Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

মমতার নেতৃত্ব মানতে কংগ্রেসি অনীহা কি আখেরে মোদিজির সুবিধে করে দিল?
শুভা দত্ত

প্রবল তাপে পুড়ছে রাজ্য। আকশে মেঘের চিহ্নমাত্র নেই। ঘূর্ণিঝড় ফণীর হাত থেকে এ যাত্রায় রেহাই মিললেও কাঠফাটা রোদ আর মাথা ঘোরানো গরমের হাত থেকে রেহাই মিলছে না। বাঁকুড়া-পুরুলিয়ার মতো রুখু জেলাগুলো ইতিমধ্যেই চল্লিশ ছাড়িয়েছে, মহানগরী কলকাতাও বসে নেই। সেও প্রায় চল্লিশের ঘরে! রাজ্যের আট জেলায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি হয়েছে! ফলে গোটা রাজ্য জুড়েই হাঁসফাঁস জীবন, কাজকর্মের স্বাভাবিক ধারা বজায় রাখতে প্রকৃত অর্থেই মাথার ঘাম পায়ে ঝরছে মানুষের। তবে, এই চড়া গরমের মধ্যে নতুন লোকসভার জন্য লড়াই কিন্তু অব্যাহত এবং সে লড়াই এখন একেবারে তুঙ্গে। সেই লড়াইতে শামিল হতে ভোটপ্রার্থী, ভোটকর্মী থেকে ভোটদাতা সাধারণ মানুষ সকলেই নাজেহাল, ওষ্ঠাগত প্রাণ।
কিন্তু তাতে কী? ভোট বলে কথা, তায় রাজ্যটার নাম পশ্চিমবঙ্গ। রোদ গরমের সাধ্য কি এখানে ভোটের লড়াইতে বাদ সাধে! ঝরুক ঘাম, ঘুরুক মাথা, তেষ্টায় ছাতি ফেটে যাক, রোদের ঝলসানিতে ধাঁধিয়ে যাক চোখ—ভোটের লড়াই চলছে, চলবে। দেখতে দেখতে সাত দফা লড়াইয়ের পাঁচ দফা তো শেষ। আজ ষষ্ঠ দফা। রাজ্যের আরও কয়েকটি লোকসভা কেন্দ্রের ভাগ্য ঠিক হয়ে যাবে আজ। বাকি থাকবে কলকাতা সহ আর কয়েকটি আগামী রবিবারের জন্য—সেদিনই শেষ দফা। আর ঠিক তার তিন দিন পর ২৩ মে জানা যাবে আগামী পাঁচ বছর দিল্লি কার, কে চালাবেন দেশ। দেশের আমজনতা বেছে নিলেন কাকে—বিদায়ী শাসক মোদিজিকে, না কি বিরোধী শিবিরের কাউকে? ভোটের লড়াই যত শেষের দিকে আসছে এই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর নিয়ে গণকৌতূহল তত বাড়ছে। এবং সেটাই স্বাভাবিক। সত্যি বলতে কী, এই কৌতূহল যে কেবল দেশ-জনতাকেই মজিয়েছে এমন নয়, দেশ রাজনীতির অন্দর-বাহির থেকে রাজনৈতিক আলোচক, বিশ্লেষক সকলকেই আচ্ছন্ন করেছে। মোদিজি না রাহুল, রাহুল না মমতা—কে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী তা নিয়ে জল্পনা যথেষ্টই জমে উঠেছে। তার কারণ দেশ জুড়ে এবারের ভোটফল নিয়ে অঙ্কের যত ছড়াছড়িই হোক এখনও নিশ্চিত করে কেউই বলতে পারছেন না নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন এনডিএ শেষ অবধি কটা সিট পাবে। একটা কথা অবশ্য মোটের ওপর সকলেই বলছেন, এবার মোদিজির দল গতবারের চেয়ে বেশ কিছু আসন কম পাবে। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ওড়িশার মতো রাজ্যগুলির সঙ্গে দক্ষিণেও তাঁর দল প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে না—সম্ভাবনা নাকি এমনই। এই ঘাটতি মেটাতেই নাকি এবার পূর্ব ও উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলিতে বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছে গেরুয়া শিবির। তার জন্যই নাকি পশ্চিমবঙ্গে নজিরবিহীন সংখ্যায় সভা করলেন প্রধানমন্ত্রী! অবশ্য তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এ রাজ্যে জনমন কতটা ভিজবে, ভোটবাক্সে তাঁরা পদ্মদলকে কতটা সমর্থন জানাবে—তা নিয়ে সংশয় ফুরোচ্ছে না।
তবে, এক্ষেত্রেও সর্বস্তরেই একটা মত কমন—এবার বঙ্গে বিজেপি বাড়ছে। ২০১৪ সালে পাওয়া মাত্র দুটি আসন এবার চার ছটা বেড়ে গেলে আশ্চর্যের কিছু নেই। জনতা বলছে, বিশেষজ্ঞদের অনেকেও বলছেন এই সম্ভাবনার কথা। তবে, এই চলতি মতও শেষ বিচারে গ্রহণযোগ্য হবে কতটা তা নিয়েও ধন্দ আছে বহুজনার। মোজিদি যেভাবে সভায় সভায় জনতার নয়নের মণি মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে লক্ষ্য করে কড়া কড়া কথা বলছেন, কোলমাফিয়া, সিন্ডিকেট, নারদা-সারদা ইত্যাদি নিয়ে তোপ দাগছেন—তাতে তাঁর সভায় উপস্থিত জনতাই কতটা খুশি হচ্ছেন তা নিয়েও তথ্যভিজ্ঞদের অনেকের সন্দেহ আছে। কেননা, যাঁদের সামনে প্রধানমন্ত্রী এসব বলছেন তাঁরা পদ্মপার্টির সমর্থক হতে পারেন, সভাতেও যেতে পারেন কিন্তু তাঁরাও গত কয়েক বছর ধরে এ রাজ্যের ব্যাপক উন্নয়নের স্বাদ পেয়েছেন, উন্নয়নের সুবাদে জীবনযাত্রায় আধুনিক পৃথিবীর সুযোগ সুবিধার স্পর্শ পেয়েছেন—এবং এই অভাবনীয় উন্নয়নের কারিগর যে তাঁদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর একক ঐকান্তিক প্রয়াসেই যে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে সিপিএমের ফেলে যাওয়া রুগ্ন মৃতপ্রায় শিল্পহীন বাংলা আজ আলোয় উজ্জীবিত বিশ্ববাংলায় পরিণত হয়েছে, বিশ্বের দরবারে সেরার শিরোপা পাওয়া উন্নয়নের দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে, শিল্পে বিনিয়োগে কর্মসংস্থানে শান্তি-সংহতিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে দেশের মধ্যে অগ্রগণ্য বলে বিবেচিত হচ্ছে—তাও জেনেছেন। এমন পরিস্থিতিতে এহেন মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে ক্রমাগত কটু কথার রাজনীতি কতটা তাঁরা গ্রহণ করবেন, কতটা তাতে প্রভাবিত হবেন—তা নিয়ে প্রশ্ন থাকে বইকি।
সত্যি বলতে কী, দেশের সামগ্রিক সম্ভাব্য ভোটফলের সঙ্গে বাংলার তফাৎটা হয়ে যাচ্ছে এখানেই। দিল্লির মসনদে মোদিজি ফিরছেন কি ফিরছেন না তা নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ে দ্বিধা সংশয়ের কোনও প্রশ্নই উঠছে না! বরং, মমতার দাবি মতো ৪২-এ ৪২ হয়ে যেতেও পারে—এমন একটা বিশ্বাস বাতাসে ইতস্তত ঘুরছে। সে হোক বা না হোক শেষ লোকসভায় মমতার তৃণমূলের পাওয়া ৩৪ আসনে যে হাত পড়ছে না বরং তাতে নতুন করে দু-একটা যোগ হতে পারে এমনই মত দিচ্ছেন অনেক বিশ্লেষক। তাঁদের মতে, কংগ্রেস, সিপিএমের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতায় ভাটা এবং মা-মাটি-মানুষের প্রতি মমতার ঐকান্তিক দায়বদ্ধতা এবং নজিরবিহীন উন্নয়ন এই ভাবনার প্রেক্ষাপট রচনা করেছে। ক্ষমতায় এসে ইস্তক একনিষ্ঠভাবে মমতা তাঁর দায়বদ্ধতা যেমন অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন, তেমনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রতিশ্রুত উন্নয়নের সফল বাস্তবায়ন ঘটিয়েছেন এবং ঘটিয়ে চলেছেন। ফলে এই রাজ্যের মানুষের কাছে তাঁর ভাবমূর্তি আজ কার্যত অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তাঁকে ছোঁবে কে?
শুধু রাজ্যে কেন, দেশের বাদবাকি অংশেও তাঁর এই লড়াকু উন্নয়নকামী গরিব সাধারণের প্রতি দায়বদ্ধ ভাবমূর্তির প্রভাব যথেষ্ট। দেশের রাজনৈতিক শিবিরগুলি সেটা বেশ ভালোই জানে। গোটা ভারতে তাঁর মতো জনপ্রিয় প্রভাবশালী নেত্রী ক’জন আছেন বলুন তো? নরেন্দ্র মোদির মতো জবরদস্ত প্রতিপক্ষকে ভোটযুদ্ধে ধরাশায়ী করতে তাঁর সমকক্ষই বা ক’জন? কিন্তু, এবারের লোকসভা ভোটে তাঁর এই অনন্য ক্ষমতাশক্তিকে পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারল না মোদি-বিরোধী শিবির। ফেডারেল ফ্রন্টই হোক বা ইউনাইটেড ইন্ডিয়া—মমতাকে প্রধান নেত্রী প্রজেক্ট করে কংগ্রেসকে নিয়ে জাতীয় স্তরে একটা জোরদার মোদি-বিরোধী শক্তি গড়ে উঠতেই পারত। সেরকম একটা সূচনাও হয়েছিল। যতদূর মনে পড়ছে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীও প্রথমটায় এমন একটা ফ্রন্ট তৈরি নিয়ে বিশেষ আশাবাদী ছিলেন। সেই শিবিরের অন্যতম প্রধান নেত্রী যে মমতা সেটাও বোঝা যাচ্ছিল আর সেজন্যই বিরোধী জোটের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবেও তাঁর নামটাই বেশি করে ভেসে উঠছিল। আর তাই দেখে প্রথম বাঙালি প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন উড়তে শুরু করেছিল পশ্চিমবঙ্গের বাতাসে।
কিন্তু জাতীয় স্তরে জোট হবে, তাতে কংগ্রেস থাকবে, অথচ নেতৃত্বের রাশ থাকবে অন্য দলের হাতে—এটা ভারতের রাজনৈতিক জলবায়ু এখনও মনে হয় ঠিক হজম করে উঠতে পারে না! কংগ্রেস জোটে থাকলে যেন ঐতিহাসিক সূত্রেই যাবতীয় রাশ কংগ্রেসের হাতেই দিতে হবে! তাই, জোটের গল্পে প্রধানমন্ত্রী প্রসঙ্গ একটু ঘন হওয়ার মুখেই রাহুলজি ঘোষণা করে দিলেন—যা হবে রেজাল্ট দেখেই হবে। ব্যাস! ধাক্কা। ক্যাপ্টেনবিহীন জাহাজের দশায় পড়ল জোট। তবু, মমতার নেতৃত্বে চন্দ্রবাবুরা মোদি-বিরোধী শক্তিগুলিকে এককাট্টা করার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন, আজও সে চেষ্টা অব্যাহত। ২১ মে দিল্লিতে মমতাকে মধ্যমণি করে বিরোধীদের বৈঠক তারই প্রমাণ। কিন্তু, এই বৈঠক নিয়ে রাহুল-কংগ্রেস কতটা আন্তরিক তা বুঝতে ২১ অবধি অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ইউপিতে অখিলেশ-মায়াবতী জোট হওয়ায় মোদিজি এবং তাঁর দলের কপালে গাঢ় ভাঁজ দেখেও কেন জোট নিয়ে কংগ্রেসের এখনও এত দোলাচল বোঝা দায়!
প্রশ্ন তো উঠছে, মমতার নেতৃত্ব মানতে কংগ্রেসি অনীহাই কি এর কারণ? এর পর যদি কেউ বলেন, মমতার নেতৃত্ব মানতে কংগ্রেসি অনীহাই আখেরে মোদিজির সুবিধে করে দিল—দোষ দেওয়া যাবে! ভাবুন তো সারা দেশে যদি মোদি-বিরোধী শক্তিগুলো জননেত্রী মমতার নেতৃত্বে মমতার তত্ত্ব মেনে শক্তি ক্ষমতা অনুযায়ী একের বিরুদ্ধে এক লড়তে নামত—মোজিদির বিরুদ্ধে বিরোধীদের লড়াইটা কত পোক্ত হতো! ভুললে চলবে শেষ লোকসভায় অর্থাৎ ২০১৪ সালের ভোটে বিজেপি ২৮২ আসন পেয়ে রেকর্ড করেছিল ঠিকই কিন্তু ভোট পেয়েছিল মাত্র ৩১ শতাংশ! স্বাধীনতা উত্তর ভারতে এত কম ভোট পেয়ে এমন গরিষ্ঠ সরকার গঠিত হয়নি আগে—এটাও তো রেকর্ড!
অথচ, সেবার ছিল উত্তাল মোদি-হাওয়া! তাতেই ৩১ শতাংশ। আর এবার নোটবন্দি ইত্যাদির কারণে হাওয়া কেমন তা আলাদা করে বলার দরকার নেই আশা করি। কিন্তু, মোদিজির বিরুদ্ধে চোখে চোখ রেখে লড়ার মানুষটি কই! গোটা দেশে একমাত্র একজন—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু, জোটবদ্ধ অভিযানের অভাবে তাঁর লড়াইয়ের ক্ষেত্র তো পশ্চিমবঙ্গের আঞ্চলিক পরিসরেই সীমাবদ্ধ হয়ে রইল। অন্যদিকে, বালাকোট, দ্বিতীয় সার্জিকাল স্ট্রাইক, অভিনন্দন ভর্তমান উদ্ধার, আধুনিকতম ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উদ্বোধন এবং কাশ্মীরে সেনা কনভয়ে জঙ্গি হামলার পর প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রতি ভারতের তরফে কড়া হুঁশিয়ারি, পরমাণু অস্ত্র নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য ইত্যাদির পর দেশ জুড়ে গেরুয়া পালে নতুন করে যে বাতাস লাগেনি, জনমনের একাংশে ৫৬ ইঞ্চির প্রতি রাজনৈতিক ভাবাবেগ যে একেবারেই চাগাড় দেয়নি—এমনটাও কি জোর দিয়ে বলা
যাচ্ছে? বলা গেলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক
বিশেষজ্ঞদের একাংশ থেকে শুরু করে এ তাবৎ প্রকাশিত বেশ কয়েকটি জনমত সমীক্ষা টেনেটুনে হলেও মোদিজিকেই পাশ মার্ক দিচ্ছেন কেন, কিছু আসন কম হলেও দ্বিতীয়বারের জন্য মোদিজিকেই দিল্লির মসনদে দেখছেন কীভাবে! লোকসভা ভোটযুদ্ধে মমতার নেতৃত্বে মোদি-বিরোধী দলগুলো এককাট্টা হয়ে নামলে কি এত সহজে এমন সম্ভাবনার কথা ভাবা যেত?
12th  May, 2019
বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
ঘোষণা ও বাস্তব
সমৃদ্ধ দত্ত

ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান একটি প্রকল্পই হল নদী সংযোগ প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন নদীকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। যাতে উদ্বৃত্ত জলসম্পন্ন নদী থেকে বাড়তি জল শুকনো নদীতে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বারংবার এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। গোটা প্রকল্প রূপায়ণ করতে অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকা দরকার। এদিকে আবার বুলেট ট্রেন করতেও ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে! আধুনিক রাষ্ট্রে অবশ্যই দুটোই চাই। কিন্তু বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিচার করলে? কোনটা বেশি জরুরি? বিশদ

12th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

 কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর থেকে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১৯-এর যে খসড়া প্রকাশিত হয়েছে তার যে অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে হই চই পড়েছিল তা হল বিদ্যালয় স্তরে ত্রি-ভাষা নীতির মাধ্যমে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে জোর করে হিন্দি চাপানোর বিষয়টি। তামিলনাড়ুর মানুষের প্রবল আপত্তিতে তা কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
বিশদ

11th  July, 2019
কেন তেরোজন অর্থনীতিবিদ অখুশি হবেন?
পি চিদম্বরম

প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. অরবিন্দ সুব্রামনিয়ন পাঁচ বছর আগে তাঁর প্রথম অর্থনৈতিক সমীক্ষা (ইকনমিক সার্ভে ২০১৪-১৫) পেশ করে বলেছিলেন, ‘‘ভারত একটা সুন্দর জায়গায় (সুইট স্পট) পৌঁছে গিয়েছে—জাতির ইতিহাসে এটা বিরল—এইভাবে শেষমেশ দুই সংখ্যার মধ্যমেয়াদি বৃদ্ধির কৌশলে ভর করে এগনো যাবে।’’
বিশদ

08th  July, 2019
জলের জন্য হাহাকার আমাদের কি একটুও ভাবাচ্ছে!
শুভা দত্ত

আমাদের এখনও তেমন অসুবিধে হচ্ছে না। কারণ, কলকাতা মহানগরীতে এখনও পানীয় হোক কি সাধারণ কাজকর্ম সারার জলের অভাব ঘটেনি। ঘটেনি কারণ আমাদের জল জোগান যে মা গঙ্গা, তিনি এখনও বহমান এবং তাঁর বুকের ঘোলা জলে এখনও নিয়ম করে বান ডাকে, জোয়ার-ভাটা খেলে।
বিশদ

07th  July, 2019
এক বাস্তববাদী রাজনীতিকের নাম শ্যামাপ্রসাদ
হারাধন চৌধুরী

 নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় সরকার নিয়ে বিজেপি তিন দফায় ভারত শাসনের দায়িত্ব পেল। কংগ্রেসকে বাদ দিলে ভারতের আর কোনও রাজনৈতিক দল এই কৃতিত্ব অর্জন করতে পারেনি। ২০১৯-এর লোকসভার ভোটে বিজেপি ক্ষমতা অনেকখানি বাড়িয়ে নিয়েছে। ২০১৪-র থেকে বেশি ভোট পেয়েছে এবং তিনশোর বেশি আসন দখল করেছে।
বিশদ

06th  July, 2019
চাকরি ও পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রত্যাশিত দিশা দেখাতে পারল না নির্মলা সীতারামনেরও বাজেট
দেবনারায়ণ সরকার

 লোকসভা নির্বাচনের আগে গত ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান বছরের (২০১৯-২০) অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করা হয়েছিল। নির্বাচনে বিপুল জয়ের পরে বর্তমান অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন দ্বিতীয় মোদি সরকারের বর্তমান অর্থবর্ষের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করলেন। এই বাজেটে আয় ও ব্যয় অন্তর্বর্তী বাজেটে যা ধরা হয়েছিল সেটাই অপরিবর্তিত রইল।
বিশদ

06th  July, 2019
একনজরে
  সংবাদদাতা, ইসলামপুর: উত্তর দিনাজপুর জেলার সমস্ত স্কুলে মশাবাহিত রোগের প্রতিকার ও প্রতিরোধ বিষয়ে সচেতনতা শিবির চলছে। ...

 সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: সরকারি জমি হস্তান্তরের অভিযোগে ৫-৭ জন বিএলএলআরও এবং রেভিনিউ অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল ভূমি রাজস্ব দপ্তর। জমি দুর্নীতি নিয়ে নবান্নে বেশ কিছু অভিযোগ আসে। বহু জায়গাতেই সরকারি জমি হাতবদল হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয় গ্রিভান্স সেলে। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কলকাতায় ঘোরার পর মন্দিরে পুজো দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে কন্টেনারের পিছনে প্রাইভেট গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হল ওড়িশার বাসিন্দা চার আরোহীর। বুধবার ভোরে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ৬ নম্বর জাতীয় সড়কে সাঁকরাইল থানার ধূলাগড়ে। ...

 নয়াদিল্লি, ১৭ জুলাই (পিটিআই): উত্তরপ্রদেশে ব্যবসায়ী অপহরণের মামলায় সমাজবাদী পার্টি (সপা)’র প্রাক্তন এমপি আতিক আহমেদের বাড়িতে তল্লাশি চালালো সিবিআই। গতমাসে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ আহমেদের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা রুজু করে তদন্তকারী সংস্থা। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার জন্য স্থান পরিবর্তন হতে পারে। গবেষণামূলক কাজে সাফল্য আসবে। কর্মপ্রার্থীরা কোনও শুভ সংবাদ পেতে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯০৯: কবি বিষ্ণু দের জন্ম
১৯১৮: দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবিদ্বেষী আন্দোলনের নেতা তথা সে দেশের প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার জন্ম
১৯২৭:সঙ্গীতশিল্পী মেহেদি হাসানের জন্ম
১৯৪৯: ক্রিকেটার ডেনিস লিলির জন্ম
১৯৮২: অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জন্ম,
২০১২: অভিনেতা রাজেশ খান্নার মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯০ টাকা ৬৯.৫৯ টাকা
পাউন্ড ৮৩.৮৬ টাকা ৮৬.৯৯ টাকা
ইউরো ৭৫.৫৪ টাকা ৭৮.৬৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,০৪০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,২৪৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৩,৭৪৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৯,১৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৯,২৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৮ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার, দ্বিতীয়া অহোরাত্র। শ্রবণা ৫১/১১ রাত্রি ১/৩৪। সূ উ ৫/৫/৩৯, অ ৬/১৯/৫৪, অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪৭ গতে ২/৫৬ মধ্যে, বারবেলা ৩/১ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/৪০ গতে ১/৩ মধ্যে।
১ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৮ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার, দ্বিতীয়া ৫৯/৪৩/২৬ শেষরাত্রি ৪/৫৮/১০। শ্রবণানক্ষত্র ৪৮/২৭/৩৪ রাত্রি ১২/২৭/৫০, সূ উ ৫/৪/৪৮, অ ৬/২২/১৩, অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪৮ গতে ৩/০ মধ্যে, বারবেলা ৪/৪২/৩২ গতে ৬/২২/১৩ মধ্যে, কালবেলা ৩/২/৫২ গতে ৪/৪২/৩২ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৪৩/৩১ গতে ১/৩/৫০ মধ্যে।
১৪ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
কুলভূষণ মামলার রায় ভারতের পক্ষেই
কুলভূষণ মামলার রায় ভারতের পক্ষেই গেল। আজ এই ...বিশদ

17-07-2019 - 06:47:00 PM

এবার বদল গোয়েন্দা প্রধান 
এবার কলকাতা পুলিসের গোয়েন্দা প্রধান প্রবীণ ত্রিপাঠিকে সরিয়ে দেওয়া হল। ...বিশদ

17-07-2019 - 06:14:52 PM

মেট্রোয় মৃত্যু: পার্ক স্ট্রিট স্টেশনে ফরেন্সিক দল 

17-07-2019 - 01:46:47 PM

ফের বর্ধমানের গোদায় কাটমানি ফেরতের দাবিতে পোস্টার 

17-07-2019 - 01:27:52 PM

ইসলামপুরে যুবককে লক্ষ্য করে গুলি 
প্রকাশ্যে এক যুবককে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় চাঞ্চল্য ইসলামপুরে। ...বিশদ

17-07-2019 - 01:15:24 PM

গ্রেপ্তার হাফিজ সঈদ  

17-07-2019 - 12:56:04 PM