Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

এবার ভোটে যে-কথা কেউ বলেনি
শুভা দত্ত

ভোটপর্ব শেষ হয়ে এল। সামনের রবিবারেই ভোটগ্রহণ শেষ। প্রচারও শেষ হল। বৈশাখের দহন জ্বালা যত বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনীতির উত্তাপ। মারদাঙ্গা, ভাঙচুর, ব্যক্তিগত আক্রমণ, সবই চলছে। এবার একটা বড় ইস্যু দেশের সুরক্ষা। তার সঙ্গে দুর্নীতি, বেকারত্ব, চাষিদের দুর্দশা এসবও আছে। কিন্তু একটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কেউ কথা বলেনি। বিষয়টি হল বায়ুদূষণ।
বিজেপি, কংগ্রেস ও অন্যান্য ছোটখাট দলের নির্বাচনী ইস্তাহারে কিন্তু দূষণ নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে। বিজেপি’র ইস্তাহারে লিখেছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মোট ১০২টি শহরের দূষণের মাত্রা ৩৫ শতাংশ কমিয়ে আনা হবে। কংগ্রেস স্বীকার করেছে, দূষণ একটা উদ্বেগজনক বিষয়। ক্ষমতায় এলে বড় শহরগুলির বায়ু থেকে বিষ কমানোর উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আম আদমি পার্টিও এই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই প্রথমবার ভোটের ইস্তাহারে দূষণের কথা স্থান পেল। কিন্তু ওই পর্যন্তই। ব্যাপারটা কাগজে-কলমেই আছে। রাজনৈতিক দলের ইস্তাহার আর ক’জন পড়ে। দলের সব সমর্থকও পড়ে কি না সন্দেহ। বেশিরভাগ লোক নেতাদের ভাষণ শুনে সংশ্লিষ্ট দলের কর্মসূচি সম্পর্কে ধারণা করে নেয়। যতদূর জানি, এখনও পর্যন্ত কোনও নেতা ভাষণে বলেননি, ক্ষমতায় এলে চেষ্টা করবেন যাতে মানুষ নির্মল হাওয়ায় শ্বাস নিতে পারে। হাওয়ায় যতই বিষ মিশুক, আমাদের দেশে তা এখনও জোরালো ইস্যু নয়।
ভারতে বায়ুদূষণের সমস্যা কিন্তু খুবই গুরুতর। ওয়ার্ল্ড হেল্‌থ অর্গানাইজেশনের হিসাব মতো, সারা বিশ্বে যে ২০টি শহরের বায়ু সবচেয়ে বেশি দূষিত, তার মধ্যে আছে ভারতের ১৬টি। হাওয়ায় এত দূষণ আছে বলে কমে যাচ্ছে মানুষের গড়পড়তা আয়ু। ২০১৭ সালে বায়ুদূষণজনিত রোগে মারা গিয়েছিলেন প্রায় ১২ লক্ষ ভারতীয়।
বায়ুদূষণের প্রধান কারণ মোটরগাড়ির ধোঁয়া। দ্রুত নগরায়ণ, নির্বিচারে গাছ কাটা, জলাশয় ভরাট করা, এসবের ফলেও বাতাসে বিষ মেশে।
এদেশে যে শহরগুলির হাওয়া সবচেয়ে বেশি দূষিত সেই তালিকায় আছে কয়েকটি ভিআইপি কেন্দ্র। তার অন্যতম কানপুর। ২০১৮ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রিপোর্ট দিয়েছিল, কানপুর বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর। এখানকার হাওয়ায় যে পরিমাণ বিষ আছে, আর কোনও শহরে অত নেই।
এক সময় কানপুরে দাঁড়াতেন মুরলী মনোহর যোশি। এবার সেখানে বিজেপির তরফে প্রার্থী সত্যদেব পাচৌরি। বিপক্ষে কংগ্রেসের শ্রীপ্রকাশ জয়সোয়াল। সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী রাম কুমার। ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। ভোটারের সংখ্যা ১৬ লক্ষের কিছু বেশি।
মার্চে নির্বাচনের দিন ঘোষণার কিছুদিন আগে শহরে সভা করে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এপ্রিলে সভা করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী এবং রাজ্যের দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ সিং যাদব ও মায়াবতীও জনসভা করেছেন। কিন্তু কারও ভাষণে শহরের বায়ু পরিশুদ্ধ করার কথা শোনা যায়নি।
রাজনীতিকরা কি কানপুরের বায়ুদূষণের খবর রাখেন না? নিশ্চয় রাখেন। তাঁদের কাছে সম্ভবত জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায় না। কিংবা হয়তো অন্য কোনও বাধ্যবাধকতা ছিল। বায়ুদূষণ রোধ করতে হলে দূষণ সৃষ্টিকারী শিল্পের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তাহলে আবার সেই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বহু লোকের বেকার হয়ে পড়ার সম্ভাবনা। সব দিক ভেবে নেতারা চুপ থাকাই বাঞ্ছনীয় মনে করেছেন।
সারা বিশ্বে সবচেয়ে দূষিত শহরগুলির মধ্যে আছে বারাণসী। খোদ প্রধানমন্ত্রী সেখানকার প্রার্থী। এই নিয়ে পর পর দু’বার সেই প্রাচীন শহর থেকে ভোটে লড়ছেন। তিনি ও তাঁর দলের অন্যান্য মন্ত্রী নির্মল গঙ্গার কথা বলেন। কিন্তু বারাণসীর বাতাসকে দূষণমুক্ত করার কথা একবারও বলেননি।
উত্তরপ্রদেশের আর একটা হাই প্রোফাইল কেন্দ্রের নাম লখনউ। এখানে প্রার্থী বিজেপি’র রাজনাথ সিং। বিপরীতে সমাজবাদী পার্টির হয়ে দাঁড়িয়েছেন পুনম সিনহা। তিনি অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহা’র স্ত্রী। শত্রুঘ্ন নিজে কংগ্রেসের প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও লখনউতে এসে প্রচার করে গিয়েছেন স্ত্রী’র হয়ে।
উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টির আর বহুজন সমাজ পার্টির ‘মহাগঠবন্ধনে’ কংগ্রেসের ঠাঁই হয়নি। অনেকে প্রশ্ন করেছেন, অভিনেতা নিজে কংগ্রেস প্রার্থী হয়ে কেমন করে সমাজবাদী পার্টির হয়ে প্রচার করতে পারেন? তার জবাবও দিয়েছেন শত্রুঘ্ন। এইরকম চাপান-উতোর অনেক হয়েছে। তার মাঝে কেউ ভুলেও শহরের বায়ুদূষণের কথা তোলেনি। যদিও বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত ২০টি শহরের তালিকায় লখনউয়ের নাম আছে। আর আছে এলাহাবাদের নাম। সেও খুব নামী কেন্দ্র। একসময় এখানে প্রার্থী হতেন লালবাহাদুর শাস্ত্রী। আর এক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ভিপি সিং-ও এই কেন্দ্র থেকে দাঁড়াতেন। মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন জীবনে একবারই ভোটে দাঁড়িয়েছেন। তাঁরও কেন্দ্র ছিল এলাহাবাদ।
তথ্য বলছে, দেশের বেশিরভাগ দূষিত শহর উত্তর ভারতে অবস্থিত। প্রতি বছর শীতে সেখানকার আকাশ ঢেকে যায় ধোঁয়াশায়। তার মধ্যে নিঃশ্বাস নেওয়াই হয়ে ওঠে কষ্টকর। আমাদের কেন্দ্রীয় সরকারের এয়ার কোয়ালিটি ফোরকাস্টিং অ্যান্ড রিসার্চ নামে একটি সংস্থা আছে। তারা বলছে, আগামী দিনে দূষণের মাত্রা আরও বাড়বে।
উত্তর ভারতের অন্যতম শহর দিল্লি। চিকিৎসকরা রাজধানীর বাসিন্দাদের পরামর্শ দেন, শীতে প্রবল বায়ুদূষণের মধ্যে বেশি শারীরিক পরিশ্রম করবেন না। ঘরের জানলা বন্ধ রাখুন। বাইরে বেরলে মাস্ক পরুন।
গত রবিবার দিল্লিতে ভোট হয়ে গেল। সেখানে আসনের সংখ্যা সাত। গতবারে সাতটিই পেয়েছিল বিজেপি। এবার অনেকে চেষ্টা করেছিলেন যাতে বিজেপি বিরোধী ভোট ভাগ না হয়। তবুও আম আদমি পার্টি আর কংগ্রেসের জোট হল না। অতএব ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তাতে সুবিধা বিজেপি’র।
শেষ অবধি যেই জিতুক, দিল্লির হাওয়া নির্মল হওয়া মুশকিল। প্রতিবেশী রাজ্য পাঞ্জাব ও হরিয়ানার চাষিরা প্রতি বছর অক্টোবর-নভেম্বর মাসে শস্যখেতে ফসলের অবশিষ্টাংশ পুড়িয়ে দেন। সেই ধোঁয়ায় ঢেকে যায় রাজধানী ও তার আশপাশের অঞ্চল।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বায়ুদূষণজনিত কারণে প্রতি বছর শহরে হাজার হাজার মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। ২০১৫ সালে শুধু কানপুরেই অসুস্থ হয়েছিলেন ৪০ হাজার জন। দু’বছরের মধ্যে সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার। আগামী দিনে আরও বাড়লে আশ্চর্যের কিছু নেই।
শহরের অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তাঁদের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। গলায় জ্বালা করে। মাঝে মাঝেই কাশি হয়। কিন্তু সর্দিকাশির জন্য চিকিৎসকরা সাধারণত যে ওষুধ দেন, তা এক্ষেত্রে কাজ করে না। যাঁরা রাস্তাঘাটে কাজ করেন, যেমন ট্রাফিক কনস্টেবল, গাড়ির চালক, ক্লিনার, রাস্তার ধারে দোকানের কর্মী অথবা যে গরিবরা ফুটপাতে বাস করেন, তাঁদেরই বায়ুদূষণে অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
দিল্লিতে প্রতি বছর ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হয় ২২ লক্ষ শিশু। তাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। পরবর্তীকালে ডায়াবেটিস, মৃগী, এমনকী ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ভয় থাকে।
আমাদের কল্লোলিনী কলকাতার অবস্থা কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লির চেয়ে এই শহরের অবস্থা বিশেষ ভালো নয়। হাওড়া স্টেশন, শিয়ালদহ, বড়বাজার কিংবা মৌলালির মতো জায়গায় দূষণের মাত্রা ভয়াবহ। দিনের ব্যস্ত সময়ে গাড়ির ধোঁয়ায় বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।
অনেকে বলছেন, গত দুই দশকে উদারনীতির হাওয়ায় দেশে যে শিল্পায়ন হয়েছে, তার অবশ্যম্ভাবী ফল, বায়ুদূষণ বৃদ্ধি। দূষণ রোধে বেশি কড়াকড়ি করলে শিল্পায়ন ব্যাহত হবে।
কথাটা সর্বাংশে সত্য নয়।
সদিচ্ছা থাকলে শিল্পায়নের পাশাপাশি বাতাসকেও যে অনেকাংশে নির্মল করে তোলা যায়, তা প্রমাণ করেছে চীন। সেদেশে আগে প্রতি বছরে ১১ লক্ষ মানুষ দূষণজনিত নানা রোগে মারা যেতেন। ২০১৪ সালে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির বার্ষিক কংগ্রেসে প্রধানমন্ত্রী লি কেচিয়াং বলেন, আমরা দূষণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছি। কারখানার ধোঁয়ায় আমাদের আকাশ হয়ে উঠেছে ধূসর। আমরা আকাশের নীলিমা ফিরিয়ে দেব।
চীনের সরকার মূলত দুটি বিষয়ের ওপরে জোর দেয়। প্রথমত ইস্পাতের উৎপাদন কমিয়ে আনা। দ্বিতীয়ত কয়লার ব্যবহার কমানো। শক্তির বিকল্প উৎস হিসাবে বায়ু ও সূর্যালোক থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হয়। এতে চীনের দূষণ যে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, সেকথা মানতে বাধ্য হয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। চীন দূষণের মাত্রা আরও কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা চায়, ২০২২ সালের মধ্যে দেশের বাতাসের মান আমেরিকা এবং ইউরোপের উন্নত দেশগুলির সমতুল হয়ে উঠুক।
চীন যা পারে, আমরা পারি না কেন? তার কারণ, সদিচ্ছার অভাব। মানুষের সচেতনতা না থাকাও একটা কারণ, মানুষ যদি দূষণ নিয়ে বিশেষ মাথা না ঘামায়, ভোটে রাজনীতিকরা তাকে ইস্যু করবে কেন?
দূষণের মতো আরও একটা বিষয় আছে যা নিয়ে ভোটের বাজারে কেউ একটি কথাও বলেনি। প্রতি বছর দেশে পথ দুর্ঘটনায় মারা যায় এক লক্ষেরও বেশি মানুষ। আহত হয় তিন-চার লক্ষ। ২০১৫ সালে ভারত পথ দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত এক আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সই করেছিল। তাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অ্যাক্সিডেন্ট কমিয়ে আনার কথা বলা আছে। দুর্ঘটনা রোধে তার পরে কয়েকটি ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তেমন ফল পাওয়া যায়নি।
যুবকরাই পথ দুর্ঘটনার শিকার হয় সবচেয়ে বেশি। তথ্য বলছে, অ্যাক্সিডেন্টে মৃতদের মধ্যে ৬০ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৫-এর মধ্যে। অনেকে মদ্যপান করে গাড়ি চালায়। বাইক চালানোর সময় হেলমেট পরে না। দীর্ঘসময় ধরে গাড়ি চালাতে চালাতে অনেক ড্রাইভার ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। রাস্তায় প্রায়ই দুটি বাসের মধ্যে রেষারেষি হয়।
দূষণের কথা তবু তো কয়েকটি দলের ইস্তাহারে স্থান পেয়েছে, পথ দুর্ঘটনার কথা তাও পায়নি। আজ পর্যন্ত কোনও দল ইস্তাহারেও লেখেনি, ক্ষমতায় এলে দুর্ঘটনায় জীবনহানি কমানোর ব্যবস্থা করবে।
17th  May, 2019
৫, ১০, ২০ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে
পি চিদম্বরম

রাজ্যসভায় ২০১৯-২০ বাজেট নিয়ে বক্তব্য রাখার সময় বলেছিলাম, ‘‘যদি জিডিপির স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার ১২ শতাংশ হয় তবে প্রতি ছ’বছরে জিডিপির আকারটা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। আর বৃদ্ধির হারটা যদি নমিনাল ১১ শতাংশ হয় তবে জিডিপি দ্বিগুণ হতে সময় নেবে সাত বছর।
বিশদ

২১ জুলাই সমাবেশ: মমতা কী বার্তা দেন জানতে উৎসুক বাংলা
শুভা দত্ত

ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে প্রতিবছর মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দিনটিতে বড়সড় সমাবেশের আয়োজন করে তাঁর প্রয়াত সহযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
বিশদ

21st  July, 2019
ছোটদের বড় করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

সব থেকে ভালো হয়, যদি আপনার ‘বাছা’কে নিজের মতো বেড়ে উঠতে দেন। আনন্দে বেড়ে উঠুক। আলো চিনিয়ে দিন, অন্ধকার চিনিয়ে দিন। লক্ষ্য রাখুন, ঠিকঠাক এগচ্ছে কি না! সামনে পিছনে কত ফাঁদ, চোরাবালি। আপনিই ঈশ্বর, ওকে রক্ষা করুন। ছোটদের ‘বড়’ করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে। দয়া করে ওর উপর মাতব্বরি করবেন না, হ্যাঁ আমরা মাতব্বরিই করি।
বিশদ

20th  July, 2019
জন্ম এবং মৃত্যুর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি অকস্মাৎ আমার একটি বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। এই উপলক্ষে জগতে সকলের চেয়ে পরিচিত যে মৃত্যু তার সঙ্গে আর-একবার নূতন পরিচয় হল। জগৎটা গায়ের চামড়ার মতো আঁকড়ে ধরেছিল, মাঝখানে কোনো ফাঁক ছিল না। মৃত্যু যখন প্রত্যক্ষ হল তখন সেই জগৎটা যেন কিছু দূরে চলে গেল, আমার সঙ্গে আর যেন সে অত্যন্ত সংলগ্ন হয়ে রইল না।
——— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশদ

20th  July, 2019
অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

19th  July, 2019
বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
ঘোষণা ও বাস্তব
সমৃদ্ধ দত্ত

ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান একটি প্রকল্পই হল নদী সংযোগ প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন নদীকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। যাতে উদ্বৃত্ত জলসম্পন্ন নদী থেকে বাড়তি জল শুকনো নদীতে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বারংবার এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। গোটা প্রকল্প রূপায়ণ করতে অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকা দরকার। এদিকে আবার বুলেট ট্রেন করতেও ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে! আধুনিক রাষ্ট্রে অবশ্যই দুটোই চাই। কিন্তু বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিচার করলে? কোনটা বেশি জরুরি? বিশদ

12th  July, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, কালনা: নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীর বিয়ে রুখলেন স্কুলের শিক্ষিকারা। ঘটনা ঘটেছে কালনার বৈদ্যপুর রাজরাজেশ্বর বালিকা বিদ্যালয়ে। নাবালিকাকে পুলিসের সহযোগিতায় উদ্ধার করা হয়। নাবালিকার পরিবার মেয়ের ১৮বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবে না বলে মুচলেকা দেয়।  ...

সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: এবার ‘বুথে চলো’। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বুথস্তর থেকে সংগঠন ঢেলে সাজার ডাক দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু ডাক দিয়েই ক্ষান্ত হননি ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রবিবার ছুটির দিন, রাস্তায় যানবাহনও কম। তাই ২১ জুলাইয়ে যান সামলাতে তেমন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হল না কলকাতা পুলিসকে। উত্তর থেকে দক্ষিণ, ...

 নয়াদিল্লি, ২১ জুলাই (পিটিআই): বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সেই অনুযায়ী নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল তারা। এই প্রথম সিআরপিএফের মহিলাকর্মীদের জন্য কর্মক্ষেত্রে স্যানিটারি প্যাড ভেন্ডিং মেশিন বসতে চলেছে। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীদের বেশি শ্রম দিয়ে পঠন-পাঠন করা দরকার। কোনও সংস্থায় যুক্ত হলে বিদ্যায় বিস্তৃতি ঘটবে। কর্মপ্রার্থীরা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮১৪: সাহিত্যিক প্যারীচাঁদ মিত্রের জন্ম
১৮৪৭: সাহিত্যিক ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯১৮: ভারতের প্রথম যুদ্ধবিমানের পাইলট ইন্দ্রলাল রায়ের মৃত্যু প্রথম বিশ্বযুদ্ধে
১৯২৩: সঙ্গীতশিল্পী মুকেশের জন্ম
১৯৪৮: চিত্রশিল্পী হেমেন্দ্র মজুমদারের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৫ টাকা ৬৯.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৭৭ টাকা ৮৭.৯২ টাকা
ইউরো ৭৬.১০ টাকা ৭৯.০৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
20th  July, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৫২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৭০৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৪,২১০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৫৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৬৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
21st  July, 2019

দিন পঞ্জিকা

৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ২২ জুলাই ২০১৯, সোমবার, পঞ্চমী ২২/২২ দিবা ২/৪। পূর্বভাদ্রপদ ১৩/১৩ দিবা ১০/২৪। সূ উ ৫/৭/১৮, অ ৬/১৮/৩৬, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৩ মধ্যে পুনঃ ১০/২৪ গতে ১/২ মধ্যে। রাত্রি ৭/১ গতে ৯/১১ মধ্যে পুনঃ ১১/২১ গতে ২/১৪ মধ্যে, বারবেলা ৬/৪৬ গতে ৮/২৫ মধ্যে পুনঃ ৩/১ গতে ৪/৪০ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/২২ গতে ১১/৪৩ মধ্যে। 
৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ২২ জুলাই ২০১৯, সোমবার, পঞ্চমী ১৪/২০/৫৯ দিবা ১০/৫০/২১। পূর্বভাদ্রপদনক্ষত্র ৮/২৮/৩৩ দিবা ৮/২৯/২২, সূ উ ৫/৫/৫৭, অ ৬/২১/৩৯, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৬ মধ্যে ও ১০/২৪ গতে ১/০ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৫৬ গতে ৯/৮ মধ্যে ও ১১/২০ গতে ২/১৬ মধ্যে, বারবেলা ৩/২/৪৩ গতে ৪/৪২/১১ মধ্যে, কালবেলা ৬/৪৫/২৫ গতে ৮/২৪/৫২ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/২৩/১৬ গতে ১১/৪৩/৪৮ মধ্যে। 
১৮ জেল্কদ 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
পদত্যাগ করলেন বিধাননগরের সব্যসাচী দত্ত ঘনিষ্ঠ প্রসেনজিৎ সর্দার 
পদত্যাগ করলেন বিধাননগরের সব্যসাচী দত্ত ঘনিষ্ঠ প্রসেনজিৎ সর্দার। মেয়র ইন ...বিশদ

05:15:43 PM

মুম্বইয়ে এমটিএনএলের বিল্ডিংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

মুম্বইয়ের বান্দ্রায় এমটিএনএলের বিল্ডিংয়ে আগুন। খবর পেয়ে অকুস্থলে পৌঁছাল দমকলের ...বিশদ

04:24:09 PM

৩০৬ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

04:14:19 PM

চন্দ্রযান-২-র উৎক্ষেপণ সফল 

02:49:00 PM

চিড়িয়াখানার সামনে হাইটবারে আটকে লরি, যানজট 
আলিপুর চিড়িয়াখানার সামনে বেলভেডেয়ার রোডে হাইট বারে আটকাল লরি। তার ...বিশদ

02:20:38 PM

চিত্রকূট বিল্ডিং থেকে ঝাঁপ মহিলার 
এ জে সি বোস রোডের চিত্রকূট বিল্ডিং থেকে ঝাঁপ দিয়ে ...বিশদ

01:31:39 PM