Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

আসনের হিসেবে সবথেকে দুর্দশা বামেদের
শুভময় মৈত্র

অনেকবার আলোচনা হয়েছে এই পরিসংখ্যান, তবুও এবারের লোকসভা নির্বাচনের ফল জানতে উদগ্রীব ভোটপিপাসুদের সামনে ২০১৪-তে বিজেপি ঠিক কীভাবে ক্ষমতায় এসেছিল সে হিসেব অবশ্যই আকর্ষণীয়। সেই পরিসংখ্যানে দু’ভাগে ভাগ করা যায় ভারতকে। এক ভাগে তারা আসন পেয়েছিল আশি শতাংশ, আর অন্য ভাগে তাদের আসনের সংখ্যা ভীষণ কম। প্রথমে হিন্দি বলয়ের কথায় আসা যাক। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, হরিয়ানা, দিল্লি, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ড থেকে তারা পেয়েছিল ১৯০টা আসন। সঙ্গে যোগ করতে হবে পশ্চিমের দুই রাজ্য মহারাষ্ট্র আর গুজরাতের ৪৯। সব মিলিয়ে এই সব রাজ্যে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৩৯, অর্থাৎ আশি শতাংশ। এর সঙ্গে যদি শিবসেনা কিংবা অন্যান্য জোটসঙ্গীদের যোগ করেন, তাহলে ফলাফল আরও বেশি জমজমাট। বাকি রাজ্যগুলোর আসনসংখ্যা কিন্তু একেবারেই সুবিধের নয়। দক্ষিণে শুধু কর্ণাটকে ভালো ফল হয়েছিল বিজেপির। তা ছাড়া কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানায় সেভাবে বিজেপির কোনও প্রভাব ছিল না। তামিলনাড়ুতে ছিল এআইডিএমকে, তবে তাতে বিজেপির অবদান কিছু নেই। পূর্বে পশ্চিমবঙ্গ বা ওড়িশাতে তাদের ফল সুবিধের নয়। উত্তর-পূর্বের পঁচিশটা আসনেও সেভাবে ফল ভালো হয় নি বিজেপির। ভালো হয় নি জম্মু-কাশ্মীর বা পাঞ্জাবেও। এই সব রাজ্য মিলিয়ে ২৪৪-এর মধ্যে ৪৩টি আসন পেয়েছিল বিজেপি, অর্থাৎ ২০ শতাংশের নীচে।
আগের বারের খারাপ ফলের জায়গাগুলোর মধ্যে শেষ পাঁচ বছরে উত্তর-পূর্ব ভারতে বেশ উন্নতি করেছে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গে এবারেও আগের বারের মতোই আলোড়ন তুলেছে তারা, যদিও আসন সংখ্যার বিচারে কতটা সফল হবে সেকথা বলতে পারবে ভোটফল। বাকি জায়গাগুলোয় দেখলে বিজেপি নিজের থেকে যে অনেক আসন হঠাৎ বাড়িয়ে ফেলবে এমনটা এর মধ্যে খুব পরিষ্কার নয়। তবে নির্বাচনের ফল প্রকাশ হওয়ার পরে বিজেপি মোটামুটি ভালো করলে (দুশোর আশেপাশে), দক্ষিণের রাজ্যগুলো থেকে অনেক দলই হয়তো এনডিএ-র শরিক হতে চাইবে। এর মধ্যে অবশ্যই থাকবে তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ুর মত রাজ্যগুলো। এই বিষয়টিকে শুধু রাজনৈতিক দলবদলের মত নেতিবাচক বিষয় হিসেবে ভাবা ঠিক নয়। এর একটা ইতিবাচক দিকও আছে। তা হল নিজের রাজ্যের উন্নতি। দক্ষিণের রাজ্যগুলোর উন্নয়ন অনেক সময়েই চোখে পড়ার মত। আর সেটা চালু রাখতে গেলে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। ফলে, ভোটযন্ত্র উত্তর উগরে দেওয়ার পরে এই দলগুলো কোন দিকে যাবে সেটা স্থির হবে, এখন তারা যতই তৃতীয় ফ্রন্ট কিংবা কংগ্রেসের দিকে ঝুঁকে থাক না কেন। এবারের নির্বাচনে বিজেপির পক্ষে আশার কথা সেটাই।
যে কথা বলছিলাম, বিজেপির চাই নিজের থেকে অন্তত ২০০ আসন। এর কম হলে তাদের পক্ষে মোদি-বিরোধিতার আবহে সরকার গড়া শক্ত। ধরা যাক, গতবারের ২৪৪-এর মধ্যে তাদের আসন ৪৩ থেকে এবার বেড়ে হল ৬১। এরকম সংখ্যা ধরার কারণ যোগ বিয়োগের সুবিধে, তার বেশি কিছু নয়। আর যেখানে ফল খারাপ হয়, সেখানেই তো অন্তত কিছুটা ভালো করা বেশ সহজ। সেই হিসেবে মোট ২০০ ছুঁতে বিজেপিকে হিন্দি এবং পশ্চিম বলয় থেকে পেতে হবে অন্তত ১৩৯টি আসন। সেখানে তারা আগেরবার পেয়েছিল ২৩৯টি। অর্থাৎ হিন্দি বলয়ে আগের বারের থেকে একশটি মত আসন কম পেলেও কিন্তু বিজেপির আশা থাকছে। তার কারণ দক্ষিণের অন্যান্য দলগুলির সঙ্গে বোঝাপড়া করে তারা জুটিয়ে নেবে আরও ৪০ থেকে ৫০ আর বাকিটুকু আসবে উত্তর এবং পশ্চিমভাগে তাদের সহযোগী দলগুলোর থেকে। একবার ক্ষমতার কাছে পৌঁছে গেলে বিজেপি কিছুটা চাপে থাকলেও সরকার গঠন করে ফেলবে। কিন্তু কোনও কারণে তারা যদি দেশের উত্তর-মধ্য-পশ্চিমে আরও বেশি আসন হারায় তখন সরকার গঠনে বেশ অসুবিধে হবে। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনেকটা ২০০৪ এর নির্বাচনের মতো গিয়ে দাঁড়াবে, যেখানে বামেদের পশ্চিমবঙ্গের আসনগুলোর একটা বড় ভাগ চলে যাবে তৃণমূলের ঝুলিতে। এরকম হতে গেলে কংগ্রেসকে প্রায় দেড়শোর কাছাকাছি আসন জোটাতে হবে, আর তখন তৃতীয় পক্ষ ঢলবে রাহুল গান্ধীর দিকে।
অর্থাৎ যদি একটা দাঁড়িপাল্লার কথা ভাবা যায়, তাহলে তার একদিকে থাকবে ২০০৪ এর নির্বাচন, আর অন্যদিকে ২০১৪-র। এবারের নির্বাচন তার মধ্যে কোনদিকে যাবে সেই অনুযায়ী ঠিক হবে ক্ষমতায় আসছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ, নাকি বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ। মনে রাখতে হবে যে ১৯৯৯ তে ১৮২টা আসন পেয়ে সরকার গড়েছিল বিজেপি, সঙ্গে ছিল এনডিএ-র বিভিন্ন দল। তেমনই ২০০৪-এ কংগ্রেস পেয়েছিল ১৪৫টি আসন। তাতে তাদের ইউপিএ-র নেতৃত্বে থেকে সরকার গঠনে কোনও অসুবিধে হয় নি। অর্থাৎ একটি বিষয় পরিষ্কার যে কংগ্রেস বা বিজেপির মধ্যে কোনও একটি দল অবশ্যই দেড়শোর বেশি আসন পেলেই নেতৃত্বের দাবিদার হওয়ার চেষ্টা করবে। কংগ্রেস সরকার গড়লে রাহুল গান্ধীর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় একশো শতাংশ। তবে বিজেপি যদি খুব খারাপ ফল করেও (দুশোর নীচে আসন) সরকারে নেতৃত্ব দেয় তখন নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন কিনা সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
তবে এছাড়াও আরও অনেক ধরনের সম্ভাবনা থাকবে। তার মধ্যে একটা হল ভালো করল না বিজেপি কিংবা কংগ্রেস দুজনেই এবং তাদের মোট আসন হল আড়াইশোর কম। সেক্ষেত্রে দক্ষিণের দলগুলো তো তৃতীয় পক্ষকে আসন জোগান দেবেই। তবে সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মতো কাউকে আপাতত খুঁজে পাওয়া শক্ত। চন্দ্রবাবু নাইডুর হয়তো সামান্য সম্ভাবনা আছে, তবে তার জন্যে তেলুগু দেশমকে আগে ভালো ফল করতে হবে। বিজেপি আর কংগ্রেসের আসন কম হওয়ার অর্থ পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলও ভালো ফল করবে।
সেক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুযোগ পেলে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী হতে রাজি থাকবেন, জ্যোতি বসুর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি আর হবে না। উত্তরপ্রদেশে ভালো ফল করলে মায়াবতী অবশ্যই চেষ্টা করবেন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার। উচ্চশিক্ষিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আসন কম থাকলেও অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নাম উঠে আসতে পারে। কে বলতে পারে সেক্ষেত্রে হয়তো অনেকে অনুরোধ জানাবেন রঘুরাম রাজনকে প্রধানমন্ত্রী হতে। সব মিলিয়ে ডালপালা সমেত সম্ভাবনার গাছ আঁকা হতে পারে অনেক রকমই। তেমন হলে রামবিলাস পাশোয়ান কিংবা অখিলেশ বা তেজস্বী যাদবই বা জমি ছাড়বেন কেন? সেক্ষেত্রে এই নির্বাচনের সঙ্গে ২০০৪ বা ২০১৪ কোনওটাই মিলবে না, পুরোপুরি নতুন খবর আনবে ২০১৯। অর্থাৎ খুব অদ্ভুত একটা অঙ্ক এবারের নির্বাচনে আসছে যা হল বিজেপি আর কংগ্রেসের আসনের যোগফল। এই যোগফল যদি তিনশোর বেশি হয়, তাহলে সরকার হবে বিজেপি বা কংগ্রেসের নেতৃত্বেই। কিন্তু এই যোগফল আড়াইশোর কম হলে তৃতীয় পক্ষের সম্ভাবনা প্রবল। আসনের হিসেবে অবশ্যই বিজেপি এবং কংগ্রেস প্রথম দুপক্ষে থাকবে, কিন্তু তাদের যোগফল ঠিক করবে ক্ষমতার লাগাম ধরবে কে। বিজেপি কংগ্রেসের যোগফল আড়াইশো থেকে তিনশোর মধ্যে থাকলে যা কিছু ঘটতে পারে, আর তা ঠিক হবে মে মাসের শেষ সপ্তাহে।
এবারের নির্বাচনে ভারতের প্রায় সব দলের ক্ষেত্রেই কিছু না কিছু ভালো খবর আসার সম্ভাবনা থাকলেও, আসনের হিসেবে সবথেকে দুর্দশা বামফ্রন্টের। কেরলে ভালো ফল না করলে তাদের আসনসংখ্যা এবার এক অঙ্কে নেমে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে কংগ্রেস বা তৃতীয় পক্ষের সরকার হলেও তাদের প্রাসঙ্গিকতা কমে যাবে একেবারেই। দেশের পক্ষে তা মোটেই ভালো খবর নয়। নীতি নির্ধারণে সংসদে শিক্ষিত বাম নেতৃত্বের অনুপস্থিতি দেশকে অনেকটা পিছিয়ে দিতে পারে। তার মধ্যে সবথেকে বড় বিপদ সরকারি ব্যাঙ্কের বেসরকারিকরণের মতো বিষয়গুলি। অবশ্যই এ নিয়ে বামেদের সমমতই পোষণ করবে তৃণমূল। কিন্তু, তাদের তালিকা দেখলে এটা পরিষ্কার যে গভীর বিষয় নিয়ে সংসদে আলোচনা করার মত প্রার্থীদের তারা খুব বেশি টিকিট দেননি। বাম এবং মধ্যপন্থার কথা যে দলগুলো বলতে পারে, অর্থাৎ কংগ্রেস, সপা, বসপা, আরজেডি—তাদের সবার ক্ষেত্রেই অবস্থাটা প্রায় একইরকম। তাই যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন, দেশের মানুষ যে কিছুটা নিশ্চিন্তে থাকবে এমনটা নয়। প্রচুর শিক্ষিত এবং সংবেদনশীল মানুষ যে এবার সংসদ আলো করবেন সেরকম মনে হচ্ছে না। সেই হিসেবে ২০১৯ অবশ্যই এক গামলা নেতিবাচক খবর আনবে। ভোটাররা বিষয়টা একবার ভেবে দেখবেন কি?
 লেখক ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক, মতামত ব্যক্তিগত
25th  April, 2019
 দেশ চেয়েছে একজন শক্তিশালী নেতা
আর রাজ্যের দাবি গণতান্ত্রিক পরিসর
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

 দেশের মানুষ শক্তিশালী নেতার পক্ষে স্পষ্ট রায় জানিয়েছেন। শত বিভাজিত বিরোধী শিবির অপেক্ষা একক নেতার প্রতি সাধারণ মানুষ যে ভরসা করেন আরও একবার বিজেপির পক্ষে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে তা প্রমাণিত হল।
বিশদ

মোদির প্রত্যাবর্তন
 শান্তনু দত্তগুপ্ত

ঘড়ি ধরে ঘুম ভেঙেছিল ঠিক সকাল ৫টায়। প্রথমে নিয়মমাফিক যোগব্যায়াম, তারপর খবরে চোখ রাখা। নাঃ, সব শান্তিতেই আছে... নিশ্চিন্ত মনে ব্রেকফাস্ট নিয়ে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী। সাড়ে ৮টা নাগাদ খবর আসা শুরু হল... কিছু একটা হয়েছে গোধরায়... কয়েকজন মারা গিয়েছে। সংখ্যাটা বাড়তেও পারে... ট্রেনে কিছু... এখনও শিওর হওয়া যাচ্ছে না। সেদিন আবার বিধানসভায় বাজেট পেশ।  
বিশদ

24th  May, 2019
সাবধান! গ্রাফিতি নিয়ে ব্যাঙ্কসি এবার ভারতেও
মৃণালকান্তি দাস

কোনও রাজা নয়। রাজার মূর্তিও নয়। দুই নেতার টানাটানিতে দ্বিখণ্ডিত ভারত! এটাই ছিল মুম্বইয়ের রাজপথের পাশে কোনও এক দেওয়ালে আঁকা গ্রাফিতি। দড়ি টানাটানি করছেন যাঁরা, তাঁদের একজন ‘নাগরিক’ পোশাকে সজ্জিত কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। অন্যজনের পরনে সামরিক উর্দি। তিনি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কে এঁকেছেন, জানা নেই।
বিশদ

23rd  May, 2019
ভোটফল ২০১৯: ভালো মন্দ যা-ই ঘটুক উৎসবের মেজাজটি যেন বজায় থাকে
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আজ সেই বহু প্রতীক্ষিত বৃহস্পতিবার, ২৩ মে। জল্পনা-কল্পনা, আন্দাজ-অনুমানের যাবতীয় কুহেলিকা সরিয়ে আজ প্রকাশ পাবে ২০১৯ লোকসভার চূড়ান্ত চিত্র। দেশজনতা আগামী পাঁচ বছরের জন্য কার হাতে পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র এই ভারতের শাসনভার তুলে দিলেন— জানা যাবে আজ।
বিশদ

23rd  May, 2019
অর্ধেক বুথে ভিভিপ্যাট গণনার দাবি এক মস্ত
চ্যালেঞ্জ, ব্যালটের যুগেই ফেরার তোড়জোড়
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের নির্বাচনী রাজসূয় যজ্ঞের চূড়ান্ত পর্বে ভোট গণনা ও ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র ভারত তো বটেই, সারা পৃথিবী। গত কয়েক মাস ধরে চলা রাজনীতির ঘাত-প্রতিঘাত, চাপান-উতোর, দাবি, পাল্টা দাবির সত্যতা উঠে আসবে গণনার মধ্য দিয়ে।
বিশদ

22nd  May, 2019
পশ্চিমবঙ্গের ভোট বিশ্লেষণ
শুভময় মৈত্র

 এ লেখা যখন আপনারা পড়ছেন, ততক্ষণে বুথফেরত সমীক্ষা আপনাদের হাতে। কিন্তু সমীক্ষা মানেই যে সেটা মিলবে এমনটা নয়। তার কারণ দুটো। এক হল সমস্ত সমীক্ষারই সফল হওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকে। ঘুরিয়ে বললে সম্ভাবনা থাকে ব্যর্থ হওয়ারও।
বিশদ

21st  May, 2019
ভোট ও বুথ-ফেরত সমীক্ষার হাল-হকিকত
অতনু বিশ্বাস

ছ’সপ্তাহ-ব্যাপী লোকসভা নির্বাচন। সাত দফায়। তারও প্রায় পাঁচ সপ্তাহ আগে থেকে প্রচার, ইত্যাদি। আর এখন এক ক্লান্তিকর সময়কালের পরিসমাপ্তিতে অপেক্ষ্যমান জনগণ। কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে ঢুকে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার মত অনভিপ্রেত ঘটনার অভিঘাতে বিমূঢ়, রাজনৈতিক চাপান-উতোর আর হানাহানিতে দীর্ণ, এবং সুদীর্ঘ ভোটপর্বের শেষে গোটা ভারতবর্ষ এখন তাকিয়ে আছে বৃহস্পতিবারের দিকে।
বিশদ

21st  May, 2019
অবশেষে সমাপ্ত, তিক্ততাসহ
পি চিদম্বরম

বিজেপি প্রচারের গোড়ায় ‘গিয়ার’ বদলে নিয়েছিল। ‘আচ্ছে দিন’-এর কথা ভুলক্রমেও উচ্চারিত হয়নি। ২০১৪ সালের প্রতিশ্রুতিগুলি বিজেপির জন্য এক বিড়ম্বনায় পরিণত হয়েছিল। নরেন্দ্র মোদি ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’, পুলওয়ামা-বালাকোট এবং জাতীয়তাবাদের ছত্রছায়ায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’ হল স্রেফ একটা ক্রস-বর্ডার অ্যাকশন বা সীমান্ত টপকে হানা—যা দিয়ে পাকিস্তানকে কোনোরকমে নিরস্ত করা যায়নি।
বিশদ

20th  May, 2019
নতুন বন্ধুর খোঁজে কংগ্রেস ও বিজেপি
শুভা দত্ত

বিজেপি যদি ২২০ থেকে ২৩০-এর বেশি আসন না পায়, তখন কী হবে? এনডিএ-র শরিকরা একবাক্যে বলবে, মোদির ভুলভাল সিদ্ধান্তের জন্যই ভোটার বিমুখ হয়েছে, সুতরাং তাঁকে আর প্রধানমন্ত্রী করার দরকার নেই। আরএসএস অবশ্য তাঁকে সরাতে চাইবে না। এই অবস্থায় অমিত শাহরা ঝাঁপিয়ে পড়বেন যাতে আরও কয়েকটি দলকে তাঁদের সমর্থনে পাওয়া যায়। বিজেপি যদি ১৪০ থেকে ১৬০-এর মধ্যে আসন পায়? তাহলে নিশ্চিতভাবেই মোদির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা জলাঞ্জলি যাবে। যতই নতুন বন্ধু আসুক, দিল্লিতে সরকার গড়া কিছুতেই সম্ভব হবে না। বিজেপিকে বসতে হবে বিরোধী আসনে।
বিশদ

20th  May, 2019
শেষ দফার ভোটে শান্তি বজায় রাখাই
আজ কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

শুভা দত্ত

দেখতে দেখতে সাত দফার লম্বা ভোটযুদ্ধ শেষ হয়ে এল। আজ সপ্তম, তথা শেষ দফা। তারপরই শুরু হয়ে যাবে লোকসভা মহাযুদ্ধের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য কাউন্টডাউন। রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৩৩টির ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, যাদবপুর সমেত বাকি ন’টি আসনের ভাগ্য নির্ধারিত হবে আজ। 
বিশদ

19th  May, 2019
ভোট কেন দেশের
নামে হল না?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সামনে একটি প্লাইউডের কাটআউট। মাঝখানটা জানালার মতো কেটে জায়গা করা। সেলফি জোন বা সেলফি পয়েন্ট। অবশ্য সেটা নামেই। নিজে ছবি তুললে ইমপ্যাক্ট পড়বে না। বরং বিষয়টা এমন, ভোট দিয়ে বেরিয়ে ভোটার সেখানে দাঁড়াবেন... উল্টোদিক থেকে কেউ ছবি তুলবে।
বিশদ

18th  May, 2019
এবার ভোটে যে-কথা কেউ বলেনি
শুভা দত্ত

 ভোটপর্ব শেষ হয়ে এল। সামনের রবিবারেই ভোটগ্রহণ শেষ। প্রচারও শেষ হল। বৈশাখের দহন জ্বালা যত বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনীতির উত্তাপ। মারদাঙ্গা, ভাঙচুর, ব্যক্তিগত আক্রমণ, সবই চলছে। এবার একটা বড় ইস্যু দেশের সুরক্ষা। তার সঙ্গে দুর্নীতি, বেকারত্ব, চাষিদের দুর্দশা এসবও আছে। কিন্তু একটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কেউ কথা বলেনি। বিষয়টি হল বায়ুদূষণ। বিশদ

17th  May, 2019
একনজরে
 দীপ্তিমান মুখোপাধ্যায়, হাওড়া: ব্যবধান মাত্র তিন বছরের। তার মধ্যেই হাওড়া সদর লোকসভার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রেই তৃণমূলের জয়ের মার্জিন অনেকখানি কমল। যদিও শতাংশের হারে তৃণমূলের ভোট না কমলেও সিপিএমের ভোট প্রায় সবটাই বিজেপির বাক্সে গিয়েছে। ...

 লন্ডন, ২৪ মে: বল বিকৃতি কাণ্ডের জেরে এক বছর ক্রিকেট থেকে দূরে ছিলেন তিনি। তবু ব্যাটের ধার এতটুকু কমেনি ডেভিড ওয়ার্নারের। বরং নির্বাসন কাটিয়ে ঢের ...

সংবাদদাতা, কান্দি: নিজের জীবনের অন্তত ২০ বছর বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলোর মাধ্যমে কাটিয়েছেন। কখনও কাবাডি নিয়ে মেতে উঠেছিলেন, আবার কখনও ভলিবল খেলায় উৎসাহ জুগিয়েছিলেন। যদিও ফুটবল তাঁর প্রিয় খেলা। ...

দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি, ২৪ মে: তত্ত্ব কথা আওড়ানোর লোক আছে। কিন্তু মাঠে ময়দানে নেমে কাজ করার জন্য দলীয় কর্মী নেই। সেই কারণে সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশের কাছে পৌঁছনোই যায়নি। লোকসভা থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়ে কার্যত এই মর্মেই দলের কেন্দ্রীয় ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শারীরিক কারণে কর্মে বাধা দেখা দেবে। সন্তানরা আপনার কথা মেনে না চলায় মন ভারাক্রান্ত হবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

 বিশ্ব থাইরয়েড দিবস
১৮৮৬: বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর জন্ম
১৮৯৯: বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম
১৯০৬ - বিখ্যাত ভাস্কর রামকিঙ্কর বেইজের জন্ম
১৯২৪ - শিক্ষাবিদ, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এর ভাইস-চ্যান্সেলর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৭২: পরিচালক করণ জোহরের জন্ম
২০০৫: অভিনেতা সুনীল দত্তের মৃত্যু
২০০৯: পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলায় আইলা আঘাত করল
২০১৮ - শান্তি নিকেতনে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৬৫ টাকা ৭০.৩৪ টাকা
পাউন্ড ৮৬.২৯ টাকা ৮৯.৫১ টাকা
ইউরো ৭৬.০৩ টাকা ৭৮.৯৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,১৪৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,৫০০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩০,৯৬০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৬,৪৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৬,৫৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৫ মে ২০১৯, শনিবার, ষষ্ঠী ৩/৪১ দিবা ৬/২৬। শ্রবণা ১৩/১৪ দিবা ১০/১৫। সূ উ ৪/৫৭/০, অ ৬/৯/৪৮, অমৃতযোগ দিবা ৩/৩১ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৬/৫২ গতে ৭/৩৫ মধ্যে পুনঃ ১১/১২ গতে ১/২১ মধ্যে পুনঃ ২/৪৭ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৬/৩৬ মধ্যে পুনঃ ১/১২ গতে ২/৫১ মধ্যে পুনঃ ৪/৩১ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ৭/৩০ মধ্যে পুনঃ ৩/৩৬ গতে উদয়াবধি।
১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৫ মে ২০১৯, শনিবার, ষষ্ঠী ২/১০/২৫ দিবা ৫/৪৮/৪৮। শ্রবণানক্ষত্র ১২/৪০/১৪ দিবা ১০/০/৪৪, সূ উ ১/২৯/৫, অ ৬/১১/৫৫, অমৃতযোগ দিবা ৩/৩৬ গতে ৬/১২ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/০ গতে ৭/৪২ মধ্যে ও ১১/১৬ গতে ১/২২ মধ্যে ও ২/৪৮ গতে ৪/৫৬ মধ্যে, বারবেলা ১/১৩/৪১ গতে ২/৫৩/৬ মধ্যে, কালবেলা ৬/৩৬/৩ মধ্যে ও ৪/৩২/৩১ গতে ৬/১১/৫৫ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৩২/৩০ মধ্যে ও ৩/৩৬/২ গতে ৪/৫৬/৩১ মধ্যে।
১৯ রমজান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
সুরাতে আগুন: মৃতদের পরিবার পিছু ৪ লক্ষ টাকা সাহায্য ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানী ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি মৃতদের ...বিশদ

24-05-2019 - 06:19:00 PM

সুরাতে আগুন: কমপক্ষে ১৫ জনের মৃত্যু
সুরাত পুলিস কমিশনার সতীশকুমার মিশ্র জানিয়েছেন, কমপক্ষে ১৫ জনের মৃত্যু ...বিশদ

24-05-2019 - 06:16:00 PM

সুরাতে আগুন: সমবেদনা জানালেন মোদি 
অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। সুরাতে আগুন লাগার ঘটনা প্রসঙ্গে জানালেন নরেন্দ্র মোদি। ...বিশদ

24-05-2019 - 06:07:00 PM

ভয়াবহ অগ্নিকান্ড সুরাতে
ভয়াবহ আগুন সুরাতের সার্থনার একটি বাড়িতে। ঘটনাস্থলে দমকলের ১৮টি ইঞ্জিন। ...বিশদ

24-05-2019 - 06:01:00 PM

শুভ্রাংশু রায়কে সাসপেন্ড করল তৃণমূল
দলে থেকে দল বিরোধী মন্তব্য করার অপরাধে এবং অন্য ...বিশদ

24-05-2019 - 05:26:55 PM

আউশগ্রামের দিগনগরে তৃণমূল কার্যালয়ে ভাঙচুর করে আগুন লাগানোর অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে 

24-05-2019 - 04:26:22 PM