Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

সেই প্রশ্নগুলির জবাব মিলছে না কেন?
মোশারফ হোসেন 

দেশজুড়ে রাজনীতির ময়দানে এই মুহূর্তে গনগনে আঁচ। রাজনীতির মাটি গরম। রাজনীতির বাতাস গরম। কারণ দেশে ভোট যে শুরু হয়ে গিয়েছে! ভোটগ্রহণ সব মিলিয়ে সম্পন্ন হবে সাত দফায়। প্রথম দফাটি হয়ে গেল গত ১১ তারিখে। ওইদিন সব মিলিয়ে ২০ টি রাজ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ৯১ টি আসনে ভোট নেওয়া হয়েছে। ভোটদাতাদের ‘বিবেচনা’ কয়েক লাখ ইভিএমে বন্দি হয়ে কড়া পাহারায় স্ট্রং রুমে বিশ্রাম নিচ্ছে। সেগুলি ফের বাইরের আলো দেখতে আরও প্রায় সওয়া এক মাস বাকি।
ওই ৯১টি কেন্দ্রে রাজনৈতিক উথালপাথাল আপাতত স্থগিত থাকলেও বাকি ভারতে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অন্যরকম। সেই ভারতে রয়েছে আরও প্রায় সাড়ে চারশো আসন। আগামী ছ’দফায় সেগুলিতে প্রাপ্তবয়স্ক ভারতীয় নাগরিকদের বিবেচনার প্রতিফলন ঘটার কথা। সেই কোটি কোটি নাগরিক তথা ভোটারদের বিবেচনা নিজেদের পক্ষে আনতে রাজনৈতিক দলগুলির ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। প্রতিটি দলেরই ছোট বড় মাঝারি নেতা নেত্রীরা ছুটে বেড়াচ্ছেন। প্রতিদিন হাজার হাজার নির্বাচনী প্রচার সভায় এলাকার পর এলাকা সরগরম। যত বড় দল, তত বেশি আসনে প্রার্থী। নেতানেত্রীর সংখ্যাও সেই অনুসারে। হরেক রকম আঞ্চলিক দল। দু-চারটে সর্বভারতীয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে নবীন পট্টনায়ক, চন্দ্রবাবু নাইডু থেকে অখিলেশ যাদব, মায়াবতী থেকে নীতীশ কুমার। ছুটে বেড়াচ্ছেন সবাই। চষে বেড়াচ্ছেন যাঁর পক্ষে যতটা সম্ভব। তবে এদের সবাইকে ছাপিয়ে যাচ্ছেন প্রধান দুই সর্বভারতীয় দলের দুই নেতা নরেন্দ্র মোদি ও রাহুল গান্ধী। এবারের ভোটে নরেন্দ্র মোদির সামনে বাংলার অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। মমতাকে ঘায়েল করার তীব্র বাসনা নিয়ে নরেন্দ্র মোদি বার বার হানা দিচ্ছেন মমতার গড় বাংলায়। সর্বভারতীয় কংগ্রেস দলের সভাপতি রাহুল গান্ধীও গত কয়েক বছরের মধ্যে নিজেকে অভাবনীয় এক উচ্চতায় তুলে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি গোটা ভারত জুড়ে লাগাতার সক্রিয়তায় মোদিজির স্বস্তি অনেকটাই কেড়ে নিয়েছেন। একদিকে মমতা অন্যদিকে রাহুল গান্ধীর সুতীব্র আক্রমণ ঠেকাতে তূণের সমস্তরকমের তিরই প্রয়োগ করে চলেছেন নরেন্দ্র।
গত পাঁচ বছরের প্রধানমন্ত্রিত্বকালে জনগণের দেওয়া করের টাকায় প্রায় একশোবার বিদেশ ভ্রমণ করা মোদি পরের পাঁচবছরের জন্য নিজের গদিটি অটুট রাখতে এখন দেশের কোণে কোণে ছুটছেন। উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম—দেশের প্রতিটি প্রান্তে মোদির এই ছুটে বেড়ানো দেখে বহু ভারতবাসীরই গত ২০১৪ সালের এই সময়টির কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। দৃপ্ত চেহারা, আসাধারণ বাচনভঙ্গিমা, তুলনাহীন শরীরী ব্যঞ্জনা সেসময় ভারতবাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। কোটি কোটি মানুষকে চুম্বকের মতো আকর্ষণ করেছিল গুজরাতনন্দনের একের পর এক চমকে দেওয়ার মতো প্রতিশ্রুতি। ক্ষমতায় এলে তিনি বিদেশে পাচার হওয়া লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা দেশে ফিরিয়ে আনবেন। না, টাকা ফেরালেও তিনি তার একটি কপর্দকও নিজে নেবেন না। নেওয়ার কোনও বাসনাই তাঁর নেই। কারণ, তিনি তো দেশবাসীর সেবায় আত্মোৎসর্গীকৃত এক সন্ন্যাসীসম। তাঁর নিজের জন্য কোনও পয়সাকড়ির প্রয়োজন নেই। তাহলে বিদেশ থেকে ফিরিয়ে এনে ওই বিপুল পরিমাণ টাকা তিনি কী করবেন? নিজের প্রশ্নের জবাব নিজেই দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, প্রতিটি ভারতবাসীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তা সমানভাবে ভরে দেবেন। তাতে কত করে পাবেন প্রতিটি ভারতবাসী? মাথাপিছু পনেরো লক্ষ টাকা। শুনে চোখ ছানাবড়া হয়ে উঠেছিল দিন আনা দিন খাওয়া বিপুল সংখ্যক ভারতবাসীর। এত টাকা! এও কি সম্ভব? আবার মানুষটি যেভাবে বলছেন তাতে তাঁকে অবিশ্বাস করতেও মন সায় দেয় না। বরং বিশ্বাসের দিকেই পাল্লা ভারী হয়।
আর কী বললেন মোদি? তিনি ক্ষমতায় এলে বছরে দু’কোটি ছেলেমেয়ে চাকরি পাবে। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি ঘটবে কোটি কোটি শিক্ষিত অথচ একটি চাকরি জোগাড় করতে না পারার ব্যর্থতায় মরমে মরে থাকা অসংখ্য তরুণ প্রাণের। একবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অর্থ সাধারণ হিসেবে পাঁচ বছরের জন্য সিংহাসন। অর্থাৎ মোট অন্তত দশ কোটি বেকারের চাকরি। লোকটা নাকি গুজরাতে গত বারো-তেরো বছরে এমন অবিশ্বাস্য উন্নয়ন ঘটিয়েছেন যে বেকার নামক শব্দটিই ওই রাজ্যের অভিধান থেকে ধাঁ হয়ে গিয়েছে। সেখানে ঘরে ঘরে সুখ। সুখের জোয়ার। সুখের বান। সুখ-স্বস্তির জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে রাজ্যটা। একসময়ে ছিলেন দরিদ্র চা-ওয়ালা। তিনি এমন অসাধ্যসাধনই করেছেন। তাঁর সাফল্য তো আসলে বিপুল সংখ্যক গরিব ভারতবাসীরই সাফল্যের নামান্তর। সে ওই স্যুটবুট পরা বড়লোকদের নয়, আসলে আমজনতারই প্রকৃত প্রতিনিধি।
এত কথা বাকি ভারত জানল কী করে? ওমা তাও জানো না? টিভির পর্দায়, খবরের কাগজের পাতায় পাতায়, হোর্ডিংয়ে-পোস্টারে, নেতাদের বক্তৃতায়, ঘরোয়া জমায়েতে ও কথাই তো বলা হচ্ছে। সবাই যখন একই কথা বলছে, ব্যাপারটা নিশ্চয়ই সত্যি। মনমোহন সিং নামের মানুষটির গত দশ বছরের শাসনে প্রায় মরতে বসা দেশটায় নতুন করে প্রাণসঞ্চারের জাদু-জল তো মোদিজির হাতের কমণ্ডলুতেই রাখা রয়েছে। তা ব্যবহারের সুযোগ চাই। তাহলে ভারতবাসীর পবিত্র কর্তব্য কী? মোদি নামক নয়া দেবদূতকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে যা করণীয় তা করতেই হবে। হলও তাই। হ্যামলিনের সেই বাঁশিওয়ালার ডাকের মতো লাখো লাখো ভোটার ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। তাঁকে সিংহাসনের দিকে এগিয়ে দিলেন। দেশসেবার জন্য ‘সর্বস্বত্যাগী’ গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হলেন তামাম ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
তারপর? সম্ভবত মাথাপিছু পনেরো লাখ টাকার আশাতেই ব্যাঙ্কের দরজায় দরজায় লম্বা লম্বা লাইন পড়ল। সবাই ব্যাঙ্ক অ্যাকউন্ট খুলতে চায়। জনধন অ্যাকাউন্ট। অ্যাকাউন্ট তো খোলা হল। কিন্তু টাকা ঢুকল কই? বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা কালো টাকা আসার কথা ছিল। তার দেখা তো মিললই না, উল্টে নীরব মোদি, মেহুল চোকসি, বিজয় মালিয়াদের জাদুর জোরে হাজার হাজার কোটি সাদা টাকা দেশের বাইরে চলে গেল। দেশের টাকা মেরে ভাগনেওয়ালাদের কেউ আমাদের প্রধানমন্ত্রীর দাওয়ায় বসে তাঁর স্বকণ্ঠে ‘ভাই’ বলে আপ্যায়িত হয়েছেন, কেউবা বিদেশের মাটিতে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানমঞ্চ আলো করে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। আবার, এক ভাগনেওয়ালা নাকি প্রধানমন্ত্রীর এক বিশ্বস্ত সেনাপতিকে আগাম জানিয়েই দেশ থেকে ধাঁ হয়েছেন বলে নিজেই দাবি করেছেন। কেন এমন হল?
দেখতে দেখতে পাঁচবছর কেটে গেল। সেই বছরে দু’কোটি চাকরির ব্যাপারটা কী হল? শুধু চাকরি! মেক ইন্ডিয়ার মাধ্যমে আরও বহু কোটি কর্মসংস্থানের স্বপ্ন? পাঁচ বছরে মোট দশ কোটি চাকরি! সব মিলিয়ে পাঁচ লাখ হয়েছে তো? আর মেক ইন ইন্ডিয়া? ভারতবাসী সকাল থেকে রাত অবধি যে যে পণ্য ব্যবহার করে তার শতকরা আশিটিতেই তো মেড ইন চায়না ছাপ! এর জন্য কার ব্যর্থতা দায়ী?
তারপরও রয়ে যাচ্ছে আচমকা নোট বাতিল ও অপরিণত জিএসটি চালুর বিষয়দুটি। গত ২০১৬ সালের নভেম্বরের এক সন্ধ্যায় আচমকাই পাঁচশো ও এক হাজার টাকার চালু সমস্ত নোটকে বাতিল ঘোষণা করেছিলেন মোদিজি। তখন কী বলেছিলেন? বলেছিলেন, নোট বাতিলের ফলে কালো টাকার কবর হবে, আর কোমর ভেঙে যাবে জঙ্গিদের। এর সুবাদে নিত্যপণ্যের দাম কমবে, কোটি কোটি কর্মসংস্থান হবে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সুখের দিশা মিলবে। দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ লেজ গুটিয়ে বিদায় নিতে বাধ্য হবে। দেশবাসী নিশ্চিন্তে দিন কাটাতে পারবেন।
ওই নোট-বাতিল পর্বের পর আড়াই বছরেরও বেশি সময় কেটে গিয়েছে। কী ফল পেলেন ভারতবাসী? বাতিল হওয়া তথাকথিত বিপুল পরিমাণ কালো টাকার প্রায় সবটাই ব্যাঙ্কে ফিরে এসেছে। অর্থাৎ কালো টাকার দানবীয় যে উপস্থিতির গল্প ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল তা নেহাতই রটনা ছিল। অথবা, মোদিজির ওই পদক্ষেপের সুযোগে বিপুল পরিমাণ কালো টাকা কোনও অদৃশ্য জাদুর ছোঁয়ায় সাদা হয়ে গিয়েছে। এতে লাভবান হল কারা? অন্যদিকে, সাধারণ মানুষ কী পেলেন? পেলেন বেশ কিছুদিনের জন্য সীমাহীন উদ্বেগ। নিজের কষ্টার্জিত টাকা ঠিকঠাক রাখতে দুর্ভোগের একশেষ হতে হল। এটিএমের সামনে লাইন দিতে গিয়ে কিছু মানুষের অকালমৃত্যু হল। শুধু তাই নয়, নোট বাতিলের জেরে লক্ষ লক্ষ সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ রাতারাতি কাজ খোয়ালেন। তাঁদের উপার্জন গেল, জীবিকা গেল। অনেকেই নড়বড়ে শিরদাঁড়া চুরমার হয়ে গেল। দিনের স্বস্তি, রাতের ঘুম উড়ে যাওয়া অনেক মানুষ চিরকালের মতো মুখ খুবড়ে পড়লেন। এর দায় কার?
আর জিএসটি? নেহরুকে পাল্লা দিয়ে নয়া ইতিহাস রচনার তীব্র বাসনায় মেদিজি মধ্যরাতে সংসদের অধিবেশন ডেকে যে অপরিণত জিএসটি চালু করলেন তার ফল কী হল জানেন তো? আপনি না জানলেও কোটি কোটি সাধারণ ভারতবাসী তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন। এখনও পাচ্ছেন। ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের কোমর ভেঙে গিয়েছে। বহু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান পাততাড়ি গোটাতে বাধ্য হয়েছে। যারা কোনও রকমে টিঁকে গিয়েছে তাদের হালও যথেষ্টই খারাপ। এর জেরে লক্ষ লক্ষ সাধারণ কর্মচারীকে মালিকরা দরজা দেখিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। বহু সকার ব্যক্তি নতুন করে বেকার হয়েছেন। তাঁদের পরিবার পরিজন অথৈ জলে পড়েছেন। পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানের শিক্ষা, ভবিষ্যৎ—সব কিছুই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এমন পরিণতির জন্যই কি ২০১৪ সালে বিপুল সমর্থন দিয়ে মোদিজিকে ক্ষমতায় আনার জন্য সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন ওই লক্ষ লক্ষ মানুষ? এটাই কি তাদের প্রত্যাশা ছিল? মোদিজির বহু প্রতিশ্রুত ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশের’ই বা কী হল? কোথায় গেল ‘আচ্ছে দিন’?
ফের প্রধানমন্ত্রী হতে চাইছেন নরেন্দ্র মোদি। নিজের পক্ষে ভোট জোগাড়ে আপাতত তাঁর পরিশ্রমের শেষ নেই। ফের হরেক রকম গল্প শোনাচ্ছেন। হরেক আবেগে সুড়সড়ি দিচ্ছেন। কিন্তু তার আগে আগের প্রশ্নগুলির জবাব দিন। নতুন ক্লাসে ভর্তি হতে চাইলে আগের ক্লাসের রিপোর্ট কার্ড দেখানোই দস্তুর। সেখানে পাশ করতে হয়। মোদিজির গত পাঁচ বছরের রিপোর্ট কার্ড কী বলে?  
16th  April, 2019
বিধানসভা ভোট কিন্তু হবে মমতাকে দেখেই
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ইন্দিরা গান্ধীর টার্গেট ছিল একটাই। যেভাবে হোক সিপিএমের কোমর ভেঙে দিতে হবে। তিনি মনে করতেন, সিপিএম আসলে সিআইএ’র মদতপুষ্ট। ঠিকঠাক সুযোগ পেলে পূর্ববঙ্গ এবং পশ্চিমবঙ্গে সশস্ত্র আন্দোলন করিয়ে বৃহত্তর বাংলা গঠন করে ফেলবে। কাজেই বাংলা কংগ্রেস এবং সিপিআই পছন্দের তালিকায় থাকলেও সিপিএমকে মোটে বরদাস্ত করতে পারতেন না ইন্দিরা।
বিশদ

18th  June, 2019
ডাক্তারবাবুদের গণ-ইস্তফা নজিরবিহীন,
কিন্তু তাতে কি হাসপাতাল সমস্যা মিটবে?

 এ-কথাও তো সত্যি যে, হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বা ডাক্তারবাবুদের যথাযথ নিরাপত্তা বিধানে তাঁর সদিচ্ছা আছে এবং ইতিমধ্যেই তার যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রবীণদের বৈঠকে ডেকে মুখ্যমন্ত্রী সমাধানসূত্র খুঁজছেন— সেটাও কি ওই সদিচ্ছারই নামান্তর নয়? বিশদ

16th  June, 2019
নরেন্দ্র মোদির মালদ্বীপ সফর এবং ভারত মহাসাগরে ভারতের নতুন রণনীতি
গৌরীশঙ্কর নাগ

 মোদিজির এই দ্বীপপুঞ্জ-সফর কেবলমাত্র হাসি বিনিময় ও করমর্দনের রাজনীতি হবে না, বরং এর প্রধান অ্যাজেন্ডাই হল প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মজবুত করা। তবে সেটা করতে গিয়ে ভারত যেন দ্বীপপুঞ্জের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অযথা হস্তক্ষেপ না করে বসে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, ভারত মালদ্বীপকে সন্ত্রাসবাদের নয়া ‘আঁতুড়ঘর’ হতে দেবে। কারণ ইতিমধ্যেই আমরা দেখেছি পাকিস্তান, আফগানিস্তান এমনকী মধ্যপ্রাচ্য থেকেও জেহাদি নেটওয়ার্কের কারবার মালদ্বীপেও পৌঁছে গিয়েছে। এই র‌্যাডিক্যালিজমের একমাত্র দাওয়াই হল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তার সহায়ক শক্তি হিসেবে রাজনৈতিক স্থিরতা।
বিশদ

15th  June, 2019
সতর্কতার সময়
সমৃদ্ধ দত্ত

 ভারতীয় সংস্কৃতির সনাতন ধারাটি হল দিবে আর নিবে, মিলিবে মেলাবে। কিন্তু সেই সংস্কৃতি থেকে আমাদের সরিয়ে এনেছে অসহিষ্ণুতা আর স্বল্পবিদ্যা। আর সবথেকে বেশি জায়গা করে নিয়েছে বিদ্বেষ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বিদ্বেষ।
বিশদ

14th  June, 2019
ক্ষমতার ‘হিন্দি’ মিডিয়াম
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 উত্তর ভারতের সঙ্গে দক্ষিণের সীমারেখা। আর তার কারিগর আমরাই। আমাদের কাছে সাউথ ইন্ডিয়ান মানে মাদ্রাজি। দক্ষিণ ভারতের লোকজন নারকেল তেল খায়, অদ্ভুত ওদের উচ্চারণ, লুঙ্গি পরে বিয়েবাড়ি যায়... হাজারো আলোচনা। উত্তর ভারত মানে বিষম একটা নাক উঁচু ব্যাপার। আর দক্ষিণ মানেই রসিকতার খোরাক। তাই ওদের একটু ‘মানুষ’ করা দরকার। কীভাবে সেটা সম্ভব? হিন্দি শেখাতে হবে। বিশদ

13th  June, 2019
বারুদের স্তূপের উপর পশ্চিমবঙ্গ
হিমাংশু সিংহ

সংসদীয় রাজনীতিতে কিছুই চিরস্থায়ী নয়। কারও মৌরসিপাট্টাই গণতন্ত্রে বেশিদিন টেকে না। সব সাজানো বাগানই একদিন শুকিয়ে যায় কালের নিয়মে। ইতিহাস কয়েক বছর অন্তর ফিরে ফিরে আসে আর ধুরন্ধর শাসককে চরম শিক্ষা দিয়ে তাঁকে, তাঁর ক্ষমতাকে ধুলোয় লুটিয়ে দিয়ে আবার ফকির করে দিয়ে যায়। সব ক্ষমতা এক ভোটে বিলীন। ধূলিসাৎ। আর এখানেই মহান গণতন্ত্রের জিত আর চমৎকারিত্ব। আর সেই দিক দিয়ে ২৩ মে-র ফল এই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকেও আবার এক মহান সন্ধিক্ষণের দিকেই যেন ঠেলে দিয়েছে। ‘বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ’ হয়নি, ‘২০১৯ বিজেপি ফিনিশ’—তাও হয়নি। উল্টে সারাদেশে বিজেপি থ্রি-নট-থ্রি (অর্থাৎ ৩০৩টি) আসন জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভোট-পণ্ডিতদের।
বিশদ

11th  June, 2019
মোদিজি কি ‘সবকা বিশ্বাস’ অর্জন করতে পারবেন?
পি চিদম্বরম

 নরেন্দ্র মোদি এবার যে জনাদেশ পেয়েছেন তা অনস্বীকার্যভাবে বিপুল। যদিও, অতীতে লোকসভা নির্বাচনে একটি পার্টি ৩০৩-এর বেশি আসন জেতার একাধিক দৃষ্টান্ত আছে। যেমন ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধী ৩৫৩ এবং ১৯৮৪ সালে রাজীব গান্ধী ৪১৫ পেয়েছিলেন।
বিশদ

10th  June, 2019
 বিজেপি এ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে
কঠিন চ্যালেঞ্জ মনে করছে কেন?
শুভা দত্ত

 কয়েকদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক খুনের ঘটনা ঘটে গেল রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে। তাই আজও একই প্রসঙ্গ দিয়ে এই নিবন্ধ শুরু করতে হচ্ছে। গত সপ্তাহেই লিখেছিলাম, ভোটফল প্রকাশের পর রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় যেন একটা হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।
বিশদ

09th  June, 2019
ইচ্ছে-ডানায় নাচের তালে
অতনু বিশ্বাস

এ বছরের সিবিএসই পরীক্ষার ফল বেরতে দেখা গেল, প্রথম হয়েছে দু’টি মেয়ে। একসঙ্গে। ৫০০-র মধ্যে তারা পেয়েছে ৪৯৯ করে। দু’জনেই আবার আর্টসের ছাত্রী। না, পরীক্ষায় আজকাল এত এত নম্বর উঠছে, কিংবা আর্টস বিষয় নিয়েও প্রচুর নম্বর তুলে বোর্ডের পরীক্ষায় র‍্যাঙ্ক করা যায় আজকাল—এগুলোর কোনওটাই আমার আলোচনার বিষয়বস্তু নয়।
বিশদ

08th  June, 2019
ভারতের রাজনীতিতে ‘গেম মেকার’
মৃণালকান্তি দাস

মেধাবী হলেই যে পড়ুয়ার জন্য মোটা বেতনের চাকরি নিশ্চিত, তার কোনও গ্যারান্টি নেই। শুধু প্রতিভা থাকলে আর পরিশ্রমী হলেই হবে না, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং ঠিকঠাক ‘গাইড’ না পাওয়ায় পড়ুয়ারা আজ আর সরকারি চাকরির লক্ষ্যভেদ করতে পারেন না।
বিশদ

07th  June, 2019
অবিজেপি ভোটে বাজিমাত
বিজেপির, এবং তারপর...
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আলোড়ন! নিঃসন্দেহে একটা জবরদস্ত আলোড়ন উঠেছে। লোকসভা ভোটফল প্রকাশ হওয়া ইস্তক সেই আলোড়নের দাপটে রাজ্য-রাজনীতি থেকে সাধারণের অন্দরমহল জল্পনা-কল্পনা, বিবাদ-বিতর্ক, আশা-আশঙ্কায় যাকে বলে রীতিমতো সরগরম! পথেঘাটে আকাশে বাতাসে যেখানে সেখানে ছিটকে উঠছে উৎকণ্ঠা নানান জিজ্ঞাসা।
বিশদ

06th  June, 2019
কর্ণাটক পুরনির্বাচন: আবার উল্টালো ভোটফল
শুভময় মৈত্র 

নির্বাচনে ভোটফল নিয়ে কখন যে কী ঘটছে তার ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না মোটেই। মানুষ অবশ্যই মত বদলাবেন। সে স্বাধীনতা তাঁদের আছে। সে জন্যেই তো ভোটফল বদলায়। নাহলে সংসদীয় গণতন্ত্রের কোনও অর্থই থাকে না।  
বিশদ

04th  June, 2019
একনজরে
বিএনএ, সিউড়ি: মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে জুনিয়র ডাক্তারদের বৈঠকে স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে দীর্ঘ জটিলতা কেটে যাওয়ায় খুশি বীরভূম জেলার রোগী ও তাঁদের আত্মীয়রা। মঙ্গলবার সকাল থেকেই সিউড়ি, বোলপুর, রামপুরহাটে বড় হাসপাতালগুলিতে ভিড় জমান জেলার বহু মানুষজন।  ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতি উঠতেই স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে কলকাতার হাসপাতালগুলি। এনআরএস এবং এসএসকেএমে ওপিডিতে রোগী দেখা এবং ইমার্জেন্সিতে রোগীদের চিকিৎসা শুরু হল। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতা তথা পূর্বাঞ্চলে প্রথম হলমার্কের কর্পোরেট সার্টিফিকেট দেওয়া চালু করল ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস। প্রথমবার এই সার্টিফিকেট পেল সেনকো গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস। তাদের পশ্চিমবঙ্গের ১৪টি শোরুম ওই হলমার্ক পেয়েছে। এর আগে পর্যন্ত দেশে মোট পাঁচটি সংস্থা এই ...

  শ্রীনগর, ১৮ জুন (পিটিআই): মঙ্গলবার জম্মু-কাশ্মীরের অনন্তনাগে এনকাউন্টারে খতম দুই জয়েশ-ই-মহম্মদের জঙ্গি। হত দুই জঙ্গির মধ্যে একজন পুলওয়ামায় হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে স্থানীয় পুলিস জানিয়েছে। আর এই গুলির লড়াইয়ে এক জওয়ান গুরুতর জখম হন। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের কোনও চুক্তিবদ্ধ কাজে যুক্ত হওয়ার যোগ আছে। ব্যবসা শুরু করা যেতে পারে। বিবাহের যোগাযোগ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৪৭- লেখক সলমন রুশদির জন্ম,
১৯৭০- রাজনীতিক রাহুল গান্ধীর জন্ম,
১৯৮১- ভারতে টেস্ট টিউব বেবির জনক সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু,
২০০৮- বর্তমানের প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক বরুণ সেনগুপ্তের মৃত্যু 

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.০৩ টাকা ৭০.৭২ টাকা
পাউন্ড ৮৫.৯৪ টাকা ৮৯.১১ টাকা
ইউরো ৭৭.০০ টাকা ৭৯.৯৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৩,৪৬৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩১,৭৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩২,২২৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,১৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭,২৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৪ আষা‌ঢ় ১৪২৬, ১৯ জুন ২০১৯, বুধবার, দ্বিতীয়া ২৬/৩৫ দিবা ৩/৩৪। পূর্বাষাঢ়া ২১/২৩ দিবা ১/৩০। সূ উ ৪/৫৯/৯, অ ৬/১৯/১২, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৭ গতে ১১/১১ মধ্যে পুনঃ ১/৫১ গতে ৫/২৫ মধ্যে। রাত্রি ৯/৫২ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৯ গতে ১/২৪ মধ্যে, বারবেলা ৮/১৭ গতে ৯/৫৭ মধ্যে পুনঃ ১১/৩৮ গতে ১/১৮ মধ্যে, কালরাত্রি ২/১৭ গতে ৩/৩৭ মধ্যে। 
৩ আষাঢ় ১৪২৬, ১৯ জুন ২০১৯, বুধবার, দ্বিতীয়া ২৪/১৯/০ দিবা ২/৩৯/৬। পূর্বাষাঢ়ানক্ষত্র ২০/৫৮/৩৭ দিবা ১/১৮/৫৭, সূ উ ৪/৫৫/৩০, অ ৬/২১/৫৪, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪০ গতে ১১/১৪ মধ্যে ও ১/৫৫ গতে ৫/২৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৯/৫৫ মধ্যে ও ১২/২ গতে ১/২৭ মধ্যে, বারবেলা ১১/৩৮/৪৩ গতে ১/১৯/২১ মধ্যে, কালবেলা ৮/১৭/৭ গতে ৯/৫৭/৫৫ মধ্যে, কালরাত্রি ২/১৭/৩ গতে ৩/৩৬/১৯ মধ্যে। 
১৫ শওয়াল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বিশ্বকাপ: নিউজিল্যান্ডকে ২৪২ রানের টার্গেট দিল দঃ আফ্রিকা 

08:11:28 PM

বিশ্বকাপ: দঃ আফ্রিকা ১৬৯/৪ (৪০ ওভার) 

07:25:26 PM

হলদিয়া হাসপাতালে রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার
 

হলদিয়া হাসপাতালে রোগিনীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার। হাসপাতাল চত্বরে ...বিশদ

06:59:53 PM

বিশ্বকাপ: দঃ আফ্রিকা ১২৩/৩ (৩০ ওভার) 

06:36:33 PM

কলকাতা সহ দুই পরগনায় ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা

06:01:32 PM

বিশ্বকাপ: দঃ আফ্রিকা ৭৩/২ (২০ ওভার) 

05:59:15 PM