Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

প্রিয়াঙ্কা কি পারবেন?
শুভা দত্ত

ভোটের বাজারে কিছুদিন ধরেই গুজব ছড়িয়েছিল, বারাণসীতে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হবেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। জল্পনা উসকে দিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। তাঁকে প্রশ্ন করলে বলেছিলেন, ব্যাপারটা নিয়ে একটু সাসপেন্স থাকুক। সাসপেন্স সবসময় খারাপ নয়।
জল্পনার অবসান হল বৃহস্পতিবার। প্রিয়াঙ্কা দাঁড়াচ্ছেন না বারাণসীতে। শোনা যাচ্ছে, সোনিয়া গান্ধী নাকি চাননি, মেয়ে রাজনীতিতে এসেই প্রথমে মোদির বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক। প্রিয়াঙ্কার নিজের নাকি আপত্তি ছিল না।
মোদির বিরুদ্ধে ভোটে প্রার্থী হচ্ছেন না ঠিকই, কিন্তু গৈরিক ব্রিগেডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনি যে কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান সেনাপতি, তাতে সন্দেহ নেই। হাইকমান্ড নিশ্চয় বুঝেছিল, একা রাহুলকে দিয়ে চলবে না। তাই লোকসভা ভোটের ঠিক আগে প্রিয়াঙ্কাকে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে এনেছে।
এর মধ্যে কংগ্রেস সমর্থকরা তাঁর মধ্যে প্রয়াত ইন্দিরা গান্ধীকে খুঁজে পাচ্ছেন। প্রিয়াঙ্কা নিজেও ঠাকুমার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলছেন, আমি ইন্দিরাজির আদর্শে চলব।
এবার ভোটে নরেন্দ্র মোদির হাতিয়ার হিন্দু জাতীয়তাবাদ। সন্ত্রাসদমন। এনআরসি করে অনুপ্রবেশকারী বিতাড়ন। তিনি অবশ্য উন্নয়ন নিয়ে বেশিকিছু বলছেন না। তবে তাঁর জনসভায় ভিড় হচ্ছে মন্দ নয়।
বিপরীতে প্রিয়াঙ্কাকে কেন্দ্র করেই কংগ্রেস এবার ঘুরে দাঁড়াতে চায়। কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতারা স্মরণ করছেন, বিংশ শতাব্দীর ছয়ের দশকের শেষদিককার কথা। সেবার গুরুতর সঙ্কটে পড়েছিল তাঁদের দল। পরিত্রাতার ভূমিকার অবতীর্ণ হয়েছিলেন প্রিয়দর্শিনী ইন্দিরা।
সেইসময়টা ছিল খুব টালমাটাল। তার কয়েক বছর আগে অস্ত গিয়েছেন নেহরু। দেশে প্রবল অর্থনৈতিক সঙ্কট। পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা থমকে দাঁড়িয়েছে। চাকরি-বাকরি নেই। যুবকরা খেপে উঠেছে। দলের প্রবীণ নেতারা মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।
এই অবস্থায় ইন্দিরা যে এসে দলকে ফের বাঁচিয়ে তুলবেন, তা অনেকেরই ভাবনার অতীত ছিল। কিন্তু নেহরু বুঝেছিলেন, তাঁর মেয়ের সেই ক্ষমতা আছে। তাঁর অবর্তমানে শক্ত হাতে কংগ্রেসের হাল ধরতে পারবে। মেয়েকে দলের সর্বোচ্চ পদটিতে বসানোর কাজটি তিনি করে গিয়েছিলেন সন্তর্পণে।
জরুরি অবস্থার অবসানের পর বরুণ সেনগুপ্ত একটি বই লেখেন—‘ইন্দিরা একাদশী’। তাতে আছে, কীভাবে মৃত্যুর আগে নেহরু কামরাজ পরিকল্পনার নামে একে একে ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন বয়োবৃদ্ধ নেতাদের। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল মেয়েকে নেতৃত্বের সামনের সারিতে নিয়ে আসা।
ইন্দিরার পক্ষে প্রধানমন্ত্রী হওয়া অত সহজ হয়নি তা’বলে। নেহরুর পরে যিনি প্রধানমন্ত্রী হলেন, সেই লালবাহাদুর শাস্ত্রী ভালো চোখে দেখতেন না তাঁকে। ইন্দিরা একসময় নাকি হতাশ হয়ে ভেবেছিলেন, দেশ ছেড়ে চলেই যাবেন লন্ডনে।
১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পরে শাস্ত্রীজি তাসখন্দে আচমকাই মারা গেলেন। তখন কংগ্রেসে প্রধানমন্ত্রী পদের দাবিদার মোরারজি দেশাই। তিনি খুব কঠোর প্রকৃতির মানুষ। কংগ্রেসের নেতারা অনেকে পছন্দ করতেন না তাঁকে। তাঁরা উদ্যোগ নিয়ে ইন্দিরাকে মসনদে বসালেন।
অনেকেই ভাবতেন, ইন্দিরা শান্তশিষ্ট মুখচোরা মহিলা। কোনও ব্যাপারে জোরের সঙ্গে নিজের মত প্রকাশ করতে পারেন না।
প্রবীণ কংগ্রেসিদের মধ্যে তাঁর একটা চালু নাম ছিল—‘গুংগি গুড়িয়া’। তার মানে বোবা পুতুল। অনেকে চেয়েছিলেন, ইন্দিরা সত্যিই প্রধানমন্ত্রী পদে কাঠপুতলির মতো বসে থাকুন, তাঁরা আড়াল থেকে দেশ চালাবেন।
ইতিহাস সাক্ষী, তাঁরা খুব ভুল ভেবেছিলেন।
ইন্দিরা যে দক্ষ রাজনীতিক হয়ে উঠবেন তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। তিনি রাজনীতি করা পরিবারের সন্তান। তাঁর দুটি প্রজন্ম আগে নেহরু পরিবারের রাজনীতিতে প্রবেশ ঘটেছে। তাঁর ঠাকুর্দা ও বাবা, দু’জনেই জাতীয় রাজনীতিতে খুব নামকরা নেতা ছিলেন।
পরিবারের সুবাদে ছোটবেলা থেকে দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে ইন্দিরার পরিচয়। সেই আমলের আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যাঁরা ক্ষমতাশালী ব্যক্তি, তাঁদেরও তিনি চিনতেন। শুধু রাজনীতিক নয়, বিশ্ববরেণ্য সাহিত্যিক, বৈজ্ঞানিক, চিত্রকর ও অন্যান্য বিখ্যাত ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর আলাপ ছিল। উঁচু মানের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে তিনি বড় হয়েছেন। তাঁর চরিত্র ছিল সংবেদনশীল। দেশের দরিদ্র জনতা, বিশেষত তরুণরা কী চায়, তিনি ভালো বুঝতেন। ছয়ের দশকের শেষে যখন কংগ্রেসের মধ্যে নতুন ধ্যানধারণা আনা খুব প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল, তখন তিনি হয়ে উঠেছিলেন অবিসংবাদী নেত্রী।
সেই আমলে বামপন্থীরা কথায় কথায় কংগ্রেসকে বড়লোকের দল বলে গাল দিত। কিন্তু ইন্দিরা যখন রাজন্যভাতা বিলোপ করলেন, ব্যাঙ্ক জাতীয়করণ করলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দিলেন, সিপিএমের মতো দলও তাঁর প্রশংসা না করে পারেনি।
একাত্তর সালে ইন্দিরার জনপ্রিয়তা উঠেছিল তুঙ্গে। ভোটেও তাঁর সামনে বিরোধীরা খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছিল।
কংগ্রেসিরা কেউ কেউ আশা করছেন, প্রিয়াঙ্কার নেতৃত্বে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। আবার অনেকে ভাবছেন, অত দূর না হলেও প্রিয়াঙ্কার ক্যারিশমার জোরে অন্তত কেন্দ্রে জোট সরকার গড়ার মতো আসন পেতে পারে কংগ্রেস।
তাঁর উপর এত দূর আশা করা কি ঠিক হচ্ছে?
একথা সত্যি যে, প্রিয়াঙ্কা রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ নন।
তিরিশ বছর আগে, ’৮৯ সালে তিনি প্রথম ভোটে প্রচার করেছিলেন বাবার হয়ে। সেবার রাজীব গান্ধীর কেন্দ্র ছিল আমেথি।
প্রিয়াঙ্কার জন্ম ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি। ’৮৯ সালে তিনি বছর সতেরোর কিশোরী। তখন থেকেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি।
তারপর দীর্ঘ বিরতি। ’৯৯ সালে তিনি ফের প্রচারে রায়বেরিলিতে। লোকসভা ভোটে বিজেপির প্রার্থী অরুণ নেহরু। তিনি একসময় রাজীব গান্ধীর খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। পরে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন।
বিপরীতে কংগ্রেস প্রার্থী ক্যাপ্টেন সতীশ শর্মা। ২৭ বছরের তরুণী প্রিয়াঙ্কা সেবার খুব আক্রমণাত্মক। মানুষকে প্রশ্ন করছেন, কেয়া, আপ উস ব্যক্তি কো ভোট দেঙ্গে জিসনে মেরি পিতা কো পিঠ মে ছুরি ভুঁকি হ্যায়? আপনারা কি সেই ব্যক্তিকে ভোট দেবেন, যিনি আমার বাবার পিঠে ছুরি মেরেছেন?
সেবার সতীশ শর্মা জয়ী হন। তার মানে, প্রিয়াঙ্কার প্রচারে ফল হয়েছিল।
২০০৪ সালের লোকসভা ভোটে সকলের আশা ছিল, রাজীব তনয়া নিজে প্রার্থী হবেন। কিন্তু তিনি হননি। সেবার সোনিয়া তাঁর আমেথি কেন্দ্র ছেড়ে সরে গেলেন রায়বেরিলিতে। আমেথিতে প্রার্থী হলেন রাহুল। সবাই বুঝল, তিনিই নেহরু-গান্ধী পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরসূরি, প্রিয়াঙ্কা নন।
আমেথিতে রাহুলের হয়ে প্রচারে দেখা গেল তাঁর বোনকে।
২০১৪ সালে আরও একবার উত্তরপ্রদেশে জোরালো দাবি উঠল, প্রিয়াঙ্কাকে প্রার্থী হতে হবে। এলাহাবাদের কংগ্রেস কর্মীরা একটা ব্যানার তৈরি করেছিলেন, যাতে লেখা—‘‘মাইয়া অব রহতি বিমার, ভাইয়া পর পড় গয়ি ভার, প্রিয়াঙ্কা ফুলপুর সে বনো উম্মিদবার, পার্টি কা করো প্রচার, কংগ্রেস সরকার বানাও তিসরি বার।’’
এর অর্থ—মা সোনিয়া গান্ধী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ভাই রাহুলের উপর বেশি চাপ পড়ে যাচ্ছে। প্রিয়াঙ্কা ফুলপুর থেকে প্রার্থী হোন। তৃতীয় বার কংগ্রেস সরকার বানান।
তিনি এই আবেদনেও সাড়া দেননি। কিন্তু ভোটের কৌশল রচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। শোনা যায়, উত্তরপ্রদেশে তাঁর মত নিয়ে অন্তত ২০ জন প্রার্থী ঠিক হয়েছিল। দেশের অন্যান্য প্রান্তেও প্রার্থী ঠিক করার সময় তাঁর পছন্দ অপছন্দ গুরুত্ব পেয়েছিল।
২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশের ভোট ছিল মোদি সরকারের অ্যাসিড টেস্ট। তার ক’মাস আগে নোটবন্দি হয়েছে। রাতারাতি ৫০০ আর ১০০০ টাকার নোট বাতিল। ব্যাঙ্কে বিরাট লাইন। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ।
অনেকে ভেবেছিলেন, ভোটে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। কংগ্রেস ভোটে স্ট্র্যাটেজি ঠিক করার জন্য প্রশান্ত কিশোরের সাহায্য নিয়েছিল। কংগ্রেসের সঙ্গে সমাজবাদী পার্টির যাতে জোট হয় সেজন্য অখিলেশ সিং যাদবের সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা। নভজ্যোৎ সিং সিধুসহ বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে কংগ্রেসে নিয়ে আসার কৃতিত্বও নাকি তাঁর। ২০১৮ সালে কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট পদে যাতে রাহুলের অভিষেক হয় তাও নাকি তিনিই নিশ্চিত করেছিলেন।
অর্থাৎ দীর্ঘকাল ধরে তিনি নেপথ্যে থেকে কংগ্রেস সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। এতদিনে সামনে এলেন।
ইন্দিরা যখন কংগ্রেসের দায়িত্ব নেন তখন তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ ছিলেন দক্ষিণপন্থীরা। সে-যুগে কংগ্রেসের মধ্যেই ছিল দক্ষিণপন্থী লবি। অন্যদিকে, ইন্দিরা ছিলেন বামঘেঁষা। গরিবদরদি ভাবমূর্তি ছিল তাঁর।
সেইসময়কার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির কিছু মিল আছে।
এখনও দক্ষিণপন্থীরা জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের প্রধান প্রতিপক্ষ। তাদের দল বিজেপি। অভিযোগ, তারা ধনীদের তোষণ করে। মোদি গত লোকসভা ভোটের আগে বলেছিলেন বটে যে ক্ষমতায় এলে কালো টাকার কারবারিদের শায়েস্তা করবেন। বাস্তবে কিছুই করেননি।
কংগ্রেস ইন্দিরার আমলের মতোই গরিবদরদি কর্মসূচির কথা বলছে। রাহুল গান্ধী বলেছেন, ক্ষমতায় এলে ‘ন্যায়’ প্রকল্প রূপায়ণ করবেন। দেশের সবচেয়ে গরিব পরিবারগুলি মাসে কমপক্ষে ১২ হাজার টাকা আয় করতে পারবে।
কংগ্রেসের একটা বড় অভিযোগ, মোদির আমলে ভারতের সহনশীলতার ঐতিহ্য নষ্ট হয়েছে।
একথা ঠিক যে, গত কয়েক বছরে গোরক্ষার নামে বেশ কয়েকজন নিরীহ মানুষ খুন হয়েছেন। তার পিছনে বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের মদত ছিল।
কংগ্রেসের আর একটা হাতিয়ার ‘রাফাল দুর্নীতি’। কয়েক মাস ধরে রাহুল গান্ধী টানা অভিযোগ করে আসছেন অত্যধিক দাম দিয়ে ফ্রান্স থেকে যুদ্ধবিমান কিনছে এনডিএ সরকার। বিমান কেনার চুক্তিতে বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন মোদির বন্ধু শিল্পপতি অনিল আম্বানি।
ধরে নেওয়া যায়, এবারও প্রিয়াঙ্কা লোকসভা ভোটে কংগ্রেসের কৌশল রচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। বিজেপিকে কোন কোন ইস্যু তুলে আক্রমণ করা হবে, সে-ব্যাপারে নিশ্চয় তার মতামত নেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু কেবল ইস্যু তুললেই হল না, তা জনসাধারণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা চাই। ইন্দিরা ঩সেই কাজটি পেরেছিলেন। প্রিয়াঙ্কা কি পারবেন? শুধু কংগ্রেসিরা নন, বিজেপি-বিরোধী সব দলই চাইছে তিনি সফল হোন। কারণ, সর্বভারতীয় স্তরে মোদির মোকাবিলা করার মতো আর কোনও নেতা বা নেত্রী নেই।
26th  April, 2019
 দেশ চেয়েছে একজন শক্তিশালী নেতা
আর রাজ্যের দাবি গণতান্ত্রিক পরিসর
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

 দেশের মানুষ শক্তিশালী নেতার পক্ষে স্পষ্ট রায় জানিয়েছেন। শত বিভাজিত বিরোধী শিবির অপেক্ষা একক নেতার প্রতি সাধারণ মানুষ যে ভরসা করেন আরও একবার বিজেপির পক্ষে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে তা প্রমাণিত হল।
বিশদ

মোদির প্রত্যাবর্তন
 শান্তনু দত্তগুপ্ত

ঘড়ি ধরে ঘুম ভেঙেছিল ঠিক সকাল ৫টায়। প্রথমে নিয়মমাফিক যোগব্যায়াম, তারপর খবরে চোখ রাখা। নাঃ, সব শান্তিতেই আছে... নিশ্চিন্ত মনে ব্রেকফাস্ট নিয়ে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী। সাড়ে ৮টা নাগাদ খবর আসা শুরু হল... কিছু একটা হয়েছে গোধরায়... কয়েকজন মারা গিয়েছে। সংখ্যাটা বাড়তেও পারে... ট্রেনে কিছু... এখনও শিওর হওয়া যাচ্ছে না। সেদিন আবার বিধানসভায় বাজেট পেশ।  
বিশদ

24th  May, 2019
সাবধান! গ্রাফিতি নিয়ে ব্যাঙ্কসি এবার ভারতেও
মৃণালকান্তি দাস

কোনও রাজা নয়। রাজার মূর্তিও নয়। দুই নেতার টানাটানিতে দ্বিখণ্ডিত ভারত! এটাই ছিল মুম্বইয়ের রাজপথের পাশে কোনও এক দেওয়ালে আঁকা গ্রাফিতি। দড়ি টানাটানি করছেন যাঁরা, তাঁদের একজন ‘নাগরিক’ পোশাকে সজ্জিত কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। অন্যজনের পরনে সামরিক উর্দি। তিনি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কে এঁকেছেন, জানা নেই।
বিশদ

23rd  May, 2019
ভোটফল ২০১৯: ভালো মন্দ যা-ই ঘটুক উৎসবের মেজাজটি যেন বজায় থাকে
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আজ সেই বহু প্রতীক্ষিত বৃহস্পতিবার, ২৩ মে। জল্পনা-কল্পনা, আন্দাজ-অনুমানের যাবতীয় কুহেলিকা সরিয়ে আজ প্রকাশ পাবে ২০১৯ লোকসভার চূড়ান্ত চিত্র। দেশজনতা আগামী পাঁচ বছরের জন্য কার হাতে পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র এই ভারতের শাসনভার তুলে দিলেন— জানা যাবে আজ।
বিশদ

23rd  May, 2019
অর্ধেক বুথে ভিভিপ্যাট গণনার দাবি এক মস্ত
চ্যালেঞ্জ, ব্যালটের যুগেই ফেরার তোড়জোড়
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের নির্বাচনী রাজসূয় যজ্ঞের চূড়ান্ত পর্বে ভোট গণনা ও ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র ভারত তো বটেই, সারা পৃথিবী। গত কয়েক মাস ধরে চলা রাজনীতির ঘাত-প্রতিঘাত, চাপান-উতোর, দাবি, পাল্টা দাবির সত্যতা উঠে আসবে গণনার মধ্য দিয়ে।
বিশদ

22nd  May, 2019
পশ্চিমবঙ্গের ভোট বিশ্লেষণ
শুভময় মৈত্র

 এ লেখা যখন আপনারা পড়ছেন, ততক্ষণে বুথফেরত সমীক্ষা আপনাদের হাতে। কিন্তু সমীক্ষা মানেই যে সেটা মিলবে এমনটা নয়। তার কারণ দুটো। এক হল সমস্ত সমীক্ষারই সফল হওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকে। ঘুরিয়ে বললে সম্ভাবনা থাকে ব্যর্থ হওয়ারও।
বিশদ

21st  May, 2019
ভোট ও বুথ-ফেরত সমীক্ষার হাল-হকিকত
অতনু বিশ্বাস

ছ’সপ্তাহ-ব্যাপী লোকসভা নির্বাচন। সাত দফায়। তারও প্রায় পাঁচ সপ্তাহ আগে থেকে প্রচার, ইত্যাদি। আর এখন এক ক্লান্তিকর সময়কালের পরিসমাপ্তিতে অপেক্ষ্যমান জনগণ। কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে ঢুকে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার মত অনভিপ্রেত ঘটনার অভিঘাতে বিমূঢ়, রাজনৈতিক চাপান-উতোর আর হানাহানিতে দীর্ণ, এবং সুদীর্ঘ ভোটপর্বের শেষে গোটা ভারতবর্ষ এখন তাকিয়ে আছে বৃহস্পতিবারের দিকে।
বিশদ

21st  May, 2019
অবশেষে সমাপ্ত, তিক্ততাসহ
পি চিদম্বরম

বিজেপি প্রচারের গোড়ায় ‘গিয়ার’ বদলে নিয়েছিল। ‘আচ্ছে দিন’-এর কথা ভুলক্রমেও উচ্চারিত হয়নি। ২০১৪ সালের প্রতিশ্রুতিগুলি বিজেপির জন্য এক বিড়ম্বনায় পরিণত হয়েছিল। নরেন্দ্র মোদি ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’, পুলওয়ামা-বালাকোট এবং জাতীয়তাবাদের ছত্রছায়ায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’ হল স্রেফ একটা ক্রস-বর্ডার অ্যাকশন বা সীমান্ত টপকে হানা—যা দিয়ে পাকিস্তানকে কোনোরকমে নিরস্ত করা যায়নি।
বিশদ

20th  May, 2019
নতুন বন্ধুর খোঁজে কংগ্রেস ও বিজেপি
শুভা দত্ত

বিজেপি যদি ২২০ থেকে ২৩০-এর বেশি আসন না পায়, তখন কী হবে? এনডিএ-র শরিকরা একবাক্যে বলবে, মোদির ভুলভাল সিদ্ধান্তের জন্যই ভোটার বিমুখ হয়েছে, সুতরাং তাঁকে আর প্রধানমন্ত্রী করার দরকার নেই। আরএসএস অবশ্য তাঁকে সরাতে চাইবে না। এই অবস্থায় অমিত শাহরা ঝাঁপিয়ে পড়বেন যাতে আরও কয়েকটি দলকে তাঁদের সমর্থনে পাওয়া যায়। বিজেপি যদি ১৪০ থেকে ১৬০-এর মধ্যে আসন পায়? তাহলে নিশ্চিতভাবেই মোদির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা জলাঞ্জলি যাবে। যতই নতুন বন্ধু আসুক, দিল্লিতে সরকার গড়া কিছুতেই সম্ভব হবে না। বিজেপিকে বসতে হবে বিরোধী আসনে।
বিশদ

20th  May, 2019
শেষ দফার ভোটে শান্তি বজায় রাখাই
আজ কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

শুভা দত্ত

দেখতে দেখতে সাত দফার লম্বা ভোটযুদ্ধ শেষ হয়ে এল। আজ সপ্তম, তথা শেষ দফা। তারপরই শুরু হয়ে যাবে লোকসভা মহাযুদ্ধের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য কাউন্টডাউন। রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৩৩টির ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, যাদবপুর সমেত বাকি ন’টি আসনের ভাগ্য নির্ধারিত হবে আজ। 
বিশদ

19th  May, 2019
ভোট কেন দেশের
নামে হল না?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সামনে একটি প্লাইউডের কাটআউট। মাঝখানটা জানালার মতো কেটে জায়গা করা। সেলফি জোন বা সেলফি পয়েন্ট। অবশ্য সেটা নামেই। নিজে ছবি তুললে ইমপ্যাক্ট পড়বে না। বরং বিষয়টা এমন, ভোট দিয়ে বেরিয়ে ভোটার সেখানে দাঁড়াবেন... উল্টোদিক থেকে কেউ ছবি তুলবে।
বিশদ

18th  May, 2019
এবার ভোটে যে-কথা কেউ বলেনি
শুভা দত্ত

 ভোটপর্ব শেষ হয়ে এল। সামনের রবিবারেই ভোটগ্রহণ শেষ। প্রচারও শেষ হল। বৈশাখের দহন জ্বালা যত বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনীতির উত্তাপ। মারদাঙ্গা, ভাঙচুর, ব্যক্তিগত আক্রমণ, সবই চলছে। এবার একটা বড় ইস্যু দেশের সুরক্ষা। তার সঙ্গে দুর্নীতি, বেকারত্ব, চাষিদের দুর্দশা এসবও আছে। কিন্তু একটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কেউ কথা বলেনি। বিষয়টি হল বায়ুদূষণ। বিশদ

17th  May, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, কান্দি: নিজের জীবনের অন্তত ২০ বছর বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলোর মাধ্যমে কাটিয়েছেন। কখনও কাবাডি নিয়ে মেতে উঠেছিলেন, আবার কখনও ভলিবল খেলায় উৎসাহ জুগিয়েছিলেন। যদিও ফুটবল তাঁর প্রিয় খেলা। ...

ভুবনেশ্বর, ২৪ মে (পিটিআই): পাঁচে পাঁচ। রেকর্ড গড়ে পরপর পাঁচবারের জন্য ওড়িশার ক্ষমতা নিজেদের দখলে রাখল বিজু জনতা দল (বিজেডি)। ১৪৭টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১১২টিতে ...

 দীপ্তিমান মুখোপাধ্যায়, হাওড়া: ব্যবধান মাত্র তিন বছরের। তার মধ্যেই হাওড়া সদর লোকসভার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রেই তৃণমূলের জয়ের মার্জিন অনেকখানি কমল। যদিও শতাংশের হারে তৃণমূলের ভোট না কমলেও সিপিএমের ভোট প্রায় সবটাই বিজেপির বাক্সে গিয়েছে। ...

 নয়াদিল্লি ও মুম্বই, ২৪ মে (পিটিআই): মোদি-ঝড়ে দ্বিতীয় দিনেও চাঙ্গা শেয়ার বাজার। শুক্রবার ৬২৩ পয়েন্ট বেড়ে ৩৯ হাজার ৪৩৪.৭২ পয়েন্টে পৌঁছল বম্বে শেয়ার বাজার সূচক সেনসেক্স। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শারীরিক কারণে কর্মে বাধা দেখা দেবে। সন্তানরা আপনার কথা মেনে না চলায় মন ভারাক্রান্ত হবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

 বিশ্ব থাইরয়েড দিবস
১৮৮৬: বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর জন্ম
১৮৯৯: বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম
১৯০৬ - বিখ্যাত ভাস্কর রামকিঙ্কর বেইজের জন্ম
১৯২৪ - শিক্ষাবিদ, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এর ভাইস-চ্যান্সেলর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৭২: পরিচালক করণ জোহরের জন্ম
২০০৫: অভিনেতা সুনীল দত্তের মৃত্যু
২০০৯: পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলায় আইলা আঘাত করল
২০১৮ - শান্তি নিকেতনে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৬৫ টাকা ৭০.৩৪ টাকা
পাউন্ড ৮৬.২৯ টাকা ৮৯.৫১ টাকা
ইউরো ৭৬.০৩ টাকা ৭৮.৯৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,১৪৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,৫০০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩০,৯৬০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৬,৪৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৬,৫৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৫ মে ২০১৯, শনিবার, ষষ্ঠী ৩/৪১ দিবা ৬/২৬। শ্রবণা ১৩/১৪ দিবা ১০/১৫। সূ উ ৪/৫৭/০, অ ৬/৯/৪৮, অমৃতযোগ দিবা ৩/৩১ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৬/৫২ গতে ৭/৩৫ মধ্যে পুনঃ ১১/১২ গতে ১/২১ মধ্যে পুনঃ ২/৪৭ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৬/৩৬ মধ্যে পুনঃ ১/১২ গতে ২/৫১ মধ্যে পুনঃ ৪/৩১ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ৭/৩০ মধ্যে পুনঃ ৩/৩৬ গতে উদয়াবধি।
১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৫ মে ২০১৯, শনিবার, ষষ্ঠী ২/১০/২৫ দিবা ৫/৪৮/৪৮। শ্রবণানক্ষত্র ১২/৪০/১৪ দিবা ১০/০/৪৪, সূ উ ১/২৯/৫, অ ৬/১১/৫৫, অমৃতযোগ দিবা ৩/৩৬ গতে ৬/১২ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/০ গতে ৭/৪২ মধ্যে ও ১১/১৬ গতে ১/২২ মধ্যে ও ২/৪৮ গতে ৪/৫৬ মধ্যে, বারবেলা ১/১৩/৪১ গতে ২/৫৩/৬ মধ্যে, কালবেলা ৬/৩৬/৩ মধ্যে ও ৪/৩২/৩১ গতে ৬/১১/৫৫ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৩২/৩০ মধ্যে ও ৩/৩৬/২ গতে ৪/৫৬/৩১ মধ্যে।
১৯ রমজান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
সুরাতে আগুন: মৃতদের পরিবার পিছু ৪ লক্ষ টাকা সাহায্য ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানী ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি মৃতদের ...বিশদ

24-05-2019 - 06:19:00 PM

সুরাতে আগুন: কমপক্ষে ১৫ জনের মৃত্যু
সুরাত পুলিস কমিশনার সতীশকুমার মিশ্র জানিয়েছেন, কমপক্ষে ১৫ জনের মৃত্যু ...বিশদ

24-05-2019 - 06:16:00 PM

সুরাতে আগুন: সমবেদনা জানালেন মোদি 
অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। সুরাতে আগুন লাগার ঘটনা প্রসঙ্গে জানালেন নরেন্দ্র মোদি। ...বিশদ

24-05-2019 - 06:07:00 PM

ভয়াবহ অগ্নিকান্ড সুরাতে
ভয়াবহ আগুন সুরাতের সার্থনার একটি বাড়িতে। ঘটনাস্থলে দমকলের ১৮টি ইঞ্জিন। ...বিশদ

24-05-2019 - 06:01:00 PM

শুভ্রাংশু রায়কে সাসপেন্ড করল তৃণমূল
দলে থেকে দল বিরোধী মন্তব্য করার অপরাধে এবং অন্য ...বিশদ

24-05-2019 - 05:26:55 PM

আউশগ্রামের দিগনগরে তৃণমূল কার্যালয়ে ভাঙচুর করে আগুন লাগানোর অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে 

24-05-2019 - 04:26:22 PM