Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

কেন্দ্রে শক্তিক্ষয়, রাজ্যে শক্তিবৃদ্ধি—
সম্ভাবনার বিচিত্র জল্পনায় মুখর বঙ্গ
মেরুনীল দাশগুপ্ত

মহাযুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কী হবে সেটা চূড়ান্ত করে বলবে ২৩ মে। আগামী পাঁচ বছরের জন্য কার হাতে যাবে দেশের শাসনভার, সংসদ মহাসভার নিয়ন্ত্রণ থাকবে কার জিম্মায়, কার কপালে আকাশ ভেঙে পড়বে আর কার মুখ আলোয় ভরে দেবে সাফল্যের জাদু—সমস্ত কিছুই অপেক্ষা করে আছে সাত দফার চলতি মহারণ শেষের সেই প্রথম বৃহস্পতিবারের জন্য! বৃহস্পতিবার ২৩ মে। কিন্তু, সে তো এখনও পাক্কা দু সপ্তাহ মানে চোদ্দো দিন দূর! অতদিন কি তর সয়! আরে বাবা, ২৩ যখন আসবে আসুক, বলুক না ফাইনাল করে। কিন্তু, তার জন্য দেশ জনতার মনপ্রাণ কল্পনা-জল্পনা হা-পিত্যেশ করে বসে থাকবে কেন? কী হবে সেটা আপাতত তোলা থাক না সেদিনের জন্য। কিন্তু তার আগে এই মাঝের সময়টায় কী হতে পারে, কতটা হতে পারে, কেমন করে হতে পারে কার কোথায় কদ্দূর হতে পারে—এমন হাজারো সম্ভাবনায় কল্পনা-জল্পনার ডানা মেলে দিতে অসুবিধে কী! পাবলিকের প্রাণ গড়ের মাঠ—ওড়ার জায়গার অভাব আছে নাকি?
বিশেষ করে বিষয় যখন দেশের ক্ষমতা দখলের ভোট-মহারণ সঙ্গে বাংলায় জোড়া ফুলের ৪২-এ ৪২-এর ডাক, আর সে মহাসংগ্রামে দুই প্রধান প্রতিপক্ষের নাম মোদি-মমতা— তখন পায় কে! একেবারে রসিয়ে কষিয়ে গরমে নরমে যুক্তি অযুক্তি কুযুক্তির কড়া পাকে পাহাড় থেকে সাগর জঙ্গলমহল থেকে যাদবপুর যাকে বলে জল্পনা-কল্পনার একটা উৎসবই যেন শুরু হয়ে গেছে। এবং এক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে আর পাঁচটা ক্ষেত্রের মতো দেশের বাকি রাজ্যগুলির চেয়ে এগিয়ে বাংলা সবার আগে সবচেয়ে মুখর সন্দেহ নেই। হবে নাই বা কেন? আজও এই পশ্চিমবঙ্গ দেশের মধ্যে অন্যতম রাজনীতি সচেতন রাজ্য বলে, দেশ রাজনীতির অন্যতম পীঠস্থান বলে স্বীকৃত। সেখানে ভোট মহাযুদ্ধের মতো এমন গুরুত্বপূর্ণ পোলিটিক্যাল ইভেন্ট হয়ে যাবে আর পাবলিক চুপ করে বসে থাকবে—তাই কি হয়! তারওপর দেশের বিদায়ী শাসকের এবার বাড়তি নজর পড়েছে পশ্চিমবঙ্গে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংখ্যার হিসেবে এই রাজ্যেই সর্বাধিক নির্বাচনী সভা করছেন—১৯টি, গড়ে প্রতি দফায় আড়াইখানারও বেশি! ফলে, সকলেই বুঝেছেন—এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য জাতীয় রাজনীতিতে যেমন তেমনি মোদিজির এই অতিরিক্ত গুরুত্ব আরোপের জন্য দেশের ভোটযুদ্ধের মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান বিশেষ মাত্রা পাচ্ছে। তার ওপর মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে বাঙালি হিসেবে দেশের প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে দেখার স্বপ্ন তো আছেই।
সব মিলিয়ে এবার দেশের ভোটের পাশাপাশি বাংলার ভোটও তাই জনতার আগ্রহ কৌতূহলের কেন্দ্রে। আর সেই সূত্রেই ২৩-এর অপেক্ষায় না থেকে বাংলার জনমন জল্পনা-কল্পনার জমজমাট উৎসবে পুরোপুরি মজে গেছে। কী হতে পারে তার একটা পাকাপোক্ত হিসেব এখন আমবাঙালির মুখে মুখে। এবং সাত দফার মহাযুক্ত যত অন্তিম পর্বের দিকে এগচ্ছে তত যেন রাজনৈতিক মহলের বড়-মেজ-ছোট কর্তা থেকে কর্মচারী মহাজনদের মধ্যেও এই কল্পনার উৎসবে শামিল হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। তিন-পাঁচজনের জটলা হলেই হল—শুরু হয়ে যাচ্ছে যুক্তি প্রতিযুক্তির ধুন্ধুমার। আলাপ-আলোনার ঢেউ ছাপিয়ে উত্তেজনার উত্তাপ ছড়াচ্ছে। ফণী পাশ কাটিয়ে বাংলা বাঁচিয়ে উড়ে গেছে ঠিকই কিন্তু যাওয়ার পথে যে কড়া তাপপ্রবাহ ছেড়ে গেছে তাতে এখন জেরবার বাংলার মানুষজন। ৪০ ডিগ্রি ছুঁতে চলেছে কলকাতা মহানগরী! ইতিমধ্যেই বাঁকুড়া পুরুলিয়ার মতো জেলাগুলি আগুনঝরা রোদে ঝামলা পোড়া হচ্ছে। কালবৈশাখী দূরে থাক সামান্য মেঘের রেখাও নেই নির্মম নীলে! তাতেও কিছুমাত্র ভাবান্তর নেই বাঙালির। তাঁদের বিশ্বাস এবং তর্কের যুগলবন্দি অব্যাহত। প্রধান জল্পনায় অবশ্যই বিজেপি। কেন্দ্রে শক্তিক্ষয়, রাজ্যে শক্তিবৃদ্ধি ঘটবে মোদিজির বিজেপি’র নাকি নেত্রী মমতার দাবিমতো বাংলায় ৪২-এ ৪২ হবে, ঘাসফুলে ভরে যাবে আসমুদ্রহিমাচল—তাই নিয়ে সম্ভাবনার বিচিত্র জল্পনায় মুখর বঙ্গ।
পথেঘাটে অফিস কাছারিতে দোকানে বাজারে মায় সেলুনে অব্দি এখন জল্পনার ভিড়। নানান প্রশ্ন আর উত্তরে সরগরম জনতা। তাঁদের কথা চালাচালিতে ছয় দফা শেষে যেটা উঠে আসছে তাতে এ রাজ্যে অন্তত বিজেপি’র আশান্বিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। কারণ, আম পাবলিকের বোধ বিশ্বাসে এ রাজ্যে বিজেপি’র সিট প্রাপ্তির অঙ্ক ৭/৮ থেকে ১৭/১৮ ওঠানামা করছে। অবশ্য, পদ্মদলের প্রধান সেনাপতি অমিত শাহজি অনেক আগেই ২৩ আসনের দাবি রেখে গিয়েছেন, এখনও রাখছেন। এখন ঠারেঠোরে আরও বেশির দিকেই তাঁর ইঙ্গিত! এই ইঙ্গিত বাস্তবে কতটা ফলপ্রসূ হবে তা জানে ২৩ মে। কিন্তু জনতার দাবি—এতটা না হলেও এবার এ রাজ্যে বিজেপি বেশ ভালো ভোট টানবে এবং বেশ কিছু আসন ছিনিয়ে নেবে। সংখ্যাটা কত তা তো আগেই বলেছি।
কেন এমন ধারণা পাবলিকের? কারণ, তাঁরা মনে করছেন—সিপিএমের সমর্থক কর্মীদের একটা বড় অংশ এবার বিজেপি’র দিকে ভোট করবে। কারণ, তাঁরা নাকি ভাবছেন সামনে মমতা থাকলে পার্টির পক্ষে অদূর ভবিষ্যতে ‘ঘুরে দাঁড়ানো’ মুশকিল। মমতার নজিরবিহীন ভাবমূর্তি, উন্নয়ন এবং সর্বোপরি তাঁর অবিসংবাদী প্রভাব অতিক্রম করে বামেদের পক্ষে রাজ্যের ক্ষমতা দখল কখনওই সহজ হবে না। মমতা প্রতিপক্ষ হলেই নন্দীগ্রাম সিঙ্গুর নেতাই কেশপুর জঙ্গলমহল সব উঠে আসে, আসবে। উঠে আসবে ২১ জুলাইয়ের সেই রক্তাক্ত কলকাতা, পার্টির ডান্ডায় মাথা ফেটে মরণাপন্ন মমতার ছবি! পাশাপাশি আজকের বিশ্ববাংলা পশ্চিমবঙ্গ ও তার সর্বাত্মক উন্নয়নের দৃষ্টান্তগুলিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ধ্বজা হয়ে রাজ্যবাসীর সামনে এসে দাঁড়াবে, দাঁড়াচ্ছে। রাজ্যের বাম শিবিরে এইসব কঠিন বাধা অতিক্রম করার মতো জোরালো নেতৃত্ব থাকলেও তাঁদের অধিকাংশই আজ বয়সের ভারে অনেকটাই স্তিমিত। বিমান বসু সূর্যকান্ত মিশ্রের মতো প্রবীণ নেতাকে তাই উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম শারীরিক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে ছুটে বেড়াতে হয়। কিন্তু, নন্দিনী মুখোপাধ্যায় কনীনিকা ঘোষ, তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায় বা শতরূপের মতো সামান্য কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে তাঁদের জায়গা নেওয়ার মতো যোগ্য উত্তরসূরির দেখা নেই আজও। কবে দেখা মিলবে তাও অজানা।এই পরিস্থিতিতে ‘দক্ষিণপন্থী’ গেরুয়া শিবিরকে যদি ভবিষ্যতে প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে খাড়া করা যায় তবে একটা ভালো সুযোগ থাকবে। দক্ষিণ-বামে লড়াই হলে মাইনাস পয়েন্টের বিচারটা হয়তো জনতার আদালতে পাল্টে যাবে। কারণ, বাংলা সাম্প্রদায়িক ব্যাপারে অনেক সহিষ্ণু ও ধর্মীয় সংহতিতে অনেক বেশি উৎসাহী। সেক্ষেত্রে পদ্মশিবিরের চেয়ে তখন তাঁদের কাছে বামেরা মূল্য পাবে বেশি। তার ওপর ইউপি ত্রিপুরার মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির পরিস্থিতি তুলে ধরে জনতার সহানুভূতি আদায়েও বাড়তি সুবিধা মিলতে পারে। সেইদিক বিচারেই নাকি এবার বামের ভোটে রামের ঝুলি ভরবে! এটা জনতার জল্পনা। একটু কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে। অর্জুন সিং, লকেট চ্যাটার্জিদের মতো অনেকের ভাগ্যই নাকি এই জল্পনায় জড়িত! এই জল্পনায় শামিল হয়ে শেষ লোকসভা ভোটের প্রায় ৩০ শতাংশ বাম ভোটের (২০১৬ বিধানসভায় যা নেমে দাঁড়ায় ২০ শতাংশের কাছাকাছি) একটা অংশ যদি পদ্মদলের বাক্সে পড়ে তবে বেশ কিছু আসনে যে তৃণমূল চাপে পড়বে তাতে সন্দেহ কী? আর একটি অভিমতও ঘুরছে—যাঁদের জেতার সম্ভাবনা কম তাঁদের দিয়ে ভোট ‘নষ্ট’ করতেও এবার নাকি অনীহা অনেকের। নোটার চেয়ে এবার জয়ের সম্ভাবনাযুক্ত পক্ষে প্রতিপক্ষেই আগ্রহ বেশি জনগণেশের! এই মানসিকতার হদিশও মিলছে। লোকে বলছেন এমন কথা। এতে লাভের ভাঁড়ার সেই তৃণমূল বিজেপিতেই ভাগাভাগি হচ্ছে—জনতার মতে এ রাজ্যে লড়াইটা ওই দুই দলেই। বাকিরা সামান্য দু-একটি আসন ছাড়া ভোট মহাযুদ্ধের ময়দানে বাজনদার মাত্র। সারা দেশে আসন সংখ্যার নিরিখে বিজেপি কতটা শক্তি হারাবে তা সময় বলবে, তবে এ রাজ্যে তৃণমূল বিরোধীদের মধ্যে ‘জয়ের সম্ভাবনাযুক্ত’ প্রার্থীতালিকায় তাদের অগ্রাধিকার যে সর্বাধিক মান্যতা পাবে তা রাজনৈতিক মহলের অনেকেই বলছেন। এক্ষেত্রেও বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের মতো এক-আধজন ব্যতিক্রম হতে পারেন—এই যা। সব মিলিয়ে রাজ্যের আমজনতার এই জল্পনা-কল্পনা বুঝিয়ে দিচ্ছে—এবার ২৩ মে বিজেপির পক্ষে ভালো দিন হতে যাচ্ছে। কেউ কেউ তো এক ধাপ চড়িয়ে ২০০৯ সালের ভোটফল টেনে আনছেন। বোঝাই যাচ্ছে এতক্ষণ যাদের মন্তব্য হিসেব-নিকেশ নিয়ে কথা হল—তারা সকলেই মন মানসিকতায় মমতা বিরোধী শিবিরের প্রতিনিধি। তাতে যে বর্তমান শাসকদলের কেউ নেই—এমন অবশ্য হলফ করে বলা যায় না। ধান্দাবাজ সবসময় ছিল আজও আছে—তৃণমূলেও আছে। মুখ্যমন্ত্রীর ভাষায় এরা ‘গদ্দার’। তথ্যভিজ্ঞদের মতে, এই ‘গদ্দার’দের ভূমিকাও এবারের ভোটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে। কিন্তু, এইসব জল্পনায় শেষপর্যন্ত বাংলার ভোটদেবতা শেষ অব্দি কতটা বিচলিত হবেন, তাঁর প্রসন্নতা কার প্রতি অধিক বর্ষিত হবে—সত্যি বলতে কী কেউ জানে না। তবে, বিজেপি যে দেশের অন্যত্র শক্তিক্ষয়ের ক্ষত পশ্চিমবঙ্গ সমেত পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলো থেকে ভরিয়ে নিতে চাইছে সেটা পরিষ্কার। সে জন্যই এবার মোদিজি অমিতজির এত সভা বাংলায়, পদ্মদলের পাখির চোখ হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ। তবে, মজাটা হল এই যে দেশে বিজেপি’র সামগ্রিক শক্তি হারানোর অনেক অঙ্ক পাওয়া যাচ্ছে বটে কিন্তু বাংলার ভোটে শক্তিবৃদ্ধির তেমন নিশ্চিত অঙ্ক এখনও মিলছে না। মোদিজি অমিত শাহ থেকে আম পাবলিক—সকলের সব হিসেবনিকেশ ৮/১০ থেকে ২২/২৩ যেন সেই একজনের সামনে এসে কেমন ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে, হারিয়ে ফেলছে খেই! বলা বাহুল্য, তিনি মমতা! তাঁর সামনে তাই যেন যাবতীয় জল্পনা-কল্পনার স্রোত প্রতিস্রোত উহ্য করে ৪২-এ ৪২-ও অসম্ভবের সম্ভাবনা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। লোকেই বলছে, হতেই পারে। নামে ৪২ ক্যান্ডিডেট কিন্তু প্রার্থী তো একজনই—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুতরাং, হতেই পারে। দেখুন কল্পনার বাহাদুরি না বাস্তবের রসায়ন—বাংলার ভোট-রাজনীতির মহারণাঙ্গনে ২৩ মে শেষে বিজয় শঙ্খ কে বাজায়। দেখা যাক।
09th  May, 2019
আত্মশক্তি ও আমরা
সমৃদ্ধ দত্ত

 এসব থাকলে যেটা হবে তা হল সর্বদা সরকারের উপর নির্ভর করে থাকতে হবে না। আমার কাছে সবথেকে আদর্শ হল গ্রামবাসীরা যদি নিজেদের ভালোর জন্য পারস্পরিক সহায়তায় নিজেরাই জোট বাঁধে। ভেদাভেদ ভুলে কী করলে গোটা গ্রামের উন্নতি ও মঙ্গল হবে, সেটা উপলব্ধি করে নিজেরাই পরিশ্রম করলে দেখা যাবে উন্নতির আলো। বিশদ

23rd  August, 2019
অ্যাট দ্য হোয়াইট হাউস কলাম থেকেই
খবরের কেন্দ্রে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাড়ি
মৃণালকান্তি দাস

 ১৮৯৬ সাল। উইলিয়াম ‘ফ্যাটি’ প্রাইস ওয়াশিংটন ইভিনিং স্টার পত্রিকায় কাজ করার একটা সুযোগ খুঁজছিলেন। পত্রিকার সিটি এডিটর হ্যারি গডউইন প্রাইসকে স্থায়ী চাকরি দেওয়ার আগে হোয়াইট হাউসে পাঠালেন একটি সংবাদ তৈরি করার জন্য। ওই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড। বিশদ

23rd  August, 2019
চক্রব্যূহে জাতীয় কংগ্রেস:
সোনিয়ার প্রত্যাবর্তন
প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায়

 আগস্ট মাস জাতীয় কংগ্রেস ও ভারতীয় রাজনীতিতে স্মরণীয় মাস। ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সূচনা হয়, আবার ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা অর্জন করে। মজার কথা, বিগত ১০ আগস্ট মধ্যরাত্রে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি নতুন কংগ্রেস সভাপতির নাম স্থির করার জন্য পাঁচটি কমিটি শলা-পরামর্শে বসে।
বিশদ

22nd  August, 2019
ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন বিল: কিছু আশঙ্কা 
বিষাণ বসু

চারদিকে বড় হইচই। বিষয় ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন বিল। স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের মেডিক্যাল শিক্ষার ব্যাপারটা দেখছিলেন এমসিআই, অর্থাৎ মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া। এমসিআই নিয়ে অভিযোগ ছিল বিস্তর—বিশেষত, তাঁদের কিছু কর্তাব্যক্তিকে নিয়ে। 
বিশদ

20th  August, 2019
জম্মু-কাশ্মীর: উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তির নতুন প্রভাত
রবিশঙ্কর প্রসাদ
 

জম্মু-কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের কল্যাণে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে, ৭০ বছরের পুরনো একটা সমস্যার নতুন সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের ৭০ দিনেরও কম সময়ে সমাধান হল। এই কারণে আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাহস ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ইচ্ছাশক্তিকে প্রশংসা করা উচিত।
 
বিশদ

20th  August, 2019
নিস্তেজ অর্থনীতির সত্যটা সরকার ভুলে যাচ্ছে 
পি চিদম্বরম

রাষ্ট্রপতি ভবন হল সরকারের ক্ষমতার আসনের প্রতীক। এক কিলো মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর অফিস (পিএমও), নর্থ ব্লক ও সাউথ ব্লক—মানে স্বরাষ্ট্র, অর্থ, প্রতিরক্ষা ও বিদেশ-এর মতো উচ্চ মন্ত্রকগুলি রয়েছে।   বিশদ

19th  August, 2019
সভাপতি পদে সোনিয়াজির প্রত্যাবর্তনে কংগ্রেস কি ছন্দ ফিরে পাবে
শুভা দত্ত

ছন্দ তো হারিয়েছে বহুদিন। ছন্দে ফেরার চেষ্টা—সেও শুরু হয়েছে বহুদিন। কিন্তু কিছুতেই যেন সেই পুরনো দমদার ছন্দে ফিরতে পারছে না জাতীয় কংগ্রেস! নেহরু-ইন্দিরার আমল থেকে গান্ধী পরিবারের ছত্রচ্ছায়ায় এবং নেতৃত্বে দলের যে অপ্রতিরোধ্য ছন্দ গোটা দেশকে কংগ্রেসি তেরঙ্গায় বেঁধে রেখেছিল, যে ছন্দ কংগ্রেস প্রতীক ইন্দিরার পাঞ্জার উপর বছরের পর বছর দেশের মানুষের আস্থা বিশ্বাস ও আবেগ ধরে রেখেছিল, জরুরি অবস্থা, নাসবন্দির মতো কাণ্ডের পরও যে ছন্দ ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেছিল কংগ্রেসকে, ইন্দিরা এবং ইন্ডিয়া হয়ে উঠেছিলেন সমার্থক—জাতীয় কংগ্রেসের সেই অমিত শক্তি রাজনৈতিক ছন্দ অনেক কাল আগেই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিয়েছে।
বিশদ

18th  August, 2019
ওয়াল স্ট্রিটের ‘নেকড়ে’-র গল্প!
মৃণালকান্তি দাস

ওয়াশিংটনের অপরিচিত কোনও এক পথে হাঁটতে হাঁটতে গল্পটা শুনিয়েছিলেন এমিলি ব্রাউন। গল্প বলতে, এক অপরাধীর ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনী। জর্ডন বেলফোর্টের গল্প। যিনি জীবনে অপরাধের নেশায় পড়ে সবকিছু হারিয়েছিলেন। কে এই জর্ডন বেলফোর্ট, জানেন? যাঁর জীবন কাহিনী শুনলে মনে হবে, এ এই মার্কিন মুলুকেই সম্ভব! বিশদ

17th  August, 2019
স্বাধীনতা ৭৩ এবং ভূস্বর্গের মুক্তি
মেরুনীল দাশগুপ্ত

গরিবি যতদিন না যাবে ততদিন এই উপত্যকায় শান্তি আসবে না। কারণ, কাশ্মীরি মানুষের গরিবিই ওদের একটা বড় হাতিয়ার। গরিব মানুষজনের অনেকেই ক’টা টাকার লোভে পড়ে সীমান্তর ওপার থেকে আসা লোকজনকে আশ্রয় দিয়ে, লুকিয়ে রেখে, খাবারদাবারের ব্যবস্থা করে ভ্যালির বিপদ বাড়িয়ে তুলছে।
বিশদ

15th  August, 2019
বনে থাকে বাঘ 
অতনু বিশ্বাস

ছেলেবেলায় ‘সহজ পাঠ’-এ পড়েছিলাম ‘বনে থাকে বাঘ’। যদিও এই পাঠটা যে খুব সহজ আর স্বাভাবিক নাও হতে পারে, অর্থাৎ বনে বাঘ নাও থাকতে পারে, সেটা বুঝতে বেশ বড় হতে হল। ছোটবেলায় অবশ্য মনে বদ্ধমূল ধারণা ছিল, বন-জঙ্গল গিজগিজ করে বাঘে। 
বিশদ

13th  August, 2019
রক্ষক আইন যেন ভক্ষক না হয়
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ভিক্টরি ম্যানসনে ঢুকলেন উইনস্টন স্মিথ। বহুতলে ঢুকেই নজরে আসবে দো’তলা সমান আখাম্বা ছবিটা। শুধু একটা মুখ। নীচে ক্যাপশন করা, বিগ ব্রাদার কিন্তু তোমাকে দেখছে। জর্জ অরওয়েলের কালজয়ী উপন্যাস ১৯৮৪-এর শুরুতেই উল্লেখ এই ছবির। আর এই নভেলের সারমর্মও লুকিয়ে এই ছবিতে—বিগ ব্রাদার দেখছে, তাই সাবধান। সাবধান হও সবাই... সরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ী, সাফাইকর্মী, বেসরকারি চাকুরে... মোদ্দা কথা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে। সবসময় নজরদারি।  
বিশদ

13th  August, 2019
পুতিন কি পারবেন নতুন বিশ্বের নেতৃত্ব দিতে?
গৌরীশঙ্কর নাগ

 ১৯১৭ খ্রিস্টব্দে বা তার কিছু আগে থেকে লেনিন, ট্রটস্কি প্রমুখ নিবেদিত প্রাণ কমরেডের হাত ধরে সোভিয়েত সমাজতন্ত্র নামক যে মহীরুহটি ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল তা গর্বাচেভ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর কীভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে—বিস্ময়ের সঙ্গে আমরা সেটা দেখেছি।
বিশদ

12th  August, 2019
একনজরে
 কাজল মণ্ডল, ইসলামপুর, সংবাদদাতা: ইসলামপুর মহকুমায় জনজাগরণ কর্মসূচি নিয়ে বিজেপি এখনও মাঠে নামতে পারেনি। তাছাড়া ইতিমধ্যেই একবার কর্মসূচি ঘোষণা করে তার দিনক্ষণ পিছতেও হয়েছে বিজেপিকে। জনজাগরণ নামের ওই কর্মসূচি প্রকৃত পক্ষে বিরোধীদের কাউন্টার করার কর্মসূচি। কিন্তু এনিয়ে বিজেপি’র টালবাহানায় দলের ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পূর্ত দপ্তরের অধীনে থাকা রাজ্যের প্রায় দু’হাজার ব্রিজ বা উড়ালপুলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে বছরে চারবার। কেএমডিএ’র অধীনে থাকা উড়ালপুলগুলির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ব্রিজ অ্যাডভাইসরি কমিটি তৈরি করা হয়েছে। তাদের নির্দেশেই ব্রিজের যান চলাচল বন্ধ রেখে লোড ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: তৃণমূলকে সরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে আনার ব্যাপারে ভোটারদের দু’বার ভাবতে বললেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের সন্ত্রাস ...

ইসলামাবাদ, ২৩ আগস্ট (পিটিআই): ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের শীতলতা রয়েছে ঠিকই। তা সত্ত্বেও ভারতীয় শিখ পূণ্যার্থীদের জন্য কর্তারপুর করিডর খুলে দিতে চলেছে ইমরান খানের সরকার। শুক্রবার এমনটাই জানিয়েছেন পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চবিদ্যার ক্ষেত্রে মধ্যম ফল আশা করা যায়। প্রতিযোগিতমূলক পরীক্ষায় সাফল্য আসবে। প্রেম-প্রণয়ে নতুনত্ব আছে। কর্মরতদের ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৬৯০: ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হয়ে কলকাতায় পা রাখলেন জোব চার্নক
১৯০৮: বিপ্লবী শিবরাম রাজগুরুর জন্ম
১৯৯১: সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টির প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন মিখাইল গর্বাচভ

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৭৯ টাকা ৭২.৪৯ টাকা
পাউন্ড ৮৫.৩৪ টাকা ৮৮.৫১ টাকা
ইউরো ৭৭.৯৮ টাকা ৮০.৯৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
23rd  August, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৩২৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮৭০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৪,০৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,১৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
23rd  August, 2019

দিন পঞ্জিকা

আজ জন্মাষ্টমী উৎসব
৭ ভাদ্র ১৪২৬, ২৪ আগস্ট ২০১৯, শনিবার, অষ্টমী ৮/১ দিবা ৮/৩২। রোহিণী ৫৭/১৯ রাত্রি ৪/১৬। সূ উ ৫/২০/১, অ ৫/৫৮/২১, অমৃতযোগ দিবা ৯/৩২ গতে ১২/৫৪ মধ্যে। রাত্রি ৮/১৩ গতে ১০/৩০ মধ্যে পুনঃ ১২/১ গতে ১/৩২ মধ্যে পুনঃ ২/১৮ গতে ৩/৪৮ মধ্যে, বারবেলা ৬/৫৪ মধ্যে পুনঃ ১/১৪ গতে ২/৪৯ মধ্যে পুনঃ ৪/২৪ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ৭/২৪ মধ্যে পুনঃ ৩/৫৫ গতে উদয়াবধি।
আজ জন্মাষ্টমী উৎসব
৬ ভাদ্র ১৪২৬, ২৪ আগস্ট ২০১৯, শনিবার, নবমী ৫৪/২১/৫৯ রাত্রি ৩/৩/৫১। রোহিণীনক্ষত্র ৪৮/১৪/৪৬ রাত্রি ১২/৩৬/৫৭, সূ উ ৫/১৯/৩, অ ৬/১/২৭, অমৃতযোগ দিবা ৯/৩১ গতে ১২/৪৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৮/১৪ গতে ১০/৩০ মধ্যে ও ১১/৫৭ গতে ১/৩১ মধ্যে ও ২/১৭ গতে ৩/৫১ মধ্যে, বারবেলা ১/১৫/৩৩ গতে ২/৫০/৫১ মধ্যে, কালবেলা ৬/৫৪/২১ মধ্যে ও ৪/২৬/৯ গতে ৬/১/২৭ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/২৬/৯ মধ্যে ও ৩/৫৪/২১ গতে ৫/১৯/১৯ মধ্যে।
 ২২ জেলহজ্জ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ঝাড়খণ্ডে লাইনচ্যুত মালগাড়ি 
ঝাড়খণ্ডে লাইনচ্যুত মালগাড়ি। দুর্ঘটনার জেরে বহু দুরপাল্লার ট্রেন একাধিক স্টেশনে ...বিশদ

09:20:10 PM

ডুরান্ড কাপ জিতল গোকুলাম
মোহন বাগানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ডুরান্ড কাপ জিতল গোকুলাম এফ ...বিশদ

07:02:58 PM

অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিগুলিতে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত 
প্রতিরক্ষা উৎপাদন সচিবের থেকে লিখিত আশ্বাস মেলায় কর্মবিরতি প্রত্যাহার করলেন ...বিশদ

03:49:44 PM

অরুণ জেটলির প্রয়াণে শোকপ্রকাশ প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের 

02:40:20 PM

প্রয়াত অরুণ জেটলি, আজকের দিনের সব কর্মসূচি বাতিল করল রাজ্য বিজেপি 

02:09:35 PM

এক গুরুত্বপূর্ণ বন্ধুকে হারামাল, অরুণ জেটলির প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করে ট্যুইট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির 

01:41:21 PM