Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

রাজনীতির উল্টো ফুটে এক আশ্চর্য বালক
হারাধন চৌধুরী 

এক হাতে একটি মৃত মুরগির বাচ্চা আর অন্য হাতে দশ টাকার একটি নোট। একজন কাঁদো কাঁদো মুখ করে ছুটে যাচ্ছে। হাত দুটি, পা দুটি খুব ছোট তার। কারণ, মানুষটিও ছোট খুব। মাত্র ছ’বছরের ছেলে। গন্তব্য তার একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র। কারণ সে যখন রাস্তায় সাইকেল চালাচ্ছিল তখন তারই সাইকেলের তলায় চাপা পড়ে মুরগি ছানাটি। সেটি তার পোষা নয়। কোনও পড়শির। রাস্তায় খাবার খুঁজে বেড়াচ্ছিল। তখনই এই দুর্ঘটনা। এই ঘটনায় ছেলেটি ভীষণ বিচলিত হয়ে পড়ে। হয়তো তার ভেতর অপরাধ বোধ জেগে উঠে থাকবে। ছেলেটি তখনও জানে না যে মুরগি ছানাটি মারা গিয়েছে। জীবিত ও মৃতের তফাতজ্ঞান তার হয়নি নিশ্চয়। সাইকেল চালানো ফেলে রেখে মুরগি ছানার দেহটি সে প্রথমে নিয়ে গিয়েছিল তার বাড়িতে—বাবা মায়ের কাছে—সেটিকে বাঁচাতে হবে দাবি নিয়ে। সে বলতে থাকে, মুরগি ছানাটিকে তাঁরা তখনই যেন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। কিন্তু ছেলেটির বাবা মা উল্টে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে প্রাণীটি মারা গিয়েছে, তাকে আর বাঁচানো সম্ভব নয়। অতএব ছেলেটি আর বাবা মায়ের উপর ভরসা না-করে নিজেই ছুটে গিয়েছিল স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। হাতে করে নিয়ে গিয়েছিল নিজের জমানো দশ টাকার একটি নোটও। সেটি নার্সের হাতে দিয়ে—‘এখনই ওষুধ দিয়ে একে সারিয়ে তোলো’—গোছের কিছু বলেছিল! মৃতদেহটি নার্সের টেবিলে রেখে বাড়ি ফিরে সে নিয়ে গিয়েছিল একশো টাকারও একটি নোট। কিন্তু, নার্সের পক্ষে যে কোনোভাবেই ছেলেটিকে খুশি করা সম্ভব ছিল না। স্বাভাবিকভাবেই ছেলেটি বাড়ি ফিরেছিল মৃত মুরগি ছানা আর এক বুক হতাশা নিয়ে।
তবে, এই ঘটনা ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নার্সদের অবাক করেছিল। একটি শিশুর ভেতর এত বড় হৃদয়ের সন্ধান পেয়ে তাঁরা অভিভূত হয়ে যান। এক নার্সই মোবাইল ফোনে এই বিরল শিশুর ছবি তুলে রেখেছিলেন। সেটাই পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। আমরা জেনে যাই, সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে চমকপ্রদ এই ঘটনার নায়কের নাম ডেরেক সি লালচানহিমা। সে থাকে মিজোরামে আইজল জেলার সাইরাং অঞ্চলে। ফেসবুক পোস্টে হাজার হাজার লাইক পড়েছে পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে। লাখের কাছে মানুষ তার ছবি শেয়ার করেছেন। বিখ্যাত ব্যক্তিরাও ডেরেকের মানবিক মুখের প্রশংসা করেছেন। তার স্কুলও তাকে পুরস্কৃত করেছে। এরপর বিষয়টির প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে প্রথাগত সংবাদ মাধ্যম। নানা ভাষার কাগজে এবং টিভিতে খবর হয়েছে।
দেশ এখন এক ‘যুদ্ধপরিস্থিতি’র মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ভোটযুদ্ধ। এর উত্তাপ গোলাগুলির যুদ্ধের থেকে ঢের বেশি। ভারত পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র। সুতরাং এই নির্বাচনে ভারতবাসীর রায় কোন দিকে যায় তা জানার জন্য বস্তুত সারা দুনিয়া আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছে—ভারত আবার চৌকিদারের হাতে থাকবে নাকি যিনি চৌকিদারকেই চোর ‘সাব্যস্ত’ করে দিলেন তাঁর হাতে চলে যাবে? ৯০ কোটি ভোটার মিলে ৫৪৩ জন সদস্যকে নির্বাচন করে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে পাঠাবেন। আমাদের রাজনীতির কারবারিদের নাওয়া-খাওয়া-ঘুম ছুটে গিয়েছে। সবার মিশন ‘দিল্লি চলো’। সুতরাং প্রতিটি মিডিয়ার শিরোনাম দখল করে ফেলেছে এই বিরাট ইভেন্ট। অনেক গুরুত্বপূর্ণ খবরই এই ঘোলা জলে হারিয়ে যাচ্ছে কিংবা ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। তার ভেতরেও যে আমরা জেনে গেলাম সাইরাংয়ের ঘটনা, চিনে ফেললাম পাহাড়ি গাঁয়ের ছেলে ডেরেক সি লালচানহিমাকে—এটা নিঃসন্দেহে ভালো ব্যাপার। সবার আগে ধন্যবাদ দিতে হবে যে নার্স এই আশ্চর্য বালকের ছবি নিয়েছিলেন এবং যে বা যাঁরা ঘটনাটিকে দুনিয়ার সামনে তুলে ধরেছেন। তা নাহলে প্রথাগত সংবাদ মাধ্যমে ঘটনাটি আদৌ প্রচার পেত কি না সংশয় থাকে।
আজকের নির্বাচনী আবহে ডেরেকের মুখটি কিন্তু বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ঠেকছে। কারণ, ডেরেক যে হৃদয়ের পরিচয় দিয়েছে সেটি একজন খাঁটি মানুষের। যে মানুষের কথা বলে গিয়েছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ—ঈশ্বরজ্ঞানে জীবের প্রতি প্রেম প্রদর্শন করবে। ভোটে যাঁরা দাঁড়ান তাঁদের প্রত্যেকেরই দাবি থাকে—তাঁরা মানুষের সেবা করার সুযোগ চান। যে প্রার্থী পুনর্বার নির্বাচিত হওয়ার আশা নিয়ে সামনে আসেন তিনি বলেন, ‘‘আরও বেশি সেবা করার সুযোগ চাই।’’ কিন্তু, ৬৮ বছরব্যাপী বহুদলীয় নির্বাচনী গণতন্ত্র অনুশীলনের ইতিহাসের পাতায় রাজনীতির কারবারিদের যে ছবি ধরা রয়েছে তাতে তাঁদের বেশিরভাগের মুখের কথার সঙ্গে আচরণের সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্বঘোষিত জনসেবকদের অনেকেই নিজেকে চিনিয়ে দেন এক-একজন ক্ষমতালোভী হিসেবে। আর সেই ক্ষমতার কুর্সিতে আরোহণ করার জন্য কেউ কেউ যা করে থাকেন তা ভদ্রসমাজের কলঙ্ক হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। নিজেকে বড় দেখানোর জন্য প্রতিপক্ষকে পাঁকে নামানোর অদম্য চেষ্টা—মান্য রীতি হয়ে উঠেছে। কুকথার স্রোতেই থেমে থাকে না তাঁদের অ্যাডভেঞ্চার—নিজেরা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থেকে ভক্ত সমর্থকদের একাংশকে লেলিয়ে দেন অন্যায় যুদ্ধের ময়দানে। প্রতিটি ভোটের আগে পরে এইভাবে কত নিরীহ মানুষের প্রাণ যে যায়, কত পরিবার যে চিরকালের মতো সর্বস্বান্ত হয় তার নিরপেক্ষ খতিয়ান আমরা কোনোদিনই পাব না। এর পরেও দেখা যায়—রাজনীতির কারবারিদের দল বদল, পক্ষ বদলের বাঁদরামি। হঠাৎ একদিন দেখা গেল (ধরা যাক) ‘লাল’ দলের একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি ‘সবুজ’ কিংবা ‘গেরুয়া’ দলে ভিড়ে গিয়েছেন! কী ব্যাপার—না, আগের দলে থেকে জনসেবা করার বড় সমস্যা হচ্ছিল! অথচ, ওই মহামান্যকে জেতানোর জন্যই ‘লাল’ দলের কিছু কর্মী সমর্থক ‘সবুজ’ এবং ‘গেরুয়া’ দলের লোকেদের হাতে বেধড়ক ঠ্যাঙানি খেয়েছিলেন কিংবা কেউ কেউ প্রাণও দিয়েছিলেন। উল্টো ঘটনাও ঘটে থাকতে পারে। (সেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য রাজকোষের কত অর্থের আদ্যশ্রাদ্ধ হয়েছে, এখানে তা উহ্য।) আবার এমনও কিছু মহামান্যের আবির্ভাব ঘটে যাঁরা দল বা পক্ষ বদল করেছেন চরকি কাটার মতো করে। কোনও ঘাটের জল খেতে বাকি নেই তাঁদের। মানুষের সেবা করার জন্য কিছু নারী পুরুষ এতটা আকুল হবেন বিবেকানন্দ নিশ্চয় কল্পনাও করেননি।
‘মানুষ’ শব্দের অর্থ না-জেনে মানুষের সেবা করতে গেলেই এই নিষ্ঠুর সার্কাস দেখানো সম্ভব। শিক্ষিত সমাজ জানে এবং মানে যে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র রাজনীতিকে বাদ দিয়ে নয়। তবু, যুব সমাজের শিক্ষিত সংবেদনশীল অংশ আজ রাজনীতিতে নামার, রাজনীতি অনুশীলনের, রাজনীতিকে ভালোবাসার কারণ খুঁজে পায় না। প্রতারণার সীমাহীন প্রতিযোগিতা রাজনীতির প্রতি সমস্ত আকর্ষণ নষ্ট করে দিয়েছে। তাঁরা কৃতজ্ঞ নির্বাচন কমিশনের প্রতি—এই জন্য যে ভোটযন্ত্রে প্রার্থীদের সঙ্গে ‘নোটা’ অপশনটাও রাখা হয়েছে। যাঁরা রাস্তায় নেমে রাজনৈতিক ভ্রষ্টাচারের প্রতিবাদ করতে পারেন না এটা তাঁদের একান্ত হাতিয়ার। এবার সারা দেশে নতুন ভোটার (১৮-১৯ বছর বয়সি) দেড় কোটি বা মোট ভোটারের ১.৬৬ শতাংশ। আর মোট যুব (১৮-৩০ বছর বয়সি) ভোটার ২০ কোটি। বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে আরও তাৎপর্যপূর্ণ—মোট প্রায় সাত কোটি ভোটারের মধ্যে নতুন ভোটার প্রায় তিন শতাংশ আর যুব ভোটার প্রায় দেড় কোটি। ২০১৪-র লোকসভা নির্বাচনে প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষ নোটা-য় ভোট দিয়েছিলেন। গত বছর রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, মিজোরাম বিধানসভার ভোটেও ০.৫-২ শতাংশ হারে নোটা-য় ভোট পড়েছিল। অনেকগুলি আসনে জয়ের ব্যবধানের চেয়ে নোটা ভোটের সংখ্যা বেশি ছিল। বেশকিছু জবরদস্ত প্রার্থীকেও ঘোর অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছিল নোটা। নোটা একাধিক আসনে নির্ণায়কের ভূমিকা নিয়েছিল। নোটা কি পারবে রাজনীতির অনুশীলনটাকে মানবিক করে তুলতে—নীতি খুঁজতে আমাদের আর দূরবিন হাতড়াতে হবে না?
আমাদের বাংলা থেকে বহু দূরে একটি পুচকে ছেলে একটি মুরগি ছানাকে বাঁচানোর জন্য কত কীই না করল! তাও সেটি তার নিজেরও নয়, কোনও এক প্রতিবেশীর। তারই কারণে সেটি রক্তাক্ত হয়েছিল। পাছে তাকে বকাঝকা করা হয় কিংবা তার বাবা মায়ের কাছে দাম চাওয়া হয়—এই ভেবে ডেরেকের পক্ষে পালিয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল। কিংবা, ধরা পড়ে গেলে হাত ধুয়ে ফেলার মতো অজুহাতও দিতে পারত সে। লোকে সেটা মেনেও নিতে পারত বলে অনুমান হয়। কিন্তু, ওইটুকু ছেলে পুরো উল্টো পথে হেঁটেছে—মানুষের পথে—যে পথে হাঁটার সাহস বড়রা হারিয়ে ফেলেছি। এই ডেরেকের সামনে কোনও মানুষ আহত হলে সে আরও কী কী করতে পারত কল্পনা করি। বুকটা ভরে ওঠে।
কিছু ক্ষমতালোভীর সৌজন্যে রাজনীতি যখন বৃহৎ আকারে এক মুরগির কারবার হয়ে ওঠে তখন একটি সত্যিকার মুরগির বাচ্চাকে বাঁচানোর আকুতি থেকে শিক্ষা নেবে রাজনীতি! যদি একশো বছরেও বাস্তব হয়—সেই যুগের ভাগ্যবান প্রজন্ম পরখ করতে পারবে প্রকৃত ঈশ্বরসেবার স্বাদ। 
09th  April, 2019
ছোটদের বড় করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

সব থেকে ভালো হয়, যদি আপনার ‘বাছা’কে নিজের মতো বেড়ে উঠতে দেন। আনন্দে বেড়ে উঠুক। আলো চিনিয়ে দিন, অন্ধকার চিনিয়ে দিন। লক্ষ্য রাখুন, ঠিকঠাক এগচ্ছে কি না! সামনে পিছনে কত ফাঁদ, চোরাবালি। আপনিই ঈশ্বর, ওকে রক্ষা করুন। ছোটদের ‘বড়’ করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে। দয়া করে ওর উপর মাতব্বরি করবেন না, হ্যাঁ আমরা মাতব্বরিই করি।
বিশদ

জন্ম এবং মৃত্যুর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি অকস্মাৎ আমার একটি বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। এই উপলক্ষে জগতে সকলের চেয়ে পরিচিত যে মৃত্যু তার সঙ্গে আর-একবার নূতন পরিচয় হল। জগৎটা গায়ের চামড়ার মতো আঁকড়ে ধরেছিল, মাঝখানে কোনো ফাঁক ছিল না। মৃত্যু যখন প্রত্যক্ষ হল তখন সেই জগৎটা যেন কিছু দূরে চলে গেল, আমার সঙ্গে আর যেন সে অত্যন্ত সংলগ্ন হয়ে রইল না।
——— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশদ

অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

19th  July, 2019
বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
ঘোষণা ও বাস্তব
সমৃদ্ধ দত্ত

ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান একটি প্রকল্পই হল নদী সংযোগ প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন নদীকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। যাতে উদ্বৃত্ত জলসম্পন্ন নদী থেকে বাড়তি জল শুকনো নদীতে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বারংবার এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। গোটা প্রকল্প রূপায়ণ করতে অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকা দরকার। এদিকে আবার বুলেট ট্রেন করতেও ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে! আধুনিক রাষ্ট্রে অবশ্যই দুটোই চাই। কিন্তু বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিচার করলে? কোনটা বেশি জরুরি? বিশদ

12th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

 কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর থেকে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১৯-এর যে খসড়া প্রকাশিত হয়েছে তার যে অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে হই চই পড়েছিল তা হল বিদ্যালয় স্তরে ত্রি-ভাষা নীতির মাধ্যমে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে জোর করে হিন্দি চাপানোর বিষয়টি। তামিলনাড়ুর মানুষের প্রবল আপত্তিতে তা কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
বিশদ

11th  July, 2019
কেন তেরোজন অর্থনীতিবিদ অখুশি হবেন?
পি চিদম্বরম

প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. অরবিন্দ সুব্রামনিয়ন পাঁচ বছর আগে তাঁর প্রথম অর্থনৈতিক সমীক্ষা (ইকনমিক সার্ভে ২০১৪-১৫) পেশ করে বলেছিলেন, ‘‘ভারত একটা সুন্দর জায়গায় (সুইট স্পট) পৌঁছে গিয়েছে—জাতির ইতিহাসে এটা বিরল—এইভাবে শেষমেশ দুই সংখ্যার মধ্যমেয়াদি বৃদ্ধির কৌশলে ভর করে এগনো যাবে।’’
বিশদ

08th  July, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, বালুরঘাট: বন্যা দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিলিতে দুর্নীতি ঠেকাতে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ত্রিপল বিলি করছেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন ব্লকের বিডিও। পাশাপাশি ত্রাণ শিবিরে খাবার বিলিতেও বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে।  ...

 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...

নয়াদিল্লি, ১৯ জুলাই (পিটিআই): স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতা নিয়ে পরামর্শ চেয়ে আবারও জনতার দরবারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার এই আহ্বান জানিয়ে মোদি লিখেছেন, সাধারণ মানুষের চিন্তাভাবনার কথা জানবে গোটা দেশ। ...

 সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: কাজ করার জন্য প্রয়োজন মতো পাইপ কিনতে হবে। তবে তা কিনে ফেলে রাখা যাবে না বলে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের সব এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রতিটি প্রকল্পের কাজ খতিয়ে দেখে প্রতি মাসে এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে রিপোর্ট ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

পারিবারিক ঝামেলার সন্তোষজনক নিষ্পত্তি। প্রেম-প্রণয়ে শুভ। অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষে মানসিক চাপ বৃদ্ধি।প্রতিকার: আজ দই খেয়ে শুভ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৬৩: কবি, গীতিকার ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম
১৮৯৯: লেখক বনফুল তথা বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫৫: প্রাক্তন ক্রিকেটার রজার বিনির জন্ম
২০১২: বাংলাদেশের লেখক হুমায়ুন আহমেদের মূত্যু 

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৫ টাকা ৬৯.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৭৭ টাকা ৮৭.৯২ টাকা
ইউরো ৭৬.১০ টাকা ৭৯.০৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৭৫০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৯২০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৪,৪৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪১,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার, তৃতীয়া ১০/১৮ দিবা ৯/১৪। শতভিষা অহোরাত্র। সূ উ ৫/৬/৩, অ ৬/১৯/৩১, অমৃতযোগ দিবা ৯/৩১ গতে ১/২ মধ্যে। রাত্রি ৮/২৮ গতে ১০/৩৮ মধ্যে পুনঃ ১২/৪ গতে ১/৩১ মধ্যে পুনঃ ২/১৪ গতে ৩/৪০ মধ্যে, বারবেলা ৬/৪৬ মধ্যে পুনঃ ১/২২ গতে ৩/১ মধ্যে পুনঃ ৪/৪০ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ৭/৪০ মধ্যে পুনঃ ৩/৪৬ গতে উদয়াবধি।
৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার, তৃতীয়া ৪/২৪/৪ দিবা ৬/৫১/২। শতভিষানক্ষত্র ৬০/০/০ অহোরাত্র, সূ উ ৫/৫/২৪, অ ৬/২১/৫৭, অমৃতযোগ দিবা ৯/৩২ গতে ১/১ মধ্যে এবং রাত্রি ৮/২৫ গতে ১০/৩৭ মধ্যে ও ১২/৪ গতে ১/৩২ মধ্যে ও ২/১৬ গতে ৩/৪৪ মধ্যে, বারবেলা ১/২৩/১৫ গতে ৩/২/৪৯ মধ্যে, কালবেলা ৬/৪৪/৫৮ মধ্যে ও ৪/৪২/২৩ গতে ৬/২১/৫৭ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৪২/২৩ মধ্যে ও ৩/৪৪/৫৮ গতে ৫/৫/৪১ মধ্যে। 
১৬ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
উচ্চশিক্ষা সংসদের ভাইস চেয়ারম্যান (শিক্ষা) নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি 
অবশেষে উচ্চশিক্ষা সংসদের ভাইস চেয়ারম্যান (শিক্ষা) নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হল। ...বিশদ

09:06:13 AM

পাথরপ্রতিমায় পুকুরে কুমির
পাথরপ্রতিমা ব্লকের কুয়েমুড়ি গ্রামের একটি পুকুরে প্রমাণ সাইজের কুমির দেখা ...বিশদ

08:52:23 AM

স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতার জন্য পরামর্শ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি 
স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতা নিয়ে পরামর্শ চেয়ে আবারও জনতার দরবারে প্রধানমন্ত্রী ...বিশদ

08:40:23 AM

আজকের রাশিফল 
মেষ: পারিবারিক ঝামেলার সন্তোষজনক নিষ্পত্তি। বৃষ: মাতৃস্থানীয় ব্যক্তির স্বাস্থ্যোন্নতির ইঙ্গিত। মিথুন: সম্পত্তি লাভের ...বিশদ

08:11:47 AM

ইতিহাসে আজকের দিনে
১৮৬৩: কবি, গীতিকার ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম১৮৯৯: লেখক বনফুল ...বিশদ

07:50:00 AM

২২ জুলাই কর্ণাটক বিধানসভায় আস্থাভোট 

19-07-2019 - 08:37:08 PM