্তরায়ের নাম মমতা। মোদির সাফল্য, মহাজোটের প্রচারে মমতাকে বাংলার বাইরে যাওয়া থেকে আটকে দিতে পেরেছেন তিনি। আর তৃণমূল নেত্রীর সাফল্য, বিরোধী রাজনীতির অভিমুখটাকেই তিনি ঘুরিয়ে দিতে পেরেছেন নিজের দিকে। ২৩ তারিখ যদি কেন্দ্রে সরকার গড়ার ক্ষেত্রে বিরোধী মহাজোটের পথ প্রশস্ত হয়, মমতাই কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে থাকবেন। রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের সভাপতি হওয়ার এতদিন পরও সেই গ্রহণযোগ্যতায় জায়গায় পৌঁছতে পারেননি। ভোটাররা কতটা তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য নম্বর দেবে, তা নিয়ে তর্ক হতে পারে, বিরোধী তথা আঞ্চলিক দলগুলি যে মোটেই একবাক্যে রাহুলকে মেনে নেবে না, সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। তবে হ্যাঁ, প্রথম ইউপিএ সরকারের জমানায় সোনিয়া গান্ধী যেভাবে গোটা দুনিয়াকে হতচকিত করে সবচেয়ে লোভনীয় পদটি ছেড়ে দিয়েছিলেন, ঠিক একইভাবে যদি এবার তিনি বিরোধী মহাজোটের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তাহলে পুরো সমীকরণটাই বদলে যেতে পারে। তাঁর প্রচণ্ড অসুস্থতা সত্ত্বেও। ইতিমধ্যেই ভোটের ফলের দিন মহাজোটের বৈঠক আয়োজনের সব দায়িত্ব তিনি কাঁধে তুলে নিয়েছেন। আর সোনিয়া প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড়ে চলে এলে সেটা সত্যিই হবে আর একটা মাস্টারস্ট্রোক। সেই বহুদলীয় সরকার তখন টেকসইও হবে।
সে অবশ্য পরের ব্যাপার। আপাতত প্রতিশ্রুতির প্রচার থেকে মুখ ফিরিয়েছে সব শিবিরই। গত কয়েক দফার ভোটের প্রচার শুধুই আক্রমণ ও প্রতি আক্রমণে সীমাবদ্ধ। তাই মোদির প্রচারে না আছে কর্মসংস্থানের কথা, না প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার বার্তা। কৃষকদের দানছত্র দেওয়ার প্রচার অনেক দলের মুখেই শোনা যাচ্ছে। তাতেও কি চাষিদের আত্মহত্যা ঠেকানো গিয়েছে? গত বছর ৬ মার্চ থেকে ১২ মার্চ নাসিক থেকে মুম্বই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল কৃষক লং মার্চে। প্রায় ৫০ হাজার মানুষের পদযাত্রা। দাবি, নিঃশর্ত কৃষিঋণ মকুব। বাণিজ্যনগরীর রাজপথ রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছিল বাম পতাকায়। ফল? ছয় সদস্যের কমিটি গঠিত। তারা ঠিক করবে, বিষয়টি নিয়ে কী করা যায়। সরকারি ভাষায়, প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। ঋণ মকুব এবার সময়ের অপেক্ষা...। সত্যি কি তাই? ভোটের গুঁতো যে ভয়ানক! মহারাষ্ট্র সরকার তথা বিজেপি তখনই প্রমাদ গুনেছিল, সামনের বছর ভোট। কিছু তো একটা করতে হবে! কমিটি হল। পর্যালোচনা হল। ভোটও চলে এল। কিন্তু যে লোকসভা কেন্দ্র থেকে এই কৃষক লং মার্চের জন্ম, সেই দিন্দোরি আসনের ছবি তো এক বছরেও বদলায়নি! এখানে গ্রামে গ্রামে... ঘরে ঘরে এখনও পরিবারের লোকজন রাত জাগে বাবা বা স্বামীর পাহারায়। আত্মহত্যার আশঙ্কায়। কোথায় গেল বছরে দু’কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি? সবই ফিকে... আর তাই অস্ত্র তো করতেই হবে মেরুকরণকে। সেটাই করছে কমবেশি সব দল। পকে কী উন্নয়ন করেছে, তা আজ আর বিবেচ্য নয়। বরং কার কী দুর্নীতি, সেটাই প্রচারের দাবার ছক। যেখানে ধর্ম যদি রাজা হয়, মন্ত্রী তাহলে পিছড়ে বর্গ। ঘুঁটি সাজানো চলছে। নিরন্তর...। ভোটটা যদি সত্যিই দেশের নামে হতো!
18th  May, 2019
এনআরসি, সংখ্যালঘু ভোট ও বিজেপি
তন্ময় মল্লিক

‘এবার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের আরও বেশি করে বিজেপির ছাতার তলায় নিয়ে আসতে হবে। সেই মতো গ্রহণ করতে হবে যাবতীয় কর্মসূচি।’ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই বিজেপির বঙ্গ নেতৃত্বকে এই কথাগুলি যিনি বলেছিলেন তিনি আর কেউ নন, ‘গেরুয়া শিবিরের চাণক্য’ অমিত শাহ।
বিশদ

সরকারি চাকরির মোহে আবিষ্ট সমাজ
অতনু বিশ্বাস

সমাজ বদলাবে আরও। আমি বা আপনি চাইলেও, কিংবা গভীরভাবে বিরোধিতা করলেও। সরকারি বা আধা-সরকারি চাকরির নিরাপত্তার চক্রব্যূহ ক্রমশ ভঙ্গুর হয়ে পড়বে আরও অনেকটা। এবং দ্রুতগতিতে। গোটা পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ এক প্রকারের ভবিতব্যই। একসময় আমরা দেখব, চাকরি বাঁচাতে গড়পড়তা সরকারি চাকুরেদেরও খাটতে হচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরেদের মতো। সরকারি চাকরির নিশ্চিন্ত আশ্রয়ের নিরাপত্তার ‘মিথ’ ভেঙে চুরচুর হয়ে পড়বে। এবং সে-পথ ধরেই ক্রমে বিদায় নেবে পাত্রপাত্রী চাই-য়ের বিজ্ঞাপন থেকে ‘সঃ চাঃ’ নামক অ্যাক্রোনিম।
বিশদ

আলোচনার অভিমুখ
সমৃদ্ধ দত্ত

 প্রাচীন বিশ্বের বিভিন্ন সভ্যতায় দেখা যায় সম্রাটরা অসীম ক্ষমতার অধিকারী প্রমাণ করার জন্য অতি প্রাকৃতিক শক্তি সম্পন্ন হিসেবে নিজেদের প্রতিভাত করতেন। এর ফলে প্রজা শুধু সম্রাটকে যে মান্য করত তাই নয়, ভয়ও পেত, সমীহ করত। প্রাচীন মিশরে শতাব্দীর পর শতাব্দীর ধরে ফারাওরা নিজেদেরই ঈশ্বর হিসেবে ঘোষণা করতেন।
বিশদ

20th  September, 2019
হিন্দু বাঙালির বাড়ি ভাঙছে, হারাচ্ছে দেশ 
শুভময় মৈত্র

জয় গৃহশিক্ষকতা করেন, বাড়ি সিঁথি মোড়ের কাছে, বরানগরে। নিজেদের তিরিশ বছরের পুরনো বাড়ি, সারানোর প্রয়োজন। একান্নবর্তী পরিবার, দাদা বড় ইঞ্জিনিয়ার। তিনি আর একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন কাছেই। 
বিশদ

20th  September, 2019
বাংলায় এনআরসি বিজেপির স্বপ্নের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে না তো 
মেরুনীল দাশগুপ্ত

লোকসভা ভোটে অপ্রত্যাশিত ফলের পর বাংলার বিজেপি রাজনীতিতে যে জমকালো ভাবটা জেগেছিল সেটা কি খানিকটা ফিকে হয়ে পড়েছে? পুজোর মুখে এমন একটা প্রশ্ন কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের আমজনতার মধ্যে ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে। 
বিশদ

19th  September, 2019
জন্মদিনে এক অসাধারণ নেতাকে কুর্নিশ
অমিত শাহ

 আজ, মঙ্গলবার আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৬৯তম জন্মদিন। অল্প বয়স থেকেই মোদিজি নিজেকে দেশের সেবায় উৎসর্গ করেছেন। যৌবন থেকেই তাঁর মধ্যে পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর উন্নয়নে কাজের একটি প্রবণতা লক্ষ করা যায়। দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণের কারণে মোদিজির শৈশবটা খুব সুখের ছিল না। বিশদ

17th  September, 2019
ব্যাঙ্ক-সংযুক্তিকরণ কতটা সাধারণ মানুষ এবং সামগ্রিক ব্যাঙ্কব্যবস্থার উন্নতির স্বার্থে?
সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়

অনেকগুলি ব্যাঙ্ক সংযুক্ত করে দেশে সরকারি ব্যাঙ্কের সংখ্যা কমিয়ে আনা হল আর সংযুক্তির পর চারটি এমন বেশ বড় ব্যাঙ্ক তৈরি হল, আকার আয়তনে সেগুলিকে খুব বড় মাপের ব্যাঙ্কের তকমা দেওয়া যাবে। এসব ঘোষণার পর অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য, এতে দেশের অর্থনীতির খুব উপকার হবে।  
বিশদ

16th  September, 2019
রাজনীতির উত্তাপ কি পুজোর আমেজ
জমে ওঠার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে?
শুভা দত্ত

 পরিস্থিতি যা তাতে এমন কথা উঠলে আশ্চর্যের কিছু নেই। উঠতেই পারে, উঠছেও। বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসবের মুখে প্রায় প্রতিদিনই যদি কিছু না কিছু নিয়ে নগরী মহানগরীর রাজপথে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে, পুলিস জলকামান, লাঠিসোঁটা, কাঁদানে গ্যাস, ইটবৃষ্টি, মারদাঙ্গা, রক্তারক্তিতে যদি প্রায় যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং তাতে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনজীবন ব্যবসাপত্তর উৎসবের মরশুমি বাজার কিছু সময়ের জন্য বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তবে এমন কথা এমন প্রশ্ন ওঠাই তো স্বাভাবিক।
বিশদ

15th  September, 2019
আমেরিকায় মধ্যবয়সের
সঙ্গী সোশ্যাল মিডিয়া
আলোলিকা মুখোপাধ্যায়

যে বয়সে পৌঁছে দূরের আত্মীয়স্বজন ও পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ক্রমশ আগের মতো সম্ভব হয় না, সেই প্রৌঢ় ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধার জীবনে ইন্টারনেট এক প্রয়োজনীয় ভূমিকা নিয়েছে। প্রয়োজনীয় এই কারণে যে, নিঃসঙ্গতা এমন এক উপসর্গ যা বয়স্ক মানুষদের শরীর ও মনের উপর প্রভাব ফেলে। বিশদ

14th  September, 2019
মোদি সরকারের অভূতপূর্ব কাশ্মীর পদক্ষেপ পরবর্তী ভারতীয় কূটনীতির সাফল্য-ব্যর্থতা
গৌরীশঙ্কর নাগ

 এই অবস্থায় এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ৩৭০ ধারা বিলোপ পর্বের প্রাথমিক অবস্থাটা আমরা অত্যন্ত উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছি।
বিশদ

14th  September, 2019
ব্যর্থতা নয়, অভিনন্দনই
প্রাপ্য ইসরোর বিজ্ঞানীদের
মৃণালকান্তি দাস

 কালামের জেদেই ভেঙে পড়েছিল ইসরোর রোহিনী। না, তারপরেও এ পি জে আব্দুল কালামকে সে দিন ‘ফায়ার’ করেননি ইসরোর তদানীন্তন চেয়ারম্যান সতীশ ধাওয়ান! বলেননি, ‘দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল কালামকে’! তার এক বছরের মধ্যেই ধরা দিয়েছিল সাফল্য। ধাওয়ানের নির্দেশে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন সেই কালাম-ই। তাঁর কথায়, ‘ওই দিন আমি খুব গুরুত্বপূর্ণ পাঠ পেয়েছিলাম। ব্যর্থতা এলে তার দায় সংস্থার প্রধানের। কিন্তু,সাফল্য পেলে তা দলের সকলের। এটা কোনও পুঁথি পড়ে আমাকে শিখতে হয়নি। এটা অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত।’ বিশদ

13th  September, 2019
রাষ্ট্রহীনতার যন্ত্রণা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভিক্টর নাভরস্কি নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে আবিষ্কার করলেন, তিনি আচমকাই ‘রাষ্ট্রহীন’ হয়ে পড়েছেন। কারণ, তাঁর দেশ ক্রাকোজিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলির কাছে মানবিকতার নিরিখে ক্রাকোজিয়ার আর কোনও ‘অস্তিত্ব’ নেই।
বিশদ

10th  September, 2019
একনজরে
বিএনএ, রায়গঞ্জ: দুই শিক্ষাকর্মীর বদলির প্রতিবাদে ছাত্র আন্দোলনে শুক্রবার উত্তাল হল রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অঙ্ক ও কম্পিউটার অ্যান্ড ইনফর্মেশন সায়েন্স বিভাগের সামনে কয়েকশ’ ছাত্রছাত্রী ...

 গুয়াহাটি, ২০ সেপ্টেম্বর (পিটিআই): এনআরসির বিরোধিতায় শুক্রবার অসমজুড়ে ১২ ঘণ্টার বন্ধ পালন করা হয়। অল কোচ রাজবংশী স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (একেআরএসইউ)-এর ডাকা ওই বন্঩ধে এদিন স্বাভাবিক ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শুক্রবার সকালে সাঁকরাইলের ডেল্টা জুটমিলের পরিত্যক্ত ক্যান্টিন থেকে নিখোঁজ থাকা এক শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্বার হল। তাঁর নাম সুভাষ রায় (৪৫)। তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেছেন। ...

 দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি, ২০ সেপ্টেম্বর: যাদবপুর-কাণ্ডে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে রিপোর্ট দেবে বঙ্গ বিজেপি। আজ এ কথা জানিয়েছেন বিজেপির অন্যতম কেন্দ্রীয় সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত দলের সহনেতা সুরেশ পূজারি। তিনি বলেছেন, ‘যে রাজ্যে একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরই কোনও নিরাপত্তা নেই, সেই ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শরীর ভালো যাবে না। সাংসারিক কলহবৃদ্ধি। প্রেমে সফলতা। শত্রুর সঙ্গে সন্তোষজনক সমঝোতা। সন্তানের সাফল্যে মানসিক ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস
১৮৬৬: ব্রিটিশ সাংবাদিক, ঐতিহাসিক ও লেখক এইচ জি ওয়েলসের জন্ম
১৯৩৪: জাপানের হনসুতে টাইফুনের তাণ্ডব, মৃত ৩ হাজার ৩৬ জন
১৯৪৭: মার্কিন লেখক স্টিফেন কিংয়ের জন্ম
১৯৭৯: ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার ক্রিস গেইলের জন্ম
১৯৮০: অভিনেত্রী করিনা কাপুর খানের জন্ম
১৯৮১: অভিনেত্রী রিমি সেনের জন্ম
১৯৯৩: সংবিধানকে অস্বীকার করে রাশিয়ায় সাংবিধানিক সংকট তৈরি করলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিন
২০০৭: রিজওয়ানুর রহমানের মৃত্যু
২০১৩: কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে ওয়েস্ট গেট শপিং মলে জঙ্গি হামলা, নিহত কমপক্ষে ৬৭

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.১৯ টাকা ৭২.৭০ টাকা
পাউন্ড ৮৬.৪৪ টাকা ৯১.১২ টাকা
ইউরো ৭৬.২৬ টাকা ৮০.৩৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৭,৯৯০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,০৪৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৫৮৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৫,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৪ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শনিবার, সপ্তমী ৩৭/১২ রাত্রি ৮/২১। রোহিণী ১৪/৪৩ দিবা ১১/২২। সূ উ ৫/২৮/২৩, অ ৫/৩১/৪০, অমৃতযোগ দিবা ৬/১৬ মধ্যে পুনঃ ৭/৪ গতে ৯/২৯ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৪ গতে ৩/৬ মধ্যে পুনঃ ৩/৫৫ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ১২/৪১ গতে ২/১৭ মধ্যে, বারবেলা ৬/৫৯ মধ্যে পুনঃ ১/০ গতে ২/৩০ মধ্যে পুনঃ ৪/০ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ৭/১ মধ্যে পুনঃ ৩/৫৯ গতে উদয়াবধি।
৩ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শনিবার, সপ্তমী ২৫/২২/২১ দিবা ৩/৩৭/৫। রোহিণী ৭/১/২৪ দিবা ৮/১৬/৪৩, সূ উ ৫/২৮/৯, অ ৫/৩৩/২৯, অমৃতযোগ দিবা ৬/২০ মধ্যে ও ৭/৭ গতে ৯/২৯ মধ্যে ও ১১/৪৮ গতে ২/৫৫ মধ্যে ও ৩/৪২ গতে ৫/৩৩ মধ্যে এবং রাত্রি ১২/৩৮ গতে ২/১৭ মধ্যে, বারবেলা ১/১/২৯ গতে ২/৩২/৯ মধ্যে, কালবেলা ৬/৫৮/৪৯ মধ্যে ও ৪/২/৪৯ গতে ৫/৩৩/২৯ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/২/৪৯ মধ্যে ও ৩/৫৮/৪৯ গতে ৫/২৮/২৮ মধ্যে।
২১ মহরম

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
রাজীব কুমারের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ
আজ রাজীব কুমারের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল আলিপুর ...বিশদ

08:21:33 PM

ফের সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ
আরও একবার সিএবি-র প্রেসিডেন্ট হলেন সৌরভ গঙ্গোপাধধ্যায়। আজ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ...বিশদ

07:39:27 PM

অস্কারে মনোনীত ছবি-গালি বয়

06:03:00 PM

ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় যুবককে মারধর
স্কুলের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় এক যুবককে লাঠি-রড দিয়ে ...বিশদ

05:22:00 PM

মুর্শিদাবাদে আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেপ্তার ১ 
আজ সকালে মুর্শিদাবাদের পাহাড়ঘাটি মোড় থেকে আগ্নেয়াস্ত্র সহ সফিকুল ইসলাম ...বিশদ

05:13:00 PM

দীঘায় ডুবন্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করল নুলিয়া
 

দীঘার সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়ার মুখে এক পর্যটককে উদ্ধার করল নুলিয়া। ...বিশদ

05:05:00 PM