Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

আসনের হিসেবে সবথেকে দুর্দশা বামেদের
শুভময় মৈত্র

অনেকবার আলোচনা হয়েছে এই পরিসংখ্যান, তবুও এবারের লোকসভা নির্বাচনের ফল জানতে উদগ্রীব ভোটপিপাসুদের সামনে ২০১৪-তে বিজেপি ঠিক কীভাবে ক্ষমতায় এসেছিল সে হিসেব অবশ্যই আকর্ষণীয়। সেই পরিসংখ্যানে দু’ভাগে ভাগ করা যায় ভারতকে। এক ভাগে তারা আসন পেয়েছিল আশি শতাংশ, আর অন্য ভাগে তাদের আসনের সংখ্যা ভীষণ কম। প্রথমে হিন্দি বলয়ের কথায় আসা যাক। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, হরিয়ানা, দিল্লি, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ড থেকে তারা পেয়েছিল ১৯০টা আসন। সঙ্গে যোগ করতে হবে পশ্চিমের দুই রাজ্য মহারাষ্ট্র আর গুজরাতের ৪৯। সব মিলিয়ে এই সব রাজ্যে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৩৯, অর্থাৎ আশি শতাংশ। এর সঙ্গে যদি শিবসেনা কিংবা অন্যান্য জোটসঙ্গীদের যোগ করেন, তাহলে ফলাফল আরও বেশি জমজমাট। বাকি রাজ্যগুলোর আসনসংখ্যা কিন্তু একেবারেই সুবিধের নয়। দক্ষিণে শুধু কর্ণাটকে ভালো ফল হয়েছিল বিজেপির। তা ছাড়া কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানায় সেভাবে বিজেপির কোনও প্রভাব ছিল না। তামিলনাড়ুতে ছিল এআইডিএমকে, তবে তাতে বিজেপির অবদান কিছু নেই। পূর্বে পশ্চিমবঙ্গ বা ওড়িশাতে তাদের ফল সুবিধের নয়। উত্তর-পূর্বের পঁচিশটা আসনেও সেভাবে ফল ভালো হয় নি বিজেপির। ভালো হয় নি জম্মু-কাশ্মীর বা পাঞ্জাবেও। এই সব রাজ্য মিলিয়ে ২৪৪-এর মধ্যে ৪৩টি আসন পেয়েছিল বিজেপি, অর্থাৎ ২০ শতাংশের নীচে।
আগের বারের খারাপ ফলের জায়গাগুলোর মধ্যে শেষ পাঁচ বছরে উত্তর-পূর্ব ভারতে বেশ উন্নতি করেছে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গে এবারেও আগের বারের মতোই আলোড়ন তুলেছে তারা, যদিও আসন সংখ্যার বিচারে কতটা সফল হবে সেকথা বলতে পারবে ভোটফল। বাকি জায়গাগুলোয় দেখলে বিজেপি নিজের থেকে যে অনেক আসন হঠাৎ বাড়িয়ে ফেলবে এমনটা এর মধ্যে খুব পরিষ্কার নয়। তবে নির্বাচনের ফল প্রকাশ হওয়ার পরে বিজেপি মোটামুটি ভালো করলে (দুশোর আশেপাশে), দক্ষিণের রাজ্যগুলো থেকে অনেক দলই হয়তো এনডিএ-র শরিক হতে চাইবে। এর মধ্যে অবশ্যই থাকবে তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ুর মত রাজ্যগুলো। এই বিষয়টিকে শুধু রাজনৈতিক দলবদলের মত নেতিবাচক বিষয় হিসেবে ভাবা ঠিক নয়। এর একটা ইতিবাচক দিকও আছে। তা হল নিজের রাজ্যের উন্নতি। দক্ষিণের রাজ্যগুলোর উন্নয়ন অনেক সময়েই চোখে পড়ার মত। আর সেটা চালু রাখতে গেলে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। ফলে, ভোটযন্ত্র উত্তর উগরে দেওয়ার পরে এই দলগুলো কোন দিকে যাবে সেটা স্থির হবে, এখন তারা যতই তৃতীয় ফ্রন্ট কিংবা কংগ্রেসের দিকে ঝুঁকে থাক না কেন। এবারের নির্বাচনে বিজেপির পক্ষে আশার কথা সেটাই।
যে কথা বলছিলাম, বিজেপির চাই নিজের থেকে অন্তত ২০০ আসন। এর কম হলে তাদের পক্ষে মোদি-বিরোধিতার আবহে সরকার গড়া শক্ত। ধরা যাক, গতবারের ২৪৪-এর মধ্যে তাদের আসন ৪৩ থেকে এবার বেড়ে হল ৬১। এরকম সংখ্যা ধরার কারণ যোগ বিয়োগের সুবিধে, তার বেশি কিছু নয়। আর যেখানে ফল খারাপ হয়, সেখানেই তো অন্তত কিছুটা ভালো করা বেশ সহজ। সেই হিসেবে মোট ২০০ ছুঁতে বিজেপিকে হিন্দি এবং পশ্চিম বলয় থেকে পেতে হবে অন্তত ১৩৯টি আসন। সেখানে তারা আগেরবার পেয়েছিল ২৩৯টি। অর্থাৎ হিন্দি বলয়ে আগের বারের থেকে একশটি মত আসন কম পেলেও কিন্তু বিজেপির আশা থাকছে। তার কারণ দক্ষিণের অন্যান্য দলগুলির সঙ্গে বোঝাপড়া করে তারা জুটিয়ে নেবে আরও ৪০ থেকে ৫০ আর বাকিটুকু আসবে উত্তর এবং পশ্চিমভাগে তাদের সহযোগী দলগুলোর থেকে। একবার ক্ষমতার কাছে পৌঁছে গেলে বিজেপি কিছুটা চাপে থাকলেও সরকার গঠন করে ফেলবে। কিন্তু কোনও কারণে তারা যদি দেশের উত্তর-মধ্য-পশ্চিমে আরও বেশি আসন হারায় তখন সরকার গঠনে বেশ অসুবিধে হবে। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনেকটা ২০০৪ এর নির্বাচনের মতো গিয়ে দাঁড়াবে, যেখানে বামেদের পশ্চিমবঙ্গের আসনগুলোর একটা বড় ভাগ চলে যাবে তৃণমূলের ঝুলিতে। এরকম হতে গেলে কংগ্রেসকে প্রায় দেড়শোর কাছাকাছি আসন জোটাতে হবে, আর তখন তৃতীয় পক্ষ ঢলবে রাহুল গান্ধীর দিকে।
অর্থাৎ যদি একটা দাঁড়িপাল্লার কথা ভাবা যায়, তাহলে তার একদিকে থাকবে ২০০৪ এর নির্বাচন, আর অন্যদিকে ২০১৪-র। এবারের নির্বাচন তার মধ্যে কোনদিকে যাবে সেই অনুযায়ী ঠিক হবে ক্ষমতায় আসছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ, নাকি বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ। মনে রাখতে হবে যে ১৯৯৯ তে ১৮২টা আসন পেয়ে সরকার গড়েছিল বিজেপি, সঙ্গে ছিল এনডিএ-র বিভিন্ন দল। তেমনই ২০০৪-এ কংগ্রেস পেয়েছিল ১৪৫টি আসন। তাতে তাদের ইউপিএ-র নেতৃত্বে থেকে সরকার গঠনে কোনও অসুবিধে হয় নি। অর্থাৎ একটি বিষয় পরিষ্কার যে কংগ্রেস বা বিজেপির মধ্যে কোনও একটি দল অবশ্যই দেড়শোর বেশি আসন পেলেই নেতৃত্বের দাবিদার হওয়ার চেষ্টা করবে। কংগ্রেস সরকার গড়লে রাহুল গান্ধীর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় একশো শতাংশ। তবে বিজেপি যদি খুব খারাপ ফল করেও (দুশোর নীচে আসন) সরকারে নেতৃত্ব দেয় তখন নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন কিনা সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
তবে এছাড়াও আরও অনেক ধরনের সম্ভাবনা থাকবে। তার মধ্যে একটা হল ভালো করল না বিজেপি কিংবা কংগ্রেস দুজনেই এবং তাদের মোট আসন হল আড়াইশোর কম। সেক্ষেত্রে দক্ষিণের দলগুলো তো তৃতীয় পক্ষকে আসন জোগান দেবেই। তবে সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মতো কাউকে আপাতত খুঁজে পাওয়া শক্ত। চন্দ্রবাবু নাইডুর হয়তো সামান্য সম্ভাবনা আছে, তবে তার জন্যে তেলুগু দেশমকে আগে ভালো ফল করতে হবে। বিজেপি আর কংগ্রেসের আসন কম হওয়ার অর্থ পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলও ভালো ফল করবে।
সেক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুযোগ পেলে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী হতে রাজি থাকবেন, জ্যোতি বসুর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি আর হবে না। উত্তরপ্রদেশে ভালো ফল করলে মায়াবতী অবশ্যই চেষ্টা করবেন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার। উচ্চশিক্ষিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আসন কম থাকলেও অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নাম উঠে আসতে পারে। কে বলতে পারে সেক্ষেত্রে হয়তো অনেকে অনুরোধ জানাবেন রঘুরাম রাজনকে প্রধানমন্ত্রী হতে। সব মিলিয়ে ডালপালা সমেত সম্ভাবনার গাছ আঁকা হতে পারে অনেক রকমই। তেমন হলে রামবিলাস পাশোয়ান কিংবা অখিলেশ বা তেজস্বী যাদবই বা জমি ছাড়বেন কেন? সেক্ষেত্রে এই নির্বাচনের সঙ্গে ২০০৪ বা ২০১৪ কোনওটাই মিলবে না, পুরোপুরি নতুন খবর আনবে ২০১৯। অর্থাৎ খুব অদ্ভুত একটা অঙ্ক এবারের নির্বাচনে আসছে যা হল বিজেপি আর কংগ্রেসের আসনের যোগফল। এই যোগফল যদি তিনশোর বেশি হয়, তাহলে সরকার হবে বিজেপি বা কংগ্রেসের নেতৃত্বেই। কিন্তু এই যোগফল আড়াইশোর কম হলে তৃতীয় পক্ষের সম্ভাবনা প্রবল। আসনের হিসেবে অবশ্যই বিজেপি এবং কংগ্রেস প্রথম দুপক্ষে থাকবে, কিন্তু তাদের যোগফল ঠিক করবে ক্ষমতার লাগাম ধরবে কে। বিজেপি কংগ্রেসের যোগফল আড়াইশো থেকে তিনশোর মধ্যে থাকলে যা কিছু ঘটতে পারে, আর তা ঠিক হবে মে মাসের শেষ সপ্তাহে।
এবারের নির্বাচনে ভারতের প্রায় সব দলের ক্ষেত্রেই কিছু না কিছু ভালো খবর আসার সম্ভাবনা থাকলেও, আসনের হিসেবে সবথেকে দুর্দশা বামফ্রন্টের। কেরলে ভালো ফল না করলে তাদের আসনসংখ্যা এবার এক অঙ্কে নেমে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে কংগ্রেস বা তৃতীয় পক্ষের সরকার হলেও তাদের প্রাসঙ্গিকতা কমে যাবে একেবারেই। দেশের পক্ষে তা মোটেই ভালো খবর নয়। নীতি নির্ধারণে সংসদে শিক্ষিত বাম নেতৃত্বের অনুপস্থিতি দেশকে অনেকটা পিছিয়ে দিতে পারে। তার মধ্যে সবথেকে বড় বিপদ সরকারি ব্যাঙ্কের বেসরকারিকরণের মতো বিষয়গুলি। অবশ্যই এ নিয়ে বামেদের সমমতই পোষণ করবে তৃণমূল। কিন্তু, তাদের তালিকা দেখলে এটা পরিষ্কার যে গভীর বিষয় নিয়ে সংসদে আলোচনা করার মত প্রার্থীদের তারা খুব বেশি টিকিট দেননি। বাম এবং মধ্যপন্থার কথা যে দলগুলো বলতে পারে, অর্থাৎ কংগ্রেস, সপা, বসপা, আরজেডি—তাদের সবার ক্ষেত্রেই অবস্থাটা প্রায় একইরকম। তাই যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন, দেশের মানুষ যে কিছুটা নিশ্চিন্তে থাকবে এমনটা নয়। প্রচুর শিক্ষিত এবং সংবেদনশীল মানুষ যে এবার সংসদ আলো করবেন সেরকম মনে হচ্ছে না। সেই হিসেবে ২০১৯ অবশ্যই এক গামলা নেতিবাচক খবর আনবে। ভোটাররা বিষয়টা একবার ভেবে দেখবেন কি?
 লেখক ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক, মতামত ব্যক্তিগত
25th  April, 2019
ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন বিল: কিছু আশঙ্কা 
বিষাণ বসু

চারদিকে বড় হইচই। বিষয় ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন বিল। স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের মেডিক্যাল শিক্ষার ব্যাপারটা দেখছিলেন এমসিআই, অর্থাৎ মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া। এমসিআই নিয়ে অভিযোগ ছিল বিস্তর—বিশেষত, তাঁদের কিছু কর্তাব্যক্তিকে নিয়ে। 
বিশদ

20th  August, 2019
জম্মু-কাশ্মীর: উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তির নতুন প্রভাত
রবিশঙ্কর প্রসাদ
 

জম্মু-কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের কল্যাণে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে, ৭০ বছরের পুরনো একটা সমস্যার নতুন সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের ৭০ দিনেরও কম সময়ে সমাধান হল। এই কারণে আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাহস ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ইচ্ছাশক্তিকে প্রশংসা করা উচিত।
 
বিশদ

20th  August, 2019
নিস্তেজ অর্থনীতির সত্যটা সরকার ভুলে যাচ্ছে 
পি চিদম্বরম

রাষ্ট্রপতি ভবন হল সরকারের ক্ষমতার আসনের প্রতীক। এক কিলো মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর অফিস (পিএমও), নর্থ ব্লক ও সাউথ ব্লক—মানে স্বরাষ্ট্র, অর্থ, প্রতিরক্ষা ও বিদেশ-এর মতো উচ্চ মন্ত্রকগুলি রয়েছে।   বিশদ

19th  August, 2019
সভাপতি পদে সোনিয়াজির প্রত্যাবর্তনে কংগ্রেস কি ছন্দ ফিরে পাবে
শুভা দত্ত

ছন্দ তো হারিয়েছে বহুদিন। ছন্দে ফেরার চেষ্টা—সেও শুরু হয়েছে বহুদিন। কিন্তু কিছুতেই যেন সেই পুরনো দমদার ছন্দে ফিরতে পারছে না জাতীয় কংগ্রেস! নেহরু-ইন্দিরার আমল থেকে গান্ধী পরিবারের ছত্রচ্ছায়ায় এবং নেতৃত্বে দলের যে অপ্রতিরোধ্য ছন্দ গোটা দেশকে কংগ্রেসি তেরঙ্গায় বেঁধে রেখেছিল, যে ছন্দ কংগ্রেস প্রতীক ইন্দিরার পাঞ্জার উপর বছরের পর বছর দেশের মানুষের আস্থা বিশ্বাস ও আবেগ ধরে রেখেছিল, জরুরি অবস্থা, নাসবন্দির মতো কাণ্ডের পরও যে ছন্দ ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেছিল কংগ্রেসকে, ইন্দিরা এবং ইন্ডিয়া হয়ে উঠেছিলেন সমার্থক—জাতীয় কংগ্রেসের সেই অমিত শক্তি রাজনৈতিক ছন্দ অনেক কাল আগেই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিয়েছে।
বিশদ

18th  August, 2019
ওয়াল স্ট্রিটের ‘নেকড়ে’-র গল্প!
মৃণালকান্তি দাস

ওয়াশিংটনের অপরিচিত কোনও এক পথে হাঁটতে হাঁটতে গল্পটা শুনিয়েছিলেন এমিলি ব্রাউন। গল্প বলতে, এক অপরাধীর ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনী। জর্ডন বেলফোর্টের গল্প। যিনি জীবনে অপরাধের নেশায় পড়ে সবকিছু হারিয়েছিলেন। কে এই জর্ডন বেলফোর্ট, জানেন? যাঁর জীবন কাহিনী শুনলে মনে হবে, এ এই মার্কিন মুলুকেই সম্ভব! বিশদ

17th  August, 2019
স্বাধীনতা ৭৩ এবং ভূস্বর্গের মুক্তি
মেরুনীল দাশগুপ্ত

গরিবি যতদিন না যাবে ততদিন এই উপত্যকায় শান্তি আসবে না। কারণ, কাশ্মীরি মানুষের গরিবিই ওদের একটা বড় হাতিয়ার। গরিব মানুষজনের অনেকেই ক’টা টাকার লোভে পড়ে সীমান্তর ওপার থেকে আসা লোকজনকে আশ্রয় দিয়ে, লুকিয়ে রেখে, খাবারদাবারের ব্যবস্থা করে ভ্যালির বিপদ বাড়িয়ে তুলছে।
বিশদ

15th  August, 2019
বনে থাকে বাঘ 
অতনু বিশ্বাস

ছেলেবেলায় ‘সহজ পাঠ’-এ পড়েছিলাম ‘বনে থাকে বাঘ’। যদিও এই পাঠটা যে খুব সহজ আর স্বাভাবিক নাও হতে পারে, অর্থাৎ বনে বাঘ নাও থাকতে পারে, সেটা বুঝতে বেশ বড় হতে হল। ছোটবেলায় অবশ্য মনে বদ্ধমূল ধারণা ছিল, বন-জঙ্গল গিজগিজ করে বাঘে। 
বিশদ

13th  August, 2019
রক্ষক আইন যেন ভক্ষক না হয়
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ভিক্টরি ম্যানসনে ঢুকলেন উইনস্টন স্মিথ। বহুতলে ঢুকেই নজরে আসবে দো’তলা সমান আখাম্বা ছবিটা। শুধু একটা মুখ। নীচে ক্যাপশন করা, বিগ ব্রাদার কিন্তু তোমাকে দেখছে। জর্জ অরওয়েলের কালজয়ী উপন্যাস ১৯৮৪-এর শুরুতেই উল্লেখ এই ছবির। আর এই নভেলের সারমর্মও লুকিয়ে এই ছবিতে—বিগ ব্রাদার দেখছে, তাই সাবধান। সাবধান হও সবাই... সরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ী, সাফাইকর্মী, বেসরকারি চাকুরে... মোদ্দা কথা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে। সবসময় নজরদারি।  
বিশদ

13th  August, 2019
পুতিন কি পারবেন নতুন বিশ্বের নেতৃত্ব দিতে?
গৌরীশঙ্কর নাগ

 ১৯১৭ খ্রিস্টব্দে বা তার কিছু আগে থেকে লেনিন, ট্রটস্কি প্রমুখ নিবেদিত প্রাণ কমরেডের হাত ধরে সোভিয়েত সমাজতন্ত্র নামক যে মহীরুহটি ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল তা গর্বাচেভ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর কীভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে—বিস্ময়ের সঙ্গে আমরা সেটা দেখেছি।
বিশদ

12th  August, 2019
স্টেট নয়, শুধুই রিয়াল এস্টেট
পি চিদম্বরম

 জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে প্রায়ই লিখি কিন্তু আজকেরটা অন্যরকম। জম্মু ও কাশ্মীর আর আগের জম্মু ও কাশ্মীর নেই। এটা আর রাজ্য নয়। এটাকে বিভক্ত করা হয়েছে। এখন দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল—লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীর। ভারতের সংবিধানে কোনও রাজ্যকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের স্তরে নামিয়ে আনার ঘটনা এর আগে ঘটেনি।
বিশদ

12th  August, 2019
রাহুল সরে দাঁড়াতেই কংগ্রেস এমন নেতৃত্বহীনতায় ভুগছে কেন?
শুভা দত্ত

 প্রশ্নটা আজ দেশের সর্বস্তরে। পথে-ঘাটে অফিসে আড্ডায় যেখানেই চলতি রাজনীতি নিয়ে তর্ক-বিতর্কের উদয় হচ্ছে সেখানেই প্রশ্নটা যেন অনিবার্যভাবে এসে পড়ছে! কংগ্রেসের হলটা কী! রাহুল গান্ধী না বলে দিতেই আর সভাপতি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কংগ্রেসে! গান্ধী ফ্যামিলি ছাড়া কংগ্রেস সভাপতি খুঁজে পাচ্ছে না— এ তো বড় অদ্ভুত ব্যাপার! কংগ্রেসের জন্মের পর থেকে গান্ধী ফ্যামিলির বাইরের দেশ রাজনীতির কত দিকপালই তো জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতির আসন অলঙ্কৃত করেছেন—উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, দাদাভাই নৌরজি, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুভাষচন্দ্র, অ্যানি বেসান্ত, চিত্তরঞ্জন, সরোজিনী নাইডু, বল্লভভাই প্যাটেল, কামরাজ, জগজীবন রাম—কত নাম বলব। নিশ্চয়ই এই তালিকায় নেহরু থেকে ইন্দিরা, রাজীব, সোনিয়া হয়ে রাহুল—গান্ধী পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন।
বিশদ

11th  August, 2019
শুধু উন্নয়ন নয়, ভোটের জন্য চাই ভালো মাস্টার
তন্ময় মল্লিক

মোটা বেতন দিয়ে মাস্টার রাখলেই ছেলেমেয়ে মানুষ হয় না। তেমনটা হলে সব বড়লোকের ছেলেমেয়েই উচ্চশিক্ষিত হতো। কিন্তু, তা তো হয় না। ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনায় আগ্রহ, মেধা যেমন থাকা দরকার, তেমনই নজরদারিটাও জরুরি। ফাঁকিবাজি থাকলেই ছাত্র হয় গাড্ডু খাবে, অথবা ‘বিবেচনায়’ পাশ।
বিশদ

10th  August, 2019
একনজরে
নয়াদিল্লি, ২০ আগস্ট (পিটিআই): অযোধ্যায় বিতর্কিত জমিতে মন্দির ভেঙেই মসজিদ নির্মাণ করা হয়। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে এই দাবি করলেন রামলালা বিরাজমানের আইনজীবী সি এস বৈদ্যনাথন। নিজের দাবির স্বপক্ষে প্রত্নতাত্তিক বিভাগের রিপোর্ট তুলে ধরেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের সামনে। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভালো আছেন বিশিষ্ট অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। শীঘ্রই ছুটি পেতে পারেন তিনি। মঙ্গলবার হাসপাতাল সূত্রে এ খবর জানা গিয়েছে। কিছুদিন আগে শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে ইএম বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল সৌমিত্রবাবুকে। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বদলি হওয়া বিভিন্ন রাজ্য কর্মী সংগঠনের পদাধিকারীদের ফের কলকাতার সচিবালয়ে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই সিপিএম প্রভাবিত কো-অর্ডিনেশন কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর দুই সদস্য ও তৃণমূল প্রভাবিত কর্মী সংগঠনের কোর কমিটির এক সদস্যকে উত্তরবঙ্গ থেকে কলকাতায় ফেরানো হয়েছে। ...

সংবাদদাতা, মালদহ: ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচির আওতায় ইতিমধ্যেই মালদহের গ্রামে গ্রামে গিয়ে জনসংযোগ শুরু করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের জনপ্রতিনিধিরা। তাঁদের লক্ষ্য, শাসক দলের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ আরও মজবুত করা।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীদের উচ্চবিদ্যার ক্ষেত্রে মধ্যম ফল আশা করা যায়। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ক্ষেত্রে সাফল্য আসবে। ব্যবসাতে যুক্ত ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৩১: গায়ক বিষ্ণু দিগম্বর পালুসকরের মৃত্যু
১৯৭২: বন সংরক্ষণ আইন চালু হল
১৯৭৮: ভিনু মানকড়ের মৃত্যু
১৯৮৬: জামাইকার স্প্রিন্টার উসেইন বোল্টের জন্ম
১৯৯৫: ভারতের নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী সুব্রহ্মণ্যম চন্দ্রশেখরের মৃত্যু
২০০৬: প্রখ্যাত সানাইবাদক ওস্তাদ বিসমিল্লা খানের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৭৯ টাকা ৭২.৪৯ টাকা
পাউন্ড ৮৫.৩৭ টাকা ৮৮.৫১ টাকা
ইউরো ৭৭.৯৪ টাকা ৮০.৯৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৩২৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮৭০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৪ ভাদ্র ১৪২৬, ২১ আগস্ট ২০১৯, বুধবার, পঞ্চমী ০/২৯ প্রাতঃ ৫/৩১। অশ্বিনী ৪৮/৪০ রাত্রি ১২/৪৭। সূ উ ৫/১৯/২, অ ৬/০/৫২, অমৃতযোগ দিবা ৭/০ মধ্যে পুনঃ ৯/৩৩ গতে ১১/১৪ মধ্যে পুনঃ ৩/২৮ গতে ৫/৯ মধ্যে, বারবেলা ৮/২৯ গতে ১০/৫ মধ্যে পুনঃ ১১/৪০ গতে ১/১৫ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৩০ গতে ৩/৫৪ মধ্যে।
৩ ভাদ্র ১৪২৬, ২১ আগস্ট ২০১৯, বুধবার, ষষ্ঠী ৫৩/৫৮/৩০ রাত্রি ২/৫৩/৩১। অশ্বিনীনক্ষত্র ৪২/৯/৫৩ রাত্রি ১০/১০/৪, সূ উ ৫/১৮/৭, অ ৬/৩/৪৩, অমৃতযোগ দিবা ৭/২ মধ্যে ও ৯/৩১ গতে ১১/১০ মধ্যে ও ৩/১৮ গতে ৪/৫৭ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৩৩ গতে ৮/৫৩ মধ্যে ও ১/৩১ গতে ৫/১৮ মধ্যে, বারবেলা ১১/৪০/৫৫ গতে ১/১৬/৩৭ মধ্যে, কালবেলা ৮/২৯/৩১ গতে ১০/৫/১৪ মধ্যে, কালরাত্রি ২/২৯/৩১ গতে ৩/৫৩/৪৯ মধ্যে। 
১৯ জেলহজ্জ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
জাগুয়ার দুর্ঘটনার তদন্তে নয়া মোড়
কলকাতার শেক্সপিয়র সরণির জাগুয়ার দুর্ঘটনার তদন্তে নয়া মোড়। আজ জানা ...বিশদ

05:26:00 PM

শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে চিদাম্বরমের আর্জির শুনানি
আগামী শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে চিদাম্বরমের আর্জির শুনানি হবে বলে জানা ...বিশদ

05:18:17 PM

চায়ের দোকানে গিয়ে চা বানালেন মুখ্যমন্ত্রী
আজ বুধবার ওড়িশা সীমান্তের দীঘার দত্তপুর এলাকায় জনসংযোগে গিয়েছিলেন ...বিশদ

05:15:00 PM

নেতাজি ইস্যুতে ধর্মতলায় বিক্ষোভ মিছিল ফরওয়ার্ড ব্লক 

04:10:00 PM

আবেদনে ত্রুটি, সুপ্রম কোর্টে পি চিদম্বরমের আবেদন গ্রাহ্য হল না 

04:07:16 PM

আরবিসি কলেজে সংঘর্ষ, গুলি 
টিএমসিপি ও এবিভিপির সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল নৈহাটির ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র ...বিশদ

02:44:51 PM