Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

জনতার এখন একটাই জিজ্ঞাসা: এই
শান্তি শেষপর্যন্ত বজায় থাকবে তো?
শুভা দত্ত

দ্বিতীয় দফাও শেষ। লোকসভা ভোটযুদ্ধের দ্বিতীয় পর্বও মোটের ওপর শান্তিতেই মিটল। গত বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং জলপাইগুড়ি ও রায়গঞ্জ—এই তিন আসনে ভোটের লড়াইতে একমাত্র ব্যতিক্রম হয়ে রইল উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া! বাংলার ভোটে রক্তারক্তি, মারামারি, বোমাগুলি, খুনোখুনি কোনও নতুন কথা নয়। কিন্তু এবার প্রথম পর্ব তো বটেই, পরের পর্বেও অর্থাৎ বৃহস্পতিবারের ভোটেও চিরচেনা ঝামেলা-ঝঞ্ঝাটের ছবিটা তেমনভাবে দেখা গেল না। প্রায় সর্বত্রই ভোটপর্ব মিটল শান্তিতে, পুলিস, আধাসেনা ও নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের কড়া নজরদারিতে। এজন্য কমিশন কর্তাদের এবং রা‌জ্য প্রশাসনের একটা ধন্যবাদ অবশ্য প্রাপ্য। কিন্তু, দুর্ভাগ্যজনক এই যে, সেই শান্তি-সম্প্রীতির বাতাবরণের সুর কাটল চোপড়ায়—সেখানে সারাদিন ধরে প্রবল উত্তেজনা, বোমাবাজি, ইটপাটকেল, ভোটারদের ভয় দেখানো, ইভিএম ভাঙচুর, পুলিস, র‌্যাফ, আধাসেনার দৌড়াদৌড়ি-ছুটোছুটি, কাঁদানেগ্যাস, লাঠিচার্জে সরগরম হয়ে রইল ভোটযুদ্ধের ময়দান। শুধু তাই নয়, গণ্ডগোলের মধ্যে গুলি চলেছে—এমন অভিযোগও উড়ে এল স্থানীয় সাধারণের মহল থেকে! এই ঝামেলায় কারও প্রাণ যায়নি ঠিকই, তবে যতদূর খবর, আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। গণ্ডগোলের জেরে বেশ কয়েকটি বুথে ভোটগ্রহণ কিছুক্ষণের জন্য স্থগিত করে দিতেও হয়েছে। অবশ্য, নির্বাচন কমিশনের তৎপরতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সময়োচিত সহযোগিতায় দুষ্কৃতী উপদ্রুত বুথগুলোতেও শেষপর্যন্ত ভোট মিটেছে শান্তিতেই। তবে, একথা অনস্বীকার্য—বৃহস্পতিবারের শান্তিপূর্ণ ভোটের আবহে মারমুখী চোপড়ার ভূমিকা অনেকটা একমন দুধে একফোঁটা চোনার মতো হয়ে রইল। শুধু চোপড়া কেন আরও অন্তত দুটি জায়গায় দুটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে—রায়গঞ্জ কেন্দ্রের ইসলামপুরে সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ সেলিমের গাড়ি ভাঙচুর করা হয় আর গোয়ালপোখরে আক্রান্ত হন সংবাদমাধ্যমের কয়েকজন।
এটুকু ছাড়া সত্যি বলতে কী, আর একটিও ঝামেলার ঘটনা বৃহস্পতিবার চোখে পড়েনি। এটা প্রকৃত অর্থেই সাধারণ মানুষের কাছে যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। গত পঞ্চায়েত ভোটের হিংসা নিয়ে অনেক কথা তুলেছিলেন এ রাজ্যের বিরোধীরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর প্রশাসন পুলিসের নামে অজস্র অপবাদ দাখিল করেছিলেন জনতার দরবারে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী শাসক তৃণমূলের প্রার্থীদের নিয়ে অনেক কটাক্ষও করেছিলেন। তাঁদের প্রতিবাদ আদালত পর্যন্তও গড়িয়েছিল। কিন্তু তাতেও পঞ্চায়েত স্তরে মমতার ব্যাপক জনপ্রীতি বা তৃণমূলের একাধিপত্যে কোথাও কোনও টান পড়েনি।
আর এবারের ভোট তো এখনও প্রায় ঘটনাশূন্য। দু’পর্ব মিলিয়ে যেটুকু ঘটেছে তা সংশ্লিষ্ট লোকসভা কেন্দ্রগুলির মোট আয়তন, জনসংখ্যা, জটিল রাজনৈতিক বিন্যাস ও যুযুধান পক্ষগুলির মধ্যবর্তী আবেগ উত্তেজনার ব্যাপ্তি ও তীব্রতার নিরিখে সামান্যই বলতে হবে। কিন্তু সেটি সরাসরি স্বীকার করলে প্রকারান্তরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর প্রশাসন-পুলিসের দক্ষতা যোগ্যতাকেই স্বীকৃতি দিতে হয়। সেটা আর পাঁচজনের পক্ষে সম্ভব হলেও সিপিএম বা তার সমমনোভাবাপন্নদের পক্ষে অসম্ভব। তাই, সিপিএমের মুখপত্র দ্বিতীয় দফার পরদিন প্রথম পাতায় সেলিমের হেনস্তা ও চোপড়ার ঝামেলার কথা উল্লেখ করেও লিখতে বাধ্য হয়েছে ‘ভোট-লুঠেরাদের হার মানুষের জেদের কাছে!’ ‘মানুষের জেদ’কে সামনে এনে শান্তির ব্যাপারটা যেন এড়াতে চেয়েছে, ঊহ্য রাখতে চেয়েছে দ্বিতীয় দফার ভোটে কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী, মমতা-প্রশাসন ও পুলিসের সদর্থক ভূমিকাটিও! মজার ব্যাপার, এই লিড খবরের সঙ্গের ছবিতে ভোটের লাইনে নিশ্চিন্তমুখে দাঁড়ানো সারিবদ্ধ মহিলা ভোটার ও একজন পুলিসের ছবির ক্যাপশনে এঁরাই লিখেছেন, ‘কেন্দ্রীয় বাহিনী নেই, ভোট করছে সেই রাজ্য পুলিসই।’ তাহলে সব মিলিয়ে মানেটা কী দাঁড়াল? মানুষের জেদের কাছেই হোক, কি নিরাপত্তা বাহিনীর দাপটে ‘ভোট-লুঠেরারা’ বৃহস্পতিবার যে কায়দা করতে পারেনি—সেটি সত্যি, গণশক্তিও মেনেছে। অর্থাৎ ভোট হয়েছে নির্বিঘ্নে এবং তাতে মানুষ যে রাজ্য পুলিসের তত্ত্বাবধানেও নিশ্চিন্তে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে পেরেছে গণশক্তির প্রথম পাতার ওই ছবি ও তার ক্যাপশনই তার প্রমাণ—নয় কি?
অবশ্যই। বলতে কী, প্রথম দুই পর্বের নির্বাচনী যুদ্ধের সামগ্রিক ছবিটা দেখার পর জনমনেও ভোট নিয়ে ভয় ভাবনার ক্রমবর্ধমান পারদ যে একটু থমকেছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। পথেঘাটে লোকজনের আলাপ-আলোচনা শুনলেই সেটা বোঝা যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি রাজ্যের পুলিসের ওপরও তাঁদের আস্থা যে দুই পর্বের ভোটচিত্র দেখার পর অনেকটাই বেড়েছে—সাধারণ জনের কথাবার্তা থেকে সেটাও বেশ স্পষ্ট। এই আমজনতার এখন একটাই জিজ্ঞাসা: এই শান্তি শেষপর্যন্ত বজায় থাকবে তো? বৃহস্পতিবারের পর থেকে আমার পরিচিত একাধিক জনের মুখে ঘুরেফিরে এই প্রশ্নটাই শুনেছি। পরের পর্বে নব্বই শতাংশ বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিস থাকবে বলে খবর চাউর হতে তাঁদের যেন মনের জোর আরও বেড়েছে। একজন তো বলেই ফেললেন, এবার আর টেনশন নেই। বউ-ছেলেমেয়ে নিয়ে দিদির ভোটটা নিশ্চিন্তে দিতে পারব। যা সব শুরু হয়েছিল! এসব তো কোনওকালে এ রাজ্যে আমরা দেখিনি। যাক, মনে হচ্ছে অসুবিধা হবে না।
আসলে, এবারের ভোট শুরুর বহু আগে থেকেই, বলা ভালো সেই রামনবমীর অস্ত্রমিছিলের পর থেকেই, রাজ্যজুড়ে সাধারণ ঘরে একটা চিন্তার বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল। গেরুয়া শিবিরের শক্তি বৃদ্ধি এবং শাসক তৃণমূলের সঙ্গে তার হাড্ডাহাড্ডি রাজনৈতিক লড়াইয়ের আয়োজন উদ্‌যোগ সেই চিন্তাকে আরও ঘনীভূত করে তুলছিল। তারপর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোদি-বিরোধী জাতীয় জোটের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠার পর থেকে যেভাবে জননেত্রী ও তাঁর বাংলা দিল্লির শাসকের নিশানা হয়ে উঠেছে তাতে এবার লোকসভার ভোটযুদ্ধের ময়দানে একটা ধুন্ধুমার মহাসংগ্রামের আভাসও ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাগ্‌যু঩দ্ধে প্রাক্‌঩ভোটের আসর রীতিমতো অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল বলা যায়। সেই পরিস্থিতি এখনও বহাল এবং ভোটযুদ্ধের শেষপর্ব অবধি বজায় থাকবে বলেই মনে করছেন সকলে। একটা সময় তো এই বাগ্‌যু঩দ্ধের প্রচণ্ডতায় মনে হচ্ছিল মোদিজির প্রধান প্রতিপক্ষ কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী নন, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আসল লড়াই মোদি বনাম দিদির, মোদিজির গেরুয়া বাহিনীর সঙ্গে মমতার নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের। আর সে লড়াইয়ের প্রধান ক্ষেত্র এই বাংলা! ফলে, সাধারণ জনমনে ভোটের আগে-পরে এবং ভোটের দিনে সংঘাত সংঘর্ষ নিয়ে একটা আশঙ্কার মেঘ যে জমছিল তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু, পর পর দুই পর্বের শান্ত ও প্রায় নির্বিঘ্ন ভোট তাঁদের মন থেকে যে সেই শঙ্কার কালো মেঘ অনেকটাই হালকা করে দিতে পেরেছে তা অনস্বীকার্য। এখন তাই তাঁদের একটাই প্রশ্ন, একটাই জিজ্ঞাসা—এই শান্তি শেষপর্ব পর্যন্ত বজায় থাকবে তো? থাকবেই এটা নিশ্চিত করে কেউই এখনই বলতে পারবেন বলে মনে হয় না। তার কারণ আজ ভোট ময়দানে প্রধান দুই প্রতিপক্ষ তৃণমূল এবং বিজেপি হলেও অপ্রধান অনেক আছে। তার মধ্যে ৩৪ বছর বাংলায় রাজ চালানো সিপিএম এবং তার শরিকেরা যেমন আছে, তেমনি আছে বহুদিন ক্ষমতাচ্যুত কংগ্রেসও। আছে নানা ছোটখাট কিন্তু বিপজ্জনক শক্তিও। ভোটটা তো একটা যুদ্ধই—রাজনৈতিক যুদ্ধ। আর কে না জানে যুদ্ধে, প্রেমে কোনও কিছুই ‘আনফেয়ার’ অর্থাৎ অন্যায্য অন্যায় নয়। সোজা কথায়—মারি অরি পারি যে কৌশলে। ঠিকই, ভোটটা দেশের পরবর্তী শাসক নির্বাচনের। দেশ শাসনের ভার পেতে প্রধান পক্ষগুলির যে রথী-মহারথীরা মহাসংগ্রামে নেমেছেন তাঁদের ভোটদাতাদের প্রতি দায়বদ্ধতা, তাঁদের নিরাপত্তার জন্য চিন্তাভাবনা অবশ্যই আছে। কিন্তু, তাঁদের বাইরেও তো অনেক সুযোগসন্ধানী এই ভোটযুদ্ধের আনাচকানাচে ঘাপটি মেরে থাকতে পারে। পুলিস, গোয়েন্দা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদাসতর্ক দৃষ্টি এড়িয়ে তারা ঝামেলা-ঝঞ্ঝাট পাকাবার চেষ্টা করতেই পারে। তাই, এখনই শেষ নিয়ে শেষকথা বলতে যাওয়া মনে হয় না সঠিক হবে। তবে, একথা ঠিক ভোটের প্রথম দুই পর্ব আমাদের মনে যথেষ্ট আশা জাগিয়েছে। আশ্বস্ত করেছে বাংলার ভোটজনতাকেও। এখন দেখার ভোটযুদ্ধের ময়দানে এই শান্তি ও সম্প্রীতির আবহ শেষপর্ব পর্যন্ত বজায় থাকে কি না, পরবর্তী পর্যায়গুলোতে বাংলার সাধারণ মানুষ নিশ্চিন্তে নির্ভয়ে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আসতে পারেন কি না। মমতার উন্নয়নের বিশ্ববাংলা যেমন গোটা দেশে নজির গড়েছে, জগৎসভা থেকে নিয়ে এসেছে শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা, তেমনি তাঁর এই ভোটবাংলাও শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রেখে এবার দেশে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে—শান্তির দুই পর্বের পর বাংলার জনমহলে এমন একটা প্রত্যাশা কিন্তু জেগেছে। সে প্রত্যাশা শেষপর্যন্ত কতটা পূরণ হবে তা বলবে সময়। বলবে শেষ দফার শেষ বিকেল। আমরা অপেক্ষায় রইলাম।
21st  April, 2019
ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন বিল: কিছু আশঙ্কা 
বিষাণ বসু

চারদিকে বড় হইচই। বিষয় ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন বিল। স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের মেডিক্যাল শিক্ষার ব্যাপারটা দেখছিলেন এমসিআই, অর্থাৎ মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া। এমসিআই নিয়ে অভিযোগ ছিল বিস্তর—বিশেষত, তাঁদের কিছু কর্তাব্যক্তিকে নিয়ে। 
বিশদ

20th  August, 2019
জম্মু-কাশ্মীর: উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তির নতুন প্রভাত
রবিশঙ্কর প্রসাদ
 

জম্মু-কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের কল্যাণে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে, ৭০ বছরের পুরনো একটা সমস্যার নতুন সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের ৭০ দিনেরও কম সময়ে সমাধান হল। এই কারণে আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাহস ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ইচ্ছাশক্তিকে প্রশংসা করা উচিত।
 
বিশদ

20th  August, 2019
নিস্তেজ অর্থনীতির সত্যটা সরকার ভুলে যাচ্ছে 
পি চিদম্বরম

রাষ্ট্রপতি ভবন হল সরকারের ক্ষমতার আসনের প্রতীক। এক কিলো মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর অফিস (পিএমও), নর্থ ব্লক ও সাউথ ব্লক—মানে স্বরাষ্ট্র, অর্থ, প্রতিরক্ষা ও বিদেশ-এর মতো উচ্চ মন্ত্রকগুলি রয়েছে।   বিশদ

19th  August, 2019
সভাপতি পদে সোনিয়াজির প্রত্যাবর্তনে কংগ্রেস কি ছন্দ ফিরে পাবে
শুভা দত্ত

ছন্দ তো হারিয়েছে বহুদিন। ছন্দে ফেরার চেষ্টা—সেও শুরু হয়েছে বহুদিন। কিন্তু কিছুতেই যেন সেই পুরনো দমদার ছন্দে ফিরতে পারছে না জাতীয় কংগ্রেস! নেহরু-ইন্দিরার আমল থেকে গান্ধী পরিবারের ছত্রচ্ছায়ায় এবং নেতৃত্বে দলের যে অপ্রতিরোধ্য ছন্দ গোটা দেশকে কংগ্রেসি তেরঙ্গায় বেঁধে রেখেছিল, যে ছন্দ কংগ্রেস প্রতীক ইন্দিরার পাঞ্জার উপর বছরের পর বছর দেশের মানুষের আস্থা বিশ্বাস ও আবেগ ধরে রেখেছিল, জরুরি অবস্থা, নাসবন্দির মতো কাণ্ডের পরও যে ছন্দ ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেছিল কংগ্রেসকে, ইন্দিরা এবং ইন্ডিয়া হয়ে উঠেছিলেন সমার্থক—জাতীয় কংগ্রেসের সেই অমিত শক্তি রাজনৈতিক ছন্দ অনেক কাল আগেই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিয়েছে।
বিশদ

18th  August, 2019
ওয়াল স্ট্রিটের ‘নেকড়ে’-র গল্প!
মৃণালকান্তি দাস

ওয়াশিংটনের অপরিচিত কোনও এক পথে হাঁটতে হাঁটতে গল্পটা শুনিয়েছিলেন এমিলি ব্রাউন। গল্প বলতে, এক অপরাধীর ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনী। জর্ডন বেলফোর্টের গল্প। যিনি জীবনে অপরাধের নেশায় পড়ে সবকিছু হারিয়েছিলেন। কে এই জর্ডন বেলফোর্ট, জানেন? যাঁর জীবন কাহিনী শুনলে মনে হবে, এ এই মার্কিন মুলুকেই সম্ভব! বিশদ

17th  August, 2019
স্বাধীনতা ৭৩ এবং ভূস্বর্গের মুক্তি
মেরুনীল দাশগুপ্ত

গরিবি যতদিন না যাবে ততদিন এই উপত্যকায় শান্তি আসবে না। কারণ, কাশ্মীরি মানুষের গরিবিই ওদের একটা বড় হাতিয়ার। গরিব মানুষজনের অনেকেই ক’টা টাকার লোভে পড়ে সীমান্তর ওপার থেকে আসা লোকজনকে আশ্রয় দিয়ে, লুকিয়ে রেখে, খাবারদাবারের ব্যবস্থা করে ভ্যালির বিপদ বাড়িয়ে তুলছে।
বিশদ

15th  August, 2019
বনে থাকে বাঘ 
অতনু বিশ্বাস

ছেলেবেলায় ‘সহজ পাঠ’-এ পড়েছিলাম ‘বনে থাকে বাঘ’। যদিও এই পাঠটা যে খুব সহজ আর স্বাভাবিক নাও হতে পারে, অর্থাৎ বনে বাঘ নাও থাকতে পারে, সেটা বুঝতে বেশ বড় হতে হল। ছোটবেলায় অবশ্য মনে বদ্ধমূল ধারণা ছিল, বন-জঙ্গল গিজগিজ করে বাঘে। 
বিশদ

13th  August, 2019
রক্ষক আইন যেন ভক্ষক না হয়
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ভিক্টরি ম্যানসনে ঢুকলেন উইনস্টন স্মিথ। বহুতলে ঢুকেই নজরে আসবে দো’তলা সমান আখাম্বা ছবিটা। শুধু একটা মুখ। নীচে ক্যাপশন করা, বিগ ব্রাদার কিন্তু তোমাকে দেখছে। জর্জ অরওয়েলের কালজয়ী উপন্যাস ১৯৮৪-এর শুরুতেই উল্লেখ এই ছবির। আর এই নভেলের সারমর্মও লুকিয়ে এই ছবিতে—বিগ ব্রাদার দেখছে, তাই সাবধান। সাবধান হও সবাই... সরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ী, সাফাইকর্মী, বেসরকারি চাকুরে... মোদ্দা কথা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে। সবসময় নজরদারি।  
বিশদ

13th  August, 2019
পুতিন কি পারবেন নতুন বিশ্বের নেতৃত্ব দিতে?
গৌরীশঙ্কর নাগ

 ১৯১৭ খ্রিস্টব্দে বা তার কিছু আগে থেকে লেনিন, ট্রটস্কি প্রমুখ নিবেদিত প্রাণ কমরেডের হাত ধরে সোভিয়েত সমাজতন্ত্র নামক যে মহীরুহটি ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল তা গর্বাচেভ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর কীভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে—বিস্ময়ের সঙ্গে আমরা সেটা দেখেছি।
বিশদ

12th  August, 2019
স্টেট নয়, শুধুই রিয়াল এস্টেট
পি চিদম্বরম

 জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে প্রায়ই লিখি কিন্তু আজকেরটা অন্যরকম। জম্মু ও কাশ্মীর আর আগের জম্মু ও কাশ্মীর নেই। এটা আর রাজ্য নয়। এটাকে বিভক্ত করা হয়েছে। এখন দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল—লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীর। ভারতের সংবিধানে কোনও রাজ্যকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের স্তরে নামিয়ে আনার ঘটনা এর আগে ঘটেনি।
বিশদ

12th  August, 2019
রাহুল সরে দাঁড়াতেই কংগ্রেস এমন নেতৃত্বহীনতায় ভুগছে কেন?
শুভা দত্ত

 প্রশ্নটা আজ দেশের সর্বস্তরে। পথে-ঘাটে অফিসে আড্ডায় যেখানেই চলতি রাজনীতি নিয়ে তর্ক-বিতর্কের উদয় হচ্ছে সেখানেই প্রশ্নটা যেন অনিবার্যভাবে এসে পড়ছে! কংগ্রেসের হলটা কী! রাহুল গান্ধী না বলে দিতেই আর সভাপতি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কংগ্রেসে! গান্ধী ফ্যামিলি ছাড়া কংগ্রেস সভাপতি খুঁজে পাচ্ছে না— এ তো বড় অদ্ভুত ব্যাপার! কংগ্রেসের জন্মের পর থেকে গান্ধী ফ্যামিলির বাইরের দেশ রাজনীতির কত দিকপালই তো জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতির আসন অলঙ্কৃত করেছেন—উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, দাদাভাই নৌরজি, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুভাষচন্দ্র, অ্যানি বেসান্ত, চিত্তরঞ্জন, সরোজিনী নাইডু, বল্লভভাই প্যাটেল, কামরাজ, জগজীবন রাম—কত নাম বলব। নিশ্চয়ই এই তালিকায় নেহরু থেকে ইন্দিরা, রাজীব, সোনিয়া হয়ে রাহুল—গান্ধী পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন।
বিশদ

11th  August, 2019
শুধু উন্নয়ন নয়, ভোটের জন্য চাই ভালো মাস্টার
তন্ময় মল্লিক

মোটা বেতন দিয়ে মাস্টার রাখলেই ছেলেমেয়ে মানুষ হয় না। তেমনটা হলে সব বড়লোকের ছেলেমেয়েই উচ্চশিক্ষিত হতো। কিন্তু, তা তো হয় না। ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনায় আগ্রহ, মেধা যেমন থাকা দরকার, তেমনই নজরদারিটাও জরুরি। ফাঁকিবাজি থাকলেই ছাত্র হয় গাড্ডু খাবে, অথবা ‘বিবেচনায়’ পাশ।
বিশদ

10th  August, 2019
একনজরে
 কুলিজ (অ্যান্টিগা), ২০ আগস্ট: ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট খেলতে নামার আগে কিছুটা স্বস্তি পেলেন অজিঙ্কা রাহানে। গত দু’বছর ধরে তাঁর ব্যাটে কোনও সেঞ্চুরি নেই। টেস্ট দলে তাঁর পায়ের তলার জমি ক্রমাগত আলগা হচ্ছিল। রাহানে বুঝতে পারছিলেন, লাল বলে জাতীয় ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বদলি হওয়া বিভিন্ন রাজ্য কর্মী সংগঠনের পদাধিকারীদের ফের কলকাতার সচিবালয়ে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই সিপিএম প্রভাবিত কো-অর্ডিনেশন কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর দুই সদস্য ও তৃণমূল প্রভাবিত কর্মী সংগঠনের কোর কমিটির এক সদস্যকে উত্তরবঙ্গ থেকে কলকাতায় ফেরানো হয়েছে। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃতীয় প্রজন্মের ‘গ্র্যান্ড আই টেন নিয়োস’ গাড়ি বাজারে আনল হুন্ডাই মোটর ইন্ডিয়া লিমিটেড। সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘নিয়োস’ কথাটির অর্থ আরও বেশি। সেই শব্দটির যথোপযুক্ত ব্যবহার হয়েছে এই হ্যাচব্যাক গাড়িটিতে, দাবি হুন্ডাইয়ের। ...

সংবাদদাতা, কাঁথি: কাঁথির তাজপুর গ্রামীণ হাটের জমিতে স্থায়ী দোকানঘর নির্মাণের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষের জেরে উত্তেজনা ছড়ায়। এই ঘটনায় দু’পক্ষের আটজন কমবেশি জখম হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে নিগ্রহের শিকার হন খোদ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিও।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীদের উচ্চবিদ্যার ক্ষেত্রে মধ্যম ফল আশা করা যায়। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ক্ষেত্রে সাফল্য আসবে। ব্যবসাতে যুক্ত ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৩১: গায়ক বিষ্ণু দিগম্বর পালুসকরের মৃত্যু
১৯৭২: বন সংরক্ষণ আইন চালু হল
১৯৭৮: ভিনু মানকড়ের মৃত্যু
১৯৮৬: জামাইকার স্প্রিন্টার উসেইন বোল্টের জন্ম
১৯৯৫: ভারতের নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী সুব্রহ্মণ্যম চন্দ্রশেখরের মৃত্যু
২০০৬: প্রখ্যাত সানাইবাদক ওস্তাদ বিসমিল্লা খানের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৭৯ টাকা ৭২.৪৯ টাকা
পাউন্ড ৮৫.৩৭ টাকা ৮৮.৫১ টাকা
ইউরো ৭৭.৯৪ টাকা ৮০.৯৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৩২৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮৭০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৪ ভাদ্র ১৪২৬, ২১ আগস্ট ২০১৯, বুধবার, পঞ্চমী ০/২৯ প্রাতঃ ৫/৩১। অশ্বিনী ৪৮/৪০ রাত্রি ১২/৪৭। সূ উ ৫/১৯/২, অ ৬/০/৫২, অমৃতযোগ দিবা ৭/০ মধ্যে পুনঃ ৯/৩৩ গতে ১১/১৪ মধ্যে পুনঃ ৩/২৮ গতে ৫/৯ মধ্যে, বারবেলা ৮/২৯ গতে ১০/৫ মধ্যে পুনঃ ১১/৪০ গতে ১/১৫ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৩০ গতে ৩/৫৪ মধ্যে।
৩ ভাদ্র ১৪২৬, ২১ আগস্ট ২০১৯, বুধবার, ষষ্ঠী ৫৩/৫৮/৩০ রাত্রি ২/৫৩/৩১। অশ্বিনীনক্ষত্র ৪২/৯/৫৩ রাত্রি ১০/১০/৪, সূ উ ৫/১৮/৭, অ ৬/৩/৪৩, অমৃতযোগ দিবা ৭/২ মধ্যে ও ৯/৩১ গতে ১১/১০ মধ্যে ও ৩/১৮ গতে ৪/৫৭ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৩৩ গতে ৮/৫৩ মধ্যে ও ১/৩১ গতে ৫/১৮ মধ্যে, বারবেলা ১১/৪০/৫৫ গতে ১/১৬/৩৭ মধ্যে, কালবেলা ৮/২৯/৩১ গতে ১০/৫/১৪ মধ্যে, কালরাত্রি ২/২৯/৩১ গতে ৩/৫৩/৪৯ মধ্যে। 
১৯ জেলহজ্জ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
জাগুয়ার দুর্ঘটনার তদন্তে নয়া মোড়
কলকাতার শেক্সপিয়র সরণির জাগুয়ার দুর্ঘটনার তদন্তে নয়া মোড়। আজ জানা ...বিশদ

05:26:00 PM

শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে চিদাম্বরমের আর্জির শুনানি
আগামী শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে চিদাম্বরমের আর্জির শুনানি হবে বলে জানা ...বিশদ

05:18:17 PM

চায়ের দোকানে গিয়ে চা বানালেন মুখ্যমন্ত্রী
আজ বুধবার ওড়িশা সীমান্তের দীঘার দত্তপুর এলাকায় জনসংযোগে গিয়েছিলেন ...বিশদ

05:15:00 PM

নেতাজি ইস্যুতে ধর্মতলায় বিক্ষোভ মিছিল ফরওয়ার্ড ব্লক 

04:10:00 PM

আবেদনে ত্রুটি, সুপ্রম কোর্টে পি চিদম্বরমের আবেদন গ্রাহ্য হল না 

04:07:16 PM

আরবিসি কলেজে সংঘর্ষ, গুলি 
টিএমসিপি ও এবিভিপির সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল নৈহাটির ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র ...বিশদ

02:44:51 PM