Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ভোট
শুভা দত্ত

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে দু’টি দফার ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যে সমাপ্ত। এই নির্বাচনে সাত দফায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ৯০ কোটি মানুষ। এক্ষেত্রে একটি প্রাসঙ্গিক তথ্য হল, এখন দেশে ৫৬ কোটি মানুষ ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত। তাদের সিংহভাগ তরুণ-তরুণী। তারা নিয়মিত ফেসবুক, ট্যুইটার আর হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে খবর দেওয়া নেওয়া করে।
গত কয়েক মাস ধরে প্রতিটি রাজনৈতিক দল ওই মাধ্যমগুলিতে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছে। ফেসবুক, ট্যুইটার আর হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে শত শত প্রচারমূলক অডিও এবং ভিডিও ক্লিপ।
রাজনীতিকদের হিসেব সহজ। যে বিপুল সংখ্যক মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে, তাদের পাঁচ থেকে ১০ শতাংশকেও যদি প্রভাবিত করা যায়, তাহলেই কেল্লা ফতে। এই ভেবে সবকটি দল সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচারে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে বসে আছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রণী বিজেপি। তারপরেই আছে কংগ্রেস। বাকিরাও চেষ্টা করছে যে যার সাধ্যমতো। এই প্রথমবার ফেসবুক, ট্যুইটার কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ভারতীয় রাজনীতিতে।
এখনও পর্যন্ত ট্যুইটারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফলোয়ারের সংখ্যা ৪ কোটি ৬০ লক্ষ। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যতীত সোশ্যাল মিডিয়ায় এত বেশি অনুগামী আর কোনও রাষ্ট্রপ্রধানের নেই। কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী ট্যুইটারে অ্যাকাউন্ট খুলেছেন ২০১৫ সালে। তাঁর ফলোয়ার ৯০ লক্ষ।
অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ার এই বাড়বাড়ন্তের মধ্যে সিঁদুরে মেঘ লক্ষ করেছেন। কেননা একে ব্যবহার করে মুহূর্তে লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া যায়। অসাধু কোনও রাজনীতিক খুব সহজে গুজব, কুৎসা ও মিথ্যা খবর ছড়িয়ে দিতে পারেন জনগণের মাঝে। তাতে সাধারণ মানুষের সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হতে পারে।
ভোটের মরশুমে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে এমন বিতর্ক নতুন নয়। ২০১৬ সালে আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়ও অভিযোগ উঠেছিল, রাশিয়ানরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পের হয়ে প্রচার চালাচ্ছে।
প্রশ্ন হল, সোশ্যাল মিডিয়া সত্যিই কি ভোটে বিঘ্ন ঘটাতে এসেছে? এর জবাব পেতে গেলে আগে বুঝতে হবে দুটি বিষয়। প্রথমত, অন্য সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার তফাৎ কোথায়? দ্বিতীয়ত, গত কয়েক দশকে কীভাবে বদলে গিয়েছে আমাদের সংবাদ মাধ্যম?
আগেকার দিনে দেশ-বিদেশের খবর পাওয়ার একমাত্র মাধ্যম ছিল সংবাদপত্র। ভোরবেলায় হকাররা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিত ধূসর নিউজপ্রিন্টে ছাপা খবরের কাগজ। তাতে নানা ঘটনা, দুর্ঘটনা ও দেশ নেতাদের বাণী যেমন ছাপা হতো, তেমনি থাকত বরেণ্য সাংবাদিকদের কলাম। তাঁরা তুলে ধরতেন সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা। কখনও বা তীক্ষ্ণ সমালোচনায় বিদ্ধ করতেন শাসককে।
সাতের দশকের মাঝামাঝি ঘরে এল টিভি। দূরদর্শনেও রোজ কয়েকবার খবর পড়া হতো। কিন্তু সে তো সরকার নিয়ন্ত্রিত চ্যানেল। যে কোনও বিষয়ে সরকারি বক্তব্যের বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা নেই তার। ফলে খবরে তেমন তেজও নেই। মানুষের মধ্যে তেমন জনপ্রিয় হয়নি দূরদর্শনের খবর।
সর্বভারতীয় স্তরে বেসরকারি অডিও ভিস্যুয়াল মিডিয়ার জয়যাত্রা শুরু আটের দশকে। কলকাতার দূরদর্শনে স্লট ভাড়া করে বেসরকারি অডিও ভিস্যুয়াল খবর এসে পড়ল নয়ের দশকের শেষাশেষি। সে একেবারে হইহই ব্যাপার। লোকে এতদিন কাগজে খবর পড়ত, এবার খবর দেখছে।
একুশ শতকের প্রথম ১০ বছরে ফুলেফেঁপে উঠল অডিও ভিস্যুয়াল। ২৪ ঘণ্টা ধরে খবর দেখাতে লাগল কয়েকটি চ্যানেল। এরই মধ্যে নিঃশব্দে হাজির হল সোশ্যাল মিডিয়া। প্রথম প্রথম মানুষ খুব ব্যক্তিগত খবর লেনদেন করত তার মাধ্যমে। তাতে অনেক পুরনো বন্ধুর সঙ্গে ফের যোগাযোগ হতে লাগল। তখনকার দিনে ডেস্কটপ কম্পিউটারে অথবা ল্যাপটপে খোলা যেত ফেসবুক, ট্যুইটার।
তারপর স্মার্টফোন সস্তা হয়ে গেল। মোবাইলে ইন্টারনেটও পাওয়া যেতে লাগল নামমাত্র খরচে। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলে গেল সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা। সোশ্যাল মিডিয়া এখন মোবাইলের পর্দায়। অফিসে কাজের ফাঁকে কিংবা বাসে ও ট্রেনে একটু সুযোগ পেলেই বাটন টিপে দেখে নেওয়া যায় কে কী পোস্ট করেছে।
ক্রমে ফেসবুক, ট্যুইটার ও হোয়াটসঅ্যাপ হয়ে উঠল বৃহত্তর জগতের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম। নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক খবরাখবর চালাচালি হতে লাগল তার মাধ্যমে। জনমত গঠন করা, প্রতিবাদ সংগঠিত করার অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠল সোশ্যাল মিডিয়া।
কিন্তু তার একটা বিপদের দিক তো আছেই।
সংবাদপত্রে বা টিভি চ্যানেলে একটা ছাঁকনি থাকে। সেখানে যে কোনও খবর আসা মাত্রই প্রকাশিত বা সম্প্রচারিত হতে পারে না। সম্পাদকরা আগে খতিয়ে দেখেন, খবরের বিশ্বাসযোগ্যতা কতদূর। তারপর ভেবে দেখেন, খবরটি মানুষের মধ্যে গেলে অশান্তি বা দাঙ্গাহাঙ্গামা সৃষ্টি হবে না তো! এর যে ব্যতিক্রম হয় না তা নয়। কিন্তু একটা দূর পর্যন্ত দায়িত্ববোধ আশা করাই যায় খবরের কাগজ কিংবা টিভি চ্যানেলের কাছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ছাঁকনিটাই নেই। তার মাধ্যমে যে কোনও গুজবকে খবর নাম দিয়ে হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায় খুব সহজে। ভোটের আগে এমন ‘ফেক নিউজ’ ছড়ানোর উদাহরণ আছে বিস্তর।
ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণে চল্লিশ জনের বেশি সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হন। তার দু’সপ্তাহ বাদে ফেসবুকে একটি অডিও ক্লিপ ছড়াতে থাকে। যাতে নাকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ও এক মহিলার কণ্ঠস্বর শোনা গিয়েছে। তাঁরা আলোচনা করছেন, ভোটের আগে পুলওয়ামাকাণ্ডকে ছুতো করে একটা যুদ্ধ বাধাতেই হবে। একদিনের মাথায় ফেসবুক জাল অডিও ক্লিপটি চিহ্নিত করে। তাকে ফেসবুকের পাতা থেকে মুছেও ফেলা হয়। কিন্তু তার মধ্যে ২৫ লক্ষ মানুষ ওই অডিও শুনে ফেলেছেন। শেয়ারও করেছেন দেড় লক্ষ মানুষ।
পুলওয়ামার ঘটনার জের চলেছে বেশ কয়েকদিন ধরে। জঙ্গিহানার কিছুদিন পরে পাকিস্তানের বালাকোটে জয়েশ-ই-মহম্মদের প্রশিক্ষণ শিবিরে বোমা ফেলে আসে ভারতের বায়ু সেনা। পাকিস্তানের বিমান ভারতের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে ঢুকতে চেষ্টা করে। সেই বিমানগুলি তাড়াতে গিয়ে পাকিস্তানে ঢুকে পড়েন ভারতের মিগ-২১ বিমানের চালক অভিনন্দন ভর্তমান। তাঁর প্লেন পাকিস্তানের গোলায় ধ্বংস হয়। তিনি বন্দি হন। আবার চাপের মুখে তাঁকে ছেড়েও দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তান।
সীমান্তে এইরকম উত্তেজনার সময় যেভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদ্বেষমূলক প্রচার চালানো হয়েছে, তার তুলনা নেই। প্রায় প্রত্যেকের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে রোজ অন্তত কয়েকশো করে ভুলভাল খবর ও ভিডিও ক্লিপ ঢুকেছে।
ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়ানো খবর কি সত্যিই বিশ্বাস করে সাধারণ মানুষ?
এই প্রশ্নের জবাব পেতে কিছুদিন আগে সমীক্ষা করেছিল দুটি সংস্থা। একটির নাম সোশ্যাল মিডিয়া ম্যাটারস, অপরটি দিল্লি ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স পলিসিস অ্যান্ড পলিটিক্স। সমীক্ষার নাম, ডু নট বি এ ফুল।
সমীক্ষকরা যাঁদের প্রশ্ন করেছিলেন, তাঁদের ৯৬ শতাংশ উত্তর দিয়েছেন, তাঁরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে মিথ্যা খবর পেয়ে থাকেন। ৫৩ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে এবারের লোকসভা নির্বাচন নিয়ে ভুয়ো খবর এসেছে।
৬২ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন, ভুয়ো খবর ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে। ৪১ শতাংশ জানিয়েছেন, হোয়াটসঅ্যাপের খবরে তাঁদের বিশ্বাস নেই।
হোয়াটসঅ্যাপের খবরে বিশ্বাস আছে, এমন মানুষের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। তাদের দিয়েই কোনও অশুভ শক্তি ঘটিয়ে দিতে পারে নানা অনর্থ। গত কয়েক বছরে দেশের নানা প্রান্তে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন বহু নিরীহ মানুষ। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, গণপিটুনির আগে গুজব ছড়ানোর জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করা হয়েছিল।
নির্বাচন কমিশন ভোটের আগে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধিদের ডেকে ভালো করে সমঝে দিয়েছে, আদর্শ আচরণবিধি মেনে চলতে হবে তাদেরও। ফেসবুক ও ট্যুইটার জানিয়ে দিয়েছে, জাল খবরের বাড়বাড়ন্ত ঠেকাতে কয়েকটি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, ভুয়ো খবর চিহ্নিত করতে তারা কাজে লাগাবে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স।
এইসব পদ্ধতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজবের রমরমা ঠেকানো যাবে কি না সন্দেহ। কেননা, এক্ষেত্রে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে অনেকের কাছে, খবর ছড়িয়ে দেওয়া যায়। কেউ ভুয়ো খবর, উস্কানিমূলক অডিও, ভিডিও ক্লিপ ছড়াচ্ছে বলে টের পাওয়ার আগেই তা হাজার হাজার মানুষের মোবাইলে পৌঁছে যেতে পারে।
এক্ষেত্রে উপায়?
মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে আর কোনও উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়া এমনই এক মাধ্যম, যাকে আইন করে পুরোপুরি ঠেকানো যায় না। মানুষ যদি ফেক নিউজ প্রত্যাখ্যান করে, তবেই তা ছড়ানো বন্ধ হবে।
গণমাধ্যমের সামনে নানা বিপদ আগেও এসেছে। স্বৈরাচারী শাসক কঠোর সেন্সর ব্যবস্থা চালু করে সরকারের সমালোচনা ছাপা বন্ধ করতে চেয়েছে। অপছন্দের সংবাদপত্রের দপ্তরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। সাংবাদিকরা বহু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আর একরকমের বিপদ ঘনিয়ে আসছে। মানুষে মানুষে বিদ্বেষ প্রচার করা যাঁদের কাজ, তাঁরা ওই প্ল্যাটফর্মগুলি কাজে লাগাচ্ছে ব্যাপকভাবে। সামাজিক স্থিতিশীলতা, সহিষ্ণুতার বাতাবরণ নষ্ট করার জন্য চেষ্টা চলছে ক্রমাগত।
অতীতে নানা বিপদের মোকাবিলা করে জয়ী হয়েছে মানুষের শুভবুদ্ধি। গণতন্ত্র, সহনশীলতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীন চরিত্র রক্ষা পেয়েছে।
ভারতীয় নাগরিকদের গণতান্ত্রিক চেতনা এই বিদ্বেষ প্রচারকেও পরাস্ত করতে পারবে কি?
এই প্রশ্নের জবাব মিলবে ২৩ মে। যাঁরা মানুষে মানুষে ঘৃণা প্রচারে সবচেয়ে সক্রিয় ছিল, তাঁরা ভোটে সুবিধা করতে পারল কি না দেখতে হবে। যদি না পারে, তাহলে আমরা ধরে নেব, সোশ্যাল মিডিয়াকে খারাপ কাজে লাগানোর চেষ্টা অনেকাংশে ব্যর্থ।
23rd  April, 2019
অবশেষে সমাপ্ত, তিক্ততাসহ
পি চিদম্বরম

বিজেপি প্রচারের গোড়ায় ‘গিয়ার’ বদলে নিয়েছিল। ‘আচ্ছে দিন’-এর কথা ভুলক্রমেও উচ্চারিত হয়নি। ২০১৪ সালের প্রতিশ্রুতিগুলি বিজেপির জন্য এক বিড়ম্বনায় পরিণত হয়েছিল। নরেন্দ্র মোদি ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’, পুলওয়ামা-বালাকোট এবং জাতীয়তাবাদের ছত্রছায়ায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’ হল স্রেফ একটা ক্রস-বর্ডার অ্যাকশন বা সীমান্ত টপকে হানা—যা দিয়ে পাকিস্তানকে কোনোরকমে নিরস্ত করা যায়নি।
বিশদ

নতুন বন্ধুর খোঁজে কংগ্রেস ও বিজেপি
শুভা দত্ত

বিজেপি যদি ২২০ থেকে ২৩০-এর বেশি আসন না পায়, তখন কী হবে? এনডিএ-র শরিকরা একবাক্যে বলবে, মোদির ভুলভাল সিদ্ধান্তের জন্যই ভোটার বিমুখ হয়েছে, সুতরাং তাঁকে আর প্রধানমন্ত্রী করার দরকার নেই। আরএসএস অবশ্য তাঁকে সরাতে চাইবে না। এই অবস্থায় অমিত শাহরা ঝাঁপিয়ে পড়বেন যাতে আরও কয়েকটি দলকে তাঁদের সমর্থনে পাওয়া যায়। বিজেপি যদি ১৪০ থেকে ১৬০-এর মধ্যে আসন পায়? তাহলে নিশ্চিতভাবেই মোদির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা জলাঞ্জলি যাবে। যতই নতুন বন্ধু আসুক, দিল্লিতে সরকার গড়া কিছুতেই সম্ভব হবে না। বিজেপিকে বসতে হবে বিরোধী আসনে।
বিশদ

শেষ দফার ভোটে শান্তি বজায় রাখাই
আজ কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

শুভা দত্ত

দেখতে দেখতে সাত দফার লম্বা ভোটযুদ্ধ শেষ হয়ে এল। আজ সপ্তম, তথা শেষ দফা। তারপরই শুরু হয়ে যাবে লোকসভা মহাযুদ্ধের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য কাউন্টডাউন। রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৩৩টির ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, যাদবপুর সমেত বাকি ন’টি আসনের ভাগ্য নির্ধারিত হবে আজ। 
বিশদ

19th  May, 2019
ভোট কেন দেশের
নামে হল না?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সামনে একটি প্লাইউডের কাটআউট। মাঝখানটা জানালার মতো কেটে জায়গা করা। সেলফি জোন বা সেলফি পয়েন্ট। অবশ্য সেটা নামেই। নিজে ছবি তুললে ইমপ্যাক্ট পড়বে না। বরং বিষয়টা এমন, ভোট দিয়ে বেরিয়ে ভোটার সেখানে দাঁড়াবেন... উল্টোদিক থেকে কেউ ছবি তুলবে।
বিশদ

18th  May, 2019
এবার ভোটে যে-কথা কেউ বলেনি
শুভা দত্ত

 ভোটপর্ব শেষ হয়ে এল। সামনের রবিবারেই ভোটগ্রহণ শেষ। প্রচারও শেষ হল। বৈশাখের দহন জ্বালা যত বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনীতির উত্তাপ। মারদাঙ্গা, ভাঙচুর, ব্যক্তিগত আক্রমণ, সবই চলছে। এবার একটা বড় ইস্যু দেশের সুরক্ষা। তার সঙ্গে দুর্নীতি, বেকারত্ব, চাষিদের দুর্দশা এসবও আছে। কিন্তু একটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কেউ কথা বলেনি। বিষয়টি হল বায়ুদূষণ। বিশদ

17th  May, 2019
বিদ্যাসাগর ও স্বাজাত্যবোধ
সমৃদ্ধ দত্ত

 শুধু রেগে গেলে চলবে কেন? একটু বুঝতেও তো হবে। মূর্তি ভাঙা তো একটা কার্য। প্রতিটি কার্যের পিছনে একটি কারণও থাকে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার মধ্যে অনেক অবদমিত অপ্রাপ্তি ও দীর্ঘকালের ক্ষোভ রয়েছে। সেই ক্ষোভের আবেগকে উড়িয়ে দিলে তো হবে না। একটু সহানুভূতির সঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হবে।
বিশদ

17th  May, 2019
ভোট গণনার সেকাল
একাল ও নতুন চ্যালেঞ্জ
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের নির্বাচনী রাজসূয় যজ্ঞের চূড়ান্ত পর্বে ভোট গণনা ও ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র ভারতবাসী তথা বিশ্ববাসী। বিগত কয়েক মাস ধরে চলা রাজনীতির ঘাত-প্রতিঘাত, চাপানউতোর, দাবি, পাল্টা দাবির সত্যতা উঠে আসবে গণনার মধ্য দিয়ে।
বিশদ

16th  May, 2019
সবার উপরে ভোট সত্য
হারাধন চৌধুরী 

সিকি শতক আগের কথা। কর্মসূত্রে মেদিনীপুর শহরে থাকি। গ্রীষ্মের সকাল। ভোটের দিন। ভোটের খবর নিতে বেরনোর আগে চায়ের ভাঁড়ে চুমুক দেব। পঞ্চুরচকে চায়ের দোকানে এসেছি। এক ফেরিওয়ালার সঙ্গে দেখা।  
বিশদ

14th  May, 2019
অর্থনীতি ‘ডেঞ্জার জোন’-এ প্রবেশ করেছে
পি চিদম্বরম

 ২০১৪-র নির্বাচনে পাল্লা দিতে নেমে নরেন্দ্র মোদি অর্থনীতি বিষয়ে একটি হঠকারী মন্তব্য করে বসেছিলেন। প্রতিক্রিয়ায় আমি বলেছিলাম, ‘‘মোদিজির অর্থনৈতিক জ্ঞানটা একটি ডাক টিকিটের পিছনেই লিখে ফেলা যেতে পারে।’’ আমার মন্তব্যটি নির্দোষ ছিল, কিন্তু আমার বিশ্বাস, ওই মন্তব্যের কারণে মোদিজি আমাকে ক্ষমা করেননি!
বিশদ

13th  May, 2019
মমতার নেতৃত্ব মানতে কংগ্রেসি অনীহা কি আখেরে মোদিজির সুবিধে করে দিল?
শুভা দত্ত

প্রবল তাপে পুড়ছে রাজ্য। আকশে মেঘের চিহ্নমাত্র নেই। ঘূর্ণিঝড় ফণীর হাত থেকে এ যাত্রায় রেহাই মিললেও কাঠফাটা রোদ আর মাথা ঘোরানো গরমের হাত থেকে রেহাই মিলছে না। বাঁকুড়া-পুরুলিয়ার মতো রুখু জেলাগুলো ইতিমধ্যেই চল্লিশ ছাড়িয়েছে, মহানগরী কলকাতাও বসে নেই। সেও প্রায় চল্লিশের ঘরে!
বিশদ

12th  May, 2019
তাহলে, হাওয়া
এবার কোন দিকে?
মোশারফ হোসেন

দেখতে দেখতে মোট সাত দফা ভোটগ্রহণের পাঁচটি দফাই সম্পূর্ণ হয়ে গেল। গোটা দেশে। আমাদের রাজ্যেও। বাকি দুটি দফায় মাত্র ১১৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা। যদিও ওইসব কেন্দ্রের ভোট বেশ কয়েকটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক গুরুত্বের বিচারে অত্যন্ত সংবেদনশীল।
বিশদ

11th  May, 2019
রাজনীতির পাঁকে সরকারের
উচ্চপদস্থ কর্মচারীরা
শুভময় মৈত্র

দেশের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মচারীরা রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বিপদে পড়ছেন অনেক সময়। কেউ কেউ বড্ড বেশি যোগাযোগ রাখছেন ক্ষমতাশীল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে। তারপর সেখানে তীব্র দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হওয়ায় অনেক সময় চাকরিতে ইস্তফা দিতে হচ্ছে। নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় যোগ দিতে হচ্ছে অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে। ভোটপ্রচারে তাঁদের মুখ ফসকে বেরিয়ে যাচ্ছে এমন সব ভাষা যা একেবারে রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকেই শেখা।
বিশদ

11th  May, 2019
একনজরে
 নিজস্ব প্রতিনিধি, ডায়মন্ডহারবার: বুথ না ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত! বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই। বালির বস্তা দিয়ে একেবারে বাঙ্কার বানিয়ে সশস্ত্র বাহিনী রয়েছে পাহারায়। যে কোনও সীমান্তে ...

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ছাড়পত্র রয়েছে। এমনকী সরঞ্জাম কেনার জন্য বরাদ্দ টাকা এসে পড়ে রয়েছে। তবুও নিষিদ্ধ মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান ও বেআইনি মাদক চাষের বিরুদ্ধে নজরদারি চালাতে অত্যাধুনিক সরঞ্জাম কেনার কোনও উদ্যোগই নেই রাজ্যের। ...

 ঢাকা, ১৯ মে (পিটিআই): জেলবন্দি বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার ব্যাপক অবনতি হয়েছে। তাঁর দল বিএনপির তরফে জানানো হয়েছে, জেলের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের জন্য গত এক সপ্তাহে খালেদা এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন যে, তিনি জীবন ও মৃত্যুর মাঝামাঝি অবস্থায় ...

 রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়, শালতোড়া, বিএনএ: রবিবার কড়া নিরাপত্তায় বাঁকুড়া লোকসভার অন্তর্গত শালতোড়ার ১ নম্বর বুথে পুনর্নির্বাচন হয়। এদিন নির্বিঘ্নে ভোটগ্রহণপর্ব সম্পন্ন হয়। তবে বিজেপির তরফে দলীয় পোলিং এজেন্টকে বুথে যাওয়ার সময় বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চতর বিদ্যায় বাধা কাটবে। বড়দের কথার মান্যতা দেওয়া দরকার। ব্যবসা সূত্রে উপার্জন বৃদ্ধি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৫০৬- ক্রিস্টোফার কলম্বাসের মৃত্যু
১৯০২- প্রজাতন্ত্র দেশ হিসেবে ঘোষণা কিউবার
১৯৩২- স্বাধীনতা সংগ্রামী বিপিনচন্দ্র পালের মৃত্যু
১৯৭৭- ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটার অঞ্জুম চোপড়ার জন্ম

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.৪৩ টাকা ৭১.১২ টাকা
পাউন্ড ৮৮.২৮ টাকা ৯১.৫৩ টাকা
ইউরো ৭১.১০ টাকা ৮০.০৫ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
18th  May, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,৪২০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,৭৬০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩১,২২০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৬,৫০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৬,৬০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
19th  May, 2019

দিন পঞ্জিকা

৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২০ মে ২০১৯, সোমবার, দ্বিতীয়া ৫০/৫৮ রাত্রি ১/২২। জ্যেষ্ঠা ৫৩/৪৭ রাত্রি ২/২৯। সূ উ ৪/৫৮/৩৩, অ ৬/৭/৩৬, অমৃতযোগ দিবা ৮/২৯ গতে ১০/১৪ মধ্যে। রাত্রি ৯/১ গতে ১১/৫৫ মধ্যে পুনঃ ১/২১ গতে ২/৪৯ মধ্যে, বারবেলা ৬/৩৮ গতে ৮/১৬ মধ্যে পুনঃ ২/৫০ গতে ৪/২৯ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/১২ গতে ১১/৩৩ মধ্যে।
৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২০ মে ২০১৯, সোমবার, দ্বিতীয়া ৫১/৫৭/৫৯ রাত্রি ১/৪৫/৩০। জ্যেষ্ঠানক্ষত্র ৫৫/৩৮/০ রাত্রি ৩/১৩/৩০, সূ উ ৪/৫৮/১৮, অ ৬/৯/৩০, অমৃতযোগ দিবা ৮/২৮ গতে ১০/১৬ মধ্যে এবং রাত্রি ৯/৬ গতে ১১/৫৬ মধ্যে ও ১/২২ গতে ২/৪৮ মধ্যে, বারবেলা ২/৫১/৪২ গতে ৪/৩০/৩৬ মধ্যে, কালবেলা ৬/৩৭/১২ গতে ৮/১৬/৬ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/১২/৪৮ গতে ১১/৩৩/৫৪ মধ্যে। 
১৪ রমজান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বিধানসভা উপনির্বাচন: সকাল ১১টা পর্যন্ত কান্দিতে ৪২ শতাংশ ভোট পড়ল 

12:01:25 PM

হাওড়া স্টেশনে পাইপ ভেঙে জখম মহিলা 
হাওড়া স্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে ভেঙে পড়া পাইপের ঘায়ে জখম ...বিশদ

11:32:33 AM

কাঁকিনাড়ায় অবরোধ উঠল 
২ ঘণ্টারও বেশি সময় পর কাঁকিনাড়ায় রেল অবরোধ উঠল। এদিন ...বিশদ

10:15:45 AM

বিধানসভা উপনির্বাচন: সকাল ৮টা পর্যন্ত কান্দিতে ৯.২৫ ও ন‌ওদায় ১০.৩৫ শতাংশ ভোট পড়ল

09:31:17 AM

 ভোট শেষে চপ-মিষ্টিতে মজে রইল জয়নগর
প্রতিদিনই দোকানে চপ, অমৃতি ভাজা হয়। কিন্তু, প্রতিদিন যা বিক্রি ...বিশদ

09:20:00 AM

  জয়নগরে জওয়ানদের মানবিক মুখ
একদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে যখন একাধিক অভিযোগ উঠছে, তখন ...বিশদ

09:15:00 AM