Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

এবার ভোটে যে-কথা কেউ বলেনি
শুভা দত্ত

ভোটপর্ব শেষ হয়ে এল। সামনের রবিবারেই ভোটগ্রহণ শেষ। প্রচারও শেষ হল। বৈশাখের দহন জ্বালা যত বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনীতির উত্তাপ। মারদাঙ্গা, ভাঙচুর, ব্যক্তিগত আক্রমণ, সবই চলছে। এবার একটা বড় ইস্যু দেশের সুরক্ষা। তার সঙ্গে দুর্নীতি, বেকারত্ব, চাষিদের দুর্দশা এসবও আছে। কিন্তু একটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কেউ কথা বলেনি। বিষয়টি হল বায়ুদূষণ।
বিজেপি, কংগ্রেস ও অন্যান্য ছোটখাট দলের নির্বাচনী ইস্তাহারে কিন্তু দূষণ নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে। বিজেপি’র ইস্তাহারে লিখেছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মোট ১০২টি শহরের দূষণের মাত্রা ৩৫ শতাংশ কমিয়ে আনা হবে। কংগ্রেস স্বীকার করেছে, দূষণ একটা উদ্বেগজনক বিষয়। ক্ষমতায় এলে বড় শহরগুলির বায়ু থেকে বিষ কমানোর উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আম আদমি পার্টিও এই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই প্রথমবার ভোটের ইস্তাহারে দূষণের কথা স্থান পেল। কিন্তু ওই পর্যন্তই। ব্যাপারটা কাগজে-কলমেই আছে। রাজনৈতিক দলের ইস্তাহার আর ক’জন পড়ে। দলের সব সমর্থকও পড়ে কি না সন্দেহ। বেশিরভাগ লোক নেতাদের ভাষণ শুনে সংশ্লিষ্ট দলের কর্মসূচি সম্পর্কে ধারণা করে নেয়। যতদূর জানি, এখনও পর্যন্ত কোনও নেতা ভাষণে বলেননি, ক্ষমতায় এলে চেষ্টা করবেন যাতে মানুষ নির্মল হাওয়ায় শ্বাস নিতে পারে। হাওয়ায় যতই বিষ মিশুক, আমাদের দেশে তা এখনও জোরালো ইস্যু নয়।
ভারতে বায়ুদূষণের সমস্যা কিন্তু খুবই গুরুতর। ওয়ার্ল্ড হেল্‌থ অর্গানাইজেশনের হিসাব মতো, সারা বিশ্বে যে ২০টি শহরের বায়ু সবচেয়ে বেশি দূষিত, তার মধ্যে আছে ভারতের ১৬টি। হাওয়ায় এত দূষণ আছে বলে কমে যাচ্ছে মানুষের গড়পড়তা আয়ু। ২০১৭ সালে বায়ুদূষণজনিত রোগে মারা গিয়েছিলেন প্রায় ১২ লক্ষ ভারতীয়।
বায়ুদূষণের প্রধান কারণ মোটরগাড়ির ধোঁয়া। দ্রুত নগরায়ণ, নির্বিচারে গাছ কাটা, জলাশয় ভরাট করা, এসবের ফলেও বাতাসে বিষ মেশে।
এদেশে যে শহরগুলির হাওয়া সবচেয়ে বেশি দূষিত সেই তালিকায় আছে কয়েকটি ভিআইপি কেন্দ্র। তার অন্যতম কানপুর। ২০১৮ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রিপোর্ট দিয়েছিল, কানপুর বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর। এখানকার হাওয়ায় যে পরিমাণ বিষ আছে, আর কোনও শহরে অত নেই।
এক সময় কানপুরে দাঁড়াতেন মুরলী মনোহর যোশি। এবার সেখানে বিজেপির তরফে প্রার্থী সত্যদেব পাচৌরি। বিপক্ষে কংগ্রেসের শ্রীপ্রকাশ জয়সোয়াল। সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী রাম কুমার। ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। ভোটারের সংখ্যা ১৬ লক্ষের কিছু বেশি।
মার্চে নির্বাচনের দিন ঘোষণার কিছুদিন আগে শহরে সভা করে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এপ্রিলে সভা করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী এবং রাজ্যের দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ সিং যাদব ও মায়াবতীও জনসভা করেছেন। কিন্তু কারও ভাষণে শহরের বায়ু পরিশুদ্ধ করার কথা শোনা যায়নি।
রাজনীতিকরা কি কানপুরের বায়ুদূষণের খবর রাখেন না? নিশ্চয় রাখেন। তাঁদের কাছে সম্ভবত জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায় না। কিংবা হয়তো অন্য কোনও বাধ্যবাধকতা ছিল। বায়ুদূষণ রোধ করতে হলে দূষণ সৃষ্টিকারী শিল্পের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তাহলে আবার সেই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বহু লোকের বেকার হয়ে পড়ার সম্ভাবনা। সব দিক ভেবে নেতারা চুপ থাকাই বাঞ্ছনীয় মনে করেছেন।
সারা বিশ্বে সবচেয়ে দূষিত শহরগুলির মধ্যে আছে বারাণসী। খোদ প্রধানমন্ত্রী সেখানকার প্রার্থী। এই নিয়ে পর পর দু’বার সেই প্রাচীন শহর থেকে ভোটে লড়ছেন। তিনি ও তাঁর দলের অন্যান্য মন্ত্রী নির্মল গঙ্গার কথা বলেন। কিন্তু বারাণসীর বাতাসকে দূষণমুক্ত করার কথা একবারও বলেননি।
উত্তরপ্রদেশের আর একটা হাই প্রোফাইল কেন্দ্রের নাম লখনউ। এখানে প্রার্থী বিজেপি’র রাজনাথ সিং। বিপরীতে সমাজবাদী পার্টির হয়ে দাঁড়িয়েছেন পুনম সিনহা। তিনি অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহা’র স্ত্রী। শত্রুঘ্ন নিজে কংগ্রেসের প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও লখনউতে এসে প্রচার করে গিয়েছেন স্ত্রী’র হয়ে।
উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টির আর বহুজন সমাজ পার্টির ‘মহাগঠবন্ধনে’ কংগ্রেসের ঠাঁই হয়নি। অনেকে প্রশ্ন করেছেন, অভিনেতা নিজে কংগ্রেস প্রার্থী হয়ে কেমন করে সমাজবাদী পার্টির হয়ে প্রচার করতে পারেন? তার জবাবও দিয়েছেন শত্রুঘ্ন। এইরকম চাপান-উতোর অনেক হয়েছে। তার মাঝে কেউ ভুলেও শহরের বায়ুদূষণের কথা তোলেনি। যদিও বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত ২০টি শহরের তালিকায় লখনউয়ের নাম আছে। আর আছে এলাহাবাদের নাম। সেও খুব নামী কেন্দ্র। একসময় এখানে প্রার্থী হতেন লালবাহাদুর শাস্ত্রী। আর এক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ভিপি সিং-ও এই কেন্দ্র থেকে দাঁড়াতেন। মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন জীবনে একবারই ভোটে দাঁড়িয়েছেন। তাঁরও কেন্দ্র ছিল এলাহাবাদ।
তথ্য বলছে, দেশের বেশিরভাগ দূষিত শহর উত্তর ভারতে অবস্থিত। প্রতি বছর শীতে সেখানকার আকাশ ঢেকে যায় ধোঁয়াশায়। তার মধ্যে নিঃশ্বাস নেওয়াই হয়ে ওঠে কষ্টকর। আমাদের কেন্দ্রীয় সরকারের এয়ার কোয়ালিটি ফোরকাস্টিং অ্যান্ড রিসার্চ নামে একটি সংস্থা আছে। তারা বলছে, আগামী দিনে দূষণের মাত্রা আরও বাড়বে।
উত্তর ভারতের অন্যতম শহর দিল্লি। চিকিৎসকরা রাজধানীর বাসিন্দাদের পরামর্শ দেন, শীতে প্রবল বায়ুদূষণের মধ্যে বেশি শারীরিক পরিশ্রম করবেন না। ঘরের জানলা বন্ধ রাখুন। বাইরে বেরলে মাস্ক পরুন।
গত রবিবার দিল্লিতে ভোট হয়ে গেল। সেখানে আসনের সংখ্যা সাত। গতবারে সাতটিই পেয়েছিল বিজেপি। এবার অনেকে চেষ্টা করেছিলেন যাতে বিজেপি বিরোধী ভোট ভাগ না হয়। তবুও আম আদমি পার্টি আর কংগ্রেসের জোট হল না। অতএব ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তাতে সুবিধা বিজেপি’র।
শেষ অবধি যেই জিতুক, দিল্লির হাওয়া নির্মল হওয়া মুশকিল। প্রতিবেশী রাজ্য পাঞ্জাব ও হরিয়ানার চাষিরা প্রতি বছর অক্টোবর-নভেম্বর মাসে শস্যখেতে ফসলের অবশিষ্টাংশ পুড়িয়ে দেন। সেই ধোঁয়ায় ঢেকে যায় রাজধানী ও তার আশপাশের অঞ্চল।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বায়ুদূষণজনিত কারণে প্রতি বছর শহরে হাজার হাজার মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। ২০১৫ সালে শুধু কানপুরেই অসুস্থ হয়েছিলেন ৪০ হাজার জন। দু’বছরের মধ্যে সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার। আগামী দিনে আরও বাড়লে আশ্চর্যের কিছু নেই।
শহরের অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তাঁদের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। গলায় জ্বালা করে। মাঝে মাঝেই কাশি হয়। কিন্তু সর্দিকাশির জন্য চিকিৎসকরা সাধারণত যে ওষুধ দেন, তা এক্ষেত্রে কাজ করে না। যাঁরা রাস্তাঘাটে কাজ করেন, যেমন ট্রাফিক কনস্টেবল, গাড়ির চালক, ক্লিনার, রাস্তার ধারে দোকানের কর্মী অথবা যে গরিবরা ফুটপাতে বাস করেন, তাঁদেরই বায়ুদূষণে অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
দিল্লিতে প্রতি বছর ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হয় ২২ লক্ষ শিশু। তাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। পরবর্তীকালে ডায়াবেটিস, মৃগী, এমনকী ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ভয় থাকে।
আমাদের কল্লোলিনী কলকাতার অবস্থা কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লির চেয়ে এই শহরের অবস্থা বিশেষ ভালো নয়। হাওড়া স্টেশন, শিয়ালদহ, বড়বাজার কিংবা মৌলালির মতো জায়গায় দূষণের মাত্রা ভয়াবহ। দিনের ব্যস্ত সময়ে গাড়ির ধোঁয়ায় বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।
অনেকে বলছেন, গত দুই দশকে উদারনীতির হাওয়ায় দেশে যে শিল্পায়ন হয়েছে, তার অবশ্যম্ভাবী ফল, বায়ুদূষণ বৃদ্ধি। দূষণ রোধে বেশি কড়াকড়ি করলে শিল্পায়ন ব্যাহত হবে।
কথাটা সর্বাংশে সত্য নয়।
সদিচ্ছা থাকলে শিল্পায়নের পাশাপাশি বাতাসকেও যে অনেকাংশে নির্মল করে তোলা যায়, তা প্রমাণ করেছে চীন। সেদেশে আগে প্রতি বছরে ১১ লক্ষ মানুষ দূষণজনিত নানা রোগে মারা যেতেন। ২০১৪ সালে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির বার্ষিক কংগ্রেসে প্রধানমন্ত্রী লি কেচিয়াং বলেন, আমরা দূষণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছি। কারখানার ধোঁয়ায় আমাদের আকাশ হয়ে উঠেছে ধূসর। আমরা আকাশের নীলিমা ফিরিয়ে দেব।
চীনের সরকার মূলত দুটি বিষয়ের ওপরে জোর দেয়। প্রথমত ইস্পাতের উৎপাদন কমিয়ে আনা। দ্বিতীয়ত কয়লার ব্যবহার কমানো। শক্তির বিকল্প উৎস হিসাবে বায়ু ও সূর্যালোক থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হয়। এতে চীনের দূষণ যে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, সেকথা মানতে বাধ্য হয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। চীন দূষণের মাত্রা আরও কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা চায়, ২০২২ সালের মধ্যে দেশের বাতাসের মান আমেরিকা এবং ইউরোপের উন্নত দেশগুলির সমতুল হয়ে উঠুক।
চীন যা পারে, আমরা পারি না কেন? তার কারণ, সদিচ্ছার অভাব। মানুষের সচেতনতা না থাকাও একটা কারণ, মানুষ যদি দূষণ নিয়ে বিশেষ মাথা না ঘামায়, ভোটে রাজনীতিকরা তাকে ইস্যু করবে কেন?
দূষণের মতো আরও একটা বিষয় আছে যা নিয়ে ভোটের বাজারে কেউ একটি কথাও বলেনি। প্রতি বছর দেশে পথ দুর্ঘটনায় মারা যায় এক লক্ষেরও বেশি মানুষ। আহত হয় তিন-চার লক্ষ। ২০১৫ সালে ভারত পথ দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত এক আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সই করেছিল। তাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অ্যাক্সিডেন্ট কমিয়ে আনার কথা বলা আছে। দুর্ঘটনা রোধে তার পরে কয়েকটি ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তেমন ফল পাওয়া যায়নি।
যুবকরাই পথ দুর্ঘটনার শিকার হয় সবচেয়ে বেশি। তথ্য বলছে, অ্যাক্সিডেন্টে মৃতদের মধ্যে ৬০ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৫-এর মধ্যে। অনেকে মদ্যপান করে গাড়ি চালায়। বাইক চালানোর সময় হেলমেট পরে না। দীর্ঘসময় ধরে গাড়ি চালাতে চালাতে অনেক ড্রাইভার ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। রাস্তায় প্রায়ই দুটি বাসের মধ্যে রেষারেষি হয়।
দূষণের কথা তবু তো কয়েকটি দলের ইস্তাহারে স্থান পেয়েছে, পথ দুর্ঘটনার কথা তাও পায়নি। আজ পর্যন্ত কোনও দল ইস্তাহারেও লেখেনি, ক্ষমতায় এলে দুর্ঘটনায় জীবনহানি কমানোর ব্যবস্থা করবে।
17th  May, 2019
 দেশ চেয়েছে একজন শক্তিশালী নেতা
আর রাজ্যের দাবি গণতান্ত্রিক পরিসর
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

 দেশের মানুষ শক্তিশালী নেতার পক্ষে স্পষ্ট রায় জানিয়েছেন। শত বিভাজিত বিরোধী শিবির অপেক্ষা একক নেতার প্রতি সাধারণ মানুষ যে ভরসা করেন আরও একবার বিজেপির পক্ষে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে তা প্রমাণিত হল।
বিশদ

মোদির প্রত্যাবর্তন
 শান্তনু দত্তগুপ্ত

ঘড়ি ধরে ঘুম ভেঙেছিল ঠিক সকাল ৫টায়। প্রথমে নিয়মমাফিক যোগব্যায়াম, তারপর খবরে চোখ রাখা। নাঃ, সব শান্তিতেই আছে... নিশ্চিন্ত মনে ব্রেকফাস্ট নিয়ে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী। সাড়ে ৮টা নাগাদ খবর আসা শুরু হল... কিছু একটা হয়েছে গোধরায়... কয়েকজন মারা গিয়েছে। সংখ্যাটা বাড়তেও পারে... ট্রেনে কিছু... এখনও শিওর হওয়া যাচ্ছে না। সেদিন আবার বিধানসভায় বাজেট পেশ।  
বিশদ

24th  May, 2019
সাবধান! গ্রাফিতি নিয়ে ব্যাঙ্কসি এবার ভারতেও
মৃণালকান্তি দাস

কোনও রাজা নয়। রাজার মূর্তিও নয়। দুই নেতার টানাটানিতে দ্বিখণ্ডিত ভারত! এটাই ছিল মুম্বইয়ের রাজপথের পাশে কোনও এক দেওয়ালে আঁকা গ্রাফিতি। দড়ি টানাটানি করছেন যাঁরা, তাঁদের একজন ‘নাগরিক’ পোশাকে সজ্জিত কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। অন্যজনের পরনে সামরিক উর্দি। তিনি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কে এঁকেছেন, জানা নেই।
বিশদ

23rd  May, 2019
ভোটফল ২০১৯: ভালো মন্দ যা-ই ঘটুক উৎসবের মেজাজটি যেন বজায় থাকে
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আজ সেই বহু প্রতীক্ষিত বৃহস্পতিবার, ২৩ মে। জল্পনা-কল্পনা, আন্দাজ-অনুমানের যাবতীয় কুহেলিকা সরিয়ে আজ প্রকাশ পাবে ২০১৯ লোকসভার চূড়ান্ত চিত্র। দেশজনতা আগামী পাঁচ বছরের জন্য কার হাতে পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র এই ভারতের শাসনভার তুলে দিলেন— জানা যাবে আজ।
বিশদ

23rd  May, 2019
অর্ধেক বুথে ভিভিপ্যাট গণনার দাবি এক মস্ত
চ্যালেঞ্জ, ব্যালটের যুগেই ফেরার তোড়জোড়
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের নির্বাচনী রাজসূয় যজ্ঞের চূড়ান্ত পর্বে ভোট গণনা ও ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র ভারত তো বটেই, সারা পৃথিবী। গত কয়েক মাস ধরে চলা রাজনীতির ঘাত-প্রতিঘাত, চাপান-উতোর, দাবি, পাল্টা দাবির সত্যতা উঠে আসবে গণনার মধ্য দিয়ে।
বিশদ

22nd  May, 2019
পশ্চিমবঙ্গের ভোট বিশ্লেষণ
শুভময় মৈত্র

 এ লেখা যখন আপনারা পড়ছেন, ততক্ষণে বুথফেরত সমীক্ষা আপনাদের হাতে। কিন্তু সমীক্ষা মানেই যে সেটা মিলবে এমনটা নয়। তার কারণ দুটো। এক হল সমস্ত সমীক্ষারই সফল হওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকে। ঘুরিয়ে বললে সম্ভাবনা থাকে ব্যর্থ হওয়ারও।
বিশদ

21st  May, 2019
ভোট ও বুথ-ফেরত সমীক্ষার হাল-হকিকত
অতনু বিশ্বাস

ছ’সপ্তাহ-ব্যাপী লোকসভা নির্বাচন। সাত দফায়। তারও প্রায় পাঁচ সপ্তাহ আগে থেকে প্রচার, ইত্যাদি। আর এখন এক ক্লান্তিকর সময়কালের পরিসমাপ্তিতে অপেক্ষ্যমান জনগণ। কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে ঢুকে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার মত অনভিপ্রেত ঘটনার অভিঘাতে বিমূঢ়, রাজনৈতিক চাপান-উতোর আর হানাহানিতে দীর্ণ, এবং সুদীর্ঘ ভোটপর্বের শেষে গোটা ভারতবর্ষ এখন তাকিয়ে আছে বৃহস্পতিবারের দিকে।
বিশদ

21st  May, 2019
অবশেষে সমাপ্ত, তিক্ততাসহ
পি চিদম্বরম

বিজেপি প্রচারের গোড়ায় ‘গিয়ার’ বদলে নিয়েছিল। ‘আচ্ছে দিন’-এর কথা ভুলক্রমেও উচ্চারিত হয়নি। ২০১৪ সালের প্রতিশ্রুতিগুলি বিজেপির জন্য এক বিড়ম্বনায় পরিণত হয়েছিল। নরেন্দ্র মোদি ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’, পুলওয়ামা-বালাকোট এবং জাতীয়তাবাদের ছত্রছায়ায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’ হল স্রেফ একটা ক্রস-বর্ডার অ্যাকশন বা সীমান্ত টপকে হানা—যা দিয়ে পাকিস্তানকে কোনোরকমে নিরস্ত করা যায়নি।
বিশদ

20th  May, 2019
নতুন বন্ধুর খোঁজে কংগ্রেস ও বিজেপি
শুভা দত্ত

বিজেপি যদি ২২০ থেকে ২৩০-এর বেশি আসন না পায়, তখন কী হবে? এনডিএ-র শরিকরা একবাক্যে বলবে, মোদির ভুলভাল সিদ্ধান্তের জন্যই ভোটার বিমুখ হয়েছে, সুতরাং তাঁকে আর প্রধানমন্ত্রী করার দরকার নেই। আরএসএস অবশ্য তাঁকে সরাতে চাইবে না। এই অবস্থায় অমিত শাহরা ঝাঁপিয়ে পড়বেন যাতে আরও কয়েকটি দলকে তাঁদের সমর্থনে পাওয়া যায়। বিজেপি যদি ১৪০ থেকে ১৬০-এর মধ্যে আসন পায়? তাহলে নিশ্চিতভাবেই মোদির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা জলাঞ্জলি যাবে। যতই নতুন বন্ধু আসুক, দিল্লিতে সরকার গড়া কিছুতেই সম্ভব হবে না। বিজেপিকে বসতে হবে বিরোধী আসনে।
বিশদ

20th  May, 2019
শেষ দফার ভোটে শান্তি বজায় রাখাই
আজ কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

শুভা দত্ত

দেখতে দেখতে সাত দফার লম্বা ভোটযুদ্ধ শেষ হয়ে এল। আজ সপ্তম, তথা শেষ দফা। তারপরই শুরু হয়ে যাবে লোকসভা মহাযুদ্ধের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য কাউন্টডাউন। রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৩৩টির ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, যাদবপুর সমেত বাকি ন’টি আসনের ভাগ্য নির্ধারিত হবে আজ। 
বিশদ

19th  May, 2019
ভোট কেন দেশের
নামে হল না?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সামনে একটি প্লাইউডের কাটআউট। মাঝখানটা জানালার মতো কেটে জায়গা করা। সেলফি জোন বা সেলফি পয়েন্ট। অবশ্য সেটা নামেই। নিজে ছবি তুললে ইমপ্যাক্ট পড়বে না। বরং বিষয়টা এমন, ভোট দিয়ে বেরিয়ে ভোটার সেখানে দাঁড়াবেন... উল্টোদিক থেকে কেউ ছবি তুলবে।
বিশদ

18th  May, 2019
বিদ্যাসাগর ও স্বাজাত্যবোধ
সমৃদ্ধ দত্ত

 শুধু রেগে গেলে চলবে কেন? একটু বুঝতেও তো হবে। মূর্তি ভাঙা তো একটা কার্য। প্রতিটি কার্যের পিছনে একটি কারণও থাকে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার মধ্যে অনেক অবদমিত অপ্রাপ্তি ও দীর্ঘকালের ক্ষোভ রয়েছে। সেই ক্ষোভের আবেগকে উড়িয়ে দিলে তো হবে না। একটু সহানুভূতির সঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হবে।
বিশদ

17th  May, 2019
একনজরে
ভুবনেশ্বর, ২৪ মে (পিটিআই): পাঁচে পাঁচ। রেকর্ড গড়ে পরপর পাঁচবারের জন্য ওড়িশার ক্ষমতা নিজেদের দখলে রাখল বিজু জনতা দল (বিজেডি)। ১৪৭টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১১২টিতে ...

সংবাদদাতা, কান্দি: নিজের জীবনের অন্তত ২০ বছর বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলোর মাধ্যমে কাটিয়েছেন। কখনও কাবাডি নিয়ে মেতে উঠেছিলেন, আবার কখনও ভলিবল খেলায় উৎসাহ জুগিয়েছিলেন। যদিও ফুটবল তাঁর প্রিয় খেলা। ...

 দীপ্তিমান মুখোপাধ্যায়, হাওড়া: ব্যবধান মাত্র তিন বছরের। তার মধ্যেই হাওড়া সদর লোকসভার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রেই তৃণমূলের জয়ের মার্জিন অনেকখানি কমল। যদিও শতাংশের হারে তৃণমূলের ভোট না কমলেও সিপিএমের ভোট প্রায় সবটাই বিজেপির বাক্সে গিয়েছে। ...

 বিএনএ, মালদহ : নিজেদের জীবন দিয়ে মালদহে কংগ্রেসকে বাঁচিয়ে দিয়ে গেল সিপিএম। দক্ষিণ মালদহে কংগ্রেসের কষ্টার্জিত জয়ের পরে একথাই চর্চা চলছে মালদহের রাজনৈতিক মহলে। প্রবাদপ্রতিম ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শারীরিক কারণে কর্মে বাধা দেখা দেবে। সন্তানরা আপনার কথা মেনে না চলায় মন ভারাক্রান্ত হবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

 বিশ্ব থাইরয়েড দিবস
১৮৮৬: বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর জন্ম
১৮৯৯: বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম
১৯০৬ - বিখ্যাত ভাস্কর রামকিঙ্কর বেইজের জন্ম
১৯২৪ - শিক্ষাবিদ, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এর ভাইস-চ্যান্সেলর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৭২: পরিচালক করণ জোহরের জন্ম
২০০৫: অভিনেতা সুনীল দত্তের মৃত্যু
২০০৯: পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলায় আইলা আঘাত করল
২০১৮ - শান্তি নিকেতনে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৬৫ টাকা ৭০.৩৪ টাকা
পাউন্ড ৮৬.২৯ টাকা ৮৯.৫১ টাকা
ইউরো ৭৬.০৩ টাকা ৭৮.৯৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,১৪৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,৫০০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩০,৯৬০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৬,৪৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৬,৫৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৫ মে ২০১৯, শনিবার, ষষ্ঠী ৩/৪১ দিবা ৬/২৬। শ্রবণা ১৩/১৪ দিবা ১০/১৫। সূ উ ৪/৫৭/০, অ ৬/৯/৪৮, অমৃতযোগ দিবা ৩/৩১ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৬/৫২ গতে ৭/৩৫ মধ্যে পুনঃ ১১/১২ গতে ১/২১ মধ্যে পুনঃ ২/৪৭ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৬/৩৬ মধ্যে পুনঃ ১/১২ গতে ২/৫১ মধ্যে পুনঃ ৪/৩১ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ৭/৩০ মধ্যে পুনঃ ৩/৩৬ গতে উদয়াবধি।
১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৫ মে ২০১৯, শনিবার, ষষ্ঠী ২/১০/২৫ দিবা ৫/৪৮/৪৮। শ্রবণানক্ষত্র ১২/৪০/১৪ দিবা ১০/০/৪৪, সূ উ ১/২৯/৫, অ ৬/১১/৫৫, অমৃতযোগ দিবা ৩/৩৬ গতে ৬/১২ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/০ গতে ৭/৪২ মধ্যে ও ১১/১৬ গতে ১/২২ মধ্যে ও ২/৪৮ গতে ৪/৫৬ মধ্যে, বারবেলা ১/১৩/৪১ গতে ২/৫৩/৬ মধ্যে, কালবেলা ৬/৩৬/৩ মধ্যে ও ৪/৩২/৩১ গতে ৬/১১/৫৫ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৩২/৩০ মধ্যে ও ৩/৩৬/২ গতে ৪/৫৬/৩১ মধ্যে।
১৯ রমজান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
সুরাতে আগুন: মৃতদের পরিবার পিছু ৪ লক্ষ টাকা সাহায্য ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানী ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি মৃতদের ...বিশদ

24-05-2019 - 06:19:00 PM

সুরাতে আগুন: কমপক্ষে ১৫ জনের মৃত্যু
সুরাত পুলিস কমিশনার সতীশকুমার মিশ্র জানিয়েছেন, কমপক্ষে ১৫ জনের মৃত্যু ...বিশদ

24-05-2019 - 06:16:00 PM

সুরাতে আগুন: সমবেদনা জানালেন মোদি 
অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। সুরাতে আগুন লাগার ঘটনা প্রসঙ্গে জানালেন নরেন্দ্র মোদি। ...বিশদ

24-05-2019 - 06:07:00 PM

ভয়াবহ অগ্নিকান্ড সুরাতে
ভয়াবহ আগুন সুরাতের সার্থনার একটি বাড়িতে। ঘটনাস্থলে দমকলের ১৮টি ইঞ্জিন। ...বিশদ

24-05-2019 - 06:01:00 PM

শুভ্রাংশু রায়কে সাসপেন্ড করল তৃণমূল
দলে থেকে দল বিরোধী মন্তব্য করার অপরাধে এবং অন্য ...বিশদ

24-05-2019 - 05:26:55 PM

আউশগ্রামের দিগনগরে তৃণমূল কার্যালয়ে ভাঙচুর করে আগুন লাগানোর অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে 

24-05-2019 - 04:26:22 PM