Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

রাজনীতির পাঁকে সরকারের
উচ্চপদস্থ কর্মচারীরা
শুভময় মৈত্র

দেশের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মচারীরা রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বিপদে পড়ছেন অনেক সময়। কেউ কেউ বড্ড বেশি যোগাযোগ রাখছেন ক্ষমতাশীল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে। তারপর সেখানে তীব্র দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হওয়ায় অনেক সময় চাকরিতে ইস্তফা দিতে হচ্ছে। নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় যোগ দিতে হচ্ছে অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে। ভোটপ্রচারে তাঁদের মুখ ফসকে বেরিয়ে যাচ্ছে এমন সব ভাষা যা একেবারে রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকেই শেখা। কিন্তু একথা তো অস্বীকার করা যায় না দেশটা যে চলে তার একটা বড় কারণ আমাদের সরকারি কর্মচারিরা। তাদের কাজে শিথিলতা থাকে অনেক সময়। সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রের মতই অল্পবিস্তর দুর্নীতিও খুঁজে পাওয়া যাবে খুঁটিয়ে দেখলে। তা সত্ত্বেও কিছু নিয়ম নীতির মধ্যে দিয়ে প্রশাসন এবং আইনব্যবস্থা পথ হাঁটে। দেশের নিয়ম যেরকম, তাতে নীতি ঠিক করেন নির্বাচনে জেতা মন্ত্রীমশাই কিংবা জনপ্রতিনিধি, আর তার বাস্তবায়নে মাঠে নামে প্রশাসন। ফলে সেই নিয়মে পড়াশোনায় অত্যন্ত ভালো আইএএস কিংবা আইপিএস অফিসারদেরও জনগণের ভোটে নির্বাচিত লোকজনের কথা শুনে চলতে হয় বেশিরভাগ সময়। একথা তো সত্যি যে আমাদের দেশে এমন কোনও নিয়ম নেই যে ভোটে প্রার্থী হতে গেলে কিংবা ভোট দিতে গেলে মাধ্যমিকের অঙ্কে আশি পেতে হবে। অথচ সরকারি প্রশাসনে উচ্চপদের চাকরি পেতে গেলে অঙ্ক না হলেও, অন্যান্য অনেক বিষয়ে ভালো নম্বর পাওয়া জরুরি।
সরকারি পরীক্ষাতেও মাঝে মাঝে বিভিন্ন জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে, কিন্তু মোটের ওপর আমাদের দেশে উচ্চপদের সরকারি চাকরি অনৈতিকভাবে পাওয়া শক্ত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রচুর প্রস্তুতি নিতে হয় এই ধরনের পরীক্ষায় সফলতা পেতে। আর শেষ পর্যন্ত অসাধারণ পরিশ্রম করে যাঁরা সফল হন, তাঁদের মধ্যে একটা বড় অংশকে কাজ করতে হয়ে এমন নেতাদের অধীনে যাঁদের জীবনে সফলতা অন্য পথে এসেছে। রাজনীতিবিদদের একটা বড় অংশের মধ্যে কৈশোর বা যৌবনে পড়াশোনা, খেলাধুলো, বা অন্য কোনও প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্রে সফলতার হার উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মচারিদের থেকে অনেক অনেক কম। অন্তর্জালে রাজনীতিবিদ অনেকের বিদ্যালয় এবং স্নাতকস্তরের মার্কশিট থাকে না। কজন রাজনীতিবিদ তাঁর পড়াশোনার ফলগুলোকে জানাতে পারেন সবাইকে? পারেন না, তার কারণ সকলের পড়াশোনার ফলাফল সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়, মনোহর পারিক্কার কিংবা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মত নয়। পড়াশোনার কথা না হয় ছেড়েই দেওয়া গেল। কতজন রাজনীতিবিদ আছেন যাঁরা ইস্কুলে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সফল হয়েছেন, কিংবা একটা আবৃত্তি করে বা ছবি এঁকে টিফিনবক্স বা জলের বোতল পেয়েছেন? সে সংখ্যাটাও সম্ভবত খুব কম।
বিষয়টাকে আর একটু নির্দিষ্টভাবে আলোচনা করা যাক। জীবনের প্রথম সরকারি পরীক্ষা সাধারণভাবে মাধ্যমিক স্তরে। এবার তুলনা করা যাক মাধ্যমিকে সাংসদদের গড় নম্বর আর আইএএস-আইপিএসদের। আমাদের রাজ্যের ক্ষেত্রে এই তুলনা হতে পারে বিধায়ক আর ডব্লুবিসিএস অফিসারদের মধ্যে। ফলাফল সকলেরই জানা। এটা কিন্তু অবশ্যই গড়ের প্রশ্ন। পড়াশোনা বা খেলাধুলো ভালো না করেও এমন এক-দুজন রাজনীতিবিদ থাকতেই পারেন যাঁর অবদান দেশের ক্ষেত্রে অনস্বীকার্য। তবে সেটা ভীষণ অল্প কিছু ক্ষেত্রের উদাহরণ। গড়ের বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, তার কারণ এক-দুজন মনীষীকে নিয়ে রচনা লেখা যায়, কিন্তু দেশ চলে বিপুল সংখ্যক দক্ষ মানুষের দৈনন্দিন কাজের নিরিখে। তাই তো বারবার গড়ের কথাটা আসে। সূচক যাই ধরা হোক না কেন, সেই গড় আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের ক্ষেত্রে খুব উচ্চস্তরের গুণগত মান প্রকাশ করতে পারে না। এর ওপর আছে শিক্ষাগত যোগ্যতায় সততার প্রশ্ন। শুধু আজকে নয়, স্বাধীনতার পর থেকেই রাজনীতিবিদদের একটা অংশ নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে যা দাবি করেছেন, পরে তা সত্য হিসেবে প্রমাণ করতে অসমর্থ হয়েছেন তাঁরা। অর্থাৎ তাঁরা বোঝেন যে ডিগ্রির দাম আছে, তাইতো নিজেদের মানোন্নয়নে একঝুড়ি মিথ্যে নম্বর বইতে হয় সেই বিশেষ বিশেষ নেতানেত্রীকে। তবে এতক্ষণ যা বলা হল সেকথা নতুন কিছু নয়, আমাদের দেশে এমনটাই চলছে সাতচল্লিশের পর থেকে।
কিন্তু বিপদ এখন অনেক বেশি। ধরা যাক আপনি ভারতের সবথেকে ভালো সরকারি প্রযুক্তিবিদ্যার কেন্দ্র আইআইটি থেকে প্রচুর নম্বর পেয়ে পাশ করেছেন। তারপর কোনও কারণে গবেষণার কাজে না গিয়ে দেশসেবা করতে আইএএস বা আইপিএস হয়েছেন। দেশ বা রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কোনও পদে আছেন। ভালোবাসেন অঙ্ক করতে। হয়তো ইংরেজি বা ইতিহাস জানেন দারুণ। প্রযুক্তির অত্যন্ত উন্নত তত্ত্ব সম্পর্কে আপনার সম্যক জ্ঞান। দেশটা কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় সেকথা আপনার থেকে ভালো জানে খুব কম লোক। আপনাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়ে ঋদ্ধ হন সাধারণ মানুষ। আপনাদের জ্ঞানের পরিধি এতটাই প্রসারিত যে দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গিয়ে অসাধারণ ভালো পড়াতে পারেন আপনারা। কিন্তু সেই আপনাদের জড়িয়ে পড়তে হয়েছে দুই নেতানেত্রী বা একাধিক রাজনৈতিক দলের দ্বন্দ্বের মধ্যে। রাজনীতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে থাকা যে দুর্নীতি, তা সামাল দিতে বারবার বিপদে পড়ছেন আপনারা।
এ অবস্থা কিন্তু ভারতের রাজনীতিতে অনেক কম ছিল আগের সহস্রাব্দেও। নিশ্চিন্তে কোথায় অফিসের কাজ শেষে নিজের ছেলেমেয়েদের একটু পড়াশোনা করাবেন, তার বদলে ভোটের সময় প্রতিদিন এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে আপনাদের। দেশের জন্যে লড়তে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন আপনারা। আর আপনার উৎসর্গীকৃত সেই জীবন নাকি সীমানা পেরিয়েছে ভোটপ্রার্থী নেতানেত্রীর অভিশাপে! শুধু প্রশাসনেই বা কেন? বিচার ব্যবস্থায় অত্যন্ত সৎ ভাবে কাজ করা মানুষদের অবস্থাও অনেকসময় সুবিধের নয়। কখনও বা উচ্চতর এবং উচ্চতম ন্যায়ালয়ের সম্মানীয় বিচারপতিদের কারও কারও বিরুদ্ধে উদ্ভট অপবাদ বা অভিযোগ আসছে বারবার। সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় অনেকেই মনে করছেন যে এসমস্ত ষড়যন্ত্রের পেছনে আছে রাজনৈতিক নেতারা।
তবু মুখ বুজে সবটুকু সহ্য করে নিয়ে সরকারি কর্মচারীরা চালিয়ে যাবেন প্রশাসন বা বিচার ব্যবস্থার কাজ। জেতার আশায় ভোটপ্রচারে নেতানেত্রী কথায় কথায় হেয় করবেন তাঁদের থেকে অনেক অনেকগুণ যোগ্য মানুষদের। জেলাপুলিসের ঊর্দ্ধতন কর্মচারিদের অপমানজনক কথা বারবার শোনানো হবে অমায়িক ভঙ্গীতে। এবং তারপর সেই নেতাদের মধ্যেই একজন ভোটে জিতবেন। তাঁরাই আবার সবাই মিলে দুশো বাহাত্তর পেরিয়ে সরকার গড়বেন। তাঁদের শপথ নেওয়াতে আসতে হবে দেশের উচ্চতম ন্যায়ালয়ের প্রধান বিচারপতিকে। তাঁদের নির্ধারিত নীতিকে প্রয়োগ করতে হবে দেশের শিক্ষিত সরকারি কর্মচারিদের। সেটুকু তো ঠিকই ছিল। কিন্তু তাঁদের কারও দুর্নীতি, তাঁদের হিংসা, তাঁদের অনেকের ক্ষমতার প্রতি তীব্র লোভ, এসবের দায়ভার যদি সরকারি কর্মীদের নিতে হয় তাহলে কিন্তু ভীষণ বিপদ। একটু ঘাড় বেঁকিয়ে তাকালেই দেখতে পাবেন এমন ঘটনা বাড়ছে আমাদের দেশে। উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মীদের ভয় দেখিয়ে কাজ করানো এবং তাঁদের ফাঁসিয়ে দেওয়ার ঘটনা উঠে আসছে বারবার। স্বাধীন সংস্থাগুলোর অবস্থাও তথৈবচ। বিচার ব্যবস্থা থেকে মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা, নির্বাচন কমিশন থেকে প্রশাসন, সব কিছুকেই আপন করে নেওয়ার যে রাজনৈতিক প্রচেষ্টা কেন্দ্র, বিভিন্ন রাজ্য এবং সর্বোপরি কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে ঢুকে পড়েছে, তার থেকে সরকারি কর্মীদের আশু মুক্তির প্রয়োজন। একদিকে তাঁদের কাজ রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে, অন্যদিকে সেই সব দলের সঙ্গে সঠিক দূরত্ব না রাখলে পরবর্তীকালে বিপদ বাড়তে পারে অনেকটা। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মীদের চাকরির সুরক্ষা তাই কাদাগোলা বিশবাঁও জলের তলায়।
 লেখক ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক। মতামত ব্যক্তিগত
11th  May, 2019
ছোটদের বড় করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

সব থেকে ভালো হয়, যদি আপনার ‘বাছা’কে নিজের মতো বেড়ে উঠতে দেন। আনন্দে বেড়ে উঠুক। আলো চিনিয়ে দিন, অন্ধকার চিনিয়ে দিন। লক্ষ্য রাখুন, ঠিকঠাক এগচ্ছে কি না! সামনে পিছনে কত ফাঁদ, চোরাবালি। আপনিই ঈশ্বর, ওকে রক্ষা করুন। ছোটদের ‘বড়’ করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে। দয়া করে ওর উপর মাতব্বরি করবেন না, হ্যাঁ আমরা মাতব্বরিই করি।
বিশদ

জন্ম এবং মৃত্যুর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি অকস্মাৎ আমার একটি বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। এই উপলক্ষে জগতে সকলের চেয়ে পরিচিত যে মৃত্যু তার সঙ্গে আর-একবার নূতন পরিচয় হল। জগৎটা গায়ের চামড়ার মতো আঁকড়ে ধরেছিল, মাঝখানে কোনো ফাঁক ছিল না। মৃত্যু যখন প্রত্যক্ষ হল তখন সেই জগৎটা যেন কিছু দূরে চলে গেল, আমার সঙ্গে আর যেন সে অত্যন্ত সংলগ্ন হয়ে রইল না।
——— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশদ

অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

19th  July, 2019
বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
ঘোষণা ও বাস্তব
সমৃদ্ধ দত্ত

ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান একটি প্রকল্পই হল নদী সংযোগ প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন নদীকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। যাতে উদ্বৃত্ত জলসম্পন্ন নদী থেকে বাড়তি জল শুকনো নদীতে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বারংবার এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। গোটা প্রকল্প রূপায়ণ করতে অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকা দরকার। এদিকে আবার বুলেট ট্রেন করতেও ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে! আধুনিক রাষ্ট্রে অবশ্যই দুটোই চাই। কিন্তু বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিচার করলে? কোনটা বেশি জরুরি? বিশদ

12th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

 কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর থেকে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১৯-এর যে খসড়া প্রকাশিত হয়েছে তার যে অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে হই চই পড়েছিল তা হল বিদ্যালয় স্তরে ত্রি-ভাষা নীতির মাধ্যমে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে জোর করে হিন্দি চাপানোর বিষয়টি। তামিলনাড়ুর মানুষের প্রবল আপত্তিতে তা কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
বিশদ

11th  July, 2019
কেন তেরোজন অর্থনীতিবিদ অখুশি হবেন?
পি চিদম্বরম

প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. অরবিন্দ সুব্রামনিয়ন পাঁচ বছর আগে তাঁর প্রথম অর্থনৈতিক সমীক্ষা (ইকনমিক সার্ভে ২০১৪-১৫) পেশ করে বলেছিলেন, ‘‘ভারত একটা সুন্দর জায়গায় (সুইট স্পট) পৌঁছে গিয়েছে—জাতির ইতিহাসে এটা বিরল—এইভাবে শেষমেশ দুই সংখ্যার মধ্যমেয়াদি বৃদ্ধির কৌশলে ভর করে এগনো যাবে।’’
বিশদ

08th  July, 2019
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শনিবার দুপুরে পাঁচলার গাববেড়িয়ায় টোটো ও লরির মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু হল এক শিশুর। তার নাম আমিরুদ্দিন শাহ (৭)। বাড়ি সিদ্ধেশ্বরী সাহাপাড়ায়। পুলিস জানিয়েছে, এদিন ওই শিশুটি মায়ের সঙ্গে একটি টোটোয় মাজারে যাচ্ছিল। তখন একটি লরি ওই টোটোয় ...

নয়াদিল্লি, ১৯ জুলাই (পিটিআই): স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতা নিয়ে পরামর্শ চেয়ে আবারও জনতার দরবারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার এই আহ্বান জানিয়ে মোদি লিখেছেন, সাধারণ মানুষের চিন্তাভাবনার কথা জানবে গোটা দেশ। ...

  কটক, ১৯ জুলাই: একুশতম কমনওয়েলথ টেবল টেনিস প্রতিযোগিতায় পুরুষ ও মহিলা বিভাগে সোনা জিতল ভারতীয় টিটি দল। শুক্রবার কটকে এই প্রতিযোগিতার পুরুষ বিভাগের ফাইনালে ...

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: গ্রামের একমাত্র জল নিকাশির জায়গায় রাইসমিল গড়ে তোলার প্রতিবাদে শুক্রবার রামপুরহাট-১ ব্লকের খরুণ গ্রাম পঞ্চায়েতে অভিযোগ জানালেন তিনটি গ্রামের বাসিন্দারা। এই ব্লকের চাকপাড়া, মালসা ও ফরিদপুর গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, ফিবছর বর্ষার সময় আমরা খুবই দুশ্চিন্তায় থাকি।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

পারিবারিক ঝামেলার সন্তোষজনক নিষ্পত্তি। প্রেম-প্রণয়ে শুভ। অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষে মানসিক চাপ বৃদ্ধি।প্রতিকার: আজ দই খেয়ে শুভ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯২০: মা সারদার মৃত্যু
১৮৬৩: কবি, গীতিকার ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম
১৮৯৯: লেখক বনফুল তথা বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫৫: প্রাক্তন ক্রিকেটার রজার বিনির জন্ম
২০১২: বাংলাদেশের লেখক হুমায়ুন আহমেদের মূত্যু 

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৫ টাকা ৬৯.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৭৭ টাকা ৮৭.৯২ টাকা
ইউরো ৭৬.১০ টাকা ৭৯.০৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৭৫০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৯২০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৪,৪৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪১,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার, তৃতীয়া ১০/১৮ দিবা ৯/১৪। শতভিষা অহোরাত্র। সূ উ ৫/৬/৩, অ ৬/১৯/৩১, অমৃতযোগ দিবা ৯/৩১ গতে ১/২ মধ্যে। রাত্রি ৮/২৮ গতে ১০/৩৮ মধ্যে পুনঃ ১২/৪ গতে ১/৩১ মধ্যে পুনঃ ২/১৪ গতে ৩/৪০ মধ্যে, বারবেলা ৬/৪৬ মধ্যে পুনঃ ১/২২ গতে ৩/১ মধ্যে পুনঃ ৪/৪০ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ৭/৪০ মধ্যে পুনঃ ৩/৪৬ গতে উদয়াবধি।
৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার, তৃতীয়া ৪/২৪/৪ দিবা ৬/৫১/২। শতভিষানক্ষত্র ৬০/০/০ অহোরাত্র, সূ উ ৫/৫/২৪, অ ৬/২১/৫৭, অমৃতযোগ দিবা ৯/৩২ গতে ১/১ মধ্যে এবং রাত্রি ৮/২৫ গতে ১০/৩৭ মধ্যে ও ১২/৪ গতে ১/৩২ মধ্যে ও ২/১৬ গতে ৩/৪৪ মধ্যে, বারবেলা ১/২৩/১৫ গতে ৩/২/৪৯ মধ্যে, কালবেলা ৬/৪৪/৫৮ মধ্যে ও ৪/৪২/২৩ গতে ৬/২১/৫৭ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৪২/২৩ মধ্যে ও ৩/৪৪/৫৮ গতে ৫/৫/৪১ মধ্যে। 
১৬ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
একুশে জুলাইয়ের সভাস্থল পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী
একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সভাস্থলের প্রস্তুতি পর্ব ...বিশদ

05:54:05 PM

শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের বৈঠক, মিলল না রফাসূত্র

05:05:54 PM

ইন্দোনেশিয়া ওপেন: চেন ইউ ফেইকে হারিয়ে ফাইনালে পি ভি সিন্ধু 

04:32:32 PM

শীলা দীক্ষিত প্রয়াত 
প্রয়াত দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেত্রী শীলা দীক্ষিত। ...বিশদ

04:12:00 PM

মমতাকে ফোন অমিত শাহর 
কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর পর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হতে চলেছেন জগদীপ ধানকর। এদিন ...বিশদ

03:24:53 PM

১২৮২৭ হাওড়া-পুরুলিয়া এক্সপ্রেস আজ বিকেল ৪:৫০ মিনিটের বদলে সন্ধ্যা ৬টায় হাওড়া স্টেশন থেকে ছাড়বে 

03:09:36 PM