Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

নরেন্দ্র মোদি মেজাজ হারাচ্ছেন কেন?
শুভা দত্ত

নরেন্দ্র মোদির রাজনীতি নিয়ে অনেকের ভিন্নমত থাকতে পারে, কিন্তু তাঁর সৌজন্যবোধ নিয়ে এ যাবৎ কোনও প্রশ্ন ওঠেনি। ২০১৯-এর ভোটপর্ব যখন শেষ পর্যায়ে, তখন তিনি মেজাজ হারিয়ে একেবারে রাহুল গান্ধীর প্রয়াত পিতার নামে নিন্দা করে বসলেন। এভাবে তিনি ভদ্রতার সীমা ছাড়ালেন।
রাহুল বহুদিন ধরেই রাফাল চুক্তিতে দুর্নীতির অভিযোগ তুলছেন। স্লোগান দিচ্ছেন, ‘চৌকিদার চোর হ্যায়’। এতদিন বিজেপি নেতারা তার জবাবে কটূক্তি করেছেন বলে শুনিনি। কিন্তু গত ৫ মে মোদিকে রাহুলের উদ্দেশে বলতে শোনা গেল, আপনার বাবা তো একসময় মিস্টার ক্লিন বলে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু তিনি ভ্রষ্টাচারী নম্বর ওয়ান হিসাবে মারা গেলেন।
প্রয়াত রাজীব গান্ধীর আমলে বোফর্স কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছিল। প্রধানমন্ত্রী তার কথাই বলতে চেয়েছেন। তিনি যে কথাটি ভুলে গিয়েছেন, তা হল, বোফর্স নিয়ে রাজীবের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে টেকেনি। প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কোনও দুর্নীতিতে যুক্ত ছিলেন বলে প্রমাণ নেই।
সুতরাং আইনের চোখে ওই অভিযোগ অসত্য। তার চেয়েও বড় কথা হল, মৃত ব্যক্তির নামে অভিযোগ করা শিষ্টাচারসম্মত নয়। মনে হয় নরেন্দ্র মোদি কোনও কারণে নার্ভাস হয়ে পড়েছেন। নার্ভাস হলে মানুষ অল্পে মেজাজ হারায়। উল্টোপাল্টা বলে ফেলে।
কেন মোদি নার্ভাস হচ্ছেন? দেশে পাঁচ দফা ভোটগ্রহণের পরে তাঁর মনে কি জয় নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে? তিনি অবশ্য মুখে বলছেন, এবার জিতছেনই। সত্যিই কি তিনি জিতবেন বলে নিশ্চিত? নাকি দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করার জন্য এইসব বলছেন?
মোদি ২০১৪ সালে ভোটের আগে বলতেন, দেশকে জঙ্গিদের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখবেন। কোটি কোটি চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করবেন। কালো টাকার মালিকদের শায়েস্তা করবেন। মেয়েদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবেন। এইরকম আরও কত কী! সেই প্রতিশ্রুতিগুলি নিয়ে এবার আর বিজেপি নেতারা বিশেষ উচ্চবাচ্য করছেন না। গত কয়েক মাস যাবৎ ভোটের প্রচারে মোদি, অমিত শাহ এবং তাঁদের দলের অন্যরা সবচেয়ে জোর দিচ্ছেন সন্ত্রাসবাদ দমনের ইস্যুতে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে কাশ্মীরের পুলওয়ামায় মারাত্মক কাণ্ড ঘটে। সিআরপিএফ-এর কনভয় যখন হাইওয়ে দিয়ে যাচ্ছিল, বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ি নিয়ে তাতে ধাক্কা মারে এক জঙ্গি। ৪০ জনের বেশি আধা সেনা জওয়ান নিহত হন।
স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া দেখা যায় দেশ জুড়ে। জঙ্গি হানার কয়েক দিনের মাথায় আমাদের বায়ুসেনা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ঢুকে বালাকোট নামে এক জায়গায় বোমা ফেলে আসে। সেখানে জঙ্গিদের শিবির ছিল। সরকারের দাবি, সন্ত্রাসবাদীদের যোগ্য জবাব দেওয়া হয়েছে।
কংগ্রেসের পাল্টা দাবি, মোদির আমলে জম্মু-কাশ্মীরে আরও তৎপর হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসবাদীরা। সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তাকর্মীদের ওপরে আক্রমণের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে ২৬০ শতাংশ। অনুপ্রবেশও বৃদ্ধি পেয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, ২০১৩ সালে কাশ্মীরে জঙ্গি হানা হয়েছিল ১৭০টি। ২০১৮-তে হয়েছে ৬১৪টি। এই জন্য কংগ্রেস বলছে, সন্ত্রাসবাদীদের তৎপরতা বেড়েছে ২৬০ শতাংশ।
কিন্তু শুধু দু’বছরের তথ্য দিয়ে কাশ্মীরের পুরো ছবিটা বোঝা যায় না। সামগ্রিকভাবে কংগ্রেস আমলের তুলনায় বিজেপি জমানায় জঙ্গি হানার সংখ্যা খুব বাড়েনি, কমেওনি। মোটামুটি একই আছে। ২০০৯ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে কেন্দ্রে ছিল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার। তখন কাশ্মীরে জঙ্গি হানা হয়েছে ১৭১৭ বার। অন্যদিকে ২০১৪ থেকে ২০১৮-র মধ্যে কেন্দ্রে ছিল বিজেপি। ওই বছরগুলিতে জঙ্গি হানার সংখ্যা ১৭০৮। ২০১৮-১৯ সালে জঙ্গিরা কতবার হামলা করেছে, তার হিসাব এখনও মেলেনি।
কংগ্রেস আমলের তুলনায় এখন অনুপ্রবেশ কিছু কমেছে। সরকারের দেওয়া তথ্য বলছে, ২০০৯ থেকে ’১৩-র মধ্যে অনুপ্রবেশ হয়েছিল ১৭৬২ বার। ২০১৪ থেকে ’১৮-র মধ্যে ওই সংখ্যা কমে হয়েছে ১৪৫৬।
২০১৬ সালে কাশ্মীরে বুরহান ওয়ানি নামে এক জঙ্গি নিহত হয়। সে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিজবুল মুজাহিদিনের নেতা ছিল। এই মৃত্যুর পরে কাশ্মীর উপত্যকায় গোলযোগ বৃদ্ধি পায়। অনুপ্রবেশের চেষ্টাও বাড়তে থাকে। সম্ভবত বুরহানের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর থেকে সন্ত্রাসবাদীরা এদেশে ঢুকতে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তাদের অনেককে যে রুখে দেওয়া গিয়েছে তাতে সন্দেহ নেই।
সন্ত্রাসবাদীরা শুধু জম্মু-কাশ্মীরেই নেই, দেশের অন্যত্রও আছে। উত্তর-পূর্বের বেশ কয়েকটি রাজ্য দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসকবলিত। এছাড়া মধ্য ভারতের দণ্ডকারণ্যে আছে মাওবাদীরা। ওইসব জায়গায় শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য বিজেপি সরকারের চেষ্টা কতদূর ফলপ্রসূ হয়েছে?
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ সালের পর থেকে উত্তর-পূর্বে জঙ্গি হানায় হতাহতের সংখ্যা কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। ১৯৯৭ সালের পরে ২০১৭ সালেই ওই অঞ্চল ছিল সবচেয়ে শান্ত।
মধ্য ভারতের ছবিটা কীরকম?
গতবছরে মোদি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ২০১৪ থেকে ’১৭-র মধ্যে আত্মসমর্পণ করেছে ৩৩৮০ জন মাওবাদী। যদিও নানা মহল থেকে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে, আত্মসমর্পণকারী বলে যাদের দেখানো হয়েছে, তারা সকলে সত্যিই মাওবাদী ছিল তো? নাকি অনেক ক্ষেত্রে গ্রামের নিরীহ মানুষকে ধরে আত্মসমর্পণকারী সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে?
যাই হোক, মাওবাদী হিংসা যে আগের চেয়ে কিছু কমেছে তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু তার কৃতিত্ব বিজেপি’র একার নয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকই বলছে, মাওবাদীদের তৎপরতা কমতে শুরু করে ২০১১ সাল থেকে। তার মানে কংগ্রেস আমল থেকেই মাওবাদী দমনে সাফল্য আসতে শুরু করেছিল।
বিজেপি নেতারা সন্ত্রাসবাদীদের কঠোর হাতে দমন করার কথা বলেন ঠিকই, কিন্তু কংগ্রেস আমলের তুলনায় তাঁদের রেকর্ড তেমন উজ্জ্বল নয়।
অর্থনীতির ক্ষেত্রে মোদি সরকারের সাফল্য কেমন? নতুন নতুন চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে কি?
এককথায় বলতে গেলে, এক্ষেত্রে বিজেপি সরকারের রেকর্ড খুব খারাপ। তথ্য বলছে, চলতি বছরে দেশে বেকারত্বের হার ৬.১ শতাংশ। ১৯৭২-৭৩ সালের পরে বেকারত্বের হার কখনও এত বেশি হয়নি। ২০১১-১২ সালে দেশে কর্মহীন ছিলেন ২.২ শতাংশ মানুষ। সেই তুলনায় কর্মহীনের সংখ্যা এখন অনেক বেড়েছে বলতে হবে। ১৫ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে যাদের বয়স, তাদেরই কাজের অভাব সবচেয়ে বেশি। ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের কাজের সুযোগ কম। শহরে তরুণদের মধ্যে ১৮.৭ শতাংশ ও তরুণীদের ২৭.২ শতাংশের হাতে কাজ নেই। গ্রামের ক্ষেত্রে তরুণদের ১৭.৪ শতাংশ ও তরুণীদের ১৩.৬ শতাংশ কাজ খুঁজছেন।
যে দেশে যুবকদের এক বড় অংশ বেকার থাকে, সেখানে নানা অশান্তি সৃষ্টি হয়। তরুণদের একাংশ অবধারিতভাবে নানা অসাধু কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে। নানা স্বার্থান্বেষী মহল তাদের নিজেদের কাজে লাগায়। অনেক সময় বেকার যুবকদের একটা অংশ চরমপন্থীদের দলে ভেড়ে। এইভাবে অর্থনৈতিক সংকট সমাজে অস্থিরতার জন্ম দেয়।
কর্মসংস্থানের হাল এত খারাপ কেন?
বিরোধীরা বলছেন, এর জন্য দায়ী নোটবন্দি আর জিএসটি।
২০১৬ সালে ৮ নভেম্বরের সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী সবাইকে চমকে দিয়ে ঘোষণা করলেন, দেশে পাঁচশো আর হাজার টাকার নোট বাতিল। দেশে ওইসময় যত নোট চালু ছিল, তার ৮৬ শতাংশই পাঁচশো ও হাজার টাকার। সরকার ভেবেছিল, নোট বাতিল করে কালো টাকার মালিকদের জব্দ করা যাবে। কিন্তু পরে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক জানায়, প্রায় সব নোট ফেরত এসেছে।
তাহলে আর কালো টাকার মালিকদের শাস্তি দেওয়া হল কই?
অসাধু উপায়ে যারা বিপুল ধনসম্পত্তির মালিক হয়েছে, তারা দিব্যি রয়ে গেল। কিন্তু নোট বাতিলের ফলে ক্ষতি হল অর্থনীতির। বিশেষত, অর্থনীতির যে শাখায় সবচেয়ে বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়, সেই অসংগঠিত ক্ষেত্র পড়ল সবচেয়ে বিপদে। সেখানে মূলত নগদ টাকায় কারবার হয়। নোটবাতিলে অনেক ছোট ব্যবসার ঝাঁপ বন্ধ হল। তার অনিবার্য পরিণতি, কর্মসংকোচন। হাজার হাজার মানুষের বেকার হয়ে যাওয়া।
২০১৭ সালের জুলাই মাসে দেশে গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স চালু হয়। এতেও ছোট ও মাঝারি ব্যবসা সংকটে পড়ে। বহু কর্মী ছাঁটাই হন। মোদি বলেছিলেন, ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রে দেশকে সুপার পাওয়ারে পরিণত করবেন। তার কী হল?
সরকারের দাবি, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের জোরে আর্থিক বৃদ্ধি ঘটবে। ২০২৫ সাল নাগাদ দেশের মোট জাতীয় উৎপাদনের ২৫ শতাংশ আসবে ম্যানুফ্যাকচারিং থেকে।
ওই প্রকল্প চালু হয়েছে কয়েক বছর হয়ে গেল। এখন ছবিটা কী?
তথ্য বলছে, এখনও পর্যন্ত জিডিপি-র বড়জোর ১৫ শতাংশ আসে ম্যানুফ্যাকচারিং থেকে। আগামী দিনে তার পরিমাণ খুব বেশি বাড়বে বলে আশা কম।
২০১২ সালে দিল্লিতে নির্ভয়া কাণ্ডের পরে বোঝা গিয়েছিল, পথেঘাটে মেয়েদের কতবড় বিপদ ঘটতে পারে। মোদি বলেছিলেন, তাঁর সরকার মহিলাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে। কিন্তু তথ্য বলছে, বিপদ কমেনি। বরং বেড়েছে। নারী নির্যাতনের নানা মামলায় যারা জেলে বন্দি, তারা শাস্তি পেয়েছে কমই। অনেক সময় দেখা গিয়েছে, আক্রান্ত মেয়েটি লোকলজ্জার ভয়ে সাক্ষী দেয়নি। অনেক সময় নিপীড়নকারী পুরুষটিই ভয় দেখিয়েছে আক্রান্ত মহিলা ও তার পরিবারকে।
সারা দেশে চাষিরা কেমন আছেন?
মোদি তো বলেছিলেন, ২০২২ সালের মধ্যে কৃষকদের আয় হবে ডবল। তার কোনও ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে কি? মনে হয় না।
কৃষকদের ঋণ বাড়ছে। চাষের যন্ত্রপাতি, বীজ, সার ইত্যাদি কিনতে গিয়ে তাঁরা দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। ফসলের ন্যায্য দামও সবসময় মিলছে না। দেনার দায়ে আত্মঘাতী হয়েছেন অনেক চাষি। গত কয়েক বছরে দেশে কয়েকটি বড় কৃষক মিছিল দেখা গিয়েছে।
সব মিলিয়ে স্পষ্ট, এনডিএ সরকারের পাঁচ বছরে ব্যর্থতার ভাগ বেশি। সাফল্য কম। ভোটের বাক্সে সেই ব্যর্থতার প্রতিফলন পড়তে বাধ্য। মোদি তো নার্ভাস হবেনই।
09th  May, 2019
আত্মশক্তি ও আমরা
সমৃদ্ধ দত্ত

 এসব থাকলে যেটা হবে তা হল সর্বদা সরকারের উপর নির্ভর করে থাকতে হবে না। আমার কাছে সবথেকে আদর্শ হল গ্রামবাসীরা যদি নিজেদের ভালোর জন্য পারস্পরিক সহায়তায় নিজেরাই জোট বাঁধে। ভেদাভেদ ভুলে কী করলে গোটা গ্রামের উন্নতি ও মঙ্গল হবে, সেটা উপলব্ধি করে নিজেরাই পরিশ্রম করলে দেখা যাবে উন্নতির আলো। বিশদ

23rd  August, 2019
অ্যাট দ্য হোয়াইট হাউস কলাম থেকেই
খবরের কেন্দ্রে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাড়ি
মৃণালকান্তি দাস

 ১৮৯৬ সাল। উইলিয়াম ‘ফ্যাটি’ প্রাইস ওয়াশিংটন ইভিনিং স্টার পত্রিকায় কাজ করার একটা সুযোগ খুঁজছিলেন। পত্রিকার সিটি এডিটর হ্যারি গডউইন প্রাইসকে স্থায়ী চাকরি দেওয়ার আগে হোয়াইট হাউসে পাঠালেন একটি সংবাদ তৈরি করার জন্য। ওই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড। বিশদ

23rd  August, 2019
চক্রব্যূহে জাতীয় কংগ্রেস:
সোনিয়ার প্রত্যাবর্তন
প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায়

 আগস্ট মাস জাতীয় কংগ্রেস ও ভারতীয় রাজনীতিতে স্মরণীয় মাস। ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সূচনা হয়, আবার ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা অর্জন করে। মজার কথা, বিগত ১০ আগস্ট মধ্যরাত্রে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি নতুন কংগ্রেস সভাপতির নাম স্থির করার জন্য পাঁচটি কমিটি শলা-পরামর্শে বসে।
বিশদ

22nd  August, 2019
ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন বিল: কিছু আশঙ্কা 
বিষাণ বসু

চারদিকে বড় হইচই। বিষয় ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন বিল। স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের মেডিক্যাল শিক্ষার ব্যাপারটা দেখছিলেন এমসিআই, অর্থাৎ মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া। এমসিআই নিয়ে অভিযোগ ছিল বিস্তর—বিশেষত, তাঁদের কিছু কর্তাব্যক্তিকে নিয়ে। 
বিশদ

20th  August, 2019
জম্মু-কাশ্মীর: উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তির নতুন প্রভাত
রবিশঙ্কর প্রসাদ
 

জম্মু-কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের কল্যাণে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে, ৭০ বছরের পুরনো একটা সমস্যার নতুন সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের ৭০ দিনেরও কম সময়ে সমাধান হল। এই কারণে আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাহস ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ইচ্ছাশক্তিকে প্রশংসা করা উচিত।
 
বিশদ

20th  August, 2019
নিস্তেজ অর্থনীতির সত্যটা সরকার ভুলে যাচ্ছে 
পি চিদম্বরম

রাষ্ট্রপতি ভবন হল সরকারের ক্ষমতার আসনের প্রতীক। এক কিলো মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর অফিস (পিএমও), নর্থ ব্লক ও সাউথ ব্লক—মানে স্বরাষ্ট্র, অর্থ, প্রতিরক্ষা ও বিদেশ-এর মতো উচ্চ মন্ত্রকগুলি রয়েছে।   বিশদ

19th  August, 2019
সভাপতি পদে সোনিয়াজির প্রত্যাবর্তনে কংগ্রেস কি ছন্দ ফিরে পাবে
শুভা দত্ত

ছন্দ তো হারিয়েছে বহুদিন। ছন্দে ফেরার চেষ্টা—সেও শুরু হয়েছে বহুদিন। কিন্তু কিছুতেই যেন সেই পুরনো দমদার ছন্দে ফিরতে পারছে না জাতীয় কংগ্রেস! নেহরু-ইন্দিরার আমল থেকে গান্ধী পরিবারের ছত্রচ্ছায়ায় এবং নেতৃত্বে দলের যে অপ্রতিরোধ্য ছন্দ গোটা দেশকে কংগ্রেসি তেরঙ্গায় বেঁধে রেখেছিল, যে ছন্দ কংগ্রেস প্রতীক ইন্দিরার পাঞ্জার উপর বছরের পর বছর দেশের মানুষের আস্থা বিশ্বাস ও আবেগ ধরে রেখেছিল, জরুরি অবস্থা, নাসবন্দির মতো কাণ্ডের পরও যে ছন্দ ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেছিল কংগ্রেসকে, ইন্দিরা এবং ইন্ডিয়া হয়ে উঠেছিলেন সমার্থক—জাতীয় কংগ্রেসের সেই অমিত শক্তি রাজনৈতিক ছন্দ অনেক কাল আগেই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিয়েছে।
বিশদ

18th  August, 2019
ওয়াল স্ট্রিটের ‘নেকড়ে’-র গল্প!
মৃণালকান্তি দাস

ওয়াশিংটনের অপরিচিত কোনও এক পথে হাঁটতে হাঁটতে গল্পটা শুনিয়েছিলেন এমিলি ব্রাউন। গল্প বলতে, এক অপরাধীর ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনী। জর্ডন বেলফোর্টের গল্প। যিনি জীবনে অপরাধের নেশায় পড়ে সবকিছু হারিয়েছিলেন। কে এই জর্ডন বেলফোর্ট, জানেন? যাঁর জীবন কাহিনী শুনলে মনে হবে, এ এই মার্কিন মুলুকেই সম্ভব! বিশদ

17th  August, 2019
স্বাধীনতা ৭৩ এবং ভূস্বর্গের মুক্তি
মেরুনীল দাশগুপ্ত

গরিবি যতদিন না যাবে ততদিন এই উপত্যকায় শান্তি আসবে না। কারণ, কাশ্মীরি মানুষের গরিবিই ওদের একটা বড় হাতিয়ার। গরিব মানুষজনের অনেকেই ক’টা টাকার লোভে পড়ে সীমান্তর ওপার থেকে আসা লোকজনকে আশ্রয় দিয়ে, লুকিয়ে রেখে, খাবারদাবারের ব্যবস্থা করে ভ্যালির বিপদ বাড়িয়ে তুলছে।
বিশদ

15th  August, 2019
বনে থাকে বাঘ 
অতনু বিশ্বাস

ছেলেবেলায় ‘সহজ পাঠ’-এ পড়েছিলাম ‘বনে থাকে বাঘ’। যদিও এই পাঠটা যে খুব সহজ আর স্বাভাবিক নাও হতে পারে, অর্থাৎ বনে বাঘ নাও থাকতে পারে, সেটা বুঝতে বেশ বড় হতে হল। ছোটবেলায় অবশ্য মনে বদ্ধমূল ধারণা ছিল, বন-জঙ্গল গিজগিজ করে বাঘে। 
বিশদ

13th  August, 2019
রক্ষক আইন যেন ভক্ষক না হয়
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ভিক্টরি ম্যানসনে ঢুকলেন উইনস্টন স্মিথ। বহুতলে ঢুকেই নজরে আসবে দো’তলা সমান আখাম্বা ছবিটা। শুধু একটা মুখ। নীচে ক্যাপশন করা, বিগ ব্রাদার কিন্তু তোমাকে দেখছে। জর্জ অরওয়েলের কালজয়ী উপন্যাস ১৯৮৪-এর শুরুতেই উল্লেখ এই ছবির। আর এই নভেলের সারমর্মও লুকিয়ে এই ছবিতে—বিগ ব্রাদার দেখছে, তাই সাবধান। সাবধান হও সবাই... সরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ী, সাফাইকর্মী, বেসরকারি চাকুরে... মোদ্দা কথা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে। সবসময় নজরদারি।  
বিশদ

13th  August, 2019
পুতিন কি পারবেন নতুন বিশ্বের নেতৃত্ব দিতে?
গৌরীশঙ্কর নাগ

 ১৯১৭ খ্রিস্টব্দে বা তার কিছু আগে থেকে লেনিন, ট্রটস্কি প্রমুখ নিবেদিত প্রাণ কমরেডের হাত ধরে সোভিয়েত সমাজতন্ত্র নামক যে মহীরুহটি ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল তা গর্বাচেভ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর কীভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে—বিস্ময়ের সঙ্গে আমরা সেটা দেখেছি।
বিশদ

12th  August, 2019
একনজরে
 সংবাদদাতা, কান্দি: বৃহস্পতিবার রাতে বহরমপুর-সাঁইথিয়া রাজ্য সড়কে কান্দি থানার গোলাহাট গ্রামের কাছে ২০ হাজার টাকার জাল নোট সহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। ধৃতের কাছ থেকে ১০টি দু’হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফেডারেশনের অনুমোদিত টুর্নামেন্ট হলেও ডুরান্ড কাপের ব্যাক ড্রপে নেই এআইএফএফের কোনও লোগো। এফএসডিএলের আপত্তিতেই ডুরান্ড কাপের ব্যাক ড্রপে ফেডারেশনের লোগো নেই বলে জানা গেল। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পূর্ত দপ্তরের অধীনে থাকা রাজ্যের প্রায় দু’হাজার ব্রিজ বা উড়ালপুলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে বছরে চারবার। কেএমডিএ’র অধীনে থাকা উড়ালপুলগুলির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ব্রিজ অ্যাডভাইসরি কমিটি তৈরি করা হয়েছে। তাদের নির্দেশেই ব্রিজের যান চলাচল বন্ধ রেখে লোড ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: তৃণমূলকে সরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে আনার ব্যাপারে ভোটারদের দু’বার ভাবতে বললেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের সন্ত্রাস ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চবিদ্যার ক্ষেত্রে মধ্যম ফল আশা করা যায়। প্রতিযোগিতমূলক পরীক্ষায় সাফল্য আসবে। প্রেম-প্রণয়ে নতুনত্ব আছে। কর্মরতদের ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৬৯০: ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হয়ে কলকাতায় পা রাখলেন জোব চার্নক
১৯০৮: বিপ্লবী শিবরাম রাজগুরুর জন্ম
১৯৯১: সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টির প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন মিখাইল গর্বাচভ

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৭৯ টাকা ৭২.৪৯ টাকা
পাউন্ড ৮৫.৩৪ টাকা ৮৮.৫১ টাকা
ইউরো ৭৭.৯৮ টাকা ৮০.৯৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
23rd  August, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৩২৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮৭০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৪,০৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,১৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
23rd  August, 2019

দিন পঞ্জিকা

আজ জন্মাষ্টমী উৎসব
৭ ভাদ্র ১৪২৬, ২৪ আগস্ট ২০১৯, শনিবার, অষ্টমী ৮/১ দিবা ৮/৩২। রোহিণী ৫৭/১৯ রাত্রি ৪/১৬। সূ উ ৫/২০/১, অ ৫/৫৮/২১, অমৃতযোগ দিবা ৯/৩২ গতে ১২/৫৪ মধ্যে। রাত্রি ৮/১৩ গতে ১০/৩০ মধ্যে পুনঃ ১২/১ গতে ১/৩২ মধ্যে পুনঃ ২/১৮ গতে ৩/৪৮ মধ্যে, বারবেলা ৬/৫৪ মধ্যে পুনঃ ১/১৪ গতে ২/৪৯ মধ্যে পুনঃ ৪/২৪ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ৭/২৪ মধ্যে পুনঃ ৩/৫৫ গতে উদয়াবধি।
আজ জন্মাষ্টমী উৎসব
৬ ভাদ্র ১৪২৬, ২৪ আগস্ট ২০১৯, শনিবার, নবমী ৫৪/২১/৫৯ রাত্রি ৩/৩/৫১। রোহিণীনক্ষত্র ৪৮/১৪/৪৬ রাত্রি ১২/৩৬/৫৭, সূ উ ৫/১৯/৩, অ ৬/১/২৭, অমৃতযোগ দিবা ৯/৩১ গতে ১২/৪৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৮/১৪ গতে ১০/৩০ মধ্যে ও ১১/৫৭ গতে ১/৩১ মধ্যে ও ২/১৭ গতে ৩/৫১ মধ্যে, বারবেলা ১/১৫/৩৩ গতে ২/৫০/৫১ মধ্যে, কালবেলা ৬/৫৪/২১ মধ্যে ও ৪/২৬/৯ গতে ৬/১/২৭ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/২৬/৯ মধ্যে ও ৩/৫৪/২১ গতে ৫/১৯/১৯ মধ্যে।
 ২২ জেলহজ্জ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ঝাড়খণ্ডে লাইনচ্যুত মালগাড়ি 
ঝাড়খণ্ডে লাইনচ্যুত মালগাড়ি। দুর্ঘটনার জেরে বহু দুরপাল্লার ট্রেন একাধিক স্টেশনে ...বিশদ

09:20:10 PM

ডুরান্ড কাপ জিতল গোকুলাম
মোহন বাগানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ডুরান্ড কাপ জিতল গোকুলাম এফ ...বিশদ

07:02:58 PM

অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিগুলিতে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত 
প্রতিরক্ষা উৎপাদন সচিবের থেকে লিখিত আশ্বাস মেলায় কর্মবিরতি প্রত্যাহার করলেন ...বিশদ

03:49:44 PM

অরুণ জেটলির প্রয়াণে শোকপ্রকাশ প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের 

02:40:20 PM

প্রয়াত অরুণ জেটলি, আজকের দিনের সব কর্মসূচি বাতিল করল রাজ্য বিজেপি 

02:09:35 PM

এক গুরুত্বপূর্ণ বন্ধুকে হারামাল, অরুণ জেটলির প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করে ট্যুইট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির 

01:41:21 PM