Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ভোট
শুভা দত্ত

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে দু’টি দফার ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যে সমাপ্ত। এই নির্বাচনে সাত দফায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ৯০ কোটি মানুষ। এক্ষেত্রে একটি প্রাসঙ্গিক তথ্য হল, এখন দেশে ৫৬ কোটি মানুষ ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত। তাদের সিংহভাগ তরুণ-তরুণী। তারা নিয়মিত ফেসবুক, ট্যুইটার আর হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে খবর দেওয়া নেওয়া করে।
গত কয়েক মাস ধরে প্রতিটি রাজনৈতিক দল ওই মাধ্যমগুলিতে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছে। ফেসবুক, ট্যুইটার আর হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে শত শত প্রচারমূলক অডিও এবং ভিডিও ক্লিপ।
রাজনীতিকদের হিসেব সহজ। যে বিপুল সংখ্যক মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে, তাদের পাঁচ থেকে ১০ শতাংশকেও যদি প্রভাবিত করা যায়, তাহলেই কেল্লা ফতে। এই ভেবে সবকটি দল সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচারে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে বসে আছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রণী বিজেপি। তারপরেই আছে কংগ্রেস। বাকিরাও চেষ্টা করছে যে যার সাধ্যমতো। এই প্রথমবার ফেসবুক, ট্যুইটার কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ভারতীয় রাজনীতিতে।
এখনও পর্যন্ত ট্যুইটারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফলোয়ারের সংখ্যা ৪ কোটি ৬০ লক্ষ। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যতীত সোশ্যাল মিডিয়ায় এত বেশি অনুগামী আর কোনও রাষ্ট্রপ্রধানের নেই। কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী ট্যুইটারে অ্যাকাউন্ট খুলেছেন ২০১৫ সালে। তাঁর ফলোয়ার ৯০ লক্ষ।
অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ার এই বাড়বাড়ন্তের মধ্যে সিঁদুরে মেঘ লক্ষ করেছেন। কেননা একে ব্যবহার করে মুহূর্তে লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া যায়। অসাধু কোনও রাজনীতিক খুব সহজে গুজব, কুৎসা ও মিথ্যা খবর ছড়িয়ে দিতে পারেন জনগণের মাঝে। তাতে সাধারণ মানুষের সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হতে পারে।
ভোটের মরশুমে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে এমন বিতর্ক নতুন নয়। ২০১৬ সালে আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়ও অভিযোগ উঠেছিল, রাশিয়ানরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পের হয়ে প্রচার চালাচ্ছে।
প্রশ্ন হল, সোশ্যাল মিডিয়া সত্যিই কি ভোটে বিঘ্ন ঘটাতে এসেছে? এর জবাব পেতে গেলে আগে বুঝতে হবে দুটি বিষয়। প্রথমত, অন্য সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার তফাৎ কোথায়? দ্বিতীয়ত, গত কয়েক দশকে কীভাবে বদলে গিয়েছে আমাদের সংবাদ মাধ্যম?
আগেকার দিনে দেশ-বিদেশের খবর পাওয়ার একমাত্র মাধ্যম ছিল সংবাদপত্র। ভোরবেলায় হকাররা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিত ধূসর নিউজপ্রিন্টে ছাপা খবরের কাগজ। তাতে নানা ঘটনা, দুর্ঘটনা ও দেশ নেতাদের বাণী যেমন ছাপা হতো, তেমনি থাকত বরেণ্য সাংবাদিকদের কলাম। তাঁরা তুলে ধরতেন সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা। কখনও বা তীক্ষ্ণ সমালোচনায় বিদ্ধ করতেন শাসককে।
সাতের দশকের মাঝামাঝি ঘরে এল টিভি। দূরদর্শনেও রোজ কয়েকবার খবর পড়া হতো। কিন্তু সে তো সরকার নিয়ন্ত্রিত চ্যানেল। যে কোনও বিষয়ে সরকারি বক্তব্যের বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা নেই তার। ফলে খবরে তেমন তেজও নেই। মানুষের মধ্যে তেমন জনপ্রিয় হয়নি দূরদর্শনের খবর।
সর্বভারতীয় স্তরে বেসরকারি অডিও ভিস্যুয়াল মিডিয়ার জয়যাত্রা শুরু আটের দশকে। কলকাতার দূরদর্শনে স্লট ভাড়া করে বেসরকারি অডিও ভিস্যুয়াল খবর এসে পড়ল নয়ের দশকের শেষাশেষি। সে একেবারে হইহই ব্যাপার। লোকে এতদিন কাগজে খবর পড়ত, এবার খবর দেখছে।
একুশ শতকের প্রথম ১০ বছরে ফুলেফেঁপে উঠল অডিও ভিস্যুয়াল। ২৪ ঘণ্টা ধরে খবর দেখাতে লাগল কয়েকটি চ্যানেল। এরই মধ্যে নিঃশব্দে হাজির হল সোশ্যাল মিডিয়া। প্রথম প্রথম মানুষ খুব ব্যক্তিগত খবর লেনদেন করত তার মাধ্যমে। তাতে অনেক পুরনো বন্ধুর সঙ্গে ফের যোগাযোগ হতে লাগল। তখনকার দিনে ডেস্কটপ কম্পিউটারে অথবা ল্যাপটপে খোলা যেত ফেসবুক, ট্যুইটার।
তারপর স্মার্টফোন সস্তা হয়ে গেল। মোবাইলে ইন্টারনেটও পাওয়া যেতে লাগল নামমাত্র খরচে। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলে গেল সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা। সোশ্যাল মিডিয়া এখন মোবাইলের পর্দায়। অফিসে কাজের ফাঁকে কিংবা বাসে ও ট্রেনে একটু সুযোগ পেলেই বাটন টিপে দেখে নেওয়া যায় কে কী পোস্ট করেছে।
ক্রমে ফেসবুক, ট্যুইটার ও হোয়াটসঅ্যাপ হয়ে উঠল বৃহত্তর জগতের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম। নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক খবরাখবর চালাচালি হতে লাগল তার মাধ্যমে। জনমত গঠন করা, প্রতিবাদ সংগঠিত করার অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠল সোশ্যাল মিডিয়া।
কিন্তু তার একটা বিপদের দিক তো আছেই।
সংবাদপত্রে বা টিভি চ্যানেলে একটা ছাঁকনি থাকে। সেখানে যে কোনও খবর আসা মাত্রই প্রকাশিত বা সম্প্রচারিত হতে পারে না। সম্পাদকরা আগে খতিয়ে দেখেন, খবরের বিশ্বাসযোগ্যতা কতদূর। তারপর ভেবে দেখেন, খবরটি মানুষের মধ্যে গেলে অশান্তি বা দাঙ্গাহাঙ্গামা সৃষ্টি হবে না তো! এর যে ব্যতিক্রম হয় না তা নয়। কিন্তু একটা দূর পর্যন্ত দায়িত্ববোধ আশা করাই যায় খবরের কাগজ কিংবা টিভি চ্যানেলের কাছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ছাঁকনিটাই নেই। তার মাধ্যমে যে কোনও গুজবকে খবর নাম দিয়ে হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায় খুব সহজে। ভোটের আগে এমন ‘ফেক নিউজ’ ছড়ানোর উদাহরণ আছে বিস্তর।
ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণে চল্লিশ জনের বেশি সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হন। তার দু’সপ্তাহ বাদে ফেসবুকে একটি অডিও ক্লিপ ছড়াতে থাকে। যাতে নাকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ও এক মহিলার কণ্ঠস্বর শোনা গিয়েছে। তাঁরা আলোচনা করছেন, ভোটের আগে পুলওয়ামাকাণ্ডকে ছুতো করে একটা যুদ্ধ বাধাতেই হবে। একদিনের মাথায় ফেসবুক জাল অডিও ক্লিপটি চিহ্নিত করে। তাকে ফেসবুকের পাতা থেকে মুছেও ফেলা হয়। কিন্তু তার মধ্যে ২৫ লক্ষ মানুষ ওই অডিও শুনে ফেলেছেন। শেয়ারও করেছেন দেড় লক্ষ মানুষ।
পুলওয়ামার ঘটনার জের চলেছে বেশ কয়েকদিন ধরে। জঙ্গিহানার কিছুদিন পরে পাকিস্তানের বালাকোটে জয়েশ-ই-মহম্মদের প্রশিক্ষণ শিবিরে বোমা ফেলে আসে ভারতের বায়ু সেনা। পাকিস্তানের বিমান ভারতের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে ঢুকতে চেষ্টা করে। সেই বিমানগুলি তাড়াতে গিয়ে পাকিস্তানে ঢুকে পড়েন ভারতের মিগ-২১ বিমানের চালক অভিনন্দন ভর্তমান। তাঁর প্লেন পাকিস্তানের গোলায় ধ্বংস হয়। তিনি বন্দি হন। আবার চাপের মুখে তাঁকে ছেড়েও দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তান।
সীমান্তে এইরকম উত্তেজনার সময় যেভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদ্বেষমূলক প্রচার চালানো হয়েছে, তার তুলনা নেই। প্রায় প্রত্যেকের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে রোজ অন্তত কয়েকশো করে ভুলভাল খবর ও ভিডিও ক্লিপ ঢুকেছে।
ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়ানো খবর কি সত্যিই বিশ্বাস করে সাধারণ মানুষ?
এই প্রশ্নের জবাব পেতে কিছুদিন আগে সমীক্ষা করেছিল দুটি সংস্থা। একটির নাম সোশ্যাল মিডিয়া ম্যাটারস, অপরটি দিল্লি ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স পলিসিস অ্যান্ড পলিটিক্স। সমীক্ষার নাম, ডু নট বি এ ফুল।
সমীক্ষকরা যাঁদের প্রশ্ন করেছিলেন, তাঁদের ৯৬ শতাংশ উত্তর দিয়েছেন, তাঁরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে মিথ্যা খবর পেয়ে থাকেন। ৫৩ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে এবারের লোকসভা নির্বাচন নিয়ে ভুয়ো খবর এসেছে।
৬২ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন, ভুয়ো খবর ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে। ৪১ শতাংশ জানিয়েছেন, হোয়াটসঅ্যাপের খবরে তাঁদের বিশ্বাস নেই।
হোয়াটসঅ্যাপের খবরে বিশ্বাস আছে, এমন মানুষের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। তাদের দিয়েই কোনও অশুভ শক্তি ঘটিয়ে দিতে পারে নানা অনর্থ। গত কয়েক বছরে দেশের নানা প্রান্তে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন বহু নিরীহ মানুষ। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, গণপিটুনির আগে গুজব ছড়ানোর জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করা হয়েছিল।
নির্বাচন কমিশন ভোটের আগে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধিদের ডেকে ভালো করে সমঝে দিয়েছে, আদর্শ আচরণবিধি মেনে চলতে হবে তাদেরও। ফেসবুক ও ট্যুইটার জানিয়ে দিয়েছে, জাল খবরের বাড়বাড়ন্ত ঠেকাতে কয়েকটি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, ভুয়ো খবর চিহ্নিত করতে তারা কাজে লাগাবে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স।
এইসব পদ্ধতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজবের রমরমা ঠেকানো যাবে কি না সন্দেহ। কেননা, এক্ষেত্রে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে অনেকের কাছে, খবর ছড়িয়ে দেওয়া যায়। কেউ ভুয়ো খবর, উস্কানিমূলক অডিও, ভিডিও ক্লিপ ছড়াচ্ছে বলে টের পাওয়ার আগেই তা হাজার হাজার মানুষের মোবাইলে পৌঁছে যেতে পারে।
এক্ষেত্রে উপায়?
মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে আর কোনও উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়া এমনই এক মাধ্যম, যাকে আইন করে পুরোপুরি ঠেকানো যায় না। মানুষ যদি ফেক নিউজ প্রত্যাখ্যান করে, তবেই তা ছড়ানো বন্ধ হবে।
গণমাধ্যমের সামনে নানা বিপদ আগেও এসেছে। স্বৈরাচারী শাসক কঠোর সেন্সর ব্যবস্থা চালু করে সরকারের সমালোচনা ছাপা বন্ধ করতে চেয়েছে। অপছন্দের সংবাদপত্রের দপ্তরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। সাংবাদিকরা বহু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আর একরকমের বিপদ ঘনিয়ে আসছে। মানুষে মানুষে বিদ্বেষ প্রচার করা যাঁদের কাজ, তাঁরা ওই প্ল্যাটফর্মগুলি কাজে লাগাচ্ছে ব্যাপকভাবে। সামাজিক স্থিতিশীলতা, সহিষ্ণুতার বাতাবরণ নষ্ট করার জন্য চেষ্টা চলছে ক্রমাগত।
অতীতে নানা বিপদের মোকাবিলা করে জয়ী হয়েছে মানুষের শুভবুদ্ধি। গণতন্ত্র, সহনশীলতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীন চরিত্র রক্ষা পেয়েছে।
ভারতীয় নাগরিকদের গণতান্ত্রিক চেতনা এই বিদ্বেষ প্রচারকেও পরাস্ত করতে পারবে কি?
এই প্রশ্নের জবাব মিলবে ২৩ মে। যাঁরা মানুষে মানুষে ঘৃণা প্রচারে সবচেয়ে সক্রিয় ছিল, তাঁরা ভোটে সুবিধা করতে পারল কি না দেখতে হবে। যদি না পারে, তাহলে আমরা ধরে নেব, সোশ্যাল মিডিয়াকে খারাপ কাজে লাগানোর চেষ্টা অনেকাংশে ব্যর্থ।
23rd  April, 2019
ছোটদের বড় করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

সব থেকে ভালো হয়, যদি আপনার ‘বাছা’কে নিজের মতো বেড়ে উঠতে দেন। আনন্দে বেড়ে উঠুক। আলো চিনিয়ে দিন, অন্ধকার চিনিয়ে দিন। লক্ষ্য রাখুন, ঠিকঠাক এগচ্ছে কি না! সামনে পিছনে কত ফাঁদ, চোরাবালি। আপনিই ঈশ্বর, ওকে রক্ষা করুন। ছোটদের ‘বড়’ করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে। দয়া করে ওর উপর মাতব্বরি করবেন না, হ্যাঁ আমরা মাতব্বরিই করি।
বিশদ

জন্ম এবং মৃত্যুর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি অকস্মাৎ আমার একটি বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। এই উপলক্ষে জগতে সকলের চেয়ে পরিচিত যে মৃত্যু তার সঙ্গে আর-একবার নূতন পরিচয় হল। জগৎটা গায়ের চামড়ার মতো আঁকড়ে ধরেছিল, মাঝখানে কোনো ফাঁক ছিল না। মৃত্যু যখন প্রত্যক্ষ হল তখন সেই জগৎটা যেন কিছু দূরে চলে গেল, আমার সঙ্গে আর যেন সে অত্যন্ত সংলগ্ন হয়ে রইল না।
——— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশদ

অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

19th  July, 2019
বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
ঘোষণা ও বাস্তব
সমৃদ্ধ দত্ত

ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান একটি প্রকল্পই হল নদী সংযোগ প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন নদীকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। যাতে উদ্বৃত্ত জলসম্পন্ন নদী থেকে বাড়তি জল শুকনো নদীতে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বারংবার এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। গোটা প্রকল্প রূপায়ণ করতে অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকা দরকার। এদিকে আবার বুলেট ট্রেন করতেও ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে! আধুনিক রাষ্ট্রে অবশ্যই দুটোই চাই। কিন্তু বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিচার করলে? কোনটা বেশি জরুরি? বিশদ

12th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

 কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর থেকে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১৯-এর যে খসড়া প্রকাশিত হয়েছে তার যে অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে হই চই পড়েছিল তা হল বিদ্যালয় স্তরে ত্রি-ভাষা নীতির মাধ্যমে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে জোর করে হিন্দি চাপানোর বিষয়টি। তামিলনাড়ুর মানুষের প্রবল আপত্তিতে তা কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
বিশদ

11th  July, 2019
কেন তেরোজন অর্থনীতিবিদ অখুশি হবেন?
পি চিদম্বরম

প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. অরবিন্দ সুব্রামনিয়ন পাঁচ বছর আগে তাঁর প্রথম অর্থনৈতিক সমীক্ষা (ইকনমিক সার্ভে ২০১৪-১৫) পেশ করে বলেছিলেন, ‘‘ভারত একটা সুন্দর জায়গায় (সুইট স্পট) পৌঁছে গিয়েছে—জাতির ইতিহাসে এটা বিরল—এইভাবে শেষমেশ দুই সংখ্যার মধ্যমেয়াদি বৃদ্ধির কৌশলে ভর করে এগনো যাবে।’’
বিশদ

08th  July, 2019
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শনিবার দুপুরে পাঁচলার গাববেড়িয়ায় টোটো ও লরির মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু হল এক শিশুর। তার নাম আমিরুদ্দিন শাহ (৭)। বাড়ি সিদ্ধেশ্বরী সাহাপাড়ায়। পুলিস জানিয়েছে, এদিন ওই শিশুটি মায়ের সঙ্গে একটি টোটোয় মাজারে যাচ্ছিল। তখন একটি লরি ওই টোটোয় ...

সংবাদদাতা, বালুরঘাট: বন্যা দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিলিতে দুর্নীতি ঠেকাতে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ত্রিপল বিলি করছেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন ব্লকের বিডিও। পাশাপাশি ত্রাণ শিবিরে খাবার বিলিতেও বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে।  ...

কাবুল, ১৯ জুলাই (এএফপি): কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে এক বিস্ফোরণে কমপক্ষে আটজন প্রাণ হারালেন। ঘটনায় আরও বহু মানুষ জখম হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া। সরকারি ...

নয়াদিল্লি, ১৯ জুলাই (পিটিআই): স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতা নিয়ে পরামর্শ চেয়ে আবারও জনতার দরবারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার এই আহ্বান জানিয়ে মোদি লিখেছেন, সাধারণ মানুষের চিন্তাভাবনার কথা জানবে গোটা দেশ। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

পারিবারিক ঝামেলার সন্তোষজনক নিষ্পত্তি। প্রেম-প্রণয়ে শুভ। অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষে মানসিক চাপ বৃদ্ধি।প্রতিকার: আজ দই খেয়ে শুভ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯২০: মা সারদার মৃত্যু
১৮৬৩: কবি, গীতিকার ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম
১৮৯৯: লেখক বনফুল তথা বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫৫: প্রাক্তন ক্রিকেটার রজার বিনির জন্ম
২০১২: বাংলাদেশের লেখক হুমায়ুন আহমেদের মূত্যু 

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৫ টাকা ৬৯.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৭৭ টাকা ৮৭.৯২ টাকা
ইউরো ৭৬.১০ টাকা ৭৯.০৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৭৫০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৯২০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৪,৪৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪১,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার, তৃতীয়া ১০/১৮ দিবা ৯/১৪। শতভিষা অহোরাত্র। সূ উ ৫/৬/৩, অ ৬/১৯/৩১, অমৃতযোগ দিবা ৯/৩১ গতে ১/২ মধ্যে। রাত্রি ৮/২৮ গতে ১০/৩৮ মধ্যে পুনঃ ১২/৪ গতে ১/৩১ মধ্যে পুনঃ ২/১৪ গতে ৩/৪০ মধ্যে, বারবেলা ৬/৪৬ মধ্যে পুনঃ ১/২২ গতে ৩/১ মধ্যে পুনঃ ৪/৪০ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ৭/৪০ মধ্যে পুনঃ ৩/৪৬ গতে উদয়াবধি।
৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার, তৃতীয়া ৪/২৪/৪ দিবা ৬/৫১/২। শতভিষানক্ষত্র ৬০/০/০ অহোরাত্র, সূ উ ৫/৫/২৪, অ ৬/২১/৫৭, অমৃতযোগ দিবা ৯/৩২ গতে ১/১ মধ্যে এবং রাত্রি ৮/২৫ গতে ১০/৩৭ মধ্যে ও ১২/৪ গতে ১/৩২ মধ্যে ও ২/১৬ গতে ৩/৪৪ মধ্যে, বারবেলা ১/২৩/১৫ গতে ৩/২/৪৯ মধ্যে, কালবেলা ৬/৪৪/৫৮ মধ্যে ও ৪/৪২/২৩ গতে ৬/২১/৫৭ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৪২/২৩ মধ্যে ও ৩/৪৪/৫৮ গতে ৫/৫/৪১ মধ্যে। 
১৬ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
একুশে জুলাইয়ের সভাস্থল পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী
একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সভাস্থলের প্রস্তুতি পর্ব ...বিশদ

05:54:05 PM

শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের বৈঠক, মিলল না রফাসূত্র

05:05:54 PM

ইন্দোনেশিয়া ওপেন: চেন ইউ ফেইকে হারিয়ে ফাইনালে পি ভি সিন্ধু 

04:32:32 PM

শীলা দীক্ষিত প্রয়াত 
প্রয়াত দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেত্রী শীলা দীক্ষিত। ...বিশদ

04:12:00 PM

মমতাকে ফোন অমিত শাহর 
কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর পর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হতে চলেছেন জগদীপ ধানকর। এদিন ...বিশদ

03:24:53 PM

১২৮২৭ হাওড়া-পুরুলিয়া এক্সপ্রেস আজ বিকেল ৪:৫০ মিনিটের বদলে সন্ধ্যা ৬টায় হাওড়া স্টেশন থেকে ছাড়বে 

03:09:36 PM