Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ভোটে জিততে হাতিয়ার যখন বিজ্ঞাপন
মৃণালকান্তি দাস

‘পেটিএম ব্র্যান্ড অ্যাম্বাস্যাডর এবার পরশ বিন্দিতেও।’ ট্যুইটারে এমনই কটাক্ষ করেছিলেন রায়গঞ্জের বামপ্রার্থী মহম্মদ সেলিম। গাঁয়ে-গঞ্জে মহিলাদের টিপের পাতাতেও মোদির ছবি ছাপিয়ে বিজেপির এমন অভিনব নির্বাচনী প্রচার এর আগে কোনওদিন দেখেনি এই বাংলার মানুষ। শুধু কী তাই! নমো ব্র্যান্ডের টিশার্ট, কাপ, নোটবুক সবেতেই মোদি। ট্রেনের টিকিটে মোদির ছবি থেকে বিমানের বোর্ডিং পাসেও মোদির ছবি— সব বিষয়েই বার বার নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীরা। সম্প্রতি রেলের চায়ের কাপ নিয়েও বিতর্ক চরমে ওঠে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে একটি কাপের ছবি। কাঠগুদাম শতাব্দী এক্সপ্রেসে ‘ম্যায় ভি চৌকিদার’ লেখা সেই কাপে চা পরিবেশন করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে রেল ও অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রককে নোটিস পাঠাতে হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। পরে অবশ্য রেলের তরফে সেই কাপ তুলে নেওয়া হয়। কন্ট্রাক্টরকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। বিষয়টিকে ‘অনিচ্ছাকৃত ও অসাবধানতাবশত একটা ভুল’ বলে স্বীকার করে নেওয়া হয় মন্ত্রকের পক্ষ থেকে। কেউ বলছেন, ভোট বাজারে বিজেপির প্রচারের অস্ত্র হয়ে উঠেছে ‘ব্র্যান্ড নমো’, ‘ম্যায় ভি চৌকিদার’। জনসংযোগের অভিনব কৌশল তো বটেই।
আসলে ভোট বাজারের বিপণন কৌশল নরেন্দ্র মোদি নিজের হাতের তালুর মতো বোঝেন। এমনটা মনে করেন তাঁর প্রতিপক্ষরাও। ব্র্যান্ড মোদিকে কীভাবে প্রচারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করতে হয়, সেটা তাঁর নখদর্পণে। মোদিই মুখ, তিনিই ভরসা। নানা বিতর্কে বিদ্ধ বিজেপি লোকসভা নির্বাচনের রণতরী সাজিয়েছে সেই নরেন্দ্র মোদিকেই কাণ্ডারী করে। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হটকেকের মত বিকোচ্ছে মোদি নামাঙ্কিত হুডি, কফি মগ, শাড়িও। ভোট ঘোষণার আগেই একের পর বিজেপি সংসদ সদস্য যখন ‘নমো এগেইন’ লেখা হুডি পড়ে ভরিয়ে তুলেছিলেন সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়াল, তখন পাল্লা দিয়ে তাঁদের সেই পোস্টে কমেন্ট করছেন, রিট্যুইট করছেন স্বয়ং মোদি। উদ্দেশ্য অবশ্যই পরিষ্কার। নিজের ব্র্যান্ডের প্রচার। ‘নমো’ অর্থাৎ নরেন্দ্র মোদি। এই নাম যেভাবে পারো, যত পারো, ছড়িয়ে দাও। পৌঁছে দাও বাড়ির শোয়ার ঘর পর্যন্ত। তা সে পুরনো দিনের মতো প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন-ব্যানারেই হোক বা আধুনিক প্রযুক্তি। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইনস্টাগ্রাম-ফেসবুক-ট্যুইটারের মতো বিস্তীর্ণ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম। সর্বত্র বিজেপির প্রচারের প্রধান ‘মুখ’ করে তোলো মোদিকেই। এই কৌশল দেশের যুব সম্প্রদায়কে আকর্ষিত করবে, যার প্রভাব পড়বে ভোট বাক্সে। এমনই আশা গেরুয়া শিবিরের।
ধরুন, ‘ম্যায় ভি চৌকিদার’-এর প্রচারের গল্পটাই। ২০১৪-য় ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী মোদির মুখে বার বার শোনা গিয়েছে দু’টি শব্দ। ‘চৌকিদার’ ও ‘প্রধান সেবক’। রাফাল যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হতেই কংগ্রেসের তরফে কটাক্ষ শুরু হয় ‘চৌকিদার’ শব্দটি নিয়ে। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেন, ‘চৌকিদার চোর হ্যায়।’ লোকসভা ভোটের মুখে কংগ্রেস সভাপতির ‘চৌকিদার চোর হ্যায়’ স্লোগানের পাল্টা জবাব দিতে নতুন স্লোগান দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ‘ম্যায় ভি চৌকিদার’। সঙ্কটে তিনিই দেশের ‘পরিত্রাতা’ বোঝাতে ওই স্লোগান দিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ট্যুইটে। সেই ভিডিওতে রয়েছে একটি গান। আর সেই গানের সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রীকে কখনও দেখা যাচ্ছে কোনও জনসমাবেশে, কখনও বা কোনও যুদ্ধের ট্যাঙ্কের উপরে। নানা রকমের কর্মকাণ্ডে। প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বলতে দেখা যাচ্ছে, ‘আপনাদের পাহারা দেওয়ার জন্য দেশের সেবার জন্য এই চৌকিদার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’ সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, গানের সুরে সুর মিলিয়ে আমজনতাও বলছে ‘ম্যায় ভি চৌকিদার হুঁ’। ‘ম্যায় ভি চৌকিদার’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে করা সেই ট্যুইটে প্রধানমন্ত্রী লিখেছিলেন, ‘আমি একা নই। যাঁরাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়ছেন, সমাজের কলুষ, ত্রুটিবিচ্যুতির বিরুদ্ধে লড়াই করছেন, তাঁরা সকলেই চৌকিদার। ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যাঁরা লড়াই করে চলেছেন, তাঁরাও চৌকিদার। আজ প্রতিটি ভারতীয় নাগরিক বলছেন, ম্যায় ভি চৌকিদার।’ ব্যস! রাতারাতি ‘ম্যায় ভি চৌকিদার’ হয়ে গেল এই লোকসভা ভোটের প্রচারে বিজেপির অন্যতম হাতিয়ার। বিজেপির সব নেতা-কর্মীর নামের আগে এখন একটাই বিশেষণ। ‘ম্যায় ভি চৌকিদার’!
বিরোধীরা কটাক্ষ করে বলছেন, চৌকিদার তো তারাই— যারা কোটি কোটি টাকার মালিক। অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর)-এর তথ্য বলছে, গত লোকসভা ভোটে জয়ী ৫২১ জন সদস্যের হলফনামা পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে ৮৩ শতাংশ সাংসদই কোটিপতি! ৫২১ জনের মধ্যে কোটিপতি সাংসদ ৪৩০ জন। এঁদের মধ্যে বিজেপির সদস্য হলেন ২২৭, কংগ্রেসের ৩৭, তামিলনাড়ুর এআইএডিএমকে দলের ২৯ এবং বাকিরা অন্য দলের কিংবা নির্দল সদস্য। এই সদস্যদের মধ্যে ৩২ জন রয়েছেন যাঁদের সম্পত্তির পরিমাণ ৫০ কোটি টাকারও বেশি। লোকসভার মোট সদস্য ৫৪৩ জন। এডিআরের হিসেব অনুযায়ী সদস্যদের গড় সম্পত্তি দাঁড়াচ্ছে ১৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা। ওই ৫২১ সদস্যের মধ্যে মাত্র ২ জন রয়েছেন যাঁদের সম্পত্তির মূল্য ৫ লাখেরও কম।
বিজ্ঞাপন প্রচারের শুরুটা হয়েছিল অনেক আগেই। গত ২৪ ডিসেম্বর গুজরাতের একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নমো পণ্য বিক্রির অনলাইন পোর্টাল চালু করে। যারা দাবি করেছে যে এসব পণ্য হচ্ছে নমো মন্ত্রের পণ্য। তাদের বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘নরেন্দ্র মোদি ইন্সপায়ার্ড প্রোডাক্টস আর দ্য ওয়ে টু সে হোয়াট ইউ স্ট্যান্ড ফর’। যার বাংলা দাঁড়ায় ‘আপনার মূল্যবোধকে তুলে ধরার উপায় হচ্ছে সেই সব পণ্য, যেগুলো তৈরি হয়েছে নরেন্দ্র মোদির চেতনায়’। মোদি কুর্তা, মোদি জ্যাকেট এবং মোদি টি-শার্টের পর এবার বাজারে নামানো হয়েছে মোদি শাড়িও। সাধারণ শাড়ির উপর ডিজিটাল প্রিন্টারের মাধ্যমে বসানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর মুখাবয়ব। আর এই শাড়িই ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে গোটা দেশে।
নমো-কে ‘বিকাশ পুরুষ’ বা প্রগতির পুরুষ হিসেবে তুলে ধরার প্রচারে মূলধারার প্রচারমাধ্যম বা দলীয় সমর্থকদের সভা-সমাবেশ ছাড়াও নতুন মাধ্যমগুলোর ভূমিকাও কম নয়। নির্বাচনী বৈতরণী পার করাতে শাসকদলের প্রধান হাতিয়ার মোদির বিজ্ঞাপনের জন্য বিজেপি হাতছাড়া করেনি বলিউডকেও। যদিও শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে আসতে হয়েছে গেরুয়া শিবিরকে। বিরোধীদের আপত্তির জেরে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে মুক্তি পায়নি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আত্মজীবনী নিয়ে সিনেমা ‘পিএম নরেন্দ্র মোদি।’ তবে এরই মধ্যে একটি নতুন টিভি চ্যানেলের জন্ম হয়েছে। নয়া চ্যানেলটির নাম ‘নমো টিভি’। একটি চব্বিশ ঘণ্টার স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল। আর কেউ নয়, চ্যানেলের বিষয়বস্তু শুধুমাত্র সেই তিনিই। খোদ নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদি। যে চ্যানেলের সম্ভবত কোনও বৈধ অনুমতিপত্র নেই। এবং যাকে নিয়ে আচারবিধির বাধ্যবাধকতায় সামান্য কদিন জলঘোলা হল বটে, কিন্তু আটকানো যায়নি। নির্বাচন কমিশনের উত্তরে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রক জানিয়ে দিয়েছে— নমো টিভি কোনও সংবাদ চ্যানেল নয়, একটি বিজ্ঞাপনী প্ল্যাটফর্ম মাত্র। যা প্রচারের জন্য ডিটিএইচ পরিষেবা সংস্থাগুলির কোনও সরকারি ছাড়পত্র প্রয়োজন হয় না। গত ৩১ মার্চ থেকে ডিটিএইচ পরিষেবার গ্রাহকদের কাছে এই চ্যানেল লভ্য। ফেসবুকে নমো টিভির পেজে ফলোয়ার সংখ্যা ইতিমধ্যে পনেরো লাখ। যাকে বলে বিজ্ঞাপনের আধুনিকীকরণ!
কী দেখানো হচ্ছে নমো টিভিতে? প্রধানমন্ত্রী মোদির ২০১৯-এর সবকটি নির্বাচনী প্রচারের সরাসরি সম্প্রচার। প্রতিটি জনসভা থেকে লাইভ। বিভিন্ন নির্বাচনী মঞ্চে মোদির গা-গরম করা পুরনো বক্তৃতা। গত লোকসভায় নানা সেশনে মোদিজির ভাষণ। এনডিএ সরকারের সাফল্যের নানা পরিসংখ্যান। মাঝে মাঝে যোগব্যায়াম, দু’একটি সিনেমা। মোদিময় এই চ্যানেলে মাঝে মাঝে অন্য নেতার মুখও যে ভেসে উঠছে না তা নয়, ঘুরেফিরে আসছে জিএসটি নিয়ে অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির ভাষণ, রাজনাথ সিং, অমিত শাহের রোড শো। সদ্য বাজারে আসা এই ‘নমো টিভি’, ‘নরেন্দ্র মোদি’ মোবাইল অ্যাপ, যা ইতিমধ্যেই প্লে-স্টোর থেকে ডাউনলোড হয়ে গিয়েছে ১ কোটিরও বেশি হ্যান্ডসেটে। প্লে-স্টোরে থাকা অ্যাপের ভাঁড়ারে উঁকি দিলে গুনে শেষ করা যাবে না মোদির নাম ব্যবহার করে তৈরি করা অ্যাপের সংখ্যা। কোনওটিতে রয়েছে মোদির সঙ্গে সেলফি বা ছবি তোলার যান্ত্রিক কায়দা, কোনওটিতে মোদির জনপ্রিয় উক্তির সঙ্কলন, তো কোনওটিতে শুধুই বিজেপিকে ক্ষমতায় ফেরানোর ডাক। এই সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিন।
ইন্টারনেট সমীক্ষক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্ডিয়ার সমীক্ষা অনুযায়ী ফেব্রুয়ারির ১৯ তারিখের পর থেকে শুধুমাত্র গুগলকে বিজ্ঞাপন বাবদ রাজনৈতিক দলগুলি দিয়েছে ৩ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা। যার এক তৃতীয়াংশই দিয়েছে বিজেপি। মোট ৫৫৪টি বিজ্ঞাপনে বিজেপি খরচ করেছে ১ কোটি ২১ লক্ষ টাকা। গুগলে বিজ্ঞাপন দেওয়ার নিরিখে গেরুয়া শিবিরের ধারে কাছে নেই কংগ্রেস-সহ অন্য জাতীয় দলগুলি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশের প্রধান বিরোধী দল ওয়াইএসআর কংগ্রেস। তাঁরা খরচ করেছে মোট, ১ কোটি ৪ লক্ষ টাকা। গুগলকে দেওয়া বিজ্ঞাপনের নিরিখে কংগ্রেস রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে। মাত্র ৫৪ হাজার ১০০ টাকার বিজ্ঞাপন দিয়েছে রাহুল গান্ধীর দল। এবছর অবশ্য বিজ্ঞাপন নিয়ে বেশ কড়াকড়ি করেছে গুগল। টাকা দিলেই বিজ্ঞাপন দেওয়া যাচ্ছে না। সেজন্য প্রয়োজন পড়ছে নির্বাচন কমিশনের অনুমতির।
আসলে, নবীন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করার সেরা মাধ্যম যে সোশ্যাল মিডিয়াই, তা অনেক আগেই টের পেয়েছিল বিজেপি। দলীয় অনুমোদনে ও ভোট-রাজনীতির স্বার্থে একজন নেতার ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ চরিত্রায়নে অন্যায় নেই ঠিকই। এও ঠিক, ভারতের মতো অর্ধপক্ব রাজনৈতিক সংস্কৃতির দেশে, যেখানে ক্যারিশমার মোহ থেকে আজও বেরতে পারেননি দেশের ভোটাররা। আজও এ দেশের ভোটাররা আগমার্কা গণতন্ত্রের খোঁজ করেন না, এই দেশ একজন সার্জিকাল স্ট্রাইকার চায়। সেটাও জানে বিজেপি। অতএব, গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ল নয়া বিজ্ঞাপন। ‘‌মোদি হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়’‌— মোদি থাকলে সবই সম্ভব।
লোকসভা ভোটের মুখে ৫০৯ শব্দের এক বিস্ফোরক ব্লগে বিজেপির উদ্দেশ্যেই বিশেষ বার্তা দিয়েছেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদবানি। যার শিরোনাম ছিল: দেশ আগে, দল তার পরে, ব্যক্তি সব শেষে। ‘ব্রাত্য’ আদবানিকে নিজের ঢঙেই শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে ভোলেননি মোদি। হয়তো তিনি ভালো করেই জানেন, ব্র্যান্ড মোদির অবিসংবাদী নির্মাণের পথে সব কাঁটাগুলি ইতিমধ্যে উপড়ে ফেলা গিয়েছে, এগুলি তাদের মধ্যে একটি-দু’টির শেষ মরণখোঁচা মাত্র। দলের মার্গদর্শন নিয়ে এসব আপ্তবাক্যে তাঁর আর প্রয়োজন নেই। কারণ, দেশ ও দল ব্র্যান্ড মোদিতে এসে মিলেমিশে এক হয়ে গিয়েছে। তিনিই এখন এ দেশের স্বপ্নের ফেরিওয়ালা!
২০১৪ নির্বাচনেও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছিল গেরুয়া শিবিরের প্রচারের মূল অস্ত্র। স্লোগান উঠেছিল, ঘর ঘর মোদি। এবারেও সেই একই পথে দিল্লি জয়ের প্রচেষ্টায় বিজেপি। আর আপাতদৃশ্যে মনে হচ্ছে, বিজেপির প্রচার-কুশীলবদের রি-ব্র্যান্ডিং অভিযানের তোড়ে বিরোধীদের রাজনৈতিক প্রশ্নগুলো হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছে। ভোটের ময়দানে এই বাংলার মাটিতে মোদিকে একমাত্র টক্কর দিচ্ছেন সেই
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। কটাক্ষ করে বলেছেন,
দেশের প্রধানমন্ত্রী কাজের চেয়ে এখন বেশি নিজের বিজ্ঞাপন করেন।
12th  April, 2019
আসনের হিসেবে সবথেকে দুর্দশা বামেদের
শুভময় মৈত্র

অনেকবার আলোচনা হয়েছে এই পরিসংখ্যান, তবুও এবারের লোকসভা নির্বাচনের ফল জানতে উদগ্রীব ভোটপিপাসুদের সামনে ২০১৪-তে বিজেপি ঠিক কীভাবে ক্ষমতায় এসেছিল সে হিসেব অবশ্যই আকর্ষণীয়। সেই পরিসংখ্যানে দু’ভাগে ভাগ করা যায় ভারতকে। এক ভাগে তারা আসন পেয়েছিল আশি শতাংশ, আর অন্য ভাগে তাদের আসনের সংখ্যা ভীষণ কম।
বিশদ

ভোটবাংলা: তৃতীয় পর্ব শেষে দু’-একটি জিজ্ঞাসা
মেরুনীল দাশগুপ্ত

বাংলার ভোটে হিংসা কোনও নতুন ব্যাপার তো নয়। কিন্তু, এবার প্রথম থেকেই ভোটের পরিবেশ পরিস্থিতি একটু আলাদা বলেই মনে হয়েছে। একদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যাপক টহলদারি, নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকদের নজরদারি এবং অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিস প্রশাসনের সক্রিয়তা সহযোগিতায় সাধারণ মানুষজনের মনের ভোটভীতিও অনেকটাই প্রশমিত দেখিয়েছে। ফলে, ভোট প্রচারে যুযুধান পক্ষের নেতানেত্রীর তরজায় উত্তেজনার পারদ যতই চড়ুক, একটা সৌহার্দের পরিবেশে ভোট শেষ হবে এমন প্রত্যাশা বেড়ে উঠছিল মানুষের মধ্যে। মঙ্গলবারের মর্মান্তিক ঘটনা তাতে একটা ধাক্কা দিয়েছে।
বিশদ

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ভোট
শুভা দত্ত

 সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে দু’টি দফার ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যে সমাপ্ত। এই নির্বাচনে সাত দফায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ৯০ কোটি মানুষ। এক্ষেত্রে একটি প্রাসঙ্গিক তথ্য হল, এখন দেশে ৫৬ কোটি মানুষ ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত। তাদের সিংহভাগ তরুণ-তরুণী। তারা নিয়মিত ফেসবুক, ট্যুইটার আর হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে খবর দেওয়া নেওয়া করে।
বিশদ

23rd  April, 2019
মোদিজি বনাম ইস্তাহার
পি চিদম্বরম

ভারতে প্রতিটি লোকসভার নির্বাচনই অনন‌্য, এমনকী যদি প্রধান দুই প্রতিপক্ষ পুরনোও থাকে। একটি কারণ হল, দুটি নির্বাচনের মাঝে প্রধান দুই প্রতিপক্ষ বাদে বাকি রাজনৈতিক দলগুলি তাদের অবস্থান বদলে ফেলে।
বিশদ

22nd  April, 2019
জনতার এখন একটাই জিজ্ঞাসা: এই
শান্তি শেষপর্যন্ত বজায় থাকবে তো?
শুভা দত্ত

 দ্বিতীয় দফাও শেষ। লোকসভা ভোটযুদ্ধের দ্বিতীয় পর্বও মোটের ওপর শান্তিতেই মিটল। গত বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং জলপাইগুড়ি ও রায়গঞ্জ—এই তিন আসনে ভোটের লড়াইতে একমাত্র ব্যতিক্রম হয়ে রইল উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া! বাংলার ভোটে রক্তারক্তি, মারামারি, বোমাগুলি, খুনোখুনি কোনও নতুন কথা নয়।
বিশদ

21st  April, 2019
কংগ্রেস তো পরিবারকেন্দ্রিক দল, বাকিরা?
মৃণালকান্তি দাস

‘কংগ্রে একটি পরিবারকেন্দ্রিক দল। কংগ্রেসের বেশিরভাগ সভাপতিই নেহরু-গান্ধী পরিবার থেকে এসেছেন। এটা থেকেই বোঝা যায়, এই দলে গণতন্ত্র নেই, একটা বিশেষ পরিবারই এই দল চালায়। বছরের পর বছর ধরে এই পরিবার শুধু নিজেদের উন্নতির কথা ভেবেছে, দেশের উন্নতির কথা ভাবেনি।’
বিশদ

21st  April, 2019
প্রতিবেশীর চোখে ভারতের নির্বাচন
গৌরীশঙ্কর নাগ

বস্তুত আশ্চর্যজনক হলেও পাকিস্তানের তরফে ভারতের নির্বাচনকে সর্বদাই দেখা হয়েছে তাদের জাতীয় স্বার্থের নিরিখে, বিশেষত কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ঘুঁটি সাজানোর ‘গেম প্ল্যান’ হিসেবে। প্রসঙ্গত স্মরণীয়, ১৯৬২ সালের সীমান্ত-সংঘাতের পর থেকে কাশ্মীরের ৩৮,০০০ বর্গকিমি চীনের দখলে রয়েছে। তদুপরি ১৯৬৩ সালে চীনের সঙ্গে সীমান্ত-বোঝাপড়ার মাধ্যমে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের ৫,১৮০ বর্গ কিমি চীনকে ছেড়ে দেয়। এখন ভারতের হাতে থাকা অবশিষ্টাংশও পাকিস্তান কব্জা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাই ভারতের লোকসভা নির্বাচন পাকিস্তানের কাছে মুসলিমপক্ষীয় বা মুসলিম-বিরোধী এমন অক্ষ গঠনের তাৎপর্যের নিরিখে নয়; পাকিস্তান এ ব্যাপারে অবহিত যে, ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা ১৭.২২ কোটি (২০১১ সেনসাস অনুযায়ী)। সেক্ষেত্রে পাক হামলায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তাও ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
বিশদ

20th  April, 2019
তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ও
বিরোধীদের অনৈক্য
রঞ্জন সেন

এবারের ভোটে ফিরে এসেছে এক পুরনো বিতর্ক। তা হল কোনটা ঠিক—একদলীয় শাসন না বহুদলীয় সরকার? আমাদের দেশ দুরকম অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়েই গিয়েছে। দুরকম শাসনেরই স্বপক্ষে ও বিপক্ষে বলার মত নানা কথা আছে। তাই এককথায় এর উত্তর দেওয়া কঠিন। কারণ মানুষ দুরকম সরকারেরই ভালো-খারাপ দুটি দিকই দেখেছেন।
বিশদ

20th  April, 2019
মধ্যবিত্তের ভোটচর্চা 

সমৃদ্ধ দত্ত: ভোট নিয়ে সবথেকে বেশি গল্প কারা করে? মধ্যবিত্ত। ভোট নিয়ে সারাদিন বন্ধুবান্ধব আর পরিচিতদের সঙ্গে ঝগড়া কারা করে? মধ্যবিত্ত। যে নেতানেত্রীরা তাঁদের চেনেনই না, তাঁদের হয়ে জানপ্রাণ দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছোটবেলার বন্ধু কিংবা আত্মীয়স্বজন অথবা পরিচিত ফ্যামিলি ফ্রেণ্ডকে আক্রমণ করে কারা? মধ্যবিত্ত।  বিশদ

19th  April, 2019
কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচার নিয়ে কিছু সহজ প্রশ্ন
শুভময় মৈত্র

সপ্তদশ লোকসভা গঠনের লক্ষ্যে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে গেল ১১ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার। সাত দফায় চলবে এই ভোট, ১৯ মে পর্যন্ত। তারপর ২৩ তারিখ ভোটফল। মোদি সরকার আবার ক্ষমতায় ফিরে আসবে কিনা সেটাই এবারের মূল প্রশ্ন। আপাতত বিভিন্ন সমীক্ষা যা খবর দিয়েছে তাতে সেই আশা একেবারে অলীক নয়।
বিশদ

18th  April, 2019
সেই প্রশ্নগুলির জবাব মিলছে না কেন?
মোশারফ হোসেন 

দেশজুড়ে রাজনীতির ময়দানে এই মুহূর্তে গনগনে আঁচ। রাজনীতির মাটি গরম। রাজনীতির বাতাস গরম। কারণ দেশে ভোট যে শুরু হয়ে গিয়েছে! ভোটগ্রহণ সব মিলিয়ে সম্পন্ন হবে সাত দফায়।  
বিশদ

16th  April, 2019
দুটি ইস্তাহারের গল্প
পি চিদম্বরম

গত ৮ এপ্রিল বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ হল কোনও প্রকার তূর্যনিনাদ ছাড়াই। বিজেপির পক্ষে এই যে নম্রতা একেবারে অস্বাভাবিক! বিজেপির নরম হওয়ার অনেক কারণ ছিল। 
বিশদ

15th  April, 2019
একনজরে
 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...

বিএনএ, কোচবিহার: কোচবিহারে জেলা ক্রীড়া সংস্থার অন্দরে নানা জটিলতার জেরে রাজ্যস্তরের বিভিন্ন খেলায় অংশ নিতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছেন জেলার কৃতী খেলোয়াড়দের একাংশ। একটি প্রতিযোগিতায় জেলা থেকে একাধিক টিম পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু একটা টিমকে মান্যতা দিচ্ছে রাজ্য ক্রীড়া সংস্থা। এনিয়ে দু’পক্ষের ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিম ত্রিপুরা লোকসভা কেন্দ্রের ভোটের যাবতীয় নথি পরীক্ষা করলেন নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষক বিনোদ জুৎসি। বুধবার আগরতলায় পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসকের দপ্তরে ওই লোকসভা কেন্দ্রের ভোটের পর্যালোচনাব বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়। ...

  সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: ফালাকাটায় আলিপুরদুয়ার জেলার প্রথম স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ফালাকাটার টাউন ক্লাবের মাঠে এই স্টেডিয়াম তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে স্টেডিয়ামের কাজ শুরু হওয়ায় ফালাকাটা সহ জেলার ক্রীড়া মহলে খুশির হাওয়া ছড়িয়েছে। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

অতিরিক্ত পরিশ্রমে শারীরিক ক্লান্তি। প্রিয়জনের বিপথগামিতায় অশান্তি ও মানহানির আশঙ্কা। সাংসারিক ক্ষেত্রে মতানৈক্য এড়িয়ে চলা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৪০: মার্কিন অভিনেতা আল পাচিনোর জন্ম
১৯৬৮: গায়ক ওস্তাদ বড়ে গুলাম আলি খানের মৃত্যু
১৯৬৯: ফুটবলার আই এম বিজয়নের জন্ম
১৯৮৭: সঙ্গীতশিল্পী অরিজিৎ সিংয়ের জন্ম

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৯৮ টাকা ৭০.৬৭ টাকা
পাউন্ড ৮৮.৭১ টাকা ৯১.৯৮ টাকা
ইউরো ৭৬.৮৪ টাকা ৭৯.৭৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,০৭৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,৪৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩০,৮৮৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,২৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭,৩৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১১ বৈশাখ ১৪২৬, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ষষ্ঠী ১৮/৫৫ দিবা ১২/৪৭। পূর্বাষাঢ়া ৩৮/৩১ রাত্রি ৮/৩৭। সূ উ ৫/১২/৪৮, অ ৫/৫৬/৪০, অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪২ গতে ২/৫৭ মধ্যে, বারবেলা ২/২৪ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/৩৪ গতে ১২/৫৮ মধ্যে।
১১ বৈশাখ ১৪২৬, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ষষ্ঠী ২৩/২৪/২৫ দিবা ২/৩৫/৭। পূর্বাষাঢ়ানক্ষত্র ৪২/৫৩/২ রাত্রি ১০/২২/৩৪, সূ উ ৫/১৩/২১, অ ৫/৫৭/৫৩, অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪০ গতে ২/৫৩ মধ্যে, বারবেলা ৪/২২/১৯ গতে ৫/৫৭/৪৯ মধ্যে, কালবেলা ২/৪৬/৪৫ গতে ৪/২২/১৯ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৩৫/৩৭ গতে ১/০/৪ মধ্যে।
১৯ শাবান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বর্ধমানে নির্বাচনী প্রচারে অরূপ বিশ্বাস 

01:24:00 PM

আমেথিতে নির্বাচনী প্রচারে স্মৃতি ইরানি 

01:02:00 PM

হাজরায় লিফটের মধ্যে মহিলার শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার ১ 

12:58:00 PM

বাগডোগরায় আইওসির পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ঘটনাস্থলে দমকল কর্মীরা 

12:55:00 PM

আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তামিলনাড়ু, পুদুচেরিতে প্রবল বৃষ্টির আশঙ্কা 

12:50:00 PM

আজ বিকালে কলকাতা সহ পাশ্ববর্তী এলাকায় ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা

12:47:00 PM