Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

লোকসভা ২০১৯: বাংলার ভোটে
মমতাভক্তি ঠেকানো যাবে?
শুভা দত্ত

যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। ভোটযুদ্ধ ২০১৯। আগামী লোকসভার দখল কে নেবেন, আগামী পাঁচ বছর কার হাতে থাকবে দেশ-শাসনের ভার তার ফয়সালা হবে এই যুদ্ধের ময়দানে। গত বৃহস্পতিবার এ রাজ্যের সঙ্গে সারা দেশে শুরু হয়ে গেল সেই যুদ্ধ। আমাদের রাজ্যে আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার—উত্তরবঙ্গের এই দুই রণাঙ্গনে টানটান উত্তেজনার মধ্যে যুযুধান পক্ষের নেতামন্ত্রী, সেনাসামন্ত, কেন্দ্রীয় প্যারামিলিটারি, রাজ্য পুলিস বাহিনী এবং অবশ্যই ভোট কমিশনের কর্তাব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জমজমাট উদ্বোধন হল লোকসভা যুদ্ধের। এবং এই যুদ্ধে জয়-পরাজয়ের যাঁরা আসল বিচারক, ভোট মেশিনের বোতামে যাঁদের আঙুলের একটি হালকা চাপ ঠিক করে দেবে আমাদের দেশের আগামী পাঁচ বছরের হত্তাকত্তা-বিধাতাকে— সেই আমজনতা সার বেঁধে সকাল থেকে সন্ধে লাইনে দাঁড়িয়ে রইলেন সুশৃঙ্খলভাবে এবং প্রয়োগ করলেন তাঁদের নির্বাচনী ক্ষমতা। তাঁদের আনুকূল্যে ওই দুই রণাঙ্গনে ভোট পড়ল আশি শতাংশেরও বেশি। তার চেয়েও বড় কথা, ভোট পড়ল একেবারে যাকে বলে নির্বিঘ্নেই।
কিন্তু, আশঙ্কা যথেষ্টই ছিল। ওই দুই যুদ্ধের ময়দানে বহিরাগতদের দিয়ে বড় গোলমাল পাকানোর চেষ্টা হতে পারে বলে রাজ্যের সংশ্লিষ্ট মহলে খবর ছিল বলেও শুনেছিলাম। কিন্তু, শেষঅব্দি কিছু যে ঘটেনি তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি রাজ্য পুলিসেরও বিশেষ ধন্যবাদ প্রাপ্য হতে পারে। তার কারণ, উত্তেজনাপ্রবণ এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণে বা ভিন রাজ্য থেকে দুষ্কৃতী ঢোকার রাস্তা বন্ধ করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীর চেয়ে রাজ্য পুলিসের ভূমিকা ও কৃতিত্ব কোনও অংশে কম ছিল না। অথচ, এই পুলিস বাহিনীকে নিয়ে ভোটের আগে কত কথা! পুলিস নাকি শাসকদলের হুকুম মেনে চলে, তাদের হয়ে কাজ করে! তা যদি হতো তাহলে কি এমন নির্বিঘ্ন শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আমরা দেখতে পেতাম? আলিপুরদুয়ারে তো গোটা দিনে কোথাও একটা চড়া গলাও শোনা গেল না। কোচবিহারে যেটুকু টিভিতে দেখাল অত বড় লোকসভা ক্ষেত্রের নিরিখে সেটা কিছুই নয় বলা যায়! তবে, জেলাশাসকের অফিসে ধর্না নিয়ে একটি দলের প্রার্থীর দেহরক্ষী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কয়েকজন জওয়ান যে অতিসক্রিয়তা দেখালেন এবং রাজ্য পুলিসের সঙ্গে প্রায় হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়লেন সেটা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। বাহিনী, সে রাজ্যের হোক কী কেন্দ্রের— পারস্পরিক মর্যাদা রক্ষা করতে হবে না! রাজ্যে পুলিস তো অন্যায্য হস্তক্ষেপ করতে যায়নি। ভোটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব তো তাঁদেরও কিছু কম নয়। ভোটের সময় জেলাশাসকের অফিসের গুরুত্ব কে না বোঝেন? তো সেই অফিসে গোলমাল হলে তা থামাতে বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাঁদের তো উদ্যোগ নিতেই হবে। সেখানে তাঁদের কাজে ভোট নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনীর কেউ কেউ বা প্রার্থীর দেহরক্ষী যদি প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়, তবে কি সেটা শোভন সঙ্গত হয়? আশা করা যায়, নির্বাচন কমিশন ব্যাপারটা গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন। এমন অনভিপ্রেত ঘটনা যাতে ভোটযুদ্ধের আগামী দিনগুলোতে না ঘটে তার ব্যবস্থা করবেন। আসলে, সংঘর্ষের বড় ঘটনা না ঘটলেও যুযুধান পক্ষগুলোর মধ্যে, বিশেষত, তৃণমূল বিজেপি শিবিরের মধ্যে, একটা চড়া লড়াইয়ের মেজাজ আছেই। একটা সময় পর্যন্ত এ রাজ্যে প্রধান যুযুধান ছিল সিপিএম নেতৃত্বাধীন বাম ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। রাজ্যে কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভূমিকা সেই আশির দশকের পর থেকে ক্রমশ দুর্বল হয়েছে। মমতার তৃণমূলের উত্থানের পর সেই দুর্বলতা আরও প্রকট হয়েছে। পরবর্তীতে দেশে কংগ্রেসের সরকার হলেও রাজ্যে কংগ্রেসের স্বাস্থ্য ফেরেনি বরং রাজনৈতিক দিক থেকে জনমহলে তাঁদের গ্রহণযোগ্যতা তলানিতে গিয়েছে। ফলে, তৃণমূলের জন্মের পর থেকে ভোটযুদ্ধই হোক কি দৈনন্দিন রাজনৈতিক সংঘাত— মূল লড়াইটা গিয়ে দাঁড়িয়েছিল একা মমতা বনাম তৎকালের শাসক সিপিএম নেতৃত্বাধীন বামেদের। নানা সময়ে কংগ্রেস সহ আরও অনেকেই এই মমতা-বিরোধী শিবিরের দোসর হয়েছিল, সেটাও অনস্বীকার্য। এই পর্বতপ্রমাণ প্রতিকূলতা ঠেলেই মমতাকে এগতে হয়েছে দিনের পর দিন, প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে অবিচল থাকতে হয়েছে তাঁর মা-মাটি-মানুষের সেবায়। শারীরিক লাঞ্ছনা থেকে প্রায় প্রাণঘাতী আঘাত সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে। এবং তাঁর এই বিদ্রোহিণী জননেত্রী ভাবমূর্তিতেই মজেছে বাংলার মানুষ, আর তার জেরেই ২০১১ সালে অজেয় বলে কথিত সিপিএমের লালদুর্গ ধূলিসাৎ হয়েছে, মা-মাটি-মানুষের নেত্রী অভূতপূর্ব জনজোয়ার তুলে সিপিএম ও তার শরিকদের কেবল ক্ষমতাচ্যুতই করেননি, প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রচনা করেছেন এক নতুন ইতিহাস। অতঃপর সিপিএমের ছেড়ে যাওয়া মৃত্যুপথযাত্রী পশ্চিমবঙ্গের বুকে মাত্র কয়েক বছরের ঐকান্তিক চেষ্টায় নতুন প্রাণসঞ্চার করেছেন, উন্নয়নের বিপুল উদ্যোগে বাংলার পাহাড়-জঙ্গল থেকে সাগর সাজিয়ে দিয়েছেন অভাবনীয় রঙে, গরিব সাধারণের ঘরে ঘরে নানান সরকারি প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা পৌঁছে দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন হাসি এবং বিশ্বের দরবার থেকে আদায় করে নিয়েছেন সম্মান স্বীকৃতি। কন্যাশ্রী সবুজসাথীর মতো সরকারি প্রকল্প আজ বিশ্ববন্দিত। আমাদের পশ্চিমবঙ্গ আজ বিশ্ববাংলা।
এই বদলে যাওয়া বাংলায় আজ সিপিএম কোথায়! কংগ্রেসই বা কোথায়? দূরবিনে দেখতে হয়। কিন্তু, প্রকৃতির নিয়মে কোনও শূন্যস্থানই শূন্য থাকে না। বাংলার রাজনীতিতেও থাকেনি। সিপিএম কংগ্রেসের দুর্বলতা এবং জনসমর্থন হারানোর পথ ধরে শূন্যস্থান ভরাতে একটু একটু করে উঠে এসেছে বিজেপির গেরুয়া বাহিনী। আজ এই ২০১৯ সালের ভোটযুদ্ধের সময় সকলেই স্বীকার করবেন—এ রাজ্যের প্রধান যুযুধান মমতার তৃণমূল এবং বিজেপির পদ্মশিবির। বিজেপি নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশ শাসনের এক টার্ম শেষ করে পরের টার্ম দখলের জন্য ঝাঁপিয়েছে। ভোটপূর্ব জনসমীক্ষাগুলোর প্রায় প্রত্যেকটিতেই মোদিজির ক্ষমতায় ফিরে আসার আভাস মিলেছে। কিন্তু নানান ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ও শেষ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলের চেহারা চরিত্র দেখে উত্তরপ্রদেশ মধ্যপ্রদেশ দক্ষিণ ভারত এবং পশ্চিম ভারতের কিছু রাজ্যে এবার কতটা কী মিলবে তা নিয়ে মোদিজি শিবিরে কিছু চিন্তা জেগেছেই। সেই ঘাটতি মেটাতে এবার বাড়তি নজরে পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। ফলে, বাংলায় পদ্মবাহিনীর সঙ্গে এ রাজ্যে মমতার তৃণমূলের টক্করে যে বাড়তি তাপ ছড়াবে তাতে সন্দেহ কি? এবার রাজ্যে ভোটযুদ্ধের ময়দানে নিরাপত্তা জোরালো করতে আধা সেনার বহর বৃদ্ধি তার ইঙ্গিত দিয়েই রেখেছে। তার সঙ্গে বিজেপির রাজ্য নেতাদের গরম গরম বক্তৃতা এবং এমনকী রাজ্যের সভাগুলোতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজির মমতামুখী আক্রমণে অতিরিক্ত ধার সেই ইঙ্গিতকে যে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে তাতেই বা সন্দেহ কি?
কিন্তু, কথা হল—ভোটটা তো দেবে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। তাঁদের সিংহভাগ যে এখনও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকল্প হিসেবে কাউকে ভাবছেন না সেটাও তো ভোটপূর্ব সমীক্ষাগুলোতে উঠে এসেছে। এ রাজ্যে ভোটযুদ্ধের ফল তৃণমূলের পক্ষে ৪২-এ ৪২ হবে কি না জানা নেই, তবে হলেও আশ্চর্য হবেন কি কেউ? আমার এক বন্ধু বলছিলেন, মমতা ৪২-এ ৪২ ডাক দেওয়ার পরও কিন্তু ব্যাপারটা নিয়ে পথেঘাটে সাধারণের মধ্যে হালকা কোনও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। বরং, তাঁদের কথা শুনলে মনে হয়েছে এমন ফল হতেও পারে। ৪২-এ ৪২ না হোক ৪০ কি ৩৬ হলেও কি কম? রাজ্যে যে মাত্রায় উন্নয়ন হয়েছে, গ্রাম শহরের প্রান্তিক গরিব থেকে সাধারণ মধ্যবিত্ত যেভাবে সেই উন্নয়নের সুযোগ সুবিধা পেয়েছে তাতে মমতা ছাড়া অন্য কিছু তাঁরা কেন ভাববেন! তাছাড়া বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশ ত্রিপুরা ইত্যাদি থেকে মাঝেমধ্যেই যেসব খবর এসেছে বা আসছে তাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতার প্রতি ভক্তি বিশ্বাস আরও জোরদারই হচ্ছে। শান্তি সম্প্রীতির ক্ষেত্রেও তো পশ্চিমবঙ্গ গত সাত বছরে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এখন প্রশ্ন হল, বাংলার আজকের পরিস্থিতিতে মানুষের মনে মুখ্যমন্ত্রী মমতার যে ভাবমূর্তি তাকে কেবল কথা দিয়ে আর অভিযোগ ব্যঙ্গবিদ্রুপের হুল ফুটিয়ে কিছুমাত্র বিচলিত করা কি সম্ভব?! বাংলার ভোটে বঙ্গজনতার এই মমতাভক্তি ঠেকানো যাবে? এই প্রশ্ন যতদূর জানি রাজ্য বিজেপির অন্দরমহলেও উঠেছে। এ রাজ্যের পদ্মশিবিরে মমতার সঙ্গে সমানে সমানে টক্কর দিতে পারেন এমন নেতা বা নেত্রীর অভাবও যে আছে সেটাও কি অস্বীকার করতে পারছেন দলের শীর্ষস্তরের কর্তারা? কিন্তু তা বলে তো যুদ্ধের আগেই বসে পড়া যায় না। তাই যুদ্ধক্ষেত্রে সর্বশক্তি দিয়েই লড়তে নেমেছে বিজেপি। আর সেই আক্রমণ ঠেকিয়ে একাধিপত্য বজায় রাখতে নেমেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। প্রথম দফার লড়াই শেষ। দ্বিতীয় দফাও আসন্ন। প্রথম দফা নির্বিঘ্ন হওয়ায় মানুষ যে বুকে বাড়তি বল পেয়েছেন এবং ভোট ব্যাপারে তাঁদের উৎসাহও যে বেড়েছে তা সংশ্লিষ্ট মহলের প্রায় সকলেই স্বীকার করছেন। এখন দেখার শেষদফার লড়াই অব্দি এই শান্তি-আমন বজায় থাকে কি না, নানা প্ররোচনা রুখে ভোটশান্তি বজায় রেখে মমতার বিশ্ববাংলা সম্প্রীতির বাংলা দেশে নতুন নজির গড়তে পারে কি না—ভোটফলের পাশাপাশি তা নিয়েও কিন্তু বাংলার জনমহলে কৌতূহল বাড়ছে।
14th  April, 2019
আসনের হিসেবে সবথেকে দুর্দশা বামেদের
শুভময় মৈত্র

অনেকবার আলোচনা হয়েছে এই পরিসংখ্যান, তবুও এবারের লোকসভা নির্বাচনের ফল জানতে উদগ্রীব ভোটপিপাসুদের সামনে ২০১৪-তে বিজেপি ঠিক কীভাবে ক্ষমতায় এসেছিল সে হিসেব অবশ্যই আকর্ষণীয়। সেই পরিসংখ্যানে দু’ভাগে ভাগ করা যায় ভারতকে। এক ভাগে তারা আসন পেয়েছিল আশি শতাংশ, আর অন্য ভাগে তাদের আসনের সংখ্যা ভীষণ কম।
বিশদ

ভোটবাংলা: তৃতীয় পর্ব শেষে দু’-একটি জিজ্ঞাসা
মেরুনীল দাশগুপ্ত

বাংলার ভোটে হিংসা কোনও নতুন ব্যাপার তো নয়। কিন্তু, এবার প্রথম থেকেই ভোটের পরিবেশ পরিস্থিতি একটু আলাদা বলেই মনে হয়েছে। একদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যাপক টহলদারি, নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকদের নজরদারি এবং অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিস প্রশাসনের সক্রিয়তা সহযোগিতায় সাধারণ মানুষজনের মনের ভোটভীতিও অনেকটাই প্রশমিত দেখিয়েছে। ফলে, ভোট প্রচারে যুযুধান পক্ষের নেতানেত্রীর তরজায় উত্তেজনার পারদ যতই চড়ুক, একটা সৌহার্দের পরিবেশে ভোট শেষ হবে এমন প্রত্যাশা বেড়ে উঠছিল মানুষের মধ্যে। মঙ্গলবারের মর্মান্তিক ঘটনা তাতে একটা ধাক্কা দিয়েছে।
বিশদ

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ভোট
শুভা দত্ত

 সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে দু’টি দফার ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যে সমাপ্ত। এই নির্বাচনে সাত দফায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ৯০ কোটি মানুষ। এক্ষেত্রে একটি প্রাসঙ্গিক তথ্য হল, এখন দেশে ৫৬ কোটি মানুষ ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত। তাদের সিংহভাগ তরুণ-তরুণী। তারা নিয়মিত ফেসবুক, ট্যুইটার আর হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে খবর দেওয়া নেওয়া করে।
বিশদ

23rd  April, 2019
মোদিজি বনাম ইস্তাহার
পি চিদম্বরম

ভারতে প্রতিটি লোকসভার নির্বাচনই অনন‌্য, এমনকী যদি প্রধান দুই প্রতিপক্ষ পুরনোও থাকে। একটি কারণ হল, দুটি নির্বাচনের মাঝে প্রধান দুই প্রতিপক্ষ বাদে বাকি রাজনৈতিক দলগুলি তাদের অবস্থান বদলে ফেলে।
বিশদ

22nd  April, 2019
জনতার এখন একটাই জিজ্ঞাসা: এই
শান্তি শেষপর্যন্ত বজায় থাকবে তো?
শুভা দত্ত

 দ্বিতীয় দফাও শেষ। লোকসভা ভোটযুদ্ধের দ্বিতীয় পর্বও মোটের ওপর শান্তিতেই মিটল। গত বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং জলপাইগুড়ি ও রায়গঞ্জ—এই তিন আসনে ভোটের লড়াইতে একমাত্র ব্যতিক্রম হয়ে রইল উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া! বাংলার ভোটে রক্তারক্তি, মারামারি, বোমাগুলি, খুনোখুনি কোনও নতুন কথা নয়।
বিশদ

21st  April, 2019
কংগ্রেস তো পরিবারকেন্দ্রিক দল, বাকিরা?
মৃণালকান্তি দাস

‘কংগ্রে একটি পরিবারকেন্দ্রিক দল। কংগ্রেসের বেশিরভাগ সভাপতিই নেহরু-গান্ধী পরিবার থেকে এসেছেন। এটা থেকেই বোঝা যায়, এই দলে গণতন্ত্র নেই, একটা বিশেষ পরিবারই এই দল চালায়। বছরের পর বছর ধরে এই পরিবার শুধু নিজেদের উন্নতির কথা ভেবেছে, দেশের উন্নতির কথা ভাবেনি।’
বিশদ

21st  April, 2019
প্রতিবেশীর চোখে ভারতের নির্বাচন
গৌরীশঙ্কর নাগ

বস্তুত আশ্চর্যজনক হলেও পাকিস্তানের তরফে ভারতের নির্বাচনকে সর্বদাই দেখা হয়েছে তাদের জাতীয় স্বার্থের নিরিখে, বিশেষত কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ঘুঁটি সাজানোর ‘গেম প্ল্যান’ হিসেবে। প্রসঙ্গত স্মরণীয়, ১৯৬২ সালের সীমান্ত-সংঘাতের পর থেকে কাশ্মীরের ৩৮,০০০ বর্গকিমি চীনের দখলে রয়েছে। তদুপরি ১৯৬৩ সালে চীনের সঙ্গে সীমান্ত-বোঝাপড়ার মাধ্যমে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের ৫,১৮০ বর্গ কিমি চীনকে ছেড়ে দেয়। এখন ভারতের হাতে থাকা অবশিষ্টাংশও পাকিস্তান কব্জা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাই ভারতের লোকসভা নির্বাচন পাকিস্তানের কাছে মুসলিমপক্ষীয় বা মুসলিম-বিরোধী এমন অক্ষ গঠনের তাৎপর্যের নিরিখে নয়; পাকিস্তান এ ব্যাপারে অবহিত যে, ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা ১৭.২২ কোটি (২০১১ সেনসাস অনুযায়ী)। সেক্ষেত্রে পাক হামলায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তাও ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
বিশদ

20th  April, 2019
তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ও
বিরোধীদের অনৈক্য
রঞ্জন সেন

এবারের ভোটে ফিরে এসেছে এক পুরনো বিতর্ক। তা হল কোনটা ঠিক—একদলীয় শাসন না বহুদলীয় সরকার? আমাদের দেশ দুরকম অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়েই গিয়েছে। দুরকম শাসনেরই স্বপক্ষে ও বিপক্ষে বলার মত নানা কথা আছে। তাই এককথায় এর উত্তর দেওয়া কঠিন। কারণ মানুষ দুরকম সরকারেরই ভালো-খারাপ দুটি দিকই দেখেছেন।
বিশদ

20th  April, 2019
মধ্যবিত্তের ভোটচর্চা 

সমৃদ্ধ দত্ত: ভোট নিয়ে সবথেকে বেশি গল্প কারা করে? মধ্যবিত্ত। ভোট নিয়ে সারাদিন বন্ধুবান্ধব আর পরিচিতদের সঙ্গে ঝগড়া কারা করে? মধ্যবিত্ত। যে নেতানেত্রীরা তাঁদের চেনেনই না, তাঁদের হয়ে জানপ্রাণ দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছোটবেলার বন্ধু কিংবা আত্মীয়স্বজন অথবা পরিচিত ফ্যামিলি ফ্রেণ্ডকে আক্রমণ করে কারা? মধ্যবিত্ত।  বিশদ

19th  April, 2019
কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচার নিয়ে কিছু সহজ প্রশ্ন
শুভময় মৈত্র

সপ্তদশ লোকসভা গঠনের লক্ষ্যে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে গেল ১১ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার। সাত দফায় চলবে এই ভোট, ১৯ মে পর্যন্ত। তারপর ২৩ তারিখ ভোটফল। মোদি সরকার আবার ক্ষমতায় ফিরে আসবে কিনা সেটাই এবারের মূল প্রশ্ন। আপাতত বিভিন্ন সমীক্ষা যা খবর দিয়েছে তাতে সেই আশা একেবারে অলীক নয়।
বিশদ

18th  April, 2019
সেই প্রশ্নগুলির জবাব মিলছে না কেন?
মোশারফ হোসেন 

দেশজুড়ে রাজনীতির ময়দানে এই মুহূর্তে গনগনে আঁচ। রাজনীতির মাটি গরম। রাজনীতির বাতাস গরম। কারণ দেশে ভোট যে শুরু হয়ে গিয়েছে! ভোটগ্রহণ সব মিলিয়ে সম্পন্ন হবে সাত দফায়।  
বিশদ

16th  April, 2019
দুটি ইস্তাহারের গল্প
পি চিদম্বরম

গত ৮ এপ্রিল বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ হল কোনও প্রকার তূর্যনিনাদ ছাড়াই। বিজেপির পক্ষে এই যে নম্রতা একেবারে অস্বাভাবিক! বিজেপির নরম হওয়ার অনেক কারণ ছিল। 
বিশদ

15th  April, 2019
একনজরে
সুব্রত ধর  বহরমপুর, বিএনএ: ভোট মেটার পরও মুর্শিদাবাদ ও জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের একাংশের ব্যস্ততা কাটেনি। বুধবার সকালে মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী আবু তাহের ...

সংবাদদাতা, ধনেখালি: বুধবার সকালে তারকেশ্বর বিধানসভা ও ধনেখালি থানার অন্তর্গত গোপীনাথপুর ১ ও ২ পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচার করলেন আরামবাগ লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অপরূপা পোদ্দার। হুডখোলা ৩০টি টোটো, প্রায় ৫০টি বাইক নিয়ে শোভাযাত্রা করেন তৃণমূল প্রার্থী। ...

বিএনএ, কোচবিহার: কোচবিহারে জেলা ক্রীড়া সংস্থার অন্দরে নানা জটিলতার জেরে রাজ্যস্তরের বিভিন্ন খেলায় অংশ নিতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছেন জেলার কৃতী খেলোয়াড়দের একাংশ। একটি প্রতিযোগিতায় জেলা থেকে একাধিক টিম পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু একটা টিমকে মান্যতা দিচ্ছে রাজ্য ক্রীড়া সংস্থা। এনিয়ে দু’পক্ষের ...

 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

অতিরিক্ত পরিশ্রমে শারীরিক ক্লান্তি। প্রিয়জনের বিপথগামিতায় অশান্তি ও মানহানির আশঙ্কা। সাংসারিক ক্ষেত্রে মতানৈক্য এড়িয়ে চলা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৪০: মার্কিন অভিনেতা আল পাচিনোর জন্ম
১৯৬৮: গায়ক ওস্তাদ বড়ে গুলাম আলি খানের মৃত্যু
১৯৬৯: ফুটবলার আই এম বিজয়নের জন্ম
১৯৮৭: সঙ্গীতশিল্পী অরিজিৎ সিংয়ের জন্ম

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৯৮ টাকা ৭০.৬৭ টাকা
পাউন্ড ৮৮.৭১ টাকা ৯১.৯৮ টাকা
ইউরো ৭৬.৮৪ টাকা ৭৯.৭৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,০৭৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,৪৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩০,৮৮৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,২৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭,৩৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১১ বৈশাখ ১৪২৬, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ষষ্ঠী ১৮/৫৫ দিবা ১২/৪৭। পূর্বাষাঢ়া ৩৮/৩১ রাত্রি ৮/৩৭। সূ উ ৫/১২/৪৮, অ ৫/৫৬/৪০, অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪২ গতে ২/৫৭ মধ্যে, বারবেলা ২/২৪ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/৩৪ গতে ১২/৫৮ মধ্যে।
১১ বৈশাখ ১৪২৬, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ষষ্ঠী ২৩/২৪/২৫ দিবা ২/৩৫/৭। পূর্বাষাঢ়ানক্ষত্র ৪২/৫৩/২ রাত্রি ১০/২২/৩৪, সূ উ ৫/১৩/২১, অ ৫/৫৭/৫৩, অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪০ গতে ২/৫৩ মধ্যে, বারবেলা ৪/২২/১৯ গতে ৫/৫৭/৪৯ মধ্যে, কালবেলা ২/৪৬/৪৫ গতে ৪/২২/১৯ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৩৫/৩৭ গতে ১/০/৪ মধ্যে।
১৯ শাবান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বিধানসভা উপনির্বাচনে ইসলামপুর থেকে লড়বেন আবদুল করিম চৌধুরি: মমতা 

01:48:00 PM

বিধানসভা উপনির্বাচনে হাবিবপুর থেকে লড়বেন অমল কিসকু: মমতা 

01:48:00 PM

সিউড়ির চাঁদমারিতে নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 

01:47:10 PM

বিধানসভা উপনির্বাচনে ভাটপাড়া থেকে লড়বেন মদন মিত্র: মমতা 

01:46:36 PM

নোডাল অফিসারের খোঁজ মেলার পরই অজয় নায়েকের কাছে পৌঁছল রিপোর্ট 
নিখোঁজ নোডাল অফিসার অর্ণব রায়ের খোঁজ মেলার পরই পুরো বিষয়টির ...বিশদ

01:39:36 PM

বর্ধমানে নির্বাচনী প্রচারে অরূপ বিশ্বাস 

01:24:00 PM