Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

প্রিয়াঙ্কা কি পারবেন?
শুভা দত্ত

ভোটের বাজারে কিছুদিন ধরেই গুজব ছড়িয়েছিল, বারাণসীতে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হবেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। জল্পনা উসকে দিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। তাঁকে প্রশ্ন করলে বলেছিলেন, ব্যাপারটা নিয়ে একটু সাসপেন্স থাকুক। সাসপেন্স সবসময় খারাপ নয়।
জল্পনার অবসান হল বৃহস্পতিবার। প্রিয়াঙ্কা দাঁড়াচ্ছেন না বারাণসীতে। শোনা যাচ্ছে, সোনিয়া গান্ধী নাকি চাননি, মেয়ে রাজনীতিতে এসেই প্রথমে মোদির বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক। প্রিয়াঙ্কার নিজের নাকি আপত্তি ছিল না।
মোদির বিরুদ্ধে ভোটে প্রার্থী হচ্ছেন না ঠিকই, কিন্তু গৈরিক ব্রিগেডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনি যে কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান সেনাপতি, তাতে সন্দেহ নেই। হাইকমান্ড নিশ্চয় বুঝেছিল, একা রাহুলকে দিয়ে চলবে না। তাই লোকসভা ভোটের ঠিক আগে প্রিয়াঙ্কাকে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে এনেছে।
এর মধ্যে কংগ্রেস সমর্থকরা তাঁর মধ্যে প্রয়াত ইন্দিরা গান্ধীকে খুঁজে পাচ্ছেন। প্রিয়াঙ্কা নিজেও ঠাকুমার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলছেন, আমি ইন্দিরাজির আদর্শে চলব।
এবার ভোটে নরেন্দ্র মোদির হাতিয়ার হিন্দু জাতীয়তাবাদ। সন্ত্রাসদমন। এনআরসি করে অনুপ্রবেশকারী বিতাড়ন। তিনি অবশ্য উন্নয়ন নিয়ে বেশিকিছু বলছেন না। তবে তাঁর জনসভায় ভিড় হচ্ছে মন্দ নয়।
বিপরীতে প্রিয়াঙ্কাকে কেন্দ্র করেই কংগ্রেস এবার ঘুরে দাঁড়াতে চায়। কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতারা স্মরণ করছেন, বিংশ শতাব্দীর ছয়ের দশকের শেষদিককার কথা। সেবার গুরুতর সঙ্কটে পড়েছিল তাঁদের দল। পরিত্রাতার ভূমিকার অবতীর্ণ হয়েছিলেন প্রিয়দর্শিনী ইন্দিরা।
সেইসময়টা ছিল খুব টালমাটাল। তার কয়েক বছর আগে অস্ত গিয়েছেন নেহরু। দেশে প্রবল অর্থনৈতিক সঙ্কট। পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা থমকে দাঁড়িয়েছে। চাকরি-বাকরি নেই। যুবকরা খেপে উঠেছে। দলের প্রবীণ নেতারা মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।
এই অবস্থায় ইন্দিরা যে এসে দলকে ফের বাঁচিয়ে তুলবেন, তা অনেকেরই ভাবনার অতীত ছিল। কিন্তু নেহরু বুঝেছিলেন, তাঁর মেয়ের সেই ক্ষমতা আছে। তাঁর অবর্তমানে শক্ত হাতে কংগ্রেসের হাল ধরতে পারবে। মেয়েকে দলের সর্বোচ্চ পদটিতে বসানোর কাজটি তিনি করে গিয়েছিলেন সন্তর্পণে।
জরুরি অবস্থার অবসানের পর বরুণ সেনগুপ্ত একটি বই লেখেন—‘ইন্দিরা একাদশী’। তাতে আছে, কীভাবে মৃত্যুর আগে নেহরু কামরাজ পরিকল্পনার নামে একে একে ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন বয়োবৃদ্ধ নেতাদের। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল মেয়েকে নেতৃত্বের সামনের সারিতে নিয়ে আসা।
ইন্দিরার পক্ষে প্রধানমন্ত্রী হওয়া অত সহজ হয়নি তা’বলে। নেহরুর পরে যিনি প্রধানমন্ত্রী হলেন, সেই লালবাহাদুর শাস্ত্রী ভালো চোখে দেখতেন না তাঁকে। ইন্দিরা একসময় নাকি হতাশ হয়ে ভেবেছিলেন, দেশ ছেড়ে চলেই যাবেন লন্ডনে।
১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পরে শাস্ত্রীজি তাসখন্দে আচমকাই মারা গেলেন। তখন কংগ্রেসে প্রধানমন্ত্রী পদের দাবিদার মোরারজি দেশাই। তিনি খুব কঠোর প্রকৃতির মানুষ। কংগ্রেসের নেতারা অনেকে পছন্দ করতেন না তাঁকে। তাঁরা উদ্যোগ নিয়ে ইন্দিরাকে মসনদে বসালেন।
অনেকেই ভাবতেন, ইন্দিরা শান্তশিষ্ট মুখচোরা মহিলা। কোনও ব্যাপারে জোরের সঙ্গে নিজের মত প্রকাশ করতে পারেন না।
প্রবীণ কংগ্রেসিদের মধ্যে তাঁর একটা চালু নাম ছিল—‘গুংগি গুড়িয়া’। তার মানে বোবা পুতুল। অনেকে চেয়েছিলেন, ইন্দিরা সত্যিই প্রধানমন্ত্রী পদে কাঠপুতলির মতো বসে থাকুন, তাঁরা আড়াল থেকে দেশ চালাবেন।
ইতিহাস সাক্ষী, তাঁরা খুব ভুল ভেবেছিলেন।
ইন্দিরা যে দক্ষ রাজনীতিক হয়ে উঠবেন তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। তিনি রাজনীতি করা পরিবারের সন্তান। তাঁর দুটি প্রজন্ম আগে নেহরু পরিবারের রাজনীতিতে প্রবেশ ঘটেছে। তাঁর ঠাকুর্দা ও বাবা, দু’জনেই জাতীয় রাজনীতিতে খুব নামকরা নেতা ছিলেন।
পরিবারের সুবাদে ছোটবেলা থেকে দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে ইন্দিরার পরিচয়। সেই আমলের আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যাঁরা ক্ষমতাশালী ব্যক্তি, তাঁদেরও তিনি চিনতেন। শুধু রাজনীতিক নয়, বিশ্ববরেণ্য সাহিত্যিক, বৈজ্ঞানিক, চিত্রকর ও অন্যান্য বিখ্যাত ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর আলাপ ছিল। উঁচু মানের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে তিনি বড় হয়েছেন। তাঁর চরিত্র ছিল সংবেদনশীল। দেশের দরিদ্র জনতা, বিশেষত তরুণরা কী চায়, তিনি ভালো বুঝতেন। ছয়ের দশকের শেষে যখন কংগ্রেসের মধ্যে নতুন ধ্যানধারণা আনা খুব প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল, তখন তিনি হয়ে উঠেছিলেন অবিসংবাদী নেত্রী।
সেই আমলে বামপন্থীরা কথায় কথায় কংগ্রেসকে বড়লোকের দল বলে গাল দিত। কিন্তু ইন্দিরা যখন রাজন্যভাতা বিলোপ করলেন, ব্যাঙ্ক জাতীয়করণ করলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দিলেন, সিপিএমের মতো দলও তাঁর প্রশংসা না করে পারেনি।
একাত্তর সালে ইন্দিরার জনপ্রিয়তা উঠেছিল তুঙ্গে। ভোটেও তাঁর সামনে বিরোধীরা খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছিল।
কংগ্রেসিরা কেউ কেউ আশা করছেন, প্রিয়াঙ্কার নেতৃত্বে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। আবার অনেকে ভাবছেন, অত দূর না হলেও প্রিয়াঙ্কার ক্যারিশমার জোরে অন্তত কেন্দ্রে জোট সরকার গড়ার মতো আসন পেতে পারে কংগ্রেস।
তাঁর উপর এত দূর আশা করা কি ঠিক হচ্ছে?
একথা সত্যি যে, প্রিয়াঙ্কা রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ নন।
তিরিশ বছর আগে, ’৮৯ সালে তিনি প্রথম ভোটে প্রচার করেছিলেন বাবার হয়ে। সেবার রাজীব গান্ধীর কেন্দ্র ছিল আমেথি।
প্রিয়াঙ্কার জন্ম ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি। ’৮৯ সালে তিনি বছর সতেরোর কিশোরী। তখন থেকেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি।
তারপর দীর্ঘ বিরতি। ’৯৯ সালে তিনি ফের প্রচারে রায়বেরিলিতে। লোকসভা ভোটে বিজেপির প্রার্থী অরুণ নেহরু। তিনি একসময় রাজীব গান্ধীর খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। পরে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন।
বিপরীতে কংগ্রেস প্রার্থী ক্যাপ্টেন সতীশ শর্মা। ২৭ বছরের তরুণী প্রিয়াঙ্কা সেবার খুব আক্রমণাত্মক। মানুষকে প্রশ্ন করছেন, কেয়া, আপ উস ব্যক্তি কো ভোট দেঙ্গে জিসনে মেরি পিতা কো পিঠ মে ছুরি ভুঁকি হ্যায়? আপনারা কি সেই ব্যক্তিকে ভোট দেবেন, যিনি আমার বাবার পিঠে ছুরি মেরেছেন?
সেবার সতীশ শর্মা জয়ী হন। তার মানে, প্রিয়াঙ্কার প্রচারে ফল হয়েছিল।
২০০৪ সালের লোকসভা ভোটে সকলের আশা ছিল, রাজীব তনয়া নিজে প্রার্থী হবেন। কিন্তু তিনি হননি। সেবার সোনিয়া তাঁর আমেথি কেন্দ্র ছেড়ে সরে গেলেন রায়বেরিলিতে। আমেথিতে প্রার্থী হলেন রাহুল। সবাই বুঝল, তিনিই নেহরু-গান্ধী পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরসূরি, প্রিয়াঙ্কা নন।
আমেথিতে রাহুলের হয়ে প্রচারে দেখা গেল তাঁর বোনকে।
২০১৪ সালে আরও একবার উত্তরপ্রদেশে জোরালো দাবি উঠল, প্রিয়াঙ্কাকে প্রার্থী হতে হবে। এলাহাবাদের কংগ্রেস কর্মীরা একটা ব্যানার তৈরি করেছিলেন, যাতে লেখা—‘‘মাইয়া অব রহতি বিমার, ভাইয়া পর পড় গয়ি ভার, প্রিয়াঙ্কা ফুলপুর সে বনো উম্মিদবার, পার্টি কা করো প্রচার, কংগ্রেস সরকার বানাও তিসরি বার।’’
এর অর্থ—মা সোনিয়া গান্ধী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ভাই রাহুলের উপর বেশি চাপ পড়ে যাচ্ছে। প্রিয়াঙ্কা ফুলপুর থেকে প্রার্থী হোন। তৃতীয় বার কংগ্রেস সরকার বানান।
তিনি এই আবেদনেও সাড়া দেননি। কিন্তু ভোটের কৌশল রচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। শোনা যায়, উত্তরপ্রদেশে তাঁর মত নিয়ে অন্তত ২০ জন প্রার্থী ঠিক হয়েছিল। দেশের অন্যান্য প্রান্তেও প্রার্থী ঠিক করার সময় তাঁর পছন্দ অপছন্দ গুরুত্ব পেয়েছিল।
২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশের ভোট ছিল মোদি সরকারের অ্যাসিড টেস্ট। তার ক’মাস আগে নোটবন্দি হয়েছে। রাতারাতি ৫০০ আর ১০০০ টাকার নোট বাতিল। ব্যাঙ্কে বিরাট লাইন। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ।
অনেকে ভেবেছিলেন, ভোটে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। কংগ্রেস ভোটে স্ট্র্যাটেজি ঠিক করার জন্য প্রশান্ত কিশোরের সাহায্য নিয়েছিল। কংগ্রেসের সঙ্গে সমাজবাদী পার্টির যাতে জোট হয় সেজন্য অখিলেশ সিং যাদবের সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা। নভজ্যোৎ সিং সিধুসহ বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে কংগ্রেসে নিয়ে আসার কৃতিত্বও নাকি তাঁর। ২০১৮ সালে কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট পদে যাতে রাহুলের অভিষেক হয় তাও নাকি তিনিই নিশ্চিত করেছিলেন।
অর্থাৎ দীর্ঘকাল ধরে তিনি নেপথ্যে থেকে কংগ্রেস সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। এতদিনে সামনে এলেন।
ইন্দিরা যখন কংগ্রেসের দায়িত্ব নেন তখন তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ ছিলেন দক্ষিণপন্থীরা। সে-যুগে কংগ্রেসের মধ্যেই ছিল দক্ষিণপন্থী লবি। অন্যদিকে, ইন্দিরা ছিলেন বামঘেঁষা। গরিবদরদি ভাবমূর্তি ছিল তাঁর।
সেইসময়কার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির কিছু মিল আছে।
এখনও দক্ষিণপন্থীরা জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের প্রধান প্রতিপক্ষ। তাদের দল বিজেপি। অভিযোগ, তারা ধনীদের তোষণ করে। মোদি গত লোকসভা ভোটের আগে বলেছিলেন বটে যে ক্ষমতায় এলে কালো টাকার কারবারিদের শায়েস্তা করবেন। বাস্তবে কিছুই করেননি।
কংগ্রেস ইন্দিরার আমলের মতোই গরিবদরদি কর্মসূচির কথা বলছে। রাহুল গান্ধী বলেছেন, ক্ষমতায় এলে ‘ন্যায়’ প্রকল্প রূপায়ণ করবেন। দেশের সবচেয়ে গরিব পরিবারগুলি মাসে কমপক্ষে ১২ হাজার টাকা আয় করতে পারবে।
কংগ্রেসের একটা বড় অভিযোগ, মোদির আমলে ভারতের সহনশীলতার ঐতিহ্য নষ্ট হয়েছে।
একথা ঠিক যে, গত কয়েক বছরে গোরক্ষার নামে বেশ কয়েকজন নিরীহ মানুষ খুন হয়েছেন। তার পিছনে বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের মদত ছিল।
কংগ্রেসের আর একটা হাতিয়ার ‘রাফাল দুর্নীতি’। কয়েক মাস ধরে রাহুল গান্ধী টানা অভিযোগ করে আসছেন অত্যধিক দাম দিয়ে ফ্রান্স থেকে যুদ্ধবিমান কিনছে এনডিএ সরকার। বিমান কেনার চুক্তিতে বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন মোদির বন্ধু শিল্পপতি অনিল আম্বানি।
ধরে নেওয়া যায়, এবারও প্রিয়াঙ্কা লোকসভা ভোটে কংগ্রেসের কৌশল রচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। বিজেপিকে কোন কোন ইস্যু তুলে আক্রমণ করা হবে, সে-ব্যাপারে নিশ্চয় তার মতামত নেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু কেবল ইস্যু তুললেই হল না, তা জনসাধারণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা চাই। ইন্দিরা ঩সেই কাজটি পেরেছিলেন। প্রিয়াঙ্কা কি পারবেন? শুধু কংগ্রেসিরা নন, বিজেপি-বিরোধী সব দলই চাইছে তিনি সফল হোন। কারণ, সর্বভারতীয় স্তরে মোদির মোকাবিলা করার মতো আর কোনও নেতা বা নেত্রী নেই।
26th  April, 2019
ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন বিল: কিছু আশঙ্কা 
বিষাণ বসু

চারদিকে বড় হইচই। বিষয় ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন বিল। স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের মেডিক্যাল শিক্ষার ব্যাপারটা দেখছিলেন এমসিআই, অর্থাৎ মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া। এমসিআই নিয়ে অভিযোগ ছিল বিস্তর—বিশেষত, তাঁদের কিছু কর্তাব্যক্তিকে নিয়ে। 
বিশদ

20th  August, 2019
জম্মু-কাশ্মীর: উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তির নতুন প্রভাত
রবিশঙ্কর প্রসাদ
 

জম্মু-কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের কল্যাণে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে, ৭০ বছরের পুরনো একটা সমস্যার নতুন সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের ৭০ দিনেরও কম সময়ে সমাধান হল। এই কারণে আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাহস ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ইচ্ছাশক্তিকে প্রশংসা করা উচিত।
 
বিশদ

20th  August, 2019
নিস্তেজ অর্থনীতির সত্যটা সরকার ভুলে যাচ্ছে 
পি চিদম্বরম

রাষ্ট্রপতি ভবন হল সরকারের ক্ষমতার আসনের প্রতীক। এক কিলো মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর অফিস (পিএমও), নর্থ ব্লক ও সাউথ ব্লক—মানে স্বরাষ্ট্র, অর্থ, প্রতিরক্ষা ও বিদেশ-এর মতো উচ্চ মন্ত্রকগুলি রয়েছে।   বিশদ

19th  August, 2019
সভাপতি পদে সোনিয়াজির প্রত্যাবর্তনে কংগ্রেস কি ছন্দ ফিরে পাবে
শুভা দত্ত

ছন্দ তো হারিয়েছে বহুদিন। ছন্দে ফেরার চেষ্টা—সেও শুরু হয়েছে বহুদিন। কিন্তু কিছুতেই যেন সেই পুরনো দমদার ছন্দে ফিরতে পারছে না জাতীয় কংগ্রেস! নেহরু-ইন্দিরার আমল থেকে গান্ধী পরিবারের ছত্রচ্ছায়ায় এবং নেতৃত্বে দলের যে অপ্রতিরোধ্য ছন্দ গোটা দেশকে কংগ্রেসি তেরঙ্গায় বেঁধে রেখেছিল, যে ছন্দ কংগ্রেস প্রতীক ইন্দিরার পাঞ্জার উপর বছরের পর বছর দেশের মানুষের আস্থা বিশ্বাস ও আবেগ ধরে রেখেছিল, জরুরি অবস্থা, নাসবন্দির মতো কাণ্ডের পরও যে ছন্দ ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেছিল কংগ্রেসকে, ইন্দিরা এবং ইন্ডিয়া হয়ে উঠেছিলেন সমার্থক—জাতীয় কংগ্রেসের সেই অমিত শক্তি রাজনৈতিক ছন্দ অনেক কাল আগেই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিয়েছে।
বিশদ

18th  August, 2019
ওয়াল স্ট্রিটের ‘নেকড়ে’-র গল্প!
মৃণালকান্তি দাস

ওয়াশিংটনের অপরিচিত কোনও এক পথে হাঁটতে হাঁটতে গল্পটা শুনিয়েছিলেন এমিলি ব্রাউন। গল্প বলতে, এক অপরাধীর ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনী। জর্ডন বেলফোর্টের গল্প। যিনি জীবনে অপরাধের নেশায় পড়ে সবকিছু হারিয়েছিলেন। কে এই জর্ডন বেলফোর্ট, জানেন? যাঁর জীবন কাহিনী শুনলে মনে হবে, এ এই মার্কিন মুলুকেই সম্ভব! বিশদ

17th  August, 2019
স্বাধীনতা ৭৩ এবং ভূস্বর্গের মুক্তি
মেরুনীল দাশগুপ্ত

গরিবি যতদিন না যাবে ততদিন এই উপত্যকায় শান্তি আসবে না। কারণ, কাশ্মীরি মানুষের গরিবিই ওদের একটা বড় হাতিয়ার। গরিব মানুষজনের অনেকেই ক’টা টাকার লোভে পড়ে সীমান্তর ওপার থেকে আসা লোকজনকে আশ্রয় দিয়ে, লুকিয়ে রেখে, খাবারদাবারের ব্যবস্থা করে ভ্যালির বিপদ বাড়িয়ে তুলছে।
বিশদ

15th  August, 2019
বনে থাকে বাঘ 
অতনু বিশ্বাস

ছেলেবেলায় ‘সহজ পাঠ’-এ পড়েছিলাম ‘বনে থাকে বাঘ’। যদিও এই পাঠটা যে খুব সহজ আর স্বাভাবিক নাও হতে পারে, অর্থাৎ বনে বাঘ নাও থাকতে পারে, সেটা বুঝতে বেশ বড় হতে হল। ছোটবেলায় অবশ্য মনে বদ্ধমূল ধারণা ছিল, বন-জঙ্গল গিজগিজ করে বাঘে। 
বিশদ

13th  August, 2019
রক্ষক আইন যেন ভক্ষক না হয়
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ভিক্টরি ম্যানসনে ঢুকলেন উইনস্টন স্মিথ। বহুতলে ঢুকেই নজরে আসবে দো’তলা সমান আখাম্বা ছবিটা। শুধু একটা মুখ। নীচে ক্যাপশন করা, বিগ ব্রাদার কিন্তু তোমাকে দেখছে। জর্জ অরওয়েলের কালজয়ী উপন্যাস ১৯৮৪-এর শুরুতেই উল্লেখ এই ছবির। আর এই নভেলের সারমর্মও লুকিয়ে এই ছবিতে—বিগ ব্রাদার দেখছে, তাই সাবধান। সাবধান হও সবাই... সরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ী, সাফাইকর্মী, বেসরকারি চাকুরে... মোদ্দা কথা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে। সবসময় নজরদারি।  
বিশদ

13th  August, 2019
পুতিন কি পারবেন নতুন বিশ্বের নেতৃত্ব দিতে?
গৌরীশঙ্কর নাগ

 ১৯১৭ খ্রিস্টব্দে বা তার কিছু আগে থেকে লেনিন, ট্রটস্কি প্রমুখ নিবেদিত প্রাণ কমরেডের হাত ধরে সোভিয়েত সমাজতন্ত্র নামক যে মহীরুহটি ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল তা গর্বাচেভ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর কীভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে—বিস্ময়ের সঙ্গে আমরা সেটা দেখেছি।
বিশদ

12th  August, 2019
স্টেট নয়, শুধুই রিয়াল এস্টেট
পি চিদম্বরম

 জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে প্রায়ই লিখি কিন্তু আজকেরটা অন্যরকম। জম্মু ও কাশ্মীর আর আগের জম্মু ও কাশ্মীর নেই। এটা আর রাজ্য নয়। এটাকে বিভক্ত করা হয়েছে। এখন দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল—লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীর। ভারতের সংবিধানে কোনও রাজ্যকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের স্তরে নামিয়ে আনার ঘটনা এর আগে ঘটেনি।
বিশদ

12th  August, 2019
রাহুল সরে দাঁড়াতেই কংগ্রেস এমন নেতৃত্বহীনতায় ভুগছে কেন?
শুভা দত্ত

 প্রশ্নটা আজ দেশের সর্বস্তরে। পথে-ঘাটে অফিসে আড্ডায় যেখানেই চলতি রাজনীতি নিয়ে তর্ক-বিতর্কের উদয় হচ্ছে সেখানেই প্রশ্নটা যেন অনিবার্যভাবে এসে পড়ছে! কংগ্রেসের হলটা কী! রাহুল গান্ধী না বলে দিতেই আর সভাপতি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কংগ্রেসে! গান্ধী ফ্যামিলি ছাড়া কংগ্রেস সভাপতি খুঁজে পাচ্ছে না— এ তো বড় অদ্ভুত ব্যাপার! কংগ্রেসের জন্মের পর থেকে গান্ধী ফ্যামিলির বাইরের দেশ রাজনীতির কত দিকপালই তো জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতির আসন অলঙ্কৃত করেছেন—উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, দাদাভাই নৌরজি, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুভাষচন্দ্র, অ্যানি বেসান্ত, চিত্তরঞ্জন, সরোজিনী নাইডু, বল্লভভাই প্যাটেল, কামরাজ, জগজীবন রাম—কত নাম বলব। নিশ্চয়ই এই তালিকায় নেহরু থেকে ইন্দিরা, রাজীব, সোনিয়া হয়ে রাহুল—গান্ধী পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন।
বিশদ

11th  August, 2019
শুধু উন্নয়ন নয়, ভোটের জন্য চাই ভালো মাস্টার
তন্ময় মল্লিক

মোটা বেতন দিয়ে মাস্টার রাখলেই ছেলেমেয়ে মানুষ হয় না। তেমনটা হলে সব বড়লোকের ছেলেমেয়েই উচ্চশিক্ষিত হতো। কিন্তু, তা তো হয় না। ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনায় আগ্রহ, মেধা যেমন থাকা দরকার, তেমনই নজরদারিটাও জরুরি। ফাঁকিবাজি থাকলেই ছাত্র হয় গাড্ডু খাবে, অথবা ‘বিবেচনায়’ পাশ।
বিশদ

10th  August, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, কাঁথি: কাঁথির তাজপুর গ্রামীণ হাটের জমিতে স্থায়ী দোকানঘর নির্মাণের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষের জেরে উত্তেজনা ছড়ায়। এই ঘটনায় দু’পক্ষের আটজন কমবেশি জখম হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে নিগ্রহের শিকার হন খোদ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিও।   ...

মস্কো, ২০ আগস্ট (পিটিআই): মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে সুর চড়াল রাশিয়া ও চীন। মার্কিন সরকারের এহেন পদক্ষেপের ফলে সামরিক ক্ষেত্রে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হবে বলেও দুই দেশের তরফে জানানো হয়েছে। ...

 কুলিজ (অ্যান্টিগা), ২০ আগস্ট: ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট খেলতে নামার আগে কিছুটা স্বস্তি পেলেন অজিঙ্কা রাহানে। গত দু’বছর ধরে তাঁর ব্যাটে কোনও সেঞ্চুরি নেই। টেস্ট দলে তাঁর পায়ের তলার জমি ক্রমাগত আলগা হচ্ছিল। রাহানে বুঝতে পারছিলেন, লাল বলে জাতীয় ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃতীয় প্রজন্মের ‘গ্র্যান্ড আই টেন নিয়োস’ গাড়ি বাজারে আনল হুন্ডাই মোটর ইন্ডিয়া লিমিটেড। সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘নিয়োস’ কথাটির অর্থ আরও বেশি। সেই শব্দটির যথোপযুক্ত ব্যবহার হয়েছে এই হ্যাচব্যাক গাড়িটিতে, দাবি হুন্ডাইয়ের। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীদের উচ্চবিদ্যার ক্ষেত্রে মধ্যম ফল আশা করা যায়। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ক্ষেত্রে সাফল্য আসবে। ব্যবসাতে যুক্ত ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৩১: গায়ক বিষ্ণু দিগম্বর পালুসকরের মৃত্যু
১৯৭২: বন সংরক্ষণ আইন চালু হল
১৯৭৮: ভিনু মানকড়ের মৃত্যু
১৯৮৬: জামাইকার স্প্রিন্টার উসেইন বোল্টের জন্ম
১৯৯৫: ভারতের নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী সুব্রহ্মণ্যম চন্দ্রশেখরের মৃত্যু
২০০৬: প্রখ্যাত সানাইবাদক ওস্তাদ বিসমিল্লা খানের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৭৯ টাকা ৭২.৪৯ টাকা
পাউন্ড ৮৫.৩৭ টাকা ৮৮.৫১ টাকা
ইউরো ৭৭.৯৪ টাকা ৮০.৯৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৩২৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮৭০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৪ ভাদ্র ১৪২৬, ২১ আগস্ট ২০১৯, বুধবার, পঞ্চমী ০/২৯ প্রাতঃ ৫/৩১। অশ্বিনী ৪৮/৪০ রাত্রি ১২/৪৭। সূ উ ৫/১৯/২, অ ৬/০/৫২, অমৃতযোগ দিবা ৭/০ মধ্যে পুনঃ ৯/৩৩ গতে ১১/১৪ মধ্যে পুনঃ ৩/২৮ গতে ৫/৯ মধ্যে, বারবেলা ৮/২৯ গতে ১০/৫ মধ্যে পুনঃ ১১/৪০ গতে ১/১৫ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৩০ গতে ৩/৫৪ মধ্যে।
৩ ভাদ্র ১৪২৬, ২১ আগস্ট ২০১৯, বুধবার, ষষ্ঠী ৫৩/৫৮/৩০ রাত্রি ২/৫৩/৩১। অশ্বিনীনক্ষত্র ৪২/৯/৫৩ রাত্রি ১০/১০/৪, সূ উ ৫/১৮/৭, অ ৬/৩/৪৩, অমৃতযোগ দিবা ৭/২ মধ্যে ও ৯/৩১ গতে ১১/১০ মধ্যে ও ৩/১৮ গতে ৪/৫৭ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৩৩ গতে ৮/৫৩ মধ্যে ও ১/৩১ গতে ৫/১৮ মধ্যে, বারবেলা ১১/৪০/৫৫ গতে ১/১৬/৩৭ মধ্যে, কালবেলা ৮/২৯/৩১ গতে ১০/৫/১৪ মধ্যে, কালরাত্রি ২/২৯/৩১ গতে ৩/৫৩/৪৯ মধ্যে। 
১৯ জেলহজ্জ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বাড়ছে পিএফে ন্যূনতম পেনশন

07:30:26 PM

জাগুয়ার দুর্ঘটনার তদন্তে নয়া মোড়
কলকাতার শেক্সপিয়র সরণির জাগুয়ার দুর্ঘটনার তদন্তে নয়া মোড়। আজ জানা ...বিশদ

05:26:00 PM

শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে চিদাম্বরমের আর্জির শুনানি
আগামী শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে চিদাম্বরমের আর্জির শুনানি হবে বলে জানা ...বিশদ

05:18:17 PM

চায়ের দোকানে গিয়ে চা বানালেন মুখ্যমন্ত্রী
আজ বুধবার ওড়িশা সীমান্তের দীঘার দত্তপুর এলাকায় জনসংযোগে গিয়েছিলেন ...বিশদ

05:15:00 PM

নেতাজি ইস্যুতে ধর্মতলায় বিক্ষোভ মিছিল ফরওয়ার্ড ব্লক 

04:10:00 PM

আবেদনে ত্রুটি, সুপ্রম কোর্টে পি চিদম্বরমের আবেদন গ্রাহ্য হল না 

04:07:16 PM